শপথ তাহাদের যাহারা নির্মমভাবে উৎপাটন করে,
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; শপথ তাদের, যারা প্রবলভাবে টেনে বের করে,
Chapter 79, 46 verses
শপথ তাহাদের যাহারা নির্মমভাবে উৎপাটন করে,
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; শপথ তাদের, যারা প্রবলভাবে টেনে বের করে,
এবং যাহারা মৃদুভাবে বন্ধনমুক্ত করিয়া দেয়
এবং যারা কোমলভাবে মুক্ত করে,
এবং যাহারা তীব্র গতিতে সন্তরণ করে,
আর যারা তীব্র গতিতে সাঁতার কাটে,
আর যাহারা দ্রুতবেগে অগ্রসর হয়,
এবং যারা দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়,
অতঃপর যাহারা সকল কর্ম নির্বাহ করে।
অতঃপর যারা বিষয়সমূহ পরিচালনা করে,
সেই দিন প্রথম শিংগাধ্বনি প্রকম্পিত করিবে,
যেদিন প্রকম্পনকারী প্রকম্পিত করবে,
উহাকে অনুসরণ করিবে পরবর্তী শিংগাধ্বনি,
তারপর আরেকটি প্রকম্পন,
কত হৃদয় সেই দিন সন্ত্রস্ত হইবে,
কত হৃদয় সেই দিন সন্ত্রস্ত হইবে,
উহাদের দৃষ্টি ভীতি - বিহ্বলতায় নত হইবে।
তাদের দৃষ্টিসমূহ হবে অবনত,
তাহারা বলে, ‘আমরা কি পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হইবই -
তারা বলবে, “আমাদের কি সত্যিই পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে?”
গলিত অস্থিতে পরিণত হওয়ার পরও?’
“ক্ষয়প্রাপ্ত অস্থিতে পরিণত হওয়ার পরেও?”
তাহারা বলে, ‘তাহাই যদি হয় তবে তো ইহা সর্বনাশা প্রত্যাবর্তন।’
তারা বলবে, “তবে তো এ প্রত্যাবর্তন হবে সর্বনাশা!”
ইহা তো কেবল এক বিকট আওয়াজ,
প্রকৃতপক্ষে তা একটি মাত্র প্রচণ্ড শব্দ,
তখনই ময়দানে উহাদের আবির্ভাব হইবে।
তারপর তারা উন্মুক্ত ভূমিতে উপস্থিত হবে,
তোমার নিকট মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছিয়াছে কি?
তোমার কাছে কি মূসার সংবাদ পৌঁছেছে?
যখন তাহার প্রতিপালক পবিত্র উপত্যকা তুওয়া - য় তাহাকে আহ্বান করিয়া বলিয়াছিলেন,
যখন তার প্রতিপালক তাকে পবিত্র 'তুওয়া' উপত্যকায় আহ্বান করেছিলেন,
‘ফির‘আওনের নিকট যাও, সে তো সীমালংঘন করিয়াছে,’
“ফিরাউনের কাছে যাও; নিশ্চয়ই সে সীমালঙ্ঘন করেছে।”
এবং বল, ‘তোমার কি আগ্রহ আছে যে, তুমি পবিত্র হও -
“এবং তাকে বলো, ‘তুমি কি পরিশুদ্ধ হতে চাও?’”
‘আর আমি তোমাকে তোমার প্রতিপালকের দিকে পথপ্রদর্শন করি যাহাতে তুমি তাঁহাকে ভয় কর?’
“এবং আমি কি তোমাকে তোমার প্রতিপালকের দিকে পথ দেখাবো, যাতে তুমি ভীত হও?”
অতঃপর সে উহাকে মহানিদর্শন দেখাইল।
অতঃপর তিনি তাকে মহা নিদর্শন দেখিয়েছিলেন,
কিন্তু সে অস্বীকার করিল এবং অবাধ্য হইল।
কিন্তু সে অস্বীকার করেছিল এবং অবাধ্য হয়েছিল,
অতঃপর সে পশ্চাৎ ফিরিয়া প্রতিবিধানে সচেষ্ট হইল।
অতঃপর ফিরে গেলো চেষ্টা করতে;
সে সকলকে সমবেত করিল এবং উচ্চৈ:স্বরে ঘোষণা করিল,
অতঃপর সে সমবেত করল এবং ঘোষণা করল,
আর বলিল, ‘আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক।’
এবং বলল, “আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ প্রতিপালক।”
অতঃপর উহাকে আখিরাতে ও দুনিয়াতে কঠিন শাস্তিতে পাকড়াও করিলেন।
তখন তাকে পরকাল ও ইহকালের শাস্তির জন্য ধরলেন।
যে ভয় করে তাহার জন্য অবশ্যই ইহাতে শিক্ষা রহিয়াছে।
নিশ্চয়ই এতে শিক্ষা রয়েছে তার জন্য, যে ভয় করে।
তোমাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আকাশ সৃষ্টি? তিনিই ইহা নির্মাণ করিয়াছেন;
তোমাদের সৃষ্টি কি অধিক কঠিন, না আকাশের? তিনি তা নির্মাণ করেছেন,
তিনি ইহার ছাদকে সুউচ্চ করিয়াছেন ও সুবিন্যস্ত করিয়াছেন।
তিনি তার উচ্চতাকে সুউচ্চ করেছেন, অতঃপর তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন,
আর তিনি ইহার রাত্রিকে করিয়াছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং প্রকাশ করিয়াছেন ইহার সূর্যালোক;
৭৯–২৯ :
এবং তার রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন ও তার সকালকে আলোকিত করেছেন,
এবং পৃথিবীকে ইহার পর বিস্তৃত করিয়াছেন।
এবং এরপর পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন,
তিনি উহা হইতে বহির্গত করিয়াছেন উহার পানি ও তৃণ,
তিনি তা থেকে তার পানি ও চারণভূমি বের করেছেন,
এবং পর্বতকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রোথিত করিয়াছেন;
এবং পর্বতমালাকে সুদৃঢ়ভাবে গ্রথিত করেছেন,
এই সমস্ত তোমাদের ও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুদের ভোগের জন্য।
তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর জীবিকার জন্য।
অতঃপর যখন মহাসংকট উপস্থিত হইবে
অতঃপর যখন মহাবিপর্যয় আসবে,
মানুষ যাহা করিয়াছে তাহা সে সেই দিন স্মরণ করিবে,
সেদিন মানুষ স্মরণ করবে সে কিসের জন্য কষ্ট করেছিল,
এবং প্রকাশ করা হইবে জাহান্নাম দর্শকদের জন্য।
এবং জাহান্নাম প্রকাশ করা হবে, যে দেখবে তার জন্য,
জাহিম: কুরআনে ব্যবহৃত জাহান্নামের একটি নাম, যা বিশেষভাবে প্রজ্বলিত ও তীব্র জ্বলন্ত আগুনের ধারণা প্রকাশ করে। কুরআনে জাহান্নামের জন্য বিভিন্ন নাম ও বর্ণনা ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
অনন্তর যে সীমালংঘন করে
অনন্তর যে সীমালঙ্ঘন করেছে,
এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দেয়,
এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে,
জাহান্নামই হইবে তাহার আবাস।
তবে নিশ্চয়ই জাহিম হবে তার আশ্রয়,
পক্ষান্তরে যে স্বীয় প্রতিপালকের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং প্রবৃত্তি হইতে নিজকে বিরত রাখে,
অপরদিকে যে তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর ব্যাপারে ভীত হয়েছে এবং নিজেকে প্রবৃত্তি থেকে বিরত রেখেছে,
জান্নাতই হইবে তাহার আবাস।
তবে নিশ্চয়ই বেহেশতই হবে তার আশ্রয়,
উহারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে কিয়ামত সম্পর্কে, ‘উহা কখন ঘটিবে?’
তারা তোমাকে সেই সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, ‘তা কখন ঘটবে?’
ইহার আলোচনার সঙ্গে তোমার কী সম্পর্ক?
সে ব্যাপারে আপনার কী বলার আছে?
ইহার পরম জ্ঞান আছে তোমার প্রতিপালকেরই নিকট;
তার চূড়ান্ত জ্ঞান তোমার প্রতিপালকের কাছেই,
যে উহার ভয় রাখে তুমি কেবল তাহার সতর্ককারী।
তুমি তো কেবল সতর্ককারী তার জন্য, যে তাকে ভয় করে,
যেই দিন উহারা ইহা প্রত্যক্ষ করিবে সেই দিন উহাদের মনে হইবে যেন উহারা পৃথিবীতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক প্রভাত অবস্থান করিয়াছে!
যেদিন তারা তা দেখবে, মনে হবে যেন তারা কেবল এক সন্ধ্যা বা সকালের বেশী অবস্থান করেনি।