শপথ নক্ষত্রের, যখন উহা হয় অস্তমিত,
আল নাজম
Chapter 53, 62 verses
তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয়,
এবং সে মনগড়া কথাও বলে না।
ইহা তো ওহী, যাহা তাহার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়,
তাহাকে শিক্ষা দান করে শক্তিশালী,
প্রজ্ঞাসম্পন্ন, সে নিজ আকৃতিতে স্থির হইয়াছিল,
তখন সে ঊর্ধ্বদিগন্তে,
অতঃপর সে তাহার নিকটবর্তী হইল, অতি নিকটবর্তী,
ফলে তাহাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রহিল অথবা উহারও কম।
তখন তাঁহার বান্দার প্রতি যাহা ওহী করিবার তাহা ওহী করিলেন।
যাহা সে দেখিয়াছে, তাহার অন্তঃকরণ তাহা অস্বীকার করে নাই;
সে যাহা দেখিয়াছে তোমরা কি সে বিষয়ে তাহার সঙ্গে বিতর্ক করিবে?
নিশ্চয়ই সে তাহাকে আরেকবার দেখিয়াছিল
প্রান্তবর্তী বদরী বৃক্ষের নিকট,
যাহার নিকট অবস্থিত বাসোদ্যান।
যখন বৃক্ষটি, যদ্দ্বারা আচ্ছাদিত হইবার তদ্দ্বারা ছিল আচ্ছাদিত,
তাহার দৃষ্টিবিভ্রম হয় নাই, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যুতও হয় নাই।
সে তো তাহার প্রতিপালকের মহান নিদর্শনাবলী দেখিয়াছিল;
তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ ‘লাত’ ও ‘উয্যা’ সম্বন্ধে
এবং তৃতীয় আরেকটি ‘মানাত’ সম্বন্ধে?
তবে কি তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান এবং র জন্য কন্যা সন্তান ?
এই প্রকার বণ্টন তো অসংগত।
এইগুলি কতক নামমাত্র যাহা তোমাদের পূর্বপুরুষগণ ও তোমরা রাখিয়াছ, যাহার সমর্থনে কোন দলীল প্রেরণ করেন নাই। তাহারা তো অনুমান এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে, অথচ তাহাদের নিকট তাহাদের প্রতিপালকের পথনির্দেশ আসিয়াছে।
মানুষ যাহা চায় তাহাই কি সে পায়?
বস্তুত ইহকাল ও পরকাল রই।
আকাশে কত ফিরিশ্তা রহিয়াছে ; উহাদের সুপারিশ কিছুমাত্র ফলপ্রসূ হইবে না, তবে র অনুমতির পর ; যাহার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন ও যাহার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।
যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহারাই নারীবাচক নাম দিয়া থাকে ফিরিশ্তাদেরকে;
অথচ এই বিষয়ে উহাদের কোন জ্ঞান নাই, উহারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে; কিন্তু সত্যের মুকাবিলায় অনুমানের কোনই মূল্য নাই।
অতএব যে আমার স্মরণে বিমুখ তুমি তাহাকে উপেক্ষা করিয়া চল; সে তো কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করে।
উহাদের জ্ঞানের দৌড় এই পর্যন্ত। তোমার প্রতিপালকই ভাল জানেন কে তাঁহার পথ হইতে বিচ্যুত, তিনিই ভাল জানেন কে সৎপথপ্রাপ্ত।
আকাশমণ্ডলীতে যাহা কিছু আছে ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহা রই। যাহারা মন্দ কর্ম করে তাহাদেরকে তিনি দেন মন্দ ফল এবং যাহারা সৎকর্ম করে তাহাদেরকে দেন উত্তম পুরস্কার।
উহারাই বিরত থাকে গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কার্য হইতে, ছোটখাট অপরাধ করিলেও। তোমার প্রতিপালকের ক্ষমা অপরিসীম ; তোমাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত - যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছিলেন মৃত্তিকা হইতে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে ভ্রণরূপে ছিলে। অতএব তোমরা আত্মপ্রশংসা করিও না, তিনিই সম্যক জানেন কে।
তুমি কি দেখিয়াছ সেই ব্যক্তিকে যে মুখ ফিরাইয়া নেয়;
এবং দান করে সামান্যই, পরে বন্ধ করিয়া দেয়?
তাহার কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, সে প্রত্যক্ষ করে?
তাহাকে কি অবগত করা হয় নাই যাহা আছে মূসার কিতাবে,
এবং ইব্রাহীমের কিতাবে, যে পালন করিয়াছিল তাহার দায়িত্ব?
উহা এই যে, কোন বহনকারী অপরের বোঝা বহন করিবে না,
আর এই যে, মানুষ তাহাই পায় যাহা সে করে,
আর এই যে, তাহার কর্ম অচিরেই দেখান হইবে -
অতঃপর তাহাকে দেওয়া হইবে পূর্ণ প্রতিদান,
আর এই যে, সমস্ত কিছুর সমাপ্তি তো তোমার প্রতিপালকের নিকট,
আর এই যে, তিনিই হাসান, তিনিই কাঁদান,
আর এই যে, তিনিই মারেন, তিনিই বাঁচান,
আর এই যে, তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল - পুরুষ ও নারী
শুক্রবিন্দু হইতে, যখন উহা স্খলিত হয়,
আর এই যে, পুনরুত্থান ঘটাইবার দায়িত্ব তাঁহারই,
আর এই যে, তিনিই অভাবমুক্ত করেন ও সম্পদ দান করেন,
আর এই যে, তিনি শি‘রা নক্ষত্রের মালিক।
আর এই যে, তিনিই প্রাচীন ‘আদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করিয়াছিলেন
এবং সামূদ সম্প্রদায়কেও; কাহাকেও তিনি বাকি রাখেন নাই
আর ইহাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কেও, উহারা ছিল অতিশয় ও অবাধ্য।
উল্টানো আবাসভূমিকে নিক্ষেপ করিয়াছিলেন,
উহাকে আচ্ছন্ন করিল কী সর্বগ্রাসী শাস্তি!
তবে তুমি তোমার প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করিবে?
অতীতের সতর্ককারীদের ন্যায় এই নবীও এক সতর্ককারী।
কিয়ামত আসন্ন,
ব্যতীত কেহই ইহা ব্যক্ত করিতে সক্ষম নয়।
তোমরা কি এই কথায় বিস্ময় বোধ করিতেছ!
এবং হাসিঠাট্টা করিতেছ! ক্রন্দন করিতেছ না?
তোমরা তো উদাসীন,
অতএব কে সিজ্দা কর এবং তাঁহারই ‘ইবাদত কর।