হা - মীম।
Hameem
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ حم
হা মিম!
Chapter 43, 89 verses
হা - মীম।
Hameem
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ حم
হা মিম!
শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের;
Waalkitabi almubeeni
وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ
সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ!
আমি ইহা অবতীর্ণ করিয়াছি আরবী ভাষায় কুরআন, যাহাতে তোমরা বুঝিতে পার।
Inna jaAAalnahu quranan AAarabiyyan laAAallakum taAAqiloona
إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
আমরা এই কুরআন আরবি ভাষায় করেছি যেনো তোমরা বুঝতে পারো।
ইহা তো রহিয়াছে আমার নিকট উম্মুল কিতাবে; ইহা মহান, জ্ঞানগর্ভ।
Wainnahu fee ommi alkitabi ladayna laAAaliyyun hakeemun
وَإِنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَدَيْنَا لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ
এটি আমাদের কাছে উম্মুল কিতাবে (মূল গ্রন্থে, Mother Book - এ) সংরক্ষিত আছে। এটি অতি উঁচু মর্যাদাসম্পন্ন, বিজ্ঞানময়।
আমি কি তোমাদের হইতে এই উপদেশবাণী সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করিয়া লইব এই কারণে যে, তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়?
Afanadribu AAankumu alththikra safhan an kuntum qawman musrifeena
أَفَنَضْرِبُ عَنكُمُ الذِّكْرَ صَفْحًا أَن كُنتُمْ قَوْمًا مُّسْرِفِينَ
যেহেতু তোমরা একটি সীমালংঘনকারী জাতি, সে জন্যে কি আমরা তোমাদের থেকে এই উপদেশ গ্রন্থ পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেবো?
পূর্ববর্তীদের নিকট আমি বহু নবী প্রেরণ করিয়াছিলাম।
Wakam arsalna min nabiyyin fee alawwaleena
وَكَمْ أَرْسَلْنَا مِن نَّبِيٍّ فِي الْأَوَّلِينَ
আগেকার লোকদের কাছে আমরা বহু নবী পাঠিয়েছি।
এবং যখনই উহাদের নিকট কোন নবী আসিয়াছে উহারা তাহাকে ঠাট্টা - বিদ্রপ করিয়াছে।
Wama yateehim min nabiyyin illa kanoo bihi yastahzioona
وَمَا يَأْتِيهِم مِّن نَّبِيٍّ إِلَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
যখনই তাদের কাছে কোনো নবী এসেছিল, তারা তাকে নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করেছিল।
যাহারা ইহাদের অপেক্ষা শক্তিতে প্রবল ছিল, তাহাদেরকে আমি ধ্বংস করিয়াছিলাম; আর এইভাবে চলিয়া আসিয়াছে পূর্ববর্তীদের অনুরূপ দৃষ্টান্ত।
Faahlakna ashadda minhum batshan wamada mathalu alawwaleena
فَأَهْلَكْنَا أَشَدَّ مِنْهُم بَطْشًا وَمَضَىٰ مَثَلُ الْأَوَّلِينَ
তাদের আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম, তারা ছিলো এদের চাইতেও প্রবল শক্তিধর। যারা অতীত হয়েছে এ রকমই ছিলো তাদের দৃষ্টান্ত।
তুমি যদি উহাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘কে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছে?’ উহারা অবশ্যই বলিবে, ‘এইগুলি তো সৃষ্টি করিয়াছেন পরাক্রমশালী, র্সবজ্ঞ ’,
Walain saaltahum man khalaqa alssamawati waalarda layaqoolunna khalaqahunna alAAazeezu alAAaleemu
وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ خَلَقَهُنَّ الْعَزِيزُ الْعَلِيمُ
তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস করো, কে সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ আর পৃথিবী? তারা অবশ্যি বলবে: ‘মহাশক্তিধর মহাজ্ঞানী সৃষ্টি করেছেন সেগুলো।’
যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করিয়াছেন শয্যা এবং উহাতে করিয়াছেন তোমাদের চলিবার পথ, যাহাতে তোমরা সঠিক পথ পাইতে পার;
Allathee jaAAala lakumu alarda mahdan wajaAAala lakum feeha subulan laAAallakum tahtadoona
الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ مَهْدًا وَجَعَلَ لَكُمْ فِيهَا سُبُلًا لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
তিনিই তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন শয্যা - সমতল এবং তাতে তোমাদের জন্যে তৈরি করে দিয়েছেন চলাচলের পথ, যাতে করে তোমরা সঠিক পথে চলতে পারো,
এবং যিনি আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন পরিমিতভাবে। অতঃপর আমি তদ্দ্বারা সঞ্জীবিত করি নির্জীব জনপদকে। এইভাবেই তোমাদেরকে বাহির করা হইবে।
Waallathee nazzala mina alssamai maan biqadarin faansharna bihi baldatan maytan kathalika tukhrajoona
وَالَّذِي نَزَّلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً بِقَدَرٍ فَأَنشَرْنَا بِهِ بَلْدَةً مَّيْتًا ۚ كَذَٰلِكَ تُخْرَجُونَ
এবং তিনিই আসমান থেকে নাযিল করেন পানি পরিমাণ মতো, তা দিয়ে আমরা জীবিত করে তুলি মরা জমিনকে। এভাবেই পুনরুত্থিত করা হবে তোমাদেরকেও।
আর যিনি সকল প্রকারের জোড়া যুগল সৃষ্টি করেন এবং যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেন এমন নৌযান ও আন‘আম তথা চতুষ্পদ জন্তু, যাহাতে তোমরা আরোহণ কর ।
Waallathee khalaqa alazwaja kullaha wajaAAala lakum mina alfulki waalanAAami ma tarkaboona
وَالَّذِي خَلَقَ الْأَزْوَاجَ كُلَّهَا وَجَعَلَ لَكُم مِّنَ الْفُلْكِ وَالْأَنْعَامِ مَا تَرْكَبُونَ
তিনিই সৃষ্টি করেন প্রতিটি জিনিসের জোড়া, আর তিনিই তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেন নৌযান ও পশু, যাতে তোমরা আরোহণ করো।
যাহাতে তোমরা উহাদের পৃষ্ঠে স্থির হইয়া বসিতে পার. তারপর তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ স্মরণ কর যখন তোমরা উহার উপর স্থির হইয়া বস ; এবং বল, ‘পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি ইহাদেরকে আমাদের বশীভূত করিয়া দিয়াছেন, যদিও আমরা সমর্থ ছিলাম না ইহাদেরকে বশীভূত করিতে।
Litastawoo AAala thuhoorihi thumma tathkuroo niAAmata rabbikum itha istawaytum AAalayhi wataqooloo subhana allathee sakhkhara lana hatha wama kunna lahu muqrineena
لِتَسْتَوُوا عَلَىٰ ظُهُورِهِ ثُمَّ تَذْكُرُوا نِعْمَةَ رَبِّكُمْ إِذَا اسْتَوَيْتُمْ عَلَيْهِ وَتَقُولُوا سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَٰذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ
যাতে করে তোমরা তাদের পিঠে স্থির হয়ে বসতে পারো। এবার তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রভুর অনুগ্রহ স্মরণ করো, যখন তোমরা সেগুলোর উপর স্থির হয়ে বসো এবং বলো: ‘‘পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন করে দিয়েছেন এটিকে। আমরা তো এটাকে বশীভূত করতে সমর্থ ছিলাম না।
‘আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করিব।’
Wainna ila rabbina lamunqaliboona
وَإِنَّا إِلَىٰ رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ
আমরা অবশ্যি ফিরে যাবো আমাদের প্রভুর কাছে।’’
উহারা তাঁহার বান্দাদের মধ্য হইতে তাঁহার অংশ সাব্যস্ত করিয়াছে। মানুষ তো স্পষ্টই অকৃতজ্ঞ।
WajaAAaloo lahu min AAibadihi juzan inna alinsana lakafoorun mubeenun
وَجَعَلُوا لَهُ مِنْ عِبَادِهِ جُزْءًا ۚ إِنَّ الْإِنسَانَ لَكَفُورٌ مُّبِينٌ
কিন্তু তারা তাঁর দাসদের মধ্য থেকে তাঁর অংশ (অংশীদার) সাব্যস্ত করে নিয়েছে। মানুষ একেবারেই সুস্পষ্ট অকৃতজ্ঞ।
তিনি কি তাঁহার সৃষ্টি হইতে নিজের জন্য কন্যা সন্তান গ্রহণ করিয়াছেন এবং তোমাদেরকে বিশিষ্ট করিয়াছেন পুত্র সন্তান দ্বারা?
Ami ittakhatha mimma yakhluqu banatin waasfakum bialbaneena
أَمِ اتَّخَذَ مِمَّا يَخْلُقُ بَنَاتٍ وَأَصْفَاكُم بِالْبَنِينَ
তিনি কি নিজের সৃষ্টির মধ্য থেকে নিজের জন্যে কন্যা সন্তান গ্রহণ করেছেন, আর তোমাদের গুণাণ্বিত করেছেন পুত্র সন্তান দিয়ে?
দয়াময় র প্রতি উহারা যাহা আরোপ করে উহাদের কাহাকেও সেই সন্তানের সংবাদ দেওয়া হইলে তাহার মুখমণ্ডল কালো হইয়া যায় এবং সে দুঃসহ মর্ম যাতনায় ক্লিষ্ট হয়।
Waitha bushshira ahaduhum bima daraba lilrrahmani mathalan thalla wajhuhu muswaddan wahuwa katheemun
وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُم بِمَا ضَرَبَ لِلرَّحْمَٰنِ مَثَلًا ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ
তারা রহমানের জন্যে যে দৃষ্টান্ত আরোপ করে, তাদের কাউকেও সেই (কন্যা সন্তানের) সংবাদ দেয়া হলে তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং সে জর্জরিত হয় দু:সহ মর্ম বেদনায়।
উহারা কি র প্রতি আরোপ করে এমন সন্তান, যে অলঙ্কারে মণ্ডিত হইয়া লালিত - পালিত হয় এবং তর্ক - বিতর্ককালে স্পষ্ট বক্তব্যে অসমর্থ?
Awaman yunashshao fee alhilyati wahuwa fee alkhisami ghayru mubeenin
أَوَمَن يُنَشَّأُ فِي الْحِلْيَةِ وَهُوَ فِي الْخِصَامِ غَيْرُ مُبِينٍ
তারা কি আল্লাহর প্রতি এমন সন্তান আরোপ করে, যে অলংকারে সজ্জিত হয়ে লালিত পালিত হয় এবং বিতর্কের ক্ষেত্রেও সুস্পষ্ট নয়?
উহারা দয়াময় র বান্দা ফিরিশ্তাদেরকে নারী গণ্য করিয়াছে ; ইহাদের সৃষ্টি কি উহারা প্রত্যক্ষ করিয়াছিল? উহাদের উক্তি অবশ্য লিপিবদ্ধ করা হইবে এবং উহাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হইবে।
WajaAAaloo almalaikata allatheena hum AAibadu alrrahmani inathan ashahidoo khalqahum satuktabu shahadatuhum wayusaloona
وَجَعَلُوا الْمَلَائِكَةَ الَّذِينَ هُمْ عِبَادُ الرَّحْمَٰنِ إِنَاثًا ۚ أَشَهِدُوا خَلْقَهُمْ ۚ سَتُكْتَبُ شَهَادَتُهُمْ وَيُسْأَلُونَ
ফেরেশতা, যারা রহমানের দাস, তাদেরকে তারা নারী গণ্য করে। তারা কি তাদের সৃষ্টির সময় উপস্থিত ছিলো? তাদের সাক্ষ্য অবশ্যি লিখে নেয়া হবে এবং তাদের জেরা করা হবে।
উহারা বলে, ‘দয়াময় ইচ্ছা করিলে আমরা ইহাদের পূজা করিতাম না।’ এ বিষয়ে উহাদের কোন জ্ঞান নাই ; উহারা তো কেবল মনগড়া বলিতেছে।
Waqaloo law shaa alrrahmanu ma AAabadnahum ma lahum bithalika min AAilmin in hum illa yakhrusoona
وَقَالُوا لَوْ شَاءَ الرَّحْمَٰنُ مَا عَبَدْنَاهُم ۗ مَّا لَهُم بِذَٰلِكَ مِنْ عِلْمٍ ۖ إِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ
তারা বলে? ‘রহমান চাইলে আমরা তাদের (ফেরেশতাদের) পূজা করতাম না।’ এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞানই নেই। তারা তো কেবল মনগড়া কথাই বলছে।
আমি কি উহাদেরকে কুরআনের পূর্বে কোন কিতাব দান করিয়াছি যাহা উহারা দৃঢ়ভাবে ধারণ করিয়া আছে?
Am ataynahum kitaban min qablihi fahum bihi mustamsikoona
أَمْ آتَيْنَاهُمْ كِتَابًا مِّن قَبْلِهِ فَهُم بِهِ مُسْتَمْسِكُونَ
নাকি আমরা এই কুরআনের আগে তাদের কোনো কিতাব দিয়েছিলাম, এবং তারা সেটিকে মজবুত করে আঁকড়ে ধরতে চাইছে?
বরং উহারা বলে, ‘আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পাইয়াছি এক মতাদর্শের অনুসারী এবং আমরা তাহাদেরই পদাংক অনুসরণ করিতেছি।’
Bal qaloo inna wajadna abaana AAala ommatin wainna AAala atharihim muhtadoona
بَلْ قَالُوا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَىٰ أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَىٰ آثَارِهِم مُّهْتَدُونَ
বরং তারা বলে: ‘আমাদের পূর্ব পুরুষদের আমরা একটি ধর্ম বিশ্বাসের উপর পেয়েছি, আমরা তাদেরই অনুসরণ করে চলবো।’
এইভাবে তোমার পূর্বে কোন জনপদে যখনই আমি কোন সতর্ককারী প্রেরণ করিয়াছি তখন উহার সমৃদ্ধিশালী ব্যক্তিরা বলিত, ‘আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পাইয়াছি এক মতাদর্শের অনুসারী এবং আমরা তাহাদেরই পদাংক অনুসরণ করিতেছি।’
Wakathalika ma arsalna min qablika fee qaryatin min natheerin illa qala mutrafooha inna wajadna abaana AAala ommatin wainna AAala atharihim muqtadoona
وَكَذَٰلِكَ مَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ فِي قَرْيَةٍ مِّن نَّذِيرٍ إِلَّا قَالَ مُتْرَفُوهَا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَىٰ أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَىٰ آثَارِهِم مُّقْتَدُونَ
এভাবে তোমার আগে আমরা যখনই কোনো জনপদে কোনো সতর্ককারী (রসূল) পাঠিয়েছি, সেখানকার বিত্তশালী প্রভাবশালীরা বলেছে: ‘আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের একটি ধর্ম বিশ্বাসের উপর পেয়েছি। আমরা তাদেরই একতেদা (অনুকরণ) করে চলবো।’
সেই সতর্ককারী বলিত, ‘তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে পথে পাইয়াছ, আমি যদি তোমাদের জন্য তদপেক্ষা উৎকৃষ্ট পথনির্দেশ আনয়ন করি তবুও কি তোমরা তাহাদের পদাংক অনুসরণ করিবে? তাহারা বলিত, ‘তোমরা যাহাসহ প্রেরিত হইয়াছ আমরা তাহা প্রত্যাখ্যান করি।’
Qala awalaw jitukum biahda mimma wajadtum AAalayhi abaakum qaloo inna bima orsiltum bihi kafiroona
۞ قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكُم بِأَهْدَىٰ مِمَّا وَجَدتُّمْ عَلَيْهِ آبَاءَكُمْ ۖ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُم بِهِ كَافِرُونَ
সেই সতর্ককারী তাদের বলতো: ‘তোমরা তোমাদের পূর্ব পুরুষদের যে বিশ্বাস ও আচারের উপর পেয়েছো, আমি যদি তোমাদের জন্যে তার চাইতে উত্তম জীবন পদ্ধতি এনে থাকি, তবু কি তোমরা তাদের পদাংকই অনুসরণ করবে?’ তারা বলতো: ‘তোমরা যা নিয়ে এসেছো আমরা সেটার প্রতি কুফুরি (সেটা প্রত্যাখ্যান) করছি।’
অতঃপর আমি উহাদের হইতে প্রতিশোধ লইলাম। দেখ, মিথ্যাচারীদের পরিণাম কী হইয়াছে।
Faintaqamna minhum faonthur kayfa kana AAaqibatu almukaththibeena
فَانتَقَمْنَا مِنْهُمْ ۖ فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ
ফলে আমরা তাদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি। এখন চেয়ে দেখো, প্রত্যাখ্যানকারীদের পরিণতি কী রকম হয়ে থাকে?
স্মরণ কর, ইব্রাহীম তাহার পিতা এবং সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘তোমরা যাহাদের পূজা কর তাহাদের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নাই;
Waith qala ibraheemu liabeehi waqawmihi innanee baraon mimma taAAbudoona
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ إِنَّنِي بَرَاءٌ مِّمَّا تَعْبُدُونَ
স্মরণ করো, ইবরাহিম তার পিতাকে এবং তার জাতিকে বলেছিল: ‘‘আপনারা যাদের পূজা করছেন, আমি তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলাম।
‘সম্পর্ক আছে শুধু তাঁহারই সঙ্গে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং তিনিই আমাকে সৎপথে পরিচালিত করিবেন।’
Illa allathee fataranee fainnahu sayahdeeni
إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي فَإِنَّهُ سَيَهْدِينِ
আমার সম্পর্ক শুধু তাঁর সাথে গড়ে নিলাম, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন।’’
এই ঘোষণাকে সে স্থায়ী বাণীরূপে রাখিয়া গিয়াছে তাহার পরবর্তীদের জন্য, যাহাতে উহারা প্রত্যাবর্তন করে।
WajaAAalaha kalimatan baqiyatan fee AAaqibihi laAAallahum yarjiAAoona
وَجَعَلَهَا كَلِمَةً بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
ইবরাহিম তার এই ঘোষণাকে স্থায়ী বাণী হিসেবে রেখে গেছে তার পরবর্তীদের জন্যে যাতে করে তারা ফিরে আসে (আল্লাহর দিকে)।
বরঞ্চ আমিই উহাদেরকে এবং উহাদের পূর্বপুরুষদেরকে দিয়াছিলাম ভোগের সামগ্রী, অবশেষে উহাদের নিকট আসিল সত্য এবং স্পষ্ট বর্ণনাকারী রাসূল।
Bal mattaAAtu haolai waabaahum hatta jaahumu alhaqqu warasoolun mubeenun
بَلْ مَتَّعْتُ هَٰؤُلَاءِ وَآبَاءَهُمْ حَتَّىٰ جَاءَهُمُ الْحَقُّ وَرَسُولٌ مُّبِينٌ
বরং আমিই তাদের এবং তাদের পূর্ব পুরুষদের দিয়েছি ভোগের সামগ্রী, অবশেষে তাদের কাছে সত্য এসেছে এবং এসেছে এক সুস্পষ্ট বার্তাবাহক রসূল।
যখন উহাদের নিকট সত্য আসিল, উহারা বলিল, ‘ইহা তো জাদু এবং আমরা ইহা প্রত্যাখ্যান করি।’
Walamma jaahumu alhaqqu qaloo hatha sihrun wainna bihi kafiroona
وَلَمَّا جَاءَهُمُ الْحَقُّ قَالُوا هَٰذَا سِحْرٌ وَإِنَّا بِهِ كَافِرُونَ
যখন তাদের কাছে সত্য এলো, তারা বললো: ‘এতো ম্যাজিক, আমরা একে প্রত্যাখ্যান করছি।’
এবং ইহারা বলে, ‘এই কুরআন কেন নাযিল করা হইল না দুই জনপদের কোন প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তির উপর?’
Waqaloo lawla nuzzila hatha alquranu AAala rajulin mina alqaryatayni AAatheemun
وَقَالُوا لَوْلَا نُزِّلَ هَٰذَا الْقُرْآنُ عَلَىٰ رَجُلٍ مِّنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمٍ
তারা আরো বলেছে: ‘দুই জনপদের (মক্কা ও তায়েফের) কোনো মহান ব্যক্তিত্বের কাছে কেন এই কুরআন নাযিল হলোনা?’
ইহারা কি তোমার প্রতিপালকের করুণা বণ্টন করে? আমিই উহাদের মধ্যে উহাদের জীবিকা বণ্টন করি, পার্থিব জীবনে এবং একজনকে অপরের উপর মর্যাদায় উন্নত করি, যাহাতে একে অপরের দ্বারা কাজ করাইয়া লইতে পারে; এবং উহারা যাহা জমা করে তাহা হইতে তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ উৎকৃষ্টতর।
Ahum yaqsimoona rahmata rabbika nahnu qasamna baynahum maAAeeshatahum fee alhayati alddunya warafaAAna baAAdahum fawqa baAAdin darajatin liyattakhitha baAAduhum baAAdan sukhriyyan warahmatu rabbika khayrun mimma yajmaAAoona
أَهُمْ يَقْسِمُونَ رَحْمَتَ رَبِّكَ ۚ نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُم مَّعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۚ وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِّيَتَّخِذَ بَعْضُهُم بَعْضًا سُخْرِيًّا ۗ وَرَحْمَتُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ
তারাই কি বণ্টন করে তোমার প্রভুর রহমত? আমরাই তো তাদের মাঝে তাদের জীবিকা বণ্টন করে দেই পার্থিব জীবনে এবং একজনকে আরেকজনের উপর শ্রেষ্ঠ করি মর্যাদায়, যাতে করে তারা একে অপরকে কাজ আদায় করার জন্যে (কর্মচারী) নিয়োগ করতে পারে। তারা যা সঞ্চয় করে তার চাইতে তোমার প্রভুর রহমতই শ্রেষ্ঠ।
সত্য প্রত্যাখ্যানে মানুষ এক - মতাবলম্বী হইয়া পড়িবে, এই আশংকা না থাকিলে দয়াময় কে যাহারা অস্বীকার করে, উহাদেরকে আমি দিতাম উহাদের গৃহের জন্য রৌপ্য - নির্মিত ছাদ ও সিঁড়ি যাহাতে উহারা আরোহণ করে,
Walawla an yakoona alnnasu ommatan wahidatan lajaAAalna liman yakfuru bialrrahmani libuyootihim suqufan min fiddatin wamaAAarija AAalayha yathharoona
وَلَوْلَا أَن يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً لَّجَعَلْنَا لِمَن يَكْفُرُ بِالرَّحْمَٰنِ لِبُيُوتِهِمْ سُقُفًا مِّن فِضَّةٍ وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ
সত্য প্রত্যাখ্যান করে মানুষ একই পথের অনুসারী হয়ে পড়বে - এ আশঙ্কা না থাকলে রহমানের প্রতি যারা কুফুরি করে, তাদেরকে আমরা দিতাম তাদের ঘরের জন্যে রূপার ছাদ ও সিঁড়ি, যা দিয়ে তারা বেয়ে উঠে,
এবং উহাদের গৃহের জন্য দরজা ও পালঙ্ক - যাহাতে উহারা হেলান দিয়া বিশ্রাম করিতে পারে,
Walibuyootihim abwaban wasururan AAalayha yattakioona
وَلِبُيُوتِهِمْ أَبْوَابًا وَسُرُرًا عَلَيْهَا يَتَّكِئُونَ
আর তাদের ঘরের জন্যে দরজা এবং খাট পালঙ্ক - যাতে পিঠ রেখে তারা বিশ্রাম করে।
এবং স্বর্ণ - নির্মিতও। আর এই সকলই তো শুধু পার্থিব জীবনের ভোগ - সম্ভার। মুত্তাকীদের জন্য তোমার প্রতিপালকের নিকট রহিয়াছে আখিরাতের কল্যাণ।
Wazukhrufan wain kullu thalika lamma mataAAu alhayati alddunya waalakhiratu AAinda rabbika lilmuttaqeena
وَزُخْرُفًا ۚ وَإِن كُلُّ ذَٰلِكَ لَمَّا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۚ وَالْآخِرَةُ عِندَ رَبِّكَ لِلْمُتَّقِينَ
যখন তাদের কাছে সত্য এলো, তারা বললো: ‘এতো ম্যাজিক, আমরা একে প্রত্যাখ্যান করছি।’
যে ব্যক্তি দয়াময় র স্মরণে বিমুখ হয় আমি তাহার জন্য নিয়োজিত করি এক শয়তান, অতঃপর সে - ই হয় তাহার সহচর।
Waman yaAAshu AAan thikri alrrahmani nuqayyid lahu shaytanan fahuwa lahu qareenun
وَمَن يَعْشُ عَن ذِكْرِ الرَّحْمَٰنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ
যে ব্যক্তি রহমানের যিকির থেকে বিমুখ হয়ে জীবন যাপন করে, আমরা তার পেছনে নিয়োগ করে দেই একটা শয়তান, সে হয়ে যায় তার সংগি।
শয়তানেরাই মানুষকে সৎপথ হইতে বিরত রাখে, অথচ মানুষ মনে করে তাহারা সৎপথে পরিচালিত হইতেছে।
Wainnahum layasuddoonahum AAani alssabeeli wayahsaboona annahum muhtadoona
وَإِنَّهُمْ لَيَصُدُّونَهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُم مُّهْتَدُونَ
এই শয়তানেরাই মানুষকে বাধা দিয়ে রাখে আল্লাহর পথ থেকে। অথচ তারা মনে করে তারা সঠিক পথেই আছে।
অবশেষে যখন সে আমার নিকট উপস্থিত হইবে, তখন সে শয়তানকে বলিবে, ‘হায়! আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব ও পশ্চিমের ব্যবধান থাকিত!’ কত নিকৃষ্ট সহচর সে !
Hatta itha jaana qala ya layta baynee wabaynaka buAAda almashriqayni fabisa alqareenu
حَتَّىٰ إِذَا جَاءَنَا قَالَ يَا لَيْتَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ بُعْدَ الْمَشْرِقَيْنِ فَبِئْسَ الْقَرِينُ
অবশেষে সে যখন আমাদের কাছে এসে উপস্থিত হয়, তখন সে শয়তানকে বলে: ‘হায়, তোর এবং আমার মাঝে যদি পূর্ব - পশ্চিমের দূরত্ব থাকতো।’ কতো যে নিকৃষ্ট সংগি এই শয়তান।
আর আজ তোমাদের এই অনুতাপ তোমাদের কোন কাজেই আসিবে না, যেহেতু তোমরা সীমালংঘন করিয়াছিলে ; তোমরা তো সকলেই শাস্তিতে শরীক।
Walan yanfaAAakumu alyawma ith thalamtum annakum fee alAAathabi mushtarikoona
وَلَن يَنفَعَكُمُ الْيَوْمَ إِذ ظَّلَمْتُمْ أَنَّكُمْ فِي الْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ
আজ তোমাদের এই অনুতাপ কোনো কাজেই আসবেনা যেহেতু তোমরা সীমালংঘন করেছিলে। তোমরা সবাই শরিক হবে আযাবে।
তুমি কি শোনাইতে পারিবে বধিরকে অথবা যে অন্ধ ও যে ব্যক্তি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে, তাহাকে কি পারিবে সৎপথে পরিচালিত করিতে?
Afaanta tusmiAAu alssumma aw tahdee alAAumya waman kana fee dalalin mubeenin
أَفَأَنتَ تُسْمِعُ الصُّمَّ أَوْ تَهْدِي الْعُمْيَ وَمَن كَانَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
তা হলে তুমি কি শুনাবে বধিরকে, কিংবা সঠিক পথ দেখাবে অন্ধকে, আর ঐ ব্যক্তিকে যে রয়েছে সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে?
আমি যদি তোমাকে লইয়া যাই, তবু আমি উহাদেরকে শাস্তি দিব ;
Faimma nathhabanna bika fainna minhum muntaqimoona
فَإِمَّا نَذْهَبَنَّ بِكَ فَإِنَّا مِنْهُم مُّنتَقِمُونَ
আমরা যদি তোমাকে নিয়ে যাই, তবু তাদের থেকে প্রতিশোধ নেবো।
অথবা আমি উহাদেরকে যে শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করিয়াছি, আমি তোমাকে তাহা প্রত্যক্ষ করাই, বস্তুত উহাদের উপর আমার তো পূর্ণ ক্ষমতা রহিয়াছে।
Aw nuriyannaka allathee waAAadnahum fainna AAalayhim muqtadiroona
أَوْ نُرِيَنَّكَ الَّذِي وَعَدْنَاهُمْ فَإِنَّا عَلَيْهِم مُّقْتَدِرُونَ
অথবা আমরা তাদেরকে শাস্তির যে ওয়াদা দিয়েছি তা যদি (তোমার জীবদ্দশাতেই) তোমাকে দেখাই। তাদের উপর আমাদের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে।
সুতরাং তোমার প্রতি যাহা ওহী করা হইয়াছে তাহা দৃঢ়ভাবে অবলম্বন কর। তুমি সরল পথেই রহিয়াছ।
Faistamsik biallathee oohiya ilayka innaka AAala siratin mustaqeemin
فَاسْتَمْسِكْ بِالَّذِي أُوحِيَ إِلَيْكَ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
অতএব তোমার প্রতি যে অহি করা হয়েছে, তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো। অবশ্যি তুমি রয়েছো সিরাতুল মুস্তাকিমের (সরল সঠিক পথের) উপর।
কুরআন তো তোমার ও তোমার সম্প্রদায়ের জন্য সম্মানের বস্তু ; তোমাদেরকে অবশ্যই এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হইবে।
Wainnahu lathikrun laka waliqawmika wasawfa tusaloona
وَإِنَّهُ لَذِكْرٌ لَّكَ وَلِقَوْمِكَ ۖ وَسَوْفَ تُسْأَلُونَ
এ কুরআন তোমার জন্যে এবং তোমার কওমের জন্যে একটি সম্মানের প্রতীক। শীঘ্রি এ (কুরআনের) বিষয়ে তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।
তোমার পূর্বে আমি যে সকল রাসূল প্রেরণ করিয়াছিলাম তাহাদেরকে তুমি জিজ্ঞাসা কর, আমি কি দয়াময় ব্যতীত কোন দেবতা স্থির করিয়াছিলাম যাহার ‘ইবাদত করা যায়?
Waisal man arsalna min qablika min rusulina ajaAAalna min dooni alrrahmani alihatan yuAAbadoona
وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رُّسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِن دُونِ الرَّحْمَٰنِ آلِهَةً يُعْبَدُونَ
তোমার আগে আমরা যেসব রসূল পাঠিয়েছিলাম তাদের জিজ্ঞাসা করো, আমরা কি রহমানের পরিবর্তে অন্য ইলাহদের (দেবতাদের) নির্ধারণ করেছিল, যাদের ইবাদত করা যেতে পারে?
মূসাকে তো আমি আমার নিদর্শনসহ ফির‘আওন ও তাহার পারিষদবর্গের নিকট পাঠাইয়াছিলাম। সে বলিয়াছিল, ‘আমি তো জগতসমূহের প্রতিপালকের প্রেরিত।’
Walaqad arsalna moosa biayatina ila firAAawna wamalaihi faqala innee rasoolu rabbi alAAalameena
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَىٰ بِآيَاتِنَا إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ فَقَالَ إِنِّي رَسُولُ رَبِّ الْعَالَمِينَ
আমরা মূসাকে আমাদের নিদর্শনাবলি নিয়ে পাঠিয়েছিলাম ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে। মূসা তাদের বলেছিল: ‘আমি রাব্বুল আলামিনের রসূল।’
সে উহাদের নিকট আমার নিদর্শনসহ আসিবামাত্র উহারা তাহা লইয়া হাসি - ঠাট্টা করিতে লাগিল।
Falamma jaahum biayatina itha hum minha yadhakoona
فَلَمَّا جَاءَهُم بِآيَاتِنَا إِذَا هُم مِّنْهَا يَضْحَكُونَ
সে যখন তাদের কাছে আমাদের নিদর্শনাবলি নিয়ে উপস্থিত হয়, তখন তারা তাকে নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করতে থাকে।
আমি উহাদেরকে এমন কোন নিদর্শন দেখাই নাই যাহা উহার অনুরূপ নিদর্শন অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ নয়। আমি উহাদেরকে শাস্তি দিলাম যাহাতে উহারা প্রত্যাবর্তন করে।
Wama nureehim min ayatin illa hiya akbaru min okhtiha waakhathnahum bialAAathabi laAAallahum yarjiAAoona
وَمَا نُرِيهِم مِّنْ آيَةٍ إِلَّا هِيَ أَكْبَرُ مِنْ أُخْتِهَا ۖ وَأَخَذْنَاهُم بِالْعَذَابِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
আমরা তাদের যে নিদর্শনই দেখিয়েছি, সেটি ছিলো সেটির বোনের (অনুরূপ নিদর্শনের) চাইতে বড়। আমরা তাদের আযাব দিয়েছিলাম যাতে করে তারা ফিরে আসে।
উহারা বলিয়াছিল, হে জাদুকর! তোমার প্রতিপালকের নিকট তুমি আমাদের জন্য তাহা প্রার্থনা কর যাহা তিনি তোমার সঙ্গে অঙ্গীকার করিয়াছেন, তাহা হইলে আমরা অবশ্যই সৎপথ অবলম্বন করিব।’
Waqaloo ya ayyuha alsahiru odAAu lana rabbaka bima AAahida AAindaka innana lamuhtadoona
وَقَالُوا يَا أَيُّهَ السَّاحِرُ ادْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِندَكَ إِنَّنَا لَمُهْتَدُونَ
তারা (মূসাকে) বলেছিল: ‘হে ম্যাজেসিয়ান! তোমার প্রভুর কাছে তুমি সেই জিনিস প্রার্থনা করো যা তিনি তোমার সাথে অংগীকার করেছেন। তাহলে অবশ্যি আমরা হিদায়াতের পথে চলে আসবো।’
অতঃপর যখন আমি উহাদের হইতে শাস্তি বিদূরিত করিলাম তখনই উহারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করিয়া বসিল।
Falamma kashafna AAanhumu alAAathaba itha hum yankuthoona
فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الْعَذَابَ إِذَا هُمْ يَنكُثُونَ
তারপর যখনই আমরা তাদের থেকে আযাব দূরীভূত করে দিতাম, তখনই তারা তাদের প্রতিশ্রুতি ভংগ করতো।
ফির‘আওন তাহার সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বলিয়া ঘোষণা করিল, হে আমার সম্প্রদায় ! মিসর রাজ্য কি আমার নয়? আর এই নদীগুলি আমার পাদদেশে প্রবাহিত ; তোমরা ইহা দেখ না?
Wanada firAAawnu fee qawmihi qala ya qawmi alaysa lee mulku misra wahathihi alanharu tajree min tahtee afala tubsiroona
وَنَادَىٰ فِرْعَوْنُ فِي قَوْمِهِ قَالَ يَا قَوْمِ أَلَيْسَ لِي مُلْكُ مِصْرَ وَهَٰذِهِ الْأَنْهَارُ تَجْرِي مِن تَحْتِي ۖ أَفَلَا تُبْصِرُونَ
ফেরাউন তার কওমের মধ্যে ঘোষণা করলো: ‘‘হে আমার জাতি! এই মিশর সাম্রাজ্যের মালিক কি আমি নই, এবং আমার পাদদেশ দিয়ে প্রবাহিত এই নদীগুলোর? তোমরা কি দেখতে পাওনা?
‘আমি তো শ্রেষ্ঠ এই ব্যক্তি হইতে, যে হীন এবং স্পষ্ট কথা বলিতেও অক্ষম !
Am ana khayrun min hatha allathee huwa maheenun wala yakadu yubeenu
أَمْ أَنَا خَيْرٌ مِّنْ هَٰذَا الَّذِي هُوَ مَهِينٌ وَلَا يَكَادُ يُبِينُ
আর এই হীন স্পষ্ট কথা বলতে অক্ষম লোকটি থেকে আমিই তো শ্রেষ্ঠ।
‘মূসাকে কেন দেওয়া হইল না স্বর্ণ - বলয় অথবা তাহার সঙ্গে কেন আসিল না ফিরিশ্তাগণ দলবদ্ধভাবে?’
Falawla olqiya AAalayhi aswiratun min thahabin aw jaa maAAahu almalaikatu muqtarineena
فَلَوْلَا أُلْقِيَ عَلَيْهِ أَسْوِرَةٌ مِّن ذَهَبٍ أَوْ جَاءَ مَعَهُ الْمَلَائِكَةُ مُقْتَرِنِينَ
তাকে কেন দেয়া হলো না সোনার কঙ্কন, কিংবা ফেরেশতারা কেন এলো না তার সাথে দলবদ্ধ হয়ে?’’
এইভাবে সে তাহার সম্প্রদায়কে হতবুদ্ধি করিয়া দিল, ফলে উহারা তাহার কথা মানিয়া লইল। উহারা তো ছিল এক সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।
Faistakhaffa qawmahu faataAAoohu innahum kanoo qawman fasiqeena
فَاسْتَخَفَّ قَوْمَهُ فَأَطَاعُوهُ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ
এভাবে সে তার কওমকে হতবুদ্ধি করে দিলো, ফলে তারা তারই আনুগত্য করলো। তারা তো ছিলো এক সীমালংঘনকারী জাতি।
যখন উহারা আমাকে ক্রোধান্নিত করিল আমি উহাদেরকে শাস্তি দিলাম এবং নিমজ্জিত করিলাম উহাদের সকলকে।
Falamma asafoona intaqamna minhum faaghraqnahum ajmaAAeena
فَلَمَّا آسَفُونَا انتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَأَغْرَقْنَاهُمْ أَجْمَعِينَ
তারা যখন আমাদের ক্রোধান্বিত করলো, আমরা তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করলাম এবং ডুবিয়ে মারলাম তাদের সবাইকে।
তৎপর পরবর্তীদের জন্য আমি উহাদেরকে করিয়া রাখিলাম অতীত ইতিহাস ও দৃষ্টান্ত।
FajaAAalnahum salafan wamathalan lilakhireena
فَجَعَلْنَاهُمْ سَلَفًا وَمَثَلًا لِّلْآخِرِينَ
তারপর পরবর্তীদের জন্যে আমরা তাদের করে রাখলাম অতীত (ইতিহাস) আর উদাহরণ।
যখন মারইয়াম - তনয়ের দৃষ্টান্ত উপস্থিত করা হয়, তখন তোমার সম্প্রদায় তাহাতে শোরগোল আরম্ভ করিয়া দেয়,
Walamma duriba ibnu maryama mathalan itha qawmuka minhu yasiddoona
۞ وَلَمَّا ضُرِبَ ابْنُ مَرْيَمَ مَثَلًا إِذَا قَوْمُكَ مِنْهُ يَصِدُّونَ
যখন মরিয়ম পুত্রের দৃষ্টান্ত উপস্থিত করা হয়, তখন তোমার কওম তাতে শোরগোল বাধিয়ে দেয়।
এবং বলে, ‘আমাদের উপাস্যগুলি শ্রেষ্ঠ না ‘ঈসা?’ ইহারা কেবল বাক - বিতণ্ডার উদ্দেশ্যেই তোমাকে এই কথা বলে। বস্তুত ইহারা তো এক বিতণ্ডাকারী সম্প্রদায়।
Waqaloo aalihatuna khayrun am huwa ma daraboohu laka illa jadalan bal hum qawmun khasimoona
وَقَالُوا أَآلِهَتُنَا خَيْرٌ أَمْ هُوَ ۚ مَا ضَرَبُوهُ لَكَ إِلَّا جَدَلًا ۚ بَلْ هُمْ قَوْمٌ خَصِمُونَ
তারা বলে: ‘আমাদের ইলাহ্রা (দেবতারা) শ্রেষ্ঠ নাকি সে (ঈসা)?’ তারা তো কেবল ঝগড়া বাধানোর উদ্দেশ্যেই তোমাকে এসব বলে। আসলেই তারা একটি ঝগড়াটে কওম (জাতি)।
সে তো ছিল আমারই এক বান্দা, যাহাকে আমি অনুগ্রহ করিয়াছিলাম এবং করিয়াছিলাম বনী ইসরাঈলের জন্য দৃষ্টান্ত।
In huwa illa AAabdun anAAamna AAalayhi wajaAAalnahu mathalan libanee israeela
إِنْ هُوَ إِلَّا عَبْدٌ أَنْعَمْنَا عَلَيْهِ وَجَعَلْنَاهُ مَثَلًا لِّبَنِي إِسْرَائِيلَ
সে তো আমার এক দাস ছাড়া আর কিছু নয়। তার প্রতি আমরা অনুগ্রহ করেছি। আর তাকে বানিয়েছি বনি ইসরাঈলের জন্যে দৃষ্টান্ত।
আমি ইচ্ছা করিলে তোমাদের মধ্য হইতে ফিরিশ্তা সৃষ্টি করিতে পারিতাম, যাহারা পৃথিবীতে উত্তরাধিকারী হইত।
Walaw nashao lajaAAalna minkum malaikatan fee alardi yakhlufoona
وَلَوْ نَشَاءُ لَجَعَلْنَا مِنكُم مَّلَائِكَةً فِي الْأَرْضِ يَخْلُفُونَ
আমরা চাইলে তোমাদের পরিবর্তে (এখানে) ফেরেশতা সৃষ্টি করতে পারতাম, তখন তারা পৃথিবীতে তোমাদের খলিফা (উত্তরাধিকারী) হতো।
‘ঈসা তো কিয়ামতের নিশ্চিত নিদর্শন; সুতরাং তোমরা কিয়ামতে সন্দেহ করিও না এবং আমাকে অনুসরণ কর। ইহাই সরল পথ।
Wainnahu laAAilmun lilssaAAati fala tamtarunna biha waittabiAAooni hatha siratun mustaqeemun
وَإِنَّهُ لَعِلْمٌ لِّلسَّاعَةِ فَلَا تَمْتَرُنَّ بِهَا وَاتَّبِعُونِ ۚ هَٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِيمٌ
ঈসা তো কিয়ামতের জ্ঞানের একটি নিশ্চিত নিদর্শন। সুতরাং তোমরা কিয়ামতের প্রতি সন্দেহ করোনা, আমাকে অনুসরণ করো। এটাই সিরাতুল মুসতাকিম (সরল সঠিক পথ)।
শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই নিবৃত্ত না করে, সে তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
Wala yasuddannakumu alshshaytanu innahu lakum AAaduwwun mubeenun
وَلَا يَصُدَّنَّكُمُ الشَّيْطَانُ ۖ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
শয়তান যেনো তোমাদের কিছুতেই সঠিক পথ থেকে বাধা দিতে না পারে। জেনে রাখো, সে তোমাদের সুস্পষ্ট দুশমন।
‘ঈসা যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ আসিল তখন সে বলিয়াছিল, আমি তো তোমাদের নিকট আসিয়াছি প্রজ্ঞাসহ এবং তোমরা যে কতক বিষয়ে মতভেদ করিতেছ, তাহা স্প্ষ্ট করিয়া দিবার জন্য সুতরাং তোমরা কে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর।
Walamma jaa AAeesa bialbayyinati qala qad jitukum bialhikmati waliobayyina lakum baAAda allathee takhtalifoona feehi faittaqoo Allaha waateeAAooni
وَلَمَّا جَاءَ عِيسَىٰ بِالْبَيِّنَاتِ قَالَ قَدْ جِئْتُكُم بِالْحِكْمَةِ وَلِأُبَيِّنَ لَكُم بَعْضَ الَّذِي تَخْتَلِفُونَ فِيهِ ۖ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ
ঈসা যখন সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে এসেছিল, সে বলেছিল: ‘‘আমি তোমাদের কাছে এসেছি হিকমা (প্রজ্ঞা) সহ এবং তোমরা যে ক’টি বিষয় নিয়ে ইখতেলাফ (মতভেদ) করছো তা স্পষ্ট করে দেয়ার জন্যে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘ই তো আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক, অতএব তোমরা তাঁহার ‘ইবাদত কর ; ইহাই সরল পথ।’
Inna Allaha huwa rabbee warabbukum faoAAbudoohu hatha siratun mustaqeemun
إِنَّ اللَّهَ هُوَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ ۚ هَٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِيمٌ
আল্লাহ্ই আমার রব (প্রভু) এবং তোমাদেরও রব, সুতরাং তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো, এটাই সিরাতুল মুসতাকিম।’’
অতঃপর উহাদের বিভিন্ন দল মতানৈক্য সৃষ্টি করিল, সুতরাং জালিমদের জন্য দুর্ভোগ মর্মন্তুদ দিবসের শাস্তির।
Faikhtalafa alahzabu min baynihim fawaylun lillatheena thalamoo min AAathabi yawmin aleemin
فَاخْتَلَفَ الْأَحْزَابُ مِن بَيْنِهِمْ ۖ فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْ عَذَابِ يَوْمٍ أَلِيمٍ
কিন্তু তাদের বিভিন্ন দল মতানৈক্য সৃষ্টি করলো। সুতরাং যালিমদের জন্যে রয়েছে দুর্দশা এক বেদনাদায়ক দিনের আযাবের।
উহারা তো উহাদের অজ্ঞাতসারে আকস্মিকভাবে কিয়ামত আসিবারই অপেক্ষা করিতেছে।
Hal yanthuroona illa alssaAAata an tatiyahum baghtatan wahum la yashAAuroona
هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا السَّاعَةَ أَن تَأْتِيَهُم بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ
তারা কি অপেক্ষা করছে তাদের অজ্ঞাতে আকস্মিক কিয়ামত এসে পড়ার জন্যে?
বন্ধুরা সেই দিন হইয়া পড়িবে একে অপরের শত্রু, মুত্তাকীরা ব্যতীত।
Alakhillao yawmaithin baAAduhum libaAAdin AAaduwwun illa almuttaqeena
الْأَخِلَّاءُ يَوْمَئِذٍ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ إِلَّا الْمُتَّقِينَ
সেদিন বন্ধুরা পরস্পরের শত্রু হয়ে যাবে, মুত্তাকিরা ছাড়া।
হে আমার বান্দাগণ! আজ তোমাদের কোন ভয় নাই এবং তোমরা দুঃখিতও হইবে না।
Ya AAibadi la khawfun AAalaykumu alyawma wala antum tahzanoona
يَا عِبَادِ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ وَلَا أَنتُمْ تَحْزَنُونَ
হে আমার দাসেরা! আজ তোমাদের কোনো ভয় নেই, দুশ্চিন্তাও নেই,
যাহারা আমার আয়াতে বিশ্বাস করিয়াছিল এবং আত্মসর্মপণ করিয়াছিল -
Allatheena amanoo biayatina wakanoo muslimeena
الَّذِينَ آمَنُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا مُسْلِمِينَ
তোমরা যারা ঈমান এনেছো আমাদের আয়াতের প্রতি এবং মুসলিম হয়েছিলে,
তোমরা এবং তোমাদের সহধর্মিণীগণ সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর।
Odkhuloo aljannata antum waazwajukum tuhbaroona
ادْخُلُوا الْجَنَّةَ أَنتُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُونَ
তোমরা দাখিল হও জান্নাতে তোমাদের স্ত্রী/স্বামীকে নিয়ে আনন্দচিত্তে।
স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র লইয়া তাহাদেরকে প্রদক্ষিণ করা হইবে; সেখানে রহিয়াছে সমস্ত কিছু, যাহা অন্তর চাহে এবং যাহাতে নয়ন তৃপ্ত হয়। সেখানে তোমরা স্থায়ী হইবে।
Yutafu AAalayhim bisihafin min thahabin waakwabin wafeeha ma tashtaheehi alanfusu watalaththu alaAAyunu waantum feeha khalidoona
يُطَافُ عَلَيْهِم بِصِحَافٍ مِّن ذَهَبٍ وَأَكْوَابٍ ۖ وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيهِ الْأَنفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ ۖ وَأَنتُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
সোনার থালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদের তাওয়াফ করা হবে। সেখানে থাকবে সেসবই, যা মন চাইবে এবং যাতে চোখ জুড়াবে। সেখানে চিরস্থায়ী হবে তোমরা।
ইহাই জান্নাত, তোমাদেরকে যাহার অধিকারী করা হইয়াছে, তোমাদের কর্মের ফলস্বরূপ।
Watilka aljannatu allatee oorithtumooha bima kuntum taAAmaloona
وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
এই সেই জান্নাত, যার ওয়ারিশ তোমাদের বানানো হয়েছে তোমাদের কর্মফল হিসেবে।
সেখানে তোমাদের জন্য রহিয়াছে প্রচুর ফলমূল, তাহা হইতে তোমরা আহার করিবে।
Lakum feeha fakihatun katheeratun minha takuloona
لَكُمْ فِيهَا فَاكِهَةٌ كَثِيرَةٌ مِّنْهَا تَأْكُلُونَ
তোমাদের জন্যে তাতে রয়েছে প্রচুর ফলফলারি, তা থেকে তোমরা আহার করবে।
নিশ্চয়ই অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকিবে স্থায়িভাবে ;
Inna almujrimeena fee AAathabi jahannama khalidoona
إِنَّ الْمُجْرِمِينَ فِي عَذَابِ جَهَنَّمَ خَالِدُونَ
অপরাধীরা থাকবে জাহান্নামের আযাবে চিরকাল।
উহাদের শাস্তি লাঘব করা হইবে না এবং উহারা উহাতে হতাশ হইয়া পড়িবে।
La yufattaru AAanhum wahum feehi mublisoona
لَا يُفَتَّرُ عَنْهُمْ وَهُمْ فِيهِ مُبْلِسُونَ
তাদের আযাব লাঘব করা হবেনা, সেখানে তারা থাকবে হতাশা নিরাশায় নিমজ্জিত।
আমি উহাদের প্রতি জুলুম করি নাই, বরং উহারা নিজেরাই ছিল ।
Wama thalamnahum walakin kanoo humu alththalimeena
وَمَا ظَلَمْنَاهُمْ وَلَٰكِن كَانُوا هُمُ الظَّالِمِينَ
আমরা তাদের প্রতি যুলুম করিনি, বরং তারাই যুলুম করেছে নিজেদের প্রতি।
উহারা চিৎকার করিয়া বলিবে, ‘হে মালিক, তোমার প্রতিপালক যেন আমাদেরকে নিঃশেষ করিয়া দেন।’ সে বলিবে, ‘তোমরা তো এইভাবেই থাকিবে।’
Wanadaw ya maliku liyaqdi AAalayna rabbuka qala innakum makithoona
وَنَادَوْا يَا مَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ ۖ قَالَ إِنَّكُم مَّاكِثُونَ
তারা চীৎকারে করে বলবে: ‘হে মালিক ((জাহান্নামের কর্তা)! তোমার প্রভু যেনো আমাদের মরণ ঘটিয়ে দেয়।’ সে বলবে: ‘এভাবেই তোমাদের থাকতে হবে।’
বলিবেন, ‘আমি তো তোমাদের নিকট সত্য পৌঁছাইয়াছিলাম, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিল সত্যবিমুখ।’
Laqad jinakum bialhaqqi walakinna aktharakum lilhaqqi karihoona
لَقَدْ جِئْنَاكُم بِالْحَقِّ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَكُمْ لِلْحَقِّ كَارِهُونَ
( বলবেন:) ‘আমরা তোমাদের কাছে সত্য পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলো সত্য অপছন্দকারী।’
উহারা কি কোন ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে? বরং আমিই তো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকারী।
Am abramoo amran fainna mubrimoona
أَمْ أَبْرَمُوا أَمْرًا فَإِنَّا مُبْرِمُونَ
তারা কি কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে? কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী তো আমরা।
উহারা কি মনে করে যে, আমি উহাদের গোপন বিষয় ও মন্ত্রণার খবর রাখি না? অবশ্যই রাখি। আমার ফিরিশ্তাগণ তো উহাদের নিকট থাকিয়া সবকিছু লিপিবদ্ধ করে।
Am yahsaboona anna la nasmaAAu sirrahum wanajwahum bala warusuluna ladayhim yaktuboona
أَمْ يَحْسَبُونَ أَنَّا لَا نَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُم ۚ بَلَىٰ وَرُسُلُنَا لَدَيْهِمْ يَكْتُبُونَ
নাকি তারা ধারণা করছে, আমরা তাদের গোপন বিষয় আর কানাঘুষার খবর রাখি না? হাঁ, আমাদের রসূলরা (দূতরা) তাদের সাথেই রয়েছে এবং রেকর্ড করছে।
বল, ‘দয়ময় র কোন সন্তান থাকিলে আমি হইতাম তাহার উপাসকগনের অগ্রণী ;
Qul in kana lilrrahmani waladun faana awwalu alAAabideena
قُلْ إِن كَانَ لِلرَّحْمَٰنِ وَلَدٌ فَأَنَا أَوَّلُ الْعَابِدِينَ
তুমি বলো: ‘রহমানের যদি কোনো সন্তান থাকতোই, তবে আমি হতাম তার প্রথম ইবাদতকারী।’
‘উহারা যাহা আরোপ করে তাহা হইতে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অধিপতি এবং আরশের অধিকারী পবিত্র মহান।’
Subhana rabbi alssamawati waalardi rabbi alAAarshi AAamma yasifoona
سُبْحَانَ رَبِّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ
মহাবিশ্ব ও পৃথিবীর প্রভু আরশের অধিপতির প্রতি তারা যা আরোপ করছে, তা থেকে তিনি পবিত্র, মহান।
অতএব উহাদেরকে যে দিবসের কথা বলা হইয়াছে তাহার সম্মুখীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তুমি উহাদেরকে বাক - বিতণ্ডা ও ক্রীড়া - কৌতুক করিতে দাও।
Fatharhum yakhoodoo wayalAAaboo hatta yulaqoo yawmahumu allathee yooAAadoona
فَذَرْهُمْ يَخُوضُوا وَيَلْعَبُوا حَتَّىٰ يُلَاقُوا يَوْمَهُمُ الَّذِي يُوعَدُونَ
সুতরাং যে দিনটির ওয়াদা তাদের দেয়া হয়েছে, তার সম্মুখীন হবার আগ পর্যন্ত তাদের বাকবিতর্ক এবং খেলতামাশা করার অবকাশ দাও।
তিনিই ইলাহ্ নভোমণ্ডলে, তিনিই ইলাহ্ ভূতলে এবং তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।
Wahuwa allathee fee alssamai ilahun wafee alardi ilahun wahuwa alhakeemu alAAaleemu
وَهُوَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ إِلَٰهٌ وَفِي الْأَرْضِ إِلَٰهٌ ۚ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْعَلِيمُ
আসমানেও তিনি ইলাহ্, পৃথিবীতেও তিনিই ইলাহ্, তিনি মহাপ্রজ্ঞাবান, মহাজ্ঞানী।
কত মহান তিনি, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং উহাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর সার্বভৌম অধিপতি ! কিয়ামতের জ্ঞান কেবল তাঁহারই আছে এবং তাঁহারই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে।
Watabaraka allathee lahu mulku alssamawati waalardi wama baynahuma waAAindahu AAilmu alssaAAati wailayhi turjaAAoona
وَتَبَارَكَ الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَعِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
কতো যে বরকতওয়ালা মহান তিনি, মহাকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর কর্তৃত্ব যার। কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে কেবল তাঁরই কাছে, আর সবাইকে ফেরত নেয়া হবে কেবল তাঁরই দিকে।
র পরিবর্তে উহারা যাহাদেরকে ডাকে, সুপারিশের ক্ষমতা তাহাদের নাই, তবে যাহারা সত্য উপলব্ধি করিয়া উহার সাক্ষ্য দেয়, তাহারা ব্যতীত।
Wala yamliku allatheena yadAAoona min doonihi alshshafaAAata illa man shahida bialhaqqi wahum yaAAlamoona
وَلَا يَمْلِكُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِهِ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَن شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ
তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকে, তারা শাফায়াতের মালিক নয়। তবে যারা সত্যের সাক্ষ্য দেয় এবং জানে তারা ছাড়া।
যদি তুমি উহাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, কে উহাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছে, উহারা অবশ্যই বলিবে, ‘’। তবুও উহারা কোথায় ফিরিয়া যাইতেছে ?
Walain saaltahum man khalaqahum layaqoolunna Allahu faanna yufakoona
وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَهُمْ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ ۖ فَأَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ
তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস করো: কে সৃষ্টি করেছে তাদের? তারা অবশ্যি বলবে: ‘’, তবু কোথায় ফিরে যাচ্ছে তারা?
আমি অবগত আছি রাসূলের এই উক্তি: ‘হে আমার প্রতিপালক! এই সম্প্রদায় তো ঈমান আনিবে না।’
Waqeelihi yarabbi inna haolai qawmun la yuminoona
وَقِيلِهِ يَا رَبِّ إِنَّ هَٰؤُلَاءِ قَوْمٌ لَّا يُؤْمِنُونَ
তার (রসূলের) একথা আমার আছে: ‘হে প্রভু! নিশ্চয়ই এরা এমন একটি মানব দল যারা ঈমান আনবেনা।’
সুতরাং তুমি উহাদেরকে উপেক্ষা কর এবং বল, ‘সালাম’; উহারা শীঘ্রই জানিতে পারিবে।
Faisfah AAanhum waqul salamun fasawfa yaAAlamoona
فَاصْفَحْ عَنْهُمْ وَقُلْ سَلَامٌ ۚ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ
(ঠিক আছে,) তুমি তাদের উপেক্ষা করো এবং বলো: ‘সালাম’। অচিরেই তারা জানতে পারবে।