আমি শপথ করছি কিয়ামত কালের।
আল কিয়ামা (কিয়ামত)
Chapter 75, 40 verses
About this chapter
মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ৪০, রুকু সংখ্যা: ০২
এই সূরার আলোচ্যসূচি
আমি আরো শপথ করছি তিরস্কারকারী নফসের।
মানুষ কি ধারণা করে নিয়েছে যে, আমরা তার হাড়গোড় জমা (পুনর্গঠিত) করবোনা?
হ্যাঁ, আমরা তার আংগুলের জোড়াগুলোও পুনর্গঠন করতে সক্ষম।
বরং মানুষ তার সামনের দিনগুলোতেও পাপাচারে লিপ্ত থাকতে চায়।
সে প্রশ্ন করে, কখন আসবে কিয়ামতকাল?
(হাঁ) তখনই আসবে, যখন মানুষের চোখ স্থির হয়ে যাবে,
চাঁদ হয়ে পড়বে জ্যোতিহীন,
এবং যখন জমা (একত্রিত) করে দেয়া হবে সূর্য ও চাঁদকে।
তখন মানুষ বলবে: পালাবার জায়গা কোথায়?
না, কখনো নয়, পালাবার কোনো জায়গা হবেনা।
সেদিন তো কেবল তোমার প্রভুর কাছেই হবে ঠিকানা।
সেদিন মানুষকে জানানো হবে, সে কী আগে পাঠিয়েছে, আর কী রেখে এসেছে পেছনে।
বরং মানুষ নিজেই তার নিজের সম্পর্কে অবহিত।
যদিও সে পেশ করে থাকে নানা রকম ওজর।
তুমি বারবার জিহ্বা নাড়বেনা তাড়াহুড়া করে অহি আয়ত্ত্ব করার জন্যে।
এর সংরক্ষণ করা ও পড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমাদের।
সুতরাং আমরা যখন তা (কুরআন) পাঠ করি, তুমি তখন সেই পাঠের অনুসরণ করো।
তারপর তার বিশদ ব্যাখ্যা করে দেয়ার দায়িত্বও আমাদের।
কখনো নয়, বরং তোমরা দ্রুত পেতে (অর্থাৎ দুনিয়ার জীবনকে) পছন্দ করো।
এবং তোমরা উপেক্ষা করছো আখিরাতকে।
সেদিন কিছু চেহারা হবে উজ্জ্বল,
তারা তাকিয়ে থাকবে তাদের প্রভুর দিকে।
আর কিছু চেহারা হবে মলিন,
তারা আশংকা করবে তাদের সাথে ধ্বংসকর আচরণের।
কখনো নয়, যখন প্রাণ হবে কন্ঠাগত,
এবং বলা হবে, ‘কে রক্ষা করবে তাকে?’
তখন সে বিশ্বাস করবে, তার বিদায়ের সময় উপস্থিত
তখন পায়ের সাথে পা জড়িয়ে যাবে।
সেদিন সব কিছু নিয়ে যাওয়া হবে তোমার প্রভুর কাছে।
সে সত্য বলে মেনে নেয়নি এবং সালাতও আদায় করেনি।
বরং সে সত্যকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
তারপর সে ফিরে গেছে পরিবার পরিজনের কাছে দম্ভভরে।
(হে অবিশ্বাসী!) দুর্ভোগ তোর, দুর্ভোগ,
আবারো দুর্ভোগ তোর, দুর্ভোগ,
মানুষ কি ধরে নিয়েছে যে, তাকে এমনিতেই ছেড়ে দেয়া হবে?
সে কি একটি নিক্ষিপ্ত নোতফা (শুক্রবিন্দু) ছিলনা?
তারপর সে পরিণত হয় আলাকায় (একটি আটকানো জিনিসে)। তারপর তিনি তাকে দান করেছেন আকৃতি এবং করেছেন সুগঠিত।
তারপর তিনি তার থেকে সৃষ্টি করেছেন জোড়া - পুরুষ ও নারী।
তারপরও কি সেই মহান স্রষ্টা মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম নন?