Kitab

আল ওয়াক্বিয়া

Chapter 56, 96 verses

  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • জহুরুল হক
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • মুহিউদ্দীন খান
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন কিয়ামত ঘটিবে,

জহুরুল হক

যখন বিরাট ঘটনাটি ঘটবে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন ঘটনা (কিয়ামত) সংঘটিত হবে,

মুহিউদ্দীন খান

যখন কিয়ামতের ঘটনা ঘটবে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহার সংঘটন অস্বীকার করিবার কেহ থাকিবে না।

জহুরুল হক

এর সংঘটনকে মিথ্যা বলার কেউ থাকবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সেই ঘটনাকে অস্বীকার করার কেউ থাকবে না।

মুহিউদ্দীন খান

যার বাস্তবতায় কোন সংশয় নেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা কাহাকেও করিবে নীচ, কাহাকেও করিবে সম্মুন্নত ;

জহুরুল হক

এটি লাঞ্ছিত করবে, এটি করবে সমুন্নত।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটা কাউকে নামাবে নিচে, কাউকেও উঠাবে উপরে।

মুহিউদ্দীন খান

এটা নীচু করে দেবে, সমুন্নত করে দেবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন প্রবল কম্পনে প্রকম্পিত হইবে পৃথিবী,

জহুরুল হক

যখন পৃথিবী আলোড়িত হবে আলোড়নে,

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন পৃথিবী কেঁপে উঠবে প্রচন্ড রকম।

মুহিউদ্দীন খান

যখন প্রবলভাবে প্রকম্পিত হবে পৃথিবী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং পর্বতমালা চূর্ণ - বিচূর্ণ হইয়া পড়িবে,

জহুরুল হক

আর পাহাড়গুলো ভেঙ্গে পড়বে চূর্ণ - বিচূর্ণ হয়ে - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে পাহাড় পর্বত,

মুহিউদ্দীন খান

এবং পর্বতমালা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফলে উহা পর্যবসিত হইবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণায়;

জহুরুল হক

ফলে তা হয়ে যাবে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণা,

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে সেগুলো পরিণত হবে ছুঁড়ে মারা ধুলোবালির মতো।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তা হয়ে যাবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমরা বিভক্ত হইয়া পড়িবে তিন শ্রেণীতে -

জহুরুল হক

আর তোমরা হয়ে পড়বে তিনটি শ্রেণীতে - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন ভাগে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং তোমরা তিনভাবে বিভক্ত হয়ে পড়বে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল!

জহুরুল হক

যথা ডান দিকের দল, - - কেমনতর এই ডানদিকের দল!

আবদুস শহীদ নাসিম

একটি হবে ডানদিকের দল। কী যে ভাগ্যবান হবে ডানদিকের দল!

মুহিউদ্দীন খান

যারা ডান দিকে, কত ভাগ্যবান তারা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং বাম দিকের দল; কত হতভাগ্য বাম দিকের দল!

জহুরুল হক

আর বাঁদিকের দল, - - কেমনতর এই বাঁদিকের দল!

আবদুস শহীদ নাসিম

একটি হবে বামদিকের দল। কী যে দুর্ভাগা হবে বামদিকের দল!

মুহিউদ্দীন খান

এবং যারা বামদিকে, কত হতভাগা তারা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর অগ্রবর্তীগণই তো অগ্রবর্তী,

জহুরুল হক

আর অগ্রগামীগণ তো অগ্রগামী,

আবদুস শহীদ নাসিম

আরেকটি হবে অগ্রগামী দল। তারা তো থাকবে অগ্রগামীই।

মুহিউদ্দীন খান

অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তীই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত -

জহুরুল হক

এরাই হবে নৈকট্যপ্রাপ্ত,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা হবে সান্নিধ্য প্রাপ্ত,

মুহিউদ্দীন খান

তারাই নৈকট্যশীল,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিয়ামতপূর্ণ উদ্যানে;

জহুরুল হক

আনন্দময় উদ্যানে।

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে জান্নাতুন নায়ীমে (নিয়ামতে ভরা জান্নাতে)।

মুহিউদ্দীন খান

অবদানের উদ্যানসমূহে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বহুসংখ্যক হইবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হইতে;

জহুরুল হক

প্রথমকালীনদের থেকে অধিক সংখ্যায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বেশিরভাগই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,

মুহিউদ্দীন খান

তারা একদল পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং অল্পসংখ্যক হইবে পরবর্তীদের মধ্য হইতে।

জহুরুল হক

আর পরবর্তীকালীনদের থেকে অল্প সংখ্যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্বল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং অল্পসংখ্যক পরবর্তীদের মধ্যে থেকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্বর্ণখচিত আসনে

জহুরুল হক

কারুকার্যময় সিংহাসনে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা থাকবে সোনা ও মনিমুক্তা খচিত আসনে।

মুহিউদ্দীন খান

স্বর্ণ খচিত সিংহাসন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা হেলান দিয়া বসিবে, পরস্পর মুখোমুখি হইয়া।

জহুরুল হক

তাতে তারা হেলান দিয়ে আসন গ্রহণ করবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাতে তারা হেলান দিয়ে বসবে মুখোমুখি হয়ে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তাতে হেলান দিয়ে বসবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের সেবায় ঘোরাফেরা করিবে চির - কিশোরেরা

জহুরুল হক

তাদের চারিদিকে ঘুরে বেড়াবে চিরনবীন তরুণেরা - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের (সেবায়) তাওয়াফ করতে থাকবে চির বালকেরা,

মুহিউদ্দীন খান

তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরেরা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পানপাত্র, কুঁজা ও প্রস্রবণ - নিঃসৃত সুরাপূর্ণ পেয়ালা লইয়া।

জহুরুল হক

পানপাত্র ও সোরাই নিয়ে ও নির্মল পানীয়ের পেয়ালা।

আবদুস শহীদ নাসিম

পানপাত্র, কুঁজা এবং বহমান ঝর্ণা থেকে নেয়া সুরার পাত্র নিয়ে।

মুহিউদ্দীন খান

পানপাত্র কুঁজা ও খাঁটি সূরাপূর্ণ পেয়ালা হাতে নিয়ে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই সুরা পানে তাহাদের শিরঃপীড়া হইবে না, তাহারা জ্ঞানহারাও হইবে না -

জহুরুল হক

তাদের মাথা ধরবে না তাতে, আর তাদের নেশাও ধরবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেই সুরা পানে তাদের মাথাব্যথাও হবেনা এবং তারা জ্ঞান হারিয়ে মাতালও হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

যা পান করলে তাদের শিরঃপীড়া হবে না এবং বিকারগ্রস্ত ও হবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তাহাদের পসন্দমত ফলমূল,

জহুরুল হক

আর ফল - মূল যা তারা পছন্দ করে;

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে বিপুল ফলফলারি বেছে বেছে পছন্দসইটি গ্রহণ করার,

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের পছন্দমত ফল - মুল নিয়ে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তাহাদের ঈপ্সিত পাখির গোশ্‌ত লইয়া,

জহুরুল হক

আর পাখির মাংস যা তারা কামনা করে,

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে পাখির গোশ্ত যেটা তাদের মন চাইবে,

মুহিউদ্দীন খান

এবং রুচিমত পাখীর মাংস নিয়ে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তাহাদের জন্য থাকিবে আয়তলোচনা হূর,

জহুরুল হক

আর আয়তলোচন হূরগণ - -

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে আয়তলোচনা হুর (সুন্দরী নারীকুল)

মুহিউদ্দীন খান

তথায় থাকবে আনতনয়না হুরগণ,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুরক্ষিত মুক্তাসদৃশ,

জহুরুল হক

আবৃত মুক্তার উদাহরণের ন্যায়; - -

আবদুস শহীদ নাসিম

(ঝিনুকের মধ্যে) লুকানো মুক্তার মতো,

মুহিউদ্দীন খান

আবরণে রক্ষিত মোতির ন্যায়,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের কর্মের পুরস্কারস্বরূপ।

জহুরুল হক

যা তারা করতো তার পুরস্কার।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের আমলের প্রতিদান হিসেবে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা যা কিছু করত, তার পুরস্কারস্বরূপ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেখানে তাহারা শুনিবে না কোন অসার অথবা পাপবাক্য,

জহুরুল হক

তারা সেখানে শুনবে না কোনো খেলোকথা, না কোনো পাপবাক্য, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা সেখানে শুনবেনা কোনো অর্থহীন কথা কিংবা পাপালাপ।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তথায় অবান্তর ও কোন খারাপ কথা শুনবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘সালাম’ আর ‘সালাম’ বাণী ব্যতীত।

জহুরুল হক

শুধু এই কথা ছাড়া - - ''সালাম! সালাম!’’

আবদুস শহীদ নাসিম

শুনবে কেবল সালাম আর সালাম।

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু শুনবে সালাম আর সালাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর ডানদিকের দল, কত ভাগ্যবান ডানদিকের দল!

জহুরুল হক

আর ডানদিকের দল, - - কেমনতর এই ডানদিকের দল!

আবদুস শহীদ নাসিম

আর ডানদিকের দল, কী যে ভাগ্যবান ডানদিকের দল!

মুহিউদ্দীন খান

যারা ডান দিকে থাকবে, তারা কত ভাগ্যবান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা থাকিবে এমন উদ্যানে, সেখানে আছে কণ্টকহীন কুলবৃক্ষ,

জহুরুল হক

কাঁটা বিহীন সিদরাহ - গাছের নীচে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুল বাগানে,

মুহিউদ্দীন খান

তারা থাকবে কাঁটাবিহীন বদরিকা বৃক্ষে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কাঁদি ভরা কদলী বৃক্ষ,

জহুরুল হক

আর সারি সারি সাজানো কলাগাছ,

আবদুস শহীদ নাসিম

কাঁদিভরা কলার বাগানে,

মুহিউদ্দীন খান

এবং কাঁদি কাঁদি কলায়,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সম্প্রসারিত ছায়া,

জহুরুল হক

আর সুদূরবিস্তৃত ছায়া,

আবদুস শহীদ নাসিম

বিস্তীর্ণ ছায়ার মাঝে,

মুহিউদ্দীন খান

এবং দীর্ঘ ছায়ায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সদা প্রবহমান পানি,

জহুরুল হক

আর উছলে ওঠা পানি,

আবদুস শহীদ নাসিম

সদা বহমান পানির মধ্যে,

মুহিউদ্দীন খান

এবং প্রবাহিত পানিতে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ও প্রচুর ফলমূল,

জহুরুল হক

আর প্রচুর পরিমাণে ফলমূল,

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং বিপুল ফলমূলের মাঝে,

মুহিউদ্দীন খান

ও প্রচুর ফল - মূলে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহা শেষ হইবে না ও যাহা নিষিদ্ধও হইবে না।

জহুরুল হক

ব্যাহত হবার নয় এবং নিষিদ্ধ হবারও নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যা কখনো শেষও হবেনা, নিষিদ্ধও হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

যা শেষ হবার নয় এবং নিষিদ্ধ ও নয়,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর সমুচ্চ শয্যাসমূহ;

জহুরুল হক

আর উঁচুদরের গালিচা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা থাকবে উঁচু উঁচু শয্যায়,

মুহিউদ্দীন খান

আর থাকবে সমুন্নত শয্যায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদেরকে আমি সৃষ্টি করিয়াছি বিশেষরূপে -

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা ওদের সৃষ্টি করেছি বিশেষ সৃষ্টিতে;

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের (পৃথিবীর জান্নাতি স্ত্রীদের) সৃষ্টি করবো অপরূপ সৃষ্টিতে,

মুহিউদ্দীন খান

আমি জান্নাতী রমণীগণকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদেরকে করিয়াছি কুমারী,

জহুরুল হক

আর তাদের বানিয়েছি চিরকুমারী,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বানিয়ে দেবো কুমারী,

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাদেরকে করেছি চিরকুমারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সোহাগিনী ও সমবয়স্কা,

জহুরুল হক

সোহাগিনী, সমবয়স্কা, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

স্বামীগত প্রাণ এবং সমবয়স্কা,

মুহিউদ্দীন খান

কামিনী, সমবয়স্কা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ডানদিকের লোকদের জন্য।

জহুরুল হক

দক্ষিণপন্থী লোকদের জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

ডানদিকের লোকদের জন্যে।

মুহিউদ্দীন খান

ডান দিকের লোকদের জন্যে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের অনেকে হইবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হইতে,

জহুরুল হক

প্রথমকালীনদের থেকে অধিক সংখ্যায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তী লোকদের থেকে,

মুহিউদ্দীন খান

তাদের একদল হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং অনেকে হইবে পরবর্তীদের মধ্য হইতে।

জহুরুল হক

আর পরবর্তীকালীনদের মধ্যে থেকেও অধিক সংখ্যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং অনেকেই হবে পরবর্তী লোকদের থেকে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং একদল পরবর্তীদের মধ্য থেকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর বামদিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল!

জহুরুল হক

কিন্তু বামপন্থীদল - - কেমনতর এই বামপন্থী দল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর বামদিকের লোকেরা, কী যে হতভাগ্য বামদিকের লোকেরা!

মুহিউদ্দীন খান

বামপার্শ্বস্থ লোক, কত না হতভাগা তারা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা থাকিবে অত্যুষ্ণ বায়ু ও উত্তপ্ত পানিতে,

জহুরুল হক

উত্তপ্ত বাতাসে ও ফুটন্ত পানিতে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা থাকবে প্রচন্ড গরম বাতাস আর টগবগে ফুটন্ত গরম পানির মধ্যে,

মুহিউদ্দীন খান

তারা থাকবে প্রখর বাষ্পে এবং উত্তপ্ত পানিতে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কৃষ্ণবর্ণ ধূম্রের ছায়ায়,

জহুরুল হক

আর কালো ধোঁয়ার ছায়ায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

থাকবে কালো ধুঁয়ার ছায়ায়,

মুহিউদ্দীন খান

এবং ধুম্রকুঞ্জের ছায়ায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহা শীতল নয়, আরামদায়কও নয়।

জহুরুল হক

শীতল নয় এবং সম্মানজনকও নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তা ঠান্ডাও হবেনা, আরামদায়কও হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

যা শীতল নয় এবং আরামদায়কও নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইতিপূর্বে উহারা তো মগ্ন ছিল ভোগ - বিলাসে

জহুরুল হক

অথচ তারা তো এর আগে ছিল ভোগবিলাসে মগ্ন,

আবদুস শহীদ নাসিম

ইতোপূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) তারা তো মত্ত ছিলো ভোগ বিলাসে

মুহিউদ্দীন খান

তারা ইতিপূর্বে স্বাচ্ছন্দ্যশীল ছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং উহারা অবিরাম লিপ্ত ছিল ঘোরতর পাপকর্মে।

জহুরুল হক

আর তারা ঘোরতর পাপাচারে জেদ ধরে থাকত,

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তারা অবিরাম লিপ্ত ছিলো গুরুতর পাপ কাজে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা সদাসর্বদা ঘোরতর পাপকর্মে ডুবে থাকত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর উহারা বলিত, ‘মরিয়া অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হইলেও কি উত্থিত হইব আমরা?

জহুরুল হক

আর তারা বলত - - ''কী! আমরা যখন মরে যাব ও মাটি ও হাড্ডি হয়ে যাব তখন কি আমরা আদৌ পুনরুত্থিত হব, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলতো: ‘‘আমরা যখন মরে যাবো এবং মাটি আর হাড়ে পরিণত হবো, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে?

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলতঃ আমরা যখন মরে অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হয়ে যাব, তখনও কি পুনরুত্থিত হব?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণও?’

জহুরুল হক

এবং আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষরাও?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও?’’

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণও!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘অবশ্যই পূর্ববর্তিগণ ও পরবর্তিগণ -

জহুরুল হক

তুমি বলো - - ''নিঃসন্দেহ পূর্ববর্তীরা এবং পরবর্তীরা - -

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: পূর্বের এবং পরের সবাইকে,

মুহিউদ্দীন খান

বলুনঃ পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সকলকে একত্র করা হইবে এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে।

জহুরুল হক

''অবশ্যই সবাইকে একত্রিত করা হবে এক সুবিদিত দিনের নির্ধারিত স্থানে - ক্ষণে,

আবদুস শহীদ নাসিম

একত্র করা হবে একটি নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে,

মুহিউদ্দীন খান

সবাই একত্রিত হবে এক নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট সময়ে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর হে বিভ্রান্ত অস্বীকারকারীরা!

জহুরুল হক

''তখন নিঃসন্দেহ তোমরাই, হে পথভ্রষ্ট মিথ্যাআরোপকারিগণ!

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর হে বিভ্রান্ত অস্বীকারকারীরা!

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর হে পথভ্রষ্ট, মিথ্যারোপকারীগণ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা অবশ্যই আহার করিবে যাক্কূম বৃক্ষ হইতে,

জহুরুল হক

''তোমরা আলবৎ আহার করবে যিক্কুমের গাছের থেকে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা অবশ্যি খাবে যাক্কুম গাছ থেকে,

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা অবশ্যই ভক্ষণ করবে যাক্কুম বৃক্ষ থেকে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং উহা দ্বারা তোমরা উদর পূর্ণ করিবে,

জহুরুল হক

''এবং তাই দিয়ে তোমরা উদর পূর্ণ করবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তা দিয়ে পূর্ণ করবে তোমাদের উদর!

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তা দ্বারা উদর পূর্ণ করবে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পরে তোমরা পান করিবে উহার উপর অত্যুষ্ণ পানি -

জহুরুল হক

''তারপর তোমরা তার উপরে পান করবে উত্তপ্ত পানি,

আবদুস শহীদ নাসিম

তার উপর পান করবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তার উপর পান করবে উত্তপ্ত পানি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর পান করিবে তৃষ্ণার্ত উষ্ট্রের ন্যায়।

জহুরুল হক

''আর তোমরা পান করবে তৃষ্ণার্ত উটের পান করার ন্যায়।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তা তোমরা পান করবে তৃষার্ত উটের মতো।

মুহিউদ্দীন খান

পান করবে পিপাসিত উটের ন্যায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিয়ামতের দিন ইহাই হইবে উহাদের আপ্যায়ন।

জহুরুল হক

এই হবে তাদের আপ্যায়ন বিচারের দিনে।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রতিদান দিবসে এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।

মুহিউদ্দীন খান

কেয়ামতের দিন এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছি, তবে কেন তোমরা বিশ্বাস করিতেছ না?

জহুরুল হক

আমরাই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তবে কেন তোমরা সত্য বলে স্বীকার কর না?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরাই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি, কেন তোমরা তা স্বীকার করছো না?

মুহিউদ্দীন খান

আমি সৃষ্টি করেছি তোমাদেরকে। অতঃপর কেন তোমরা তা সত্য বলে বিশ্বাস কর না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ তোমাদের বীর্যপাত সম্বন্ধে?

জহুরুল হক

তোমরা কি তবে ভেবে দেখেছ - - যা তোমরা স্খলন কর?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে বীর্যপাত করো, সে বিষয়ে তোমরা ভেবে দেখেছো কি?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমাদের বীর্যপাত সম্পর্কে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?

জহুরুল হক

তোমরা বুঝি ওকে সৃষ্টি করেছ, না আমরা সৃষ্টিকর্তা?

আবদুস শহীদ নাসিম

তা কি তোমরা সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই তার স্রষ্টা?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা তাকে সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যু নির্ধারিত করিয়াছি এবং আমি অক্ষম নই -

জহুরুল হক

আমরাই তোমাদের মধ্যে মৃত্যু ধার্য করে রেখেছি, আর আমরা প্রতিহত হব না, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমাদের জন্যে নির্ধারণ করে রেখেছি মউত এবং আমরা অক্ষম নই

মুহিউদ্দীন খান

আমি তোমাদের মৃত্যুকাল নির্ধারিত করেছি এবং আমি অক্ষম নই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের স্থলে তোমাদের সদৃশ আনয়ন করিতে এবং তোমাদেরকে এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করিতে যাহা তোমরা জান না।

জহুরুল হক

যেন আমরা বদলে দিতে পারি তোমাদের অনুকরণে, এবং তোমাদের রূপান্তরিত করতে পারি তাতে যা তোমরা জান না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের বদল করে তোমাদের স্থলে তোমাদের অনুরূপ অন্যদের নিয়ে আসতে এবং তোমাদের এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জানো না।

মুহিউদ্দীন খান

এ ব্যাপারে যে, তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের মত লোককে নিয়ে আসি এবং তোমাদেরকে এমন করে দেই, যা তোমরা জান না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা তো অবগত হইয়াছ প্রথম সৃষ্টি সম্বন্ধে, তবে তোমরা অনুধাবন কর না কেন?

জহুরুল হক

আর তোমরা অবশ্য প্রথম অভ্যুত্থান সন্বন্ধে অবগত হয়েছ, তবে কেন তোমরা ভেবে দেখ না?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তো কেবল প্রথম সৃষ্টির কথাই জানো। তবে কেন তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করোনা?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা অবগত হয়েছ প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে, তবে তোমরা অনুধাবন কর না কেন?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা যে বীজ বপন কর সে সম্পর্কে চিন্তা করিয়াছ কি?

জহুরুল হক

তোমরা কি ভেবে দেখেছ যা তোমরা বপন কর?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে (ক্ষেত খামারে) বীজ বপন করে আসো, সে বিষয়ে তোমরা ভেবে দেখেছো কি?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যে বীজ বপন কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা কি উহাকে অঙ্কুরিত কর, না আমি অঙ্কুরিত করি?

জহুরুল হক

তোমরা কি তা গজিয়ে তুলো, না আমরা বর্ধনকারী?

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটি অংকুরিত করো কি তোমরা, নাকি আমরাই অংকুর সৃষ্টিকারী?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা তাকে উৎপন্ন কর, না আমি উৎপন্নকারী ?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি ইচ্ছা করিলে ইহাকে খড় - কুটায় পরিণত করিতে পারি, তখন হতবুদ্ধি হইয়া পড়িবে তোমরা;

জহুরুল হক

আমরা যদি চাইতাম তবে আমরা আলবৎ তাকে খড় - কুটোয় পরিণত করতে পারতাম, তখন তোমরা হাহুতাশ করতে থাকবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা ইচ্ছা করলে তা খড় কুটায় পরিণত করে দিতে পারি, তাতে তোমরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে (এবং বলবে:)

মুহিউদ্দীন খান

আমি ইচ্ছা করলে তাকে খড়কুটা করে দিতে পারি, অতঃপর হয়ে যাবে তোমরা বিস্ময়াবিষ্ট।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমরা তো দায়গ্রস্ত হইয়া পড়িয়াছি’,

জহুরুল হক

''আমরা তো নিশ্চয় ঋণগ্রস্ত হলাম,

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘আমরা তো দেউলিয়া হয়ে পড়েছি।

মুহিউদ্দীন খান

বলবেঃ আমরা তো ঋণের চাপে পড়ে গেলাম;

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বরং ‘আমরা হৃতসর্বস্ব হইয়া পড়িয়াছি।’

জহুরুল হক

''বরং আমরা বঞ্চিত হলাম।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং আমরা বঞ্চিত হয়ে গেছি।’’

মুহিউদ্দীন খান

বরং আমরা হূত সর্বস্ব হয়ে পড়লাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা যে পানি পান কর তাহা সম্পর্কে কি তোমরা চিন্তা করিয়াছ?

জহুরুল হক

তোমরা যে পানি পান কর সে - সন্বন্ধে তোমরা কি ভেবে দেখেছ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে পানি পান করো সে বিষয়ে ভেবে দেখেছো কি?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা কি উহা মেঘ হইতে নামাইয়া আন, না আমি উহা বর্ষণ করি?

জহুরুল হক

তোমরাই কি তা মেঘ থেকে নামিয়ে আন, না আমরা বর্ষণকারী?

আবদুস শহীদ নাসিম

মেঘ থেকে তা কি তোমরা নাযিল করো, নাকি আমরা নামিয়ে আনি?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা তা মেঘ থেকে নামিয়ে আন, না আমি বর্ষন করি?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি ইচ্ছা করিলে উহা লবণাক্ত করিয়া দিতে পারি। তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?

জহুরুল হক

আমরা যদি চাইতাম তাহলে আমরা তাকে লোনা করে দিতে পারতাম, কেন তবে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা ইচ্ছা করলে তা লোনা লবণাক্ত রেখে দিতে পারি, তবু কেন তোমরা শোকর আদায় করোনা?

মুহিউদ্দীন খান

আমি ইচ্ছা করলে তাকে লোনা করে দিতে পারি, অতঃপর তোমরা কেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা যে অগ্নি কর তাহা লক্ষ্য করিয়া দেখিয়াছ কি?

জহুরুল হক

তোমরা যে আগুন জ্বালাও তা কি তোমরা লক্ষ্য করেছ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে আগুন জ্বালাও, তার প্রতি লক্ষ্য করে দেখেছো কি?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরাই কি উহার বৃক্ষ সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?

জহুরুল হক

তোমরাই কি তার গাছকে জন্মইয়েছ, না আমরা উৎপাদনকারী?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরাই কি তার জ্বালানি সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই তার স্রষ্টা?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা কি এর বৃক্ষ সৃষ্টি করেছ, না আমি সৃষ্টি করেছি ?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি ইহাকে করিয়াছি নিদর্শন এবং মরুচারীদের প্রয়োজনীয় বস্তু।

জহুরুল হক

আমরাই তাকে বানিয়েছি এক নিদর্শনসামগ্রী এবং মরুচারীদের জন্য এক প্রয়োজনসামগ্রী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা এটাকে করেছি একটি নিদর্শন এবং মরুচারীদের জন্যে অতীব প্রয়োজনীয়।

মুহিউদ্দীন খান

আমি সেই বৃক্ষকে করেছি স্মরণিকা এবং মরুবাসীদের জন্য সামগ্রী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।

জহুরুল হক

অতএব তোমার সর্বশক্তিমান প্রভুর নামের জপতপ করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব তুমি তোমার মহান প্রভুর নাম নিয়ে তসবিহ করো।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি শপথ করিতেছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের,

জহুরুল হক

না, আমি কিন্তু শপথ করছি নক্ষত্ররাজির অবস্থানের, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি শপথ করছি নক্ষত্র রাজির অস্তাচলের,

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আমি তারকারাজির অস্তাচলের শপথ করছি,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অবশ্যই ইহা এক মহাশপথ, যদি তোমরা জানিতে -

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ এটি তো এক বিরাট শপথ, যদি তোমরা জানতে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি এটা একটা বড় শপথ, যদি তোমরা এর গুরুত্ব বুঝতে!

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এটা এক মহা শপথ - যদি তোমরা জানতে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই ইহা সম্মানিত কুরআন,

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ এটি তো এক সম্মানিত কুরআন,

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এটি একটি সম্মানিত কুরআন।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এটা সম্মানিত কোরআন,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহা আছে সুরক্ষিত কিতাবে।

জহুরুল হক

এক সুরক্ষিত গ্রন্থে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি রয়েছে সুরক্ষিত কিতাবে (উম্মুল কিতাবে)।

মুহিউদ্দীন খান

যা আছে এক গোপন কিতাবে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা পূত - পবিত্র তাহারা ব্যতীত অন্য কেহ তাহা স্পর্শ করে না।

জহুরুল হক

কেউ তা স্পর্শ করবে না পূত - পবিত্র ছাড়া।

আবদুস শহীদ নাসিম

পবিত্ররা (ফেরেশতারা) ছাড়া কেউ এটি স্পর্শ করেনা (নবীর কাছে বহন করে আনেনা)।

মুহিউদ্দীন খান

যারা পাক - পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হইতে অবতীর্ণ।

জহুরুল হক

এটি এক অবতারণ বিশ্বজগতের প্রভুর কাছ থেকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি নাযিল হচ্ছে রাববুল আলামিনের পক্ষ থেকে।

মুহিউদ্দীন খান

এটা বিশ্ব - পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবুও কি তোমরা এই বাণীকে তুচ্ছ গণ্য করিবে?

জহুরুল হক

তা সত্ত্বেও কি সেই বাণীর প্রতি তোমরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য ভাবাপন্ন,

আবদুস শহীদ নাসিম

এই মহাবাণীকে তোমরা তুচ্ছ মনে করছো?

মুহিউদ্দীন খান

তবুও কি তোমরা এই বাণীর প্রতি শৈথিল্য পদর্শন করবে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমরা মিথ্যারোপকেই তোমাদের উপজীব্য করিয়া লইয়াছ !

জহুরুল হক

এবং তোমাদের জীবিকা বানিয়ে নিয়েছ যে তোমরা মিথ্যা আখ্যা দেবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

আর মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করাকেই কি তোমরা বানিয়ে নিয়েছো তোমাদের উপজীব্য?

মুহিউদ্দীন খান

এবং একে মিথ্যা বলাকেই তোমরা তোমাদের ভূমিকায় পরিণত করবে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পরন্তু কেন নয় - প্রাণ যখন কণ্ঠাগত হয়

জহুরুল হক

তবে কেন যখন কন্ঠাগত হয়ে যায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তোমাদের প্রাণ এসে পড়বে কণ্ঠনালীতে,

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন কারও প্রাণ কন্ঠাগত হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তখন তোমরা তাকাইয়া থাক,

জহুরুল হক

এবং তোমরা যে - সময়ে তাকিয়ে থাকো,

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তোমরা তাকিয়ে থাকবে এক দৃষ্টিতে,

মুহিউদ্দীন খান

এবং তোমরা তাকিয়ে থাক,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আমি তোমাদের অপেক্ষা তাহার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখিতে পাও না।

জহুরুল হক

আমরা তখন তোমাদের চাইতে তার বেশী নিকটবর্তী কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা তোমাদের চাইতেও তার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা।

মুহিউদ্দীন খান

তখন আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখ না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা যদি কর্তৃত্বাধীন না হও!

জহুরুল হক

যদি তোমরা আজ্ঞাধীন না হয়ে থাক তবে কেন তোমরা পার না - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি পুনরুত্থান ও প্রতিদান দিবসকে মেনে না নাও,

মুহিউদ্দীন খান

যদি তোমাদের হিসাব - কিতাব না হওয়াই ঠিক হয়,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে তোমরা উহা ফিরাও না কেন? যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

জহুরুল হক

তাকে ফিরিয়ে দিতে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তোমরা তা (জীবন) ফিরাও না কেন তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে?

মুহিউদ্দীন খান

তবে তোমরা এই আত্মাকে ফিরাও না কেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও ?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন হয়,

জহুরুল হক

আর পক্ষান্তরে যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে যদি সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের একজন হয়,

মুহিউদ্দীন খান

যদি সে নৈকট্যশীলদের একজন হয়;

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে তাহার জন্য রহিয়াছে আরাম, উত্তম জীবনোপকরণ ও সুখদ উদ্যান;

জহুরুল হক

তাহলে আয়েশ - আরাম ও সৌরভ, এবং আনন্দময় উদ্যান।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তখন তার জন্যে থাকবে সুরভিত এবং ফুলেল উদ্যান আর জান্নাতুন নায়ীম (নিয়ামতে ভরা জান্নাত)।

মুহিউদ্দীন খান

তবে তার জন্যে আছে সুখ, উত্তম রিযিক এবং নেয়ামতে ভরা উদ্যান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যদি সে ডানদিকের একজন হয়,

জহুরুল হক

আর অপরপক্ষে সে যদি দক্ষিণপন্থীদের মধ্যেকার হয়,

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সে যদি হয় ডানদিকের লোকদের একজন,

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি সে ডান পার্শ্বস্থদের একজন হয়,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে তাহাকে বলা হইবে, ‘হে দক্ষিণ পার্শ্ববর্তী! তোমার প্রতি শান্তি।’

জহুরুল হক

তাহলে দক্ষিণপন্থীদের দলের থেকে - - ''তোমার প্রতি সালাম।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাহলে তাকে বলা হবে: ‘হে ডান পাশবর্তী! তোমার প্রতি সালাম।’

মুহিউদ্দীন খান

তবে তাকে বলা হবেঃ তোমার জন্যে ডানপার্শ্বসস্থদের পক্ষ থেকে সালাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিন্তু সে যদি সত্য অস্বীকারকারী ও বিভ্রান্তদের অন্যতম হয়,

জহুরুল হক

আর পক্ষান্তরে সে যদি প্রত্যাখ্যানকারী পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সে যদি হয় বিভ্রান্ত মিথ্যাবাদীদের একজন,

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি সে পথভ্রষ্ট মিথ্যারোপকারীদের একজন হয়,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে রহিয়াছে আপ্যায়ন অত্যুষ্ণ পানির দ্বারা,

জহুরুল হক

তাহলে আপ্যায়ন হবে ফুটন্ত পানি দিয়ে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তাহলে তার আতিথ্য হবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি,

মুহিউদ্দীন খান

তবে তার আপ্যায়ন হবে উত্তপ্ত পানি দ্বারা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং দহন জাহান্নামের;

জহুরুল হক

এবং প্রবেশস্থল হবে ভয়ংকর আগুন!

আবদুস শহীদ নাসিম

আর জাহান্নামের দহন।

মুহিউদ্দীন খান

এবং সে নিক্ষিপ্ত হবে অগ্নিতে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা তো ধ্রুব সত্য।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ এটি অবশ্য সুনিশ্চিত সত্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ এক নিশ্চিত সত্য বিষয়।

মুহিউদ্দীন খান

এটা ধ্রুব সত্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।

জহুরুল হক

সুতরাং তোমার সর্বশক্তিমান প্রভুর নামের জপতপ করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তুমি তসবিহ্ করো তোমার মহান প্রভুর নামের।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme