কসম ঝঞ্ঝাবায়ুর।
بسم الله الرحمن الرحيم والذاريات ذروا
কসম ধূলিঝড়ের,
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ وَالذَّارِيَاتِ ذَرْوًا
Chapter 51, 60 verses
কসম ঝঞ্ঝাবায়ুর।
بسم الله الرحمن الرحيم والذاريات ذروا
কসম ধূলিঝড়ের,
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ وَالذَّارِيَاتِ ذَرْوًا
অতঃপর বোঝা বহনকারী মেঘের।
فالحاملات وقرا
অতঃপর, পানির বোঝা বহনকারী মেঘমালার,
فَالْحَامِلَاتِ وِقْرًا
অতঃপর মৃদু চলমান জলযানের,
فالجاريات يسرا
অতঃপর মৃদুগতিতে চলমান নৌযানসমূহের,
فَالْجَارِيَاتِ يُسْرًا
অতঃপর কর্ম বন্টনকারী ফেরেশতাগণের,
فالمقسمات أمرا
অতঃপর [আল্লাহর] নির্দেশ বণ্টনকারী ফেরেশতাগণের।
فَالْمُقَسِّمَاتِ أَمْرًا
তোমাদের প্রদত্ত ওয়াদা অবশ্যই সত্য।
إنما توعدون لصادق
তোমরা যে ওয়াদাপ্রাপ্ত হয়েছ তা অবশ্যই সত্য।
إِنَّمَا تُوعَدُونَ لَصَادِقٌ
ইনসাফ অবশ্যম্ভাবী।
وإن الدين لواقع
নিশ্চয় প্রতিদান অবশ্যম্ভাবী।
وَإِنَّ الدِّينَ لَوَاقِعٌ
পথবিশিষ্ট আকাশের কসম,
والسماء ذات الحبك
কসম সৌন্দর্যমন্ডিত আকাশের
وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الْحُبُكِ
তোমরা তো বিরোধপূর্ণ কথা বলছ।
إنكم لفي قول مختلف
নিশ্চয় তোমরা মতবিরোধপূর্ণ কথায় লিপ্ত।
إِنَّكُمْ لَفِي قَوْلٍ مُّخْتَلِفٍ
যে ভ্রষ্ট, সেই এ থেকে মুখ ফিরায়,
يؤفك عنه من أفك
যে পথভ্রষ্ট হয়েছে তাকেই তা থেকে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।
يُؤْفَكُ عَنْهُ مَنْ أُفِكَ
অনুমানকারীরা ধ্বংস হোক,
قتل الخراصون
মিথ্যাচারীরা ধ্বংস হোক!
قُتِلَ الْخَرَّاصُونَ
যারা উদাসীন, ভ্রান্ত।
الذين هم في غمرة ساهون
যারা সন্দেহ-সংশয়ে নিপতিত, উদাসীন।
الَّذِينَ هُمْ فِي غَمْرَةٍ سَاهُونَ
তারা জিজ্ঞাসা করে, কেয়ামত কবে হবে?
يسألون أيان يوم الدين
তারা জিজ্ঞাসা করে, ‘প্রতিদান দিবস’ কবে’?
يَسْأَلُونَ أَيَّانَ يَوْمُ الدِّينِ
যেদিন তারা অগ্নিতে পতিত হবে,
يوم هم على النار يفتنون
‘যে দিন তারা অগ্নিতে সাজাপ্রাপ্ত হবে’।
يَوْمَ هُمْ عَلَى النَّارِ يُفْتَنُونَ
তোমরা তোমাদের শাস্তি আস্বাদন কর। তোমরা একেই ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিল।
ذوقوا فتنتكم هذا الذي كنتم به تستعجلون
বলা হবে, ‘তোমাদের আযাব আস্বাদন কর, এটিতো ‘তোমরা ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলে।’
ذُوقُوا فِتْنَتَكُمْ هَٰذَا الَّذِي كُنتُم بِهِ تَسْتَعْجِلُونَ
খোদাভীরুরা জান্নাতে ও প্রস্রবণে থাকবে।
إن المتقين في جنات وعيون
নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতসমূহে ও ঝর্ণাধারায়,
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ
এমতাবস্থায় যে, তারা গ্রহণ করবে যা তাদের পালনকর্তা তাদেরকে দেবেন। নিশ্চয় ইতিপূর্বে তারা ছিল সৎকর্মপরায়ণ,
آخذين ما آتاهم ربهم ۚ إنهم كانوا قبل ذلك محسنين
তাদের রব তাদের যা দিবেন তা তারা খুশীতে গ্রহণকারী হবে। ইতঃপূর্বে এরাই ছিল সৎকর্মশীল।
آخِذِينَ مَا آتَاهُمْ رَبُّهُمْ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَٰلِكَ مُحْسِنِينَ
তারা রাত্রির সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত,
كانوا قليلا من الليل ما يهجعون
রাতের সামান্য অংশই এরা ঘুমিয়ে কাটাতো।
كَانُوا قَلِيلًا مِّنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ
রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত,
وبالأسحار هم يستغفرون
আর রাতের শেষ প্রহরে এরা ক্ষমা চাওয়ায় রত থাকত।
وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
এবং তাদের ধন - সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতের হক ছিল।
وفي أموالهم حق للسائل والمحروم
আর তাদের ধনসম্পদে রয়েছে প্রার্থী ও বঞ্চিতের হক।
وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِّلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ
বিশ্বাসকারীদের জন্যে পৃথিবীতে নিদর্শনাবলী রয়েছে,
وفي الأرض آيات للموقنين
সুনিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য যমীনে অনেক নিদর্শন রয়েছে।
وَفِي الْأَرْضِ آيَاتٌ لِّلْمُوقِنِينَ
এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও, তোমরা কি অনুধাবন করবে না?
وفي أنفسكم ۚ أفلا تبصرون
তোমাদের নিজদের মধ্যেও। তোমরা কি চক্ষুষ্মান হবে না?
وَفِي أَنفُسِكُمْ ۚ أَفَلَا تُبْصِرُونَ
আকাশে রয়েছে তোমাদের রিযিক ও প্রতিশ্রুত সবকিছু।
وفي السماء رزقكم وما توعدون
আকাশে রয়েছে তোমাদের রিয্ক ও প্রতিশ্রুত সব কিছু।
وَفِي السَّمَاءِ رِزْقُكُمْ وَمَا تُوعَدُونَ
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তার কসম, তোমাদের কথাবার্তার মতই এটা সত্য।
فورب السماء والأرض إنه لحق مثل ما أنكم تنطقون
অতএব আসমান ও যমীনের রবের কসম, তোমরা যে কথা বলে থাক তার মতই এটি সত্য।
فَوَرَبِّ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِنَّهُ لَحَقٌّ مِّثْلَ مَا أَنَّكُمْ تَنطِقُونَ
আপনার কাছে ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে কি?
هل أتاك حديث ضيف إبراهيم المكرمين
তোমার কাছে কি ইবরাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে?
هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ ضَيْفِ إِبْرَاهِيمَ الْمُكْرَمِينَ
যখন তারা তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বললঃ সালাম, তখন সে বললঃ সালাম। এরা তো অপরিচিত লোক।
إذ دخلوا عليه فقالوا سلاما ۖ قال سلام قوم منكرون
যখন তারা তার কাছে আসল এবং বলল, ‘সালাম’, উত্তরে সেও বলল, ‘সালাম’। এরা তো অপরিচিত লোক।
إِذْ دَخَلُوا عَلَيْهِ فَقَالُوا سَلَامًا ۖ قَالَ سَلَامٌ قَوْمٌ مُّنكَرُونَ
অতঃপর সে গ্রহে গেল এবং একটি ঘৃতেপক্ক মোটা গোবৎস নিয়ে হাযির হল।
فراغ إلى أهله فجاء بعجل سمين
অতঃপর সে দ্রুত চুপিসারে নিজ পরিবারবর্গের কাছে গেল এবং একটি মোটা-তাজা গো- (ভাজা) নিয়ে আসল।
فَرَاغَ إِلَىٰ أَهْلِهِ فَجَاءَ بِعِجْلٍ سَمِينٍ
সে গোবৎসটি তাদের সামনে রেখে বললঃ তোমরা আহার করছ না কেন?
فقربه إليهم قال ألا تأكلون
অতঃপর সে তা তাদের সামনে পেশ করল এবং বলল, ‘তোমরা কি খাবে না?’
فَقَرَّبَهُ إِلَيْهِمْ قَالَ أَلَا تَأْكُلُونَ
অতঃপর তাদের সম্পর্কে সে মনে মনে ভীত হলঃ তারা বললঃ ভীত হবেন না। তারা তাঁকে একট জ্ঞানীগুণী পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিল।
فأوجس منهم خيفة ۖ قالوا لا تخف ۖ وبشروه بغلام عليم
এতে তাদের সম্পর্কে সে মনে মনে ভীত হল। তারা বলল, ‘ভয় পেয়োনা, তারা তাকে এক বিদ্বান পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিল’।
فَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً ۖ قَالُوا لَا تَخَفْ ۖ وَبَشَّرُوهُ بِغُلَامٍ عَلِيمٍ
অতঃপর তাঁর স্ত্রী চীৎকার করতে করতে সামনে এল এবং মুখ চাপড়িয়ে বললঃ আমি তো বৃদ্ধা, বন্ধ্যা।
فأقبلت امرأته في صرة فصكت وجهها وقالت عجوز عقيم
তখন তার স্ত্রী চিৎকার করতে করতে এগিয়ে আসল এবং নিজ মুখ চাপড়িয়ে বলল, ‘বৃদ্ধা-বন্ধ্যা’।
فَأَقْبَلَتِ امْرَأَتُهُ فِي صَرَّةٍ فَصَكَّتْ وَجْهَهَا وَقَالَتْ عَجُوزٌ عَقِيمٌ
তারা বললঃ তোমার পালনকর্তা এরূপই বলেছেন। নিশ্চয় তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।
قالوا كذلك قال ربك ۖ إنه هو الحكيم العليم
তারা বলল, ‘তোমার রব এরূপই বলেছেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ’।
قَالُوا كَذَٰلِكِ قَالَ رَبُّكِ ۖ إِنَّهُ هُوَ الْحَكِيمُ الْعَلِيمُ
ইব্রাহীম বললঃ হে প্রেরিত ফেরেশতাগণ, তোমাদের উদ্দেশ্য কি?
۞ قال فما خطبكم أيها المرسلون
ইবরাহীম বলল, ‘হে প্রেরিত ফেরেশতাগণ, তোমাদের উদ্দেশ্য কী?
۞ قَالَ فَمَا خَطْبُكُمْ أَيُّهَا الْمُرْسَلُونَ
তারা বললঃ আমরা এক অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছি,
قالوا إنا أرسلنا إلى قوم مجرمين
তারা বলল, ‘আমরা এক অপরাধী কওমের প্রতি প্রেরিত হয়েছি’।
قَالُوا إِنَّا أُرْسِلْنَا إِلَىٰ قَوْمٍ مُّجْرِمِينَ
যাতে তাদের উপর মাটির ঢিলা নিক্ষেপ করি।
لنرسل عليهم حجارة من طين
‘যাতে তাদের উপর মাটির শক্ত ঢেলা নিক্ষেপ করি’।
لِنُرْسِلَ عَلَيْهِمْ حِجَارَةً مِّن طِينٍ
যা সীমাতিক্রমকারীদের জন্যে আপনার পালনকর্তার কাছে চিহ্নিত আছে।
مسومة عند ربك للمسرفين
‘যা তোমার রবের পক্ষ থেকে চিহ্নিত সীমালংঘনকারীদের জন্য’।
مُّسَوَّمَةً عِندَ رَبِّكَ لِلْمُسْرِفِينَ
অতঃপর সেখানে যারা ছিল, আমি তাদেরকে উদ্ধার করলাম।
فأخرجنا من كان فيها من المؤمنين
অতঃপর সেখানে যেসব ছিল আমি তাদেরকে বের করে নিয়ে আসলাম।
فَأَخْرَجْنَا مَن كَانَ فِيهَا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
এবং সেখানে একটি গৃহ ব্যতীত কোন মুসলমান আমি পাইনি।
فما وجدنا فيها غير بيت من المسلمين
তবে আমি সেখানে একটি বাড়ী ছাড়া কোন মুসলমান পাইনি।
فَمَا وَجَدْنَا فِيهَا غَيْرَ بَيْتٍ مِّنَ الْمُسْلِمِينَ
যারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিকে ভয় করে, আমি তাদের জন্যে সেখানে একটি নিদর্শন রেখেছি।
وتركنا فيها آية للذين يخافون العذاب الأليم
আর আমি তাদের জন্য সেখানে একটি নিদর্শন রেখেছি যারা যন্ত্রণাদায়ক আযাবকে ভয় করে ।
وَتَرَكْنَا فِيهَا آيَةً لِّلَّذِينَ يَخَافُونَ الْعَذَابَ الْأَلِيمَ
এবং নিদর্শন রয়েছে মূসার বৃত্তান্তে; যখন আমি তাকে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ ফেরাউনের কাছে প্রেরণ করেছিলাম।
وفي موسى إذ أرسلناه إلى فرعون بسلطان مبين
আর মূসার কাহিনীতেও নিদর্শন রয়েছে, যখন আমি তাকে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ ফির‘আউনের কাছে পাঠিয়েছিলাম।
وَفِي مُوسَىٰ إِذْ أَرْسَلْنَاهُ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ بِسُلْطَانٍ مُّبِينٍ
অতঃপর সে শক্তিবলে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বললঃ সে হয় যাদুকর, না হয় পাগল।
فتولى بركنه وقال ساحر أو مجنون
কিন্তু সে তার দলবলসহ মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল, ‘এ ব্যক্তি যাদুকর অথবা উম্মাদ।’
فَتَوَلَّىٰ بِرُكْنِهِ وَقَالَ سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ
অতঃপর আমি তাকে ও তার সেনাবাহিনীকে পাকড়াও করলাম এবং তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম। সে ছিল অভিযুক্ত।
فأخذناه وجنوده فنبذناهم في اليم وهو مليم
ফলে আমি তাকে ও তার সৈন্য-সামন্তকে পাকড়াও করলাম। অতঃপর তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম। সে তো ছিল তিরস্কৃত।
فَأَخَذْنَاهُ وَجُنُودَهُ فَنَبَذْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ وَهُوَ مُلِيمٌ
এবং নিদর্শন রয়েছে তাদের কাহিনীতে; যখন আমি তাদের উপর প্রেরণ করেছিলাম অশুভ বায়ু।
وفي عاد إذ أرسلنا عليهم الريح العقيم
আর ‘আদ জাতির ঘটনায়ও (নিদর্শন রয়েছে), যখন আমি তাদের উপর প্রেরণ করেছিলাম অমঙ্গলজনক বায়ু।
وَفِي عَادٍ إِذْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الرِّيحَ الْعَقِيمَ
এই বায়ু যার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিলঃ তাকেই চুর্ণ - বিচুর্ণ করে দিয়েছিল।
ما تذر من شيء أتت عليه إلا جعلته كالرميم
ঐ বায়ু যার উপরে এসেছিল তাকে রেখে যায়নি, বরং সবকিছুকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছিল।
مَا تَذَرُ مِن شَيْءٍ أَتَتْ عَلَيْهِ إِلَّا جَعَلَتْهُ كَالرَّمِيمِ
আরও নিদর্শন রয়েছে সামূদের ঘটনায়; যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, কিছুকাল মজা লুটে নাও।
وفي ثمود إذ قيل لهم تمتعوا حتى حين
আর সামূদ জাতির ঘটনায়ও (নিদর্শন রয়েছে)। যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, ‘একটি নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত ভোগ করে নাও’।
وَفِي ثَمُودَ إِذْ قِيلَ لَهُمْ تَمَتَّعُوا حَتَّىٰ حِينٍ
অতঃপর তারা তাদের পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল এবং তাদের প্রতি বজ্রঘাত হল এমতাবস্থায় যে, তারা তা দেখেছিল।
فعتوا عن أمر ربهم فأخذتهم الصاعقة وهم ينظرون
অতঃপর তারা তাদের রবের আদেশ সম্পর্কে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করল। ফলে বজ্রাঘাত তাদেরকে পাকড়াও করল, আর তারা তা দেখছিল।
فَعَتَوْا عَنْ أَمْرِ رَبِّهِمْ فَأَخَذَتْهُمُ الصَّاعِقَةُ وَهُمْ يَنظُرُونَ
অতঃপর তারা দাঁড়াতে সক্ষম হল না এবং কোন প্রতিকারও করতে পারল না।
فما استطاعوا من قيام وما كانوا منتصرين
অতঃপর তারা উঠে দাঁড়াতে পারল না এবং প্রতিরোধও করতে পারল না।
فَمَا اسْتَطَاعُوا مِن قِيَامٍ وَمَا كَانُوا مُنتَصِرِينَ
আমি ইতিপূর্বে নূহের সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি। নিশ্চিতই তারা ছিল পাপাচারী সম্প্রদায়।
وقوم نوح من قبل ۖ إنهم كانوا قوما فاسقين
আর ইতঃপূর্বে নূহের কওমকেও (আমি ধ্বংস করে দিয়েছিলাম)। নিশ্চয় তারা ছিল ফাসিক কওম।
وَقَوْمَ نُوحٍ مِّن قَبْلُ ۖ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ
আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই ব্যাপক ক্ষমতাশালী।
والسماء بنيناها بأيد وإنا لموسعون
আর আমি হাতসমূহ দ্বারা আকাশ নির্মাণ করেছি এবং নিশ্চয় আমি শক্তিশালী।
وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ
আমি ভূমিকে বিছিয়েছি। আমি কত সুন্দরভাবেই না বিছাতে সক্ষম।
والأرض فرشناها فنعم الماهدون
আর আমি যমীনকে বিছিয়ে দিয়েছি। আমি কতইনা সুন্দর বিছানা প্রস্তুতকারী!
وَالْأَرْضَ فَرَشْنَاهَا فَنِعْمَ الْمَاهِدُونَ
আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর।
ومن كل شيء خلقنا زوجين لعلكم تذكرون
আর প্রত্যেক বস্তু থেকে আমি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি। আশা করা যায়, তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে।
وَمِن كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
অতএব, আল্লাহর দিকে ধাবিত হও। আমি তাঁর তরফ থেকে তোমাদের জন্যে সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
ففروا إلى الله ۖ إني لكم منه نذير مبين
অতএব তোমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত হও। আমি তো তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী।
فَفِرُّوا إِلَى اللَّهِ ۖ إِنِّي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ مُّبِينٌ
তোমরা আল্লাহর সাথে কোন উপাস্য সাব্যস্ত করো না। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
ولا تجعلوا مع الله إلها آخر ۖ إني لكم منه نذير مبين
আর তোমরা আল্লাহর সাথে কোন নির্ধারণ করো না; আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী।
وَلَا تَجْعَلُوا مَعَ اللَّهِ إِلَٰهًا آخَرَ ۖ إِنِّي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ مُّبِينٌ
এমনিভাবে, তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোন রসূল আগমন করেছে, তারা বলছেঃ যাদুকর, না হয় উম্মাদ।
كذلك ما أتى الذين من قبلهم من رسول إلا قالوا ساحر أو مجنون
এভাবে তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে যে রাসূলই এসেছে, তারা বলেছে, ‘এ তো একজন যাদুকর অথবা উন্মাদ।’
كَذَٰلِكَ مَا أَتَى الَّذِينَ مِن قَبْلِهِم مِّن رَّسُولٍ إِلَّا قَالُوا سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ
তারা কি একে অপরকে এই উপদেশই দিয়ে গেছে? বস্তুতঃ ওরা দুষ্ট সম্প্রদায়।
أتواصوا به ۚ بل هم قوم طاغون
তারা কি একে অন্যকে এ বিষয়ে ওসিয়াত করেছে? বরং তারা সীমালংঘনকারী কওম।
أَتَوَاصَوْا بِهِ ۚ بَلْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ
অতএব, আপনি ওদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। এতে আপনি অপরাধী হবেন না।
فتول عنهم فما أنت بملوم
অতএব, তুমি ওদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, এতে তুমি তিরস্কৃত হবে না।
فَتَوَلَّ عَنْهُمْ فَمَا أَنتَ بِمَلُومٍ
এবং বোঝাতে থাকুন; কেননা, বোঝানো মুমিনদের উপকারে আসবে।
وذكر فإن الذكرى تنفع المؤمنين
এবং উপদেশ দিতে থাক, কারণ উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।
وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَىٰ تَنفَعُ الْمُؤْمِنِينَ
আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।
وما خلقت الجن والإنس إلا ليعبدون
আর জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদাত করবে।
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
আমি তাদের কাছে জীবিকা চাই না এবং এটাও চাই না যে, তারা আমাকে আহার্য যোগাবে।
ما أريد منهم من رزق وما أريد أن يطعمون
আমি তাদের কাছে কোন রিয্ক চাই না; আর আমি চাই না যে, তারা আমাকে খাবার দিবে।
مَا أُرِيدُ مِنْهُم مِّن رِّزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَن يُطْعِمُونِ
তা’আলাই তো জীবিকাদাতা শক্তির আধার, পরাক্রান্ত।
إن الله هو الرزاق ذو القوة المتين
নিশ্চয় আল্লাহই রিয্কদাতা, তিনি শক্তিধর, পরাক্রমশালী।
إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ
অতএব, এই যালেমদের প্রাপ্য তাই, যা ওদের অতীত সহচরদের প্রাপ্য ছিল। কাজেই ওরা যেন আমার কাছে তা তাড়াতাড়ি না চায়।
فإن للذين ظلموا ذنوبا مثل ذنوب أصحابهم فلا يستعجلون
যারা যুলম করেছে তাদের জন্য রয়েছে তাদের সমমনাদের অনুরূপ আযাব; সুতরাং তারা যেন আমার কাছে (আযাবের) তাড়াহুড়া না করে।
فَإِنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا ذَنُوبًا مِّثْلَ ذَنُوبِ أَصْحَابِهِمْ فَلَا يَسْتَعْجِلُونِ
অতএব, কাফেরদের জন্যে দুর্ভোগ সেই দিনের, যেদিনের প্রতিশ্রুতি ওদেরকে দেয়া হয়েছে।
فويل للذين كفروا من يومهم الذي يوعدون
অতএব, যারা করে তাদের জন্য ধ্বংস সেদিনের যেদিনের ওয়াদা তাদেরকে দেয়া হয়েছে।
فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا مِن يَوْمِهِمُ الَّذِي يُوعَدُونَ