You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
আল মুমতাহিনা
Chapter 60, 13 verses
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বাংলা উচ্চারণ
আবদুস শহীদ নাসিম
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হে মু’মিনগণ ! তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিও না, তোমরা উহাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা প্রেরণ করিতেছ, অথচ উহারা, তোমাদের নিকট যে সত্য আসিয়াছে, তাহা প্রত্যাখ্যান করিয়াছে, রাসূলকে এবং তোমাদেরকে বহিষ্কার করিয়াছে এই কারণে যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালক তে বিশ্বাস কর। যদি তোমরা আমার পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে এবং আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য বহির্গত হইয়া থাক, তবে কেন তোমরা উহাদের সঙ্গে গোপনে বন্ধুত্ব করিতেছ? তোমরা যাহা গোপন কর এবং তোমরা যাহা প্রকাশ কর তাহা আমি সম্যক অবগত। তোমাদের মধ্যে যে কেহ ইহা করে সে তো বিচ্যুত হয় সরল পথ হইতে।
হে লোকেরা! তোমরা আমার শত্রু এবং তোমাদের শত্রুকে অলি (বন্ধু ও পৃষ্ঠপোষক) হিসেবে গ্রহণ করোনা। তোমরা কি তাদের কাছে বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাচ্ছো? অথচ তোমাদের কাছে যে সত্য এসেছে তারা তার প্রতি কুফুরি করেছে। তোমরা তোমাদের প্রভু আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছো বলে তারা আল্লাহর রসূলকে এবং তোমাদেরকেও দেশ থেকে বের করে দিয়েছে। যদি তোমরা আমার পথে জিহাদে এবং আমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে বের হয়ে থাকো, তবে কেন তোমরা গোপনে তাদের সাথে বন্ধুতা করছো? তোমরা যা গোপন করো আর যা প্রকাশ করো, তা আমি জানি। তোমাদের যে কেউ এমন কাজ করে, সে তো সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমাদেরকে কাবু করিতে পারিলে উহারা হইবে তোমাদের শত্রু এবং হস্ত ও রসনা দ্বারা তোমাদের অনিষ্ট সাধন করিবে এবং কামনা করিবে যে, তোমরাও কর।
কিয়ামতের দিন তোমাদের আত্মীয় - স্বজন এবং সন্তান - সন্ততি তোমাদের কোনো কাজে আসবে না। তোমাদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করে দেবেন। তোমরা যা করো তার প্রতি দৃষ্টি রাখছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমাদের জন্য ইব্রাহীম ও তাহার অনুসারীদের মধ্যে রহিয়াছে উত্তম আদর্শ। যখন তাহারা তাহাদের সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘তোমাদের সঙ্গে এবং তোমরা র পরিবর্তে যাহার ‘ইবাদত কর তাহার সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই। আমরা তোমাদেরকে মানি না। তোমাদের ও আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হইল শত্রুতা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য ; যদি না তোমরা এক তে ঈমান আন।’ তবে ব্যতিক্রম তাহার পিতার প্রতি ইব্রাহীমের উক্তি : ‘আমি নিশ্চয়ই তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিব; এবং তোমার ব্যাপারে র নিকট আমি কোন অধিকার রাখি না।’ ইব্রাহীম ও তাহার অনুসারিগণ বলিয়াছিল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক ! আমরা তোমারই উপর নির্ভর করিয়াছি, তোমারই অভিমুখী হইয়াছি এবং প্রত্যাবর্তন তো তোমারই নিকট।
তোমাদের জন্যে রয়েছে একটি উত্তম আদর্শ ইবরাহিম এবং তার সাথিদের মধ্যে। তারা তাদের কওমকে বলেছিল: ‘তোমাদের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত (পূজা উপাসনা) করো তাদের সাথেও। আমরা তোমাদের অমান্য করছি। তোমাদের এবং আমাদের মাঝে শুরু হলো চিরন্তন শত্রুতা আর বিদ্বেষ যতোদিন না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।’ তবে ব্যতিক্রম শুধু নিজের পিতার প্রতি ইবরাহিমের এই কথাটা: ‘আমি আপনার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে যাবো, তবে আপনার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে কোনো কিছু করার অধিকার রাখিনা।’ ‘‘আমাদের প্রভু! আমরা তোমার প্রতি তাওয়াক্কুল করলাম, আমরা তোমারই অভিমুখী হলাম এবং প্রত্যাবর্তন তো হবে তোমারই কাছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে কাফিরদের পীড়নের পাত্র করিও না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর; তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’
তোমরা যারা আল্লাহর (সন্তুষ্টি) এবং পরকালের (সাফল্য) প্রত্যাশা করো, নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্যে উত্তম আদর্শ। কেউ যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে জেনে রাখুক, নিশ্চয়ই অভাবমুক্ত সপ্রশংসিত।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহাদের সঙ্গে তোমাদের শত্রুতা রহিয়াছে সম্ভবত তাহাদের ও তোমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দিবেন; সর্বশক্তিমান এবং ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
যাদের সাথে তোমাদের শত্রুতা রয়েছে, হয়তো তাদের ও তোমাদের মাঝে বন্ধুতা সৃষ্টি করে দেবেন। সর্বশক্তিমান। পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়াবান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
দীনের ব্যাপারে যাহারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নাই এবং তোমাদেরকে স্বদেশ হইতে বহিষ্কার করে নাই তাহাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করিতে তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। তো ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।
দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে এবং ন্যায়বিচার করতে তোমাদের নিষেধ করেননা। নিশ্চয়ই সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কেবল তাহাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করিতে নিষেধ করেন যাহারা দীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিয়াছে, তোমাদেরকে স্বদেশ হইতে বহিষ্কার করিয়াছে এবং তোমাদের বহিষ্করণে সাহায্য করিয়াছে। উহাদের সঙ্গে যাহারা বন্ধুত্ব করে তাহারা তো ।
তো কেবল তাদের সাথে বন্ধুতা করতেই নিষেধ করেন, যারা দীনের কারণে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং তোমাদের বের করে দিতে সাহায্য করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুতা করে তারা যালিম।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হে মু’মিনগণ! তোমাদের নিকট নারীরা হিজরত করিয়া আসিলে তাহাদেরকে পরীক্ষা করিও, তাহাদের ঈমান সম্বন্ধে সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জানিতে পার যে, তাহারা তবে তাহাদেরকে কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠাইও না। নারীগণ কাফিরদের জন্য বৈধ নয় এবং কাফিরগণ নারীদের জন্য বৈধ নয়। কাফিররা যাহা ব্যয় করিয়াছে তাহা উহাদেরকে ফিরাইয়া দিও। অতঃপর তোমরা তাহাদেরকে বিবাহ করিলে তোমাদের কোন অপরাধ হইবে না যদি তোমরা তাহাদেরকে তাহাদের মাহর দাও। তোমরা নারীদের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখিও না। তোমরা যাহা ব্যয় করিয়াছ তাহা ফেরত চাইবে এবং কাফিররা ফেরত চাইবে যাহা তাহারা ব্যয় করিয়াছে। ইহাই র বিধান ; তিনি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করিয়া থাকেন। র্সবজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
হে লোকেরা! নারীরা মুহাজির হয়ে (তোমাদের) কাছে এলে তোমরা তাদের পরীক্ষা করে নিও। তাদের ঈমান সম্পর্কে আল্লাহ্ই অধিক জানেন। তোমরা যদি জানতে পারো, তারা সত্যি মুমিনা, তবে তাদের কাফিরদের কাছে ফেরত পাঠিয়োনা। কারণ তারা কাফিরদের জন্যে হালাল নয়, আর কাফিররাও তাদের জন্যে হালাল নয়। কাফিররা তাদের জন্যে যা (যে মোহরানা) ব্যয় করেছে তা তাদের ফেরত দেবে। অত:পর মোহরানা দিয়ে তাদের বিয়ে করলে তোমাদের কোনো দোষ হবেনা। তোমরা নারীদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রেখোনা। তোমরা তাদের জন্যে যা (যে মোহরানা) ব্যয় করেছো তা ফেরত চাইবে এবং কাফিররাও চাইবে তারা যা ব্যয় করেছে। এটাই আল্লাহর বিধান। তিনি তোমাদের মাঝে ফায়সালা করে দেন। তিনি জ্ঞানী এবং প্রজ্ঞাবান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেহ হাতছাড়া হইয়া কাফিরদের নিকট রহিয়া যায় এবং তোমাদের যদি সুযোগ আসে তখন যাহাদের স্ত্রীগণ হাতছাড়া হইয়া গিয়াছে তাহাদেরকে, তাহারা যাহা ব্যয় করিয়াছে তাহার সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করিবে, ভয় কর কে, যাহাতে তোমরা ।
তোমাদের স্ত্রীদেরকে দেয়া মোহরানার কিছু অংশ যদি তোমরা ফেরত না পাও এবং পরে যদি তোমরা সুযোগ পেয়ে যাও তাহলে যাদের স্ত্রীরা ওদিকে রয়ে গেছে তাদেরকে তাদের দেয়া মোহরানার সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে দাও। তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় করো যাঁর প্রতি তোমরা ()।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হে নবী! নারীগণ যখন তোমার নিকট আসিয়া বায়‘আত করে এই মর্মে যে, তাহারা র সঙ্গে কোন শরীক স্থির করিবে না, চুরি করিবে না, ব্যভিচার করিবে না, নিজেদের সন্তান হত্যা করিবে না, তাহারা সজ্ঞানে কোন অপবাদ রচনা করিয়া রটাইবে না এবং সৎকার্যে তোমাকে অমান্য করিবে না তখন তাহাদের বায়‘আত গ্রহণ করিও এবং তাহাদের জন্য র নিকট ক্ষমা র্প্রাথনা করিও। তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
হে নবী! নারীরা তোমার কাছে এসে বাইয়াত করতে চাইলে এসব শর্তে তাদের বাইয়াত গ্রহণ করে নাও: তারা আল্লাহর সাথে শরিক সাব্যস্ত করবেনা, চুরি করবেনা, জিনা করবেনা, নিজেদের সন্তানদের হত্যা করবেনা, জেনেশুনে অপবাদ রচনা করে রটাবেনা এবং ভালো কাজে তোমার নির্দেশ অমান্য করবেনা। তুমি আল্লাহর কাছে তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল, অতীব দয়াবান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হে মু’মিনগণ ! যে সম্প্রদায়ের প্রতি রুষ্ট তোমরা তাহাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করিও না, উহারা তো পরকাল সম্পর্কে হতাশ হইয়া পড়িয়াছে, যেমন হতাশ হইয়াছে কাফিররা কবরস্থদের বিষয়ে।