Kitab

আল মুতাফফীন

Chapter 83, 36 verses

  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • জহুরুল হক
  • আবদুস শহীদ নাসিম
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দুর্ভোগ তাহাদের জন্য যাহারা মাপে কম দেয়,

জহুরুল হক

ধিক্ প্রতারণাকারীদের জন্য - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা মাপে - ওজনে কম দেয় তাদের জন্যে ওয়াইল (ধ্বংস)।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা লোকের নিকট হইতে মাপিয়া লইবার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে,

জহুরুল হক

যারা মানুষের কাছ থেকে যখন মেপে নেয় তখন পুরো মাপ চায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষের কাছ থেকে মেপে নেয়ার সময় তারা পুরো মাত্রায় দাবি করে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যখন তাহাদের জন্য মাপিয়া অথবা ওজন করিয়া দেয়, তখন কম দেয়।

জহুরুল হক

আর যখন তাদের মেপে দেয় অথবা তাদের জন্য ওজন করে তখন কম করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং যখন অন্যদের মেপে বা ওজন করে দেয়, তখন প্রাপ্যের চাইতে কম দেয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা কি চিন্তা করে না যে, উহারা পুনরুত্থিত হইবে

জহুরুল হক

তারা কি ভাবে না যে তারাই তো - - তারা নিশ্চয়ই পুনরুত্থিত হবে - -

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা কি ভাবেনা যে, (মৃত্যুর পর) এদের পুনরায় উঠিয়ে আনা হবে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মহাদিবসে?

জহুরুল হক

ভীষণ এক দিনে,

আবদুস শহীদ নাসিম

এক মহা দিবসে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যেদিন দাঁড়াইবে সমস্ত মানুষ জগতসমূহের প্রতিপালকের সম্মুখে।

জহুরুল হক

যেদিন মানুষরা দাঁড়াবে বিশ্বজগতের প্রভুর সামনে?

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা হবে সেই দিন, যে দিন সমস্ত মানুষ দাঁড়াবে রাববুল আলামিনের সামনে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কখনও না, পাপাচারীদের ‘আমলনামা তো সিজ্জীনে আছে।

জহুরুল হক

না, নিঃসন্দেহ দুষ্কৃতিকারীদের দলিল - দস্তাবেজ তো সিজ্জীনের ভেতরে রয়েছে ।

আবদুস শহীদ নাসিম

কখনো নয়, বরং সীমালংঘনকারী পাপীদের রেকর্ড রাখা হয় সিজ্জীনে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সিজ্জীন সম্পর্কে তুমি কী জান?

জহুরুল হক

আর কী তোমাকে বোঝাবে সিজ্জীন কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কিভাবে জানবে, সিজজীন কী?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহা চিহ্নিত ‘আমলনামা।

জহুরুল হক

স্পষ্টভাবে লিখিত নিবন্ধগ্রন্থ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তা হচ্ছে খোদাই করা (তালিকার) রেকর্ড।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই দিন দুর্ভোগ হইবে অস্বীকারকারীদের,

জহুরুল হক

ধিক্ সেইদিন সত্যপ্রত্যাখ্যানকারীদের প্রতি - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা অস্বীকার করে, সেদিন তাদের জন্যে হবে ওয়াইল (ধ্বংস),

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা কর্মফল দিবসকে অস্বীকার করে,

জহুরুল হক

যারা বিচারের দিনকে মিথ্যা ভেবেছে!

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা তারা, যারা অস্বীকার করে বিচার ও প্রতিদান দিবসকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কেবল প্রত্যেক পাপিষ্ঠ সীমালংঘনকারী ইহা অস্বীকার করে ;

জহুরুল হক

আর কেউ একে অস্বীকার করে না কেবল প্রত্যেক সীমালংঘনকারী পাপিষ্ঠ ব্যতীত - -

আবদুস শহীদ নাসিম

সীমালংঘনকারী পাপিষ্ঠ ছাড়া আর কেউ - ই অস্বীকার করেনা সেই দিবসকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহার নিকট আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হইলে সে বলে, ‘ইহা পূর্ববর্তীদের উপকথা।’

জহুরুল হক

যে, যখন তার কাছে আমাদের বাণীসমূহ পাঠ করা হয় তখন বলে - - ''আদ্যিকালের গালগল্প।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকে যখন আমার (কুরআনের) আয়াত শুনানো হয়, সে বলে : এ - তো সেকালের লোকদের উপকথা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কখনও নয় ; বরং উহাদের কৃতকর্মই উহাদের হৃদয়ে জঙ্ ধরাইয়াছে।

জহুরুল হক

না, বরং তারা যা অর্জন করে চলেছিল তা তাদের হৃদয়ে মরচে ধরিয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

না, তা কখনো নয়, বরং তাদের হৃদয়গুলোতে জঙ ধরিয়ে দিয়েছে তাদের (মন্দ) কৃতকর্ম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

না, অবশ্যই সেই দিন উহারা উহাদের প্রতিপালক হইতে অন্তর্হিত থাকিবে ;

জহুরুল হক

না, তারা নিঃসন্দেহ তাদের প্রভুর কাছ থেকে সেদিন অবশ্যই বঞ্চিত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

কখনো নয়, সেদিন অবশ্যি তাদেরকে তাদের প্রভুর দর্শন থেকে হিজাব করে (অন্তরালে) রাখা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর উহারা তো জাহান্নামে প্রবেশ করিবে ;

জহুরুল হক

তারপর তারা নিশ্চয় ভয়ংকর আগুনে প্রবেশ করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তারা অবশ্যি প্রবেশ করবে জাহিমে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তৎপর বলা হইবে, ‘ইহাই তাহা যাহা তোমরা অস্বীকার করিতে।’

জহুরুল হক

তখন তাদের বলা হবে - - ''এই তো তাই যা তোমরা মিথ্যা বলতে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তাদের বলা হবে : এটি সেই জিনিস, যা তোমরা অস্বীকার করতে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অবশ্যই পূণ্যবানদের ‘আমলনামা ‌‘ইল্লিয়্যীনে,

জহুরুল হক

না, নিঃসন্দেহ ধর্মপরায়ণদের কর্মবিবরণী তো ইল্লিয়ীনে রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

কখনো নয়; অবশ্যি সৎ - সত্যপন্থী লোকদের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে ইল্লিয়্যিনে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘ইল্লিয়্যীন সম্পর্কে তুমি কী জান ?

জহুরুল হক

আর কেমন ক’রে তোমাকে বুঝানো যাবে ইল্লিয়ীন কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি জানো - ইল্লিয়্যিন কী?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহা চিহ্নিত ‘আমলনামা।

জহুরুল হক

স্পষ্টভাবে লিখিত নিবন্ধগ্রন্থ, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তা হচ্ছে খোদাই করা (তালিকার) রেকর্ড।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ‌র সান্নিধ্যপ্রাপ্ত তাহারা উহা দেখে।

জহুরুল হক

নৈকট্যপ্রাপ্তরা তা দেখতে পাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার দেখাশুনায় নিয়োজিত আল্লাহর নিকটস্থ ফেরেশতারা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পুণ্যবানগণ তো থাকিবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে,

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ ধর্মপরায়ণরা তো থাকবে পরমানন্দে,

আবদুস শহীদ নাসিম

সৎ - সত্যপন্থী লোকেরা অবশ্যি থাকবে আনন্দ আর ভোগ বিলাসে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা সুসজ্জিত আসনে বসিয়া অবলোকন করিবে।

জহুরুল হক

উঁচু আসনে চেয়ে থাকবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সিংহাসনে উপবেশন করে তারা দেখবে (সবকিছু)।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি তাহাদের মুখমণ্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের দীপ্তি দেখিতে পাইবে,

জহুরুল হক

তাদের চেহারাতে তুমি পরিচয় পাবে পরমানন্দের দীপ্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তাদের চেহারায় দেখতে পাবে আনন্দের উজ্জ্বলতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় হইতে পান করান হইবে;

জহুরুল হক

তাদের পান করানো হবে বিশুদ্ধ পানীয় থেকে, যা মোহর - মারা;

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের পান করতে দেয়া হবে সীল করা বিশুদ্ধ শরাব (পানীয়)।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহার মোহর মিস্‌কের, এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক।

জহুরুল হক

তার মোহর হচ্ছে কস্তুরীর। আর এর জন্যেই তবে উচ্চাকাঙক্ষীরা আকাঙক্ষা করুক।

আবদুস শহীদ নাসিম

পান শেষে তারা সৌরভ পাবে মিশ্কের। অতএব যারা প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়, তারা এরি জন্যে অবতীর্ণ হোক প্রতিযোগিতায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহার মিশ্রণ হইবে তাস্‌নীমের,

জহুরুল হক

আর তার সংমিশ্রণ হবে তসনীম থেকে,

আবদুস শহীদ নাসিম

সেই শরাব হবে তাসনিম মিশ্রিত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা একটি প্রস্রবণ, যাহা হইতে সান্নিধ্যপ্রাপ্তরা পান করে।

জহুরুল হক

একটি প্রস্রবণ যা থেকে পান করে নৈকট্যপ্রাপ্তরা।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা (তাসনিম) হলো একটা ঝর্ণা, যা থেকে পান করবে আল্লাহর নৈকট্য লাভকারীরা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা অপরাধী তাহারা তো মু’মিনদেরকে উপহাস করিত।

জহুরুল হক

যারা অপরাধ করত তারা অবশ্য উপহাস করতো তাদের যারা ঈমান এনেছে,

আবদুস শহীদ নাসিম

(পৃথিবীর জীবনে) যারা অপরাধ করতো, তারা ঈমানের পথে চলা লোকদের হাসি - ঠাট্টা করতো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং উহারা যখন মু’মিনদের নিকট দিয়া যাইত তখন চক্ষু টিপিয়া ইশারা করিত।

জহুরুল হক

আর যখন তারা তাদের পাশ দিয়ে যেতো তখন তারা পরস্পর চোখ ঠারতো;

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং যখনই মুমিনদের নিকট দিয়ে গমনাগমন করতো, তাদের প্রতি (বিদ্রুপাত্মক) ইংগিত করতো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যখন উহাদের আপনজনের নিকট ফিরিয়া আসিত তখন উহারা ফিরিত উৎফুল্ল হইয়া,

জহুরুল হক

আর যখন তারা নিজেদের দলের কাছে ফিরে আসত তখন তারা ফিরতো উল্লাস করতে করতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং নিজেদের পরিবার - পরিজনের কাছে ফেরার সময় ফিরতো উৎফুল্ল হয়ে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যখন উহাদেরকে দেখিত তখন বলিত, ‘ইহারাই তো পথভ্রষ্ট।’

জহুরুল হক

আর যখন তারা তাদের দেখত তখন বলতো - - ''নিশ্চয় এরাই তো পথভ্রষ্ট।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আর মুমিনদের দেখলে বলতো : এরা সব বিপথগামী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদেরকে তো তাহাদের তত্ত্বাবধায়ক করিয়া পাঠান হয় নাই।

জহুরুল হক

কিন্ত তাদের তো এদের উপরে তত্ত্বাবধায়ক করে পাঠানো হয় নি।

আবদুস শহীদ নাসিম

অথচ তাদেরকে এদের (মুমিনদের) উপর তত্ত্বাবধায়ক বানিয়ে পাঠানো হয়নি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আজ মু’মিনগণ উপহাস করিতেছে কাফিরদেরকে,

জহুরুল হক

কাজেই আজকের দিনে যারা ঈমান এনেছিল তারা অবিশ্বাসীদের প্রতি হাসাহাসি করবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং আজ মুমিনরা উপহাস করবে কাফিরদের সাথে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুসজ্জিত আসন হইতে উহাদেরকে অবলোকন করিয়া।

জহুরুল হক

উঁচু আসনে চেয়ে চেয়ে দেখবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সিংহাসনে বসে তারা দেখবে তাদের।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কাফিররা উহাদের কৃতকর্মের ফল পাইল তো?

জহুরুল হক

অবিশ্বাসীদের কি সেই প্রতিফলই দেওয়া হ’ল না যা তারা করত?

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফিরদেরকে তাদের কৃতকর্মের সওয়াব (পুরস্কার) কি (পুরোপুরি) দেয়া হলোনা?

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme