সোয়াদ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের! তুমি অবশ্যই সত্যবাদী।
সোয়াদ, উপদেশে পরিপূর্ণ আল কুরআনের শপথ।
সোয়াদ; কসম উপদেশপূর্ণ কুরআনের।
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; সোয়াদ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের! তুমি অবশ্যই সত্যবাদী।
Chapter 38, 88 verses
সোয়াদ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের! তুমি অবশ্যই সত্যবাদী।
সোয়াদ, উপদেশে পরিপূর্ণ আল কুরআনের শপথ।
সোয়াদ; কসম উপদেশপূর্ণ কুরআনের।
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; সোয়াদ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের! তুমি অবশ্যই সত্যবাদী।
কিন্তু কাফিররা ঔদ্ধত্য ও বিরোধিতায় ডুবিয়া আছে।
বরং যারা কুফুরি করেছে তারাই রয়েছে চরম হঠকারিতা আর বিরোধিতায় নিমজ্জিত।
বস্তুত কাফিররা আত্মম্ভরিতা ও বিরোধিতায় রয়েছে।
কিন্তু কাফিররা ঔদ্ধত্য ও বিরোধিতায় ডুবিয়া আছে।
ইহাদের পূর্বে আমি কত জনগোষ্ঠী ধ্বংস করিয়াছি; তখন উহারা আর্তচিৎকার করিয়াছিল। কিন্তু তখন পরিত্রাণের কোনই উপায় ছিল না।
তাদের আগে আমরা ধ্বংস করেছি কতো যে প্রজন্মকে, তখন তারা আর্তচিৎকার করেছিল, কিন্তু উদ্ধার পাওয়ার কোনো উপায় আর তখন ছিলনা।
তাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি; তখন তারা আর্তচিৎকার করেছিল, কিন্তু তখন পলায়নের কোন সময় ছিল না।
ইহাদের পূর্বে আমি কত জনগোষ্ঠী ধ্বংস করিয়াছি; তখন উহারা আর্তচিৎকার করিয়াছিল। কিন্তু তখন পরিত্রাণের কোনই উপায় ছিল না।
ইহারা বিস্ময় বোধ করিতেছে যে, ইহাদের নিকট ইহাদেরই মধ্য হইতে একজন সতর্ককারী আসিল এবং কাফিররা বলে, ‘এ তো এক জাদুকর, মিথ্যাবাদী।’
তারা বিস্ময় প্রকাশ করছে যে, তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন সতর্ককারী এসেছে। কাফিররা বলছে: ‘‘এতো এক মিথ্যাবাদী ম্যাজেসিয়ান।
আর তারা বিস্মিত হল যে, তাদের কাছে তাদের মধ্য থেকেই একজন সতর্ককারী এসেছে এবং কাফিররা বলে, ‘এ তো যাদুকর, মিথ্যাবাদী’।
ইহারা বিস্ময় বোধ করিতেছে যে, ইহাদের নিকট ইহাদেরই মধ্য হইতে একজন সতর্ককারী আসিল এবং কাফিররা বলে, ‘এ তো এক জাদুকর, মিথ্যাবাদী।’
‘সে কি বহু ইলাহ্কে এক ইলাহ্ বানাইয়া লইয়াছে? ইহা তো এক অত্যাশ্চর্য ব্যাপার!’
সে কি সব ইলাহকে এক ইলাহ্ বানিয়ে নিয়েছে? এ তো এক বিস্ময়কর জিনিস।’’
‘সে কি সকল উপাস্যকে এক বানিয়ে নিয়েছে? নিশ্চয় এ তো এক আশ্চর্য বিষয়’!
‘সে কি বহু ইলাহ্কে এক ইলাহ্ বানাইয়া লইয়াছে? ইহা তো এক অত্যাশ্চর্য ব্যাপার!’
উহাদের প্রধানেরা সরিয়া পড়ে এই বলিয়া, ‘তোমরা চলিয়া যাও এবং তোমাদের দেবতাগুলির পূজায় তোমরা অবিচলিত থাক। নিশ্চয়ই এই ব্যাপারটি উদ্দেশ্যমূলক।’
সে কি সব ইলাহকে এক ইলাহ্ বানিয়ে নিয়েছে? এ তো এক বিস্ময়কর জিনিস।’’
আর তাদের প্রধানরা চলে গেল একথা বলে যে, ‘যাও এবং তোমাদের উপাস্যগুলোর উপর অবিচল থাক। নিশ্চয় এ বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রণোদিত’।
উহাদের প্রধানেরা সরিয়া পড়ে এই বলিয়া, ‘তোমরা চলিয়া যাও এবং তোমাদের দেবতাগুলির পূজায় তোমরা অবিচলিত থাক। নিশ্চয়ই এই ব্যাপারটি উদ্দেশ্যমূলক।’
‘আমরা তো অন্য ধর্মাদর্শে এরূপ কথা শুনি নাই; ইহা এক মনগড়া উক্তি মাত্র।
আমরা তো অন্যান্য ধর্মে এ ধরণের কথা শুনিনি। এগুলো মনগড়া কথা ছাড়া আর কিছু নয়।
আমরা তো সর্বশেষ ধর্মে এমন কথা শুনিনি*। এটা তো বানোয়াট কথা ছাড়া আর কিছু নয়। * তাদের জন্য সর্বশেষ ধর্ম ছিল খৃস্টধর্ম। কারো কারো মতে তা ছিল কুরাইশদের ধর্ম।
‘আমরা তো অন্য ধর্মাদর্শে এরূপ কথা শুনি নাই; ইহা এক মনগড়া উক্তি মাত্র।
‘আমাদের মধ্য হইতে কি তাহারই উপর কুরআন অবতীর্ণ হইল?’ প্রকৃতপক্ষে উহারা তো আমার কুরআনে সন্দিহান, উহারা এখনও আমার শাস্তি আস্বাদন করে নাই।
আমাদের মধ্য থেকে কি তার প্রতিই যিকির (কুরআন) নাযিল করা হলো?’’ আসল কথা হলো, আমার যিকির (কুরআন) সম্পর্কেই তাদের সন্দেহ রয়েছে। তারা তো এখনো আমার আযাবের স্বাদ আস্বাদন করেনি।
‘আমাদের মধ্য থেকে তার উপরই কি কুরআন নাযিল করা হল’? বরং তারা আমার কুরআনের ব্যাপারে সন্দেহে রয়েছে। বরং তারা এখনও আমার আযাব আস্বাদন করেনি।
‘আমাদের মধ্য হইতে কি তাহারই উপর কুরআন অবতীর্ণ হইল?’ প্রকৃতপক্ষে উহারা তো আমার কুরআনে সন্দিহান, উহারা এখনও আমার শাস্তি আস্বাদন করে নাই। উহাদের নিকট কি আছে তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহের ভাণ্ডার, যিনি পরাক্রমশালী, মহান দাতা?
উহাদের নিকট কি আছে তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহের ভাণ্ডার, যিনি পরাক্রমশালী, মহান দাতা?
নাকি, তাদের কাছে রয়েছে তোমার প্রভুর রহমতের ভান্ডার, যিনি মহাশক্তিধর ও মহাদানশীল?
তাদের কাছে কি তোমার রবের রহমতের ভান্ডার রয়েছে যিনি মহাপরাক্রমশালী, অসীম দাতা।
উহাদের নিকট কি আছে তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহের ভাণ্ডার, যিনি পরাক্রমশালী, মহান দাতা?
উহাদের কি কর্তৃত্ব আছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং উহাদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছুর উপর? থাকিলে, উহারা সিঁড়ি বাহিয়া আরোহণ করুক!
নাকি মহাকাশ, পৃথিবী এবং এগুলোর মধ্যবর্তী সবকিছুর কর্তৃত্ব তাদের হাতে? তাহলে তারা সিঁড়ি লাগিয়ে উপরে উঠুক।
অথবা আসমান ও যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে তার মালিকানা কি তাদের? তাহলে তারা আরোহণ করুক (আসমানে উঠার) কোন উপায় অবলম্বন করে।
উহাদের কি কর্তৃত্ব আছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং উহাদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছুর উপর? থাকিলে, উহারা সিঁড়ি বাহিয়া আরোহণ করুক!
বহু দলের এই বাহিনীও সেক্ষেত্রে অবশ্যই পরাজিত হইবে।
(অতীতে ধ্বংস হওয়া) বহু দলের মধ্যে এতো ছোট্ট একটি দল। দলের এই বাহিনীও পরাজিত হবে।
এ বাহিনী তো সেখানে* পরাজিত হবে (পূর্ববর্তী) দলসমূহের মত। * هناك দ্বারা মক্কার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কারো কারো মতে বদর দিবসের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
বহু দলের এই বাহিনীও সেক্ষেত্রে অবশ্যই পরাজিত হইবে।
ইহাদের পূর্বেও রাসূলদেরকে অস্বীকার করিয়াছিল নূহের সম্প্রদায়, ‘আদ ও বহু শিবিরের অধিপতি ফির‘আওন,
এদের আগেও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল নূহের কওম, আদ জাতি এবং খুঁটি ও লাঠির অধিপতি ফেরাউন,
তাদের পূর্বেও অস্বীকার করেছিল নূহের কওম, আদ ও বহু অট্টালিকার অধিপতি ফির‘আউন,
ইহাদের পূর্বেও রাসূলদেরকে অস্বীকার করিয়াছিল নূহের সম্প্রদায়, ‘আদ ও বহু শিবিরের অধিপতি ফির‘আওন,
সামূদ, লূত সম্প্রদায় ও ‘আয়কা‘র অধিবাসী; উহারা ছিল এক - একটি বিশাল বাহিনী।
সামুদ জাতি, লুতের কওম এবং আইকার অধিবাসীরা। তারা প্রত্যেকেই ছিলো বিশাল বিশাল বাহিনী।
সামূদ, কওমে লূত ও আইকার অধিবাসীরা। এরাই ছিল (নবীদের বিরুদ্ধাচরণকারী) দলসমূহ ।
সামূদ, লূত সম্প্রদায় ও ‘আয়কা‘র অধিবাসী; উহারা ছিল এক - একটি বিশাল বাহিনী।
উহাদের প্রত্যেকেই রাসূলগণকে অস্বীকার করিয়াছে। ফলে উহাদের ক্ষেত্রে আমার শাস্তি হইয়াছে বাস্তব।
এরা প্রত্যেকেই রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে তাদের প্রতি সত্য প্রমাণিত হয়েছে শাস্তির ওয়াদা।
প্রত্যেকেই তো রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল। ফলে আমার আযাব অবধারিত হয়েছিল।
উহাদের প্রত্যেকেই রাসূলগণকে অস্বীকার করিয়াছে। ফলে উহাদের ক্ষেত্রে আমার শাস্তি হইয়াছে বাস্তব।
ইহারা তো অপেক্ষা করিতেছে একটি মাত্র প্রচণ্ড নিনাদের, যাহাতে কোন বিরাম থাকিবে না।
তারা তো অপেক্ষা করছে একটি প্রচন্ড শব্দের জন্যে, যাতে কোনো বিরতি থাকবে না।
আর এরা তো কেবল একটি বিকট আওয়াজের অপেক্ষা করছে যাতে কোন বিরাম থাকবে না।
ইহারা তো অপেক্ষা করিতেছে একটি মাত্র প্রচণ্ড নিনাদের, যাহাতে কোন বিরাম থাকিবে না।
ইহারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! বিচারদিবসের পূর্বেই আমাদের প্রাপ্য আমাদেরকে শীঘ্র দিয়া দাও না।’
তারা বলে: ‘আমাদের প্রভু, বিচার দিনের আগেই আমাদের প্রাপ্য অংশ আমাদের দিয়ে দিন।’
আর তারা বলে, হে ‘আমাদের রব, হিসাব দিবসের আগেই আমাদের প্রাপ্য আমাদেরকে তাড়াতাড়ি দিয়ে দিন’।
ইহারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! বিচারদিবসের পূর্বেই আমাদের প্রাপ্য আমাদেরকে শীঘ্র দিয়া দাও না।’
ইহারা যাহা বলে তাহাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং স্মরণ কর, আমার শক্তিশালী বান্দা দাঊদের কথা; সে ছিল অতিশয় অভিমুখী।
তারা যা বলে, তার জন্যে তুমি সবর অবলম্বন করো আর স্মরণ করো আমার হাতওয়ালা (ক্ষমতাপ্রাপ্ত) দাস দাউদকে। সে ছিলো আমার অভিমুখী।
তারা যা বলে সে ব্যাপারে তুমি ধৈর্যধারণ কর এবং আমার শক্তিশালী বান্দা দাঊদকে স্মরণ কর; সে ছিল অধিক অভিমুখী।
ইহারা যাহা বলে তাহাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং স্মরণ কর, আমার শক্তিশালী বান্দা দাউদের কথা, সে ছিল অতিশয় আল্লহ অভিমুখী।
আমি নিয়োজিত করিয়াছিলাম পর্বতমালাকে, যেন ইহারা সকাল - সন্ধ্যায় তাহার সঙ্গে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে,
আমরা পাহাড় পর্বতকে নিয়োজিত রেখেছিলাম যেনো সকাল - সন্ধ্যায় তার সাথে আমার তসবিহ্ করে।
আমি পর্বতমালাকে অনুগত করেছিলাম, তার সাথে এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় আমার তাসবীহ পাঠ করত।
আমি নিয়োজিত করিয়াছিলাম পর্বতমালাকে, যেন ইহারা সকাল - সন্ধ্যায় তাহার সঙ্গে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে
এবং সমবেত বিহঙ্গকুলকেও; সকলেই ছিল তাঁহার অভিমুখী।
আর পাখিরাও তার কাছে জড়ো হতো, প্রত্যেকেই ছিলো তার অনুগত।
আর সমবেত পাখীদেরকেও (অনুগত করেছিলাম); প্রত্যেকেই ছিল অধিক অভিমুখী।
এবং সমবেত বিহঙ্গকুলকেও; সকলেই ছিল তাঁহার অভিমুখী।
আমি তাহার রাজ্যকে সুদৃঢ় করিয়াছিলাম এবং তাহাকে দিয়াছিলাম প্রজ্ঞা ও ফয়সালাকারী বাগ্মিতা।
আমরা তার সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় করে দিয়েছিলাম আর তাকে দিয়েছিলাম হিকমা (প্রজ্ঞা) এবং সিদ্ধান্তকর বক্তব্য রাখার ক্ষমতা।
আর আমি তার রাজত্বকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাকে প্রজ্ঞা ও ফয়সালাকারী বাগ্মিতা দিয়েছিলাম।
আমি তাহার রাজ্যকে সুদৃঢ় করিয়াছিলাম এবং তাহাকে দিয়াছিলাম প্রজ্ঞা ও ফয়সালাকারী বাগ্মিতা।
তোমার নিকট বিবদমান লোকদের বৃত্তান্ত পৌঁছিয়াছে কি? যখন উহারা প্রাচীর ডিঙাইয়া আসিল ‘ইবাদতখানায়,
তোমার কাছে কি বিবাদকারীদের সংবাদ পৌঁছেছে? যখন তারা প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে মেহরাবে এসেছিল।
তোমার কাছে কি বিবদমান লোকদের সংবাদ এসেছে? যখন তারা প্রাচীর ডিঙিয়ে মিহরাবে আসল।
তোমার নিকট বিবদমান লোকদের বৃত্তান্ত পৌঁছিয়াছে কি? যখন উহারা প্রাচীর ডিঙাইয়া আসিল ‘ইবাদতখানায়,
এবং দাঊদের নিকট পৌঁছিল, তখন তাহাদের কারণে সে ভীত হইয়া পড়িল। উহারা বলিল, ‘ভীত হইবেন না, আমরা দুই বিবদমান পক্ষ - আমাদের একে অপরের উপর জুলুম করিয়াছে; অতএব আমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করুন ; অবিচার করিবেন না এবং আমাদেরকে সঠিক পথনির্দেশ করুন।
তারা দাউদের কাছে প্রবেশ করেছিল। তাদের দেখে দাউদ ভীত হয়ে পড়ে। তারা বললো: ‘‘আপনি ভীত হবেননা, আমরা দুটি বিবদমান পক্ষ। একে অপরের প্রতি বাড়াবাড়ি করেছি। আপনি আমাদের মাঝে ন্যায় বিচার করে দিন। অবিচার করবেন না এবং আমাদেরকে সঠিক পথের নির্দেশনা দিন:
যখন তারা দাঊদের কাছে প্রবেশ করল, তখন সে তাদের ভয় পেয়ে গেল। তারা বলল ‘আপনি ভয় করবেন না, আমরা বিবদমান দু’পক্ষ। আমাদের একে অন্যের উপর সীমালঙ্ঘন করেছে। অতএব আপনি আমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করুন, অবিচার করবেন না। আর আমাদেরকে সরল পথের নির্দেশনা দিন’।
এবং দাঊদের নিকট পৌঁছিল, তখন তাহাদের কারণে সে ভীত হইয়া পড়িল। উহারা বলিল, ‘ভীত হইবেন না, আমরা দুই বিবদমান পক্ষ - আমাদের একে অপরের উপর জুলুম করিয়াছে; অতএব আমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করুন ; অবিচার করিবেন না এবং আমাদেরকে সঠিক পথনির্দেশ করুন।
‘এই ব্যক্তি আমার ভাই, ইহার আছে নিরানব্বইটি দুম্বা এবং আমার আছে মাত্র একটি দুম্বা। তবুও সে বলে, ‘আমার যিম্মায় এইটি দিয়া দাও’, এবং কথায় সে আমার প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করিয়াছে।
এ আমার ভাই। তার আছে নিরানব্বইটি দুম্বা আর আমার আছে মাত্র একটি দুম্বা। তবু সে বলে: ‘তোমারটি আমার যিম্মায় দিয়ে দাও’ এবং কথায় সে আমার প্রতি কঠোর হয়েছে।’’
‘নিশ্চয় এ আমার ভাই। তার নিরানব্বইটি ভেড়ী আছে, আর আমার আছে মাত্র একটা ভেড়ী। তবুও সে বলে, ‘এ ভেড়ীটিও আমার তত্ত্বাবধানে দিয়ে দাও’, আর তর্কে সে আমার উপর প্রাধান্য বিস্তার করেছে’।
‘এই ব্যক্তি আমার ভাই, ইহার আছে নিরানব্বইটি দুম্বা এবং আমার আছে মাত্র একটি দুম্বা। তবুও সে বলে, ‘আমার যিম্মায় এইটি দিয়া দাও’, এবং কথায় সে আমার প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করিয়াছে।
দাঊদ বলিল, ‘তোমার দুম্বাটিকে তাহার দুম্বাগুলির সঙ্গে যুক্ত করিবার দাবি করিয়া সে তো তোমার প্রতি জুলুম করিয়াছে। শরীকদের অনেকে একে অন্যের উপর তো অবিচার করিয়া থাকে - করে না কেবল ও সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তিগণ এবং তাহারা সংখ্যায় স্বল্প।’ দাঊদ বুঝিতে পারিল, আমি তাহাকে পরীক্ষা করিলাম। অতঃপর সে তাহার প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিল এবং নত হইয়া লুটাইয়া পড়িল ও তাঁহার অভিমুখী হইল।
দাউদ বললো: ‘তোমার দুম্বাটিকে তার দুম্বার সাথে একত্র করার দাবি করে সে তোমার প্রতি যুলুম (অন্যায়) করেছে। শরিকদের অনেকেই একে অপরের উপর যুলুম করে থাকে, তবে যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে তারা নয়, অবশ্য তারা সংখ্যায় স্বল্প।’ দাউদ বুঝতে পারলো, আমরা তাকে পরীক্ষা করেছি, তাই সে তার প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলো এবং নত হয়ে লুটিয়ে পড়লো এবং তাঁর অভিমুখী হলো। (সাজদা)
দাঊদ বলল, ‘তোমার ভেড়ীকে তার ভেড়ীর পালের সাথে যুক্ত করার দাবী করে সে তোমার প্রতি যুলম করেছে। আর শরীকদের অনেকেই একে অন্যের উপর সীমলঙ্ঘন করে থাকে। তবে কেবল তারাই এরূপ করে না যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে’। আর এরা সংখ্যায় খুবই কম। আর দাঊদ জানতে পারল যে, আমি ত
দাঊদ বলিল, ‘তোমার দুম্বাটিকে তাহার দুম্বাগুলির সঙ্গে যুক্ত করিবার দাবি করিয়া সে তো তোমার প্রতি জুলুম করিয়াছে। শরীকদের অনেকে একে অন্যের উপর তো অবিচার করিয়া থাকে - করে না কেবল ও সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তিগণ এবং তাহারা সংখ্যায় স্বল্প।’ দাঊদ বুঝিতে পারিল, আমি তাহাকে পরীক্ষা করিলাম। অতঃপর সে তাহার প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিল এবং নত হইয়া লুটাইয়া পড়িল ও তাঁহার অভিমুখী হইল।
অতঃপর আমি তাহার ত্রুটি ক্ষমা করিলাম। আমার নিকট তাহার জন্য রহিয়াছে নৈকট্যের মর্যাদা ও শুভ পরিণাম।
তখন আমরা তাকে ক্ষমা করে দিলাম। আমাদের কাছে তার জন্যে রয়েছে নৈকট্যের মর্যাদা আর সুন্দর পরিণাম।
তখন আমি তাকে তা ক্ষমা করে দিলাম। আর অবশ্যই আমার কাছে তার জন্য রয়েছে নৈকট্য ও উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।
অতঃপর আমি তাহার ত্রুটি ক্ষমা করিলাম। আমার নিকট তাহার জন্য রহিয়াছে নৈকট্যের মর্যাদা ও শুভ পরিণাম।
‘হে দাঊদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করিয়াছি, অতএব তুমি লোকদের মধ্যে সুবিচার কর এবং খেয়াল - খুশির অনুসরণ করিও না, কেননা ইহা তোমাকে র পথ হইতে বিচ্যুত করিবে।’ যাহারা র পথ হইতে ভ্রষ্ট হয় তাহাদের জন্য রহিয়াছে কঠিন শাস্তি, কারণ তাহারা বিচারদিবসকে বিস্মৃত হইয়া আছে।
(আমরা তাকে বলেছিলাম:) ‘হে দাউদ! আমরা তোমাকে ভূ - খন্ডের খলিফা (শাসক) বানিয়েছি, সুতরাং তুমি জনগণের মাঝে সুবিচার করো, নিজস্ব চিন্তা - বাসনার অনুসরণ করোনা, করলে সেটা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যূত করে দেবে। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন আযাব, কারণ তারা হিসাবের দিনটিকে ভুলে যায়।’
(হে দাঊদ), নিশ্চয় আমি তোমাকে যমীনে খলীফা বানিয়েছি, অতএব তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার কর আর প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, কেননা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয় তাদের জন্য কঠিন আযাব রয়েছে। কারণ তারা হিসাব দিবসকে ভ
‘হে দাঊদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করিয়াছি, অতএব তুমি লোকদের মধ্যে সুবিচার কর এবং খেয়াল - খুশির অনুসরণ করিও না, কেননা ইহা তোমাকে আল্লাহর পথ হইতে বিচ্যুত করিবে।’ যাহারা পথ হইতে ভ্রষ্ট হয় তাহাদের জন্য রহিয়াছে কঠিন শাস্তি, কারণ তাহারা বিচারদিবসকে বিস্মৃত হইয়া আছে।
আমি আকাশ, পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী কোন কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করি নাই। অনর্থক সৃষ্টি করার ধারণা উহাদের যাহারা , সুতরাং কাফিরদের জন্য রহিয়াছে জাহান্নামের দুর্ভোগ।
আমরা আসমান, জমিন এবং এ দুয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে কোনো কিছুই নিরর্থক সৃষ্টি করিনি। অনর্থক সৃষ্টির ধারণা করে তো কাফিররা। সুতরাং কাফিরদের জন্যে রয়েছে আগুনের আযাব।
আর আসমান, যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে তা আমি অনর্থক সৃষ্টি করিনি। এটা কাফিরদের ধারণা, সুতরাং কাফিরদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের দুর্ভোগ।
আমি আকাশ, পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী কোন কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করি নাই। অনর্থক সৃষ্টি করার ধারণা উহাদের যাহারা , সুতরাং কাফিরদের জন্য রহিয়াছে জাহান্নামের দুর্ভোগ।
যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং যাহারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করিয়া বেড়ায়, আমি কি তাহাদেরকে সমান গণ্য করিব? আমি কি মুত্তাকীদেরকে অপরাধীদের সমান গণ্য করিব?
যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে তাদেরকে কি আমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের সমতুল্য গণ্য করবো, নাকি মুত্তাকিদের গণ্য করবো ফুজ্জারদের (পাপিষ্ঠদের) সমতুল্য?
যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে আমি কি তাদেরকে যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের সমতুল্য গণ্য করব? নাকি আমি মুত্তাকীদেরকে পাপাচারীদের সমতুল্য গণ্য করব?
যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং যাহারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করিয়া বেড়ায়, আমি কি তাহাদেরকে সমান গণ্য করিব? আমি কি মুত্তাকীদেরকে অপরাধীদের সমান গণ্য করিব?
এক কল্যাণময় কিতাব, ইহা আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করিয়াছি, যাহাতে মানুষ ইহার আয়াতসমূহ অনুধাবন করে এবং বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিগণ গ্রহণ করে উপদেশ।
এই কল্যাণময় কিতাব (আল কুরআন) আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যেনো মানুষ এর আয়াতসমূহ অনুধাবন করে এবং বুদ্ধিমান লোকেরা গ্রহণ করে উপদেশ।
আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি এক বরকতময় কিতাব, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে।
এক কল্যাণময় কিতাব, ইহা আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করিয়াছি, যাহাতে মানুষ ইহার আয়াতসমূহ অনুধাবন করে এবং বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিগণ গ্রহণ করে উপদেশ।
আমি দাঊদকে দান করিলাম সুলায়মান। সে ছিল উত্তম বান্দা এবং সে ছিল অতিশয় অভিমুখী।
আমরা দাউদকে দান করেছিলাম (পুত্র) সুলাইমানকে। সে ছিলো আমাদের উত্তম দাস এবং অধিক অধিক আল্লাহমুখী।
আর আমি দাঊদকে দান করলাম সুলাইমান। সে কতই না উত্তম বান্দা! নিঃসন্দেহে সে ছিল অতিশয় অভিমুখী।
আমি দাঊদকে দান করিলাম সুলায়মান। সে ছিল উত্তম বান্দা এবং সে ছিল অতিশয় অভিমুখী।
যখন অপরাহ্নে তাহার সম্মুখে ধাবনোদ্যত উৎকৃষ্ট অশ্বরাজিকে উপস্থিত করা হইল,
যখন অপরাহ্নে তার সামনে ধাবনোদ্যত উত্তম ঘোড়াগুলো হাজির করা হলো,
যখন তার সামনে সন্ধ্যাবেলায় পেশ করা হল দ্রুতগামী উৎকৃষ্ট ঘোড়াসমূহ।
যখন অপরাহ্নে তাহার সম্মুখে ধাবনোদ্যত উৎকৃষ্ট অশ্বরাজিকে উপস্থিত করা হইল,
তখন সে বলিল, ‘আমি তো আমার প্রতিপালকের স্মরণ হইতে বিমুখ হইয়া ঐশ্বর্য প্রীতিতে মগ্ন হইয়া পড়িয়াছি, এদিকে সূর্য অস্তমিত হইয়া গিয়াছে;
সে বললো: ‘‘আমি তো আমার প্রভুর যিকির থেকে ঐশ্বর্যপ্রিয়তার দিকে অধিক নিমগ্ন হয়ে পড়েছি, এদিকে সূর্য অস্তমিত হয়ে গেলো।
তখন সে বলল, ‘আমি তো আমার রবের স্মরণ থেকে বিমুখ হয়ে ঐশ্বর্যের প্রেমে মগ্ন হয়ে পড়েছি, এদিকে সূর্য পর্দার আড়ালে চলে গেছে।* * অর্থাৎ সূর্য ডুবে গেছে।
তখন সে বলিল, ‘আমি তো আমার প্রতিপালকের স্মরণ হইতে বিমুখ হইয়া ঐশ্বর্য প্রীতিতে মনগড়া হইয়া পড়িয়াছি, এদিকে সূর্য অস্তমিত হইয়া গিয়াছে;
‘এইগুলিকে পুনরায় আমার সম্মুখে আনয়ন কর।’ অতঃপর সে উহাদের পদ ও গলদেশ ছেদন করিতে লাগিল।
এগুলোকে আবার আমার সামনে নিয়ে এসো।’’ তারপর সে সেগুলোর পা এবং গলা কেটে যবেহ করতে থাকলো।
এগুলো আমার কাছে ফিরিয়ে আন। অতঃপর সে এগুলোকে পা ও গলদেশ দিয়ে যবেহ করা শুরু করল।* * সুলাইমান আ. জিহাদের জন্য পালিত এসব ঘোড়া কোন এক বিকালে পরিদর্শন করতে গিয়ে অনেক কাল ক্ষেপণ করেন এবং এদিকে সূর্য ডুবে যায়। ফলে ঘোড়ার কারণে আল্লাহর যিকর থেকে এত দীর্ঘ সময় বিরত
‘এইগুলিকে পুনরায় আমার সম্মুখে আনয়ন কর।’ অতঃপর সে উহাদের পদ ও গলদেশ ছেদন করিতে লাগিল।
আমি তো সুলায়মানকে পরীক্ষা করিলাম এবং তাহার আসনের উপর রাখিলাম একটি ধড়; অতঃপর সুলায়মান আমার অভিমুখী হইল।
আমরা সুলাইমানকে পরীক্ষা করেছিলাম এবং তার কুরসির (চেয়ারের) উপর রেখেছিলাম একটি দেহ, ফলে সে আমার অভিমুখী হয়।
আর আমি তো সুলাইমানকে পরীক্ষা করেছিলাম এবং তার সিংহাসনের উপর রেখেছিলাম একটি দেহ*, অতঃপর সে আমার অভিমুখী হল। * আবু হুরাইরা সূত্রে বুখারী শরীফের বর্ণনা মতে হযরত সুলাইমান একদা তাঁর সকল স্ত্রীর সাথে সহবাস করার দীপ্ত কামনা ব্যক্ত করে বলেন যে, এর ফলে তাদের গর্ভ
আমি তো সুলায়মানকে পরীক্ষা করিলাম এবং তাহার আসনের উপর রাখিলাম একটি ধড়; অতঃপর সুলায়মান আমার অভিমুখী হইল।
সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর এবং আমাকে দান কর এমন এক রাজ্য যাহার অধিকারী আমি ছাড়া কেহ না হয়। তুমি তো পরম দাতা।’
সে বললো: ‘আমার প্রভু! আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমাকে দান করো এমন একটি সাম্রাজ্য, যেমনটির অধিকারী যেনো আমার পরে আর কেউ না হয়। নিশ্চয়ই তুমি মহান দাতা।’
সুলাইমান বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন এক রাজত্ব দান করুন যা আমার পর আর কারও জন্যই প্রযোজ্য হবে না। নিশ্চয়ই আপনি বড়ই দানশীল।
সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর এবং আমাকে দান কর এমন এক রাজ্য যাহার অধিকারী আমি ছাড়া কেহ না হয়। তুমি তো পরম দাতা।’
তখন আমি তাহার অধীন করিয়া দিলাম বায়ুকে, যাহা তাহার আদেশে, সে যেখানে ইচ্ছা করিত সেখানে মৃদুমন্দভাবে প্রবাহিত হইত,
ফলে আমরা বাতাসকে তার অধীন করে দিয়েছিলাম। বাতাস তার আদেশে কোমলভাবে প্রবাহিত হতো যেখানে সে ইচ্ছা করতো।
ফলে আমি বায়ুকে তার অনুগত করে দিলাম যা তার আদেশে মৃদুমন্দভাবে প্রবাহিত হত, যেখানে সে পৌঁছতে চাইত।
তখন আমি তাহার অধীন করিয়া দিলাম বায়ুকে, যাহা তাহার আদেশে, সে যেখানে ইচ্ছা করিত সেখানে মৃদুমন্দভাবে প্রবাহিত হইত,
এবং শয়তানদেরকে, যাহারা সকলেই ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী,
এবং শয়তানদেরকেও (জিনদেরকেও) তার অধীন করে দিয়েছিলাম। তারা ছিলো ইমারত নির্মাণকারী আর ডুবুরি।
আর (অনুগত করে দিলাম) প্রত্যেক প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী শয়তান [জিন] সমূহকেও
এবং শয়তানদেরকে, যাহারা সকলেই ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী,
এবং শৃঙ্খলে আবদ্ধ আরও অনেককে।
আর শৃংখলে আবদ্ধ অনেককেও।
আর শেকলে আবদ্ধ আরও অনেককে।
এবং শৃঙ্খলে আবদ্ধ আরও অনেককে।
‘এইসব আমার অনুগ্রহ, ইহা হইতে তুমি অন্যকে দিতে অথবা নিজে রাখিতে পার। ইহার জন্য তোমাকে হিসাব দিতে হইবে না।’
(আমরা তাকে বলেছি: তোমার প্রতি) এগুলো আমাদের দান। এগুলো থেকে তুমি অন্যদের দিতে পারো কিংবা নিজে রাখতে পারো, এর জন্যে তোমাকে হিসাব দিতে হবেনা।
এটি আমার অনুগ্রহ। অতএব তুমি এটি অন্যের জন্য খরচ কর অথবা নিজের জন্য রেখে দাও, এর কোন হিসাব দিতে হবে না।
‘এইসব আমার অনুগ্রহ, ইহা হইতে তুমি অন্যকে দিতে অথবা নিজে রাখিতে পার। ইহার জন্য তোমাকে হিসাব দিতে হইবে না।’
এবং আমার নিকট রহিয়াছে তাহার জন্য নৈকট্যের মর্যাদা ও শুভ পরিণাম।
আমাদের এখানে তার জন্যে রয়েছে নৈকট্যের মর্যাদা এবং উত্তম পরিণাম।
আর আমার নিকট রয়েছে তার জন্য নৈকট্য ও শুভ পরিণাম।
এবং আমার নিকট রহিয়াছে তাহার জন্য নৈকট্যের মর্যাদা ও শুভ পরিণাম।
স্মরণ কর, আমার বান্দা আইউবকে, যখন সে তাহার প্রতিপালককে আহবান করিয়া বলিয়াছিল, ‘শয়তান তো আমাকে যন্ত্রণা ও কষ্টে ফেলিয়াছে’,
স্মরণ করো আমাদের দাস আইউবকে। সে তার প্রভুকে ডেকে বলেছিল: ‘(প্রভু!) শয়তান আমাকে যন্ত্রণা আর কষ্টে ফেলেছে।’
আর স্মরণ কর আমার বান্দা আইউবকে, যখন সে তার রবকে ডেকে বলেছিল, ‘শয়তান তো আমাকে কষ্ট ও আযাবের ছোঁয়া দিয়েছে’।
স্মরণ কর, আমার বান্দা আইউবকে, যখন সে তাহার প্রতিপালককে আহবান করিয়া বলিয়াছিল, ‘শয়তান তো আমাকে যন্ত্রণা ও কষ্টে ফেলিয়াছে’,
আমি তাহাকে বলিলাম, ‘তুমি তোমার পদ দ্বারা ভূমিতে আঘাত কর, এই তো গোসলের সুশীতল পানি আর পানীয়।’
(আমরা তাকে বলেছিলাম:) ‘তুমি তোমার পা দিয়ে জমিনে আঘাত করো। এ হলো তোমার গোসলের সুশীতল পানি এবং পানীয় পানি।’
[আমি বললাম], ‘তুমি তোমার পা দিয়ে (ভূমিতে) আঘাত কর, এ হচ্ছে গোসলের সুশীতল পানি আর পানীয়’।
আমি তাহাকে বলিলাম, ‘তুমি তোমার পদ দ্বারা ভূমিতে আঘাত কর, এই তো গোসলের সুশীতল পানি আর পানীয়।’
আমি তাহাকে দান করিলাম তাহার পরিজনবর্গ ও তাহাদের মত আরও, আমার অনুগ্রহস্বরূপ এবং বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্য উপদেশস্বরূপ।
আমরা তাকে দান করেছি তার পরিবারবর্গকে এবং অনুরূপ আরো, আমাদের পক্ষ থেকে রহমত (অনুগ্রহ) হিসাবে এবং বুদ্ধিমান লোকদের জন্যে উপদেশ হিসেবে।
আর আমার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ ও বুদ্ধিমানদের জন্য উপদেশস্বরূপ আমি তাকে দান করলাম তার পরিবার-পরিজন ও তাদের সাথে তাদের অনুরূপ অনেককে।
আমি তাহাকে দান করিলাম তাহার পরিজনবর্গ ও তাহাদের মত আরও, আমার অনুগ্রহস্বরূপ এবং বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্য উপদেশস্বরূপ।
আমি তাহাকে আদেশ করিলাম, ‘একমুষ্টি তৃণ লও ও উহা দ্বারা আঘাত কর এবং শপথ ভঙ্গ করিও না।’ আমি তো তাহাকে পাইলাম ধৈর্যশীল। কত উত্তম বান্দা সে! সে ছিল আমার অভিমুখী।
আমরা তাকে আরো আদেশ করলাম, এক মুষ্টি তৃণ নাও, তা দিয়ে আঘাত করো এবং শপথ ভঙ্গ করোনা। আমরা তাকে পেয়েছি ধৈর্যশীল। কতো যে উত্তম দাস ছিলো সে! আর সে ছিলো আমার অভিমুখী।
আর তুমি তোমার হাতে এক মুঠো তৃণলতা নাও এবং তা দিয়ে আঘাত কর। আর কসম ভংগ করো না। নিশ্চয় আমি তাকে ধৈর্যশীল পেয়েছি। সে কতই না উত্তম বান্দা! নিশ্চয়ই সে ছিল আমার অভিমুখী।
আমি তাহাকে আদেশ করিলাম, ‘একমুষ্টি তৃণ লও ও উহা দ্বারা আঘাত কর এবং শপথ ভঙ্গ করিও না।’ আমি তো তাহাকে পাইলাম ধৈর্যশীল। কত উত্তম বান্দা সে! সে ছিল আমার অভিমুখী।
স্মরণ কর, আমার বান্দা ইব্রাহীম, ইস্হাক ও ইয়া‘কূবের কথা, উহারা ছিল শক্তিশালী ও সূক্ষ্মদর্শী।
স্মরণ করো আমাদের দাস ইবরাহিম, ইসহাক এবং ইয়াকুবকে। তারা ছিলো হাত এবং চোখওয়ালা (শক্তিশালী এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন)।
আর স্মরণ কর আমার বান্দা ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়া‘কূবকে। তারা ছিল শক্তিমান ও সূক্ষ্মদর্শী।
স্মরণ কর, আমার বান্দা ইব্রাহীম, ইস্হাক ও ইয়া‘কূবের কথা, উহারা ছিল শক্তিশালী ও সূক্ষ্মদর্শী।
আমি তাহাদেরকে অধিকারী করিয়াছিলাম এক বিশেষ গুণের, উহা ছিল পরলোকের স্মরণ।
আমরা তাদের মনোনীত করেছিলাম বিশেষ গুণের জন্যে, আর তা ছিলো পরকালের স্মরণ।
নিশ্চয় আমি তাদেরকে বিশেষ করে পরকালের স্মরণের জন্য নির্বাচিত করেছিলাম।
আমি তাহাদেরকে অধিকারী করিয়াছিলাম এক বিশেষ গুণের, উহা ছিল পরলোকের স্মরণ।
অবশ্যই তাহারা ছিল আমার মনোনীত উত্তম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
তারা ছিলো আমাদের মনোনীত উত্তম দাস।
আর নিশ্চয় তারা ছিল আমার মনোনীত, সর্বোত্তম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
অবশ্যই তাহারা ছিল আমার মনোনীত উত্তম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
স্মরণ কর, ইসমাঈল, আল - ইয়াসা‘আ ও যুল - কিফ্লের কথা, ইহারা প্রত্যেকেই ছিল সজ্জন।
স্মরণ করো ইসমাঈল, আলইয়াসা এবং যুলকিফলের কথা। তারা সবাই ছিলো (আমাদের) উত্তম (দাস)।
আরো স্মরণ কর ইসমাঈল, আল-ইয়াসা‘আ ও যুল-কিফলের কথা। এরা প্রত্যেকেই ছিল সর্বোত্তমদের অন্তর্ভুক্ত।
স্মরণ কর, ইসমাঈল, আল - ইয়াসা‘আ ও যুল - কিফ্লের কথা, ইহারা প্রত্যেকেই ছিল সজ্জন।
ইহা এক স্মরণীয় বর্ণনা। নিশ্চয়ই মুত্তাকীদের জন্য রহিয়াছে উত্তম আবাস
এগুলো সবই উপদেশ। আর মুত্তাকিদের জন্যে রয়েছে উত্তম আবাস,
এটি এক স্মরণ, আর মুত্তাকীদের জন্য অবশ্যই রয়েছে উত্তম নিবাস-
ইহা এক স্মরণীয় বর্ণনা। নিশ্চয়ই মুত্তাকীদের জন্য রহিয়াছে উত্তম আবাস
চিরস্থায়ী জান্নাত, যাহার দ্বার তাহাদের জন্য উন্মুক্ত।
(তা হলো) চিরস্থায়ী জান্নাত, যার দ্বার রয়েছে তাদের জন্যে উন্মুক্ত।
চিরস্থায়ী জান্নাত, যার দরজাসমূহ থাকবে তাদের জন্য উন্মুক্ত।
চিরস্থায়ী জান্নাত, যাহার দ্বার তাহাদের জন্য উন্মুক্ত।
সেখানে তাহারা আসীন হইবে হেলান দিয়া, সেখানে তাহারা বহুবিধ ফলমূল ও পানীয় চাইবে।
সেখানে তারা আসন গ্রহণ করবে হেলান দিয়ে। সেখানে তারা চাইবে নানা রকম ফলফলারি আর পানীয়।
সেখানে তারা হেলান দিয়ে আসীন থাকবে, সেখানে তারা বহু ফলমূল ও পানীয় চাইবে।
সেখানে তাহারা আসীন হইবে হেলান দিয়া, সেখানে তাহারা বহুবিধ ফলমূল ও পানীয় চাইবে।
এবং তাহাদের পার্শ্বে থাকিবে আনতনয়না সমবয়স্কাগণ।
তাদের কাছে থাকবে আয়তনয়না সমবয়েসী নারীরা।
আর তাদের নিকটে থাকবে আনতনয়না সমবয়সীরা।
এবং তাহাদের পার্শ্বে থাকিবে আনতনয়না সমবয়স্কাগণ।
ইহা হিসাব দিবসের জন্য তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি।
তোমাদেরকে এসব কিছুর প্রতিশ্রুতি দেয়া হলো হিসাবের দিন দেয়ার জন্যে।
হিসাব দিবস সম্পর্কে তোমাদেরকে এ ওয়াদাই দেয়া হয়েছিল।
ইহা হিসাব দিবসের জন্য তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি।
ইহা তো আমার দেওয়া রিযিক যাহা নিঃশেষ হইবে না,
এগুলো হবে আমাদের পক্ষ থেকে রিযিক। এগুলো কখনো ফুরাবে না।
নিশ্চয় এটি আমার দেয়া রিয্ক, যা নিঃশেষ হবার নয়।
ইহা তো আমার দেওয়া রিযিক যাহা নিঃশেষ হইবে না,
ইহাই। আর সীমালংঘনকারীদের জন্য রহিয়াছে নিকৃষ্টতম পরিণাম
এই হবে (মুত্তাকিদের অবস্থা), আর সীমালংঘনকারীদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট পরিণাম।
এমনই, আর নিশ্চয় সীমালংঘনকারীদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্টতম নিবাস।
ইহাই। আর সীমালংঘনকারীদের জন্য রহিয়াছে নিকৃষ্টতম পরিণাম
জাহান্নাম, সেখানে উহারা প্রবেশ করিবে, কত নিকৃষ্ট ঠিকানা!
তাহলো জাহান্নাম। তাতেই প্রবেশ করবে তারা, আর সেটা কতো যে নিকৃষ্ট বিশ্রামাগার।
জাহান্নাম, তারা সেখানে অগ্নিদগ্ধ হবে। কতই না নিকৃষ্ট সে নিবাস!
জাহান্নাম, সেখানে উহারা প্রবেশ করিবে, কত নিকৃষ্ট ঠিকানা!
ইহা সীমালংঘনকারীদের জন্য। সুতরাং উহারা আস্বাদন করুক ফুটন্ত পানি ও পুঁজ।
এটাই হবে সীমা লঙ্ঘনকারীদের পরিণাম। সুতরাং তারা আস্বাদন করুক টগবগে ফুটন্ত গরম পানি আর পূঁজ,
এমনই, সুতরাং তারা এটি আস্বাদন করুক, ফুটন্ত পানি ও পুঁজ।
ইহা সীমালংঘনকারীদের জন্য। সুতরাং উহারা আস্বাদন করুক ফুটন্ত পানি ও পুঁজ।
আরও আছে এইরূপ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি।
এবং এ রকম আরো অনেক ধরণের আযাব।
আরও রয়েছে এ জাতীয় বহুরকম আযাব।
আরও আছে এইরূপ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি।
‘এই তো এক বাহিনী, তোমাদের সঙ্গে প্রবেশ করিতেছে।’ ‘উহাদের জন্য নাই অভিনন্দন, ইহারা তো জাহান্নামে জ্বলিবে।’
(নিজেদের অনুসারীদের জাহান্নামে প্রবেশ করতে দেখে তারা বলবে:) ‘এই তো এক বাহিনী তোমাদের সাথে প্রবেশ করছে। তাদের প্রতি নেই কোনো অভিনন্দন। তারা তো জাহান্নামেই দগ্ধ হবে।’
এই তো এক দল তোমাদের সাথেই প্রবেশ করছে, তাদের জন্য নেই কোন অভিনন্দন। নিশ্চয় তারা আগুনে জ্বলবে।
উহারা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! যে ইহা আমাদের সম্মুখীন করিয়াছে, জাহান্নামে তাহার শাস্তি তুমি দ্বিগুণ বর্ধিত কর।’
অনুসারীরা বলিবে, ‘বরং তোমরাও, তোমাদের জন্যও অভিনন্দন নাই। তোমরাই তো পূর্বে উহা আমাদের জন্য ব্যবস্থা করিয়াছ। কত নিকৃষ্ট এই আবাসস্থল!’
তারা (অনুসারীরা) বলবে: ‘বরং তোমাদের জন্যেও নেই কোনো অভিনন্দন। তোমরাই তো আগে আমাদের জন্যে এর ব্যবস্থা করেছো। এটা কতো যে নিকৃষ্ট আবাস।’
অনুসারীরা বলবে, ‘বরং তোমরাও, তোমাদের জন্যও তো নেই কোন অভিনন্দন। তোমরাই আমাদের জন্য এ বিপদ এনেছ। অতএব কতই না নিকৃষ্ট এ আবাসস্থল’!
অনুসারীরা বলিবে, ‘বরং তোমরাও, তোমাদের জন্যও অভিনন্দন নাই। তোমরাই তো পূর্বে উহা আমাদের জন্য ব্যবস্থা করিয়াছ। কত নিকৃষ্ট এই আবাসস্থল!’
উহারা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! যে ইহা আমাদের সম্মুখীন করিয়াছে, জাহান্নামে তাহার শাস্তি তুমি দ্বিগুণ বর্ধিত কর।’
তারা বলবে: ‘আমাদের প্রভু! যে আমাদেরকে এর (জাহান্নামের) সম্মুখীন করেছে, তাকে জাহান্নামে দ্বিগুণ শাস্তি বাড়িয়ে দাও।’
তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব, যে আমাদের জন্য এ বিপদ এনেছে, জাহান্নামে তুমি তার আযাবকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দাও।’
উহারা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! যে ইহা আমাদের সম্মুখীন করিয়াছে, জাহান্নামে
উহারা আরও বলিবে, ‘আমাদের কী হইল যে, আমরা যে সকল লোককে মন্দ বলিয়া গণ্য করিতাম তাহাদেরকে দেখিতে পাইতেছি না!
তারা আরো বলবে: ‘‘কী হলো, (পৃথিবীতে) আমরা যাদের খারাপ লোক বলে গণ্য করতাম তাদেরকে যে (জাহান্নামে) দেখছি না!
তারা আরো বলবে, ‘আমাদের কী হল যে, আমরা যাদের মন্দ গণ্য করতাম সে সকল লোককে এখানে দেখছি না।’
উহারা আরও বলিবে, ‘আমাদের কী হইল যে, আমরা যে সকল লোককে মন্দ বলিয়া গণ্য করিতাম তাহাদেরকে দেখিতে পাইতেছি না!
‘তবে কি আমরা উহাদেরকে অহেতুক ঠাট্টা - বিদ্রপের পাত্র মনে করিতাম, না উহাদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিবিভ্রম ঘটিয়াছে?’
তাহলে কি আমরা তাদেরকে অন্যায়ভাবে বিদ্রুপ করেছি? নাকি তাদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টি বিভ্রম ঘটেছে?’’
‘তবে কি আমরা তাদের ঠাট্টা-বিদ্রূপের পাত্র মনে করতাম, নাকি তাদের ব্যাপারে [আমাদের] দৃষ্টি বিভ্রম ঘটেছে’?
‘তবে কি আমরা উহাদেরকে অহেতুক ঠাট্টা - বিদ্রপের পাত্র মনে করিতাম, না উহাদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিবিভ্রম ঘটিয়াছে?’
ইহা নিশ্চিত সত্য - জাহান্নামীদের এই বাদ - প্রতিবাদ।
এতো নিশ্চিত ব্যাপার, জাহান্নামীদের মধ্যে এই বাকবিতন্ডা হবে।
নিশ্চয়ই এটি সুনিশ্চিত সত্য- জাহান্নামীদের এই পারস্পরিক বাকবিতন্ডা।
ইহা নিশ্চিত সত্য - জাহান্নামীদের এই বাদ - প্রতিবাদ।
বল, ‘আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র এবং কোন ইলাহ্ নাই ব্যতীত, যিনি এক, যিনি প্রবল প্রতাপশালী,
হে নবী! বলো: আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র। প্রবল প্রতাপশালী ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই।
বল, ‘আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র। ছাড়া আর কোন (সত্য) নেই। যিনি এক, প্রবল প্রতাপশালী।’
বল, ‘আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র এবং কোন ইলাহ্ নাই ব্যতীত, যিনি এক, যিনি প্রবল প্রতাপশালী,
‘যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও উহাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক, যিনি পরাক্রমশালী, মহাক্ষমাশীল।’
তিনিই মালিক মহাকাশ এবং পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর। তিনি মহাশক্তিধর, ক্ষমাশীল।
আসমানসমূহ ও যমীন এবং এতদোভয়ের মধ্যস্থিত যা কিছু রয়েছে সব কিছুর রব তিনি। তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাক্ষমাশীল।
‘যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও উহাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক, যিনি পরাক্রমশালী, মহাক্ষমাশীল।’
বল, ‘ইহা এক মহাসংবাদ,
বলো: ‘‘এ এক মহাসংবাদ,
বল, ‘এটি এক মহাসংবাদ’।
বল, ‘ইহা এক মহাসংবাদ,
‘যাহা হইতে তোমরা মুখ ফিরাইয়া লইতেছ।
যা থেকে তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছো।
‘তোমরা তা থেকে বিমুখ হয়ে আছ।’
‘যাহা হইতে তোমরা মুখ ফিরাইয়া লইতেছ।
‘ঊর্ধ্বলোকে তাহাদের বাদানুবাদ সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞান ছিল না।
ঊর্ধ্বলোকে তাদের বিতর্ক সম্পর্কে আমার কোনো এলেম ছিলনা।
‘ঊর্ধ্বলোক সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞানই ছিল না যখন তারা বাদানুবাদ* করছিল’। * আদম আ. এর সৃষ্টির প্রাক্কালে ফেরেশতাদের মধ্যকার পারস্পরিক আলোচনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
‘ঊর্ধ্বলোকে তাহাদের বাদানুবাদ সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞান ছিল না।
‘আমার নিকট তো এই ওহী আসিয়াছে যে, আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।’
আমার কাছে তো এই অহি এসেছে যে, আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।’’
আমার কাছে তো এ ওহীই আসে যে, আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র’।
‘আমার নিকট তো এই ওহী আসিয়াছে যে, আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।’
স্মরণ কর, তোমার প্রতিপালক ফিরিশ্তাদেরকে বলিয়াছিলেন, ‘আমি মানুষ সৃষ্টি করিতেছি কর্দম হইতে,
স্মরণ করো, তোমার প্রভু ফেরেশতাদের বলেছিলেন, আমি কাদামাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি,
স্মরণ কর, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আমি মাটি হতে মানুষ সৃষ্টি করব।’
স্মরণ কর, তোমার প্রতিপালক ফিরিশ্তাদেরকে বলিয়াছিলেন, ‘আমি মানুষ সৃষ্টি করিতেছি কর্দম হইতে,
‘যখন আমি উহাকে সুষম করিব এবং উহাতে আমার রূহ্ সঞ্চার করিব, তখন তোমরা উহার প্রতি সিজ্দাবনত হইও।’
আমি যখন তাকে নিখুঁত ও সুষম করবো এবং তার মধ্যে সঞ্চার করে দেবো রূহ, তখন তোমরা তার প্রতি সাজদায় অবনত হয়ো।
‘যখন আমি তাকে সুষম করব এবং তার মধ্যে আমার রূহ সঞ্চার করব, তখন তোমরা তার উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে যাও’।
‘যখন আমি উহাকে সুষম করিব এবং উহাতে আমার রূহ্ সঞ্চার করিব, তখন তোমরা উহার প্রতি সিজ্দাবনত হইও।’
তখন ফিরিশ্তারা সকলেই সিজ্দাবনত হইল -
অতএব, ফেরেশতারা সবাই সাজদায় অবনত হয়
ফলে ফেরেশতাগণ সকলেই সিজদাবনত হল।
তখন ফিরিশ্তারা সকলেই সিজ্দাবনত হইল -
কেবল ইবলীস ব্যতীত, সে অহংকার করিল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হইল।
শুধুমাত্র ইবলিস ছাড়া। সে অহংকার করে এবং কাফিরদের অন্তরভুক্ত হয়ে পড়ে।
ইবলীস ছাড়া, সে অহঙ্কার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ল।
কেবল ইবলীস ব্যতীত, সে অহংকার করিল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হইল।
তিনি বলিলেন, ‘হে ইবলীস! আমি যাহাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করিয়াছি, তাহার প্রতি সিজ্দাবনত হইতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি কি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিলে, না তুমি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন?’
বললেন: ‘হে ইবলিস! আমি যাকে নিজ হাতে তৈরি করেছি, তাকে সাজদা করা থেকে কিসে তোকে বাধা দিয়েছে? তুই কি অহংকার করলি, না কি তুই উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন?’
বললেন, ‘হে ইবলীস, আমার দু’হাতে আমি যাকে সৃষ্টি করেছি তার প্রতি সিজদাবনত হতে কিসে তোমাকে বাধা দিল? তুমি কি অহঙ্কার করলে, না তুমি অধিকতর উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন?’
তিনি বলিলেন, ‘হে ইবলীস! আমি যাহাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করিয়াছি, তাহার প্রতি সিজদাবনত হইতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি কি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিলে, না তুমি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন?’
সে বলিল, ‘আমি উহা হইতে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে আগুন হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং উহাকে সৃষ্টি করিয়াছেন কর্দম হইতে।’
সে বললো: ‘আমি তার চাইতে শ্রেষ্ঠ, কারণ, আপনি আমাকে তৈরি করেছেন আগুন দিয়ে এবং তাকে তৈরি করেছেন কাদামাটি দিয়ে।’
সে বলল, ‘আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নি থেকে আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।’
সে বলিল, ‘আমি উহা হইতে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে আগুন হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং উহাকে সৃষ্টি করিয়াছেন কর্দম হইতে।’
তিনি বলিলেন, ‘তুমি এখান হইতে বাহির হইয়া যাও, নিশ্চয়ই তুমি বিতাড়িত।
বললেন: ‘‘বেরিয়ে যা তুই এখান থেকে, এখন থেকে তুই বিতাড়িত।
তিনি বললেন, ‘তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও। কেননা নিশ্চয় তুমি বিতাড়িত।
তিনি বলিলেন, ‘তুমি এখান হইতে বাহির হইয়া যাও, নিশ্চয়ই তুমি বিতাড়িত।
‘এবং তোমার উপর আমার লা‘নত স্থায়ী হইবে, কর্মফল দিবস পর্যন্ত।’
আর তোর প্রতি আমার লা’নত (বর্ষিত হতে থাকবে) প্রতিদান দিবস পর্যন্ত।’’
আর নিশ্চয় বিচার দিবস পর্যন্ত তোমার প্রতি আমার লা‘নত বলবৎ থাকবে।
‘এবং তোমার উপর আমার লা‘নত স্থায়ী হইবে, কর্মফল দিবস পর্যন্ত।’
সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে অবকাশ দিন উত্থান দিবস পর্যন্ত।’
সে বললো: ‘প্রভু! আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন।’
সে বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে সে দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন যেদিন তারা পুনরুত্থিত হবে।’
সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে অবকাশ দিন উত্থান দিবস পর্যন্ত।’
তিনি বলিলেন, ‘তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হইলে -
তিনি বললেন: ‘‘তোকে অবকাশ দেয়া হলো।
তিনি বললেন, আচ্ছা তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হলে-
তিনি বলিলেন, ‘তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হইলে -
‘অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত।’
নির্দিষ্ট সময় উপস্থিত হবার দিন পর্যন্ত।’’
‘নির্ধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত।’
‘অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত।’
সে বলিল, ‘আপনার ক্ষমতার শপথ! আমি উহাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করিব,
সে বললো: ‘‘আপনার ইযযতের শপথ, আমি তাদের সবাইকেই বিপথগামী করে দেবো,
সে বলল, ‘আপনার ইজ্জতের কসম! আমি তাদের সকলকেই বিপথগামী করে ছাড়ব।’
সে বলিল, ‘আপনার ক্ষমতার শপথ! আমি উহাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করিব,
‘তবে উহাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দাদেরকে নয়।’
তবে তাদের মধ্যে আপনার বাছাই করা দাসেরা ছাড়া।’’
তাদের মধ্য থেকে আপনার একনিষ্ঠ বান্দারা ছাড়া।
‘তবে উহাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দাদেরকে নয়।’
তিনি বলিলেন, ‘তবে ইহাই সত্য, আর আমি সত্যই বলি -
তিনি বললেন: ‘‘এটাই সত্য আর আমি সত্য বলি:
বললেন, ‘এটি সত্য আর সত্য-ই আমি বলি’
তিনি বলিলেন, ‘তবে ইহাই সত্য, আর আমি সত্যই বলি -
‘তোমার দ্বারা ও তোমার অনুসারীদের দ্বারা আমি জাহান্নাম পূর্ণ করিবই।’
আমি তোকে আর তোর অনুসারীদের দিয়ে পরিপূর্ণ করবো জাহান্নাম।’’
‘তোমাকে দিয়ে এবং তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করত তাদের দিয়ে নিশ্চয় আমি জাহান্নাম পূর্ণ করব।’
‘তোমার দ্বারা ও তোমার অনুসারীদের দ্বারা আমি জাহান্নাম পূর্ণ করিবই।’
বল, ‘আমি ইহার জন্য তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না এবং যাহারা মিথ্যা দাবি করে আমি তাহাদের অন্তর্ভুক্ত নই।’
হে নবী! বলো: ‘আমি তো এ কাজের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আর যারা মিথ্যা দাবি করে আমি সে রকম লোকও নই।’
বল, ‘এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না আর আমি ভানকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।
বল, ‘আমি ইহার জন্য তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না এবং যাহারা মিথ্যা দাবি করে আমি তাহাদের অন্তর্ভুক্ত নই।’
ইহা তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ মাত্র।
এ (কুরআন) তো জগতবাসীর জন্যে একটি উপদেশ ছাড়া কিছু নয়।
সৃষ্টিকুলের জন্য এ তো উপদেশ ছাড়া আর কিছু নয়।
ইহা তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ মাত্র।
ইহার সংবাদ তোমরা অবশ্যই জানিবে, কিয়ৎকাল পরে।
তোমরা অবশ্যি এর সংবাদ জানতে পারবে অল্পকাল পরেই।
আর অল্পকাল পরে তুমি অবশ্যই এর সংবাদ জানবে।
ইহার সংবাদ তোমরা অবশ্যই জানিবে, কিয়ৎকাল পরে।