শপথ ফজরের,
بسم الله الرحمن الرحيم والفجر
কসম ভোরবেলার।
وَٱلْفَجْرِ
Chapter 89, 30 verses
শপথ ফজরের,
بسم الله الرحمن الرحيم والفجر
কসম ভোরবেলার।
وَٱلْفَجْرِ
শপথ দশ রাত্রির, শপথ তার,
وليال عشر
কসম দশ রাতের।
وَلَيَالٍ عَشْرٍ
যা জোড় ও যা বিজোড়
والشفع والوتر
কসম জোড় ও বিজোড়ের।
وَٱلشَّفْعِ وَٱلْوَتْرِ
এবং শপথ রাত্রির যখন তা গত হতে থাকে
والليل إذا يسر
কসম রাতের, যখন তা বিদায় নেয়।
وَٱلَّيْلِ إِذَا يَسْرِ
এর মধ্যে আছে শপথ জ্ঞানী ব্যক্তির জন্যে।
هل في ذلك قسم لذي حجر
এর মধ্যে কি বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য কসম আছে?
هَلْ فِى ذَٰلِكَ قَسَمٌ لِّذِى حِجْرٍ
আপনি কি লক্ষ্য করেননি, আপনার পালনকর্তা আদ বংশের ইরাম গোত্রের সাথে কি আচরণ করেছিলেন,
ألم تر كيف فعل ربك بعاد
তুমি কি দেখনি তোমার রব কিরূপ আচরণ করেছেন ‘আদ জাতির সাথে?
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ
যাদের দৈহিক গঠন স্তম্ভ ও খুঁটির ন্যায় দীর্ঘ ছিল এবং
إرم ذات العماد
ইরাম গোত্রের সাথে, যারা ছিল সুউচ্চ স্তম্ভের অধিকারী?
إِرَمَ ذَاتِ ٱلْعِمَادِ
যাদের সমান শক্তি ও বলবীর্যে সারা বিশ্বের শহরসমূহে কোন লোক সৃজিত হয়নি
التي لم يخلق مثلها في البلاد
যার সমতুল্য কোন দেশে সৃষ্টি করা হয়নি।
ٱلَّتِى لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِى ٱلْبِلَٰدِ
এবং সামুদ গোত্রের সাথে, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে গৃহ নির্মাণ করেছিল।
وثمود الذين جابوا الصخر بالواد
আর সামূদ সম্প্রদায়, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে বাড়ি ঘর নির্মাণ করেছিল?
وَثَمُودَ ٱلَّذِينَ جَابُوا۟ ٱلصَّخْرَ بِٱلْوَادِ
এবং বহু কীলকের অধিপতি ফেরাউনের সাথে
وفرعون ذي الأوتاد
আর ফির‘আউন, সেনাছাউনীর অধিপতি?
وَفِرْعَوْنَ ذِى ٱلْأَوْتَادِ
যারা দেশে সীমালঙ্ঘন করেছিল।
الذين طغوا في البلاد
যারা সকল দেশে সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
ٱلَّذِينَ طَغَوْا۟ فِى ٱلْبِلَٰدِ
অতঃপর সেখানে বিস্তর অশান্তি সৃষ্টি করেছিল।
فأكثروا فيها الفساد
অতঃপর তারা সেখানে বিপর্যয় বাড়িয়ে দিয়েছিল।
فَأَكْثَرُوا۟ فِيهَا ٱلْفَسَادَ
অতঃপর আপনার পালনকর্তা তাদেরকে শাস্তির কশাঘাত করলেন।
فصب عليهم ربك سوط عذاب
ফলে তোমার রব তাদের উপর আযাবের কশাঘাত মারলেন।
فَصَبَّ عَلَيْهِمْ رَبُّكَ سَوْطَ عَذَابٍ
নিশ্চয় আপনার পালকর্তা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।
إن ربك لبالمرصاد
নিশ্চয় তোমার রব ঘাঁটিতেই।* *مرصاد অর্থ ঘাঁটি, যেখানে কোন লোক তার শত্রুর অজান্তে তার অপেক্ষায় ওঁত পেতে থাকে এবং শত্রুকে বাগে পেয়েই আক্রমণ করে। এখানে আল্লাহর ক্ষেত্রে শব্দটি সতর্ক দৃষ্টি রাখা, অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
إِنَّ رَبَّكَ لَبِٱلْمِرْصَادِ
মানুষ এরূপ যে, যখন তার পালনকর্তা তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর সম্মান ও অনুগ্রহ দান করেন, তখন বলে, আমার পালনকর্তা আমাকে সম্মান দান করেছেন।
فأما الإنسان إذا ما ابتلاه ربه فأكرمه ونعمه فيقول ربي أكرمن
আর মানুষ তো এমন যে, যখন তার রব তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর তাকে সম্মান দান করেন এবং অনুগ্রহ প্রদান করেন, তখন সে বলে, ‘আমার রব আমাকে সম্মানিত করেছেন।
فَأَمَّا ٱلْإِنسَٰنُ إِذَا مَا ٱبْتَلَىٰهُ رَبُّهُۥ فَأَكْرَمَهُۥ وَنَعَّمَهُۥ فَيَقُولُ رَبِّىٓ أَكْرَمَنِ
এবং যখন তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর রিযিক সংকুচিত করে দেন, তখন বলেঃ আমার পালনকর্তা আমাকে হেয় করেছেন।
وأما إذا ما ابتلاه فقدر عليه رزقه فيقول ربي أهانن
আর যখন তিনি তাকে পরীক্ষা করেন এবং তার উপর তার রিয্ককে সঙ্কুচিত করে দেন, তখন সে বলে, ‘আমার রব আমাকে অপমানিত করেছেন’।
وَأَمَّآ إِذَا مَا ٱبْتَلَىٰهُ فَقَدَرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُۥ فَيَقُولُ رَبِّىٓ أَهَٰنَنِ
এটা অমূলক, বরং তোমরা এতীমকে সম্মান কর না।
كلا ۖ بل لا تكرمون اليتيم
কখনো নয়, বরং তোমরা ইয়াতীমদের দয়া-অনুগ্রহ প্রদর্শন কর না।
كَلَّا بَل لَّا تُكْرِمُونَ ٱلْيَتِيمَ
এবং মিসকীনকে অন্নদানে পরস্পরকে উৎসাহিত কর না।
ولا تحاضون على طعام المسكين
আর তোমরা মিসকীনদের খাদ্যদানে পরষ্পরকে উৎসাহিত কর না।
وَلَا تَحَٰٓضُّونَ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلْمِسْكِينِ
এবং তোমরা মৃতের ত্যাজ্য সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে কুক্ষিগত করে ফেল
وتأكلون التراث أكلا لما
আর তোমরা উত্তরাধিকারের সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে ভক্ষণ কর।
وَتَأْكُلُونَ ٱلتُّرَاثَ أَكْلًا لَّمًّا
এবং তোমরা ধন - সম্পদকে প্রাণভরে ভালবাস।
وتحبون المال حبا جما
আর তোমরা ধন-সম্পদকে অতিশয় ভালবাস।
وَتُحِبُّونَ ٱلْمَالَ حُبًّا جَمًّا
এটা অনুচিত। যখন পৃথিবী চুর্ণ - বিচুর্ণ হবে
كلا إذا دكت الأرض دكا دكا
কখনো নয়, যখন যমীনকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হবে পরিপূর্ণভাবে।
كَلَّآ إِذَا دُكَّتِ ٱلْأَرْضُ دَكًّا دَكًّا
এবং আপনার পালনকর্তা ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবেন,
وجاء ربك والملك صفا صفا
আর তোমার রব ও ফেরেশতাগণ উপস্থিত হবেন সারিবদ্ধভাবে।
وَجَآءَ رَبُّكَ وَٱلْمَلَكُ صَفًّا صَفًّا
এবং সেদিন জাহান্নামকে আনা হবে, সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু এই স্মরণ তার কি কাজে আসবে?
وجيء يومئذ بجهنم ۚ يومئذ يتذكر الإنسان وأنى له الذكرى
আর সেদিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে, সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু সেই স্মরণ তার কী উপকারে আসবে?
وَجِا۟ىٓءَ يَوْمَئِذٍۭ بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ يَتَذَكَّرُ ٱلْإِنسَٰنُ وَأَنَّىٰ لَهُ ٱلذِّكْرَىٰ
সে বলবেঃ হায়, এ জীবনের জন্যে আমি যদি কিছু অগ্রে প্রেরণ করতাম!
يقول يا ليتني قدمت لحياتي
সে বলবে, ‘হায়! যদি আমি কিছু আগে পাঠাতাম আমার এ জীবনের জন্য’!
يَقُولُ يَٰلَيْتَنِى قَدَّمْتُ لِحَيَاتِى
সেদিন তার শাস্তির মত শাস্তি কেউ দিবে না।
فيومئذ لا يعذب عذابه أحد
অতঃপর সেদিন তাঁর আযাবের মত আযাব কেউ দিতে পারবে না।
فَيَوْمَئِذٍ لَّا يُعَذِّبُ عَذَابَهُۥٓ أَحَدٌ
এবং তার বন্ধনের মত বন্ধন কেউ দিবে না।
ولا يوثق وثاقه أحد
আর কেউ তাঁর বাঁধার মত বাঁধতে পারবে না।
وَلَا يُوثِقُ وَثَاقَهُۥٓ أَحَدٌ
হে প্রশান্ত মন,
يا أيتها النفس المطمئنة
হে প্রশান্ত আত্মা!
يَٰٓأَيَّتُهَا ٱلنَّفْسُ ٱلْمُطْمَئِنَّةُ
তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে।
ارجعي إلى ربك راضية مرضية
তুমি ফিরে এসো তোমার রবের প্রতি সন্তুষ্টচিত্তে, সন্তোষভাজন হয়ে।
ٱرْجِعِىٓ إِلَىٰ رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً
অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও।
فادخلي في عبادي
অতঃপর আমার বান্দাদের মধ্যে শামিল হয়ে যাও।
فَٱدْخُلِى فِى عِبَٰدِى
এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।
وادخلي جنتي
আর প্রবেশ কর আমার জান্নাতে।
وَٱدْخُلِى جَنَّتِى