তোমার নিকট কি কিয়ামতের সংবাদ আসিয়াছে?
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ
তোমার কাছে কি আচ্ছন্নকারী (কিয়ামত) দিবসের খবর পৌঁছেছে?
Chapter 88, 26 verses
তোমার নিকট কি কিয়ামতের সংবাদ আসিয়াছে?
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ
তোমার কাছে কি আচ্ছন্নকারী (কিয়ামত) দিবসের খবর পৌঁছেছে?
সেই দিন অনেক মুখমণ্ডল অবনত,,
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ خَاشِعَةٌ
সেদিন অনেক চেহারা হবে ভীত - নত অপমানিত,
ক্লিষ্ট, ক্লান্ত হইবে,,
عَامِلَةٌ نَّاصِبَةٌ
শ্রম - ক্লান্ত।
উহারা প্রবেশ করিবে জ্বলন্ত অগ্নিতে,,
تَصْلَىٰ نَارًا حَامِيَةً
তারা প্রবেশ করবে জ্বলন্ত আগুনে।
উহাদেরকে অত্যুষ্ণ প্রস্রবণ হইতে পান করান হইবে;
تُسْقَىٰ مِنْ عَيْنٍ آنِيَةٍ
তাদের পান করানো হবে তাপ - দাহে ফুটন্ত ঝর্ণার পানি।
উহাদের জন্য খাদ্য থাকিবে না কণ্টকময় গুল্ম ব্যতীত,
لَّيْسَ لَهُمْ طَعَامٌ إِلَّا مِن ضَرِيعٍ
তাদের জন্যে সেখানে বিষাক্ত কাঁটাদার শুকনো ঘাস - গুল্ম ছাড়া থাকবেনা আর কোনো খাদ্য,
যাহা উহাদেরকে পুষ্ট করিবে না এবং উহাদের ক্ষুধা নিবৃত্তি করিবে না।
لَّا يُسْمِنُ وَلَا يُغْنِي مِن جُوعٍ
যা তাদের পুষ্টিও যোগাবেনা, ক্ষুধাও মেটাবেনা।
অনেক মুখমণ্ডল সেই দিন হইবে আনন্দোজ্জ্বল,
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاعِمَةٌ
(অপরপক্ষে) সেদিন অনেকের মুখমন্ডল হবে আনন্দে উজ্জ্বল।
নিজেদের কর্ম - সাফল্যে পরিতৃপ্ত,
لِّسَعْيِهَا رَاضِيَةٌ
সেদিন তারা খুশি হবে তাদের (দুনিয়ার জীবনের) প্রচেষ্টার জন্যে।
সুমহান জান্নাতে
فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ
তারা থাকবে অতি উন্নত জান্নাতে।
সেখানে তাহারা অসার বাক্য শুনিবে না,
لَّا تَسْمَعُ فِيهَا لَاغِيَةً
সেখানে তারা শুনবেনা কোনো ক্ষতিকর ও বাজে কথা।
সেখানে থাকিবে বহমান প্রস্রবণ,
فِيهَا عَيْنٌ جَارِيَةٌ
সেখানে থাকবে ঝর্ণা বহমান,
উন্নত মর্যাদাসম্পন্ন শয্যা,
فِيهَا سُرُرٌ مَّرْفُوعَةٌ
থাকবে অতি উন্নত শয্যা,
প্রস্তুত থাকিবে পানপাত্র,
وَأَكْوَابٌ مَّوْضُوعَةٌ
হাতের কাছেই রাখা হবে পানপাত্র সমূহ,
সারি সারি উপাধান,
وَنَمَارِقُ مَصْفُوفَةٌ
সাজানো থাকবে সারি সারি (নরম) বিছানা,
এবং বিছান গালিচা;
وَزَرَابِيُّ مَبْثُوثَةٌ
(সর্বত্র) বিছানো থাকবে উন্নত গালিচা।
তবে কি উহারা দৃষ্টিপাত করে না উটের দিকে, কিভাবে উহাকে সৃষ্টি করা হইয়াছে?
أَفَلَا يَنظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ
তারা কি নজর করে দেখতে পারছেনা উটের দিকে, কিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে তাকে?
এবং আকাশের দিকে, কিভাবে উহাকে ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠিত করা হইয়াছে?
وَإِلَى السَّمَاءِ كَيْفَ رُفِعَتْ
এবং আসমানের দিকে, কিভাবে উপরে উঠিয়ে রাখা হয়েছে তাকে?
এবং পর্বতমালার দিকে, কিভাবে উহাকে স্থাপন করা হইয়াছে?
وَإِلَى الْجِبَالِ كَيْفَ نُصِبَتْ
আর পর্বতমালার দিকে, কিভাবে গেড়ে রাখা হয়েছে তাকে?
এবং ভূতলের দিকে, কিভাবে উহাকে বিস্তৃত করা হইয়াছে?
وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ
এবং পৃথিবীর দিকে, কিভাবে বিছিয়ে দেয়া হয়েছে তাকে?
অতএব তুমি উপদেশ দাও; তুমি তো একজন উপদেশদাতা,
فَذَكِّرْ إِنَّمَا أَنتَ مُذَكِّرٌ
অতএব, তুমি তাদের উপদেশ দিয়ে যাও। কারণ, তুমি তো কেবল একজন উপদেশদাতাই।
তুমি উহাদের কর্ম নিয়ন্ত্রক নও।
لَّسْتَ عَلَيْهِم بِمُصَيْطِرٍ
তুমি তাদের উপর শক্তি প্রয়োগকারী নও।
তবে কেহ মুখ ফিরাইয়া লইলে ও করিলে
إِلَّا مَن تَوَلَّىٰ وَكَفَرَ
তবে যে (তোমার উপদেশ মেনে নেয়ার পরিবর্তে) মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং অবলম্বন করবে কুফুরির পথ,
উহাকে দিবেন মহা শাস্তি।
فَيُعَذِّبُهُ اللَّهُ الْعَذَابَ الْأَكْبَرَ
তাকে আযাব দেবেন, গুরুতর আযাব।
উহাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট;
إِنَّ إِلَيْنَا إِيَابَهُمْ
আমার কাছেই হবে তাদের প্রত্যাবর্তন।
অতঃপর উহাদের হিসাব - নিকাশ আমারই কাজ।
ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا حِسَابَهُم
তারপর তাদের হিসাব নেয়ার দায়িত্ব আমারই।