Kitab

আস্ সাফফাত (সফে দাঁড়ানো)

Chapter 37, 182 verses

  • আবদুস শহীদ নাসিম
About this chapter


মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১৮২, রুকু সংখ্যা: ০৫

এই সূরার আলোচ্যসূচি

আয়াতআলোচ্য বিষয় ০১-৭৪তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতের ব্যাপারে লোকদের অস্বীকৃতি ও অভিযোগ। অস্বীকারকারীদের পরকালীন দুরবস্থা। ৭৫-৮২দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আল্লাহ্ নূহ আ.-এর দোয়া কবুল করেন। ৮৩-১১৩ভাস্কর্য পূজারীদের বিরুদ্ধে ইবরাহিমের অকাট্য যুক্তি। ইবরাহিমের অগ্নি পরীক্ষা। পুত্র কুরবানির স্বপ্ন। পশু কুরবানির সূচনা। ১১৪-১২২মূসা ও হারূণের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ। ১২৩-১৩২নিজ কওমের প্রতি ইলিয়াসের দাওয়াত। তাঁর জাতি কর্তৃক তাঁকে প্রত্যাখ্যান। ১৩৩-১৩৮লুত আ.-এর মুক্তি ও তাঁর জাতির ধ্বংস। তাদের ধ্বংসের নিদর্শনসমূহ এখনো বর্তমান। ১৩৯-১৪৮অবাধ্য জাতি থেকে ইউনুসের পলায়ন। তিমির গ্রাস হন ইউনুস। আল্লাহ্ তাঁকে বাঁচিয়ে রাখেন। পুনরায় জাতির কাছে তাঁর আগমন। এবার তাঁর জাতি ঈমান আনে। ১৪৯-১৮২শিরকের পক্ষে কোনো প্রমাণ নাই। নবীরা আল্লাহর সাহায্য পাবেন।

শপথ সেইসব (ফেরেশতাদের) যারা সফে (সারিতে) দাঁড়ানো।

শপথ সেইসব (ফেরেশতাদের) যারা মেঘমালা পরিচালনাকারী।

শপথ সেইসব (ফেরেশতাদের), যারা তিলাওয়াত করে বা বহন করে আনে আল কুরআন (আল্লাহর নিকট থেকে)।

নিশ্চয়ই তোমাদের এক ও একক।

তিনিই মালিক মহাকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর, আর তিনিই মালিক উদয়াচলের।

আমরা দুনিয়ার আকাশকে সৌন্দর্যমন্ডিত করেছি নক্ষত্ররাজি দিয়ে,

এবং রক্ষা করেছি প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে।

ফলে তারা ঊর্ধ্ব জগতের কিছু শুনতে পায়না এবং তাদের আঘাত করা হয় সবদিক থেকে

তাদের তাড়ানোর জন্যে। আর তাদের জন্যে রয়েছে অবিরাম আযাব।

তবে হঠাৎ কেউ কিছু শুনে ফেললে তার পেছনে ছুটে যায় জ্বলন্ত উল্কা পিন্ড।

তাদের (কাফিরদের) জিজ্ঞেস করো, তারাই কি মজবুত সৃষ্টি, নাকি আমরা অন্য যাদের সৃষ্টি করেছি তারা? এদেরকে তো আমরা সৃষ্টি করেছি আঠাল মাটি দিয়ে।

তুমি তো বিস্ময়বোধ করছো, অথচ তারা করছে বিদ্রূপ।

তাদের যখন উপদেশ দেয়া হয়, তারা সেদিকে মনোযোগ দেয়না।

যখনই তারা কোনো নিদর্শন দেখে, উপহাস করে।

তারা বলে: ‘‘এ তো এক পরিষ্কার ম্যাজিক ছাড়া কিছু নয়।

আমরা যখন মরে যাবো এবং মাটি ও অস্থিমজ্জায় পরিণত হবো, তখন কি আমাদের পুনরায় উঠানো হবে?

আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও?’’

বলো: ‘হ্যাঁ, আর তখন তোমরা হবে লাঞ্ছিত।’

সেটা হবে একটা প্রচন্ড শব্দ, আর তখনই তারা তা দেখতে পাবে।

তারা আরো বলবে: ‘হায় ধ্বংস আমাদের, এটা তো প্রতিফল দিবস।’

(তখন তাদের বলা হবে:) ‘এটা হলো ফায়সালার দিন, যে দিনটিকে তোমরা করছিলে অস্বীকার।’

(ফেরেশতাদের বলা হবে:) এনে জমা করো যালিমদের, তাদের সাথি সংগিদের এবং তাদের উপাস্যদের, যাদের তারা ইবাদত করতো

আল্লাহর পরিবর্তে। তাদের পরিচালিত করো জাহান্নামের দিকে।

তবে তাদের থামাও, কারণ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তোমাদের কী হয়েছে, তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করছো না কেন?

বরং তারা সেদিন আত্মসমর্পণ করে দেবে।

তারা একে অপরের সামনা সামনি হয়ে পরস্পরকে প্রশ্ন করবে,

তারা বলবে: ‘তোমরা তো ডান দিক থেকে (তোমাদের শক্তি দেখিয়ে) আমাদের কাছে আসতে।’

তারা জবাবে বলবে: ‘‘তোমরা তো নিজেরাই ছিলে না,

আর তোমাদের উপর আমাদের কোনো কর্তৃত্বও ছিলনা। বরং তোমরা ছিলে আল্লাদ্রোহী লোক।

তাই আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রভুর কথা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আমাদেরকে অবশ্যি শাস্তি ভোগ করতে হবে।

আমরা তোমাদের বিপথগামী করেছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাও ছিলাম বিপথগামী।’’

সেদিন তারা সবাই শরিকদার হবে আযাবের।

আমরা অপরাধীদের সাথে এ রকমই আচরণ করি।

তাদের যখন বলা হতো: ‘কোনো নেই ছাড়া’, তখন তারা হঠকারিতা প্রদর্শন করতো।

তারা বলতো: ‘আমরা কি একজন পাগল কবির জন্যে আমাদের ইলাহদের পরিত্যাগ করবো?’

বরং সে তো সত্য নিয়ে এসেছে এবং (অতীত) রসূলদের সত্য বলে মেনে নিয়েছে।

তোমরা অবশ্যি আস্বাদন করবে বেদনাদায়ক আযাব।

এবং তোমরা যেসব কর্মকান্ড করতে সেগুলোরই প্রতিদান পাবে।

তবে তারা নয়, যারা আল্লাহর বাছাই করা দাস।

তাদের জন্যে রয়েছে পরিচিত রিযিক।

রয়েছে ফলফলারি, আর তারা হবে সম্মানিত,

জান্নাতুন নায়ীমে (নিয়ামতে ভরা জান্নাতে)।

সেখানে তারা উপবেশন করবে মুখোমুখি আসনে।

তাদের ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে (মদের) পেয়ালা বহমান ঝরণা থেকে

শুভ্র সাদা শরাব, যা হবে পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু।

তাতে ক্ষতিকর কিছু থাকবে না এবং তাতে মাতালও হবেনা কেউ।

তাদের কাছে থাকবে আনত নয়না এবং আয়তলোচনা নারীরা।

সেসব নারীরা হবে যেনো সযত্নে লালিত সাদা ডিম।

তারা পরস্পরের সামনাসামনি হয়ে প্রশ্ন করবে।

তাদের কেউ কেউ বলবে: (দুনিয়ায়) আমার ছিলো এক সাথি,

সে বলতো তুমি কি একথায় যে:

‘আমরা যখন মরে যাবো এবং মাটি ও অস্থিমজ্জায় পরিণত হবো, তখন কি আমাদের প্রতিফল দেয়া হবে?’

কেউ একজন বলবে: তোমরা কি দেখতে চাও সে এখন কোথায়?

তখন সে ঝুঁকে পড়ে দেখবে এবং তাকে দেখতে পাবে জাহান্নামের মাঝ বরাবর।

সে তাকে বলবে: ‘আল্লাহর কসম, তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংসই করে দিয়েছিলে।

যদি আমার প্রভুর অনুগ্রহ না হতো, তাহলে তো আমিও (জাহান্নামে) হাজির করা লোকদের অন্তরভুক্ত হতাম।’

সে বলবে: ‘তাহলে কি আমাদের আর মৃত্যু হবেনা

প্রথম মৃত্যুর পর এবং আমাদের কি আযাবও দেয়া হবেনা?’

নিশ্চয়ই এ হলো মহাসাফল্য।

এ রকম সাফল্যের জন্যেই কর্মীদের কাজ করা উচিত।

আতিথ্য হিসেবে এটা ভালো, নাকি যাক্কুম গাছ?

যালিমদের জন্যে আমরা এ গাছটি সৃষ্টি করেছি ফিতনা হিসেবে।

সেটি এমন একটি গাছ, যা উৎপন্ন হয় জাহান্নামের তলদেশ থেকে।

সেটার মোচা দেখতে যেনো শয়তানের মাথা।

তারা অবশ্যি তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে ভর্তি করবে পেট।

তার উপর তাদের জন্যে থাকবে পুঁজ মিশ্রিত টগবগে ফুটন্ত পানি।

তাদের গন্তব্য পথ হবে অবশ্যি জাহান্নামের দিকে।

সেখানে তারা তাদের পূর্ব পুরুষদের দেখতে পাবে বিপথগামী,

এবং তারা তাদের পদাংক অনুসরণ করে চলেছিল।

তাদের আগেও আগেকার অধিকাংশ লোকই বিপথগামী হয়েছিল।

আমরা তাদের মাঝে পাঠিয়েছিলাম সতর্ককারী।

সুতরাং চেয়ে দেখো, যাদের সতর্ক করা হয়েছিল, কী জঘন্য পরিণতি হয়েছে তাদের?

তবে আল্লাহর বাছাই করা বান্দাদের কথা ভিন্ন।

নূহ আমাদের ডেকেছিল, আর আমরা ডাকে কতোইনা উত্তম সাড়াদানকারী!

আমরা তাকে এবং তার পরিবার পরিজনকে উদ্ধার করেছিলাম মহাসংকট থেকে।

তার বংশধরদেরই আমরা অবশিষ্ট রেখেছি (প্রজন্মের পর প্রজন্ম)।

আমরা তার (সুনাম) স্মরণীয় করে রেখেছি পরবর্তীদের মাঝে।

সমগ্র জগতের মধ্যে নূহের প্রতি ‘সালাম’ (শান্তি বর্ষিত হোক)।

এভাবেই আমরা পুরস্কৃত করে থাকি কল্যাণপরায়ণদের।

সে ছিলো আমার বান্দাদের একজন।

তারপর বাকি সবাইকে আমরা ডুবিয়ে দিয়েছি পানিতে।

আর তার অনুগামীদেরই একজন ছিলো ইবরাহিম।

সে তার প্রভুর কাছে উপস্থিত হয়েছিল প্রশান্ত হৃদয় নিয়ে।

সে তার পিতা এবং তার কওমকে বলেছিল: ‘‘আপনারা কিসের ইবাদত (উপাসনা) করছেন?

আপনারা কি আল্লাহর পরিবর্তে মনগড়া ইলাহদের চান?

‘রাববুল আলামিনের’ (বিশ্বজগতের প্রভুর) ব্যাপারে আপনাদের ধারণা কী?’’

অত:পর সে একবার তারকারাজির দিকে তাকালো

এবং বললো: ‘আমি অসুস্থ।’

তখন তারা তাকে ফেলে চলে গেলো।

অত:পর সে সতর্কভাবে তাদের (দেবতা) গুলোর কাছে গেলো। তাদের বললো: ‘তোমরা কি খাবেনা?’

‘তোমাদের কী হয়েছে, তোমরা কথা বলোনা কেন?’

তারপর সে তাদের আঘাত হানলো শক্তভাবে।

তখন লোকেরা ছুটে এলো তার দিকে।

সে বললো: ‘‘তোমরা নিজেরা যেগুলোকে খোদাই করে তৈয়ার করো, তোমরা কি সেগুলোরই পূজা করো?

অথচ তোমাদের তো সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা যা তৈরি করো সেগুলোকেও।’’

তারা বললো: ‘তার জন্যে ঘেরাও করা প্রাচীরের একটা ইমারত নির্মাণ করো। অতপর তাকে সেই অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করো।’

তখন তারা তার বিরুদ্ধে এক চরম চক্রান্ত করে, কিন্তু আমরা তাদের নিচু করে দিয়েছি।

সে বলেছিল: ‘‘আমি আমার প্রভুর দিকে চললাম, তিনি আমাকে সঠিক পথ দেখাবেন।

আমার প্রভু! আমাকে একটি যোগ্য সন্তান দান করো।’’

তখন আমরা তাকে সুসংবাদ দিলাম এক স্থির বুদ্ধিসম্পন্ন পুত্র সন্তানের।

যখন সে তার পিতার সাথে কাজ করার বয়েসে উপনীত হয়, তখন সে (ইবরাহিম) বলেছিল: ‘আমার পুত্র! আমি স্বপ্ন দেখেছি, আমি তোমাকে যবেহ্ করছি। এখন তুমি বলো এ বিষয়ে তোমার অভিমত কী?’ সে বলেছিল: ‘আব্বু! আপনাকে যা নির্দেশ দেয়া হয়েছে আপনি তাই করুন। ইনশাল্লাহ ( চাইলে) আপনি আমাকে পাবেন ধৈর্যশীল।’

যখন তারা দুজনই আত্মসমর্পণ করলো এবং ইবরাহিম তার পুত্রকে উপুড় করে শুইয়ে দিলো,

তখন আমরা তাকে ডেকে বললাম: ‘হে ইবরাহিম!

অবশ্যি তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছো। আমরা এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি পুণ্যবানদের।

নিশ্চয়ই এটা ছিলো একটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা।

অত:পর আমরা তাকে মুক্ত করেছিলাম এক মহাকুরবানির বিনিময়ে।

আর আমরা পরবর্তীদের মধ্যেও এই কুরবানির রীতি চালু রেখেছি।

সালাম (শান্তি বর্ষিত হোক) ইবরাহিমের প্রতি।

পুণ্যবানদের আমরা এভাবেই পুরস্কৃত করি।

সে ছিলো আমাদের দাসদের একজন।

তারপর আমরা তাকে সুসংবাদ দিয়েছিলাম (পুত্র) ইসহাকের। সেও ছিলো একজন যোগ্য নবী।

আমরা বরকত দান করেছিলাম তাকে এবং ইসহাককেও। তাদের বংশধরদের মধ্যে কিছু কল্যাণপরায়ণ লোকও আছে, আর কিছু আছে নিজেদের প্রতি সুস্পষ্ট যুলুমকারীও।

আমরা ইহসান করেছিলাম মূসা এবং হারূণের প্রতি,

এবং আমরা নাজাত দিয়েছিলাম তাদেরকে এবং তাদের কওমকে মহাসংকট থেকে।

আমরা তাদের সাহায্য করেছিলাম, ফলে তারাই হয়েছিল বিজয়ী।

আমরা তাদের উভয়কে দিয়েছিলাম সুবিস্তারিত কিতাব।

উভয়কেই পরিচালিত করেছিলাম সিরাতুল মুসতাকিমে (সরল সঠিক পথে)।

পরবর্তীদের মাঝে তাদের খ্যাতি সংরক্ষণ করেছি।

সালাম মূসা এবং হারূণের প্রতি।

আমরা এভাবেই পুরস্কৃত করি পুণ্যবানদের।

তারা উভয়েই ছিলো আমাদের দাসদের অন্তরভুক্ত।

নিশ্চয়ই ইলিয়াসও ছিলো রসূলদের একজন।

স্মরণ করো, সে তার কওমকে বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?

তোমরা কি বা’আল (দেবতা) - কেই ডাকবে, আর পরিত্যাগ করবে সর্বশ্রেষ্ঠ স্রষ্টা

আল্লাহকে, যিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষদেরও রব?’’

কিন্তু তারা তাকে মিথ্যাবাদী বলে প্রত্যাখ্যান করে। সুতরাং তাদেরকে অবশ্যি (শাস্তির জন্যে) হাজির করা হবে।

তবে আমাদের মুখলিস (নিষ্ঠাবান) বান্দাদের কথা ভিন্ন।

আমরা তাকে স্মরণীয় করে রেখেছি পরবর্তীদের মাঝে।

সালাম ইলয়াসিনের (ইলিয়াসের) প্রতি।

এভাবেই আমরা পুরস্কৃত করি কল্যাণপরায়ণদের।

সে ছিলো আমাদের দাসদের একজন।

নিশ্চয়ই লুতও ছিলো রসূলদের একজন।

আমরা তাকে এবং তার পরিবার পরিজন সবাইকে নাজাত দিয়েছিলাম

এক বৃদ্ধাকে ছাড়া। সে ছিলো পেছনে পড়াদের একজন।

(তাদের নাজাত দিয়ে) বাকিদের আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।

তোমরা তাদের ধ্বংসাবশেষগুলো অতিক্রম করো সকালে

এবং রাত্রে। তবু কি তোমরা আকল খাটাবেনা?

ইউনুস অবশ্যি রসূলদের একজন।

স্মরণ করো, যখন সে পালিয়ে এসে বোঝাই করা নৌযানের কাছে পৌঁছালো।

তারপর সে লটারিতে যোগ দিলো এবং পরাজিত হলো।

(ফলে তারা তাকে ফেলে দিলো দরিয়ায়) এবং একটা বিশাল মাছ তাকে গিলে ফেললো। তখন সে নিজেকে তিরস্কার করতে থাকলো।

সে যদি আল্লাহর তসবিহ ঘোষণাকারী না হতো,

তাহলে তাকে তার পেটেই থাকতে হতো পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।

তখন আমরা তাকে নিক্ষেপ করলাম এক তরুলতাবিহীন প্রান্তরে এবং তখন ভীষণ অসুস্থ ছিলো সে।

আমরা তার উপর উদগত করে দিলাম একটি লাউ গাছ।

তারপর আমরা তাকে পুনরায় পাঠালাম এক লাখ বা তার চাইতে বেশি লোকের জনপদে।

তখন তারা ঈমান আনলো, ফলে আমরা তাদেরকে কিছু কালের জন্যে জীবন ভোগ করতে দিয়েছিলাম।

এখন তুমি তাদের জিজ্ঞেস করো: সব কন্যা সন্তান কি তোমার প্রভুর জন্যে, আর তাদের জন্যে কি সব পুত্র সন্তান?

নাকি আমরা ফেরেশতাদের নারী করে সৃষ্টি করেছি এবং এ ব্যাপারে তারা ছিলো প্রত্যক্ষদর্শী?

সাবধান, তারা কথা রচনা করে বলে:

‘ সন্তান জন্ম দিয়েছেন।’ আসলে তারা চরম মিথ্যাবাদী।

তিনি কি পুত্র সন্তানের পরিবর্তে কন্যা সন্তান বেছে নিয়েছেন?

তোমাদের হয়েছে কী, তোমাদের এ কেমন বিচার?

তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না?

নাকি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে?

তবে তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে তোমাদের কিতাব নিয়ে আসো।

তারা এবং জিনদের মাঝেও আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থির করে। অথচ জিনরা জানে, অবশ্যি তাদেরকে হাজির করা হবে বিচারের জন্যে।

তারা আল্লাহর প্রতি যা আরোপ করে তিনি তা থেকে পবিত্র, মহান।

তবে আল্লাহর মুখলিস (একনিষ্ঠ) বান্দারা তা করে না।

জেনে রাখো, তোমরা নিজেরা এবং তোমরা যাদের ইবাদত (পূজা, উপাসনা) করো, তারা (সবাই মিলে)

তোমরা কাউকেও আল্লাহর ব্যাপারে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।

কেবল জাহিমে (জাহান্নামে) প্রবেশকারীকে ছাড়া।

(ফেরেশতারা বলে:)! ‘‘আমাদের প্রত্যেকের জন্যেই রয়েছে নির্ধারিত স্থান।

আমরা অবশ্যি সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান।

আমরা অবশ্যি আল্লাহর তসবিহ্ (পবিত্রতা ও শ্রেষ্ঠত্ব) ঘোষণাকারী।’’

তারা তো বলে আসছে:

‘‘আগেকার কিতাবের মতো কোনো কিতাব যদি আমাদের কাছে থাকতো,

তবে অবশ্যি আমরা আল্লাহর মুখলিস (নিষ্ঠাবান) বান্দা হয়ে যেতাম।’’

কিন্তু তারা সেটির (কুরআনের) প্রতি কুফুরি করলো, এখন অচিরেই তারা জানতে পারবে (এর পরিণাম)।

আমার রসূলদের ব্যাপারে আমার এই ফায়সালা পূর্ব থেকেই স্থির হয়ে আছে যে,

তারা অবশ্যি সাহায্যপ্রাপ্ত হবে,

এবং আমাদের বাহিনীই হবে বিজয়ী।

সুতরাং কিছুকালের জন্যে তুমি তাদের উপেক্ষা করে চলো।

এবং তাদের পর্যবেক্ষণ করতে থাকো, শীঘ্রি তারা দেখতে পাবে।

তারা কি আমাদের আযাব দ্রুত করার কামনা করে?

তাদের আঙিনায় যখন আযাব নেমে আসবে, তখন তারা দেখতে পাবে, যাদের সতর্ক করা হয়েছে তাদের সকাল বেলাটা কতো নিকৃষ্ট!

সুতরাং কিছু কালের জন্যে তাদের উপেক্ষা করো।

এবং পর্যবেক্ষণ করো। অচিরেই তারা দেখতে পাবে (তাদের পরিণতি)।

তারা তাঁর প্রতি যা আরোপ করে, তা থেকে তোমার প্রভু পবিত্র ও মহান এবং সকল ক্ষমতার অধিকারী।

এবং সালাম রসূলদের প্রতি।

আর সমস্ত প্রশংসা রাববুল আলামিনের জন্যে।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme