হা - মীম।
بسم الله الرحمن الرحيم حم
হা-মীম।
হা মিম।
Chapter 44, 59 verses
হা - মীম।
بسم الله الرحمن الرحيم حم
হা-মীম।
হা মিম।
শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের।
والكتاب المبين
সুস্পষ্ট কিতাবের কসম!
শপথ এই সুস্পষ্ট কিতাবের।
আমি তো ইহা অবতীর্ণ করিয়াছি এক মুবারক রজনীতে ; আমি তো সতর্ককারী।
إنا أنزلناه في ليلة مباركة ۚ إنا كنا منذرين
নিশ্চয় আমি এটি নাযিল করেছি বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী।
আমরা এটিকে নাযিল করেছি এক মুবারক রাতে। আমরা তো সতর্ককারী।
এই রজনীতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়,
فيها يفرق كل أمر حكيم
সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়,
সেই রাতে ফায়সালা করা হয় প্রতিটি বিজ্ঞানময় বিষয়
আমার আদেশক্রমে, আমি তো রাসূল প্রেরণ করিয়া থাকি
أمرا من عندنا ۚ إنا كنا مرسلين
আমার নির্দেশে। নিশ্চয় আমি রাসূল প্রেরণকারী।
আমাদের নির্দেশক্রমে। আমরা তো রসূল পাঠিয়ে থাকি
তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহস্বরূপ ; তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ -
رحمة من ربك ۚ إنه هو السميع العليم
তোমার রবের কাছ থেকে রহমত হিসেবে; নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ হিসেবে। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও উহাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা নিশ্চিত হও।
رب السماوات والأرض وما بينهما ۖ إن كنتم موقنين
যিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু‘য়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব; যদি তোমরা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণকারী হও।
তিনি মহাকাশ ও পৃথিবীর প্রভু এবং এ দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে সেগুলোরও, যদি তোমরা একীন রেখে থাকো।
তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই, তিনি জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু ঘটান; তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও প্রতিপালক।
لا إله إلا هو يحيي ويميت ۖ ربكم ورب آبائكم الأولين
তিনি ছাড়া কোন (সত্য) নেই; তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু দেন। তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদের রব।
কোনো ইলাহ্ নেই তিনি ছাড়া। তিনি হায়াত দান করেন এবং মউত ঘটান। তিনিই তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষদের প্রভু।
বস্তুত উহারা সন্দেহের বশবর্তী হইয়া হাসিঠাট্টা করিতেছে।
بل هم في شك يلعبون
তারা বরং সন্দেহের বশবর্তী হয়ে খেলতামাশা করছে।
বরং তারা সন্দেহে থেকে খেলতামাশায় লিপ্ত হয়েছে।
অতএব তুমি অপেক্ষা কর সেই দিনের যেদিন স্পষ্ট ধূম্রাচ্ছন্ন হইবে আকাশ,
فارتقب يوم تأتي السماء بدخان مبين
অতএব অপেক্ষা কর সেদিনের যেদিন স্পষ্ট ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হবে আকাশ।
অতএব তুমি অপেক্ষা করো সেই দিনটির যেদিন আসমান হয়ে পড়বে ঘোরতর ধোঁয়াচ্ছন্ন,
এবং উহা আবৃত করিয়া ফেলিবে মানব জাতিকে। ইহা হইবে মর্মন্তুদ শাস্তি।
يغشى الناس ۖ هذا عذاب أليم
যা মানুষদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে: এটি যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
এবং তা ঢেকে ফেলবে সমস্ত মানুষকেও। এ হবে এক বেদনাদায়ক আযাব।
তখন উহারা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক ! আমাদের হইতে শাস্তি দূর কর, অবশ্যই আমরা ঈমান আনিব।’
ربنا اكشف عنا العذاب إنا مؤمنون
(তখন তারা বলবে) ‘হে আমাদের রব, আমাদের থেকে আযাব দূর করুন; নিশ্চয় আমরা হব।’
তখন তারা বলতে থাকবে: ‘আমাদের প্রভু! আমাদের থেকে সরিয়ে নাও আযাব। আমরা এখনই ঈমান আনছি।’
উহারা কী করিয়া উপদেশ গ্রহণ করিবে? উহাদের নিকট তো আসিয়াছে স্পষ্ট ব্যাখ্যাতা এক রাসূল ;
أنى لهم الذكرى وقد جاءهم رسول مبين
এখন কীভাবে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে, অথচ ইতঃপূর্বে তাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনাকারী রাসূল এসেছিল?
কেমন করে তারা গ্রহণ করবে উপদেশ, অথচ তাদের কাছে এসেছিল একজন সুস্পষ্ট রসূল।
অতঃপর উহারা তাহাকে অমান্য করিয়া বলে, ‘সে শিক্ষাপ্রাপ্ত এক পাগল!’
ثم تولوا عنه وقالوا معلم مجنون
তারপর তারা তাঁর দিক থেকে বিমুখ হয়েছিল এবং বলেছিল ‘এ শিক্ষাপ্রাপ্ত পাগল’।
তখন তারা একথা বলে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়: ‘এ তো এক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাগল।’
আমি কিছু কালের জন্য শাস্তি রহিত করিব - তোমরা তো তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়া যাইবে।
إنا كاشفو العذاب قليلا ۚ إنكم عائدون
নিশ্চয় আমি ক্ষণকালের জন্য আযাব দূর করব; নিশ্চয় তোমরা পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে।
আমি কিছু কালের জন্যে আযাব সরিয়ে নিচ্ছি, কিন্তু তোমরা তো পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে।
যেদিন আমি তোমাদেরকে প্রবলভাবে পাকড়াও করিব, সেদিন নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে শাস্তি দিবই।
يوم نبطش البطشة الكبرى إنا منتقمون
সেদিন আমি প্রবলভাবে পাকড়াও করব; নিশ্চয় আমি হব প্রতিশোধ গ্রহণকারী।
যেদিন আমরা তোমাদের প্রবলভাবে পাকড়াও করবো, সেদিন অবশ্যি আমরা তোমাদের থেকে প্রতিশোধ নেবো।
ইহাদের পূর্বে আমি তো ফির‘আওন সম্প্রদায়কে পরীক্ষা করিয়াছিলাম এবং উহাদের নিকটও আসিয়াছিল এক সম্মানিত রাসূল,
۞ ولقد فتنا قبلهم قوم فرعون وجاءهم رسول كريم
আর অবশ্যই এদের পূর্বে আমি ফির‘আউনের কওমকে পরীক্ষা করেছিলাম এবং তাদের কাছে এসেছিল এক সম্মানিত রাসূল,
এদের আগে আমরা ফেরাউনের জাতিকেও পরীক্ষা করেছিলাম এবং তাদের কাছে এসেছিল একজন সম্মানিত রসূল।
সে বলিল, র বান্দাদেরকে আমার নিকট প্রত্যর্পণ কর। আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
أن أدوا إلي عباد الله ۖ إني لكم رسول أمين
(সে বলেছিল) ‘আল্লাহর বান্দাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও; নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।’
সে তাদের বলেছিল: ‘‘আল্লাহর বান্দাদের (বনি ইসরাঈলকে) আমার হাতে প্রত্যার্পণ করো। আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসূল।
‘এবং তোমরা র বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিও না, আমি তোমাদের নিকট উপস্থিত করিতেছি স্পষ্ট প্রমাণ।
وأن لا تعلوا على الله ۖ إني آتيكم بسلطان مبين
‘আর আল্লাহর বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করো না। নিশ্চয় আমি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসব।’
আল্লাহর বিরুদ্ধে বড়াই করোনা, আমি (আল্লাহর পক্ষ থেকে) তোমাদের কাছে নিয়ে এসেছি সুস্পষ্ট প্রমাণ।
‘তোমরা যাহাতে আমাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করিতে না পার, তজ্জন্য আমি আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালকের শরণ লইতেছি।
وإني عذت بربي وربكم أن ترجمون
আর তোমাদের প্রস্তরাঘাত থেকে আমি আমার রব ও তোমাদের রবের কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।
তোমরা যেনো আমাকে পাথর মেরে হত্যা করতে না পারো, সে জন্যে আমি আমার প্রভু এবং তোমাদের প্রভু (আল্লাহর) আশ্রয় গ্রহণ করেছি।
‘যদি তোমরা আমার কথায় বিশ্বাস স্থাপন না কর, তবে তোমরা আমার নিকট হইতে দূরে থাক।’
وإن لم تؤمنوا لي فاعتزلون
‘আর তোমরা যদি আমার উপর বিশ্বাস না রাখ, তবে আমাকে ছেড়ে যাও।’
তোমরা যদি আমার প্রতি ঈমান না আনো, তাহলে আমার থেকে দূরে থাকো।’’
অতঃপর মূসা তাহার প্রতিপালকের নিকট নিবেদন করিল, ‘ইহারা তো এক অপরাধী সম্প্রদায়।’
فدعا ربه أن هؤلاء قوم مجرمون
অতঃপর সে তার রবকে ডেকে বলল, ‘নিশ্চয় এরা এক অপরাধী সম্প্রদায়।’
অত:পর মূসা তার প্রভুকে ডেকে বললো: ‘এরা তো এক অপরাধী জাতি।’
আমি বলিয়াছিলাম, ‘তুমি আমার বান্দাদেরকে লইয়া রজনীযোগে বাহির হইয়া পড়, তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হইবেই।’
فأسر بعبادي ليلا إنكم متبعون
( বললেন) ‘তাহলে আমার বান্দাদের নিয়ে রাতে বেরিয়ে পড়; নিশ্চয় তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে’।
(তখন আমরা তাকে নির্দেশ দিয়েছি:) ‘তুমি রাতের বেলায় আমার দাসদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ো। পেছনে থেকে তোমাদের ধাওয়া করা হবে।’
সমুদ্রকে স্থির থাকিতে দাও, উহারা এমন এক বাহিনী যাহা নিমজ্জিত হইবেই।
واترك البحر رهوا ۖ إنهم جند مغرقون
আর সমুদ্রকে রেখে দাও শান্ত, নিশ্চয় তারা হবে এক ডুবন্ত বাহিনী’।
সমুদ্রকে স্থির থাকতে দাও, ওরা সেই বাহিনী যারা ডুবে মরবে।
উহারা পশ্চাতে রাখিয়া গিয়াছিল কত উদ্যান ও প্রস্রবণ;
كم تركوا من جنات وعيون
তারা অনেক বাগান ও ঝর্না রেখেছিল।
কতো যে বাগবাগিচা আর ঝরণাধারা পেছনে রেখে এসেছিল তারা!
কত শস্যক্ষেত্র ও সুরম্য প্রাসাদ,
وزروع ومقام كريم
শ্যামল শস্যক্ষেত ও সুরম্য বাসস্থান,
রেখে এসেছিল শস্য ক্ষেত, বিলাসবহুল প্রাসাদ,
কত বিলাস - উপকরণ, উহাতে তাহারা আনন্দ পাইত!
ونعمة كانوا فيها فاكهين
আর নানা বিলাস-সামগ্রী, যাতে তারা আনন্দ উপভোগ করত।
আর কতো যে বিলাস সামগ্রী, যেগুলোতে তারা ছিলো উল্লাসে মত্ত।
এইরূপই ঘটিয়াছিল এবং আমি এই সমুদয়ের উত্তরাধিকারী করিয়াছিলাম ভিন্ন সম্প্রদায়কে।
كذلك ۖ وأورثناها قوما آخرين
এমনটিই হয়েছিল এবং আমি এগুলোর উত্তরাধিকারী করেছিলাম অন্য কওমকে।
এমনটিই ঘটেছিল, আর আমরা এসব কিছুর ওয়ারিশ বানিয়েছিলাম অপর একদল লোককে।
আকাশ এবং পৃথিবী কেহই উহাদের জন্যে অশ্রুপাত করে নাই এবং উহাদেরকে অবকাশও দেওয়া হয় নাই।
فما بكت عليهم السماء والأرض وما كانوا منظرين
অতঃপর আসমান ও যমীন তাদের জন্য কাঁদেনি এবং তারা অবকাশপ্রাপ্ত ছিল না।
আসমান কিংবা জমিন কেউই তাদের জন্যে অশ্রুপাত করেনি এবং তাদের কোনো প্রকার অবকাশও দেয়া হয়নি।
আমি তো উদ্ধার করিয়াছিলাম বনী ইসরাঈলকে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি হইতে
ولقد نجينا بني إسرائيل من العذاب المهين
আর অবশ্যই আমি বনী ইসরাঈলকে লাঞ্ছনাদায়ক আযাব থেকে উদ্ধার করেছিলাম,
(এভাবে) আমরা নাজাত (মুক্তি) দিয়েছিলাম বনি ইসরাঈলকে লাঞ্ছনাকর আযাব থেকে,
ফির‘আওনের; সে তো ছিল পরাক্রান্ত সীমালংঘনকারীদের মধ্যে।
من فرعون ۚ إنه كان عاليا من المسرفين
ফির‘আউন থেকে, নিশ্চয় সে ছিল সীমালঙ্ঘনকারীদের শীর্ষস্থানীয়।
ফেরাউনের কবল থেকে, সে ছিলো এক উদ্ধত সীমালংঘনকারী।
আমি তো জানিয়া - শুনিয়াই উহাদেরকে বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছিলাম,
ولقد اخترناهم على علم على العالمين
আর আমি জ্ঞাতসারেই তাদেরকে সকল সৃষ্টির উপর নির্বাচিত করেছিলাম।
আমরা জেনে বুঝেই জমিনে তাদের দিয়েছিলাম শ্রেষ্ঠত্ব।
এবং উহাদেরকে দিয়াছিলাম নিদর্শনাবলী, যাহাতে ছিল সুস্পষ্ট পরীক্ষা;
وآتيناهم من الآيات ما فيه بلاء مبين
আর আমি তাদেরকে এমন নিদর্শনাবলী দিয়েছিলাম যাতে ছিল সুস্পষ্ট পরীক্ষা।
আর আমরা তাদের দিয়েছিলাম নিদর্শনাবলি, যাতে ছিলো সুস্পষ্ট পরীক্ষা।
উহারা বলিয়াই থাকে,
إن هؤلاء ليقولون
নিশ্চয় তারা বলেই থাকে,
এখন কিনা এরা বলছে:
‘আমাদের প্রথম মৃত্যু ব্যতীত আর কিছুই নাই এবং আমরা আর উত্থিত হইব না।
إن هي إلا موتتنا الأولى وما نحن بمنشرين
‘আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই নেই এবং আমরা পুনরুত্থিত হবার নই’।
‘‘আমাদের প্রথম মউত ছাড়া আর কিছু নেই, আমাদের পুনরুত্থিত করা হবেনা।
‘অতএব তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে উপস্থিত কর।’
فأتوا بآبائنا إن كنتم صادقين
‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে নিয়ে এসো’।
তোমরা সত্যবাদী হলে আমাদের পূর্ব পুরুষদের উঠিয়ে এনে দেখাও।’’
শ্রেষ্ঠ কি উহারা, না তুব্বা সম্প্রদায় ও ইহাদের পূর্ববর্তীরা? আমি উহাদেরকে ধ্বংস করিয়াছিলাম, অবশ্যই উহারা ছিল অপরাধী।
أهم خير أم قوم تبع والذين من قبلهم ۚ أهلكناهم ۖ إنهم كانوا مجرمين
তারা কি শ্রেষ্ঠ না তুব্বা সম্প্রদায় এবং তাদের পূর্বে যারা ছিল তারা? আমি তাদেরকে ধ্বংস করেছিলাম। নিশ্চয় তারা ছিল অপরাধী।
এরাই কি শ্রেষ্ঠ, নাকি তুববা জাতি এবং তাদের আগেকার লোকেরা? আমরা তাদের হালাক (ধ্বংস) করে দিয়েছিলাম, কারণ তারা ছিলো অপরাধী।
আমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং উহাদের মধ্যে কোন কিছুই ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করি নাই;
وما خلقنا السماوات والأرض وما بينهما لاعبين
আর আমি আসমানসমূহ, যমীন এবং এতদোভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে তা খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।
আমরা মহাকাশ, এই পৃথিবী এবং এদের মধ্যবর্তী সবকিছু খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।
আমি এই দুইটি অযথা সৃষ্টি করি নাই, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই ইহা জানে না।
ما خلقناهما إلا بالحق ولكن أكثرهم لا يعلمون
আমি এ দু’টোকে যথাযথভাবেই সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।
আমরা এ দুটো (মহাকাশ ও পৃথিবী) বাস্তব কারণ ছাড়া সৃষ্টি করিনি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানেনা।
নিশ্চয় সকলের জন্য নির্ধারিত রহিয়াছে উহাদের বিচার দিবস।
إن يوم الفصل ميقاتهم أجمعين
নিশ্চয় ফয়সালার দিনটি তাদের সকলের জন্যই নির্ধারিত সময়।
বিচারের দিনই হলো তাদের মিকাত (শেষ সীমা ও শেষ সময়)।
সেদিন এক বন্ধু অপর বন্ধুর কোন কাজে আসিবে না এবং উহারা সাহায্যও পাইবে না।
يوم لا يغني مولى عن مولى شيئا ولا هم ينصرون
সেদিন এক বন্ধু অপর বন্ধুর কোন কাজে আসবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।
সেদিন বন্ধু বন্ধুর উপকারে আসবেনা এবং সাহায্যও করা হবেনা তাদের।
তবে যাহার প্রতি দয়া করেন তাহার কথা স্বতন্ত্র। তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
إلا من رحم الله ۚ إنه هو العزيز الرحيم
সে ছাড়া, যার প্রতি অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয় তিনিই মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
তবে যার প্রতি রহম করবেন, তার কথা ভিন্ন। নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, পরম করুণাময়।
নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ হইবে -
إن شجرت الزقوم
নিশ্চয় যাক্কূম বৃক্ষ
নিশ্চয়ই যাক্কুম গাছ হবে
পাপীর খাদ্য;
طعام الأثيم
পাপীর খাদ্য;
পাপিষ্ঠদের খাদ্য,
গলিত তাম্রের মত, উহাদের উদরে ফুটিতে থাকিবে
كالمهل يغلي في البطون
গলিত তামার মত, উদরসমূহে ফুটতে থাকবে।
গলিত তামার মতো ফুটতে থাকবে তাদের পেটে,
ফুটন্ত পানির মত।
كغلي الحميم
ফুটন্ত পানির মত
যেভাবে ফোটে টগবগে ফুটন্ত পানি।
উহাকে ধর এবং টানিয়া লইয়া যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে,
خذوه فاعتلوه إلى سواء الجحيم
(বলা হবে) ‘ওকে ধর, অতঃপর তাকে জাহান্নামের মধ্যস্থলে টেনে নিয়ে যাও’।
(বলা হবে:) ওকে পাকড়াও করো এবং টেনে নিয়ে যাও জাহিমের (জাহান্নামের) মাঝখানে,
অতঃপর উহার মস্তকের উপর ফুটন্ত পানি ঢালিয়া শাস্তি দাও -
ثم صبوا فوق رأسه من عذاب الحميم
তারপর তার মাথার উপর ফুটন্ত পানির আযাব ঢেলে দাও।
তারপর তার মাথায় ঢালো টগবগে ফুটন্ত পানির আযাব।
এবং বলা হইবে ‘আস্বাদ গ্রহণ কর, তুমি তো ছিলে সম্মানিত, অভিজাত!
ذق إنك أنت العزيز الكريم
(বলা হবে) ‘তুমি আস্বাদন কর, নিশ্চয় তুমিই সম্মানিত, অভিজাত’।
(তাকে আরো বলা হবে:) স্বাদ গ্রহণ করো, তুমি ছিলে বড় ইযযতওয়ালা, অভিজাত।
‘ইহা তো উহাই, যে বিষয়ে তোমরা সন্দেহ করিতে।’
إن هذا ما كنتم به تمترون
নিশ্চয় এটা তা-ই যে বিষয়ে তোমরা সন্দেহ করতে।
এ হলো সেই জিনিস, যে বিষয়ে তোমরা সন্দেহ করতে।
মুত্তাকীরা তো থাকিবে নিরাপদ স্থানে -
إن المتقين في مقام أمين
নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে,
নিশ্চয়ই মুত্তাকিরা থাকবে নিরাপদ জায়গায়,
উদ্যান ও ঝর্ণার মাঝে,
في جنات وعيون
বাগ-বাগিচা ও ঝর্নাধারার মধ্যে,
উদ্যানরাজি আর ঝরণাধারা সমূহের মাঝে,
তাহারা পরিধান করিবে মিহি ও পুরু রেশমী বস্ত্র এবং মুখোমুখি হইয়া বসিবে।
يلبسون من سندس وإستبرق متقابلين
তারা পরিধান করবে পাতলা ও পুরু রেশমী বস্ত্র এবং বসবে মুখোমুখী হয়ে।
তারা সেখানে পরবে মিহি ও পুরো রেশমের পোশাক এবং বসবে মুখোমুখি হয়ে।
এইরূপই ঘটিবে; আমি উহাদেরকে সঙ্গিনী দান করিব আয়তলোচনা হুর,
كذلك وزوجناهم بحور عين
এরূপই ঘটবে, আর আমি তাদেরকে বিয়ে দেব ডাগর নয়না হূরদের সাথে।
এমনটিই ঘটবে, আর আমরা তাদের সংগিনী হিসেবে তাদের সাথে বিয়ে দেবো বড় চোখওয়ালা নারীদের।
সেথায় তাহারা প্রশান্ত চিত্তে বিবিধ ফলমূল আনিতে বলিবে।
يدعون فيها بكل فاكهة آمنين
সেখানে তারা প্রশান্তচিত্তে সকল প্রকারের ফলমূল আনতে বলবে।
সেখানে তারা সব রকমের ফলফলারি আনতে বলবে প্রশান্ত হৃদয়ে।
প্রথম মৃত্যুর পর তাহারা সেখানে আর মৃত্যু আস্বাদন করিবে না। আর তাহাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হইতে রক্ষা করিবেন -
لا يذوقون فيها الموت إلا الموتة الأولى ۖ ووقاهم عذاب الجحيم
প্রথম মৃত্যুর পর সেখানে তারা আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না। আর তিনি তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন।
প্রথম যে মৃত্যু হয়েছে তাছাড়া আর কোনো মৃত্যু তারা আস্বাদন করবেনা এবং তাদের রক্ষা করা হবে জাহিমের (জাহান্নামের) আযাব থেকে।
তোমার প্রতিপালক নিজ অনুগ্রহে। ইহাই তো মহাসাফল্য।
فضلا من ربك ۚ ذلك هو الفوز العظيم
তোমার রবের অনুগ্রহস্বরূপ, এটাই তো মহা সাফল্য।
এসবই তোমার প্রভুর অনুগ্রহ। এটাই হবে মহাসাফল্য।
আমি তো তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করিয়া দিয়াছি, যাহাতে উহারা উপদেশ গ্রহণ করে।
فإنما يسرناه بلسانك لعلهم يتذكرون
অতঃপর আমি তো তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
এই কুরআনকে আমরা তোমার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে করে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
সুতরাং তুমি প্রতীক্ষা কর, উহারাও প্রতীক্ষমাণ।
فارتقب إنهم مرتقبون
অতএব তুমি অপেক্ষা কর, তারাও অপেক্ষাকারী।
অতএব তুমি অপেক্ষা করো, তারাও প্রতীক্ষায়ই আছে।