Kitab

আল হাদীদ

Chapter 57, 29 verses

  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • জহুরুল হক
  • Word by word
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সবই ‌র পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবাই আল্লাহর তসবিহ করছে এবং তিনি মহাশক্তিধর মহাপ্রজ্ঞাবান।

জহুরুল হক

মহাকাশমন্ডলে ও পৃথিবীতে যা - কিছু আছে তা ‌র জপতপ করে, আর তিনি মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।

Word by word

سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব তাঁহারই ; তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান ; তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ ও পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব তাঁর। তিনিই জীবনদান করেন এবং মউত ঘটান। তিনি প্রতিটি বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

জহুরুল হক

তাঁরই হচ্ছে মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, আর তিনিই সব - কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।

Word by word

لَهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ يُحْىِۦ وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই আদি, তিনিই অন্ত; তিনিই ব্যক্ত ও তিনিই গুপ্ত এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনি প্রকাশ্য, তিনি গোপন এবং প্রতিটি বিষয়ে তিনি জ্ঞানী।

জহুরুল হক

তিনিই আদি ও অন্ত আর প্রকাশ্য ও গুপ্ত, কেননা তিনিই সব - কিছু সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।

Word by word

هُوَ ٱلْأَوَّلُ وَٱلْءَاخِرُ وَٱلظَّٰهِرُ وَٱلْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই ছয় দিবসে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন ; অতঃপর আর্‌শে সমাসীন হইয়াছেন। তিনি জানেন যাহা কিছু ভূমিতে প্রবেশ করে ও যাহা কিছু উহা হইতে বাহির হয় এবং আকাশ হইতে যাহা কিছু নামে ও আকাশে যাহা কিছু উত্থিত হয়। তোমরা যেখানেই থাক না - তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন, তোমরা যাহা কিছু কর ‌ তাহা দেখেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি সেই সত্তা, যিনি সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ ও পৃথিবী ছয়টি কালে, অত:পর তিনি সমাসীন হয়েছেন আরশে। তিনি জানেন যা প্রবেশ করে জমিনে এবং যা বের হয় জমিন থেকে, যা নাযিল হয় আসমান থেকে এবং যা মে’রাজ হয় (উঠে যায়) আসমানে। তিনি তোমাদের সাথে থাকেন, তোমরা যেখানেই থাকো। তোমরা যা করো তিনি সবকিছুর দ্রষ্টা।

জহুরুল হক

তিনিই সেইজন যিনি মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, তারপর তিনি সমারোহণ করলেন আরশের উপরে। তিনি জানেন যা পৃথিবীর ভেতরে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে বেরিয়ে আসে, আর যা আকাশ থেকে নেমে আসে এবং যা তাতে উঠে যায়। আর তিনি তোমাদের সঙ্গে রয়েছেন যেখানেই তোমরা থাক না কেন। আর তোমরা যা কর সে - সন্বন্ধে সম্যক দ্রষ্টা।

Word by word

هُوَ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ فِى سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ ٱسْتَوَىٰ عَلَى ٱلْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِى ٱلْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ ٱلسَّمَآءِ وَمَا يَعْرُجُ ف

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব তাঁহারই এবং ‌রই দিকে সমস্ত বিষয় প্রত্যাবর্তিত হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব তাঁরই। আল্লাহর দিকেই ফিরে যায় সমস্ত বিষয়।

জহুরুল হক

তাঁরই হচ্ছে মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আর ‌রই প্রতি ব্যাপার - স্যাপারগুলো ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

Word by word

لَّهُۥ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَإِلَى ٱللَّهِ تُرْجَعُ ٱلْأُمُورُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই রাত্রিকে প্রবেশ করান দিবসে এবং দিবসকে প্রবেশ করান রাত্রিতে, এবং তিনি অন্তর্যামী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই রাতকে ঢুকিয়ে দেন দিনের মধ্যে এবং দিনকে ঢুকিয়ে দেন রাতের মধ্যে এবং তিনিই অন্তরযামী।

জহুরুল হক

তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন এবং দিনকে প্রবেশ করান রাতের মধ্যে। আর বুকের ভেতরে যা - কিছু আছে সে - সন্বন্ধে তিনি সর্বজ্ঞাতা।

Word by word

يُولِجُ ٱلَّيْلَ فِى ٱلنَّهَارِ وَيُولِجُ ٱلنَّهَارَ فِى ٱلَّيْلِ وَهُوَ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা ‌ ও তাঁহার রাসূলের প্রতি ঈমান আন এবং ‌ তোমাদেরকে যাহা কিছুর উত্তরাধিকারী করিয়াছেন তাহা হইতে ব্যয় কর। তোমাদের মধ্যে যাহারা ঈমান আনে ও ব্যয় করে, তাহাদের জন্য আছে মহাপুরস্কার।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি, তাঁর রসূলের প্রতি, আর তোমাদের যা কিছুর উত্তরাধিকারী করেছেন তা থেকে ব্যয় করো (আল্লাহর পথে)। তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনে এবং ব্যয় করে (আল্লাহর পথে) তাদের জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার।

জহুরুল হক

‌র ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনো, এবং খরচ করো তা থেকে যা দিয়ে তিনি এতে তোমাদের উত্তরাধিকারী বানিয়েছেন। সুতরাং তোমাদের মধ্যের যারা ঈমান আনে ও খরচ করে, তাদের জন্য রয়েছে এক বিরাট প্রতিদান।

Word by word

ءَامِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَأَنفِقُوا۟ مِمَّا جَعَلَكُم مُّسْتَخْلَفِينَ فِيهِ فَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مِنكُمْ وَأَنفَقُوا۟ لَهُمْ أَجْرٌ كَبِيرٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের কি হইল যে, তোমরা ‌র প্রতি ঈমান আন না? অথচ রাসূল তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনিতে আহ্‌বান করিতেছে এবং ‌ তোমাদের নিকট হইতে অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছেন, যদি তোমরা হও।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের কী হয়েছে, কেন তোমরা ঈমান আনোনা আল্লাহর প্রতি, অথচ রসূল তোমাদের দাওয়াত দিচ্ছেন ঈমান আনতে তোমাদের প্রভুর প্রতি, আর তো তোমাদের থেকে মজবুত অংগীকার গ্রহণ করেছেনই, যদি তোমরা হয়ে থাকো।

জহুরুল হক

আর তোমাদের কি হয়েছে যে তোমরা ‌তে বিশ্বাস করছ না, অথচ রসূল তোমাদের আহ্বান করছেন যেন তোমরা তোমাদের প্রভুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো, এবং তিনিও ইতিপূর্বেই তোমাদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন, - - যদি তোমরা হয়ে থাকো?

Word by word

وَمَا لَكُمْ لَا تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلرَّسُولُ يَدْعُوكُمْ لِتُؤْمِنُوا۟ بِرَبِّكُمْ وَقَدْ أَخَذَ مِيثَٰقَكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই তাঁহার বান্দার প্রতি সুস্পষ্ট আয়াত অবতীর্ণ করেন, তোমাদেরকে অন্ধকার হইতে আলোকে আনিবার জন্য। ‌ তা তোমাদের প্রতি করুণাময়, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই তাঁর দাসের প্রতি নাযিল করেন সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ যা তোমাদের বের করে আনে অন্ধকাররাশি থেকে আলোতে এবং অবশ্যি তোমাদের প্রতি পরম করুণাময়, পরম দয়াবান।

জহুরুল হক

তিনিই সেইজন যিনি তাঁর বান্দার কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী অবতারণ করছেন যেন তিনি তোমাদের বের কবে আনতে পারেন অন্ধকার থেকে আলোকের মধ্যে। আর নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি তো পরম স্নেহময়, অফুরন্ত ফলদাতা।

Word by word

هُوَ ٱلَّذِى يُنَزِّلُ عَلَىٰ عَبْدِهِۦٓ ءَايَٰتٍۭ بَيِّنَٰتٍ لِّيُخْرِجَكُم مِّنَ ٱلظُّلُمَٰتِ إِلَى ٱلنُّورِ وَإِنَّ ٱللَّهَ بِكُمْ لَرَءُوفٌ رَّحِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা ‌র পথে কেন ব্যয় করিবে না? আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মালিকানা তো ‌রই। তোমাদের মধ্যে যাহারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করিয়াছে ও যুদ্ধ করিয়াছে, তাহারা এবং পরবর্তীরা সমান নয়। তাহারা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ উহাদের অপেক্ষা, যাহারা পরবর্তী কালে ব্যয় করিয়াছে ও যুদ্ধ করিয়াছে। তবে ‌ উভয়ের কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন। তোমরা যাহা কর ‌ তাহা সবিশেষ অবহিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের কী হয়েছে, তোমরা কেন ব্যয় করবেনা আল্লাহর পথে? অথচ মহাকাশ এবং পৃথিবীর মালিকানা তো আল্লাহরই। তোমাদের যারা বিজয়ের আগে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে, তারা ঐসব লোকদের চেয়ে মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ, যারা ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে বিজয়ের পরে। তবে উভয়ের জন্যেই কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। তোমরা যা আমল করো সে বিষয়ে খবর রাখেন

জহুরুল হক

আর তোমাদের কি হয়েছে যে তোমরা ‌র পথে খরচ কর না, অথচ ‌রই হচ্ছে মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর উত্তরাধিকার? তোমাদের মধ্যে তারা সমতুল্য নয় যারা সেই বিজয়ের পূর্বে খরচ করেছিল ও যুদ্ধ করেছিল। এরা শ্রেণীবিভাগে উচ্চতর তাদের থেকে যারা পরবর্তীকালে খরচ করে ও যুদ্ধ করে, আর প্রত্যেককেই ওয়াদা করেছেন কল্যাণের। কেননা তোমরা যা কর সে - সন্বন্ধে পূর্ণ ওয়াকিফহাল।

Word by word

وَمَا لَكُمْ أَلَّا تُنفِقُوا۟ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَلِلَّهِ مِيرَٰثُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ لَا يَسْتَوِى مِنكُم مَّنْ أَنفَقَ مِن قَبْلِ ٱلْفَتْحِ وَقَٰتَلَ أُو۟لَٰٓئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِّنَ ٱلَّذِين

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কে আছে যে ‌কে দিবে উত্তম ঋণ ? তাহা হইলে তিনি বহু গুণে ইহাকে বৃদ্ধি করিবেন তাহার জন্য এবং তাহার জন্য রহিয়াছে সম্মানজনক পুরস্কার।

আবদুস শহীদ নাসিম

কে আছে আল্লাহকে ‘করজে হাসানা’ (উত্তম ঋণ) দেবে, তাহলে তার জন্যে তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেবেন। তাছাড়া তার জন্যে থাকবে সম্মানজনক পুরস্কার।

জহুরুল হক

কে সেইজন যে ‌কে কর্জ দেয় উত্তম কর্জ, ফলে তিনি এটিকে তারজন্য বহুগুণিত করে দেন, আর তার জন্য রয়েছে সম্মানিত পুরস্কার?

Word by word

مَّن ذَا ٱلَّذِى يُقْرِضُ ٱللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَٰعِفَهُۥ لَهُۥ وَلَهُۥٓ أَجْرٌ كَرِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেদিন তুমি দেখিবে নর - নারীগণকে তাহাদের সম্মুখভাগে ও দক্ষিণ পার্শ্বে তাহাদের জ্যোতি ছুটিতে থাকিবে। বলা হইবে, ‘আজ তোমাদের জন্য সুসংবাদ জান্নাতের, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তোমরা স্থায়ী হইবে, ইহাই মহাসাফল্য।’

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তুমি দেখবে, পুরুষ এবং নারীদের, তাদের নূর (আলো) তাদের সামনে এবং ডানে দৌড়াদৌড়ি করছে। তাদের বলা হবে: ‘আজ তোমাদের জন্যে সুসংবাদ জান্নাতের, যার নিচে দিয়ে জারি থাকবে নদ নদী নহর। সেখানে থাকবে তোমরা চিরকাল। আর এটাই মহাসাফল্য।

জহুরুল হক

সেইদিন তুমি বিশ্বাসীদের ও বিশ্বাসিনীদের দেখতে পাবে - - তাদের আলোক ধাবিত হয়েছে তাদের সম্মুখে ও তাদের ডানদিক দিয়ে, - - ''তোমাদের জন্য আজ সুসংবাদ - - স্বর্গোউদ্যানসমূহে যাদের নীচে দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি, সেখানে অবস্থান করবে।’’ এটিই হচ্ছে বিরাট সাফল্য।

Word by word

يَوْمَ تَرَى ٱلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُؤْمِنَٰتِ يَسْعَىٰ نُورُهُم بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَٰنِهِم بُشْرَىٰكُمُ ٱلْيَوْمَ جَنَّٰتٌ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَا ذَٰلِكَ هُوَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীরা মু’মিনদেরকে বলিবে, ‘তোমরা আমাদের জন্য একটু থাম, যাহাতে আমরা তোমাদের জ্যোতির কিছু গ্রহণ করিতে পারি। বলা হইবে, ‘তোমরা তোমাদের পিছনে ফিরিয়া যাও ও আলোর সন্ধান কর।’ অতঃপর উভয়ের মাঝামাঝি স্থাপিত হইবে একটি প্রাচীর যাহাতে একটি দরজা থাকিবে, উহার অভ্যন্তরে থাকিবে রহমত এবং বহির্ভাগে থাকিবে শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন মুনাফিক পুরুষ এবং মুনাফিক নারীরা মুমিনদের বলবে: ‘আপনারা আমাদের জন্যে একটু অপেক্ষা করুন, যাতে আমরা আপনাদের নূর থেকে কিছু (আলো) গ্রহণ করতে পারি।’ তখন তাদের বলা হবে: ‘তোমরা তোমাদের পেছনে ফিরে যাও এবং আলোর সন্ধান করোগিয়ে।’ তখন উভয়ের মাঝখানে স্থাপিত হয়ে যাবে একটি প্রাচীর, যাতে থাকবে একটি দরজা। তার ভেতরভাগে থাকবে রহমত (জান্নাত), আর বহির্ভাগে থাকবে আযাব (জাহান্নাম)।

জহুরুল হক

সেই দিন যখন কপটাচারী ও কপটাচারিণীরা বলবে তাদের যারা বিশ্বাস করেছে - - ''আমাদের দিকে দেখো তো, তোমাদের আলোক থেকে যেন আমরা নিতে পারি।’’ বলা হবে - - ''তোমরা তোমাদের পেছনে ফিরে যাও এবং আলোর খোঁজ কর।’’ তারপর তাদের মধ্যে একটি দেওয়াল দাঁড় করানো হবে যাতে থাকবে একটি দরজা। তার ভেতরের দিকে, সেখানে রয়েছে করুণা, আর তার বাইরের দিকে, তার সামনেই রয়েছে শাস্তি।

Word by word

يَوْمَ يَقُولُ ٱلْمُنَٰفِقُونَ وَٱلْمُنَٰفِقَٰتُ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱنظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِن نُّورِكُمْ قِيلَ ٱرْجِعُوا۟ وَرَآءَكُمْ فَٱلْتَمِسُوا۟ نُورًا فَضُرِبَ بَيْنَهُم بِسُورٍ لَّهُۥ بَابٌۢ بَاطِنُهُۥ ف

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুনাফিকরা মু’মিনদেরকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিবে, ‘আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না?’ তাহারা বলিবে, ‘হাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করিয়াছ। তোমরা প্রতীক্ষা করিয়াছিলে, সন্দেহ পোষণ করিয়াছিলে এবং অলীক আকাঙ্খা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করিয়া রাখিয়াছিল, অবশেষে ‌র হুকুম আসিল। আর মহাপ্রতারক তোমাদেরকে প্রতারিত করিয়াছিল ‌ সম্পর্কে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন মুনাফিকরা মুমিনদের ডেকে বলবে: ‘আমরা কি (পৃথিবীতে) আপনাদের সাথে ছিলাম না?’ তখন তারা বলবে: ‘হাঁ ছিলে, তবে তোমরা নিজেরাই নিজেদের ফিতনায় (পরীক্ষায়) ফেলেছিলে, তোমরা (আমাদের অমঙ্গলের) অপেক্ষা করছিলে, সন্দেহ পোষণ করছিলে এবং অবাস্তব আকাঙ্ক্ষা তোমাদের প্রতারিত করে রেখেছিল। এমনি করে আল্লাহর হুকুম (মৃত্যু কিংবা ইসলামের বিজয়) এসে পড়েছিল, আর মহাপ্রতারক (শয়তান) আল্লাহর ব্যাপারে তোমাদের প্রতারিত করে রেখেছিল।

জহুরুল হক

তারা তাদের ডেকে বলবে - - ''আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না?’’ তারা বলবে - - ''হাঁ, কিন্ত তোমরা তোমাদের নিজেদের প্রলুব্ধ করেছিলে, আর প্রতীক্ষা করেছিলে, আর বৃথা কামনা তোমাদের প্রতারিত করেছিল যে পর্যন্ত না ‌র বিধান এসেছিল, আর সম্পর্কে মহাপ্রতারক তোমাদের প্রতারণা করেছিল।

Word by word

يُنَادُونَهُمْ أَلَمْ نَكُن مَّعَكُمْ قَالُوا۟ بَلَىٰ وَلَٰكِنَّكُمْ فَتَنتُمْ أَنفُسَكُمْ وَتَرَبَّصْتُمْ وَٱرْتَبْتُمْ وَغَرَّتْكُمُ ٱلْأَمَانِىُّ حَتَّىٰ جَآءَ أَمْرُ ٱللَّهِ وَغَرَّكُم بِٱللَّهِ ٱلْغَرُورُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আজ তোমাদের নিকট হইতে কোন মুক্তিপণ গ্রহণ করা হইবে না এবং যাহারা করিয়াছিল তাহাদের নিকট হইতেও নয়। জাহান্নামই তোমাদের আবাসস্থল, ইহাই তোমাদের যোগ্য; কত নিকৃষ্ট এই পরিণাম!’

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং আজ তোমাদের থেকে কোনো ফিদিয়া (মুক্তিপণ) গ্রহণ করা হবেনা এবং কাফিরদের থেকেও নয়। জাহান্নামই হবে তোমাদের আবাস এবং সেটাই হবে তোমাদের মাওলা (তত্ত্বাবধায়ক), আর সেটা যে কতো নিকৃষ্ট পরিণাম!

জহুরুল হক

''সেজন্য আজকের দিনে তোমাদের থেকে কোনো মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে না, আর যারা অবিশ্বাস করেছিল তাদের থেকেও নয়। তোমাদের আবাসস্থল হচ্ছে জাহান্নাম, এই - ই তোমাদের মুরব্বী, আর কত নিকৃষ্ট গন্তব্যস্থল!’’

Word by word

فَٱلْيَوْمَ لَا يُؤْخَذُ مِنكُمْ فِدْيَةٌ وَلَا مِنَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مَأْوَىٰكُمُ ٱلنَّارُ هِىَ مَوْلَىٰكُمْ وَبِئْسَ ٱلْمَصِيرُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ঈমান আনে তাহাদের হৃদয় ভক্তি - বিগলিত হইবার সময় কি আসে নাই, ‌র স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাতে ? এবং পূর্বে যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছিল তাহাদের মত যেন উহারা না হয় - বহু কাল অতিক্রান্ত হইয়া গেলে যাহাদের অন্তকরণ কঠিন হইয়া পড়িয়াছিল। উহাদের অধিকাংশই সত্যত্যাগী।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর যিকির এবং তিনি যে মহাসত্য (আল কুরআন) নাযিল করেছেন তার পাঠে তাদের হৃদয় বিগলিত হবার সময় কি এখনো হয়নি? ইতোপূর্বে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছিল, এরা যেনো তাদের মতো না হয়। (তাদের অবস্থা এমন হয়েছিল যে,) একটা দীর্ঘসময় অতিবাহিত হবার পর তাদের অন্তর কঠিন হয়ে পড়েছিল এবং তাদের অনেকেই হয়ে পড়েছিল ফাসিক।

জহুরুল হক

এখনও কি সময় হয় নি তাদের জন্য যে যারা বিশ্বাস করে তাদের হৃদয় বিনত হবে ‌র স্মরণে এবং সত্যের যা অবতীর্ণ হয়েছে? আর তারা ওদের মতো না হোক যাদের পূর্ববর্তীকালে গ্রন্থ দেওয়া হয়েছিল, কিন্ত সময় তাদের জন্য সুদীর্ঘ মনে হয়েছিল, ফলে তাদের হৃদয় কঠিন হয়ে পড়েছিল। আর তাদের মধ্যের অনেকেই হয়েছিল সত্যত্যাগী।

Word by word

أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ ٱللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ ٱلْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا۟ كَٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ مِن قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ ٱلْأَمَدُ فَقَسَتْ قُل

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

জানিয়া রাখ, ‌ই ধরিত্রীকে উহার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন। আমি নিদর্শনগুলি তোমাদের জন্য বিশদভাবে ব্যক্ত করিয়াছি যাহাতে তোমরা বুঝিতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

জেনে রাখো, মরে শুকিয়ে যাবার পর জমিনকে পুনর্জীবিত করেন। এভাবে আমরা তোমাদের জন্যে বিশদ বিবরণ দেই আমাদের আয়াতের, যাতে করে তোমরা বুঝতে পারো।

জহুরুল হক

তোমরা জেনে রাখো যে পৃথিবীটাকে তার মৃত্যুর পরে প্রাণ সঞ্চার করেন। আমরা তো তোমাদের জন্য নির্দেশাবলী সুস্পষ্ট করে দিয়েছি যেন তোমরা বুঝতে পার।

Word by word

ٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ يُحْىِ ٱلْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ ٱلْءَايَٰتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দানশীল পুরুষগণ ও দানশীলা নারীগণ, এবং যাহারা ‌কে উত্তম ঋণ দান করে তাহাদেরকে দেওয়া হইবে বহুগুণ বেশি এবং তাহাদের জন্য রহিয়াছে সম্মানজনক পুরস্কার।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই দানশীল পুরুষ এবং দানশীল নারীদের এবং যারা আল্লাহকে করযে হাসানা (উত্তম ঋণ) দেয়, তাদের (ফেরত) দেয়া হবে বহুগুণ বেশি এবং তাদের জন্যে রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ দানশীল পুরুষ ও দানশীলা নারীরা আর যারা ‌কে উত্তম ঋণ দান করে - - তাদের জন্য তা বহুগুণিত করা হবে, আর তাদের জন্য রয়েছে সম্মানিত পুরস্কার।

Word by word

إِنَّ ٱلْمُصَّدِّقِينَ وَٱلْمُصَّدِّقَٰتِ وَأَقْرَضُوا۟ ٱللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَٰعَفُ لَهُمْ وَلَهُمْ أَجْرٌ كَرِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ‌ ও তাঁহার রাসূলে ঈমান আনে, তাহারাই তাহাদের প্রতিপালকের নিকট সিদ্দীক ও শহীদ। তাহাদের জন্য রহিয়াছে তাহাদের প্রাপ্য পুরস্কার ও জ্যোতি এবং যাহারা করিয়াছে ও আমার নিদর্শন অস্বীকার করিয়াছে, উহারাই জাহান্নামের অধিবাসী।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলের প্রতি, তারাই তাদের প্রভুর কাছে সিদ্দিক (সত্যনিষ্ঠ) এবং শহীদ (সত্যের সাক্ষ্য)। তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে তাদের পুরস্কার এবং নূর। আর যারা কুফুরি করে এবং অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করে আমাদের আয়াত, তারাই হবে জাহিমের (জাহান্নামের) অধিবাসী।

জহুরুল হক

আর যারা ‌র প্রতি ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, তারাই খোদ সত্যপরায়ণ এবং তাদের প্রভুর সমক্ষে সাক্ষ্যদাতা। তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রতিদান ও তাদের আলোক। পক্ষান্তরে যারা অবিশ্বাস করে ও আমাদের নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করে, তারাই হচ্ছে ভয়ংকর আগুনের বাসিন্দা।

Word by word

وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦٓ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلصِّدِّيقُونَ وَٱلشُّهَدَآءُ عِندَ رَبِّهِمْ لَهُمْ أَجْرُهُمْ وَنُورُهُمْ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَكَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَآ أُو۟لَٰٓئِكَ أَصْحَٰبُ ٱل

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা জানিয়া রাখ, পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া - কৌতুক, জাঁকজমক, পারস্পরিক শ্লাঘা, ধন - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততিতে প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা ব্যতীত আর কিছু নয়। উহার উপমা বৃষ্টি, যদ্দ্বারা উৎপন্ন শস্য - সম্ভার কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, অতঃপর উহা শুকাইয়া যায়, ফলে তুমি উহা পীতবর্ণ দেখিতে পাও, অবশেষে উহা খড় - কুটায় পরিণত হয়। পরকালে রহিয়াছে কঠিন শাস্তি এবং ‌র ক্ষমা ও সন্তুষ্টি।পার্থিব জীবন প্রতারণার সামগ্রী ব্যতীত কিছুই নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

জেনে রাখো, দুনিয়ার জীবনটা হলো খেল তামাশা, চাকচিক্য, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধনমাল ও সন্তান - সন্ততির প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা। এর উপমা হলো বৃষ্টি, যার উৎপাদিত শস্য কৃষকদের উৎফুল্ল করে। তারপর তা শুকিয়ে যায়। ফলে তুমি দেখতে পাও তা হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে, অবশেষে তা পরিণত হয় খড়কুটায়। আর আখিরাতে রয়েছে কঠোর আযাব, মাগফিরাত (ক্ষমা) এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। দুনিয়ার জীবনটা প্রতারণার সামগ্রী ছাড়া আর কিছু নয়।

জহুরুল হক

তোমরা জেনে রাখো যে পার্থিব জীবনটা তো খেলা - ধূলো ও আমোদ - প্রমোদ ও জাঁকজমক ও তোমাদের নিজেদের মধ্যে হামবড়াই এবং ধনদৌলত ও সন্তানসন্ততির প্রতিযোগিতা মাত্র। এটি বৃষ্টির উপমার মতো যার উৎপাদন চাষীদের চমৎকৃত করে, তারপর তা শুকিয়ে যায়, তুমি তখন তা দেখতে পাও হলদে হয়ে গেছে, অবশেষে তা খড়কুটো হয়ে যায়! আর পরকালে রয়েছে কঠোর শাস্তি, পক্ষান্তরে রয়েছে ‌র কাছ থেকে পরিত্রাণ ও সন্তষ্টি। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগবিলাস বৈ তো নয়।

Word by word

ٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّمَا ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌۢ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِى ٱلْأَمْوَٰلِ وَٱلْأَوْلَٰدِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ ٱلْكُفَّارَ نَبَاتُهُۥ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَىٰهُ مُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা অগ্রণী হও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা ও সেই জান্নাত লাভের প্রয়াসে যাহা প্রশস্ততায় আকাশ ও পৃথিবীর মত, যাহা প্রস্তুত করা হইয়াছে তাহাদের জন্য যাহারা ‌ ও তাঁহার রাসূলগণে ঈমান আনে। ইহা ‌র অনুগ্রহ, যাহাকে ইচ্ছা তিনি ইহা দান করেন; ‌ মহাঅনুগ্রহশীল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা প্রতিযোগিতা করে দৌড়ে এসো তোমাদের প্রভুর ক্ষমার দিকে আর সেই জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আসমান জমিনের প্রশস্ততার মতো। এই জান্নাত প্রস্ত্তত রাখা হয়েছে তাদের জন্যে, যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি এবং রসূলদের প্রতি। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। অতীব অনুগ্রহপরায়ণ।

জহুরুল হক

তোমরা প্রতিযোগিতা করো তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য এবং এমন এক জান্নাতের জন্য যার বিস্তার হচ্ছে মহাকাশ ও পৃথিবীর বিস্তৃতির মতো, - - এটি তৈরি করা হয়েছে তাদের জন্য যারা ‌তে ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনে। এ হচ্ছে ‌র অনুগ্রহ প্রাচুর্য, তিনি তা প্রদান করেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন। বস্তুত বিরাট করুণাভান্ডারের অধিকারী।

Word by word

سَابِقُوٓا۟ إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦ ذَٰلِكَ فَضْلُ ٱللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَآءُ وَٱللَّهُ ذُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে আমি উহা সংঘটিত করিবার পূর্বেই উহা লিপিবদ্ধ থাকে ; ‌র পক্ষে ইহা খুবই সহজ।

আবদুস শহীদ নাসিম

পৃথিবীতে কিংবা তোমাদের জীবনে যে বিপদ মসিবত আসে, তা সংঘটিত করার আগেই লিপিবদ্ধ থাকে, এটা আল্লাহর জন্যে খুবই সহজ।

জহুরুল হক

এমন কোনো বিপর্যয় পৃথিবীতে পতিত হয় না আর তোমাদের নিজেদের উপরেও নয় যা আমরা ঘটাবার আগে একটি কিতাবে না রয়েছে। নিঃসন্দেহ এটি ‌র জন্যে সহজ।

Word by word

مَآ أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَا فِىٓ أَنفُسِكُمْ إِلَّا فِى كِتَٰبٍ مِّن قَبْلِ أَن نَّبْرَأَهَآ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى ٱللَّهِ يَسِيرٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা এইজন্য যে, তোমরা যাহা হারাইয়াছ তাহাতে যেন তোমরা বিমর্ষ না হও, এবং যাহা তিনি তোমাদেরকে দিয়াছেন তাহার জন্য হর্ষোৎফুল্ল না হও। ‌ পসন্দ করেন না উদ্ধত ও অহংকারীদেরকে -

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে করে তোমরা যা হারাও, তাতে বিমর্ষ না হয়ে পড়ো এবং যা তিনি তোমাদের দেন তাতে অতি উৎফুল্ল না হয়ে পড়ো। তো উদ্ধত দাম্ভিকদের পছন্দ করেন না।

জহুরুল হক

এজন্য যে তোমরা যেন দুঃখ করো না যা তোমাদের থেকে হারিয়ে যায়, এবং তোমরা যেন উল্লাস না করো যা তিনি তোমাদের প্রদান করেন সেজন্য। আর ভালবাসেন না সমূদয় অবিবেচক অহংকারীকে, - -

Word by word

لِّكَيْلَا تَأْسَوْا۟ عَلَىٰ مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا۟ بِمَآ ءَاتَىٰكُمْ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা কার্পণ্য করে ও মানুষকে কার্পণ্যের নির্দেশ দেয় এবং যে মুখ ফিরাইয়া নেয় সে জানিয়া রাখুক ‌ তো অভাবমুক্ত, প্রশংসার্হ।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা বখিলি করে এবং মানুষকে বখিলি করার আদেশ করে এবং যারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা জেনে রাখুক, অভাবমুক্ত সপ্রশংসিত।

জহুরুল হক

যারা কার্পণ্য করে, আর লোকেদেরও কার্পণ্যের নির্দেশ দেয়। আর যে কেউ ফিরে যায়, তবে নিশ্চয় , তিনিই ধনবান, প্রশংসার্হ।

Word by word

ٱلَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ ٱلنَّاسَ بِٱلْبُخْلِ وَمَن يَتَوَلَّ فَإِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْغَنِىُّ ٱلْحَمِيدُ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলগণকে প্রেরণ করিয়াছি স্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাহাদের সঙ্গে দিয়াছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাহাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে। আমি লৌহও দিয়াছি যাহাতে রহিয়াছে প্রচণ্ড শক্তি ও রহিয়াছে মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ। ইহা এইজন্য যে, ‌ প্রকাশ করিয়া দেন কে প্রত্যক্ষ না করিয়াও তাঁহাকে ও তাঁহার রাসূলগণকে সাহায্য করে। অবশ্যই ‌ শক্তিমান, পরাক্রমশালী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা আমাদের রসূলদের পাঠিয়েছি সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এবং তাদের সাথে আমরা নাযিল করেছি কিতাব আর মিজান (মানদন্ড), যাতে করে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে। তাছাড়া আমরা নাযিল করেছি ইস্পাত, যাতে রয়েছে প্রচন্ড শক্তি এবং মানুষের জন্যে বহু রকম মুনাফা। এটা এ জন্যে, যাতে বাস্তবে জেনে নেন, না দেখেও কারা আল্লাহকে এবং তাঁর রসূলদেরকে সাহায্য করে? নিশ্চয়ই শক্তিমান, পরাক্রমশালী।

জহুরুল হক

আমরা তো আমাদের রসূলগণকে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম সুস্পষ্ট প্রমাণাদি দিয়ে, আর তাঁদের সঙ্গে আমরা অবতারণ করেছিলাম ধর্মগ্রন্থ ও মানদন্ড যাতে লোকেরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে, আর আমরা লোহা পাঠিয়েছি যাতে রয়েছে বিরাট শক্তিমত্তা ও মানুষের জন্য উপকারিতা, আর যেন জানতে পারেন কে তাঁকে ও তাঁর রসূলগণকে অগোচরেও সাহায্য করে। নিঃসন্দেহ মহাবলীয়ান, মহাশক্তিশালী।

Word by word

لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِٱلْبَيِّنَٰتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْمِيزَانَ لِيَقُومَ ٱلنَّاسُ بِٱلْقِسْطِ وَأَنزَلْنَا ٱلْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَٰفِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ ٱللَّهُ مَن

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি নূহ্ এবং ইব্‌রাহীমকে রাসূলরূপে প্রেরণ করিয়াছিলাম এবং আমি তাহাদের বংশধরগণের জন্য স্থির করিয়াছিলাম নবুওয়াত ও কিতাব, কিন্তু উহাদের অল্পই সৎপথ অবলম্বন করিয়াছিল এবং অধিকাংশই ছিল সত্যত্যাগী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা নূহ এবং ইবরাহিমকে রসূল বানিয়ে পাঠিয়েছিলাম এবং তাদের বংশধরদের মধ্যে দিয়েছিলাম নবুয়্যত এবং কিতাব। কিন্তু তাদের কিছু লোক হিদায়াতের পথ অনুসরণ করলেও অধিকাংশই ছিলো ফাসিক।

জহুরুল হক

আর আমরা ইতিপূর্বে নূহ্‌কে ও ইব্রাহীমকে পাঠিয়েছিলাম, আর তাঁদের বংশধরদের মধ্যে নবুওৎ ও গ্রন্থ সংস্থাপন করেছিলাম, কাজেই তাদের কেউ - কেউ ছিল সৎপথপ্রাপ্ত, কিন্ত তাদের অধিকাংশই ছিল সত্যত্যাগী।

Word by word

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا وَإِبْرَٰهِيمَ وَجَعَلْنَا فِى ذُرِّيَّتِهِمَا ٱلنُّبُوَّةَ وَٱلْكِتَٰبَ فَمِنْهُم مُّهْتَدٍ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَٰسِقُونَ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর আমি তাহাদের পশ্চাতে অনুগামী করিয়াছিলাম আমার রাসূলগণকে এবং অনুগামী করিয়াছিলাম মার্‌ইয়াম - তনয় ঈসাকে, আর তাহাকে দিয়াছিলাম ইঞ্জীল এবং তাহার অনুসারীদের অন্তরে দিয়াছিলাম করুণা ও দয়া। আর সন্ন্যাসবাদ - ইহা তো উহারা নিজেরাই ‌র সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রবর্তন করিয়াছিল। আমি উহাদেরকে ইহার বিধান দেই নাই ; অথচ ইহাও উহারা যথাযথভাবে পালন করে নাই। উহাদের মধ্যে যাহারা ঈমান আনিয়াছিল, উহাদেরকে আমি দিয়াছিলাম পুরস্কার এবং উহাদের অধিকাংশই সত্যত্যাগী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা তাদের আদর্শের অনুগামী করেছিলাম আরো অনেক রসূলকে এবং অনুগামী করেছিলাম ঈসা ইবনে মরিয়মকে আর তাকে দিয়েছিলাম ইনজিল। তার অনুসারীদের অন্তরে দিয়েছিলাম, করুণা এবং দয়া। আর বৈরাগ্য - যা তারা নিজেরাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যে উদ্ভাবন করে নিয়েছিল, আমরা এই বিধান তাদের দেইনি। অথচ এটাও তারা যথাযথভাবে পালন করেনি। ফলে তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিল আমরা তাদের দিয়েছিলাম তাদের পুরস্কার। তবে তাদের অধিকাংশই ছিলো ফাসিক (সত্যত্যাগী)।

জহুরুল হক

তারপর আমাদের রসূলগণকে তাঁদের পদচিহ্নে চলতে দিয়েছিলাম, আর মরিয়ম - পুত্র ঈসাকে আমরা অনুসরণ করিয়েছিলাম ও তাঁকে আমরা ইনজীল দিয়েছিলাম, আর যারা তাঁর অনুসরণ করেছিল তাদের অন্তরে আমরা সদয়তা ও করুণা দিয়েছিলাম। কিন্ত সন্ন্যাসবাদ - - তারাই এটি আবিস্কার করেছিল, আমরা তাদের প্রতি এটি লিপিবদ্ধ করি নি, শুধু ‌র সন্তষ্টির অনুসন্ধান করা, কিন্ত তারা এটি পালন করে নি যেমনটা এটি পালনের যোগ্য ছিল। ফলে তাদের মধ্যের যারা ঈমান এনেছিল তাদের আমরা দিয়েছিলাম তাদের প্রতিদান, কিন্ত তাদের অধিকাংশই ছিল সত্যত্যাগী।

Word by word

ثُمَّ قَفَّيْنَا عَلَىٰٓ ءَاثَٰرِهِم بِرُسُلِنَا وَقَفَّيْنَا بِعِيسَى ٱبْنِ مَرْيَمَ وَءَاتَيْنَٰهُ ٱلْإِنجِيلَ وَجَعَلْنَا فِى قُلُوبِ ٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوهُ رَأْفَةً وَرَحْمَةً وَرَهْبَانِيَّةً ٱبْتَدَعُوهَا مَا

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! ‌কে ভয় কর এবং তাঁহার রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তিনি তাঁহার অনুগ্রহে তোমাদেরকে দিবেন দ্বিগুণ পুরস্কার এবং তিনি তোমাদেরকে দিবেন আলো, যাহার সাহায্যে তোমরা চলিবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করিবেন; ‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং ঈমান আনো তাঁর রসূলের প্রতি, তিনি তাঁর অনুগ্রহে তোমাদের দেবেন দ্বিগুণ পুরস্কার, আর তোমাদের দেবেন নূর (আলো) যার সাহায্যে তোমরা পথ চলবে (জীবন যাপন করবে) এবং তিনি তোমাদের ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল দয়াবান।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! ‌কে ভয়ভক্তি করো এবং তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করো, তিনি তাঁর করুণা থেকে দুটি অংশ তোমাদের প্রদান করবেন, আর তোমাদের জন্য তিনি একটি আলোক স্থাপন করবেন যার মধ্যে তোমরা পথ চলতে পারো, এবং তিনি তোমাদের পরিত্রাণ করতে পারেন। আর পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা - -

Word by word

يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَءَامِنُوا۟ بِرَسُولِهِۦ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِن رَّحْمَتِهِۦ وَيَجْعَل لَّكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِۦ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَٱللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা এইজন্য যে, কিতাবীগণ যেন জানিতে পারে, ‌র সামান্যতম অনুগ্রহের উপরও উহাদের কোন অধিকার নাই। অনুগ্রহ ‌রই ইখ্‌তিয়ারে, যাহাকে ইচ্ছা তাহাকে তিনি তাহা দান করেন। মহাঅনুগ্রহশীল।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা এজন্যে যে, আহলে কিতাবরা যেনো জানতে পারে, আল্লাহর সামান্যতম অনুগ্রহের উপরও তাদের কোনো অধিকার নেই। সমস্ত অনুগ্রহ আল্লাহরই এখতিয়ারে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর মহা অনুগ্রহশীল।

জহুরুল হক

গ্রন্থধারীরা হয়ত নাও জানতে পারে যে তারা ‌র করুণাভান্ডারের মধ্যের কোনো কিছুতেই ক্ষমতা রাখে না, আর এই যে করুণাভান্ডার তো ‌রই হাতে রয়েছে, তিনি এটি প্রদান করেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন। বস্তুত বিরাট করুণাভান্ডারের অধিকারী।

Word by word

لِّئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ ٱلْكِتَٰبِ أَلَّا يَقْدِرُونَ عَلَىٰ شَىْءٍ مِّن فَضْلِ ٱللَّهِ وَأَنَّ ٱلْفَضْلَ بِيَدِ ٱللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَآءُ وَٱللَّهُ ذُو ٱلْفَضْلِ ٱلْعَظِيمِ

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme