হে নবী ! কে ভয় কর এবং কাফিরদের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করিও না। তো সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
হে নবী! আল্লাহকে ভয় করো এবং আর মুনাফিকদের আনুগত্য করোনা। সর্বজ্ঞানী প্রজ্ঞাবান।
Chapter 33, 73 verses
হে নবী ! কে ভয় কর এবং কাফিরদের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করিও না। তো সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
হে নবী! আল্লাহকে ভয় করো এবং আর মুনাফিকদের আনুগত্য করোনা। সর্বজ্ঞানী প্রজ্ঞাবান।
তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমার প্রতি যাহা ওহী হয় তাহার অনুসরণ কর ; তোমরা যা কর, তো সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।
তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যে অহি করা হচ্ছে তার ইত্তেবা করো। নিশ্চয়ই তোমরা যা আমল করো তার খবর রাখেন।
আর তুমি নির্ভর কর র উপর এবং কর্মবিধানে ই যথেষ্ট।
আর তাওয়াক্কুল করো আল্লাহর উপর। উকিল হিসেবে তোমার জন্যে আল্লাহ্ই কাফী।
কোন মানুষের অভ্যন্তরে দুইটি হৃদয় সৃষ্টি করেন নাই। তোমাদের স্ত্রীগণ, যাহাদের সঙ্গে তোমরা জিহার করিয়া থাক, তিনি তাহাদেরকে তোমাদের জননী করেন নাই এবং তোমাদের পোষ্য পুত্রদেরকে তিনি তোমাদের পুত্র করেন নাই; এইগুলি তোমাদের মুখের কথা। সত্য কথাই বলেন এবং তিনিই সরল পথ নির্দেশ করেন।
বানাননি কোনো ব্যক্তির জন্যে তার অভ্যন্তরে দুটি অন্তর। আর তোমরা তোমাদের যেসব স্ত্রীর সাথে যিহার করো তাদেরকে তোমাদের মা বানাননি এবং তোমাদের মুখডাকা পুত্রদেরকেও বানাননি তোমাদের পুত্র। এগুলো তো তোমাদের মুখের কথা। সত্য কথা বলেন এবং দেখান সঠিক পথ।
তোমরা তাহাদেরকে ডাক তাহাদের পিতৃ - পরিচয়ে; আল্লাহর দৃষ্টিতে ইহা অধিক ন্যায়সংগত। যদি তোমরা তাহাদের পিতৃ - পরিচয় না জান তবে তাহারা তোমাদের দীনী ভাই এবং বন্ধু। এই ব্যাপারে তোমরা কোন ভুল করিলে তোমাদের কোন অপরাধ নাই ; কিন্তু তোমাদের অন্তরে সংকল্প থাকিলে অপরাধ হইবে। আর ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
তোমরা তাদের ডাকো তাদের পিতার পরিচয়ে। আল্লাহর দৃষ্টিতে এটাই ন্যায়সংগত। তোমরা যদি তাদের পিতার পরিচয় জানতে না পারো, তবে তারা তোমাদের দীনি ভাই এবং বন্ধু। ইতোপূর্বে তোমরা এ ব্যাপারে যে ভুল করেছো সেটার জন্যে তোমাদের অপরাধ ধরা হবেনা। তবে অপরাধ হতে পারে তোমাদের অন্তরের সংকল্পের কারণে। আর পরম ক্ষমাশীল দয়াবান।
নবী মু’মিনদের নিকট তাহাদের নিজেদের অপেক্ষা ঘনিষ্ঠতর এবং তাহার পত্নীগণ তাহাদের মাতা। র বিধান অনুসারে ও মুহাজিরগণ অপেক্ষা - যাহারা আত্মীয় তাহারা পরস্পরের নিকটতর। তবে তোমরা যদি তোমাদের বন্ধু - বান্ধবের প্রতি আনুকূল্য প্রদর্শন করিতে চাও - তাহা করিতে পার। ইহা কিতাবে লিপিবদ্ধ।
এই নবী (মুহাম্মদ) মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের চেয়েও ঘনিষ্ঠতর এবং তার স্ত্রীরা তাদের মা। আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ও মুহাজিরদের চেয়ে আত্মীয়রা পরস্পরের নিকটতর। তবে তোমরা যদি তোমাদের বন্ধু ও পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি আনুকূল্য দেখাতে চাও, তাতে কোনো দোষ নেই। এসব বিধান কিতাবে লিপিবদ্ধ।
স্মরণ কর, যখন আমি নবীদের নিকট হইতে অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছিলাম এবং তোমার নিকট হইতেও এবং নূহ, ইব্রাহীম, মূসা ও মার্ইয়াম - তনয় ‘ঈসার নিকট হইতেও - তাহাদের নিকট হইতে গ্রহণ করিয়াছিলাম দৃঢ় অঙ্গীকার -
স্মরণ করো, যখন আমরা নবীদের কাছ থেকে তাদের অংগীকার নিয়েছিলাম এবং তোমার থেকেও, নূহের থেকেও, ইবরাহিম, মূসা এবং ঈসা ইবনে মরিয়ম থেকেও। আমরা তাদের থেকে গ্রহণ করেছিলাম শক্ত অংগীকার,
সত্যবাদীদেরকে তাহাদের সত্যবাদিতা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করিবার জন্য। তিনি কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রাখিয়াছেন মর্মন্তুদ শাস্তি।
সত্যপন্থীদেরকে তাদের সত্য পথে অটল থাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্যে। তিনি কাফিরদের জন্যে তৈরি করে রেখেছেন বেদনাদায়ক আযাব।
হে মু’মিনগণ ! তোমরা তোমাদের প্রতি র অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের বিরুদ্ধে সমাগত হইয়াছিল এবং আমি উহাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করিয়াছিলেন ঝঞ্ঝাবায়ু এবং এক বাহিনী যাহা তোমরা দেখ নাই। তোমরা যাহা কর তাহার সম্যক দ্রষ্টা।
হে লোকেরা! যিকির করো তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিয়ামতের কথা, যখন তোমাদের দিকে শত্রুবাহিনী১ এসে গিয়েছিল, তখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলাম ঝড়ো হাওয়া এবং এমন এক বাহিনী, যাদের তোমরা দেখতে পাওনি। তোমরা যা করো তা আল্লাহর দৃষ্টির মধ্যেই রয়েছে।
যখন উহারা তোমাদের বিরুদ্ধে সমাগত হইয়াছিল তোমাদের উপরের দিক ও নিচের দিক হইতে, তোমাদের চক্ষু বিস্ফারিত হইয়াছিল, তোমাদের প্রাণ হইয়া পড়িয়াছিল কণ্ঠাগত এবং তােমরা সম্বন্ধে নানাবিধ ধারণা পােষণ করিতেছিলে ;
যখন তারা এসেছিল তোমাদের উপরের দিক থেকে এবং নিচের দিক থেকে এবং (তাদের দেখে) তোমাদের চোখ বিস্ফারিত হয়ে পড়েছিল এবং তোমাদের প্রাণ হয়ে পড়েছিল কণ্ঠাগত আর তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে করছিলে নানা রকম ধারণা।
তখন মু’মিনগণ পরীক্ষিত হইয়াছিল এবং তাহারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হইয়াছিল।
এখানেই পরীক্ষা করা হয়েছিল মুমিনদের। তাঁরা কেঁপে উঠেছিল ভীষণ কম্পনে।
আর স্মরণ কর, মুনাফিকরা ও যাহাদের অন্তরে ছিল ব্যাধি, তাহারা বলিতেছিল, ‘ এবং তাঁহার রাসূল আমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলেন তাহা প্রতারণা ব্যতীত কিছুই নয়।’
এ অবস্থায় মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে রোগ ছিলো, তারা বলছিল: ‘ এবং তাঁর রসূল আমাদের যে ওয়াদা দিয়েছেন, সেটা একটা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
আর উহাদের একদল বলিয়াছিল, ‘হে ইয়াস্রিববাসী ! এখানে তোমাদের কোন স্থান নাই তোমরা ফিরিয়া চল’ এবং উহাদের মধ্যে একদল নবীর নিকট অব্যাহতি প্রার্থনা করিয়া বলিতেছিল, ‘আমাদের বাড়িঘর অরক্ষিত’; অথচ ঐগুলি অরক্ষিত ছিল না, আসলে পলায়ন করাই ছিল উহাদের উদ্দেশ্য।
তখন তাদেরই একটি দল বলেছিল: ‘হে ইয়াসরিববাসী! এখানে তোমাদের কোনো স্থান নেই, তোমরা ফিরে চলো।’ তাদের আরেকদল নবীর কাছে অব্যাহতির প্রার্থনা করে বলছিল: ‘আমাদের বাড়িঘর অরক্ষিত’, অথচ তাদের বাড়িঘর অরক্ষিত ছিলনা। আসলে তাদের উদ্দেশ্য ছিলো ভেগে যাওয়া।
যদি বিভিন্ন দিক হইতে তাহাদের বিরুদ্ধে শত্রুদের প্রবেশ ঘটিত, অতঃপর তাহাদেরকে বিদ্রোহের জন্য প্ররোচিত করা হইত, তবে তাহারা অবশ্য তাহাই করিয়া বসিত, তাহারা ইহাতে কালবিলম্ব করিত না।
শত্রুরা যদি চারদিক থেকে (মদিনা) আক্রমণ করতো এবং তাদেরকে বিদ্রোহের জন্যে প্ররোচিত করতো, তারা কালবিলম্ব না করে সহজেই তা করতো।
ইহারা তো পূর্বেই র সঙ্গে অঙ্গীকার করিয়াছিল যে, ইহারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিবে না। র সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার সম্বন্ধে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা হইবে।
অথচ ইতোপূর্বে তারা আল্লাহর সাথে অংগীকার করেছিল, তারা পিছু হটবে না। আল্লাহর সাথে অংগীকার সম্পর্কে অবশ্যি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
বল, ‘তোমাদের কোন লাভ হইবে না যদি তোমরা মৃত্যু অথবা হত্যার ভয়ে পলায়ন কর, তবে সেই ক্ষেত্রে তোমাদেরকে সামান্যই ভোগ করিতে দেওয়া হইবে।’
হে নবী! বলো: তোমাদের কোনোই ফায়দা হবেনা যদি তোমরা মউত কিংবা কতল হবার ভয়ে পলায়ন করো। তবে সেক্ষেত্রে তোমাদেরকে ভোগের সুযোগ খুব কমই দেয়া হবে।
বল, ‘কে তোমাদেরকে হইতে রক্ষা করিবে, যদি তিনি তোমাদের অমঙ্গল ইচ্ছা করেন অথবা তিনি যদি তোমাদেরকে অনুগ্রহ করিতে ইচ্ছা করেন, তবে কে তোমাদের ক্ষতি করিবে?’ উহারা ব্যতীত নিজেদের কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাইবে না।
বলো: কে তোমাদের রক্ষা করবে আল্লাহর থেকে যদি তিনি তোমাদের অমঙ্গল করার এরাদা করেন? অথবা তিনি যদি তোমাদের মঙ্গল করার এরাদা করেন, তবে কে তোমাদের ক্ষতি করবে? তারা নিজেদের জন্যে আল্লাহর পরিবর্তে কোনো অলি কিংবা সাহায্যকারী পাবেনা।
অবশ্যই জানেন তোমাদের মধ্যে কাহারা বাধাদানকারী এবং কাহারা তাহাদের ভ্রাতৃবর্গকে বলে, ‘আমাদের সঙ্গে আস।’ উহারা অল্পই যুদ্ধে অংশ নেয় -
অবশ্যি জানেন তোমাদের মধ্যে কারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী, আর কারা তাদের ভাইদের বলে: ‘আমাদের সাথে আসো।’ তারা যুদ্ধে অংশ নেয়না, সামান্য ছাড়া।
তোমাদের ব্যাপারে কৃপণতাবশত। আর যখন ভীতি আসে তখন তুমি দেখিবে, মৃত্যুভয়ে মূর্চ্ছাতুর ব্যক্তির মত চক্ষু উল্টাইয়া উহারা তোমার দিকে তাকায়। কিন্তু যখন ভয় চলিয়া যায় তখন উহারা ধনের লালসায় তোমাদেরকে তীক্ষ্ণ ভাষায় বিদ্ধ করে। উহারা ঈমান আনে নাই, এইজন্য উহাদের কার্যাবলী নিষ্ফল করিয়াছেন এবং র পক্ষে ইহা সহজ।
তোমাদের প্রতি সংকীর্ণ মনোভাবের কারণে। যখন ভয়ের সময় আসে, তুমি তাদের দেখো, মরণের ভয়ে মূর্ছা যাওয়া ব্যক্তির মতো তারা চোখ উল্টিয়ে তোমার দিকে তাকায়। আবার যখন ভয় চলে যায় তখন সম্পদের লোভে তারা তোমাদের প্রতি ভাষার তীর নিক্ষেপ করে। এরা ঈমান আনেনি। ফলে, তাদের আমল বিনষ্ট করে দিয়েছেন, আর এটা আল্লাহর জন্যে খুবই সহজ।
উহারা মনে করে, সম্মিলিত বাহিনী চলিয়া যায় নাই। যদি সম্মিলিত বাহিনী আবার আসিয়া পড়ে, তখন উহারা কামনা করিবে যে, ভাল হইত যদি উহারা যাযাবর মরুবাসীদের সঙ্গে থাকিয়া তোমাদের সংবাদ লইত! উহারা তোমাদের সঙ্গে অবস্থান করিলেও উহারা যুদ্ধ অল্পই করিত।
তারা ধারণা করছিল সম্মিলিত বাহিনী চলে যায়নি। সম্মিলিত বাহিনী যদি আবার এসে পড়ে, তখন তারা কামনা করবে যে, ভালো হতো তারা যদি বেদুঈনদের সাথে থেকে তোমাদের খোঁজখবর নিতো! তোমাদের মাঝে অবস্থান করলেও তারা যুদ্ধ করতো সামান্যই।
তোমাদের মধ্যে যাহারা ও আখিরাতকে ভয় করে এবং কে অধিক স্মরণ করে তাহাদের জন্য তো রাসূলুল্লাহ্র মধ্যে রহিয়াছে উত্তম আদর্শ।
তোমাদের যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও শেষ দিনের সাফল্যের আশা করে এবং বেশি বেশি যিকির করে তাদের জন্যে আল্লাহর রসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।
মু’মিনগণ যখন সম্মিলিত বাহিনীকে দেখিল, উহারা বলিয়া উঠিল, ‘ইহা তো তাহাই, ও তাঁহার রাসূল যাহার প্রতিশ্রুতি আমাদেরকে দিয়াছিলেন এবং ও তাঁহার রাসূল সত্যই বলিয়াছিলেন।’ আর ইহাতে তাহাদের ঈমান ও আনুগত্যই বৃদ্ধি পাইল।
মুমিনরা যখন সম্মিলিত বাহিনী দেখেছিল, তারা বলে উঠেছিল: ‘এর ওয়াদাই তো এবং তাঁর রসূল আমাদের দিয়েছেন এবং ও তাঁর রসূল সত্য বলেছেন।’ ফলে তাদের ঈমান ও আত্মসমর্পণের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল।
মু’মিনদের মধ্যে কতক র সঙ্গে তাহাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করিয়াছে, উহাদের কেহ কেহ শাহাদত বরণ করিয়াছে এবং কেহ কেহ প্রতীক্ষায় রহিয়াছে। উহারা তাহাদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন করে নাই ;
একদল আল্লাহর সাথে করা তাদের অংগীকার সত্যে পরিণত করেছে, তাদের কেউ কেউ নিজের নজরানা পূর্ণ করেছে, আর কিছু সংখ্যক অপেক্ষায় আছে। তারা তাদের নীতি কিছুমাত্র বদলায়নি।
কারণ সত্যবাদীদেরকে পুরস্কৃত করেন তাহাদের সত্যবাদিতার জন্য এবং তাঁহার ইচ্ছা হইলে মুনাফিকদেরকে শাস্তি দেন অথবা উহাদেরকে ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
যাতে করে সত্যপন্থীদের পুরস্কৃত করেন তাদের সত্যবাদিতার জন্যে, আর ইচ্ছা করলে মুনাফিকদের শাস্তি দেন, কিংবা তাদের তওবা কবুল করেন। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল, অতীব দয়াবান।
কাফিরদেরকে ক্রুদ্ধাবস্থায় ফিরাইয়া দিলেন, তাহারা কোন কল্যাণ লাভ করে নাই। যুদ্ধে মু’মিনদের জন্য ই যথেষ্ট ; সর্বশক্তিমান, পরাক্রমশালী।
কাফিরদের ফিরিয়ে দিলেন তাদের ক্ষোভসহ। তারা কোনো ফায়দা হাসিল করেনি। যুদ্ধে মুমিনদের জন্যে আল্লাহ্ই যথেষ্ট। আর অতীব শক্তিধর মহাপরাক্রমশালী।
কিতাবীদের মধ্যে যাহারা উহাদেরকে সাহায্য করিয়াছিল, তাহাদেরকে তিনি তাহাদের দুর্গ হইতে অবতরণ করাইলেন এবং তাহাদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করিলেন; এখন তোমরা উহাদের কতককে হত্যা করিতেছ এবং কতককে করিতেছ বন্দী।
আহলে কিতাবদের (ইহুদিদের) যারা তাদের সাহায্য করেছিল, তাদেরকে তাদের দুর্গ থেকে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের অন্তরে ঢুকিয়ে দিলেন ভয়। এখন তোমরা তাদের কিছু সংখ্যককে হত্যা করছো আর কিছু সংখ্যককে করছো বন্দী।
আর তিনি তোমাদেরকে অধিকারী করিলেন উহাদের ভূমি, ঘরবাড়ি ও ধন - সম্পদের এবং এমন ভূমির যাহাতে তোমরা এখনও পদার্পণ কর নাই। সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
আর তিনি তোমাদেরকে ওয়ারিশ বানিয়ে দিলেন তাদের জমিন, ঘরবাড়ি ও মাল - সম্পদের এবং এমন ভূমির যাতে তোমরা কখনো আগমন করোনি। সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
হে নবী ! তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে বল, ‘তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও উহার ভূষণ কামনা কর তবে আস, আমি তোমাদের ভোগ - সামগ্রীর ব্যবস্থা করিয়া দেই এবং সৌজন্যের সঙ্গে তোমাদেরকে বিদায় দেই।
হে নবী! তোমার স্ত্রীদের বলো: ‘‘তোমরা যদি দুনিয়ার জীবন ও তার চাকচিক্য কামনা করো, তবে আসো আমি তোমাদের ভোগ - বিলাসের সামগ্রী দিয়ে সুন্দরভাবে বিদায় করে দেই।
‘আর যদি তোমরা কামনা কর , তাঁহার রাসূল ও , তবে তোমাদের মধ্যে যাহারা সৎকর্মশীল তাহাদের জন্য মহাপ্রতিদান প্রস্তুত রাখিয়াছেন।’
আর যদি তোমরা ও তাঁর রসূলকে চাও এবং চাও, সেক্ষেত্রে তোমাদের মধ্যকার কল্যাণপরায়ণ নারীদের জন্যে প্রস্ত্তত রেখেছেন মহাপুরস্কার।’’
হে নবী - পত্নীগণ ! যে কাজ স্পষ্টত অশ্লীল, তোমাদের মধ্যে কেহ তাহা করিলে তাহাকে দ্বিগুণ শাস্তি দেওয়া হইবে এবং ইহা র জন্য সহজ।
হে নবীর স্ত্রীরা! তোমাদের মধ্যে কেউ যদি সুস্পষ্ট ফাহেশা কাজ করে, তার আযাব (দন্ড) করা হবে দ্বিগুণ এবং এটা আল্লাহর জন্যে খুবই সহজ।
তোমাদের মধ্যে যে কেহ এবং তাঁহার রাসূলের প্রতি অনুগত হইবে ও সৎকর্ম করিবে তাহাকে আমি পুরস্কার দিব দুইবার এবং তাহার জন্য আমি প্রস্তুত রাখিয়াছি সম্মানজনক রিযিক।
আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ ও তাঁর রসূলের জন্যে বিনয়ী হবে এবং আমলে সালেহ্ করবে, তাকে আমরা পুরস্কার দেবো দুইবার, আর তার জন্যে আমরা প্রস্তুত রেখেছি সম্মানজনক জীবিকা।
হে নবী - পত্মীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও ; যদি তোমরা কে ভয় কর তবে পর - পুরুষের সঙ্গে কোমলকণ্ঠে এমনভাবে কথা বলিও না, যাহাতে অন্তরে যাহার ব্যাধি আছে, সে প্রলুব্ধ হয় এবং তোমরা ন্যায়সংগত কথা বলিবে।
হে নবীর স্ত্রীরা! তোমরা অন্য কোনো নারীর মতো নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে পর পুরুষের সাথে এমন ললিত কণ্ঠে কথা বলোনা, যাতে করে এমন কোনো ব্যক্তি প্রলুব্ধ হয়ে পড়ে যার অন্তরে রোগ আছে। তোমরা প্রচলিত পন্থায় যথাযথ কথা বলো।
আর তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করিবে এবং প্রাচীন যুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করিয়া বেড়াইবে না। তোমরা কায়েম করিবে ও যাকাত প্রদান করিবে এবং ও তাঁহার রাসূলের অনুগত থাকিবে। হে নবী - পরিবার! তো কেবল চান তোমাদের হইতে অপবিত্রতা দূর করিতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করিতে।
তোমরা নিজেদের ঘরে অবস্থান করো। তোমরা পূর্বের জাহেলি যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াবেনা, কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো এবং ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো। চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে হে আহলে বাইত (নবীর পরিবার) এবং তোমাদের সম্পূর্ণরূপে পাক পবিত্র করতে।
র আয়াত ও জ্ঞানের কথা যাহা তোমাদের গৃহে পঠিত হয়, তাহা তোমরা স্মরণ রাখিবে ; নিশ্চয়ই অতি সূক্ষ্মদর্শী, র্সববিষয়ে অবহিত।
তোমরা যিকির করো (আলোচনা ও পাঠ করো) তোমাদের ঘরে যে আল্লাহর আয়াত ও হিকমতের কথা তিলাওয়াত করা হয়, তা। নিশ্চয়ই অতীব সূক্ষ্মদর্শী ও গভীরভাবে জ্ঞাত।
অবশ্যই আত্মসর্মপণকারী পুরুষ ও আত্মসর্মপণকারী নারী, পুরুষ ও নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, সাওম পালনকারী পুরুষ ও সাওম পালনকারী নারী, যৌন অংগ হিফাযতকারী পুরুষ ও যৌন অংগ হিফাযতকারী নারী, কে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও অধিক স্মরণকারী নারী - ইহাদের জন্য রাখিয়াছেন ক্ষমা ও মহা - প্রতিদান।
নিশ্চয়ই মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) পুরুষ ও মুসলিম নারী, পুরুষ ও নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনয়ী পুরুষ ও বিনয়ী নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, সওম পালনকারী পুরুষ ও সওম পালনকারী নারী, যৌনাংগ হিফাযতকারী পুরুষ ও যৌনাংগ হিফাযতকারী নারী, বেশি বেশি আল্লাহর যিকিরকারী পুরুষ ও নারী, এদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন মাগফিরাত আর শ্রেষ্ঠ প্রতিদান।
ও তাঁহার রাসূল কোন বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোন পুরুষ কিংবা নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকিবে না। কেহ এবং তাঁহার রাসূলকে অমান্য করিলে সে তো স্পষ্ট পথভ্রষ্ট হইবে।
এবং তাঁর রসূল কোনো বিষয়ে ফায়সালা দেয়ার পর সে বিষয়ে কোনো পুরুষ বা নারীর ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। যে কেউ এবং তাঁর রসূলকে অমান্য করবে, সে হবে সুস্পষ্ট বিপথগামী।
স্মরণ কর, যাহাকে অনুগ্রহ করিয়াছেন এবং তুমিও যাহার প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছ, তুমি তাহাকে বলিতেছিলে, ‘তুমি তোমার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখ এবং কে ভয় কর।’ তুমি তোমার অন্তরে যাহা গোপন করিতেছ তাহা প্রকাশ করিয়া দিতেছেন ; তুমি লোকভয় করিতেছিলে, অথচ কেই ভয় করা তোমার পক্ষে অধিকতর সংগত। অতঃপর যায়দ যখন যয়নবের সঙ্গে বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করিল, তখন আমি তাহাকে তোমার সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ করিলাম, যাহাতে মু’মিনদের পোষ্য পুত্রগণ নিজ স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহসূত্র ছিন্ন করিলে সেইসব রমণীকে বিবাহ করায় মু’মিনদের কোন বিঘ্ন না হয়। র আদেশ কার্যকরী হইয়াই থাকে।
স্মরণ করো, যাকে (যায়েদকে) অনুগ্রহ করেছেন এবং তুমিও যার প্রতি অনুগ্রহ করেছো, তুমি তাকে বলছিলে: ‘তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখো এবং আল্লাহকে ভয় করো।’ তুমি তোমার মনে যে কথা গোপন রাখছো সে কথা প্রকাশ করে দিচ্ছেন। তুমি ভয় করছো, পাছে লোক কিছু বলে। অথচ তোমার জন্যে অধিকতর সংগত হলো আল্লাহকে ভয় করা। তারপর যায়েদ যখন তার (যয়নবের) সাথে বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করলো, তখন আমি তাকে তোমার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে দিলাম, যাতে করে মুমিনদের মুখডাকা পুত্ররা নিজেদের স্ত্রীর সাথে বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করলে সেসব নারীদের বিয়ে করার ক্ষেত্রে মুমিনরা কোনো প্রকার সংকোচ না করে। আল্লাহর নির্দেশ অবশ্যি কার্যকর হতে হবে।
নবীর জন্য যাহা বিধিসম্মত করিয়াছেন তাহা করিতে তাহার জন্য কোন বাধা নাই। পূর্বে যেসব নবী অতীত হইয়া গিয়াছে, তাহাদের ক্ষেত্রেও ইহাই ছিল র বিধান। র বিধান সুনির্ধারিত।
নবীর জন্যে যা ফরয (আইন সংগত) করে দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করতে তার কোনো বাধা নেই। যেসব নবী অতীত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এটাই ছিলো আল্লাহর সুন্নত (নিয়ম)। আর আল্লাহর নির্দেশ অবশ্যি একটি সুনিশ্চিত ফায়সালা।
তাহারা র বাণী প্রচার করিত এবং তাঁহাকে ভয় করিত, আর ব্যতীত অন্য কাহাকেও ভয় করিত না। হিসাব গ্রহণে ই যথেষ্ট।
তারা আল্লাহর রিসালাত (বার্তা) পৌঁছে দিতো, তাঁকে ভয় করতো এবং তাঁকে ছাড়া আর কাউকেও ভয় করতো না। আর হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে আল্লাহ্ই কাফী (যথেষ্ট)।
মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নহে ; বরং সে র রাসূল এবং শেষ নবী। সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।
মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নয়, বরং আল্লাহর রসূল এবং সর্বশেষ নবী। প্রতিটি বিষয়ে জ্ঞাত।
হে মু’মিনগণ ! তােমরা কে অধিক স্মরণ কর,
হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহকে যিকির করো বেশি বেশি যিকির,
এবং সকাল - সন্ধ্যায় র পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।
এবং তাঁর তসবিহ্ করো সকাল আর সন্ধ্যায় ।
তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁহার ফিরিশ্তাগণও তোমাদের জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করে। অন্ধকার হইতে তোমাদেরকে আলোকে আনিবার জন্য, এবং তিনি মু’মিনদের প্রতি পরম দয়ালু।
তিনি তোমাদের প্রতি (রহমত ও অনুগ্রহ) করেন আর তাঁর ফেরেশতারাও তোমাদের জন্যে তাঁর রহমত প্রার্থনা করে তোমাদেরকে অন্ধকাররাশি থেকে বের করে আলোতে নিয়ে আসার জন্যে। তিনি মুমিনদের প্রতি অতীব দয়াবান।
যেদিন তাহারা র সঙ্গে সাক্ষাত করিবে, সেদিন তাহাদের প্রতি অভিবাদন হইবে ‘সালাম’। তিনি তাহাদের জন্য প্রস্তুত রাখিয়াছেন উত্তম প্রতিদান।
যেদিন তারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে সেদিন তাদের প্রতি অভিবাদন হবে ‘সালাম’ এবং তিনি তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন সম্মানজনক প্রতিদান।
হে নবী! আমি তো তোমাকে পাঠাইয়াছি সাক্ষীরূপে এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে,
হে নবী! আমরা তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে,
র অনুমতিক্রমে তাঁহার দিকে আহ্বানকারীরূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে।
আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহবানকারী হিসেবে এবং এক উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে।
তুমি মু’মিনদেরকে সুসংবাদ দাও যে, তাহাদের জন্য র নিকট রহিয়াছে মহাঅনুগ্রহ।
তুমি মুমিনদের সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে বিরাট অনুগ্রহ।
আর তুমি ও মুনাফিকদের কথা শুনিও না, উহাদের নির্যাতন উপেক্ষা করিও এবং নির্ভর করিও র উপর ; কর্মবিধায়করূপে ই যথষ্টে।
তুমি এবং মুনাফিকদের আনুগত্য করোনা, তাদের দেয়া কষ্ট উপেক্ষা করো, আর তাওয়াক্কুল করো আল্লাহর উপর। আর উকিল হিসেবে আল্লাহ্ই কাফী।
হে মু’মিনগণ! তোমরা নারীগণকে বিবাহ করিবার পর উহাদেরকে স্পর্শ করিবার পূর্বে তালাক দিলে তোমাদের জন্য তাহাদের পালনীয় কোন ইদ্দত নাই যাহা তোমরা গণনা করিবে। তোমরা উহাদেরকে কিছু সামগ্রী দিবে এবং সৌজন্যের সঙ্গে উহাদেরকে বিদায় করিবে।
হে লোকেরা! তোমরা নারীদের বিয়ে করার পর, তাদের স্পর্শ করার আগেই যদি তালাক দাও, সেক্ষেত্রে তোমাদের জন্যে তাদের কোনো ইদ্দত পালন করতে হবেনা, যা তোমরা গণনা করবে। এ অবস্থায় তোমরা তাদেরকে কিছু অর্থ সামগ্রী দেবে এবং সুন্দরভাবে তাদের বিদায় করবে।
হে নবী ! আমি তোমার জন্য বৈধ করিয়াছি তোমার স্ত্রীগণকে, যাহাদের মাহ্র তুমি প্রদান করিয়াছ এবং বৈধ করিয়াছি ফায় হিসাবে তোমাকে যাহা দান করিয়াছেন তন্মধ্য হইতে যাহারা তোমার মালিকানাধীন হইয়াছে তাহাদেরকে, এবং বিবাহের জন্য বৈধ করিয়াছি তোমার চাচার কন্যা ও ফুফুর কন্যাকে, মামার কন্যা ও খালার কন্যাকে, যাহারা তোমার সঙ্গে দেশ ত্যাগ করিয়াছে এবং কোন নারী নবীর নিকট নিজকে নিবেদন করিলে এবং নবী তাহাকে বিবাহ করিতে চাহিলে সেও বৈধ - ইহা বিশেষ করিয়া তোমারই জন্য, অন্য মু’মিনদের জন্য নয় ; যাহাতে তোমার কোন অসুবিধা না হয়। মু’মিনদের স্ত্রী এবং তাহাদের মালিকানাধীন দাসিগণ সম্বন্ধে যাহা নির্ধারিত করিয়াছি, তাহা আমি জানি। ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
হে নবী! আমরা তোমার জন্যে হালাল করেছি তোমার স্ত্রীদের, যাদের তুমি মোহরানা দিয়ে বিয়ে করেছো এবং হালাল করেছি ফায় হিসেবে তোমাকে যা দিয়েছেন তা থেকে যারা তোমার মালিকানাধীন হয়েছে তাদেরকে। (এছাড়া তোমার জন্যে বিয়ে করা হালাল করেছি) তোমার চাচার কন্যাদের, তোমার ফুফুর কন্যাদের, তোমার মামার কন্যাদের, তোমার খালার কন্যাদের - যারা তোমার সাথে হিজরত করেছে। আর যে নারী নিজেকে বিয়ে করার জন্যে নবীর কাছে নিবেদন (offer) করে এবং নবী তাকে বিয়ে করতে চাইলে (তাকে বিয়ে করাও হালাল করেছি)। এ বৈধতা বিশেষভাবে তোমার জন্যে, অন্য মুমিনদের জন্যে নয়, যাতে করে তোমার কোনো অসুবিধা না হয়। মুমিনদের স্ত্রী এবং তাদের মালিকানাধীন দাসীদের ব্যাপারে যে বিধান (আগেই) দিয়েছি২, তা আমি জানি। পরম ক্ষমাশীল, অতীব দয়াবান।
তুমি উহাদের মধ্যে যাহাকে ইচ্ছা তোমার নিকট হইতে দূরে রাখিতে পার এবং যাহাকে ইচ্ছা তোমার নিকট স্থান দিতে পার। আর তুমি যাহাকে দূরে রাখিয়াছ তাহাকে কামনা করিলে তোমার কোন অপরাধ নাই। এই বিধান এইজন্য যে, ইহাতে উহাদের তুষ্টি সহজতর হইবে এবং উহারা দুঃখ পাইবে না আর উহাদেরকে তুমি যাহা দিবে তাহাতে উহাদের প্রত্যেকেই প্রীত থাকিবে। তোমাদের অন্তরে যাহা আছে তাহা জানেন। র্সবজ্ঞ, সহনশীল।
তুমি তাদের (নিজ স্ত্রীদের) যাকে ইচ্ছা (নিয়ম মাফিক) দূরে রাখতে পারো এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারো। আর তুমি যাকে দূরে রেখেছো তাকে কামনা করলে তোমার কোনো অপরাধ হবেনা। এটাই সহজতর, যাতে তোমার স্ত্রীদের চক্ষু শীতল হয়, তারা দুঃখ না পায় এবং তুমি যা দেবে তাতে তাদের প্রত্যেকেই সন্তুষ্ট থাকে। জানেন তোমাদের অন্তরে কী আছে? সর্বজ্ঞানী, সহনশীল।
ইহার পর, তোমার জন্য কোন নারী বৈধ নয় এবং তোমার স্ত্রীদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণও বৈধ নয় যদিও উহাদের সৌন্দর্য তোমাকে মুগ্ধ করে; তবে তোমার অধিকারভুক্ত দাসীদের ব্যাপারে এই বিধান প্রযোজ্য নয়। সমস্ত কিছুর উপর তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখেন।
এর পর তোমার জন্যে আর কোনো নারীকে বিয়ে করা বৈধ নয় এবং তোমার স্ত্রীদের পরিবর্তন করে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করাও বৈধ নয়, যদিও তাদের সৌন্দর্য তোমাকে মুগ্ধ করে। তবে তোমার অধিকারভুক্ত দাসীদের ব্যাপারে এই বিধান প্রযোজ্য নয়। প্রতিটি বিষয়ে সূক্ষ্মভাবে দৃষ্টিদাতা।
হে মু’মিনগণ ! তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়া না হইলে তোমরা আহার্য প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা না করিয়া ভোজনের জন্য নবীগৃহে প্রবেশ করিও না। তবে তোমাদেরকে আহবান করিলে তোমরা প্রবেশ করিও এবং ভোজনশেষে চলিয়া যাইও ; তোমরা কথাবার্তায় মশগুল হইয়া পড়িও না। কারণ তোমাদের এই আচরণ নবীকে পীড়া দেয়, সে তোমাদেরকে উঠাইয়া দিতে সংকোচ বোধ করে। কিন্তু সত্য বলিতে সংকোচ বোধ করেন না। তোমরা তাহার পত্নীদের নিকট হইতে কিছু চাইলে পর্দার অন্তরাল হইতে চাইবে। এই বিধান তোমাদের ও তাহাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্র। তোমাদের কাহারও পক্ষে র রাসূলকে কষ্ট দেওয়া সংগত নয় এবং তাহার মৃত্যুর পর তাহার পত্নীদেরকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য কখনও বৈধ নয়। র দৃষ্টিতে ইহা ঘোরতর অপরাধ।
হে লোকেরা! তোমাদের অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত খাবার প্রস্তুতির জন্যে অপেক্ষা না করে খাবার গ্রহণের জন্যে নবীর ঘরে প্রবেশ করোনা। তবে যখন ডাকা হয় তখন প্রবেশ করো। আর যখনই খাবার গ্রহণ শেষ হয়, তখন চলে যেয়ো কথাবার্তায় মশগুল না হয়ে। কারণ তোমাদের এ ধরণের আচরণ নবীকে কষ্ট দেয় এবং তোমাদের উঠিয়ে দিতে সে সংকোচ বোধ করে। তবে সত্য বলতে সংকোচ বোধ করেন না। তোমরা নবী পত্নীদের কাছে কিছু চাইলে হিজাবের অন্তরাল থেকে চাইবে। এ পন্থাই তোমাদের এবং তাদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্র। তোমাদের কারো জন্যে সংগত নয় আল্লাহর রসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তাঁর মৃত্যুর পর কখনো তাঁর স্ত্রীদের বিয়ে করা। আল্লাহর দৃষ্টিতে তোমাদের এসব কাজে জড়ানো গুরুতর অপরাধ।
তােমরা কোন বিষয় প্রকাশ কর অথবা গােপন রাখ - সর্ববিষয়ে র্সবজ্ঞ।
তোমরা কোনো কিছু প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো, জেনে রাখো, সব বিষয়ে জ্ঞানী।
নবী - পত্নীদের জন্য তাহাদের পিতৃগণ, পুত্রগণ, ভ্রাতৃগণ, ভ্রাতষ্পুত্রগণ, ভগ্নীপুত্রগণ, সেবিকাগণ এবং তাহাদের অধিকারভুক্ত দাস - দাসীগণের ব্যাপারে উহা পালন না করা অপরাধ নয়। হে নবী - পত্নীগণ ! কে ভয় কর, সমস্ত কিছু প্রত্যক্ষ করেন।
তবে তাদের (নবীর স্ত্রীদের) জন্যে দোষ হবেনা (হিজাব না করলে) তাদের পিতা, কিংবা সন্তান, কিংবা ভাই, অথবা ভাইয়ের ছেলে, নতুবা বোনের ছেলে, তাদের সেবিকা এবং অধিকারভুক্ত দাসদাসীদের সামনে। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। প্রতিটি বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী।
নবীর প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁহার ফিরিশ্তাগণও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করে। হে মু’মিনগণ ! তোমরাও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা কর এবং তাহাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।
নিশ্চয়ই তাঁর নবীর প্রতি (অনুগ্রহ, অনুকম্পা, মর্যাদাদান) করেন এবং তাঁর ফেরেশতারা নবীর জন্যে (অনুগ্রহ) প্রার্থনা করে। হে লোকেরা! তোমরাও নবীর জন্যে (অনুগ্রহ ও মর্যাদা) প্রার্থনা করো এবং তাঁকে যথার্থভাবে সালাম জানাও।
যাহারা ও রাসূলকে পীড়া দেয়, তো তাহাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত করেন এবং তিনি তাহাদের জন্য প্রস্তুত রাখিয়াছেন লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
নিশ্চয়ই যারা আল্লাহকে এবং তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, দুনিয়া এবং আখিরাতে তাদের লা’নত করেন এবং তাদের জন্যে তিনি প্রস্তুত রেখেছেন অপমানজনক আযাব।
যাহারা পুরুষ ও নারীদেরকে পীড়া দেয় এমন কোন অপরাধের জন্য যাহা তাহারা করে নাই; তাহারা অপবাদের ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।
যারা বিনা অপরাধে পুরুষ এবং নারীদের কষ্ট দেয়, তারা নিজেদের ঘাড়ে বহন করে অপবাদ এবং সুস্পষ্ট পাপের বোঝা।
হে নবী ! তুমি তোমার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মু’মিনদের নারীগণকে বল, তাহারা যেন তাহাদের চাদরের ক্রিয়দংশ নিজেদের উপর টানিয়া দেয়। উহাতে তাহাদেরকে চেনা সহজতর হইবে, ফলে তাহাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
হে নবী! তোমার স্ত্রী, কন্যা এবং মুমিনদের নারীদের বলো, তারা যেনো তাদের চাদরের অংশ তাদের উপর টেনে দেয়। এতে করে তাদের পরিচয় জানতে সহজতর হবে এবং তাদের উত্যক্ত করা হবেনা। অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়াবান।
মুনাফিকরা এবং যাহাদের অন্তরে ব্যাধি আছে এবং যাহারা নগরে গুজব রটনা করে তাহারা বিরত না হইলে আমি নিশ্চয়ই তাহাদের বিরুদ্ধে তোমাকে প্রবল করিব; ইহার পর এই নগরীতে তোমার প্রতিবেশীরূপে উহারা স্বল্প সময়ই থাকিবে -
মুনাফিকরা, যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা, আর যারা শহরে গুজব রটায় তারা নিজেদের অপতৎপরতা থেকে বিরত না হলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা তোমাকে প্রবল করে তুলবো, তারপর এই নগরীতে তারা তোমার প্রতিবেশি হিসেবে খুব কম সময়ই থাকতে পারবে।
অভিশপ্ত হইয়া; উহাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাইবে সেখানেই ধরা হইবে এবং নির্দয়ভাবে হত্যা করা হইবে।
অভিশপ্ত হবে তারা। যেখানেই তাদের পাওয়া যাবে, ধরা হবে এবং হত্যা করা হবে হত্যা করার মতো।
পূর্বে যাহারা অতীত হইয়া গিয়াছে তাহাদের ব্যাপারে ইহাই ছিল র রীতি। তুমি কখনও র রীতিতে কোন পরিবর্তন পাইবে না।
যারা অতীত হয়েছে, তাদের ব্যাপারেও এটাই ছিলো আল্লাহর সুন্নত (নিয়ম), তুমি কখনো আল্লাহর সুন্নতে পরিবর্তন পাবেনা।
লোকে তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, ‘ইহার জ্ঞান কেবল রই আছে।’ তুমি ইহা কী করিয়া জানিবে? সম্ভবত কিয়ামত শীঘ্রই হইয়া যাইতে পারে।
লোকেরা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বলো: ‘সেটার জ্ঞান আল্লাহর কাছেই রয়েছে।’ সেটা তুমি জানবে কী করে? হয়তো বা কিয়ামত খুব শীঘ্রি অনুষ্ঠিত হবে।
কাফিরদেরকে অভিশপ্ত করিয়াছেন এবং তাহাদের জন্য প্রস্তুত রাখিয়াছেন জ্বলন্ত অগ্নি।
লা’নত করেছেন কাফিরদের এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন জ্বলন্ত আগুন।
সেখানে উহারা স্থায়ী হইবে এবং উহারা কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাইবে না।
সেখানেই থাকবে তারা অনন্তকাল। তারা কোনো অলিও পাবেনা, সাহায্যকারীও পাবেনা।
যেদিন উহাদের মুখমণ্ডল অগ্নিতে উলটপালট করা হইবে সেদিন উহারা বলিবে, ‘হায়, আমরা যদি আল্লাহকে মানিতাম ও রাসূলকে মানিতাম!’
যেদিন তাদের মুখমন্ডল আগুনে ওলটপালট করা হবে, সেদিন তারা বলবে: ‘‘হায়, আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রসূলকে মেনে চলতাম!’
তাহারা আরও বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক ! আমরা আমাদের নেতা ও প্রভাবশালীদের আনুগত্য করিয়াছিলাম এবং উহারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করিয়াছিল;
তারা আরো বলবে: ‘আমাদের প্রভু! আমরা আমাদের নেতা এবং মুরুব্বিদের আনুগত্য করেছি, কিন্তু তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছে,
‘হে আমাদের প্রতিপালক! উহাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দাও এবং উহাদেরকে দাও মহাঅভিসম্পাত।’
আমাদের প্রভু! তুমি তাদের দ্বিগুণ শাস্তি দাও, আর তাদের লা’নত করো গুরুতর লা’নত।’’
হে মু’মিনগণ ! মূসাকে যাহারা ক্লেশ দিয়াছে তোমরা উহাদের ন্যায় হইও না; উহারা যাহা রটনা করিয়াছিল উহা হইতে তাহাকে নির্দোষ প্রমাণ করেন; এবং র নিকট সে মর্যাদাবান।
হে লোকেরা! তোমরা ঐসব লোকদের মতো হয়োনা, যারা মূসাকে কষ্ট দিয়েছিল। তারা যা রটিয়েছিল, তা থেকে তাকে নির্দোষ প্রমাণিত করেন এবং সে ছিলো আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান।
হে মু’মিনগণ ! কে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল;
হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সরল সঠিক কথা বলো।
তাহা হইলে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কর্ম ত্রটিমুক্ত করিবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করিবেন। যাহারা ও তাঁহার রাসূলের আনুগত্য করে, তাহারা অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করিবে।
(তাহলে) তিনি তোমাদের জন্যে ইসলাহ করে দেবেন তোমাদের আমল এবং ক্ষমা করে দেবেন তোমাদের অপরাধ। যে কেউ এবং তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে, অবশ্যি সে সাফল্য অর্জন করবে মহাসাফল্য।
আমি তো আসমান, যমীন ও পর্বতমালার প্রতি এই আমানত পেশ করিয়াছিলাম, উহারা ইহা বহন করিতে অস্বীকার করিল এবং উহাতে শংকিত হইল, কিন্তু মানুষ উহা বহন করিল; সে তো অতিশয় , অতিশয় অজ্ঞ।
আমরা মহাকাশ, পৃথিবী এবং পাহাড় - পর্বতের কাছে এই আমানত পেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা তা বহন করতে অপারগতা প্রকাশ করে এবং শংকিত হয়ে পড়ে। কিন্তু মানুষ তা বহন করলো। সে তো ভীষণ যালিম, অতিরিক্ত অজ্ঞ।
পরিণামে মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও মুশরিক নারীকে শাস্তি দিবেন এবং পুরুষ ও নারীকে ক্ষমা করিবেন। ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
পরিণামে আযাব দেবেন মুনাফিক পুরুষ আর মুনাফিক নারীদের এবং মুশরিক পুরুষ আর মুশরিক নারীদের। আর তওবা কবুল করবেন পুরুষ আর নারীদের এবং তো পরম ক্ষমাশীল অতীব দয়াবান আছেনই।