You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
আল নিসা
Chapter 4, 176 verses
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
Arabic, with marks
Arabic
Word by word
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হে মানবমণ্ডলী ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হইতেই সৃষ্টি করিয়াছেন ও যিনি তাহা হইতে তাহার স্ত্রী সৃষ্টি করেন, যিনি তাহাদের দুইজন হইতে বহু নর - নারী ছড়াইয়া দেন; এবং আল্লাহকে ভয় কর যাঁহার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা কর, এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতিবন্ধন সম্পর্কে। নিশ্চয়ই তোমাদের উপর তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখেন।
بسم الله الرحمن الرحيم يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالا كثيرا ونساء ۚ واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام ۚ إن الله كان عليكم رقيبا
তোমরা যদি আশংকা কর, ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করিতে পারিবে না, তবে বিবাহ করিবে নারীদের মধ্যে যাহাকে তোমাদের ভাল লাগে, দুই, তিন অথবা চার; আর যদি আশংকা কর যে, সুবিচার করিতে পারিবে না তবে একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকে। ইহাতে পক্ষপাতিত্ব না করার সম্ভাবনা অধিকতর।
তোমাদের সম্পদ, যাহা তোমাদের জন্য উপজীবিকা করিয়াছেন, তাহা নির্বোধ মালিকগণের হাতে অর্পণ করিও না ; উহা হইতে তাহাদের গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থা করিবে এবং তাহাদের সঙ্গে সদালাপ করিবে।
ইয়াতীমদেরকে যাচাই করিবে যে পর্যন্ত না তাহারা বিবাহযোগ্য হয় ; এবং তাহাদের মধ্যে ভাল - মন্দ বিচারের জ্ঞান দেখিলে তাহাদের সম্পদ তাহাদের ফিরাইয়া দিবে। তাহারা বড় হইয়া যাইবে বলিয়া অপচয় করিয়া তাড়াতাড়ি খাইয়া ফেলিও না। যে অভাবমুক্ত সে যেন নিবৃত্ত থাকে এবং যে বিত্তহীন সে যেন সংগত পরিমাণে ভোগ করে। তোমরা যখন তাহাদেরকে তাহাদের সম্পদ সমর্পণ করিবে তখন সাক্ষী রাখিও। হিসাব গ্রহণে ই যথেষ্ট।
وابتلوا اليتامى حتى إذا بلغوا النكاح فإن آنستم منهم رشدا فادفعوا إليهم أموالهم ۖ ولا تأكلوها إسرافا وبدارا أن يكبروا ۚ ومن كان غنيا فليستعفف ۖ ومن كان فقيرا فليأكل بالمعروف ۚ فإذا دفعتم إليهم أموالهم فأشهدوا عليهم ۚ وكفى بالله حسيبا
পিতা - মাতা এবং আত্মীয় - স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষের অংশ আছে এবং পিতা - মাতা ও আত্মীয় - স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীরও অংশ আছে, উহা অল্পই হউক অথবা বেশিই হউক, এক নির্ধারিত অংশ।
তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিতেছেন : এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান, কিন্তু কেবল কন্যা দুই - এর অধিক থাকিলে তাহাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই - তৃতীয়াংশ, আর মাত্র এক কন্যা থাকিলে তাহার জন্য অর্ধাংশ। তাহার সন্তান থাকিলে তাহার পিতা - মাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক - ষষ্ঠাংশ ; সে নিঃসন্তান হইলে এবং পিতা - মাতাই উত্তরাধিকারী হইলে তাহার মাতার জন্য এক - তৃতীয়াংশ ; তাহার ভাই - বোন থাকিলে মাতার জন্য এক - ষষ্ঠাংশ; এ সবই সে যাহা ওসিয়াত করে তাহা দেওয়ার এবং ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও সন্তানদের মধ্যে উপকারে কে তোমাদের নিকটতর তাহা তোমরা অবগত নও। নিশ্চয়ই ইহা র বিধান ; সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
يوصيكم الله في أولادكم ۖ للذكر مثل حظ الأنثيين ۚ فإن كن نساء فوق اثنتين فلهن ثلثا ما ترك ۖ وإن كانت واحدة فلها النصف ۚ ولأبويه لكل واحد منهما السدس مما ترك إن كان له ولد ۚ فإن لم يكن له ولد وورثه أبواه فلأمه الثلث ۚ فإن كان له إخوة فلأمه السدس ۚ من بعد وصية يوصي بها أو دين ۗ آباؤكم وأبناؤكم لا تدرون أيهم أقرب لكم نفعا ۚ فريضة من الله ۗ إن الله كان عليما حكيما
তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশ তোমাদের জন্য, যদি তাহাদের কোন সন্তান না থাকে এবং তাহাদের সন্তান থাকিলে তোমাদের জন্য তাহাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক - চতুর্থাংশ; তাহাদের ওসিয়াত পালন এবং ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের সন্তান না থাকিলে তাহাদের জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক - চতুর্থাংশ, আর তোমাদের সন্তান থাকিলে তাহাদের জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক - অষ্টমাংশ; তোমরা যাহা ওসিয়াত করিবে তাহা দেওয়ার পর এবং ঋণ পরিশোধের পর। যদি পিতা - মাতা ও সন্তানহীন কোন পুরুষ অথবা নারীর উত্তরাধিকারী থাকে তাহার এক বৈপিত্রেয় ভাই অথবা ভগ্নী, তবে প্রত্যেকের জন্য এক - ষষ্ঠাংশ। তাহারা ইহার অধিক হইলে সকলে সমঅংশীদার হইবে এক - তৃতীয়াংশে; ইহা যাহা ওসিয়াত করা হয় তাহা দেওয়ার এবং ঋণ পরিশোধের পর, যদি কাহারও জন্য ক্ষতিকর না হয়। ইহা র নির্দেশ, সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
۞ ولكم نصف ما ترك أزواجكم إن لم يكن لهن ولد ۚ فإن كان لهن ولد فلكم الربع مما تركن ۚ من بعد وصية يوصين بها أو دين ۚ ولهن الربع مما تركتم إن لم يكن لكم ولد ۚ فإن كان لكم ولد فلهن الثمن مما تركتم ۚ من بعد وصية توصون بها أو دين ۗ وإن كان رجل يورث كلالة أو امرأة وله أخ أو أخت فلكل واحد منهما السدس ۚ فإن كانوا أكثر من ذلك فهم شركاء في الثلث ۚ من بعد وصية يوصى بها أو دين غير مضار ۚ وصية من الله ۗ والله عليم حليم
আর কেহ ও তাহার রাসূলের অবাধ্য হইলে এবং তাঁহার নির্ধারিত সীমালংঘন করিলে তিনি তাহাকে দোজখে নিক্ষেপ করিবেন ; সেখানে সে স্থায়ী হইবে এবং তাহার জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি রহিয়াছে।
তোমাদের নারীদের মধ্যে যাহারা ব্যভিচার করে তাহাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হইতে চারজন সাক্ষী তলব করিবে। যদি তাহারা সাক্ষ্য দেয় তবে তাহাদেরকে গৃহে অবরুদ্ধ করিবে, যে পর্যন্ত না তাহাদের মৃত্যু হয় অথবা তাহাদের জন্য অন্য কোন ব্যবস্থা করেন।
তোমাদের মধ্যে যে দুইজন ইহাতে লিপ্ত হইবে তাহাদেরকে শাস্তি দিবে। যদি তাহারা তওবা করে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করিয়া নেয় তবে তাহা হইতে নিবৃত্ত থাকিবে। নিশ্চয়ই পরম তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।
তওবা তাহাদের জন্য নহে যাহারা আজীবন মন্দ কাজ করে, অবশেষে তাহাদের কাহারও মৃত্যু উপস্থিত হইলে সে বলে, ‘আমি এখন তওবা করিতেছি’ এবং তাহাদের জন্যও নহে, যাহাদের মৃত্যু হয় অবস্থায়। ইহারাই তাহারা যাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তির ব্যবস্থা করিয়াছি।
হে ঈমানদারগণ! নারীদেরকে জবরদস্তি উত্তরাধিকার গণ্য করা তোমাদের জন্য বৈধ নহে। তোমরা তাহাদেরকে যাহা দিয়াছ তাহা হইতে কিছু আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে তাহাদেরকে অবরুদ্ধ করিয়া রাখিও না, যদি না তাহারা স্পষ্ট ব্যভিচার করে। তাহাদের সঙ্গে সৎভাবে জীবন যাপন করিবে ; তোমরা যদি তাহাদেরকে অপসন্দ কর তবে এমন হইতে পারে যে, যাহাতে প্রভূত কল্যাণ রাখিয়াছেন তোমরা তাহাকেই অপসন্দ করিতেছ।
يا أيها الذين آمنوا لا يحل لكم أن ترثوا النساء كرها ۖ ولا تعضلوهن لتذهبوا ببعض ما آتيتموهن إلا أن يأتين بفاحشة مبينة ۚ وعاشروهن بالمعروف ۚ فإن كرهتموهن فعسى أن تكرهوا شيئا ويجعل الله فيه خيرا كثيرا
তোমরা যদি এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করা স্থির কর এবং তাহাদের একজনকে অগাধ অর্থও দিয়া থাক, তবুও উহা হইতে কিছুই প্রতিগ্রহণ করিও না। তোমরা কি মিথ্যা অপবাদ এবং প্রকাশ্য পাপাচরণ দ্বারা উহা গ্রহণ করিবে?
তোমাদের জন্য হারাম করা হইয়াছে তোমাদের মাতা, কন্যা, ভগ্নী, ফুফু, খালা, ভ্রাতুষ্পুত্রী, ভাগিনেয়ী, দুগ্ধ - মাতা, দুগ্ধ - ভগিনী, শাশুড়ি ও তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাহার সঙ্গে সংগত হইয়াছ তাহার পূর্ব স্বামীর ঔরসে তাহার গর্ভজাত কন্যা, যাহারা তোমাদের অভিভাবকত্বে আছে, তবে যদি তাহাদের সঙ্গে সংগত না হইয়া থাক, তাহাতে তোমাদের কোন অপরাধ নাই। এবং তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী ও দুই ভগ্নীকে একত্র করা, পূর্বে যাহা হইয়াছে। নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
حرمت عليكم أمهاتكم وبناتكم وأخواتكم وعماتكم وخالاتكم وبنات الأخ وبنات الأخت وأمهاتكم اللاتي أرضعنكم وأخواتكم من الرضاعة وأمهات نسائكم وربائبكم اللاتي في حجوركم من نسائكم اللاتي دخلتم بهن فإن لم تكونوا دخلتم بهن فلا جناح عليكم وحلائل أبنائكم الذين من أصلابكم وأن تجمعوا بين الأختين إلا ما قد سلف ۗ إن الله كان غفورا رحيما
۞ والمحصنات من النساء إلا ما ملكت أيمانكم ۖ كتاب الله عليكم ۚ وأحل لكم ما وراء ذلكم أن تبتغوا بأموالكم محصنين غير مسافحين ۚ فما استمتعتم به منهن فآتوهن أجورهن فريضة ۚ ولا جناح عليكم فيما تراضيتم به من بعد الفريضة ۚ إن الله كان عليما حكيما
তোমাদের মধ্যে কাহারও স্বাধীনা নারী বিবাহের সামর্থ্য না থাকিলে তোমরা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী বিবাহ করিবে; তোমাদের ঈমান সম্বন্ধে পরিজ্ঞাত। তোমরা একে অপরের সমান ; সুতরাং তাহাদেরকে বিবাহ করিবে তাহাদের মালিকের অনুমতিক্রমে এবং তাহাদেরকে তাহাদের মাহ্র ন্যায়সংগতভাবে দিবে। তাহারা হইবে সচ্চরিত্রা, ব্যভিচারিণী নয় ও উপপতি গ্রহণকারিণীও নয়। বিবাহিতা হইবার পর যদি তাহারা ব্যভিচার করে তবে তাহাদের শাস্তি স্বাধীনা নারীর অর্ধেক ; তোমাদের মধ্যে যাহারা ব্যভিচারকে ভয় করে ইহা তাহাদের জন্য ; ধৈর্য ধারণ করা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। ক্ষমাপরায়ণ, পরম দয়ালু।
ومن لم يستطع منكم طولا أن ينكح المحصنات المؤمنات فمن ما ملكت أيمانكم من فتياتكم المؤمنات ۚ والله أعلم بإيمانكم ۚ بعضكم من بعض ۚ فانكحوهن بإذن أهلهن وآتوهن أجورهن بالمعروف محصنات غير مسافحات ولا متخذات أخدان ۚ فإذا أحصن فإن أتين بفاحشة فعليهن نصف ما على المحصنات من العذاب ۚ ذلك لمن خشي العنت منكم ۚ وأن تصبروا خير لكم ۗ والله غفور رحيم
হে মু’মিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করিও না; কিন্তু তোমাদের পরস্পরে রাজী হইয়া ব্যবসায় করা বৈধ; এবং একে অপরকে হত্যা করিও না; নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।
যদ্দ্বারা তোমাদের কাহাকেও কাহারও উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছেন তোমরা তাহার লালসা করিও না। পুরুষ যাহা অর্জন করে তাহা তাহার প্রাপ্য অংশ এবং নারী যাহা অর্জন করে তাহা তাহার প্রাপ্য অংশ। র নিকট তাঁহার অনুগ্রহ প্রার্থনা কর, নিশ্চয়ই সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।
পিতা - মাতা ও আত্মীয় - স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তির প্রত্যেকটির জন্য আমি উত্তরাধিকারী স্থির করিয়াছি এবং যাহাদের সঙ্গে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ তাহাদেরকে তাহাদের অংশ দিবে। নিশ্চয়ই সর্ববিষয়ের দ্রষ্টা।
পুরুষ নারীর কর্তা, কারণ তাহাদের এক - কে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছেন এবং এইজন্য যে, পুরুষ তাহাদের ধন - সম্পদ ব্যয় করে। সুতরাং সাধ্বী স্ত্রীরা অনুগতা এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে যাহা সংরক্ষিত করিয়াছেন, তাহা হিফাযত করে। স্ত্রীদের মধ্যে যাহাদের অবাধ্যতার আশংকা কর তাহাদের সদুপদেশ দাও, তারপর তাহাদের শয্যা বর্জন কর এবং তাহাদেরকে প্রহার কর। যদি তাহারা তোমাদের অনুগত হয় তবে তাহাদের বিরুদ্ধে কোন পথ অন্বেষণ করিও না। নিশ্চয়ই মহান, শ্রেষ্ঠ।
الرجال قوامون على النساء بما فضل الله بعضهم على بعض وبما أنفقوا من أموالهم ۚ فالصالحات قانتات حافظات للغيب بما حفظ الله ۚ واللاتي تخافون نشوزهن فعظوهن واهجروهن في المضاجع واضربوهن ۖ فإن أطعنكم فلا تبغوا عليهن سبيلا ۗ إن الله كان عليا كبيرا
তাহাদের উভয়ের মধ্যে বিরোধ আশংকা করিলে তোমরা তাহার পরিবার হইতে একজন ও উহার পরিবার হইতে একজন সালিস নিযুক্ত করিবে ; তাহারা উভয়ে নিষ্পত্তি চাহিলে তাহাদের মধ্যে মীমাংসার অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করিবেন। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞ, সবিশেষ অবহিত।
তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদত করিবে ও কোন কিছুকে তাঁহার শরীক করিবে না; এবং পিতা - মাতা, আত্মীয় - স্বজন, ইয়াতীম, অভাবগ্রস্ত, নিকট - প্রতিবেশী, দূর - প্রতিবেশী, সঙ্গী - সাথী, মুসাফির ও তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস - দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করিবে। নিশ্চয়ই পসন্দ করেন না দাম্ভিক, অহংকারীকে।
۞ واعبدوا الله ولا تشركوا به شيئا ۖ وبالوالدين إحسانا وبذي القربى واليتامى والمساكين والجار ذي القربى والجار الجنب والصاحب بالجنب وابن السبيل وما ملكت أيمانكم ۗ إن الله لا يحب من كان مختالا فخورا
যাহারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার নির্দেশ দেয় এবং নিজ অনুগ্রহে তাহাদেরকে যাহা দিয়াছেন তাহা গোপন করে, আর আমি আখিরাতে কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছি।
এবং যাহারা মানুষকে দেখাইবার জন্য তাহাদের ধন - সম্পদ ব্যয় করে এবং ও আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহাদেরকে ভালবাসেন না। আর শয়তান কাহারও সঙ্গী হইলে সে সঙ্গী কত মন্দ!
হে মু’মিনগণ! নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হইও না, যতক্ষণ না তোমরা যাহা বল তাহা বুঝিতে পার, এবং যদি তোমরা মুসাফির না হও তবে অপবিত্র অবস্থাতেও নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা গোসল কর। আর যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেহ শৌচস্থান হইতে আসে অথবা তোমরা নারী - সম্ভোগ কর এবং পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করিবে এবং মাসেহ্ করিবে মুখমণ্ডল ও হাত, নিশ্চয়ই পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল।
يا أيها الذين آمنوا لا تقربوا الصلاة وأنتم سكارى حتى تعلموا ما تقولون ولا جنبا إلا عابري سبيل حتى تغتسلوا ۚ وإن كنتم مرضى أو على سفر أو جاء أحد منكم من الغائط أو لامستم النساء فلم تجدوا ماء فتيمموا صعيدا طيبا فامسحوا بوجوهكم وأيديكم ۗ إن الله كان عفوا غفورا
ইয়াহূদীদের মধ্যে কিছু সংখ্যক লোক কথাগুলি স্থানচ্যুত করিয়া বিকৃত করে এবং বলে, ‘শ্রবণ করিলাম ও অমান্য করিলাম’ এবং শোন, না শোনার মত; আর নিজেদের জিহ্বা কুঞ্চিত করিয়া এবং দীনের প্রতি তাচ্ছিল্য করিয়া বলে, ‘রাইনা’। কিন্তু তাহারা যদি বলিত, ‘শ্রবণ করিলাম ও মান্য করিলাম এবং শ্রবণ কর ও আমাদের প্রতি লক্ষ্য কর’, তবে উহা তাহাদের জন্য ভাল ও সংগত হইত। কিন্তু তাহাদের কুফরীর জন্য তাহাদেরকে লা‘নত করিয়াছেন। তাহাদের অল্পসংখ্যকই বিশ্বাস করে।
من الذين هادوا يحرفون الكلم عن مواضعه ويقولون سمعنا وعصينا واسمع غير مسمع وراعنا ليا بألسنتهم وطعنا في الدين ۚ ولو أنهم قالوا سمعنا وأطعنا واسمع وانظرنا لكان خيرا لهم وأقوم ولكن لعنهم الله بكفرهم فلا يؤمنون إلا قليلا
يا أيها الذين أوتوا الكتاب آمنوا بما نزلنا مصدقا لما معكم من قبل أن نطمس وجوها فنردها على أدبارها أو نلعنهم كما لعنا أصحاب السبت ۚ وكان أمر الله مفعولا
তুমি কি তাহাদেরকে দেখ নাই যাহাদেরকে কিতাবের এক অংশ দেওয়া হইয়াছিল, তাহারা জিব্ত ও তাগূতে বিশ্বাস করে ? তাহারা কাফিরদের সম্বন্ধে বলে, ‘ইহাদেরই পথ মু’মিনদের অপেক্ষা প্রকৃষ্টতর।’
অথবা নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যাহা দিয়াছেন সেজন্য কি তাহারা তাহাদেরকে ঈর্ষা করে ? আমি ইব্রাহীমের বংশধরকেও তো কিতাব ও হিকমত প্রদান করিয়াছিলাম এবং তাহাদেরকে বিশাল রাজ্য দান করিয়াছিলাম।
যাহারা ঈমান আনে ও ভাল কাজ করে তাহাদেরকে দাখিল করিব জান্নাতে যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; সেখানে তাহারা চিরস্থায়ী হইবে, সেখানে তাহাদের জন্য পবিত্র স্ত্রী থাকিবে এবং তাহাদেরকে চিরস্নিগ্ধ ছায়ায় দাখিল করিব।
নিশ্চয়ই তোমাদেরকে নির্দেশ দিতেছেন আমানত উহার হকদারকে প্রত্যর্পণ করিতে। তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করিবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে বিচার করিবে। তোমাদেরকে যে উপদেশ দেন তাহা কত উৎকৃষ্ট! নিশ্চয়ই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
হে মু’মিনগণ! যদি তোমরা ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, আনুগত্য কর রাসূলের এবং তাহাদের, যাহারা তোমাদের মধ্যে ক্ষমতার অধিকারী; কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটিলে উহা উপস্থাপন কর ও রাসূলের নিকট। ইহাই উত্তম এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর।
يا أيها الذين آمنوا أطيعوا الله وأطيعوا الرسول وأولي الأمر منكم ۖ فإن تنازعتم في شيء فردوه إلى الله والرسول إن كنتم تؤمنون بالله واليوم الآخر ۚ ذلك خير وأحسن تأويلا
তুমি কি তাহাদেরকে দেখ নাই যাহারা দাবি করে যে, তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে এবং তোমার পূর্বে যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাতে তাহারা বিশ্বাস করে, অথচ তাহারা তাগূতের কাছে বিচারপ্রার্থী হইতে চায়, যদিও উহা প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাহাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে এবং শয়তান তাহাদেরকে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট করিতে চায়?
ألم تر إلى الذين يزعمون أنهم آمنوا بما أنزل إليك وما أنزل من قبلك يريدون أن يتحاكموا إلى الطاغوت وقد أمروا أن يكفروا به ويريد الشيطان أن يضلهم ضلالا بعيدا
তাহাদের কৃতকর্মের জন্য যখন তাহাদের কোন মুসীবত হইবে তখন তাহাদের কী অবস্থা হইবে ? অতঃপর তাহারা র নামে শপথ করিয়া তোমার নিকট আসিয়া বলিবে, ‘আমরা কল্যাণ এবং সম্প্রীতি ব্যতীত অন্য কিছুই চাই নাই।’
ইহারাই তাহারা, যাহাদের অন্তরে কী আছে তাহা জানেন। সুতরাং তুমি তাহাদেরকে উপেক্ষা কর, তাহাদেরকে সদুপদেশ দাও এবং তাহাদেরকে তাহাদের মর্ম স্পর্শ করে এমন কথা বল।
রাসূল এই উদ্দেশ্যেই প্রেরণ করিয়াছি যে, র নির্দেশ অনুসারে তাহার আনুগত্য করা হইবে। যখন তাহারা নিজেদের প্রতি জুলুম করে তখন তাহারা তোমার নিকট আসিলে ও র ক্ষমা প্রার্থনা করিলে এবং রাসূলও তাহাদের জন্য ক্ষমা চাহিলে তাহারা অবশ্যই কে পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালুরূপে পাইবে।
কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ! তাহারা হইবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাহারা তাহাদের নিজেদের বিবাদ - বিসম্বাদের বিচারভার তোমার উপর অর্পণ না করে ; অতঃপর তোমার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাহাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তকরণে উহা মানিয়া নেয়।
আর কেহ এবং রাসূলের আনুগত্য করিলে সে নবী, সত্যনিষ্ঠ, শহীদ ও সৎকর্মপরায়ণ - যাহাদের প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন - তাহাদের সঙ্গী হইবে এবং তাহারা কত উত্তম সঙ্গী!
আর তোমাদের প্রতি র অনুগ্রহ হইলে, যেন তোমাদের ও তাহার মধ্যে কোন সম্পর্ক নাই এমনভাবে বলিবেই, ‘হায়! যদি তাহাদের সঙ্গে থাকিতাম তবে আমিও বিরাট সাফল্য লাভ করিতাম।’
সুতরাং যাহারা আখিরাতের বিনিময়ে পার্থিব জীবন বিক্রয় করে তাহারা র পথে যুদ্ধ করুক এবং কেহ র পথে যুদ্ধ করিলে সে নিহত হউক অথবা বিজয়ী হউক আমি তাহাকে মহাপুরস্কার দান করিবই।
তোমাদের কী হইল যে, তোমরা যুদ্ধ করিবে না র পথে এবং অসহায় নরনারী এবং শিশুগণের জন্য, যাহারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক ! এই জনপদ - যাহার অধিবাসী , উহা হইতে আমাদেরকে অন্যত্র লইয়া যাও ; তোমার নিকট হইতে কাহাকেও আমাদের অভিভাবক কর এবং তোমার নিকট হইতে কাহাকেও আমাদের সহায় কর।’
وما لكم لا تقاتلون في سبيل الله والمستضعفين من الرجال والنساء والولدان الذين يقولون ربنا أخرجنا من هذه القرية الظالم أهلها واجعل لنا من لدنك وليا واجعل لنا من لدنك نصيرا
তুমি কি তাহাদেরকে দেখ নাই যাহাদেরকে বলা হইয়াছিল, ‘তোমরা তোমাদের হস্ত সংবরণ কর, কায়েম কর এবং যাকাত দাও ?’ অতঃপর যখন তাহাদেরকে যুদ্ধের বিধান দেওয়া হইল তখন তাহাদের একদল মানুষকে ভয় করিতেছিল কে ভয় করার মত অথবা তদপেক্ষা অধিক, এবং বলিতে লাগিল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য যুদ্ধের বিধান কেন দিলে ? আমাদেরকে কিছু দিনের অবকাশ দাও না !’ বল, ‘পার্থিব ভোগ সামান্য এবং যে তাহার জন্য পরকালই উত্তম। তোমাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও জুলুম করা হইবে না।’
ألم تر إلى الذين قيل لهم كفوا أيديكم وأقيموا الصلاة وآتوا الزكاة فلما كتب عليهم القتال إذا فريق منهم يخشون الناس كخشية الله أو أشد خشية ۚ وقالوا ربنا لم كتبت علينا القتال لولا أخرتنا إلى أجل قريب ۗ قل متاع الدنيا قليل والآخرة خير لمن اتقى ولا تظلمون فتيلا
তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাইবেই, এমনকি সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করিলেও। যদি তাহাদের কোন কল্যাণ হয় তবে তাহারা বলে ‘ইহা র নিকট হইতে।’ আর যদি তাহাদের কোন অকল্যাণ হয় তবে তাহারা বলে, ‘ইহা তোমার নিকট হইতে।’ বল, ‘সবকিছুই র নিকট হইতে।’ এই সম্প্রদায়ের হইল কী যে, ইহারা একেবারেই কোন কথা বোঝে না!
أينما تكونوا يدرككم الموت ولو كنتم في بروج مشيدة ۗ وإن تصبهم حسنة يقولوا هذه من عند الله ۖ وإن تصبهم سيئة يقولوا هذه من عندك ۚ قل كل من عند الله ۖ فمال هؤلاء القوم لا يكادون يفقهون حديثا
কল্যাণ যাহা তোমার হয় তাহা র নিকট হইতে এবং অকল্যাণ যাহা তোমার হয় তাহা তোমার নিজের কারণে এবং তোমাকে মানুষের জন্য রাসূলরূপে প্রেরণ করিয়াছি ; সাক্ষী হিসাবে ই যথেষ্ট।
তাহারা বলে, ‘আনুগত্য করি’, অতঃপর যখন তাহারা তোমার নিকট হইতে চলিয়া যায় তখন রাত্রে তাহাদের একদল যাহা বলে তাহার বিপরীত পরামর্শ করে। তাহারা যাহা রাত্রে পরামর্শ করে তাহা লিপিবদ্ধ করিয়া রাখেন। সুতরাং তুমি তাহাদেরকে উপেক্ষা কর এবং র প্রতি ভরসা কর; কর্মবিধায়ক হিসাবে ই যথেষ্ট।
যখন শান্তি অথবা শংকার কোন সংবাদ তাহাদের নিকট আসে তখন তাহারা উহা প্রচার করিয়া থাকে। যদি তাহারা উহা রাসূল কিংবা তাহাদের মধ্যে যাহারা ক্ষমতার অধিকারী তাহাদের গোচরে আনিত, তবে তাহাদের মধ্যে যাহারা তথ্য অনুসন্ধান করে তাহারা উহার যথার্থতা নির্ণয় করিতে পারিত। তোমাদের প্রতি যদি র অনুগ্রহ ও দয়া না থাকিত তবে তোমাদের অল্পসংখ্যক ব্যতীত সকলে শয়তানের অনুসরণ করিত।
وإذا جاءهم أمر من الأمن أو الخوف أذاعوا به ۖ ولو ردوه إلى الرسول وإلى أولي الأمر منهم لعلمه الذين يستنبطونه منهم ۗ ولولا فضل الله عليكم ورحمته لاتبعتم الشيطان إلا قليلا
সুতরাং র পথে যুদ্ধ কর ; তোমাকে শুধু তোমার নিজের জন্য দায়ী করা হইবে এবং মু’মিনগণকে উদ্বুদ্ধ কর, হয়তো কাফিরদের শক্তি সংযত করিবেন। শক্তিতে প্রবলতর ও শাস্তিদানে কঠোরতর।
তোমাদের কী হইল যে, তোমরা মুনাফিকদের সম্বন্ধে দুই দল হইয়া গেলে, যখন তাহাদেরকে তাহাদের কৃতকর্মের জন্য পূর্বাবস্থায় ফিরাইয়া দিয়াছেন! যাহাকে পথভ্রষ্ট করেন তোমরা কি তাহাকে সৎপথে পরিচালিত করিতে চাও ? এবং কাহাকেও পথভ্রষ্ট করিলে তুমি তাহার জন্য কখনও কোন পথ পাইবে না।
তাহারা ইহাই কামনা করে যে, তাহারা যেরূপ করিয়াছে তোমরাও সেইরূপ কর, যাহাতে তোমরা তাহাদের সমান হইয়া যাও। সুতরাং র পথে হিজরত না করা পর্যন্ত তাহাদের মধ্য হইতে কাহাকেও বন্ধুরূপে গ্রহণ করিবে না। যদি তাহারা মুখ ফিরাইয়া নেয় তবে তাহাদেরকে যেখানে পাইবে গ্রেফতার করিবে এবং হত্যা করিবে এবং তাহাদের মধ্য হইতে কাহাকেও বন্ধু ও সহায়রূপে গ্রহণ করিবে না।
ودوا لو تكفرون كما كفروا فتكونون سواء ۖ فلا تتخذوا منهم أولياء حتى يهاجروا في سبيل الله ۚ فإن تولوا فخذوهم واقتلوهم حيث وجدتموهم ۖ ولا تتخذوا منهم وليا ولا نصيرا
কিন্তু তাহাদেরকে নয় যাহারা এমন এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলিত হয় যাহাদের সঙ্গে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ, অথবা যাহারা তোমাদের নিকট এমন অবস্থায় আগমন করে যখন তাহাদের মন তোমাদের সঙ্গে অথবা তাহাদের সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুদ্ধ করিতে সংকুচিত হয়। যদি ইচ্ছা করিতেন তবে তাহাদেরকে তোমাদের উপর ক্ষমতা দিতেন এবং তাহারা নিশ্চয় তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করিত। সুতরাং তাহারা যদি তোমাদের নিকট হইতে সরিয়া দাঁড়ায়, তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের নিকট শান্তি প্রস্তাব করে তবে তোমাদের জন্য তাহাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা অবলম্বনের পথ রাখেন না।
إلا الذين يصلون إلى قوم بينكم وبينهم ميثاق أو جاءوكم حصرت صدورهم أن يقاتلوكم أو يقاتلوا قومهم ۚ ولو شاء الله لسلطهم عليكم فلقاتلوكم ۚ فإن اعتزلوكم فلم يقاتلوكم وألقوا إليكم السلم فما جعل الله لكم عليهم سبيلا
তোমরা অপর কিছু লোক পাইবে যাহারা তোমাদের সঙ্গে ও তাহাদের সম্প্রদায়ের সঙ্গে শান্তি চাহিবে। যখনই তাহাদেরকে ফিত্নার দিকে আহ্বান করা হয় তখনই এই ব্যাপারে তাহারা তাহাদের পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবৃত্ত হয়। যদি তাহারা তোমাদের নিকট হইতে চলিয়া না যায়, তোমাদের নিকট শান্তি প্রস্তাব না করে এবং তাহাদের হস্ত সংবরণ না করে তবে তাহাদেরকে যেখানেই পাইবে গ্রেফতার করিবে ও হত্যা করিবে এবং তোমাদেরকে ইহাদের বিরুদ্ধাচরণের স্পষ্ট অধিকার দিয়াছি।
ستجدون آخرين يريدون أن يأمنوكم ويأمنوا قومهم كل ما ردوا إلى الفتنة أركسوا فيها ۚ فإن لم يعتزلوكم ويلقوا إليكم السلم ويكفوا أيديهم فخذوهم واقتلوهم حيث ثقفتموهم ۚ وأولئكم جعلنا لكم عليهم سلطانا مبينا
কোন মু’মিনকে হত্যা করা কোন মু’মিনের কাজ নয়, তবে ভুলবশত করিলে উহা স্বতন্ত্র; এবং কেহ কোন মু’মিনকে ভুলবশত হত্যা করিলে এক দাস মুক্ত করা এবং তাহার পরিজনবর্গকে রক্তপণ অর্পণ করা বিধেয়, যদি না তাহারা ক্ষমা করে। যদি সে তোমাদের শত্রুপক্ষের লোক হয় এবং হয় তবে এক দাস মুক্ত করা বিধেয়। আর যদি সে এমন এক সম্প্রদায়ভুক্ত হয় যাহার সঙ্গে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ তবে তাহার পরিজনবর্গকে রক্তপণ অর্পণ এবং দাস মুক্ত করা বিধেয়, এবং যে সংগতিহীন সে একাদিক্রমে দুই মাস সিয়াম পালন করিবে। তওবার জন্য ইহা র ব্যবস্থা এবং সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
وما كان لمؤمن أن يقتل مؤمنا إلا خطأ ۚ ومن قتل مؤمنا خطأ فتحرير رقبة مؤمنة ودية مسلمة إلى أهله إلا أن يصدقوا ۚ فإن كان من قوم عدو لكم وهو مؤمن فتحرير رقبة مؤمنة ۖ وإن كان من قوم بينكم وبينهم ميثاق فدية مسلمة إلى أهله وتحرير رقبة مؤمنة ۖ فمن لم يجد فصيام شهرين متتابعين توبة من الله ۗ وكان الله عليما حكيما
কেহ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু’মিনকে হত্যা করিলে তাহার শাস্তি জাহান্নাম; সেখানে সে স্থায়ী হইবে এবং তাহার প্রতি রুষ্ট হইবেন, তাহাকে লা‘নত করিবেন এবং তাহার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত রাখিবেন।
হে মু’মিনগণ! তোমরা যখন র পথে যাত্রা করিবে তখন পরীক্ষা করিয়া লইবে এবং কেহ তোমাদেরকে সালাম করিলে ইহজীবনের সম্পদের আকাঙ্খায় তাহাকে বলিও না - ‘তুমি নও’, কারণ র নিকট অনায়াসলভ্য সম্পদ প্রচুর রহিয়াছে। তোমরা তো পূর্বে এইরূপই ছিলে, অতঃপর তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন ; সুতরাং তোমরা পরীক্ষা করিয়া লইবে। তোমরা যাহা কর তো সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।
يا أيها الذين آمنوا إذا ضربتم في سبيل الله فتبينوا ولا تقولوا لمن ألقى إليكم السلام لست مؤمنا تبتغون عرض الحياة الدنيا فعند الله مغانم كثيرة ۚ كذلك كنتم من قبل فمن الله عليكم فتبينوا ۚ إن الله كان بما تعملون خبيرا
মু’মিনদের মধ্যে যাহারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসিয়া থাকে ও যাহারা র পথে স্বীয় ধন - প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তাহারা সমান নয়। যাহারা স্বীয় ধন - প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তাহাদেরকে, যাহারা ঘরে বসিয়া থাকে তাহাদের উপর মর্যাদা দিয়াছেন ; সকলকেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন। যাহারা ঘরে বসিয়া থাকে তাহাদের উপর যাহারা জিহাদ করে তাহাদেরকে মহাপুরস্কারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছেন।
لا يستوي القاعدون من المؤمنين غير أولي الضرر والمجاهدون في سبيل الله بأموالهم وأنفسهم ۚ فضل الله المجاهدين بأموالهم وأنفسهم على القاعدين درجة ۚ وكلا وعد الله الحسنى ۚ وفضل الله المجاهدين على القاعدين أجرا عظيما
যাহারা নিজেদের উপর জুলুম করে তাহাদের প্রাণ গ্রহণের সময় ফিরিশ্তাগণ বলে, ‘তোমরা কী অবস্থায় ছিলে ?’ তাহারা বলে, ‘দুনিয়ায় আমরা অসহায় ছিলাম।’ তাহারা বলে, ‘র যমীন কি এমন প্রশস্ত ছিল না যেখানে তোমরা হিজরত করিতে ?’ ইহাদেরই আবাসস্থল জাহান্নাম, আর উহা কত মন্দ আবাস!
إن الذين توفاهم الملائكة ظالمي أنفسهم قالوا فيم كنتم ۖ قالوا كنا مستضعفين في الأرض ۚ قالوا ألم تكن أرض الله واسعة فتهاجروا فيها ۚ فأولئك مأواهم جهنم ۖ وساءت مصيرا
কেহ র পথে হিজরত করিলে সে দুনিয়ায় বহু আশ্রয়স্থল এবং প্রাচুর্য লাভ করিবে এবং কেহ ও রাসূলের উদ্দেশ্যে নিজ গৃহ হইতে মুহাজির হইয়া বাহির হইলে এবং তাহার মৃত্যু ঘটিলে তাহার পুরস্কারের ভার র উপর; ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
۞ ومن يهاجر في سبيل الله يجد في الأرض مراغما كثيرا وسعة ۚ ومن يخرج من بيته مهاجرا إلى الله ورسوله ثم يدركه الموت فقد وقع أجره على الله ۗ وكان الله غفورا رحيما
তোমরা যখন দেশ - বিদেশে সফর করিবে তখন যদি তোমাদের আশংকা হয়, কাফিররা তোমাদের জন্য ফিতনা সৃষ্টি করিবে, তবে সংক্ষিপ্ত করিলে তোমাদের কোন দোষ নাই। নিশ্চয়ই কাফিররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
আর তুমি যখন তাহাদের মধ্যে অবস্থান করিবে ও তাহাদের সঙ্গে কায়েম করিবে তখন তাহাদের একদল তোমার সঙ্গে যেন দাঁড়ায় এবং তাহারা যেন সশস্ত্র থাকে। তাহাদের সিজ্দা করা হইলে তাহারা যেন তোমাদের পিছনে অবস্থান করে ; আর অপর একদল যাহারা সালাতে শরীক হয় নাই তাহারা তোমার সঙ্গে যেন সালাতে শরীক হয় এবং তাহারা যেন সতর্ক ও সশস্ত্র থাকে। কাফিররা কামনা করে যেন তোমরা তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র ও আসবাবপত্র সম্বন্ধে অসতর্ক হও যাহাতে তাহারা তোমাদের উপর একেবারে ঝাঁপাইয়া পড়িতে পারে। যদি তোমরা বৃষ্টির জন্য কষ্ট পাও অথবা পীড়িত থাক তবে তোমরা অস্ত্র রাখিয়া দিলে তোমাদের কোন দোষ নাই; কিন্তু তোমরা সতর্কতা অবলম্বন করিবে। নিশ্চয়ই কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রাখিয়াছেন।
وإذا كنت فيهم فأقمت لهم الصلاة فلتقم طائفة منهم معك وليأخذوا أسلحتهم فإذا سجدوا فليكونوا من ورائكم ولتأت طائفة أخرى لم يصلوا فليصلوا معك وليأخذوا حذرهم وأسلحتهم ۗ ود الذين كفروا لو تغفلون عن أسلحتكم وأمتعتكم فيميلون عليكم ميلة واحدة ۚ ولا جناح عليكم إن كان بكم أذى من مطر أو كنتم مرضى أن تضعوا أسلحتكم ۖ وخذوا حذركم ۗ إن الله أعد للكافرين عذابا مهينا
যখন তোমরা সমাপ্ত করিবে তখন দাঁড়াইয়া, বসিয়া এবং শুইয়া কে স্মরণ করিবে, যখন তোমরা নিরাপদ হইবে তখন যথাযথ কায়েম করিবে ; নির্ধারিত সময়ে কায়েম করা মু’মিনদের জন্য অবশ্যকর্তব্য।
শত্রু সম্প্রদায়ের সন্ধানে তোমরা হতোদ্যম হইও না। যদি তোমরা যন্ত্রণা পাও তবে তাহারাও তো তোমাদের মতই যন্ত্রণা পায় এবং আল্লাহর নিকট তোমরা যাহা আশা কর উহারা তাহা আশা করে না। সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আমি তো তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছি যাহাতে তুমি তোমাকে যাহা জানাইয়াছেন সেই অনুসারে মানুষের মধ্যে বিচার মীমাংসা কর এবং তুমি বিশ্বাসভঙ্গকারীদের সমর্থনে তর্ক করিও না।
তাহারা মানুষ হইতে গোপন করিতে চাহে কিন্তু হইতে গোপন করে না ; অথচ তিনি তাহাদের সঙ্গেই আছেন রাত্রে যখন তাহারা, তিনি যাহা পসন্দ করেন না - এমন বিষয়ে পরামর্শ করে এবং তাহারা যাহা করে তাহা সর্বতোভাবে র জ্ঞানায়ত্ত।
তোমার প্রতি র অনুগ্রহ ও দয়া না থাকিলে তাহাদের একদল তোমাকে পথভ্রষ্ট করিতে চাহিতই। কিন্তু তাহারা নিজেদেরকে ব্যতীত আর কাহাকেও পথভ্রষ্ট করে না এবং তোমার কোনই ক্ষতি করিতে পারে না। তোমার প্রতি কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করিয়াছেন এবং তুমি যাহা জানিতে না তাহা তোমাকে শিক্ষা দিয়াছেন; তোমার প্রতি র মহা অনুগ্রহ রহিয়াছে।
ولولا فضل الله عليك ورحمته لهمت طائفة منهم أن يضلوك وما يضلون إلا أنفسهم ۖ وما يضرونك من شيء ۚ وأنزل الله عليك الكتاب والحكمة وعلمك ما لم تكن تعلم ۚ وكان فضل الله عليك عظيما
তাহাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোন কল্যাণ নাই, তবে কল্যাণ আছে যে নির্দেশ দেয় দান - খয়রাত, সৎকর্ম ও মানুষের মধ্যে শান্তিস্থাপনের; র সন্তুষ্টি লাভের আকাঙ্ক্ষায় কেহ উহা করিলে তাহাকে অবশ্যই আমি মহাপুরস্কার দিব।
কাহারও নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে যেদিকে সে ফিরিয়া যায় সেদিকেই তাহাকে ফিরাইয়া দিব এবং জাহান্নামে তাহাকে দগ্ধ করিব, আর উহা কত মন্দ আবাস!
আমি তাহাদেরকে পথভ্রষ্ট করিবই; তাহাদের হৃদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করিবই, আমি তাহাদেরকে নিশ্চয়ই নির্দেশ দিব আর তাহারা পশুর কর্ণচ্ছেদ করিবেই, এবং তাহাদেরকে নিশ্চয়ই নির্দেশ দিব আর তাহারা র সৃষ্টি বিকৃত করিবেই। র পরিবর্তে কেহ শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করিলে সে স্পষ্টতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আর যাহারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে তাহাদেরকে দাখিল করিব জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাহারা চিরস্থায়ী হইবে ; র প্রতিশ্রুতি সত্য, কে অপেক্ষা কথায় অধিক সত্যবাদী ?
তোমাদের খেয়াল - খুশি ও কিতাবীদের খেয়াল - খুশি অনুসারে কাজ হইবে না; কেহ মন্দ কাজ করিলে তাহার প্রতিফল সে পাইবে এবং ব্যতীত তাহার জন্য সে কোন অভিভাবক ও সহায় পাইবে না।
তাহার অপেক্ষা দীনে কে উত্তম, যে সৎকর্মপরায়ণ হইয়া র নিকট আত্মসমর্পণ করে এবং একনিষ্ঠভাবে ইব্রাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করে ? এবং ইব্রাহীমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিয়াছেন।
আর লোকে তোমার নিকট নারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা জানিতে চায়। বল, ‘ তোমাদেরকে তাহাদের সম্বন্ধে ব্যবস্থা জানাইতেছেন এবং ইয়াতীম নারী সম্পর্কে যাহাদের প্রাপ্য তোমরা প্রদান কর না, অথচ তোমরা তাহাদেরকে বিবাহ করিতে চাও এবং অসহায় শিশুদের সম্বন্ধে ও ইয়াতীমদের প্রতি তোমাদের ন্যায়বিচার সম্পর্কে যাহা কিতাবে তোমাদেরকে শোনান হয়, তাহাও পরিষ্কারভাবে জানাইয়া দেন।’ আর যে কোন সৎকাজ তোমরা কর তো তাহা সবিশেষ অবহিত।
ويستفتونك في النساء ۖ قل الله يفتيكم فيهن وما يتلى عليكم في الكتاب في يتامى النساء اللاتي لا تؤتونهن ما كتب لهن وترغبون أن تنكحوهن والمستضعفين من الولدان وأن تقوموا لليتامى بالقسط ۚ وما تفعلوا من خير فإن الله كان به عليما
কোন স্ত্রী যদি তাহার স্বামীর দুর্ব্যবহার কিংবা উপেক্ষার আশংকা করে তবে তাহারা আপোস - নিষ্পত্তি করিতে চাহিলে তাহাদের কোন গুনাহ নাই এবং আপোস - নিষ্পত্তিই শ্রেয়। মানুষ লোভহেতু স্বভাবত কৃপণ; এবং যদি তোমরা সৎকর্মপরায়ণ হও ও হও, তবে তোমরা যাহা কর নিশ্চয়ই তাহার খবর রাখেন।
وإن امرأة خافت من بعلها نشوزا أو إعراضا فلا جناح عليهما أن يصلحا بينهما صلحا ۚ والصلح خير ۗ وأحضرت الأنفس الشح ۚ وإن تحسنوا وتتقوا فإن الله كان بما تعملون خبيرا
আর তোমরা যতই ইচ্ছা কর না কেন তোমাদের স্ত্রীদের প্রতি সমান ব্যবহার করিতে কখনই পারিবে না ; তবে তোমরা কোন একজনের দিকে সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকিয়া পড়িও না ও অপরকে ঝুলানো অবস্থায় রাখিও না। যদি তোমরা নিজেদেরকে সংশোধন কর ও সাবধান হও তবে নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আস্মানে যাহা আছে ও যমীনে যাহা আছে সব রই ; তোমাদের পূর্বে যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে তাহাদেরকে এবং তোমাদেরকেও নির্দেশ দিয়াছি যে, তোমরা কে ভয় করিবে এবং তোমরা করিলেও আস্মানে যাহা আছে ও যমীনে যাহা আছে তাহা রই এবং অভাবমুক্ত, প্রশংসাভাজন।
ولله ما في السماوات وما في الأرض ۗ ولقد وصينا الذين أوتوا الكتاب من قبلكم وإياكم أن اتقوا الله ۚ وإن تكفروا فإن لله ما في السماوات وما في الأرض ۚ وكان الله غنيا حميدا
হে মু’মিনগণ! তোমরা ন্যায়বিচারে দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত থাকিবে র সাক্ষীস্বরূপ ; যদিও ইহা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতা - মাতা এবং আত্মীয় - স্বজনের বিরুদ্ধে হয় ; সে বিত্তবান হউক অথবা বিত্তহীন হউক উভয়েরই ঘনিষ্ঠতর। সুতরাং তোমরা ন্যায়বিচার করিতে প্রবৃত্তির অনুগামী হইও না। যদি তোমরা পেঁচালো কথা বল অথবা পাশ কাটাইয়া যাও তবে তোমরা যাহা কর তো তাহার সম্যক খবর রাখেন।
۞ يا أيها الذين آمنوا كونوا قوامين بالقسط شهداء لله ولو على أنفسكم أو الوالدين والأقربين ۚ إن يكن غنيا أو فقيرا فالله أولى بهما ۖ فلا تتبعوا الهوى أن تعدلوا ۚ وإن تلووا أو تعرضوا فإن الله كان بما تعملون خبيرا
হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহে, তাঁহার রাসূলে, তিনি যে কিতাব তাঁহার রাসূলের প্রতি অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহাতে এবং যে কিতাব তিনি পূর্বে অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহাতে ঈমান আন। এবং কেহ , তাঁহার ফিরিশ্তাগণ, তাঁহার কিতাবসমূহ, তাঁহার রাসূলগণ এবং আখিরাতকে প্রত্যাখ্যান করিলে সে তো ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হইয়া পড়িবে।
يا أيها الذين آمنوا آمنوا بالله ورسوله والكتاب الذي نزل على رسوله والكتاب الذي أنزل من قبل ۚ ومن يكفر بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر فقد ضل ضلالا بعيدا
নিশ্চয়ই যাহারা ঈমান আনে ও পরে করে এবং আবার ঈমান আনে, আবার করে; অতঃপর তাহাদের প্রবৃত্তি বৃদ্ধি পায়, তাহাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করিবেন না এবং তাহাদেরকে কোন পথও দেখাইবেন না।
কিতাবে তোমাদের প্রতি তিনি তো অবতীর্ণ করিয়াছেন যে, যখন তোমরা শুনিবে, র আয়াত প্রত্যাখ্যাত হইতেছে এবং উহাকে বিদ্রুপ করা হইতেছে, তখন যে পর্যন্ত তাহারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত না হইবে তোমরা তাহাদের সঙ্গে বসিও না ; অন্যথায় তোমরাও উহাদের মত হইবে। মুনাফিক ও সকলকেই তো জাহান্নামে একত্র করিবেন।
وقد نزل عليكم في الكتاب أن إذا سمعتم آيات الله يكفر بها ويستهزأ بها فلا تقعدوا معهم حتى يخوضوا في حديث غيره ۚ إنكم إذا مثلهم ۗ إن الله جامع المنافقين والكافرين في جهنم جميعا
যাহারা তোমাদের অমঙ্গলের প্রতীক্ষায় থাকে তাহারা র পক্ষ হইতে তোমাদের জয় হইলে বলে, ‘আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না ?’ আর যদি কাফিরদের কিছু বিজয় হয়, তবে তাহারা বলে, ‘আমরা কি তোমাদের পরিবেষ্টন করিয়া রাখিয়াছিলাম না এবং আমরা কি তোমাদেরকে মু’মিনদের হাত হইতে রক্ষা করি নাই ?’ কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে বিচার মীমাংসা করিবেন এবং কখনই মু’মিনদের বিরুদ্ধে কাফিরদের জন্য কোন পথ রাখিবেন না।
الذين يتربصون بكم فإن كان لكم فتح من الله قالوا ألم نكن معكم وإن كان للكافرين نصيب قالوا ألم نستحوذ عليكم ونمنعكم من المؤمنين ۚ فالله يحكم بينكم يوم القيامة ۗ ولن يجعل الله للكافرين على المؤمنين سبيلا
নিশ্চয়ই মুনাফিকরা র সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে ; বস্তুত তিনি তাহাদেরকে উহার শাস্তি দেন, আর যখন তাহারা সালাতে দাঁড়ায় তখন শৈথিল্যের সঙ্গে দাঁড়ায় - কেবল লোক দেখানোর জন্য এবং কে তাহারা অল্পই স্মরণ করে।
কিন্তু যাহারা তওবা করে, নিজেদেরকে সংশোধন করে, কে দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করে এবং র উদ্দেশ্যে তাহাদের দীনে একনিষ্ঠ থাকে, তাহারা মু’মিনদের সঙ্গে থাকিবে এবং মুমিনগণকে অবশ্যই মহা - পুরস্কার দিবেন।
যাহারা কে অস্বীকার করে ও তাঁহার রাসূলদেরকেও এবং ও তাঁহার রাসূলের মধ্যে ঈমানের ব্যাপারে তারতম্য করিতে চায় এবং বলে, ‘আমরা কতককে বিশ্বাস করি ও কতককে অবিশ্বাস করি’; আর তাহারা মধ্যবর্তী কোন পথ অবলম্বন করিতে চায়,
কিতাবীগণ তোমাকে তাহাদের জন্য আসমান হইতে কিতাব অবতীর্ণ করিতে বলে ; অথচ তাহারা মূসার নিকট ইহা অপেক্ষাও বড় দাবি করিয়াছিল। তাহারা বলিয়াছিল, ‘আমাদেরকে প্রকাশ্যে কে দেখাও।’ তাহাদের সীমালংঘনের জন্য তাহারা বজ্রাহত হইয়াছিল ; অতঃপর স্পষ্ট প্রমাণ তাহাদের নিকট প্রকাশ হওয়ার পরও তাহারা গো - বৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করিয়াছিল ; ইহাও ক্ষমা করিয়াছিলাম এবং মূসাকে স্পষ্ট প্রমাণ প্রদান করিয়াছিলাম।
يسألك أهل الكتاب أن تنزل عليهم كتابا من السماء ۚ فقد سألوا موسى أكبر من ذلك فقالوا أرنا الله جهرة فأخذتهم الصاعقة بظلمهم ۚ ثم اتخذوا العجل من بعد ما جاءتهم البينات فعفونا عن ذلك ۚ وآتينا موسى سلطانا مبينا
তাহাদের অঙ্গীকারের জন্য ‘তূর’ পর্বতকে আমি তাহাদের ঊর্ধ্বে উত্তোলন করিয়াছিলাম এবং তাহাদেরকে বলিয়াছিলাম, ‘নতশিরে দ্বার দিয়া প্রবেশ কর।’ তাহাদেরকে আরও বলিয়াছিলাম, ‘শনিবার সম্পর্কে’ সীমালংঘন করিও না, এবং তাহাদের নিকট হইতে দৃঢ় অঙ্গীকার লইয়াছিলাম।
এবং তাহারা লা‘নতগ্রস্ত হইয়াছিল তাহাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের জন্য, র আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য, নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার জন্য এবং ‘আমাদের হৃদয় আচ্ছাদিত’ - তাহাদের এই উক্তির জন্য; বরং তাহাদের কুফরীর কারণে উহা মোহর করিয়াছেন। সুতরাং তাহাদের অল্পসংখ্যক লোকই বিশ্বাস করে।
আর ‘আমরা র রাসূল মার্ইয়ামতনয় ‘ঈসা মসীহকে হত্যা করিয়াছি’ তাহাদের এই উক্তির জন্য। অথচ তাহারা তাহাকে হত্যা করে নাই, ক্রুশবিদ্ধও করে নাই ; কিন্তু তাহাদের এইরূপ বিভ্রম হইয়াছিল। যাহারা তাহার সম্বন্ধে মতভেদ করিয়াছিল তাহারা নিশ্চয়ই এই সম্বন্ধে সংশয়যুক্ত ছিল ; এই সম্পর্কে অনুমানের অনুসরণ ব্যতীত তাহাদের কোন জ্ঞানই ছিল না। ইহা নিশ্চিত যে, তাহারা তাহাকে হত্যা করে নাই ;
وقولهم إنا قتلنا المسيح عيسى ابن مريم رسول الله وما قتلوه وما صلبوه ولكن شبه لهم ۚ وإن الذين اختلفوا فيه لفي شك منه ۚ ما لهم به من علم إلا اتباع الظن ۚ وما قتلوه يقينا
এবং তাহাদের সুদ গ্রহণের জন্য, যদিও উহা তাহাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হইয়াছিল; এবং অন্যায়ভাবে লোকের ধন - সম্পদ গ্রাস করার জন্য। তাহাদের মধ্যে যাহারা তাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি প্রস্তুত রাখিয়াছি।
কিন্তু তাহাদের মধ্যে যাহারা জ্ঞানে সুগভীর তাহারা ও মু’মিনগণ তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ করা হইয়াছে এবং তোমার পূর্বে যাহা অবতীর্ণ করা হইয়াছে তাহাতেও ঈমান আনে এবং যাহারা কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং ও পরকালে ঈমান রাখে, আমি উহাদেরকে মহাপুরস্কার দিব।
لكن الراسخون في العلم منهم والمؤمنون يؤمنون بما أنزل إليك وما أنزل من قبلك ۚ والمقيمين الصلاة ۚ والمؤتون الزكاة والمؤمنون بالله واليوم الآخر أولئك سنؤتيهم أجرا عظيما
আমি তো তোমার নিকট ‘ওহী’ প্রেরণ করিয়াছি যেমন নূহ ও তাহার পরবর্তী নবীগণের নিকট ওহী প্রেরণ করিয়াছিলাম ; ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাহার বংশধরগণ, ‘ঈসা, আইউব, ইউনুস, হারূন ও সুলায়মানের নিকটও ‘ওহী’ প্রেরণ করিয়াছিলাম এবং দাঊদকে যাবূর দিয়াছিলাম।
۞ إنا أوحينا إليك كما أوحينا إلى نوح والنبيين من بعده ۚ وأوحينا إلى إبراهيم وإسماعيل وإسحاق ويعقوب والأسباط وعيسى وأيوب ويونس وهارون وسليمان ۚ وآتينا داوود زبورا
অনেক রাসূল প্রেরণ করিয়াছি যাহাদের কথা পূর্বে আমি তোমাকে বলিয়াছি এবং অনেক রাসূল, যাহাদের কথা তোমাকে বলি নাই। এবং মূসার সঙ্গে সাক্ষাৎ বাক্যালাপ করিয়াছিলেন।
পরন্তু সাক্ষ্য দেন তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহার মাধ্যমে। তিনি তাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন নিজ জ্ঞানে এবং ফিরিশ্তাগণও সাক্ষী দেয়। আর সাক্ষী হিসাবে ই যথেষ্ট।
হে মানবমণ্ডলী! রাসূল তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে সত্য আনিয়াছে ; সুতরাং তোমরা ঈমান আন, ইহা তোমাদের জন্য কল্যাণকর হইবে। এবং তোমরা অস্বীকার করিলেও আসমান ও যমীনে যাহা আছে সব রই এবং সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
হে কিতাবীগণ! দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করিও না ও সম্বন্ধে সত্য ব্যতীত বলিও না। মার্ইয়াম - তনয় ‘ঈসা মসীহ্ তো র রাসূল এবং তাঁহার বাণী, যাহা তিনি মার্ইয়ামের নিকট প্রেরণ করিয়াছিলেন ও তাঁহার আদেশ। সুতরাং তোমরা ও তাঁহার রাসূলগণে ঈমান আন এবং বলিও না, ‘তিন!’ নিবৃত্ত হও, ইহা তোমাদের জন্য কল্যাণকর হইবে। তো একমাত্র ইলাহ্ ; তাঁহার সন্তান হইবে - তিনি ইহা হইতে পবিত্র। আসমানে যাহা কিছু আছে ও যমীনে যাহা কিছু আছে সব রই ; কর্ম - বিধানে ই যথেষ্ট।
يا أهل الكتاب لا تغلوا في دينكم ولا تقولوا على الله إلا الحق ۚ إنما المسيح عيسى ابن مريم رسول الله وكلمته ألقاها إلى مريم وروح منه ۖ فآمنوا بالله ورسله ۖ ولا تقولوا ثلاثة ۚ انتهوا خيرا لكم ۚ إنما الله إله واحد ۖ سبحانه أن يكون له ولد ۘ له ما في السماوات وما في الأرض ۗ وكفى بالله وكيلا
মসীহ্ র বান্দা হওয়াকে কখনও হেয় জ্ঞান করে না এবং ঘনিষ্ঠ ফিরিশ্তাগণও করে না। আর কেহ তাঁহার ‘ইবাদতকে হেয় জ্ঞান করিলে এবং অহংকার করিলে তিনি অবশ্যই তাহাদের সকলকে তাঁহার নিকট একত্র করিবেন।
যাহারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে তিনি তাহাদেরকে পূর্ণ পুরস্কার দান করিবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশি দিবেন। কিন্তু যাহারা হেয় জ্ঞান করে ও অহংকার করে তাহাদেরকে তিনি মর্মন্তুদ শাস্তি দান করিবেন এবং ব্যতীত তাহাদের জন্য তাহারা কোন অভিভাবক ও সহায় পাইবে না।
فأما الذين آمنوا وعملوا الصالحات فيوفيهم أجورهم ويزيدهم من فضله ۖ وأما الذين استنكفوا واستكبروا فيعذبهم عذابا أليما ولا يجدون لهم من دون الله وليا ولا نصيرا
যাহারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে ও তাঁহাকে দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করে তাহাদেরকে তিনি অবশ্যই তাঁহার দয়া ও অনুগ্রহের মধ্যে দাখিল করিবেন এবং তাহাদেরকে সরল পথে তাঁহার দিকে পরিচালিত করিবেন।
লোকে তোমার নিকট ব্যবস্থা জানিতে চায়। বল, ‘পিতা - মাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে তোমাদেরকে ব্যবস্থা জানাইতেছেন : কোন পুরুষ মারা গেলে সে যদি সন্তানহীন হয় এবং তাহার এক ভগ্নি থাকে তবে তাহার জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশ এবং সে যদি সন্তানহীনা হয় তবে তাহার ভাই তাহার উত্তরাধিকারী হইবে, আর দুই ভগ্নি থাকিলে তাহাদের জন্য তাহার পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই - তৃতীয়াংশ, আর যদি ভাই - বোন উভয়ে থাকে তবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান।’ তোমরা পথভ্রষ্ট হইবে - এই আশংকায় তোমাদেরকে পরিষ্কারভাবে জানাইতেছেন এবং সর্ববিষয়ে সবিশেষ অবহিত।
يستفتونك قل الله يفتيكم في الكلالة ۚ إن امرؤ هلك ليس له ولد وله أخت فلها نصف ما ترك ۚ وهو يرثها إن لم يكن لها ولد ۚ فإن كانتا اثنتين فلهما الثلثان مما ترك ۚ وإن كانوا إخوة رجالا ونساء فللذكر مثل حظ الأنثيين ۗ يبين الله لكم أن تضلوا ۗ والله بكل شيء عليم