যখন আকাশ বিদীর্ণ হইবে,
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ইযাস্ সামা-য়ুন্ শাকক্বত্।
যখন ফেটে (চুর্ণ বিচুর্ণ হয়ে) যাবে আকাশ,
যখন আসমান ফেটে যাবে।
Chapter 84, 25 verses
যখন আকাশ বিদীর্ণ হইবে,
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ইযাস্ সামা-য়ুন্ শাকক্বত্।
যখন ফেটে (চুর্ণ বিচুর্ণ হয়ে) যাবে আকাশ,
যখন আসমান ফেটে যাবে।
ও তাহার প্রতিপালকের আদেশ পালন করিবে এবং ইহাই তাহার করণীয়।
অআযিনাত্ লিরব্বিহা-অহুকক্বত্
এবং সে তার প্রভুর ফরমান পালন করবে, আর তা করাটাই তার জন্যে হক (বাস্তব)।
আর তার রবের নির্দেশ পালন করবে এবং এটাই তার করণীয়।
এবং পৃথিবীকে যখন সম্প্রসারিত করা হইবে।
অইযাল্ র্আদুমুদ্দাত্।
এবং যখন পৃথিবীকে করে দেয়া হবে প্রসারিত।
আর যখন যমীনকে সম্প্রসারিত করা হবে।
ও পৃথিবী তাহার অভ্যন্তরে যাহা আছে তাহা বাহিরে নিক্ষেপ করিবে ও শূন্যগর্ভ হইবে।
অআল্ক্বত্ মা-ফীহা-অতাখল্লাত্।
আর তার ভেতরে যা কিছু ছিলো, সব বাইরে নিক্ষেপ করে সে খালি হয়ে যাবে।
আর তার মধ্যে যা রয়েছে তা নিক্ষেপ করবে এবং খালি হয়ে যাবে।
এবং তাহার প্রতিপালকের আদেশ পালন করিবে, ইহাই তাহার করণীয়; তখন তোমরা পুনরুত্থিত হইবেই।
অআযিনাত্ লিরব্বিহা-অহুকক্বত্।
এভাবে সে তার রবের হুকুম পালন করবে, আর তা করাটাই তার জন্যে হক (বাস্তব)।
আর তার রবের নির্দেশ পালন করবে এবং এটাই তার করণীয়।
হে মানুষ! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট পৌঁছা পর্যন্ত কঠোর সাধনা করিয়া থাক, পরে তুমি তাঁহার সাক্ষাৎ লাভ করিবে।
ইয়া য় আইয়ুহাল্ ইন্সা-নু ইন্নাকা কা-দিহুন্ ইলা-রব্বিকা কাদ্হান্ ফামুলাক্বীহ্।
হে মানুষ! তুমি তোমার (ভালো - মন্দ) কৃতকর্মের বোঝা নিয়ে ফিরে চলছো তোমরা মালিকের দিকে। এ এক অবধারিত প্রত্যাবর্তন। সামনে এগিয়েই তাঁর সাথে মুলাকাত (সাক্ষাত) করবে।
হে মানুষ, তোমার রব পর্যন্ত (পৌঁছতে) অবশ্যই তোমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। অতঃপর তুমি তাঁর সাক্ষাৎ পাবে।
যাহাকে তাহার ‘আমলনামা তাহার দক্ষিণ হস্তে দেওয়া হইবে
ফা আম্মা-মান্ ঊতিয়া কিতা-বাহূ বিইয়ামীনিহী।
সেখানে যার কিতাব (কৃতকর্মের রেকর্ড বা আমলনামা) দেয়া হবে তার ডান হাতে,
অতঃপর যাকে তার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে;
তাহার হিসাব - নিকাশ সহজেই লওয়া হইবে
ফাসাওফা ইয়ুহা-সাবু হিসা-বাইঁ ইয়াসীরন।
তার কাছ থেকে নেয়া হবে একটা সহজ হিসাব,
অত্যন্ত সহজভাবেই তার হিসাব-নিকাশ করা হবে।
এবং সে তাহার স্বজনদের নিকট প্রফুল্লচিত্তে ফিরিয়া যাইবে;
অ ইয়ান্ক্বলিবু ইলা-আহ্লিহী মাস্রূর-
এবং সে তার পরিবার - পরিজনের কাছে ফিরে যাবে হাসি খুশি, আনন্দ উৎফুল্ল চিত্তে।
আর সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে আনন্দিত হয়ে ফিরে যাবে।
এবং যাহাকে তাহার ‘আমলনামা তাহার পৃষ্ঠের পশ্চাৎদিক হইতে দেওয়া হইবে
অ আম্মা-মান ঊতিয়া কিতা-বাহূ অর-য়া জোয়াহ্ রিহী।
তবে যার কিতাব (কৃতকর্মের রেকর্ড বা আমলনামা) দেয়া হবে তার পেছন দিক থেকে,
আর যাকে তার আমলনামা পিঠের পেছনে দেয়া হবে,
সে অবশ্য তাহার ধ্বংস আহ্বান করিবে;
ফাসাওফা ইয়াদ্ ঊ' ছুবূরও।
সে ডাকবে মৃত্যুকে,
অতঃপর সে ধ্বংস আহবান করতে থাকবে।
এবং জ্বলন্ত অগ্নিতে প্রবেশ করিবে;
অ ইয়াছ্লা- সা'ঈরা-।
এবং সে প্রবেশ করবে সায়ীরে (জলন্ত আগুনে)।
আর সে জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।
সে তো তাহার স্বজনদের মধ্যে আনন্দে ছিল,
ইন্নাহূ কা-না ফী য় আহ্লিহী মাস্রূরা-।
সে তো (দুনিয়ার জীবনে) তার পরিবার - পরিজনদের মধ্যে থাকতো আনন্দে মেতে।
নিশ্চয় সে তার পরিবার-পরিজনদের মধ্যে আনন্দে ছিল।
সে তো ভাবিত যে, সে কখনই ফিরিয়া যাইবে না;
ইন্নাহূ জোয়ান্না আল্লাইঁ ইয়ার্হূ।
নিশ্চয়ই সে মনে করতো, তার কখনো ফিরে আসতে হবেনা (আমার কাছে)।
নিশ্চয় সে মনে করত যে, সে কখনো ফিরে যাবে না।
নিশ্চয়ই ফিরিয়া যাইবে; তাহার প্রতিপালক তাহার উপর সবিশেষ দৃষ্টি রাখেন।
বালা য় ইন্না রব্বাহূ কা-না বিহী বাছীরা-।
হ্যাঁ, অবশ্যি (তাকে ফিরে আসতেই হবে), কখনো তাকে দৃষ্টির আড়াল করেননি তার প্রভু।
হ্যাঁ, নিশ্চয় তার রব তার প্রতি সম্যক দৃষ্টি দানকারী।
আমি শপথ করি অস্তরাগের,
ফালা য় উকসিমু বিশ্শাফাক্বি
আমি শপথ করছি অস্ত লালিমার,
অতঃপর আমি কসম করছি পশ্চিম আকাশের লালিমার।
এবং রাত্রির আর উহা যাহা কিছুর সমাবেশ ঘটায় তাহার,
অল্লাইলি অমা-অসাক্ব।
শপথ করছি রাতের, আর সে তার অন্ধকারে যা কিছুর সমাবেশ ঘটায় (সেগুলোর)।
আর রাতের কসম এবং রাত যা কিছুর সমাবেশ ঘটায় তার।
এবং শপথ চন্দ্রের, যখন ইহা পূর্ণ হয়;
অল্ক্বামারি ইযাত্তাসাক্ব।
শপথ করছি চাঁদের, যখন সে উপনীত হয় পূর্ণিমায়।
আর চাঁদের কসম, যখন তা পরিপূর্ণ হয়।
নিশ্চয় তোমরা ধাপে ধাপে আরোহণ করিবে।
লার্তাকাবুন্না ত্বোয়াবাক্বন্ 'আন্ ত্বোয়াবাক।
নিশ্চয়ই তোমরা আরোহণ করতে থাকবে এক তবকা (স্তর) থেকে আরেক তবকায়।
অবশ্যই তোমরা এক স্তর থেকে অন্য স্তরে আরোহণ করবে।
সুতরাং উহাদের কি হইল যে, উহারা ঈমান আনে না
ফামা-লাহুম্ লা-ইয়ুমিনূনা।
সুতরাং তাদের হলো কি যে, তারা ঈমান আনে না?
অতএব তাদের কী হল যে, তারা ঈমান আনছে না?
এবং উহাদের নিকট কুরআন পাঠ করা হইলে উহারা সিজ্দা করে না?
অইযা-কুরিয়া 'আলাইহিমুল্ কুরআ-নু লা-ইয়াস্জুদুন্।
এবং যখন তাদের কাছে কুরআন পেশ করা হয়, তখন সাজদা করেনা (অবনত হয়না)? (সাজদা)
আর যখন তাদের কাছে কুরআন তিলাওয়াত করা হয় তখন তারা সিজদা করে না।[সাজদাহ]
পরন্তু কাফিরগণ উহাকে অস্বীকার করে।
বালিল্লাযীনা কাফারূ ইয়ুকায্যিবূন্।
বরং যারা কুফরির পথ অবলম্বন করে, তারা (এই কুরআনকে) অস্বীকার করে।
বরং কাফিররা অস্বীকার করে।
এবং উহারা যাহা পোষণ করে তাহা সবিশেষ অবগত।
অল্লা-হু আ'লামু বিমা-ইয়ু'ঊন্।
অথচ আল্লাহই অধিক জানেন (তারা তাদের আমলনামায়) কী জমা করছে?
আর তারা যা অন্তরে পোষণ করে তা সবিশেষ পরিজ্ঞাত।
সুতরাং উহাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও;
ফাবার্শ্শিহুম্ বি'আযা-বিন্ আলীমিন্।
সুতরাং তাদেরকে সংবাদ দাও যন্ত্রনাদায়ক আযাবের।
অতএব তুমি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও।
কিন্তু যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাহাদের জন্য রহিয়াছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।
ইল্লাল্লাযীনা আ-মানূ অ'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি লাহুম্ আজরুন্ গইরু মাম্নূন্।
তবে যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে, তাদের জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।
কিন্তু যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন প্রতিদান।