আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; হে নবী, কেন তুমি তোমার জন্য যা বৈধ করেছেন, তা নিজের জন্য নিষিদ্ধ করছো, তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনা করে? আর ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমাদের কসম হইতে মুক্তি লাভের ব্যবস্থা করিয়াছেন, তোমাদের কর্মবিধায়ক, তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
মুহিউদ্দীন খান
তোমাদের জন্যে কসম থেকে অব্যহতি লাভের উপায় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তোমাদের মালিক। তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
তোমাদের জন্য তোমাদের শপথমুক্তির বিধান নির্ধারণ করেছেন। আর তোমাদের অভিভাবক, এবং তিনিই সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
স্মরণ কর - নবী তাহার স্ত্রীদের একজনকে গোপনে একটি কথা বলিয়াছিল। অতঃপর যখন সে উহা অন্যকে বলিয়া দিয়াছিল এবং নবীকে উহা জানাইয়া দিয়াছিলেন, তখন নবী এই বিষয়ে কিছু ব্যক্ত করিল এবং কিছু অব্যক্ত রাখিল। যখন নবী উহা তাহার সেই স্ত্রীকে জানাইল তখন সে বলিল, ‘কে আপনাকে ইহা অবহিত করিল?’ নবী বলিল, ‘আমাকে অবহিত করিয়াছেন তিনি, যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবগত।’
মুহিউদ্দীন খান
যখন নবী তাঁর একজন স্ত্রীর কাছে একটি কথা গোপনে বললেন, অতঃপর স্ত্রী যখন তা বলে দিল এবং নবীকে তা জানিয়ে দিলেন, তখন নবী সে বিষয়ে স্ত্রীকে কিছু বললেন এবং কিছু বললেন না। নবী যখন তা স্ত্রীকে বললেন, তখন স্ত্রী বললেনঃ কে আপনাকে এ সম্পর্কে অবহিত করল? নবী বললেন,ঃ যিনি সর্বজ্ঞ, ওয়াকিফহাল, তিনি আমাকে অবহিত করেছেন।
আর যখন নবী তাঁর স্ত্রীদের একজনের কাছে একটি কথা গোপনে বলেছিলেন; অতঃপর সে তা জানিয়ে দিল এবং তা তাঁকে অবহিত করলেন; তিনি এর কিছু অংশ জানালেন এবং কিছু অংশ এড়িয়ে গেলেন। অতঃপর যখন তিনি তাকে তা জানালেন, সে বলল, “কে আপনাকে এটি জানিয়েছে?” তিনি বললেন, “আমাকে জানিয়েছেন সর্বজ্ঞ, সর্বঅবহিত।”
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যদি তোমরা উভয়ে অনুতপ্ত হইয়া র দিকে প্রত্যাবর্তন কর তবে ভাল, কারণ তোমাদের হৃদয় তো ঝুঁকিয়া পড়িয়াছে। কিন্তু তোমরা যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরের পোষকতা কর তবে জানিয়া রাখ, তাহার বন্ধু এবং জিব্রাঈল ও সৎকর্মপরায়ণ মু’মিনগণও, তাহা ছাড়া অন্যান্য ফিরিশ্তাও তাহার সাহায্যকারী।
মুহিউদ্দীন খান
তোমাদের অন্তর অন্যায়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে যদি তোমরা উভয়ে তওবা কর, তবে ভাল কথা। আর যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য কর, তবে জেনে রেখ জিবরাঈল এবং সৎকর্মপরায়ণ মুমিনগণ তাঁর সহায়। উপরন্তুত ফেরেশতাগণও তাঁর সাহায্যকারী।
যদি তোমরা উভয়ে আল্লাহর কাছে তাওবা করো—কারণ তোমাদের অন্তর বিচ্যুত হয়েছে। আর যদি তোমরা তাঁর বিরুদ্ধে একে অপরকে সহযোগিতা করো, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহই তাঁর অভিভাবক, এবং জিবরীল, সৎ মুমিনগণ, আর এরপর ফেরেশতারাও সহায়ক।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যদি নবী তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করে তবে তাহার প্রতিপালক সম্ভবত তোমাদের স্থলে তাহাকে দিবেন তোমাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর স্ত্রী - যাহারা হইবে আত্মসর্মপণকারী, , অনুগত, তওবাকারী, ‘ইবাদতকারী, সিয়াম পালনকারী, অকুমারী এবং কুমারী।
মুহিউদ্দীন খান
যদি নবী তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন, তবে সম্ভবতঃ তাঁর পালনকর্তা তাঁকে পরিবর্তে দিবেন তোমাদের চাইতে উত্তম স্ত্রী, যারা হবে আজ্ঞাবহ, , নামাযী তওবাকারিণী, এবাদতকারিণী, রোযাদার, অকুমারী ও কুমারী।
যদি তিনি তোমাদেরকে তালাক দেন, তবে তাঁর পালনকর্তা হয়তো তাঁকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রীগণ দেবেন—আত্মসমর্পণকারিণী, , অনুগত, তাওবাকারিণী, ইবাদতকারিণী, সিয়াম পালনকারিণী, পূর্বে বিবাহিত এবং কুমারী।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হে মু’মিনগণ ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার - পরিজনকে রক্ষা কর দোযখ হইতে, যাহার ইন্ধন হইবে মানুষ ও প্রস্তর, যাহাতে নিয়োজিত আছে নির্মমহৃদয়, কঠোরস্বভাব ফিরিশ্তাগণ, যাহারা অমান্য করে না তাহা, যাহা তাহাদেরকে আদেশ করেন। আর তাহারা যাহা করিতে আদিষ্ট হয় তাহাই করে।
মুহিউদ্দীন খান
মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার - পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।
হে যারা ঈমান এনেছো, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর, যার জ্বালানি মানুষ ও পাথর। তার উপর রয়েছে কঠোর, কঠিনস্বভাব ফেরেশতাগণ; তারা তাদেরকে যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং তাদেরকে যা আদেশ করা হয়, তাই করে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হে কাফিরগণ ! আজ তোমরা দোষ স্খালনের চেষ্টা করিও না। তোমরা যাহা করিতে তোমাদেরকে তাহারই প্রতিফল দেওয়া হইবে।
মুহিউদ্দীন খান
হে সম্প্রদায়, তোমরা আজ ওযর পেশ করো না। তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেয়া হবে, যা তোমরা করতে।
হে যারা অবিশ্বাস করেছে, আজ তোমরা কোনো অজুহাত দিও না। তোমরা যা করতে, তারই প্রতিদান তোমাদের দেওয়া হচ্ছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হে মু’মিনগণ ! তোমরা র নিকট তওবা কর - বিশুদ্ধ তওবা ; তাহা হইলে তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কর্মগুলি মোচন করিয়া দিবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করিবেন জান্নাতে, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। সেই দিন লজ্জা দিবেন না নবীকে এবং তাহার সঙ্গীদেরকে, তাহাদের জ্যোতি তাহাদের সম্মুখে ও দক্ষিণ পার্শ্বে ধাবিত হইবে। তাহারা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জ্যোতিকে পূর্ণতা দান কর এবং আমাদেরকে ক্ষমা কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।’
মুহিউদ্দীন খান
মুমিনগণ! তোমরা তা’আলার কাছে তওবা কর - আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। সেদিন নবী এবং তাঁর সহচরদেরকে অপদস্থ করবেন না। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানদিকে ছুটোছুটি করবে। তারা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি সবকিছুর উপর সর্ব শক্তিমান।
হে যারা বিশ্বাস করেছো, তোমরা আল্লাহর কাছে আন্তরিক তাওবা কর। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দকর্মগুলো মুছে দেবেন এবং তোমাদেরকে এমন উদ্যানসমূহে প্রবেশ করাবেন, যার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়—সেদিন নবীকে এবং তাঁর সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে এবং তাদের ডান পাশে ছুটে চলবে। তারা বলবে, “হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের জন্য আমাদের আলো পূর্ণ করে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।”
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
হে নবী! ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর এবং উহাদের প্রতি কঠোর হও। উহাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম, উহা কত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল।
মুহিউদ্দীন খান
হে নবী! ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জেহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন। তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। সেটা কতই না নিকৃষ্ট স্থান।
হে নবী, অবিশ্বাসকারীদের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন। আর তাদের আশ্রয় জাহান্নাম, আর তা কত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কাফিরদের জন্য নূহের স্ত্রী ও লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত দিতেছেন, উহারা ছিল আমার বান্দাদের মধ্যে দুই সৎকর্মপরায়ণ বান্দার অধীন। কিন্তু উহারা তাহাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করিয়াছিল। ফলে নূহ্ ও লূত উহাদেরকে র শাস্তি হইতে রক্ষা করিতে পারিল না এবং উহাদেরকে বলা হইল, ‘তোমরা উভয়ে প্রবেশকারীদের সঙ্গে জাহান্নামে প্রবেশ কর।’
মুহিউদ্দীন খান
তা’আলা কাফেরদের জন্যে নূহ - পত্নী ও লূত - পত্নীর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। তারা ছিল আমার দুই ধর্মপরায়ণ বান্দার গৃহে। অতঃপর তারা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। ফলে নূহ ও লূত তাদেরকে তা’আলার কবল থেকে রক্ষা করতে পারল না এবং তাদেরকে বলা হলঃ জাহান্নামীদের সাথে জাহান্নামে চলে যাও।
অবিশ্বাসকারীদের জন্য নূহের স্ত্রী এবং লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। তারা ছিল আমাদের দুইজন সৎ বান্দার অধীনে, কিন্তু তারা তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। ফলে তারা আল্লাহর সামনে তাদের কোনো উপকার করতে পারেনি। আর বলা হয়েছিল, “প্রবেশকারীদের সঙ্গে তোমরাও আগুনে প্রবেশ করো।”
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মু’মিনদের জন্য দিতেছেন ফির‘আওন পত্নীর দৃষ্টান্ত, যে প্রার্থনা করিয়াছিল : ‘হে আমার প্রতিপালক! তোমার সন্নিধানে জান্নাতে আমার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করিও এবং আমাকে উদ্ধার কর ফিরা‘আওন ও তাহার দুষ্কৃতি হইতে এবং আমাকে উদ্ধার কর সম্প্রদায় হইতে।’
মুহিউদ্দীন খান
তা’আলা মুমিনদের জন্যে ফেরাউন - পত্নীর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা! আপনার সন্নিকটে জান্নাতে আমার জন্যে একটি গৃহ নির্মাণ করুন, আমাকে ফেরাউন ও তার দুস্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন এবং আমাকে যালেম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিন।
আর ঈমানদারদের জন্য ফিরআউনের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। যখন সে বলেছিল, “হে আমার পালনকর্তা, আপনার কাছে বেহেশতে আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করুন এবং আমাকে ফিরআউন ও তার কর্ম থেকে রক্ষা করুন, আর আমাকে সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করুন।”
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আরও দুষ্টান্ত দিতেছেন ইমরান - তনয়া মার্ইয়ামের - যে তাহার সতীত্ব রক্ষা করিয়াছিল, ফলে আমি তাহার মধ্যে রূহ্ ফুঁকিয়া দিয়াছিলাম এবং সে তাহার প্রতিপালকের বাণী ও তাঁহার কিতাবসমূহ সত্য বলিয়া গ্রহণ করিয়াছিল, সে ছিল অনুগতদের অন্যতম।
মুহিউদ্দীন খান
আর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন এমরান - তনয়া মরিয়মের, যে তার সতীত্ব বজায় রেখেছিল। অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার পক্ষ থেকে জীবন ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং সে তার পালনকর্তার বানী ও কিতাবকে সত্যে পরিণত করেছিল। সে ছিল বিনয় প্রকাশকারীনীদের একজন।
এবং ইমরানের কন্যা মারইয়ামের, যে তার সতীত্ব রক্ষা করেছিল। অতঃপর আমরা তার মধ্যে আমাদের রূহ থেকে ফুঁক দিয়েছিলাম। আর সে তার পালনকর্তার বাণীসমূহ ও তাঁর কিতাবসমূহকে সত্য বলে গ্রহণ করেছিল, এবং সে ছিল অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত।