শপথ ধূলিঝঞ্ঝার,
بسم الله الرحمن الرحيم والذاريات ذروا
শপথ অণু ঝড়ের,
কসম ঝঞ্ঝাবায়ুর।
وَٱلذَّٰرِيَٰتِ ذَرْوًا
Chapter 51, 60 verses
শপথ ধূলিঝঞ্ঝার,
بسم الله الرحمن الرحيم والذاريات ذروا
শপথ অণু ঝড়ের,
কসম ঝঞ্ঝাবায়ুর।
وَٱلذَّٰرِيَٰتِ ذَرْوًا
শপথ বোঝা বহনকারী মেঘপুঞ্জের,
فالحاملات وقرا
শপথ ভারি পানি বহনকারী মেঘমালার,
অতঃপর বোঝা বহনকারী মেঘের।
فَٱلْحَٰمِلَٰتِ وِقْرًا
শপথ স্বচ্ছন্দগতি নৌযানের,
فالجاريات يسرا
শপথ সহজ গতির নৌযানের,
অতঃপর মৃদু চলমান জলযানের,
فَٱلْجَٰرِيَٰتِ يُسْرًا
শপথ কর্ম বণ্টনকারী ফিরিশ্তাগণের -
فالمقسمات أمرا
শপথ কাজ বণ্টনকারী (ফেরেশতা)দের,
অতঃপর কর্ম বন্টনকারী ফেরেশতাগণের,
فَٱلْمُقَسِّمَٰتِ أَمْرًا
তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য।
إنما توعدون لصادق
তোমাদের যে ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা অবশ্য অবশ্যি সত্য।
তোমাদের প্রদত্ত ওয়াদা অবশ্যই সত্য।
إِنَّمَا تُوعَدُونَ لَصَادِقٌ
কর্মফল দিবস অবশ্যম্ভাবী।
وإن الدين لواقع
প্রতিফল দিবস অবশ্যি সংঘটিত হবে।
ইনসাফ অবশ্যম্ভাবী।
وَإِنَّ ٱلدِّينَ لَوَٰقِعٌ
শপথ বহু পথবিশিষ্ট আকাশের,
والسماء ذات الحبك
শপথ অনেক পথ বিশিষ্ট আসমানের,
পথবিশিষ্ট আকাশের কসম,
وَٱلسَّمَآءِ ذَاتِ ٱلْحُبُكِ
তোমরা তো পরস্পর বিরোধী কথায় লিপ্ত।
إنكم لفي قول مختلف
নিশ্চয়ই তোমরা লিপ্ত (আল্লাহর রসূল ও কুরআন সম্পর্কে) পরস্পর বিরোধী কথাবার্তায়।
তোমরা তো বিরোধপূর্ণ কথা বলছ।
إِنَّكُمْ لَفِى قَوْلٍ مُّخْتَلِفٍ
যে ব্যক্তি সত্যভ্রষ্ট সে - ই উহা পরিত্যাগ করে,
يؤفك عنه من أفك
তা থেকে (কুরআন থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয় তো ঐ ব্যক্তি যে সত্যভ্রষ্ট।
যে ভ্রষ্ট, সেই এ থেকে মুখ ফিরায়,
يُؤْفَكُ عَنْهُ مَنْ أُفِكَ
অভিশপ্ত হউক মিথ্যাচারীরা,
قتل الخراصون
মিথ্যাবাদীরা মারা পড়েছে,
অনুমানকারীরা ধ্বংস হোক,
قُتِلَ ٱلْخَرَّٰصُونَ
যাহারা অজ্ঞ ও উদাসীন!
الذين هم في غمرة ساهون
যারা নিমজ্জিত অজ্ঞতা আর উদাসীনতায়।
যারা উদাসীন, ভ্রান্ত।
ٱلَّذِينَ هُمْ فِى غَمْرَةٍ سَاهُونَ
উহারা জিজ্ঞাসা করে, ‘কর্মফল দিবস কবে হইবে?’
يسألون أيان يوم الدين
তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, কবে আসবে প্রতিদান দিবস?
তারা জিজ্ঞাসা করে, কেয়ামত কবে হবে?
يَسْـَٔلُونَ أَيَّانَ يَوْمُ ٱلدِّينِ
বল, ‘সেই দিন যখন উহাদেরকে শাস্তি দেওয়া হইবে অগ্নিতে।’
يوم هم على النار يفتنون
সেদিন আসবে প্রতিদান দিবস, যেদিন তাদের শাস্তি দেয়া হবে জাহান্নামে।
যেদিন তারা অগ্নিতে পতিত হবে,
يَوْمَ هُمْ عَلَى ٱلنَّارِ يُفْتَنُونَ
‘তোমরা তোমাদের শাস্তি আস্বাদন কর, তোমরা এই শাস্তিই ত্বরান্বিত করিতে চাহিয়াছিলে।’
ذوقوا فتنتكم هذا الذي كنتم به تستعجلون
তোমরা আস্বাদন করো তোমাদের শাস্তি। এই আযাবই তোমরা দ্রুত চেয়েছিলে।
তোমরা তোমাদের শাস্তি আস্বাদন কর। তোমরা একেই ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিল।
ذُوقُوا۟ فِتْنَتَكُمْ هَٰذَا ٱلَّذِى كُنتُم بِهِۦ تَسْتَعْجِلُونَ
সেদিন নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা থাকিবে প্রস্রবণ - বিশিষ্ট জান্নাতে,
إن المتقين في جنات وعيون
মুত্তাকিরা থাকবে জান্নাতে আর ঝরণা ধারায়,
খোদাভীরুরা জান্নাতে ও প্রস্রবণে থাকবে।
إِنَّ ٱلْمُتَّقِينَ فِى جَنَّٰتٍ وَعُيُونٍ
উপভোগ করিবে তাহা যাহা তাহাদের প্রতিপালক তাহাদেরকে দিবেন; কারণ পার্থিব জীবনে তাহারা ছিল সৎকর্মপরায়ণ,
آخذين ما آتاهم ربهم ۚ إنهم كانوا قبل ذلك محسنين
তারা সেখানে উপভোগ করবে তাদের প্রভুর দেয়া নিয়ামতরাজি। কারণ ইতোপূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) তারা ছিলো কল্যাণপরায়ণ পুণ্যবান।
এমতাবস্থায় যে, তারা গ্রহণ করবে যা তাদের পালনকর্তা তাদেরকে দেবেন। নিশ্চয় ইতিপূর্বে তারা ছিল সৎকর্মপরায়ণ,
ءَاخِذِينَ مَآ ءَاتَىٰهُمْ رَبُّهُمْ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ قَبْلَ ذَٰلِكَ مُحْسِنِينَ
তাহারা রাত্রির সামান্য অংশই অতিবাহিত করিত নিদ্রায়,
كانوا قليلا من الليل ما يهجعون
তারা রাতের সামান্য অংশই ব্যয় করতো নিদ্রায়,
তারা রাত্রির সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত,
كَانُوا۟ قَلِيلًا مِّنَ ٱلَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ
রাত্রির শেষ প্রহরে তাহারা ক্ষমা প্রার্থনা করিত,
وبالأسحار هم يستغفرون
শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতো,
রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত,
وَبِٱلْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
এবং তাহাদের ধন - সম্পদে রহিয়াছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের হক।
وفي أموالهم حق للسائل والمحروم
তাদের অর্থ - সম্পদে ছিলো অধিকার সাহায্যপ্রার্থী এবং বঞ্চিতদের।
এবং তাদের ধন - সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতের হক ছিল।
وَفِىٓ أَمْوَٰلِهِمْ حَقٌّ لِّلسَّآئِلِ وَٱلْمَحْرُومِ
নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য নিদর্শন রহিয়াছে ধরিত্রীতে
وفي الأرض آيات للموقنين
পৃথিবীতেই রয়েছে নিদর্শন বিশ্বাসীদের জন্যে,
বিশ্বাসকারীদের জন্যে পৃথিবীতে নিদর্শনাবলী রয়েছে,
وَفِى ٱلْأَرْضِ ءَايَٰتٌ لِّلْمُوقِنِينَ
এবং তোমাদের মধ্যেও। তোমরা কি অনুধাবন করিবে না?
وفي أنفسكم ۚ أفلا تبصرون
এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও। তোমরা কি ভেবে দেখবে না?
এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও, তোমরা কি অনুধাবন করবে না?
وَفِىٓ أَنفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ
আকাশে রহিয়াছে তোমাদের রিযিক ও প্রতিশ্রুতি সমস্ত কিছু।
وفي السماء رزقكم وما توعدون
আর তোমাদের জীবিকা রয়েছে আসমানে এবং তোমাদের যা কিছুর ওয়াদা দেয়া হয়েছে সেগুলোও।
আকাশে রয়েছে তোমাদের রিযিক ও প্রতিশ্রুত সবকিছু।
وَفِى ٱلسَّمَآءِ رِزْقُكُمْ وَمَا تُوعَدُونَ
আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিপালকের শপথ! অবশ্যই তোমাদের বাক্স্ফূর্তির মতই এই সকল সত্য।
فورب السماء والأرض إنه لحق مثل ما أنكم تنطقون
আকাশ ও পৃথিবীর প্রভুর শপথ, তোমাদের পারস্পরিক কথাবার্তার মতোই এ (কুরআন) এক মহাসত্য।
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তার কসম, তোমাদের কথাবার্তার মতই এটা সত্য।
فَوَرَبِّ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ إِنَّهُۥ لَحَقٌّ مِّثْلَ مَآ أَنَّكُمْ تَنطِقُونَ
তোমার নিকট ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত আসিয়াছে কি?
هل أتاك حديث ضيف إبراهيم المكرمين
তোমার কাছে কি এসেছে ইবরাহিমের সম্মানিত মেহমানদের ঘটনা?
আপনার কাছে ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে কি?
هَلْ أَتَىٰكَ حَدِيثُ ضَيْفِ إِبْرَٰهِيمَ ٱلْمُكْرَمِينَ
যখন উহারা তাহার নিকট উপস্থিত হইয়া বলিল, ‘সালাম’। উত্তরে সে বলিল,‘সালাম’। ইহারা তো অপরিচিত লোক।
إذ دخلوا عليه فقالوا سلاما ۖ قال سلام قوم منكرون
তারা যখন তার ঘরে প্রবেশ করেছিল, বলেছিল: ‘সালাম।’ জবাবে সেও বলেছিল: ‘সালাম।’ সে আরো বলেছিল: আপনারা তো অপরিচিত লোক!’
যখন তারা তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বললঃ সালাম, তখন সে বললঃ সালাম। এরা তো অপরিচিত লোক।
إِذْ دَخَلُوا۟ عَلَيْهِ فَقَالُوا۟ سَلَٰمًا قَالَ سَلَٰمٌ قَوْمٌ مُّنكَرُونَ
অতঃপর ইব্রাহীম তাহার স্ত্রীর নিকট গেল এবং একটি মাংসল গো - বৎস ভাজা লইয়া আসিল
فراغ إلى أهله فجاء بعجل سمين
তখন সে তার পরিবারের (স্ত্রীর) কাছে ছুটে গেলো এবং একটি মাংসল গো - ভুনা করে নিয়ে এলো।
অতঃপর সে গ্রহে গেল এবং একটি ঘৃতেপক্ক মোটা গোবৎস নিয়ে হাযির হল।
فَرَاغَ إِلَىٰٓ أَهْلِهِۦ فَجَآءَ بِعِجْلٍ سَمِينٍ
ও তাহাদের সামনে রাখিল এবং বলিল, ‘তোমরা খাইতেছ না কেন?’
فقربه إليهم قال ألا تأكلون
সেটি তাদের কাছে রাখলো। তারপর বললো: ‘আপনারা খাচ্ছেন না যে?’
সে গোবৎসটি তাদের সামনে রেখে বললঃ তোমরা আহার করছ না কেন?
فَقَرَّبَهُۥٓ إِلَيْهِمْ قَالَ أَلَا تَأْكُلُونَ
ইহাতে উহাদের সম্পর্কে তাহার মনে ভীতির সঞ্চার হইল। উহারা বলিল, ‘ভীত হইও না।’ অতঃপর উহারা তাহাকে এক জ্ঞানী পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিল।
فأوجس منهم خيفة ۖ قالوا لا تخف ۖ وبشروه بغلام عليم
এতে করে তাদের ব্যাপারে তার মনে ভয়ের সঞ্চার হয়। তখন তারা বললো: ‘আপনি ভয় পাবেন না।’ তারা তাকে সুসংবাদ দিলো এক জ্ঞানী পুত্র সন্তানের।
অতঃপর তাদের সম্পর্কে সে মনে মনে ভীত হলঃ তারা বললঃ ভীত হবেন না। তারা তাঁকে একট জ্ঞানীগুণী পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিল।
فَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً قَالُوا۟ لَا تَخَفْ وَبَشَّرُوهُ بِغُلَٰمٍ عَلِيمٍ
তখন তাহার স্ত্রী চিৎকার করিতে করিতে সম্মুখে আসিল এবং গাল চাপড়াইয়া বলিল, ‘এই বৃদ্ধ - বন্ধ্যার সন্তান হইবে!’
فأقبلت امرأته في صرة فصكت وجهها وقالت عجوز عقيم
তখন তার স্ত্রী চীৎকার করতে করতে সামনে এগিয়ে এলো এবং গাল চাপড়িয়ে বললো: ‘এই বৃদ্ধার সন্তান হবে?’
অতঃপর তাঁর স্ত্রী চীৎকার করতে করতে সামনে এল এবং মুখ চাপড়িয়ে বললঃ আমি তো বৃদ্ধা, বন্ধ্যা।
فَأَقْبَلَتِ ٱمْرَأَتُهُۥ فِى صَرَّةٍ فَصَكَّتْ وَجْهَهَا وَقَالَتْ عَجُوزٌ عَقِيمٌ
তাহারা বলিল, ‘তোমার প্রতিপালক এইরূপই বলিয়াছেন ; তিনিই প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।’
قالوا كذلك قال ربك ۖ إنه هو الحكيم العليم
তারা বললো: ‘আপনার প্রভু একথাই বলেছেন, তিনি প্রজ্ঞাবান সর্বজ্ঞানী।’
তারা বললঃ তোমার পালনকর্তা এরূপই বলেছেন। নিশ্চয় তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।
قَالُوا۟ كَذَٰلِكِ قَالَ رَبُّكِ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْحَكِيمُ ٱلْعَلِيمُ
ইব্রাহীম বলিল, ‘হে ফিরিশ্তাগণ! তোমাদের বিশেষ কাজ কী?’
۞ قال فما خطبكم أيها المرسلون
ইবরাহিম বললো: ‘হে প্রেরিত ফেরেশতারা! আপনারা বিশেষ কী দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন?’
ইব্রাহীম বললঃ হে প্রেরিত ফেরেশতাগণ, তোমাদের উদ্দেশ্য কি?
قَالَ فَمَا خَطْبُكُمْ أَيُّهَا ٱلْمُرْسَلُونَ
উহারা বলিল, ‘আমাদেরকে এক অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরণ করা হইয়াছে।
قالوا إنا أرسلنا إلى قوم مجرمين
তারা বললো: ‘‘আমাদের পাঠানো হয়েছে অপরাধী (লুত) সম্প্রদায়ের প্রতি
তারা বললঃ আমরা এক অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছি,
قَالُوٓا۟ إِنَّآ أُرْسِلْنَآ إِلَىٰ قَوْمٍ مُّجْرِمِينَ
‘উহাদের উপর নিক্ষেপ করিবার জন্য মাটির শক্ত ঢেলা,
لنرسل عليهم حجارة من طين
তাদের উপর পোড়া মাটির ঢিল নিক্ষেপ করার জন্যে,
যাতে তাদের উপর মাটির ঢিলা নিক্ষেপ করি।
لِنُرْسِلَ عَلَيْهِمْ حِجَارَةً مِّن طِينٍ
‘যাহা সীমালংঘনকারীদের জন্য চিহ্নিত তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে।’
مسومة عند ربك للمسرفين
সেগুলো সীমালংঘনকারীদের জন্যে চিহ্নিত আপনার প্রভুর পক্ষ থেকে।
যা সীমাতিক্রমকারীদের জন্যে আপনার পালনকর্তার কাছে চিহ্নিত আছে।
مُّسَوَّمَةً عِندَ رَبِّكَ لِلْمُسْرِفِينَ
সেখানে যেসব ছিল আমি তাহাদেরকে উদ্ধার করিয়াছিলাম,
فأخرجنا من كان فيها من المؤمنين
সেখানে যারা ছিলো তাদেরকে আমরা বের করে এনেছিলাম,
অতঃপর সেখানে যারা ছিল, আমি তাদেরকে উদ্ধার করলাম।
فَأَخْرَجْنَا مَن كَانَ فِيهَا مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ
আর সেখানে আমি একটি পরিবার ব্যতীত কোন আত্মসর্মপণকারী পাই নাই।
فما وجدنا فيها غير بيت من المسلمين
আর সেখানে আমরা একটির বেশি মুসলিম পরিবার পাইনি।’’
এবং সেখানে একটি গৃহ ব্যতীত কোন মুসলমান আমি পাইনি।
فَمَا وَجَدْنَا فِيهَا غَيْرَ بَيْتٍ مِّنَ ٱلْمُسْلِمِينَ
যাহারা মর্মন্তুদ শাস্তিকে ভয় করে আমি তাহাদের জন্য উহাতে একটি নিদর্শন রাখিয়াছি।
وتركنا فيها آية للذين يخافون العذاب الأليم
যারা যন্ত্রণাদায়ক আযাবকে ভয় করে, তাদের জন্যে আমরা সেখানে একটি নিদর্শন রেখেছি।
যারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিকে ভয় করে, আমি তাদের জন্যে সেখানে একটি নিদর্শন রেখেছি।
وَتَرَكْنَا فِيهَآ ءَايَةً لِّلَّذِينَ يَخَافُونَ ٱلْعَذَابَ ٱلْأَلِيمَ
এবং নিদর্শন রাখিয়াছি মূসার বৃত্তান্তে, যখন আমি তাহাকে স্পষ্ট প্রমাণসহ ফির‘আওনের নিকট প্রেরণ করিয়া - ছিলাম,
وفي موسى إذ أرسلناه إلى فرعون بسلطان مبين
নিদর্শন রেখেছি আমরা মূসার ঘটনাতেও, যখন আমরা তাকে পাঠিয়েছিলাম ফেরাউনের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে।
এবং নিদর্শন রয়েছে মূসার বৃত্তান্তে; যখন আমি তাকে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ ফেরাউনের কাছে প্রেরণ করেছিলাম।
وَفِى مُوسَىٰٓ إِذْ أَرْسَلْنَٰهُ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ بِسُلْطَٰنٍ مُّبِينٍ
তখন সে ক্ষমতার দম্ভে মুখ ফিরাইয়া লইল এবং বলিল, ‘এই ব্যক্তি হয় এক জাদুকর, না হয় এক উন্মাদ।
فتولى بركنه وقال ساحر أو مجنون
তখন সে (ফেরাউন) ক্ষমতার দম্ভে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলেছিল: ‘এতো একজন ম্যাজেসিয়ান, কিংবা পাগল।’
অতঃপর সে শক্তিবলে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বললঃ সে হয় যাদুকর, না হয় পাগল।
فَتَوَلَّىٰ بِرُكْنِهِۦ وَقَالَ سَٰحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ
সুতরাং আমি তাহাকে ও তাহার দলবলকে শাস্তি দিলাম এবং উহাদের সমুদ্রে নিক্ষেপ করিলাম, সে তো ছিল তিরস্কারযোগ্য।
فأخذناه وجنوده فنبذناهم في اليم وهو مليم
ফলে আমরা পাকড়াও করেছিলাম তাকে এবং তার বাহিনীকে এবং তাদের নিক্ষেপ করেছিলাম সমুদ্রে। সে এক তিরস্কারযোগ্য ব্যক্তি।
অতঃপর আমি তাকে ও তার সেনাবাহিনীকে পাকড়াও করলাম এবং তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম। সে ছিল অভিযুক্ত।
فَأَخَذْنَٰهُ وَجُنُودَهُۥ فَنَبَذْنَٰهُمْ فِى ٱلْيَمِّ وَهُوَ مُلِيمٌ
এবং নিদর্শন রহিয়াছে ‘আদের ঘটনায়, যখন আমি তাহাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করিয়াছিলাম অকল্যাণকর বায়ু ;
وفي عاد إذ أرسلنا عليهم الريح العقيم
নিদর্শন রয়েছে আদ সম্প্রদায়ের ঘটনাতেও। আমরা তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম এক বন্ধ্যা ঝড়।
এবং নিদর্শন রয়েছে তাদের কাহিনীতে; যখন আমি তাদের উপর প্রেরণ করেছিলাম অশুভ বায়ু।
وَفِى عَادٍ إِذْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ ٱلرِّيحَ ٱلْعَقِيمَ
ইহা যাহা কিছুর উপর দিয়া বহিয়া গিয়াছিল তাহাকেই চূর্ণ - বিচূর্ণ করিয়া দিয়াছিল,
ما تذر من شيء أتت عليه إلا جعلته كالرميم
তা যা কিছুর উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল, সবই ধূলিস্যাত করে দিয়েছিল।
এই বায়ু যার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিলঃ তাকেই চুর্ণ - বিচুর্ণ করে দিয়েছিল।
مَا تَذَرُ مِن شَىْءٍ أَتَتْ عَلَيْهِ إِلَّا جَعَلَتْهُ كَٱلرَّمِيمِ
আরও নিদর্শন রহিয়াছে সামূদের বৃত্তান্তে, যখন তাহাদেরকে বলা হইয়াছিল, ‘ভোগ করিয়া নাও স্বল্পকাল।’
وفي ثمود إذ قيل لهم تمتعوا حتى حين
সামুদ সম্প্রদায়ের ঘটনাতেও রয়েছে নিদর্শন। তাদের বলা হয়েছিল: ‘সামান্য ক’দিন ভোগ করে নাও।’
আরও নিদর্শন রয়েছে সামূদের ঘটনায়; যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, কিছুকাল মজা লুটে নাও।
وَفِى ثَمُودَ إِذْ قِيلَ لَهُمْ تَمَتَّعُوا۟ حَتَّىٰ حِينٍ
কিন্তু উহারা উহাদের প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করিল ; ফলে উহাদের প্রতি বজ্রাঘাত হইল এবং উহারা উহা দেখিতেছিল।
فعتوا عن أمر ربهم فأخذتهم الصاعقة وهم ينظرون
কিন্তু তারা অমান্য করে তাদের প্রভুর নির্দেশ। ফলে তাদের পাকড়াও করে প্রচন্ড বজ্রাঘাত এবং তারা তা দেখছিল।
অতঃপর তারা তাদের পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল এবং তাদের প্রতি বজ্রঘাত হল এমতাবস্থায় যে, তারা তা দেখেছিল।
فَعَتَوْا۟ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِمْ فَأَخَذَتْهُمُ ٱلصَّٰعِقَةُ وَهُمْ يَنظُرُونَ
উহারা উঠিয়া দাঁড়াইতে পারিল না এবং উহা প্রতিরোধ করিতেও পারিল না।
فما استطاعوا من قيام وما كانوا منتصرين
তারা উঠেও দাঁড়াতে পারেনি এবং প্রতিরোধও করতে পারেনি।
অতঃপর তারা দাঁড়াতে সক্ষম হল না এবং কোন প্রতিকারও করতে পারল না।
فَمَا ٱسْتَطَٰعُوا۟ مِن قِيَامٍ وَمَا كَانُوا۟ مُنتَصِرِينَ
আমি ধ্বংস করিয়াছিলাম ইহাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কে, ইহারা তো ছিল সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।
وقوم نوح من قبل ۖ إنهم كانوا قوما فاسقين
আরো আগে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম নূহের জাতিকেও। তারা ছিলো এক ফাসিক (সীমালংঘনকারী সত্যত্যাগী) জাতি।
আমি ইতিপূর্বে নূহের সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি। নিশ্চিতই তারা ছিল পাপাচারী সম্প্রদায়।
وَقَوْمَ نُوحٍ مِّن قَبْلُ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ قَوْمًا فَٰسِقِينَ
আমি আকাশ নির্মাণ করিয়াছি আমার ক্ষমতাবলে এবং আমি অবশ্যই মহা - সম্প্রসারণকারী।
والسماء بنيناها بأيد وإنا لموسعون
আমরা আকাশ বানিয়েছি শক্ত হাতে এবং নিশ্চয়ই আমরা এর বিস্তৃতি সম্প্রসারণ করতে সক্ষম।
আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই ব্যাপক ক্ষমতাশালী।
وَٱلسَّمَآءَ بَنَيْنَٰهَا بِأَيْي۟دٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ
আর ভূমি, আমি উহাকে বিছাইয়া দিয়াছি, আমি কত সুন্দর প্রসারণকারী!
والأرض فرشناها فنعم الماهدون
আর পৃথিবীকে আমরা বিছিয়ে দিয়েছি, কতো যে উত্তম প্রসারণকারী আমরা!
আমি ভূমিকে বিছিয়েছি। আমি কত সুন্দরভাবেই না বিছাতে সক্ষম।
وَٱلْأَرْضَ فَرَشْنَٰهَا فَنِعْمَ ٱلْمَٰهِدُونَ
আর প্রত্যেক বস্তু আমি সৃষ্টি করিয়াছি জোড়ায় জোড়ায়, যাহাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।
ومن كل شيء خلقنا زوجين لعلكم تذكرون
প্রতিটি বস্ত্তকে আমরা সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়, যাতে করে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।
আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর।
وَمِن كُلِّ شَىْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
অতএব তোমরা র দিকে ধাবিত হও, আমি তো তোমাদের প্রতি - প্রেরিত স্পষ্ট সতর্ককারী।
ففروا إلى الله ۖ إني لكم منه نذير مبين
অতএব তোমরা দৌড়াও আল্লাহর দিকে, আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
অতএব, আল্লাহর দিকে ধাবিত হও। আমি তাঁর তরফ থেকে তোমাদের জন্যে সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
فَفِرُّوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ إِنِّى لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ مُّبِينٌ
তোমরা র সঙ্গে কোন ইলাহ্ স্থির করিও না; আমি তোমাদের প্রতি - প্রেরিত স্পষ্ট সতর্ককারী।
ولا تجعلوا مع الله إلها آخر ۖ إني لكم منه نذير مبين
তোমরা আল্লাহর সাথে অপর কোনো ইলাহ্ সাব্যস্ত করোনা। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্যে এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
তোমরা আল্লাহর সাথে কোন উপাস্য সাব্যস্ত করো না। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
وَلَا تَجْعَلُوا۟ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ إِنِّى لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ مُّبِينٌ
এইভাবে উহাদের পূর্ববর্তীদের নিকট যখনই কোন রাসূল আসিয়াছে উহারা তাহাকে বলিয়াছে, ‘তুমি তো এক জাদুকর, না হয় এক উন্মাদ!’
كذلك ما أتى الذين من قبلهم من رسول إلا قالوا ساحر أو مجنون
এভাবে তাদের আগেকার লোকদের কাছেও যখনই কোনো রসূল এসেছিল, তারা তাকে বলেছিল: ‘তুমি একজন ম্যাজেসিয়ান কিংবা পাগল।’
এমনিভাবে, তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোন রসূল আগমন করেছে, তারা বলছেঃ যাদুকর, না হয় উম্মাদ।
كَذَٰلِكَ مَآ أَتَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِم مِّن رَّسُولٍ إِلَّا قَالُوا۟ سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ
উহারা কি একে অপরকে এই যন্ত্রণাই দিয়া আসিয়াছে? বস্তুত উহারা সীমা - লংঘনকারী সম্প্রদায়।
أتواصوا به ۚ بل هم قوم طاغون
তারা কি একে অপরকে (ধারাবাহিকভাবে) এই অসিয়তই করে আসছে? আসলে তারা একটি সীমালংঘনকারী কওম।
তারা কি একে অপরকে এই উপদেশই দিয়ে গেছে? বস্তুতঃ ওরা দুষ্ট সম্প্রদায়।
أَتَوَاصَوْا۟ بِهِۦ بَلْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ
অতএব তুমি উহাদেরকে উপেক্ষা কর, ইহাতে তুমি অভিযুক্ত হইবে না।
فتول عنهم فما أنت بملوم
সুতরাং তুমি তাদের উপেক্ষা করো। এর জন্যে তুমি তিরস্কৃত হবেনা।
অতএব, আপনি ওদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। এতে আপনি অপরাধী হবেন না।
فَتَوَلَّ عَنْهُمْ فَمَآ أَنتَ بِمَلُومٍ
তুমি উপদেশ দিতে থাক, কারণ উপদেশ মু’মিনদেরই উপকারে আসে।
وذكر فإن الذكرى تنفع المؤمنين
তুমি উপদেশ দিতে থাকো। কারণ, উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।
এবং বোঝাতে থাকুন; কেননা, বোঝানো মুমিনদের উপকারে আসবে।
وَذَكِّرْ فَإِنَّ ٱلذِّكْرَىٰ تَنفَعُ ٱلْمُؤْمِنِينَ
আমি সৃষ্টি করিয়াছি জিন এবং মানুষকে এইজন্য যে, তাহারা আমারই ‘ইবাদত করিবে।
وما خلقت الجن والإنس إلا ليعبدون
আমরা জিন এবং ইনসানকে এজন্যেই সৃষ্টি করেছি যে, তারা একমাত্র আমারই ইবাদত করবে।
আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।
وَمَا خَلَقْتُ ٱلْجِنَّ وَٱلْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
আমি উহাদের নিকট হইতে জীবিকা চাহি না এবং ইহাও চাহি না যে, উহারা আমার আহার্য যোগাইবে।
ما أريد منهم من رزق وما أريد أن يطعمون
আমি তো তাদের কাছে রিযিক চাইনা এবং এটাও চাইনা যে, তারা আমাকে খাবার খাওয়াবে।
আমি তাদের কাছে জীবিকা চাই না এবং এটাও চাই না যে, তারা আমাকে আহার্য যোগাবে।
مَآ أُرِيدُ مِنْهُم مِّن رِّزْقٍ وَمَآ أُرِيدُ أَن يُطْعِمُونِ
ই তো রিযিক দান করেন এবং তিনি প্রবল, পরাক্রান্ত।
إن الله هو الرزاق ذو القوة المتين
নিশ্চয়ই রাজজাক (রিযিক সরবরাহকারী) তো হলেন এবং তিনি মহাশক্তিধর, প্রবল পরাক্রান্ত।
তা’আলাই তো জীবিকাদাতা শক্তির আধার, পরাক্রান্ত।
إِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلرَّزَّاقُ ذُو ٱلْقُوَّةِ ٱلْمَتِينُ
জালিমদের প্রাপ্য তাহাই যাহা অতীতে উহাদের সমমতাবলম্বীরা ভোগ করিয়াছে। সুতরাং উহারা ইহার জন্য আমার নিকট যেন ত্বরা না করে।
فإن للذين ظلموا ذنوبا مثل ذنوب أصحابهم فلا يستعجلون
যালিমদের ভাগ্যে তাই রয়েছে, অতীতে তাদের সমমতের লোকেরা যা ভোগ করেছিল। ফলে তারা যেনো তাড়াহুড়া না করে।
অতএব, এই যালেমদের প্রাপ্য তাই, যা ওদের অতীত সহচরদের প্রাপ্য ছিল। কাজেই ওরা যেন আমার কাছে তা তাড়াতাড়ি না চায়।
فَإِنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ ذَنُوبًا مِّثْلَ ذَنُوبِ أَصْحَٰبِهِمْ فَلَا يَسْتَعْجِلُونِ
কাফিরদের জন্য দুর্ভোগ তাহাদের সেই দিনের, যেই দিনের বিষয়ে উহাদেরকে সতর্ক করা হইয়াছে।
فويل للذين كفروا من يومهم الذي يوعدون
কাফিরদের জন্যে রয়েছে সেই দিনের দুর্ভোগ, যার ওয়াদা তাদের দেয়া হয়েছে।
অতএব, কাফেরদের জন্যে দুর্ভোগ সেই দিনের, যেদিনের প্রতিশ্রুতি ওদেরকে দেয়া হয়েছে।
فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِن يَوْمِهِمُ ٱلَّذِى يُوعَدُونَ