তা - সীন - মীম;
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ত্বোয়া-সী য় ম্ মী-ম্ ।
ত্ব-সীন-মীম।
Chapter 28, 88 verses
তা - সীন - মীম;
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ত্বোয়া-সী য় ম্ মী-ম্ ।
ত্ব-সীন-মীম।
এই আয়াতগুলি সুস্পষ্ট কিতাবের।
তিল্কা আ-ইয়া-তুল্ কিতা-বিল্ মুবীন্।
এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
আমি তোমার নিকট মূসা ও ফির‘আওনের কিছু বৃত্তান্ত যথাযথভাবে বিবৃত করিতেছি, সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে।
নাত্লু 'আলাইকা মিন্ নাবা-য়ি মূসা-অ র্ফি'আউনা বিল্হাক ক্বি লিক্বওমিঁ ইয়ুমিনূন্।
আমি তোমার কাছে পাঠ করছি মূসা ও ফির‘আউনের কিছু বৃত্তান্ত যথাযথভাবে, এমন লোকদের জন্য যারা ঈমান আনে।
ফির‘আওন দেশে পরাক্রমশালী হইয়াছিল এবং সেখানকার অধিবাসীবৃন্দকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করিয়া উহাদের একটি শ্রেণীকে সে হীনবল করিয়াছিল; উহাদের পুত্রগণকে সে হত্যা করিত এবং নারীগণকে জীবিত থাকিতে দিত। সে তো ছিল বিপর্যয় সৃষ্টিকারী।
ইন্না র্ফি'আউনা 'আলা-ফিল্ র্আদ্বি অজ্বা'আলা আহ্লাহা-শিয়া'আইঁ ইয়াস্ তাদ্ব্'ঈফু ত্বোয়া-য়িফাতাম্ মিন্হুম্ ইয়ুযাব্বিহু আব্না-য়া হুম্ অ ইয়াস্তাহ্য়ী নিসা-য়া হুম্ ইন্নাহূ কা-না মিনাল্ মুফ্সিদীন্।
নিশ্চয় ফির‘আউন (মিশর) দেশে উদ্ধত হয়েছিল এবং তার অধিবাসীকে নানা দলে বিভক্ত করেছিল। তাদের একদলকে সে দুর্বল করে রেখেছিল, যাদের পুত্রদেরকে সে হত্যা করত আর কন্যাদেরকে বাঁচিয়ে রাখত। নিশ্চয় সে ছিল বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের অন্যতম।
আমি ইচ্ছা করিলাম, সে দেশে যাহাদেরকে হীনবল করা হইয়াছিল, তাহাদের প্রতি অনুগ্রহ করিতে, তাহাদেরকে নেতৃত্ব দান করিতে ও উত্তরাধিকারী করিতে;
অ নুরীদু আন্ নামুন্না 'আলাল্লাযীনাস্ তুদ্ব্'ইফূ ফিল্ র্আদ্বি অনাজ'আলাহুম্ আয়িম্মাতাঁও অনাজ্ব্'আলা-হুমুল্ ওয়া-রিছীন্।
আর আমি চাইলাম সেই দেশে যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে এবং তাদেরকে নেতা বানাতে, আর তাদেরকে উত্তরাধিকারী বানাতে।
এবং তাহাদেরকে দেশে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করিতে, আর ফির‘আওন, হামান ও তাহাদের বাহিনীকে তাহা দেখাইয়া দিতে, যাহা উহাদের নিকট তাহারা আশংকা করিত।
অ নুমাক্কিনা লাহুম্ ফিল্ র্আদ্বি অ নুরিয়া র্ফি'আউনা অহা-মা-না অজুনূদাহুমা- মিন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়াহ্যারূন্।
আর যমীনে তাদেরকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে এবং ফির‘আউন, হামান ও তাদের সৈন্যদেরকে দেখিয়ে দিতে, যা তারা তাদের কাছ থেকে আশঙ্কা করছিল।
মূসা - জননীর অন্তরে আমি ইঙ্গিতে নির্দেশ করিলাম, ‘শিশুটিকে স্তন্য দান করিতে থাক। যখন তুমি তাহার সম্পর্কে কোন আশংকা করিবে তখন ইহাকে দরিয়ায় নিক্ষেপ করিও এবং ভয় করিও না, দুঃখও করিও না। আমি অবশ্যই ইহাকে তোমার নিকট ফিরাইয়া দিব এবং ইহাকে রাসূলদের একজন করিব।’
অআওহাইনা য় ইলা য় উম্মি মূসা য় আন্ র্আদ্বি'ঈহি ফাইযা-খিফ্তি 'আলাইহি ফাআল্ক্বীহি ফিল্ ইয়াম্মি অলা-তাখ-ফী অলা তাহ্যানী ইন্না রা-দুহু ইলাইকি অজ্বা-'ইলূহু মিনাল্ মুরসালীন্।
আর আমি মূসার মায়ের প্রতি নির্দেশ পাঠালাম, ‘তুমি তাকে দুধ পান করাও। অতঃপর যখন তুমি তার ব্যাপারে আশঙ্কা করবে, তখন তাকে দরিয়ায় নিক্ষেপ করবে। আর তুমি ভয় করবে না এবং চিন্তা করবে না। নিশ্চয় আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করব’।
অতঃপর ফির‘আওনের লোকজন তাহাকে উঠাইয়া লইল। ইহার পরিণাম তো এই ছিল যে, সে উহাদের শত্রু ও দুঃখের কারণ হইবে। অবশ্যই ফির‘আওন, হামান ও উহাদের বাহিনী ছিল অপরাধী।
ফাল্তাক্বত্বোয়াহূ য় আ-লু র্ফি'আউনা লিইয়াকূনা লাহুম্ 'আদুঅও অ হাযানা- ইন্না র্ফি'আউনা অহা-মা-না অ জুনূদাহুমা- কা-নূ খত্বিয়ীন্।
অতঃপর ফির‘আউন পরিবার তাকে উঠিয়ে নিল, পরিণামে সে তাদের শত্রু ও দুঃশ্চিন্তার কারণ হবে। নিশ্চয় ফির‘আউন, হামান ও তাদের সৈন্যরা ছিল অপরাধী।
ফির‘আওনের স্ত্রী বলিল, ‘এই শিশু আমার ও তোমার নয়ন - প্রীতিকর। ইহাকে হত্যা করিও না, সে আমাদের উপকারে আসিতে পারে, আমরা তাহাকে সন্তান হিসাবেও গ্রহণ করিতে পারি।’ প্রকৃতপক্ষে উহারা ইহার পরিণাম বুঝিতে পারে নাই।
অক্ব-লাতিম্ রয়াতু র্ফি'আউনা ক্বর্ রতু 'আইনিল্লী অলাকা লা-তাকতুলূহু 'আসা য় আঁই ইয়্যান্ফাআ'না য় আও নাত্তাখিযাহূ অলাদাঁও অহুম্ লা-ইয়াশ'উরূন্।
আর ফির‘আউনের স্ত্রী বলল, ‘এ শিশুটি আমার ও তোমার চক্ষু শীতলকারী, তাকে হত্যা করো না। আশা করা যায়, সে আমাদের কোন উপকারে আসবে। অথবা আমরা তাকে সন্তান হিসেবে গ্রহণ করতে পারি’। অথচ তারা উপলব্ধি করতে পারেনি।
মূসা - জননীর হৃদয় অস্থির হইয়া পড়িয়াছিল। যাহাতে সে আস্থাশীল হয় তজ্জন্য আমি তাহার হৃদয়কে দৃঢ় করিয়া না দিলে সে তাহার পরিচয় তো প্রকাশ করিয়াই দিত।
অআছ্বাহা-ফুয়া- দু উম্মি মূসা-ফা-রিগ- ইন্ কা-দাত্ লাতুব্দী বিহী লাওলা য় র্আরবাত্ব ্না- 'আলা-ক্বল্বিহা-লিতাকূনা মিনাল্ মুমিনীন্।
আর মূসার মায়ের অন্তর বিচলিত হয়ে উঠেছিল। সে তো তার পরিচয় প্রকাশ করেই দিত, যদি আমি তার অন্তরকে দৃঢ় করে না দিতাম, যাতে সে আস্থাশীলদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
সে মূসার ভগ্নিকে বলিল, ‘ইহার পিছনে পিছনে যাও।’ সে উহাদের অজ্ঞাতসারে দূর হইতে তাহাকে দেখিতেছিল।
অক্ব-লাত্ লিউখ্তিহী কুছ্ছীহি ফাবাছোয়ারত বিহী 'আন্ জুনুবিঁও অহুম্ লা-ইয়াশ্'উরূন্।
আর সে মূসার বোনকে বলল, ‘এর পিছনে পিছনে যাও’। সে দূর থেকে তাকে দেখছিল, কিন্তু তারা টের পায়নি।
পূর্ব হইতেই আমি ধাত্রী - স্তন্যপানে তাহাকে বিরত রাখিয়াছিলাম। মূসার ভগ্নি বলিল, ‘তোমাদেরকে কি আমি এমন এক পরিবারের সন্ধান দিব যাহারা তোমাদের হইয়া ইহাকে লালন - পালন করিবে এবং ইহার মঙ্গলকামী হইবে?’
অ র্হারম্না- 'আলাইহিল্ মার-দ্বি'আ মিন্ ক্বব্লু ফাক্ব-লাত্ হাল্ আদুল্লুকুম্ 'আলা য় আহ্লি বাইতিঁ ইয়াক্ফুলূনাহূ লাকুম্ অহুম্ লাহূ না-ছিহূন্।
আর আমি তার জন্য পূর্ব থেকেই ধাত্রী (স্তন্য পান) নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলাম। তারপর মূসার বোন এসে বলল, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি পরিবারের সন্ধান দেব, যারা এ শিশুটিকে তোমাদের পক্ষে লালন পালন করবে এবং তারা তার শুভাকাঙ্ক্ষী হবে’।
অতঃপর আমি তাহাকে ফিরাইয়া দিলাম তাহার জননীর নিকট যাহাতে তাহার চক্ষু জুড়ায়, সে দুঃখ না করে এবং বুঝিতে পারে যে, র প্রতিশ্রুতি সত্য; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই ইহা জানে না।
ফারদাদ্না-হু ইলা য় উম্মিহী কাই তার্ক্বর 'আইনুহা-'অলা-তাহ্যানা অলিতা'লামা আন্না অদাল্লা-হি হাক্ব্ কুঁও অলা-কিন্না আক্ছারহুম্ লা-ইয়া'লামূন্ ।
অতঃপর আমি তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চোখ জুড়ায় এবং সে যেন কোন দুশ্চিন্তা না করে। আর সে যেন জানতে পারে যে, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।
যখন মূসা পূর্ণ যৌবনে উপনীত ও পরিণত বয়স্ক হইল তখন আমি তাহাকে হিক্মত ও জ্ঞান দান করিলাম; এইভাবে আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কার প্রদান করিয়া থাকি।
অ লাম্মা-বালাগ আশুদ্দাহূ অস্তাওয়া য় আ-তাইনা-হু হুক্মাঁও অ'ইল্মা- অকাযা-লিকা নাজ¦্যিল্ মুহ্সিনীন্।
আর মূসা যখন যৌবনে পদার্পণ করল এবং পরিণত বয়স্ক হলো, তখন আমি তাকে বিচারবুদ্ধি ও জ্ঞান দান করলাম। আর এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।
সে নগরীতে প্রবেশ করিল, যখন ইহার অধিবাসীরা ছিল অসতর্ক। সেখানে সে দুইটি লোককে সংঘর্ষে লিপ্ত দেখিল, একজন তাহার নিজ দলের এবং অপর জন তাহার শত্রুদলের। মূসার দলের লোকটি উহার শত্রুর বিরুদ্ধে তাহার সাহায্য প্রার্থনা করিল, তখন মূসা উহাকে ঘুষি মারিল; এইভাবে সে তাহাকে হত্যা করিয়া বসিল। মূসা বলিল, ‘ইহা শয়তানের কাণ্ড। সে তো প্রকাশ্য শত্রু ও বিভ্রান্তকারী।’
অ দাখালাল্ মাদীনাতা 'আলা-হীনি গাফ্লাতিম্ মিন্ আহ্লিহা- ফাওয়াজ্বাদা ফীহা-রজুলাইনি ইয়াকতাতিলা-নি হাযা-মিন্ শী'আতিহী অ হাযা-মিন্ 'আদুওয়্যিহী ফাস্তাগা-ছাহুল্ লাযী মিন্ শী 'আতিহী 'আলাল্লাযী মিন্ 'আদুওয়িহী ফা অকাযাহূ মূসা-ফাক্বদ্বোয়া 'আলাইহি ক্ব-লা হাযা-মিন্ 'আমালিশ্ শাইত্বোয়ান্' ইন্নাহূ 'আদুওয়্যুম্ মুদ্বিল্লুম্ মুবীন্।
আর সে শহরে প্রবেশ করল, যখন তার অধিবাসীরা ছিল অসতর্ক। তখন সেখানে সে দু’জন লোককে সংঘর্ষে লিপ্ত অবস্থায় পেল। একজন তার নিজের দলের এবং অপরজন তার শত্রুদলের। তখন তার নিজের দলের লোকটি তার শত্রুদলের লোকটির বিরুদ্ধে তার কাছে সাহায্য চাইল। অতঃপর মূসা তাকে ঘুষি মারল
সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি তো আমার নিজের প্রতি জুলুম করিয়াছি; সুতরাং আমাকে ক্ষমা কর।’ অতঃপর তিনি তাহাকে ক্ষমা করিলেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
ক্ব-লা রব্বি ইন্নী জোয়ালাম্তু নাফ্সী ফার্গ্ফিলী ফাগফার লাহ্ইন্নাহূ হুওয়াল্ গফূর্রু রহীম্।
সে বলল, ‘হে আমার রব, নিশ্চয় আমি আমার নফসের প্রতি যুলম করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন’। অতঃপর তিনি তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
সে আরও বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি যেহেতু আমার প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছ, আমি কখনও অপরাধীদের সাহায্যকারী হইব না।’
ক্ব-লা রব্বি বিমা য় আন্'আম্তা 'আলাইয়্যা ফালান্ আকূনা জোয়াহীরল্ লিল্মুজ্বরিমীন্।
মূসা বলল, ‘হে আমার রব, আপনি যেহেতু আমার প্রতি নিআমত দান করেন, তাই আমি কখনো আর অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না।
অতঃপর ভীত সতর্ক অবস্থায় সেই নগরীতে তাহার প্রভাত হইল। হঠাৎ সে শুনিতে পাইল পূর্বদিন যে ব্যক্তি তাহার সাহায্য চাহিয়াছিল, সে তাহার সাহায্যের জন্য চিৎকার করিতেছে। মূসা তাহাকে বলিল, ‘তুমি তো স্পষ্টই একজন বিভ্রান্ত ব্যক্তি।’
ফায়াছ্বাহা ফিল্ মাদীনাতি খ-য়িফাইঁ ইয়াতারকক্ববু ফাইযাল্লাযিস্ তান্ছোয়ারহূ বিল্আম্সি ইয়াস্তাছ্রিখুহ্ ক্ব-লা লাহূ মূসা য় ইন্নাকা লাগাওয়িয়্যুম্ মুবীন্।
অতঃপর ভীত প্রতীক্ষারত অবস্থায় সেই শহরে তার সকাল হল। হঠাৎ সে শুনতে পেল, যে লোকটি গতকাল তার কাছে সাহায্য চেয়েছিল, সে আবার সাহায্যের জন্য চিৎকার করছে। মূসা তাকে বলল, ‘নিশ্চয় তুমি তো একজন স্পষ্ট বিভ্রান্ত ব্যক্তি’।
অতঃপর মূসা যখন উভয়ের শত্রুকে ধরিতে উদ্যত হইল, তখন সে ব্যক্তি বলিয়া উঠিল, ‘হে মূসা! গতকাল তুমি যেমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করিয়াছ, সেভাবে আমাকেও কি হত্যা করিতে চাহিতেছ? তুমি তো পৃথিবীতে স্বেচ্ছাচারী হইতে চাহিতেছ, শান্তি স্থাপনকারী হইতে চাও না।’
ফালাম্মা য় আন আর-দা আঁই ইয়াব্ত্বিশা বিল্লাযী হুয়া'আদুওয়্যুল্ লাহুমা-ক্ব-লা ইয়া- মূসা য় আতুরীদু আন্ তাকতুলানী কামা-ক্বতাল্তা নাফ্সাম্ বিল্আম্সি ইন্ তুরীদু ইল্লা য় আন্ তাকূনা জ্বাব্বা-রন্ ফিল্ র্আদ্বি অমা-তুরীদু আন্ তাকূনা মিনাল্ মুছ্লিহীন্।
অতঃপর মূসা যখন উভয়েরই শত্রুকে ধরতে চাইল, তখন লোকটি বলে উঠল, ‘হে মূসা, তুমি কি আমাকেও হত্যা করতে চাও? যেমন গতকাল একটি লোককে তুমি হত্যা করেছ? তুমি তো যমীনে কেবল স্বৈরাচারী হতে চাচ্ছ। আর তুমি তো সংশোধনকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে চাচ্ছ না’।
নগরীর দূর প্রান্ত হইতে এক ব্যক্তি ছুটিয়া আসিল ও বলিল, ‘হে মূসা! পারিষদবর্গ তোমাকে হত্যা করিবার পরামর্শ করিতেছে। সুতরাং তুমি বাহিরে চলিয়া যাও, আমি তো তোমার মঙ্গলকামী।’
অজ্বা-য়া রাজুলুম্ মিন্ আকছোয়াল্ মাদীনাতি ইয়াস্ 'আ- ক্ব-লা ইয়া-মূসা য় ইন্নাল্ মালায়া ইয়াতামিরূনা বিকা লিইয়াকতুলূকা ফাখ্রুজ ইন্নী লাকা মিনান্ না-ছিহীন্।
আর শহরের দূরপ্রান্ত থেকে একজন লোক ছুটে আসল। সে বলল, ‘হে মূসা, নিশ্চয় পারিষদবর্গ তোমাকে হত্যার পরামর্শ করছে, তাই তুমি বেরিয়ে যাও, নিশ্চয় আমি তোমার জন্য কল্যাণকামীদের একজন’।
ভীত সতর্ক অবস্থায় সে সেখান হইতে বাহির হইয়া পড়িল এবং বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি সম্প্রদায় হইতে আমাকে রক্ষা কর।’
ফাখরজ্বা মিন্হা-খ-য়িফাইঁ ইয়াতারক্ক্ববু ক্ব-লা রব্বি নাজজ্বিনী মিনাল্ ক্বওমিজ্ জোয়া-লিমীন্।
তখন সে ভীত প্রতীক্ষারত অবস্থায় শহর থেকে বেরিয়ে পড়ল। বলল, ‘হে আমার রব, আপনি যালিম কওম থেকে আমাকে রক্ষা করুন’।
যখন মূসা মাদইয়ান অভিমুখে যাত্রা করিল তখন বলিল, ‘আশা করি আমার প্রতিপালক আমাকে সরল পথ প্রদর্শন করিবেন।’
অলাম্মা-তাওয়াজ্জহা -তিল্ক্ব-য়া মাদ্ইয়ানা ক্ব-লা 'আসা রাব্বী য় আইঁ ইয়াহ্দিয়ানী সাওয়া-য়াস্ সাবীল্।
আর যখন মূসা মাদইয়ান অভিমুখে রওয়ানা করল, তখন বলল, ‘আশা করি আমার রব আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন’।
যখন সে মাদইয়ানের কূপের নিকট পৌঁছিল, দেখিল, একদল লোক তাহাদের জানোয়ারগুলিকে পানি পান করাইতেছে এবং উহাদের পশ্চাতে দুইজন নারী তাহাদের পশুগুলিকে আগলাইতেছে। মূসা বলিল, ‘তোমাদের কী ব্যাপার?’ উহারা বলিল, ‘আমরা আমাদের জানোয়ারগুলিকে পানি পান করাইতে পারি না, যতক্ষণ রাখালেরা উহাদের জানোয়ারগুলিকে লইয়া সরিয়া না যায়। আমাদের পিতা অতি বৃদ্ধ।’
অলাম্মা-অরদা মা-য়া মাদ্ইয়ানা অজ্বাদা 'আলাইহি উম্মাতাম্ মিনান্না-সি ইয়াস্ক্ব না অওয়াজ্বাদা মিন্ দূনিহিমুম্ রয়াতাইনি তাযূদা-নি ক্ব-লা মা-খতবুকুমা- ক্ব-লাতা লা-নাস্ক্বী হাত্তা-ইয়ুছ্দির্র রি'আ-য়ু অআবূনা শাইখুন্ কার্বী।
আর যখন সে মাদইয়ানের পানির নিকট উপনীত হল, তখন সেখানে একদল লোককে পেল, যারা (পশুদের) পানি পান করাচ্ছে এবং তাদের ছাড়া দু’জন নারীকে পেল, যারা তাদের পশুগুলোকে আগলে রাখছে। সে বলল, ‘তোমাদের ব্যাপার কী’? তারা বলল, ‘আমরা (আমাদের পশুগুলোর) পানি পান করাতে পারি না। যত
মূসা তখন উহাদের পক্ষে জানোয়ারগুলিকে পানি পান করাইল। তৎপর সে ছায়ার নিচে আশ্রয় গ্রহণ করিয়া বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করিবে আমি তো তাহার কাঙ্গাল।’
ফাসাক্ব-লাহুমা-ছুম্মা তাওয়াল্লা য় ইলাজ্ জিল্লি ফাক্ব-লা রব্বি ইন্নী লিমা য় আন্যাল্তা ইলাইয়্যা মিন্ খাইরিন্ ফার্ক্বী।
তখন মূসা তাদের পক্ষে (পশুগুলোকে) পানি পান করিয়ে দিল। তারপর ছায়ায় ফিরে গেল এবং বলল, ‘হে আমার রব, নিশ্চয় আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহই নাযিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী’।
তখন নারীদ্বয়ের একজন শরম - জড়িত চরণে তাহার নিকট আসিল এবং বলিল, ‘আমার পিতা আপনাকে আমন্ত্রণ করিতেছেন, আমাদের জানোয়ারগুলিকে পানি পান করাইবার পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য।’ অতঃপর মূসা তাহার নিকট আসিয়া সমস্ত বৃত্তান্ত বর্ণনা করিলে সে বলিল, ‘ভয় করিও না, তুমি সম্প্রদায়ের কবল হইতে বাঁচিয়া গিয়াছ।’
ফাজ্বা-য়াত্হু ইহ্দা-হুমা- তাম্শী 'আলাস্ তিহ্ইয়া-য়িন্ ক্ব-লাত্ ইন্না আবী ইয়াদ্'ঊকা লিয়াজযিয়াকা আজ্ব রমা- সাক্বইতা লানা- ফালাম্মা জ্বা-য়াহূ অক্বছ্ছোয়া 'আলাইহিল্ ক্বছোয়াছোয়া ক্ব-লা লা-তাখফ্ নাজ্বাওতা মিনাল্ ক্বওমিজ্ জোয়া-লিমীন্।
অতঃপর নারীদ্বয়ের একজন লাজুকভাবে হেঁটে তার কাছে এসে বলল যে, আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন, যেন তিনি আপনাকে পারিশ্রমিক দিতে পারেন, আমাদের পশুগুলোকে আপনি যে পানি পান করিয়েছেন তার বিনিময়ে’। অতঃপর যখন মূসা তার নিকট আসল এবং সকল ঘটনা তার কাছে খুলে বলল, তখন সে বলল, ‘তু
উহাদের একজন বলিল, ‘হে পিতা! তুমি ইহাকে মজুর নিযুক্ত কর, কারণ তোমার মজুর হিসাবে উত্তম হইবে সেই ব্যক্তি, যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।’
ক্ব-লাত্ ইহ্দা-হুমা-ইয়া য় আবাতিস্ তা'র্জ্বিহু ইন্না খইর মানিস্ তা'র্জ্বাতাল্ ক্বওওয়িয়্যুল আমীন্
নারীদ্বয়ের একজন বলল, ‘হে আমার পিতা, আপনি তাকে মজুর নিযুক্ত করুন। নিশ্চয় আপনি যাদেরকে মজুর নিযুক্ত করবেন তাদের মধ্যে সে উত্তম, যে শক্তিশালী বিশ্বস্ত’।
সে মূসাকে বলিল, ‘আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সঙ্গে বিবাহ দিতে চাই, এই শর্তে যে, তুমি আট বৎসর আমার কাজ করিবে, যদি তুমি দশ বৎসর পূর্ণ কর, সে তোমার ইচ্ছা। আমি তােমাকে কষ্ট দিতে চাই না। ইচ্ছা করিলে তুমি আমাকে সদাচারী পাইবে।’
ক্ব-লা ইন্নী য় উরীদু আন্ উন্কিহাকা ইহ্দাব্ নাতাইয়্যা হা-তাইনি 'আলা য় আন্ তাজুরানী ছামা-নিয়া হিজ্বাজ্বিন্ ফাইন্ আত্মাম্তা 'আশ্রান্ ফামিন্ 'ইন্দিকা অমা য় উরীদু আন্ আশুকক্বা 'আলাইক্ সাতাজ্বিদুনী য় ইন্শা-আল্লা-হু মিনাছ্ ছোয়া-লিহীন্।
সে বলল, ‘আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার মজুরী করবে। আর যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ কর, তবে সেটা তোমার পক্ষ থেকে (অতিরিক্ত)। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। তুমি ইনশাআল্লাহ আমাকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত পাবে
মূসা বলিল, ‘আমার ও আপনার মধ্যে এই চুক্তিই রহিল। এই দুইটি মেয়াদের কোন একটি আমি পূর্ণ করিলে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকিবে না। আমরা যে বিষয়ে কথা বলিতেছি তাহার সাক্ষী।’
ক্ব-লা যা-লিকা বাইনি অ বাইনাক্ আইয়ামাল্ আজ্বালাইনি ক্বদ্বোয়াইতু ফালা-উদ্ওয়া-না 'আলাইয়্যা অল্লা-হু 'আলা-মা-নাকুলু অকীল্।
মূসা বলল, ‘এ চুক্তি আমার ও আপনার মধ্যে রইল। দু’টি মেয়াদের যেটিই আমি পূরণ করি না কেন, তাতে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকবে না। আর আমরা যে বিষয়ে কথা বলছি, তার সাক্ষী’।
মূসা যখন তাহার মেয়াদ পূর্ণ করিবার পর সপরিবারে যাত্রা করিল, তখন সে তূর পর্বতের দিকে আগুন দেখিতে পাইল। সে তাহার পরিজনবর্গকে বলিল, ‘তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখিয়াছি, সম্ভবত আমি সেখান হইতে তোমাদের জন্য খবর আনিতে পারি অথবা একখণ্ড জ্বলন্ত কাঠ আনিতে পারি যাহাতে তোমরা আগুন পোহাইতে পার।’
ফালাম্মা-ক্বাদ্বোয়া-মূসাল্ আজ্বালা অসা-র বিআহ্লিহী য় আ-নাসা মিন্ জ্বা-নিবিত্ব্্ ত্বুরি না-রান্ ক্ব-লা লিআহ্লিহিম্ কুছূ য় ইন্নী আ-নাস্তু না-রল্লা-'আল্লী য় আ-তীকুম্ মিন্হা-বিখবারিন্ আও জ্বায্ওয়াতিম্ মিনান্না-রি লা'আল্লাকুম্ তাছ্ত্বোয়ালূন্।
অতঃপর মূসা যখন মেয়াদ পূর্ণ করল এবং সপরিবারে যাত্রা করল, তখন সে তূর পর্বতের পাশে আগুন দেখতে পেল। সে তার পরিবার পরিজনকে বলল, ‘তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখতে পেয়েছি, সম্ভবত আমি তা থেকে তোমাদের কাছে আনতে পারব কোন খবর, অথবা একটি জ্বলন্ত আঙ্গার; যাতে তোমরা আগ
যখন মূসা আগুনের নিকট পৌঁছিল তখন উপত্যকার দক্ষিণ পার্শ্বে পবিত্র ভূমিস্থিত এক বৃক্ষের দিক হইতে তাহাকে আহ্বান করিয়া বলা হইল, ‘হে মূসা ! আমিই , জগতসমূহের প্রতিপালক;’
ফালাম্মা য় আতা-হা-নূদিয়া মিন্ শা-ত্বিয়িল্ ওয়া-দিল্ আইমানি ফিল্ বুক'আতিল্ মুবা-রকাতি মিনাশ্ শাজ্বারতি আইঁ ইয়া- মূসা য় ইন্নী য় আনাল্লা-হু রব্বুল্ 'আলামীন্।
অতঃপর যখন মূসা আগুনের নিকট আসল, তখন উপত্যকার ডান পার্শে পবিত্র ভূমিতে অবস্থিত বৃক্ষ থেকে তাকে আহবান করে বলা হলো, ‘হে মূসা, নিশ্চয় আমিই , সৃষ্টিকুলের রব’।
আরও বলা হইল, ‘তুমি তোমার যষ্টি নিক্ষেপ কর।’ অতঃপর, যখন সে উহাকে সর্পের ন্যায় ছুটাছুটি করিতে দেখিল তখন পিছনের দিকে ছুটিতে লাগিল এবং ফিরিয়া তাকাইল না। তাহাকে বলা হইল, ‘হে মূসা! সম্মুখে আইস, ভয় করিও না; তুমি তো নিরাপদ।
অ আন্ আল্ক্বি 'আছোয়াক্ ফালাম্মা-রয়া-হা-তাহ্তায্যু কাআন্নাহা-জ্বা-ন্নুঁও অল্লা-মুদ্বিরাঁও অলাম্ ইয়ুআকক্বিব্ ইয়া-মূসা য় আকবিল্ অলা তাখফ্ ইন্নাকা মিনাল্ আ-মিনীন্।
‘আর তুমি তোমার লাঠি ফেলে দাও’। অতঃপর যখন সে ওটাকে দেখল, সাপের মত ছুটাছুটি করছে, তখন সে পিছনের দিকে ছুটল এবং ফিরেও তাকাল না। (বলা হল) ‘হে মূসা, সামনে যাও এবং ভয় পেয়ো না, নিশ্চয় তুমি নিরাপদ’।
‘তোমার হাত তোমার বগলে রাখ, ইহা বাহির হইয়া আসিবে শুভ্র - সমুজ্জ্বল নির্দোষ হইয়া। ভয় দূর করিবার জন্য তোমার হস্তদ্বয় নিজের দিকে চাপিয়া ধর। এই দুইটি তোমার প্রতিপালক - প্রদত্ত প্রমাণ, ফির‘আওন ও তাহার পরিষদবর্গের জন্য। উহারা তো সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।
উস্লুক্ ইয়াদাকা ফী জ্বাইবিকা তাখ্রুজ্ব বাইদ্বোয়া-য়া মিন্ গইরি সূ-য়িঁও ওয়াদ্ব্মুম্ ইলাইকা জ্বানা-হাকা মির্না রহ্বি ফাযা-নিকা বুরহা-না-নি র্মি রব্বিকা ইলা- র্ফি'আউনা অমালায়িহ্ ইন্নাহুম্ কা-নূ ক্বওমান্ ফা-সিক্বীন্।
‘তোমার হাত তোমার বগলে রাখ, এটা ত্রুটিমুক্ত অবস্থায় শুভ্রোজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে আসবে। আর ভয় থেকে রক্ষার জন্য তোমার হাত তোমার নিজের দিকে মিলাও। অতঃপর এ দু’টো তোমার রবের পক্ষ থেকে দু’টি প্রমাণ, ফির‘আউন ও তার পারিষদবর্গের জন্য। নিশ্চয় তারা ফাসিক কওম’।
মূসা বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি তো উহাদের একজনকে হত্যা করিয়াছি। ফলে আমি আশংকা করিতেছি উহারা আমাকে হত্যা করিবে।
ক্ব-লা রব্বি ইন্নী ক্বতাল্তু মিন্হুম্ নাফ্সান্ ফাআখ-ফু আই ইয়া-কতুলূন।
মূসা বলল, ‘হে আমার রব, নিশ্চয় আমি তাদের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছি, তাই আমি আশঙ্কা করছি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে’।
‘আমার ভ্রাতা হারূন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে।’
অআখী হারূ-নু হুওয়া আফ্ছোয়াহু মিন্নী লিসা-নান্ ফার্আসিল্হু মা'ইয়া রিদ্য়াইঁ ইয়ুছোয়াদ্দিকুনী য় ইন্নী য় আখ-ফু আইঁ ইয়ুকায্যিবূন্।
‘আর আমার ভাই হারূন, সে আমার চেয়ে স্পষ্টভাষী, তাই তাকে আমার সাথে সাহায্যকারী হিসেবে প্রেরণ করুন, সে আমাকে সমর্থন করবে। আমি আশঙ্কা করছি যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।
বলিলেন, ‘আমি তোমার ভ্রাতার দ্বারা তোমার বাহু শক্তিশালী করিব এবং তোমাদের উভয়কে প্রাধান্য দান করিব। উহারা তোমাদের নিকট পৌঁছিতে পারিবে না। তোমরা এবং তোমাদের অনুসারীরা আমার নিদর্শনবলে উহাদের উপর প্রবল হইবে।’
ক্ব-লা সানাশুদ্দ 'আদ্বুদাকা বিআখীকা অনাজ'আলু লাকুমা- সুল্ত্বোয়া-নান্ ফালা-ইয়াছিলূনা ইলাইকুমা- বিআ-ইয়া-তিনা য় আন্তুমা-অমানি ত্তাবা'আকুমাল্ গ-লিবূন্।
বললেন, ‘আমি তোমার ভাইয়ের মাধ্যমে তোমার বাহু শক্তিশালী করব এবং তোমাদের দু’জনকে ক্ষমতা দান করব, ফলে তারা তোমাদের কাছে পৌঁছতে পারবে না। আমার নিদর্শনাবলী দ্বারা তোমরা ও তোমাদের অনুসারীরা বিজয়ী হবে’।
মূসা যখন উহাদের নিকট আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলি লইয়া আসিল, উহারা বলিল, ‘ইহা তো অলীক ইন্দ্রজাল মাত্র। আমাদের পূর্বপুরুষগণের কালে কখনও এইরূপ কথা শুনি নাই।’
ফালাম্মা-জ্বা-য়াহুম্ মূসা- বিআ-ইয়া-তিনা- বাইয়্যিনা-তিন্ ক্ব-লূ মা-হাযা য় ইল্লা-সিহ্রুম্ মুফ্তারঁও অমা-সামি'না- বি হা-যা-ফী য় আ-বা-য়িনাল্ আউয়্যালীন্।
অতঃপর মূসা যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলো নিয়ে আসল, তখন তারা বলল, ‘এ তো মিথ্যা যাদু ছাড়া আর কিছুই নয় এবং এরূপ কথা আমাদের পিতৃপুরুষদের মধ্যেও শুনিনি’।
মূসা বলিল, ‘আমার প্রতিপালক সম্যক অবগত, কে তাঁহার নিকট হইতে পথনির্দেশ আনিয়াছে এবং আখিরাতে কাহার পরিণাম শুভ হইবে। জালিমরা কখনো হইবে না।’
অ ক্ব-লা- মূসা-রব্বী য় আ'লামু বিমান্ জ্বা-য়া বিল্ হুদা-মিন্ 'ঈন্দিহী অমান্ তাকূনু লাহূ আ' ক্বিবাতুদ্ দার্- ইন্নাহূ লা-ইয়ুফ্লিহুজ্ জোয়া-লিমূন্।
আর মূসা বলল, ‘আমার রব সম্যক অবগত আছেন, কে তাঁর কাছ থেকে হিদায়াত নিয়ে এসেছে এবং আখিরাতে কার পরিণাম শুভ হবে। নিশ্চয় যালিমরা সফল হবে না’।
ফির‘আওন বলিল, ‘হে পারিষদবর্গ! আমি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ্ আছে বলিয়া জানি না। হে হামান! তুমি আমার জন্য ইট পোড়াও এবং একটি সুউচ্চ প্রাসাদ তৈয়ার কর; হয়ত আমি ইহাতে উঠিয়া মূসার ইলাহ্কে দেখিতে পারি। তবে আমি অবশ্যই মনে করি সে মিথ্যাবাদী।’
অক্ব-লা র্ফি'আউনু ইয়া য় আইয়ুহাল্ মালায়ু মা-'আলিম্তু লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গইরী ফাআও ক্বিদ্লী ইয়া-হা-মা-নু 'আলাত্ব ত্বীনি ফাজআল্লী ছোর্য়াহাল্লা'আল্লীয় আত্ব্ত্বোয়ালি'উইলা য় ইলা-হি মূসা-অইন্নী লাআজুন্নুহূ মিনাল্ কা-যিবীন্।
আর ফির‘আউন বলল, ‘হে পারিষদবর্গ, আমি ছাড়া তোমাদের কোন আছে বলে আমি জানি না। অতএব হে হামান, আমার জন্য তুমি ইট পোড়াও, তারপর আমার জন্য একটি প্রাসাদ তৈরী কর। যাতে আমি মূসার ইলাহকে দেখতে পাই। আর নিশ্চয় আমি মনে করি সে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত’।
ফির‘আওন ও তাহার বাহিনী অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে অহংকার করিয়াছিল এবং উহারা মনে করিয়াছিল যে, উহারা আমার নিকট প্রত্যাবর্তিত হইবে না।
অস্তাক্বার হুওয়া অ জুনূদুহূ ফিল্ র্আদ্বি বিগইরিল্ হাকক্বি অজোয়ান্নূ য় আন্নাহুম্ ইলাইনা- লা-ইর্য়ুজ্বা'ঊন্।
আর ফির‘আউন ও তার সেনাবাহিনী অন্যায়ভাবে যমীনে অহঙ্কার করেছিল এবং তারা মনে করেছিল যে, তাদেরকে আমার নিকট ফিরিয়ে আনা হবে না।
অতএব আমি তাহাকে ও তাহার বাহিনীকে ধরিলাম এবং তাহাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করিলাম। দেখ, জালিমদের পরিণাম কি হইয়া থাকে।
ফাআখয্না-হু অজুনূদাহূ ফানাবায্না-হুম্ ফিল্ ইয়াম্মি ফার্ন্জু কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতুজ্ জোয়া-লিমীন্।
অতঃপর আমি তাকে ও তার সেনাবাহিনীকে পাকড়াও করলাম, তারপর তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম। অতএব, দেখ যালিমদের পরিণাম কিরূপ হয়েছিল?
উহাদেরকে আমি নেতা করিয়াছিলাম; উহারা লোকদেরকে জাহান্নামের দিকে আহ্বান করিত; কিয়ামতের দিন উহাদেরকে সাহায্য করা হইবে না।
অ জ্বা'আল্না-হুম্ আইয়িম্মাতাঁই ইয়াদ্'ঊনা ইলান্না-রি অইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি লা-ইয়ুন্ছোয়ারূন্।
আর আমি তাদেরকে নেতা বানিয়েছিলাম, তারা জাহান্নামের দিকে আহবান করত এবং কিয়ামতের দিন তাদেরকে সাহায্য করা হবে না।
এই পৃথিবীতে আমি উহাদের পশ্চাতে লাগাইয়া দিয়াছি অভিসম্পাত এবং কিয়ামতের দিন উহারা হইবে ঘৃণিত।
অ আত্বা'না-হুম্ ফী হা-যিহিদ্দুন্ইয়া-লা'নাতান্ অ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি হুম্ মিনাল্ মাকবূহীন্।
এ যমীনে আমি তাদের পিছনে অভিসম্পাত লাগিয়ে দিয়েছি আর কিয়ামতের দিন তারা হবে ঘৃণিতদের অন্তর্ভুক্ত।
আমি তো পূর্ববর্তী বহু মানবগোষ্ঠীকে বিনাশ করিবার পর মূসাকে দিয়াছিলাম কিতাব, মানবজাতির জন্য জ্ঞানবর্তিকা, পথনির্দেশ ও অনুগ্রহস্বরূপ, যাহাতে উহারা উপদেশ গ্রহণ করে।
অলাক্বদ্ আ-তাইনা-মূসাল্ কিতা-বা মিম্ বা'দি মায় আহ্লাক্নাল্ কুরূনাল্ ঊলা-বাছোয়া-য়িরা লিন্না-সি অহুদাঁও অরহ্মাতাল্ লা'আল্লাহুম্ ইয়াতাযাক্কারূন্।
আর অবশ্যই আমি পূর্ববর্তী বহু প্রজন্মকে ধ্বংস করার পর মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা, হিদায়াত ও রহমতস্বরূপ মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম। যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
মূসাকে যখন আমি বিধান দিয়াছিলাম তখন তুমি পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত ছিলে না এবং তুমি প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলে না।
অমা-কুন্তা বিজ্বা-নিবিল্ র্গবিয়্যী ইয্ ক্বাদ্বোয়াইনা য় ইলা-মূসাল্ আম্র অমা-কুন্তা মিনাশ্ শা-হিদীন্।
আর (হে নবী) আমি যখন মূসাকে বিধান দিয়েছিলাম তখন তুমি (তূর পাহাড়ের) পশ্চিম পার্শে উপস্থিত ছিলে না। আর তুমি প্রত্যক্ষদর্শীদের অন্তর্ভুক্তও ছিলে না।
বস্তুত আমি অনেক মানবগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটাইয়াছিলাম ; অতঃপর উহাদের বহু যুগ অতিবাহিত হইয়া গিয়াছে। তুমি তো মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে বিদ্যমান ছিলে না উহাদের নিকট আমার আয়াত আবৃত্তি করিবার জন্য। আমিই তো ছিলাম রাসূল প্রেরণকারী।
অলা-কিন্না য় আন্ শানা কুরূনান্ ফাতাত্বোয়া- অলা 'আলাইহিমুল্ উমুরু অমা-কুন্তা ছা-ওয়িয়ান্ ফী য় আহ্লি মাদ্ইয়ানা তাত্লূ 'আলাইহিম্- আ-ইয়া-তিনা- অলা-কিন্না- কুন্না- র্মুসিলীন্।
কিন্তু আমি অনেক প্রজন্মকে সৃষ্টি করেছি। তারপর তাদের উপর বহু যুগ অতিবাহিত হয়েছিল। তুমি তো মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে অবস্থানকারী ছিলে না যে, তাদের নিকট আমার আয়াতগুলো তুমি তিলাওয়াত করবে। কিন্তু আমিই রাসূল প্রেরণকারী।
মূসাকে যখন আমি আহ্বান করিয়াছিলাম তখন তুমি তূর পর্বতপার্শ্বে উপস্থিত ছিলে না। বস্তুত ইহা তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে দয়াস্বরূপ, যাহাতে তুমি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করিতে পার, যাহাদের নিকট তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসে নাই, যেন উহারা উপদেশ গ্রহণ করে ;
অমা-কুন্তা বিজ্বা-নিবিত্ব্ তুরি ইয্ না-দাইনা- অলা-র্কি রহ্মাতাম্ র্মি রব্বিকা লিতুন্যির ক্বওমাম্ মায় আতা-হুম্ মিন্ নাযীরিম্ মিন্ ক্বব্লিকা লা'আল্লাহুম্ ইয়াতাযাক্কারূন্।
আর যখন আমি (মূসাকে) ডেকেছিলাম তখন তুমি তূর পর্বতের পাশে উপস্থিত ছিলে না। কিন্তু তোমার রবের পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ জানানো হয়েছে, যাতে তুমি এমন কওমকে সতর্ক করতে পার, যাদের কাছে তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসেনি। সম্ভবত তারা উপদেশ গ্রহণ করবে।
রাসূল না পাঠাইলে উহাদের কৃতকর্মের জন্য উহাদের কোন বিপদ হইলে উহারা বলিত, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের নিকট কোন রাসূল প্রেরণ করিলে না কেন? করিলে আমরা তোমার বিধান মানিয়া চলিতাম এবং আমরা হইতাম ।’
অ লাওলা য় আন্ তুছীবাহুম্ মুছীবাতুম্ বিমা-ক্বদ্দামাত্ আইদীহিম্ ফাইয়াকুলূ রব্বানা-লাওলা য় র্আসাল্তা ইলাইনা-রসূলান্ ফানাত্তাবি'আ আ-ইয়া-তিকা অনাকূনা মিনাল্ মুমিনীন্।
তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের উপর কোন বিপদ আসলে তারা যাতে বলতে না পারে, ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদের কাছে কোন রাসূল পাঠালেন না কেন? তাহলে আমরা আপনার আয়াতসমূহ অনুসরণ করতাম আর আমরা মুমিনদের অন্তর্ভুর্ক্ত হতাম’।
অতঃপর যখন আমার নিকট হইতে উহাদের নিকট সত্য আসিল, উহারা বলিতে লাগিল, ‘মূসাকে যেরূপ দেওয়া হইয়াছিল, তাহাকে সেরূপ দেওয়া হইল না কেন?’ কিন্তু পূর্বে মূসাকে যাহা দেওয়া হইয়াছিল তাহা কি উহারা অস্বীকার করে নাই? উহারা বলিয়াছিল, ‘দুইটিই জাদু, একে অপরকে সমর্থন করে।’ এবং উহারা বলিয়াছিল, ‘আমরা সকলকেই প্রত্যাখ্যান করি।’
ফালাম্মা- জ্বা-য়াহুমুল্ হাক্ক্বু মিন্ 'ইন্দিনা-ক্ব-লূ লাওলা য় ঊতিয়া মিছ্লা মা য় ঊতিয়া মূসা- আওয়ালাম্ ইয়াক্ফুরূ বিমা য় ঊতিয়া মূসা-মিন্ ক্বব্লু ক্ব-লূ সিহ্র-নি তাজোয়া-হারা অ ক্ব-লূ য় ইন্না বিকুল্লিন্ কা-ফিরূন্।
অতঃপর যখন আমার নিকট থেকে তাদের কাছে সত্য আসল তখন তারা বলল, ‘মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল তাকে(মুহাম্মাদকে) কেন সেরূপ দেয়া হল না’? ইতঃপূর্বে মূসাকে যা দেয়া হয়েছিল তারা কি তা অস্বীকার করেনি? তারা বলেছিল, ‘দু’টিই যাদু, একটি অপরটিকে সাহায্য করে’। আর তারা বলেছিল, ‘আম
বল, ‘তোমরা সত্যবাদী হইলে র নিকট হইতে এক কিতাব আনয়ন কর, যাহা পথনির্দেশে এতদুভয় হইতে উৎকৃষ্টতর হইবে; আমি সে কিতাব অনুসরণ করিব।’
কুল্ ফাতূ বিকিতা-বিম্ মিন্ 'ইন্দিল্লা-হি হুওয়া আহ্দা মিন্হুমা য় আত্তাবি'হু ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।
বল, ‘তাহলে তোমরা আল্লাহর কাছ থেকে এমন একটি কিতাব নিয়ে আস যা এ দু’টো কিতাব থেকে উৎকৃষ্ট; আমি তারই অনুসরণ করব, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক’।
অতঃপর উহারা যদি তোমার আহ্বানে সাড়া না দেয়, তাহা হইলে জানিবে উহারা তো কেবল নিজেদের খেয়াল - খুশির অনুসরণ করে। র পথনির্দেশ অগ্রাহ্য করিয়া যে ব্যক্তি নিজ খেয়াল - খুশির অনুসরণ করে তাহা অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত আর কে? সম্প্রদায়কে পথনির্দেশ করেন না।
ফাইল্ লাম্ ইয়াস্তাজ্বীবূ লাকা ফা'লাম্ আন্নামা- ইয়াত্তাবি'ঊনা আহ্ওয়া-য়াহুম্ অমান্ আদ্বোয়াল্লু মিম্মানিত্তাবা'আ হাওয়া-হু বিগইরি হুদাম্ মিনাল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াহ্দিল্ ক্বওমাজ্ জোয়া-লিমীন্।
অতঃপর তারা যদি তোমার আহবানে সাড়া না দেয়, তাহলে জেনে রাখ, তারা তো নিজদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করে। আর আল্লাহর দিকনির্দেশনা ছাড়া যে নিজের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করে তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয় যালিম কওমকে হিদায়াত করেন না।
আমি তো উহাদের নিকট পরপর বাণী পৌঁছাইয়া দিয়াছি; যাহাতে উহারা উপদেশ গ্রহণ করে।
অলাক্বদ্ অছ্ ছোয়াল্না-লাহুমুল্ ক্বওলা লা'আল্লাহুম্ ইয়াতাযাক্কারূন্।
আর আমি তো তাদের কাছে একের পর এক বাণী পৌঁছে দিয়েছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
ইহার পূর্বে আমি যাহাদেরকে কিতাব দিয়াছিলাম, তাহারা ইহাতে বিশ্বাস করে।
আল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল্ কিতা-বা মিন্ ক্বব্লিহী হুম্ বিহী ইয়ুমিনূন্।
এর পূর্বে আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছিলাম তারা এর প্রতি ঈমান আনে।
যখন উহাদের নিকট ইহা আবৃত্তি করা হয় তখন উহারা বলে, ‘আমরা ইহাতে ঈমান আনি, নিশ্চয়ই ইহা আমাদের প্রতিপালক হইতে আগত সত্য। আমরা তো পূর্বেও আত্মসর্মপণকারী ছিলাম;
অইযা-ইয়ুত্লা- 'আলাইহিম্ ক্ব-লূ য় আ-মান্না- বিহী য় ইন্নাহুল্ হাককু র্মি রব্বিনা য় ইন্না-কুন্না-মিন্ ক্বব্লিহী মুস্লিমীন্।
আর যখন তাদের নিকট তা তিলাওয়াত করা হয় তখন তারা বলে, ‘আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি, নিশ্চয় তা সত্য আমাদের রবের পক্ষ থেকে। নিশ্চয় আমরা এর পূর্বেও আত্মসমর্পণকারী ছিলাম’।
উহাদেরকে দুইবার পারিশ্রমিক প্রদান করা হইবে, যেহেতু উহারা ধৈর্যশীল এবং উহারা ভালর দ্বারা মন্দের মুকাবিলা করে ও আমি উহাদেরকে যে রিযিক দিয়াছি তাহা হইতে উহারা ব্যয় করে।
উলা-য়িকা ইয়ুতাওনা আজরহুম্ র্মারাতাইনি বিমা-ছোয়াবারূ অ ইয়াদ্রায়ূনা বিল্হাসানাতিস্ সাইয়িয়াতা অমিম্মা-রযাকনা-হুম্ ইয়ুন্ফিকুন্।
তাদেরকে দু’বার প্রতিদান দেয়া হবে। এ কারণে যে, তারা ধৈর্যধারণ করে এবং ভাল দ্বারা মন্দকে প্রতিহত করে। আর আমি তাদেরকে যে রিয্ক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।
উহারা যখন অসার বাক্য শ্রবণ করে তখন উহারা তাহা উপেক্ষা করিয়া চলে এবং বলে, ‘আমাদের কাজের ফল আমাদের জন্য এবং তোমাদের কাজের ফল তোমাদের জন্য ; তোমাদের প্রতি ‘সালাম’। আমরা অজ্ঞদের সঙ্গ চাহি না।’
অ ইযা-সামি'উল্ লাগ্ওয়া আ'রদ্বূ 'আন্হু অক্ব-লূ লানা য় আ'মা-লুনা অলাকুম্ আ'মা-লুকুম্ সালা-মুন্ 'আলাইকুম্ লা-নাব্তাগিল্ জ্বা-হিলীন্।
আর তারা যখন অনর্থক কথাবার্তা শুনে তখন তা থেকে বিমুখ হয় এবং বলে, ‘আমাদের আমল আমাদের জন্য, আর তোমাদের আমল তোমাদের জন্য। তোমাদের প্রতি ‘সালাম’। আমরা অজ্ঞদের সাহচর্য চাই না’।
তুমি যাহাকে ভালবাস, ইচ্ছা করিলেই তাহাকে সৎপথে আনিতে পারিবে না। তবে যাহাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন এবং তিনিই ভাল জানেন সৎপথ অনুসারীদেরকে।
ইন্নাকা লা-তাহ্দী মান্ আহ্বাব্তা অলা-কিন্নাল্লা-হা ইয়াহ্দী মাইঁ ইয়াশা-য়ু অহুওয়া আ'লামু বিল্মুহ্তাদীন্।
নিশ্চয় তুমি যাকে ভালবাস তাকে তুমি হিদায়াত দিতে পারবে না; বরং আল্লাহই যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন। আর হিদায়াতপ্রাপ্তদের ব্যাপারে তিনি ভাল জানেন।
উহারা বলে, ‘আমরা যদি তোমার সঙ্গে সৎপথ অনুসরণ করি তবে আমাদেরকে দেশ হইতে উৎখাত করা হইবে।’ আমি কি উহাদেরকে এক নিরাপদ হারামে প্রতিষ্ঠিত করি নাই, যেখানে সর্বপ্রকার ফলমূল আমদানী হয় আমার দেওয়া রিযিক স্বরূপ? কিন্তু উহাদের অধিকাংশই ইহা জানে না।
অক্ব-লূ য় ইন্ নাত্তাবি'ইল্ হুদা- মা'আকা নুতাখত্ব ত্বোয়াফ্ মিন্ র্আদ্বিনা-আওয়ালাম্ নুমাক্কিল্লাহুম্ হারমান্ আ-মিনাইঁ ইয়ুজবা য় ইলাইহি ছামার-তু কুল্লি শাইর্য়ি রিয্ক্বম্ মিল্লাদুন্না-অলা-কিন্না আক্ছারহুম্ লা-ইয়া'লামূন্।
আর তারা বলে, ‘আমরা যদি তোমার সাথে হিদায়াতের অনুসরণ করি তবে আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে উৎখাত করা হবে’। আমি কি তাদের জন্য এক নিরাপদ ‘হারাম’ এর সুব্যবস্থা করিনি? সেখানে সব ধরনের ফলমূল আমদানী করা হয়, আমার পক্ষ থেকে রিয্কস্বরূপ? কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।
কত জনপদকে আমি ধ্বংস করিয়াছি যাহার বাসিন্দারা নিজেদের ভোগ - সম্পদের দম্ভ করিত! এইগুলিই তো উহাদের ঘরবাড়ি ; উহাদের পর এইগুলিতে লোকজন সামান্যই বসবাস করিয়াছে। আর আমি তো চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী !
অকাম্ আহ্লাক্না মিন্ র্ক্বইয়াতিম্ বাত্বিরাত্ মাঈ'শাতাহা- ফাতিল্কা মাসা-কিনুহুম্ লাম্ তুস্কাম্ মিম্ বা'দিহিম্ ইল্লা-ক্বলীলা- অকুন্না-নাহ্নুল্ ওয়া-রিছীন্।
আর আমি কত জনপদকে ধ্বংস করেছি, যার বাসিন্দারা তাদের জীবন উপকরণ নিয়ে দম্ভ করত! এগুলো তো তাদের বাসস্থান। তাদের পরে (এখানে) সামান্যই বসবাস করা হয়েছে। আর আমিই চূড়ান্ত মালিকানার ওয়ারিস।
তোমার প্রতিপালক জনপদসমূহকে ধ্বংস করেন না উহার কেন্দ্রে তাঁহার আয়াত আবৃত্তি করিবার জন্য রাসূল প্রেরণ না করিয়া এবং আমি জনপদসমূহকে তখনই ধ্বংস করি যখন ইহার বাসিন্দারা জুলুম করে।
অ মা-কা-না রব্বুকা মুহ্লিকাল্ কুরা-হাত্তা-ইয়াব্'আছা ফী য় উম্মিহা-রাসূলাইঁ ইয়াত্লূ 'আলাইহিম্ আ-ইয়াতিনা-অমা-কুন্না -মুহ্লিক্বিল্ কুরা য় ইল্লা-অআহ্লুহা-জোয়া-লিমূন্।
আর তোমার রব কোন জনপদকে ধ্বংস করেন না, যতক্ষণ না তিনি তার মূল ভূখন্ডে রাসূল প্রেরণ করেন, যে তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে। আর কোন জনপদের অধিবাসীরা যালিম না হলে আমি তাদেরকে ধ্বংস করি না।
তোমাদেরকে যাহা কিছু দেওয়া হইয়াছে তাহা তো পার্থিব জীবনের ভোগ ও শোভা এবং যাহা র নিকট আছে তাহা উত্তম ও স্থায়ী। তোমরা কি অনুধাবন করিবে না?
অমা য় ঊতীতুম্ মিন্ শাইয়িন্ ফামাতা'উল্ হা-ইয়া-তিদ্দুন্ইয়া-অযীনাতুহা- অমা-'ইন্দাল্লা-হি খইরুঁও অ আব্ক্ব- আফালা- তা'ক্বিলূন্।
আর তোমাদেরকে যা কিছু দেয়া হয়েছে তা দুনিয়ার জীবনের ভোগ ও সৌন্দর্য মাত্র। আর আল্লাহর কাছে যা আছে তাই উত্তম ও স্থায়ী। তোমরা কি বুঝবে না?
যাহাকে আমি উত্তম পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়াছি, যাহা সে পাইবে, সে কি ঐ ব্যক্তির সমান যাহাকে আমি পার্থিব জীবনের ভোগ - সম্ভার দিয়াছি, যাহাকে পরে কিয়ামতের দিন হাযির করা হইবে?
আফামাঁও অ'আদ্না-হু ওয়া'দান্ হাসানান্ ফাহুওয়া লা-ক্বীহি কামাম্ মাত্তা'না-হু মাতা-'আল হা-ইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া- ছুম্মা হুওয়া ইয়াওমাল্ ক্বিয়ামাতি মিনাল্ মুহ্দ্বোয়ারীন্।
আমি যাকে উত্তম ওয়াদা দিয়েছি সে তা পাবেই; সে কি তার মতই যাকে আমি দুনিয়ার জীবনের ভোগসামগ্রী দিয়েছি? তারপর কিয়ামতের দিনে সে উপস্থিতকৃতদের মধ্যে থাকবে।
এবং সেই দিন তিনি উহাদেরকে আহ্বান করিয়া বলিবেন, ‘তোমরা যাহাদেরকে আমার শরীক গণ্য করিতে, তাহারা কোথায়?’
অ ইয়াওমা ইয়ুনা-দী হিম্ ফাইয়াকুলু আইনা শুরকা-ইইয়া ল্লাযীনা কুন্তুম্ তায্'উমূন্।
আর সে দিন তিনি তাদেরকে আহবান করবেন, অতঃপর বলবেন, ‘তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তারা কোথায়’?
যাহাদের জন্য শাস্তি অবধারিত হইয়াছে তাহারা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক ! ইহাদেরকেই আমরা বিভ্রান্ত করিয়াছিলাম ; ইহাদেরকে বিভ্রান্ত করিয়াছিলাম যেমন আমরা বিভ্রান্ত হইয়াছিলাম ; আপনার সমীপে আমরা দায়িত্ব হইতে অব্যাহতি চাহিতেছি। ইহারা তো আমাদের ‘ইবাদত করিত না।’
ক্ব-লাল্লাযীনা হাক্ব্ক্বা 'আলাইহিমুল্ ক্বওলু রব্বানা-হা য় উলা-য়িল্লাযীনা আগ্ওয়াইনা-আগ্ওয়াইনা-হুম্ কামা- গওয়াইনা-তার্বারনায় ইলাইকা মা-কা-নূ য় ইয়্যা-না-ইয়া'বুদূন্।
যাদের জন্য (শাস্তির) বাণী অবধারিত হবে তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব, ওরা তো তারা যাদেরকে আমরা বিভ্রান্ত করেছিলাম। তাদেরকে আমরা বিভ্রান্ত করেছিলাম যেমন আমরা বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। আমরা আপনার কাছে দায় মুক্তি চাচ্ছি। তারা তো আমাদের ইবাদাত করত না’।
উহাদেরকে বলা হইবে, ‘তোমাদের দেবতাগুলিকে আহ্বান কর।’ তখন ইহারা উহাদেরকে ডাকিবে। কিন্তু উহারা ইহাদের ডাকে সাড়া দিবে না। ইহারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করিবে। হায়! ইহারা যদি সৎপথ অনুসরণ করিত।
অক্বীলাদ্'উ শুরাকা-য়াকুম্ ফাদা'আওহুম্ ফালাম্ ইয়াস্তাজ্বীবূ লাহুম্ অরয়ায়ুল্ 'আযা-বা লাও আন্নাহুম্ কা-নূ ইয়াহ্তাদূন্।
আর বলা হবে, ‘তোমাদের দেবতাগুলোকে ডাক, অতঃপর তারা তাদেরকে ডাকবে, তখন তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না। আর তারা আযাব দেখতে পাবে। হায়, এরা যদি সৎপথ প্রাপ্ত হত!
আর সেই দিন ইহাদেরকে ডাকিয়া বলিবেন, ‘তোমরা রাসূলগণকে কী জবাব দিয়াছিলে?’
অ ইয়াওমা ইয়ুনা-দীহিম্ ফাইয়াকুলু মা-যা য়আজ্বাব্তুমুল্ র্মুসালীন্।
আর সেদিন তাদেরকে ডেকে বলবেন, ‘তোমরা রাসূলদেরকে কী জবাব দিয়েছিলে’?
সেই দিন সকল তথ্য তাহাদের নিকট হইতে বিলুপ্ত হইবে এবং ইহারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদও করিতে পারিবে না।
ফা'আমিয়াত্ 'আলাইহিমুল্ আম্বা-য়ু ইয়াওমায়িযিন্ ফাহুম্ লা-ইয়াতাসা-য়ালূন্।
অতঃপর সেদিন সকল সংবাদ তাদের কাছ থেকে গোপন হয়ে যাবে, তখন তারা পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করতে পারবে না।
তবে যে ব্যক্তি তওবা করিয়াছিল এবং ঈমান আনিয়াছিল ও সৎকর্ম করিয়াছিল, আশা করা যায় সে সাফল্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।
ফা আম্মা-মান্ তা-বা অআ-মানা অ 'আমিলা ছোয়া-লিহান্ ফা'আসা য় আইঁ ইয়াকূনা মিনাল্ মুফ্লিহীন্।
তবে যে তাওবা করেছিল, ঈমান এনেছিল এবং সৎকর্ম করেছিল, আশা করা যায় সে সাফল্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
তোমার প্রতিপালক যাহা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন, ইহাতে উহাদের কােন হাত নাই। পবিত্র, মহান এবং উহারা যাহাকে শরীক করে তাহা হইতে তিনি ঊর্ধ্বে!
অরব্বুকা ইয়াখ্লুকু মা-ইয়াশা-য়ু অইয়াখ্ তা-র মা-কা-না লাহুমুল্ খিয়ারহ্ সুবহা-নাল্লা-হি অতা'আলা-'আম্মা ইয়ুশ্রিকুন্।
আর তোমার রব যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন, তাদের কোন এখতিয়ার নাই। পবিত্র মহান এবং তারা যা শরীক করে তিনি তা থেকে ঊর্ধ্বে।
আর তোমার প্রতিপালক জানেন ইহাদের অন্তর যাহা গোপন করে এবং ইহারা যাহা ব্যক্ত করে।
অ রব্বুকা ইয়া'লামু মা-তুকিন্নু ছুদূরুহুম্ অমা-ইয়ুলিনূন্।
আর তোমার রব জানেন, তাদের অন্তর যা গোপন করে আর তারা যা প্রকাশ করে।
তিনিই তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই, দুনিয়া ও আখিরাতে সমস্ত প্রশংসা তাঁহারই ; বিধান তাঁহারই ; তোমরা তাঁহারই দিকে প্রত্যাবর্তিত হইবে।
অহুওয়াল্লা-হু লা য় ইলা-হা ইল্লা-হুয়া লাহুল্ হাম্দু ফিল্ ঊলা-অল্আ-খিরতি অলাহুল্ হুক্মু অইলাইহি র্তুজ্বা'ঊন্।
আর তিনিই , তিনি ছাড়া কোন (সত্য) নেই। দুনিয়া ও আখিরাতে সমস্ত প্রশংসা তাঁরই; বিধান তাঁরই। আর তাঁর কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
বল, ‘তোমরা ভাবিয়া দেখিয়াছ কি, যদি রাত্রিকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন, ব্যতীত এমন কোন্ ইলাহ্ আছে, যে তোমাদেরকে আলোক আনিয়া দিতে পারে? তবুও কি তোমরা কর্ণপাত করিবে না?’
কুল্ আরায়াইতুম্ ইন্জ্বা'আলাল্লা-হু 'আলাইকুমুল্ লাইলা র্সামাদান্ ইলা-ইয়াওমিল্ ক্বিয়া-মাতি মান্ ইলা-হুন্ গইরুল্লা-হি ইয়াতীকুম্ বিদ্বিয়া-য়্ আফালা-তাস্মা'ঊন্।
বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি রাতকে তোমাদের উপর কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী করে দেন, তবে তাঁর পরিবর্তে কোন আছে কি যে তোমাদের আলো এনে দেবে? তবুও কি তোমরা শুনবে না’?
বল, ‘তোমরা ভাবিয়া দেখিয়াছ কি, যদি দিবসকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত স্থায়ী করেন, ব্যতীত এমন কোন্ ইলাহ্ আছে, যে তোমাদের জন্য রাত্রির আবির্ভাব ঘটাইবে, যাহাতে তোমরা বিশ্রাম করিতে পার? তবুও কি তোমরা ভাবিয়া দেখিবে না?’
কুল্ আরয়াইতুম্ ইন্ জ্বা'আলাল্লা-হু 'আলাইকুমু ন্নাহা-র র্সামাদান্ ইলা-ইয়াওমিল্ ক্বিয়া-মাতি মান্ ইলা-হুন্ গইরুল্লা-হি ইয়াতীকুম্ বিলাইলিন্ তাস্কুনূনা ফীহ্ আফালা-তুব্ছিরূন্।
বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি দিনকে তোমাদের উপর কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী করে দেন, তবে তাঁর পরিবর্তে কোন আছে কি, যে তোমাদের রাত এনে দেবে যাতে তোমরা বিশ্রাম করবে? তবুও কি তোমরা ভেবে দেখবে না’?
তিনিই তাঁহার দয়ায় তোমাদের জন্য করিয়াছেন রজনী ও দিবস, যেন উহাতে তোমরা বিশ্রাম করিতে পার এবং তাঁহার অনুগ্রহ সন্ধান করিতে পার এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
অর্মি রহমাতিহী জ্বা'আলা লাকুমুল্ লাইলা অন্নাহা-র লিতাস্কুনূ ফীহি অলিতাব্তাগূ মিন্ ফাদ্ব্লিহী অ লা'আল্লাকুম্ তাশ্কুরূন্।
আর তাঁর অনুগ্রহে তিনি তোমাদের জন্য রাত ও দিন করেছেন যাতে তোমরা বিশ্রাম নিতে পার এবং তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং যেন তোমরা শোকর আদায় করতে পার।
সেই দিন তিনি উহাদেরকে আহ্বান করিয়া বলিবেন, ‘তোমরা যাহাদেরকে আমার শরীক গণ্য করিতে তাহারা কোথায়?’
অ ইয়াওমা ইয়ুনা-দীহিম্ ফাইয়াকুলু আইনা শুরাকা-য়িয়াল্ লাযীনা কুন্তুম্ তায্'উমূন্।
আর সেদিন তিনি তাদের ডাকবেন। অতঃপর বলবেন, ‘তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তারা কোথায়’?
প্রত্যেক সম্প্রদায় হইতে আমি একজন সাক্ষী বাহির করিয়া আনিব এবং বলিব, ‘তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর।’ তখন উহারা জানিতে পারিবে, ইলাহ্ হইবার অধিকার রই এবং উহারা যাহা উদ্ভাবন করিত তাহা উহাদের নিকট হইতে অন্তর্হিত হইবে।
অনাযা'না-মিন্ কুল্লি উম্মাতিন্ শাহীদান্ ফাকুল্না- হা-তূ র্বুহা-নাকুম্ ফা'আলিমূ য় আন্নাল্ হাকক্ব লিল্লা-হি অদ্বোয়াল্লা 'আন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়াফ্তারূন্।
আর আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একজন সাক্ষী বের করে নেব। অতঃপর আমি বলব, ‘তোমাদের প্রমাণ নিয়ে আস’। তখন তারা জানতে পারবে যে, নিশ্চয় সত্য আল্লাহর কাছেই এবং তারা যে সব মিথ্যা উদ্ভাবন করত তা তাদের থেকে হারিয়ে যাবে।
কারূন ছিল মূসার সম্প্রদায়ভুক্ত, কিন্তু সে তাহাদের প্রতি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিয়াছিল। আমি তাহাকে দান করিয়াছিলাম এমন ধনভাণ্ডার যাহার চাবিগুলি বহন করা একদল বলবান লোকের পক্ষেও কষ্টসাধ্য ছিল। স্মরণ কর, তাহার সম্প্রদায় তাহাকে বলিয়াছিল, ‘দম্ভ করিও না, নিশ্চয় দাম্ভিকদেরকে পসন্দ করেন না।
ইন্না ক্বা-রূনা কা-না মিন্ ক্বাওমি মূসা- ফাবাগ-'আলাইহিম্ অআ-তাইনা-হু মিনাল্ কুনূযি মা য় ইন্না মাফা-তিহাহূ লাতানূ য় বিল্উছ্বাতি উলিল্ কুওয়াতি ইয্ ক্ব-লা লাহূ ক্বওমুহূ লা-তাফ্রাহ্ ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ুহিব্বুল্ ফারিহীন্।
নিশ্চয় কারূন ছিল মূসার কওমভুক্ত। অতঃপর সে তাদের উপর ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে। অথচ আমি তাকে এমন ধনভান্ডার দান করেছিলাম যে, নিশ্চয় তার চাবিগুলো একদল শক্তিশালী লোকের উপর ভারী হয়ে যেত। স্মরণ কর, যখন তার কওম তাকে বলল, ‘দম্ভ করো না। নিশ্চয় দাম্ভিকদের ভালবাসেন
‘ যাহা তোমাকে দিয়াছেন তদ্দ্বারা আখিরাতের আবাস অনুসন্ধান কর এবং দুনিয়া হইতে তোমার অংশ ভুলিও না; তুমি অনুগ্রহ কর যেমন তোমার প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করিতে চাহিও না। বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে ভালবাসেন না।’
অব্তাগি ফীমা য় আ- তা-কাল্ লা-হুদ্ দা-রল্ আ-খিরতা অলা- তান্সা নাছীবাকা মিনাদ্দুনইয়া-অআহ্সিন্ কামা য় আহ্সানাল্লা-হু ইলাইকা অলা-তাব্গিল্ ফাসা-দা ফিল্ র্আদ্ব্ ইন্নাল্লা-হা-লা- ইয়ুহিব্বুল্ মুফ্সিদীন্।
আর তোমাকে যা দান করেছেন তাতে তুমি আখিরাতের নিবাস অনুসন্ধান কর। তবে তুমি দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না। তোমার প্রতি যেরূপ অনুগ্রহ করেছেন তুমিও সেরূপ অনুগ্রহ কর। আর যমীনে ফাসাদ করতে চেয়ো না। নিশ্চয় ফাসাদকারীদের ভালবাসেন না’।
সে বলিল, ‘এই সম্পদ আমি আমার জ্ঞানবলে প্রাপ্ত হইয়াছি।’ সে কি জানিত না তাহার পূর্বে ধ্বংস করিয়াছেন বহু মানবগোষ্ঠীকে যাহারা তাহা অপেক্ষা শক্তিতে ছিল প্রবল, জনসংখ্যায় ছিল অধিক? অপরাধীদেরকে উহাদের অপরাধ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইবে না।
ক্ব-লা ইন্নামা য় ঊ তীতুহূ 'আলা- 'ইল্মিন্ 'ইন্দী আওয়ালাম্ ইয়া'লাম্ আন্নাল্লা-হা ক্বদ্ আহ্লাকা মিন্ ক্বব্লিহী মিনাল্ ক্ব্ রূনি মান্ হুওয়া আশাদ্দু মিন্হু কুওয়্যাতাঁও অআক্ছারু জ্বাম্'আ- অলা-ইয়ুস্য়ালু 'আন্ যুনূবিহিমুল্ মুজ্ব রিমূন্।
সে বলল, ‘আমি তো এই ধনভান্ডার প্রাপ্ত হয়েছি আমার কাছে থাকা জ্ঞান দ্বারা’। সে কি জানত না যে, তার পূর্বে বহু প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়েছেন, যারা ছিল তার থেকে শক্তিমত্তায় প্রবলতর এবং জনসংখ্যায় অধিক। আর অপরাধীদেরকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে না।
কারূন তাহার সম্প্রদায়ের সম্মুখে উপস্থিত হইয়াছিল জাঁকজমকসহকারে। যাহারা পার্থিব জীবন কামনা করিত তাহারা বলিল, ‘আহা, কারূনকে যেইরূপ দেওয়া হইয়াছে আমাদেরকেও যদি তাহা দেওয়া হইত। প্রকৃতই সে মহাভাগ্যবান।’
ফাখরজ্বা 'আলা-ক্বওমিহী ফী যীনাতিহী ক্ব-লাল্লাযীনা ইয়ুরীদূনাল্ হাইয়া-তাদ্ দুন্ইয়া- ইয়া-লাইতা লানা-মিছ্লা মা য় ঊতিয়া ক্বা-রূনু ইন্নাহূ লাযূ হাজ্জিন্ 'আজীম্।
অতঃপর সে তার কওমের সামনে জাঁকজমকের সাথে বের হল। যারা দুনিয়ার জীবন চাইত তারা বলল, ‘আহা! কারূনকে যেমন দেয়া হয়েছে আমাদেরও যদি তেমন থাকত! নিশ্চয় সে বিরাট সম্পদশালী।’
এবং যাহাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হইয়াছিল তাহারা বলিল, ‘ধিক তোমাদেরকে! যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাহাদের জন্য র পুরস্কারই শ্রেষ্ঠ এবং ধৈর্যশীল ব্যতীত ইহা কেহ পাইবে না।’
অক্ব-লাল লাযীনা ঊ তুল্ 'ইল্মা অইলাকুম্ ছাওয়াবু ল্লা-হি খইরুল্লিমান্ আ-মানা অ'আমিলা ছোয়া-লিহান্ অলা'ইয়ুলাকক্ব-হা য় ইল্লাছ্ ছোয়া-বিরূন্।
আর যারা জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছিল, তারা বলল, ‘ধিক তোমাদেরকে! আল্লাহর প্রতিদানই উত্তম যে ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তার জন্য। আর তা শুধু সবরকারীরাই পেতে পারে।’
অতঃপর আমি কারূনকে তাহার প্রাসাদসহ ভূগর্ভে প্রোথিত করিলাম। তাহার স্বপক্ষে এমন কোন দল ছিল না যে র শাস্তি হইতে তাহাকে সাহায্য করিতে পারিত এবং সে নিজেও আত্মরক্ষায় সক্ষম ছিল না।
ফাখসাফ্না বিহী অবিদা-রিহিল্ র্আদ্বোয়া ফামা- কা-না লাহূ মিন্ ফিয়াতিঁই ইয়ান্ ছুরূনাহূ মিন্ দূনিল্লা-হি অমা-কা-না মিনাল্ মুন্তাছিরীন্।
অতঃপর আমি কারূন ও তার প্রাসাদকে মাটিতে দাবিয়ে দিলাম। তখন তার জন্য এমন কোন দল ছিল না, যে আল্লাহর মোকাবিলায় তাকে সাহায্য করতে পারত এবং সে নিজেও নিজেকে সাহায্য করতে সক্ষম ছিল না।
পূর্বদিন যাহারা তাহার মত হইবার কামনা করিয়াছিল, তাহারা বলিতে লাগিল, ‘দেখিলে তো, তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাহার জন্য ইচ্ছা তাহার রিযিক বর্ধিত করেন এবং যাহার জন্য ইচ্ছা হ্রাস করেন। যদি আমাদের প্রতি সদয় না হইতেন তবে আমাদেরকেও তিনি ভূগর্ভে প্রোথিত করিতেন। দেখিলে তো! কাফিররা হয় না।’
অ আছ্বাহাল্লাযীনা তামান্নাও মাকা-নাহূ বিল্ আম্সি ইয়াকুলূনা অইকায়ান্নাল্লা- হা ইয়াব্সুত্বর্ ু রিয্ক্বা লিমাই ইয়াশা-য়ু মিন্ 'ইবা-দিহী অইয়াকদিরু লাওলা য় আম্মান্নাল্লা-হু 'আলাইনা- লাখসাফা বিনা- অইকায়ান্নাহূ লা-ইয়ুফ্লিহুল্ কা-ফিরূন্।
আর গতকাল যারা তার মত হতে প্রত্যাশা করেছিল তারা বলতে লাগল, ‘আশ্চর্য! দেখলে তো, তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যার জন্য ইচ্ছা রিয্ক প্রসারিত অথবা সংকুচিত করেন। যদি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করতেন তবে আমাদেরকেও তিনি দাবিয়ে দিতেন। দেখলে তো, কাফিররা সফল
ইহা আখিরাতের সেই আবাস যাহা আমি নির্ধারিত করি তাহাদের জন্য যাহারা এই পৃথিবীতে উদ্ধত হইতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করিতে চাহে না। শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য।
তিল্কাদ্দা-রুল্ আ-খিরতু নাজ্ব 'আলুহা- লিল্লাযীনা লা-ইয়ুরীদূনা উলুওয়্যান্ ফিল্ র্আদ্বি অলা-ফাসা-দা- অল্'অক্বিবাতু লিল্মুত্তাক্বীন্।
এই হচ্ছে আখিরাতের নিবাস, যা আমি তাদের জন্য নির্ধারিত করি, যারা যমীনে ঔদ্ধত্য দেখাতে চায় না এবং ফাসাদও চায় না। আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য।
যে কেহ সৎকর্ম লইয়া উপস্থিত হয় তাহার জন্য রহিয়াছে উহা অপেক্ষা উত্তম ফল, আর যে মন্দ কর্ম লইয়া উপস্থিত হয়, তবে যাহারা মন্দ কর্ম করে তাহাদেরকে তাহারা যাহা করিয়াছে উহারই শাস্তি দেওয়া হইবে।
মান্ জ্বা-য়া বিল্ হাসানাতি ফালাহূ খইরুম্ মিন্হা-অমান্ জ্বা-য়া বিস্সাইয়িয়া-তি ফালা- ইয়ুজ্ব যা ল্লাযীনা 'আমিলুস্ সাইয়্যিয়া-তি ইল্লা-মা কা-নূ ইয়া'মালূন্।
কেউ পূণ্য নিয়ে আসলে তার জন্য থাকবে তা থেকে উত্তম প্রতিদান। আর কেউ পাপ নিয়ে আসলে তবে যারা মন্দকর্ম করেছে তাদের শুধু তারই প্রতিদান দেওয়া হবে যা তারা করেছে।
যিনি তোমার জন্য কুরআনকে করিয়াছেন বিধান তিনি তোমাকে অবশ্যই ফিরাইয়া আনিবেন জন্মভূমিতে। বল, ‘আমার প্রতিপালক ভাল জানেন কে সৎপথের নির্দেশ আনিয়াছে এবং কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে।’
ইন্না ল্লাযী ফারাদ্বোয়া 'আলাইকাল্ ক্কর্ আ-না লার-দ্দুকা ইলা-মা'আ-দ্ ক্বর্ রব্বী য় আ'লামু মান্ জ্বা-য়া বিল্হুদা-অমান্ হুওয়া ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।
নিশ্চয় যিনি তোমার প্রতি কুরআনকে বিধানস্বরূপ দিয়েছেন, অবশ্যই তিনি তোমাকে প্রত্যাবর্তনস্থলে* ফিরিয়ে নেবেন। বল, ‘আমার রব বেশী জানেন, কে হিদায়াত নিয়ে এসেছে, আর কে রয়েছে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায়’। * معاد বা প্রত্যাবর্তনস্থল বলতে স্বদেশ অর্থাৎ মক্কা নগরী অথবা
তুমি আশা কর নাই যে, তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ হইবে। ইহা তো কেবল তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ। সুতরাং তুমি কখনও কাফিরদের সহায় হইও না।
অমা-কুন্তা র্তাজ্ব য় আইঁ ইইয়ুল্ক্ব য় ইলাইকাল্ কিতা-বু ইল্লা-রহ্মাতাম্ র্মি রব্বিকা ফালা- তাকূনান্না জোয়াহীরল্ লিল্ কা-ফিরীন্।
আর তুমি আশা করছিলে না যে, তোমার প্রতি কিতাব (কুরআন) নাযিল করা হবে, বরং তা তোমার রবের পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ। অতএব, তুমি কখনো কাফিরদের জন্য সাহায্যকারী হয়ো না।
তোমার প্রতি র আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর উহারা যেন তোমাকে কিছুতেই সেগুলি হইতে বিমুখ না করে। তুমি তোমার প্রতিপালকের দিকে আহ্বান কর এবং কিছুতেই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হইও না।
অলা-ইয়াছুদ্দুন্নাকা 'আন্ আ-ইয়া-তিল্লা-হি বা'দা ইয্ উন্যিলাত্ ইলাইকা ওয়াদ্'ঊ ইলা-রব্বিকা অলা-তাকূনান্না মিনাল্ মুশ্রিকীন্।
আর আল্লাহর আয়াতসমূহ তোমার প্রতি নাযিল হওয়ার পর তারা যেন তোমাকে তা থেকে বিরত রাখতে না পারে, তোমার রবের প্রতি তুমি আহবান কর এবং তুমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
তুমি র সঙ্গে অন্য ইলাহ্কে ডাকিও না, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই। র সত্তা ব্যতীত সমস্ত কিছুই ধ্বংসশীল। বিধান তাঁহারই এবং তাঁহারই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে।
অলা-তাদ্'ঊ মা'আল্লা-হি ইলা-হান্ আ-র্খ লা য় ইলা-হা ইল্লা-হুওয়া কুল্লু শাইয়িন্ হা-লিকুন্ ইল্লা -অজহাহ্ লাহুল্ হুক্মু অইলাইহি র্তুজ্বা'ঊন্।
আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহকে ডেকো না, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) নেই। তাঁর চেহারা (সত্ত্বা)* ছাড়া সব কিছুই ধ্বংসশীল, সিদ্ধান্ত তাঁরই এবং তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। * আয়াতে উল্লিখিত وجه শব্দের অর্থ চেহারা। আল্লাহর চেহারা আছে। আর তাঁর চেহারা যেমন