শপথ নক্ষত্রের, যখন উহা হয় অস্তমিত,
بسم الله الرحمن الرحيم والنجم إذا هوى
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ
শপথ নক্ষত্রের, যখন তারা অস্তমিত হয়,
Chapter 53, 62 verses
শপথ নক্ষত্রের, যখন উহা হয় অস্তমিত,
بسم الله الرحمن الرحيم والنجم إذا هوى
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ
শপথ নক্ষত্রের, যখন তারা অস্তমিত হয়,
তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয়,
ما ضل صاحبكم وما غوى
مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَىٰ
তোমাদের সাথি বিপথগামীও হয়নি, বিভ্রান্তও হয়নি।
এবং সে মনগড়া কথাও বলে না।
وما ينطق عن الهوى
وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَىٰ
সে নিজের খেয়াল খুশি মতো কথা বলেনা।
ইহা তো ওহী, যাহা তাহার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়,
إن هو إلا وحي يوحى
إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَىٰ
সে যা বলে তা তো অহি, যা তার কাছে পাঠানো হয়।
তাহাকে শিক্ষা দান করে শক্তিশালী,
علمه شديد القوى
عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَىٰ
তাকে (এ কুরআন) শিক্ষা দেয় এক শক্তিধর
প্রজ্ঞাসম্পন্ন, সে নিজ আকৃতিতে স্থির হইয়াছিল,
ذو مرة فاستوى
ذُو مِرَّةٍ فَاسْتَوَىٰ
প্রজ্ঞাবান (জিবরিল)। নিজের আকৃতিতে সে স্থির হয়েছিল,
তখন সে ঊর্ধ্বদিগন্তে,
وهو بالأفق الأعلى
وَهُوَ بِالْأُفُقِ الْأَعْلَىٰ
তখন সে ছিলো উপর দিগন্তে,
অতঃপর সে তাহার নিকটবর্তী হইল, অতি নিকটবর্তী,
ثم دنا فتدلى
ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّىٰ
তারপর সে তার কাছে আসে এবং অতি কাছে,
ফলে তাহাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রহিল অথবা উহারও কম।
فكان قاب قوسين أو أدنى
فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَىٰ
ফলে তাদের মাঝখানে ব্যবধান বাকি থাকে মাত্র দুই ধনুকের ব্যবধান অথবা তার চাইতেও কম।
তখন তাঁহার বান্দার প্রতি যাহা ওহী করিবার তাহা ওহী করিলেন।
فأوحى إلى عبده ما أوحى
فَأَوْحَىٰ إِلَىٰ عَبْدِهِ مَا أَوْحَىٰ
তখন তাঁর বান্দার প্রতি অহি করেন (জিবরিলের মাধ্যমে) যা অহি করার।
যাহা সে দেখিয়াছে, তাহার অন্তঃকরণ তাহা অস্বীকার করে নাই;
ما كذب الفؤاد ما رأى
مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَىٰ
হৃদয় যা দেখেছে, সে তা ভুল করেনি।
সে যাহা দেখিয়াছে তোমরা কি সে বিষয়ে তাহার সঙ্গে বিতর্ক করিবে?
أفتمارونه على ما يرى
أَفَتُمَارُونَهُ عَلَىٰ مَا يَرَىٰ
সে যা দেখেছে তোমরা কি সে বিষয়ে তার সাথে বিতর্ক করবে?
নিশ্চয়ই সে তাহাকে আরেকবার দেখিয়াছিল
ولقد رآه نزلة أخرى
وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَىٰ
নিশ্চয়ই সে তাকে পরেও একবার দেখেছিল
প্রান্তবর্তী বদরী বৃক্ষের নিকট,
عند سدرة المنتهى
عِندَ سِدْرَةِ الْمُنتَهَىٰ
সিদরাতুল মুনতাহার কাছে।
যাহার নিকট অবস্থিত বাসোদ্যান।
عندها جنة المأوى
عِندَهَا جَنَّةُ الْمَأْوَىٰ
তার কাছেই রয়েছে জান্নাতুল মা’ওয়া।
যখন বৃক্ষটি, যদ্দ্বারা আচ্ছাদিত হইবার তদ্দ্বারা ছিল আচ্ছাদিত,
إذ يغشى السدرة ما يغشى
إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَىٰ
যখন সে সিদরাটি (কুল গাছটি) যা দিয়ে ঢাকার তা দিয়ে আচ্ছাদিত ছিলো।
তাহার দৃষ্টিবিভ্রম হয় নাই, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যুতও হয় নাই।
ما زاغ البصر وما طغى
مَا زَاغَ الْبَصَرُ وَمَا طَغَىٰ
তার নজর বিভ্রম ঘটেনি এবং সে বিচ্যুতও হয়নি।
সে তো তাহার প্রতিপালকের মহান নিদর্শনাবলী দেখিয়াছিল;
لقد رأى من آيات ربه الكبرى
لَقَدْ رَأَىٰ مِنْ آيَاتِ رَبِّهِ الْكُبْرَىٰ
সে তো তার প্রভুর শ্রেষ্ঠ নিদর্শনাবলি দেখেছে।
তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ ‘লাত’ ও ‘উয্যা’ সম্বন্ধে
أفرأيتم اللات والعزى
أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّىٰ
তোমরা কি লাত ও উযযার বিষয়টি ভেবে দেখেছো?
এবং তৃতীয় আরেকটি ‘মানাত’ সম্বন্ধে?
ومناة الثالثة الأخرى
وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَىٰ
আর তৃতীয় আরেকটি মানাতের বিষয়টি?
তবে কি তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান এবং র জন্য কন্যা সন্তান ?
ألكم الذكر وله الأنثى
أَلَكُمُ الذَّكَرُ وَلَهُ الْأُنثَىٰ
তবে কি তোমাদের জন্যে পুত্র সন্তান আর আল্লাহর জন্যে কন্যা সন্তান?
এই প্রকার বণ্টন তো অসংগত।
تلك إذا قسمة ضيزى
تِلْكَ إِذًا قِسْمَةٌ ضِيزَىٰ
এ ধরণের ভাগ তো সম্পূর্ণ অন্যায়।
এইগুলি কতক নামমাত্র যাহা তোমাদের পূর্বপুরুষগণ ও তোমরা রাখিয়াছ, যাহার সমর্থনে কোন দলীল প্রেরণ করেন নাই। তাহারা তো অনুমান এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে, অথচ তাহাদের নিকট তাহাদের প্রতিপালকের পথনির্দেশ আসিয়াছে।
إن هي إلا أسماء سميتموها أنتم وآباؤكم ما أنزل الله بها من سلطان ۚ إن يتبعون إلا الظن وما تهوى الأنفس ۖ ولقد جاءهم من ربهم الهدى
إِنْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاءٌ سَمَّيْتُمُوهَا أَنتُمْ وَآبَاؤُكُم مَّا أَنزَلَ اللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَانٍ ۚ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنفُسُ ۖ وَلَقَدْ جَاءَهُم مِّن رَّبِّهِمُ الْهُدَىٰ
তোমাদের এগুলো তো কতোগুলো নামমাত্র, তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষরা এসব নাম দিয়েছো। তো এগুলোর সমর্থনে কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি। তোমরা তো অনুমান এবং কামনা - বাসনারই অনুসরণ করো। অথচ এদের কাছে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে হিদায়াত এসেছে।
মানুষ যাহা চায় তাহাই কি সে পায়?
أم للإنسان ما تمنى
أَمْ لِلْإِنسَانِ مَا تَمَنَّىٰ
নাকি মানুষ যা চায়, তাই পায়?
বস্তুত ইহকাল ও পরকাল রই।
فلله الآخرة والأولى
فَلِلَّهِ الْآخِرَةُ وَالْأُولَىٰ
প্রকৃতপক্ষে, ইহকাল এবং সবই আল্লাহর।
আকাশে কত ফিরিশ্তা রহিয়াছে ; উহাদের সুপারিশ কিছুমাত্র ফলপ্রসূ হইবে না, তবে র অনুমতির পর ; যাহার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন ও যাহার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।
۞ وكم من ملك في السماوات لا تغني شفاعتهم شيئا إلا من بعد أن يأذن الله لمن يشاء ويرضى
۞ وَكَم مِّن مَّلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِن بَعْدِ أَن يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَن يَشَاءُ وَيَرْضَىٰ
মহাকাশে কতো যে ফেরেশতা রয়েছে, তাদের শাফায়াতে কিছুমাত্র লাভ হবেনা, তবে যদি অনুমতি দেন তারপর, এবং তিনি যার জন্যে অনুমতি দেন, আর তিনি যার প্রতি সন্তুষ্ট হন।
যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহারাই নারীবাচক নাম দিয়া থাকে ফিরিশ্তাদেরকে;
إن الذين لا يؤمنون بالآخرة ليسمون الملائكة تسمية الأنثى
إِنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ لَيُسَمُّونَ الْمَلَائِكَةَ تَسْمِيَةَ الْأُنثَىٰ
নিশ্চয়ই যারা আখিরাতের প্রতি ঈমান আনেনা, তারাই ফেরেশতাদের নারীবাচক নাম দিয়ে থাকে।
অথচ এই বিষয়ে উহাদের কোন জ্ঞান নাই, উহারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে; কিন্তু সত্যের মুকাবিলায় অনুমানের কোনই মূল্য নাই।
وما لهم به من علم ۖ إن يتبعون إلا الظن ۖ وإن الظن لا يغني من الحق شيئا
وَمَا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ ۖ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ ۖ وَإِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا
অথচ এ ব্যাপারে তাদের কোনো এলেমই নেই। তারা তো কেবল অনুমানের পিছে ছুটে। কিন্তু অনুমান সত্যের মোকাবেলায় কোনো কাজেই লাগেনা।
অতএব যে আমার স্মরণে বিমুখ তুমি তাহাকে উপেক্ষা করিয়া চল; সে তো কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করে।
فأعرض عن من تولى عن ذكرنا ولم يرد إلا الحياة الدنيا
فَأَعْرِضْ عَن مَّن تَوَلَّىٰ عَن ذِكْرِنَا وَلَمْ يُرِدْ إِلَّا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا
সুতরাং যে আমার যিকির থেকে বিমুখ, তাকে উপেক্ষা করে চলো। সে তো দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই কামনা করেনা।
উহাদের জ্ঞানের দৌড় এই পর্যন্ত। তোমার প্রতিপালকই ভাল জানেন কে তাঁহার পথ হইতে বিচ্যুত, তিনিই ভাল জানেন কে সৎপথপ্রাপ্ত।
ذلك مبلغهم من العلم ۚ إن ربك هو أعلم بمن ضل عن سبيله وهو أعلم بمن اهتدى
ذَٰلِكَ مَبْلَغُهُم مِّنَ الْعِلْمِ ۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اهْتَدَىٰ
তাদের জ্ঞানের দৌড় এ পর্যন্তই শেষ। তোমার প্রভু ভালো করেই জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, আর তিনি তাকেও ভালো করেই জানেন, যে সঠিক পথের অনুসারী।
আকাশমণ্ডলীতে যাহা কিছু আছে ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহা রই। যাহারা মন্দ কর্ম করে তাহাদেরকে তিনি দেন মন্দ ফল এবং যাহারা সৎকর্ম করে তাহাদেরকে দেন উত্তম পুরস্কার।
ولله ما في السماوات وما في الأرض ليجزي الذين أساءوا بما عملوا ويجزي الذين أحسنوا بالحسنى
وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ أَسَاءُوا بِمَا عَمِلُوا وَيَجْزِيَ الَّذِينَ أَحْسَنُوا بِالْحُسْنَى
মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর, যাতে করে যারা বদ আমল করে তাদের মন্দ প্রতিফল দিয়ে দেন, আর যারা নেক আমল করে, তাদের শুভ প্রতিফল দান করেন।
উহারাই বিরত থাকে গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কার্য হইতে, ছোটখাট অপরাধ করিলেও। তোমার প্রতিপালকের ক্ষমা অপরিসীম ; তোমাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত - যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছিলেন মৃত্তিকা হইতে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে ভ্রণরূপে ছিলে। অতএব তোমরা আত্মপ্রশংসা করিও না, তিনিই সম্যক জানেন কে।
الذين يجتنبون كبائر الإثم والفواحش إلا اللمم ۚ إن ربك واسع المغفرة ۚ هو أعلم بكم إذ أنشأكم من الأرض وإذ أنتم أجنة في بطون أمهاتكم ۖ فلا تزكوا أنفسكم ۖ هو أعلم بمن اتقى
الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ ۚ إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ ۚ هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةٌ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ ۖ فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ ۖ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَىٰ
যারা কবিরা গুনাহ্ এবং ফাহেশা কাজ থেকে বিরত থাকে, যদিও ছোট খাটো গুনাহ্ হয়েই থাকে, তোমার প্রভু (তাদের ব্যাপারে) উদার ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের সম্পর্কে অবগত আছেন, যখন তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছিলেন মাটি থেকে এবং যখন তোমরা মায়ের গর্ভে ছিলে ভ্রুণ হিসেবে। সুতরাং তোমরা নিজেদেরকে শুদ্ধতার সার্টিফিকেট দিওনা। তিনি ভালো করেই জানেন কে বেশি ?
তুমি কি দেখিয়াছ সেই ব্যক্তিকে যে মুখ ফিরাইয়া নেয়;
أفرأيت الذي تولى
أَفَرَأَيْتَ الَّذِي تَوَلَّىٰ
তুমি কি ঐ ব্যক্তিকে দেখেছো, যে মুখ ফিরিয়ে নেয় (ইসলাম থেকে)?
এবং দান করে সামান্যই, পরে বন্ধ করিয়া দেয়?
وأعطى قليلا وأكدى
وَأَعْطَىٰ قَلِيلًا وَأَكْدَىٰ
যে সামান্যই দান করে এবং পরে (তাও) বন্ধ করে দেয়?
তাহার কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, সে প্রত্যক্ষ করে?
أعنده علم الغيب فهو يرى
أَعِندَهُ عِلْمُ الْغَيْبِ فَهُوَ يَرَىٰ
তার কাছে কি গায়েবের জ্ঞান আছে এবং সে কি সব দেখতে পায়?
তাহাকে কি অবগত করা হয় নাই যাহা আছে মূসার কিতাবে,
أم لم ينبأ بما في صحف موسى
أَمْ لَمْ يُنَبَّأْ بِمَا فِي صُحُفِ مُوسَىٰ
তাকে কি অবহিত করা হয়নি যা রয়েছে মূসার কিতাবে?
এবং ইব্রাহীমের কিতাবে, যে পালন করিয়াছিল তাহার দায়িত্ব?
وإبراهيم الذي وفى
وَإِبْرَاهِيمَ الَّذِي وَفَّىٰ
এবং ইবরাহিমের কিতাবে, যে পূর্ণ করেছিল তার কর্তব্য?
উহা এই যে, কোন বহনকারী অপরের বোঝা বহন করিবে না,
ألا تزر وازرة وزر أخرى
أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ
(সেসব কিতাবে রয়েছে:) কোনো বোঝা বহনকারী অপরের (পাপের) বোঝা বহন করবে না।
আর এই যে, মানুষ তাহাই পায় যাহা সে করে,
وأن ليس للإنسان إلا ما سعى
وَأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَانِ إِلَّا مَا سَعَىٰ
মানুষ তাই পাবে, যা সে চেষ্টা করবে।
আর এই যে, তাহার কর্ম অচিরেই দেখান হইবে -
وأن سعيه سوف يرى
وَأَنَّ سَعْيَهُ سَوْفَ يُرَىٰ
এবং শীঘ্রি তাকে দেখানো হবে তার প্রচেষ্টা,
অতঃপর তাহাকে দেওয়া হইবে পূর্ণ প্রতিদান,
ثم يجزاه الجزاء الأوفى
ثُمَّ يُجْزَاهُ الْجَزَاءَ الْأَوْفَىٰ
তারপর তাকে দেয়া হবে পূর্ণ প্রতিফল,
আর এই যে, সমস্ত কিছুর সমাপ্তি তো তোমার প্রতিপালকের নিকট,
وأن إلى ربك المنتهى
وَأَنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ الْمُنتَهَىٰ
(সেসব কিতাবে) আরো রয়েছে যে, সব কিছুর সমাপ্তি হবে তোমার প্রভুর কাছে গিয়েই।
আর এই যে, তিনিই হাসান, তিনিই কাঁদান,
وأنه هو أضحك وأبكى
وَأَنَّهُ هُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَىٰ
তিনিই হাসাবেন এবং তিনিই কাঁদাবেন।
আর এই যে, তিনিই মারেন, তিনিই বাঁচান,
وأنه هو أمات وأحيا
وَأَنَّهُ هُوَ أَمَاتَ وَأَحْيَا
তিনিই মউত ঘটান এবং তিনিই হায়াত দান করেন
আর এই যে, তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল - পুরুষ ও নারী
وأنه خلق الزوجين الذكر والأنثى
وَأَنَّهُ خَلَقَ الزَّوْجَيْنِ الذَّكَرَ وَالْأُنثَىٰ
তিনিই সৃষ্টি করেন পুরুষ ও নারীর জোড়া
শুক্রবিন্দু হইতে, যখন উহা স্খলিত হয়,
من نطفة إذا تمنى
مِن نُّطْفَةٍ إِذَا تُمْنَىٰ
নোতফা (শুক্র বিন্দু) থেকে যখন বীর্যপাত করা হয়।
আর এই যে, পুনরুত্থান ঘটাইবার দায়িত্ব তাঁহারই,
وأن عليه النشأة الأخرى
وَأَنَّ عَلَيْهِ النَّشْأَةَ الْأُخْرَىٰ
পুনরুত্থান ঘটানোর দায়িত্বও তাঁরই।
আর এই যে, তিনিই অভাবমুক্ত করেন ও সম্পদ দান করেন,
وأنه هو أغنى وأقنى
وَأَنَّهُ هُوَ أَغْنَىٰ وَأَقْنَىٰ
তিনিই অভাবমুক্ত করেন এবং দান করেন প্রাচুর্য।
আর এই যে, তিনি শি‘রা নক্ষত্রের মালিক।
وأنه هو رب الشعرى
وَأَنَّهُ هُوَ رَبُّ الشِّعْرَىٰ
তিনিই প্রভু শে’রা নক্ষত্রের।
আর এই যে, তিনিই প্রাচীন ‘আদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করিয়াছিলেন
وأنه أهلك عادا الأولى
وَأَنَّهُ أَهْلَكَ عَادًا الْأُولَىٰ
তিনিই হালাক (ধ্বংস) করেছিলেন প্রথম আদকে,
এবং সামূদ সম্প্রদায়কেও; কাহাকেও তিনি বাকি রাখেন নাই
وثمود فما أبقى
وَثَمُودَ فَمَا أَبْقَىٰ
সামুদ জাতিকেও - যাদের একজনকেও বাকি রাখেননি।
আর ইহাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কেও, উহারা ছিল অতিশয় ও অবাধ্য।
وقوم نوح من قبل ۖ إنهم كانوا هم أظلم وأطغى
وَقَوْمَ نُوحٍ مِّن قَبْلُ ۖ إِنَّهُمْ كَانُوا هُمْ أَظْلَمَ وَأَطْغَىٰ
এর আগে (ধ্বংস করেছিলেন) নূহের জাতিকেও। এরা সবাই ছিলো বড় যালিম আর চরম বিদ্রোহী।
উল্টানো আবাসভূমিকে নিক্ষেপ করিয়াছিলেন,
والمؤتفكة أهوى
وَالْمُؤْتَفِكَةَ أَهْوَىٰ
এছাড়াও (সেসব কিতাবে) রয়েছে যে, তিনি ধ্বংস করে দিয়েছিলেন উল্টে দেয়া জনপদকেও (লুতের জাতির শহরকে),
উহাকে আচ্ছন্ন করিল কী সর্বগ্রাসী শাস্তি!
فغشاها ما غشى
فَغَشَّاهَا مَا غَشَّىٰ
তারপর তাদের আচ্ছন্ন করে নিয়েছিল - আচ্ছন্নকারী আযাব।
তবে তুমি তোমার প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করিবে?
فبأي آلاء ربك تتمارى
فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكَ تَتَمَارَىٰ
এখন বলো, তোমার প্রভুর কোন্ নিয়ামত সম্পর্কে সন্দেহ করবে?
অতীতের সতর্ককারীদের ন্যায় এই নবীও এক সতর্ককারী।
هذا نذير من النذر الأولى
هَٰذَا نَذِيرٌ مِّنَ النُّذُرِ الْأُولَىٰ
এ নবীও একজন সতর্ককারী অতীতের সতর্ককারীদের মতোই।
কিয়ামত আসন্ন,
أزفت الآزفة
أَزِفَتِ الْآزِفَةُ
কিয়ামত সন্নিকটে,
ব্যতীত কেহই ইহা ব্যক্ত করিতে সক্ষম নয়।
ليس لها من دون الله كاشفة
لَيْسَ لَهَا مِن دُونِ اللَّهِ كَاشِفَةٌ
ছাড়া কেউই তা উন্মুক্ত করতে সক্ষম নয়।
তোমরা কি এই কথায় বিস্ময় বোধ করিতেছ!
أفمن هذا الحديث تعجبون
أَفَمِنْ هَٰذَا الْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ
তোমরা কি এই বাণীর (কুরআনের) ব্যাপারে বিস্ময়বোধ করছো?
এবং হাসিঠাট্টা করিতেছ! ক্রন্দন করিতেছ না?
وتضحكون ولا تبكون
وَتَضْحَكُونَ وَلَا تَبْكُونَ
হাসাহাসি করছো? অথচ কাঁদছো না?
তোমরা তো উদাসীন,
وأنتم سامدون
وَأَنتُمْ سَامِدُونَ
আসলে তোমরা গাফিল।
অতএব কে সিজ্দা কর এবং তাঁহারই ‘ইবাদত কর।
فاسجدوا لله واعبدوا ۩
فَاسْجُدُوا لِلَّهِ وَاعْبُدُوا ۩
অতএব, তোমরা সাজদা করো আল্লাহকে এবং ইবাদত করো কেবল তাঁরই। (সাজদা)