যখন কিয়ামতের ঘটনা ঘটবে,
بسم الله الرحمن الرحيم إذا وقعت الواقعة
যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে।
যখন কিয়ামত ঘটিবে,
Chapter 56, 96 verses
যখন কিয়ামতের ঘটনা ঘটবে,
بسم الله الرحمن الرحيم إذا وقعت الواقعة
যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে।
যখন কিয়ামত ঘটিবে,
যার বাস্তবতায় কোন সংশয় নেই।
ليس لوقعتها كاذبة
তার সংঘটনের কোনই অস্বীকারকারী থাকবে না।
ইহার সংঘটন অস্বীকার করিবার কেহ থাকিবে না।
এটা নীচু করে দেবে, সমুন্নত করে দেবে।
خافضة رافعة
তা কাউকে ভূলুণ্ঠিত করবে এবং কাউকে করবে সমুন্নত।
ইহা কাহাকেও করিবে নীচ, কাহাকেও করিবে সম্মুন্নত ;
যখন প্রবলভাবে প্রকম্পিত হবে পৃথিবী।
إذا رجت الأرض رجا
যখন যমীন প্রকম্পিত হবে প্রবল প্রকম্পনে।
যখন প্রবল কম্পনে প্রকম্পিত হইবে পৃথিবী,
এবং পর্বতমালা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে।
وبست الجبال بسا
আর পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়বে।
এবং পর্বতমালা চূর্ণ - বিচূর্ণ হইয়া পড়িবে,
অতঃপর তা হয়ে যাবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণা।
فكانت هباء منبثا
অতঃপর তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে।
ফলে উহা পর্যবসিত হইবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণায়;
এবং তোমরা তিনভাবে বিভক্ত হয়ে পড়বে।
وكنتم أزواجا ثلاثة
আর তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন দলে।
এবং তোমরা বিভক্ত হইয়া পড়িবে তিন শ্রেণীতে -
যারা ডান দিকে, কত ভাগ্যবান তারা।
فأصحاب الميمنة ما أصحاب الميمنة
সুতরাং ডান পার্শ্বের দল, ডান পার্শ্বের দলটি কত সৌভাগ্যবান!
ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল!
এবং যারা বামদিকে, কত হতভাগা তারা।
وأصحاب المشأمة ما أصحاب المشأمة
আর বাম পার্শ্বের দল, বাম পার্শ্বের দলটি কত হতভাগ্য!
এবং বাম দিকের দল; কত হতভাগ্য বাম দিকের দল!
অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তীই।
والسابقون السابقون
আর অগ্রগামীরাই অগ্রগামী।
আর অগ্রবর্তীগণই তো অগ্রবর্তী,
তারাই নৈকট্যশীল,
أولئك المقربون
তারাই সান্নিধ্যপ্রাপ্ত।
উহারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত -
অবদানের উদ্যানসমূহে,
في جنات النعيم
তারা থাকবে নিআমতপূর্ণ জান্নাতসমূহে ।
নিয়ামতপূর্ণ উদ্যানে;
তারা একদল পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে।
ثلة من الأولين
বহুসংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,
বহুসংখ্যক হইবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হইতে;
এবং অল্পসংখ্যক পরবর্তীদের মধ্যে থেকে।
وقليل من الآخرين
আর অল্পসংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
এবং অল্পসংখ্যক হইবে পরবর্তীদের মধ্য হইতে।
স্বর্ণ খচিত সিংহাসন।
على سرر موضونة
স্বর্ণ ও দামী পাথরখচিত আসনে!
স্বর্ণখচিত আসনে
তারা তাতে হেলান দিয়ে বসবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে।
متكئين عليها متقابلين
তারা সেখানে হেলান দিয়ে আসীন থাকবে মুখোমুখি অবস্থায়।
উহারা হেলান দিয়া বসিবে, পরস্পর মুখোমুখি হইয়া।
তাদের কাছে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরেরা।
يطوف عليهم ولدان مخلدون
তাদের আশ-পাশে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোররা,
তাহাদের সেবায় ঘোরাফেরা করিবে চির - কিশোরেরা
পানপাত্র কুঁজা ও খাঁটি সূরাপূর্ণ পেয়ালা হাতে নিয়ে,
بأكواب وأباريق وكأس من معين
পানপাত্র, জগ ও প্রবাহিত ঝর্ণার শরাবপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে,
পানপাত্র, কুঁজা ও প্রস্রবণ - নিঃসৃত সুরাপূর্ণ পেয়ালা লইয়া।
যা পান করলে তাদের শিরঃপীড়া হবে না এবং বিকারগ্রস্ত ও হবে না।
لا يصدعون عنها ولا ينزفون
তা পানে না তাদের মাথা ব্যথা করবে, আর না তারা মাতাল হবে।
সেই সুরা পানে তাহাদের শিরঃপীড়া হইবে না, তাহারা জ্ঞানহারাও হইবে না -
আর তাদের পছন্দমত ফল - মুল নিয়ে,
وفاكهة مما يتخيرون
আর (ঘোরাফেরা করবে) তাদের পছন্দমত ফল নিয়ে।
এবং তাহাদের পসন্দমত ফলমূল,
এবং রুচিমত পাখীর মাংস নিয়ে।
ولحم طير مما يشتهون
আর পাখির গোশ্ত নিয়ে, যা তারা কামনা করবে।
আর তাহাদের ঈপ্সিত পাখির গোশ্ত লইয়া,
তথায় থাকবে আনতনয়না হুরগণ,
وحور عين
আর থাকবে ডাগরচোখা হূর,
আর তাহাদের জন্য থাকিবে আয়তলোচনা হূর,
আবরণে রক্ষিত মোতির ন্যায়,
كأمثال اللؤلؤ المكنون
যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা,
সুরক্ষিত মুক্তাসদৃশ,
তারা যা কিছু করত, তার পুরস্কারস্বরূপ।
جزاء بما كانوا يعملون
তারা যে আমল করত তার প্রতিদানস্বরূপ।
তাহাদের কর্মের পুরস্কারস্বরূপ।
তারা তথায় অবান্তর ও কোন খারাপ কথা শুনবে না।
لا يسمعون فيها لغوا ولا تأثيما
তারা সেখানে শুনতে পাবে না কোন বেহুদা কথা, এবং না পাপের কথা;
সেখানে তাহারা শুনিবে না কোন অসার অথবা পাপবাক্য,
কিন্তু শুনবে সালাম আর সালাম।
إلا قيلا سلاما سلاما
শুধু এই বাণী ছাড়া, ‘সালাম, সালাম’
‘সালাম’ আর ‘সালাম’ বাণী ব্যতীত।
যারা ডান দিকে থাকবে, তারা কত ভাগ্যবান।
وأصحاب اليمين ما أصحاب اليمين
আর ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল!
আর ডানদিকের দল, কত ভাগ্যবান ডানদিকের দল!
তারা থাকবে কাঁটাবিহীন বদরিকা বৃক্ষে।
في سدر مخضود
তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুলগাছের নিচে,
তাহারা থাকিবে এমন উদ্যানে, সেখানে আছে কণ্টকহীন কুলবৃক্ষ,
এবং কাঁদি কাঁদি কলায়,
وطلح منضود
আর কাঁদিপূর্ণ কলাগাছের নিচে,
কাঁদি ভরা কদলী বৃক্ষ,
এবং দীর্ঘ ছায়ায়।
وظل ممدود
আর বিস্তৃত ছায়ায়,
সম্প্রসারিত ছায়া,
এবং প্রবাহিত পানিতে,
وماء مسكوب
আর সদা প্রবাহিত পানির পাশে,
সদা প্রবহমান পানি,
ও প্রচুর ফল - মূলে,
وفاكهة كثيرة
আর প্রচুর ফলমূলে,
ও প্রচুর ফলমূল,
যা শেষ হবার নয় এবং নিষিদ্ধ ও নয়,
لا مقطوعة ولا ممنوعة
যা শেষ হবে না এবং নিষিদ্ধও হবে না।
যাহা শেষ হইবে না ও যাহা নিষিদ্ধও হইবে না।
আর থাকবে সমুন্নত শয্যায়।
وفرش مرفوعة
(তারা থাকবে) সুউচ্চ শয্যাসমূহে;
আর সমুচ্চ শয্যাসমূহ;
আমি জান্নাতী রমণীগণকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি।
إنا أنشأناهن إنشاء
নিশ্চয় আমি হূরদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করব।
উহাদেরকে আমি সৃষ্টি করিয়াছি বিশেষরূপে -
অতঃপর তাদেরকে করেছি চিরকুমারী।
فجعلناهن أبكارا
অতঃপর তাদেরকে বানাব কুমারী,
উহাদেরকে করিয়াছি কুমারী,
কামিনী, সমবয়স্কা।
عربا أترابا
সোহাগিনী ও সমবয়সী।
সোহাগিনী ও সমবয়স্কা,
ডান দিকের লোকদের জন্যে।
لأصحاب اليمين
ডানদিকের লোকদের জন্য।
ডানদিকের লোকদের জন্য।
তাদের একদল হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে।
ثلة من الأولين
তাদের অনেকে হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে।
তাহাদের অনেকে হইবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হইতে,
এবং একদল পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
وثلة من الآخرين
আর অনেকে হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
এবং অনেকে হইবে পরবর্তীদের মধ্য হইতে।
বামপার্শ্বস্থ লোক, কত না হতভাগা তারা।
وأصحاب الشمال ما أصحاب الشمال
আর বাম দিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল!
আর বামদিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল!
তারা থাকবে প্রখর বাষ্পে এবং উত্তপ্ত পানিতে,
في سموم وحميم
তারা থাকবে তীব্র গরম হাওয়া এবং প্রচন্ড উত্তপ্ত পানিতে,
উহারা থাকিবে অত্যুষ্ণ বায়ু ও উত্তপ্ত পানিতে,
এবং ধুম্রকুঞ্জের ছায়ায়।
وظل من يحموم
আর প্রচন্ড কালো ধোঁয়ার ছায়ায়,
কৃষ্ণবর্ণ ধূম্রের ছায়ায়,
যা শীতল নয় এবং আরামদায়কও নয়।
لا بارد ولا كريم
যা শীতলও নয়, সুখকরও নয়।
যাহা শীতল নয়, আরামদায়কও নয়।
তারা ইতিপূর্বে স্বাচ্ছন্দ্যশীল ছিল।
إنهم كانوا قبل ذلك مترفين
নিশ্চয় তারা ইতঃপূর্বে বিলাসিতায় মগ্ন ছিল,
ইতিপূর্বে উহারা তো মগ্ন ছিল ভোগ - বিলাসে
তারা সদাসর্বদা ঘোরতর পাপকর্মে ডুবে থাকত।
وكانوا يصرون على الحنث العظيم
আর তারা জঘন্য পাপে লেগে থাকত।
এবং উহারা অবিরাম লিপ্ত ছিল ঘোরতর পাপকর্মে।
তারা বলতঃ আমরা যখন মরে অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হয়ে যাব, তখনও কি পুনরুত্থিত হব?
وكانوا يقولون أئذا متنا وكنا ترابا وعظاما أإنا لمبعوثون
আর তারা বলত, ‘আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব?’
আর উহারা বলিত, ‘মরিয়া অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হইলেও কি উত্থিত হইব আমরা?
এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণও!
أوآباؤنا الأولون
‘আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষরাও?’
‘এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণও?’
বলুনঃ পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ,
قل إن الأولين والآخرين
বল, ‘নিশ্চয় পূর্ববর্তীরা ও পরবর্তীরা,
বল, ‘অবশ্যই পূর্ববর্তিগণ ও পরবর্তিগণ -
সবাই একত্রিত হবে এক নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট সময়ে।
لمجموعون إلى ميقات يوم معلوم
এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে অবশ্যই একত্র হবে’।
সকলকে একত্র করা হইবে এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে।
অতঃপর হে পথভ্রষ্ট, মিথ্যারোপকারীগণ।
ثم إنكم أيها الضالون المكذبون
তারপর হে পথভ্রষ্ট ও অস্বীকারকারীরা,
অতঃপর হে বিভ্রান্ত অস্বীকারকারীরা!
তোমরা অবশ্যই ভক্ষণ করবে যাক্কুম বৃক্ষ থেকে,
لآكلون من شجر من زقوم
তোমরা অবশ্যই যাক্কূম গাছ থেকে খাবে,
তোমরা অবশ্যই আহার করিবে যাক্কূম বৃক্ষ হইতে,
অতঃপর তা দ্বারা উদর পূর্ণ করবে,
فمالئون منها البطون
অতঃপর তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে।
এবং উহা দ্বারা তোমরা উদর পূর্ণ করিবে,
অতঃপর তার উপর পান করবে উত্তপ্ত পানি।
فشاربون عليه من الحميم
তদুপরি পান করবে প্রচন্ড উত্তপ্ত পানি।
পরে তোমরা পান করিবে উহার উপর অত্যুষ্ণ পানি -
পান করবে পিপাসিত উটের ন্যায়।
فشاربون شرب الهيم
অতঃপর তোমরা তা পান করবে তৃষ্ণাতুর উটের ন্যায়।
আর পান করিবে তৃষ্ণার্ত উষ্ট্রের ন্যায়।
কেয়ামতের দিন এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।
هذا نزلهم يوم الدين
প্রতিফল দিবসে এই হবে তাদের মেহমানদারী,
কিয়ামতের দিন ইহাই হইবে উহাদের আপ্যায়ন।
আমি সৃষ্টি করেছি তোমাদেরকে। অতঃপর কেন তোমরা তা সত্য বলে বিশ্বাস কর না।
نحن خلقناكم فلولا تصدقون
আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি: তাহলে কেন তোমরা তা বিশ্বাস করছ না?
আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছি, তবে কেন তোমরা বিশ্বাস করিতেছ না?
তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমাদের বীর্যপাত সম্পর্কে।
أفرأيتم ما تمنون
তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমরা যে বীর্যপাত করছ সে সম্পর্কে?
তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ তোমাদের বীর্যপাত সম্বন্ধে?
তোমরা তাকে সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?
أأنتم تخلقونه أم نحن الخالقون
তা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমিই তার স্রষ্টা?
উহা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?
আমি তোমাদের মৃত্যুকাল নির্ধারিত করেছি এবং আমি অক্ষম নই।
نحن قدرنا بينكم الموت وما نحن بمسبوقين
আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যু নির্ধারণ করেছি এবং আমাকে অক্ষম করা যাবে না,
আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যু নির্ধারিত করিয়াছি এবং আমি অক্ষম নই -
এ ব্যাপারে যে, তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের মত লোককে নিয়ে আসি এবং তোমাদেরকে এমন করে দেই, যা তোমরা জান না।
على أن نبدل أمثالكم وننشئكم في ما لا تعلمون
তোমাদের স্থানে তোমাদের বিকল্প আনয়ন করতে এবং তোমাদেরকে এমনভাবে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জান না।
তোমাদের স্থলে তোমাদের সদৃশ আনয়ন করিতে এবং তোমাদেরকে এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করিতে যাহা তোমরা জান না।
তোমরা অবগত হয়েছ প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে, তবে তোমরা অনুধাবন কর না কেন?
ولقد علمتم النشأة الأولى فلولا تذكرون
আর তোমরা তো প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে জেনেছ, তবে কেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ করছ না?
তোমরা তো অবগত হইয়াছ প্রথম সৃষ্টি সম্বন্ধে, তবে তোমরা অনুধাবন কর না কেন?
তোমরা যে বীজ বপন কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি?
أفرأيتم ما تحرثون
তোমরা আমাকে বল, তোমরা যমীনে যা বপন কর সে ব্যাপারে,
তোমরা যে বীজ বপন কর সে সম্পর্কে চিন্তা করিয়াছ কি?
তোমরা তাকে উৎপন্ন কর, না আমি উৎপন্নকারী ?
أأنتم تزرعونه أم نحن الزارعون
তোমরা তা অঙ্কুরিত কর, না আমি অঙ্কুরিত করি?
তোমরা কি উহাকে অঙ্কুরিত কর, না আমি অঙ্কুরিত করি?
আমি ইচ্ছা করলে তাকে খড়কুটা করে দিতে পারি, অতঃপর হয়ে যাবে তোমরা বিস্ময়াবিষ্ট।
لو نشاء لجعلناه حطاما فظلتم تفكهون
আমি চাইলে তা খড়-কুটায় পরিণত করতে পারি, তখন তোমরা পরিতাপ করতে থাকবে-
আমি ইচ্ছা করিলে ইহাকে খড় - কুটায় পরিণত করিতে পারি, তখন হতবুদ্ধি হইয়া পড়িবে তোমরা;
বলবেঃ আমরা তো ঋণের চাপে পড়ে গেলাম;
إنا لمغرمون
(এই বলে,) ‘নিশ্চয় আমরা দায়গ্রস্ত হয়ে গেলাম’।
‘আমরা তো দায়গ্রস্ত হইয়া পড়িয়াছি’,
বরং আমরা হূত সর্বস্ব হয়ে পড়লাম।
بل نحن محرومون
‘বরং আমরা মাহরূম হয়েছি’।
বরং ‘আমরা হৃতসর্বস্ব হইয়া পড়িয়াছি।’
তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি?
أفرأيتم الماء الذي تشربون
তোমরা যে পানি পান কর সে ব্যাপারে আমাকে বল।
তোমরা যে পানি পান কর তাহা সম্পর্কে কি তোমরা চিন্তা করিয়াছ?
তোমরা তা মেঘ থেকে নামিয়ে আন, না আমি বর্ষন করি?
أأنتم أنزلتموه من المزن أم نحن المنزلون
বৃষ্টিভরা মেঘ থেকে তোমরা কি তা বর্ষণ কর, না আমি বৃষ্টি বর্ষণকারী?
তোমরা কি উহা মেঘ হইতে নামাইয়া আন, না আমি উহা বর্ষণ করি?
আমি ইচ্ছা করলে তাকে লোনা করে দিতে পারি, অতঃপর তোমরা কেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?
لو نشاء جعلناه أجاجا فلولا تشكرون
ইচ্ছা করলে আমি তা লবণাক্ত করে দিতে পারি: তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও না?
আমি ইচ্ছা করিলে উহা লবণাক্ত করিয়া দিতে পারি। তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?
তোমরা যে অগ্নি প্রজ্জ্বলিত কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি?
أفرأيتم النار التي تورون
তোমরা যে আগুন জ্বালাও সে ব্যাপারে আমাকে বল,
তোমরা যে অগ্নি কর তাহা লক্ষ্য করিয়া দেখিয়াছ কি?
তোমরা কি এর বৃক্ষ সৃষ্টি করেছ, না আমি সৃষ্টি করেছি ?
أأنتم أنشأتم شجرتها أم نحن المنشئون
তোমরাই কি এর (লাকড়ির গাছ) উৎপাদন কর, না আমি করি?
তোমরাই কি উহার বৃক্ষ সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?
আমি সেই বৃক্ষকে করেছি স্মরণিকা এবং মরুবাসীদের জন্য সামগ্রী।
نحن جعلناها تذكرة ومتاعا للمقوين
একে আমি করেছি এক স্মারক ও মরুবাসীর প্রয়োজনীয় বস্তু।
আমি ইহাকে করিয়াছি নিদর্শন এবং মরুচারীদের প্রয়োজনীয় বস্তু।
অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন।
فسبح باسم ربك العظيم
অতএব তোমার মহান রবের নামে তাসবীহ পাঠ কর।
সুতরাং তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।
অতএব, আমি তারকারাজির অস্তাচলের শপথ করছি,
۞ فلا أقسم بمواقع النجوم
সুতরাং আমি কসম করছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের,
আমি শপথ করিতেছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের,
নিশ্চয় এটা এক মহা শপথ - যদি তোমরা জানতে।
وإنه لقسم لو تعلمون عظيم
আর নিশ্চয় এটি এক মহাকসম, যদি তোমরা জানতে,
অবশ্যই ইহা এক মহাশপথ, যদি তোমরা জানিতে -
নিশ্চয় এটা সম্মানিত কোরআন,
إنه لقرآن كريم
নিশ্চয় এটি মহিমান্বিত কুরআন,
নিশ্চয়ই ইহা সম্মানিত কুরআন,
যা আছে এক গোপন কিতাবে,
في كتاب مكنون
যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে,
যাহা আছে সুরক্ষিত কিতাবে।
যারা পাক - পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না।
لا يمسه إلا المطهرون
কেউ তা স্পর্শ করবে না পবিত্রগণ ছাড়া।
যাহারা পূত - পবিত্র তাহারা ব্যতীত অন্য কেহ তাহা স্পর্শ করে না।
এটা বিশ্ব - পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
تنزيل من رب العالمين
তা সৃষ্টিকুলের রবের কাছ থেকে নাযিলকৃত।
ইহা জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হইতে অবতীর্ণ।
তবুও কি তোমরা এই বাণীর প্রতি শৈথিল্য পদর্শন করবে?
أفبهذا الحديث أنتم مدهنون
তবে কি তোমরা এই বাণী তুচ্ছ গণ্য করছ?
তবুও কি তোমরা এই বাণীকে তুচ্ছ গণ্য করিবে?
এবং একে মিথ্যা বলাকেই তোমরা তোমাদের ভূমিকায় পরিণত করবে?
وتجعلون رزقكم أنكم تكذبون
আর তোমরা তোমাদের রিয্ক বানিয়ে নিয়েছ যে, তোমরা মিথ্যা আরোপ করবে।
এবং তোমরা মিথ্যারোপকেই তোমাদের উপজীব্য করিয়া লইয়াছ !
অতঃপর যখন কারও প্রাণ কন্ঠাগত হয়।
فلولا إذا بلغت الحلقوم
সুতরাং কেন নয়- যখন রূহ কণ্ঠদেশে পৌঁছে যায়?
পরন্তু কেন নয় - প্রাণ যখন কণ্ঠাগত হয়
এবং তোমরা তাকিয়ে থাক,
وأنتم حينئذ تنظرون
আর তখন তোমরা কেবল চেয়ে থাক।
এবং তখন তোমরা তাকাইয়া থাক,
তখন আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখ না।
ونحن أقرب إليه منكم ولكن لا تبصرون
আর তোমাদের চাইতে আমি তার খুব কাছে; কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।
আর আমি তোমাদের অপেক্ষা তাহার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখিতে পাও না।
যদি তোমাদের হিসাব - কিতাব না হওয়াই ঠিক হয়,
فلولا إن كنتم غير مدينين
তোমাদের যদি প্রতিফল দেয়া না হয়, তাহলে তোমরা কেন
তোমরা যদি কর্তৃত্বাধীন না হও!
তবে তোমরা এই আত্মাকে ফিরাও না কেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও ?
ترجعونها إن كنتم صادقين
ফিরিয়ে আনছ না রূহকে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?
তবে তোমরা উহা ফিরাও না কেন? যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
যদি সে নৈকট্যশীলদের একজন হয়;
فأما إن كان من المقربين
অতঃপর সে যদি নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্যতম হয়,
যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন হয়,
তবে তার জন্যে আছে সুখ, উত্তম রিযিক এবং নেয়ামতে ভরা উদ্যান।
فروح وريحان وجنت نعيم
তবে তার জন্য থাকবে বিশ্রাম, উত্তম জীবনোপকরণ ও সুখময় জান্নাত।
তবে তাহার জন্য রহিয়াছে আরাম, উত্তম জীবনোপকরণ ও সুখদ উদ্যান;
আর যদি সে ডান পার্শ্বস্থদের একজন হয়,
وأما إن كان من أصحاب اليمين
আর সে যদি হয় ডানদিকের একজন,
আর যদি সে ডানদিকের একজন হয়,
তবে তাকে বলা হবেঃ তোমার জন্যে ডানপার্শ্বসস্থদের পক্ষ থেকে সালাম।
فسلام لك من أصحاب اليمين
তবে (তাকে বলা হবে), ‘তোমাকে সালাম, যেহেতু তুমি ডানদিকের একজন’।
তবে তাহাকে বলা হইবে, ‘হে দক্ষিণ পার্শ্ববর্তী! তোমার প্রতি শান্তি।’
আর যদি সে পথভ্রষ্ট মিথ্যারোপকারীদের একজন হয়,
وأما إن كان من المكذبين الضالين
আর সে যদি হয় অস্বীকারকারী ও পথভ্রষ্ট,
কিন্তু সে যদি সত্য অস্বীকারকারী ও বিভ্রান্তদের অন্যতম হয়,
তবে তার আপ্যায়ন হবে উত্তপ্ত পানি দ্বারা।
فنزل من حميم
তবে তার মেহমানদারী হবে প্রচন্ড উত্তপ্ত পানি দিয়ে,
তবে রহিয়াছে আপ্যায়ন অত্যুষ্ণ পানির দ্বারা,
এবং সে নিক্ষিপ্ত হবে অগ্নিতে।
وتصلية جحيم
আর জ্বলন্ত আগুনে প্রজ্জ্বলনে।
এবং দহন জাহান্নামের;
এটা ধ্রুব সত্য।
إن هذا لهو حق اليقين
নিশ্চয় এটি অবধারিত সত্য।
ইহা তো ধ্রুব সত্য।
অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন।
فسبح باسم ربك العظيم
অতএব তোমার মহান রবের নামে তাসবীহ পাঠ কর।
অতএব তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।