Kitab

আল শো’আরা

Chapter 26, 227 verses

  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • জহুরুল হক
  • আবদুস শহীদ নাসিম
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তা - সীন - মীম।

জহুরুল হক

ত্বা, সীন, মীম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোয়া সিন মিম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইগুলি সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।

জহুরুল হক

এসব হচ্ছে সুস্পষ্ট গ্রন্থের বাণীসমূহ।

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা হইতেছে না বলিয়া তুমি হয়ত মনোকষ্টে আত্মবিনাশী হইয়া পড়িবে।

জহুরুল হক

তুমি হয়ত তোমার নিজেকে মেরেই ফেলবে যেহেতু তারা হচ্ছে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা হচ্ছে না বলে তুমি হয়তো মনের দুঃখে নিজেকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি ইচ্ছা করিলে আকাশ হইতে উহাদের নিকট এক নিদর্শন প্রেরণ করিতাম, ফলে উহাদের গ্রীবা বিনত হইয়া পড়িত উহার প্রতি।

জহুরুল হক

যদি আমরা ইচ্ছা করতাম তাহলে আমরা তাদের উপরে আকাশ থেকে একটি নিদর্শন পাঠাতে পারতাম, তখন এর কারণে তাদের ঘাড় নুইয়ে হেটঁ করে দেয়া হত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা চাইলে আসমান থেকে তাদের জন্যে একটি নিদর্শন নাযিল করতাম, তখন সেটার প্রতি তাদের গর্দান নুইয়ে পড়তো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখনই উহাদের কাছে দয়াময়ের নিকট হইতে কোন নূতন উপদেশ আসে, তখনই উহারা উহা হইতে মুখ ফিরাইয়া নেয়।

জহুরুল হক

আর তাদের নিকট পরম করুণাময়ের কাছ থেকে কোনো নতুন স্মরণীয় - বার্তা আসতে না আসতেই তারা তা থেকে বিমুখ হয়ে যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখনই তাদের কাছে রহমানের পক্ষ থেকে নতুন কোনো যিকির (উপদেশ বার্তা) আসে, তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা তো অস্বীকার করিয়াছে। সুতরাং উহারা যাহা লইয়া ঠাট্টা - বিদ্রপ করিত তাহার প্রকৃত বার্তা তাহাদের নিকট শীঘ্রই আসিয়া পড়িবে।

জহুরুল হক

তাহলে তারা প্রত্যাখ্যান করেই ফেলেছে, সুতরাং যা নিয়ে তারা ঠাট্টা - বিদ্রপ করত তার সংবাদ তাদের কাছে শীঘ্রই আসছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তো অস্বীকার করেছে। সুতরাং তারা যা নিয়ে বিদ্রূপ করছে তার প্রকৃত খবর তাদের কাছে অচিরেই এসে পড়বে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা কি যমীনের দিকে লক্ষ্য করে না? আমি উহাতে প্রত্যেক প্রকারের কত উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ উদ্‌গত করিয়াছি।

জহুরুল হক

তারা কি পৃথিবীর দিকে চেয়ে দেখে না - - এতে আমরা প্রত্যেক উৎকৃষ্ট কল্পতরু কত যে জন্নিয়েছি?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি জমিনের দিকে তাকিয়ে দেখেনা? আমরা তাতে সব ধরনের কতো যে উত্তম উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় ইহাতে আছে নিদর্শন, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়!

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি এতে রয়েছে একটি নিদর্শন, কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মহাপরাক্রমশালী, পরম দরয়াবান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক মূসাকে ডাকিয়া বলিলেন, ‘তুমি সম্প্রদায়ের নিকট যাও,

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! তোমার প্রভু মূসাকে ডেকে বললেন - - ''তুমি অত্যাচারী লোকদের কাছে যাও, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তোমার প্রভু মূসাকে ডেকে বলেছিলেন, তুমি যালিম কওমের কাছে যাও,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘ফির‘আওনের সম্প্রদায়ের নিকট; উহারা কি ভয় করে না?’

জহুরুল হক

ফিরআউনের লোকদের কাছে। তারা কি ধর্মভীরুতা অবলন্বন করবে না?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউনের কওমের কাছে। তাদের বলো: ‘তারা কি সতর্ক হবেনা?’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তখন সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক ! আমি আশংকা করি যে, উহারা আমাকে অস্বীকার করিবে,

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমি অবশ্যই আশংকা করি যে তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন মূসা বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার আশংকা হয়, তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই ! সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও।

জহুরুল হক

''আমার বুক সংকুচিত হয়ে পড়েছে, আর আমার জিহ্বা বাক্‌পটু নয়, সেজন্য হারূনের প্রতিও ডাক পাঠাও।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার মন ছোট হয়ে আসছে আর আমার যবানও সঞ্চালিত হচ্ছে না, সুতরাং তুমি হারূণকে রিসালাত দান করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমার বিরুদ্ধে তো উহাদের এক অভিযোগ আছে, আমি আশংকা করি উহারা আমাকে হত্যা করিবে।’

জহুরুল হক

''আর আমার বিরুদ্ধে এক অপরাধ তাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে, সেজন্য আমি ভয় করি যে তারা আমাকে কাতল করবে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার বিরুদ্ধে তাদের একটা অভিযোগও আছে, তাই আমি আশংকা করছি তারা আমাকে হত্যা করবে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ বলিলেন, ‘না, কখনই নহে, অতএব তোমরা উভয়ে আমার নিদর্শনসহ যাও, আমি তো তোমাদের সঙ্গে আছি, শ্রবণকারী।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''কখনো না! অতএব তোমরা দুজনেই আমাদের নিদর্শন সমূহ নিয়ে যাও, নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের সঙ্গে রয়েছি শুনতে থাকা অবস্থায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

বললেন: ‘কখনো নয়। সুতরাং তোমরা দু’জনই যাও আমাদের নিদর্শনসমূহ নিয়ে, আমরাও তোমাদের সাথে থাকবো, সব শুনবো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অতএব তোমরা উভয়ে ফির‘আওনের নিকট যাও এবং বল, ‘আমরা তো জগতসমূহের প্রতিপালকের রাসূল,

জহুরুল হক

''সুতরাং তোমরা ফিরআউনের নিকট যাও আর বলো - - 'আমরা আলবৎ বিশ্বজগতের প্রভুর রসূল - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ফেরাউনের কাছে যাও, তাকে বলো: ‘‘আমরা রাব্বুল আলামিনের রসূল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমাদের সঙ্গে যাইতে দাও বনী ইসরাঈলকে।’

জহুরুল হক

''যে ইসরাইলের বংশধরদের আমাদের সঙ্গে পাঠিয়ে দাও’।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি বনি ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বলিল, ‘আমরা কি তোমাকে শৈশবে আমাদের মধ্যে লালন - পালন করি নাই? আর তুমি তো তোমার জীবনের বহু বৎসর আমাদের মধ্যে কাটাইয়াছ,

জহুরুল হক

সে বললে - - ''তোমাকে কি ছেলেবেলায় আমাদের কাছেই লালনপালন করি নি, এবং তুমি কি আমাদেরই মধ্যে তোমার জীবনের বহু বৎসর কাটাও নি?

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘‘আমরা কি শৈশবে তোমাকে আমাদের মধ্যে লালন পালন করিনি? তুমি তো তোমার জীবনের অনেক বছর আমাদের মধ্যে কাটিয়েছো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং তুমি তোমার কর্ম যাহা করিবার তাহা তো করিয়াছ ; তুমি অকৃতজ্ঞ।’

জহুরুল হক

''আর তোমার কাজ যা তুমি করেছ তা তো করেইছ, তথাপি তুমি অকৃতজ্ঞদের মধ্যেকার!’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তুমি তোমার একটা কর্ম করেছিলে। তুমি এক অকৃতজ্ঞ।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলিল, ‘আমি তো ইহা করিয়াছিলাম তখন, যখন ছিলাম অনবধান।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমি এটি করেছিলাম যখন আমি পথভ্রষ্টদের মধ্যে ছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘‘আমি তো সে কাজটি করেছিলাম তখন, যখন আমি ছিলাম জ্ঞানহীন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অতঃপর আমি যখন তোমাদের ভয়ে ভীত হইলাম তখন আমি তোমাদের নিকট হইতে পলাইয়া গিয়াছিলাম। তৎপর আমার প্রতিপালক আমাকে জ্ঞান দান করিয়াছেন এবং আমাকে রাসূল করিয়াছেন।

জহুরুল হক

''এরপর যখন আমি তোমাদের ভয় করেছিলাম তখন আমি তোমাদের থেকে ফেরার হলাম, তারপর আমার প্রভু আমাকে জ্ঞান দান করেছেন, আর তিনি আমাকে বানিয়েছেন রসূলদের অন্যতম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তো আমি তোমাদের ভয়ে পালিয়ে চলে গিয়েছিলাম। তারপর আমার প্রভু আমাকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন এবং আমাকে রসূলদের একজন মনোনীত করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করিতেছ, তাহা তো এই যে, তুমি বনী ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করিয়াছ।’

জহুরুল হক

''আর এই তো হচ্ছে সেই অনুগ্রহ যা তুমি আমার কাছে উল্লেখ করছ যার জন্যে তুমি ইসরাইলের বংশধরদের দাস বানিয়েছ!’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছো, তার কারণ তো হলো, তুমি বনি ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করে রেখেছো।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বলিল, ‘জগতসমূহের প্রতিপালক আবার কী?’

জহুরুল হক

ফিরআউন বললে - - ''বিশ্বজগতের প্রভু আবার কি হয়?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘রাব্বুল আলামিন কে?’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলিল, ‘তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং উহাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা নিশ্চিত হও।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর এবং তাদের মধ্যে যা - কিছু আছে তার প্রভু, - - যদি তোমরা দৃঢ়প্রত্যয়িত হও।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘তিনি হলেন মালিক মহাকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে সবকিছুর যদি তোমরা একীন রাখো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন তাহার পারিষদবর্গকে লক্ষ্য করিয়া বলিল, ‘তোমরা শুনিতেছ তো !’

জহুরুল হক

সে তার আশপাশে যারা আছে তাদের বললে - - ''তোমরা কি শুনছ না?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন তার পারিষদবর্গকে লক্ষ্য করে বললো: ‘(মূসা কী বলছে) তোমরা কি শুনছো না?’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলিল, ‘তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের পূর্বপুরুষগণেরও প্রতিপালক।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমাদের প্রভু এবং পূর্বকালের তোমাদের পিতৃপুরুষদেরও প্রভু।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘তিনি তোমাদেরও রব এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষদেরও রব।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বলিল, ‘তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের রাসূল তো নিশ্চয়ই পাগল।’

জহুরুল হক

সে বললে - - ''তোমাদের রসূলটি যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে সে তো বদ্ধ পাগল।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের এই রসূল তো একজন পাগল।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলিল, ‘তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের এবং উহাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক; যদি তোমরা বুঝিতে !’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের এবং এ দুইয়ের মধ্যে যা আছে তারও প্রভু, যদি তোমরা বুঝতে পারতে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘তিনি মাশরিক, মাগরিব এবং এই উভয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে, সবকিছুর রব যদি তোমরা আকল রাখো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বলিল, ‘তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে ইলাহ্‌রূপে গ্রহণ কর আমি তোমাকে অবশ্যই কারারুদ্ধ করিব।’

জহুরুল হক

সে বললে - - ''তুমি যদি আমাকে ছাড়া অন্য উপাস্য গ্রহণ কর তবে আমি আলবৎ তোমাকে কয়েদীদের অন্তর্ভুক্ত করব।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘তুমি যদি আমাকে ছাড়া আর কাউকেও হিসেবে গ্রহণ করো, তাহলে অবশ্যি আমি তোমাকে কারাগারে অবরুদ্ধ করে রাখবো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলিল, ‘আমি যদি তোমার নিকট কোন স্পষ্ট নিদর্শন আনয়ন করি, তবুও?’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''কী! আমি তোমার কাছে সুস্পষ্ট কিছু আনলেও?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘আমি যদি তোমার কাছে সুস্পষ্ট নির্দশন হাজির করি, তবু?’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বলিল, ‘তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে উহা উপস্থিত কর।’

জহুরুল হক

সে বললে - - ''তবে তা নিয়ে এস যদি তুমি সত্যবাদীদের একজন হও।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘তবে হাজির করো যদি সত্যবাদী হও।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর মূসা তাহার লাঠি নিক্ষেপ করিলে তৎক্ষণাৎ উহা এক সাক্ষাৎ অজগর হইল।

জহুরুল হক

সুতরাং তিনি তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, তখন আশ্চর্য! এটি এক স্পষ্ট সাপ হয়ে গেল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলো আর সাথে সাথে তা সুস্পষ্ট অজগরে পরিণত হয়ে গেলো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং মূসা হাত বাহির করিল আর তৎক্ষণাৎ উহা দর্শকদের দৃষ্টিতে শুভ্র উজ্জ্বল প্রতিভাত হইল।

জহুরুল হক

আর তিনি তাঁর হাত বের করেলন, তখন দেখো! দর্শকদের কাছে তা সাদা হয়ে গেল।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরপর (মূসা তার বগলে হাত ঢুকিয়ে) হাত বের করে আনলো, সাথে সাথে তা দর্শকদের দৃষ্টিতে ধবধবে সাদা দেখাতে লাগলো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন তাহার পারিষদবর্গকে বলিল, ‘এ তো এক সুদক্ষ জাদুকর !

জহুরুল হক

সে তার আশপাশের প্রধানদের বললে - - ''এ তো নিশ্চয়ই এক ওস্তাদ জাদুকর, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন তাকে পরিবেষ্টন করে থাকা তার পারিষদবর্গকে বললো: ‘এ - তো এক পন্ডিত ম্যাজেসিয়ান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এ তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হইতে তাহার জাদুবলে বহিষ্কার করিতে চায়। এখন তোমরা কী করিতে বল?’

জহুরুল হক

''সে চাইছে তার জাদুর দ্বারা তোমাদের দেশ থেকে তোমাদের বের করে দিতে, কাজেই কী তোমরা উপদেশ দাও?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে তার ম্যাজিকের সাহায্যে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এখন তোমরা তার ব্যাপারে কী করতে বলো?’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘তাহাকে ও তাহার ভ্রাতাকে কিছু অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে সংগ্রাহকদেরকে পাঠাও,

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দাও, আর শহরে শহরে সংগ্রাহকদের পাঠাও, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘তাকে আর তার ভাইকে কিছু অবকাশ দিন এবং বিভিন্ন শহরে সংগ্রহকারীদের পাঠান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যেন তাহারা তোমার নিকট প্রতিটি অভিজ্ঞ জাদুকর উপস্থিত করে।’

জহুরুল হক

''যেন তারা প্রত্যেক জ্ঞানী জাদুকরদের তোমার কাছে নিয়ে আছে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আপনার জন্যে দক্ষ ম্যাজেসিয়ানদের হাজির করবে।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর এক নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট সময়ে জাদুকরদেরকে একত্র করা হইল,

জহুরুল হক

সুতরাং জাদুকরদের একত্র করা হ’ল নির্দিষ্ট স্থানে বিজ্ঞাপিত দিনে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর নির্দিষ্ট দিনে এবং নির্দিষ্ট সময়ে ম্যাজেসিয়ানদের জমা করা হলো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং লোকদেরকে বলা হইল, ‘তোমরাও সমবেত হইতেছ কি?

জহুরুল হক

আর লোকদের বলা হ’ল - - ''তোমরা কি জমায়েৎ হচ্ছ, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

জনগণকে বলা হলো: ‘তোমরাও কি জমায়েত হচ্ছো?’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যেন আমরা জাদুকরদের অনুসরণ করিতে পারি, যদি উহারা বিজয়ী হয়।’

জহুরুল হক

''যেন আমরা জাদুকরদের অনুগমন করতে পারি যদি তারা নিজেরা বিজয়ী হয়?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

‘হয়তো আমরা ম্যাজেসিয়ানদের অনুসরণ করতে পারি যদি তারা বিজয়ী হয়।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর জাদুকরেরা আসিয়া ফিরা‘আওনকে বলিল, ‘আমরা যদি বিজয়ী হই আমাদের জন্য পুরস্কার থাকিবে তো?

জহুরুল হক

তারপর যখন জদুকররা এল তারা ফিরআউনকে বললে - - ''আমাদের জন্য কি বিশেষ পুরস্কার থাকবে যদি আমরা খোদ বিজয়ী হই?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

ম্যাজেসিয়ানরা হাজির হলে তারা ফেরাউনকে বললো: ‘আমরা জয়ী হলে আমাদের জন্যে পুরস্কার থাকবে তো?’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফিরা‘আওন বলিল, ‘হ্যাঁ, তখন তোমরা অবশ্যই আমার ঘনিষ্ঠদের শামিল হইবে।’

জহুরুল হক

সে বললে - - ''হাঁ, আর সেক্ষেত্রে তোমরা নিশ্চয়ই অন্তরঙ্গ হবে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘হ্যাঁ, তাছাড়া তোমরা আমার সভাসদদের অন্তরভুক্ত হবে।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা উহাদেরকে বলিল, ‘তোমাদের যাহা নিক্ষেপ করিবার তাহা নিক্ষেপ কর।’

জহুরুল হক

মূসা তাদের বললেন - - ''ছোড়ো যা তোমরা ছুড়ঁতে যাচ্ছ।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা তাদের বললো: ‘তোমরা যা নিক্ষেপ করার নিক্ষেপ করো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর উহারা উহাদের রজ্জু ও লাঠি নিক্ষেপ করিল এবং উহারা বলিল, ‘ফির‘আওনের ইয্‌যতের শপথ! আমরাই বিজয়ী হইব।’

জহুরুল হক

সুতরাং তাদের দড়িদড়া ও তাদের লাঠি - লগুড় তারা ছুড়ঁলো এবং বললে - - ''ফিরআউনের প্রভাবে আমরা তো নিজেরাই বিজয়ী হব।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তাদের সব রশি এবং লাঠি নিক্ষেপ করলো। তারা বললো: ‘ফেরাউনের ইযযতের কসম, আমরাই জয়ী হবো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর মূসা তাহার লাঠি নিক্ষেপ করিল, সহসা উহা উহাদের অলীক সৃষ্টিগুলিকে গ্রাস করিতে লাগিল।

জহুরুল হক

তারপর মূসা তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, তখন দেখো! এটি গিলে ফেলল যা তারা বুনেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলো। সাথে সাথে সেটি কৃত্রিম সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে থাকলো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তখন জাদুকরেরা সিজ্‌দাবনত হইয়া পড়িল।

জহুরুল হক

তখন জাদুকররা লুটিয়ে পড়ল সিজদাবনত হয়ে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন ম্যাজেসিয়ানরা সাজদায় আনত হয়ে পড়লো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং বলিল, ‘আমরা ঈমান আনয়ন করিলাম জগতসমূহের প্রতিপালকের প্রতি -

জহুরুল হক

তারা বললে, ''আমরা ঈমান আনলাম বিশ্বজগতের প্রভুর প্রতি, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমরা ঈমান আনলাম রাব্বুল আলামিনের প্রতি,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যিনি মূসা ও হারূনেরও প্রতিপালক।’

জহুরুল হক

''যিনি মূসা ও হারুনেরও প্রভু।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

যিনি হারূণ এবং মূসারও রব।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বলিল, ‘কী ! আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়ার পূর্বেই তোমরা উহাতে বিশ্বাস করিলে? সে - ই তো তোমাদের প্রধান যে তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়াছে। শীঘ্রই তোমরা ইহার পরিণাম জানিবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত এবং তোমাদের পা বিপরীত দিক হইতে কর্তন করিব এবং তোমাদের সকলকে শূলবিদ্ধ করিবই।’

জহুরুল হক

সে বললে - - ''তোমরা তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলে আমি তোমাদের অনুমতি দেবার আগেই? সে - ই নিশ্চয় তোমাদের গুরু যে তোমাদের জাদুবিদ্যা শিখিয়েছে। সুতরাং শীঘ্রই তোমরা টের পাবে। আমি নিশ্চয় তোমাদের হাত ও তোমাদের পা আড়াআড়ি - ভাবে কেটে ফেলবই, আর তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘আমি তোমাদের অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রধান, সে - ই তোমাদের ম্যাজিক শিখিয়েছে, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে (এর পরিণতি)। আমি অবশ্যি বিপরীত দিক থেকে তোমাদের হাত পা কেটে দেবো এবং তোমাদের সবাইকে শূলবিদ্ধ করে ছাড়বো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘কোন ক্ষতি নাই, আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকটই প্রত্যাবর্তন করিব।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''কোনো ক্ষতি নেই, নিঃসন্দেহ আমরা আমাদের প্রভুর কাছে প্রত্যাবর্তনশীল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘‘ক্ষতি নেই, আমরা আমাদের প্রভুর কাছে ফিরে যাবো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমরা তো আশা করি, আমাদের প্রতিপালক আমাদের অপরাধ মার্জনা করিবেন, কারণ আমরা মু’মিনদের মধ্যে অগ্রণী।’

জহুরুল হক

''আমরা নিশ্চয়ই আশা করি যে আমাদের প্রভু আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেবেন, যেহেতু আমরা মুমিনদের মধ্যে অগ্রণী।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা আকাঙ্ক্ষা করি, আমাদের প্রভু আমাদের গুনাহ্ খাতা ক্ষমা করে দেবেন, কারণ আমরা সবার আগে হয়েছি।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি মূসার প্রতি ওহী করিয়াছিলাম এই মর্মে : ‘আমার বান্দাদেরকে লইয়া রাত্রিকালে বাহির হও, তোমাদের তো পশ্চাদ্ধাবন করা হইবে।’

জহুরুল হক

আর আমরা মূসাকে প্রত্যাদেশ দিয়েছিলাম এই বলে - - ''আমার বান্দাদের নিয়ে রাতের মধ্যে রওয়ানা হয়ে যাও, তোমাদের অবশ্য পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসার প্রতি অহি করে নির্দেশ দিয়েছিলাম: আমার দাসদের নিয়ে রাতের বেলায় বেরিয়ে পড়ো, তোমাদের কিন্তু পিছে থেকে ধাওয়া করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর ফির‘আওন শহরে শহরে লোক সংগ্রহকারী পাঠাইল,

জহুরুল হক

তখন ফিরআউন শহরে - নগরে সংগ্রাহকদের পাঠাল - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর ফেরাউন শহরে শহরে লোক সংগ্রহকারী পাঠিয়ে দিলো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই বলিয়া, ‘ইহারা তো ক্ষুদ্র একটি দল

জহুরুল হক

''নিঃসন্দেহ তারা একটি ছোটখাট দল,

আবদুস শহীদ নাসিম

এই বলে যে, এরা তো অল্প কিছু লোক,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং ‘উহারা তো আমাদের ক্রোধ উদ্রেক করিয়াছে ;

জহুরুল হক

''আর নিঃসন্দেহ আমাদের জন্য তারা তো ক্রোধ উদ্রেককারী,

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তারা আমাদের ক্রোধ উদ্রেককারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং আমরা তো সকলেই সদাশংকিত।’

জহুরুল হক

''আর আমরা তো নিশ্চয় সজাগ - সশস্ত্র জনতা।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা সবাই তো সদা সতর্ক।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পরিণামে আমি ফির‘আওন গোষ্ঠীকে বহিষ্কার করিলাম উহাদের উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণ হইতে

জহুরুল হক

কাজেই আমরা তাদের বের ক’রে আনলাম বাগানসমূহ ও ঝরনারাজি থেকে,

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর আমরা তাদের (ফেরাউন এবং তার দলবলকে) বের করে এনেছি তাদের মনোরম উদ্যান আর ঝরণাধারাসমূহ থেকে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং ধনভাণ্ডার ও সুরম্য সৌধমালা হইতে।

জহুরুল হক

আর ধনভান্ডার ও জমকালো বাড়িঘর থেকে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

ধন - ভান্ডারসমূহ এবং বিলাসবহুল প্রাসাদসমূহ থেকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইরূপই ঘটিয়াছিল এবং বনী ইসরাঈলকে করিয়াছিলাম এই সমুদয়ের অধিকারী।

জহুরুল হক

এইভাবেই। আর এইগুলো আমরা ইসরাইলের বংশধরদের উত্তরাধিকার করতে দিয়েছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের সাথে এমনটিই ঘটেছিল। অপরদিকে বনি ইসরাঈলকে আমরা সবকিছুর ওয়ারিশ বানিয়ে দিয়েছিলাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা সূর্যোদয়কালে তাহাদের পশ্চাতে আসিয়া পড়িল।

জহুরুল হক

তারপর তারা এদের পশ্চাদ্ধাবন করেছিল সূর্যোদয়কালে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা সূর্যোদয়ের সময় তাদের পেছনে এসে পড়েছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর যখন দুই দল পরস্পরকে দেখিল, তখন মূসার সঙ্গীরা বলিল, ‘আমরা তো ধরা পড়িয়া গেলাম।’

জহুরুল হক

অতঃপর যখন দুই দল পরস্পরকে দেখল তখন মূসার সঙ্গীরা বললে - - ''আমরা তো নিঃসন্দেহ ধরা পড়ে গেলাম।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর দুইদল যখন একে অপরকে দেখলো, মূসার সাথিরা বলে উঠলো: ‘নিশ্চয়ই আমরা ধরা পড়ে যাচ্ছি।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলিল, ‘কখনই নহে ! আমার সঙ্গে আছেন আমার প্রতিপালক ; সত্বর তিনি আমাকে পথনির্দেশ করিবেন।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''নিশ্চয়ই না, আমার সঙ্গে আলবৎ আমার প্রভু রয়েছেন, তিনি আমাকে অচিরেই পথ দেখাবেন।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘না, কখনো নয়, নিশ্চয়ই আমার সাথে আমার প্রভু রয়েছেন, তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর মূসার প্রতি ওহী করিলাম, ‘তোমার যষ্টি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত কর।’ ফলে উহা বিভক্ত হইয়া প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতসদৃশ হইয়া গেল ;

জহুরুল হক

তখন আমরা মূসার নিকট প্রত্যাদেশ দিলাম এই বলে - - ''তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত কর।’’ ফলে এটি বিভক্ত হয়ে গেল, সুতরাং প্রত্যেক দল এক - একটি বিরাট পাহাড়ের মতো হয়েছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন আমরা অহির মাধ্যমে মূসাকে নির্দেশ দিলাম: ‘তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করো।’ সাথে সাথে তা বিভক্ত হয়ে গেলো এবং প্রত্যেক ভাগ বড় পর্বতের মতো হয়ে গেলো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি সেখানে উপনীত করিলাম অপর দলটিকে,

জহুরুল হক

আর অন্যদেরকেও আমরা নিয়ে এলাম সেই অঞ্চলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর আমরা সেখানে এনে হাজির করলাম পরের দলটিকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং আমি উদ্ধার করিলাম মূসা ও তাহার সঙ্গী সকলকে,

জহুরুল হক

আর মূসাকে ও তাঁর সঙ্গে যারা ছিল সে - সবাইকে আমরা উদ্ধার করেছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসা আর তার সাথিদের সবাইকে উদ্ধার করলাম,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তৎপর নিমজ্জিত করিলাম অপর দলটিকে।

জহুরুল হক

তারপর অন্যদেরকে আমরা ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর ডুবিয়ে মারলাম পরবর্তীদের।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ এতে তো একটি নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন, তবে তাদের অধিকাংশই নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমার প্রভু অবশ্যি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়াবান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের নিকট ইব্‌রাহীমের বৃত্তান্ত বর্ণনা কর।

জহুরুল হক

আর তুমি তাদের কাছে ইব্রাহীমের কাহিনী বর্ণনা করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের প্রতি ইবরাহিমের সংবাদ তিলাওয়াত করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে যখন তাহার পিতা ও তাহার সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘তোমরা কিসের ‘ইবাদত কর?’

জহুরুল হক

স্মরণ করো! তিনি তাঁর পিতৃপুরুষকে ও তাঁর স্বজাতিকে বললেন - - ''তোমরা কিসের উপাসনা কর?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন সে তার বাপ ও কওমকে বলেছিল: ‘তোমরা কোন্ জিনিসের ইবাদত করছো?’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘আমরা মূর্তির পূজা করি এবং আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে উহাদের পূজায় নিরত থাকিব।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আমরা প্রতিমাদের পূজা করি, আর আমরা তাদের আরাধনায় নিষ্ঠাবান থাকব।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘আমরা ভাস্কর্যদের (মূর্তি দেবতাদের) পূজা করি এবং আমরা নিষ্ঠার সাথে তাদের প্রতি নত হই।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘তোমরা প্রার্থনা করিলে উহারা কি শুনে?’

জহুরুল হক

তিনি বললেন, ''তারা কি তোমাদের শোনে যখন তোমরা ডাকো?

আবদুস শহীদ নাসিম

ইবরাহিম বললো: ‘‘তোমরা দোয়া করলে তারা কি তোমাদের দোয়া শুনে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অথবা উহারা কি তোমাদের উপকার কিংবা অপকার করিতে পারে?’

জহুরুল হক

''অথবা তারা কি তোমাদের উপকার করতে পারে কিংবা অপকার করতে পারে?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এইরূপই করিতে দেখিয়াছি।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''না, আমাদের পিতৃপুরুষদের আমরা দেখতে পেয়েছি এইভাবে তারা করছে ।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘না, তবে আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের এভাবে করতে দেখেছি।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ, কিসের পূজা করিতেছ,

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমরা কি তবে ভেবে দেখেছ তোমরা কিসের উপাসনা করছ, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

ইবরাহিম বললো: ‘‘তোমরা কিসের পূজা উপাসনা করছো তা কি ভেবে দেখছোনা?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা এবং তোমাদের অতীত পিতৃপুরুষেরা?

জহুরুল হক

''তোমরা ও তোমাদের পূর্বগামী পিতৃপুরুষরা?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা এবং তোমাদের অতীত বাপ দাদারা?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘উহারা সকলেই আমার শত্রু, জগতসমূহের প্রতিপালক ব্যতীত;

জহুরুল হক

''অতএব তারা আলবৎ আমার শত্রু, কিন্ত ভূ - বিশ্বের প্রভু নন,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা সবাই আমার দুশমন, রাব্বুল আলামিন ছাড়া।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যিনি আমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন, তিনিই আমাকে পথ প্রদর্শন করেন।

জহুরুল হক

''যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আমাকে পথ দেখিয়েছেন,

আবদুস শহীদ নাসিম

কারণ, তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তিনিই আমাকে দান করেন আহার্য ও পানীয়।

জহুরুল হক

''আর যিনি আমাকে আহার করান এবং পান করতে দেন,

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি আমাকে খাওয়ান, পান করান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং রোগাক্রান্ত হইলে তিনিই আমাকে রোগমুক্ত করেন ;

জহুরুল হক

''আর যখন আমি রোগে ভোগি তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য করেন,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি রোগগ্রস্ত হলে তিনিই আমাকে নিরাময় করে দেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং তিনিই আমার মৃত্যু ঘটাইবেন, অতঃপর পুনর্জীবিত করিবেন।

জহুরুল হক

''আর যিনি, আমার মৃত্যু ঘটাবেন তারপরে আমাকে পুনর্জীবন দেবেন,

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই আমার মউত ঘটাবেন এবং পুনরায় হায়াত দেবেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং আশা করি, তিনি কিয়ামত দিবসে আমার অপরাধ মার্জনা করিয়া দিবেন।

জহুরুল হক

''আর যিনি, আমি আশা করি, বিচারের দিনে আমার ভুলভ্রান্তিগুলো আমার জন্য ক্ষমা করে দেবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাঁর ব্যাপারে আমি আশা করি, তিনি আমাকে আমার গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দেবেন প্রতিদান দিবসে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার প্রতিপালক ! আমাকে জ্ঞান দান কর এবং সৎকর্মপরায়ণদের শামিল কর।

জহুরুল হক

''আমার প্রভু! আমাকে জ্ঞান দান করো, আর আমাকে সৎকর্মীদের সঙ্গে যুক্ত করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার প্রভু! আমাকে প্রজ্ঞা দান করো এবং মিলিত করো সালেহ্ লোকদের সাথে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে যশস্বী কর,

জহুরুল হক

''আর আমার জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সদালাপন সৃষ্টি করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

পরবর্তী লোকদের মধ্যে আমার সুখ্যাতি দান করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং আমাকে সুখময় জান্নাতের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর,

জহুরুল হক

''আর আমাকে আনন্দময় উদ্যানের ওয়ারিশানের অন্তর্ভুক্ত করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাকে জান্নাতুন নায়ীমের ওয়ারিশদের অন্তরভুক্ত করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর আমার পিতাকে ক্ষমা কর, তিনি তো পথভ্রষ্টদের শামিল ছিলেন।

জহুরুল হক

''আর আমার পিতৃপুরুষকে পরিত্রাণ করো, কেননা সে তো পথভ্রান্তদের মধ্যেকার হয়ে গেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার বাবাকে ক্ষমা করে দাও, কারণ তিনি গোমরাহদেরই একজন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং আমাকে লাঞ্ছিত করিও না পুনরুত্থান দিবসে

জহুরুল হক

''আর আমাকে লাঞ্ছিত করো না তখন যেইদিন তাদের পুরুত্থিত করা হবে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

পুনরুত্থান দিবসে তুমি আমাকে অপমাণিত করোনা,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যেদিন ধন - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি কোন কাজে আসিবে না ;

জহুরুল হক

''যেদিন ধনসম্পদে কোনো কাজ দেবে না, সন্তানাদিতেও নয়,

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন মাল সম্পদ এবং সন্তান - সন্ততি কোনো উপকারে আসবেনা,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘সেদিন উপকৃত হইবে কেবল সে, যে ‌র নিকট আসিবে বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ লইয়া।’

জহুরুল হক

''শুধু সে ব্যতীত যে নির্মল - নিস্পাপ অন্তর নিয়ে ‌র কাছে আসবে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে উপকার লাভ করবে সে, যে হাজির হবে শুদ্ধ শান্ত কলব নিয়ে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুত্তাকীদের নিকটবর্তী করা হইবে জান্নাত,

জহুরুল হক

আর স্বর্গোদ্যানকে ধর্মভীরুদের জন্য সন্নিকটে আনা হবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন মুত্তাকিদের কাছেই নিয়ে আসা হবে জান্নাত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং পথভ্রষ্টদের জন্য উন্মোচিত করা হইবে জাহান্নাম ;

জহুরুল হক

আর দুযখকে খোলে দেওয়া হবে পথভ্রষ্টদের জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর বিভ্রান্তদের জন্যে খুলে দেয়া হবে জাহান্নাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদেরকে বলা হইবে, ‘তাহারা কোথায়, তোমরা যাহাদের ‘ইবাদত করিতে -

জহুরুল হক

আর তাদের বলা হবে - - ''কোথায় তারা যাদের তোমরা উপাসনা করতে - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বলা হবে: ‘‘তারা এখন কোথায়, তোমরা যাদের ইবাদত (উপাসনা) করতে

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘‌র পরিবর্তে? উহারা কি তোমাদের সাহায্য করিতে পারে অথবা উহারা কি আত্মরক্ষা করিতে সক্ষম?

জহুরুল হক

''‌কে বাদ দিয়ে? তারা কি তোমাদের সাহায্য করছে, না তারা নিজেদেরই সাহায্য করতে পারছে?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি এখন তোমাদের সাহায্য করতে পারবে, নাকি তারা আত্মরক্ষা করতে পারবে?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর উহাদেরকে এবং পথভ্রষ্টদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হইবে অধোমুখী করিয়া,

জহুরুল হক

সুতরাং তাদের এর মধ্যে নিক্ষেপ করা হবে - - তাদের এবং পথভ্রান্তদের,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তাদের এবং বিপথগামীদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে মাথা নীচের দিকে দিয়ে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং ইব্‌লীসের বাহিনীর সকলকেও।

জহুরুল হক

আর ইবলীসের দলবল সকলকেও।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং ইবলিস বাহিনীর সবাইকেও।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা সেখানে বিতর্কে লিপ্ত হইয়া বলিবে,

জহুরুল হক

তারা সেখানে তর্ক - বিতর্ক করতে করতে বলবে - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা সেখানে তর্কাতর্কি করে বলবে:

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌র শপথ ! আমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই ছিলাম,

জহুরুল হক

''‌র দিব্য, আমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই ছিলাম, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর কসম, আমরা স্পষ্ট গোমরাহিতে লিপ্ত ছিলাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যখন আমরা তোমাদেরকে জগতসমূহের প্রতিপালকের সমকক্ষ গণ্য করিতাম।

জহুরুল হক

''যখন আমরা বিশ্বজগতের প্রভুর সঙ্গে তোমাদের এক - সমান গণ্য করেছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন আমরা তোমাদেরকে রাব্বুল আলামিনের বরাবর মনে করতাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমাদেরকে দুষ্কৃতিকারীরাই বিভ্রান্ত করিয়াছিল।

জহুরুল হক

''আর অপরাধীরা ছাড়া অন্য কেউ আমাদের বিপথে নেয় নি।

আবদুস শহীদ নাসিম

অপরাধীরাই আমাদের বিপথগামী করেছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘পরিণামে আমাদের কোন সুপারিশকারী নাই।

জহুরুল হক

''সেজন্যে আমাদের জন্য সুপারিশকারীদের কেউ নেই,

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে আজ আমাদের কোনো শাফায়াতকারী নেই,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং কোন সহৃদয় বন্ধুও নাই।

জহুরুল হক

''আর কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধুও নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং কোনো প্রাণের বন্ধুও নেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হায়, যদি আমাদের একবার প্রত্যাবর্তনের সুযোগ ঘটিত, তাহা হইলে আমরা মু’মিনদের অন্তর্ভুক্ত হইয়া যাইতাম!

জহুরুল হক

''হায়! আমাদের জন্য যদি আকেরবার উপায় থাকত তাহলে আমরা মুমিনদের মধ্যেকার হতাম।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যদি একবার সুযোগ পেতাম ফিরে যাবার, তাহলে অবশ্যি হয়ে যেতাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে, কিন্তু উহাদের অধিকাংশ নহে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু, - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তোমার প্রভু, তিনি মহাপরাক্রমশীল, অতীব দয়াবান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নূহের সম্প্রদায় রাসূলগণের প্রতি মিথ্যা আরোপ করিয়াছিল।

জহুরুল হক

নূহের স্বজাতি রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

নূহের কওমও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন উহাদের ভ্রাতা নূহ্ উহাদেরকে বলিল, ‘তোমরা কি সাবধান হইবে না?

জহুরুল হক

দেখো! তাদের ভাই নূহ তাদের বলেছিলেন - - ''তোমরা কি ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করবে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তাদের ভাই নূহ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।

জহুরুল হক

''আমি নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব তােমরা ‌কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

জহুরুল হক

''অতএব তোমরা ‌কে ভয় - ভক্তি কর ও আমাকে মেনে চল।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্য কোন প্রতিদান চাহি না ; আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।

জহুরুল হক

''আর আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না, আমার মজুরি তো বিশ্বজগতের প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের (সতর্ক করার) একাজ করার জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমাকে প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘সুতরাং তােমরা ‌কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।’

জহুরুল হক

''অতএব তোমরা ‌কে ভক্তি - শ্রদ্ধা কর ও আমার আজ্ঞাপালন কর।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিব অথচ ইতরজনেরা তোমার অনুসরণ করিতেছে?’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আমরা কি তোমার প্রতি ঈমান আনব যখন তোমাকে অনুসরণ করছে ইতরগোষ্ঠী?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনবো? তোমাকে অনুসরণ করে তো নিম্ন শ্রেণীর লোকেরা।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নূহ্ বলিল, ‘উহারা কী করিত তাহা আমার নাই।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তারা কী করত সে সন্বন্ধে আর আমার জ্ঞান থাকবার নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

নূহ বলেছিল: ‘‘তারা (আগে) কী করতো তা আমি জানিনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের হিসাব গ্রহণ তো আমার প্রতিপালকেরই কাজ; যদি তোমরা বুঝিতে!

জহুরুল হক

''তাদের হিসাবপত্র আমার প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়, যদি তোমরা বুঝতে!

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের হিসাব নেয়ার দায়িত্ব তো আল্লাহর, যদি তোমরা বুঝতে!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘মু’মিনদেরকে তাড়াইয়া দেওয়া আমার কাজ নহে।

জহুরুল হক

''আর আমি তো মুমিনদের তাড়িয়ে দেবার পাত্র নই।

আবদুস শহীদ নাসিম

মুমিনদের আমার কাছ থেকে তাড়িয়ে দেয়া আমার কাজ নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তো কেবল একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।’

জহুরুল হক

''আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী ভিন্ন নই।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তো একজন স্পষ্ট সতর্ককারী ছাড়া আর কিছু নই।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘হে নূহ্ ! তুমি যদি নিবৃত্ত না হও তবে তুমি অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে নিহতদের শামিল হইবে।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''হে নূহ! তুমি যদি না থামো তাহলে তোমাকে অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে - নিহতদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা বলেছিল: ‘হে নূহ! তুমি যদি এ কাজ থেকে বিরত না হও, তাহলে পাথর নিক্ষেপ করে যাদের মারা হয়েছে তুমিও তাদের অন্তরভুক্ত হবে।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নূহ্ বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক ! আমার সম্প্রদায়ই তো আমাকে অস্বীকার করিতেছে।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমার স্বজাতি আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

নূহ ফরিয়াদ করে বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার কওম আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘সুতরাং তুমি আমার ও উহাদের মধ্যে স্পষ্ট মীমাংসা করিয়া দাও এবং আমাকে ও আমার সঙ্গে যেসব আছে, তাহাদেরকে রক্ষা কর।’

জহুরুল হক

''অতএব আমার মধ্যে ও তাদের মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত এনে মীমাংসা করে দাও, আর আমাকে ও আমার সাথে মুমিনদের যারা রয়েছে তাদের উদ্ধার করে দাও।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তুমি আমার ও তাদের মাঝে একটা চূড়ান্ত ফায়সালা করে দাও আর নাজাত দাও আমাকে এবং আমার সাথি মুমিনদের।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর আমি তাহাকে ও তাহার সঙ্গে যাহারা ছিল, তাহাদেরকে রক্ষা করিলাম বোঝাই নৌযানে।

জহুরুল হক

সুতরাং আমরা তাঁকে ও তাঁর সাথে যারা ছিল তাদের উদ্ধার করলাম বোঝাই করা জাহাজে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন আমি তাকে এবং তার সাথিদেরকে নৌযানে বোঝাই করে রক্ষা করেছি,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তৎপর অবশিষ্ট সকলকে নিমজ্জিত করিলাম।

জহুরুল হক

তারপর আমরা ডুবিয়ে দিলাম পরবর্তী অবশিষ্টদের।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর বাকি সবাইকে ডুবিয়ে দিয়েছি পানিতে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহাতে অবশ্যই রহিয়াছে নিদর্শন, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু, - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, পরম দয়াবান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আদ সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করিয়াছিল।

জহুরুল হক

আর 'আদ জাতি রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আদ জাতিও প্রত্যাখ্যান করেছিল রসূলদের।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন উহাদের ভ্রাতা হূদ উহাদেরকে বলিল, ‘তোমরা কি সাবধান হইবে না?

জহুরুল হক

দেখো, তাদের ভাই হূদ তাদের বলেছিলেন - - ''তোমরা কি ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করবে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তাদের ভাই হুদ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।

জহুরুল হক

''আমি নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব ‌কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

জহুরুল হক

''অতএব তোমরা ‌কে ভয় কর ও আমাকে মেনে চল।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্য কোন প্রতিদান চাহি না, আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট আছে।

জহুরুল হক

''আর আমি এ - জন্য তোমাদের কাছে কোনো মজুরি চাই না, আমার নজুরি তো ভূ - বিশ্বের প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তো তোমাদের (সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা, আমাকে প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা কি প্রতিটি উচ্চ স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করিতেছ নিরর্থক?

জহুরুল হক

''তোমরা কি প্রত্যেক পাহাড়ে অযথা স্তম্ভ নির্মাণ করছ,

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কেন প্রতিটি উঁচু স্থানে অনর্থক স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করছো?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর তোমরা প্রাসাদ নির্মাণ করিতেছ এই মনে করিয়া যে, তোমরা চিরস্থায়ী হইবে।

জহুরুল হক

''আর দুর্গ তৈরি করছ যেন তোমরা চিরস্থায়ী হবে?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা এমন সব শৈল্পিক প্রাসাদ নির্মাণ করছো যেনো তোমরা এখানে চিরস্থায়ী হবে!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং যখন তোমরা আঘাত হান তখন আঘাত হানিয়া থাক কঠোরভাবে।

জহুরুল হক

''আর যখন তোমরা পাকড়াও কর তখন জবরদস্তভাবে পাকড়াও করে থাক।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তোমরা ক্ষমতা পাও, তখন স্বৈরাচারি ক্ষমতা প্রয়োগ করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব তোমরা ‌কে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর।

জহুরুল হক

''সুতরাং তোমরা ‌কে ভক্তিশ্রদ্ধা কর ও আমার আজ্ঞাপালন কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘ভয় কর তাঁহাকে যিনি তোমাদেরকে দান করিয়াছেন সেই সমুদয়, যাহা তোমরা জান।

জহুরুল হক

''আর ভয় - ভক্তি কর তাঁকে যিনি তোমাদের মদদ করেছেন যা তোমরা শিখেছ তা দিয়ে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

ভয় করো তাঁকে যিনি তোমাদের সব (উত্তম সামগ্রী) দিয়ে সাহায্য করেছেন যা তোমরা জানো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তিনি তোমাদেরকে দান করিয়াছেন চতুষ্পদ জন্তু ও সন্তান - সন্ততি।

জহুরুল হক

''আর তিনি তোমাদের সাহায্য করেছেন গবাদি - পশু ও সন্তান - সন্ততি দিয়ে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তোমাদের সাহায্য করেছেন পশু সম্পদ এবং সন্তান সন্ততি দিয়ে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘উদ্যান ও প্রস্রবণ;

জহুরুল হক

''আর বাগানসমূহ ও ফোয়ারাগুলো দিয়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

বাগ - বাগিচা এবং ঝরণাধারা দিয়ে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তো তোমাদের জন্য আশংকা করি মহাদিবসের শাস্তির।’

জহুরুল হক

''নিঃসন্দেহ আমি আশংকা করছি তোমাদের উপরে এক মহাদিনের শাস্তির।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি আশংকা করছি তোমাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় কোনো আযাব এসে পড়ার।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘তুমি উপদেশ দাও অথবা না - ই দাও, উভয়ই আমাদের জন্য সমান।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''তুমি উপদেশ দাও অথবা উপদেশদাতাদের মধ্যে তুমি নাই - বা হও আমাদের কাছে সবই সমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা বলেছিল: ‘‘তুমি আমাদের ওয়ায করো কিংবা না করো দুটোই সমান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা তো পূর্ববর্তীদেরই স্বভাব।

জহুরুল হক

''এ তো সেকেলে আচরণ ছাড়া কিছুই নয়,

আবদুস শহীদ নাসিম

আগেকার লোকদের এটাই (ওয়ায করা বা উপদেশ দেয়াটাই) স্বভাব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমরা শাস্তিপ্রাপ্তদের শামিল নই।’

জহুরুল হক

''আর আমরা শাস্তি পাবার নই।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদের শাস্তি দেয়া হবে আমরা তাদের অন্তরভুক্ত নই।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর উহারা তাহাকে প্রত্যাখ্যান করিল এবং আমি উহাদেরকে ধ্বংস করিলাম। ইহাতে অবশ্যই আছে নিদর্শন ; কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।

জহুরুল হক

কাজেই তারা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করল, সুতরাং আমরা তাদের ধ্বংস করেছিলাম। নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে তারা তাকে (হুদকে) প্রত্যাখ্যান করে, ফলে আমরাও তাদের হালাক (ধ্বংস) করে দেই। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু, - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর অতীব দয়াবান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সামূদ সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করিয়াছিল।

জহুরুল হক

আর ছামূদ জাতি রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সামুদ জাতিও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন উহাদের ভ্রাতা সালিহ্ উহাদেরকে বলিল, ‘তোমরা কি সাবধান হইবে না?

জহুরুল হক

দেখো, তাদের ভাই সালিহ্ তাদের বলেছিলেন - - ''তোমরা কি ধর্মভীরুতা অবলন্বন করবে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তাদের ভাই সালেহ্ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।

জহুরুল হক

''আমি নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসূল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অতএব তোমরা ‌কে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর,

জহুরুল হক

''অতএব তোমরা ‌কে ভয় - ভক্তি কর ও আমাকে মেনে চল!

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্য কোন প্রতিদান চাহি না, আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।

জহুরুল হক

''আর আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো মজুরি চাই না, আমার মজুরি তো বিশ্বজগতের প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তোমাদের সতর্ক করার) এ কাজের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমাদেরকে কি নিরাপদ অবস্থায় ছাড়িয়া রাখা হইবে, যাহা এইখানে আছে উহাতে -

জহুরুল হক

''এখানে যা আছে তাতে কি তোমাদের নিরাপদে রেখে দেওয়া হবে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা এখানে যে হালে আছো, তোমাদের কি এ রকম নিরাপদ ছেড়ে দেয়া হবে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘উদ্যানে, প্রস্রবণে

জহুরুল হক

''বাগানসমূহে ও ফোয়ারাগুলোয়,

আবদুস শহীদ নাসিম

এসব বাগ - বাগিচা এবং ঝরণাধারার মধ্যে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘ও শস্যক্ষেত্রে এবং সুকোমল গুচ্ছবিশিষ্ট খর্জুর বাগানে?

জহুরুল হক

''আর শস্যক্ষেত্রে ও খেজুর - বাগানে যার ছড়িগুলো ভারী?

আবদুস শহীদ নাসিম

এসব (সবুজ) শস্যক্ষেত আর সুকোমল ছড়া বিশিষ্ট খেজুরের বাগানে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা তো নৈপুণ্যের সঙ্গে পাহাড় কাটিয়া গৃহ নির্মাণ করিতেছ।

জহুরুল হক

''তোমরা তো পাহাড় খুদে বাড়িঘর তৈরি কর নিপুণভাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তো দক্ষতার সাথে পাহাড় কেটে আবাস নির্মাণ করছো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা ‌কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

জহুরুল হক

''সুতরাং তোমরা ‌কে ভক্তি - শ্রদ্ধা কর ও আমার আজ্ঞাপালন কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং সীমালংঘনকারীদের আদেশ মান্য করিও না ;

জহুরুল হক

''আর সীমালংঘনকারীদের নির্দেশ মেনে চল না, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

সীমা লঙ্ঘনকারীদের হুকুম মতো চলোনা,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যাহারা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে, শান্তি স্থাপন করে না।’

জহুরুল হক

''যারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে আর শান্তিস্থাপন করে না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা দেশে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়াচ্ছে এবং কোনো প্রকার সংশোধনের কাজ করছেনা।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘তুমি তো জাদুগ্রস্তদের অন্যতম।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''তুমি তো নিঃসন্দেহ জাদুগ্রস্তদেরই একজন।

আবদুস শহীদ নাসিম

(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘‘তুমি তো একজন জাদুগ্রস্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তুমি তো আমাদের মত একজন মানুষ, কাজেই তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে একটি নিদর্শন উপস্থিত কর।’

জহুরুল হক

''তুমি আমাদের মতো মানুষ ছাড়া আর কিছু নও, অতএব কোনো এক নিদর্শন নিয়ে এস যদি তুমি সত্যবাদীদের মধ্যেকার হও।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তো আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে (তোমার রসূল হবার) কোনো প্রমাণ হাজির করো।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সালিহ্ বলিল, ‘এই একটি উষ্ট্রী, ইহার জন্য আছে পানি পানের পালা এবং তোমাদের জন্য আছে নির্ধারিত দিনে পানি পানের পালা ;

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''এই একটি উষ্টী, তার জন্য পানীয় থাকবে আর তোমাদের জন্যও পানীয় থাকবে নির্ধারিত সময়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে বলেছিল: ‘‘(প্রমাণ হলো) এই উটনী। কুয়ার পানি পানে এর জন্যেও পালা থাকবে, তোমাদের জন্যেও পালা থাকবে নির্দিষ্ট দিনে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং উহার কোন অনিষ্ট সাধন করিও না; করিলে মহাদিবসের শাস্তি তোমাদের উপর আপতিত হইবে।’

জহুরুল হক

''আর তোমরা অনিষ্ট দিয়ে ওকে স্পর্শ করো না, পাছে এক ভয়ংকর দিনের শাস্তি তোমাদের পাকড়াও করে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

এর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তোমরা একে স্পর্শও করোনা, করলে তোমাদের পাকড়াও করবে এক মহাদিবসের আযাব।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিন্তু উহারা উহাকে বধ করিল, পরিণামে উহারা অনুতপ্ত হইল।

জহুরুল হক

কিন্ত তারা এটিকে হত্যা করলে, পরিণামে সকাল - সকালই তারা পরিতাপকারী হল।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু তারা সেটিকে হত্যা করলো। পরিণামে তারা হলো লাঞ্ছিত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর শাস্তি উহাদেরকে গ্রাস করিল। ইহাতে অবশ্যই রহিয়াছে নিদর্শন, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।

জহুরুল হক

সেজন্য শাস্তি তাদের পাকড়াও করল। নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয় ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তাদের গ্রাস করলো আযাব। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তোমার প্রভু, তিনি মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

লূতের সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করিয়াছিল,

জহুরুল হক

আর লূতের লোকদল রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

লুতের কওমও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন উহাদের ভ্রাতা লূত উহাদেরকে বলিল, তোমারা কি সাবধান হইবে না?

জহুরুল হক

দেখো! তাদের ভাই লূত তাদের বলেছিলেন - - ''তোমরা কি ধর্মভীরুতা অবলন্বন করবে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তাদের ভাই লুত তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।

জহুরুল হক

''আমি নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং তােমরা ‌কে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

জহুরুল হক

''অতএব তোমরা ‌কে ভয়ভক্তি কর ও আমাকে মেনে চল।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি ইহার জন্য তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাহি না, আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।

জহুরুল হক

''আর আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো মজুরি চাই না, আমার মজুরি তো বিশ্বজগতের প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তোমাদের সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘বিশ্বজগতের মধ্যে তো তোমরাই পুরুষের সঙ্গে উপগত হও,

জহুরুল হক

''তোমরা কি মানুষজাতীর মধ্যে পুরুষদের কাছেই এসে থাক,

আবদুস শহীদ নাসিম

জগতের মধ্যে তোমরাই পুরুষদের সাথে যৌনকর্ম করছো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করিয়াছেন তাহাদেরকে তোমরা বর্জন করিয়া থাক। তোমরা তো সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।’

জহুরুল হক

''আর পরিত্যাগ করছ তোমাদের স্ত্রীদের যাদের তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন? না, তোমরা তো সীমালংঘনকারী জাতি।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমরা বর্জন করছো তোমাদের স্ত্রীদের, যাদেরকে তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা এক চরম সীমালঙ্ঘনকারী কওম।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘হে লূত ! তুমি যদি নিবৃত্ত না হও, তবে অবশ্যই তুমি নির্বাসিত হইবে।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''হে লূত! তুমি যদি বিরত না হও তাহলে তুমি নিশ্চয়ই নির্বাসিতদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘হে লুত! তুমি যদি তোমার এ কাজ থেকে বিরত না হও, তাহলে অবশ্যি তোমাকে (এ দেশ থেকে) বের করে দেয়া হবে।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

লূত বলিল, ‘আমি তো তোমাদের এই কর্মকে ঘৃণা করি।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমি অবশ্যই তোমাদের আচরণকে ঘৃণাকারীদেরই একজন।

আবদুস শহীদ নাসিম

লুত বলেছিল: ‘‘আমি তোমাদের এ কাজকে অবশ্যি ঘৃণা করি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার প্রতিপালক ! আমাকে এবং আমার পরিবার - পরিজনকে, উহারা যাহা করে, তাহা হইতে রক্ষা কর।

জহুরুল হক

''আমার প্রভু! তারা যা করে তা থেকে আমাকে ও আমার পরিবার পরিজনকে উদ্ধার করো।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার প্রভু! আমাকে এবং আমার পরিবার পরিজনকে তাদের এ কর্মকান্ড থেকে রক্ষা করো।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর আমি তাহাকে এবং তাহার পরিবার - পরিজন সকলকে রক্ষা করিলাম

জহুরুল হক

সুতরাং আমরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে একই সঙ্গে উদ্ধার করলাম, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে, আমরা তাকে এবং তার পরিবারের সবাইকে নাজাত দিয়েছিলাম

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এক বৃদ্ধা ব্যতীত, যে ছিল পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

জহুরুল হক

এক বুড়ীকে ছাড়া, যে পেছনে - পড়ে - থাকাদের মধ্যে রয়েছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

এক বৃদ্ধাকে ছাড়া, সে হয়েছিল অবস্থানকারীদের অন্তরভুক্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর অপর সকলকে ধ্বংস করিলাম।

জহুরুল হক

তারপর আমরা অন্যান্যদের বিধ্বংস করেছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর বাকি সবাইকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের উপর শাস্তিমূলক বৃষ্টি বর্ষণ করিয়াছিলাম, ভীতি প্রদর্শিতদের জন্য এই বৃষ্টি ছিল কত নিকৃষ্ট।

জহুরুল হক

আর তাদের উপরে আমরা বর্ষণ করেছিলাম এক বৃষ্টি, - - সুতরাং কত মন্দ এই বৃষ্টি সতককৃতদের জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম এক চূড়ান্ত বর্ষণ! যাদের সতর্ক করা হয়েছিল তাদের জন্যে এ বর্ষণ ছিলো কতো যে নিকৃষ্ট!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর মধ্যেও রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু, - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু, নিশ্চিতই তিনি মহাপরাক্রমশীল, অতীব দয়াবান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আয়কাবাসীরা রাসূলগণকে অস্বীকার করিয়াছিল,

জহুরুল হক

আইকার অধিবাসীরা রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আইকাবাসীরাও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন শু‘আয়ব উহাদেরকে বলিয়াছিল, তোমরা কি সাবধান হইবে না?

জহুরুল হক

দেখো, শোআইব তাদের বলেছিলেন - - ''তোমরা কি ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করবে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, শুয়াইব তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।

জহুরুল হক

''আমি নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসূল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘সুতরাং তােমরা ‌কে ভয় কর ও আমার আনুগত্য কর।

জহুরুল হক

''অতএব তোমরা ‌কে ভয়ভক্তি কর ও আমাকে মেনে চল।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্য কোন প্রতিদান চাহি না। আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।

জহুরুল হক

''আর আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না, আমার পারিশ্রমিক তো বিশ্বজগতের প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তোমাদের সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের উপর।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা মাপে পূর্ণ মাত্রায় দিবে ; যাহারা মাপে ঘাটতি করে তোমরা তাহাদের অন্তর্ভুক্ত হইও না।

জহুরুল হক

''মাপে পুরোমাত্রায় দেবে, আর তোমরা মাপে - কম - করা লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

মাপ পূর্ণ করে দেবে। যারা মাপে কম দেয় তোমরা তাদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং ওজন করিবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়।

জহুরুল হক

''সঠিক পাল্লায় ওজন করো।

আবদুস শহীদ নাসিম

ওজন দেবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘লোকদেরকে তাহাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিবে না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটাইবে না।

জহুরুল হক

''আর লোকজনের ক্ষতিসাধন করো না তাদের বিষয়বস্তু সন্বন্ধে, আর দুনিয়াতে বিপর্যয় ঘটিয়ো না অনিষ্টাচরণ ক’রে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষকে তাদের জিনিসপত্র কম দিওনা এবং দেশে ফাসাদ সৃষ্টিকারী হয়োনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং ভয় কর তাঁহাকে যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্বে যাহারা গত হইয়াছে তাহাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন।’

জহুরুল হক

''আর ভয় - ভক্তি করো তাঁকে যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং পূর্ববর্তী লোকদেরও।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

সেই মহান সত্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের আগে যারা বিগত হয়েছে তাদেরও সৃষ্টি করেছেন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘তুমি তো জাদুগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত ;

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''তুমি তো আলবৎ জাদুগ্রস্তদের মধ্যেকার,’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা বলেছিল: ‘‘তুমি তো একজন জাদুগ্রস্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তুমি আমাদের মতই একজন মানুষ। আমরা মনে করি, তুমি মিথ্যাবাদীদের অন্যতম।

জহুরুল হক

''আর তুমি আমাদের ন্যায় একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই নও, আর আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদীদের একজন বলেই তো গণনা করি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তো আমাদেরই মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। আমরা তো মনে করি তুমি মিথ্যাবাদীদেরই একজন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আকাশের এক খণ্ড আমাদের উপর ফেলিয়া দাও।’

জহুরুল হক

''অতএব আকাশের একটি টুকরো আমাদের উপরে ফেলে দাও, যদি তুমি সত্যবাদীদের মধ্যেকার হও।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আকাশ ভেঙ্গে তার একটি খন্ড আমাদের উপর ফেলো।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘আমার প্রতিপালক ভাল জানেন তোমরা যাহা কর।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু ভাল জানেন কী তোমরা কর।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে বলেছিল: ‘তোমরা যা করছো আমার প্রভু তা ভালোভাবেই জানেন।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর উহারা তাহাকে প্রত্যাখ্যান করিল, পরে উহাদেরকে মেঘাচ্ছন্ন দিবসের শাস্তি গ্রাস করিল। ইহা তো ছিল এক ভীষণ দিবসের শাস্তি !

জহুরুল হক

কিন্ত তারা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করল, সেজন্যে এক অন্ধকার দিনের শাস্তি তাদের পাকড়াও করল। নিঃসন্দেহ এটি ছিল এক ভীষণ দিনে শাস্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে এক মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব তাদের গ্রাস করে নেয়। সেটা ছিলো এক ভয়াবহ দিনের আযাব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহাতে অবশ্যই রহিয়াছে নিদর্শন, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। তাদের অধিকাংশই ছিলনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু, - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই আল - কুরআন জগতসমূহের প্রতিপালক হইতে অবতীর্ণ।

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ এটি নিশ্চয়ই বিশ্বজগতের প্রভুর তরফ থেকে এক অবতারণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এ কুরআন রাব্বুল আলামিনের নাযিলকৃত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

জিব্‌রাঈল ইহা লইয়া অবতরণ করিয়াছে

জহুরুল হক

রুহুল আমীন এটি নিয়ে অবতরণ করেছেন - -

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি নিয়ে নাযিল হয়েছে রুহুল আমিন (জিবরিল)

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার হৃদয়ে, যাহাতে তুমি সতর্ককারী হইতে পার।

জহুরুল হক

তোমার হৃদয়ের উপরে, যেন তুমি সতর্ককারীদের অন্যতম হতে পার, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার হৃদয়ে, যাতে করে তুমি হতে পারো একজন সতর্ককারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অবতীর্ণ করা হইয়াছে সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।

জহুরুল হক

সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

(সেটি নাযিল করা হয়েছে) সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে অবশ্যই ইহার উল্লেখ আছে।

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ এটি পূর্ববর্তীদের ধর্মগ্রন্থে রয়েছে ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আগের কিতাবগুলোতেও এর উল্লেখ আছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বনী ইস্‌রাঈলের পণ্ডিতগণ ইহা অবগত আছে - ইহা কি উহাদের জন্য নিদর্শন নহে?

জহুরুল হক

একি তাদের জন্য একটি নিদর্শন নয় যে ইসরাইলের বংশধরদের পন্ডিতগণ এটি জানে?

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা কি তাদের জন্যে একটা নিদর্শন নয় যে, এ বিষয়ে অবগত রয়েছে বনি ইসরাঈলের আলেমরা?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি যদি ইহা কোন আ‘জামীর প্রতি অবতীর্ণ করিতাম

জহুরুল হক

আর আমরা যদি এটি অবতারণ করতাম কোনো ভিন্ন দেশীয়ের কাছে,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যদি এ (কুরআন) নাযিল করতাম কোনো অনারবের উপর,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং উহা সে উহাদের নিকট পাঠ করিত, তবে উহারা উহাতে ঈমান আনিত না ;

জহুরুল হক

আর সে এটি তাদের কাছে পাঠ করত, তাহলে তারা তাতে বিশ্বাসভাজন হতো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সে যদি এটি তাদের কাছে পাঠ করতো, তবে তারা এর প্রতি ঈমান আনতোনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইভাবে আমি অপরাধীদের অন্তরে অবিশ্বাস সঞ্চার করিয়াছি।

জহুরুল হক

এইভাবেই আমরা এটিকে প্রবেশ করিয়েছি অপরাধীদের অন্তরে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই আমরা অপরাধীদের অন্তরে (অবিশ্বাস) সঞ্চার করে দিয়েছি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা ইহাতে ঈমান আনিবে না যতক্ষণ না উহারা মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে;

জহুরুল হক

তারা এতে বিশ্বাস করবে না যে পর্যন্ত না তারা মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা ঈমান আনবেনা যতোদিন না সচোক্ষে দেখতে পায় বেদনাদায়ক আযাব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফলে তাহা উহাদের নিকট আসিয়া পড়িবে আকস্মিকভাবে ; উহারা কিছুই বুঝিতে পারিবে না।

জহুরুল হক

সুতরাং এ তাদের কাছে আসবে আকস্মিকভাবে, আর তারা টের পাবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

হ্যাঁ, সেটা এসে পড়বে আকস্মিক এবং তারা টেরই পাবেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তখন উহারা বলিবে, ‘আমাদেরকে কি অবকাশ দেওয়া হইবে?’

জহুরুল হক

তখন তারা বলবে - - ''আমরা কি অবকাশ প্রাপ্ত হব?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা বলবে: ‘আমাদের কি অবকাশ দেয়া হবে?’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা কি তবে আমার শাস্তি ত্বরান্বিত করিতে চায়?

জহুরুল হক

কী, তারা কি এখনও আমাদের শাস্তি সন্বন্ধে তাড়াতাড়ি করতে চায়?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি দ্রুত আগমন চায় আমাদের আযাবের?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি ভাবিয়া দেখ যদি আমি তাহাদেরকে দীর্ঘকাল ভোগ - বিলাস করিতে দেই,

জহুরুল হক

তুমি কি তবে লক্ষ্য করেছ - - যদি আমরা তাদের বহু বছর ভোগ - বিলাস করতে দিই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি দেখোনি, আমরা তো অনেক বছর তাদের ভোগ বিলাস করতে দিয়েছি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং পরে উহাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হইয়াছিল তাহা উহাদের নিকট আসিয়া পড়ে,

জহুরুল হক

তারপর তাদের কাছে এসে পড়ে যা তাদের ওয়াদা করা হয়েছিল - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তার পরেই এসেছিল সেই জিনিস (তাদের ধ্বংস) যার ওয়াদা তাদের দেয়া হয়েছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তখন উহাদের ভোগ - বিলাসের উপকরণ উহাদের কোন কাজে আসিবে কি?

জহুরুল হক

তবু যা তাদের উপভোগ করতে দেওয়া হয়েছিল তা তাদের কোনো কাজে আসবে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের ভোগ বিলাসের উপকরণসমূহ তাদের কোনো কাজেই আসেনি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি এমন কোন জনপদ ধ্বংস করি নাই যাহার জন্য সতর্ককারী ছিল না ;

জহুরুল হক

আর আমরা কোনো জনপদ ধ্বংস করি নি যার সতর্ককারী ছিল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা এমন কোনো জনপদ হালাক করিনি যার জন্যে সতর্ককারীরা ছিলনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা উপদেশস্বরূপ, আর আমি অন্যায়াচারী নই,

জহুরুল হক

স্মারকগ্রন্থ, আর আমরা কখনও অন্যায়কারী নই।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি একটি উপদেশ। (তাদের ব্যাপারে) আমরা অন্যায় আচরণ করিনি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শয়তানেরা উহাসহ অবতীর্ণ হয় নাই।

জহুরুল হক

আর শয়তানরা এ নিয়ে অবতরণ করে নি,

আবদুস শহীদ নাসিম

এ কুরআন নিয়ে শয়তানরা নাযিল হয়নি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা এই কাজের যোগ্য নয় এবং উহারা ইহার সামর্থ্যও রাখে না।

জহুরুল হক

আর তাদের পক্ষে এ সমীচীন নয়, আর তারা সামর্থ্যও রাখে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ কাজের তারা যোগ্যও নয় এবং এ কাজের সামর্থও তাদের নেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদেরকে তো শ্রবণের সুযোগ হইতে দূরে রাখা হইয়াছে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ শুনবার ক্ষেত্রে তারা তো অপারগ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদেরকে তো এটা শোনার সুযোগ থেকে দূরে রাখা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব তুমি অন্য কোন ইলাহ্‌কে ‌র সঙ্গে ডাকিও না, ডাকিলে তুমি শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।

জহুরুল হক

সুতরাং তুমি ‌র সাথে অন্য উপাস্যকে ডেকো না, পাছে তুমি শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যেকার হয়ে যাও।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহ্ ডেকোনা, ডাকলে দন্ডপ্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত হয়ে পড়বে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার নিকট - আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করিয়া দাও।

জহুরুল হক

আর তোমার নিকটতম আ‌ত্মীয়দের সাবধান করে দাও,

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যাহারা তোমার অনুসরণ করে সেই সমস্ত মু’মিনদের প্রতি বিনয়ী হও।

জহুরুল হক

আর তোমার ডানা আনত করো মুমিনদের যারা তোমাকে অনুসরণ করে তাদের প্রতি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা তোমার অনুসরণ করে সেসব মুমিনদের প্রতি তুমি স্নেহ - মমতার ডানা অবনমিত করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা যদি তোমার অবাধ্যতা করে, তুমি বলিও, ‘তোমরা যাহা কর তাহা হইতে আমি দায়মুক্ত।’

জহুরুল হক

কিন্ত তারা যদি তোমার অবাধ্যতা করে তবে বলো - - ''আমি আলবৎ দায়মুক্ত তোমরা যা কর সে সন্বন্ধে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তোমার অবাধ্য হয়, তবে তুমি বলো: ‘তোমাদের কর্মকান্ড থেকে আমি দায়মুক্ত।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি নির্ভর কর পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু ‌র উপর,

জহুরুল হক

আর তুমি নির্ভর কর মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতার উপরে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবানের উপর তাওয়াক্কুল করো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দণ্ডায়মান হও,

জহুরুল হক

যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দাঁড়াও,

আবদুস শহীদ নাসিম

যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দাঁড়াও (সালাতে)।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং দেখেন সিজ্‌দাকারীদের সঙ্গে তোমার উঠাবসা।

জহুরুল হক

এবং সিজদাকারীদের সঙ্গে তোমার উঠা - বসা করতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাছাড়া সাজদাকারীদের সাথে তোমার উঠাবসাও তিনি দেখেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ তিনি - - তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদেরকে কি আমি জানাইব কাহার নিকট শয়তানরা অবতীর্ণ হয়?

জহুরুল হক

আমি কি তোমাদের জানাব কাদের উপরে শয়তানরা অবতরণ করে?

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মানুষ!) তোমাদের সংবাদ দেবো কি, শয়তানরা কার ঘাড়ে সওয়ার হয়?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেকটি ঘোর মিথ্যাবাদী ও পাপীর নিকট।

জহুরুল হক

তারা অবতরণ করে প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর উপরে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তো সওয়ার হয় প্রত্যেক কট্টর মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠের ঘাড়ে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা কান পাতিয়া থাকে এবং উহাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।

জহুরুল হক

তারা কান পাতে, আর তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কান পেতে থাকে এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং কবিদেরকে অনুসরণ করে বিভ্রান্তরাই।

জহুরুল হক

আর কবিগণ, - - তাদের অনুসরণ করে ভ্রান্তপথগামীরা।

আবদুস শহীদ নাসিম

কবিদের অনুসরণ করে তো বিভ্রান্তরাই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি দেখ না উহারা উদ্‌ভ্রান্ত হইয়া প্রত্যেক উপত্যকায় ঘুরিয়া বেড়ায়?

জহুরুল হক

তুমি কি দেখ না যে তারা নিঃসন্দেহ প্রত্যেক উপত্যকায় লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি দেখোনা তারা উদ্ভ্রান্তের মতো প্রত্যেক উপত্যকায়ই ঘুমিয়ে পড়ে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তাহারা তো বলে যাহা তাহারা করে না।

জহুরুল হক

আর তারা নিশ্চয়ই তাই বলে যা তারা করে না? - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তারা তাই বলে, যা তারা করেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিন্তু উহারা ব্যতীত, যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং ‌কে অধিক স্মরণ করে ও অত্যাচারিত হইবার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। অত্যাচারীরা শীঘ্রই জানিবে কোন্ স্থলে উহারা প্রত্যাবর্তন করিবে।

জহুরুল হক

তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, এবং ‌কে খুব ক’রে স্মরণ করে, আর অত্যাচারিত হবার পরে প্রতিরক্ষা করে। আর যারা অন্যায় করে তারা অচিরেই জানতে পারবে কোন বিপর্যয়ের মধ্যে তারা প্রত্যাবর্তন করছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তারা নয়, যারা ঈমান আনে, আমলে সালেহ্ করে, আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে এবং অত্যাচারিত হবার পরই প্রতিশোধ গ্রহণ করে। যারা যুলুম করে তারা শীঘ্রি জানতে পারবে কোন্ ফিরে যাবার জায়গায় তারা ফিরে যাবে?

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme