ছোয়াদ। শপথ উপদেশপূর্ণ কোরআনের,
بسم الله الرحمن الرحيم ص ۚ والقرآن ذي الذكر
সোয়াদ; কসম উপদেশপূর্ণ কুরআনের।
সোয়াদ, উপদেশে পরিপূর্ণ আল কুরআনের শপথ।
Chapter 38, 88 verses
ছোয়াদ। শপথ উপদেশপূর্ণ কোরআনের,
بسم الله الرحمن الرحيم ص ۚ والقرآن ذي الذكر
সোয়াদ; কসম উপদেশপূর্ণ কুরআনের।
সোয়াদ, উপদেশে পরিপূর্ণ আল কুরআনের শপথ।
বরং যারা , তারা অহংকার ও বিরোধিতায় লিপ্ত।
بل الذين كفروا في عزة وشقاق
বস্তুত কাফিররা আত্মম্ভরিতা ও বিরোধিতায় রয়েছে।
বরং যারা কুফুরি করেছে তারাই রয়েছে চরম হঠকারিতা আর বিরোধিতায় নিমজ্জিত।
তাদের আগে আমি কত জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি, অতঃপর তারা আর্তনাদ করতে শুরু করেছে কিন্তু তাদের নিষ্কৃতি লাভের সময় ছিল না।
كم أهلكنا من قبلهم من قرن فنادوا ولات حين مناص
তাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি; তখন তারা আর্তচিৎকার করেছিল, কিন্তু তখন পলায়নের কোন সময় ছিল না।
তাদের আগে আমরা ধ্বংস করেছি কতো যে প্রজন্মকে, তখন তারা আর্তচিৎকার করেছিল, কিন্তু উদ্ধার পাওয়ার কোনো উপায় আর তখন ছিলনা।
তারা বিস্ময়বোধ করে যে, তাদেরই কাছে তাদের মধ্যে থেকে একজন সতর্ককারী আগমন করেছেন। আর কাফেররা বলে এ - তো এক মিথ্যাচারী যাদুকর।
وعجبوا أن جاءهم منذر منهم ۖ وقال الكافرون هذا ساحر كذاب
আর তারা বিস্মিত হল যে, তাদের কাছে তাদের মধ্য থেকেই একজন সতর্ককারী এসেছে এবং কাফিররা বলে, ‘এ তো যাদুকর, মিথ্যাবাদী’।
তারা বিস্ময় প্রকাশ করছে যে, তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন সতর্ককারী এসেছে। কাফিররা বলছে: ‘‘এতো এক মিথ্যাবাদী ম্যাজেসিয়ান।
সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে এক উপাস্যের উপাসনা সাব্যস্ত করে দিয়েছে। নিশ্চয় এটা এক বিস্ময়কর ব্যাপার।
أجعل الآلهة إلها واحدا ۖ إن هذا لشيء عجاب
‘সে কি সকল উপাস্যকে এক বানিয়ে নিয়েছে? নিশ্চয় এ তো এক আশ্চর্য বিষয়’!
সে কি সব ইলাহকে এক ইলাহ্ বানিয়ে নিয়েছে? এ তো এক বিস্ময়কর জিনিস।’’
তাদের কতিপয় বিশিষ্ট ব্যক্তি একথা বলে প্রস্থান করে যে, তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের উপাস্যদের পূজায় দৃঢ় থাক। নিশ্চয়ই এ বক্তব্য কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত।
وانطلق الملأ منهم أن امشوا واصبروا على آلهتكم ۖ إن هذا لشيء يراد
আর তাদের প্রধানরা চলে গেল একথা বলে যে, ‘যাও এবং তোমাদের উপাস্যগুলোর উপর অবিচল থাক। নিশ্চয় এ বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রণোদিত’।
সে কি সব ইলাহকে এক ইলাহ্ বানিয়ে নিয়েছে? এ তো এক বিস্ময়কর জিনিস।’’
আমরা সাবেক ধর্মে এ ধরনের কথা শুনিনি। এটা মনগড়া ব্যাপার বৈ নয়।
ما سمعنا بهذا في الملة الآخرة إن هذا إلا اختلاق
আমরা তো সর্বশেষ ধর্মে এমন কথা শুনিনি*। এটা তো বানোয়াট কথা ছাড়া আর কিছু নয়। * তাদের জন্য সর্বশেষ ধর্ম ছিল খৃস্টধর্ম। কারো কারো মতে তা ছিল কুরাইশদের ধর্ম।
আমরা তো অন্যান্য ধর্মে এ ধরণের কথা শুনিনি। এগুলো মনগড়া কথা ছাড়া আর কিছু নয়।
আমাদের মধ্য থেকে শুধু কি তারই প্রতি উপদেশ বানী অবতীর্ণ হল? বস্তুতঃ ওরা আমার উপদেশ সম্পর্কে সন্দিহান; বরং ওরা এখনও আমার মার আস্বাদন করেনি।
أأنزل عليه الذكر من بيننا ۚ بل هم في شك من ذكري ۖ بل لما يذوقوا عذاب
‘আমাদের মধ্য থেকে তার উপরই কি কুরআন নাযিল করা হল’? বরং তারা আমার কুরআনের ব্যাপারে সন্দেহে রয়েছে। বরং তারা এখনও আমার আযাব আস্বাদন করেনি।
আমাদের মধ্য থেকে কি তার প্রতিই যিকির (কুরআন) নাযিল করা হলো?’’ আসল কথা হলো, আমার যিকির (কুরআন) সম্পর্কেই তাদের সন্দেহ রয়েছে। তারা তো এখনো আমার আযাবের স্বাদ আস্বাদন করেনি।
না কি তাদের কাছে আপনার পরাক্রান্ত দয়াবান পালনকর্তার রহমতের কোন ভান্ডার রয়েছে?
أم عندهم خزائن رحمة ربك العزيز الوهاب
তাদের কাছে কি তোমার রবের রহমতের ভান্ডার রয়েছে যিনি মহাপরাক্রমশালী, অসীম দাতা।
নাকি, তাদের কাছে রয়েছে তোমার প্রভুর রহমতের ভান্ডার, যিনি মহাশক্তিধর ও মহাদানশীল?
নাকি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর উপর তাদের সাম্রাজ্য রয়েছে? থাকলে তাদের আকাশে আরোহণ করা উচিত রশি ঝুলিয়ে।
أم لهم ملك السماوات والأرض وما بينهما ۖ فليرتقوا في الأسباب
অথবা আসমান ও যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে তার মালিকানা কি তাদের? তাহলে তারা আরোহণ করুক (আসমানে উঠার) কোন উপায় অবলম্বন করে।
নাকি মহাকাশ, পৃথিবী এবং এগুলোর মধ্যবর্তী সবকিছুর কর্তৃত্ব তাদের হাতে? তাহলে তারা সিঁড়ি লাগিয়ে উপরে উঠুক।
এক্ষেত্রে বহু বাহিনীর মধ্যে ওদেরও এক বাহিনী আছে, যা পরাজিত হবে।
جند ما هنالك مهزوم من الأحزاب
এ বাহিনী তো সেখানে* পরাজিত হবে (পূর্ববর্তী) দলসমূহের মত। * هناك দ্বারা মক্কার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কারো কারো মতে বদর দিবসের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
(অতীতে ধ্বংস হওয়া) বহু দলের মধ্যে এতো ছোট্ট একটি দল। দলের এই বাহিনীও পরাজিত হবে।
তাদের পূর্বেও মিথ্যারোপ করেছিল নূহের সম্প্রদায়, আদ, কীলক বিশিষ্ট ফেরাউন,
كذبت قبلهم قوم نوح وعاد وفرعون ذو الأوتاد
তাদের পূর্বেও অস্বীকার করেছিল নূহের কওম, আদ ও বহু অট্টালিকার অধিপতি ফির‘আউন,
এদের আগেও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল নূহের কওম, আদ জাতি এবং খুঁটি ও লাঠির অধিপতি ফেরাউন,
সামুদ, লূতের সম্প্রদায় ও আইকার লোকেরা। এরাই ছিল বহু বাহিনী।
وثمود وقوم لوط وأصحاب الأيكة ۚ أولئك الأحزاب
সামূদ, কওমে লূত ও আইকার অধিবাসীরা। এরাই ছিল (নবীদের বিরুদ্ধাচরণকারী) দলসমূহ ।
সামুদ জাতি, লুতের কওম এবং আইকার অধিবাসীরা। তারা প্রত্যেকেই ছিলো বিশাল বিশাল বাহিনী।
এদের প্রত্যেকেই পয়গম্বরগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছে। ফলে আমার আযাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
إن كل إلا كذب الرسل فحق عقاب
প্রত্যেকেই তো রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল। ফলে আমার আযাব অবধারিত হয়েছিল।
এরা প্রত্যেকেই রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে তাদের প্রতি সত্য প্রমাণিত হয়েছে শাস্তির ওয়াদা।
কেবল একটি মহানাদের অপেক্ষা করছে, যাতে দম ফেলার অবকাশ থাকবে না।
وما ينظر هؤلاء إلا صيحة واحدة ما لها من فواق
আর এরা তো কেবল একটি বিকট আওয়াজের অপেক্ষা করছে যাতে কোন বিরাম থাকবে না।
তারা তো অপেক্ষা করছে একটি প্রচন্ড শব্দের জন্যে, যাতে কোনো বিরতি থাকবে না।
তারা বলে, হে আমাদের পরওয়ারদেগার, আমাদের প্রাপ্য অংশ হিসাব দিবসের আগেই দিয়ে দাও।
وقالوا ربنا عجل لنا قطنا قبل يوم الحساب
আর তারা বলে, হে ‘আমাদের রব, হিসাব দিবসের আগেই আমাদের প্রাপ্য আমাদেরকে তাড়াতাড়ি দিয়ে দিন’।
তারা বলে: ‘আমাদের প্রভু, বিচার দিনের আগেই আমাদের প্রাপ্য অংশ আমাদের দিয়ে দিন।’
তারা যা বলে তাতে আপনি সবর করুন এবং আমার শক্তিশালী বান্দা দাউদকে স্মরণ করুন। সে ছিল আমার প্রতি প্রত্যাবর্তনশীল।
اصبر على ما يقولون واذكر عبدنا داوود ذا الأيد ۖ إنه أواب
তারা যা বলে সে ব্যাপারে তুমি ধৈর্যধারণ কর এবং আমার শক্তিশালী বান্দা দাঊদকে স্মরণ কর; সে ছিল অধিক অভিমুখী।
তারা যা বলে, তার জন্যে তুমি সবর অবলম্বন করো আর স্মরণ করো আমার হাতওয়ালা (ক্ষমতাপ্রাপ্ত) দাস দাউদকে। সে ছিলো আমার অভিমুখী।
আমি পর্বতমালাকে তার অনুগামী করে দিয়েছিলাম, তারা সকাল - সন্ধ্যায় তার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করত;
إنا سخرنا الجبال معه يسبحن بالعشي والإشراق
আমি পর্বতমালাকে অনুগত করেছিলাম, তার সাথে এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় আমার তাসবীহ পাঠ করত।
আমরা পাহাড় পর্বতকে নিয়োজিত রেখেছিলাম যেনো সকাল - সন্ধ্যায় তার সাথে আমার তসবিহ্ করে।
আর পক্ষীকুলকেও, যারা তার কাছে সমবেত হত। সবাই ছিল তাঁর প্রতি প্রত্যাবর্তনশীল।
والطير محشورة ۖ كل له أواب
আর সমবেত পাখীদেরকেও (অনুগত করেছিলাম); প্রত্যেকেই ছিল অধিক অভিমুখী।
আর পাখিরাও তার কাছে জড়ো হতো, প্রত্যেকেই ছিলো তার অনুগত।
আমি তাঁর সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাঁকে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও ফয়সালাকারী বাগ্নীতা।
وشددنا ملكه وآتيناه الحكمة وفصل الخطاب
আর আমি তার রাজত্বকে সুদৃঢ় করেছিলাম এবং তাকে প্রজ্ঞা ও ফয়সালাকারী বাগ্মিতা দিয়েছিলাম।
আমরা তার সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় করে দিয়েছিলাম আর তাকে দিয়েছিলাম হিকমা (প্রজ্ঞা) এবং সিদ্ধান্তকর বক্তব্য রাখার ক্ষমতা।
আপনার কাছে দাবীদারদের বৃত্তান্ত পৌছেছে, যখন তারা প্রাচীর ডিঙ্গীয়ে এবাদত খানায় প্রবেশ করেছিল।
۞ وهل أتاك نبأ الخصم إذ تسوروا المحراب
তোমার কাছে কি বিবদমান লোকদের সংবাদ এসেছে? যখন তারা প্রাচীর ডিঙিয়ে মিহরাবে আসল।
তোমার কাছে কি বিবাদকারীদের সংবাদ পৌঁছেছে? যখন তারা প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে মেহরাবে এসেছিল।
যখন তারা দাউদের কাছে অনুপ্রবেশ করল, তখন সে সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল। তারা বললঃ ভয় করবেন না; আমরা বিবদমান দুটি পক্ষ, একে অপরের প্রতি বাড়াবাড়ি করেছি। অতএব, আমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করুন, অবিচার করবেন না। আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন।
إذ دخلوا على داوود ففزع منهم ۖ قالوا لا تخف ۖ خصمان بغى بعضنا على بعض فاحكم بيننا بالحق ولا تشطط واهدنا إلى سواء الصراط
যখন তারা দাঊদের কাছে প্রবেশ করল, তখন সে তাদের ভয় পেয়ে গেল। তারা বলল ‘আপনি ভয় করবেন না, আমরা বিবদমান দু’পক্ষ। আমাদের একে অন্যের উপর সীমালঙ্ঘন করেছে। অতএব আপনি আমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করুন, অবিচার করবেন না। আর আমাদেরকে সরল পথের নির্দেশনা দিন’।
তারা দাউদের কাছে প্রবেশ করেছিল। তাদের দেখে দাউদ ভীত হয়ে পড়ে। তারা বললো: ‘‘আপনি ভীত হবেননা, আমরা দুটি বিবদমান পক্ষ। একে অপরের প্রতি বাড়াবাড়ি করেছি। আপনি আমাদের মাঝে ন্যায় বিচার করে দিন। অবিচার করবেন না এবং আমাদেরকে সঠিক পথের নির্দেশনা দিন:
সে আমার ভাই, সে নিরানব্বই দুম্বার মালিক আর আমি মালিক একটি মাদী দুম্বার। এরপরও সে বলেঃ এটিও আমাকে দিয়ে দাও। সে কথাবার্তায় আমার উপর বল প্রয়োগ করে।
إن هذا أخي له تسع وتسعون نعجة ولي نعجة واحدة فقال أكفلنيها وعزني في الخطاب
‘নিশ্চয় এ আমার ভাই। তার নিরানব্বইটি ভেড়ী আছে, আর আমার আছে মাত্র একটা ভেড়ী। তবুও সে বলে, ‘এ ভেড়ীটিও আমার তত্ত্বাবধানে দিয়ে দাও’, আর তর্কে সে আমার উপর প্রাধান্য বিস্তার করেছে’।
এ আমার ভাই। তার আছে নিরানব্বইটি দুম্বা আর আমার আছে মাত্র একটি দুম্বা। তবু সে বলে: ‘তোমারটি আমার যিম্মায় দিয়ে দাও’ এবং কথায় সে আমার প্রতি কঠোর হয়েছে।’’
দাউদ বললঃ সে তোমার দুম্বাটিকে নিজের দুম্বাগুলোর সাথে সংযুক্ত করার দাবী করে তোমার প্রতি অবিচার করেছে। শরীকদের অনেকেই একে অপরের প্রতি জুলুম করে থাকে। তবে তারা করে না, যারা আল্লাহর প্রতি ও সৎকর্ম সম্পাদনকারী। অবশ্য এমন লোকের সংখ্যা অল্প। দাউদের খেয়াল হল যে, আমি তাকে পরীক্ষা করছি। অতঃপর সে তার পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল, সেজদায় লুটিয়ে পড়ল এবং তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করল।
قال لقد ظلمك بسؤال نعجتك إلى نعاجه ۖ وإن كثيرا من الخلطاء ليبغي بعضهم على بعض إلا الذين آمنوا وعملوا الصالحات وقليل ما هم ۗ وظن داوود أنما فتناه فاستغفر ربه وخر راكعا وأناب ۩
দাঊদ বলল, ‘তোমার ভেড়ীকে তার ভেড়ীর পালের সাথে যুক্ত করার দাবী করে সে তোমার প্রতি যুলম করেছে। আর শরীকদের অনেকেই একে অন্যের উপর সীমলঙ্ঘন করে থাকে। তবে কেবল তারাই এরূপ করে না যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে’। আর এরা সংখ্যায় খুবই কম। আর দাঊদ জানতে পারল যে, আমি ত
দাউদ বললো: ‘তোমার দুম্বাটিকে তার দুম্বার সাথে একত্র করার দাবি করে সে তোমার প্রতি যুলুম (অন্যায়) করেছে। শরিকদের অনেকেই একে অপরের উপর যুলুম করে থাকে, তবে যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে তারা নয়, অবশ্য তারা সংখ্যায় স্বল্প।’ দাউদ বুঝতে পারলো, আমরা তাকে পরীক্ষা করেছি, তাই সে তার প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলো এবং নত হয়ে লুটিয়ে পড়লো এবং তাঁর অভিমুখী হলো। (সাজদা)
আমি তার সে অপরাধ ক্ষমা করলাম। নিশ্চয় আমার কাছে তার জন্যে রয়েছে উচ্চ মর্তবা ও সুন্দর আবাসস্থল।
فغفرنا له ذلك ۖ وإن له عندنا لزلفى وحسن مآب
তখন আমি তাকে তা ক্ষমা করে দিলাম। আর অবশ্যই আমার কাছে তার জন্য রয়েছে নৈকট্য ও উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।
তখন আমরা তাকে ক্ষমা করে দিলাম। আমাদের কাছে তার জন্যে রয়েছে নৈকট্যের মর্যাদা আর সুন্দর পরিণাম।
হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি, অতএব, তুমি মানুষের মাঝে ন্যায়সঙ্গতভাবে রাজত্ব কর এবং খেয়াল - খুশীর অনুসরণ করো না। তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি, এ কারণে যে, তারা হিসাবদিবসকে ভূলে যায়।
يا داوود إنا جعلناك خليفة في الأرض فاحكم بين الناس بالحق ولا تتبع الهوى فيضلك عن سبيل الله ۚ إن الذين يضلون عن سبيل الله لهم عذاب شديد بما نسوا يوم الحساب
(হে দাঊদ), নিশ্চয় আমি তোমাকে যমীনে খলীফা বানিয়েছি, অতএব তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার কর আর প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, কেননা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয় তাদের জন্য কঠিন আযাব রয়েছে। কারণ তারা হিসাব দিবসকে ভ
(আমরা তাকে বলেছিলাম:) ‘হে দাউদ! আমরা তোমাকে ভূ - খন্ডের খলিফা (শাসক) বানিয়েছি, সুতরাং তুমি জনগণের মাঝে সুবিচার করো, নিজস্ব চিন্তা - বাসনার অনুসরণ করোনা, করলে সেটা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যূত করে দেবে। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন আযাব, কারণ তারা হিসাবের দিনটিকে ভুলে যায়।’
আমি আসমান - যমীন ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী কোন কিছু অযথা সৃষ্টি করিনি। এটা কাফেরদের ধারণা। অতএব, কাফেরদের জন্যে রয়েছে দূর্ভোগ অর্থাৎ জাহান্নাম।
وما خلقنا السماء والأرض وما بينهما باطلا ۚ ذلك ظن الذين كفروا ۚ فويل للذين كفروا من النار
আর আসমান, যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে তা আমি অনর্থক সৃষ্টি করিনি। এটা কাফিরদের ধারণা, সুতরাং কাফিরদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের দুর্ভোগ।
আমরা আসমান, জমিন এবং এ দুয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে কোনো কিছুই নিরর্থক সৃষ্টি করিনি। অনর্থক সৃষ্টির ধারণা করে তো কাফিররা। সুতরাং কাফিরদের জন্যে রয়েছে আগুনের আযাব।
আমি কি ও সৎকর্মীদেরকে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী কাফেরদের সমতুল্য করে দেব? না খোদাভীরুদেরকে পাপাচারীদের সম্মান করে দেব।
أم نجعل الذين آمنوا وعملوا الصالحات كالمفسدين في الأرض أم نجعل المتقين كالفجار
যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে আমি কি তাদেরকে যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের সমতুল্য গণ্য করব? নাকি আমি মুত্তাকীদেরকে পাপাচারীদের সমতুল্য গণ্য করব?
যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে তাদেরকে কি আমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের সমতুল্য গণ্য করবো, নাকি মুত্তাকিদের গণ্য করবো ফুজ্জারদের (পাপিষ্ঠদের) সমতুল্য?
এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি বরকত হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসূহ লক্ষ্য করে এবং বুদ্ধিমানগণ যেন তা অনুধাবন করে।
كتاب أنزلناه إليك مبارك ليدبروا آياته وليتذكر أولو الألباب
আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি এক বরকতময় কিতাব, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে।
এই কল্যাণময় কিতাব (আল কুরআন) আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যেনো মানুষ এর আয়াতসমূহ অনুধাবন করে এবং বুদ্ধিমান লোকেরা গ্রহণ করে উপদেশ।
আমি দাউদকে সোলায়মান দান করেছি। সে একজন উত্তম বান্দা। সে ছিল প্রত্যাবর্তনশীল।
ووهبنا لداوود سليمان ۚ نعم العبد ۖ إنه أواب
আর আমি দাঊদকে দান করলাম সুলাইমান। সে কতই না উত্তম বান্দা! নিঃসন্দেহে সে ছিল অতিশয় অভিমুখী।
আমরা দাউদকে দান করেছিলাম (পুত্র) সুলাইমানকে। সে ছিলো আমাদের উত্তম দাস এবং অধিক অধিক আল্লাহমুখী।
যখন তার সামনে অপরাহ্নে উৎকৃষ্ট অশ্বরাজি পেশ করা হল,
إذ عرض عليه بالعشي الصافنات الجياد
যখন তার সামনে সন্ধ্যাবেলায় পেশ করা হল দ্রুতগামী উৎকৃষ্ট ঘোড়াসমূহ।
যখন অপরাহ্নে তার সামনে ধাবনোদ্যত উত্তম ঘোড়াগুলো হাজির করা হলো,
তখন সে বললঃ আমি তো আমার পরওয়ারদেগারের স্মরণে বিস্মৃত হয়ে সম্পদের মহব্বতে মুগ্ধ হয়ে পড়েছি - এমনকি সূর্য ডুবে গেছে।
فقال إني أحببت حب الخير عن ذكر ربي حتى توارت بالحجاب
তখন সে বলল, ‘আমি তো আমার রবের স্মরণ থেকে বিমুখ হয়ে ঐশ্বর্যের প্রেমে মগ্ন হয়ে পড়েছি, এদিকে সূর্য পর্দার আড়ালে চলে গেছে।* * অর্থাৎ সূর্য ডুবে গেছে।
সে বললো: ‘‘আমি তো আমার প্রভুর যিকির থেকে ঐশ্বর্যপ্রিয়তার দিকে অধিক নিমগ্ন হয়ে পড়েছি, এদিকে সূর্য অস্তমিত হয়ে গেলো।
এগুলোকে আমার কাছে ফিরিয়ে আন। অতঃপর সে তাদের পা ও গলদেশ ছেদন করতে শুরু করল।
ردوها علي ۖ فطفق مسحا بالسوق والأعناق
এগুলো আমার কাছে ফিরিয়ে আন। অতঃপর সে এগুলোকে পা ও গলদেশ দিয়ে যবেহ করা শুরু করল।* * সুলাইমান আ. জিহাদের জন্য পালিত এসব ঘোড়া কোন এক বিকালে পরিদর্শন করতে গিয়ে অনেক কাল ক্ষেপণ করেন এবং এদিকে সূর্য ডুবে যায়। ফলে ঘোড়ার কারণে আল্লাহর যিকর থেকে এত দীর্ঘ সময় বিরত
এগুলোকে আবার আমার সামনে নিয়ে এসো।’’ তারপর সে সেগুলোর পা এবং গলা কেটে যবেহ করতে থাকলো।
আমি সোলায়মানকে পরীক্ষা করলাম এবং রেখে দিলাম তার সিংহাসনের উপর একটি নিস্প্রাণ দেহ। অতঃপর সে রুজু হল।
ولقد فتنا سليمان وألقينا على كرسيه جسدا ثم أناب
আর আমি তো সুলাইমানকে পরীক্ষা করেছিলাম এবং তার সিংহাসনের উপর রেখেছিলাম একটি দেহ*, অতঃপর সে আমার অভিমুখী হল। * আবু হুরাইরা সূত্রে বুখারী শরীফের বর্ণনা মতে হযরত সুলাইমান একদা তাঁর সকল স্ত্রীর সাথে সহবাস করার দীপ্ত কামনা ব্যক্ত করে বলেন যে, এর ফলে তাদের গর্ভ
আমরা সুলাইমানকে পরীক্ষা করেছিলাম এবং তার কুরসির (চেয়ারের) উপর রেখেছিলাম একটি দেহ, ফলে সে আমার অভিমুখী হয়।
সোলায়মান বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে মাফ করুন এবং আমাকে এমন সাম্রাজ্য দান করুন যা আমার পরে আর কেউ পেতে পারবে না। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা।
قال رب اغفر لي وهب لي ملكا لا ينبغي لأحد من بعدي ۖ إنك أنت الوهاب
সুলাইমান বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন এক রাজত্ব দান করুন যা আমার পর আর কারও জন্যই প্রযোজ্য হবে না। নিশ্চয়ই আপনি বড়ই দানশীল।
সে বললো: ‘আমার প্রভু! আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমাকে দান করো এমন একটি সাম্রাজ্য, যেমনটির অধিকারী যেনো আমার পরে আর কেউ না হয়। নিশ্চয়ই তুমি মহান দাতা।’
তখন আমি বাতাসকে তার অনুগত করে দিলাম, যা তার হুকুমে অবাধে প্রবাহিত হত যেখানে সে পৌছাতে চাইত।
فسخرنا له الريح تجري بأمره رخاء حيث أصاب
ফলে আমি বায়ুকে তার অনুগত করে দিলাম যা তার আদেশে মৃদুমন্দভাবে প্রবাহিত হত, যেখানে সে পৌঁছতে চাইত।
ফলে আমরা বাতাসকে তার অধীন করে দিয়েছিলাম। বাতাস তার আদেশে কোমলভাবে প্রবাহিত হতো যেখানে সে ইচ্ছা করতো।
আর সকল শয়তানকে তার অধীন করে দিলাম অর্থৎ, যারা ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী।
والشياطين كل بناء وغواص
আর (অনুগত করে দিলাম) প্রত্যেক প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী শয়তান [জিন] সমূহকেও
এবং শয়তানদেরকেও (জিনদেরকেও) তার অধীন করে দিয়েছিলাম। তারা ছিলো ইমারত নির্মাণকারী আর ডুবুরি।
এবং অন্য আরও অনেককে অধীন করে দিলাম, যারা আবদ্ধ থাকত শৃঙ্খলে।
وآخرين مقرنين في الأصفاد
আর শেকলে আবদ্ধ আরও অনেককে।
আর শৃংখলে আবদ্ধ অনেককেও।
এগুলো আমার অনুগ্রহ, অতএব, এগুলো কাউকে দাও অথবা নিজে রেখে দাও - এর কোন হিসেব দিতে হবে না।
هذا عطاؤنا فامنن أو أمسك بغير حساب
এটি আমার অনুগ্রহ। অতএব তুমি এটি অন্যের জন্য খরচ কর অথবা নিজের জন্য রেখে দাও, এর কোন হিসাব দিতে হবে না।
(আমরা তাকে বলেছি: তোমার প্রতি) এগুলো আমাদের দান। এগুলো থেকে তুমি অন্যদের দিতে পারো কিংবা নিজে রাখতে পারো, এর জন্যে তোমাকে হিসাব দিতে হবেনা।
নিশ্চয় তার জন্যে আমার কাছে রয়েছে মর্যাদা ও শুভ পরিণতি।
وإن له عندنا لزلفى وحسن مآب
আর আমার নিকট রয়েছে তার জন্য নৈকট্য ও শুভ পরিণাম।
আমাদের এখানে তার জন্যে রয়েছে নৈকট্যের মর্যাদা এবং উত্তম পরিণাম।
স্মরণ করুণ, আমার বান্দা আইয়্যুবের কথা, যখন সে তার পালনকর্তাকে আহবান করে বললঃ শয়তান আমাকে যন্ত্রণা ও কষ্ট পৌছিয়েছে।
واذكر عبدنا أيوب إذ نادى ربه أني مسني الشيطان بنصب وعذاب
আর স্মরণ কর আমার বান্দা আইউবকে, যখন সে তার রবকে ডেকে বলেছিল, ‘শয়তান তো আমাকে কষ্ট ও আযাবের ছোঁয়া দিয়েছে’।
স্মরণ করো আমাদের দাস আইউবকে। সে তার প্রভুকে ডেকে বলেছিল: ‘(প্রভু!) শয়তান আমাকে যন্ত্রণা আর কষ্টে ফেলেছে।’
তুমি তোমার পা দিয়ে ভূমিতে আঘাত কর। ঝরণা নির্গত হল গোসল করার জন্যে শীতল ও পান করার জন্যে।
اركض برجلك ۖ هذا مغتسل بارد وشراب
[আমি বললাম], ‘তুমি তোমার পা দিয়ে (ভূমিতে) আঘাত কর, এ হচ্ছে গোসলের সুশীতল পানি আর পানীয়’।
(আমরা তাকে বলেছিলাম:) ‘তুমি তোমার পা দিয়ে জমিনে আঘাত করো। এ হলো তোমার গোসলের সুশীতল পানি এবং পানীয় পানি।’
আমি তাকে দিলাম তার পরিজনবর্গ ও তাদের মত আরও অনেক আমার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ এবং বুদ্ধিমানদের জন্যে উপদেশস্বরূপ।
ووهبنا له أهله ومثلهم معهم رحمة منا وذكرى لأولي الألباب
আর আমার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ ও বুদ্ধিমানদের জন্য উপদেশস্বরূপ আমি তাকে দান করলাম তার পরিবার-পরিজন ও তাদের সাথে তাদের অনুরূপ অনেককে।
আমরা তাকে দান করেছি তার পরিবারবর্গকে এবং অনুরূপ আরো, আমাদের পক্ষ থেকে রহমত (অনুগ্রহ) হিসাবে এবং বুদ্ধিমান লোকদের জন্যে উপদেশ হিসেবে।
তুমি তোমার হাতে এক মুঠো তৃণশলা নাও, তদ্বারা আঘাত কর এবং শপথ ভঙ্গ করো না। আমি তাকে পেলাম সবরকারী। চমৎকার বান্দা সে। নিশ্চয় সে ছিল প্রত্যাবর্তনশীল।
وخذ بيدك ضغثا فاضرب به ولا تحنث ۗ إنا وجدناه صابرا ۚ نعم العبد ۖ إنه أواب
আর তুমি তোমার হাতে এক মুঠো তৃণলতা নাও এবং তা দিয়ে আঘাত কর। আর কসম ভংগ করো না। নিশ্চয় আমি তাকে ধৈর্যশীল পেয়েছি। সে কতই না উত্তম বান্দা! নিশ্চয়ই সে ছিল আমার অভিমুখী।
আমরা তাকে আরো আদেশ করলাম, এক মুষ্টি তৃণ নাও, তা দিয়ে আঘাত করো এবং শপথ ভঙ্গ করোনা। আমরা তাকে পেয়েছি ধৈর্যশীল। কতো যে উত্তম দাস ছিলো সে! আর সে ছিলো আমার অভিমুখী।
স্মরণ করুন, হাত ও চোখের অধিকারী আমার বান্দা ইব্রাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুবের কথা।
واذكر عبادنا إبراهيم وإسحاق ويعقوب أولي الأيدي والأبصار
আর স্মরণ কর আমার বান্দা ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়া‘কূবকে। তারা ছিল শক্তিমান ও সূক্ষ্মদর্শী।
স্মরণ করো আমাদের দাস ইবরাহিম, ইসহাক এবং ইয়াকুবকে। তারা ছিলো হাত এবং চোখওয়ালা (শক্তিশালী এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন)।
আমি তাদের এক বিশেষ গুণ তথা পরকালের স্মরণ দ্বারা স্বাতন্ত্র্য দান করেছিলাম।
إنا أخلصناهم بخالصة ذكرى الدار
নিশ্চয় আমি তাদেরকে বিশেষ করে পরকালের স্মরণের জন্য নির্বাচিত করেছিলাম।
আমরা তাদের মনোনীত করেছিলাম বিশেষ গুণের জন্যে, আর তা ছিলো পরকালের স্মরণ।
আর তারা আমার কাছে মনোনীত ও সৎলোকদের অন্তর্ভুক্ত।
وإنهم عندنا لمن المصطفين الأخيار
আর নিশ্চয় তারা ছিল আমার মনোনীত, সর্বোত্তম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
তারা ছিলো আমাদের মনোনীত উত্তম দাস।
স্মরণ করুণ, ইসমাঈল, আল ইয়াসা ও যুলকিফলের কথা। তারা প্রত্যেকেই গুনীজন।
واذكر إسماعيل واليسع وذا الكفل ۖ وكل من الأخيار
আরো স্মরণ কর ইসমাঈল, আল-ইয়াসা‘আ ও যুল-কিফলের কথা। এরা প্রত্যেকেই ছিল সর্বোত্তমদের অন্তর্ভুক্ত।
স্মরণ করো ইসমাঈল, আলইয়াসা এবং যুলকিফলের কথা। তারা সবাই ছিলো (আমাদের) উত্তম (দাস)।
এ এক মহৎ আলোচনা। খোদাভীরুদের জন্যে রয়েছে উত্তম ঠিকানা -
هذا ذكر ۚ وإن للمتقين لحسن مآب
এটি এক স্মরণ, আর মুত্তাকীদের জন্য অবশ্যই রয়েছে উত্তম নিবাস-
এগুলো সবই উপদেশ। আর মুত্তাকিদের জন্যে রয়েছে উত্তম আবাস,
তথা স্থায়ী বসবাসের জান্নাত; তাদের জন্যে তার দ্বার উম্মুক্ত রয়েছে।
جنات عدن مفتحة لهم الأبواب
চিরস্থায়ী জান্নাত, যার দরজাসমূহ থাকবে তাদের জন্য উন্মুক্ত।
(তা হলো) চিরস্থায়ী জান্নাত, যার দ্বার রয়েছে তাদের জন্যে উন্মুক্ত।
সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে। তারা সেখানে চাইবে অনেক ফল - মূল ও পানীয়।
متكئين فيها يدعون فيها بفاكهة كثيرة وشراب
সেখানে তারা হেলান দিয়ে আসীন থাকবে, সেখানে তারা বহু ফলমূল ও পানীয় চাইবে।
সেখানে তারা আসন গ্রহণ করবে হেলান দিয়ে। সেখানে তারা চাইবে নানা রকম ফলফলারি আর পানীয়।
তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না সমবয়স্কা রমণীগণ।
۞ وعندهم قاصرات الطرف أتراب
আর তাদের নিকটে থাকবে আনতনয়না সমবয়সীরা।
তাদের কাছে থাকবে আয়তনয়না সমবয়েসী নারীরা।
তোমাদেরকে এরই প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে বিচার দিবসের জন্যে।
هذا ما توعدون ليوم الحساب
হিসাব দিবস সম্পর্কে তোমাদেরকে এ ওয়াদাই দেয়া হয়েছিল।
তোমাদেরকে এসব কিছুর প্রতিশ্রুতি দেয়া হলো হিসাবের দিন দেয়ার জন্যে।
এটা আমার দেয়া রিযিক যা শেষ হবে না।
إن هذا لرزقنا ما له من نفاد
নিশ্চয় এটি আমার দেয়া রিয্ক, যা নিঃশেষ হবার নয়।
এগুলো হবে আমাদের পক্ষ থেকে রিযিক। এগুলো কখনো ফুরাবে না।
এটাতো শুনলে, এখন দুষ্টদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট ঠিকানা
هذا ۚ وإن للطاغين لشر مآب
এমনই, আর নিশ্চয় সীমালংঘনকারীদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্টতম নিবাস।
এই হবে (মুত্তাকিদের অবস্থা), আর সীমালংঘনকারীদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট পরিণাম।
তথা জাহান্নাম। তারা সেখানে প্রবেশ করবে। অতএব, কত নিকৃষ্ট সেই আবাস স্থল।
جهنم يصلونها فبئس المهاد
জাহান্নাম, তারা সেখানে অগ্নিদগ্ধ হবে। কতই না নিকৃষ্ট সে নিবাস!
তাহলো জাহান্নাম। তাতেই প্রবেশ করবে তারা, আর সেটা কতো যে নিকৃষ্ট বিশ্রামাগার।
এটা উত্তপ্ত পানি ও পঁূজ; অতএব তারা একে আস্বাদন করুক।
هذا فليذوقوه حميم وغساق
এমনই, সুতরাং তারা এটি আস্বাদন করুক, ফুটন্ত পানি ও পুঁজ।
এটাই হবে সীমা লঙ্ঘনকারীদের পরিণাম। সুতরাং তারা আস্বাদন করুক টগবগে ফুটন্ত গরম পানি আর পূঁজ,
এ ধরনের আরও কিছু শাস্তি আছে।
وآخر من شكله أزواج
আরও রয়েছে এ জাতীয় বহুরকম আযাব।
এবং এ রকম আরো অনেক ধরণের আযাব।
এই তো একদল তোমাদের সাথে প্রবেশ করছে। তাদের জন্যে অভিনন্দন নেই তারা তো জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
هذا فوج مقتحم معكم ۖ لا مرحبا بهم ۚ إنهم صالو النار
এই তো এক দল তোমাদের সাথেই প্রবেশ করছে, তাদের জন্য নেই কোন অভিনন্দন। নিশ্চয় তারা আগুনে জ্বলবে।
(নিজেদের অনুসারীদের জাহান্নামে প্রবেশ করতে দেখে তারা বলবে:) ‘এই তো এক বাহিনী তোমাদের সাথে প্রবেশ করছে। তাদের প্রতি নেই কোনো অভিনন্দন। তারা তো জাহান্নামেই দগ্ধ হবে।’
তারা বলবে, তোমাদের জন্যে ও তো অভিনন্দন নেই। তোমরাই আমাদেরকে এ বিপদের সম্মুখীন করেছ। অতএব, এটি কতই না ঘৃণ্য আবাসস্থল।
قالوا بل أنتم لا مرحبا بكم ۖ أنتم قدمتموه لنا ۖ فبئس القرار
অনুসারীরা বলবে, ‘বরং তোমরাও, তোমাদের জন্যও তো নেই কোন অভিনন্দন। তোমরাই আমাদের জন্য এ বিপদ এনেছ। অতএব কতই না নিকৃষ্ট এ আবাসস্থল’!
তারা (অনুসারীরা) বলবে: ‘বরং তোমাদের জন্যেও নেই কোনো অভিনন্দন। তোমরাই তো আগে আমাদের জন্যে এর ব্যবস্থা করেছো। এটা কতো যে নিকৃষ্ট আবাস।’
তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, যে আমাদেরকে এর সম্মুখীন করেছে, আপনি জাহান্নামে তার শাস্তি দ্বিগুণ করে দিন।
قالوا ربنا من قدم لنا هذا فزده عذابا ضعفا في النار
তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব, যে আমাদের জন্য এ বিপদ এনেছে, জাহান্নামে তুমি তার আযাবকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দাও।’
তারা বলবে: ‘আমাদের প্রভু! যে আমাদেরকে এর (জাহান্নামের) সম্মুখীন করেছে, তাকে জাহান্নামে দ্বিগুণ শাস্তি বাড়িয়ে দাও।’
তারা আরও বলবে, আমাদের কি হল যে, আমরা যাদেরকে মন্দ লোক বলে গণ্য করতাম, তাদেরকে এখানে দেখছি না।
وقالوا ما لنا لا نرى رجالا كنا نعدهم من الأشرار
তারা আরো বলবে, ‘আমাদের কী হল যে, আমরা যাদের মন্দ গণ্য করতাম সে সকল লোককে এখানে দেখছি না।’
তারা আরো বলবে: ‘‘কী হলো, (পৃথিবীতে) আমরা যাদের খারাপ লোক বলে গণ্য করতাম তাদেরকে যে (জাহান্নামে) দেখছি না!
আমরা কি অহেতুক তাদেরকে ঠাট্টার পাত্র করে নিয়েছিলাম, না আমাদের দৃষ্টি ভুল করছে?
أتخذناهم سخريا أم زاغت عنهم الأبصار
‘তবে কি আমরা তাদের ঠাট্টা-বিদ্রূপের পাত্র মনে করতাম, নাকি তাদের ব্যাপারে [আমাদের] দৃষ্টি বিভ্রম ঘটেছে’?
তাহলে কি আমরা তাদেরকে অন্যায়ভাবে বিদ্রুপ করেছি? নাকি তাদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টি বিভ্রম ঘটেছে?’’
এটা অর্থাৎ জাহান্নামীদের পারস্পরিক বাক - বিতন্ডা অবশ্যম্ভাবী।
إن ذلك لحق تخاصم أهل النار
নিশ্চয়ই এটি সুনিশ্চিত সত্য- জাহান্নামীদের এই পারস্পরিক বাকবিতন্ডা।
এতো নিশ্চিত ব্যাপার, জাহান্নামীদের মধ্যে এই বাকবিতন্ডা হবে।
বলুন, আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র এবং এক পরাক্রমশালী ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।
قل إنما أنا منذر ۖ وما من إله إلا الله الواحد القهار
বল, ‘আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র। ছাড়া আর কোন (সত্য) নেই। যিনি এক, প্রবল প্রতাপশালী।’
হে নবী! বলো: আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র। প্রবল প্রতাপশালী ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই।
তিনি আসমান - যমীন ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর পালনকর্তা, পরাক্রমশালী, মার্জনাকারী।
رب السماوات والأرض وما بينهما العزيز الغفار
আসমানসমূহ ও যমীন এবং এতদোভয়ের মধ্যস্থিত যা কিছু রয়েছে সব কিছুর রব তিনি। তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাক্ষমাশীল।
তিনিই মালিক মহাকাশ এবং পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর। তিনি মহাশক্তিধর, ক্ষমাশীল।
বলুন, এটি এক মহাসংবাদ,
قل هو نبأ عظيم
বল, ‘এটি এক মহাসংবাদ’।
বলো: ‘‘এ এক মহাসংবাদ,
যা থেকে তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছ।
أنتم عنه معرضون
‘তোমরা তা থেকে বিমুখ হয়ে আছ।’
যা থেকে তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছো।
ঊর্ধ্ব জগৎ সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞান ছিল না যখন ফেরেশতারা কথাবার্তা বলছিল।
ما كان لي من علم بالملإ الأعلى إذ يختصمون
‘ঊর্ধ্বলোক সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞানই ছিল না যখন তারা বাদানুবাদ* করছিল’। * আদম আ. এর সৃষ্টির প্রাক্কালে ফেরেশতাদের মধ্যকার পারস্পরিক আলোচনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ঊর্ধ্বলোকে তাদের বিতর্ক সম্পর্কে আমার কোনো এলেম ছিলনা।
আমার কাছে এ ওহীই আসে যে, আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।
إن يوحى إلي إلا أنما أنا نذير مبين
আমার কাছে তো এ ওহীই আসে যে, আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র’।
আমার কাছে তো এই অহি এসেছে যে, আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।’’
যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেশতাগণকে বললেন, আমি মাটির মানুষ সৃষ্টি করব।
إذ قال ربك للملائكة إني خالق بشرا من طين
স্মরণ কর, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আমি মাটি হতে মানুষ সৃষ্টি করব।’
স্মরণ করো, তোমার প্রভু ফেরেশতাদের বলেছিলেন, আমি কাদামাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি,
যখন আমি তাকে সুষম করব এবং তাতে আমার রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার সম্মুখে সেজদায় নত হয়ে যেয়ো।
فإذا سويته ونفخت فيه من روحي فقعوا له ساجدين
‘যখন আমি তাকে সুষম করব এবং তার মধ্যে আমার রূহ সঞ্চার করব, তখন তোমরা তার উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে যাও’।
আমি যখন তাকে নিখুঁত ও সুষম করবো এবং তার মধ্যে সঞ্চার করে দেবো রূহ, তখন তোমরা তার প্রতি সাজদায় অবনত হয়ো।
অতঃপর সমস্ত ফেরেশতাই একযোগে সেজদায় নত হল,
فسجد الملائكة كلهم أجمعون
ফলে ফেরেশতাগণ সকলেই সিজদাবনত হল।
অতএব, ফেরেশতারা সবাই সাজদায় অবনত হয়
কিন্তু ইবলীস; সে অহংকার করল এবং অস্বীকারকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
إلا إبليس استكبر وكان من الكافرين
ইবলীস ছাড়া, সে অহঙ্কার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ল।
শুধুমাত্র ইবলিস ছাড়া। সে অহংকার করে এবং কাফিরদের অন্তরভুক্ত হয়ে পড়ে।
বললেন, হে ইবলীস, আমি স্বহস্তে যাকে সৃষ্টি করেছি, তার সম্মুখে সেজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি অহংকার করলে, না তুমি তার চেয়ে উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন?
قال يا إبليس ما منعك أن تسجد لما خلقت بيدي ۖ أستكبرت أم كنت من العالين
বললেন, ‘হে ইবলীস, আমার দু’হাতে আমি যাকে সৃষ্টি করেছি তার প্রতি সিজদাবনত হতে কিসে তোমাকে বাধা দিল? তুমি কি অহঙ্কার করলে, না তুমি অধিকতর উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন?’
বললেন: ‘হে ইবলিস! আমি যাকে নিজ হাতে তৈরি করেছি, তাকে সাজদা করা থেকে কিসে তোকে বাধা দিয়েছে? তুই কি অহংকার করলি, না কি তুই উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন?’
সে বললঃ আমি তার চেয়ে উত্তম আপনি আমাকে আগুনের দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা।
قال أنا خير منه ۖ خلقتني من نار وخلقته من طين
সে বলল, ‘আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নি থেকে আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।’
সে বললো: ‘আমি তার চাইতে শ্রেষ্ঠ, কারণ, আপনি আমাকে তৈরি করেছেন আগুন দিয়ে এবং তাকে তৈরি করেছেন কাদামাটি দিয়ে।’
বললেনঃ বের হয়ে যা, এখান থেকে। কারণ, তুই অভিশপ্ত।
قال فاخرج منها فإنك رجيم
তিনি বললেন, ‘তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও। কেননা নিশ্চয় তুমি বিতাড়িত।
বললেন: ‘‘বেরিয়ে যা তুই এখান থেকে, এখন থেকে তুই বিতাড়িত।
তোর প্রতি আমার এ অভিশাপ বিচার দিবস পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
وإن عليك لعنتي إلى يوم الدين
আর নিশ্চয় বিচার দিবস পর্যন্ত তোমার প্রতি আমার লা‘নত বলবৎ থাকবে।
আর তোর প্রতি আমার লা’নত (বর্ষিত হতে থাকবে) প্রতিদান দিবস পর্যন্ত।’’
সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন।
قال رب فأنظرني إلى يوم يبعثون
সে বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে সে দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন যেদিন তারা পুনরুত্থিত হবে।’
সে বললো: ‘প্রভু! আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন।’
আল্লঅহ বললেনঃ তোকে অবকাশ দেয়া হল।
قال فإنك من المنظرين
তিনি বললেন, আচ্ছা তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হলে-
তিনি বললেন: ‘‘তোকে অবকাশ দেয়া হলো।
সে সময়ের দিন পর্যন্ত যা ।
إلى يوم الوقت المعلوم
‘নির্ধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত।’
নির্দিষ্ট সময় উপস্থিত হবার দিন পর্যন্ত।’’
সে বলল, আপনার ইযযতের কসম, আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে বিপথগামী করে দেব।
قال فبعزتك لأغوينهم أجمعين
সে বলল, ‘আপনার ইজ্জতের কসম! আমি তাদের সকলকেই বিপথগামী করে ছাড়ব।’
সে বললো: ‘‘আপনার ইযযতের শপথ, আমি তাদের সবাইকেই বিপথগামী করে দেবো,
তবে তাদের মধ্যে যারা আপনার খাঁটি বান্দা, তাদেরকে ছাড়া।
إلا عبادك منهم المخلصين
তাদের মধ্য থেকে আপনার একনিষ্ঠ বান্দারা ছাড়া।
তবে তাদের মধ্যে আপনার বাছাই করা দাসেরা ছাড়া।’’
বললেনঃ তাই ঠিক, আর আমি সত্য বলছি -
قال فالحق والحق أقول
বললেন, ‘এটি সত্য আর সত্য-ই আমি বলি’
তিনি বললেন: ‘‘এটাই সত্য আর আমি সত্য বলি:
তোর দ্বারা আর তাদের মধ্যে যারা তোর অনুসরণ করবে তাদের দ্বারা আমি জাহান্নাম পূর্ণ করব।
لأملأن جهنم منك وممن تبعك منهم أجمعين
‘তোমাকে দিয়ে এবং তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করত তাদের দিয়ে নিশ্চয় আমি জাহান্নাম পূর্ণ করব।’
আমি তোকে আর তোর অনুসারীদের দিয়ে পরিপূর্ণ করবো জাহান্নাম।’’
বলুন, আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না আর আমি লৌকিকতাকারীও নই।
قل ما أسألكم عليه من أجر وما أنا من المتكلفين
বল, ‘এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না আর আমি ভানকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।
হে নবী! বলো: ‘আমি তো এ কাজের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আর যারা মিথ্যা দাবি করে আমি সে রকম লোকও নই।’
এটা তো বিশ্ববাসীর জন্যে এক উপদেশ মাত্র।
إن هو إلا ذكر للعالمين
সৃষ্টিকুলের জন্য এ তো উপদেশ ছাড়া আর কিছু নয়।
এ (কুরআন) তো জগতবাসীর জন্যে একটি উপদেশ ছাড়া কিছু নয়।
তোমরা কিছু কাল পরে এর সংবাদ অবশ্যই জানতে পারবে।
ولتعلمن نبأه بعد حين
আর অল্পকাল পরে তুমি অবশ্যই এর সংবাদ জানবে।
তোমরা অবশ্যি এর সংবাদ জানতে পারবে অল্পকাল পরেই।