Kitab

আল ইমরান

Chapter 3, 200 verses

  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • মুহিউদ্দীন খান
  • Word by word
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আলিফ - লাম - মীম,

আবদুস শহীদ নাসিম

আলিফ লাম মিম।

মুহিউদ্দীন খান

আলিফ লাম মীম।

Word by word

الٓمٓ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক।

আবদুস শহীদ নাসিম

! নেই কোনো ইলাহ্ তিনি ছাড়া, তিনি চিরঞ্জীব, সমগ্র সৃষ্টির ধারক।

মুহিউদ্দীন খান

ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক।

Word by word

ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْحَىُّ ٱلْقَيُّومُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি সত্যসহ তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছেন, যাহা উহার পূর্বের কিতাবের সমর্থক। আর তিনি অবতীর্ণ করিয়াছিলেন তাওরাত ও ইনজীল -

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি নাযিল করেছেন তোমার প্রতি আল কিতাব, যা মহাসত্য এবং তার পূর্বের (কিতাবের) সত্যায়নকারী। আর তিনিই নাযিল করেছেন তাওরাত এবং ইনজিল -

মুহিউদ্দীন খান

তিনি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন সত্যতার সাথে; যা সত্যায়ন করে পূর্ববর্তী কিতাবসমুহের।

Word by word

نَزَّلَ عَلَيْكَ ٱلْكِتَٰبَ بِٱلْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنزَلَ ٱلتَّوْرَىٰةَ وَٱلْإِنجِيلَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইতিপূর্বে মানবজাতির সৎপথ প্রদর্শনের জন্য; আর তিনি অবতীর্ণ করিয়াছেন। যাহারা ‌র নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করে তাহাদের জন্য কঠোর শাস্তি আছে। মহাপরাক্রমশালী, দণ্ডদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইতোপূর্বে, মানুষের জন্যে পথ প্রদর্শনকারী হিসেবে। অতপর তিনি নাযিল করলেন আল (আল কুরআন)। নিশ্চয়ই যারা অমান্য করে আল্লাহর আয়াত (এই কুরআন), তাদের জন্যে রয়েছে শক্ত আযাব। অসীম ক্ষমতাশালী, (অপরাধের) দন্ডদাতা।

মুহিউদ্দীন খান

নাযিল করেছেন তাওরত ও ইঞ্জিল, এ কিতাবের পূর্বে, মানুষের হেদায়েতের জন্যে এবং অবতীর্ণ করেছেন মীমাংসা। নিঃসন্দেহে যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন আযাব। আর হচ্ছেন পরাক্রমশীল, প্রতিশোধ গ্রহণকারী।

Word by word

مِن قَبْلُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَأَنزَلَ ٱلْفُرْقَانَ إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ ذُو ٱنتِقَامٍ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

, নিশ্চয়ই আসমান ও যমিনে কিছুই তাঁহার নিকট গোপন থাকে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই (এমন সত্তা যে), তাঁর কাছে গোপন থাকেনা কিছুই, না পাতালে, না আকাশে।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর নিকট আসমান ও যমীনের কোন বিষয়ই গোপন নেই।

Word by word

إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَخْفَىٰ عَلَيْهِ شَىْءٌ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا فِى ٱلسَّمَآءِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই মাতৃগর্ভে যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের আকৃতি গঠন করেন। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই; তিনি প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদের সুরত গঠন করেন রেহেমে (মাতৃগর্ভে) যেভাবে তিনি চান। নেই কোনো ইলাহ্ তিনি ছাড়া, অসীম ক্ষমতাধর মহা প্রজ্ঞাবান তিনি।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই সেই , যিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করেন মায়ের গর্ভে, যেমন তিনি চেয়েছেন। তিনি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। তিনি প্রবল পরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাময়।

Word by word

هُوَ ٱلَّذِى يُصَوِّرُكُمْ فِى ٱلْأَرْحَامِ كَيْفَ يَشَآءُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই তোমার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছেন যাহার কিছু আয়াত ‘মুহ্কাম’, এইগুলি কিতাবের মূল ; আর অন্যগুলি ‘মুতাশাবিহ্’, যাহাদের অন্তরে সত্য - লংঘন প্রবণতা রহিয়াছে শুধু তাহারাই ফিতনা এবং ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহাতের অনুসরণ করে। ব্যতীত অন্য কেহ ইহার ব্যাখ্যা জানে না। আর যাহারা জ্ঞানে সুগভীর তাহারা বলে, ‘আমরা ইহা বিশ্বাস করি, সমস্তই আমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে আগত’; এবং বোধশক্তিসম্পন্নেরা ব্যতীত অপর কেহ শিক্ষা গ্রহণ করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি সেই সত্তা, যিনি নাযিল করেছেন তোমার প্রতি আল কিতাব, যার কিছু আয়াত মুহকাম , সেগুলোই এ কিতাবের মূল; বাকিগুলো মুতাশাবিহ্। যাদের অন্তরে বক্রতা আছে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা পিছু নেয় মুতাশাবিহ্ আয়াত সমূহের এবং সেগুলোর তা’বিল (ব্যাখ্যা) সন্ধানের কাজে নিয়োজিত হয়। অথচ কেউ জানেনা সেগুলোর তা’বিল ছাড়া। যারা জ্ঞানের গভীরতা রাখে, তারা বলে: ‘‘আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি, সবগুলোই আমাদের রব - এর নিকট থেকে (অবতীর্ণ)। আসলে বুঝের লোকেরা ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করেনা।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না।

Word by word

هُوَ ٱلَّذِىٓ أَنزَلَ عَلَيْكَ ٱلْكِتَٰبَ مِنْهُ ءَايَٰتٌ مُّحْكَمَٰتٌ هُنَّ أُمُّ ٱلْكِتَٰبِ وَأُخَرُ مُتَشَٰبِهَٰتٌ فَأَمَّا ٱلَّذِينَ فِى قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَٰبَهَ مِنْهُ ٱبْتِغَآءَ ٱ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমাদের প্রতিপালক! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্য লংঘনপ্রবণ করিও না এবং তোমার নিকট হইতে আমাদেরকে করুণা দান কর, নিশ্চয়ই তুমি মহাদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের রব! বক্র করোনা আমাদের হৃদয়গুলোকে আমাদেরকে হিদায়াত দান করার পর, আর আমাদের দান করো তোমার নিকট থেকে রহমত। নিশ্চয়ই তুমি মহান দাতা।

মুহিউদ্দীন খান

হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলংঘনে প্রবৃত্ত করোনা এবং তোমার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সব কিছুর দাতা।

Word by word

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ ٱلْوَهَّابُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি মানব জাতিকে একদিন একত্রে সমবেত করিবে, ইহাতে কোন সন্দেহ নাই; নিশ্চয়ই ‌ প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না।’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের প্রভু! নিশ্চয়ই তুমি জমা করবে সকল মানুষকে সেদিন, যে দিনটির (আগমনের ব্যাপারে) কোনো সনেদহ নাই। নিশ্চয়ই খেলাফ করেননা ওয়াদা।’’

মুহিউদ্দীন খান

হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি মানুষকে একদিন অবশ্যই একত্রিত করবেঃ এতে কোনই সন্দেহ নেই। নিশ্চয় তাঁর ওয়াদার অন্যথা করেন না।

Word by word

رَبَّنَآ إِنَّكَ جَامِعُ ٱلنَّاسِ لِيَوْمٍ لَّا رَيْبَ فِيهِ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُخْلِفُ ٱلْمِيعَادَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই যাহারা করে ‌র নিকট তাহাদের ধনৈশ্বর্য ও সন্তান - সন্ততি অবশ্যই কোন কাজে লাগিবে না এবং ইহারাই দোজখের ইন্ধন।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কুফুরি করে তাদের মাল সম্পদ ও সন্তান সন্ততি আল্লাহর কাছে (তাদের) কোনোই কাজে আসবে না। তারা হবে জাহান্নামের জ্বালানি।

মুহিউদ্দীন খান

যারা কুফুরী করে, তাদের ধন - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি আল্লাহর সামনে কখনও কাজে আসবে না। আর তারাই হচ্ছে দোযখের ইন্ধন।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَن تُغْنِىَ عَنْهُمْ أَمْوَٰلُهُمْ وَلَآ أَوْلَٰدُهُم مِّنَ ٱللَّهِ شَيْـًٔا وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمْ وَقُودُ ٱلنَّارِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের অভ্যাস ফির‘আওনী সম্প্রদায় ও তাহাদের পূর্ববর্তিগণের অভ্যাসের ন্যায়; উহারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করিয়াছিল; ফলে তাহাদের পাপের জন্য তাহাদেরকে শাস্তিদান করিয়াছিলেন। ‌ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের স্বভাব চরিত্র ফেরাউন সম্প্রদায় এবং তাদের পূর্ববর্তীদের স্বভাব চরিত্রেরই মতো। তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের আয়াত। ফলে তাদের পাপের কারণে তাদের পাকড়াও করেন এবং শাস্তি প্রদানে খুবই কঠোর।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরআউনের সম্প্রদায় এবং তাদের পূর্ববর্তীদের ধারা অনুযায়ীই তারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। ফলে তাদের পাপের কারণে তাদেরকে পাকড়াও করেছেন আর আল্লাহর আযাব অতি কঠিন।

Word by word

كَدَأْبِ ءَالِ فِرْعَوْنَ وَٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا فَأَخَذَهُمُ ٱللَّهُ بِذُنُوبِهِمْ وَٱللَّهُ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা করে তাহাদেরকে বল, ‘তোমরা শীঘ্রই পরাভূত হইবে এবং তোমাদেরকে একত্রিত করিয়া জাহান্নামের দিকে লইয়া যাওয়া হইবে। আর উহা কত নিকৃষ্ট আবাসস্থল !’

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কুফুরি করে তাদের বলো: তোমরা অচিরেই পরাজিত হবে এবং তোমাদের হাশর করা হবে জাহান্নামে, আর তা কতো যে নিকৃষ্ট আবাস!

মুহিউদ্দীন খান

কাফেরদিগকে বলে দিন, খুব শিগগীরই তোমরা পরাভূত হয়ে দোযখের দিকে হাঁকিয়ে নীত হবে - সেটা কতই না নিকৃষ্টতম অবস্থান।

Word by word

قُل لِّلَّذِينَ كَفَرُوا۟ سَتُغْلَبُونَ وَتُحْشَرُونَ إِلَىٰ جَهَنَّمَ وَبِئْسَ ٱلْمِهَادُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দুইটি দলের পরস্পর সম্মুখীন হওয়ার মধ্যে তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে। একদল ‌র পথে যুদ্ধ করিতেছিল, অন্যদল ছিল ; উহারা তাহাদেরকে চোখের দেখায় দ্বিগুণ দেখিতেছিল। যাহাকে ইচ্ছা নিজ সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয় ইহাতে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকের জন্য শিক্ষা রহিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(বদর যুদ্ধে) দুই বাহিনীর সম্মুখীন হবার মধ্যে তোমাদের জন্যে রয়েছে একটি নিদর্শন। একটি দল লড়াই করছিল আল্লাহর পথে আর অপর দল ছিলো , তারা তাদেরকে (মুসলিম বাহিনীকে) চোখের দেখায় দেখছিল দ্বিগুণ। যাকে ইচ্ছা শক্তিশালী করেন তাঁর সাহায্য দিয়ে। নিশ্চয়ই এতে শিক্ষণীয় রয়েছে অন্তরদৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের জন্যে।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই দুটো দলের মোকাবিলার মধ্যে তোমাদের জন্য নিদর্শন ছিল। একটি দল আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করে। আর অপর দল ছিল কাফেরদের এরা স্বচক্ষে তাদেরকে দ্বিগুন দেখছিল। আর যাকে নিজের সাহায্যের মাধ্যমে শক্তি দান করেন। এরই মধ্যে শিক্ষনীয় রয়েছে দৃষ্টি সম্পন্নদের জন্য।

Word by word

قَدْ كَانَ لَكُمْ ءَايَةٌ فِى فِئَتَيْنِ ٱلْتَقَتَا فِئَةٌ تُقَٰتِلُ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَأُخْرَىٰ كَافِرَةٌ يَرَوْنَهُم مِّثْلَيْهِمْ رَأْىَ ٱلْعَيْنِ وَٱللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِۦ مَن يَشَآءُ إِنَّ فِى

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নারী, সন্তান, রাশিকৃত স্বর্ণরৌপ্য আর চিহ্নিত অশ্বরাজি, গবাদিপশু এবং ক্ষেত - খামারের প্রতি আকর্ষণ মানুষের জন্য সুশোভিত করা হইয়াছে। এইসব ইহজীবনের ভোগ্য বস্তু। আর , তাঁহারই নিকট রহিয়াছে উত্তম আশ্রয়স্থল।

আবদুস শহীদ নাসিম

নারী (স্ত্রী), সন্তান, সোনা - রুপার স্তুপ, চিহ্নধারী ঘোড়া, গবাদি পশু এবং ক্ষেত খামারের প্রতি ভালোবাসা ও আসক্তি মানুষের জন্যে সুশোভিত করে দেয়া হয়েছে। এসবই দুনিয়ার জীবনের ভোগ্য বস্ত্ত। আর উত্তম আশ্রয়স্থল তো রয়েছে আল্লাহর কাছেই।

মুহিউদ্দীন খান

মানবকূলকে মোহগ্রস্ত করেছে নারী, সন্তান - সন্ততি, রাশিকৃত স্বর্ণ - রৌপ্য, চিহ্নিত অশ্ব, গবাদি পশুরাজি এবং ক্ষেত - খামারের মত আকর্ষণীয় বস্তুসামগ্রী। এসবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্য বস্তু। আল্লাহর নিকটই হলো উত্তম আশ্রয়।

Word by word

زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ ٱلشَّهَوَٰتِ مِنَ ٱلنِّسَآءِ وَٱلْبَنِينَ وَٱلْقَنَٰطِيرِ ٱلْمُقَنطَرَةِ مِنَ ٱلذَّهَبِ وَٱلْفِضَّةِ وَٱلْخَيْلِ ٱلْمُسَوَّمَةِ وَٱلْأَنْعَٰمِ وَٱلْحَرْثِ ذَٰلِكَ مَتَٰعُ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘আমি কি তোমাদেরকে এই সব বস্তু হইতে উৎকৃষ্টতর কোন কিছুর সংবাদ দিব? যাহারা তাক্ওয়া অবলম্বন করিয়া চলে তাহাদের জন্য তাহাদের প্রতিপালকের নিকট জান্নাতসমূহ রহিয়াছে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। আর সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে, তাহাদের জন্য পবিত্র সঙ্গিনীগণ এবং ‌র নিকট হইতে সন্তুষ্টি রহিয়াছে। বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বলো: ‘‘আমি কি তোমাদের এসব জিনিস থেকে উত্তম জিনিসের সংবাদ দেবো? তাহলো, যারা তাকওয়ার পথ অবলম্বন করবে তাদের জন্যে রয়েছে জান্নাতসমূহ। যেগুলোর নিচে দিয়ে বহমান রয়েছে নদ - নদী - নহর। সেখানে থাকবে তারা চিরকাল। সেখানে তাদের জন্যে মওজুদ রয়েছে পবিত্র জীবন - সাথিরা, আরো রয়েছে আল্লাহর রেজামন্দি। আর তো তাঁর দাসদের প্রতি দৃষ্টি রাখবেনই।’’

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, আমি কি তোমাদেরকে এসবের চাইতেও উত্তম বিষয়ের সন্ধান বলবো? - যারা , আল্লাহর নিকট তাদের জন্যে রয়েছে বেহেশত, যার তলদেশে প্রস্রবণ প্রবাহিত - তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আর রয়েছে পরিচ্ছন্ন সঙ্গিনীগণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর তাঁর বান্দাদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখেন।

Word by word

قُلْ أَؤُنَبِّئُكُم بِخَيْرٍ مِّن ذَٰلِكُمْ لِلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّٰتٌ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَا وَأَزْوَٰجٌ مُّطَهَّرَةٌ وَرِضْوَٰنٌ مِّنَ ٱللَّهِ وَٱللَّهُ بَصِير

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান আনিয়াছি ; সুতরাং তুমি আমাদের পাপ ক্ষমা কর এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব হইতে রক্ষা কর ;

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা বলে: ‘আমাদের প্রভু! আমরা ঈমান এনেছি। অতএব, ক্ষমা করে দাও আমাদের সমস্ত পাপ আর রক্ষা করো আমাদের আগুনের আযাব থেকে।’

মুহিউদ্দীন খান

যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই আমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দাও আর আমাদেরকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর।

Word by word

ٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَآ إِنَّنَآ ءَامَنَّا فَٱغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অনুগত, ব্যয়কারী এবং শেষ রাত্রে ক্ষমাপ্রার্থী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বৈশিষ্ট্য হলো: তারা ধৈর্যশীল, সত্যপন্থী, বিনত, (আল্লাহর পথে) দানকারী এবং শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।

মুহিউদ্দীন খান

তারা ধৈর্য্যধারণকারী, সত্যবাদী, নির্দেশ সম্পাদনকারী, সৎপথে ব্যয়কারী এবং শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।

Word by word

ٱلصَّٰبِرِينَ وَٱلصَّٰدِقِينَ وَٱلْقَٰنِتِينَ وَٱلْمُنفِقِينَ وَٱلْمُسْتَغْفِرِينَ بِٱلْأَسْحَارِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সাক্ষ্য দেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই, ফিরিশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও ; ন্যায়নীতিতে প্রতিষ্ঠিত, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্‌ নাই; তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

সাক্ষ্য দিচ্ছেন, নিশ্চয়ই কোনো ইলাহ্ নেই তিনি ছাড়া। ফেরেশতা এবং জ্ঞানীরাও এই সাক্ষ্য দেয়। ন্যায় ও ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত। কোনো নেই তিনি ছাড়া। তিনি মহাশক্তিমান মহাবিজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোন নেই। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।

Word by word

شَهِدَ ٱللَّهُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةُ وَأُو۟لُوا۟ ٱلْعِلْمِ قَآئِمًۢا بِٱلْقِسْطِ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিঃসন্দেহে ইসলামই ‌র নিকট একমাত্র দীন। যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছিল তাহারা পরস্পর বিদ্বেষবশত তাহাদের নিকট জ্ঞান আসিবার পর মতানৈক্য ঘটাইয়াছিল। আর কেহ ‌র নিদর্শনকে অস্বীকার করিলে তো হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত তৎপর।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই দীন আল্লাহর কাছে একমাত্র ইসলাম। ইতোপূর্বে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছিল তারা তাদের পরস্পর বিদ্বেষবশত তাদের কাছে এলেম আসার পর ইখতেলাফে লিপ্ত হয়। যারাই কুফুরি করবে আল্লাহর আয়াতের প্রতি, তাদের জেনে রাখা উচিত হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুতগামী।

মুহিউদ্দীন খান

নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য একমাত্র ইসলাম। এবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ, যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি করে তাদের উচিত যে, নিশ্চিতরূপে হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত।

Word by word

إِنَّ ٱلدِّينَ عِندَ ٱللَّهِ ٱلْإِسْلَٰمُ وَمَا ٱخْتَلَفَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ إِلَّا مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَهُمُ ٱلْعِلْمُ بَغْيًۢا بَيْنَهُمْ وَمَن يَكْفُرْ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ فَإِنَّ ٱللَّهَ سَرِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যদি তাহারা তোমার সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হয় তবে তুমি বল, ‘আমি ‌র নিকট আত্মসমর্পণ করিয়াছি এবং আমার অনুসারিগণও।’ আর যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে তাহাদেরকে ও নিরক্ষরদেরকে বল, ‘তোমরাও কি আত্মসমর্পণ করিয়াছ?’ যদি তাহারা আত্মসমর্পণ করে তবে নিশ্চয়ই তাহারা হিদায়াত পাইবে। আর যদি তাহারা মুখ ফিরাইয়া নেয় তবে তোমার কর্তব্য শুধু প্রচার করা। বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।

আবদুস শহীদ নাসিম

যদি তারা তোমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতে চায়, তবে তাদের বলে দাও: ‘আমি আল্লাহর জন্যে আত্মসমর্পণ করেছি এবং যারা আমার অনুসরণ করে তারাও।’ যাদের ইতোপূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের এবং উম্মিদের জিজ্ঞেস করো: ‘তোমরা কি ইসলাম কবুল (আত্মসমর্পণ) করবে?’ যদি তারা ইসলাম কবুল (আত্মসমর্পণ) করে তবেই হিদায়াত (সঠিক পথ) লাভ করবে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমার দায়িত্ব তো কেবল (আমার বার্তা) পৌঁছে দেয়া। তো তাঁর বান্দাদের প্রতি দৃষ্টি রাখছেনই।

মুহিউদ্দীন খান

যদি তারা তোমার সাথে বিতর্কে অবতীর্ণ হয় তবে বলে দাও, "আমি এবং আমার অনুসরণকারীগণ আল্লাহর প্রতি আত্নসমর্পণ করেছি।" আর আহলে কিতাবদের এবং নিরক্ষরদের বলে দাও যে, তোমরাও কি আত্নসমর্পণ করেছ? তখন যদি তারা আত্নসমর্পণ করে, তবে সরল পথ প্রাপ্ত হলো, আর যদি মুখ ঘুরিয়ে নেয়, তাহলে তোমার দায়িত্ব হলো শুধু পৌছে দেয়া। আর আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে সকল বান্দা।

Word by word

فَإِنْ حَآجُّوكَ فَقُلْ أَسْلَمْتُ وَجْهِىَ لِلَّهِ وَمَنِ ٱتَّبَعَنِ وَقُل لِّلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْأُمِّيِّۦنَ ءَأَسْلَمْتُمْ فَإِنْ أَسْلَمُوا۟ فَقَدِ ٱهْتَدَوا۟ وَّإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّمَا عَلَي

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ‌র আয়াত অস্বীকার করে, অন্যায়রূপে নবীদের হত্যা করে এবং মানুষের মধ্যে যাহারা ন্যায়পরায়ণতার নির্দেশ দেয় তাহাদেরকে হত্যা করে, তুমি তাহাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কুফুরি করে আল্লাহর আয়াতের প্রতি, নবীদের কতল করে নাহকভাবে এবং মানুষের মধ্যে যারা ন্যায় ও ইনসাফের আদেশ করে তাদেরকেও হত্যা করে, তুমি এসব লোকদের সংবাদ দাও বেদনাদায়ক আযাবের।

মুহিউদ্দীন খান

যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করে এবং পয়গম্বরগণকে হত্যা করে অন্যায়ভাবে, আর সেসব লোককে হত্যা করে যারা ন্যায়পরায়ণতার নির্দেশ দেয় তাদেরকে বেদনাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ وَيَقْتُلُونَ ٱلنَّبِيِّۦنَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَيَقْتُلُونَ ٱلَّذِينَ يَأْمُرُونَ بِٱلْقِسْطِ مِنَ ٱلنَّاسِ فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইসব লোক, ইহাদের কার্যাবলী দুনিয়া ও আখিরাতে নিষ্ফল হইবে এবং তাহাদের কোন সাহায্যকারী নাই।

আবদুস শহীদ নাসিম

দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে, আর তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

এরাই হলো সে লোক যাদের সমগ্র আমল দুনিয়া ও আখেরাত উভয়লোকেই বিনষ্ট হয়ে গেছে। পক্ষান্তরে তাদের কোন সাহায্যকারীও নেই।

Word by word

أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ حَبِطَتْ أَعْمَٰلُهُمْ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِ وَمَا لَهُم مِّن نَّٰصِرِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি তাহাদেরকে দেখ নাই যাহাদেরকে কিতাবের অংশ প্রদান করা হইয়াছিল? তাহাদেরকে ‌র কিতাবের দিকে আহ্‌বান করা হইয়াছিল যাহাতে উহা তাহাদের মধ্যে মীমাংসা করিয়া দেয়; অতঃপর তাহাদের একদল ফিরিয়া দাঁড়ায়, আর তাহারাই পরাঙমুখ;

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি ঐসব লোকদের দেখোনি, যাদের কিতাবের অংশ বিশেষ দেয়া হয়েছিল? তাদের আহবান করা হয়েছিল আল্লাহর কিতাবের দিকে, যাতে করে তা তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেয়। তারপর তাদের একটি পক্ষ মুখ ফিরিয়ে নেয়, মূলত তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়ারই লোক।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি কি তাদের দেখেননি, যারা কিতাবের কিছু অংশ পেয়েছে - আল্লাহর কিতাবের প্রতি তাদের আহবান করা হয়েছিল যাতে তাদের মধ্যে মীমাংসা করা যায়। অতঃপর তাদের মধ্যে একদল তা অমান্য করে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

Word by word

أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ نَصِيبًا مِّنَ ٱلْكِتَٰبِ يُدْعَوْنَ إِلَىٰ كِتَٰبِ ٱللَّهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ يَتَوَلَّىٰ فَرِيقٌ مِّنْهُمْ وَهُم مُّعْرِضُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইহেতু যে, তাহারা বলিয়া থাকে, ‘দিন কতক ব্যতীত আমাদেরকে অগ্নি কখনই স্পর্শ করিবে না। তাহাদের নিজেদের দীন সম্বন্ধে তাহাদের মিথ্যা উদ্ভাবন তাহাদেরকে প্রবঞ্চিত করিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর কারণ হলো, তারা বলে বেড়ায়: ‘মাত্র কয়েকটা দিন ছাড়া আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শই করবেনা।’ তাদের দীন সম্পর্কে তাদের প্রতারিত করে রেখেছে তাদের এই মিথ্যা রচনা।

মুহিউদ্দীন খান

তা এজন্য যে, তারা বলে থাকে যে, দোযখের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে না; তবে সামান্য হাতে গোনা কয়েকদিনের জন্য স্পর্শ করতে পারে। নিজেদের উদ্ভাবিত ভিত্তিহীন কথায় তারা ধোকা খেয়েছে।

Word by word

ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا۟ لَن تَمَسَّنَا ٱلنَّارُ إِلَّآ أَيَّامًا مَّعْدُودَٰتٍ وَغَرَّهُمْ فِى دِينِهِم مَّا كَانُوا۟ يَفْتَرُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিন্তু সেইদিন, যাহাতে কোন সন্দেহ নাই, তাহাদের কি অবস্থা হইবে? যে দিন আমি তাহাদেরকে একত্র করিব এবং প্রত্যেককে তাহার অর্জিত কর্মের প্রতিদান পূর্ণভাবে দেওয়া হইবে, আর তাহাদের প্রতি কোন অন্যায় করা হইবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ দিন তাদের কী অবস্থা হবে, যে সন্দেহাতীত দিনে আমরা তাদের জমা করবো এবং প্রত্যেককেই তার উপার্জিত কর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম (অবিচার) করা হবেনা?

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু তখন কি অবস্থা দাঁড়াবে যখন আমি তাদেরকে একদিন সমবেত করবো যে দিনের আগমনে কোন সন্দেহ নেই আর নিজেদের কৃতকর্ম তাদের প্রত্যেকেই পাবে তাদের প্রাপ্য প্রদান মোটেই অন্যায় করা হবে না।

Word by word

فَكَيْفَ إِذَا جَمَعْنَٰهُمْ لِيَوْمٍ لَّا رَيْبَ فِيهِ وَوُفِّيَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘হে সার্বভৌম শক্তির মালিক ! তুমি যাহাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান কর এবং যাহার নিকট হইতে ইচ্ছা ক্ষমতা কাড়িয়া লও; যাহাকে ইচ্ছা তুমি ইজ্জত দান কর, আর যাহাকে ইচ্ছা তুমি হীন কর। কল্যাণ তোমার হাতেই। নিশ্চয়ই তুমি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী!) বলো: ‘হে ! সমস্ত কর্তৃত্বের মালিক তুমি। যাকে ইচ্ছা তুমি ক্ষমতা দান করো এবং যার থেকে ইচ্ছা তুমি ক্ষমতা কেড়ে নাও। যাকে ইচ্ছা তুমি ইয্যত দাও এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করো। সমস্ত কল্যাণ তোমারই হাতে। নিশ্চয়ই তুমি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।'

মুহিউদ্দীন খান

বলুন ইয়া ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।

Word by word

قُلِ ٱللَّهُمَّ مَٰلِكَ ٱلْمُلْكِ تُؤْتِى ٱلْمُلْكَ مَن تَشَآءُ وَتَنزِعُ ٱلْمُلْكَ مِمَّن تَشَآءُ وَتُعِزُّ مَن تَشَآءُ وَتُذِلُّ مَن تَشَآءُ بِيَدِكَ ٱلْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তুমি রাত্রিকে দিবসে পরিণত এবং দিবসকে রাত্রিতে পরিণত কর : তুমিই মৃত হইতে জীবন্তের আবির্ভাব ঘটাও, আবার জীবন্ত হইতে মৃতের আবির্ভাব ঘটাও। তুমি যাহাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবনোপকরণ দান কর।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমিই রাতকে দিনে রূপান্তরিত করো এবং দিনকে রূপান্তরিত করো রাতে। তুমি জীবন্তকে বের করে আনো মৃত থেকে এবং মৃতকে বের করে আনো জীবন্তের থেকে। আর যাকে ইচ্ছা তুমি রিযিক দান করো বেহিসাব।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি রাতকে দিনের ভেতরে প্রবেশ করাও এবং দিনকে রাতের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দাও। আর তুমিই জীবিতকে মৃতের ভেতর থেকে বের করে আন এবং মৃতকে জীবিতের ভেতর থেকে বের কর। আর তুমিই যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান কর।

Word by word

تُولِجُ ٱلَّيْلَ فِى ٱلنَّهَارِ وَتُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِى ٱلَّيْلِ وَتُخْرِجُ ٱلْحَىَّ مِنَ ٱلْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ ٱلْمَيِّتَ مِنَ ٱلْحَىِّ وَتَرْزُقُ مَن تَشَآءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মু’মিনগণ যেন মু’মিনগণ ব্যতীত কাফিরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যে কেহ এইরূপ করিবে তাহার সঙ্গে ‌র কোন সম্পর্ক থাকিবে না; তবে ব্যতিক্রম, যদি তোমরা তাহাদের নিকট হইতে আত্মরক্ষার জন্য সতর্কতা অবলম্বন কর। আর তাঁহার নিজের সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান করিতেছেন এবং ‌র দিকেই প্রত্যাবর্তন।

আবদুস শহীদ নাসিম

মুমিনরা মুমিনদের ছাড়া কাফিরদের অলি (বন্ধু, অভিভাবক, পৃষ্ঠপোষক) হিসেবে গ্রহণ করবেনা। যে কেউ তা করবে, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক থাকার কোনো ভিত্তি তার থাকবেনা। তবে ব্যতিক্রম হলো, যদি তোমরা তাদের থেকে আত্মরক্ষার জন্যে সতর্কতা অবলম্বন করো, সেক্ষেত্রে তোমাদের সতর্ক করছেন তাঁর নিজের সম্পর্কে আর আল্লাহর কাছেই (হবে সবার) প্রত্যাবর্তন।

মুহিউদ্দীন খান

মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কেন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কেন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে তা’আলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে।

Word by word

لَّا يَتَّخِذِ ٱلْمُؤْمِنُونَ ٱلْكَٰفِرِينَ أَوْلِيَآءَ مِن دُونِ ٱلْمُؤْمِنِينَ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَلَيْسَ مِنَ ٱللَّهِ فِى شَىْءٍ إِلَّآ أَن تَتَّقُوا۟ مِنْهُمْ تُقَىٰةً وَيُحَذِّرُكُمُ ٱللَّهُ نَفْسَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমাদের অন্তরে যাহা আছে তাহা যদি তোমরা গোপন অথবা ব্যক্ত কর উহা অবগত আছেন এবং আসমান ও যমীনে যাহা কিছু আছে তাহাও অবগত আছেন। সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান’।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী!) তাদের বলো: ‘তোমাদের মনে যা আছে, তা যদি গোপন রাখো, অথবা যদি প্রকাশ করো (সর্বাবস্থায়ই) তা জানেন। তিনি জানেন যা কিছু আছে মহাকাশে আর যা কিছু আছে এই পৃথিবীতে। আর সব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।’

মুহিউদ্দীন খান

বলে দিন, তোমরা যদি মনের কথা গোপন করে রাখ অথবা প্রকাশ করে দাও, সে সবই জানতে পারেন। আর আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, সেসব ও তিনি জানেন। সর্ব বিষয়ে শক্তিমান।

Word by word

قُلْ إِن تُخْفُوا۟ مَا فِى صُدُورِكُمْ أَوْ تُبْدُوهُ يَعْلَمْهُ ٱللَّهُ وَيَعْلَمُ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যেদিন প্রত্যেকে সে যে ভাল কাজ করিয়াছে এবং সে যে মন্দ কাজ করিয়াছে তাহা বিদ্যমান পাইবে, সেদিন সে তাহার ও উহার মধ্যে দূর ব্যবধান কামনা করিবে। তাঁহার নিজের সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান করিতেছেন। বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ার্দ্র।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি হাজির পাবে সে যা ভালো কাজ করেছে তা, এবং সে যা মন্দ করেছে তাও। সেদিন সে (যে মন্দ কাজ করেছে) তার ও তার মন্দ কাজের মধ্যে দূর ব্যবধান কামনা করবে। তোমাদের সাবধান করছেন তাঁর নিজের সম্পর্কে। তাঁর দাসদের প্রতি পরম কোমল - দয়া পরবশ।

মুহিউদ্দীন খান

সেদিন প্রত্যেকেই যা কিছু সে ভাল কাজ করেছে; চোখের সামনে দেখতে পাবে এবং যা কিছু মন্দ কাজ করেছে তাও, ওরা তখন কামনা করবে, যদি তার এবং এসব কর্মের মধ্যে ব্যবধান দুরের হতো! তাঁর নিজের সম্পর্কে তোমাদের সাবধান করছেন। তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।

Word by word

يَوْمَ تَجِدُ كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ مِنْ خَيْرٍ مُّحْضَرًا وَمَا عَمِلَتْ مِن سُوٓءٍ تَوَدُّ لَوْ أَنَّ بَيْنَهَا وَبَيْنَهُۥٓ أَمَدًۢا بَعِيدًا وَيُحَذِّرُكُمُ ٱللَّهُ نَفْسَهُۥ وَٱللَّهُ رَءُوفٌۢ بِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমরা যদি কে ভালবাস তবে আমাকে অনুসরণ কর, তোমাদেরকে ভালবাসিবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করিবেন। অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী!) তাদের বলো: ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, তবেই তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করে দেবেন। অতীব ক্ষমাশীল পরম দয়াবান।’

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।

Word by word

قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِى يُحْبِبْكُمُ ٱللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَٱللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ' ও রাসূলের অনুগত হও।’ যদি তাহারা মুখ ফিরাইয়া নেয় তবে জানিয়া রাখ, তো কাফিরদেরকে পসন্দ করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বলো: ‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং তাঁর রসূলের।’ যদি তারা (এ কথা থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখো, কাফিরদের পছন্দ করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, ও রসূলের আনুগত্য প্রকাশ কর। বস্তুতঃ যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে কাফেরদিগকে ভালবাসেন না।

Word by word

قُلْ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلْكَٰفِرِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই আদমকে, নূহকে ও ইব্‌রাহীমের বংশধর এবং ‘ইমরানের বংশধরকে বিশ্বজগতে মনোনীত করিয়াছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

বিশ্ববাসীর মধ্যে বাছাই করেছেন আদম, নূহ, ইবরাহিমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে।

মুহিউদ্দীন খান

নিঃসন্দেহে আদম (আঃ) নূহ (আঃ)͠ও ইব্রাহীম (আঃ) এর বংশধর এবং এমরানের খান্দানকে নির্বাচিত করেছেন।

Word by word

إِنَّ ٱللَّهَ ٱصْطَفَىٰٓ ءَادَمَ وَنُوحًا وَءَالَ إِبْرَٰهِيمَ وَءَالَ عِمْرَٰنَ عَلَى ٱلْعَٰلَمِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহারা একে অপরের বংশধর। সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা পরস্পরের বংশধর। সব শুনেন, সব দেখেন।

মুহিউদ্দীন খান

যারা বংশধর ছিলেন পরস্পরের। শ্রবণকারী ও মহাজ্ঞানী।

Word by word

ذُرِّيَّةًۢ بَعْضُهَا مِنۢ بَعْضٍ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, যখন ইমরানের স্ত্রী বলিয়াছিল, হে আমার প্রতিপালক ! আমার গর্ভে যাহা আছে তাহা একান্ত তোমার জন্য আমি উৎসর্গ করিলাম। সুতরাং তুমি আমার নিকট হইতে উহা কবূল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, ইমরানের স্ত্রী বলেছিল: ‘আমার প্রভু! আমার গর্ভে যা (যে সন্তান) আছে, তাকে একান্তভাবে তোমার জন্যে উৎসর্গ করলাম। সুতরাং তুমি আমার পক্ষ থেকে তাকে কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি সব শুনো, সব জানো।’

মুহিউদ্দীন খান

এমরানের স্ত্রী যখন বললো - হে আমার পালনকর্তা! আমার গর্ভে যা রয়েছে আমি তাকে তোমার নামে উৎসর্গ করলাম সবার কাছ থেকে মুক্ত রেখে। আমার পক্ষ থেকে তুমি তাকে কবুল করে নাও, নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞাত।

Word by word

إِذْ قَالَتِ ٱمْرَأَتُ عِمْرَٰنَ رَبِّ إِنِّى نَذَرْتُ لَكَ مَا فِى بَطْنِى مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّىٓ إِنَّكَ أَنتَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর যখন সে উহাকে প্রসব করিল তখন সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক ! আমি কন্যা প্রসব করিয়াছি।’ সে যাহা প্রসব করিয়াছে তাহা সম্যক অবগত। ‘আর ছেলে তো এই মেয়ের মত নয়, আমি উহার নাম ‘মার্‌ইয়াম’ রাখিয়াছি এবং অভিশপ্ত শয়তান হইতে তাহার ও তাহার বংশধরদের জন্য তোমার শরণ লইতেছি।’

আবদুস শহীদ নাসিম

পরে যখন সে তাকে প্রসব করলো, বললো: ‘আমার প্রভু! আমি তো কন্যা সন্তান প্রসব করেছি।’ সে যা প্রসব করেছিল সে সম্পর্কে সর্বাধিক জানতেন। (সে আরো বললো:) ‘আর ছেলে তো এই মেয়ের মতো নয়, আমি তার নাম রেখেছি মরিয়ম এবং তাকে ও তার বংশধরদেরকে তোমার আশ্রয়ে দিচ্ছি অভিশপ্ত শয়তান থেকে।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন তাকে প্রসব করলো বলল, হে আমার পালনকর্তা! আমি একে কন্যা প্রসব করেছি। বস্তুতঃ কি সে প্রসব করেছে তা ভালই জানেন। সেই কন্যার মত কোন পুত্রই যে নেই। আর আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম। আর আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে তোমার আশ্রয়ে সমর্পণ করছি। অভিশপ্ত শয়তানের কবল থেকে।

Word by word

فَلَمَّا وَضَعَتْهَا قَالَتْ رَبِّ إِنِّى وَضَعْتُهَآ أُنثَىٰ وَٱللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا وَضَعَتْ وَلَيْسَ ٱلذَّكَرُ كَٱلْأُنثَىٰ وَإِنِّى سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وَإِنِّىٓ أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ ٱلشّ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তাহার প্রতিপালক তাহাকে ভালভাবে কবূল করিলেন এবং তাহাকে উত্তমরূপে লালন - পালন করিলেন এবং তিনি তাহাকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে রাখিয়াছিলেন। যখনই যাকারিয়া কক্ষে তাহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিতে যাইত তখনই তাহার নিকট খাদ্য - সামগ্রী দেখিতে পাইত। সে বলিত, ‘হে মার্‌ইয়াম! এই সব তুমি কোথায় পাইলে?’ সে বলিত, ‘উহা ‌র নিকট হইতে।’ নিশ্চয়ই যাহাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে তার প্রভু তাকে কবুল করে নিলেন উত্তম কবুল, আর তাকে গড়ে তুললেন উত্তমভাবে এবং তার তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করলেন যাকারিয়াকে। যাকারিয়া যখনই তার কাছে মেহরাবে প্রবেশ করতো তার কাছে খাবার সামগ্রী দেখতে পেতো। সে বলতো: ‘মরিয়ম! এসব তুমি কোথায় পেলে?’ সে বলতো: ‘তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। নিশ্চয়ই যাকে চান রিযিক দেন বেহিসাব।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাঁর পালনকর্তা তাঁকে উত্তম ভাবে গ্রহণ করে নিলেন এবং তাঁকে প্রবৃদ্ধি দান করলেন - অত্যন্ত সুন্দর প্রবৃদ্ধি। আর তাঁকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে সমর্পন করলেন। যখনই যাকারিয়া মেহরাবের মধ্যে তার কছে আসতেন তখনই কিছু খাবার দেখতে পেতেন। জিজ্ঞেস করতেন "মারইয়াম! কোথা থেকে এসব তোমার কাছে এলো?" তিনি বলতেন, "এসব আল্লাহর নিকট থেকে আসে। যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান করেন।"

Word by word

فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنۢبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا وَكَفَّلَهَا زَكَرِيَّا كُلَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيَّا ٱلْمِحْرَابَ وَجَدَ عِندَهَا رِزْقًا قَالَ يَٰمَرْيَمُ أَنَّىٰ لَكِ هَٰذَا قَا

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেখানেই যাকারিয়া তাহার প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করিয়া বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তুমি তোমার নিকট হইতে সৎ বংশধর দান কর। নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।’

আবদুস শহীদ নাসিম

ওখানেই যাকারিয়া তার প্রভুর কাছে দোয়া করলো: ‘আমার প্রভু! তোমার পক্ষ থেকে তুমি আমাকে একটি উত্তম বংশধর দাও। নিশ্চয়ই তুমি দোয়া শুনে (কবুল করে) থাকো।’

মুহিউদ্দীন খান

সেখানেই যাকারিয়া তাঁর পালনকর্তার নিকট প্রার্থনা করলেন। বললেন, হে, আমার পালনকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পুত - পবিত্র সন্তান দান কর - নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।

Word by word

هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّهُۥ قَالَ رَبِّ هَبْ لِى مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ ٱلدُّعَآءِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন যাকারিয়া কক্ষে সালাতে দাঁড়াইয়াছিলেন তখন ফিরিশতাগণ তাহাকে সম্বোধন করিয়া বলিল, ‘ তোমাকে ইয়াহ্ইয়ার সুসংবাদ দিতেছেন, সে হইবে ‌র বাণীর সমর্থক, নেতা, স্ত্রী বিরাগী এবং পুণ্যবানদের মধ্যে একজন নবী।’

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে যাকারিয়া যখন মেহরাবে সালাতে দাঁড়িয়েছিল, তখন ফেরেশতারা এসে তাকে ডেকে বললো: ‘ আপনাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন ইয়াহিয়ার, তিনি হবেন আল্লাহর ‘কালেমার’ সত্যায়নকারী, সাইয়েদ, নারী বিরাগী এবং সালেহ্ নবীদের একজন।’

মুহিউদ্দীন খান

যখন তিনি কামরার ভেতরে নামাযে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন ফেরেশতারা তাঁকে ডেকে বললেন যে, তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন ইয়াহইয়া সম্পর্কে, যিনি সাক্ষ্য দেবেন আল্লাহর নির্দেশের সত্যতা সম্পর্কে, যিনি নেতা হবেন এবং নারীদের সংস্পর্শে যাবেন না, তিনি অত্যন্ত সৎকর্মশীল নবী হবেন।

Word by word

فَنَادَتْهُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ وَهُوَ قَآئِمٌ يُصَلِّى فِى ٱلْمِحْرَابِ أَنَّ ٱللَّهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْيَىٰ مُصَدِّقًۢا بِكَلِمَةٍ مِّنَ ٱللَّهِ وَسَيِّدًا وَحَصُورًا وَنَبِيًّا مِّنَ ٱلصَّٰلِحِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক ! আমার পুত্র হইবে কিরূপে? আমার তো বার্ধক্য আসিয়াছে এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা।’ তিনি বলিলেন ‘এইভাবেই।’ ‌ যাহা ইচ্ছা তাহা করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘হে আমার প্রভু! কী করে ছেলে হবে আমার? আমার তো বার্ধক্য এসেছে, তাছাড়া আমার স্ত্রী বন্ধ্যা।’ তিনি বললেন: ‘এভাবেই যা চান করে থাকেন।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেন হে পালনকর্তা! কেমন করে আমার পুত্র সন্তান হবে, আমার যে বার্ধক্য এসে গেছে, আমার স্ত্রীও যে বন্ধ্যা। বললেন, এমনি ভাবেই যা ইচ্ছা করে থাকেন।

Word by word

قَالَ رَبِّ أَنَّىٰ يَكُونُ لِى غُلَٰمٌ وَقَدْ بَلَغَنِىَ ٱلْكِبَرُ وَٱمْرَأَتِى عَاقِرٌ قَالَ كَذَٰلِكَ ٱللَّهُ يَفْعَلُ مَا يَشَآءُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একটি নিদর্শন দাও।’ তিনি বলিলেন, ‘তোমার নিদর্শন এই যে, তিন দিন তুমি ইংগিত ব্যতীত কথা বলিতে পারিবে না, আর তোমার প্রতিপালককে অধিক স্মরণ করিবে এবং সন্ধ্যায় ও প্রভাতে তাঁহার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিবে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘আমার প্রভু! আমাকে (এর) একটা নিদর্শন দাও।’ তিনি বললেন: ‘তোমার নিদর্শন হলো, তুমি তিনদিন আকারে ইংগিতে ছাড়া কথা বলবেনা এবং তোমার প্রভুর বেশি বেশি যিকির করবে, আর তাসবিহ্ করবে সকাল ও সন্ধ্যায়।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেন, হে পালনকর্তা আমার জন্য কিছু নিদর্শন দাও। তিনি বললেন, তোমার জন্য নিদর্শন হলো এই যে, তুমি তিন দিন পর্যন্ত কারও সাথে কথা বলবে না। তবে ইশারা ইঙ্গতে করতে পারবে এবং তোমার পালনকর্তাকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করবে আর সকাল - সন্ধ্যা তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করবে।

Word by word

قَالَ رَبِّ ٱجْعَل لِّىٓ ءَايَةً قَالَ ءَايَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ ٱلنَّاسَ ثَلَٰثَةَ أَيَّامٍ إِلَّا رَمْزًا وَٱذْكُر رَّبَّكَ كَثِيرًا وَسَبِّحْ بِٱلْعَشِىِّ وَٱلْإِبْكَٰرِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, যখন ফিরিশ্‌তাগণ বলিয়াছিল, ‘হে মার্‌ইয়াম! তোমাকে মনোনীত ও পবিত্র করিয়াছেন এবং বিশ্বের নারীগণের মধ্যে তোমাকে মনোনীত করিয়াছেন।’

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, ফেরেশতারা বলেছিল: ‘‘হে মরিয়ম! আপনাকে মনোনীত ও পবিত্র করেছেন এবং বিশ্বনারীদের মধ্যে আপনাকে বাছাই করেছেন।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন ফেরেশতা বলল হে মারইয়াম!, তোমাকে পছন্দ করেছেন এবং তোমাকে পবিত্র পরিচ্ছন্ন করে দিয়েছেন। আর তোমাকে বিশ্ব নারী সমাজের উর্ধ্বে মনোনীত করেছেন।

Word by word

وَإِذْ قَالَتِ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ يَٰمَرْيَمُ إِنَّ ٱللَّهَ ٱصْطَفَىٰكِ وَطَهَّرَكِ وَٱصْطَفَىٰكِ عَلَىٰ نِسَآءِ ٱلْعَٰلَمِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে মার্‌ইয়াম! তোমার প্রতিপালকের অনুগত হও ও সিজ্‌দা কর এবং যাহারা রুকূ‘ করে তাহাদের সঙ্গে রুকূ‘ কর।’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মরিয়ম! আপনার প্রভুর প্রতি অনুগত ও বিনয়ী হোন, সাজদা করুন এবং যারা রুকু করে, তাদের সাথে রুকু করুন।’’

মুহিউদ্দীন খান

হে মারইয়াম! তোমার পালনকর্তার উপাসনা কর এবং রুকুকারীদের সাথে সেজদা ও রুকু কর।

Word by word

يَٰمَرْيَمُ ٱقْنُتِى لِرَبِّكِ وَٱسْجُدِى وَٱرْكَعِى مَعَ ٱلرَّٰكِعِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা বিষয়ের সংবাদ - যাহা তোমাকে ওহী দ্বারা অবহিত করিতেছি। মার্‌ইয়ামের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব তাহাদের মধ্যে কে গ্রহণ করিবে ইহার জন্য যখন তাহারা তাহাদের কলম নিক্ষেপ করিতেছিল তুমি তখন তাহাদের নিকট ছিলে না এবং তাহারা যখন বাদানুবাদ করিতেছিল তখনও তুমি তাহাদের নিকট ছিলে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলো - এর সংবাদ আমরা অহি করছি তোমার প্রতি। তুমি তখন তাদের কাছে উপস্থিত ছিলেনা যখন তাদের মধ্যে মরিয়মের কফিল (তত্ত্বাবধায়ক) কে হবে তা নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে তারা কলম নিক্ষেপ করেছিল, আর তখনো তুমি তাদের কাছে ছিলেনা যখন তারা এ নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল।

মুহিউদ্দীন খান

এ হলো গায়েবী সংবাদ, যা আমি আপনাকে পাঠিয়ে থাকি। আর আপনি তো তাদের কাছে ছিলেন না, যখন প্রতিযোগিতা করছিল যে, কে প্রতিপালন করবে মারইয়ামকে এবং আপনি তাদের কাছে ছিলেন না, যখন তারা ঝগড়া করছিলো।

Word by word

ذَٰلِكَ مِنْ أَنۢبَآءِ ٱلْغَيْبِ نُوحِيهِ إِلَيْكَ وَمَا كُنتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يُلْقُونَ أَقْلَٰمَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ وَمَا كُنتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يَخْتَصِمُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, যখন ফিরিশ্‌তাগণ বলিল, ‘হে মার্‌ইয়াম ! নিশ্চয়ই তোমাকে তাঁহার পক্ষ হইতে একটি কালেমার সুসংবাদ দিতেছেন। তাহার নাম মাসীহ্ মার্‌ইয়াম - তনয় ‘ঈসা, সে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত এবং সান্নিধ্যপ্রাপ্তগণের অন্যতম হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, ফেরেশতারা বলেছিল: ‘‘হে মরিয়ম! আপনাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন তাঁর পক্ষ থেকে একটি কলেমার, তার নাম হবে মসিহ্ ঈসা ইবনে মরিয়ম, সে হবে দুনিয়া এবং আখিরাতে সম্মানিত এবং নৈকট্য লাভকারীদের একজন।

মুহিউদ্দীন খান

যখন ফেরেশতাগণ বললো, হে মারইয়াম তোমাকে তাঁর এক বানীর সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হলো মসীহ - মারইয়াম - তনয় ঈসা, দুনিয়া ও আখেরাতে তিনি মহাসম্মানের অধিকারী এবং আল্লাহর ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভূক্ত।

Word by word

إِذْ قَالَتِ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ يَٰمَرْيَمُ إِنَّ ٱللَّهَ يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِّنْهُ ٱسْمُهُ ٱلْمَسِيحُ عِيسَى ٱبْنُ مَرْيَمَ وَجِيهًا فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِ وَمِنَ ٱلْمُقَرَّبِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘সে দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সঙ্গে কথা বলিবে এবং সে হইবে পুণ্যবানদের একজন।’

আবদুস শহীদ নাসিম

দোলনায় থাকা অবস্থায় সে মানুষের সাথে কথা বলবে এবং পরিণত বয়সেও এবং সে হবে ন্যায়বানদের একজন।’’

মুহিউদ্দীন খান

যখন তিনি মায়ের কোলে থাকবেন এবং পূর্ণ বয়স্ক হবেন তখন তিনি মানুষের সাথে কথা বলবেন। আর তিনি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।

Word by word

وَيُكَلِّمُ ٱلنَّاسَ فِى ٱلْمَهْدِ وَكَهْلًا وَمِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক ! আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করে নাই, আমার সন্তান হইবে কীভাবে?’ তিনি বলিলেন, ‘এইভাবেই’, যাহা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। তিনি যখন কিছু স্থির করেন তখন বলেন, ‘হও’ এবং ইহা হইয়া যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘আমার প্রভু! কেমন করে ছেলে হবে আমার, আমাকে তো স্পর্শ করেনি কোনো পুরুষ?’ তিনি বললেন: ‘‘এভাবেই যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তখন বলেন: ‘হও’ এবং তা হয়ে যায়।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেন, পরওয়ারদেগার! কেমন করে আমার সন্তান হবে; আমাকে তো কোন মানুষ স্পর্শ করেনি। বললেন এ ভাবেই যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। যখন কোন কাজ করার জন্য ইচ্ছা করেন তখন বলেন যে, ‘হয়ে যাও’ অমনি তা হয়ে যায়।

Word by word

قَالَتْ رَبِّ أَنَّىٰ يَكُونُ لِى وَلَدٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِى بَشَرٌ قَالَ كَذَٰلِكِ ٱللَّهُ يَخْلُقُ مَا يَشَآءُ إِذَا قَضَىٰٓ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং তিনি তাহাকে শিক্ষা দিবেন কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইন্‌জীল।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তিনি তাকে তালিম দেবেন আল কিতাব, হিকমাহ, তাওরাত ও ইনজিল।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাকে তিনি শিখিয়ে দেবেন কিতাব, হিকমত, তওরাত, ইঞ্জিল।

Word by word

وَيُعَلِّمُهُ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَٱلتَّوْرَىٰةَ وَٱلْإِنجِيلَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং তাহাকে বনী ইসরাঈলের জন্য রাসূল করিবেন।’ সে বলিবে, ‘আমি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে তোমাদের নিকট নিদর্শন লইয়া আসিয়াছি। আমি তোমাদের জন্য কর্দম দ্বারা একটি পক্ষীসদৃশ আকৃতি গঠন করিব ; অতঃপর ইহাতে আমি ফুৎকার দিব; ফলে ‌র হুকুমে উহা পাখি হইয়া যাইবে। আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্তকে নিরাময় করিব এবং ‌র হুকুমে মৃতকে জীবন্ত করিব। তোমরা তোমাদের গৃহে যাহা আহার কর ও মওজুদ কর তাহা তোমাদেরকে বলিয়া দিব। তোমরা যদি হও তবে ইহাতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রহিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তাকে রসূল হিসেবে পাঠাবেন বনি ইসরাঈলের কাছে।’’ সে তাদের বলবে: ‘‘আমি তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। (তাহলো) আমি কাদামাটি দিয়ে পাখির আকৃতি তৈরি করবো, তারপর তাতে ফুঁ দেবো, সাথে সাথে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তা হয়ে যাবে পাখি। আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীদের নিরাময় করবো। আমি মৃতকে জীবিত করবো আল্লাহর অনুমতিক্রমে। তাছাড়া তোমরা তোমাদের ঘরে যা খাও এবং যা সঞ্চয় করো তা তোমাদের বলে দেবো। এতে তোমাদের জন্যে রয়েছে নিদর্শন যদি তোমরা হয়ে থাকো।

মুহিউদ্দীন খান

আর বণী ইসরাঈলদের জন্যে রসূল হিসেবে তাকে মনোনীত করবেন। তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে এসেছি নিদর্শনসমূহ নিয়ে। আমি তোমাদের জন্য মাটির দ্বারা পাখীর আকৃতি তৈরী করে দেই। তারপর তাতে যখন ফুৎকার প্রদান করি, তখন তা উড়ন্ত পাখীতে পরিণত হয়ে যায় আল্লাহর হুকুমে। আর আমি সুস্থ করে তুলি জন্মান্ধকে এবং শ্বেত কুষ্ঠ রোগীকে। আর আমি জীবিত করে দেই মৃতকে আল্লাহর হুকুমে। আর আমি তোমাদেরকে বলে দেই যা তোমরা খেয়ে আস এবং যা তোমরা ঘরে রেখে আস। এতে প্রকৃষ্ট নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা হও।

Word by word

وَرَسُولًا إِلَىٰ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ أَنِّى قَدْ جِئْتُكُم بِـَٔايَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ أَنِّىٓ أَخْلُقُ لَكُم مِّنَ ٱلطِّينِ كَهَيْـَٔةِ ٱلطَّيْرِ فَأَنفُخُ فِيهِ فَيَكُونُ طَيْرًۢا بِإِذْنِ ٱللَّهِ وَأُبْرِئ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর আমি আসিয়াছি আমার সম্মুখে তাওরাতে যাহা রহিয়াছে উহার সমর্থকরূপে ও তোমাদের জন্য যাহা নিষিদ্ধ ছিল উহার কতকগুলিকে বৈধ করিতে। এবং আমি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে তোমাদের নিকট নিদর্শন লইয়া আসিয়াছি। সুতরাং ‌কে ভয় কর আর আমাকে অনুসরণ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমার সামনে তাওরাতের যা রয়েছে আমি তার সত্যায়নকারী, আর তোমাদের জন্যে যেসব জিনিস হারাম করা হয়েছিল আমি তার কিছু হালাল করবো। আমি তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।

মুহিউদ্দীন খান

আর এটি পূর্ববর্তী কিতাব সমুহকে সত্যায়ন করে, যেমন তওরাত। আর তা এজন্য যাতে তোমাদের জন্য হালাল করে দেই কোন কোন বস্তু যা তোমাদের জন্য হারাম ছিল। আর আমি তোমাদের নিকট এসেছি তোমাদের পালনকর্তার নিদর্শনসহ। কাজেই আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর।

Word by word

وَمُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَىَّ مِنَ ٱلتَّوْرَىٰةِ وَلِأُحِلَّ لَكُم بَعْضَ ٱلَّذِى حُرِّمَ عَلَيْكُمْ وَجِئْتُكُم بِـَٔايَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক, সুতরাং তোমরা তাঁহার ‘ইবাদত করিবে। ইহাই সরল পথ।’

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহ্ই আমার রব এবং তোমাদেরও রব, সুতরাং কেবল তাঁরই ইবাদত করো - এটাই সরল সঠিক পথ।’’

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা - তাঁর এবাদত কর, এটাই হলো সরল পথ।

Word by word

إِنَّ ٱللَّهَ رَبِّى وَرَبُّكُمْ فَٱعْبُدُوهُ هَٰذَا صِرَٰطٌ مُّسْتَقِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন ‘ঈসা তাহাদের অবিশ্বাস উপলব্ধি করিল তখন সে বলিল, ‘‌র পথে কাহারা আমার সাহায্যকারী?’ হাওয়ারীগণ বলিল, ‘আমরাই ‌র পথে সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহে ঈমান আনিয়াছি। আমরা আত্মসমর্পণ - কারী, তুমি ইহার সাক্ষী থাক।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর ঈসা যখন তাদের থেকে কুফুরি অনুভব করলো, তখন তাদের বললো: ‘আল্লাহর পথে কারা হবে আমার সাহায্যকারী? তখন হাওয়ারীরা বললো: ‘‘আমরা হবো আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম। তুমি সাক্ষী থাকো, আমরা আত্মসমর্পণকারী - মুসলিম।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর ঈসা (আঃ) যখন বণী ইসরায়ীলের সম্পর্কে উপলব্ধি করতে পারলেন, তখন বললেন, কারা আছে আল্লাহর পথে আমাকে সাহায্য করবে? সঙ্গী - সাথীরা বললো, আমরা রয়েছি আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি। আর তুমি সাক্ষী থাক যে, আমরা হুকুম কবুল করে নিয়েছি।

Word by word

فَلَمَّآ أَحَسَّ عِيسَىٰ مِنْهُمُ ٱلْكُفْرَ قَالَ مَنْ أَنصَارِىٓ إِلَى ٱللَّهِ قَالَ ٱلْحَوَارِيُّونَ نَحْنُ أَنصَارُ ٱللَّهِ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَٱشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমাদের প্রতিপালক ! তুমি যাহা অবতীর্ণ করিয়াছ তাহাতে আমরা ঈমান আনিয়াছি এবং আমরা এই রাসূলের অনুসরণ করিয়াছি। সুতরাং আমাদেরকে সাক্ষ্যদান - কারীদের তালিকাভুক্ত কর।’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের প্রভু! তুমি যা নাযিল করেছো আমরা তার (সেই কিতাবের) প্রতি ঈমান এনেছি এবং তোমার এই রসূলের ইত্তেবা (অনুসরণ) করেছি, তাই তুমি আমাদের (নাম) লিখে নাও সাক্ষ্যদানকারীদের সাথে।’’

মুহিউদ্দীন খান

হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা সে বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি যা তুমি নাযিল করেছ, আমরা রসূলের অনুগত হয়েছি। অতএব, আমাদিগকে মান্যকারীদের তালিকাভুক্ত করে নাও।

Word by word

رَبَّنَآ ءَامَنَّا بِمَآ أَنزَلْتَ وَٱتَّبَعْنَا ٱلرَّسُولَ فَٱكْتُبْنَا مَعَ ٱلشَّٰهِدِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তাহারা চক্রান্ত করিয়াছিল ‌ও কৌশল করিয়াছিলেন; ‌ কৌশলীদের শ্রেষ্ঠ।

আবদুস শহীদ নাসিম

ওরা ষড়যন্ত্র করেছিল আর আল্লাহ্ও কৌশল করেছিলেন। আল্লাহ্ই সর্বোত্তম কৌশলী।

মুহিউদ্দীন খান

এবং কাফেরেরা চক্রান্ত করেছে আর আল্লাহও কৌশল অবলম্বন করেছেন। বস্তুতঃ হচ্ছেন সর্বোত্তম কুশলী।

Word by word

وَمَكَرُوا۟ وَمَكَرَ ٱللَّهُ وَٱللَّهُ خَيْرُ ٱلْمَٰكِرِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, যখন বলিবেন, ‘হে ‘ঈসা! আমি তোমার কাল পূর্ণ করিতেছি এবং আমার নিকট তোমাকে তুলিয়া লইতেছি এবং যাহারা করিয়াছে তাহাদের মধ্য হইতে তোমাকে পবিত্র করিতেছি। আর তোমার অনুসারিগণকে কিয়ামত পর্যন্ত কাফিরদের উপর প্রাধান্য দিতেছি, অতঃপর আমার কাছে তোমাদের প্রত্যাবর্তন।’ তারপর যে বিষয়ে তোমাদের মতান্তর ঘটিতেছে আমি উহা মীমাংসা করিয়া দিব।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, বলেছিলেন: ‘‘হে ঈসা! আমি তোমার সময়কাল পূর্ণ করছি, তোমাকে আমার কাছে উঠিয়ে নিচ্ছি, যারা কুফুরিতে লিপ্ত হয়েছে তাদের থেকে তোমাকে পবিত্র করছি এবং তোমার অনুসারীদের কাফিরদের উপর কিয়ামতকাল পর্যন্ত শ্রেষ্ঠত্ব দিচ্ছি। অতপর আমার কাছেই হবে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তখন আমি তোমাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবো যে বিষয়ে তোমরা ইখতেলাফ করছিলে।

মুহিউদ্দীন খান

আর স্মরণ কর, যখন বলবেন, হে ঈসা! আমি তোমাকে নিয়ে নেবো এবং তোমাকে নিজের দিকে তুলে নিবো - কাফেরদের থেকে তোমাকে পবিত্র করে দেবো। আর যারা তোমার অনুগত রয়েছে তাদেরকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে তাদের উপর জয়ী করে রাখবো। বস্তুতঃ তোমাদের সবাইকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। তখন যে বিষয়ে তোমরা বিবাদ করতে, আমি তোমাদের মধ্যে তার ফয়সালা করে দেবো।

Word by word

إِذْ قَالَ ٱللَّهُ يَٰعِيسَىٰٓ إِنِّى مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَىَّ وَمُطَهِّرُكَ مِنَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَجَاعِلُ ٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوكَ فَوْقَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَٰمَةِ ثُمَّ إِلَىَّ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা করিয়াছে আমি তাহাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে কঠোর শাস্তি প্রদান করিব এবং তাহাদের কোন সাহায্য - কারী নাই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে, যারা কুফুরিতে লিপ্ত হবে, তাদেরকে আমি আযাব দেবো কঠিন আযাব দুনিয়ায় এবং আখিরাতে এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবেনা।’’

মুহিউদ্দীন খান

অতএব যারা হয়েছে, তাদেরকে আমি কঠিন শাস্তি দেবো দুনিয়াতে এবং আখেরাতে - তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।

Word by word

فَأَمَّا ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فَأُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِ وَمَا لَهُم مِّن نَّٰصِرِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যাহারা ঈমান আনিয়াছে এবং সৎকাজ করিয়াছে তিনি তাহাদের প্রতিফল পুরাপুরিভাবে প্রদান করিবেন। - দের পছন্দ করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ করবে, তিনি তাদের পুরোপুরি দিয়ে দেবেন তাদের প্রতিফল। যালিমদের পছন্দ করেননা।

মুহিউদ্দীন খান

পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে। তাদের প্রাপ্য পরিপুর্ণভাবে দেয়া হবে। আর অত্যাচারীদেরকে ভালবাসেন না।

Word by word

وَأَمَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فَيُوَفِّيهِمْ أُجُورَهُمْ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ ٱلظَّٰلِمِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা আমি তোমার নিকট তিলাওয়াত করিতেছি আয়াতসমূহ ও সারগর্ভ বাণী হইতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলো হলো আয়াত এবং বিজ্ঞানময় উপদেশ, যা আমরা তোমার প্রতি তিলাওয়াত করছি।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তোমাদেরকে পড়ে শুনাই এ সমস্ত আয়াত এবং নিশ্চিত বর্ণনা।

Word by word

ذَٰلِكَ نَتْلُوهُ عَلَيْكَ مِنَ ٱلْءَايَٰتِ وَٱلذِّكْرِ ٱلْحَكِيمِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌র নিকট নিশ্চয়ই ‘ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্তসদৃশ। তিনি তাহাকে মৃত্তিকা হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন; অতঃপর উহাকে বলিলেন ‘হও’, ফলে সে হইয়া গেল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের অনুরূপ। তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর তাকে বলেছেন: ‘হও’ ফলে সে হয়ে গেলো।

মুহিউদ্দীন খান

নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত হচ্ছে আদমেরই মতো। তাকে মাটি দিয়ে তৈরী করেছিলেন এবং তারপর তাকে বলেছিলেন হয়ে যাও, সঙ্গে সঙ্গে হয়ে গেলেন।

Word by word

إِنَّ مَثَلَ عِيسَىٰ عِندَ ٱللَّهِ كَمَثَلِ ءَادَمَ خَلَقَهُۥ مِن تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُۥ كُن فَيَكُونُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সত্য তো তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে, সুতরাং তুমি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হইও না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সত্য (এসেছে) তোমার প্রভুর নিকট থেকে, সুতরাং তুমি সনেদহ পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়োনা।

মুহিউদ্দীন খান

যা তোমার পালকর্তা বলেন তাই হচ্ছে যথার্থ সত্য। কাজেই তোমরা সংশয়বাদী হয়ো না।

Word by word

ٱلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَلَا تَكُن مِّنَ ٱلْمُمْتَرِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার নিকট জ্ঞান আসিবার পর যে কেহ এই বিষয়ে তোমার সঙ্গে তর্ক করে তাহাকে বল, আস, আমরা আহ্বান করি আমাদের পুত্রগণকে ও তোমাদের পুত্রগণকে, আমাদের নারীগণকে ও তোমাদের নারীগণকে, আমাদের নিজেদেরকে ও তোমাদের নিজেদেরকে, অতঃপর আমরা বিনীত আবেদন করি এবং মিথ্যাবাদীদের উপর দেই ‌র লা’নত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার কাছে (সত্য) এলেম আসার পর যারা তোমার সাথে বিতর্ক করে, তুমি তাদের বলো: ‘‘এসো আমরা ডাকি আমাদের পুত্রদের এবং তোমাদের পুত্রদের, আমাদের নারীদের এবং তোমাদের নারীদের, আমাদের নিজেদের এবং তোমাদের নিজেদের, তারপর বিনীত আবেদন করি এবং মিথ্যাবাদীদের উপর দেই আল্লাহর লা’নত।’’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তোমার নিকট সত্য সংবাদ এসে যাওয়ার পর যদি এই কাহিনী সম্পর্কে তোমার সাথে কেউ বিবাদ করে, তাহলে বল - এসো, আমরা ডেকে নেই আমাদের পুত্রদের এবং তোমাদের পুত্রদের এবং আমাদের স্ত্রীদের ও তোমাদের স্ত্রীদের এবং আমাদের নিজেদের ও তোমাদের নিজেদের আর তারপর চল আমরা সবাই মিলে প্রার্থনা করি এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত করি যারা মিথ্যাবাদী।

Word by word

فَمَنْ حَآجَّكَ فِيهِ مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَكَ مِنَ ٱلْعِلْمِ فَقُلْ تَعَالَوْا۟ نَدْعُ أَبْنَآءَنَا وَأَبْنَآءَكُمْ وَنِسَآءَنَا وَنِسَآءَكُمْ وَأَنفُسَنَا وَأَنفُسَكُمْ ثُمَّ نَبْتَهِلْ فَنَجْعَل لَّعْنَتَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই ইহা সত্য বৃত্তান্ত। ‌ ব্যতীত অন্য ইলাহ্ নাই; নিশ্চয় ‌ পরম প্রতাপশালী, প্রজ্ঞাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ এক অতীব সত্য বিবরণ। কোনো ইলাহ্ নেই ছাড়া। আর নিশ্চয়ই মহাশক্তিমান মহা বিজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

নিঃসন্দেহে এটাই হলো সত্য ভাষণ। আর এক ছাড়া অন্য কোন নেই। আর ; তিনিই হলেন পরাক্রমশালী মহাপ্রাজ্ঞ।

Word by word

إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ ٱلْقَصَصُ ٱلْحَقُّ وَمَا مِنْ إِلَٰهٍ إِلَّا ٱللَّهُ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যদি তাহারা মুখ ফিরাইয়া নেয়, তবে নিশ্চয়ই ফাসাদকারীদের সম্বন্ধে সম্যক অবহিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপরও তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রাখো, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের ভালোভাবেই জানেন।

মুহিউদ্দীন খান

তারপর যদি তারা গ্রহণ না করে, তাহলে প্রমাদ সৃষ্টিকারীদেরকে জানেন।

Word by word

فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌۢ بِٱلْمُفْسِدِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি বল, ‘হে কিতাবীগণ ! আস সে কথায় যাহা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে এক; যেন আমরা ‌ ব্যতীত কাহারও ‘ইবাদত না করি, কোন কিছুকেই তাঁহার শরীক না করি এবং আমাদের কেহ কাহাকেও ‌ ব্যতীত রব হিসাবে গ্রহণ না করে।’ যদি তাহারা মুখ ফিরাইয়া নেয় তবে বল, ‘তোমরা সাক্ষী থাক, অবশ্যই আমরা মুসলিম।’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! তুমি তাদের বলো: ‘হে আহলে কিতাব! এসো, এই কথাটিতে আমরা একমত হয়ে যাই, যা আমাদের ও তোমাদের মাঝে একই রকম। তাহলো: আমরা ছাড়া আর কারো ইবাদত করবোনা। আমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকেই শরিক করবোনা এবং আমরা ছাড়া আমাদের পরস্পরকে রব হিসেবে গ্রহণ করবোনা।’ যদি তারা (এ প্রস্তাব) গ্রহণ করতে অস্বীকার করে, তবে তাদের বলো: ‘তোমরা সাক্ষী থাকো, আমরা মুসলিম।’

মুহিউদ্দীন খান

বলুনঃ ‘হে আহলে - কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আস - যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান - যে, আমরা ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাব না। তারপর যদি তারা স্বীকার না করে, তাহলে বলে দাও যে, ‘সাক্ষী থাক আমরা তো অনুগত।

Word by word

قُلْ يَٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَٰبِ تَعَالَوْا۟ إِلَىٰ كَلِمَةٍ سَوَآءٍۭ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا ٱللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِۦ شَيْـًٔا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِّن دُونِ ٱل

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে কিতাবীগণ! ইব্‌রাহীম সম্বন্ধে কেন তোমরা তর্ক কর, অথচ তাওরাত ও ইন্‌জীল তো তাহার পরেই অবতীর্ণ হইয়াছিল? তোমরা কি বুঝ না?

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আহলে কিতাব! তোমরা ইবরাহিমকে নিয়ে কেন তর্ক করো? অথচ তাওরাত এবং ইনজিল তো তার পরে নাযিল হয়েছে। তোমরা কি আকল রাখোনা?

মুহিউদ্দীন খান

হে আহলে কিতাবগণ! কেন তোমরা ইব্রাহীমের বিষয়ে বাদানুবাদ কর? অথচ তওরাত ও ইঞ্জিল তাঁর পরেই নাযিল হয়েছে। তোমরা কি বুঝ না?

Word by word

يَٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَٰبِ لِمَ تُحَآجُّونَ فِىٓ إِبْرَٰهِيمَ وَمَآ أُنزِلَتِ ٱلتَّوْرَىٰةُ وَٱلْإِنجِيلُ إِلَّا مِنۢ بَعْدِهِۦٓ أَفَلَا تَعْقِلُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হাঁ, তোমরা তো সেইসব লোক, যে বিষয়ে তোমাদের সামান্য জ্ঞান আছে সে বিষয়ে তোমরাই তো তর্ক করিয়াছ, তবে যে বিষয়ে তোমাদের কোন জ্ঞান নাই সে বিষয়ে কেন তর্ক করিতেছ ? ‌ জ্ঞাত আছেন এবং তোমরা জ্ঞাত নও।

আবদুস শহীদ নাসিম

হাঁ, তোমরা তো ঐসব লোক, যারা তর্ক করেছো যে বিষয়ে তোমাদের একটুখানি জ্ঞান আছে, কিন্তু যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞানই নেই, সে বিষয়ে কেন তোমরা তর্ক করছো? জানেন, তোমরা জানোনা।

মুহিউদ্দীন খান

শোন! ইতিপূর্বে তোমরা যে বিষয়ে কিছু জানতে, তাই নিয়ে বিবাদ করতে। এখন আবার যে বিষয়ে তোমরা কিছুই জান না, সে বিষয়ে কেন বিবাদ করছ?

Word by word

هَٰٓأَنتُمْ هَٰٓؤُلَآءِ حَٰجَجْتُمْ فِيمَا لَكُم بِهِۦ عِلْمٌ فَلِمَ تُحَآجُّونَ فِيمَا لَيْسَ لَكُم بِهِۦ عِلْمٌ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইব্‌রাহীম ইয়াহূদীও ছিল না, খ্রিস্টানও ছিল না; সে ছিল একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণকারী এবং সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্তও ছিল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইবরাহিম ইহুদিও ছিলনা নাসারাও (খৃষ্টান) ছিলনা, বরং সে ছিলো একনিষ্ঠ মুসলিম। আর সে মুশরিকদেরও অন্তর্ভুক্ত ছিলনা।

মুহিউদ্দীন খান

ইব্রাহীম ইহুদী ছিলেন না এবং নাসারাও ছিলেন না, কিক্তু তিনি ছিলেন ‘হানীফ’ অর্থাৎ, সব মিথ্যা ধর্মের প্রতি বিমুখ এবং আত্নসমর্পণকারী, এবং তিনি মুশরিক ছিলেন না।

Word by word

مَا كَانَ إِبْرَٰهِيمُ يَهُودِيًّا وَلَا نَصْرَانِيًّا وَلَٰكِن كَانَ حَنِيفًا مُّسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে তাহারা ইব্‌রাহীমের ঘনিষ্ঠতম যাহারা তাহার অনুসরণ করিয়াছে এবং এই নবী ও যাহারা ঈমান আনিয়াছে; আর ‌ মু’মিনদের অভিভাবক।

আবদুস শহীদ নাসিম

জেনে রাখো, মানুষের মাঝে ইবরাহিমের নিকটতম লোক হলো তারা, যারা তার অনুসরণ করেছে এবং এই নবী (মুহাম্মদ), আর যারা ঈমান এনেছে তারা। আল্লাহ্ই মুমিনদের অলি।

মুহিউদ্দীন খান

মানুষদের মধ্যে যারা ইব্রাহীমের অনুসরণ করেছিল, তারা, আর এই নবী এবং যারা এ নবীর প্রতি ঈমান এনেছে তারা ইব্রাহীমের ঘনিষ্ঠতম - আর হচ্ছেন মুমিনদের বন্ধু।

Word by word

إِنَّ أَوْلَى ٱلنَّاسِ بِإِبْرَٰهِيمَ لَلَّذِينَ ٱتَّبَعُوهُ وَهَٰذَا ٱلنَّبِىُّ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَٱللَّهُ وَلِىُّ ٱلْمُؤْمِنِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিতাবীদের একদল চাহে যেন তোমাদেরকে বিপথগামী করিতে পারে, অথচ তাহারা নিজেদেরকেই বিপথগামী করে, কিন্তু তাহারা উপলব্ধি করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আহলে কিতাবদের একদল লোক চায় যেনো তোমাদের পথভ্রষ্ট করতে পারে। আসলে তারা কেবল নিজেদেরই পথভ্রষ্ট করে, কিন্তু তারা তা বুঝতে পারেনা।

মুহিউদ্দীন খান

কোন কোন আহলে - কিতাবের আকাঙ্খা, যাতে তোমাদের গোমরাহ করতে পারে, কিন্তু তারা নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকেই গোমরাহ করে না। অথচ তারা বুঝতে পারে না।

Word by word

وَدَّت طَّآئِفَةٌ مِّنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ لَوْ يُضِلُّونَكُمْ وَمَا يُضِلُّونَ إِلَّآ أَنفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে কিতাবী - গণ! তোমরা কেন ‌র আয়াতকে অস্বীকার কর, যখন তোমরাই সাক্ষ্য বহন কর?

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আহলে কিতাব! তোমরা কেন আল্লাহর আয়াতকে (আল কুরআন ও শেষ নবীকে) অস্বীকার করছো, অথচ (তা সত্য হবার ব্যাপারে) তোমরাই সাক্ষী।

মুহিউদ্দীন খান

হে আহলে - কিতাবগণ, কেন তোমরা আল্লাহর কালামকে অস্বীকার কর, অথচ তোমরাই তাঁর প্রবক্তা?

Word by word

يَٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَٰبِ لِمَ تَكْفُرُونَ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ وَأَنتُمْ تَشْهَدُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে কিতাবীগণ! তোমরা কেন সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশ্রিত কর এবং সত্য গোপন কর, যখন তোমরা জান?

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আহলে কিতাব! তোমরা কেন আল্লাহর আয়াতকে (আল কুরআন ও শেষ নবীকে) অস্বীকার করছো, অথচ (তা সত্য হবার ব্যাপারে) তোমরাই সাক্ষী।

মুহিউদ্দীন খান

হে আহলে কিতাবগণ, কেন তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে সংমিশ্রণ করছ এবং সত্যকে গোপন করছ, অথচ তোমরা তা জান।

Word by word

يَٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَٰبِ لِمَ تَلْبِسُونَ ٱلْحَقَّ بِٱلْبَٰطِلِ وَتَكْتُمُونَ ٱلْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিতাবীদের একদল বলিল, ‘যাহারা ঈমান আনিয়াছে তাহাদের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তোমরা দিনের প্রারম্ভে তাহা বিশ্বাস কর এবং দিনের শেষে তাহা প্রত্যাখ্যান কর ; হয়ত তাহারা ফিরিবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আহলে কিতাবদের মধ্যে একদল লোক (তাদের লোকদের) বলছিল: ‘মুমিনদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি দিনের শুরুতে ঈমান আনো, আর দিনের শেষে কুফুরি করো, তাতে হয়তো তারা (তাদের ঈমান থেকে) ফিরে আসবে।’

মুহিউদ্দীন খান

আর আহলে - কিতাবগণের একদল বললো, মুসলমানগণের উপর যা কিছু অবর্তীণ হয়েছে তাকে দিনের প্রথম ভাগে মেনে নাও, আর দিনের শেষ ভাগে অস্বীকার ক র, হয়তো তারা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।

Word by word

وَقَالَت طَّآئِفَةٌ مِّنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ ءَامِنُوا۟ بِٱلَّذِىٓ أُنزِلَ عَلَى ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَجْهَ ٱلنَّهَارِ وَٱكْفُرُوٓا۟ ءَاخِرَهُۥ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর যে ব্যক্তি তোমাদের দীনের অনুসরণ করে তাহাদেরকে ব্যতীত আর কাহাকেও বিশ্বাস করিও না।’ বল, ‘‌র নির্দেশিত পথই একমাত্র পথ। ইহা এইজন্য যে, তোমাদেরকে যাহা দেওয়া হইয়াছে অনুরূপ আর কাহাকেও দেওয়া হইবে অথবা তোমাদের প্রতিপালকের সম্মুখে তাহারা তোমাদেরকে যুক্তিতে পরাভূত করিবে। বল, ‘অনুগ্রহ ‌রই হাতে ; তিনি যাহাকে ইচ্ছা তাহা প্রদান করেন। প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তারা নিজেদের মধ্যে আরো বলাবলি করে:) ‘আর কাউকেও বিশ্বাস করবেনা তাকে ছাড়া, যে তোমাদের ধর্মের অনুসরণ করে।’ হে নবী! তাদের বলো: ‘আল্লাহর দেখানো পথই একমাত্র হিদায়াতের পথ।’ এটা এজন্যে যে, এক সময় তোমাদের যা দেয়া হয়েছে অনুরূপ অন্য কাউকেও দেয়া হবে, অথবা তোমাদের প্রভুর সামনে তারা তোমাদের যুক্তিতে পরাস্ত করবে। বলো: অনুগ্রহ অবশ্যি আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। অতীব উদার, অতীব জ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

যারা তোমাদের ধর্মমতে চলবে, তাদের ছাড়া আর কাউকে বিশ্বাস করবে না। বলে দিন নিঃসন্দেহে হেদায়েত সেটাই, যে হেদায়েত করেন। আর এসব কিছু এ জন্যে যে, তোমরা যা লাভ করেছিলে তা অন্য কেউ কেন প্রাপ্ত হবে, কিংবা তোমাদের পালনকর্তার সামনে তোমাদের উপর তারা কেন প্রবল হয়ে যাবে! বলে দিন, মর্যাদা আল্লাহরই হাতে; তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন এবং প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।

Word by word

وَلَا تُؤْمِنُوٓا۟ إِلَّا لِمَن تَبِعَ دِينَكُمْ قُلْ إِنَّ ٱلْهُدَىٰ هُدَى ٱللَّهِ أَن يُؤْتَىٰٓ أَحَدٌ مِّثْلَ مَآ أُوتِيتُمْ أَوْ يُحَآجُّوكُمْ عِندَ رَبِّكُمْ قُلْ إِنَّ ٱلْفَضْلَ بِيَدِ ٱللَّهِ يُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি স্বীয় অনুগ্রহের জন্য যাহাকে ইচ্ছা বিশেষ করিয়া বাছিয়া নেন। মহা অনুগ্রহশীল।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিজ রহমতের জন্যে যাকে ইচ্ছা তিনি খাস করে বেছে নেন। মহা অনুগ্রহের মালিক ।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি যাকে ইচ্ছা নিজের বিশেষ অনুগ্রহ দান করেন। আর মহা অনুগ্রহশীল।

Word by word

يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِۦ مَن يَشَآءُ وَٱللَّهُ ذُو ٱلْفَضْلِ ٱلْعَظِيمِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিতাবীদের মধ্যে এমন লোক রহিয়াছে, যে বিপুল সম্পদ আমানত রাখিলেও ফেরত দিবে; আবার এমন লোকও আছে যাহার নিকট একটি দীনারও আমানত রাখিলে তাহার পিছনে লাগিয়া না থাকিলে সে ফেরত দিবে না, ইহা এই কারণে যে, তাহারা বলে, ‘নিরক্ষরদের প্রতি আমাদের কোন বাধ্যবাধকতা নাই’, এবং তাহারা জানিয়া - শুনিয়া সম্পর্কে মিথ্যা বলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আহলে কিতাবদের (ইহুদি খৃষ্টানদের) মধ্যে এমন লোকও আছে, যার কাছে প্রচুর পরিমাণ সম্পদ আমানত রাখলেও সে তোমাকে ফেরত দেবে, আবার এমন লোকও আছে যার কাছে একটি দিনার আমানত রাখলেও তার পিছে লেগে না থাকলে সে ফেরত দেবেনা। এর কারণ হলো, তারা বলে: ‘উম্মিদের প্রতি আমাদের কোনো দায় দায়িত্ব নেই।’ তারা জেনে শুনেই আল্লাহর সম্পর্কে মিথ্যা বলে।

মুহিউদ্দীন খান

কোন কোন আহলে কিতাব এমনও রয়েছে, তোমরা যদি তাদের কাছে বহু ধন - সম্পদ আমানত রাখ, তাহলেও তা তোমাদের যথারীতি পরিশোধ করবে। আর তোদের মধ্যে অনেক এমনও রয়েছে যারা একটি দীনার গচ্ছিত রাখলেও ফেরত দেবে না - যে পর্যন্ত না তুমি তার মাথার উপর দাঁড়াতে পারবে। এটা এজন্য যে, তারা বলে রেখেছে যে, উম্মীদের অধিকার বিনষ্ট করাতে আমাদের কোন পাপ নেই। আর তারা সম্পর্কে জেনে শুনেই মিথ্যা বলে।

Word by word

وَمِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ مَنْ إِن تَأْمَنْهُ بِقِنطَارٍ يُؤَدِّهِۦٓ إِلَيْكَ وَمِنْهُم مَّنْ إِن تَأْمَنْهُ بِدِينَارٍ لَّا يُؤَدِّهِۦٓ إِلَيْكَ إِلَّا مَا دُمْتَ عَلَيْهِ قَآئِمًا ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হাঁ, কেহ তাহার অঙ্গীকার পূর্ণ করিলে এবং তাক্ওয়া অবলম্বন করিয়া চলিলে অবশ্যই মুত্তাকীদের ভালবাসেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

হ্যাঁ, কেউ যদি তার অংগীকার পুরণ করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে, তারা জেনে রাখুক, মুত্তাকিদের ভালোবাসেন।

মুহিউদ্দীন খান

যে লোক নিজ প্রতিজ্ঞা পূর্ন করবে এং পরহেজগার হবে, অবশ্যই পরহেজগারদেরকে ভালবাসেন।

Word by word

بَلَىٰ مَنْ أَوْفَىٰ بِعَهْدِهِۦ وَٱتَّقَىٰ فَإِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلْمُتَّقِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ‌র সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে পরকালে তাহাদের কোন অংশ নাই। কিয়ামতের দিন তাহাদের সঙ্গে কথা বলিবেন না এবং তাহাদের দিকে চাহিবেন না এবং তাহাদেরকে পরিশুদ্ধ করিবেন না ; তাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা বিক্রয় করে আল্লাহর সাথে করা অংগীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে, আখিরাতে তাদের কোনো অংশ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেনও না, আর তাদের পবিত্রও করবেন না। তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

যারা আল্লাহর নামে কৃত অঙ্গীকার এবং প্রতিজ্ঞা সামান্য মুল্যে বিক্রয় করে, আখেরাতে তাদের কেন অংশ নেই। আর তাদের সাথে কেয়ামতের দিন কথা বলবেন না। তাদের প্রতি (করুণার) দৃষ্টিও দেবেন না। আর তাদেরকে পরিশুদ্ধও করবেন না। বস্তুতঃ তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ ٱللَّهِ وَأَيْمَٰنِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا أُو۟لَٰٓئِكَ لَا خَلَٰقَ لَهُمْ فِى ٱلْءَاخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ ٱللَّهُ وَلَا يَنظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَلَا يُز

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর নিশ্চয়ই তাহাদের মধ্যে একদল লোক আছেই যাহারা কিতাবকে জিহ্‌বা দ্বারা বিকৃত করে যাহাতে তোমরা উহাকে ‌র কিতাবের অংশ মনে কর ; কিন্তু উহা কিতাবের অংশ নহে এবং তাহারা বলে, ‘উহা ‌র পক্ষ হইতে’, কিন্তু উহা ‌র পক্ষ হইতে প্রেরিত নহে। তাহারা জানিয়া - শুনিয়া ‌ সম্পর্কে মিথ্যা বলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি তাদের মধ্যে এমন একদল লোক আছে যারা আল্লাহর কিতাবকে জিহ্বা দিয়ে বিকৃত করে, যাতে করে তোমরা সেটাকে আল্লাহর কিতাবের অংশ মনে করো। অথচ তা কিতাবের অংশ নয়। তারা বলে: ‘ওটা আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসেছে।’ অথচ সেটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। তারা জেনে বুঝে আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা বলে।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের মধ্যে একদল রয়েছে, যারা বিকৃত উচ্চারণে মুখ বাঁকিয়ে কিতাব পাঠ করে, যাতে তোমরা মনে কর যে, তার কিতাব থেকেই পাঠ করছে। অথচ তারা যা আবৃত্তি করছে তা আদৌ কিতাব নয়। এবং তারা বলে যে, এসব কথা আল্লাহর তরফ থেকে আগত। অথচ এসব আল্লাহর তরফ থেকে প্রেরিত নয়। তারা বলে যে, এটি আল্লাহর কথা অথচ এসব আল্লাহর কথা নয়। আর তারা জেনে শুনে আল্লাহরই প্রতি মিথ্যারোপ করে।

Word by word

وَإِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِيقًا يَلْوُۥنَ أَلْسِنَتَهُم بِٱلْكِتَٰبِ لِتَحْسَبُوهُ مِنَ ٱلْكِتَٰبِ وَمَا هُوَ مِنَ ٱلْكِتَٰبِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنْ عِندِ ٱللَّهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِندِ ٱللَّهِ وَيَقُولُونَ عَلَى

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কোন ব্যক্তিকে কিতাব, হিক্‌মত ও নবুওয়াত দান করিবার পর সে মানুষকে বলিবে, ‘‌র পরিবর্তে তোমরা আমার দাস হইয়া যাও’, ইহা তাহার জন্য সঙ্গত নহে ; বরং সে বলিবে, ‘তোমরা রব্বানী হইয়া যাও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দান কর এবং যেহেতু তোমরা অধ্যয়ন কর।’

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো ব্যক্তির জন্যে এটা সংগত নয় যে, তাকে কিতাব, হিকমাহ ও নবুয়্যত দেবেন, অতপর সে মানুষকে বলবে: ‘তোমরা আল্লাহর বদলে আমার দাস হয়ে যাও।’ বরং সে বলবে: ‘তোমরা আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও।’ এর কারণ, তোমরা তো কিতাব শিক্ষাদান করতে এবং তা অধ্যয়ন করতে।

মুহিউদ্দীন খান

কোন মানুষকে কিতাব, হেকমত ও নবুওয়ত দান করার পর সে বলবে যে, ‘তোমরা আল্লাহকে পরিহার করে আমার বান্দা হয়ে যাও’ - এটা সম্ভব নয়। বরং তারা বলবে, ‘তোমরা আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও, যেমন, তোমরা কিতাব শিখাতে এবং যেমন তোমরা নিজেরা ও পড়তে।

Word by word

مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَن يُؤْتِيَهُ ٱللَّهُ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحُكْمَ وَٱلنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا۟ عِبَادًا لِّى مِن دُونِ ٱللَّهِ وَلَٰكِن كُونُوا۟ رَبَّٰنِيِّۦنَ بِمَا كُنتُمْ تُعَلِّمُونَ ٱل

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফিরিশ্‌তাগণকে ও নবীগণকে প্রতিপালকরূপে গ্রহণ করিতে সে তোমাদেরকে নির্দেশ দিতে পারে না। তোমাদের মুসলিম হওয়ার পর সে কি তোমাদেরকে কুফরীর নির্দেশ দিবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরেশতা এবং নবীদেরকে রব হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ সে তোমাদের দিতে পারেনা। তোমরা মুসলিম হবার পর সে কি তোমাদের কুফুরির নির্দেশ দেবে?

মুহিউদ্দীন খান

তাছাড়া তোমাদেরকে একথা বলাও সম্ভব নয় যে, তোমরা ফেরেশতা ও নবীগনকে নিজেদের পালনকর্তা সাব্যস্ত করে নাও। তোমাদের মুসলমান হবার পর তারা কি তোমাদেরকে শেখাবে?

Word by word

وَلَا يَأْمُرَكُمْ أَن تَتَّخِذُوا۟ ٱلْمَلَٰٓئِكَةَ وَٱلنَّبِيِّۦنَ أَرْبَابًا أَيَأْمُرُكُم بِٱلْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, যখন ‌ নবীদের অঙ্গীকার লইয়াছিলেন যে, তোমাদেরকে কিতাব ও হিক্‌মত যাহা কিছু দিয়াছি, অতঃপর তোমাদের কাছে যাহা আছে তাহার প্রত্যায়নকারীরূপে যখন একজন রাসূল আসিবে তখন তোমরা অবশ্যই তাহার প্রতি ঈমান আনিবে এবং তাহাকে সাহায্য করিবে।’ তিনি বলিবেন, ‘তোমরা কি স্বীকার করিলে ? এবং এই সম্পর্কে আমার অঙ্গীকার কি তোমরা গ্রহণ করিলে ?’ তাহারা বলিল, ‘আমরা স্বীকার করিলাম।’ তিনি বলিলেন, ‘তবে তোমরা সাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সঙ্গে সাক্ষী রহিলাম।’

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, একথার উপর নবীদের অংগীকার নিয়েছিলেন যে: আমি তোমাদের যে কিতাব ও হিকমাহ্ দিয়েছি তোমরা তা গ্রহণ করো, তারপর তোমাদের কাছে একজন রসূল (মুহাম্মদ) আসবে, তোমাদের সাথে যা আছে তার সত্যায়নকারী হিসেবে, তখন তোমরা অবশ্যি তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে।’তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ‘তোমরা কি স্বীকার করলে? এবং এ ব্যাপারে আমার প্রতিশ্রুতি কি গ্রহণ করলে?’ তারা বলেছিল: ‘আমরা স্বীকার করলাম।’ তিনি বললেন: ‘তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী থাকলাম।’

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন নবীগনের কাছ থেকে অস্বীকার গ্রহন করলেন যে, আমি যা কিছু তোমাদের দান করেছি কিতাব ও জ্ঞান এবং অতঃপর তোমাদের নিকট কোন রসূল আসেন তোমাদের কিতাবকে সত্য বলে দেয়ার জন্য, তখন সে রসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তার সাহায্য করবে। তিনি বললেন, ‘তোমার কি অঙ্গীকার করছো এবং এই শর্তে আমার ওয়াদা গ্রহণ করে নিয়েছ? তারা বললো, ‘আমরা অঙ্গীকার করেছি’। তিনি বললেন, তাহলে এবার সাক্ষী থাক। আর আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম।

Word by word

وَإِذْ أَخَذَ ٱللَّهُ مِيثَٰقَ ٱلنَّبِيِّۦنَ لَمَآ ءَاتَيْتُكُم مِّن كِتَٰبٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَآءَكُمْ رَسُولٌ مُّصَدِّقٌ لِّمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِۦ وَلَتَنصُرُنَّهُۥ قَالَ ءَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহার পর যাহারা মুখ ফিরাইবে তাহারাই সত্যপথত্যাগী।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরপর যারা (প্রতিশ্রুতি থেকে) সরে যাবে, তারা ফাসিক (সত্যত্যাগী) বলে গণ্য হবে।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যে লোক এই ওয়াদা থেকে ফিরে দাঁড়াবে, সেই হবে নাফরমান।

Word by word

فَمَن تَوَلَّىٰ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْفَٰسِقُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা কি চাহে ‌র দীনের পরিবর্তে অন্য দীন ? যখন আকাশে ও পৃথিবীতে যাহা কিছু রহিয়াছে সমস্তই স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় তাঁহার নিকট আত্মসমর্পণ করিয়াছে ! আর তাঁহার দিকেই তাহারা প্রত্যানীত হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি আল্লাহর দীনের পরিবর্তে অন্য দীন সন্ধান করছে? অথচ মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যারাই আছে সবাই ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায় তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণ করেছে। আর তাদের ফেরত নেয়া হবে তাঁরই কাছে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে অন্য তালাশ করছে? আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, তাঁরই অনুগত হবে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে।

Word by word

أَفَغَيْرَ دِينِ ٱللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُۥٓ أَسْلَمَ مَن فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘আমরা ‌তে এবং আমাদের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে এবং ইব্‌রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়া‘কূব ও তাহার বংশধরগণের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছিল এবং যাহা মূসা, ‘ঈসা ও অন্যান্য নবীকে তাহাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে যাহা প্রদান করা হইয়াছে তাহাতে ঈমান আনিয়াছি, আমরা তাহাদের মধ্যে কোন তারতম্য করি না এবং আমরা তাঁহারই নিকট আত্মসমর্পণকারী।’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী বলো: ‘‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি, আমাদের প্রতি যা (যে কিতাব) নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি এবং যা নাযিল করা হয়েছে ইবরাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার বংশধরদের কাছে তার প্রতি, আর যা দেয়া হয়েছে মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীদেরকে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তার প্রতিও। আমরা তাদের কারো মধ্যে কোনো প্রকার পার্থক্য করিনা। আমরা আল্লাহর প্রতি মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী)।’’

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের উপর, ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তাঁদের সন্তানবর্গের উপর আর যা কিছু পেয়েছেন মূসা ও ঈসা এবং অন্যান্য নবী রসূলগণ তাঁদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আমরা তাঁদের কারো মধ্যে পার্থক্য করি না। আর আমরা তাঁরই অনুগত।

Word by word

قُلْ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَمَآ أُنزِلَ عَلَيْنَا وَمَآ أُنزِلَ عَلَىٰٓ إِبْرَٰهِيمَ وَإِسْمَٰعِيلَ وَإِسْحَٰقَ وَيَعْقُوبَ وَٱلْأَسْبَاطِ وَمَآ أُوتِىَ مُوسَىٰ وَعِيسَىٰ وَٱلنَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمْ لَا نُف

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কেহ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দীন গ্রহণ করিতে চাহিলে তাহা কখনও কবূল করা হইবে না এবং সে হইবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কেউ ইসলাম ছাড়া কোনো দীন (ধর্ম, মতাদর্শ) গ্রহণ করতে চাইবে, তার থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবেনা। আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন।

মুহিউদ্দীন খান

যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।

Word by word

وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ ٱلْإِسْلَٰمِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِى ٱلْءَاخِرَةِ مِنَ ٱلْخَٰسِرِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিরূপে সৎপথে পরিচালিত করিবেন সেই সম্প্রদায়কে, যাহারা ঈমান আনয়নের পর ও রাসূলকে সত্য বলিয়া সাক্ষ্যদান করিবার পর এবং তাহাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসিবার পর করে? সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

কেমন করে এমন লোকদের হিদায়াত করবেন, যারা ঈমান আনার পর, আল্লাহর রসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ার পর এবং তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শনাদি আসার পরও কুফুরিতে নিমজ্জিত থাকে? যালিম লোকদের হিদায়াত করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

কেমন করে এমন জাতিকে হেদায়েত দান করবেন, যারা ঈমান আনার পর এবং রসূলকে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ার পর এবং তাদের নিকট প্রমাণ এসে যাওয়ার পর হয়েছে। আর জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করেন না।

Word by word

كَيْفَ يَهْدِى ٱللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا۟ بَعْدَ إِيمَٰنِهِمْ وَشَهِدُوٓا۟ أَنَّ ٱلرَّسُولَ حَقٌّ وَجَآءَهُمُ ٱلْبَيِّنَٰتُ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلظَّٰلِمِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহারাই তাহারা যাহাদের কর্মফল এই যে, তাহাদের উপর ‌র, ফিরিশতাগণের এবং মানুষ সকলেরই লা‘নত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আসলে এরা হলো সেইসব লোক যাদের উপর আল্লাহর, ফেরেশতাদের এবং সমস্ত মানুষের লা’নত বর্ষিত হচ্ছে, এটাই তাদের কর্মের পরিণাম ফল।

মুহিউদ্দীন খান

এমন লোকের শাস্তি হলো , ফেরেশতাগণ এবং মানুষ সকলেরই অভিসম্পাত।

Word by word

أُو۟لَٰٓئِكَ جَزَآؤُهُمْ أَنَّ عَلَيْهِمْ لَعْنَةَ ٱللَّهِ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةِ وَٱلنَّاسِ أَجْمَعِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা ইহাতে স্থায়ী হইবে, তাহাদের শাস্তি লঘু করা হইবে না এবং তাহাদেরকে অবকাশও দেওয়া হইবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

চিরকাল থাকবে তারা এরি মধ্যে, তাদের উপর থেকে আযাব হালকা করা হবেনা এবং তাদেরকে কোনো বিরতিও দেয়া হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

সর্বক্ষণই তারা তাতে থাকবে। তাদের আযাব হালকাও হবে না এবং তার এত অবকাশও পাবে না।

Word by word

خَٰلِدِينَ فِيهَا لَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ ٱلْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُنظَرُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে ইহার পর যাহারা তওবা করে ও নিজেদেরকে সংশোধন করিয়া নেয় তাহারা ব্যতিরেকে। নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে, এরপরও যারা তাওবা করবে এবং নিজেদের ইসলাহ (সংশোধন) করে নেবে, তারা জেনে রাখুক, নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল পরম দয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু যারা অতঃপর তওবা করে নেবে এবং সৎকাজ করবে তারা ব্যতীত, নিশ্চয় ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালূ।

Word by word

إِلَّا ٱلَّذِينَ تَابُوا۟ مِنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ وَأَصْلَحُوا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ঈমান আনার পর যাহারা করে এবং যাহাদের সত্য প্রত্যাখ্যান - প্রবৃত্তি বৃদ্ধি পাইতে থাকে তাহাদের তওবা কখনও কবূল হইবে না। ইহারাই পথভ্রষ্ট।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু, যারা ঈমান আনার পর কুফুরিতে লিপ্ত হয়, তারপর তাদের কুফুরি বৃদ্ধি পেতে থাকে, তাদের তওবা কখনো কবুল করা হবেনা। তারা চরম বিপথগামী।

মুহিউদ্দীন খান

যারা ঈমান আনার পর অস্বীকার করেছে এবং অস্বীকৃতিতে বৃদ্ধি ঘটেছে, কস্মিণকালেও তাদের তওবা কবুল করা হবে না। আর তারা হলো গোমরাহ।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بَعْدَ إِيمَٰنِهِمْ ثُمَّ ٱزْدَادُوا۟ كُفْرًا لَّن تُقْبَلَ تَوْبَتُهُمْ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلضَّآلُّونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা করে এবং কাফিররূপে যাহাদের মৃত্যু ঘটে তাহাদের কাহারও নিকট হইতে পৃথিবীপূর্ণ স্বর্ণ বিনিময়স্বরূপ প্রদান করিলেও তাহা কখনও কবূল করা হইবে না। ইহারাই তাহারা যাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে ; ইহাদের কোন সাহায্যকারী নাই।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কুফুরি করে এবং অবস্থায়ই তাদের মৃত্যু হয়, কিছুতেই তাদের কারো (তওবা) কবুল করা হবেনা, এর বিনিময়ে পূর্ণ পৃথিবী সমান সোনা মুক্তিপণ হিসেবে দিলেও নয়। এদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব এবং তাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

যদি সারা পৃথিবী পরিমাণ স্বর্ণও তার পরিবর্তে দেয়া হয়, তবুও যারা হয়েছে এবং অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে তাদের তওবা কবুল করা হবে না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব! পক্ষান্তরে তাদের কোনই সাহায্যকারী নেই।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَمَاتُوا۟ وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَن يُقْبَلَ مِنْ أَحَدِهِم مِّلْءُ ٱلْأَرْضِ ذَهَبًا وَلَوِ ٱفْتَدَىٰ بِهِۦٓ أُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ وَمَا لَهُم مِّن نَّٰصِرِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা যাহা ভালবাস তাহা হইতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনও পুণ্য লাভ করিবে না। তোমরা যাহা কিছু ব্যয় কর ‌ অবশ্যই সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের ভালোবাসার সম্পদ থেকে ব্যয় (দান) না করলে তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করবেনা। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় করো সে বিষয়ে বিশেষভাবে অবহিত।

মুহিউদ্দীন খান

কস্মিণকালেও কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যদি তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে তোমরা ব্যয় না কর। আর তোমরা যদি কিছু ব্যয় করবে তা জানেন।

Word by word

لَن تَنَالُوا۟ ٱلْبِرَّ حَتَّىٰ تُنفِقُوا۟ مِمَّا تُحِبُّونَ وَمَا تُنفِقُوا۟ مِن شَىْءٍ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ইসরাঈল নিজের জন্য যাহা হারাম করিয়াছিল তাহা ব্যতীত বনী ইস্‌রাঈলের জন্য যাবতীয় খাদ্যই হালাল ছিল। বল, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তাওরাত আন এবং পাঠ কর।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাওরাত নাযিল হওয়ার আগে বনি ইসরাঈলের জন্যে প্রতিটি খাবারই হালাল ছিলো, তবে ইসরাঈল (ইয়াকুব) নিজের জন্যে যা হারাম করে নিয়েছিল সেটা ভিন্ন বিষয়। (হে নবী!) বলো: ‘তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা তিলাওয়াত করে দেখো।’

মুহিউদ্দীন খান

তওরাত নাযিল হওয়ার পূর্বে ইয়াকুব যেগুলো নিজেদের জন্য হারাম করে নিয়েছিলেন, সেগুলো ব্যতীত সমস্ত আহার্য বস্তুই বনী - ইসরায়ীলদের জন্য হালাল ছিল। তুমি বলে দাও, তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাক। তাহলে তওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ কর।

Word by word

كُلُّ ٱلطَّعَامِ كَانَ حِلًّا لِّبَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ إِلَّا مَا حَرَّمَ إِسْرَٰٓءِيلُ عَلَىٰ نَفْسِهِۦ مِن قَبْلِ أَن تُنَزَّلَ ٱلتَّوْرَىٰةُ قُلْ فَأْتُوا۟ بِٱلتَّوْرَىٰةِ فَٱتْلُوهَآ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহার পরও যাহারা ‌ সম্পর্কে মিথ্যা সৃষ্টি করে তাহরাই ।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর পরও যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করবে, তারা যালিম।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আল্লাহর প্রতি যারা মিথ্যা আরোপ করেছে, তারাই যালেম সীমালংঘনকারী।

Word by word

فَمَنِ ٱفْتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ ٱلْكَذِبَ مِنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘ সত্য বলিয়াছেন। সুতরাং তোমরা একনিষ্ঠ ইব্‌রাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর, সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নহে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: সত্য বলেছেন, সুতরাং তোমরা নিষ্ঠাবান ইবরাহিমের মিল্লাতের অনুসরণ করো। সে মুশরিক ছিলনা।

মুহিউদ্দীন খান

বল, ‘ সত্য বলেছেন। এখন সবাই ইব্রাহীমের ধর্মের অনুগত হয়ে যাও, যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ ভাবে সত্যধর্মের অনুসারী। তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।

Word by word

قُلْ صَدَقَ ٱللَّهُ فَٱتَّبِعُوا۟ مِلَّةَ إِبْرَٰهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে গৃহ প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল তাহা তো বাক্কায়, উহা বরকতময় ও বিশ্বজগতের দিশারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

জেনে রাখো, মানবজাতির জন্যে প্রথম যে ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটি বাক্কায় (মক্কায়)। সেটি একটি মুবারক (কল্যাণময়) ঘর এবং বিশ্ববাসীর জন্যে দিশারি।

মুহিউদ্দীন খান

নিঃসন্দেহে সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্যে নির্ধারিত হয়েছে, সেটাই হচ্ছে এ ঘর, যা মক্কায় অবস্থিত এবং সারা জাহানের মানুষের জন্য হেদায়েত ও বরকতময়।

Word by word

إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِى بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِّلْعَٰلَمِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে, যেমন মাকামে ইব্‌রাহীম। আর যে কেহ সেখানে প্রবেশ করে সে নিরাপদ। মানুষের মধ্যে যাহার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, ‌র উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ্জ করা তাহার অবশ্যকর্তব্য। এবং কেহ প্রত্যাখ্যান করিলে সে জানিয়া রাখুক, নিশ্চয়ই বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাতে রয়েছে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন। তম্মধ্যে একটি হলো ‘মাকামে ইবরাহিম।’ যে কেউ সে ঘরে দাখিল হবে সে নিরাপদ। যে কোনো ব্যক্তির (পথ পাড়ি দিয়ে) সেখানে পৌঁছার সামর্থ আছে, সে ঘরে আল্লাহর জন্যে হজ্জ করা তার কর্তব্য। আর যে অস্বীকার করবে, সে জেনে রাখুক, বিশ্ববাসী থেকে মুখাপেক্ষাহীন।

মুহিউদ্দীন খান

এতে রয়েছে মকামে ইব্রাহীমের মত প্রকৃষ্ট নিদর্শন। আর যে, লোক এর ভেতরে প্রবেশ করেছে, সে নিরাপত্তা লাভ করেছে। আর এ ঘরের হজ্ব করা হলো মানুষের উপর আল্লাহর প্রাপ্য; যে লোকের সামর্থ্য রয়েছে এ পর্যন্ত পৌছার। আর যে লোক তা মানে না। সারা বিশ্বের কোন কিছুরই পরোয়া করেন না।

Word by word

فِيهِ ءَايَٰتٌۢ بَيِّنَٰتٌ مَّقَامُ إِبْرَٰهِيمَ وَمَن دَخَلَهُۥ كَانَ ءَامِنًا وَلِلَّهِ عَلَى ٱلنَّاسِ حِجُّ ٱلْبَيْتِ مَنِ ٱسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَنِىٌّ عَنِ ٱلْعَٰلَمِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘হে কিতাবীগণ ! তোমরা ‌র নিদর্শনকে কেন প্রত্যাখ্যান কর ? তোমরা যাহা কর উহার সাক্ষী’।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী!) বলো: ‘হে আহলে কিতাব! তোমরা কেন কুফুরি করছো আল্লাহর নিদর্শনের প্রতি? অথচ তোমাদের কর্মকান্ডের সাক্ষী।’

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, হে আহলে কিতাবগণ, কেন তোমরা আল্লাহর কিতাব অমান্য করছো, অথচ তোমরা যা কিছু কর, তা আল্লাহর সামনেই রয়েছে।

Word by word

قُلْ يَٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَٰبِ لِمَ تَكْفُرُونَ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ وَٱللَّهُ شَهِيدٌ عَلَىٰ مَا تَعْمَلُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘হে কিতাবীগণ ! যে ব্যক্তি ঈমান আনিয়াছে তাহাকে কেন ‌র পথে বাধা দিতেছ, উহাতে বক্রতা অন্বেষণ করিয়া ? অথচ তোমরা সাক্ষী। তোমরা যাহা কর, সে সম্বন্ধে অনবহিত নন।’

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী!) বলো: ‘হে আহলে কিতাব! তোমরা বক্রতা সন্ধান করে কেন ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিচ্ছো, যে ঈমান এনেছে? অথচ তোমরা (তার সত্যতার) সাক্ষী। তোমাদের কর্মকান্ড থেকে গাফিল নন।

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! কেন তোমরা আল্লাহর পথে ঈমানদারদিগকে বাধা দান কর - তোমরা তাদের দ্বীনের মধ্যে বক্রতা অনুপ্রবেশ করানোর পন্থা অনুসন্ধান কর, অথচ তোমরা এ পথের সত্যতা প্রত্যক্ষ করছ। বস্তুতঃ তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনবগত নন।

Word by word

قُلْ يَٰٓأَهْلَ ٱلْكِتَٰبِ لِمَ تَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ مَنْ ءَامَنَ تَبْغُونَهَا عِوَجًا وَأَنتُمْ شُهَدَآءُ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ ! যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে, তোমরা যদি তাহাদের দলবিশেষের আনুগত্য কর, তবে তাহারা তোমাদেরকে ঈমান আনার পর আবার বানাইয়া ছাড়িবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! যাদের ইতোপূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল তোমরা যদি তাদের একটি দলেরও আনুগত্য করো, তারা তোমাদের ঈমানের পথ থেকে বিচ্যুত করে বানিয়ে ছাড়বে।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি আহলে কিতাবদের কোন ফেরকার কথা মান, তাহলে ঈমান আনার পর তারা তোমাদিগকে কাফেরে পরিণত করে দেবে।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِن تُطِيعُوا۟ فَرِيقًا مِّنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ يَرُدُّوكُم بَعْدَ إِيمَٰنِكُمْ كَٰفِرِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিরূপে তোমরা সত্য প্রত্যাখ্যান করিবে যখন ‌র আয়াতসমূহ তোমাদের নিকট পঠিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে তাঁহার রাসূল রহিয়াছে ? কেহ ‌কে দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করিলে সে অবশ্যই সরল পথে পরিচালিত হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

কী করে তোমরা কুফুরিতে নিমজ্জিত হতে পারো, যখন তোমাদের প্রতি আল্লাহর আয়াত তিলাওয়াত করা হচ্ছে এবং তোমাদের মাঝে বর্তমান রয়েছে আল্লাহর রসূল? যে শক্ত করে ধরবে আল্লাহকে, তাকে অবশ্যি পরিচালিত করা হবে সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা কেমন করে হতে পার, অথচ তোমাদের সামনে পাঠ করা হয় আল্লাহর আয়াত সমূহ এবং তোমাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লাহর রসূল। আর যারা আল্লাহর কথা দৃঢ়ভাবে ধরবে, তারা হেদায়েত প্রাপ্ত হবে সরল পথের।

Word by word

وَكَيْفَ تَكْفُرُونَ وَأَنتُمْ تُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ ءَايَٰتُ ٱللَّهِ وَفِيكُمْ رَسُولُهُۥ وَمَن يَعْتَصِم بِٱللَّهِ فَقَدْ هُدِىَ إِلَىٰ صِرَٰطٍ مُّسْتَقِيمٍ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমরা ‌কে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা আত্মসমর্পণকারী না হইয়া কোন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিও না।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ঐসব লোক যারা ঈমান এনেছো! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তাঁকে ভয় করার হক আদায় করে এবং মুসলিম (আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে মরোনা।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা সকলে ‌র রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইও না। তোমাদের প্রতি ‌র অনুগ্রহ স্মরণ কর : তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু এবং তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করেন, ফলে তাঁহার অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হইয়া গেলে। তোমরা তো অগ্নিকুণ্ডের প্রান্তে ছিলে, উহা হইতে তোমাদের রক্ষা করিয়াছেন। এইরূপে তোমাদের জন্য তাঁহার নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃত করেন যাহাতে তোমরা সৎপথ পাইতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা সবাই মিলে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো আল্লাহর রজ্জুকে (কুরআনকে) এবং বিচ্ছিন্ন - ভাগ ভাগ হয়ে থেকোনা। স্মরণ করো তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিয়ামতের কথা! তোমরা ছিলে পরস্পরের দুশমন, আর তিনিই তোমাদের অন্তরে তোমাদের পরস্পরের জন্যে সম্প্রীতি সঞ্চার করে দিয়েছেন। ফলে তোমরা তাঁরই অনুগ্রহে পরস্পরের ভাই হয়ে গিয়েছো। (আরো স্মরণ করো,) তোমরা ছিলে অগ্নিকুন্ডের কিনারে, তারপর সেখান থেকেও তিনিই তোমাদের রক্ষা করেছেন। এভাবেই তোমাদের জন্যে বয়ান করেন তাঁর আয়াত, যাতে করে তোমরা পরিচালিত হও হিদায়াতের পথে।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদিগকে দান করেছেন। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে। অতঃপর তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ। তোমরা এক অগ্নিকুন্ডের পাড়ে অবস্থান করছিলে। অতঃপর তা থেকে তিনি তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। এভাবেই নিজের নিদর্শনসমুহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হতে পার।

Word by word

وَٱعْتَصِمُوا۟ بِحَبْلِ ٱللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا۟ وَٱذْكُرُوا۟ نِعْمَتَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَآءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِۦٓ إِخْوَٰنًا وَكُنتُمْ عَلَىٰ شَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের মধ্যে এমন একদল হউক যাহারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করিবে এবং সৎকর্মের নির্দেশ দিবে ও অসৎকর্মে নিষেধ করিবে; ইহারাই ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের মধ্যে অবশ্যি এমন একদল লোক থাকা উচিত, যারা (মানুষকে) আহবান করবে কল্যাণের দিকে, নির্দেশ দেবে ভালো কাজের এবং নিষেধ করবে মন্দ কাজ থেকে। আর তারাই হবে ।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা আহবান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো ।

Word by word

وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى ٱلْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِٱلْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা তাহাদের মত হইও না যাহারা তাহাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আসিবার পর বিচ্ছিন্ন হইয়াছে ও নিজেদের মধ্যে মতান্তর সৃষ্টি করিয়াছে। তাহাদের জন্য মহাশাস্তি রহিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ওদের মতো হয়োনা, যাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পরও তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল এবং লিপ্ত হয়েছিল ইখতিলাফে। এরা হলো সেইসব লোক যাদের জন্যে রয়েছে বিরাট আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের মত হয়ো না, যারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং নিদর্শন সমূহ আসার পরও বিরোধিতা করতে শুরু করেছে - তাদের জন্যে রয়েছে ভয়ঙ্কর আযাব।

Word by word

وَلَا تَكُونُوا۟ كَٱلَّذِينَ تَفَرَّقُوا۟ وَٱخْتَلَفُوا۟ مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَهُمُ ٱلْبَيِّنَٰتُ وَأُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেদিন কতক মুখ উজ্জ্বল হইবে এবং কতক মুখ কাল হইবে; যাহাদের মুখ কাল হইবে তাহাদেরকে বলা হইবে, ‘ঈমান আনয়নের পর কি তোমরা করিয়াছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তি ভোগ কর, যেহেতু তোমরা করিতে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন কিছু চেহারা হবে উজ্জ্বল আর কিছু চেহারা হবে কালো। যাদের চেহারা হবে কালো, তাদের বলা হবে: ‘তোমরা কি ঈমান আনার পর কুফুরিতে লিপ্ত হয়েছিলে? সুতরাং তোমাদের কুফুরির কারণে স্বাদ গ্রহণ করো আযাবের।’

মুহিউদ্দীন খান

সেদিন কোন কোন মুখ উজ্জ্বল হবে, আর কোন কোন মুখ হবে কালো। বস্তুতঃ যাদের মুখ কালো হবে, তাদের বলা হবে, তোমরা কি ঈমান আনার পর হয়ে গিয়েছিলে? এবার সে কুফরীর বিনিময়ে আযাবের আস্বাদ গ্রহণ কর।

Word by word

يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ فَأَمَّا ٱلَّذِينَ ٱسْوَدَّتْ وُجُوهُهُمْ أَكَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَٰنِكُمْ فَذُوقُوا۟ ٱلْعَذَابَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যাহাদের মুখ উজ্জ্বল হইবে তাহারা ‌র অনুগ্রহে থাকিবে, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

পক্ষান্তরে যাদের চেহারা হবে উজ্জ্বল, তারা থাকবে আল্লাহর রহমতের (জান্নাতের) মধ্যে। সেখানে থাকবে তারা চির

মুহিউদ্দীন খান

আর যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা থাকবে রহমতের মাঝে। তাতে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।

Word by word

وَأَمَّا ٱلَّذِينَ ٱبْيَضَّتْ وُجُوهُهُمْ فَفِى رَحْمَةِ ٱللَّهِ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইগুলি ‌র আয়াত, তোমার নিকট যথাযথভাবে তিলাওয়াত করিতেছি। বিশ্বজগতের প্রতি জুলুম করিতে চান না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলো আল্লাহর আয়াত, আমরা তোমার প্রতি তিলাওয়াত করছি, যা মহাসত্য। বিশ্ববাসীর প্রতি যুলুম করতে চান না।

মুহিউদ্দীন খান

এগুলো হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ, যা তোমাদিগকে যথাযথ পাঠ করে শুনানো হচ্ছে। আর বিশ্ব জাহানের প্রতি উৎপীড়ন করতে চান না।

Word by word

تِلْكَ ءَايَٰتُ ٱللَّهِ نَتْلُوهَا عَلَيْكَ بِٱلْحَقِّ وَمَا ٱللَّهُ يُرِيدُ ظُلْمًا لِّلْعَٰلَمِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আসমানে যাহা কিছু আছে ও যমীনে যাহা কিছু আছে সব ‌রই; ‌র নিকটই সব কিছু প্রত্যানীত হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর, আর আল্লাহর কাছেই ফিরে যাবে সব বিষয়।

মুহিউদ্দীন খান

আর যা কিছু আসমান ও যমীনে রয়েছে সে সবই আল্লাহর এবং আল্লাহর প্রতিই সব কিছু প্রত্যাবর্তনশীল।

Word by word

وَلِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرْجَعُ ٱلْأُمُورُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হইয়াছে; তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান কর, অসৎকাজে নিষেধ কর এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস কর। কিতাবীগণ যদি ঈমান আনিত তবে তাহাদের জন্য ভাল হইত। তাহাদের মধ্যে কিছুসংখ্যক আছে; কিন্তু তাহাদের অধিকাংশ সত্যত্যাগী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে মানবজাতির (কল্যাণের) উদ্দেশ্যে। (তোমাদের দায়িত্ব হলো:) তোমরা ভালো কাজের আদেশ করবে, মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা রাখবে। আহলে কিতাব যদি ঈমান আনে তবে সেটা হবে তাদের জন্যে কল্যাণকর। তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক আছে বটে, তবে তাদের অধিকাংশই ফাসিক (সত্য বিচ্যুত, সীমালংঘনকারী)।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যানের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। আর আহলে - কিতাবরা যদি ঈমান আনতো, তাহলে তা তাদের জন্য মঙ্গলকর হতো। তাদের মধ্যে কিছু তো রয়েছে আর অধিকাংশই হলো পাপাচারী।

Word by word

كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِٱلْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَلَوْ ءَامَنَ أَهْلُ ٱلْكِتَٰبِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُم مِّنْهُمُ ٱلْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সামান্য ক্লেশ দেওয়া ছাড়া তাহারা তোমাদের কোন ক্ষতি করিতে পারিবে না। যদি তাহারা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে তবে তাহারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করিবে; অতঃপর তাহারা সাহায্যপ্রাপ্ত হইবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কখনো তোমাদের ক্ষতি করতে পারবেনা, তবে (সাময়িক) কিছু কষ্ট দিতে পারবে মাত্র। তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলে পিছে ফিরে পালাবে। তারপর তারা আর সাহায্য লাভ করবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

যৎসামান্য কষ্ট দেয়া ছাড়া তারা তোমাদের কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি তারা তোমাদের সাথে লড়াই করে, তাহলে তারা পশ্চাদপসরণ করবে। অতঃপর তাদের সাহায্য করা হবে না।

Word by word

لَن يَضُرُّوكُمْ إِلَّآ أَذًى وَإِن يُقَٰتِلُوكُمْ يُوَلُّوكُمُ ٱلْأَدْبَارَ ثُمَّ لَا يُنصَرُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌র প্রতিশ্রুতি ও মানুষের প্রতিশ্রুতির বাহিরে যেখানেই তাহাদের পাওয়া গিয়াছে সেখানেই তাহারা লাঞ্ছিত হইয়াছে। তাহারা ‌র ক্রোধের পাত্র হইয়াছে এবং হীনতাগ্রস্ত হইয়াছে। ইহা এইহেতু যে, তাহারা ‌র আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করিত এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করিত; ইহা এইজন্য যে, তাহারা অবাধ্য হইয়াছিল এবং সীমালংঘন করিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর প্রতিশ্রুতির বাইরে এবং মানুষের প্রতিশ্রুতির বাইরে যেখানেই তাদের পাওয়া গেছে, তারা লাঞ্ছিত হয়েছে। তারা আল্লাহর গজব কামাই করেছে এবং তাদের গ্রাস করেছে হীনতা ও দীনতা। এর কারণ তারা আল্লাহর আয়াতের প্রতি কুফুরি করে আসছিল এবং হত্যা করে আসছিল আল্লাহর নবীদের না হকভাবে। তাছাড়া তারা অবাধ্যতার পথ অবলম্বন করছিল এবং সীমালংঘন করে আসছিল।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর প্রতিশ্রুতি কিংবা মানুষের প্রতিশ্রুতি ব্যতিত ওরা যেখানেই অবস্থান করেছে সেখানেই তাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। আর ওরা উপার্জন করেছে আল্লাহর গযব। ওদের উপর চাপানো হয়েছে গলগ্রহতা। তা এজন্যে যে, ওরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অনবরত অস্বীকার করেছে এবং নবীগনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে। তার কারণ, ওরা নাফরমানী করেছে এবং সীমা লংঘন করেছে।

Word by word

ضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ ٱلذِّلَّةُ أَيْنَ مَا ثُقِفُوٓا۟ إِلَّا بِحَبْلٍ مِّنَ ٱللَّهِ وَحَبْلٍ مِّنَ ٱلنَّاسِ وَبَآءُو بِغَضَبٍ مِّنَ ٱللَّهِ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ ٱلْمَسْكَنَةُ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُوا۟ يَكْ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা সকলে এক রকম নয়। কিতাবীদের মধ্যে অবিচলিত একদল আছে ; তাহারা রাত্রিকালে ‌র আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং সিজ্‌দা করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের সবার অবস্থা এক রকম নয়। আহলে কিতাবদের মধ্যে একদল লোক (সত্যের উপর) কায়েম আছে, যারা রাতে আল্লাহর আয়াত তিলাওয়াত করে এবং সাজদারত থাকে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা সবাই সমান নয়। আহলে কিতাবদের মধ্যে কিছু লোক এমনও আছে যারা অবিচলভাবে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করে এবং রাতের গভীরে তারা সেজদা করে।

Word by word

لَيْسُوا۟ سَوَآءً مِّنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ أُمَّةٌ قَآئِمَةٌ يَتْلُونَ ءَايَٰتِ ٱللَّهِ ءَانَآءَ ٱلَّيْلِ وَهُمْ يَسْجُدُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা এবং শেষ দিনে বিশ্বাস করে, সৎকাজের নির্দেশ দেয়, অসৎকাজে নিষেধ করে এবং তাহারা কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করে। তাহারাই সজ্জনদের অন্তর্ভুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা ঈমান রাখে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং তারা ভালো কাজের আদেশ করে, মন্দ কাজ থেকে বারণ করে এবং মানব কল্যাণে তৎপর থাকে। এরা সালেহ্ লোকদের অন্তরভুক্ত।

মুহিউদ্দীন খান

তারা আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে এবং কল্যাণকর বিষয়ের নির্দেশ দেয়; অকল্যাণ থেকে বারণ করে এবং সৎকাজের জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করতে থাকে। আর এরাই হল সৎকর্মশীল।

Word by word

يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَيَأْمُرُونَ بِٱلْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَيُسَٰرِعُونَ فِى ٱلْخَيْرَٰتِ وَأُو۟لَٰٓئِكَ مِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উত্তম কাজের যাহা কিছু তাহারা করে তাহা হইতে তাহাদের কখনও বঞ্চিত করা হইবে না। মুত্তাকীদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা ভালো কাজ যা কিছুই করে তার প্রতিদান থেকে তাদের কখনো বঞ্চিত করা হবেনা। মুত্তাকিদের ব্যাপারে ভালোভাবে জানেন।

মুহিউদ্দীন খান

তারা যেসব সৎকাজ করবে, কোন অবস্থাতেই সেগুলোর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হবে না। আর পরহেযগারদের বিষয়ে অবগত।

Word by word

وَمَا يَفْعَلُوا۟ مِنْ خَيْرٍ فَلَن يُكْفَرُوهُ وَٱللَّهُ عَلِيمٌۢ بِٱلْمُتَّقِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা করে তাহাদের ধনৈশ্বর্য ও সন্তান - সন্ততি ‌র নিকট কখনও কোন কাজে আসিবে না। তাহারাই দোজখবাসী, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কুফুরির পথ অবলম্বন করেছে তাদের মাল - সম্পদ এবং আওলাদ ফরযন্দ আল্লাহর কাছে (তাদের) কোনোই কাজে আসবেনা। তারা হবে আগুনের অধিবাসী, সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় যারা হয়, তাদের ধন সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি আল্লাহর সামনে কখনও কোন কাজে আসবে না। আর তারাই হলো দোযখের আগুনের অধিবাসী। তারা সে আগুনে চিরকাল থাকবে।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَن تُغْنِىَ عَنْهُمْ أَمْوَٰلُهُمْ وَلَآ أَوْلَٰدُهُم مِّنَ ٱللَّهِ شَيْـًٔا وَأُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱلنَّارِ هُمْ فِيهَا خَٰلِدُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই পার্থিব জীবনে যাহা তাহারা ব্যয় করে তাহার দৃষ্টান্ত হিমশীতল বায়ু, উহা যে জাতি নিজেদের প্রতি জুলুম করিয়াছে তাহাদের শস্যক্ষেত্রকে আঘাত করে ও বিনষ্ট করে। ‌ তাহাদের প্রতি কোন জুলুম করেন নাই, তাহারাই নিজেদের প্রতি জুলুম করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা দুনিয়ার জীবনে যা ব্যয় করে তার উপমা হলো চরম ঠান্ডা বায়ু। তা ঐ লোকদের ফসলের উপর দিয়ে বয়ে গেলো এবং তা ধ্বংস করে রেখে গেলো যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছে। তাদের প্রতি যুলুম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে।

মুহিউদ্দীন খান

এ দুনিয়ার জীবনে যা কিছু ব্যয় করা হয়, তার তুলনা হলো ঝড়ো হাওয়ার মতো, যাতে রয়েছে তুষারের শৈত্য, যা সে জাতির শস্যক্ষেত্রে গিয়ে লেগেছে যারা নিজের জন্য মন্দ করেছে। অতঃপর সেগুলোকে নিঃশেষ করে দিয়েছে। বস্তুতঃ তাদের উপর কোন অন্যায় করেননি, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের উপর অত্যাচার করছিল।

Word by word

مَثَلُ مَا يُنفِقُونَ فِى هَٰذِهِ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا كَمَثَلِ رِيحٍ فِيهَا صِرٌّ أَصَابَتْ حَرْثَ قَوْمٍ ظَلَمُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ فَأَهْلَكَتْهُ وَمَا ظَلَمَهُمُ ٱللَّهُ وَلَٰكِنْ أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ ! তোমাদের আপনজন ব্যতীত অপর কাহাকেও অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করিও না। তাহারা তোমাদের অনিষ্ট করিতে ত্রুটি করিবে না ; যাহা তোমাদের বিপন্ন করে তাহাই তাহারা কামনা করে। তাহাদের মুখে বিদ্বেষ প্রকাশ পায় এবং তাহাদের হৃদয় যাহা গোপন রাখে তাহা আরও গুরুতর। তোমাদের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বিবৃত করিয়াছি, যদি তোমরা অনুধাবন কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা নিজেদের লোক ছাড়া অন্য কাউকেও অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করোনা। তারা তোমাদের ক্ষতি করতে ত্রুটি করবেনা। তারা তাই কামনা করে যা তোমাদের কষ্ট দেয়। তাদের মুখ থেকে বিদ্বেষ প্রকাশ হয়েছে, আর তারা মনের মধ্যে যা লুকিয়ে রেখেছে তা এর চাইতেও গুরুতর। আমরা তোমাদের জন্যে আয়াত সমূহ বর্ণনা করলাম যাতে করে তোমরা বুঝতে পারো।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ! তোমরা ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না, তারা তোমাদের অমঙ্গল সাধনে কোন ক্রটি করে না - তোমরা কষ্টে থাক, তাতেই তাদের আনন্দ। শত্রুতাপ্রসুত বিদ্বেষ তাদের মুখেই ফুটে বেরোয়। আর যা কিছু তাদের মনে লুকিয়ে রয়েছে, তা আরো অনেকগুণ বেশী জঘন্য। তোমাদের জন্যে নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করে দেয়া হলো, যদি তোমরা তা অনুধাবন করতে সমর্থ হও।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَتَّخِذُوا۟ بِطَانَةً مِّن دُونِكُمْ لَا يَأْلُونَكُمْ خَبَالًا وَدُّوا۟ مَا عَنِتُّمْ قَدْ بَدَتِ ٱلْبَغْضَآءُ مِنْ أَفْوَٰهِهِمْ وَمَا تُخْفِى صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ قَد

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দেখ, তোমরাই তাহাদের ভালবাস কিন্তু তাহারা তোমাদের ভালবাসে না অথচ তোমরা সমস্ত কিতাবে ঈমান রাখ আর তাহারা যখন তোমাদের সংস্পর্শে আসে তখন বলে, ‘আমরা বিশ্বাস করি ; কিন্তু তাহারা যখন একান্তে মিলিত হয় তখন তোমাদের প্রতি আক্রোশে তাহারা নিজেদের অঙ্গুলির অগ্রভাগ দাঁতে কাটিয়া থাকে। বল, ‘তোমাদের আক্রোশেই তোমরা মর।’ অন্তরে যাহা রহিয়াছে সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

হ্যাঁ, তোমরা তাদের ভালোবাসো বটে, কিন্তু তারা তোমাদের ভালোবাসেনা। তাছাড়া তোমরা তো সবগুলো (আসমানি) কিতাবের প্রতিই ঈমান রাখো। তারা যখন তোমাদের সাথে মোলাকাত করে তখন বলে: আমরা তো ঈমান এনেছি, কিন্তু যখন তারা (নিজেরা) একান্তে মিলিত হয়, তখন তোমাদের বিরুদ্ধে আক্রোশে নিজেদের আংগুল কামড়ায়। তাদের বলো: ‘তোমাদের ক্রোধের আগুনে তোমরা জ্বলে পুড়ে মরো।’ অবশ্যি (মানুষের) মনের খবর অবহিত।

মুহিউদ্দীন খান

দেখ! তোমরাই তাদের ভালবাস, কিন্তু তারা তোমাদের প্রতি মোটেও সদভাব পোষণ করে না। আর তোমরা সমস্ত কিতাবেই বিশ্বাস কর। অথচ তারা যখন তোমাদের সাথে এসে মিশে, বলে, আমরা ঈমান এনেছি। পক্ষান্তরে তারা যখন পৃথক হয়ে যায়, তখন তোমাদের উপর রোষবশতঃ আঙ্গুল কামড়াতে থাকে। বলুন, তোমরা আক্রোশে মরতে থাক। আর মনের কথা ভালই জানেন।

Word by word

هَٰٓأَنتُمْ أُو۟لَآءِ تُحِبُّونَهُمْ وَلَا يُحِبُّونَكُمْ وَتُؤْمِنُونَ بِٱلْكِتَٰبِ كُلِّهِۦ وَإِذَا لَقُوكُمْ قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا وَإِذَا خَلَوْا۟ عَضُّوا۟ عَلَيْكُمُ ٱلْأَنَامِلَ مِنَ ٱلْغَيْظِ قُلْ مُوتُوا۟ ب

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের মঙ্গল হইলে উহা তাহাদেরকে কষ্ট দেয় আর তোমাদের অমঙ্গল হইলে তাহারা উহাতে আনন্দিত হয়। তোমরা যদি ধৈর্যশীল হও এবং হও তবে তাহাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কিছুই ক্ষতি করিতে পারিবে না। তাহারা যাহা করে নিশ্চয়ই তাহা পরিবেষ্টন করিয়া রহিয়াছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের ভালো কিছু হলে তা তাদের মনে কষ্ট দেয়, আর তোমাদের মন্দ কিছু হলে তা তাদের আনন্দিত করে। হ্যাঁ, তোমরা যদি সবর অবলম্বন করো এবং আল্লাহকে ভয় করো, তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনোই ক্ষতি করতে পারবেনা। তাদের কর্মকান্ড পরিবেষ্টন করে আছেন।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের যদি কোন মঙ্গল হয়; তাহলে তাদের খারাপ লাগে। আর তোমাদের যদি অমঙ্গল হয় তাহলে আনন্দিত হয় আর তাতে যদি তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে তাদের প্রতারণায় তোমাদের কোনই ক্ষতি হবে না। নিশ্চয়ই তারা যা কিছু করে সে সমস্তই আল্লাহর আয়ত্তে রয়েছে।

Word by word

إِن تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَإِن تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌ يَفْرَحُوا۟ بِهَا وَإِن تَصْبِرُوا۟ وَتَتَّقُوا۟ لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْـًٔا إِنَّ ٱللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, যখন তুমি তোমার পরিজনবর্গের নিকট হইতে প্রত্যূষে বাহির হইয়া যুদ্ধের জন্য মু’মিনগণকে ঘাঁটিতে বিন্যস্ত করিতেছিলে এবং সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো , তুমি ভোর বেলা তোমার পরিবার পরিজনের কাছ থেকে বের হয়ে যুদ্ধের জন্যে ঘাটিতে মুমিনদের বিন্যাস করছিলে। সব শুনেন, সব জানেন।

মুহিউদ্দীন খান

আর আপনি যখন পরিজনদের কাছ থেকে সকাল বেলা বেরিয়ে গিয়ে মুমিনগণকে যুদ্ধের অবস্থানে বিন্যস্ত করলেন, আর সব বিষয়েই শোনেন এবং জানেন।

Word by word

وَإِذْ غَدَوْتَ مِنْ أَهْلِكَ تُبَوِّئُ ٱلْمُؤْمِنِينَ مَقَٰعِدَ لِلْقِتَالِ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন তোমাদের মধ্যে দুই দলের সাহস হারাইবার উপক্রম হইয়াছিল অথচ উভয়ের বন্ধু ছিলেন, ‌র প্রতিই যেন মু’মিনগণ নির্ভর করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তোমাদের মধ্যকার দুটি উপদল সাহস হারিয়ে ফেলেছিল, অথচ তাদের অলি (অভিভাবক) ছিলেন , আর মুমিনরা তো তাওয়াক্কুল করে আল্লাহর উপরই।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তোমাদের দুটি দল সাহস হারাবার উপক্রম হলো, অথচ তাদের সাহায্যকারী ছিলেন, আর আল্লাহর উপরই ভরসা করা মুমিনদের উচিত।

Word by word

إِذْ هَمَّت طَّآئِفَتَانِ مِنكُمْ أَن تَفْشَلَا وَٱللَّهُ وَلِيُّهُمَا وَعَلَى ٱللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ ٱلْمُؤْمِنُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর বদরের যুদ্ধে যখন তোমরা হীনবল ছিলে তো তোমাদের সাহায্য করিয়াছিলেন। সুতরাং তোমরা ‌কে ভয় কর, যাহাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হইতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই তো বদর (প্রান্তরেই তো) তোমাদের সাহায্য করেছিলেন, যখন তোমরা ছিলে দুর্বল। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা শোকর আদায় করতে পারো।

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল। কাজেই আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো।

Word by word

وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ ٱللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنتُمْ أَذِلَّةٌ فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, যখন তুমি মু’মিনগণকে বলিতেছিলে, ‘ইহা কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের প্রতিপালক - প্রেরিত তিন সহস্র ফিরিশ্‌তা দ্বারা তোমাদেরকে সহায়তা করিবেন?’

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তখন তুমি মুমিনদের বলছিলে: এটা কি তোমাদের জন্যে যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের প্রভু তিন হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন?

মুহিউদ্দীন খান

আপনি যখন বলতে লাগলেন মুমিনগণকে - তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের সাহায্যার্থে তোমাদের পালনকর্তা আসমান থেকে অবতীর্ণ তিন হাজার ফেরেশতা পাঠাবেন।

Word by word

إِذْ تَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ أَلَن يَكْفِيَكُمْ أَن يُمِدَّكُمْ رَبُّكُم بِثَلَٰثَةِ ءَالَٰفٍ مِّنَ ٱلْمَلَٰٓئِكَةِ مُنزَلِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হ্যাঁ, নিশ্চয়, যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং সাবধান হইয়া চল, তবে তাহারা দ্রুতগতিতে তোমাদের উপর আক্রমণ করিলে পাঁচ সহস্র চিহ্নিত ফিরিশ্‌তা দ্বারা তোমাদের সাহায্য করিবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

হ্যাঁ, তোমরা যদি সবর করো (অটল থাকো) এবং সতর্ক থাকো, তবে তারা আকস্মিক তোমাদের উপর হামলা করলে পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন।

মুহিউদ্দীন খান

অবশ্য তোমরা যদি সবর কর এবং বিরত থাক আর তারা যদি তখনই তোমাদের উপর চড়াও হয়, তাহলে তোমাদের পালনকর্তা চিহ্নিত ঘোড়ার উপর পাঁচ হাজার ফেরেশতা তোমাদের সাহায্যে পাঠাতে পারেন।

Word by word

بَلَىٰٓ إِن تَصْبِرُوا۟ وَتَتَّقُوا۟ وَيَأْتُوكُم مِّن فَوْرِهِمْ هَٰذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُم بِخَمْسَةِ ءَالَٰفٍ مِّنَ ٱلْمَلَٰٓئِكَةِ مُسَوِّمِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা তো তোমাদের জন্য শুধু সুসংবাদ ও তোমাদের চিত্ত - প্রশান্তির জন্য করিয়াছেন এবং সাহায্য তো শুধু পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময় ‌র নিকট হইতেই হয়,

আবদুস শহীদ নাসিম

এ ব্যবস্থা করেছেন কেবল তোমাদের জন্যে সুসংবাদ হিসেবে এবং তোমাদের মনের প্রশান্তির জন্যে। সাহায্য তো কেবল মহাপরাক্রমশালী ও মহাবিজ্ঞানী আল্লাহর কাছ থেকেই আসে,

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ এটা তো তোমাদের সুসংবাদ দান করলেন, যাতে তোমাদের মনে এতে সান্ত্বনা আসতে পারে। আর সাহায্য শুধুমাত্র পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানী আল্লাহরই পক্ষ থেকে,

Word by word

وَمَا جَعَلَهُ ٱللَّهُ إِلَّا بُشْرَىٰ لَكُمْ وَلِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُكُم بِهِۦ وَمَا ٱلنَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ ٱللَّهِ ٱلْعَزِيزِ ٱلْحَكِيمِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কাফিরদের এক অংশকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য অথবা লাঞ্ছিত করার জন্য; ফলে তাহারা নিরাশ হইয়া ফিরিয়া যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফিরদের এক অংশকে নিশ্চিহ্ন কিংবা লাঞ্ছিত করার জন্যে, যাতে করে তারা নিরাশ হয়ে ফিরে যায়।

মুহিউদ্দীন খান

যাতে ধবংস করে দেন কোন কোন কাফেরকে অথবা লাঞ্ছিত করে দেন - যেন ওরা বঞ্চিত হয়ে ফিরে যায়।

Word by word

لِيَقْطَعَ طَرَفًا مِّنَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَوْ يَكْبِتَهُمْ فَيَنقَلِبُوا۟ خَآئِبِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি তাহাদের প্রতি ক্ষমাশীল হইবেন অথবা তাহাদেরকে শাস্তি দিবেন - এই বিষয়ে তোমার করণীয় কিছুই নাই ; কারণ তাহারা তো ।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ ব্যাপারে তোমার কিছুমাত্র কর্তৃত্ব নেই তাদের ক্ষমা করুন কিংবা শাস্তি প্রদান করুন, কারণ তারা যালিম।

মুহিউদ্দীন খান

হয় তাদের ক্ষমা করবেন কিংবা তাদেরকে আযাব দেবেন। এ ব্যাপারে আপনার কোন করণীয় নাই। কারণ তারা রয়েছে অন্যায়ের উপর।

Word by word

لَيْسَ لَكَ مِنَ ٱلْأَمْرِ شَىْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَٰلِمُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আসমানে যাহা কিছু আছে ও যমীনে যাহা কিছু আছে সমস্ত ‌রই। তিনি যাহাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা শাস্তি দান করেন। ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর, তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন এবং যাকে চান শাস্তি দিয়ে থাকেন। পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।

মুহিউদ্দীন খান

আর যা কিছু আসমান ও যমীনে রয়েছে, সেসবই আল্লাহর। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন, যাকে ইচ্ছা আযাব দান করবেন। আর হচ্ছেন ক্ষমাকারী, করুণাময়।

Word by word

وَلِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ يَغْفِرُ لِمَن يَشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَآءُ وَٱللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ ! তোমরা সুদ খাইও না ক্রমবর্ধমান এবং ‌কে ভয় কর যাহাতে তোমরা হইতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা সুদ খেয়োনা ক্রমবর্ধমান হারে। আল্লাহকে ভয় করো, আশা করা যায় তোমরা হবে।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণ অর্জন করতে পারো।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَأْكُلُوا۟ ٱلرِّبَوٰٓا۟ أَضْعَٰفًا مُّضَٰعَفَةً وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমরা সেই অগ্নিকে ভয় কর যাহা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হইয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ভয় করো সেই আগুনকে যা তৈরি করে রাখা হয়েছে কাফিরদের জন্যে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং তোমরা সে আগুন থেকে বেঁচে থাক, যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

Word by word

وَٱتَّقُوا۟ ٱلنَّارَ ٱلَّتِىٓ أُعِدَّتْ لِلْكَٰفِرِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা ও রাসূলের আনুগত্য কর যাহাতে তোমরা কৃপা লাভ করিতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং এই রসূলের, অবশ্যি তোমাদের রহম (অনুকম্পা) করা হবে।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা আনুগত্য কর ও রসূলের, যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয়।

Word by word

وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা ধাবমান হও স্বীয় প্রতিপালকের ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে যাহার বিস্তৃতি আসমান ও যমীনের ন্যায়, যাহা প্রস্তুত রাখা হইয়াছে মুত্তাকীদের জন্য,

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা দৌড়ে এসো তোমাদের প্রভুর ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে যার প্রশস্ততা মহাকাশ এবং পৃথিবীর মতো। তা প্রস্ত্তত রাখা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্যে,

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাও যার সীমানা হচ্ছে আসমান ও যমীন, যা তৈরী করা হয়েছে পরহেযগারদের জন্য।

Word by word

وَسَارِعُوٓا۟ إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا ٱلسَّمَٰوَٰتُ وَٱلْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে এবং যাহারা ক্রোধ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল; সৎকর্মপরায়ণদেরকে ভালবাসেন;

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ব্যয় (দান) করে সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায়, যারা রাগ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল - কোমল। আর তো কল্যাণকামীদেরই ভালোবাসেন,

মুহিউদ্দীন খান

যারা স্বচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, বস্তুতঃ সৎকর্মশীলদিগকেই ভালবাসেন।

Word by word

ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ فِى ٱلسَّرَّآءِ وَٱلضَّرَّآءِ وَٱلْكَٰظِمِينَ ٱلْغَيْظَ وَٱلْعَافِينَ عَنِ ٱلنَّاسِ وَٱللَّهُ يُحِبُّ ٱلْمُحْسِنِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যাহারা কোন অশ্লীল কাজ করিয়া ফেলিলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করিলে ‌কে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। ব্যতীত কে পাপ ক্ষমা করিবে ? এবং তাহারা যাহা করিয়া ফেলে, জানিয়া - শুনিয়া তাহার পুনরাবৃত্তি করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তারা যখনই কোনো ফাহেশা কাজ করে ফেলে, কিংবা নিজেদের প্রতি যুলুম করে বসে, সাথে সাথে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গুনাহের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আর ছাড়া কে আছে গুনাহ্ মাফ করার? এবং তারা যা করে ফেলেছে জেনে শুনে পুনরায় আর তাতে লিপ্ত হয়না।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে - শুনে তাই করতে থাকে না।

Word by word

وَٱلَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا۟ فَٰحِشَةً أَوْ ظَلَمُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا۟ ٱللَّهَ فَٱسْتَغْفَرُوا۟ لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ إِلَّا ٱللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا۟ عَلَىٰ مَا فَعَلُوا۟ وَهُمْ يَعْلَمُو

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারাই তাহারা, যাহাদের পুরস্কার তাহাদের প্রতিপালকের ক্ষমা এবং জান্নাত, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত ; সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে এবং সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কত উত্তম!

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা সেইসব লোক, যাদের পুরস্কার তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে ক্ষমা, আর সেইসব জান্নাত যেগুলোর নিচে দিয়ে জারি রয়েছে নদ নদী নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। পুণ্য আমলকারীদের পুরস্কার কতোইনা উত্তম!

মুহিউদ্দীন খান

তাদেরই জন্য প্রতিদান হলো তাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে প্রস্রবণ যেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। যারা কাজ করে তাদের জন্য কতইনা চমৎকার প্রতিদান।

Word by word

أُو۟لَٰٓئِكَ جَزَآؤُهُم مَّغْفِرَةٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَجَنَّٰتٌ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ ٱلْعَٰمِلِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের পূর্বে বহু বিধান - ব্যবস্থা গত হইয়াছে, সুতরাং তোমরা পৃথিবী ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যাশ্রয়ীদের কী পরিণাম !

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের পূর্বে বহু সুন্নত (নিয়ম পন্থা) বিগত হয়েছে। সুতরাং পৃথিবীতে ভ্রমণ করে দেখো (আল্লাহর নিয়ম বিধানকে) অস্বীকারকারীদের পরিণতি কী হয়েছে?

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের আগে অতীত হয়েছে অনেক ধরনের জীবনাচরণ। তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তাদের পরিণতি কি হয়েছে।

Word by word

قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِكُمْ سُنَنٌ فَسِيرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ فَٱنظُرُوا۟ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلْمُكَذِّبِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা মানবজাতির জন্য স্পষ্ট বর্ণনা এবং মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত ও উপদেশ।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই (কুরআন) মানবজাতির জন্যে একটি সুস্পষ্ট বার্তা এবং সতর্ক লোকদের জন্যে জীবন পদ্ধতি ও উপদেশ।

মুহিউদ্দীন খান

এই হলো মানুষের জন্য বর্ণনা। আর যারা ভয় করে তাদের জন্য উপদেশবাণী।

Word by word

هَٰذَا بَيَانٌ لِّلنَّاسِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةٌ لِّلْمُتَّقِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা হীনবল হইও না এবং দুঃখিতও হইও না ; তোমরাই বিজয়ী যদি তোমরা হও।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা দুর্বল হয়োনা এবং দুঃখ করোনা, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা হও।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা হও তবে, তোমরাই জয়ী হবে।

Word by word

وَلَا تَهِنُوا۟ وَلَا تَحْزَنُوا۟ وَأَنتُمُ ٱلْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যদি তোমাদের আঘাত লাগিয়া থাকে, অনুরূপ আঘাত তো উহাদেরও লাগিয়াছিল। মানুষের মধ্যে এই দিনগুলির পর্যায়ক্রমে আমি আবর্তন ঘটাই, যাহাতে মু’মিনগণকে জানিতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য হইতে কতককে শহীদরূপে গ্রহণ করিতে পারেন এবং জালিমদের পসন্দ করেন না ;

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি আঘাত পেয়ে থাকো, তবে অনুরূপ আঘাত তো তোমাদের (প্রতিপক্ষ) লোকেরাও পেয়েছে। মানুষের মাঝে সেই (ভালো মন্দ) দিনগুলোর আমরা আবর্তন ঘটাই, যাতে সাচ্চা ঈমানদারদের জানতে পারেন এবং তোমাদের মধ্যে থেকে কিছু লোককে শহীদ (সাক্ষী) হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। যালিমদের পছন্দ করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যদি আহত হয়ে থাক, তবে তারাও তো তেমনি আহত হয়েছে। আর এ দিনগুলোকে আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে আবর্তন ঘটিয়ে থাকি। এভাবে জানতে চান কারা আর তিনি তোমাদের কিছু লোককে শহীদ হিসাবে গ্রহণ করতে চান। আর অত্যাচারীদেরকে ভালবাসেন না।

Word by word

إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ ٱلْقَوْمَ قَرْحٌ مِّثْلُهُۥ وَتِلْكَ ٱلْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ ٱلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَيَتَّخِذَ مِنكُمْ شُهَدَآءَ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যাহাতে মু’মিনদের পরিশোধন করিতে পারেন এবং কাফিরদের নিশ্চিহ্ন করিতে পারেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর এ কারণেও যে, মুমিনদের পরিশুদ্ধ করতে চান এবং কাফিরদের চান নিশ্চিহ্ন করতে।

মুহিউদ্দীন খান

আর এ কারণে ঈমানদারদেরকে পাক - সাফ করতে চান এবং কাফেরদেরকে ধবংস করে দিতে চান।

Word by word

وَلِيُمَحِّصَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَيَمْحَقَ ٱلْكَٰفِرِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করিবে, অথচ তোমাদের মধ্যে কে জিহাদ করিয়াছে আর কে ধৈর্যশীল তাহা এখনও প্রকাশ করেন নাই?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কি মনে করে নিয়েছো যে, তোমরা জান্নাতে দাখিল হয়ে যাবে, অথচ এখনো বাস্তবে দেখে নেননি তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে আর কারা অটল অবিচল থেকেছে।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের কি ধারণা, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ এখনও দেখেননি তোমাদের মধ্যে কারা জেহাদ করেছে এবং কারা ধৈর্য্যশীল।

Word by word

أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا۟ ٱلْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ جَٰهَدُوا۟ مِنكُمْ وَيَعْلَمَ ٱلصَّٰبِرِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মৃত্যুর সম্মুখীন হওয়ার পূর্বে তোমরা তো উহা কামনা করিতে, এখন তো তোমরা তাহা স্বচক্ষে দেখিলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মউতের সাথে সাক্ষাত হবার আগেই তোমরা তা তামান্না (কামনা) করছিলে। এখন তো বাস্তবেই তা দেখে নিলে।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা তো মৃত্যু আসার আগেই মরণ কামনা করতে, কাজেই এখন তো তোমরা তা চোখের সামনে উপস্থিত দেখতে পাচ্ছ।

Word by word

وَلَقَدْ كُنتُمْ تَمَنَّوْنَ ٱلْمَوْتَ مِن قَبْلِ أَن تَلْقَوْهُ فَقَدْ رَأَيْتُمُوهُ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুহাম্মদ একজন রাসূল মাত্র ; তাহার পূর্বে বহু রাসূল গত হইয়াছে। সুতরাং যদি সে মারা যায় অথবা সে নিহত হয় তবে তোমরা কি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিবে? এবং কেহ পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিলে সে কখনও ‌র ক্ষতি করিতে পারিবে না; বরং শীঘ্রই কৃতজ্ঞদের পুরস্কৃত করিবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

মুহাম্মদ একজন রসূল ছাড়া আর কিছুই নয়, তার আগেও অনেক রসূল অতীত হয়েছে। সুতরাং সে যদি মরে যায়, কিংবা নিহত হয়, তবে কি তোমরা (ইসলাম ত্যাগ করে) পেছনে ফিরে যাবে? যে কেউ পেছনে ফিরে যাবে সে আল্লাহর কোনোই ক্ষতি করবেনা। অচিরেই শোকরগুজার লোকদের পুরস্কার প্রদান করবেন।

মুহিউদ্দীন খান

আর মুহাম্মদ একজন রসূল বৈ তো নয়! তাঁর পূর্বেও বহু রসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন। তাহলে কি তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন অথবা নিহত হন, তবে তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে? বস্তুতঃ কেউ যদি পশ্চাদপসরণ করে, তবে তাতে আল্লাহর কিছুই ক্ষতি - বৃদ্ধি হবে না। আর যারা কৃতজ্ঞ, তাদের সওয়াব দান করবেন।

Word by word

وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِ ٱلرُّسُلُ أَفَإِي۟ن مَّاتَ أَوْ قُتِلَ ٱنقَلَبْتُمْ عَلَىٰٓ أَعْقَٰبِكُمْ وَمَن يَنقَلِبْ عَلَىٰ عَقِبَيْهِ فَلَن يَضُرَّ ٱللَّهَ شَيْـًٔا وَسَيَجْزِى

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌র অনুমতি ব্যতীত কাহারও মৃত্যু হইতে পারে না, যেহেতু উহার মেয়াদ অবধারিত। কেহ পার্থিব পুরস্কার চাহিলে আমি তাহাকে তাহার কিছু দেই এবং কেহ পারলৌকিক পুরস্কার চাহিলে আমি তাহাকে তাহার কিছু দেই এবং শীঘ্রই কৃতজ্ঞদের পুরস্কৃত করিব।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিই মরতে পারেনা। কারণ মৃত্যুর সময় নির্ধারিত। যে দুনিয়ার সওয়াব (পুরস্কার) চায়, আমরা তাকে তা থেকে কিছু দিই, আর যে আখিরাতের সওয়াব চায় আমরা তাকে সেখান থেকে দেবো আর শোকরগুজারদের আমরা অচিরেই পুরস্কার প্রদান করবো।

মুহিউদ্দীন খান

আর আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মরতে পারে না - সেজন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে। বস্তুতঃ যে লোক দুনিয়ায় বিনিময় কামনা করবে, আমি তাকে তা দুনিয়াতেই দান করব। পক্ষান্তরে - যে লোক আখেরাতে বিনিময় কামনা করবে, তা থেকে আমি তাকে তাই দেবো। আর যারা কৃতজ্ঞ তাদেরকে আমি প্রতিদান দেবো

Word by word

وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَن تَمُوتَ إِلَّا بِإِذْنِ ٱللَّهِ كِتَٰبًا مُّؤَجَّلًا وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ ٱلدُّنْيَا نُؤْتِهِۦ مِنْهَا وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ ٱلْءَاخِرَةِ نُؤْتِهِۦ مِنْهَا وَسَنَجْزِى ٱلشَّٰكِرِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং কত নবী যুদ্ধ করিয়াছে, তাহাদের সঙ্গে বহু আল্লাহ্ওয়ালা ছিল। ‌র পথে তাহাদের যে বিপর্যয় ঘটিয়াছিল তাহাতে তাহারা হীনবল হয় নাই, দুর্বল হয় নাই এবং নত হয় নাই। ধৈর্যশীলদের ভালবাসেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

বহু নবী কিতাল (যুদ্ধ) করেছে, তাদের সাথে ছিলো অনেক আল্লাহওয়ালা লোক। আল্লাহর পথে তাদের যেসব বিপদ মসিবত ঘটেছিল তাতে তাদের মন ভেঙ্গে পড়েনি তারা দুর্বলতাও দেখায়নি এবং নতিও স্বীকার করেনি। আর (ঈমানের উপর) অটল অবিচল থাকা লোকদেরই ভালোবাসেন।

মুহিউদ্দীন খান

আর বহু নবী ছিলেন, যাঁদের সঙ্গী - সাথীরা তাঁদের অনুবর্তী হয়ে জেহাদ করেছে; আল্লাহর পথে - তাদের কিছু কষ্ট হয়েছে বটে, কিন্তু আল্লাহর রাহে তারা হেরেও যায়নি, ক্লান্তও হয়নি এবং দমেও যায়নি। আর যারা সবর করে, তাদেরকে ভালবাসেন।

Word by word

وَكَأَيِّن مِّن نَّبِىٍّ قَٰتَلَ مَعَهُۥ رِبِّيُّونَ كَثِيرٌ فَمَا وَهَنُوا۟ لِمَآ أَصَابَهُمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَمَا ضَعُفُوا۟ وَمَا ٱسْتَكَانُوا۟ وَٱللَّهُ يُحِبُّ ٱلصَّٰبِرِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই কথা ব্যতীত তাহাদের আর কোন কথা ছিল না, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পাপ এবং আমাদের কাজে সীমালংঘন তুমি ক্ষমা কর, আমাদের পা সুদৃঢ় রাখ এবং সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের একটিই কথা ছিলো: ‘আমাদের প্রভু! আমাদের গুনাহ্খাতা মাফ করে দাও, আমাদের কার্যক্রমের সীমালংঘন তুমি ক্ষমা করে দাও, আমাদের কদমকে মজবুত রাখো এবং কওমের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করো।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা আর কিছুই বলেনি - শুধু বলেছে, হে আমাদের পালনকর্তা! মোচন করে দাও আমাদের পাপ এবং যা কিছু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে আমাদের কাজে। আর আমাদিগকে দৃঢ় রাখ এবং কাফেরদের উপর আমাদিগকে সাহায্য কর।

Word by word

وَمَا كَانَ قَوْلَهُمْ إِلَّآ أَن قَالُوا۟ رَبَّنَا ٱغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِىٓ أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَٰفِرِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তাহাদেরকে পার্থিব পুরস্কার এবং উত্তম পারলৌকিক পুরস্কার দান করেন। সৎকর্মপরায়ণদেরকে ভালবাসেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে তাদের দান করেন দুনিয়ার সওয়াব (পুরস্কার) এবং আখিরাতের উত্তম সওয়াব। আর তো মুহ্সিন (কল্যাণকামী) লোকদেরই ভালোবাসেন।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাদেরকে দুনিয়ার সওয়াব দান করেছেন এবং যথার্থ আখেরাতের সওয়াব। আর যারা সৎকর্মশীল তাদেরকে ভালবাসেন।

Word by word

فَـَٔاتَىٰهُمُ ٱللَّهُ ثَوَابَ ٱلدُّنْيَا وَحُسْنَ ثَوَابِ ٱلْءَاخِرَةِ وَٱللَّهُ يُحِبُّ ٱلْمُحْسِنِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ ! যদি তোমরা কাফিরদের আনুগত্য কর তবে তাহারা তোমাদেরকে বিপরীত দিকে ফিরাইয়া দিবে এবং তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হইয়া পড়িবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা কাফিরদের আনুগত্য করলে তারা তোমাদের পেছনে (কুফুরিতে) ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি কাফেরদের কথা শোন, তাহলে ওরা তোমাদেরকে পেছনে ফিরিয়ে দেবে, তাতে তোমরা ক্ষতির সম্মুখীণ হয়ে পড়বে।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِن تُطِيعُوا۟ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ يَرُدُّوكُمْ عَلَىٰٓ أَعْقَٰبِكُمْ فَتَنقَلِبُوا۟ خَٰسِرِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ই তো তোমাদের অভিভাবক এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং, আল্লাহ্ই তোমাদের একমাত্র মাওলা (অভিভাবক) এবং তিনিই সর্বোত্তম সাহায্যকারী।

মুহিউদ্দীন খান

বরং তোমাদের সাহায্যকারী, আর তাঁর সাহায্যই হচ্ছে উত্তম সাহায্য।

Word by word

بَلِ ٱللَّهُ مَوْلَىٰكُمْ وَهُوَ خَيْرُ ٱلنَّٰصِرِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি কাফিরদের হৃদয়ে ভীতির সঞ্চার করিব, যেহেতু তাহারা ‌র সঙ্গে শরীক করিয়াছে, যাহার স্বপক্ষে কোন সনদ পাঠান নাই। জাহান্নাম তাহাদের আবাস; কত নিকৃষ্ট আবাসস্থল জালিমদের!

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা অচিরেই কাফিরদের মনে ভয় ও আতংক সৃষ্টি করে দেবো, কারণ তারা আল্লাহর সাথে শিরক করেছে, যার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি। আগুনই হবে তাদের আবাস। যালিমদের আবাসস্থল কতো যে নিকৃষ্ট!

মুহিউদ্দীন খান

খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো। কারণ, ওরা আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করে যে সম্পর্কে কোন সনদ অবতীর্ণ করা হয়নি। আর ওদের ঠিকানা হলো দোযখের আগুন। বস্তুতঃ জালেমদের ঠিকানা অত্যন্ত নিকৃষ্ট।

Word by word

سَنُلْقِى فِى قُلُوبِ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ ٱلرُّعْبَ بِمَآ أَشْرَكُوا۟ بِٱللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِۦ سُلْطَٰنًا وَمَأْوَىٰهُمُ ٱلنَّارُ وَبِئْسَ مَثْوَى ٱلظَّٰلِمِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের সঙ্গে তাঁহার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করিয়াছিলেন যখন তোমরা ‌র অনুমতিক্রমে তাহাদেরকে বিনাশ করিতেছিলে, যে পর্যন্ত না তোমরা সাহস হারাইলে এবং নির্দেশ সম্বন্ধে মতভেদ সৃষ্টি করিলে এবং যাহা তোমরা ভালবাস তাহা তোমাদের দেখাইবার পর তোমরা অবাধ্য হইলে। তোমাদের কতক ইহকাল চাহিতেছিল এবং কতক পরকাল চাহিতেছিল। অতঃপর তিনি পরীক্ষা করার জন্য তোমাদেরকে তাহাদের হইতে ফিরাইয়া দিলেন। অবশ্যই তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করিলেন এবং মু’মিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাঁর ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছিলেন যখন তোমরা তাঁর অনুমতিক্রমে ওদের নিপাত করছিলে - যে পর্যন্ত না তোমরা সাহস হারিয়েছিলে এবং নির্দেশ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিলে এবং যা তোমরা চাইছিলে তা তোমাদের দেখানোর পর তোমরা অবাধ্য হয়েছিলে। তোমাদের কিছুলোক দুনিয়া চাইছিল আর কিছু লোক চাইছিল । তারপর তোমাদের পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে তোমাদের ফিরিয়ে দিলেন তাদের থেকে। অবশ্য তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। মুমিনদের প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল।

মুহিউদ্দীন খান

আর সে ওয়াদাকে সত্যে পরিণত করেছেন, যখন তোমরা তাঁরই নির্দেশে ওদের খতম করছিলে। এমনকি যখন তোমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে ও কর্তব্য স্থির করার ব্যাপারে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে। আর যা তোমরা চাইতে তা দেখার পর কৃতঘ্নতা প্রদর্শন করেছ, তাতে তোমাদের কারো কাম্য ছিল দুনিয়া আর কারো বা কাম্য ছিল আখেরাত। অতঃপর তোমাদিগকে সরিয়ে দিলেন ওদের উপর থেকে যাতে তোমাদিগকে পরীক্ষা করেন। বস্তুতঃ তিনি তোমাদিগকে ক্ষমা করেছেন। আর আল্লাহর মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল।

Word by word

وَلَقَدْ صَدَقَكُمُ ٱللَّهُ وَعْدَهُۥٓ إِذْ تَحُسُّونَهُم بِإِذْنِهِۦ حَتَّىٰٓ إِذَا فَشِلْتُمْ وَتَنَٰزَعْتُمْ فِى ٱلْأَمْرِ وَعَصَيْتُم مِّنۢ بَعْدِ مَآ أَرَىٰكُم مَّا تُحِبُّونَ مِنكُم مَّن يُرِيدُ ٱلدُّنْ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, তোমরা যখন উপরের দিকে ছুটিতেছিলে এবং পিছন ফিরিয়া কাহারও প্রতি লক্ষ্য করিতেছিলে না, আর রাসূল তোমাদেরকে পিছন দিক হইতে আহ্বান করিতেছিল। ফলে তিনি তোমাদেরকে বিপদের উপর বিপদ দিলেন যাহাতে তোমরা যাহা হারাইয়াছ অথবা যে বিপদ তোমাদের উপর আসিয়াছে তাহার জন্য তোমরা দুঃখিত না হও। তোমরা যাহা কর তাহা বিশেষভাবে অবহিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তোমরা দৌড়ে উপরে উঠছিলে এবং পেছনে ফিরে কারো দিকে লক্ষ্য করছিলে না, অথচ আল্লাহর রসূল তোমাদের পেছন থেকে ডাকছিল। ফলে তিনি তোমাদের বিপদের উপর বিপদ চাপিয়ে দিলেন, যাতে করে তোমরা যা হারিয়েছো কিংবা যে বিপদ তোমাদের উপর এসেছে তার জন্যে দুঃখিত না হও। তোমাদের আমল সম্পর্কে বিশেষভাবে খবর রাখেন।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা উপরে উঠে যাচ্ছিলে এবং পেছন দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলে না কারো প্রতি, অথচ রসূল ডাকছিলেন তোমাদিগকে তোমাদের পেছন দিক থেকে। অতঃপর তোমাদের উপর এলো শোকের ওপরে শোক, যাতে তোমরা হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া বস্তুর জন্য দুঃখ না কর এবং যার সম্মুখীণ হচ্ছ সেজন্য বিমর্ষ না হও। আর তোমাদের কাজের ব্যাপারে অবহিত রয়েছেন।

Word by word

إِذْ تُصْعِدُونَ وَلَا تَلْوُۥنَ عَلَىٰٓ أَحَدٍ وَٱلرَّسُولُ يَدْعُوكُمْ فِىٓ أُخْرَىٰكُمْ فَأَثَٰبَكُمْ غَمًّۢا بِغَمٍّ لِّكَيْلَا تَحْزَنُوا۟ عَلَىٰ مَا فَاتَكُمْ وَلَا مَآ أَصَٰبَكُمْ وَٱللَّهُ خَبِيرٌۢ بِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর দুঃখের পর তিনি তোমাদেরকে প্রদান করিলেন প্রশান্তি তন্দ্রারূপে, যাহা তোমাদের একদলকে আচ্ছন্ন করিয়াছিল। এবং একদল জাহিলী যুগের অজ্ঞের ন্যায় সম্বন্ধে অবাস্তব ধারণা করিয়া নিজেরাই নিজেদেরকে উদ্বিগ্ন করিয়াছিল এই বলিয়া যে, ‘আমাদের কি কোন অধিকার আছে?’ বল, ‘সমস্ত বিষয় ‌রই ইখ্‌তিয়ার।’ যাহা তাহারা তোমার নিকট প্রকাশ করে না, তাহারা তাহাদের অন্তরে উহা গোপন রাখে, আর বলে, ‘এই ব্যাপারে আমাদের কোন অধিকার থাকিলে আমরা এই স্থানে নিহত হইতাম না।’ বল, ‘যদি তোমরা তোমাদের গৃহে অবস্থান করিতে তবুও নিহত হওয়া যাহাদের জন্য অবধারিত ছিল তাহারা নিজেদের মৃত্যুস্থানে বাহির হইত। ইহা এইজন্য যে, তোমাদের অন্তরে যাহা আছে তাহা পরীক্ষা করেন এবং তোমাদের অন্তরে যাহা আছে তাহা পরিশোধন করেন। অন্তরে যাহা আছে সে সম্পর্কে বিশেষভাবে অবহিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর দুঃখ দুশ্চিন্তার পর তিনি তোমাদের প্রতি নাযিল করলেন প্রশান্তি তন্দ্রা আকারে, যা তোমাদের একদল লোককে আচ্ছন্ন করে নিয়েছিল। কিন্তু আরেকদল জাহেলি যুগের অজ্ঞদের মতো সম্পর্কে অবাস্তব ধারণা করে নিজেরাই নিজেদের এই বলে উদ্বিগ্ন করছিল: ‘আমাদের কি (ক্ষমতায়) কোনো অধিকার আছে?’ (হে নবী!) তাদের বলো: ‘হুকুম দানের ক্ষমতা পুরোটাই আল্লাহর।’ তারা এমন বিষয় তাদের অন্তরে গোপন রাখে যা তোমার কাছে প্রকাশ করেনা। তারা বলে: ‘নির্দেশ প্রদানে যদি আমাদের অধিকার থাকতো, তবে আমাদের (লোকদের) এখানে নিহত হতে হতোনা।’ হে নবী! তাদের বলো: ‘তোমরা যদি তোমাদের ঘরেও অবস্থান করতে, তারপরও নিহত হওয়া যাদের জন্যে নির্ধারিত ছিলো তারা অবশ্যি নিজেদের মরণের জায়গায় বেরিয়ে আসতো।’ এর কারণ হলো, তোমাদের মনে যা আছে তা পরীক্ষা করতে চান এবং তোমাদের সংশোধন ও পরিশুদ্ধ করতে চান। অন্তরের খবর বিশেষভাবে জানেন।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তোমাদের উপর শোকের পর শান্তি অবতীর্ণ করলেন, যা ছিল তন্দ্রার মত। সে তন্দ্রায় তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ ঝিমোচ্ছিল আর কেউ কেউ প্রাণের ভয়ে ভাবছিল। সম্পর্কে তাদের মিথ্যা ধারণা হচ্ছিল মুর্খদের মত। তারা বলছিল আমাদের হাতে কি কিছুই করার নেই? তুমি বল, সবকিছুই আল্লাহর হাতে। তারা যা কিছু মনে লুকিয়ে রাখে - তোমার নিকট প্রকাশ করে না সে সবও। তারা বলে আমাদের হাতে যদি কিছু করার থাকতো, তাহলে আমরা এখানে নিহত হতাম না। তুমি বল, তোমরা যদি নিজেদের ঘরেও থাকতে তবুও তারা অবশ্যই বেরিয়ে আসত নিজেদের অবস্থান থেকে যাদের মৃত্যু লিখে দেয়া হয়েছে। তোমাদের বুকে যা রয়েছে তার পরীক্ষা করা ছিল আল্লাহর ইচ্ছা, আর তোমাদের অন্তরে যা কিছু রয়েছে তা পরিষ্কার করা ছিল তাঁর কাম্য। মনের গোপন বিষয় জানেন।

Word by word

ثُمَّ أَنزَلَ عَلَيْكُم مِّنۢ بَعْدِ ٱلْغَمِّ أَمَنَةً نُّعَاسًا يَغْشَىٰ طَآئِفَةً مِّنكُمْ وَطَآئِفَةٌ قَدْ أَهَمَّتْهُمْ أَنفُسُهُمْ يَظُنُّونَ بِٱللَّهِ غَيْرَ ٱلْحَقِّ ظَنَّ ٱلْجَٰهِلِيَّةِ يَقُولُونَ هَل

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যেদিন দুই দল পরস্পরের সম্মুখীন হইয়াছিল সেই দিন তোমাদের মধ্য হইতে যাহারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিয়াছিল, তাহাদের কোন কৃতকর্মের জন্য শয়তানই তাহাদের পদস্খলন ঘটাইয়াছিল। অবশ্য তাহাদের ক্ষমা করিয়াছেন। ক্ষমাপরায়ণ ও পরম সহনশীল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের মধ্য থেকে যারা দুই দলের পরস্পর সম্মুখীন হবার দিন পলায়ন করে চলে গিয়েছিল, নিশ্চয়ই শয়তান তাদের কোনো কৃতকর্মের জন্যে তাদের পদস্খলন ঘটিয়েছিল। অবশ্য তোমাদের মাফ করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল ও সহনশীল।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের যে দুটি দল লড়াইয়ের দিনে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল শয়তান তাদেরকে বিভ্রান্ত করেছিল, তাদেরই পাপের দরুন।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ تَوَلَّوْا۟ مِنكُمْ يَوْمَ ٱلْتَقَى ٱلْجَمْعَانِ إِنَّمَا ٱسْتَزَلَّهُمُ ٱلشَّيْطَٰنُ بِبَعْضِ مَا كَسَبُوا۟ وَلَقَدْ عَفَا ٱللَّهُ عَنْهُمْ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ حَلِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! তোমরা তাহাদের মত হইও না যাহারা করে এবং তাহাদের ভ্রাতাগণ যখন দেশে দেশে সফর করে অথবা যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তাহাদের সম্পর্কে বলে, ‘তাহারা যদি আমাদের নিকট থাকিত তবে তাহারা মরিত না এবং নিহত হইত না।’ ফলে ইহাই তাহাদের মনস্তাপে পরিণত করেন ; আল্লাহ্ই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, তোমরা যাহা কর উহার সম্যক দ্রষ্টা।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা ঐসব লোকদের মতো হয়োনা যারা কুফুরি করে এবং তাদের ভাইদের বলে যখন তারা বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে কিংবা যুদ্ধরত থাকে: ‘তারা যদি আমাদের কাছে থাকতো, তাহলে মরতোওনা এবং নিহতও হতোনা।’ এসব কথাকে তাদের মনস্তাপের কারণ বানিয়ে দেন। আল্লাহ্ই তো জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দান করেন। তোমরা যা করো সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখছেন।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমাণদারগণ! তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা হয়েছে এবং নিজেদের ভাই বন্ধুরা যখন কোন অভিযানে বের হয় কিংবা জেহাদে যায়, তখন তাদের সম্পর্কে বলে, তারা যদি আমাদের সাথে থাকতো, তাহলে মরতোও না আহতও হতো না। যাতে তারা এ ধারণা সৃষ্টির মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের মনে অনুতাপ সৃষ্টি করতে পারে। অথচ আল্লাহই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন। তোমাদের সমস্ত কাজই, তোমরা যা কিছুই কর না কেন, সবকিছুৃই দেখেন।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَكُونُوا۟ كَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَقَالُوا۟ لِإِخْوَٰنِهِمْ إِذَا ضَرَبُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ أَوْ كَانُوا۟ غُزًّى لَّوْ كَانُوا۟ عِندَنَا مَا مَاتُوا۟ وَمَا قُتِلُوا۟ لِيَجْع

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা ‌র পথে নিহত হইলে অথবা মৃত্যুবরণ করিলে, যাহা তাহারা জমা করে, ‌র ক্ষমা এবং দয়া অবশ্য তাহা অপেক্ষা শ্রেয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি আল্লাহর পথে নিহত হও কিংবা মৃত্যুবরণ করো, তবে জেনে রেখো, ওরা যা জমা করে তা থেকে আল্লাহর ক্ষমা এবং রহমত অনেক ভালো।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা যদি আল্লাহর পথে নিহত হও কিংবা মৃত্যুবরণ কর, তোমরা যা কিছু সংগ্রহ করে থাক তা’আলার ক্ষমা ও করুণা সে সবকিছুর চেয়ে উত্তম।

Word by word

وَلَئِن قُتِلْتُمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ أَوْ مُتُّمْ لَمَغْفِرَةٌ مِّنَ ٱللَّهِ وَرَحْمَةٌ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমাদের মৃত্যু হইলে অথবা তোমরা নিহত হইলে ‌রই নিকট তোমাদেরকে একত্র করা হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করো কিংবা নিহত হও, তবে জেনে রাখো, আল্লাহর কাছেই তোমাদের হাশর করা হবে।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা মৃত্যুই বরণ কর অথবা নিহতই হও, অবশ্য তা’আলার সামনেই সমবেত হবে।

Word by word

وَلَئِن مُّتُّمْ أَوْ قُتِلْتُمْ لَإِلَى ٱللَّهِ تُحْشَرُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌র দয়ায় তুমি তাহাদের প্রতি কোমল - হৃদয় হইয়াছিলে ; যদি তুমি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হইতে তবে তাহারা তোমার আশপাশ হইতে সরিয়া পড়িত। সুতরাং তুমি তাহাদের ক্ষমা কর এবং তাহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং কাজেকর্মে তাহাদের সঙ্গে পরামর্শ কর, অতঃপর তুমি কোন সংকল্প করিলে ‌র উপর নির্ভর করিবে, যাহারা নির্ভর করে তাহাদের ভালবাসেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ!) এটা আল্লাহরই রহমত যে, তুমি তাদের প্রতি কোমল! তুমি যদি তাদের প্রতি কঠোর - হৃদয় হতে, তবে তারা তোমার চারপাশ থেকে সরে পড়তো। সুতরাং তাদের ক্ষমা করে দাও এবং তাদের জন্যে (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করো, আর কার্য পরিচালনায় তাদের সাথে পরামর্শ করো। অতপর যখন সংকল্প (সিদ্ধান্ত) গ্রহণ করবে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করবে, নিশ্চয়ই তাওয়াক্কুলকারীদের পছন্দ করেন।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন পক্ষান্তরে আপনি যদি রাগ ও কঠিন হৃদয় হতেন তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো। কাজেই আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য মাগফেরাত কামনা করুন এবং কাজে কর্মে তাদের পরামর্শ করুন। অতঃপর যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন তা’আলার উপর ভরসা করুন তাওয়াক্কুল কারীদের ভালবাসেন।

Word by word

فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ ٱللَّهِ لِنتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ ٱلْقَلْبِ لَٱنفَضُّوا۟ مِنْ حَوْلِكَ فَٱعْفُ عَنْهُمْ وَٱسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِى ٱلْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَل

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের সাহায্য করিলে তোমাদের উপর জয়ী হইবার কেহই থাকিবে না। আর তিনি তোমাদেরকে সাহায্য না করিলে, তিনি ছাড়া কে এমন আছে, যে তোমাদের সাহায্য করিবে? মু’মিনগণ ‌র উপরই নির্ভর করুক।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের সাহায্য করলে তোমাদের উপর জয়ী হবার কেউই থাকবেনা, আর তিনি যদি তোমাদের সাহায্য না করেন, তবে তিনি ছাড়া কে আছে তোমাদের সাহায্য করবে? মুমিনরা কেবল আল্লাহর উপরই তাওয়াক্কুল করুক।

মুহিউদ্দীন খান

যদি তোমাদের সহায়তা করেন, তাহলে কেউ তোমাদের উপর পরাক্রান্ত হতে পারবে না। আর যদি তিনি তোমাদের সাহায্য না করেন, তবে এমন কে আছে, যে তোমাদের সাহায্য করতে পারে? আর আল্লাহর ওপরই মুসলমানগনের ভরসা করা উচিত।

Word by word

إِن يَنصُرْكُمُ ٱللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا ٱلَّذِى يَنصُرُكُم مِّنۢ بَعْدِهِۦ وَعَلَى ٱللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ ٱلْمُؤْمِنُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অন্যায়ভাবে কোন বস্তু গোপন করিবে, ইহা নবীর পক্ষে অসম্ভব। এবং কেহ অন্যায়ভাবে কিছু গোপন করিলে, যাহা সে অন্যায়ভাবে গোপন করিবে কিয়ামতের দিন সে তাহা লইয়া আসিবে। অতঃপর প্রত্যেককে, যাহা সে অর্জন করিয়াছে তাহা পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হইবে। তাহাদের প্রতি কোন জুলুম করা হইবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো নবীর পক্ষে অন্যায়ভাবে কোনো কিছু গোপন করা অসম্ভব। যে কেউ অন্যায়ভাবে কিছু গোপন করবে সে কিয়ামতের দিন তা নিয়ে উপস্থিত হবে। অতপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে সে যা উপার্জন করেছে তার প্রতিদান পুরোপুরি দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করা হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

আর কোন বিষয় গোপন করে রাখা নবীর কাজ নয়। আর যে লোক গোপন করবে সে কিয়ামতের দিন সেই গোপন বস্তু নিয়ে আসবে। অতঃপর পরিপূর্ণভাবে পাবে প্রত্যেকে, যা সে অর্জন করেছে। আর তাদের প্রতি কোন অন্যায় করা হবে না।

Word by word

وَمَا كَانَ لِنَبِىٍّ أَن يَغُلَّ وَمَن يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে ‌র সন্তুষ্টির অনুসারী, সে কি উহার মত যে ‌র ক্রোধের পাত্র হইয়াছে এবং জাহান্নামই যাহার আবাস ? এবং উহা কত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল !

আবদুস শহীদ নাসিম

যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে সে কি ঐ ব্যক্তির মতো যে আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির পাত্র হয়েছে এবং যার আবাস হবে জাহান্নাম? - যা খুবই নিকৃষ্ট ফিরে আসার জায়গা।

মুহিউদ্দীন খান

যে লোক আল্লাহর ইচ্ছার অনুগত, সে কি ঐ লোকের সমান হতে পারে, যে আল্লাহর রোষ অর্জন করেছে? বস্তুতঃ তার ঠিকানা হল দোযখ। আর তা কতইনা নিকৃষ্ট অবস্থান!

Word by word

أَفَمَنِ ٱتَّبَعَ رِضْوَٰنَ ٱللَّهِ كَمَنۢ بَآءَ بِسَخَطٍ مِّنَ ٱللَّهِ وَمَأْوَىٰهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ ٱلْمَصِيرُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌র নিকট তাহারা বিভিন্ন স্তরের; তাহারা যাহা করে তাহার সম্যক দ্রষ্টা।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর কাছে তাদের স্তর বিভিন্ন। তারা যা করে তা আল্লাহর দৃষ্টিতেই রয়েছে।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর নিকট মানুষের মর্যাদা বিভিন্ন স্তরের আর দেখেন যা কিছু তারা করে।

Word by word

هُمْ دَرَجَٰتٌ عِندَ ٱللَّهِ وَٱللَّهُ بَصِيرٌۢ بِمَا يَعْمَلُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মু’মিনদের প্রতি অবশ্যই অনুগ্রহ করিয়াছেন যে, তিনি তাহাদের নিজেদের মধ্য হইতে তাহাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করিয়াছেন, যে তাঁহার আয়াতসমূহ তাহাদের নিকট তিলাওয়াত করে, তাহাদেরকে পরিশোধন করে এবং কিতাব ও হিক্‌মত শিক্ষা দেয়, যদিও তাহারা পূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই ছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

মুমিনদের প্রতি বড়ই অনুগ্রহ করেছেন, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন রসূল পাঠিয়েছেন, সে তাদের প্রতি তিলাওয়াত করে তাঁর আয়াতসমূহ, তাদের তাযকিয়া (পবিত্র ও পরিশুদ্ধ) করে, তাদের শিক্ষা দান করে আল কিতাব (আল কুরআন) এবং হিকমাহ, যদিও ইতোপূর্বে তারা নিমজ্জিত ছিলো সুস্পষ্ট গোমরাহিতে।

মুহিউদ্দীন খান

ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। বস্তুতঃ তারা ছিল পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট।

Word by word

لَقَدْ مَنَّ ٱللَّهُ عَلَى ٱلْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْ أَنفُسِهِمْ يَتْلُوا۟ عَلَيْهِمْ ءَايَٰتِهِۦ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا۟ مِن قَبْلُ لَفِى

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কী ব্যাপার ! যখন তোমাদের উপর মুসীবত আসিল তখন তোমরা বলিলে, ‘ইহা কোথা হইতে আসিল?’ অথচ তোমরা তো দ্বিগুণ বিপদ ঘটাইয়াছিলে। বল, ‘ইহা তোমাদের নিজেদেরই নিকট হইতে’; নিশ্চয়ই সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের উপর যখন বিপদ এসেছিল তখন তোমরা বলেছিলে: ‘কোত্থেকে এলো এ বিপদ?’ অথচ তোমরা তো (উহুদের দিন) দ্বিগুণ বিপদ ঘটিয়েছিলে। হে নবী তাদের বলো: এটা তোমাদের নিজেদের থেকেই। নিশ্চয়ই সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তোমাদের উপর একটি মুসীবত এসে পৌছাল, অথচ তোমরা তার পূর্বেই দ্বিগুণ কষ্টে পৌছে গিয়েছ, তখন কি তোমরা বলবে, এটা কোথা থেকে এল? তাহলে বলে দাও, এ কষ্ট তোমাদের উপর পৌছেছে তোমারই পক্ষ থেকে। নিশ্চয়ই প্রত্যেক বিষয়ের উপর ক্ষমতাশীল।

Word by word

أَوَلَمَّآ أَصَٰبَتْكُم مُّصِيبَةٌ قَدْ أَصَبْتُم مِّثْلَيْهَا قُلْتُمْ أَنَّىٰ هَٰذَا قُلْ هُوَ مِنْ عِندِ أَنفُسِكُمْ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যেদিন দুই দল পরস্পরের সম্মুখীন হইয়াছিল, সেদিন তোমাদের উপর যে বিপর্যয় ঘটিয়াছিল তাহা ‌রই হুকুমে; ইহা মু’মিনগণকে জানিবার জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

দুই দলের মোকাবেলার দিন তোমাদের যে বিপর্যয় ঘটেছিল, তা আল্লাহর অনুমতিক্রমেই ঘটেছিল যাতে করে তিনি মুমিনদের অবস্থা জেনে নেন।

মুহিউদ্দীন খান

আর যেদিন দু’দল সৈন্যের মোকাবিলা হয়েছে; সেদিন তোমাদের উপর যা আপতিত হয়েছে তা আল্লাহর হুকুমেই হয়েছে এবং তা এজন্য যে, তাতে ঈমানদারদিগকে যায়।

Word by word

وَمَآ أَصَٰبَكُمْ يَوْمَ ٱلْتَقَى ٱلْجَمْعَانِ فَبِإِذْنِ ٱللَّهِ وَلِيَعْلَمَ ٱلْمُؤْمِنِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং মুনাফিকদেরকে জানিবার জন্য এবং তাহাদেরকে বলা হইয়াছিল, ‘আস, তোমরা ‌র পথে যুদ্ধ কর অথবা প্রতিরোধ কর।’ তাহারা বলিয়াছিল, ‘যদি যুদ্ধ জানিতাম তবে নিশ্চিতভাবে তোমাদের অনুসরণ করিতাম।’ সেদিন তাহারা ঈমান অপেক্ষা কুফরীর নিকটতর ছিল। যাহা তাহাদের অন্তরে নাই তাহারা তাহা মুখে বলে; তাহারা যাহা গোপন রাখে তাহা বিশেষভাবে অবহিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা এ জন্যেও যে, তিনি যেনো মুনাফিকদের (বাস্তবে) জেনে নেন। তাদের বলা হয়েছিল, এসো আল্লাহর পথে লড়াই করো অথবা প্রতিরোধ করো। তারা বললো: ‘যুদ্ধ হবে যদি জানতাম তবে অবশ্যি তোমাদের অনুসরণ করতাম।’ সেদিন তারা ছিলো ঈমানের চাইতে কুফুরির অধিকতর নিকটে। তারা মুখে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই। ভালো করেই জানেন যা তারা গোপন করে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং তাদেরকে যাতে সনাক্ত করা যায় যারা মুনাফিক ছিল। আর তাদেরকে বলা হল এসো, আল্লাহর রাহে লড়াই কর কিংবা শত্রুদিগকে প্রতিহত কর। তারা বলেছিল, আমরা যদি জানতাম যে, লড়াই হবে, তাহলে অবশ্যই তোমাদের সাথে থাকতাম। সে দিন তারা ঈমানের তুলনায় কুফরীর কাছাকাছি ছিল। যা তাদের অন্তরে নেই তারা নিজের মুখে সে কথাই বলে বস্তুতঃআল্লাহ ভালভাবে জানেন তারা যা কিছু গোপন করে থাকে।

Word by word

وَلِيَعْلَمَ ٱلَّذِينَ نَافَقُوا۟ وَقِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا۟ قَٰتِلُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ أَوِ ٱدْفَعُوا۟ قَالُوا۟ لَوْ نَعْلَمُ قِتَالًا لَّٱتَّبَعْنَٰكُمْ هُمْ لِلْكُفْرِ يَوْمَئِذٍ أَقْرَبُ مِنْهُمْ لِلْإِي

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ঘরে বসিয়া রহিল এবং তাহাদের ভাইদের সম্বন্ধে বলিল, তাহারা আমাদের কথামত চলিলে নিহত হইত না, তাহাদেরকে বল, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে নিজেদেরকে মৃত্যু হইতে রক্ষা কর।’

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা (যুদ্ধে না গিয়ে) তাদের ভাইদের সম্পর্কে বলেছিল, তারা যদি আমাদের কথা শুনতো তবে নিহত হতোনা। তাদের বলো: ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে নিজেদেরকে মরণ থেকে রক্ষা করো।’

মুহিউদ্দীন খান

ওরা হলো যে সব লোক, যারা বসে থেকে নিজেদের ভাইদের সম্বদ্ধে বলে, যদি তারা আমাদের কথা শুনত, তবে নিহত হত না। তাদেরকে বলে দিন, এবার তোমাদের নিজেদের উপর থেকে মৃত্যুকে সরিয়ে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।

Word by word

ٱلَّذِينَ قَالُوا۟ لِإِخْوَٰنِهِمْ وَقَعَدُوا۟ لَوْ أَطَاعُونَا مَا قُتِلُوا۟ قُلْ فَٱدْرَءُوا۟ عَنْ أَنفُسِكُمُ ٱلْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ‌র পথে নিহত হইয়াছে তাহাদের কখনই মৃত মনে করিও না, বরং তাহারা জীবিত এবং তাহাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তাহারা জীবিকাপ্রাপ্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের মৃত বলোনা; বরং তারা জীবিত এবং তাদের প্রভুর নিকট থেকে জীবিকাপ্রাপ্ত।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা আল্লাহর রাহে নিহত হয়, তাদেরকে তুমি কখনো মৃত মনে করো না। বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত।

Word by word

وَلَا تَحْسَبَنَّ ٱلَّذِينَ قُتِلُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ أَمْوَٰتًۢا بَلْ أَحْيَآءٌ عِندَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিজ অনুগ্রহে তাহাদেরকে যাহা দিয়াছেন তাহাতে তাহারা আনন্দিত এবং তাহাদের পিছনে যাহারা এখনও তাহাদের সঙ্গে মিলিত হয় নাই তাহাদের জন্য আনন্দ প্রকাশ করে, এইজন্য যে, তাহাদের কোন ভয় নাই এবং তাহারা দুঃখিতও হইবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাঁর অনুগ্রহে তাদের যা দিয়েছেন তাতে তারা আনন্দিত এবং তাদের পেছনে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি তাদের সুসংবাদ প্রদান করছে যে: ‘তাদের কোনো ভয় নেই এবং কোনো দুঃখও তাদের থাকবেনা।’

মুহিউদ্দীন খান

নিজের অনুগ্রহ থেকে যা দান করেছেন তার প্রেক্ষিতে তারা আনন্দ উদযাপন করছে। আর যারা এখনও তাদের কাছে এসে পৌঁছেনি তাদের পেছনে তাদের জন্যে আনন্দ প্রকাশ করে। কারণ, তাদের কোন ভয় ভীতিও নেই এবং কোন চিন্তা ভাবনাও নেই।

Word by word

فَرِحِينَ بِمَآ ءَاتَىٰهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِٱلَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا۟ بِهِم مِّنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিয়ামত ও অনুগ্রহের জন্য তাহারা আনন্দ প্রকাশ করে এবং ইহা এই কারণে যে, মু’মিনদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর নিয়ামত ও ফজল করমের (অনুগ্রহের) জন্যে তারা খুশি ও আনন্দ প্রকাশ করে এবং এটা জেনে যে, মুমিনদের কর্মফল বিনষ্ট করেননা।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহের জন্যে তারা আনন্দ প্রকাশ করে এবং তা এভাবে যে, , ঈমানদারদের শ্রমফল বিনষ্ট করেন না।

Word by word

يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍ مِّنَ ٱللَّهِ وَفَضْلٍ وَأَنَّ ٱللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ ٱلْمُؤْمِنِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখম হওয়ার পর যাহারা ও রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়াছে তাহাদের মধ্যে যাহারা সৎকাজ করে এবং তাক্ওয়া অবলম্বন করিয়া চলে তাহাদের জন্য মহাপুরস্কার রহিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আহত হবার পরও এবং তাঁর রসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছে, যারা ইহ্সান এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে বিরাট পুরস্কার।

মুহিউদ্দীন খান

যারা আহত হয়ে পড়ার পরেও এবং তাঁর রসূলের নির্দেশ মান্য করেছে, তাদের মধ্যে যারা সৎ ও , তাদের জন্য রয়েছে মহান সওয়াব।

Word by word

ٱلَّذِينَ ٱسْتَجَابُوا۟ لِلَّهِ وَٱلرَّسُولِ مِنۢ بَعْدِ مَآ أَصَابَهُمُ ٱلْقَرْحُ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا۟ مِنْهُمْ وَٱتَّقَوْا۟ أَجْرٌ عَظِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহাদেরকে লোকে বলিয়াছিল, তোমাদের বিরুদ্ধে লোক জমায়েত হইয়াছে, সুতরাং তোমরা তাহাদেরকে ভয় কর ; কিন্তু ইহা তাহাদের ঈমান দৃঢ়তর করিয়াছিল এবং তাহারা বলিয়াছিল, ‘আল্লাহ্ই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কত উত্তম কর্মবিধায়ক !’

আবদুস শহীদ নাসিম

লোকেরা তাদের বলেছিল: ‘তোমাদের বিরুদ্ধে বিরাট বাহিনী সমবেত হয়েছে তাদের ভয় করো।’ - একথা শুনে তাদের ঈমান বেড়ে গিয়েছিল এবং তারা বলেছিল: ‘হাসবুনাল্লাহু অনি’মাল অকিল - আমাদের জন্যে আল্লাহ্ই যথেষ্ট, তিনিই সর্বোত্তম উকিল - (কর্মসম্পাদনকারী)।’

মুহিউদ্দীন খান

যাদেরকে লোকেরা বলেছে যে, তোমাদের সাথে মোকাবেলা করার জন্য লোকেরা সমাবেশ করেছে বহু সাজ - সরঞ্জাম; তাদের ভয় কর। তখন তাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ়তর হয়ে যায় এবং তারা বলে, আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট; কতই না চমৎকার কামিয়াবীদানকারী।

Word by word

ٱلَّذِينَ قَالَ لَهُمُ ٱلنَّاسُ إِنَّ ٱلنَّاسَ قَدْ جَمَعُوا۟ لَكُمْ فَٱخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَٰنًا وَقَالُوا۟ حَسْبُنَا ٱللَّهُ وَنِعْمَ ٱلْوَكِيلُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারপর তাহারা ‌র নিয়ামত ও অনুগ্রহসহ ফিরিয়া আসিয়াছিল, কোন অনিষ্ট তাহাদেরকে স্পর্শ করে নাই এবং যাহাতে রাযী তাহারা তাহারই অনুসরণ করিয়াছিল এবং মহাঅনুগ্রহশীল।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে তারা আল্লাহর নিয়ামত ও ফজল - করম সহ (যুদ্ধ থেকে) ফিরে আসে। তাদের স্পর্শ করেনি কোনো মন্দ। তারা অনুসরণ করেছিল আল্লাহর রেজামন্দির। আর বড় ফজল - করম ওয়ালা।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর ফিরে এল মুসলমানরা আল্লাহর অনুগ্রহ নিয়ে, তদের কিছুই অনিষ্ট হলো না। তারপর তারা আল্লাহর ইচ্ছার অনুগত হল। বস্তুতঃ আল্লাহর অনুগ্রহ অতি বিরাট।

Word by word

فَٱنقَلَبُوا۟ بِنِعْمَةٍ مِّنَ ٱللَّهِ وَفَضْلٍ لَّمْ يَمْسَسْهُمْ سُوٓءٌ وَٱتَّبَعُوا۟ رِضْوَٰنَ ٱللَّهِ وَٱللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَظِيمٍ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহারাই শয়তান, তোমাদেরকে তাহার বন্ধুদের ভয় দেখায় ; সুতরাং যদি তোমরা হও তবে তোমরা তাহাদেরকে ভয় করিও না, আমাকেই ভয় কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা ছিলো শয়তানেরই কাজ, সে ভয় দেখায় তার বন্ধুদের। কখনো তাদের ভয় করোনা। হয়ে থাকলে তোমরা কেবল আমাকেই ভয় করো।

মুহিউদ্দীন খান

এরা যে রয়েছে, এরাই হলে শয়তান, এরা নিজেদের বন্ধুদের ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করে। সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো না। আর তোমরা যদি হয়ে থাক, তবে আমাকে ভয় কর।

Word by word

إِنَّمَا ذَٰلِكُمُ ٱلشَّيْطَٰنُ يُخَوِّفُ أَوْلِيَآءَهُۥ فَلَا تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা কুফরীতে ত্বরিতগতি, তাহাদের আচরণ যেন তোমাকে দুঃখ না দেয়। তাহারা কখনও ‌র কোন ক্ষতি করিতে পারিবে না। আখিরাতে তাহাদেরকে কোন অংশ দিবার ইচ্ছা করেন না, তাহাদের জন্য মহাশাস্তি রহিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা দুঃখিত হয়োনা ওদের আচরণে, যারা দ্রুত ধাবিত হয় কুফুরির দিকে। তারা আল্লাহর কোনোই ক্ষতি করতে পারবেনা। আখিরাতে ওদের কোনো অংশ দেয়ার এরাদা করেন না। সেখানে তাদের জন্যে থাকবে বিশাল আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা কুফরের দিকে ধাবিত হচ্ছে তারা যেন তোমাদিগকে চিন্তাম্বিত করে না তোলে। তারা তা’আলার কোন কিছুই অনিষ্ট সাধন করতে পারবে না। আখেরাতে তাদেরকে কোন কল্যাণ দান না করাই আল্লাহর ইচ্ছা। বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে মহা শাস্তি।

Word by word

وَلَا يَحْزُنكَ ٱلَّذِينَ يُسَٰرِعُونَ فِى ٱلْكُفْرِ إِنَّهُمْ لَن يَضُرُّوا۟ ٱللَّهَ شَيْـًٔا يُرِيدُ ٱللَّهُ أَلَّا يَجْعَلَ لَهُمْ حَظًّا فِى ٱلْءَاخِرَةِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ঈমানের বিনিময়ে ক্রয় করিয়াছে তাহারা কখনও আল্লাহর কোন ক্ষতি করিতে পারিবে না। তাহাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রহিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমানের বিনিময়ে কুফুরি ক্রয় করেছে, তারা আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবেনা। তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

যারা ঈমানের পরিবর্তে কুফর ক্রয় করে নিয়েছে, তারা তা’আলার কিছুই ক্ষতিসাধন করতে পারবে না। আর তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি।

Word by word

إِنَّ ٱلَّذِينَ ٱشْتَرَوُا۟ ٱلْكُفْرَ بِٱلْإِيمَٰنِ لَن يَضُرُّوا۟ ٱللَّهَ شَيْـًٔا وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কাফিররা যেন কিছুতেই মনে না করে যে, আমি অবকাশ দেই তাহাদের মঙ্গলের জন্য; আমি অবকাশ দিয়া থাকি যাহাতে তাহাদের পাপ বৃদ্ধি পায় এবং তাহাদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি রহিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফিররা যেনো এ ধারণা না করে যে, আমরা অবকাশ দিচ্ছি তাদের কল্যাণের জন্যে, বরং আমরা অবকাশ দিচ্ছি এজন্যে, যেনো তারা তাদের পাপ বাড়িয়ে নেয়। আর তাদের জন্যে রয়েছে অপমানকর আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

কাফেররা যেন মনে না করে যে আমি যে, অবকাশ দান করি, তা তাদের পক্ষে কল্যাণকর। আমি তো তাদেরকে অবকাশ দেই যাতে করে তারা পাপে উন্নতি লাভ করতে পারে। বস্তুতঃ তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাজনক শাস্তি।

Word by word

وَلَا يَحْسَبَنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَنَّمَا نُمْلِى لَهُمْ خَيْرٌ لِّأَنفُسِهِمْ إِنَّمَا نُمْلِى لَهُمْ لِيَزْدَادُوٓا۟ إِثْمًا وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অসৎকে সৎ হইতে পৃথক না করা পর্যন্ত তোমরা যে অবস্থায় রহিয়াছ মু’মিনগণকে সেই অবস্থায় ছাড়িয়া দিতে পারেন না। সম্পর্কে তোমাদেরকে অবহিত করিবার নহেন; তবে তাঁহার রাসূলগণের মধ্যে যাহাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। সুতরাং তোমরা ও তাঁহার রাসূলগণের উপর ঈমান আন। তোমরা ঈমান আনিলে ও তাক্ওয়া অবলম্বন করিয়া চলিলে তোমাদের জন্য মহাপুরস্কার রহিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা এখন যে অবস্থায় আছো মুমিনদের এ অবস্থায় রেখে দেবেন না, তিনি খবিছ লোকদেরকে ভালো লোকদের থেকে আলাদা করেই ছাড়বেন। তোমাদের কাছে প্রকাশ করা আল্লাহর কাজ নয়, তবে (এ জন্যে) তাঁর রসূলদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। সুতরাং তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলদের প্রতি। তোমরা যদি ঈমান আনো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তোমাদের জন্যে রয়েছে বিশাল পুরস্কার।

মুহিউদ্দীন খান

নাপাককে পাক থেকে পৃথক করে দেয়া পর্যন্ত এমন নন যে, ঈমানদারগণকে সে অবস্থাতেই রাখবেন যাতে তোমরা রয়েছ, আর এমন নন যে, তোমাদিগকে গায়বের সংবাদ দেবেন। কিন্তু স্বীয় রসূল গণের মধ্যে যাকে ইচ্ছা বাছাই করে নিয়েছেন। সুতরাং আল্লাহর ওপর এবং তাঁর রসূলগণের ওপর তোমরা প্রত্যয় স্থাপন কর। বস্তুতঃ তোমরা যদি বিশ্বাস ও পরহেযগারীর ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে থাক, তবে তোমাদের জন্যে রয়েছে বিরাট প্রতিদান।

Word by word

مَّا كَانَ ٱللَّهُ لِيَذَرَ ٱلْمُؤْمِنِينَ عَلَىٰ مَآ أَنتُمْ عَلَيْهِ حَتَّىٰ يَمِيزَ ٱلْخَبِيثَ مِنَ ٱلطَّيِّبِ وَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيُطْلِعَكُمْ عَلَى ٱلْغَيْبِ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يَجْتَبِى مِن رُّسُلِه

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর নিজ অনুগ্রহে যাহা তাহাদের দিয়াছেন তাহাতে যাহারা কৃপণতা করে তাহাদের জন্য উহা মঙ্গল, ইহা যেন তাহারা কিছুতেই মনে না করে। না, ইহা তাহাদের জন্য অমঙ্গল। যাহাতে তাহারা কৃপণতা করিবে কিয়ামতের দিন উহাই তাহাদের গলায় বেড়ি হইবে। আস্‌মান ও যমীনের স্বত্বাধিকার একমাত্র ‌রই।তোমরা যাহা কর তাহা বিশেষভাবে অবহিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা বখিলি করে নিজ অনুগ্রহ থেকে তাদের যা দিয়েছেন তার ব্যাপারে, তারা যেনো মনে না করে যে এটা তাদের জন্যে ভালো। বরং এতে রয়েছে তাদের জন্যে অনিষ্ট। যা নিয়ে তারা কৃপণতা করে, কিয়ামতের দিন তাই হবে তাদের গলার বেড়ি। মহাকাশ এবং এই পৃথিবীর স্বত্ত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহর। তোমাদের আমল সম্পর্কে বিশেষভাবে খবর রাখেন।

মুহিউদ্দীন খান

তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে এই কার্পন্য তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে তারা যেন ধারণা না করে। বরং এটা তাদের পক্ষে একান্তই ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে। যাতে তারা কার্পন্য করে সে সমস্ত ধন - সম্পদকে কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ী বানিয়ে পরানো হবে। আর হচ্ছেন আসমান ও যমীনের পরম সত্ত্বাধিকারী। আর যা কিছু তোমরা কর; সে সম্পর্কে জানেন।

Word by word

وَلَا يَحْسَبَنَّ ٱلَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَآ ءَاتَىٰهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ هُوَ خَيْرًا لَّهُم بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا۟ بِهِۦ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَلِلَّهِ مِيرَٰثُ ٱلسَّمَٰ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা বলে, ‘ অবশ্যই অভাবগ্রস্ত আর আমরা অভাবমুক্ত’, তাহাদের কথা শুনিয়াছেন। তাহারা যাহা বলিয়াছে তাহা এবং নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার বিষয় আমি লিখিয়া রাখিব এবং বলিব, ‘তোমরা দহন - যন্ত্রণা ভোগ কর।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কথা শুনেছেন যারা বলে: ‘ হলেন ফকির আর আমরা ধনী।’ তারা যা বলে এবং তাদের না হকভাবে নবীদের হত্যার বিষয়টি আমরা লিখে রাখবো। (কিয়ামতের দিন) আমরা তাদের বলবো: ‘স্বাদ গ্রহণ করো দগ্ধ হবার আযাবের।’

মুহিউদ্দীন খান

নিঃসন্দেহে তাদের কথা শুনেছেন, যারা বলেছে যে, হচ্ছেন অভাবগ্রস্ত আর আমরা বিত্তবান! এখন আমি তাদের কথা এবং যেসব নবীকে তারা অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে তা লিখে রাখব, অতঃপর বলব, আস্বাদন কর জ্বলন্ত আগুনের আযাব।

Word by word

لَّقَدْ سَمِعَ ٱللَّهُ قَوْلَ ٱلَّذِينَ قَالُوٓا۟ إِنَّ ٱللَّهَ فَقِيرٌ وَنَحْنُ أَغْنِيَآءُ سَنَكْتُبُ مَا قَالُوا۟ وَقَتْلَهُمُ ٱلْأَنۢبِيَآءَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَنَقُولُ ذُوقُوا۟ عَذَابَ ٱلْحَرِيقِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা তোমাদের কৃতকর্মের ফল এবং উহা এই কারণে যে, বান্দাদের প্রতি নন।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা তোমাদেরই কৃতকর্মের প্রতিফল। এর কারণ এটাও যে, তাঁর বান্দাদের প্রতি যালিম (অবিচারক) নন।

মুহিউদ্দীন খান

এ হল তারই প্রতিফল যা তোমরা ইতিপূর্বে নিজের হাতে পাঠিয়েছ। বস্তুতঃ বান্দাদের প্রতি অত্যাচার করেন না।

Word by word

ذَٰلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيكُمْ وَأَنَّ ٱللَّهَ لَيْسَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা বলে, ‘ আমাদেরকে আদেশ দিয়াছেন, আমরা যেন কোন রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করি যতক্ষণ পর্যন্ত সে আমাদের নিকট এমন কুরবানী উপস্থিত না করিবে যাহা অগ্নি গ্রাস করিবে; তাহাদেরকে বল, ‘আমার পূর্বে অনেক রাসূল স্পষ্ট নিদর্শনসহ এবং তোমরা যাহা বলিতেছ তাহাসহ তোমাদের নিকট আসিয়াছিল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে কেন তাহাদেরকে হত্যা করিয়াছিলে ?’

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা বলে: ‘ আমাদের আদেশ দিয়েছেন, আমরা যেনো ততোক্ষণ পর্যন্ত কোনো রসূলের প্রতি ঈমান না আনি, যতোক্ষণ না সে আমাদের কাছে এমন এক কুরবানি হাজির করবে যাকে আগুন গ্রাস করে নেবে।’ (হে মুহাম্মদ!) তাদের বলো: আমার আগে তো তোমাদের কাছে অনেক রসূল এসেছিলেন সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শন সমূহ নিয়ে এবং তোমরা যা বলছো তা নিয়ে, তারপরও কেন তোমরা তাদের হত্যা করেছিলে যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো?

মুহিউদ্দীন খান

সে সমস্ত লোক, যারা বলে যে, আমাদিগকে এমন কোন রসূলের ওপর বিশ্বাস না করতে বলে রেখেছেন যতক্ষণ না তারা আমাদের নিকট এমন কোরবানী নিয়ে আসবেন যাকে আগুন গ্রাস করে নেবে। তুমি তাদের বলে দাও, তোমাদের মাঝে আমার পূর্বে বহু রসূল নিদর্শনসমূহ এবং তোমরা যা আব্দার করেছ তা নিয়ে এসেছিলেন, তখন তোমরা কেন তাদেরকে হত্যা করলে যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।

Word by word

ٱلَّذِينَ قَالُوٓا۟ إِنَّ ٱللَّهَ عَهِدَ إِلَيْنَآ أَلَّا نُؤْمِنَ لِرَسُولٍ حَتَّىٰ يَأْتِيَنَا بِقُرْبَانٍ تَأْكُلُهُ ٱلنَّارُ قُلْ قَدْ جَآءَكُمْ رُسُلٌ مِّن قَبْلِى بِٱلْبَيِّنَٰتِ وَبِٱلَّذِى قُلْتُمْ ف

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা যদি তোমাকে অস্বীকার করে, তোমার পূর্বে যে সকল রাসূল স্পষ্ট নিদর্শন, আসমানী সহীফা এবং দীপ্তিমান কিতাবসহ আসিয়াছিল তাহাদেরকেও তো অস্বীকার করা হইয়াছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ!) তারা যদি তোমাকে মিথ্যা আখ্যায়িত করে অস্বীকার করেই, তবে তোমার পূর্বেও তারা বহু রসূলকে অস্বীকার করেছিল যারা সুস্পষ্ট প্রমাণসমূহ, যবুর (ছোট কিতাব) এবং আলো বিতরণকারী কিতাব নিয়ে (তাদের কাছে) এসেছিল।

মুহিউদ্দীন খান

তাছাড়া এরা যদি তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তবে তোমার পূর্বেও এরা এমন বহু নবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, যারা নিদর্শন সমূহ নিয়ে এসেছিলেন। এবং এনেছিলেন সহীফা ও প্রদীপ্ত গ্রন্থ।

Word by word

فَإِن كَذَّبُوكَ فَقَدْ كُذِّبَ رُسُلٌ مِّن قَبْلِكَ جَآءُو بِٱلْبَيِّنَٰتِ وَٱلزُّبُرِ وَٱلْكِتَٰبِ ٱلْمُنِيرِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করিবে। কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের কর্মফল পূর্ণ মাত্রায় দেওয়া হইবে। যাহাকে অগ্নি হইতে দূরে রাখা হইবে এবং জান্নাতে দাখিল করা হইবে সে - ই এবং পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রত্যেক ব্যক্তিই মউতের স্বাদ গ্রহণ করবে। কিয়ামতকালে তোমাদের কাজের প্রতিদান তোমাদের পুরোপুরি দেয়া হবে। তখন যাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করা হবে এবং দাখিল করা হবে জান্নাতে, সে - ই হবে । দুনিয়ার হায়াতটা প্রতারণার বস্ত্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।

মুহিউদ্দীন খান

প্রত্যেক প্রাণীকে আস্বাদন করতে হবে মৃত্যু। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ বদলা প্রাপ্ত হবে। তারপর যাকে দোযখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, তার কার্যসিদ্ধি ঘটবে। আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্য কোন সম্পদ নয়।

Word by word

كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ ٱلْمَوْتِ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ فَمَن زُحْزِحَ عَنِ ٱلنَّارِ وَأُدْخِلَ ٱلْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَآ إِلَّا مَتَٰعُ ٱلْغُرُورِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদেরকে নিশ্চয়ই তোমাদের ধনৈশ্বর্য ও জীবন সম্বন্ধে পরীক্ষা করা হইবে। তোমাদের পূর্বে যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছিল তাহাদের এবং মুশরিকদের নিকট হইতে তোমরা অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনিবে। যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং তাক্ওয়া অবলম্বন কর তবে নিশ্চয়ই উহা হইবে দৃঢ়সংকল্পের কাজ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের মাল - সম্পদ এবং তোমাদের জীবন সম্পর্কে অবশ্য অবশ্যি তোমাদের পরীক্ষা নেয়া হবে। তাছাড়া তোমাদের আগে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের থেকে এবং মুশরিকদের থেকে তোমরা অবশ্য অবশ্যি অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে। তবে তোমরা যদি (তোমাদের আদর্শের উপর) অটল থাকো এবং সতর্কতা অবলম্বন করো তবে এটাই হবে মজবুত সংকল্পের কাজ।

মুহিউদ্দীন খান

অবশ্য ধন - সম্পদে এবং জনসম্পদে তোমাদের পরীক্ষা হবে এবং অবশ্য তোমরা শুনবে পূর্ববর্তী আহলে কিতাবদের কাছে এবং মুশরেকদের কাছে বহু অশোভন উক্তি। আর যদি তোমরা ধৈর্য্য ধারণ কর এবং পরহেযগারী অবলম্বন কর, তবে তা হবে একান্ত সৎসাহসের ব্যাপার।

Word by word

لَتُبْلَوُنَّ فِىٓ أَمْوَٰلِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ مِن قَبْلِكُمْ وَمِنَ ٱلَّذِينَ أَشْرَكُوٓا۟ أَذًى كَثِيرًا وَإِن تَصْبِرُوا۟ وَتَتَّقُوا۟ فَإِنَّ ذَٰلِكَ مِنْ ع

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছিল তাহাদের প্রতিশ্রুতি লইয়াছিলেন : ‘তোমরা উহা মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে প্রকাশ করিবে এবং উহা গোপন করিবে না।’ ইহার পরও তাহারা উহা অগ্রাহ্য করে ও তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে ; সুতরাং তাহারা যাহা ক্রয় করে তাহা কত নিকৃষ্ট !

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, যাদের কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের থেকে এই অংগীকার নিয়েছিলেন: ‘তোমরা তা (তোমাদেরকে প্রদত্ত কিতাব) মানুষের জন্যে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবেনা।’ কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করে এবং এর বিনিময়ে তারা ক্রয় করে নগণ্য স্বার্থ। তারা যা ক্রয় করে তা কতো যে নিকৃষ্ট!

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন আহলে কিতাবদের কাছ থেকে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করলেন যে, তা মানুষের নিকট বর্ণনা করবে এবং গোপন করবে না, তখন তারা সে প্রতিজ্ঞাকে নিজেদের পেছনে ফেলে রাখল আর তার কেনা - বেচা করল সামান্য মূল্যের বিনিময়ে। সুতরাং কতই না মন্দ তাদের এ বেচা - কেনা।

Word by word

وَإِذْ أَخَذَ ٱللَّهُ مِيثَٰقَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ لَتُبَيِّنُنَّهُۥ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُۥ فَنَبَذُوهُ وَرَآءَ ظُهُورِهِمْ وَٱشْتَرَوْا۟ بِهِۦ ثَمَنًا قَلِيلًا فَبِئْسَ مَا يَشْتَرُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা নিজেরা যাহা করিয়াছে তাহাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং যাহা নিজেরা করে নাই এমন কাজের জন্য প্রশংসিত হইতে ভালবাসে, তাহারা শাস্তি হইতে মুক্তি পাইবে - এইরূপ তুমি কখনও মনে করিও না। তাহাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রহিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে, আর যা করেনি তার জন্যে প্রশংসার পাত্র হতে চায়। তারা আযাব থেকে রক্ষা পাবে - এমন ধারণা করোনা। তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি মনে করো না, যারা নিজেদের কৃতকর্মের উপর আনন্দিত হয় এবং না করা বিষয়ের জন্য প্রশংসা কামনা করে, তারা আমার নিকট থেকে অব্যাহতি লাভ করেছে। বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।

Word by word

لَا تَحْسَبَنَّ ٱلَّذِينَ يَفْرَحُونَ بِمَآ أَتَوا۟ وَّيُحِبُّونَ أَن يُحْمَدُوا۟ بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا۟ فَلَا تَحْسَبَنَّهُم بِمَفَازَةٍ مِّنَ ٱلْعَذَابِ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আস্‌মান ও যমীনের সার্বভৌম ক্ষমতা একমাত্র ‌রই; সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং এই পৃথিবীর কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর, আর প্রত্যেক বিষয়ে শক্তিমান।

মুহিউদ্দীন খান

আর আল্লাহর জন্যই হল আসমান ও যমিনের বাদশাহী। আল্লাহই সর্ব বিষয়ে ক্ষমতার অধিকারী।

Word by word

وَلِلَّهِ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিবস ও রাত্রির পরিবর্তনে নিদর্শনাবলী রহিয়াছে বোধশক্তিসম্পন্ন লোকের জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের আবর্তনের মধ্যে রয়েছে জ্ঞান - বুদ্ধি সম্পন্ন লোকদের জন্যে অনেক নিদর্শন,

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধ সম্পন্ন লোকদের জন্যে।

Word by word

إِنَّ فِى خَلْقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَٱخْتِلَٰفِ ٱلَّيْلِ وَٱلنَّهَارِ لَءَايَٰتٍ لِّأُو۟لِى ٱلْأَلْبَٰبِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা দাঁড়াইয়া, বসিয়া ও শুইয়া ‌কে স্মরণ করে এবং আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তকরে ও বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি ইহা নিরর্থক সৃষ্টি কর নাই, তুমি পবিত্র, তুমি আমাদেরকে দোজখের শাস্তি হইতে রক্ষা কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহকে যিকির করে দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে এবং যারা চিন্তা ফিকির করে মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে আর বলে: ‘‘আমাদের প্রভু! তুমি এসব অকারণে সৃষ্টি করোনি, তুমি সব কিছুর ত্রুটিমুক্ত নিখুঁত পরিচালক। অতএব তুমি আমাদের রক্ষা করো আগুনের আযাব থেকে।

মুহিউদ্দীন খান

যাঁরা দাঁড়িয়ে, বসে, ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং চিন্তা গবেষণা করে আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষযে, (তারা বলে) পরওয়ারদেগার! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সকল পবিত্রতা তোমারই, আমাদিগকে তুমি দোযখের শাস্তি থেকে বাঁচাও।

Word by word

ٱلَّذِينَ يَذْكُرُونَ ٱللَّهَ قِيَٰمًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِى خَلْقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَٰذَا بَٰطِلًا سُبْحَٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমাদের প্রতিপালক! কাহাকেও তুমি দোজখে নিক্ষেপ করিলে তাহাকে তো তুমি নিশ্চয়ই লাঞ্ছিত করিলে এবং জালিমদের কোন সাহায্যকারী নাই;

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের প্রভু! নিশ্চয়ই তুমি যাকে দাখিল করবে আগুনে, তাকে অবশ্যি লাঞ্ছিত করে ছাড়বে, আর যালিমদের জন্যে থাকবেনা কোনোই সাহায্যকারী।

মুহিউদ্দীন খান

হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয় তুমি যাকে দোযখে নিক্ষেপ করলে তাকে সবসময়ে অপমানিত করলে; আর জালেমদের জন্যে তো সাহায্যকারী নেই।

Word by word

رَبَّنَآ إِنَّكَ مَن تُدْخِلِ ٱلنَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُۥ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমাদের প্রতিপালক ! আমরা এক আহ্বায়ককে ঈমানের দিকে আহ্বান করিতে শুনিয়াছি, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আন।’ সুতরাং আমরা ঈমান আনিয়াছি। ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের পাপ ক্ষমা কর, আমাদের মন্দ কাজগুলি দূরীভূত কর এবং আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের সহগামী করিয়া মৃত্যু দিও।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের প্রভু! আমরা শুনেছি একজন আহবায়ককে আহবান করছেন ঈমানের দিকে (এই বলে:) ‘তোমরা ঈমান আনো তোমাদের প্রভুর প্রতি’। (তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে) আমরা ঈমান এনেছি। আমাদের প্রভু! অতএব তুমি ক্ষমা করে দাও আমাদের সমস্ত পাপ, আমাদের থেকে ঢেকে মুছে দাও আমাদের সমস্ত মন্দকর্ম ও ত্রুটি বিচ্যুতি, আর আমাদের ওফাত দান করো পুণ্যবানদের সাথে।

মুহিউদ্দীন খান

হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিশ্চিতরূপে শুনেছি একজন আহবানকারীকে ঈমানের প্রতি আহবান করতে যে, তোমাদের পালনকর্তার প্রতি ঈমান আন; তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের পালনকর্তা! অতঃপর আমাদের সকল গোনাহ মাফ কর এবং আমাদের সকল দোষত্রুটি দুর করে দাও, আর আমাদের মৃত্যু দাও নেক লোকদের সাথে।

Word by word

رَّبَّنَآ إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِى لِلْإِيمَٰنِ أَنْ ءَامِنُوا۟ بِرَبِّكُمْ فَـَٔامَنَّا رَبَّنَا فَٱغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّـَٔاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ ٱلْأَبْرَارِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে যাহা দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়াছ তাহা আমাদেরকে দাও এবং কিয়ামতের দিন আমাদেরকে হেয় করিও না। নিশ্চয়ই তুমি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম কর না।’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের প্রভু! তোমার রসূলদের মাধ্যমে আমাদের যা দেবে বলে ওয়াদা দিয়েছো তা আমাদের দাও আর কিয়ামতের দিন আমাদের অপমানিত করোনা। নিশ্চয়ই তুমি খেলাফ করোনা ওয়াদা।’’

মুহিউদ্দীন খান

হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে দাও, যা তুমি ওয়াদা করেছ তোমার রসূলগণের মাধ্যমে এবং কিয়ামতের দিন আমাদিগকে তুমি অপমানিত করো না। নিশ্চয় তুমি ওয়াদা খেলাফ করো না।

Word by word

رَبَّنَا وَءَاتِنَا مَا وَعَدتَّنَا عَلَىٰ رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ ٱلْمِيعَادَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তাহাদের প্রতিপালক তাহাদের ডাকে সাড়া দিয়া বলেন, ‘আমি তোমাদের মধ্যে কর্মনিষ্ঠ কোন নর অথবা নারীর কর্ম বিফল করি না ; তোমরা একে অপরের অংশ। সুতরাং যাহারা হিজরত করিয়াছে, নিজ গৃহ হইতে উৎখাত হইয়াছে, আমার পথে নির্যাতিত হইয়াছে এবং যুদ্ধ করিয়াছে ও নিহত হইয়াছে আমি তাহাদের পাপ কাজগুলি অবশ্যই দূরীভূত করিব এবং অবশ্যই তাহাদেরকে দাখিল করিব জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। ইহা ‌র নিকট হইতে পুরস্কার; উত্তম পুরস্কার ‌রই নিকট।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে তাদের প্রভু তাদের দোয়ার জওয়াব দিয়েছেন এই বলে: ‘আমি তোমাদের কোনো পুরুষ বা নারী আমলকারীর আমল বিনষ্ট করিনা। তোমরা একই দলের সদস্য। তাই যারাই আমার জন্যে হিজরত করেছে এবং যাদেরকে নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, আমার পথে কষ্ট দেয়া হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে এবং যারা যুদ্ধ করেছে ও নিহত হয়েছে, আমি অবশ্য অবশ্যি তাদের থেকে মুছে দেবো তাদের পাপ ও দোষত্রুটি এবং অবশ্য অবশ্যি তাদের দাখিল করবো সেইসব জান্নাতে, যেগুলোর নিচে দিয়ে জারি থাকবে নদ - নদী - নহর। এগুলো তারা পাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে আর উত্তম পুরস্কার তো আল্লাহর কাছেই রয়েছে।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাদের পালনকর্তা তাদের দোয়া (এই বলে) কবুল করে নিলেন যে, আমি তোমাদের কোন পরিশ্রমকারীর পরিশ্রমই বিনষ্ট করি না, তা সে পুরুষ হোক কিংবা স্ত্রীলোক। তোমরা পরস্পর এক। তারপর সে সমস্ত লোক যারা হিজরত করেছে, তাদেরকে নিজেদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের প্রতি উৎপীড়ন করা হয়েছে আমার পথে এবং যারা লড়াই করেছে ও মৃত্যুবরণ করেছে, অবশ্যই আমি তাদের উপর থেকে অকল্যাণকে অপসারিত করব। এবং তাদেরকে প্রবিষ্ট করব জান্নাতে যার তলদেশে নহর সমূহ প্রবাহিত। এই হলো বিনিময় আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর আল্লাহর নিকট রয়েছে উত্তম বিনিময়।

Word by word

فَٱسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ أَنِّى لَآ أُضِيعُ عَمَلَ عَٰمِلٍ مِّنكُم مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ بَعْضُكُم مِّنۢ بَعْضٍ فَٱلَّذِينَ هَاجَرُوا۟ وَأُخْرِجُوا۟ مِن دِيَٰرِهِمْ وَأُوذُوا۟ فِى سَبِيلِى وَقَٰتَلُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা করিয়াছে, দেশে দেশে তাহাদের অবাধ বিচরণ যেন কিছুতেই তোমাকে বিভ্রান্ত না করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কুফুরি করেছে, বিশ্বের বুকে তাদের অবাধ বিচরণ যেনো তোমাদের প্রতারিত না করে।

মুহিউদ্দীন খান

নগরীতে কাফেরদের চাল - চলন যেন তোমাদিগকে ধোঁকা না দেয়।

Word by word

لَا يَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ فِى ٱلْبِلَٰدِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা স্বল্পকালীন ভোগমাত্র; অতঃপর জাহান্নাম তাহাদের আবাস ; আর উহা কত নিকৃষ্ট ঠিকানা!

আবদুস শহীদ নাসিম

এ তো স্বল্পকালীন ভোগমাত্র। তারপরই তাদের আবাস হবে জাহান্নাম, আর তা যে কতো নিকৃষ্ট ঠিকানা!

মুহিউদ্দীন খান

এটা হলো সামান্য ফায়দা - এরপর তাদের ঠিকানা হবে দোযখ। আর সেটি হলো অতি নিকৃষ্ট অবস্থান।

Word by word

مَتَٰعٌ قَلِيلٌ ثُمَّ مَأْوَىٰهُمْ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ ٱلْمِهَادُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিন্তু যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে ভয় করে তাহাদের জন্য রহিয়াছে জান্নাত, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে। ইহা ‌র পক্ষ হইতে আতিথ্য ; ‌র নিকট যাহা আছে তাহা সৎকর্মপরায়ণদের জন্য শ্রেয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যারা তাদের প্রভুকে ভয় করবে, তাদের জন্যে থাকবে জান্নাতসমূহ, যেগুলোর নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ নদী নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। এ হবে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে মেহমানদারি। আর আল্লাহর কাছে যা রয়েছে পুণ্যবানদের জন্যে তাই সর্বোত্তম।

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু যারা ভয় করে নিজেদের পালনকর্তাকে তাদের জন্যে রয়েছে জান্নাত যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে প্রস্রবণ। তাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে সদা আপ্যায়ন চলতে থাকবে। আর যা আল্লাহর নিকট রয়েছে, তা সৎকর্মশীলদের জন্যে একান্তই উত্তম।

Word by word

لَٰكِنِ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ رَبَّهُمْ لَهُمْ جَنَّٰتٌ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَا نُزُلًا مِّنْ عِندِ ٱللَّهِ وَمَا عِندَ ٱللَّهِ خَيْرٌ لِّلْأَبْرَارِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিতাবীদের মধ্যে এমন লোক আছে যাহারা ‌র প্রতি বিনয়াবনত হইয়া তাঁহার প্রতি এবং তিনি যাহা তোমাদের ও তাহাদের প্রতি অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহাতে অবশ্যই ঈমান আনে এবং ‌র আয়াত তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে না ; ইহারাই তাহারা যাহাদের জন্য ‌র নিকট পুরস্কার রহিয়াছে। নিশ্চয় ‌ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আহলে কিতাবদের মধ্যে অবশ্যি এমন লোকও আছে যারা আল্লাহর প্রতি বিনয়ী হয়ে ঈমান আনে, এবং ঈমান আনে তোমাদের কাছে যা (যে কিতাব) নাযিল হয়েছে তার প্রতি এবং তাদের কাছে যা (যে কিতাব) নাযিল হয়েছে তার প্রতি; আর তারা নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করেনা আল্লাহর আয়াত। এরা সেইসব লোক যাদের জন্যে তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে তাদের পুরস্কার। অবশ্যি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

মুহিউদ্দীন খান

আর আহলে কিতাবদের মধ্যে কেউ কেউ এমনও রয়েছে, যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনে এবং যা কিছু তোমার উপর অবতীর্ণ হয় আর যা কিছু তাদের উপর অবতীর্ণ হয়েছে সেগুলোর উপর, আল্লাহর সামনে বিনয়াবনত থাকে এবং আল্লার আয়াতসমুহকে স্বল্পমুল্যের বিনিময়ে সওদা করে না, তারাই হলো সে লোক যাদের জন্য পারিশ্রমিক রয়েছে তাদের পালনকর্তার নিকট। নিশ্চয়ই যথাশীঘ্র হিসাব চুকিয়ে দেন।

Word by word

وَإِنَّ مِنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ لَمَن يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْكُمْ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْهِمْ خَٰشِعِينَ لِلَّهِ لَا يَشْتَرُونَ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ ثَمَنًا قَلِيلًا أُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمْ أَجْرُهُم

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে ঈমানদারগণ ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, ধৈর্যে প্রতিযোগিতা কর এবং সর্বদা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাক, ‌কে ভয় কর যাহাতে তোমরা হইতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা সবর অবলম্বন করো, সবরের প্রতিযোগিতা করো এবং ঐক্যবদ্ধ থাকো, আর ভয় করো আল্লাহকে, অবশ্যি তোমরা হবে।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদানগণ! ধৈর্য্য ধারণ কর এবং মোকাবেলায় দৃঢ়তা অবলম্বন কর। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক যাতে তোমরা তোমাদের উদ্দেশ্য লাভে সমর্থ হতে পার।

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱصْبِرُوا۟ وَصَابِرُوا۟ وَرَابِطُوا۟ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme