Kitab

আল নাজম

Chapter 53, 62 verses

  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • জহুরুল হক
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শপথ নক্ষত্রের, যখন উহা হয় অস্তমিত,

আবদুস শহীদ নাসিম

শপথ নক্ষত্রের, যখন তারা অস্তমিত হয়,

জহুরুল হক

ভাবো তারকার কথা, যখন তা অস্ত যায়!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয়,

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের সাথি বিপথগামীও হয়নি, বিভ্রান্তও হয়নি।

জহুরুল হক

তোমাদের সঙ্গী দোষ - ত্রুটি করেন না, আর তিনি বিপথেও যান না,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং সে মনগড়া কথাও বলে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে নিজের খেয়াল খুশি মতো কথা বলেনা।

জহুরুল হক

আর তিনি ইচ্ছামত কোনো কথা বলেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা তো ওহী, যাহা তাহার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়,

আবদুস শহীদ নাসিম

সে যা বলে তা তো অহি, যা তার কাছে পাঠানো হয়।

জহুরুল হক

এইখানা প্রত্যাদিষ্ট হওয়া প্রত্যাদেশবাণী বৈ তো নয়, - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাকে শিক্ষা দান করে শক্তিশালী,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকে (এ কুরআন) শিক্ষা দেয় এক শক্তিধর

জহুরুল হক

তাঁকে শিখিয়েছেন বিরাট শক্তিমান - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রজ্ঞাসম্পন্ন, সে নিজ আকৃতিতে স্থির হইয়াছিল,

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রজ্ঞাবান (জিবরিল)। নিজের আকৃতিতে সে স্থির হয়েছিল,

জহুরুল হক

বলবীর্যের অধিকারী। কাজেই তিনি পরিপূর্ণতায় পৌঁছলেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তখন সে ঊর্ধ্বদিগন্তে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে ছিলো উপর দিগন্তে,

জহুরুল হক

আর তিনি রয়েছেন ঊর্ধ্ব দিগন্তে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর সে তাহার নিকটবর্তী হইল, অতি নিকটবর্তী,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর সে তার কাছে আসে এবং অতি কাছে,

জহুরুল হক

তারপর তিনি সন্নিকটে এলেন, অতঃপর তিনি অবনত করলেন,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফলে তাহাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রহিল অথবা উহারও কম।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে তাদের মাঝখানে ব্যবধান বাকি থাকে মাত্র দুই ধনুকের ব্যবধান অথবা তার চাইতেও কম।

জহুরুল হক

তখন তিনি দুই ধনুকের ব্যবধানে রইলেন, অথবা আরও কাছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তখন ‌ তাঁহার বান্দার প্রতি যাহা ওহী করিবার তাহা ওহী করিলেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তাঁর বান্দার প্রতি অহি করেন (জিবরিলের মাধ্যমে) যা অহি করার।

জহুরুল হক

তখন তিনি তাঁর বান্দার কাছে প্রত্যাদেশ করলেন যা তিনি প্রত্যাদেশ করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহা সে দেখিয়াছে, তাহার অন্তঃকরণ তাহা অস্বীকার করে নাই;

আবদুস শহীদ নাসিম

হৃদয় যা দেখেছে, সে তা ভুল করেনি।

জহুরুল হক

হৃদয় অস্বীকার করে নি যা তিনি দেখেছিলেন তাতে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে যাহা দেখিয়াছে তোমরা কি সে বিষয়ে তাহার সঙ্গে বিতর্ক করিবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

সে যা দেখেছে তোমরা কি সে বিষয়ে তার সাথে বিতর্ক করবে?

জহুরুল হক

তোমরা কি তবে তাঁর সঙ্গে বিতর্ক করবে যা তিনি দেখেছেন সে - সন্বন্ধে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই সে তাহাকে আরেকবার দেখিয়াছিল

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই সে তাকে পরেও একবার দেখেছিল

জহুরুল হক

আর তিনি নিশ্চয়ই তাঁকে দেখেছিলেন অন্য এক অবতরণে - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রান্তবর্তী বদরী বৃক্ষের নিকট,

আবদুস শহীদ নাসিম

সিদরাতুল মুনতাহার কাছে।

জহুরুল হক

দূরদিগন্তের সিদরাহ্‌ - গাছের কাছে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহার নিকট অবস্থিত বাসোদ্যান।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার কাছেই রয়েছে জান্নাতুল মা’ওয়া।

জহুরুল হক

তার কাছে আছে চির - উপভোগ্য উদ্যান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন বৃক্ষটি, যদ্দ্বারা আচ্ছাদিত হইবার তদ্দ্বারা ছিল আচ্ছাদিত,

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন সে সিদরাটি (কুল গাছটি) যা দিয়ে ঢাকার তা দিয়ে আচ্ছাদিত ছিলো।

জহুরুল হক

দেখো! যা আচ্ছাদন করে তা ঢেকে দিয়েছিল সিদরাহ্‌ - গাছকে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহার দৃষ্টিবিভ্রম হয় নাই, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যুতও হয় নাই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার নজর বিভ্রম ঘটেনি এবং সে বিচ্যুতও হয়নি।

জহুরুল হক

দৃষ্টি বিভ্রান্ত হয় নি এবং তা সীমা ছাড়িয়েও যায় নি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে তো তাহার প্রতিপালকের মহান নিদর্শনাবলী দেখিয়াছিল;

আবদুস শহীদ নাসিম

সে তো তার প্রভুর শ্রেষ্ঠ নিদর্শনাবলি দেখেছে।

জহুরুল হক

তিনি নিশ্চয়ই তাঁর প্রভুর শ্রেষ্ঠ নিদর্শনগুলোর মধ্যে চেয়ে দেখেছিলেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ ‘লাত’ ও ‘উয্‌যা’ সম্বন্ধে

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কি লাত ও উযযার বিষয়টি ভেবে দেখেছো?

জহুরুল হক

তোমরা কি তবে ভেবে দেখেছ লাত ও 'উযযা,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তৃতীয় আরেকটি ‘মানাত’ সম্বন্ধে?

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তৃতীয় আরেকটি মানাতের বিষয়টি?

জহুরুল হক

এবং মানাত, - - তৃতীয় আরেকটি?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে কি তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান এবং ‌র জন্য কন্যা সন্তান ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে কি তোমাদের জন্যে পুত্র সন্তান আর আল্লাহর জন্যে কন্যা সন্তান?

জহুরুল হক

তোমাদের জন্য পুত্রসন্তান আর তাঁর জন্য কন্যা!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই প্রকার বণ্টন তো অসংগত।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ ধরণের ভাগ তো সম্পূর্ণ অন্যায়।

জহুরুল হক

এ তো বড়ই অসংগত বন্টন!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইগুলি কতক নামমাত্র যাহা তোমাদের পূর্বপুরুষগণ ও তোমরা রাখিয়াছ, যাহার সমর্থনে ‌ কোন দলীল প্রেরণ করেন নাই। তাহারা তো অনুমান এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে, অথচ তাহাদের নিকট তাহাদের প্রতিপালকের পথনির্দেশ আসিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের এগুলো তো কতোগুলো নামমাত্র, তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষরা এসব নাম দিয়েছো। তো এগুলোর সমর্থনে কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি। তোমরা তো অনুমান এবং কামনা - বাসনারই অনুসরণ করো। অথচ এদের কাছে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে হিদায়াত এসেছে।

জহুরুল হক

তারা নামাবলী বৈ তো নয়, যা তোমরা নামকরণ করেছ - - তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষরা, যাদের জন্য কোনো সনদ পাঠান নি। তারা তো শুধু অনুমানের এবং যা তাদের অন্তর কামনা করে তারই অনুসরণ করে। অথচ তাদের প্রভুর কাছ থেকে তাদের কাছে পথনির্দেশ অবশ্যই এসে গেছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মানুষ যাহা চায় তাহাই কি সে পায়?

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি মানুষ যা চায়, তাই পায়?

জহুরুল হক

অথবা মানুষের জন্য কি তাই থাকবে যা সে কামনা করে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বস্তুত ইহকাল ও পরকাল ‌রই।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রকৃতপক্ষে, ইহকাল এবং সবই আল্লাহর।

জহুরুল হক

কিন্ত শেষটা তো ‌র, আর প্রথমটাও।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আকাশে কত ফিরিশ্‌তা রহিয়াছে ; উহাদের সুপারিশ কিছুমাত্র ফলপ্রসূ হইবে না, তবে ‌র অনুমতির পর ; যাহার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন ও যাহার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশে কতো যে ফেরেশতা রয়েছে, তাদের শাফায়াতে কিছুমাত্র লাভ হবেনা, তবে যদি অনুমতি দেন তারপর, এবং তিনি যার জন্যে অনুমতি দেন, আর তিনি যার প্রতি সন্তুষ্ট হন।

জহুরুল হক

আর মহাকাশমন্ডলে কত যে ফিরিশ্‌তা রয়েছে যাদের সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না যতক্ষণ না অনুমতি দেন তার জন্য যাকে তিনি ইচ্ছা করেন ও তিনি সন্তষ্ট হয়েছেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহারাই নারীবাচক নাম দিয়া থাকে ফিরিশ্‌তাদেরকে;

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই যারা আখিরাতের প্রতি ঈমান আনেনা, তারাই ফেরেশতাদের নারীবাচক নাম দিয়ে থাকে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তারা ফিরিশ্‌তাদের নাম দেয় মেয়েদের নামে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অথচ এই বিষয়ে উহাদের কোন জ্ঞান নাই, উহারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে; কিন্তু সত্যের মুকাবিলায় অনুমানের কোনই মূল্য নাই।

আবদুস শহীদ নাসিম

অথচ এ ব্যাপারে তাদের কোনো এলেমই নেই। তারা তো কেবল অনুমানের পিছে ছুটে। কিন্তু অনুমান সত্যের মোকাবেলায় কোনো কাজেই লাগেনা।

জহুরুল হক

আর এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। তারা তো অনুমানেরই অনুসরণ করছে, আর নিঃসন্দেহ সত্যের বিরুদ্ধে অনুমানে কোনো লাভ হয় না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব যে আমার স্মরণে বিমুখ তুমি তাহাকে উপেক্ষা করিয়া চল; সে তো কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং যে আমার যিকির থেকে বিমুখ, তাকে উপেক্ষা করে চলো। সে তো দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছুই কামনা করেনা।

জহুরুল হক

সেজন্য তাকে উপেক্ষা করো যে আমাদের উপদেশ থেকে ফিরে যায় আর দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কিছু চায় না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের জ্ঞানের দৌড় এই পর্যন্ত। তোমার প্রতিপালকই ভাল জানেন কে তাঁহার পথ হইতে বিচ্যুত, তিনিই ভাল জানেন কে সৎপথপ্রাপ্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জ্ঞানের দৌড় এ পর্যন্তই শেষ। তোমার প্রভু ভালো করেই জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, আর তিনি তাকেও ভালো করেই জানেন, যে সঠিক পথের অনুসারী।

জহুরুল হক

এইটিই তাদের জ্ঞানের শেষসীমা। নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু - - তিনিই ভাল জানেন তাকে যে তার পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে, আর তিনিই ভাল জানেন যে সৎপথপ্রাপ্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আকাশমণ্ডলীতে যাহা কিছু আছে ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহা ‌রই। যাহারা মন্দ কর্ম করে তাহাদেরকে তিনি দেন মন্দ ফল এবং যাহারা সৎকর্ম করে তাহাদেরকে দেন উত্তম পুরস্কার।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর, যাতে করে যারা বদ আমল করে তাদের মন্দ প্রতিফল দিয়ে দেন, আর যারা নেক আমল করে, তাদের শুভ প্রতিফল দান করেন।

জহুরুল হক

আর মহাকাশমন্ডলে যা - কিছু আছে এবং যা - কিছু আছে পৃথিবীতে তা ‌রই, যেন যারা মন্দ কাজ করেছে তাদের তিনি প্রতিফল দিতে পারেন যা তারা করেছে সেজন্য, আর যারা সৎকাজ করেছে তাদের তিনি ভালভাবে প্রতিদান দিতে পারেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারাই বিরত থাকে গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কার্য হইতে, ছোটখাট অপরাধ করিলেও। তোমার প্রতিপালকের ক্ষমা অপরিসীম ; ‌ তোমাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত - যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছিলেন মৃত্তিকা হইতে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে ভ্রণরূপে ছিলে। অতএব তোমরা আত্মপ্রশংসা করিও না, তিনিই সম্যক জানেন কে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কবিরা গুনাহ্ এবং ফাহেশা কাজ থেকে বিরত থাকে, যদিও ছোট খাটো গুনাহ্ হয়েই থাকে, তোমার প্রভু (তাদের ব্যাপারে) উদার ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের সম্পর্কে অবগত আছেন, যখন তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছিলেন মাটি থেকে এবং যখন তোমরা মায়ের গর্ভে ছিলে ভ্রুণ হিসেবে। সুতরাং তোমরা নিজেদেরকে শুদ্ধতার সার্টিফিকেট দিওনা। তিনি ভালো করেই জানেন কে বেশি ?

জহুরুল হক

যারা বর্জন করে বড় বড় পাপাচার ও অশ্লীল কাজ - - মুখোমুখি হওয়া ভিন্ন - - তোমার প্রভু পরিত্রাণে নিশ্চয়ই অপরিসীম। তিনি তোমাদের ভালো জানেন যখন থেকে তিনি তোমাদের সৃষ্টির সূচনা করেছেন মাটি থেকে, আর যখন তোমরা ছিলে তোমাদের মায়ের পেটে ভ্রণরূপে। অতএব তোমরা তোমাদের নিজেদের গুণগান করো না। তিনিই ভালো জানেন তাকে যে ধর্মভীরুতা অবলন্বন করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি দেখিয়াছ সেই ব্যক্তিকে যে মুখ ফিরাইয়া নেয়;

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি ঐ ব্যক্তিকে দেখেছো, যে মুখ ফিরিয়ে নেয় (ইসলাম থেকে)?

জহুরুল হক

তুমি কি তবে তাকে দেখেছ যে ফিরে যায়,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং দান করে সামান্যই, পরে বন্ধ করিয়া দেয়?

আবদুস শহীদ নাসিম

যে সামান্যই দান করে এবং পরে (তাও) বন্ধ করে দেয়?

জহুরুল হক

আর যৎসামান্য দান করে এবং নির্দয়তা দেখায়?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহার কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, সে প্রত্যক্ষ করে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তার কাছে কি গায়েবের জ্ঞান আছে এবং সে কি সব দেখতে পায়?

জহুরুল হক

তার কাছে কি সম্পর্কে জ্ঞান রয়েছে ফলে সে দেখত পাচ্ছে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাকে কি অবগত করা হয় নাই যাহা আছে মূসার কিতাবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকে কি অবহিত করা হয়নি যা রয়েছে মূসার কিতাবে?

জহুরুল হক

অথবা তাকে কি সংবাদ দেওয়া হয় নি মূসার গ্রন্থে যা আছে সে - সন্বন্ধে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং ইব্‌রাহীমের কিতাবে, যে পালন করিয়াছিল তাহার দায়িত্ব?

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং ইবরাহিমের কিতাবে, যে পূর্ণ করেছিল তার কর্তব্য?

জহুরুল হক

এবং ইব্রাহীম সন্বন্ধে যিনি সম্পূর্ণরূপে প্রতিপালন করেছিলেন - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহা এই যে, কোন বহনকারী অপরের বোঝা বহন করিবে না,

আবদুস শহীদ নাসিম

(সেসব কিতাবে রয়েছে:) কোনো বোঝা বহনকারী অপরের (পাপের) বোঝা বহন করবে না।

জহুরুল হক

যথা কোনো ভারবাহী অন্যের বোঝা বহন করবে না,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর এই যে, মানুষ তাহাই পায় যাহা সে করে,

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষ তাই পাবে, যা সে চেষ্টা করবে।

জহুরুল হক

আর এই যে মানুষের জন্য কিছুই থাকবে না যার জন্য সে চেষ্টা না ক’রে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর এই যে, তাহার কর্ম অচিরেই দেখান হইবে -

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং শীঘ্রি তাকে দেখানো হবে তার প্রচেষ্টা,

জহুরুল হক

আর এই যে, তার প্রচেষ্টা অচিরেই দৃষ্টিগোচর হবে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তাহাকে দেওয়া হইবে পূর্ণ প্রতিদান,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তাকে দেয়া হবে পূর্ণ প্রতিফল,

জহুরুল হক

তারপর তাকে প্রতিদান দেওয়া হবে পরিপূর্ণ প্রতিদানে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর এই যে, সমস্ত কিছুর সমাপ্তি তো তোমার প্রতিপালকের নিকট,

আবদুস শহীদ নাসিম

(সেসব কিতাবে) আরো রয়েছে যে, সব কিছুর সমাপ্তি হবে তোমার প্রভুর কাছে গিয়েই।

জহুরুল হক

আর এই যে, তোমার প্রভুর দিকেই হচ্ছে শেষ - সীমা,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর এই যে, তিনিই হাসান, তিনিই কাঁদান,

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই হাসাবেন এবং তিনিই কাঁদাবেন।

জহুরুল হক

আর এই যে, তিনিই হাসান আর তিনিই কাঁদান,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর এই যে, তিনিই মারেন, তিনিই বাঁচান,

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই মউত ঘটান এবং তিনিই হায়াত দান করেন

জহুরুল হক

আর এই যে, তিনিই মারেন ও তিনিই বাঁচান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর এই যে, তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল - পুরুষ ও নারী

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই সৃষ্টি করেন পুরুষ ও নারীর জোড়া

জহুরুল হক

আর এই যে, তিনিই সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় - জোড়ায় নর ও নারী, - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শুক্রবিন্দু হইতে, যখন উহা স্খলিত হয়,

আবদুস শহীদ নাসিম

নোতফা (শুক্র বিন্দু) থেকে যখন বীর্যপাত করা হয়।

জহুরুল হক

শুক্রকীট থেকে যখন তাকে বিন্যাস করা হয়,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর এই যে, পুনরুত্থান ঘটাইবার দায়িত্ব তাঁহারই,

আবদুস শহীদ নাসিম

পুনরুত্থান ঘটানোর দায়িত্বও তাঁরই।

জহুরুল হক

আর এই যে, তাঁর উপরেই রয়েছে পুনরায় উত্থানের দায়িত্ব,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর এই যে, তিনিই অভাবমুক্ত করেন ও সম্পদ দান করেন,

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই অভাবমুক্ত করেন এবং দান করেন প্রাচুর্য।

জহুরুল হক

আর এই যে, তিনিই ধনদৌলত দেন ও সুখ - সমৃদ্ধি প্রদান করেন,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর এই যে, তিনি শি‘রা নক্ষত্রের মালিক।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই প্রভু শে’রা নক্ষত্রের।

জহুরুল হক

আর এই যে, তিনিই শি'রা নক্ষত্রের প্রভু,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর এই যে, তিনিই প্রাচীন ‘আদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করিয়াছিলেন

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই হালাক (ধ্বংস) করেছিলেন প্রথম আদকে,

জহুরুল হক

আর এই যে, তিনিই ধ্বংস করেছিলেন প্রাচীনকালের 'আদ - জাতিকে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং সামূদ সম্প্রদায়কেও; কাহাকেও তিনি বাকি রাখেন নাই

আবদুস শহীদ নাসিম

সামুদ জাতিকেও - যাদের একজনকেও বাকি রাখেননি।

জহুরুল হক

আর ছামূদ - জাতিও, তাই তিনি বাকী রাখেন নি,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর ইহাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কেও, উহারা ছিল অতিশয় ও অবাধ্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর আগে (ধ্বংস করেছিলেন) নূহের জাতিকেও। এরা সবাই ছিলো বড় যালিম আর চরম বিদ্রোহী।

জহুরুল হক

আর নূহ - এর লোকদলও এর আগে। নিঃসন্দেহ তারা ছিল - - তারাই তো ছিল অত্যন্ত অত্যাচারী ও বেজায় অবাধ্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উল্টানো আবাসভূমিকে নিক্ষেপ করিয়াছিলেন,

আবদুস শহীদ নাসিম

এছাড়াও (সেসব কিতাবে) রয়েছে যে, তিনি ধ্বংস করে দিয়েছিলেন উল্টে দেয়া জনপদকেও (লুতের জাতির শহরকে),

জহুরুল হক

আর উলটে ফেলা শহরগুলো - - তিনি ধ্বংস করেছিলেন,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাকে আচ্ছন্ন করিল কী সর্বগ্রাসী শাস্তি!

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তাদের আচ্ছন্ন করে নিয়েছিল - আচ্ছন্নকারী আযাব।

জহুরুল হক

ফলে তাদের তিনি ঢেকে দিয়েছিলেন যা ঢেকে দেয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে তুমি তোমার প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করিবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

এখন বলো, তোমার প্রভুর কোন্ নিয়ামত সম্পর্কে সন্দেহ করবে?

জহুরুল হক

অতএব তোমার প্রভুর কোন অনুগ্রহ সম্পর্কে তুমি বাদানুবাদ করবে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতীতের সতর্ককারীদের ন্যায় এই নবীও এক সতর্ককারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ নবীও একজন সতর্ককারী অতীতের সতর্ককারীদের মতোই।

জহুরুল হক

প্রাচীনকালের সতর্ককারীদের মধ্যে থেকে ইনি হচ্ছেন একজন সতর্ককারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিয়ামত আসন্ন,

আবদুস শহীদ নাসিম

কিয়ামত সন্নিকটে,

জহুরুল হক

আসন্ন ঘটনা সমাগত,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ ব্যতীত কেহই ইহা ব্যক্ত করিতে সক্ষম নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

ছাড়া কেউই তা উন্মুক্ত করতে সক্ষম নয়।

জহুরুল হক

এটি দূর করবার মতো ছাড়া আর কেউ নেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা কি এই কথায় বিস্ময় বোধ করিতেছ!

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কি এই বাণীর (কুরআনের) ব্যাপারে বিস্ময়বোধ করছো?

জহুরুল হক

এই বিবৃতিতে তোমরা কি তাজ্জব হচ্ছ?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং হাসিঠাট্টা করিতেছ! ক্রন্দন করিতেছ না?

আবদুস শহীদ নাসিম

হাসাহাসি করছো? অথচ কাঁদছো না?

জহুরুল হক

আর তোমরা কি হাসছ, তোমরা কি আর কাঁদবে না?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা তো উদাসীন,

আবদুস শহীদ নাসিম

আসলে তোমরা গাফিল।

জহুরুল হক

আর তোমরা তো হেলাফেলা করছ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব ‌কে সিজ্‌দা কর এবং তাঁহারই ‘ইবাদত কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তোমরা সাজদা করো আল্লাহকে এবং ইবাদত করো কেবল তাঁরই। (সাজদা)

জহুরুল হক

অতএব ‌র প্রতি সিজদা করো এবং উপাসনা করো।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme