এই কিতাব অবতীর্ণ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় র নিকট হইতে ।
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম তান্যীলুল্ কিতা-বি মিনাল্লা-হিল্ 'আযীযিল্ হাকীম্।
এই কিতাব অবতীর্ণ আল্লাহর পক্ষ থেকে যিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
Chapter 39, 75 verses
এই কিতাব অবতীর্ণ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় র নিকট হইতে ।
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম তান্যীলুল্ কিতা-বি মিনাল্লা-হিল্ 'আযীযিল্ হাকীম্।
এই কিতাব অবতীর্ণ আল্লাহর পক্ষ থেকে যিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আমি তোমার নিকট এই কিতাব সত্যসহ অবতীর্ণ করিয়াছি। সুতরাং র ‘ইবাদত কর তাঁহার আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হইয়া।
ইন্না য় আন্যাল্না য় ইলাইকাল্ কিতা-বা বিল্হাকক্বি ফা'বুদিল্লা-হা মুখ্লিছোয়াল্ লাহুদ্ দীন্।
নিশ্চয় আমি তোমার কাছে যথাযথভাবে এই কিতাব নাযিল করেছি; অতএব আল্লাহর ‘ইবাদাত কর তাঁরই আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।
জানিয়া রাখ, অবিমিশ্র আনুগত্য রই প্রাপ্য। যাহারা র পরিবর্তে অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তাহারা বলে, ‘আমরা তো ইহাদের পূজা এইজন্যই করি যে, ইহারা আমাদেরকে র সানিধ্যে আনিয়া দিবে।’ উহারা যে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ করিতেছে তাহার ফয়সালা করিয়া দিবেন। যে মিথ্যাবাদী ও , তাহাকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
আলা-লিল্লা-হিদ্ দীনুল্ খ-লিছ্ অল্ লাযীনাত তাখাযূ মিন্ দূনিহী য় আওলিয়া-য়্। মা-না'বুদুহুম্ ইল্লা-লিইয়ুর্ক্বরিবূনা য় ইলাল্লা-হি যুল্ফা- ইন্নাল্লা-হা ইয়াহ্কুমু বাইনাহুম্ ফী মা-হুম্ ফীহি ইয়াখ্তালিফূন্ ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াহ্দী মান্ হুওয়া কা-যিবুন্ কাফ্ফার্-।
জেনে রেখ, আল্লাহর জন্যই বিশুদ্ধ ইবাদাত-আনুগত্য। আর যারা ছাড়া অন্যদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে তারা বলে, ‘আমরা কেবল এজন্যই তাদের ‘ইবাদাত করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে।’ যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে নিশ্চয় সে ব্যাপারে তাদের মধ
সন্তান গ্রহণ করিতে চাহিলে তিনি তাঁহার সৃষ্টির মধ্যে যাহাকে ইচ্ছা বাছিয়া লইতেন। পবিত্র ও মহান তিনি! তিনি , এক, প্রবল পরাক্রমশালী।
লাও আর-দাল্লা-হু আইঁ ইয়াত্তাখিযা অলাদাল্ লাছ্ত্বোয়াফা- মিম্মা-ইয়াখ্লুকু মা-ইয়াশা-য়ু সুব্হা-নাহ্ হুওয়া ল্লা-হুল্ ওয়া-হিদুল্ ক্বহ্হার্-।
যদি সন্তান গ্রহণ করতে চাইতেন, তাহলে তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তা থেকে যাকে ইচ্ছা বেছে নিতেন; কিন্তু তিনি পবিত্র মহান। তিনিই , তিনি এক, প্রবল পরাক্রান্ত।
তিনি যথাযথভাবে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন। তিনি রাত্রি দ্বারা দিবসকে আচ্ছাদিত করেন এবং রাত্রিকে আচ্ছাদিত করেন দিবস দ্বারা। সূর্য ও চন্দ্রকে তিনি করিয়াছেন নিয়মাধীন। প্রত্যেকেই পরিক্রমন করে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত। জানিয়া রাখ, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।
খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বোয়া বিল্হাকক্বি ইয়ুক্বওয়্যিরুল্লাইলা 'আলান নাহা-রি অইয়ুক্বওয়্যিরুন্ নাহা-র 'আলাল্লাইলি অসাখ্খরশ্ শাম্সা অল্ ক্বর্মা কুল্লুইঁ ইয়াজরী লিআজ্বালিম্ মুসাম্মা আলা-হুওয়াল্ 'আযীযুল্ গাফ্ফার্-।
তিনি যথাযথভাবে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। তিনি রাতকে দিনের উপর এবং দিনকে রাতের উপর জড়িয়ে দিয়েছেন এবং নিয়ন্ত্রণাধীন করেছেন সূর্য ও চাঁদকে। প্রত্যেকে এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলছে। জেনে রাখ, তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।
তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন একই ব্যক্তি হইতে। অতঃপর তিনি তাহা হইতে তাহার স্ত্রী সৃষ্টি করিয়াছেন। তিনি তোমাদেরকে দিয়াছেন আট প্রকার আন‘আম তথা চতুষ্পদ জন্তু। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের মাতৃগর্ভের ত্রিবিধ অন্ধকারে পর্যায়ক্রমে সৃষ্টি করিয়াছেন। তিনিই ; তোমাদের প্রতিপালক; সর্বময় কর্তৃত্ব তাঁহারই; তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই। তবে তোমরা মুখ ফিরাইয়া কোথায় চলিয়াছ ?
খলাক্বকুম্ মিন্ নাফ্সিঁও ওয়া-হিদাতিন্ ছুম্মা জ্বা'আলা মিন্হা-যাওজ্বাহা-অ আন্যালা লাকুম্ মিনাল্ আন্'আ-মি ছামা-নিয়াতা আয্ওয়া-জ ইয়াখ্লুকুকুম্ ফী বুতুনি উম্মাহা-তিকুম্ খল্ক্বম্ মিম্ বা'দি খল্ক্বিন্ ফী জুলুমা-তিন্ ছালা-ছ্ যা-লিকুমু ল্লা-হু রব্বুকুম্ লাহুল্ মুল্ক্লা য় ইলা-হা ইল্লা- হুওয়া ফাআন্না-তুছ্রফূন্।
তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক নাফ্স থেকে, তারপর তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং চতুষ্পদ জন্তু থেকে তোমাদের জন্য দিয়েছেন আট জোড়া*; তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেন তোমাদের মাতৃগর্ভে; এক সৃষ্টির পর আরেক সৃষ্টি, ত্রিবিধ অন্ধকারে**; তিনিই ; তোমাদের রব; র
তোমরা অকৃতজ্ঞ হইলে তোমাদের মুখাপেক্ষী নন, তিনি তাঁহার বান্দাদের অকৃতজ্ঞতা পসন্দ করেন না। যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তিনি তোমাদের জন্য ইহাই পসন্দ করেন। একের ভার অন্যে বহন করিবে না। অতঃপর তোমাদের প্রতিপালকের নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং তোমরা যাহা করিতে তিনি তোমাদেরকে তাহা অবহিত করিবেন। অন্তরে যাহা আছে তিনি তাহা সম্যক অবগত।
ইন্ তাক্ফুরূ ফাইন্না ল্লা-হা গনিয়্যুন্ 'আনকুম্ অলা-ইর্য়াদ্বোয়া- লিই'বা-দিহিল্ কুফ্রা অ ইন্ তাশ্কুরূ ইর্য়াদ্বোয়াহু লাকুম্ অলা-তাযিরু ওয়া-যিরাতুঁও ওয়িয্রা উখ্রা- ছুম্মা ইলা-রব্বিকুম্ র্মাজ্বি'উকুম্ ফাইয়ুনাব্বিয়ুকুম্ বিমা-কুন্তুম্ তা'মালূন্ ইন্নাহূ 'আলীমুম্ বিযা-তিস্ সুর্দূ।
তোমরা যদি কর তবে (জেনে রাখ) তোমাদের থেকে অমুখাপেক্ষী; আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য পছন্দ করেন না এবং তোমরা যদি শোকর কর তবে তোমাদের জন্য তিনি তা পছন্দ করেন; আর কোন বোঝা বহনকারী অপরের বোঝা বহন করে না। তারপর তোমাদের রবের দিকেই তোমাদের প্রত্
মানুষকে যখন দুঃখ - দৈন্য স্পর্শ করে তখন সে একনিষ্ঠভাবে তাহার প্রতিপালককে ডাকে। পরে যখন তিনি তাহার প্রতি অনুগ্রহ করেন তখন সে বিস্মৃত হইয়া যায়, তাহার পূর্বে যাহার জন্য সে ডাকিয়াছিল তাঁহাকে এবং সে র সমকক্ষ দাঁড় করায়, অপরকে তাঁহার পথ হইতে বিভ্রান্ত করিবার জন্য। বল, ‘কুফরীর জীবন অবস্থায় তুমি কিছুকাল উপভোগ করিয়া নাও। বস্তুত তুমি জাহান্নামীদের অন্যতম।’
অইযা-মাস্সাল্ ইন্সা-না র্দ্বুরুন্ দা'আ রব্বাহূ মুনীবান্ ইলাইহি ছুম্মা ইযা-খাওয়্যালাহূ নি'মাতাম্ মিন্হু নাসিয়া মা-কা-না ইয়াদ্'ঊ য় ইলাইহি মিন্ ক্ব্ব্লু অজ্বা'আলা লিল্লা-হি আন্দা-দাল্ লিইয়ুদ্বিল্লা 'আন্ সাবীলিহ্ কুল্ তামাত্তা' বিকুফ্রিকা ক্বলীলান্ ইন্নাকা মিন্ আছ্হা-বিন্ নার্-।
আর যখন মানুষকে স্পর্শ করে দুঃখ-দুর্দশা, তখন সে একাগ্রচিত্তে তার রবকে ডাকে, তারপর তিনি যখন তাকে নিজের পক্ষ থেকে নিআমত দান করেন তখন সে ভুলে যায় ইতঃপূর্বে কি কারণে তাঁর কাছে দোয়া করেছিল, আর আল্লাহর সমকক্ষ নির্ধারণ করে, তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য। বল, ‘তো
যে ব্যক্তি রাত্রির বিভিন্ন যামে সিজ্দাবনত হইয়া ও দাঁড়াইয়া আনুগত্য প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তাঁহার প্রতিপালকের অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে, সে কি তাহার সমান, যে তাহা করে না ? বল, ‘যাহারা জানে এবং যাহারা জানে না, তাহারা কি সমান ?’ বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে।
আম্মান্ হুওয়া ক্ব-নিতুন্ আ-না-য়াল্ লাইলি সা-জ্বিদাঁও অ ক্ব-য়িমাইঁ ইয়াহ্যারুল্ আ-খিরতা অ ইর্য়াজু রহ্মাতা রব্বিহ্ কুল্ হাল্ ইয়াস্তাওয়িল্ লাযীনা ইয়া'লামূনা অল্লাযীনা লা-ইয়া'লামূন্ ইন্নামা-ইয়াতাযাক্কারূ ঊলুল্ আল্বা-ব্।
যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে সিদজাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার রব-এর রহমত প্রত্যাশা করে (সে কি তার সমান যে এরূপ করে না) বল, ‘যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান?’ বিবেকবান লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে।
বল, ‘হে আমার বান্দাগণ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। যাহারা এই দুনিয়াতে কল্যাণকর কাজ করে তাহাদের জন্য আছে কল্যাণ। আর র যমীন প্রশস্ত, ধৈর্যশীল - দেরকে তো অপরিমিত পুরস্কার দেওয়া হইবে।’
কুল্ ইয়া-'ইবা-দিল্লাযীনা আ-মানুত্তাকু রব্বাকুম্ লিল্লাযীনা আহ্সানূ ফী হা-যিহিদ্ দুন্ইয়া-হাসানাহ্অ র্আদুল্লা-হি ওয়া- সি'আহ্ইন্নামা ইয়ুওয়াফ্ফাছ্ ছোয়া-বিরূনা আজরহুম্ বিগইরি হিসা-ব্।
বল, ‘হে আমার বান্দারা যারা ঈমান এনেছ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর। যারা এ দুনিয়ায় ভাল কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ। আর আল্লাহর যমীন প্রশস্ত, কেবল ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেয়া হবে কোন হিসাব ছাড়াই।’
বল, আমি তো আদিষ্ট হইয়াছি, র আনুগত্যে একনিষ্ঠ হইয়া তাঁহার ‘ইবাদত করিতে;
কুল্ ইন্নী য় উর্মিতু আন্ আ'বুদা ল্লা-হা মুখ্লিছোয়াল্ লাহুদ্ দীন্।
বল, ‘নিশ্চয় আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমি যেন আল্লাহর ইবাদাত করি তাঁর-ই জন্য আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে’।
‘আর আদিষ্ট হইয়াছি, আমি যেন আত্মসমর্পণকারীদের অগ্রণী হই।’
অ উর্মিতু লিআন্ আকূনা আউয়্যালাল্ মুস্লিমীন্।
‘আমাকে আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন আমি প্রথম মুসলিম হই।’
বল, ‘আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হই, তবে আমি ভয় করি মহাদিবসের শাস্তির।’
কুল্ ইন্নী য় আখ-ফু ইন্ 'আছোয়াইতু রব্বী 'আযা-বা ইয়াওমিন্ 'আজীম্।
বল, ‘আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই তবে আমি এক মহাদিবসের আযাবের আশঙ্কা করি।’
বল, ‘আমি ‘ইবাদত করি রই তাঁহার প্রতি আমার আনুগত্যকে একনিষ্ঠ রাখিয়া।
কুলিল্লা-হা আ'বুদু মুখ্লিছোয়াল্ লাহূ দ্বীনী।
বল, ‘আমি আল্লাহর-ই ইবাদাত করি, তাঁরই জন্য আমার আনুগত্য একনিষ্ঠ করে।’
‘আর তোমরা র পরিবর্তে যাহার ইচ্ছা তাহার ‘ইবাদত কর।’ বল, ‘ক্ষতিগ্রস্ত তাহারাই যাহারা কিয়ামতের দিন নিজেদের ও নিজেদের পরিজনবর্গের ক্ষতিসাধন করে। জানিয়া রাখ, ইহাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।’
ফা'বুদূ মা-শিতুম্ মিন্ দূনিহ্ কুল্ ইন্নাল্ খ-সিরীনাল্ লাযীনা খসিরূ য় আন্ফুসাহুম্ অআহ্লীহিম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ আলা-যা-লিকা হুওয়াল্ খুস্র-নুল্ মুবীন্।
‘অতএব তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য যা কিছুর ইচ্ছা তোমরা ‘ইবাদাত কর’। বল, ‘নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত যারা কিয়ামত দিবসে নিজদেরকে ও তাদের পরিবারবর্গকে ক্ষতিগ্রস্ত পাবে। জেনে রেখ, এটাই স্পষ্ট ক্ষতি’।
তাহাদের জন্য থাকিবে তাহাদের ঊর্ধ্বদিকে অগ্নির আচ্ছাদন এবং নিম্নদিকেও আচ্ছাদন। এতদ্দ্বারা তাঁহার বান্দাদেরকে সতর্ক করেন। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা আমাকে ভয় কর।
লাহুম্ মিন্ ফাওক্বিহিম্ জুলালুম্ মিনান্না-রি অমিন্ তাহ্তিহিম্ জুলাল্ যা-লিকা ইয়ুখওয়্যিফুল্লা-হু বিহী 'ইবা-দাহ্ ইয়া-'ইবা-দি ফাত্তাকুন্।
তাদের জন্য তাদের উপরের দিকে থাকবে আগুনের আচ্ছাদন আর তাদের নিচের দিকেও থাকবে (আগুনের) আচ্ছাদন; এদ্বারা তাঁর বান্দাদেরকে ভয় দেখান। ‘হে আমার বান্দারা, তোমরা আমাকেই ভয় কর’।
যাহারা তাগূতের পূজা হইতে দূরে থাকে এবং র অভিমুখী হয়, তাহাদের জন্য আছে সুসংবাদ। অতএব সুসংবাদ দাও আমার বান্দাদেরকে -
অল্লাযীনা জতানাবূতত্বোয়া-গূতা আইঁ ইয়া'বুদূহা-অআনা-বূ য় ইলাল্লা-হি লাহুমুল্ বুশ্রা-ফাবার্শ্শি 'ইবা-দ্।
আর যারা তাগূতের উপাসনা পরিহার করে এবং অভিমুখী হয় তাদের জন্য আছে সুসংবাদ; অতএব আমার বান্দাদেরকে সুসংবাদ দাও।
যাহারা মনোযোগ সহকারে কথা শুনে এবং উহার মধ্যে যাহা উত্তম তাহা গ্রহণ করে। উহাদেরকে সৎপথ প্রর্দশন করেন এবং উহারাই বোধশক্তিসম্পন্ন।
আল্লাযীনা ইয়াস্তামি'ঊ নাল্ ক্বওলা ফাইয়াত্তাবি'ঊনা আহ্সানাহ্ উলা-য়িকাল্ লাযীনা হাদা-হুমুল্লা-হু অ উলা- য়িকাহুম্ ঊলুল্ আল্বা-ব্।
যারা মনোযোগ সহকারে কথা শোনে অতঃপর তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে তাদেরকেই হিদায়াত দান করেন আর তারাই বুদ্ধিমান।
যাহার উপর দণ্ডাদেশ অবধারিত হইয়াছে; তুমি কি রক্ষা করিতে পারিবে সেই ব্যক্তিকে, যে জাহান্নামে আছে?
আফামান্ হাকক্ব 'আলাইহি কালিমাতুল্ 'আযা-ব্ আফায়ান্তা তুন্ক্বিযু মান্ ফিন্নার্-।
যার ব্যাপারে আযাবের হুকুম সাব্যস্ত হয়েছে, তুমি কি তাকে উদ্ধার করতে পারবে, যে আছে জাহান্নামে?
তবে যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাহাদের জন্য আছে বহু প্রাসাদ যাহার উপর নির্মিত আরও প্রাসাদ, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; ইহা র ওয়াদা, ওয়াদা খেলাফ করেন না।
লা-কিনিল্ লাযীনাত্ তাক্বও রব্বাহুম্ লাহুম্ গুরাফুম্ মিন্ ফাওক্বিহা-গুরাফুম্ মাব্নিয়্যাতুন্ তাজরী মিন্ তাহ্তিহাল্ আন্হার্- ওয়া'দাল্লা-হ্ লা-ইয়ুখ্লিফুল্লা-হুল্ মী'আ-দ্।
কিন্তু যারা নিজদের রবকে ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে কক্ষসমূহ যার উপর নির্মিত আছে আরো কক্ষ। তার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত। এটি আল্লাহর ওয়াদা; ওয়াদা খেলাফ করেন না।
তুমি কি দেখ না, আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন, অতঃপর উহা ভূমিতে নির্ঝররূপে প্রবাহিত করেন এবং তদ্দ্বারা বিবিধ বর্ণের ফসল উৎপন্ন করেন, অতঃপর ইহা শুকাইয়া যায় ? ফলে তোমরা ইহা পীতবর্ণ দেখিতে পাও, অবশেষে তিনি উহা খড় - কুটায় পরিণত করেন। ইহাতে অবশ্যই উপদেশ রহিয়াছে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্য।
আলাম্ তারা আন্নাল্লা-হা আন্যালা মিনাস্ সামা-য়ি মা-য়ান্ ফাসালাকাহূ ইয়ানা-বী'আ ফিল্ র্আদ্বি ছুম্মা ইয়ুখ্রিজু বিহী র্যা'আম্ মুখ্তালিফান্ আল্ওয়া- নুহূ ছুম্মা ইয়াহীজু ফাতার-হু মুর্ছ্ফারান্ ছুম্মা ইয়াজ্ব্ 'আলুহূ হুত্বোয়া-মা- ইন্না ফী যা-লিকা লাযিক্রা- লিঊলিল্ আল্বা-ব্।
তুমি কি দেখ না, আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর যমীনে তা প্রস্রবন হিসেবে প্রবাহিত করেন তারপর তা দিয়ে নানা বর্ণের ফসল উৎপন্ন করেন, তারপর তা শুকিয়ে যায়। ফলে তোমরা তা দেখতে পাও হলুদ বর্ণের তারপর তিনি তা খড়-খুটায় পরিণত করেন। এতে অবশ্যই উপদেশ রয়েছে বুদ
ইসলামের জন্য যাহার বক্ষ উন্মুক্ত করিয়া দিয়াছেন এবং যে তাহার প্রতিপালক - প্রদত্ত আলোতে রহিয়াছে, সে কি তাহার সমান যে এরূপ নয় ? দুর্ভোগ সেই কঠোরহৃদয় ব্যক্তিদের জন্য যাহারা র স্মরণে পরাঙ্মুখ! উহারা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে।
আফামান্ শারহাল্লা-হু ছোয়াদ্রহূ লিল্ইস্লা-মি ফাহুওয়া 'আলা-নূরিম্ র্মি রব্বিহ ফাওয়াইলুল্লিল্ ক্ব-সিয়াতি কুলূবুহুম্ মিন্ যিকরিল্লা-হ্ উলা-য়িকা ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।
ইসলামের জন্য যার বক্ষ খুলে দিয়েছেন ফলে সে তার রবের পক্ষ থেকে নূরের উপর রয়েছে, (সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়?) অতএব ধ্বংস সে লোকদের জন্য যাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেছে আল্লাহর স্মরণ থেকে। তারা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিপতিত।
অবতীর্ণ করিয়াছেন উত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব যাহা সুসমঞ্জস এবং যাহা পুনঃ পুনঃ আবৃত্তি করা হয়। ইহাতে, যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে ভয় করে, তাহাদের গাত্র রোমাঞ্চিত হয়, অতঃপর তাহাদের দেহমন বিনম্র হইয়া র স্মরণে ঝুঁকিয়া পড়ে। ইহাই র পথনির্দেশ, তিনি উহা দ্বারা যাহাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। যাহাকে বিভ্রান্ত করেন তাহার কোন পথপ্রদর্শক নাই।
আল্লা-হু নায্যালা আহ্স্নাল্ হাদীছি কিতা-বাম্ মুতাশা-বিহাম্ মাছা-নিয়া তাক্ব্শ্ইর্'রু মিন্হু জুলূ দুল্লাযীনা ইয়াখ্শাওনা রব্বাহুম্ ছুম্মা তালীনু জুলূদুহুম্ অকুলূবুহুম্ ইলা-যিক্রিল্লা-হ্ যা-লিকা হুদাল্লা-হি ইয়াহ্দী বিহী মাইঁ ইয়াশা-য়্ অমাইঁ ইয়ুদ্ব্লিলিল্লা-হু ফামা-লাহূ মিন্ হা-দ্।
নাযিল করেছেন উত্তম বাণী, সাদৃশ্যপূর্ণ একটি কিতাব (আল কুরআন), যা বারবার আবৃত্তি করা হয়। যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের গা এতে শিহরিত হয়, তারপর তাদের দেহ ও মন আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়ে যায়। এটা আল্লাহর হিদায়াত, তিনি যাকে চান তাকে এর দ্বারা হিদায়াত করে
যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তাহার মুখমণ্ডল দ্বারা কঠিন শাস্তি ঠেকাইতে চাইবে, সে কি তাহার মত যে নিরাপদ? জালিমদেরকে বলা হইবে, ‘তোমরা যাহা অর্জন করিতে তাহার শাস্তি আস্বাদন কর।’
আফামাইঁ ইয়াত্তাক্বী বিঅজ্ব্হিহী সূ-য়াল্ 'আযা-বি ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ অক্বীলা লিজ জোয়া-লিমীনা যূকুমা-কুন্তুম্ তাক্সিবূন্।
যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার মুখমন্ডল দ্বারা কঠিন আযাব ঠেকাতে চাইবে (সে কি তার মত যে শাস্তি থেকে নিরাপদ?) আর যালিমদেরকে বলা হবে, ‘তোমরা যা অর্জন করতে, তার স্বাদ আস্বাদন কর।
উহাদের পূর্ববর্তিগণও অস্বীকার করিয়াছিল, ফলে শাস্তি এমনভাবে উহাদেরকে গ্রাস করিল যে, উহারা ধারণাও করিতে পারে নাই।
কায্যাবাল লাযীনা মিন্ ক্বব্লিহিম্ ফাআতা-হুমুল্ 'আযা-বু মিন্ হাইছু লা-ইয়াশ্ 'ঊরূন্।
তাদের পূর্বে যারা ছিল, তারাও অস্বীকার করেছিল, ফলে তাদের প্রতি এমন ভাবে আযাব এসেছিল যে, তারা অনুভব করতে পারেনি।
ফলে উহাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা ভোগ করাইলেন এবং আখিরাতের শাস্তি তো কঠিনতর। যদি ইহারা জানিত!
ফাআযা-ক্বাহুমু ল্লা-হুল্ খিয্ইয়া-ফিল্ হাইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া-অলা'আযা-বুল্ আ-খিরতি আকর্বা। লাও কা-নূ ইয়া'লামূন্।
ফলে তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা আস্বাদন করালেন, আর আখিরাতের আযাব নিশ্চয় আরো বড়, যদি তারা জানত।
আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য সর্বপ্রকার দৃষ্টান্ত উপস্থিত করিয়াছি, যাহাতে উহারা উপদেশ গ্রহণ করে,
অলাক্বদ্ দ্বোয়ারব্না-লিন্না-সি ফী হা-যাল্ ক্বর্ ুআ-নি মিন্ কুল্লি মাছালিল্ লা'আল্লাহুম্ ইয়াতাযাক্কারূন্।
আর নিশ্চয় আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য প্রত্যেক প্রকার দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।
আরবী ভাষায় এই কুরআন বক্রতামুক্ত, যাহাতে মানুষ সাবধানতা অবলম্বন করে।
ক্বর্ আ-নান্ 'আরাবিয়্যান্ গইর যী 'ইওয়াজ্বিল্লা'আল্লা-হুম্ ইয়াত্তাকূূন্।
বক্রতামুক্ত আরবী কুরআন। যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে।
একটি দৃষ্টান্ত পেশ করিতেছেন : এক ব্যক্তির প্রভু অনেক, যাহারা পরস্পর বিরুদ্ধভাবাপন্ন এবং আর এক ব্যক্তির প্রভু কেবল একজন; এই দুইজনের অবস্থা কি সমান ? প্রশংসা রই প্রাপ্য ; কিন্তু উহাদের অধিকাংশই ইহা জানে না।
দ্বোয়ারাবাল্লা-হু মাছার্লা রাজুলান্ ফীহি শুরকা-য়ু মুতাশা-কিসূনা অরজুলান্ সালামাল্লি রজু ল্ হাল্ ইয়াস্তাওয়্যিইয়া-নি মাছালা- আল্হাম্দু লিল্লা-হি বাল্ আক্ছারুহুম্ লা-ইয়া'লামূন্।
একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন : এক ব্যক্তি যার মনিব অনেক, যারা পরস্পর বিরোধী; এবং আরেক ব্যক্তি, যে এক মনিবের অনুগত, এ দু’জনের অবস্থা কি সমান? সকল প্রশংসা আল্লাহর; কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।
তুমি তো মরণশীল এবং উহারাও মরণশীল।
ইন্নাকা মাইয়্যিতুঁও অইন্নাহুম্ মাইয়্যিতূন্।
নিশ্চয় তুমি মরণশীল এবং তারাও মরণশীল।
অতঃপর কিয়ামত দিবসে তোমরা তো পরস্পর তোমাদের প্রতিপালকের সম্মুখে বাকবিতণ্ডা করিবে।
ছুম্মা ইন্নাকুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি 'ইন্দা রব্বিকুম্ তাখ্তাসিমূন্।
তারপর কিয়ামতের দিন নিশ্চয় তোমরা তোমাদের রবের সামনে ঝগড়া করবে।
যে ব্যক্তি সম্বন্ধে মিথ্যা বলে এবং সত্য আসিবার পর উহা অস্বীকার করে তাহার অপেক্ষা অধিক আর কে? কাফিরদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়?
ফামান্ আজ্লামু মিম্মান্ কাযাবা আলা ল্লা-হি অকায্যাবা বিছ্ছিদ্ক্বি ইয্ জ্বা-য়াহ্ আলাইসা ফী জ্বাহান্নামা মাছ্ওয়া ল্লিল্ কা-ফিরীন্।
সুতরাং তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে, যে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে এবং তার কাছে সত্য আসার পর তা অস্বীকার করে? জাহান্নামেই কি কাফিরদের আবাসস্থল নয়?
যাহারা সত্য আনিয়াছে এবং যাহারা সত্যকে সত্য বলিয়া মানিয়াছে তাহারাই তো ।
অল্লাযী জ্বা-য়া বিছ্ছিদ্ক্বি অছোয়াদ্দাক্বা বিহী য়উলা-য়িকা হুমুল্ মুত্তাকুন্।
আর যে সত্য নিয়ে এসেছে এবং যে তা সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাই হল ।
ইহাদের বাঞ্ছিত সমস্ত কিছুই আছে ইহাদের প্রতিপালকের নিকট। ইহাই সৎকর্মপরায়ণদের পুরস্কার।
লাহুম্ মা-ইয়াশা-য়ূনা 'ইন্দা রব্বিহিম্ যা- লিকা জ্বাযা-য়ুল্ মুহ্সিনীন্।
তাদের জন্য তাদের রবের কাছে তা-ই রয়েছে যা তারা চাইবে। এটাই মুমিনদের পুরস্কার।
যাহাতে ইহারা যেসব মন্দ কর্ম করিয়াছিল তাহা ক্ষমা করিয়া দেন এবং ইহাদেরকে ইহাদের সৎকর্মের জন্য পুরস্কৃত করেন।
লিইয় কাফ্ফিরাল্লা-হু 'আন্হুম্ আস্ওয়া আল্লাযী 'আমিলূ ওয়াইয়াজযিয়াহুম্ আজরহুম্ বি আহ্সানিল্ লাযী কা-নূ ইয়া'মালূন্।
যাতে তারা যেসব মন্দ কাজ করেছিল, তা ঢেকে দেন এবং তারা যে সর্বোত্তম আমল করত তার প্রতিদানে তাদেরকে পুরস্কৃত করেন।
কি তাঁহার বান্দার জন্য যথেষ্ট নন ? অথচ তাহারা তোমাকে র পরিবর্তে অপরের ভয় দেখায়। যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাহার কােন পথপ্রর্দশক নাই।
আলাইসাল্লা-হু বিকা-ফিন্ 'আব্দাহ্ অ ইয়ুখাওয়্যিফূনাকা বিল্লাযীনা মিন্ দূনিহ্ অমাইঁ ইয়্যুদ্ব্লিলিল্লা-হু ফামা-লাহূ মিন্ হা-দ্।
কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? অথচ তারা তোমাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের ভয় দেখায়। আর যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোন হিদায়াতকারী নেই।
এবং যাহাকে হিদায়াত করেন তাহার জন্য কোন পথভ্রষ্টকারী নাই; কি পরাক্রমশালী, দণ্ডবিধায়ক নন ?
অ মাই ইয়াহ্দিল্লা-হু ফামা-লাহূ মিম্ মুদ্বিল্ আলাইসা ল্লা-হু বি 'আযীযিন্ যিন্ তিক্ব-ম্।
আর যাকে হিদায়াত করেন, তার জন্য কোন পথভ্রষ্টকারী নেই। কি মহাপরাক্রমশালী প্রতিশোধ গ্রহণকারী নন?
তুমি যদি ইহাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করিয়াছেন? উহারা অবশ্যই বলিবে, ‘।’ বল, ‘তোমরা ভাবিয়া দেখিয়াছ কি, আমার অনিষ্ট চাহিলে তোমরা র পরিবর্তে যাহাদেরকে ডাক তাহারা কি সেই অনিষ্ট দূর করিতে পারিবে ? অথবা তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করিতে চাহিলে তাহারা কি সেই অনুগ্রহকে রোধ করিতে পারিবে ?’ বল, ‘আমার পক্ষে ই যথষ্টে।’ নির্ভরকারীগণ রই উপর নির্ভর করে।
অ লায়িন্ সায়াল্তাহুম্ মান্ খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া লাইয়াকু লুন্না ল্লা-হ্ কুল্ আফারয়াইতুম্ মা-তাদ্'ঊনা মিন্ দূনিল্লা-হি ইন্ আর-দানিয়াল্লা-হু বিদ্বর্ রিন্ হাল্ হুন্না কা-শিফা-তু র্দুরিহী য় আও আর-দানী বিরহ্মাতিন্ হাল্ হুন্না মুম্সিকা-তু রহ্মাতিহ্ কুল্ হাস্বিয়াল্লা-হ্ 'আলাইহি ইয়াতাওয়াক্কালুল্ মুতাওয়াক্কিলূন্।
আর তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, কে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে ‘’। বল, ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ- আমার কোন ক্ষতি চাইলে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাক তারা কি সেই ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমাকে রহমত করতে চাইলে তারা সেই
বল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা স্ব স্ব অবস্থায় কাজ করিতে থাক, আমিও আমার কাজ করিতেছি। শীঘ্রই জানিতে পারিবে -
কুল্ ইয়া-ক্বওমি'মালূ 'আলা-মাকা-নাতিকুম্ ইন্নী 'আমিলুন্ ফাসাওফা তা'লামূন্।
বল, ‘হে আমার কওম, তোমরা তোমাদের স্থলে কাজ করে যাও, নিশ্চয় আমিও আমার কাজ করব। অতঃপর শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে’।
‘কাহার উপর আসিবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি আর আপতিত হইবে তাহার উপর স্থায়ী শাস্তি।’
মাইঁইয়াতীহি আযা বুইঁইয়ুখ্যীহি অ ইয়াহিল্লু 'আলাইহি 'আযা-বুম্ মুক্বীম্।
কার উপর লাঞ্ছনাদায়ক আযাব আসবে এবং কার উপর স্থায়ী আযাব আপতিত হবে?
আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছি মানুষের জন্য; অতঃপর যে সৎপথ অবলম্বন করে সে তাহা করে নিজেরই কল্যাণের জন্য এবং যে বিপথগামী হয় সে তো বিপথগামী হয় নিজেরই ধ্বংসের জন্য এবং তুমি উহাদের তত্বাবধায়ক নও।
ইন্না য় আন্যাল্না- 'আলাইকাল্ কিতা-বা লিন্না-সি বিল্হাকক্বি ফামানিহ্ তাদা-ফালিনাফ্সিহী অমান্ দ্বোয়াল্লা ফাইন্নামা-ইয়াদ্বিল্লু 'আলাইহা- অমা য় আন্তা 'আলাইহিম্ বিঅকীল্।
নিশ্চয় আমি তোমার প্রতি যথাযথভাবে কিতাব নাযিল করেছি মানুষের জন্য; তাই যে সৎপথ অবলম্বন করে, সে তা নিজের জন্যই করে এবং যে পথভ্রষ্ট হয় সে নিজের ক্ষতির জন্যই পথভ্রষ্ট হয়। আর তুমি তাদের তত্ত্বাবধায়ক নও।
ই প্রাণ হরণ করেন জীবসমূহের তাহাদের মৃত্যুর সময় এবং যাহাদের মৃত্যু আসে নাই তাহাদের প্রাণও নিদ্রার সময়। অতঃপর তিনি যাহার জন্য মৃত্যুর সিদ্ধান্ত করেন তাহার প্রাণ তিনি রাখিয়া দেন এবং অপরগুলি ফিরাইয়া দেন, এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।
আল্লা-হু ইয়াতাওয়াফ্ফাল্ আন্ফুসা হীনা মাওতিহা-অল্লাতী লাম্ তামুত্ ফী মানা-মিহা-ফাইয়ুম্সিকুল্ লাতী ক্বাদ্বোয়া- 'আলাইহাল্ মাওতা অইর্য়ুসিলুল্ উখ্র য় ইলা য় আজ্বালিম্ মুসাম্মা ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্ লিক্বওমিঁই ইয়া তাফাক্কারূন্।
জীবসমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মরেনি তাদের নিদ্রার সময়। তারপর যার জন্য তিনি মৃত্যুর ফয়সালা করেন তার প্রাণ তিনি রেখে দেন এবং অন্যগুলো ফিরিয়ে দেন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল কওমের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।
তবে কি উহারা ব্যতীত অপরকে সুপারিশকারী ধরিয়াছে ? বল, ‘উহাদের কোন ক্ষমতা না থাকিলেও এবং উহারা না বুঝিলেও ?’
আমিত্তাখযূ মিন্ দূনিল্লা-হি শুফা'আ-য়্ কুল্ আওয়ালাও কা-নূ লা-ইয়াম্লিকূনা শাইয়াঁও অলা-ইয়া'ক্বিলূন্।
তবে কি তারা ছাড়া অন্যদেরকে সুপারিশকারী বানিয়েছে? বল, ‘তারা কোন কিছুর মালিক না হলেও এবং তারা না বুঝলেও’?
বল, ‘সকল সুপারিশ রই ইখ্তিয়ারে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব রই, অতঃপর তাঁহারই নিকট তোমরা প্রত্যানীত হইবে।’
কুল্ লিল্লা-হিশ্ শাফা- 'আতু জ্বামী'আন লাহূ মুল্কুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ ছুম্মা ইলাইহি র্তুজ্বা'ঊন।
বল, ‘সকল সুপারিশ আল্লাহর মালিকানাধীন। আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব একমাত্র তাঁরই। তারপর তোমরা তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তিত হবে’।
শুধু এক র কথা বলা হইলে যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয় এবং র পরিবর্তে উপাস্যগুলির উল্লেখ করা হইলে তাহারা আনন্দে উল্লসিত হয়।
অইযা-যুকিরাল্লা-হু ওয়াহ্দাহুশ্ মায়ায্যাত্ কুলূবুল্ লাযীনা লা-ইযুমিনূনা বিল্আ-খিরতি অইযা-যুকিরাল্ লাযীনা মিন্ দূনিহী য় ইযা-হুম্ ইয়াস্তাব্শিরূন্।
যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, এক আল্লাহর কথা বলা হলে তাদের অন্তর সঙ্কুচিত হয়ে যায়। আর ছাড়া অন্য উপাস্যগুলোর কথা বলা হলে তখনই তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়।
বল, ‘হে ! আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তোমার বান্দাগণ যে বিষয়ে মতবিরোধ করে, তুমি তাহাদের মধ্যে উহার ফয়সালা করিয়া দিবে।’
কুলি ল্লা-হুম্মা ফা-ত্বিরস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বি 'আ-লিমাল্ গইবি অশ্শাহা-দাতি আন্তা তাহ্কুমু বাইনা 'ইবা-দিকা ফী মা-কা-নূ ফীহি ইয়াখ্তালিফূন্।
বল, ‘হে , আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা, ও উপস্থিত বিষয়াদির জ্ঞানী; তুমি তোমার বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবে যাতে তারা মতবিরোধ করছে’।
যাহারা জুলুম করিয়াছে যদি তাহাদের থাকে, দুনিয়ায় যাহা আছে তাহা সম্পূর্ণ এবং ইহার সমপরিমাণ সম্পদও, তবে কিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তি হইতে মুক্তিপণস্বরূপ সেই সকলই তাহারা দিয়া দিবে এবং তাহাদের জন্য র নিকট হইতে এমন কিছু প্রকাশিত হইবে যাহা উহারা কল্পনাও করে নাই।
অলাও আন্না লিল্লাযীনা জোয়ালামূ মা-ফিল্ র্আদ্বি জ্বামী'আঁও অমিছ্লাহূ মা'আহূ লাফ্তাদাও বিহী মিন্ সূ-য়িল্ 'আযা-বি ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ অ বাদা-লাহুম্ মিনাল্লা-হি মা-লাম্ ইয়াকূনূ ইয়াহ্তাসিবূন্।
আর যারা যুলম করেছে, যদি যমীনে যা আছে তা সব এবং এর সমপরিমাণও তাদের জন্য হয়; তবে কিয়ামতের দিন কঠিন আযাব থেকে বাঁচার জন্য মুক্তিপণস্বরূপ তারা তা দিয়ে দেবে। সেখানে আল্লাহর কাছে থেকে তাদের জন্য এমন কিছু প্রকাশিত হবে, যা তারা কখনো কল্পনাও করত না।
উহাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল উহাদের নিকট প্রকাশ হইয়া পড়িবে এবং উহারা যাহা লইয়া ঠাট্টা - বিদ্রপ করিত তাহা উহাদেরকে পরিবেষ্টন করিবে।
অবাদা-লাহুম্ সাইয়িয়া-তু মা-কাসাবূ অহা-ক্বা বিহিম্ িমা-কা-নূ বিহী ইয়াস্তাহ্যিয়ূন্।
আর তারা যা অর্জন করেছিল তার মন্দ ফল তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত তা-ই তাদেরকে পরিবেষ্টন করবে।
মানুষকে বিপদ - আপদ স্পর্শ করিলে সে আমাকে আহ্বান করে; অতঃপর যখন আমি আমার কোন নিয়ামত দ্বারা তাহাকে অনুগৃহীত করি তখন সে বলে, ‘আমাকে তো ইহা দেওয়া হইয়াছে আমার জ্ঞানের কারণে।’ বস্তুত ইহা এক পরীক্ষা, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই বুঝে না।
ফাইযা মাস্সাল্ ইন্সা-না র্দ্বুরুন দা'আ-না- ছুম্মা ইযা-খাওয়্যাল্না-হু নি'মাতাম্ মিন্না-ক্ব-লা ইন্নামা য় ঊতীতুহূ 'আলা-'ইল্ম্ বাল্ হিয়া ফিত্নাতুঁও অলা-কিন্না আক্ছারহুম্ লা-ইয়া'লামূন্।
অতঃপর কোন বিপদাপদ মানুষকে স্পর্শ করলে সে আমাকে ডাকে। তারপর যখন আমি আমার পক্ষ থেকে নি‘আমত দিয়ে তাকে অনুগ্রহ করি তখন সে বলে, ‘জ্ঞানের কারণেই কেবল আমাকে তা দেয়া হয়েছে’। বরং এটা এক পরীক্ষা। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।
ইহাদের পূর্ববর্তিগণও ইহাই বলিত, কিন্তু উহাদের কৃতকর্ম উহাদের কোন কাজে আসে নাই।
ক্বদ্ ক্ব-লাহাল্লাযীনা মিন্ ক্বব্লিহিম্ ফামা য় আগ্না- 'আন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়াক্সিবূন্।
অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তীরা এটা বলেছিল। কিন্তু তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের কোন কাজে আসেনি।
উহাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল উহাদের উপর আপতিত হইয়াছে, উহাদের মধ্যে যাহারা জুলুম করে উহাদের উপরও উহাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল আপতিত হইবে এবং উহারা ব্যর্থও করিতে পারিবে না।
ফাআছোয়া-বাহুম্ সাইয়িয়া-তু মা-কাসাবূ অল্লাযীনা জোয়ালামূ মিন্ হা য় উলা-য়ি সাইয়ুছীবুহুম্ সাইয়িয়া-তু মা- কাসাবূ অমা-হুম্ বিমু'জ্বিযীন্।
সুতরাং তাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল তাদের উপর আপতিত হয়েছিল। এদের মধ্যেও যারা যুলম করে তাদের উপরেও তাদের অর্জনের সব মন্দফল শীঘ্রই আপতিত হবে। আর তারা অক্ষম করতে পারবে না।
ইহারা কি জানে না, যাহার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করেন অথবা যাহার জন্য ইচ্ছা সীমিত করেন? ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে সম্প্রদায়ের জন্য।
আওয়া লাম্ ইয়া'লামূ য় আন্নাল্লা-হা ইয়াব্সুত্বর্ রিয্ক্বা লিমাইঁ ইয়াশা-য়ু অইয়াক্বর্ ্দি ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্ লিক্বাওমিঁই ইয়ু'মিনূন্।
তারা কি জানে না, যার জন্য ইচ্ছা করেন রিয্ক প্রশস্ত করে দেন আর সঙ্কুচিত করে দেন? নিশ্চয় এতে সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।
বল, ‘হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যাহারা নিজেদের প্রতি অবিচার করিয়াছ র অনুগ্রহ হইতে নিরাশ হইও না; সমুদয় পাপ ক্ষমা করিয়া দিবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
কুল্ ইয়া-'ইবাদিয়াল্ লাযীনা আস্রাফূ 'আলা য় আন্ফুসিহিম্ লা-তাকনাতু র্মি রহ্মাতিল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা ইয়াগ্ফিরুয্ যুনূবা জামী'আ ইন্নাহূ হুওয়াল্ গফূর্রু রহীম্।
বল, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।
তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হও এবং তাঁহার নিকট আত্মসর্মপণ কর তোমাদের নিকট শাস্তি আসিবার পূর্বে; তৎপর তোমাদেরকে সাহায্য করা হইবে না।
অ আনীবূ য় ইলা-রব্বিকুম্ অআস্লিমূ লাহূ মিন্ ক্বব্লি আঁই ইয়াতিয়াকুমুল্ 'আযা-বু ছুম্মা লা-তুন্ছোয়ারূন্।
আর তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তোমাদের উপর আযাব আসার পূর্বেই তার কাছে আত্মসমর্পণ কর। তার (আযাব আসার) পরে তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না।
অনুসরণ কর তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে উত্তম যাহা অবতীর্ণ করা হইয়াছে তাহার, তোমাদের উপর অতর্কিতভাবে তোমাদের অজ্ঞাতসারে শাস্তি আসিবার পূর্বে -
অত্তাবি'ঊ য় আহ্সানা মা য়উন্যিলা ইলাইকুম্ র্মি রব্বিকুম্ মিন্ ক্বাব্লি আইঁ ইয়াতিয়াকুমুল্ 'আযা-বু বাগ্তাতাঁও অআন্তুম্ লা-তাশ্ঊ'রূন্।
আর অনুসরণ কর উত্তম যা নাযিল করা হয়েছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে, তোমাদের উপর অতর্কিতভাবে আযাব আসার পূর্বে। অথচ তোমরা উপলব্ধি করতে পারবে না।
যাহাতে কাহাকেও বলিতে না হয়, ‘হায়! র প্রতি আমার কর্তব্যে আমি যে শৈথিল্য করিয়াছি তাহার জন্য আফসোস! আমি তো ঠাট্টাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।’
আন্ তাক্বূ লা নাফ্সুঁই ইয়া-হাস্রতা- 'আলা- মা-র্ফারত্ তু ফী জ্বাম্বি ল্লা-হি অইন্ কুন্তু লামিনাস্ সা-খিরীন্।
যাতে কাউকেও বলতে না হয়, ‘হায় আফসোস! আল্লাহর হক আদায়ে আমি যে শৈথিল্য করেছিলাম তার জন্য। আর আমি কেবল ঠাট্টা-বিদ্রূপকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলাম’।
অথবা কেহ যেন না বলে, আমাকে পথপ্রদর্শন করিলে আমি তো অবশ্যই মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হইতাম।’
আও তাকুলা লাও আন্নাল্লা-হা হাদা-নী লাকুন্তু মিনাল্ মুত্তাক্বীন্।
অথবা যাতে কাউকে একথাও বলতে না হয়, ‘ যদি আমাকে হিদায়াত দিতেন তাহলে অবশ্যই আমি মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম’।
অথবা শাস্তি প্রত্যক্ষ করিলে যেন কাহাকেও বলিতে না হয়, ‘আহা, যদি একবার পৃথিবীতে আমার প্রত্যাবর্তন ঘটিত তবে আমি সৎকর্মপরায়ণ হইতাম!’
আও তাকুলা হীনা তারল্ 'আযা-বা লাও আন্না লী র্কারতান্ ফাআকূনা মিনাল্ মুহ্সিনীন্।
অথবা আযাব প্রত্যক্ষ করার সময় যাতে কাউকে একথাও বলতে না হয়, ‘যদি একবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ আমার হত, তাহলে আমি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম’।
প্রকৃত ব্যাপার তো এই যে, আমার নিদর্শন তোমার নিকট আসিয়াছিল, কিন্তু তুমি এইগুলিকে মিথ্যা বলিয়াছিলে ও অহংকার করিয়াছিলে; আর তুমি তো ছিলে কাফিরদের একজন।
বালা-ক্বদ্ জ্বা-য়াত্কা আ-ইয়া-তী ফাকায্যাব্তা বিহা-অস্তার্ক্বাতা অকুন্তা মিনাল্ কা-ফিরীন্।
হ্যাঁ, অবশ্যই তোমার কাছে আমার নিদর্শনাবলী এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলোকে অস্বীকার করেছিলে এবং তুমি অহঙ্কার করেছিলে। আর তুমি কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।
যাহারা র প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, তুমি কিয়ামতের দিন তাহাদের মুখ কালো দেখিবে। উদ্ধতদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয় ?
অইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি তারল্ লাযীনা কাযাবূ 'আলাল্লা-হি উজু হুহুম্ মুস্ওয়াদ্দাহ্ আলাইসা ফী জ্বাহান্নামা মাসওয়াল্ লিল্মুতাকাব্বিরীন্।
আর যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে কিয়ামতের দিন তুমি তাদের চেহারাগুলো কালো দেখতে পাবে। অহঙ্কারীদের বাসস্থান জাহান্নামের মধ্যে নয় কি?
মুত্তাকীদেরকে উদ্ধার করিবেন তাহাদের সাফল্যসহ; তাহাদেরকে অমঙ্গল স্পর্শ করিবে না এবং তাহারা দুঃখিতও হইবে না।
অইয়ুনাজ্জ্বিল্লা হুল্-লাযীনাত্ তাক্বও বিমাফা-যাতিহিম্ লা-ইয়ামাস্সুহুমুস্ সূ-য়ু অলা-হুম্ ইয়াহ্যানূন্।
আর মুত্তাকীদেরকে তাদের সাফল্যসহ নাজাত দেবেন। কোন অমঙ্গল তাদেরকে স্পর্শ করবে না। আর তারা চিন্তিতও হবে না।
সমস্ত কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সমস্ত কিছুর কর্মবিধায়ক।
আল্লা-হু খ-লিকু কুল্লি শাইয়ি্যঁও অহুঅ 'আলা-কুল্লি শাইয়্যিঁও অকীল্।
সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সব কিছুর তত্ত্বাবধায়ক।
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কুঞ্জি তাঁহারই নিকট। আর যাহারা র আয়াতকে অস্বীকার করে তাহারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।
লাহূ মাক্ব-লীদুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ অল্লাযীনা কাফারূবিআ-ইয়া-তিল্লা-হি উলা য় য়িকা হুমুল্ খ-সিরূন্।
আসমানসমূহ ও যমীনের চাবিসমূহ তাঁরই কাছে। আর যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
বল, ‘হে অজ্ঞ ব্যক্তিরা ! তোমরা কি আমাকে ব্যতীত অন্যের ‘ইবাদত করিতে বলিতেছ ?’
কুল্ আফাগাইরল্লা-হি তামুরূ-ন্নী য় আ'বুদু আইয়ুহাল্ জ্বা-হিলূন্ ।
বল, ‘হে অজ্ঞরা, তোমরা কি আমাকে ছাড়া অন্যের ইবাদাত করার আদেশ করছ’?
তোমার প্রতি ও তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই ওহী হইয়াছে, ‘তুমি র শরীক স্থির করিলে তোমার কর্ম তো নিষ্ফল হইবে এবং অবশ্যই তুমি হইবে ক্ষতিগ্রস্ত।
অলাক্বদ্ ঊহিয়া ইলাইকা অ ইলাল্লাযীনা মিন্ ক্বব্লিকা লায়িন্ আশ্রক্তা লাইয়াহ্বাত্বোয়ান্না 'আমালুকা অলাতাকূনান্না-মিনাল্ খ-সিরীন্।
আর অবশ্যই তোমার কাছে এবং তোমার পূর্ববর্তীদের কাছে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, তুমি শির্ক করলে তোমার কর্ম নিষ্ফল হবেই। আর অবশ্যই তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
‘অতএব তুমি রই ‘ইবাদত কর এবং কৃতজ্ঞ হও।’
বালিল্লা-হা ফা'বুদ্ অকুঁম্ মিনাশ্ শা-কিরীন্।
বরং তুমি আল্লাহরই ইবাদাত কর এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হও।
উহারা র যথোচিত সম্মান করে না। কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী থাকিবে তাঁহার হাতের মুষ্টিতে এবং আকাশমণ্ডলী থাকিবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁহার দক্ষিণ হস্তে। পবিত্র ও মহান তিনি, উহারা যাহাকে শরীক করে তিনি তাহার ঊর্ধ্বে।
অমা-ক্বদারুল্লা-হা হাকক্বা ক্বদ্রিহী অল্আরদু জ্বামী'আন্ ক্বাব্দ্বোয়াতুহূ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি অস্সামা-ওয়া-তু মাত্ব্ওয়িয়্যা-তুম্ বিইয়ামীনিহ্ সুব্হা-নাহূ অতা'আ-লা-'আম্মা-ইয়ুশ্রিকূন্।
আর তারা আল্লাহকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি। অথচ কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবীই থাকবে তাঁর মুষ্টিতে এবং আকাশসমূহ তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা থাকবে। তিনি পবিত্র, তারা যাদেরকে শরীক করে তিনি তাদের ঊর্ধ্বে।
এবং শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে, ফলে যাহাদেরকে ইচ্ছা করেন তাহারা ব্যতীত আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সকলে মূর্ছিত হইয়া পড়িবে। অতঃপর আবার শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে, তৎক্ষণাৎ উহারা দণ্ডায়মান হইয়া তাকাইতে থাকিবে।
অনুফিখ ফিছ্ ছূরি ফাছোয়া'ইক্ব মান্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমান্ ফিল্ র্আদ্বি ইল্লা-মান্ শা-য়াল্লা-হ্ ছুম্মা নুফিখ ফীহি উখ্র-ফাইযা-হুম্ ক্বিয়া-মুইঁ ইয়ান্জুরূন্।
আর শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। ফলে যাদেরকে ইচ্ছা করেন তারা ছাড়া আসমানসমূহে যারা আছে এবং পৃথিবীতে যারা আছে সকলেই বেহুঁশ হয়ে পড়বে। তারপর আবার শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন তারা দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।
বিশ্ব উহার প্রতিপালকের জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হইবে, আমলনামা পেশ করা হইবে এবং নবীগণকে ও সাক্ষিগণকে উপস্থিত করা হইবে এবং সকলের মধ্যে ন্যায়বিচার করা হইবে ও তাহাদের প্রতি জুলুম করা হইবে না।
অ আশ্রক্বতিল্ র্আদু বিনূরির্ ব্বিহা-অউদ্বি'আল্ কিতা-বূ অজ্বী-য়া বিন্নাবিয়্যীনা অশ্শুহাদা-য়ি অকুদ্বিয়া বাইনাহুম্ বিল্ হাকক্বি অহুম্ লা -ইয়ুজ্লামূন্।
আর যমীন তার রবের নূরে আলোকিত হবে, আমলনামা উপস্থিত করা হবে এবং নবী ও সাক্ষীগণকে আনা হবে, তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করা হবে। এমতাবস্থায় যে, তাদের প্রতি যুলম করা হবে না।
প্রত্যেকের কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেওয়া হইবে। উহারা যাহা করে সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।
অউফ্ফিয়াত্ কুল্লু নাফ্সিম্ মা-'আমিলাত্ অহুওয়া আ'লামু বিমা-ইয়াফ্'আলূন্।
আর প্রত্যেককে তার আমলের পূর্ণ প্রতিফল দেয়া হবে এবং তারা যা করে সে সম্পর্কে তিনিই সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।
কাফিরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকাইয়া লইয়া যাওয়া হইবে। যখন উহারা জাহান্নামের নিকট উপস্থিত হইবে তখন ইহার প্রবেশদ্বারগুলি খুলিয়া দেওয়া হইবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা উহাদেরকে বলিবে, ‘তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য হইতে রাসূল আসে নাই যাহারা তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের আয়াত আবৃত্তি করিত, এবং এই দিনের সাক্ষাৎ সম্বন্ধে তোমাদেরকে সতর্ক করিত?’ উহারা বলিবে, ‘অবশ্যই আসিয়াছিল।’ বস্তুত কাফিরদের প্রতি শাস্তির কথা বাস্তবায়িত হইয়াছে।
অসীক্বল্লাযীনা কাফারূ য় ইলা-জ্বাহান্নামা যুমারা- হাত্তা য় ইযা-জ্বা-য়ূহা-ফুতিহাত্ আব্ওয়া বুহা-অক্ব-লা লাহুম্ খযানাতুহা য় আলাম্ ইয়াতিকুম্ রুসুলুম্ মিন্কুম্ ইয়াত্লূনা 'আলাইকুম্ আ-ইয়া-তি রব্বিকুম্ অইয়ুন্যিরূনাকুম্ লিক্ব-য়া ইয়াওমিকুম্ হা-যা- ক্ব-লূ বালা-অলা-কিন্ হাক্ব্ক্বত কালিমাতুল্ আযা-বি 'আলাল্ কা-ফিরীন্।
আর কাফিরদেরকে দলে দলে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে তারা যখন জাহান্নামের কাছে এসে পৌঁছবে তখন তার দরজাগুলো খুলে দেয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, ‘তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে কি রাসূলগণ আসেনি, যারা তোমাদের কাছে তোমাদের রবে
উহাদেরকে বলা হইবে, ‘জাহান্নামের দ্বারসমূহে প্রবেশ কর উহাতে স্থায়িভাবে অবস্থিতির জন্য। কত নিকৃষ্ট উদ্ধতদের আবাসস্থল!’
ক্বীলাদ্ খুলূ য় আব্ওয়া-বা জ্বাহান্নামা খা-লিদীনা ফীহা-ফাবিসা মাছ্ওয়াল্ মুতাকাব্বিরীন্।
বলা হবে, ‘তোমরা জাহান্নামের দরজাসমূহে প্রবেশ কর, তাতেই স্থায়ীভাবে থাকার জন্য। অতএব অহঙ্কারীদের আবাসস্থল কতই না নিকৃষ্ট’!
যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে ভয় করিত তাহাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে লইয়া যাওয়া হইবে। যখন তাহারা জান্নাতের নিকট উপস্থিত হইবে ও ইহার দ্বারসমূহ খুলিয়া দেওয়া হইবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাহাদেরকে বলিবে, ‘তোমাদের প্রতি ‘সালাম’, তোমরা সুখী হও এবং জান্নাতে প্রবেশ কর স্থায়িভাবে অবস্থিতির জন্য।’
অসীক্বল্ লাযী নাত্ তাক্বও রব্বাহুম্ ইলাল্ জ্বান্নাতি যুমারা- হাত্তা য় ইযা-জ্বা-য়ুহা-অফুতিহাত্ আব্ওয়া-বুহা-অক্ব-লা লাহুম্ খাযানাতুহা-সালা-মুন্ 'আলাইকুম্ ত্বিব্তুম্ ফাদ্খুলূহা-খা-লিদীন্।
আর যারা তাদের রবকে ভয় করেছে তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে তারা যখন সেখানে এসে পৌঁছবে এবং এর দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে তখন জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, ‘তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা ভাল ছিলে। অতএব স্থায়ীভাবে থাকার জন্য এখানে প্রবেশ কর
তাহারা প্রবেশ করিয়া বলিবে, ‘প্রশংসা র যিনি আমাদের প্রতি তাঁহার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করিয়াছেন এবং আমাদেরকে অধিকারী করিয়াছেন এই ভূমির; আমরা জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা বসবাস করিব।’ সদাচারীদের পুরস্কার কত উত্তম!
অক্ব-লুল্ হাম্দু লিল্লা-হিল্ লাযী ছদাক্বানা ওয়া'দাহূ অ আওরছানাল্ র্আদ্বোয়া নাতাবাওয়্যায়ু মিনাল্ জ্বান্নাতি হাইছু নাশা-য়ু ফানি'মা আজরুল্ 'আ-মিলীন্।
আর তারা বলবে, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের প্রতি তার ওয়াদাকে সত্য করেছেন। আর আমাদেরকে যমীনের অধিকারী করেছেন। আমরা জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা বসবাসের জায়গা করে নেব। অতএব (নেক) আমলকারীদের প্রতিফল কতইনা উত্তম’!
এবং তুমি ফিরিশ্তাদেরকে দেখিতে পাইবে যে, উহারা ‘আরশের চতুষ্পার্শ্বে ঘিরিয়া উহাদের প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতেছে। আর তাহাদের বিচার করা হইবে ন্যায়ের সঙ্গে। বলা হইবে, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক র প্রাপ্য।
অ তারল্ মালা-য়িকাতা হা-ফ্ফীনা মিন্ হাওলিল্ 'র্আশি ইয়ুসাব্বিহূনা বিহাম্দি রব্বিহিম্ অকুদ্বিয়া বাইনাহুম্ বিল্ হাকক্বি অক্বীলাল্ হাম্দু লিল্লা-হি রব্বিল্ আ-লামীন্।
আর তুমি ফেরেশতাদেরকে আরশের চারপাশ ঘিরে তাদের রবের প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করতে দেখতে পাবে। আর তাদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গতভাবে বিচার করে দেয়া হবে এবং বলা হবে ‘সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য’।