শপথ নক্ষত্রের, যখন উহা হয় অস্তমিত,
بسم الله الرحمن الرحيم والنجم إذا هوى
শপথ নক্ষত্রের, যখন তারা অস্তমিত হয়,
নক্ষত্রের কসম, যখন অস্তমিত হয়।
وَٱلنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ
Chapter 53, 62 verses
শপথ নক্ষত্রের, যখন উহা হয় অস্তমিত,
بسم الله الرحمن الرحيم والنجم إذا هوى
শপথ নক্ষত্রের, যখন তারা অস্তমিত হয়,
নক্ষত্রের কসম, যখন অস্তমিত হয়।
وَٱلنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ
তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয়,
ما ضل صاحبكم وما غوى
তোমাদের সাথি বিপথগামীও হয়নি, বিভ্রান্তও হয়নি।
তোমাদের সংগী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি।
مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَىٰ
এবং সে মনগড়া কথাও বলে না।
وما ينطق عن الهوى
সে নিজের খেয়াল খুশি মতো কথা বলেনা।
এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না।
وَمَا يَنطِقُ عَنِ ٱلْهَوَىٰٓ
ইহা তো ওহী, যাহা তাহার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়,
إن هو إلا وحي يوحى
সে যা বলে তা তো অহি, যা তার কাছে পাঠানো হয়।
কোরআন ওহী, যা প্রত্যাদেশ হয়।
إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْىٌ يُوحَىٰ
তাহাকে শিক্ষা দান করে শক্তিশালী,
علمه شديد القوى
তাকে (এ কুরআন) শিক্ষা দেয় এক শক্তিধর
তাঁকে শিক্ষা দান করে এক শক্তিশালী ফেরেশতা,
عَلَّمَهُۥ شَدِيدُ ٱلْقُوَىٰ
প্রজ্ঞাসম্পন্ন, সে নিজ আকৃতিতে স্থির হইয়াছিল,
ذو مرة فاستوى
প্রজ্ঞাবান (জিবরিল)। নিজের আকৃতিতে সে স্থির হয়েছিল,
সহজাত শক্তিসম্পন্ন, সে নিজ আকৃতিতে প্রকাশ পেল।
ذُو مِرَّةٍ فَٱسْتَوَىٰ
তখন সে ঊর্ধ্বদিগন্তে,
وهو بالأفق الأعلى
তখন সে ছিলো উপর দিগন্তে,
উর্ধ্ব দিগন্তে,
وَهُوَ بِٱلْأُفُقِ ٱلْأَعْلَىٰ
অতঃপর সে তাহার নিকটবর্তী হইল, অতি নিকটবর্তী,
ثم دنا فتدلى
তারপর সে তার কাছে আসে এবং অতি কাছে,
অতঃপর নিকটবর্তী হল ও ঝুলে গেল।
ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّىٰ
ফলে তাহাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রহিল অথবা উহারও কম।
فكان قاب قوسين أو أدنى
ফলে তাদের মাঝখানে ব্যবধান বাকি থাকে মাত্র দুই ধনুকের ব্যবধান অথবা তার চাইতেও কম।
তখন দুই ধনুকের ব্যবধান ছিল অথবা আরও কম।
فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَىٰ
তখন তাঁহার বান্দার প্রতি যাহা ওহী করিবার তাহা ওহী করিলেন।
فأوحى إلى عبده ما أوحى
তখন তাঁর বান্দার প্রতি অহি করেন (জিবরিলের মাধ্যমে) যা অহি করার।
তখন তাঁর দাসের প্রতি যা প্রত্যাদেশ করবার, তা প্রত্যাদেশ করলেন।
فَأَوْحَىٰٓ إِلَىٰ عَبْدِهِۦ مَآ أَوْحَىٰ
যাহা সে দেখিয়াছে, তাহার অন্তঃকরণ তাহা অস্বীকার করে নাই;
ما كذب الفؤاد ما رأى
হৃদয় যা দেখেছে, সে তা ভুল করেনি।
রসূলের অন্তর মিথ্যা বলেনি যা সে দেখেছে।
مَا كَذَبَ ٱلْفُؤَادُ مَا رَأَىٰٓ
সে যাহা দেখিয়াছে তোমরা কি সে বিষয়ে তাহার সঙ্গে বিতর্ক করিবে?
أفتمارونه على ما يرى
সে যা দেখেছে তোমরা কি সে বিষয়ে তার সাথে বিতর্ক করবে?
তোমরা কি বিষয়ে বিতর্ক করবে যা সে দেখেছে?
أَفَتُمَٰرُونَهُۥ عَلَىٰ مَا يَرَىٰ
নিশ্চয়ই সে তাহাকে আরেকবার দেখিয়াছিল
ولقد رآه نزلة أخرى
নিশ্চয়ই সে তাকে পরেও একবার দেখেছিল
নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল,
وَلَقَدْ رَءَاهُ نَزْلَةً أُخْرَىٰ
প্রান্তবর্তী বদরী বৃক্ষের নিকট,
عند سدرة المنتهى
সিদরাতুল মুনতাহার কাছে।
সিদরাতুলমুন্তাহার নিকটে,
عِندَ سِدْرَةِ ٱلْمُنتَهَىٰ
যাহার নিকট অবস্থিত বাসোদ্যান।
عندها جنة المأوى
তার কাছেই রয়েছে জান্নাতুল মা’ওয়া।
যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত।
عِندَهَا جَنَّةُ ٱلْمَأْوَىٰٓ
যখন বৃক্ষটি, যদ্দ্বারা আচ্ছাদিত হইবার তদ্দ্বারা ছিল আচ্ছাদিত,
إذ يغشى السدرة ما يغشى
যখন সে সিদরাটি (কুল গাছটি) যা দিয়ে ঢাকার তা দিয়ে আচ্ছাদিত ছিলো।
যখন বৃক্ষটি দ্বারা আচ্ছন্ন হওয়ার, তদ্দ্বারা আচ্ছন্ন ছিল।
إِذْ يَغْشَى ٱلسِّدْرَةَ مَا يَغْشَىٰ
তাহার দৃষ্টিবিভ্রম হয় নাই, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যুতও হয় নাই।
ما زاغ البصر وما طغى
তার নজর বিভ্রম ঘটেনি এবং সে বিচ্যুতও হয়নি।
তাঁর দৃষ্টিবিভ্রম হয় নি এবং সীমালংঘনও করেনি।
مَا زَاغَ ٱلْبَصَرُ وَمَا طَغَىٰ
সে তো তাহার প্রতিপালকের মহান নিদর্শনাবলী দেখিয়াছিল;
لقد رأى من آيات ربه الكبرى
সে তো তার প্রভুর শ্রেষ্ঠ নিদর্শনাবলি দেখেছে।
নিশ্চয় সে তার পালনকর্তার মহান নিদর্শনাবলী অবলোকন করেছে।
لَقَدْ رَأَىٰ مِنْ ءَايَٰتِ رَبِّهِ ٱلْكُبْرَىٰٓ
তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ ‘লাত’ ও ‘উয্যা’ সম্বন্ধে
أفرأيتم اللات والعزى
তোমরা কি লাত ও উযযার বিষয়টি ভেবে দেখেছো?
তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওযযা সম্পর্কে।
أَفَرَءَيْتُمُ ٱللَّٰتَ وَٱلْعُزَّىٰ
এবং তৃতীয় আরেকটি ‘মানাত’ সম্বন্ধে?
ومناة الثالثة الأخرى
আর তৃতীয় আরেকটি মানাতের বিষয়টি?
এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?
وَمَنَوٰةَ ٱلثَّالِثَةَ ٱلْأُخْرَىٰٓ
তবে কি তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান এবং র জন্য কন্যা সন্তান ?
ألكم الذكر وله الأنثى
তবে কি তোমাদের জন্যে পুত্র সন্তান আর আল্লাহর জন্যে কন্যা সন্তান?
পুত্র - সন্তান কি তোমাদের জন্যে এবং কন্যা - সন্তান আল্লাহর জন্য?
أَلَكُمُ ٱلذَّكَرُ وَلَهُ ٱلْأُنثَىٰ
এই প্রকার বণ্টন তো অসংগত।
تلك إذا قسمة ضيزى
এ ধরণের ভাগ তো সম্পূর্ণ অন্যায়।
এমতাবস্থায় এটা তো হবে খুবই অসংগত বন্টন।
تِلْكَ إِذًا قِسْمَةٌ ضِيزَىٰٓ
এইগুলি কতক নামমাত্র যাহা তোমাদের পূর্বপুরুষগণ ও তোমরা রাখিয়াছ, যাহার সমর্থনে কোন দলীল প্রেরণ করেন নাই। তাহারা তো অনুমান এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে, অথচ তাহাদের নিকট তাহাদের প্রতিপালকের পথনির্দেশ আসিয়াছে।
إن هي إلا أسماء سميتموها أنتم وآباؤكم ما أنزل الله بها من سلطان ۚ إن يتبعون إلا الظن وما تهوى الأنفس ۖ ولقد جاءهم من ربهم الهدى
তোমাদের এগুলো তো কতোগুলো নামমাত্র, তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষরা এসব নাম দিয়েছো। তো এগুলোর সমর্থনে কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি। তোমরা তো অনুমান এবং কামনা - বাসনারই অনুসরণ করো। অথচ এদের কাছে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে হিদায়াত এসেছে।
এগুলো কতগুলো নাম বৈ নয়, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব - পুরুষদের রেখেছ। এর সমর্থনে কোন দলীল নাযিল করেননি। তারা অনুমান এবং প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে পথ নির্দেশ এসেছে।
إِنْ هِىَ إِلَّآ أَسْمَآءٌ سَمَّيْتُمُوهَآ أَنتُمْ وَءَابَآؤُكُم مَّآ أَنزَلَ ٱللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَٰنٍ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَمَا تَهْوَى ٱلْأَنفُسُ وَلَقَدْ جَآءَهُم مِّن رَّبِّهِمُ ٱلْ
মানুষ যাহা চায় তাহাই কি সে পায়?
أم للإنسان ما تمنى
নাকি মানুষ যা চায়, তাই পায়?
মানুষ যা চায়, তাই কি পায়?
أَمْ لِلْإِنسَٰنِ مَا تَمَنَّىٰ
বস্তুত ইহকাল ও পরকাল রই।
فلله الآخرة والأولى
প্রকৃতপক্ষে, ইহকাল এবং সবই আল্লাহর।
অতএব, পরবর্তী ও পূর্ববর্তী সব মঙ্গলই আল্লাহর হাতে।
فَلِلَّهِ ٱلْءَاخِرَةُ وَٱلْأُولَىٰ
আকাশে কত ফিরিশ্তা রহিয়াছে ; উহাদের সুপারিশ কিছুমাত্র ফলপ্রসূ হইবে না, তবে র অনুমতির পর ; যাহার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন ও যাহার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।
۞ وكم من ملك في السماوات لا تغني شفاعتهم شيئا إلا من بعد أن يأذن الله لمن يشاء ويرضى
মহাকাশে কতো যে ফেরেশতা রয়েছে, তাদের শাফায়াতে কিছুমাত্র লাভ হবেনা, তবে যদি অনুমতি দেন তারপর, এবং তিনি যার জন্যে অনুমতি দেন, আর তিনি যার প্রতি সন্তুষ্ট হন।
আকাশে অনেক ফেরেশতা রয়েছে। তাদের কোন সুপারিশ ফলপ্রসূ হয় না যতক্ষণ যার জন্যে ইচ্ছা ও যাকে পছন্দ করেন, অনুমতি না দেন।
وَكَم مِّن مَّلَكٍ فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ لَا تُغْنِى شَفَٰعَتُهُمْ شَيْـًٔا إِلَّا مِنۢ بَعْدِ أَن يَأْذَنَ ٱللَّهُ لِمَن يَشَآءُ وَيَرْضَىٰٓ
যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহারাই নারীবাচক নাম দিয়া থাকে ফিরিশ্তাদেরকে;
إن الذين لا يؤمنون بالآخرة ليسمون الملائكة تسمية الأنثى
নিশ্চয়ই যারা আখিরাতের প্রতি ঈমান আনেনা, তারাই ফেরেশতাদের নারীবাচক নাম দিয়ে থাকে।
যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারাই ফেরেশতাকে নারীবাচক নাম দিয়ে থাকে।
إِنَّ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱلْءَاخِرَةِ لَيُسَمُّونَ ٱلْمَلَٰٓئِكَةَ تَسْمِيَةَ ٱلْأُنثَىٰ
অথচ এই বিষয়ে উহাদের কোন জ্ঞান নাই, উহারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে; কিন্তু সত্যের মুকাবিলায় অনুমানের কোনই মূল্য নাই।
وما لهم به من علم ۖ إن يتبعون إلا الظن ۖ وإن الظن لا يغني من الحق شيئا
অথচ এ ব্যাপারে তাদের কোনো এলেমই নেই। তারা তো কেবল অনুমানের পিছে ছুটে। কিন্তু অনুমান সত্যের মোকাবেলায় কোনো কাজেই লাগেনা।
অথচ এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমানের উপর চলে। অথচ সত্যের ব্যাপারে অনুমান মোটেই ফলপ্রসূ নয়।
وَمَا لَهُم بِهِۦ مِنْ عِلْمٍ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَإِنَّ ٱلظَّنَّ لَا يُغْنِى مِنَ ٱلْحَقِّ شَيْـًٔا
অতএব যে আমার স্মরণে বিমুখ তুমি তাহাকে উপেক্ষা করিয়া চল; সে তো কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করে।
فأعرض عن من تولى عن ذكرنا ولم يرد إلا الحياة الدنيا
সুতরাং যে আমার যিকির থেকে বিমুখ, তাকে উপেক্ষা করে চলো। সে তো দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই কামনা করেনা।
অতএব যে আমার স্মরণে বিমুখ এবং কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করে তার তরফ থেকে আপনি মুখ ফিরিয়ে নিন।
فَأَعْرِضْ عَن مَّن تَوَلَّىٰ عَن ذِكْرِنَا وَلَمْ يُرِدْ إِلَّا ٱلْحَيَوٰةَ ٱلدُّنْيَا
উহাদের জ্ঞানের দৌড় এই পর্যন্ত। তোমার প্রতিপালকই ভাল জানেন কে তাঁহার পথ হইতে বিচ্যুত, তিনিই ভাল জানেন কে সৎপথপ্রাপ্ত।
ذلك مبلغهم من العلم ۚ إن ربك هو أعلم بمن ضل عن سبيله وهو أعلم بمن اهتدى
তাদের জ্ঞানের দৌড় এ পর্যন্তই শেষ। তোমার প্রভু ভালো করেই জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, আর তিনি তাকেও ভালো করেই জানেন, যে সঠিক পথের অনুসারী।
তাদের জ্ঞানের পরিধি এ পর্যন্তই। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা ভাল জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন কে সুপথপ্রাপ্ত হয়েছে।
ذَٰلِكَ مَبْلَغُهُم مِّنَ ٱلْعِلْمِ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِۦ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ ٱهْتَدَىٰ
আকাশমণ্ডলীতে যাহা কিছু আছে ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহা রই। যাহারা মন্দ কর্ম করে তাহাদেরকে তিনি দেন মন্দ ফল এবং যাহারা সৎকর্ম করে তাহাদেরকে দেন উত্তম পুরস্কার।
ولله ما في السماوات وما في الأرض ليجزي الذين أساءوا بما عملوا ويجزي الذين أحسنوا بالحسنى
মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর, যাতে করে যারা বদ আমল করে তাদের মন্দ প্রতিফল দিয়ে দেন, আর যারা নেক আমল করে, তাদের শুভ প্রতিফল দান করেন।
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর, যাতে তিনি মন্দকর্মীদেরকে তাদের কর্মের প্রতিফল দেন এবং সৎকর্মীদেরকে দেন ভাল ফল।
وَلِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ لِيَجْزِىَ ٱلَّذِينَ أَسَٰٓـُٔوا۟ بِمَا عَمِلُوا۟ وَيَجْزِىَ ٱلَّذِينَ أَحْسَنُوا۟ بِٱلْحُسْنَى
উহারাই বিরত থাকে গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কার্য হইতে, ছোটখাট অপরাধ করিলেও। তোমার প্রতিপালকের ক্ষমা অপরিসীম ; তোমাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত - যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছিলেন মৃত্তিকা হইতে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে ভ্রণরূপে ছিলে। অতএব তোমরা আত্মপ্রশংসা করিও না, তিনিই সম্যক জানেন কে।
الذين يجتنبون كبائر الإثم والفواحش إلا اللمم ۚ إن ربك واسع المغفرة ۚ هو أعلم بكم إذ أنشأكم من الأرض وإذ أنتم أجنة في بطون أمهاتكم ۖ فلا تزكوا أنفسكم ۖ هو أعلم بمن اتقى
যারা কবিরা গুনাহ্ এবং ফাহেশা কাজ থেকে বিরত থাকে, যদিও ছোট খাটো গুনাহ্ হয়েই থাকে, তোমার প্রভু (তাদের ব্যাপারে) উদার ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের সম্পর্কে অবগত আছেন, যখন তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছিলেন মাটি থেকে এবং যখন তোমরা মায়ের গর্ভে ছিলে ভ্রুণ হিসেবে। সুতরাং তোমরা নিজেদেরকে শুদ্ধতার সার্টিফিকেট দিওনা। তিনি ভালো করেই জানেন কে বেশি ?
যারা বড় বড় গোনাহ ও অশ্লীলকার্য থেকে বেঁচে থাকে ছোটখাট অপরাধ করলেও নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার ক্ষমা সুদূর বিস্তৃত। তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভাল জানেন, যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা থেকে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে কচি শিশু ছিলে। অতএব তোমরা আত্নপ্রশংসা করো না। তিনি ভাল জানেন কে সংযমী।
ٱلَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَٰٓئِرَ ٱلْإِثْمِ وَٱلْفَوَٰحِشَ إِلَّا ٱللَّمَمَ إِنَّ رَبَّكَ وَٰسِعُ ٱلْمَغْفِرَةِ هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ ٱلْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةٌ فِى بُطُونِ أُمَّه
তুমি কি দেখিয়াছ সেই ব্যক্তিকে যে মুখ ফিরাইয়া নেয়;
أفرأيت الذي تولى
তুমি কি ঐ ব্যক্তিকে দেখেছো, যে মুখ ফিরিয়ে নেয় (ইসলাম থেকে)?
আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
أَفَرَءَيْتَ ٱلَّذِى تَوَلَّىٰ
এবং দান করে সামান্যই, পরে বন্ধ করিয়া দেয়?
وأعطى قليلا وأكدى
যে সামান্যই দান করে এবং পরে (তাও) বন্ধ করে দেয়?
এবং দেয় সামান্যই ও পাষাণ হয়ে যায়।
وَأَعْطَىٰ قَلِيلًا وَأَكْدَىٰٓ
তাহার কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, সে প্রত্যক্ষ করে?
أعنده علم الغيب فهو يرى
তার কাছে কি গায়েবের জ্ঞান আছে এবং সে কি সব দেখতে পায়?
তার কাছে কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, সে দেখে?
أَعِندَهُۥ عِلْمُ ٱلْغَيْبِ فَهُوَ يَرَىٰٓ
তাহাকে কি অবগত করা হয় নাই যাহা আছে মূসার কিতাবে,
أم لم ينبأ بما في صحف موسى
তাকে কি অবহিত করা হয়নি যা রয়েছে মূসার কিতাবে?
তাকে কি জানানো হয়নি যা আছে মূসার কিতাবে,
أَمْ لَمْ يُنَبَّأْ بِمَا فِى صُحُفِ مُوسَىٰ
এবং ইব্রাহীমের কিতাবে, যে পালন করিয়াছিল তাহার দায়িত্ব?
وإبراهيم الذي وفى
এবং ইবরাহিমের কিতাবে, যে পূর্ণ করেছিল তার কর্তব্য?
এবং ইব্রাহীমের কিতাবে, যে তার দায়িত্ব পালন করেছিল?
وَإِبْرَٰهِيمَ ٱلَّذِى وَفَّىٰٓ
উহা এই যে, কোন বহনকারী অপরের বোঝা বহন করিবে না,
ألا تزر وازرة وزر أخرى
(সেসব কিতাবে রয়েছে:) কোনো বোঝা বহনকারী অপরের (পাপের) বোঝা বহন করবে না।
কিতাবে এই আছে যে, কোন ব্যক্তি কারও গোনাহ নিজে বহন করবে না।
أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ
আর এই যে, মানুষ তাহাই পায় যাহা সে করে,
وأن ليس للإنسان إلا ما سعى
মানুষ তাই পাবে, যা সে চেষ্টা করবে।
এবং মানুষ তাই পায়, যা সে করে,
وَأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَٰنِ إِلَّا مَا سَعَىٰ
আর এই যে, তাহার কর্ম অচিরেই দেখান হইবে -
وأن سعيه سوف يرى
এবং শীঘ্রি তাকে দেখানো হবে তার প্রচেষ্টা,
তার কর্ম শীঘ্রই দেখা হবে।
وَأَنَّ سَعْيَهُۥ سَوْفَ يُرَىٰ
অতঃপর তাহাকে দেওয়া হইবে পূর্ণ প্রতিদান,
ثم يجزاه الجزاء الأوفى
তারপর তাকে দেয়া হবে পূর্ণ প্রতিফল,
অতঃপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে।
ثُمَّ يُجْزَىٰهُ ٱلْجَزَآءَ ٱلْأَوْفَىٰ
আর এই যে, সমস্ত কিছুর সমাপ্তি তো তোমার প্রতিপালকের নিকট,
وأن إلى ربك المنتهى
(সেসব কিতাবে) আরো রয়েছে যে, সব কিছুর সমাপ্তি হবে তোমার প্রভুর কাছে গিয়েই।
তোমার পালনকর্তার কাছে সবকিছুর সমাপ্তি,
وَأَنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ ٱلْمُنتَهَىٰ
আর এই যে, তিনিই হাসান, তিনিই কাঁদান,
وأنه هو أضحك وأبكى
তিনিই হাসাবেন এবং তিনিই কাঁদাবেন।
এবং তিনিই হাসান ও কাঁদান
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَىٰ
আর এই যে, তিনিই মারেন, তিনিই বাঁচান,
وأنه هو أمات وأحيا
তিনিই মউত ঘটান এবং তিনিই হায়াত দান করেন
এবং তিনিই মারেন ও বাঁচান,
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَمَاتَ وَأَحْيَا
আর এই যে, তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল - পুরুষ ও নারী
وأنه خلق الزوجين الذكر والأنثى
তিনিই সৃষ্টি করেন পুরুষ ও নারীর জোড়া
এবং তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল - পুরুষ ও নারী।
وَأَنَّهُۥ خَلَقَ ٱلزَّوْجَيْنِ ٱلذَّكَرَ وَٱلْأُنثَىٰ
শুক্রবিন্দু হইতে, যখন উহা স্খলিত হয়,
من نطفة إذا تمنى
নোতফা (শুক্র বিন্দু) থেকে যখন বীর্যপাত করা হয়।
একবিন্দু বীর্য থেকে যখন স্খলিত করা হয়।
مِن نُّطْفَةٍ إِذَا تُمْنَىٰ
আর এই যে, পুনরুত্থান ঘটাইবার দায়িত্ব তাঁহারই,
وأن عليه النشأة الأخرى
পুনরুত্থান ঘটানোর দায়িত্বও তাঁরই।
পুনরুত্থানের দায়িত্ব তাঁরই,
وَأَنَّ عَلَيْهِ ٱلنَّشْأَةَ ٱلْأُخْرَىٰ
আর এই যে, তিনিই অভাবমুক্ত করেন ও সম্পদ দান করেন,
وأنه هو أغنى وأقنى
তিনিই অভাবমুক্ত করেন এবং দান করেন প্রাচুর্য।
এবং তিনিই ধনবান করেন ও সম্পদ দান করেন।
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَغْنَىٰ وَأَقْنَىٰ
আর এই যে, তিনি শি‘রা নক্ষত্রের মালিক।
وأنه هو رب الشعرى
তিনিই প্রভু শে’রা নক্ষত্রের।
তিনি শিরা নক্ষত্রের মালিক।
وَأَنَّهُۥ هُوَ رَبُّ ٱلشِّعْرَىٰ
আর এই যে, তিনিই প্রাচীন ‘আদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করিয়াছিলেন
وأنه أهلك عادا الأولى
তিনিই হালাক (ধ্বংস) করেছিলেন প্রথম আদকে,
তিনিই প্রথম আদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছেন,
وَأَنَّهُۥٓ أَهْلَكَ عَادًا ٱلْأُولَىٰ
এবং সামূদ সম্প্রদায়কেও; কাহাকেও তিনি বাকি রাখেন নাই
وثمود فما أبقى
সামুদ জাতিকেও - যাদের একজনকেও বাকি রাখেননি।
এবং সামুদকেও; অতঃপর কাউকে অব্যহতি দেননি।
وَثَمُودَا۟ فَمَآ أَبْقَىٰ
আর ইহাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কেও, উহারা ছিল অতিশয় ও অবাধ্য।
وقوم نوح من قبل ۖ إنهم كانوا هم أظلم وأطغى
এর আগে (ধ্বংস করেছিলেন) নূহের জাতিকেও। এরা সবাই ছিলো বড় যালিম আর চরম বিদ্রোহী।
এবং তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কে, তারা ছিল আরও জালেম ও অবাধ্য।
وَقَوْمَ نُوحٍ مِّن قَبْلُ إِنَّهُمْ كَانُوا۟ هُمْ أَظْلَمَ وَأَطْغَىٰ
উল্টানো আবাসভূমিকে নিক্ষেপ করিয়াছিলেন,
والمؤتفكة أهوى
এছাড়াও (সেসব কিতাবে) রয়েছে যে, তিনি ধ্বংস করে দিয়েছিলেন উল্টে দেয়া জনপদকেও (লুতের জাতির শহরকে),
তিনিই জনপদকে শুন্যে উত্তোলন করে নিক্ষেপ করেছেন।
وَٱلْمُؤْتَفِكَةَ أَهْوَىٰ
উহাকে আচ্ছন্ন করিল কী সর্বগ্রাসী শাস্তি!
فغشاها ما غشى
তারপর তাদের আচ্ছন্ন করে নিয়েছিল - আচ্ছন্নকারী আযাব।
অতঃপর তাকে আচ্ছন্ন করে নেয় যা আচ্ছন্ন করার।
فَغَشَّىٰهَا مَا غَشَّىٰ
তবে তুমি তোমার প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করিবে?
فبأي آلاء ربك تتمارى
এখন বলো, তোমার প্রভুর কোন্ নিয়ামত সম্পর্কে সন্দেহ করবে?
অতঃপর তুমি তোমার পালনকর্তার কোন অনুগ্রহকে মিথ্যা বলবে?
فَبِأَىِّ ءَالَآءِ رَبِّكَ تَتَمَارَىٰ
অতীতের সতর্ককারীদের ন্যায় এই নবীও এক সতর্ককারী।
هذا نذير من النذر الأولى
এ নবীও একজন সতর্ককারী অতীতের সতর্ককারীদের মতোই।
অতীতের সতর্ককারীদের মধ্যে সে - ও একজন সতর্ককারী।
هَٰذَا نَذِيرٌ مِّنَ ٱلنُّذُرِ ٱلْأُولَىٰٓ
কিয়ামত আসন্ন,
أزفت الآزفة
কিয়ামত সন্নিকটে,
কেয়ামত নিকটে এসে গেছে।
أَزِفَتِ ٱلْءَازِفَةُ
ব্যতীত কেহই ইহা ব্যক্ত করিতে সক্ষম নয়।
ليس لها من دون الله كاشفة
ছাড়া কেউই তা উন্মুক্ত করতে সক্ষম নয়।
ব্যতীত কেউ একে প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।
لَيْسَ لَهَا مِن دُونِ ٱللَّهِ كَاشِفَةٌ
তোমরা কি এই কথায় বিস্ময় বোধ করিতেছ!
أفمن هذا الحديث تعجبون
তোমরা কি এই বাণীর (কুরআনের) ব্যাপারে বিস্ময়বোধ করছো?
তোমরা কি এই বিষয়ে আশ্চর্যবোধ করছ?
أَفَمِنْ هَٰذَا ٱلْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ
এবং হাসিঠাট্টা করিতেছ! ক্রন্দন করিতেছ না?
وتضحكون ولا تبكون
হাসাহাসি করছো? অথচ কাঁদছো না?
এবং হাসছ - ক্রন্দন করছ না?
وَتَضْحَكُونَ وَلَا تَبْكُونَ
তোমরা তো উদাসীন,
وأنتم سامدون
আসলে তোমরা গাফিল।
তোমরা ক্রীড়া - কৌতুক করছ,
وَأَنتُمْ سَٰمِدُونَ
অতএব কে সিজ্দা কর এবং তাঁহারই ‘ইবাদত কর।
فاسجدوا لله واعبدوا ۩
অতএব, তোমরা সাজদা করো আল্লাহকে এবং ইবাদত করো কেবল তাঁরই। (সাজদা)
অতএব আল্লাহকে সেজদা কর এবং তাঁর এবাদত কর।
فَٱسْجُدُوا۟ لِلَّهِ وَٱعْبُدُوا۟