আয়াতআলোচ্য বিষয়
০১-০৩মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো তাকে পরীক্ষা করা। মানুষকে দু’টি চলার পথ দেয়া হয়েছে। ১. আল্লাহর কৃতজ্ঞতার পথ, ২. আল্লাহর অকৃতজ্ঞতার পথ।
০৪অকৃতজ্ঞদের অশুভ পরিণতি।
০৫-২২আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দাদের উত্তম গুণাবলি এবং তাদের পরকালীন অফুরন্ত পুরস্কারের বিবরণ।
২৩-৩১কুরআন আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব। আল্লাহর হুকুমের উপর অটল থাকো এবং তাঁর প্রতি অবনত হও। কুরআন একটি স্মারক যার ইচ্ছা সে এটি আঁকড়ে ধরুক।
আবদুস শহীদ নাসিম
মানুষের উপর কি কালের এমন অধ্যায় অতিবাহিত হয়নি, যখন উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিলনা সে?
সমকালীন বাংলা
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; মানুষের ওপর কি এমন এক সময় অতিক্রান্ত হয়নি, যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না?
জহুরুল হক
মানুষের উপরে কি দীর্ঘ সময়ের অবকাশ অতিবাহিত হয় নি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি সংমিশ্রিত নোতফা (শুক্র বিন্দু) থেকে, তাকে পরীক্ষা করার জন্যে। আর এ উদ্দেশ্যেই আমরা তাকে অধিকারী করেছি শ্রবণ শক্তি আর দৃষ্টি শক্তির (অর্থাৎ - জ্ঞান বুদ্ধি বিবেকের)।
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্রিত বীর্যবিন্দু থেকে, তাকে পরীক্ষা করার জন্য; অতঃপর আমরা তাকে শ্রবণশক্তিসম্পন্ন ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন করেছি।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি সংযুক্ত এক শুক্রকীট থেকে, আমরা তাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করেছি, সেজন্য আমরা তা কে বানিয়েছি শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা তাকে জীবন যাপনের সঠিক পথ দেখিয়ে দিয়েছি। এখন সে ইচ্ছে করলে আমার কৃতজ্ঞ হয়ে চলতে পারে, কিংবা হতে পারে অকৃতজ্ঞ।
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই আমরা তাকে পথ দেখিয়েছি—সে হয় কৃতজ্ঞ, নয়তো অকৃতজ্ঞ।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ আমরা তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি, - - হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
অকৃতজ্ঞদের জন্যে আমরা তৈরি করে রেখেছি শিকল, বেড়ি, আর জ্বলন্ত আগুন।
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই আমরা অস্বীকারকারীদের জন্য প্রস্তুত করেছি শৃঙ্খল, বেড়ি ও জ্বলন্ত আগুন।
জহুরুল হক
আমরা অবশ্য অকৃতজ্ঞদের জন্য তৈরি করেছি শিকল ও বেড়ি, আর জ্বলন্ত আগুন।
আবদুস শহীদ নাসিম
সৎ - সত্যপন্থী (কৃতজ্ঞ) লোকেরা (জান্নাতে) এমন সব পান পাত্র থেকে (শরাব) পান করবে, যে পানীয় থাকবে (সুগন্ধ) কর্পুর মিশ্রিত।
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই সৎকর্মপরায়ণরা পান করবে এমন এক পানপাত্র থেকে, যার মিশ্রণ হবে কর্পূরের মতন,
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ পুণ্যাত্মারা পান করবে এমন একটি পাত্র থেকে যার মেজাজ হবে কর্পূরের - -
আবদুস শহীদ নাসিম
তা হবে এমন একটি ঝর্ণা, যা থেকে কেবল আল্লাহর প্রিয় দাসেরাই পান করবে। তারা যেদিকে ইচ্ছা প্রবাহিত করে নেবে এই ঝর্ণা।
সমকালীন বাংলা
এক ঝর্ণা থেকে, যেখান থেকে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে; তারা তা প্রবাহিত করবে যেভাবে খুশি।
জহুরুল হক
একটি ফোয়ারা - - যা থেকে র বান্দারা পান করবে, তারা এটিকে প্রবাহিত করবে অবিরাম ধারায়।
আবদুস শহীদ নাসিম
(আল্লাহর এই প্রিয় দাসেরা হলো সেই সব লোক) যারা তাদের মানত (আল্লাহর অনুগত হয়ে থাকার অঙ্গীকার) পূর্ণ করে এবং এমন একটি দিনের ভয়ে ভীত - কম্পিত থাকে, যে দিনটির বিপদ ছড়িয়ে পড়বে সবখানে।
সমকালীন বাংলা
তারা প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে এবং সে দিনকে ভয় করে, যার অকল্যাণ হবে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত।
জহুরুল হক
তারা মানত পালন করে, এবং ভয় করে সেই দিনটির যার ধ্বংসলীলা হবে সুদূরপ্রসারী।
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা তাদের খাদ্য দান করে দেয় মিসকিন, এতিম ও বন্দিদেরকে।
সমকালীন বাংলা
এবং নিজেদের আসক্তি সত্ত্বেও তারা খাদ্য দান করে অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দীকে।
জহুরুল হক
আর তারা তাঁর প্রতি প্রেমবশতঃ খাবার খেতে দেয় অভাবগ্রস্তকে ও এতিমকে ও বন্দীকে - -
আবদুস শহীদ নাসিম
(খাদ্য দান করার সময়) তারা বলে (কিংবা এই মনোভাব পোষণ করে যে), ‘‘আমরা তোমাদের আহার্য দান করছি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে। এর বিনিময়ে আমরা তোমাদের কাছে কোনো প্রকার প্রতিদান কিংবা কৃতজ্ঞতা আশা করিনা।
সমকালীন বাংলা
“আমরা তো তোমাদের আহার করাই কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য; আমরা তোমাদের নিকট থেকে কোনো প্রতিদান কিংবা কৃতজ্ঞতা চাই না।
জহুরুল হক
''আমরা তোমাদের খেতে দিচ্ছি শুধু র সন্তষ্টিলাভের জন্য, তোমাদের থেকে আমরা কোনো প্রতিদান চাই না, কৃতজ্ঞতাও নয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা তো আমাদের মালিকের পক্ষ থেকে এক দীর্ঘ ভয়ংকর দিনের আশংকায় ভীত।’’
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই আমরা আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক কঠিন ও ভীতিপ্রদ দিনের ভয় করি।”
জহুরুল হক
''আমরা আলবৎ আমাদের প্রভুর নিকট থেকে এক ভীতিপ্রদ বিপদসংকুল দিনের ভয় করি।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
ফলে, তাদেরকে সেই দিনটির ক্ষতি ও অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবেন এবং দান করবেন সৌন্দর্য - দীপ্তি (a light of beauty) আর আনন্দ প্রফুল্লতা (joy)।
সমকালীন বাংলা
অতঃপর তাদেরকে সে দিনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন এবং তাদের দান করবেন দীপ্তি ও আনন্দ।
জহুরুল হক
কাজেই তাদের রক্ষা করবেন সেইদিনের অকল্যাণ থেকে এবং তাদের সাক্ষাৎ করাবেন প্রফুল্লতার ও প্রশান্তির সাথে,
আবদুস শহীদ নাসিম
তাছাড়া তাদের সবরের (আল্লাহর পথে ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে চলার) বিনিময়ে তিনি তাদের প্রতিদান দেবেন জান্নাত, আর রেশমি পোশাক।
সমকালীন বাংলা
এবং তাদের ধৈর্যের কারণে তাদের প্রতিদান দেবেন বেহেশত ও রেশমবস্ত্র।
জহুরুল হক
আর যেহেতু তারা অধ্যবসায় চালিয়েছিল সেজন্য প্রতিদানে তাদের দেবেন বাগান ও রেশমী পোশাক,
আবদুস শহীদ নাসিম
সেখানে তারা সমাসীন হবে উঁচু উঁচু সুসজ্জিত আসনে। খরতপ্ত সূর্যতাপ কিংবা প্রচন্ড শীতে সেখানে তারা কষ্ট পাবেনা।
সমকালীন বাংলা
তারা সেখানে সুসজ্জিত আসনের ওপর হেলান দিয়ে থাকবে; সেখানে তারা দেখবে না সূর্যের তাপ, না তীব্র শীত।
জহুরুল হক
তারা সেখানে সমাসীন থাকবে রাজকীয় আসনে, তারা সেখানে দেখতে পাবে না সূর্যোত্তাপ, না কোনো কনকনে ঠান্ডা,
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের উপর বিস্তীর্ণ থাকবে জান্নাতের বৃক্ষরাজির ছায়া, আর ফলরাজি থাকবে সব সময়ই তাদের নাগালের মধ্যে।
সমকালীন বাংলা
এবং তার ছায়াসমূহ তাদের উপরে থাকবে, আর তার ফলসমূহ নাগালের মধ্যে এনে দেওয়া হবে।
জহুরুল হক
আর তাদের সন্নিকটে থাকবে তাদের গাছের ছায়া, আর তাদের থোকা - থোকা ফল থাকবে নত হয়ে নাগালের মধ্যে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের মাঝে (খাদ্য ও পানীয়) পরিবেশন করা হবে রৌপ্য পাত্র আর স্ফটিক - স্বচ্ছ (crystal) পান পাত্রে।
সমকালীন বাংলা
এবং তাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াবে রৌপ্যপাত্র ও স্বচ্ছ স্ফটিকের পেয়ালা
জহুরুল হক
আর তাদের সামনে পরিবেশন করা হবে রূপোর পেয়ালা ও ঝলমলে কাচের পানপাত্র, - -
আবদুস শহীদ নাসিম
রজত স্বচ্ছ স্ফটিকের (crystal) পাত্রে পরিবেশনকারীরা পরিবেশন করবে পরিমাণ মতো।
সমকালীন বাংলা
রৌপ্যের স্ফটিক, যা তারা পরিমিতভাবে পূর্ণ করবে।
জহুরুল হক
চাঁদির তৈরি চক্মকে কাচের মতো, - - তারা তা মেপে নেবে একটি পরিমাপে।
আবদুস শহীদ নাসিম
সেখানে তাদের শরাব পান করতে দেয়া হবে জানজাবিল (ginger) মিশ্রিত।
সমকালীন বাংলা
এবং সেখানে তাদের পান করানো হবে এমন এক পানপাত্র, যা হবে আদা মিশ্রিত,
জহুরুল হক
আর তাদের তাতে পান করানো হবে এমন একটি পাত্র যার মেজাজ হবে আদ্রকের, - -
আবদুস শহীদ নাসিম
আর (জানজাবিল মিশ্রিত) এই শরাব হবে মূলত জান্নাতের একটি ঝর্ণা, যার নাম হলো ‘সালসাবিল’।
সমকালীন বাংলা
এক ঝর্ণা থেকে, যার নাম সেখানে ‘সালসাবীল’।
জহুরুল হক
তার মধ্যের একটি ফোয়ারাতে যার নাম দেয়া হয়েছে সাল্সাবীল।
আবদুস শহীদ নাসিম
সেখানে তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে এমনসব চিরবালক (boys of everlasting youth), যাদের দেখলে তোমার মনে হবে, ওরা যেনো ছড়ানো মুক্তা!
সমকালীন বাংলা
এবং তাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াবে চিরস্থায়ী কিশোররা; তুমি যখন তাদের দেখবে, মনে হবে যেন তারা বিক্ষিপ্ত মুক্তা।
জহুরুল হক
আর তাদের প্রদক্ষিণ করবে চিরস্ফুটিত কিশোরগণ, - - তোমরা যখন তাদের দেখবে তাদের তোমরা ভাববে ছড়ানো মুক্তো!
আবদুস শহীদ নাসিম
সেখানে গিয়ে যখন দেখবে, দেখতে পাবে নিয়ামত আর নিয়ামত (ভোগ বিলাসের সীমাহীন সামগ্রী), আর দেখতে পাবে (তোমাকে দেয়া হয়েছে) এক বিশাল সাম্রাজ্য (a great dominion)।
সমকালীন বাংলা
আর যখন তুমি সেখানে দেখবে, দেখতে পাবে সুখ-সম্ভার ও মহিমান্বিত রাজ্য।
জহুরুল হক
আর যখন তুমি সেখানে চেয়ে দেখবে, তুমি দেখতে পাবে অনুগ্রহ - সামগ্রী ও এক বিশাল রাজ্য।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের পরিধানে থাকবে সবুজ রঙের সুক্ষ্ম - মিহি রেশমি পোশাক, আর সোনালি কিংখাবের বস্ত্ররাজি। তাদের অলংকৃত করা হবে রৌপ্য নির্মিত ব্রেসলেট দিয়ে আর তাদের প্রভু তাদের পান করাবেন শরাবান তহুরা (অনাবিল পানীয়)।
সমকালীন বাংলা
৭৬–২১ : তাদের পরিধানে থাকবে সূক্ষ্ম সবুজ রেশম ও ঘন বস্ত্র; এবং তাদের অলংকৃত করা হবে রৌপ্য কংকণে; আর তাদের প্রতিপালক তাদের পান করাবেন পবিত্র পানীয়।
Note
‘শরাবান - তহুরা’ /পবিত্রপানীয়
জহুরুল হক
তাদের পরিধেয় হবে মিহি সবুজ রেশমের ও পুরু জরির পোশাক, আর তাদের অলংকৃত করানো হবে রূপোর কাঁকন দিয়ে, আর তাদের প্রভু তাদের পান করাবেন এক পবিত্র পানীয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
(তাদের বলা হবে) এগুলো তোমাদের জন্যে পুরস্কার (reward), কারণ তোমাদের সায়ী (চেষ্টা - সাধনা) কবুল করা হয়েছে।
সমকালীন বাংলা
“নিশ্চয়ই এটি তোমাদের প্রতিদান, এবং তোমাদের প্রচেষ্টা স্বীকৃত হয়েছে।”
জহুরুল হক
''নিঃসন্দেহ এটি হচ্ছে তোমাদের জন্য পুরস্কার, আর তোমাদের প্রচেষ্টা স্বীকৃত হয়েছে।’’
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরাই পর্যায়ক্রমে তোমার প্রতি এ কুরআন নাযিল করছি।
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই আমরা তোমার প্রতি ধাপে ধাপে এই কুরআন অবতীর্ণ করেছি।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ আমরা - - আমরা স্বয়ং তোমার কাছে এই কুরআান এক অবতারণে অবতীর্ণ করেছি।
আবদুস শহীদ নাসিম
সুতরাং ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে তোমার প্রভুর নির্দেশ পালন করে যাও। আর তাদের মধ্যকার কোনো পাপিষ্ঠ কিংবা অবিশ্বাসীর আনুগত্য করোনা।
সমকালীন বাংলা
অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের বিধানের প্রতি ধৈর্য ধারণ কর এবং তাদের কোনো পাপী কিংবা অবিশ্বাসীর অনুসরণ করো না।
জহুরুল হক
সুতরাং তোমার প্রভুর নির্দেশের জন্য অধ্যবসায় চালিয়ে যাও, আর তাদের মধ্যেকার কোনো পাপিষ্ঠের অথবা সত্যপ্রত্যাখ্যান - কারীর আজ্ঞা পালন করো না।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর তোমার প্রভুর নাম স্মরণ করো সকাল - সন্ধ্যায়।
সমকালীন বাংলা
এবং সকাল ও সন্ধ্যায় তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরণ কর।
জহুরুল হক
আর তোমার প্রভুর নাম কীর্তন করো সকালে ও বিকেলে,
আবদুস শহীদ নাসিম
রাত্রি বেলায় তাঁর প্রতি সাজদায় অবনত হও এবং রাতে দীর্ঘ সময় তসবিহ করতে থাকো তাঁর।
সমকালীন বাংলা
এবং রাতের এক অংশে তাঁর প্রতি সিজদা কর এবং দীর্ঘ রাতে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা কর।
জহুরুল হক
আর রাতের থেকে তাঁর প্রতি সিজদা করো, আর লন্বা রাত পর্যন্ত তাঁর গুণগান করো।
আবদুস শহীদ নাসিম
এই (অবিশ্বাসী) লোকেরা তো পছন্দ করে নিয়েছে এ পৃথিবীর জীবনকে, আর উপেক্ষা করছে পরবর্তী (পরকালের) কঠিন দিবসকে।
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই এরা পার্থিব জীবনকে ভালোবাসে এবং তাদের সামনে থাকা গুরুতর দিনকে উপেক্ষা করে।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ এরা ভালবাসে অস্থায়ী জীবন, আর অবহেলা করে এদের সামনের এক কঠিন দিনকে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরাই সৃষ্টি করেছি এদের, তারপর তাদের গঠন করেছি মজবুতভাবে। অতপর আমরা যখন চাইবো তাদের পরিবর্তে নিয়ে আসবো অনুরূপ কোনো জাতিকে।
সমকালীন বাংলা
আমরা তাদের সৃষ্টি করেছি এবং তাদের গঠনকে সুদৃঢ় করেছি; আর আমরা ইচ্ছা করলে তাদের পরিবর্তে তাদের সদৃশদের প্রতিস্থাপন করতে পারি।
জহুরুল হক
আমরাই তাদের সৃষ্টি করেছি এবং মজবুত করেছি তাদের গঠন, কাজেই যখন আমরা চাইব তখন তাদের অনুরূপদের আমরা বদলে দেবো আমূল পরিবর্তনে।
আবদুস শহীদ নাসিম
এটি (কুরআন) একটি উপদেশ বাণী। অতএব, যার ইচ্ছা সে তার প্রভুর (সন্তুষ্টির) পথ অবলম্বন করতে পারে।
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই এটি একটি উপদেশ; অতএব যে ইচ্ছা করে, সে তার প্রতিপালকের দিকে পথ গ্রহণ করুক।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ এটি এক স্মরণীয় বার্তা, সুতরাং যে ইচ্ছা করে সে তার প্রভুর দিকে পথ ধরুক।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের ইচ্ছায় কিছুই হয়না, যদি ইচ্ছা না করেন। অবশ্যি সর্বজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়।
সমকালীন বাংলা
আর তোমরা ইচ্ছা করবে না, যদি না ইচ্ছা করেন। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
জহুরুল হক
আর তোমরা চাও না র চাওয়া ব্যতিরেকে। নিঃসন্দেহ হচ্ছেন সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি যাকে চান, নিজের অনুগ্রহের অন্তরভুক্ত করে নেন, কিন্তু যালিমদের কথা ভিন্ন। তাদের জন্যে তো তিনি তৈরি করে রেখেছেন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
সমকালীন বাংলা
তিনি যাকে ইচ্ছা করেন তাকে তাঁর রহমতে প্রবেশ করান; আর সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য তিনি প্রস্তুত করেছেন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
জহুরুল হক
তিনি যাকে ইচ্ছা করেন তাকে তাঁর অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ করান। কিন্ত অন্যায়কারীরা - - তাদের জন্য তিনি তৈরি করেছেন মর্মন্তুদ শাস্তি।