Kitab

আল হাদীদ

Chapter 57, 29 verses

  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • জহুরুল হক
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সবই ‌র পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

জহুরুল হক

মহাকাশমন্ডলে ও পৃথিবীতে যা - কিছু আছে তা ‌র জপতপ করে, আর তিনি মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব তাঁহারই ; তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান ; তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

জহুরুল হক

তাঁরই হচ্ছে মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, আর তিনিই সব - কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই আদি, তিনিই অন্ত; তিনিই ব্যক্ত ও তিনিই গুপ্ত এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত।

জহুরুল হক

তিনিই আদি ও অন্ত আর প্রকাশ্য ও গুপ্ত, কেননা তিনিই সব - কিছু সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই ছয় দিবসে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন ; অতঃপর আর্‌শে সমাসীন হইয়াছেন। তিনি জানেন যাহা কিছু ভূমিতে প্রবেশ করে ও যাহা কিছু উহা হইতে বাহির হয় এবং আকাশ হইতে যাহা কিছু নামে ও আকাশে যাহা কিছু উত্থিত হয়। তোমরা যেখানেই থাক না - তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন, তোমরা যাহা কিছু কর ‌ তাহা দেখেন।

জহুরুল হক

তিনিই সেইজন যিনি মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, তারপর তিনি সমারোহণ করলেন আরশের উপরে। তিনি জানেন যা পৃথিবীর ভেতরে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে বেরিয়ে আসে, আর যা আকাশ থেকে নেমে আসে এবং যা তাতে উঠে যায়। আর তিনি তোমাদের সঙ্গে রয়েছেন যেখানেই তোমরা থাক না কেন। আর তোমরা যা কর সে - সন্বন্ধে সম্যক দ্রষ্টা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব তাঁহারই এবং ‌রই দিকে সমস্ত বিষয় প্রত্যাবর্তিত হইবে।

জহুরুল হক

তাঁরই হচ্ছে মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আর ‌রই প্রতি ব্যাপার - স্যাপারগুলো ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই রাত্রিকে প্রবেশ করান দিবসে এবং দিবসকে প্রবেশ করান রাত্রিতে, এবং তিনি অন্তর্যামী।

জহুরুল হক

তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন এবং দিনকে প্রবেশ করান রাতের মধ্যে। আর বুকের ভেতরে যা - কিছু আছে সে - সন্বন্ধে তিনি সর্বজ্ঞাতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা ‌ ও তাঁহার রাসূলের প্রতি ঈমান আন এবং ‌ তোমাদেরকে যাহা কিছুর উত্তরাধিকারী করিয়াছেন তাহা হইতে ব্যয় কর। তোমাদের মধ্যে যাহারা ঈমান আনে ও ব্যয় করে, তাহাদের জন্য আছে মহাপুরস্কার।

জহুরুল হক

‌র ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনো, এবং খরচ করো তা থেকে যা দিয়ে তিনি এতে তোমাদের উত্তরাধিকারী বানিয়েছেন। সুতরাং তোমাদের মধ্যের যারা ঈমান আনে ও খরচ করে, তাদের জন্য রয়েছে এক বিরাট প্রতিদান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের কি হইল যে, তোমরা ‌র প্রতি ঈমান আন না? অথচ রাসূল তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনিতে আহ্‌বান করিতেছে এবং ‌ তোমাদের নিকট হইতে অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছেন, যদি তোমরা হও।

জহুরুল হক

আর তোমাদের কি হয়েছে যে তোমরা ‌তে বিশ্বাস করছ না, অথচ রসূল তোমাদের আহ্বান করছেন যেন তোমরা তোমাদের প্রভুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো, এবং তিনিও ইতিপূর্বেই তোমাদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন, - - যদি তোমরা হয়ে থাকো?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই তাঁহার বান্দার প্রতি সুস্পষ্ট আয়াত অবতীর্ণ করেন, তোমাদেরকে অন্ধকার হইতে আলোকে আনিবার জন্য। ‌ তা তোমাদের প্রতি করুণাময়, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

তিনিই সেইজন যিনি তাঁর বান্দার কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী অবতারণ করছেন যেন তিনি তোমাদের বের কবে আনতে পারেন অন্ধকার থেকে আলোকের মধ্যে। আর নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি তো পরম স্নেহময়, অফুরন্ত ফলদাতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা ‌র পথে কেন ব্যয় করিবে না? আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মালিকানা তো ‌রই। তোমাদের মধ্যে যাহারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করিয়াছে ও যুদ্ধ করিয়াছে, তাহারা এবং পরবর্তীরা সমান নয়। তাহারা মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ উহাদের অপেক্ষা, যাহারা পরবর্তী কালে ব্যয় করিয়াছে ও যুদ্ধ করিয়াছে। তবে ‌ উভয়ের কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন। তোমরা যাহা কর ‌ তাহা সবিশেষ অবহিত।

জহুরুল হক

আর তোমাদের কি হয়েছে যে তোমরা ‌র পথে খরচ কর না, অথচ ‌রই হচ্ছে মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর উত্তরাধিকার? তোমাদের মধ্যে তারা সমতুল্য নয় যারা সেই বিজয়ের পূর্বে খরচ করেছিল ও যুদ্ধ করেছিল। এরা শ্রেণীবিভাগে উচ্চতর তাদের থেকে যারা পরবর্তীকালে খরচ করে ও যুদ্ধ করে, আর প্রত্যেককেই ওয়াদা করেছেন কল্যাণের। কেননা তোমরা যা কর সে - সন্বন্ধে পূর্ণ ওয়াকিফহাল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কে আছে যে ‌কে দিবে উত্তম ঋণ ? তাহা হইলে তিনি বহু গুণে ইহাকে বৃদ্ধি করিবেন তাহার জন্য এবং তাহার জন্য রহিয়াছে সম্মানজনক পুরস্কার।

জহুরুল হক

কে সেইজন যে ‌কে কর্জ দেয় উত্তম কর্জ, ফলে তিনি এটিকে তারজন্য বহুগুণিত করে দেন, আর তার জন্য রয়েছে সম্মানিত পুরস্কার?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেদিন তুমি দেখিবে নর - নারীগণকে তাহাদের সম্মুখভাগে ও দক্ষিণ পার্শ্বে তাহাদের জ্যোতি ছুটিতে থাকিবে। বলা হইবে, ‘আজ তোমাদের জন্য সুসংবাদ জান্নাতের, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তোমরা স্থায়ী হইবে, ইহাই মহাসাফল্য।’

জহুরুল হক

সেইদিন তুমি বিশ্বাসীদের ও বিশ্বাসিনীদের দেখতে পাবে - - তাদের আলোক ধাবিত হয়েছে তাদের সম্মুখে ও তাদের ডানদিক দিয়ে, - - ''তোমাদের জন্য আজ সুসংবাদ - - স্বর্গোউদ্যানসমূহে যাদের নীচে দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি, সেখানে অবস্থান করবে।’’ এটিই হচ্ছে বিরাট সাফল্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীরা মু’মিনদেরকে বলিবে, ‘তোমরা আমাদের জন্য একটু থাম, যাহাতে আমরা তোমাদের জ্যোতির কিছু গ্রহণ করিতে পারি। বলা হইবে, ‘তোমরা তোমাদের পিছনে ফিরিয়া যাও ও আলোর সন্ধান কর।’ অতঃপর উভয়ের মাঝামাঝি স্থাপিত হইবে একটি প্রাচীর যাহাতে একটি দরজা থাকিবে, উহার অভ্যন্তরে থাকিবে রহমত এবং বহির্ভাগে থাকিবে শাস্তি।

জহুরুল হক

সেই দিন যখন কপটাচারী ও কপটাচারিণীরা বলবে তাদের যারা বিশ্বাস করেছে - - ''আমাদের দিকে দেখো তো, তোমাদের আলোক থেকে যেন আমরা নিতে পারি।’’ বলা হবে - - ''তোমরা তোমাদের পেছনে ফিরে যাও এবং আলোর খোঁজ কর।’’ তারপর তাদের মধ্যে একটি দেওয়াল দাঁড় করানো হবে যাতে থাকবে একটি দরজা। তার ভেতরের দিকে, সেখানে রয়েছে করুণা, আর তার বাইরের দিকে, তার সামনেই রয়েছে শাস্তি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুনাফিকরা মু’মিনদেরকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিবে, ‘আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না?’ তাহারা বলিবে, ‘হাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করিয়াছ। তোমরা প্রতীক্ষা করিয়াছিলে, সন্দেহ পোষণ করিয়াছিলে এবং অলীক আকাঙ্খা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করিয়া রাখিয়াছিল, অবশেষে ‌র হুকুম আসিল। আর মহাপ্রতারক তোমাদেরকে প্রতারিত করিয়াছিল ‌ সম্পর্কে।’

জহুরুল হক

তারা তাদের ডেকে বলবে - - ''আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না?’’ তারা বলবে - - ''হাঁ, কিন্ত তোমরা তোমাদের নিজেদের প্রলুব্ধ করেছিলে, আর প্রতীক্ষা করেছিলে, আর বৃথা কামনা তোমাদের প্রতারিত করেছিল যে পর্যন্ত না ‌র বিধান এসেছিল, আর সম্পর্কে মহাপ্রতারক তোমাদের প্রতারণা করেছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আজ তোমাদের নিকট হইতে কোন মুক্তিপণ গ্রহণ করা হইবে না এবং যাহারা করিয়াছিল তাহাদের নিকট হইতেও নয়। জাহান্নামই তোমাদের আবাসস্থল, ইহাই তোমাদের যোগ্য; কত নিকৃষ্ট এই পরিণাম!’

জহুরুল হক

''সেজন্য আজকের দিনে তোমাদের থেকে কোনো মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে না, আর যারা অবিশ্বাস করেছিল তাদের থেকেও নয়। তোমাদের আবাসস্থল হচ্ছে জাহান্নাম, এই - ই তোমাদের মুরব্বী, আর কত নিকৃষ্ট গন্তব্যস্থল!’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ঈমান আনে তাহাদের হৃদয় ভক্তি - বিগলিত হইবার সময় কি আসে নাই, ‌র স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাতে ? এবং পূর্বে যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছিল তাহাদের মত যেন উহারা না হয় - বহু কাল অতিক্রান্ত হইয়া গেলে যাহাদের অন্তকরণ কঠিন হইয়া পড়িয়াছিল। উহাদের অধিকাংশই সত্যত্যাগী।

জহুরুল হক

এখনও কি সময় হয় নি তাদের জন্য যে যারা বিশ্বাস করে তাদের হৃদয় বিনত হবে ‌র স্মরণে এবং সত্যের যা অবতীর্ণ হয়েছে? আর তারা ওদের মতো না হোক যাদের পূর্ববর্তীকালে গ্রন্থ দেওয়া হয়েছিল, কিন্ত সময় তাদের জন্য সুদীর্ঘ মনে হয়েছিল, ফলে তাদের হৃদয় কঠিন হয়ে পড়েছিল। আর তাদের মধ্যের অনেকেই হয়েছিল সত্যত্যাগী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

জানিয়া রাখ, ‌ই ধরিত্রীকে উহার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন। আমি নিদর্শনগুলি তোমাদের জন্য বিশদভাবে ব্যক্ত করিয়াছি যাহাতে তোমরা বুঝিতে পার।

জহুরুল হক

তোমরা জেনে রাখো যে পৃথিবীটাকে তার মৃত্যুর পরে প্রাণ সঞ্চার করেন। আমরা তো তোমাদের জন্য নির্দেশাবলী সুস্পষ্ট করে দিয়েছি যেন তোমরা বুঝতে পার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দানশীল পুরুষগণ ও দানশীলা নারীগণ, এবং যাহারা ‌কে উত্তম ঋণ দান করে তাহাদেরকে দেওয়া হইবে বহুগুণ বেশি এবং তাহাদের জন্য রহিয়াছে সম্মানজনক পুরস্কার।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ দানশীল পুরুষ ও দানশীলা নারীরা আর যারা ‌কে উত্তম ঋণ দান করে - - তাদের জন্য তা বহুগুণিত করা হবে, আর তাদের জন্য রয়েছে সম্মানিত পুরস্কার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ‌ ও তাঁহার রাসূলে ঈমান আনে, তাহারাই তাহাদের প্রতিপালকের নিকট সিদ্দীক ও শহীদ। তাহাদের জন্য রহিয়াছে তাহাদের প্রাপ্য পুরস্কার ও জ্যোতি এবং যাহারা করিয়াছে ও আমার নিদর্শন অস্বীকার করিয়াছে, উহারাই জাহান্নামের অধিবাসী।

জহুরুল হক

আর যারা ‌র প্রতি ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, তারাই খোদ সত্যপরায়ণ এবং তাদের প্রভুর সমক্ষে সাক্ষ্যদাতা। তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রতিদান ও তাদের আলোক। পক্ষান্তরে যারা অবিশ্বাস করে ও আমাদের নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করে, তারাই হচ্ছে ভয়ংকর আগুনের বাসিন্দা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা জানিয়া রাখ, পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া - কৌতুক, জাঁকজমক, পারস্পরিক শ্লাঘা, ধন - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততিতে প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা ব্যতীত আর কিছু নয়। উহার উপমা বৃষ্টি, যদ্দ্বারা উৎপন্ন শস্য - সম্ভার কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, অতঃপর উহা শুকাইয়া যায়, ফলে তুমি উহা পীতবর্ণ দেখিতে পাও, অবশেষে উহা খড় - কুটায় পরিণত হয়। পরকালে রহিয়াছে কঠিন শাস্তি এবং ‌র ক্ষমা ও সন্তুষ্টি।পার্থিব জীবন প্রতারণার সামগ্রী ব্যতীত কিছুই নয়।

জহুরুল হক

তোমরা জেনে রাখো যে পার্থিব জীবনটা তো খেলা - ধূলো ও আমোদ - প্রমোদ ও জাঁকজমক ও তোমাদের নিজেদের মধ্যে হামবড়াই এবং ধনদৌলত ও সন্তানসন্ততির প্রতিযোগিতা মাত্র। এটি বৃষ্টির উপমার মতো যার উৎপাদন চাষীদের চমৎকৃত করে, তারপর তা শুকিয়ে যায়, তুমি তখন তা দেখতে পাও হলদে হয়ে গেছে, অবশেষে তা খড়কুটো হয়ে যায়! আর পরকালে রয়েছে কঠোর শাস্তি, পক্ষান্তরে রয়েছে ‌র কাছ থেকে পরিত্রাণ ও সন্তষ্টি। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগবিলাস বৈ তো নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা অগ্রণী হও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা ও সেই জান্নাত লাভের প্রয়াসে যাহা প্রশস্ততায় আকাশ ও পৃথিবীর মত, যাহা প্রস্তুত করা হইয়াছে তাহাদের জন্য যাহারা ‌ ও তাঁহার রাসূলগণে ঈমান আনে। ইহা ‌র অনুগ্রহ, যাহাকে ইচ্ছা তিনি ইহা দান করেন; ‌ মহাঅনুগ্রহশীল।

জহুরুল হক

তোমরা প্রতিযোগিতা করো তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য এবং এমন এক জান্নাতের জন্য যার বিস্তার হচ্ছে মহাকাশ ও পৃথিবীর বিস্তৃতির মতো, - - এটি তৈরি করা হয়েছে তাদের জন্য যারা ‌তে ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনে। এ হচ্ছে ‌র অনুগ্রহ প্রাচুর্য, তিনি তা প্রদান করেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন। বস্তুত বিরাট করুণাভান্ডারের অধিকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে আমি উহা সংঘটিত করিবার পূর্বেই উহা লিপিবদ্ধ থাকে ; ‌র পক্ষে ইহা খুবই সহজ।

জহুরুল হক

এমন কোনো বিপর্যয় পৃথিবীতে পতিত হয় না আর তোমাদের নিজেদের উপরেও নয় যা আমরা ঘটাবার আগে একটি কিতাবে না রয়েছে। নিঃসন্দেহ এটি ‌র জন্যে সহজ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা এইজন্য যে, তোমরা যাহা হারাইয়াছ তাহাতে যেন তোমরা বিমর্ষ না হও, এবং যাহা তিনি তোমাদেরকে দিয়াছেন তাহার জন্য হর্ষোৎফুল্ল না হও। ‌ পসন্দ করেন না উদ্ধত ও অহংকারীদেরকে -

জহুরুল হক

এজন্য যে তোমরা যেন দুঃখ করো না যা তোমাদের থেকে হারিয়ে যায়, এবং তোমরা যেন উল্লাস না করো যা তিনি তোমাদের প্রদান করেন সেজন্য। আর ভালবাসেন না সমূদয় অবিবেচক অহংকারীকে, - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা কার্পণ্য করে ও মানুষকে কার্পণ্যের নির্দেশ দেয় এবং যে মুখ ফিরাইয়া নেয় সে জানিয়া রাখুক ‌ তো অভাবমুক্ত, প্রশংসার্হ।

জহুরুল হক

যারা কার্পণ্য করে, আর লোকেদেরও কার্পণ্যের নির্দেশ দেয়। আর যে কেউ ফিরে যায়, তবে নিশ্চয় , তিনিই ধনবান, প্রশংসার্হ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলগণকে প্রেরণ করিয়াছি স্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাহাদের সঙ্গে দিয়াছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাহাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে। আমি লৌহও দিয়াছি যাহাতে রহিয়াছে প্রচণ্ড শক্তি ও রহিয়াছে মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ। ইহা এইজন্য যে, ‌ প্রকাশ করিয়া দেন কে প্রত্যক্ষ না করিয়াও তাঁহাকে ও তাঁহার রাসূলগণকে সাহায্য করে। অবশ্যই ‌ শক্তিমান, পরাক্রমশালী।

জহুরুল হক

আমরা তো আমাদের রসূলগণকে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম সুস্পষ্ট প্রমাণাদি দিয়ে, আর তাঁদের সঙ্গে আমরা অবতারণ করেছিলাম ধর্মগ্রন্থ ও মানদন্ড যাতে লোকেরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে, আর আমরা লোহা পাঠিয়েছি যাতে রয়েছে বিরাট শক্তিমত্তা ও মানুষের জন্য উপকারিতা, আর যেন জানতে পারেন কে তাঁকে ও তাঁর রসূলগণকে অগোচরেও সাহায্য করে। নিঃসন্দেহ মহাবলীয়ান, মহাশক্তিশালী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি নূহ্ এবং ইব্‌রাহীমকে রাসূলরূপে প্রেরণ করিয়াছিলাম এবং আমি তাহাদের বংশধরগণের জন্য স্থির করিয়াছিলাম নবুওয়াত ও কিতাব, কিন্তু উহাদের অল্পই সৎপথ অবলম্বন করিয়াছিল এবং অধিকাংশই ছিল সত্যত্যাগী।

জহুরুল হক

আর আমরা ইতিপূর্বে নূহ্‌কে ও ইব্রাহীমকে পাঠিয়েছিলাম, আর তাঁদের বংশধরদের মধ্যে নবুওৎ ও গ্রন্থ সংস্থাপন করেছিলাম, কাজেই তাদের কেউ - কেউ ছিল সৎপথপ্রাপ্ত, কিন্ত তাদের অধিকাংশই ছিল সত্যত্যাগী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর আমি তাহাদের পশ্চাতে অনুগামী করিয়াছিলাম আমার রাসূলগণকে এবং অনুগামী করিয়াছিলাম মার্‌ইয়াম - তনয় ঈসাকে, আর তাহাকে দিয়াছিলাম ইঞ্জীল এবং তাহার অনুসারীদের অন্তরে দিয়াছিলাম করুণা ও দয়া। আর সন্ন্যাসবাদ - ইহা তো উহারা নিজেরাই ‌র সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রবর্তন করিয়াছিল। আমি উহাদেরকে ইহার বিধান দেই নাই ; অথচ ইহাও উহারা যথাযথভাবে পালন করে নাই। উহাদের মধ্যে যাহারা ঈমান আনিয়াছিল, উহাদেরকে আমি দিয়াছিলাম পুরস্কার এবং উহাদের অধিকাংশই সত্যত্যাগী।

জহুরুল হক

তারপর আমাদের রসূলগণকে তাঁদের পদচিহ্নে চলতে দিয়েছিলাম, আর মরিয়ম - পুত্র ঈসাকে আমরা অনুসরণ করিয়েছিলাম ও তাঁকে আমরা ইনজীল দিয়েছিলাম, আর যারা তাঁর অনুসরণ করেছিল তাদের অন্তরে আমরা সদয়তা ও করুণা দিয়েছিলাম। কিন্ত সন্ন্যাসবাদ - - তারাই এটি আবিস্কার করেছিল, আমরা তাদের প্রতি এটি লিপিবদ্ধ করি নি, শুধু ‌র সন্তষ্টির অনুসন্ধান করা, কিন্ত তারা এটি পালন করে নি যেমনটা এটি পালনের যোগ্য ছিল। ফলে তাদের মধ্যের যারা ঈমান এনেছিল তাদের আমরা দিয়েছিলাম তাদের প্রতিদান, কিন্ত তাদের অধিকাংশই ছিল সত্যত্যাগী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মু’মিনগণ! ‌কে ভয় কর এবং তাঁহার রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তিনি তাঁহার অনুগ্রহে তোমাদেরকে দিবেন দ্বিগুণ পুরস্কার এবং তিনি তোমাদেরকে দিবেন আলো, যাহার সাহায্যে তোমরা চলিবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করিবেন; ‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

জহুরুল হক

ওহে যারা ঈমান এনেছ! ‌কে ভয়ভক্তি করো এবং তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করো, তিনি তাঁর করুণা থেকে দুটি অংশ তোমাদের প্রদান করবেন, আর তোমাদের জন্য তিনি একটি আলোক স্থাপন করবেন যার মধ্যে তোমরা পথ চলতে পারো, এবং তিনি তোমাদের পরিত্রাণ করতে পারেন। আর পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা এইজন্য যে, কিতাবীগণ যেন জানিতে পারে, ‌র সামান্যতম অনুগ্রহের উপরও উহাদের কোন অধিকার নাই। অনুগ্রহ ‌রই ইখ্‌তিয়ারে, যাহাকে ইচ্ছা তাহাকে তিনি তাহা দান করেন। মহাঅনুগ্রহশীল।

জহুরুল হক

গ্রন্থধারীরা হয়ত নাও জানতে পারে যে তারা ‌র করুণাভান্ডারের মধ্যের কোনো কিছুতেই ক্ষমতা রাখে না, আর এই যে করুণাভান্ডার তো ‌রই হাতে রয়েছে, তিনি এটি প্রদান করেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন। বস্তুত বিরাট করুণাভান্ডারের অধিকারী।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme