স্মরণ কর, মূসা তাহার সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায় ! তোমরা আমাকে কেন কষ্ট দিতেছ যখন তোমরা জান যে, আমি তোমাদের নিকট র রাসূল ? অতঃপর উহারা যখন বক্র পথ অবলম্বন করিল তখন উহাদের হৃদয়কে বক্র করিয়া দিলেন। পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।
মুহিউদ্দীন খান
স্মরণ কর, যখন মূসা (আঃ) তাঁর সম্প্রদায়কে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা কেন আমাকে কষ্ট দাও, অথচ তোমরা জান যে, আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রসূল। অতঃপর তারা যখন বক্রতা অবলম্বন করল, তখন তাদের অন্তরকে বক্র করে দিলেন। পাপাচারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।
মূসা যখন তার কওমকে বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা কেন আমাকে কষ্ট দাও? অথচ তোমরা তো জানো, আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রসূল। তারপর তারা যখন বক্রতা অবলম্বন করে তখন আল্লাহ্ও তাদের অন্তরকে বক্র করে দেন। ফাসিকদের সঠিক পথ দেখাননা।
স্মরণ কর, মার্ইয়াম - তনয় ‘ঈসা বলিয়াছিল, ‘হে বনী ইস্রাঈল! অবশ্যই আমি তোমাদের নিকট র রাসূল এবং আমার পূর্ব হইতে তোমাদের নিকট যে তাওরাত রহিয়াছে আমি তাহার প্রত্যায়ন - কারী এবং আমার পরে আহ্মাদ নামে যে রাসূল আসিবেন আমি তাহার সুসংবাদদাতা। পরে সে যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ উহাদের নিকট আসিল তখন উহারা বলিতে লাগিল, ‘ইহা তো এক স্পষ্ট জাদু।’
মুহিউদ্দীন খান
স্মরণ কর, যখন মরিয়ম - তনয় ঈসা (আঃ) বললঃ হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রসূল, আমার পূর্ববর্তী তওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন রসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন। তাঁর নাম আহমদ। অতঃপর যখন সে স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আগমন করল, তখন তারা বললঃ এ তো এক প্রকাশ্য যাদু।
স্মরণ করো, মরিয়মের পুত্র ঈসা যখন বলেছিল: ‘হে বনি ইসরাঈল! আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর রসূল। আমার আগে থেকেই তোমাদের কাছে যে তাওরাত রয়েছে আমি তার সত্যায়ন করছি এবং আমি সুসংবাদ দিচ্ছি, আমার পরে একজন রসূল আসবেন, তাঁর নাম হবে আহমদ।’ তারপর সে (আহমদ) যখন স্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে তাদের কাছে এলো, তারা বললো: ‘এতো এক স্পষ্ট ম্যাজিক।’
উহা এই যে, তোমরা ও তাঁহার রাসূলে বিশ্বাস স্থাপন করিবে এবং তোমাদের ধন - সম্পদ ও জীবন দ্বারা র পথে জিহাদ করিবে। ইহাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা জানিতে!
মুহিউদ্দীন খান
তা এই যে, তোমরা ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের ধন - সম্পদ ও জীবনপণ করে জেহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম; যদি তোমরা বোঝ।
তাহলো: তোমরা ঈমান রাখবে আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলের প্রতি, আর জিহাদ (চেষ্টা সংগ্রাম) করবে আল্লাহর পথে তোমাদের অর্থ সম্পদ এবং জান - প্রাণ দিয়ে। তোমাদের জন্যে এটাই কল্যাণকর যদি তোমরা জানো!
(এ তিজারত করলে) তিনি ক্ষমা করে দেবেন তোমাদের গুনাহ্ এবং তোমাদের দাখিল (প্রবেশ) করবেন জান্নাতে, যার নিচে দিয়ে থাকবে বহমান নদ নদী নহর। আরো থাকবে স্থায়ী জান্নাতে চমৎকার আবাস (বাসগৃহ) সমূহ। এটাই মহাসাফল্য!
হে মু’মিনগণ! তোমরা র দীনের সাহায্যকারী হও, যেমন মার্ইয়াম - তনয় ঈসা হাওয়ারীগণকে বলিয়াছিল, ‘র পথে কে আমার সাহায্যকারী হইবে ?’ হাওয়ারীগণ বলিয়াছিল, ‘আমরাই র পথে সাহায্যকারী।’ অতঃপর বনী ইস্রাঈলের একদল ঈমান আনিল এবং একদল করিল। তখন আমি যাহারা ঈমান আনিয়াছিল, তাহাদের শত্রুদের মুকাবিলায় তাহাদেরকে শক্তিশালী করিলাম, ফলে তাহারা বিজয়ী হইল।
মুহিউদ্দীন খান
মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হয়ে যাও, যেমন ঈসা ইবনে - মরিয়ম তার শিষ্যবর্গকে বলেছিল, আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী হবে? শিষ্যবর্গ বলেছিলঃ আমরা আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। অতঃপর বনী - ইসরাঈলের একদল বিশ্বাস স্থাপন করল এবং একদল হয়ে গেল। যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, আমি তাদেরকে তাদের শত্রুদের মোকাবেলায় শক্তি যোগালাম, ফলে তারা বিজয়ী হল।
হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হয়ে যাও, যেমন ঈসা ইবনে মরিয়ম হাওয়ারীদের (তার সাথিদের) বলেছিল: ‘আল্লাহর পথে কে হবে আমার সাহায্যকারী?’ হাওয়ারীরা বলেছিল: ‘আমরা হবো আল্লাহর পথে সাহায্যকারী।’ ফলে বনি ইসরাঈলের একদল লোক ঈমান আনে, আরেক দল করে কুফুরি। তখন আমরা ঈমান আনা লোকদের সাহায্য করলাম তাদের শত্রুদের মোকাবেলায় এবং তারা অর্জন করলো বিজয়।