Kitab

হুদ

Chapter 11, 123 verses

  • মুহিউদ্দীন খান
  • বাংলা উচ্চারণ
  • আবদুস শহীদ নাসিম
মুহিউদ্দীন খান

আলিফ, লা - ম, রা; এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াত সমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত অতঃপর সবিস্তারে বর্ণিত এক মহাজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ হতে।

বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লা - ম্ র-কিতাবুন্ উহ্কিমাত্ আ-ইয়া-তুহূ ছুম্মা ফুছ্ছিলাত্ মিল্লাদুন্ হাকীমিন্ খর্বী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আলিফ লাম রা। এটি একটি কিতাব এর আয়াতসমূহ বিজ্ঞানময় সুবিন্যস্ত, বিশদভাবে বর্ণিত, মহাবিজ্ঞানী সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।

মুহিউদ্দীন খান

যেন তোমরা ব্যতীত অন্য কারো বন্দেগী না কর। নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি তাঁরই পক্ষ হতে সতর্ককারী ও সুসংবাদ দাতা।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লা-তা'বুদূ য় ইল্লাল্লা-হ্ ইন্নানী লাকুম্ মিন্হু নাযীরুঁও অবার্শী।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী! জানিয়ে দাও,) তোমরা ছাড়া আর কারো ইবাদত (আনুগত্য, দাসত্ব, পূজা, উপাসনা, প্রার্থনা) করোনা। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা নিজেদের পালনকর্তা সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অনন্তর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর। তাহলে তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উৎকৃষ্ট জীবনোপকরণ দান করবেন এবং অধিক আমলকারীকে বেশী করে দেবেন আর যদি তোমরা বিমুখ হতে থাক, তবে আমি তোমাদের উপর এক মহা দিবসের আযাবের আশঙ্কা করছি।

বাংলা উচ্চারণ

অআনিস্ তাগ্ফিরূ রব্বাকুম্ ছুম্মা তূবূ য় ইলাইহি ইয়ুমাত্তি'কুম্ মাতা-'আন্ হাসানান্ ইলা য় আজ্বালিম্ মুসাম্মাঁও অইয়ুতি কুল্লা যী ফাদ্ব্লিন্ ফাদ্ব্লাহ্ অইন্ তাওয়াল্লাও ফাইন্নী য় আখা-ফু 'আলাইকুম্ 'আযা-বা ইয়াওমিন্ কার্বী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর দিকে ফিরে আসো, তাহলে তিনি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদের উত্তম জীবন সামগ্রী উপভোগ করার সুযোগ দেবেন এবং প্রত্যেক মর্যাদাবানকে দেবেন তার প্রাপ্য মর্যাদা। কিন্তু তোমরা যদি (একথা না মেনে) মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমি তোমাদের জন্যে আশংকা করছি এক গুরুতর দিনের আযাবের।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর সান্নিধ্যেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

বাংলা উচ্চারণ

ইলাল্লা-হি র্মাজ্বিউ'কুম্ অহুঅ 'আলা- কুল্লি শাইয়িন্ ক্বর্দী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর কাছেই হবে তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং তিনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

মুহিউদ্দীন খান

জেনে রাখ, নিশ্চয়ই তারা নিজেদের বক্ষদেশ ঘুরিয়ে দেয় যেন আল্লাহর নিকট হতে লুকাতে পারে। শুন, তারা তখন কাপড়ে নিজেদেরকে আচ্ছাদিত করে, তিনি তখনও জানেন যা কিছু তারা চুপিসারে বলে আর প্রকাশ্যভাবে বলে। নিশ্চয় তিনি জানেন যা কিছু অন্তর সমূহে নিহিত রয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

আলা য় ইন্নাহুম্ ইয়াছ্নূনা ছুদূরহুম্ লিইয়াস্তাখ্ফূ মিন্হু আলা-হীনা ইয়াস্তাগ্শূনা ছিয়া-বাহুম্ ইয়া'লামু মা-ইয়ুর্সিরূনা অমা-ইউ'লিনূনা ইন্নাহূ 'আলীমুম্ বিযা-তিছ্ ছুর্দূ।

আবদুস শহীদ নাসিম

সাবধান! তারা তাঁর কাছ থেকে নিজেদের গোপন করার জন্যে তাদের বক্ষ দ্বিভাজ করে। সাবধান! তারা যখন তাদেরকে বস্ত্র দিয়ে ঢেকে নেয়, তখন তারা যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে তিনি তা জানেন। অবশ্যি তিনি অন্তরের খবর বিশেষভাবে অবহিত।

মুহিউদ্দীন খান

আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-মিন্ দা - ব্বাতিন্ ফিল্ র্আদ্বি ইল্লা-'আলাল্লা-হি রিযকুহা- অইয়া'লামু মুস্তার্ক্বারহা- অমুস্তাওদা'আহা- কুল্লুন্ ফী কিতাবিম্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

পৃথিবীতে বিচরণকারী সব জীবের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর। তাদের স্থায়ী এবং অস্থায়ী অবস্থানস্থল সম্পর্কে তিনি অবহিত। সবই একটি স্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল কাজ করে। আর যদি আপনি তাদেরকে বলেন যে, "নিশ্চয় তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত ওঠানো হবে, তখন কাফেরেরা অবশ্য বলে এটা তো স্পষ্ট যাদু!";

বাংলা উচ্চারণ

অহুওয়াল্লাযী খালাক্বস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বোয়া ফী সিত্তাতি আইয়্যা-মিওঁ অ কা-না 'র্আশুহূ 'আলাল্ মা - য়ি লিইয়াব্লুঅকুম্ আইয়্যুকুম্ আহসানু 'আমালা- অ লায়িন্ কুল্তা ইন্নাকুম্ মাব্'ঊছূনা মিম্ বা'দিল মাওতি লাইয়াকুলান্নাল্লাযীনা কাফারূ য় ইন্ হা-যা য় ইল্লা-সিহ্রুম্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয়টি কালে এবং তাঁর আরশ ছিলো পানির উপর তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে উত্তম তা পরীক্ষার উদ্দেশ্যে। তুমি যদি তাদের বলো: ‘তোমরা অবশ্যি মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হবে,’ তখন কাফিররা অবশ্যি বলবে: ‘এতো এক সুস্পষ্ট ম্যাজিক।’

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি আমি এক নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত তাদের আযাব স্থগিত রাখি, তাহলে তারা নিশ্চয়ই বলবে কোন জিনিসে আযাব ঠেকিয়ে রাখছে? শুনে রাখ, যেদিন তাদের উপর আযাব এসে পড়বে, সেদিন কিন্তু তা ফিরে যাওয়ার নয়; তারা যে ব্যাপারে উপহাস করত তাই তাদেরকে ঘিরে ফেলবে।

বাংলা উচ্চারণ

অলায়িন্ আর্খ্খানা-'আন্হুমুল্ 'আযা-বা ইলা য় উম্মাতিম্ মা'দূদাতিল্ লাইয়াকুলুন্না মা-ইয়াহ্বিসুহ্ আলা-ইয়াওমা ইয়াতীহিম্ লাইসা মাছ্রূফান্ 'আন্হুম্ অহা-ক্বা বিহীম্ মা-কানূ বিহী ইয়স্তাহ্যিয়ূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যদি একটা নির্দিষ্ট সময়কাল তাদের উপর আযাব স্থগিত রাখি, তখন তারা অবশ্যি বলবে: ‘কী কারণে আসছে না সে জিনিসটি?’ সাবধান! যেদিন সেটি তাদের কাছে আসবে, তা আর ফেরত নেয়া হবেনা এবং তারা যে বিষয়টাকে নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করছে তা তাদেরকে ঘেরাও করে ফেলবে।

মুহিউদ্দীন খান

আর অবশ্যই যদি আমি মানুষকে আমার রহমতের আস্বাদ গ্রহণ করতে দেই, অতঃপর তা তার থেকে ছিনিয়ে নেই; তাহলে সে হতাশ ও কৃতঘ্ন হয়।

বাংলা উচ্চারণ

অলায়িন্ আযাক্বনাল্ ইন্সা-না মিন্না-রহ্মাতান্ ছুম্মা নাযা'না-হা মিন্হু ইন্নাহূ লাইয়ায়ূসুন্ কার্ফূ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যদি মানুষকে আমাদের রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই এবং পরে তা তাদের থেকে উঠিয়ে নেই, তখন তারা হতাশ এবং অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি তার উপর আপতিত দুঃখ কষ্টের পরে তাকে সুখভোগ করতে দেই, তবে সে বলতে থাকে যে, আমার অমঙ্গল দূর হয়ে গেছে, আর সে আনন্দে আত্নহারা হয়, অহঙ্কারে উদ্দত হয়ে পড়ে।

বাংলা উচ্চারণ

অলায়িন্ আযাক্ব্না-হু না'মা - য়া বা'দা দ্বোর্য়ারা - য়া মাস্সাত্হু লাইয়াকু লান্না যাহাবাস্ সাইয়্যিয়া-তু 'আন্নী ইন্নাহূ লাফারিহুন্ ফাখূর।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করার পর আমরা যদি তাদের সুখ - সম্পদের স্বাদ আস্বাদন করাই, তখন অবশ্যি তারা বলবে: ‘আমার দুঃখ - দুর্দশা কেটে গেছে।’ তখন সে উল্লসিত ও অহংকারী হয়ে পড়ে।

মুহিউদ্দীন খান

তবে যারা ধৈর্য্যধারণ করেছে এবং সৎকার্য করেছে তাদের জন্য ক্ষমা ও বিরাট প্রতিদান রয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

ইল্লাল্লাযীনা ছোয়াবারূ অ'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-ত্ উলা-য়িকা লাহুম্ মাগ্ফিরাতুঁও অআজ্বুরুন্ কার্বী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যারা সবর অবলম্বন করে এবং আমলে সালেহ্ করে তাদের জন্যে রয়েছে মাগফিরাত এবং বিশাল পুরস্কার।

মুহিউদ্দীন খান

আর সম্ভবতঃ ঐসব আহকাম যা ওহীর মাধ্যমে তোমার নিকট পাঠানো হয়, তার কিছু অংশ বর্জন করবে? এবং এতে মন ছোট করে বসবে? তাদের এ কথায় যে, তাঁর উপর কোন ধন - ভান্ডার কেন অবতীর্ণ হয়নি? অথবা তাঁর সাথে কোন ফেরেশতা আসেনি কেন? তুমিতো শুধু সতর্ককারী মাত্র; আর সব কিছুরই দায়িত্বভার তো আল্লাহই নিয়েছেন।

বাংলা উচ্চারণ

ফালা'আল্লাকা তা-রিকুম্ বা'দ্বোয়া মা-ইয়ূহা য় ইলাইকা অদ্বোয়া - য়িকুম্ বিহী ছোয়াদ্রুকা আইঁ ইয়াকু লূ লাওলা য় উন্যিলা 'আলাইহি কান্যুন্ আও জ্বা - য়া মা'আহূ মালাক্ব ইন্নামা য় আন্তা নার্যী অল্লা-হু 'আলা-কুল্লি শাইয়িঁও অকীল্।

আবদুস শহীদ নাসিম

লোকেরা যে বলে: ‘তার সাথে কোনো ধনভান্ডার নাযিল হলো না কেন? কিংবা তার সাথে ফেরেশতা এলোনা কেন?’ এ কারণে কি তুমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ অহির কিছু অংশ বর্জন করবে? এবং এর ফলে কি তোমার মন ছোট হয়ে যাবে? জেনে রাখো, তুমি তো কেবলমাত্র একজন সতর্ককারী। সব বিষয়ে উকিল - দায়িত্বশীল।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি বলে? কোরআন তুমি তৈরী করেছ? তুমি বল, তবে তোমরাও অনুরূপ দশটি সূরা তৈরী করে নিয়ে আস এবং ছাড়া যাকে পার ডেকে নাও, যদি তোমাদের কথা সত্য হয়ে থাকে।

বাংলা উচ্চারণ

আম্ ইয়াকুলূনাফ্ তারা-হ্ কুল্ ফাতূ বি'আশ্রি সুঅরিম্ মিছ্লিহী মুফ্তারাইয়া-তিঁও অদ্ঊ' মানিস্ তাত্বোয়া'তুম্ মিন্ দূনিল্লা-হি ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তারা বলে: ‘সে নিজেই এটা (কুরআন) রচনা করে নিয়েছে।’ তুমি বলো: ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো তবে এটির অনুরূপ দশটি সূরা নিজেরা রচনা করে আনো এবং ছাড়া আর যাদেরকে পারো (সহযোগিতা নেয়ার জন্যে) ডেকে আনো।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা যদি তোমাদের কথা পুরণ করতে অপারগ হয়; তবে জেনে রাখ, এটি আল্লাহর এলম দ্বারা অবতীর্ণ হয়েছে; আরো একীন করে নাও যে, ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই। অতএব, এখন কি তোমরা আত্নসমর্পন করবে?

বাংলা উচ্চারণ

ফাইল্লাম্ ইয়াস্তাজ্বীবূ লাকুম্ ফা'লামূ য় আন্নামা য় উন্যিলা বি'ইল্মিল্লা-হি অআল্লা য় ইলা-হা ইল্লা- হুঅ ফাহাল্ আন্তুম্ মুস্লিমূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তোমার এ আহবানে এগিয়ে না আসে, তবে জেনে রাখো, এটি (এই কুরআন) তো আল্লাহর এলেমের ভিত্তিতে নাযিল করা হয়েছে, আর তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। সুতরাং তোমরা কি মুসলিম (মান্যকারী) হবে?

মুহিউদ্দীন খান

যে ব্যক্তি পার্থিবজীবন ও তার চাকচিক্যই কামনা করে, হয় আমি তাদের দুনিয়াতেই তাদের আমলের প্রতিফল ভোগ করিয়ে দেব এবং তাতে তাদের প্রতি কিছুমাত্র কমতি করা হয় না।

বাংলা উচ্চারণ

মান্ কা-না ইয়ুরীদুল্ হাইয়া-তাদ্ দুন্ইয়া- অযীনাতাহা- নুওয়াফ্ফি ইলাইহিম্ আ'মা-লাহুম্ ফীহা-অহুম্ ফীহা-লা-ইয়ুব্খাসূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা দুনিয়ার জীবন এবং তার শোভা সৌন্দর্য কামনা করে, আমরা দুনিয়াতেই তাদের কাজের পূর্ণ প্রতিফল দিয়ে থাকি এবং সেখানে তাদের কোনো প্রকার কম দেয়া হয়না।

মুহিউদ্দীন খান

এরাই হল সেসব লোক আখেরাতে যাদের জন্য আগুন ছাড়া নেই। তারা এখানে যা কিছু করেছিল সবই বরবাদ করেছে; আর যা কিছু উপার্জন করেছিল, সবই বিনষ্ট হল।

বাংলা উচ্চারণ

উলা - য়িকাল্লাযীনা লাইসা লাহুম্ ফিল্ আ-খিরাতি ইল্লান্না-রু অহাবিত্বোয়া মা-ছনাঊ' ফীহা- অবা-ত্বিলুম্ মা- কা-নূ ইয়া'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আখিরাতে তাদের জন্যে জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই থাকেনা। তারা এখানে যা করে আখিরাতে তা নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তাদের সব কাজই অর্থহীন।

মুহিউদ্দীন খান

আচ্ছা বল তো, যে ব্যক্তি তার প্রভুর সুস্পষ্ট পথে রয়েছে, আর সাথে সাথে আল্লাহর তরফ থেকে একটি সাক্ষীও বর্তমান রয়েছে এবং তার পূর্ববর্তী মূসা (আঃ) এর কিতাবও সাক্ষী যা ছিল পথনির্দেশক ও রহমত স্বরূপ, (তিনি কি অন্যান্যের সমান) অতএব তাঁরা কোরআনের প্রতি ঈমান আনেন। আর ঐসব দলগুলি যে কেউ তা অস্বীকার করে, দোযখই হবে তার ঠিকানা। অতএব, আপনি তাতে কোন সন্দেহে থাকবেন না। নিঃসন্দেহে তা আপনার পালনকর্তার পক্ষ হতে ধ্রুব সত্য; তথাপি অনেকেই তা বিশ্বাস করে না।

বাংলা উচ্চারণ

আফামান্ কা-না 'আলা- বাইয়িনাতিম্ র্মি রব্বিহী অইয়াত্লূহু শা-হিদুম্ মিন্হু অমিন্ ক্বব্লিহী কিতা-বু মূসা য় ইমা-মাঁও অ রহ্মাহ্ উলা - য়িকা ইয়ুমিনূনা বিহ্অমাইঁ ইয়ার্ক্ফু বিহী মিনাল্ আহ্যা-বি ফান্না-রু মাও'ইদুহূ ফালাতাকু ফী র্মিইয়াতিম্ মিন্হু ইন্নাহুল্ হাক্বকু র্মি রব্বিকা অলাকিন্না আক্ছারান্না-সি লা-ইয়ুমিনূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি ঐ লোকদের সমতুল্য হতে পারে, যারা তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট প্রমাণের (কুরআনের) উপর প্রতিষ্ঠিত, যা তিলাওয়াত করে তাঁর প্রেরিত সাক্ষী (জিবরিল) এবং যার আগে এসেছিল মূসার উপর অবতীর্ণ কিতাব পথ প্রদর্শক ও রহমত হিসাবে? তারা এর প্রতি ঈমান রাখে। মানব দলসমূহের যারাই এটিকে অস্বীকার করে আগুনই হবে তাদের প্রতিশ্রুত স্থান। সুতরাং তুমি এটির সম্পর্কে কোনো প্রকার সন্দেহে থেকোনা। এটি তো তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে এক মহাসত্য। তবে অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করেনা।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের চেয়ে বড় যালেম কে হতে পারে, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে। এসব লোককে তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত সম্মূখীন করা হবে আর সাক্ষিগণ বলতে থাকবে, এরাই ঐসব লোক, যারা তাদের পালনকর্তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। শুনে রাখ, যালেমদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত রয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

অমান্ আজ্লামু মিম্মানিফ্ তারা-'আলাল্লা-হি কাযিবা- উলা - য়িকা ইয়ু'রাদ্বুনা 'আলা-রব্বিহিম্ অইয়াকুলুল্ আশ্হা-দু হা য় য়ুলা - ই ল্লাযীনা কাযাবূ 'আলা- রব্বিহিম্ আলা- লা'নাতুল্লা-হি 'আলাজ্জোয়া-লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর প্রতি আরোপ করে। তাদের উপস্থাপন করা হবে তাদের প্রভুর দরবারে এবং সাক্ষীরা বলবে: এরাই তাদের প্রভুর প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। সাবধান, যালিমদের প্রতি আল্লাহর লানত,

মুহিউদ্দীন খান

যারা আল্লাহর পথে বাধা দেয়, আর তাতে বক্রতা খুজে বেড়ায়, এরাই আখরাতকে অস্বীকার করে।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা ইয়াছুদ্দুনা 'আন্ সাবীলিল্লা-হি অ ইয়াব্গূনাহা- 'ইওয়াজ্বা- অহুম্ বিল্আ-খিরাতি হুম্ কা-ফিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা বাধা সৃষ্টি করে আল্লাহর পথে এবং তাতে সন্ধান করে বক্রতা এবং যারা আখিরাতের প্রতি অবিশ্বাসী।

মুহিউদ্দীন খান

তারা পৃথিবীতেও আল্লাহকে অপারগ করতে পারবে না এবং ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারীও নেই, তাদের জন্য দ্বিগুণ শাস্তি রয়েছে; তারা শুনতে পারত না এবং দেখতেও পেত না।

বাংলা উচ্চারণ

উলা - য়িকা লাম্ ইয়াকূনূ মু'জ্বিযীনা ফিল্ র্আদ্বি অ মা-কা-না লাহুম্ মিন্ দূনিল্লা-হি মিন্ আউলিয়া - য়্ ইয়ুদ্বোয়া-'আফু লাহুমুল্ 'আযা-ব্ মা-কা-নূ ইয়াস্তাত্বী'ঊনাস্ সাম্'আ অমা-কা-নূ ইয়ুব্ছিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা পৃথিবীতে আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না। আর প্রকৃতপক্ষে ছাড়া তো আর তাদের কোনো অলি ছিলনা। তাদের আযাব দ্বিগুণ করা হবে। তাদের শোনারও সামর্থ ছিলনা এবং তারা দেখতেও পেতোনা।

মুহিউদ্দীন খান

এরা সে লোক, যারা নিজেরাই নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, আর এরা যা কিছু মিথ্যা মা’বুদ সাব্যস্ত করেছিল, তা সবই তাদের থেকে হারিয়ে গেছে।

বাংলা উচ্চারণ

উলা - য়িকাল্লাযীনা খাসিরূ য় আন্ফুসাহুম্ অদ্বোয়াল্লা 'আন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়াফ্তারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তাদের কল্পিত (শরিকরা) তখন তাদের থেকে উধাও হয়ে যাবে।

মুহিউদ্দীন খান

আখেরাতে এরাই হবে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ কোন সন্দেহ নেই।

বাংলা উচ্চারণ

লা-জ্বারামা আন্নাহুম্ ফিল্ আ-খিরাতি হুমুল্ আক্সারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো সন্দেহ নেই, আখিরাতে তারা হবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে এবং স্বীয় পালনকর্তার সমীপে বিনতি প্রকাশ করেছে তারাই বেহেশতবাসী, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না ল্লাযীনা আ-মানূ অ'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি অআখ্বাতূ য় ইলা- রব্বিহিম্ উলা - য়িকা আছ্হা-বুল জ্বান্নাতি হুম্ ফীহা-খলিদূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে, এবং আমলে সালেহ্ করে এবং তাদের প্রভুর প্রতি বিনীত হয়ে জীবন যাপন করে, তারাই হবে জান্নাতের অধিকারী, সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল।

মুহিউদ্দীন খান

উভয় পক্ষের দৃষ্টান্ত হচ্ছে যেমন অন্ধ ও বধির এবং যে দেখতে পায় ও শুনতে পায় উভয়ের অবস্থা কি এক সমান? তবুও তোমরা কি ভেবে দেখ না?

বাংলা উচ্চারণ

মাছালুল্ ফারীক্বাইনি কাল্'আ'মা- অল্ আছোয়াম্মি অল্ বাছীরি অস্সামী'ই হাল্ ইয়াস্তাওয়িয়া-নি মাছালা- আফালা-তাযাক্কারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই দুই পক্ষের উপমা হলো এ রকম, যেমন একজন হলো অন্ধ ও বধির এবং অপরজন হলো চক্ষুষ্মান ও শ্রবণশক্তি সম্পন্ন। এরা দুইজন কি সমতুল্য? কেন তোমরা বুঝার চেষ্টা করোনা?

মুহিউদ্দীন খান

আর অবশ্যই আমি নূহ (আঃ) কে তাঁর জাতির প্রতি প্রেরণ করেছি, (তিনি বললেন) নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য প্রকাশ্য সতর্ককারী।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বদ্ র্আসাল্না- নূহান্ ইলা-ক্বওমিহী য় ইন্নী লাকুম্ নাযীরুম্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা নূহকে পাঠিয়েছিলাম তার কওমের কাছে। (সে তাদের বলেছিল), আমি তোমাদের প্রতি একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা ব্যতীত কারো এবাদত করবে না। নিশ্চয় আমি তোমাদের ব্যাপারে এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের আযাবের ভয় করছি।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লা- তা'বুদূ য় ইল্লাল্লা-হ্ ইন্নী য় আখা-ফু 'আলাইকুম্ 'আযা-বা ইয়াওমিন্ আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ছাড়া আর কারো ইবাদত করোনা। আমি তোমাদের জন্যে এক বেদনাদায়ক দিনের আযাবের আশংকা করছি।

মুহিউদ্দীন খান

তখন তাঁর কওমের প্রধানরা বলল আমরা তো আপনাকে আমাদের মত একজন মানুষ ব্যতীত আর কিছু মনে করি না; আর আমাদের মধ্যে যারা ইতর ও স্থুল - বুদ্ধিসম্পন্ন তারা ব্যতীত কাউকে তো আপনার আনুগত্য করতে দেখি না এবং আমাদের উপর আপনাদের কেন প্রাধান্য দেখি না, বরং আপনারা সবাই মিথ্যাবাদী বলে আমারা মনে করি।

বাংলা উচ্চারণ

ফাক্ব-লাল্ মালায়ু ল্লাযীনা কাফারূ মিন্ ক্বওমিহী মা- নারা-কা ইল্লা- বাশারাম্ মিছ্লানা- অমা- নারা-কাত্তাবা'আকা ইল্লাল্লাযীনা হুম্ আরা-যিলুনা- বা-দির্য়া রায়ি অমা- নারা-লাকুম্ 'আলাইনা-মিন্ ফাদ্ব্লিম্ বাল্ নাজুন্নকুম্ কা-যিবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তার কওমের প্রধানরা বলেছিল: ‘আমরা তো তোমাকে আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই দেখছিনা। আর আমরা বাহ্য দৃষ্টিতেই দেখছি, যারা তোমার অনুসরণ করছে তারা আমাদের মধ্যে একেবারেই নীচু শ্রেণীর। আমরা আমাদের উপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্বই দেখছি না। বরং আমরা তো মনে করি তোমরা সবাই মিথ্যাবাদী।’

মুহিউদ্দীন খান

নূহ (আঃ) বললেন - হে আমার জাতি! দেখ তো আমি যদি আমার পালনকর্তার পক্ষ হতে স্পষ্ট দলীলের উপর থাক, আর তিনি যদি তাঁর পক্ষ হতে আমাকে রহমত দান করে থাকেন, তারপরেও তা তোমাদের চোখে না পড়ে, তাহলে আমি কি উহা তোমাদের উপর তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই চাপিয়ে দিতে পারি ?

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইয়া-কওমি আরায়াইতুম্ ইন্ কুন্তু 'আলা-বাইয়্যিনাতিম্ র্মি রব্বী অআ-তা-নী রহ্মাতাম্ মিন্ 'ইন্দিহী ফা'উম্মিয়াত্ 'আলাইকুম্ আনুল্যিমুকুমূহা অআন্তুম্ লাহা- কা-রিহূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা ভেবে দেখো, আমি যদি আমার প্রভুর প্রেরিত সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি তাঁর নিজ অনুগ্রহ থেকে আমাকে দান করে থাকেন আর সে বিষয়ে যদি তোমাদের অন্ধ করে দেয়া হয়ে থাকে, তবে তোমাদের অপছন্দ সত্ত্বেও কি আমি তোমাদের তা গ্রহণে বাধ্য করতে পারি?

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি! আমি তো এজন্য তোমাদের কাছে কোন অর্থ চাই না; আমার পারিশ্রমিক তো আল্লাহর জিম্মায় রয়েছে। আমি কিন্তু ঈমানদারদের তাড়িয়ে দিতে পারি না। তারা অবশ্যই তাদের পালনকর্তার সাক্ষাত লাভ করবে। বরঞ্চ তোমাদেরই আমি অজ্ঞ সম্প্রদায় দেখছি।

বাংলা উচ্চারণ

অইয়া-ক্বওমি লা য় আস্য়ালুকুম্ 'আলাইহি মা-লা-ইন্ আজ্বরিয়া ইল্লা- 'আলা ল্লা-হি অমা য় আনা-বিত্বোয়া-রিদিল্ লাযীনা আ-মানূ ইন্নাহুম্ মুলাকুরব্বিহিম্ অলা-কিন্নী য় আরা-কুম্ ক্বাওমান্ তাজ্বুহালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! এ কাজের জন্যে তো আমি তোমাদের কাছে মাল - সম্পদ চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব তো আল্লাহর। আমি তো মুমিনদেরকে আমার কাছ থেকে তাড়িয়ে দিতে পারিনা। তারা অবশ্যি তাদের প্রভুর সাক্ষাত লাভ করবে। বরং আমি তো দেখছি তোমরাই সবাই জাহিল লোক।

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি! আমি যদি তাদের তাড়িয়ে দেই তাহলে আমাকে হতে রেহাই দেবে কে? তোমরা কি চিন্তা করে দেখ না?

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয়া-ক্বাওমি মাঁই ইয়ান্ছুরুনী- মিনাল্লা-হি ইন্ ত্বরাত্তুহুম্ আফালা-তাযাক্কারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! আমি যদি তাদের তাড়িয়ে দেই তবে আল্লাহর পাকড়াও থেকে কে আমাকে রক্ষা করবে? তোমরা কি অনুধাবন করার চেষ্টা করবেনা?

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে এবং একথাও বলি না যে, আমি গায়বী খবরও জানি; একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা; আর তোমাদের দৃষ্টিতে যারা লাঞ্ছিত তাদের কোন কল্যাণ দান করবেন না। তাদের মনের কথা ভাল করেই জানেন। সুতরাং এমন কথা বললে আমি অন্যায় কারী হব।

বাংলা উচ্চারণ

অলা য় আকুলু লাকুম্ 'ইন্দী খাযা - য়িনু ল্লা-হি অলা য় আ'লামুল গইবা অলা য় আকু লু ইন্নী মালাকুঁও অলা য় আকু লু লিল্লাযীনা তায্দারী য় আ'ইয়ুনুকুম্ লাইঁ ইয়ুতিয়াহুমুল্লা-হু খাইরা- আল্লা-হু আ'লামু বিমা-ফী য় আন্ফুসিহিম্ ইন্নী য় ইযাল্ লামিনাজ্জোয়া-লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তো তোমাদের বলছিনা যে, আমার কাছে আল্লাহর অর্থভান্ডার রয়েছে, কিংবা আমি জানি। কিংবা আমি তো এ কথাও বলছিনা যে, আমি একজন ফেরেশতা। তোমাদের দৃষ্টিতে যারা নিম্নশ্রেণীর তাদের ব্যাপারেও আমি একথা বলিনা যে, কখনো তাদের কল্যাণ করবেন না। তাদের অন্তরে যা আছে আল্লাহ্ই তা অধিক জানেন। তোমাদের কথা মেনে নিলে তো আমি যালিমদের মধ্যে গণ্য হয়ে যাবো।’’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - হে নূহ! আমাদের সাথে আপনি তর্ক করেছেন এবং অনেক কলহ করেছেন। এখন আপনার সেই আযাব নিয়ে আসুন, যে সম্পর্কে আপনি আমাদিগকে সতর্ক করেছেন, যদি আপনি সত্যবাদী হয়ে থাকেন।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ ইয়া-নূহু ক্বদ্ জ্বা-দাল্তানা- ফাআর্ক্ছাতা জ্বিদা-লানা- ফাতিনা- বিমা- তাই'দুনা য় ইন্ কুন্তা মিনাছ্ ছোয়া-দিক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘হে নূহ! তুমি তো আমাদের সাথে বিতন্ডা করেছো প্রচুর বিতন্ডা, সুতরাং তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আমাদেরকে তোমার প্রতিশ্রুত ঘটনাটি ঘটিয়ে দেখাও।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বলেন, উহা তোমাদের কাছে আল্লাহই আনবেন, যদি তিনি ইচ্ছা করেন তখন তোমরা পালিয়ে তাঁকে অপারগ করতে পারবে না।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইন্নামা-ইয়াতীকুম্ বিহিল্লা-হু ইন্ শা - য়া অমা য় আন্তুম্ বিমু'জ্বিযীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

জবাবে সে বলেছিল: ‘সেই ঘটনাটা একমাত্র আল্লাহ্ই ঘটিয়ে তোমাদের দেখাতে পারেন যদি তিনি চান এবং তোমরা তা প্রতিহত করতে পারবে না।’

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি তোমাদের নসীহত করতে চাইলেও তা তোমাদের জন্য ফলপ্রসূ হবে না, যদি তোমাদেরকে গোমরাহ করতে চান; তিনিই তোমাদের পালনকর্তা এবং তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-ইয়ান্ফা'উকুম্ নুছ্হী য় ইন্ আরাততু আন্ আন্ছোয়াহা লাকুম্ ইন্ কা-নাল্লা-হু ইয়ুরীদু আইঁ ইয়ুগ্ওয়িইয়াকুম্ হুঅ রব্বুকুম্ অইলাইহি র্তুজ্বা'ঊন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহ্ই যদি তোমাদের বিভ্রান্ত করতে চান তবে আমি নসিহত করতে চাইলেও আমার নসিহত তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না। তিনিই তোমাদের প্রভু। তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি বলে? আপনি কোরআন রচনা করে এনেছেন? আপনি বলে দিন আমি যদি রচনা করে এনে থাকি, তবে সে অপরাধ আমার, আর তোমরা যেসব অপরাধ কর তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।

বাংলা উচ্চারণ

আম্ ইয়াকুলূ নাফ্ তারা-হ্ কুল্ ইনিফ্ তারা-ইতুহূ ফা 'আলাইয়্যা ইজ্বুর-মী অআনা বারী - য়ুম্ মিম্মা-তুজ্বুরিমূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তারা বলে: ‘সে নিজেই এটি রচনা করে নিয়েছে।’ তুমি বলো: ‘এটি (এ কুরআন) যদি আমি রচনা করে থাকি, তবে আমার অপরাধের জন্যে আমিই দায়ী হবো। আর তোমরা যে অপরাধ করছো তার দায় দায়িত্ব থেকে আমি মুক্ত।’

মুহিউদ্দীন খান

আর নূহ (আঃ) এর প্রতি ওহী প্রেরণ করা হলো যে, যারা ইতিমধ্যেই ঈমান এনেছে তাদের ছাড়া আপনার জাতির অন্য কেউ ঈমান আনবেনা এতএব তাদের কার্যকলাপে বিমর্ষ হবেন না।

বাংলা উচ্চারণ

অ ঊহিয়া ইলা- নূহিন্ আন্নাহূ লাইঁ ইয়ুমিনা মিন্ ক্বওমিকা ইল্লা-মান্ ক্বদ্ আ-মানা ফালা-তাব্তায়িস্ বিমা-কা-নূ ইয়াফ্'আলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

নূহকে অহির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, তোমার কওমের যারা ঈমান এনেছে তারা ছাড়া আর কেউই ঈমান আনবে না। সুতরাং তাদের কর্মকান্ডের কারণে তুমি আর নিরাশ হয়োনা।

মুহিউদ্দীন খান

আর আপনি আমার সম্মুখে আমারই নির্দেশ মোতাবেক একটি নৌকা তৈরী করুন এবং পাপিষ্ঠদের ব্যাপারে আমাকে কোন কথা বলবেন না। অবশ্যই তারা ডুবে মরবে।

বাংলা উচ্চারণ

অছ্না'ইল্ ফুল্কা বিআ' ইয়ূনিনা-অ অহ্য়িনা- অলা-তুখা-ত্বিব্নী ফিল্লাযীনা জোয়ালামূ ইন্নাহুম্ মুগ্রাকুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের তত্ত্বাবধান ও অহির ভিত্তিতে তুমি একটি নৌযান তৈরি করো এবং যারা যুলুম করেছে তাদের বিষয়ে তুমি আমার কাছে কোনো প্রকার সুপারিশ করোনা, তারা পানিতে নিমজ্জিত হবেই।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি নৌকা তৈরী করতে লাগলেন, আর তাঁর কওমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা যখন পার্শ্ব দিয়ে যেত, তখন তাঁকে বিদ্রুপ করত। তিনি বললেন, তোমরা যদি আমাদের উপহাস করে থাক, তবে তোমরা যেমন উপহাস করছ আমরাও তদ্রুপ তোমাদের উপহাস করছি।

বাংলা উচ্চারণ

অইয়াছ্না'উল্ ফুল্কা অকুল্লামা- র্মার 'আলাইহি মালায়ুম্ মিন্ ক্বওমিহী সাখিরূ মিন্হ্ ক্ব-লা ইন্ তাস্খরূ মিন্না- ফাইন্না-নাস্খরু মিন্কুম্ কামা-তাস্খরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে নৌযান তৈরি করছিল, তখন তার কওমের প্রধানরা তার ওখান দিয়ে যাওয়া আসার সময় এ নিয়ে তাকে উপহাস করতো। সে বলেছিল: তোমরা যদি আমাদের নিয়ে উপহাস করো, আমরাও তোমাদের নিয়ে উপহাস করবো যেভাবে তোমরা আমাদের নিয়ে উপহাস করছো।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর অচিরেই জানতে পারবে - লাঞ্ছনাজনক আযাব কার উপর আসে এবং চিরস্থায়ী আযাব কার উপর অবতরণ করে।

বাংলা উচ্চারণ

ফাসাওফা তা'লামূনা মাইঁ ইয়াতীহি 'আযাবুঁই ইয়ুখ্যীহি অ ইয়াহিল্ল 'আলাইহি 'আযা-বুম্ মুক্বীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অচিরেই তোমরা জানতে পারবে, কাদের উপর এসে পড়বে অপমানকর আযাব এবং কাদের উপর হালাল হয়ে যাবে স্থায়ী আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল এবং ভুপৃষ্ঠ উচ্ছসিত হয়ে উঠল, আমি বললামঃ সর্বপ্রকার জোড়ার দুটি করে এবং যাদের উপরে পূর্বাহ্নে হুকুম হয়ে গেছে তাদের বাদি দিয়ে, আপনার পরিজনবর্গ ও সকল ঈমানদারগণকে নৌকায় তুলে নিন। বলাবাহুল্য অতি অল্পসংখ্যক লোকই তাঁর সাথে ঈমান এনেছিল।

বাংলা উচ্চারণ

হাত্তা য় ইযা-জ্বা - য়া আম্রুনা-অফা-রাত্তান্ন রু কুল্ নাহ্মিল্ ফীহা-মিন্ কুল্লিন্ যাওজ্বাইনিছ্ নাইনি অআহ্লাকা ইল্লা-মান্ সাবাক্বা 'আলাইহিল্ ক্বওলু অমান্ আ-মান্অমা য় আ-মানা মা'আহূ য় ইল্লা-ক্বালীল্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশেষে এসে পড়ে আমাদের নির্দেশ এবং চুলা থেকে উথলে উঠতে থাকে পানির স্রোত। আমরা বললাম, তাতে উঠিয়ে নাও সব শ্রেণীর যুগলের দুইটি করে আর তোমার পরিবার পরিজনকে আর যারা ঈমান এনেছে, তবে তাদেরকে নয় যাদের ব্যাপারে আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আর তার (নূহের) সাথে ঈমান এনেছিল মাত্র কয়েকজনই।

মুহিউদ্দীন খান

আর তিনি বললেন, তোমরা এতে আরোহন কর। আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। আমার পালনকর্তা অতি ক্ষমাপরায়ন, মেহেরবান।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বর্লা কাবূ ফীহা-বিস্মিল্লা-হি মাজ্বরে-হা-অর্মুসা-হা- ইন্না রব্বী লাগফূর্রু রহীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘তোমরা এতে আরোহণ করো। আল্লাহর নামে (আরম্ভ করছি) এর চলতি এবং এর স্থিতি। আমার প্রভু অবশ্যি পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।’

মুহিউদ্দীন খান

আর নৌকাখানি তাদের বহন করে চলল পর্বত প্রমাণ তরঙ্গমালার মাঝে, আর নূহ (আঃ) তাঁর পুত্রকে ডাক দিলেন আর সে সরে রয়েছিল, তিনি বললেন, প্রিয় বৎস! আমাদের সাথে আরোহন কর এবং কাফেরদের সাথে থেকো না।

বাংলা উচ্চারণ

অহিয়া তাজ্বুরী বিহিম্ ফী মাওজ্বিন্ ক্বল্জ্বিবালি অ না-দা-নূহুনিব্ নাহূ অকা-না ফী মা'যিলিইঁ ইয়া-বুনাইর্য়্যা কাব্ মা'আনা- অলা-তাকুম্ মা'আল্ কা-ফিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

নৌযানটি তাদের নিয়ে চলছিল তরঙ্গের মধ্যে পর্বতের মতো। আর নূহ তার ছেলেকে ডেকে বলেছিল, যে (নৌযানে আরোহন না করে) পৃথক ছিলো: ‘হে আমার পুত্র! আমাদের সাথে আরোহণ করো, কাফিরদের সাথি হয়ে থেকে যেয়োনা।’

মুহিউদ্দীন খান

সে বলল, আমি অচিরেই কোন পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি হতে রক্ষা করবে। নূহ (আঃ) বল্লেন আজকের দিনে আল্লাহর হুকুম থেকে কোন রক্ষাকারী নেই। একমাত্র তিনি যাকে দয়া করবেন। এমন সময় উভয়ের মাঝে তরঙ্গ আড়াল হয়ে দাঁড়াল, ফলে সে নিমজ্জিত হল।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা সায়া-ওয়ী য় ইলা-জ্বাবালিইঁ ইয়া'ছিমুনী মিনাল্ মা - য়্ ক্ব-লা লা-'আ-ছিমাল্ ইয়াওমা মিন্ আম্রিল্লা-হি ইল্লা-র্মা রহিমা অ হা-লা বাইনাহুমাল্ মাওজ্বু ফাকা-না মিনাল্ মুগ্রাক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু সে বলেছিল: ‘আমি (উঁচু) পর্বতে আশ্রয় নিচ্ছি, যা আমাকে পানি (প্লাবন) থেকে রক্ষা করবে।’ সে (নূহ) বললো: ‘আজ আল্লাহর ফায়সালা থেকে রক্ষা করার কেউ নেই, তবে তিনি যাকে দয়া করেন সে ছাড়া। (বলতে বলতে) তরঙ্গ তাদের মাঝখানে ঢুকে গেলো এবং সে ডুবে যাওয়াদের অন্তরভুক্ত হয়ে গেলো।

মুহিউদ্দীন খান

আর নির্দেশ দেয়া হল - হে পৃথিবী! তোমার পানি গিলে ফেল, আর হে আকাশ, ক্ষান্ত হও। আর পানি হ্রাস করা হল এবং কাজ শেষ হয়ে গেল, আর জুদী পর্বতে নৌকা ভিড়ল এবং ঘোষনা করা হল, দুরাত্না কাফেররা নিপাত যাক।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বীলা ইয়া য় র্আদুব্ লা'ঈ য় মা-য়াকি অইয়া-সামা-য়ু আক্ব্লি'ঈ অগীদ্বোয়াল্ মা - য়ু অকুদ্বিয়াল্ আম্রু আস্তাঅত্ 'আলাল্ জুদিয়্যি অক্বীলা বু'দাল্লিল্ ক্বওমিজ্জোয়া-লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশেষে বলা হলো: ‘হে পৃথিবী, তুমি তোমার পানি গ্রাস করে নাও! হে আকাশ, তুমি বর্ষণ বন্ধ করো।’ অত:পর প্লাবন শেষ হলো এবং ফায়সালা পূর্ণ হলো এবং নৌযানটি জুদি পাহাড়ের উপর এসে স্থির হলো। আর বলা হলো: ‘নিপাত গেলো যালিম সম্প্রদায়।’

মুহিউদ্দীন খান

আর নূহ (আঃ) তাঁর পালনকর্তাকে ডেকে বললেন - হে পরওয়ারদেগার, আমার পুত্র তো আমার পরিজনদের অন্তর্ভুক্ত; আর আপনার ওয়াদাও নিঃসন্দেহে সত্য আর আপনিই সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞ ফয়সালাকারী।

বাংলা উচ্চারণ

অনা-দা-নূর্হু রব্বাহূ ফাক্ব-লা রব্বি ইন্নাব্নী মিন্ আহ্লী অইন্না অ'দাকাল্ হাক্বকু অ আন্তা আহ্কামুল্ হা-কিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

নূহ তার প্রভুকে ডেকে বলেছিল: ‘আমার প্রভু! আমার ছেলে তো আমার পরিবারেরই একজন আর তোমার ওয়াদা তো সত্য এবং তুমিই তো সব বিচারকের বড় ন্যায় বিচারক।’

মুহিউদ্দীন খান

বলেন, হে নূহ! নিশ্চয় সে আপনার পরিবারভুক্ত নয়। নিশ্চই সে দুরাচার! সুতরাং আমার কাছে এমন দরখাস্ত করবেন না, যার খবর আপনি জানেন না। আমি আপনাকে উপপদেশ দিচ্ছি যে, আপনি অজ্ঞদের দলভুক্ত হবেন না।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইয়া-নূহু ইন্নাহূ লাইসা মিন্ আহ্লিকা ইন্নাহূ 'আমালুন্ গাইরু ছোয়া-লিহিন্ ফালা-তাস্য়াল্নি মা-লাইসা লাকা বিহী 'ইল্ম্ ইন্নী য় আ 'ইজুকা আন্ তাকূনা মিনাল্ জ্বা-হিলীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বলেছিলেন: ‘হে নূহ! সে তোমার পরিবারের সদস্য নয়। সে তো এক অসৎকর্ম। ফলে এমন বিষয়ে আমার কাছে প্রার্থনা করোনা, যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি তুমি যেনো জাহিলদের মতো কথা না বলো।’

মুহিউদ্দীন খান

নূহ (আঃ) বলেন - হে আমার পালনকর্তা আমার যা নেই এমন কোন দরখাস্ত করা হতে আমি আপনার কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন, দয়া না করেন, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা রব্বি ইন্নী য় আ'ঊযুবিকা আন্ আস্য়ালাকা মা-লাইসা লী বিহী 'ইল্ম্ অ ইল্লা-তার্গ্ফিলী অর্তাহাম্নী য় আকুম্মিনাল্ খা-সিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে বললো: ‘আমার প্রভু! যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই সে বিষয়ে যেনো তোমার কাছে প্রার্থনা না করি সে জন্যে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তুমি যদি আমাকে ক্ষমা না করো এবং আমার প্রতি রহম না করো, তবে তো আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তরভুক্ত হয়ে পড়বো।’

মুহিউদ্দীন খান

হুকুম হল - হে নূহ (আঃ)! আমার পক্ষ হতে নিরাপত্তা এবং আপনার নিজের ও সঙ্গীয় সম্প্রদায়গুলির উপর বরকত সহকারে অবতরণ করুণ। আর অন্যান্য যেসব সম্প্রদায় রয়েছে আমি তাদের কেও উপকৃত হতে দেব। অতঃপর তাদের উপর আমার দরুন আযাব আপতিত হবে।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বীলা ইয়া-নূহুহ্ বিত্ব বিসালা-মিম্ মিন্না-অবারাকা-তিন্ 'আলাইকা অ'আলা য় উমামিম্ মিম্মাম্ মা'আক্ অউমামুন্ সানুমাত্তি'উহুম্ ছুম্মা ইয়ামাস্সুহুম্ মিন্না-'আযা-বুন্ আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলা হয়েছিল: ‘হে নূহ! (নৌযান থেকে) নেমে পড়ো। আমাদের পক্ষ থেকে সালাম ও বরকত তোমার প্রতি এবং যেসব প্রজাতি তোমার সাথে রয়েছে তাদের প্রতি। আর অন্যান্য জাতিসমূহকে আমরা কিছুকাল জীবন উপভোগ করতে দেবো, তারপর আমাদের পক্ষ থেকে বেদনাদায়ক আযাব তাদেরকেও স্পর্শ করবে।’

মুহিউদ্দীন খান

এটি গায়বের খবর, আমি আপনার প্রতি ওহী প্রেরন করছি। ইতিপূর্বে এটা আপনার এবং আপনার জাতির ছিল না। আপনি ধৈর্য্যধারণ করুন। যারা ভয় করে চলে, তাদের পরিণাম ভাল, সন্দেহ নেই।

বাংলা উচ্চারণ

তিল্কা মিন্ আম্বা - য়িল্ গাইবি নূহী হা য় ইলাইকা মা-কুন্তা তা'লামুহা য় আন্তা অলা- ক্বওমুকা মিন্ ক্বব্লি হা-যা- ফার্ছ্বি ইন্নাল্ 'আ- ক্বিবাতা লিল্মুত্তাক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলো গায়েবের সংবাদ তোমার প্রতি আমরা অহি করছি। তুমি কিংবা তোমার কওম ইতোপূর্বে এ বিষয়গুলো জানতে না। অতএব সবর অবলম্বন করো, পরিণামে সাফল্য মুত্তাকিদেরই জন্যে।

মুহিউদ্দীন খান

আর আদ জাতির প্রতি আমি তাদের ভাই হুদকে প্রেরণ করেছি; তিনি বলেন - হে আমার জাতি, আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ভিন্ন তোমাদের কোন মাবুদ নেই, তোমরা সবাই মিথ্যা আরোপ করছ।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইলা-'আ-দিন্ আখ-হুম্ হূদা- ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি'বুদুল্লা-হা মা-লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গইরুহ্ ইন্ আন্তুম্ ইল্লা-মুফ্তারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা আদ জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম তাদেরই ভাই হুদকে। সে তাদের বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তবে তোমরা তো কেবল মিথ্যা রচনাকারী।

মুহিউদ্দীন খান

হে আমার জাতি! আমি এজন্য তোমাদের কাছে কোন মজুরী চাই না; আমার মজুরী তাঁরই কাছে যিনি আমাকে পয়দা করেছেন; তবু তোমরা কেন বোঝ না?

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া-ক্বওমি লা য় আস্য়ালুকুম্ 'আলাইহি আজ্বরা- ইন্ আজ্বুরিয়া ইল্লা-'আলাল্লাযী ফাত্বোয়ারানী আফালা-তা'ক্বিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! আমি তো এ কাজের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো প্রকার পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব তাঁর, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তবু কি তোমরা বুঝার চেষ্টা করবেনা?

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার কওম! তোমাদের পালন কর্তার কাছে তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর; তিনি আসমান থেকে তোমাদের উপর বৃষ্টি ধারা প্রেরণ করবেন এবং তোমাদের শক্তির উপর শক্তি বৃদ্ধি করবেন, তোমরা কিন্তু অপরাধীদের মত বিমুখ হয়ো না।

বাংলা উচ্চারণ

অইয়া-ক্বওমিস্ তাগ্ফিরূ রব্বাকুম্ ছুম্মা তূবূ য় ইলাইহি ইর্য়ুসিলিস্ সামা - য়া 'আলাইকুম্ মিদ্রা-রাঁও অ ইয়াযিদ্কুম্ কুওয়্যাতান্ ইলা-কুওয়্যাতিকুম্ অলা-তাতাওয়াল্লাও মুজ্বুরিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো তোমাদের প্রভুর কাছে, অত:পর ফিরে আসো তাঁর দিকে। তিনি তোমাদের জন্যে আকাশ থেকে প্রচুর পানি বর্ষণ করবেন এবং বর্তমান শক্তির সাথে আরো শক্তি বাড়িয়ে দেবেন। তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়োনা।’’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - হে হুদ, তুমি আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নিয়ে আস নাই, আমরা তোমার কথায় আমাদের দেব - দেবীদের বর্জন করতে পারি না আর আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনয়নকারীও নই।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ ইয়া-হূদু মা- জ্বি'তানা- বিবাইয়িনাতিঁও অমা-নাহ্নু বিতা-রিকী য় আ-লিহাতিনা-'আন্ ক্বওলিকা অমা-নাহ্নু লাকা বিমুমিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘‘হে হুদ! তুমি তো আমাদের কাছে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসোনি। আমরা তো তোমার কথায় আমাদের ইলাহদের (দেব দেবীদের) পরিত্যাগ করতে পারিনা। তাছাড়া আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাসীও নই।

মুহিউদ্দীন খান

বরং আমরাও তো বলি যে, আমাদের কোন দেবতা তোমার উপরে শোচনীয় ভূত চাপিয়ে দিয়েছে। হুদ বললেন - আমি আল্লাহকে সাক্ষী করেছি আর তোমাও সাক্ষী থাক যে, আমার কোন সম্পর্ক নাই তাঁদের সাথে যাদের কে তোমরা শরিক করছ;

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না কুলু ইল্লা'তারা-ক্ব বা'দ্বু আ-লিহাতিনা-বিসূ - য়্ ক্ব-লা ইন্নী য় উশ্হিদুল্লা-হা অশ্হাদূ য় আন্নী বারী - য়ুম্ মিম্মা-তুশ্রিকুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা বলছি, তোমাদের উপর আমাদের দেব - দেবীদের অভিশাপ পড়েছে।’’ সে বলেছিল: ‘‘আমি আল্লাহকে সাক্ষী বানাচ্ছি এবং তোমরাও সাক্ষী থাকো, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক করছো আমি তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছি।

মুহিউদ্দীন খান

তাকে ছাড়া, তোমরা সবাই মিলে আমার অনিষ্ট করার প্রয়াস চালাও, অতঃপর আমাকে কোন অবকাশ দিও না।

বাংলা উচ্চারণ

মিন্ দূনিহী ফাকীদূনী জ্বামী'আন্ ছুম্মা লা- তুন্জিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ছাড়া তোমরা সবাই মিলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করো, তারপর আমাকে কোনো অবকাশ দিও না।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আল্লাহর উপর নিশ্চিত ভরসা করেছি যিনি আমার এবং তোমাদের পরওয়ারদেগার। পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নাই যা তাঁর র্পূণ আয়ত্তাধীন নয়। আমার পালকর্তার সরল পথে সন্দেহ নেই।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নী তাওয়াক্কাল্তু 'আলাল্লা-হি রব্বী অ রব্বিকুম্ মা-মিন্ দা - ব্বাতিন্ ইল্লা-হুঅ আ-খিযুম্ বিনা-ছিয়াতিহা- ইন্না রব্বী 'আলা- ছিরা-ত্বিম্ মুস্তাক্বীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তো তাওয়াক্কুল করেছি আল্লাহর উপর যিনি আমার প্রভু এবং তোমাদেরও প্রভু। এমন কোনো জীব নেই, যে তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই। নিশ্চয়ই আমার প্রভু সঠিক সরল পথের উপর প্রতিষ্ঠিত।

মুহিউদ্দীন খান

তথাপি যদি তোমরা মুখ ফেরাও, তবে আমি তোমাদেরকে তা পৌছিয়েছি যা আমার কাছে তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছে; আর আমার পালনকর্তা অন্য কোন জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, আর তোমরা তাঁর কিছুই বিগড়াতে পারবে না; নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগারই প্রতিটি বস্তুর হেফাজতকারী।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইন্ তাওয়াল্লাও ফাক্বদ আব্লাগ্তুকুম্ মা য় র্উসিল্তু বিহী য় ইলাইকুম্ অইয়াস্তাখ্লিফু রব্বী ক্বওমান্ গইরাকুম্ অলা-তার্দ্বুরূনাহূ শাইয়া- ইন্না রব্বী 'আলা-কুল্লি শাইয়িন্ হাফীজ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রাখো, আমি তোমাদের কাছে যে বার্তা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি, তা তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আমার প্রভু তোমাদের পরিবর্তে ভিন্ন কোনো কওমকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন এবং তোমরা তাঁর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। আমার প্রভু সব কিছুর রক্ষক।’’

মুহিউদ্দীন খান

আর আমার আদেশ যখন উপস্থিত হল, তখন আমি নিজ রহমতে হুদ এবং তাঁর সঙ্গী ঈমানদারগণকে পরিত্রাণ করি এবং তাদেরকে এক কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করি।

বাংলা উচ্চারণ

অ লাম্মা-জ্বা - য়া আম্রুনা-নাজ্জ্বাইনা-হূদাঁও অল্লাযীনা আ-মানূ মা'আহূ বিরহমাতিম্ মিন্না- অনাজ্জ্বাইনা-হুম মিন্ 'আযা-বিন্ গলীজ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর যখন আমাদের নির্দেশ এসে পৌঁছে, আমরা হুদকে এবং তার সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমাদের দয়ায় নাজাত দিয়েছিলাম এবং তাদের রক্ষা করেছিলাম কঠিন আযাব থেকে।

মুহিউদ্দীন খান

এ ছিল আদ জাতি, যারা তাদের পালনকর্তার আয়াতকে অমান্য করেছে, আর তদীয় রসূলগণের অবাধ্যতা করেছে এবং প্রত্যেক উদ্ধত বিরোধীদের আদেশ পালন করেছে।

বাংলা উচ্চারণ

অতিল্কা 'আ-দুন্ জ্বাহাদূ বিআ-ইয়া-তি রব্বিহিম্ অ'আছোয়াও রুসুলাহূ অত্তাবা'ঊ য় আম্রা কুল্লি জ্বাব্বা-রিন্ 'আনীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা ছিলো আদ জাতি, তারা তাদের প্রভুর আয়াত অস্বীকার করেছিল এবং তাঁর রসূলদের অমান্য করেছিল এবং প্রত্যেক অহংকারী স্বৈরাচারীর অনুসরণ করেছিল।

মুহিউদ্দীন খান

এ দুনিয়ায় তাদের পিছনে পিছনে লা’নত রয়েছে এবং কেয়ামতের দিনেও; জেনে রাখ, আদ জাতি তাদের পালনকর্তাকে অস্বীকার করেছে, হুদের জ্ঞাতি আদ জাতির প্রতি অভিসম্পাত রয়েছে জেনে রাখ।

বাংলা উচ্চারণ

অউত্বি'ঊ ফী হা-যিহিদ্ দুন্ইয়া-লা'নাতাঁও অ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ আলা য় ইন্না 'আ-দান্ কাফারূ রব্বাহুম্ আলা-বু'দাল্লি 'আ-দিন্ ক্বওমি হূদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

দুনিয়ার জীবনে তাদের অভিশাপগ্রস্ত করা হয়েছিল এবং কিয়ামতের দিনও হবে তারা অভিশাপগ্রস্ত। সাবধান, আদ জাতি তাদের প্রভুকে অস্বীকার করেছিল। সাবধান, নিপাত গিয়েছিল আদ জাতি, যারা ছিলো হুদের কওম।

মুহিউদ্দীন খান

আর সামুদ জাতি প্রতি তাদের ভাই সালেহ কে প্রেরণ করি; তিনি বললেন, হে আমার জাতি। আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন উপাস্য নাই। তিনিই যমীন হতে তোমাদেরকে পয়দা করেছেন, তন্মধ্যে তোমাদেরকে বসতি দান করেছেন। অতএব; তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর অতঃপর তাঁরই দিকে ফিরে চল আমার পালনকর্তা নিকটেই আছেন, কবুল করে থাকেন; সন্দেহ নেই।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইলা-ছামূদা আখা-হুম্ ছোয়া-লিহা-। ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি'বুদুল্লা-হা মা-লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গইরুহ্ হুওয়া আন্শায়াকুম্ মিনাল্ র্আদ্বি অস্তা'মারাকুম্ ফীহা ফাস্তাগ্ফিরূহু ছুম্মা তূবূ য় ইলাইহ্ ইন্না রব্বী ক্বরীবুম্ মুজ্বীব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা সামুদ জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম তাদেরই ভাই সালেহকে। সে তাদের বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্য করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন জমিন থেকে এবং তাতেই তোমাদের তামির (প্রতিষ্ঠিত) করেছেন। অতএব, তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁরই দিকে ফিরো আসো। অবশ্যি আমার প্রভু অতি কাছে এবং ডাকে সাড়া দানকারী।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - হে সালেহ, ইতিপূর্বে তোমার কাছে আমাদের বড় আশা ছিল। আমাদের বাপ - দাদা যা পূজা করত তুমি কি আমাদেরকে তার পূজা করতে নিষেধ কর? কিন্তু যার প্রতি তুমি আমাদের আহবান জানাচ্ছ আমাদের তাতে এমন সন্দেহ রয়েছে যে, মন মোটেই সায় দিচ্ছে না।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ ইয়া-ছোয়া-লিহু ক্বদ্ কুন্তা ফীনা র্মাজুওয়ান্ ক্বব্লা হা-যা য় আতান্হা-না য় আন্ না'বুদা মা-ইয়া'বুদু আ-বা - য়ুনা- অ ইন্নানা-লাফী শাক্কীম্ মিম্মা-তাদ্ঊ'না য় ইলাইহি মুরীব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘হে সালেহ্! ইতোপূর্বে তুমি ছিলে আমাদের আশা - ভরসার স্থল। আর এখন কি তুমি আমাদের পূর্বপুরুষরা যাদের ইবাদত করতো তাদের ইবাদত করতে আমাদের নিষেধ করছো? তুমি আমাদের যেদিকে ডাকছো সে বিষয়ে অবশ্যি আমরা বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে রয়েছি।

মুহিউদ্দীন খান

সালেহ বললেন - হে আমার জাতি! তোমরা কি মনে কর, আমি যদি আমার পালনকর্তার পক্ষ হতে বুদ্ধি বিবেচনা লাভ করে থাকি আর তিনি যদি আমাকে নিজের তরফ হতে রহমত দান করে থাকেন, অতঃপর আমি যদি তাঁর অবাধ্য হই তবে তার থেকে কে আমায় রক্ষা করবে? তোমরা তো আমার ক্ষতি ছাড়া কিছুই বৃদ্ধি করতে পরবে না

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি আরায়াইতুম্ ইন্ কুন্তু 'আলা-বাইয়্যিনাতিম্ র্মি রব্বী অ আ-তা-নী মিন্হু রাহ্মাতান্ ফামাইঁ ইয়ান্ছুরুনী মিনাল্লা-হি ইন্ 'আছোয়াইতুহূ ফামা-তাযীদূনানী গইরা তার্খ্সী।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমাদের মতামত কী, আমি যদি আমার প্রভুর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে কোনো অনুগ্রহ দান করেন, তখন আমাকে কে রক্ষা করবে যদি আমি তাঁর অবাধ্য হই? তোমরা আমার ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বাড়াতে পারবে না।

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি! আল্লাহর এ উষ্ট্রীটি তোমাদের জন্য নিদর্শন, অতএব তাকে আল্লাহর যমীনে বিচরণ করে খেতে দাও, এবং তাকে মন্দভাবে স্পর্শও করবে না। নতুবা অতি সত্বর তোমাদেরকে আযাব পাকড়াও করবে।

বাংলা উচ্চারণ

অইয়া-ক্বওমি হা-যিহী না-ক্বতুল্লা-হি লাকুম্ আ-ইয়াতান্ ফাযারূহা-তাকুল্ ফী য় র্আদ্বিল্লা-হি অলা-তামাস্সূহা বিসূ - য়িন্ ফা ইয়া খুযাকুম্ 'আযা-বুন্ ক্বরীব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! এটি আল্লাহর উটনী তোমাদের জন্যে একটি নিদর্শন। তোমরা এটিকে আল্লাহর জমিনে চরে খেতে দাও। তোমরা এটিকে মন্দ (উদ্দেশ্যে) স্পর্শ করোনা, করলে তোমাদের উপর আপতিত হবে আশু আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

তবু তারা উহার পা কেটে দিল। তখন সালেহ বললেন - তোমরা নিজেদের গৃহে তিনটি দিন উপভোগ করে নাও। ইহা এমন ওয়াদা যা মিথ্যা হবে না।

বাংলা উচ্চারণ

ফা'আক্বরূহা- ফাক্ব-লা তামাত্তাঊ' ফী দা-রিকুম্ ছালা-ছাতা আইয়্যা-ম্ যা-লিকা অ'দুন্ গইরু মাক্যূব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু তারা সেটিকে হত্যা করে। তখন সে তাদের বলেছিল: ‘তোমরা তোমাদের ঘরে মাত্র তিনদিন উপভোগ করো। এটি একটি অনিবার্য সত্য ওয়াদা।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমার আযাব যখন উপস্থিত হল, তখন আমি সালেহকে ও তদীয় সঙ্গী ঈমানদারগণকে নিজ রহমতে উদ্ধার করি, এবং সেদিনকার অপমান হতে রক্ষা করি। নিশ্চয় তোমার পালনকর্তা তিনি সর্বশক্তিমান পরাক্রমশালী।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-জ্বা - য়া আম্রুনা- নাজ্জ্বাইনা- ছোয়া-লিহাঁও অল্লাযীনা আ-মানূ মা'আহূ বিরহমাতিম্ মিন্না- অমিন্ খিয্য়ি ইয়াওমিয়িন্ ইন্না রব্বাকা হুওয়াল্ ক্বওয়িইয়ুল্ 'আযীয্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর যখন আমাদের নির্দেশ এসে পৌঁছালো আমরা আমাদের অনুগ্রহে সালেহ্ এবং তার সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদের রক্ষা করলাম সেদিনের চরম লাঞ্ছনা থেকে। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মহাশক্তিধর পরাক্রমশালী।

মুহিউদ্দীন খান

আর ভয়ঙ্কর গর্জন পাপিষ্ঠদের পাকড়াও করল, ফলে ভোর হতে না হতেই তারা নিজ নিজ গৃহসমূহে উপুর হয়ে পড়ে রইল।

বাংলা উচ্চারণ

অ আখাযাল্লাযীনা জোয়ালামুছ্ ছোয়াইহাতু ফাআছ্বাহূ ফী দিয়া-রিহিম্ জ্বা-ছিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা যুলুম করেছিল তাদের পাকড়াও করলো এক বিকট শব্দ। ফলে তারা তাদের ঘরে ঘরে উপুড় হয়ে পড়েছিল।

মুহিউদ্দীন খান

যেন তাঁরা কোনদিনই সেখানে ছিল না। জেনে রাখ, নিশ্চয় সামুদ জাতি তাদের পালনকর্তার প্রতি অস্বীকার করেছিল। আরো শুনে রাখ, সামুদ জাতির জন্য অভিশাপ রয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

কাআল লাম্ ইয়াগ্নাও ফীহা- আলা য় ইন্না ছামূদা কাফারূ রব্বাহুম্ আলা-বু'দাল্লি ছামূদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবস্থা এমন হয়েছিল যেনো তারা কখনো সেখানে বসবাসই করেনি। সাবধান, সামুদ জাতি তাদের প্রভুকে অস্বীকার করেছিল। সাবধান, সামুদ জাতি সমূলে নিপাত হয়ে গিয়েছিল।

মুহিউদ্দীন খান

আর অবশ্যই আমার প্রেরিত ফেরেশতারা ইব্রাহীমেরে কাছে সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল তারা বলল সালাম, তিনিও বললেন - সালাম। অতঃপর অল্পক্ষণের মধ্যেই তিনি একটি ভুনা করা নিয়ে এলেন!

বাংলা উচ্চারণ

অ লাক্বদ্ জ্বা - য়াত্ রুসূলুনা য় ইব্রা-হীমা বিল্বুশ্রা- ক্ব-লূ সালা-মা- ক্ব-লা সালামুন্ ফামা-লাবিছা আন্ জ্বা - য়া বি'ইজ্বুলিন্ হানীয্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের দূত (ফেরেশতারা) সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল ইবরাহিমের কাছে। এসে তারা বলেছিল: ‘সালাম!’ সেও বলেছিল: ‘সালাম।’ অত:পর সে দেরি না করে ভুনা করা গো - নিয়ে এলো (তাদের মেহমানদারির জন্যে)।

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু যখন দেখলেন যে, আহার্য্যের দিকে তাদের হস্ত প্রসারিত হচ্ছে না, তখন তিনি সন্ধিগ্ধ হলেন এবং মনে মনে তাঁদের সম্পর্কে ভয় অনুভব করতে লাগলেন। তারা বলল - ভয় পাবেন না। আমরা লূতের কওমের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা- রায়া য় আই দিয়াহুম্ লা-তাছিলু ইলাইহি নাকিরহুম্ অ আওজ্বাসা মিন্হুম্ খী ফাহ্ ক্ব-লূ লা-তাখাফ্ ইন্না য় র্উসিল্না য় ইলা-ক্বওমি লূত্ব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে যখন দেখলো, তারা সে (খাবারের) দিকে হাত বাড়াচ্ছে না, তখন সে তাদের আগমনকে অশুভ মনে করলো এবং তাদের ব্যাপারে তার মনে ভয় ঢুকলো। তারা বললো: ‘আপনি ভয় পাবেননা, আমরা তো লুতের কওমের কাছে প্রেরিত হয়েছি।’

মুহিউদ্দীন খান

তাঁর স্ত্রীও নিকটেই দাড়িয়েছিল, সে হেসে ফেলল। অতঃপর আমি তাকে ইসহাকের জন্মের সুখবর দিলাম এবং ইসহাকের পরের ইয়াকুবেরও।

বাংলা উচ্চারণ

অম্রায়াতুহূ ক্ব - য়িমাতুন্ ফাদ্বোয়াহিকাত্ ফাবার্শ্শানা-হা- বিইস্হা-ক্ব অমিঁও অর - য়ি ইস্হা-ক্বা ইয়া'কুব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার স্ত্রী দাঁড়ানো ছিলো, সে (তার স্ত্রী) হেসে ফেললো। তখন আমরা তাকে সুসংবাদ দিলাম (পুত্র) ইসহাকের এবং ইসহাকের পরে (নাতি) ইয়াকুবের।

মুহিউদ্দীন খান

সে বলল - কি দুর্ভাগ্য আমার! আমি সন্তান প্রসব করব? অথচ আমি বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে এসে উপনীত হয়েছি আর আমার স্বামীও বৃদ্ধ, এতো ভারী আশ্চর্য কথা।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব -লাত্ ইয়া-অইলাতা য় আয়ালিদু অ আনা'আজু যুঁও অহা-যা-বা'লী শাইখা- ইন্না হা-যা-লাশাইয়ুন্ 'আজ্বীব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (ইবরাহিমের স্ত্রী সারাহ্) বললো: ‘হায় হায়, আমি সন্তানের মা হবো, অথচ আমি একজন বৃদ্ধা এবং আমার স্বামীও বৃদ্ধ, এ - তো এক বিস্ময়কর ব্যাপার!’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - তুমি আল্লাহর হুকুম সম্পর্কে বিস্ময়বোধ করছ? হে গৃহবাসীরা, তোমাদের উপর আল্লাহর রহমত ও প্রভুত বরকত রয়েছে। নিশ্চয় প্রশংসিত মহিমাময়।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ য় আতা'জ্বাবীনা মিন্ আম্রিল্লা-হি রাহ্মাতুল্লা-হি অবারাকা-তুহূ 'আলাইকুম্ আহ্লাল বাইত্ইন্নাহূ হামীদুম্ মাজ্বীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আপনি কি আল্লাহর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিস্ময়বোধ করছেন? হে আহলে বাইত (হে ঘরবাসী)! এটা তো আপনাদের প্রতি আল্লাহর রহমত এবং বরকত। নিশ্চয়ই তিনি সপ্রশংসিত ও সম্মানিত।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন ইব্রাহীম (আঃ) এর আতঙ্ক দূর হল এবং তিনি সুসংবাদ প্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি আমার সাথে তর্ক শুরু করলেন কওমে লূত সম্পর্কে।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-যাহাবা 'আন্ ইব্রা-হীর্মা রাওঊ' অজ্বা - য়াত্হুল্ বুশ্রা-ইয়ুজ্বা-দিলুনা- ফী ক্বওমি লূত্বু।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইবরাহিমের থেকে যখন আতংক দূর হয়ে গেলো এবং সে সুসংবাদ লাভ করলো, তখন সে লুতের কওমের ব্যাপারে বিতর্ক করতে থাকলো।

মুহিউদ্দীন খান

ইব্রাহীম (আঃ) বড়ই ধৈর্য্যশীল, কোমল অন্তর, আল্লাহমুখী সন্দেহ নেই।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না ইব্রা-হীমা লাহালীমুন্ আওয়্যা-হুম্ মুনীব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই ইবরাহিম ছিলো এক সহনশীল, কোমল হৃদয় এবং আল্লাহমুখী মানুষ।

মুহিউদ্দীন খান

ইব্রাহীম, এহেন ধারণা পরিহার কর; তোমার পালনকর্তার হুকুম এসে গেছে, এবং তাদের উপর সে আযাব অবশ্যই আপতিত হবে, যা কখনো প্রতিহত হবার নয়।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় ইব্রা-হীমু আ'রিদ্ব 'আন হা-যা- ইন্নাহূ ক্বদ্ জ্বা - য়া আম্রু রব্বিকা অ ইন্নাহুম্ আ-তীহিম্ 'আযা-বুন্ গইরু র্মাদূদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ইবরাহিম! এ (বিতর্ক) থেকে বিরত হও, (তাদের প্রতি তো) তোমার প্রভুর নির্দেশ এসে গেছে। তাদের উপর এক অপ্রতিরোধ্য আযাব এসে যাচ্ছে।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ লূত (আঃ) এর নিকট উপস্থিত হল। তখন তাঁদের আগমনে তিনি দুচিন্তাগ্রস্ত হলেন এবং তিনি বলতে লাগলেন, আজ অত্যন্ত কঠিন দিন।

বাংলা উচ্চারণ

অলাম্মা-জ্বা - য়াত্ রুসুলুনা- লূ-ত্বোয়ান্ সী - য়া বিহিম্ অদ্বোয়া-ক্ব বিহিম্ র্যা'আঁও অক্ব -লা হা-যা- ইয়াওমুন্ 'আছীব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর আমাদের দূত (ফেরেশতারা) যখন লুতের কাছে এলো, তাদের আগমনে সে বিষন্ন হয়ে পড়লো এবং তাদের (তার জাতিকে) রক্ষায় নিজেকে অক্ষম মনে করলো, আর বললো: ‘এ তো এক শোকাবহ দিন।’

মুহিউদ্দীন খান

আর তাঁর কওমের লোকেরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে তার (গৃহ) পানে ছুটে আসতে লাগল। পূর্ব থেকেই তারা কু - কর্মে তৎপর ছিল। লূত (আঃ) বললেন - হে আমার কওম, এ আমার কন্যারা রয়েছে, এরা তোমাদের জন্য অধিক পবিত্রতমা। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং অতিথিদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো না, তোমাদের মধ্যে কি কোন ভাল মানুষ নেই।

বাংলা উচ্চারণ

অজ্বা - য়াহূ ক্বওমুহূ ইয়ুহ্রা'ঊনা ইলাইহ্ অমিন্ ক্বব্লু কা-নূ ইয়া'মালূনাস্ সাইয়্যিয়া-ত্ ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি হা - উলা - য়ি বানা-তীহুন্না আত্ব হারু লাকুম্ ফাত্তাকুল্লা-হা অলা-তুখ্যূনি ফী দ্বোয়াইফী আলাইসা মিন্কুম্ রাজ্বুর্লু রশীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তার কওম তার দিকে উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটে এলো এবং আগে থেকে তারা কুকাজে অভ্যস্ত ছিলো। সে বললো: ‘হে আমার কওম! এই যে আমার (কওমের) কন্যারা রয়েছে, তোমাদের জন্যে এরাই পবিত্র (তোমরা তাদের বিয়ে করে নাও)। আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার মেহমানদের ব্যাপারে আমাকে অপমানিত করোনা। তোমাদের মধ্যে কি একজন ভালো মানুষও নেই?’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল ু তুমি তো জানই, তোমার কন্যাদের নিয়ে আমাদের কোন গরজ নেই। আর আমরা কি চাই, তাও তুমি অবশ্যই জান।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ লাক্বদ্ 'আলিম্তা মা-লানা- ফী বানা-তিকা মিন্ হাক্বক্বিন্ অইন্নাকা লাতা'লামু মা-নুরীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘তুমি তো জানো, তোমার কন্যাদের আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা কী চাই তুমি তো তা ভালো করেই জানো।’

মুহিউদ্দীন খান

লূত (আঃ) বললেন - হায়, তোমাদের বিরুদ্ধে যদি আমার শক্তি থাকত অথবা আমি কোন সূদৃঢ় আশ্রয় গ্রহণ করতে সক্ষম হতাম।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা লাও আন্না লীবিকুম্ কুওয়্যাতান্ আও আ-ওয়ী য় ইলা-রুক্নিন্ শাদীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘তোমাদের উপর যদি আমার শক্তি থাকতো অথবা আমি যদি আশ্রয় পেতাম কোনো সুদৃঢ় স্তম্ভের!’

মুহিউদ্দীন খান

মেহমান ফেরেশতাগন বলল - হে লূত (আঃ) আমরা তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হতে প্রেরিত ফেরেশতা। এরা কখনো তোমার দিকে পৌঁছাতে পারবে না। ব্যস তুমি কিছুটা রাত থাকতে থাকতে নিজের লোকজন নিয়ে বাইরে চলে যাও। আর তোমাদের কেউ যেন পিছনে ফিরে না তাকায়। কিন্তু তোমার স্ত্রী নিশ্চয় তার উপরও তা আপতিত হবে, যা ওদের উপর আপতিত হবে। ভোর বেলাই তাদের প্রতিশ্রুতির সময়, ভোর কি খুব নিকটে নয়?

বাংলা উচ্চারণ

ক্বালূ ইয়া-লূত্ব ইন্না- রুসুলু রব্বিকা লাইঁ ইয়াছিলূ য় ইলাইকা ফাআস্রি বিআহ্লিকা বিক্বিত্বুই'ম্ মিনাল লাইলি অলা-ইয়াল্তাফিত্ মিন্কুম্ আহাদুন্ ইল্লা ম্রয়াতাক্ ইন্নাহূ মুছীবুহা-মা য় আছোয়া-বাহুম্ ইন্না মাও ই'দাহুমু ছ্ছুব্হু আলাইসাস্ ছুব্হু বিক্বরীব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: হে লুত! আমরা তো আপনার প্রভুর দূত। ওরা কখনো তোমার কাছে পৌঁছাতে পারবে না। আপনি রাতের কোনো এক সময় আপনার পরিবার পরিজন নিয়ে বের হয়ে পড়ুন এবং আপনাদের কেউই যেনো পেছনে না তাকায়। তবে আপনার স্ত্রীকে সাথে নেবেন না। তাদের যা ঘটবে তারও তাই ঘটবে। প্রভাতই তাদের নির্ধারিত সময়। প্রভাত কি ঘনিয়ে আসেনি?

মুহিউদ্দীন খান

অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল, তখন আমি উক্ত জনপদকে উপরকে নীচে করে দিলাম এবং তার উপর স্তরে স্তরে কাঁকর পাথর বর্ষণ করলাম।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা- জ্বা - য়া আম্রুনা- জ্বা'আল্না- 'আ-লিয়াহা-সা-ফিলাহা-অ আম্ত্বোর্য়ানা-'আলাইহা- হিজ্বা-রাতাঁম্ মিন্ সিজ্জ্বীলিম্ মান্দ্বূদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর যখন আমাদের নির্দেশ এসে পৌছে, তখন আমরা সেই জনপদকে উল্টে দিয়েছি এবং তার উপর অনবরত বর্ষণ করেছি পাথর কঙ্কর।

মুহিউদ্দীন খান

যার প্রতিটি তোমার পালনকর্তার নিকট চিহ্নিত ছিল। আর সেই পাপিষ্ঠদের থেকে খুব দূরেও নয়।

বাংলা উচ্চারণ

মুসাঅমাতান্ 'ইন্দা রব্বিক্ অমা-হিয়া মিনাজ্জোয়া-লিমীনা বিবা'ঈদ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে সেগুলো ছিলো (তাদের) নাম লেখা কঙ্কর। সেই জনপদ (তোমার প্রতিপক্ষ) এই যালিমদের থেকে দূরে নয়।

মুহিউদ্দীন খান

আর মাদইয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই শোয়ায়েব (আঃ) কে প্রেরণ করেছি। তিনি বললেন - হে আমার কওম! আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ছাড়া আমাদের কোন মাবুদ নাই। আর পরিমাপে ও ওজনে কম দিও না, আজ আমি তোমাদেরকে ভাল অবস্থায়ই দেখছি, কিন্তু আমি তোমাদের উপর এমন একদিনের আযাবের আশঙ্কা করছি যেদিনটি পরিবেষ্টনকারী।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইলা-মাদ্ইয়ানা আখ-হুম্ শু'আইবা- ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি'বুদুল্লা-হা মা-লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গইরুহ্ অলা-তান্ক্বুছুল্ মিক্ইয়া-লা অল্মীযা-না ইন্নী য় আর-কুম্ বিখইরিঁও অইন্নী য় আখ-ফু 'আলাইকুম্ 'আযা-বা ইয়াওমিম্ মুহীত্ব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা মাদায়ানে পাঠিয়েছিলাম তাদেরই ভাই শুয়াইবকে। সে তাদের বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তোমরা মাপে এবং ওজনে কম করোনা। আমি তো তোমাদের স্বচ্ছল দেখছি। আমি তোমাদের উপর আশংকা করছি এক সর্বগ্রাসী দিনের আযাবের।

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি, ন্যায়নিষ্ঠার সাথে ঠিকভাবে পরিমাপ কর ও ওজন দাও এবং লোকদের জিনিসপত্রে কোনরূপ ক্ষতি করো না, আর পৃথিবীতে ফাসাদ করে বেড়াবে না।

বাংলা উচ্চারণ

অইয়া-ক্বওমি আওফুল্ মিক্ইয়া-লা অল্মীযা-না বিল্কিস্ত্বি অলা-তাব্ খাসুন্না-সা আশ্ইয়া - য়া হুম্ অলা-ত্বা'ছাও ফীল্ র্আদ্বি মুফ্সিদীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! ইনসাফের সাথে পূর্ণ করে দাও মাপ এবং ওজন। মানুষকে তাদের প্রাপ্য সামগ্রী কম দিও না এবং দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িয়োনা।

মুহিউদ্দীন খান

প্রদত্ত উদ্ধৃত্ত তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা হও, আর আমি তো তোমাদের উপর সদা পর্যবেক্ষণকারী নই।

বাংলা উচ্চারণ

বাক্বিইয়াতুল্লা-হি খইরুল্লাকুম্ ইন্ কুন্তুম্ মুমিনীনা অমা য় আনা 'আলাইকুম্ বিহাফীজ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর অনুমোদিত বাকিটাই (লাভটাই) তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তুমি হও। আমি তোমাদের উপর পাহারাদার নই।’’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - হে শোয়ায়েব (আঃ) আপনার কি আপনাকে ইহাই শিক্ষা দেয় যে, আমরা ঐসব উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব আমাদের বাপ - দাদারা যাদের উপাসনা করত? অথবা আমাদের ধন - সম্পদে ইচ্ছামত যা কিছু করে থাকি, তা ছেড়ে দেব? আপনি তো একজন খাস মহৎ ব্যক্তি ও সৎপথের পথিক।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ ইয়া-শু'আইবু আ ছলা-তুকা তামুরুকা আন্ নাত্রুকা মা-ইয়া'বুদু আ-বা - য়ুনা য় আও আন্নাফ্'আলা ফী য় আম্ওয়া-লিনা- মা-নাশা - য়্ ইন্নাকা লাআন্তাল্ হালীর্মু রশীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা বলেছিল: ‘হে শুয়াইব! তোমার কি তোমাকে এই নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পূর্ব পুরুষরা যে সবের ইবাদত করতো আমরা যেনো সেগুলোকে ত্যাগ করি? কিংবা আমাদের ধন - সম্পদ নিয়ে আমরা যা ইচ্ছে তাই করি? শুধু তুমি রয়ে গেলে একজন উঁচু মনের ধৈর্যশীল সৎ মানুষ।’

মুহিউদ্দীন খান

শোয়ায়েব (আঃ) বললেন - হে দেশবাসী, তোমরা কি মনে কর! আমি যদি আমার পরওয়ারদেগারের পক্ষ হতে সুস্পষ্ট দলীলের উপর কায়েম থাকি আর তিনি যদি নিজের তরফ হতে আমাকে উত্তম রিযিক দান করে থাকেন, (তবে কি আমি তাঁর হুকুম অমান্য করতে পারি?) আর আমি চাই না যে তোমাদেরকে যা ছাড়াতে চাই পরে নিজেই সে কাজে লিপ্ত হব, আমি তো যথাসাধ্য শোধরাতে চাই। আল্লাহর মদদ দ্বারাই কিন্তু কাজ হয়ে থাকে, আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি এবং তাঁরই প্রতি ফিরে যাই।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি আরায়াইতুম্ ইন্ কুন্তু 'আলা-বাইয়িনাতিম্ র্মি রব্বী অরযাক্বানী মিনহু রিয্ক্বন্ হাসানা- অমা য় উরীদু আন্ উখা-লিফাকুম্ ইলা- মা য় আন্হা-কুম্ 'আন্হু ইন্ উরীদু ইল্লাল্ ইছ্লা-হা মাস্ তাত্বোয়া'তু অমা-তাওফীক্বী য় ইল্লা- বিল্লা-হ্ 'আলাইহি তাঅক্কাল্তু অ ইলাইহি উনীব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা কি ভেবে দেখেছো, আমি যদি আমার প্রভুর পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে উত্তম জীবিকা দান করেন (তবে আমি কী করে তাঁর অবাধ্য হই?)। আমি চাইনা, তোমাদেরকে আমি যা নিষেধ করছি, আমি নিজেই তার বিপরীত আচরণ করি। আমি তো আমার সাধ্যমতো সংশোধন করতে চাই। আমি তো ততোটাই করি যতোটা আমাকে তৌফিক দেন। তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করেছি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী।

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি! আমার সাথে জিদ করে তোমরা নূহ বা হুদ অথবা সালেহ (আঃ) এর কওমের মত নিজেদের উপর আযাব ডেকে আনবে না। আর লূতের জাতি তো তোমাদের থেকে খুব দূরে নয়।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয়া-ক্বওমি লা-ইয়াজ্বুরিমান্নাকুম্ শিক্ব-ক্বী য় আইঁ ইয়ুছীবাকুম্ মিছ্লু মা য় আছোয়া-বা ক্বওমা নূহিন্ আও ক্বওমা হূদিন্ আও ক্বওমা ছোয়া-লিহ্ অমা-ক্বওমু লূত্বিম্ মিন্কুম্ বিবা'ঈদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! আমার বিরুদ্ধাচরণ যেনো তোমাদেরকে এমন অপরাধে লিপ্ত না করে, যার ফলে তোমাদের উপর সে রকম বিপদ এসে পড়ে, যে রকম আপদ আপতিত হয়েছিল নূহের কওম, হুদের কওম, কিংবা সালেহর কওমের উপর। আর লুতের কওমের ঘটনা তো তোমাদের থেকে বেশি দূরের নয়।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমাদের পালনকর্তার কাছে মার্জনা চাও এবং তাঁরই পানে ফিরে এসো নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগার খুবই মেহেরবান অতিস্নেহময়।

বাংলা উচ্চারণ

অস্তাগ্ফিরূ রব্বাকুম্ ছুম্মা তূবূ য় ইলাইহ্ ইন্না রব্বী রাহীমুঁও অদূদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তারপর তাঁরই দিকে ফিরে আসো। নিশ্চয়ই আমার প্রভু পরম দয়াবান, বন্ধুসুলভ।’’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল - হে শোয়ায়েব (আঃ) আপনি যা বলেছেন তার অনেক কথাই আমরা বুঝি নাই, আমারা তো আপনাকে আমাদের মধ্যে দূর্বল ব্যক্তি রূপে মনে করি। আপনার ভাই বন্ধুরা না থাকলে আমরা আপনাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করতাম। আমাদের দৃষ্টিতে আপনি কোন মর্যাদাবান ব্যক্তি নন।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ ইয়া শু'আইবু মা-নাফ্ক্বহু ক্বছীরাঁম্ মিম্মা-তাকুলু অ ইন্না-লানার-কা-ফীনা-দ্বোয়া'ঈফান্ অলাওলা-রাহ্ত্বকা লারাজ্বাম্না-কা অমা য় আন্তা 'আলাইনা বি'আযীয্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা বলেছিল: ‘হে শুয়াইব! তুমি যা বলছো তার অনেক কথাই আমরা বুঝতে পারছিনা। আমাদের মাঝে তো আমরা তোমাকে দুর্বল দেখতে পাচ্ছি। আমাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর মেরে হত্যাই করতাম আর আমাদের উপর তুমি শক্তিমান নও।’

মুহিউদ্দীন খান

শোয়ায়েব (আঃ) বলেন - হে আমার জাতি, আমার ভাই বন্ধুরা কি তোমাদের কাছে আল্লাহর চেয়ে প্রভাবশালী? আর তোমরা তাকে বিস্মৃত হয়ে পেছনে ফেলে রেখেছ, নিশ্চয় তোমাদের কার্যকলাপ আমার পালনকর্তার আয়ত্তে রয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি আরহ্ত্বী য় আ 'আয্যু 'আলাইকুম্ মিনাল্লা-হ্ অত্তাখায্তুমূহু অরা - য়াকুম্ জিহ্রিয়্যা-ইন্না রব্বী বিমা- তা'মালূনা মুহীত্ব।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমাদের সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্কটা কি আল্লাহর চাইতেও তোমাদের উপর বেশি শক্তিশালী? অথচ তোমরা তাঁকেই সম্পূর্ণ পেছনে ফেলে রেখেছো। জেনে রাখো, তোমরা যা করছো আমার প্রভু তা পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।’

মুহিউদ্দীন খান

আর হে আমার জাতি, তোমরা নিজ স্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করছি, অচিরেই জানতে পারবে কার উপর অপমানকর আযাব আসে আর কে মিথ্যাবাদী? আর তোমরাও অপেক্ষায় থাক, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।

বাংলা উচ্চারণ

অইয়া-ক্বওমি'মালূ 'আলা-মাকা-নাতিকুম্ ইন্নী 'আ-মিল্ সাওফা তা'লামূনা মাইঁ ইয়াতী হি 'আযা-বুঁই ইয়ুখ্যীহি অমান্ হুঅ কা-যিব্ র্অতাক্বিবূ য় ইন্নী মা'আকুম্ রক্বীব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার কওম! তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে নিজেদের কর্মকান্ড করতে থাকো, আমিও আমার কাজ করে যাবো। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে, কার উপর এসে পড়ে অপমানকর আযাব এবং কে মিথ্যাবাদী? তোমরা অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’’

মুহিউদ্দীন খান

আর আমার হুকুম যখন এল, আমি শোয়ায়েব (আঃ) ও তাঁর সঙ্গী ঈমানদারগণকে নিজ রহমতে রক্ষা করি আর পাপিষ্ঠদের উপর বিকট গর্জন পতিত হলো। ফলে ভোর না হতেই তারা নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।

বাংলা উচ্চারণ

অলাম্মা-জ্বা - য়া আম্রুনা- নাজ্জ্বাইনা- শু'আইবাঁও ফী দিয়া- রিহিম্ জ্বা-সিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর যখন আমাদের নির্দেশ এসে পড়েছিল, আমরা আমাদের রহমতে নাজাত দিয়েছিলাম শুয়াইবকে এবং যারা তার সাথে ঈমান এনেছিল তাদেরকে। আর মহা বিকট শব্দ পাকড়াও করে নিয়েছিল যালিমদেরকে। ফলে তারা তাদের ঘরে ঘরে উপুড় হয়ে পড়েছিল।

মুহিউদ্দীন খান

যেন তারা সেখানে কখনো বসবাসই করে নাই। জেনে রাখ, সামুদের প্রতি অভিসম্পাতের মত মাদইয়ানবাসীর উপরেও অভিসম্পাত।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বআল্লাম্ ইয়াগ্নাও ফীহা- আলা-বু'দা ল্লিমাদ্ইয়ানা কামা- বা'ইদাত্ ছামূদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবস্থা এমন হয়েছিল, যেনো তারা কখনো সেখানে বসবাসই করেনি। সাবধান! মাদায়েনবাসী ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল যেমন ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল সামুদ জাতি।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি মূসা (আঃ) কে প্রেরণ করি আমার নিদর্শনাদি ও সুস্পষ্ট সনদসহ;

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বদ্ র্আসাল্না- মূসা- বিআ-ইয়া-তিনা- অ সুল্ত্বোয়া-নিম্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসাকে পাঠিয়েছিলাম আমাদের নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে,

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে, তবুও তারা ফেরাউনের হুকুমে চলতে থাকে, অথচ ফেরাউনের কোন কথা ন্যায় সঙ্গত ছিল না।

বাংলা উচ্চারণ

ইলা-র্ফি'আউনা অ মালায়িহী ফাত্তাবা'ঊ য় আম্রা র্ফি'আঊনা অমা য় আম্রু র্ফি'আঊনা বিরশীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে। কিন্তু তারা ফেরাউনের নির্দেশের অনুসরণ করে, অথচ ফেরাউনের নির্দেশ ন্যায্য ছিলনা।

মুহিউদ্দীন খান

কেয়ামতের দিন সে তার জাতির লোকদের আগে আগে থাকবে এবং তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পৌঁছে দিবে। আর সেটা অতীব নিকৃষ্ট স্থান, সেখানে তারা পৌঁছেছে।।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াক্বদুমু ক্বওমাহূ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি ফাআওরাদা হুমুন্নার্- অবিসাল্ ওর্য়িদুল্ মাওরূদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিয়ামতের দিন সে তার (অনুগামী) কওমের সামনে সামনেই থাকবে এবং তাদের নিয়ে প্রবেশ করবে জাহান্নামে। যেখানে তাদের প্রবেশ করানো হবে তা কতো যে নিকৃষ্ট জায়গা!

মুহিউদ্দীন খান

আর এ জগতেও তাদের পেছনে লানত রয়েছে এবং কিয়ামতের দিনেও; অত্যন্ত জঘন্য প্রতিফল, যা তারা পেয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

অউত্বি'ঊ ফী হা-যিহী লা'নাতাঁও অ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ বি'র্সা রিফ্দুল্ র্মাফূদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই দুনিয়ায় এবং কিয়ামতের দিনেও তাদেরকে লানতের অনুগামী করা হয়েছে। তাদেরকে যে পুরস্কার দেয়া হবে, তা কতো যে নিকৃষ্ট পুরস্কার!

মুহিউদ্দীন খান

এ হচ্ছে কয়েকটি জনপদের সামান্য ইতিবৃত্ত, যা আমি আপনাকে শোনাচ্ছি। তন্মধ্যে কোন কোনটি এখনও বর্তমান আছে আর কোন কোনটির শিকড় কেটে দেয়া হয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা মিন্ আম্বা - য়িল্ কুরা- নাকুছ্ছুহূ 'আলাইকা মিন্হা- ক্বা - য়িমুঁও অহাছীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ হলো জনপদসমূহের সংবাদ যা আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করছি। সেগুলোর মধ্যে কিছু (জনপদের চি‎হ্ন‎‎) এখনো বিদ্যমান আছে, আর কিছু হয়ে গেছে বিলীন।

মুহিউদ্দীন খান

আমি কিন্তু তাদের প্রতি জুলুম করি নাই বরং তারা নিজেরাই নিজের উপর অবিচার করেছে। ফলে আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যেসব মাবুদকে ডাকতো আপনার পালনকর্তার হুকুম যখন এসে পড়ল, তখন কেউ কোন কাজে আসল না। তারা শুধু বিপর্যয়ই বৃদ্ধি করল।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-জলাম্না-হুম্ অলা-কিন্ জলামূ য় আন্ফুসাহুম্ ফামা য় আগ্নাত্ 'আন্হুম্ আ-লিহাতুহুমুল্লাতী ইয়াদ্'ঊনা মিন্ দূনিল্লা-হি মিন্ শাইয়িল্ লাম্মা- জ্বা - য়া আম্রু রব্বিক্ অমা-যা-দূহুম্ গইরা তাত্বীব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের প্রতি যুলুম করিনি, বরং তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল। তাদের উপর যখন আমাদের শাস্তির ফায়সালা এসেছিল, তখন তারা আল্লাহকে ছাড়া যাদের ডাকতো সেই সব ইলাহরা তাদের কিছুমাত্র কাজে আসেনি। তারা তাদের ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই বাড়ায়নি।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমার পরওয়ারদেগার যখন কোন পাপপূর্ণ জনপদকে ধরেন, তখন এমনিভাবেই ধরে থাকেন। নিশ্চয় তাঁর পাকড়াও খুবই মারাত্নক, বড়ই কঠোর।

বাংলা উচ্চারণ

অ কাযা-লিকা আখ্যু রব্বিকা ইযা য় আখযাল্ কুরা-অহিয়া জোয়া-লিমাহ্ ইন্না আখ্যাহূ য় আলীমুন্ শাদীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো জনপদ যখন যুলুম করতে থাকে, তখন তোমার প্রভু তাদেরকে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকেন। তাঁর শাস্তি বড়ই কঠিন বেদনাদায়ক।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন রয়েছে এমন প্রতিটি মানুষের জন্য যে আখেরাতের আযাবকে ভয় করে। উহা এমন একদিন, যে দিন সব মানুষেই সমবেত হবে, সেদিনটি যে হাযিরের দিন।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া তাল্লিমান্ খা-ফা 'আযা-বাল্ আ-খিরাহ্ যা-লিকা ইয়াওমুম্ মাজ্বুমূঊ'ল্ লাহুন্না-সু অ যা-লিকা ইয়াওমুম্ মাশ্হূদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর মধ্যে রয়েছে নিদর্শন তাদের জন্যে, যারা আখিরাতের আযাবকে ভয় পায়। সেদিন সব মানুষকে জমা করা হবে এবং সেটাই হবে উপস্থিতির দিন।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি যে উহা বিলম্বিত করি, তা শুধু একটি ওয়াদার কারণে যা নির্ধারিত রয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-নুওয়াখ্খিরুহূ য় ইল্লা-লিআজ্বালিম্ মা'দূদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটাকে আমরা একটা নির্দিষ্ট কালের জন্যে স্থগিত রেখেছি মাত্র।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন তা আসবে সেদিন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কোন কথা বলতে পারে না। অতঃপর কিছু লোক হবে হতভাগ্য আর কিছু লোক সৌভাগ্যবান।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াওমা ইয়াতি লা-তাকাল্লামু নাফ্সুন্ ইল্লা-বিইয্নিহী ফামিন্হুম্ শাক্বিইয়ুওঁ অসাঈ'দ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে দিনটি যখন আসবে তখন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউই কথা বলতে পারবে না। তাদের মধ্যে কিছু লোক হবে হতভাগ্য আর কিছু লোক হবে ভাগ্যবান।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব যারা হতভাগ্য তারা দোযখে যাবে, সেখানে তারা আর্তনাদ ও চিৎকার করতে থাকবে।

বাংলা উচ্চারণ

ফাআম্মাল্লাযীনা শাকুফাফিন্না-রি লাহুম্ ফীহা- যাফীরুঁও অ শাহীক্ব।

আবদুস শহীদ নাসিম

হতভাগারা থাকবে জাহান্নামে। সেখানে তাদের জন্যে থাকবে কেবল চিৎকার আর আর্তনাদ।

মুহিউদ্দীন খান

তারা সেখানে চিরকাল থাকবে, যতদিন আসমান ও যমীন বর্তমান থাকবে। তবে তোমার প্রতিপালক অন্য কিছু ইচ্ছা করলে ভিন্ন কথা। নিশ্চয় তোমার পরওয়ারদেগার যা ইচ্ছা করতে পারেন।

বাংলা উচ্চারণ

খলিদীনা ফীহা- মা-দা-মাতিস্ সামাঅতু অল্ র্আদু ইল্লা- মা-শা - য়া রব্বুক্ ইন্না রব্বাকা ফা'আ-লুল্লিমা-ইয়ুরীদ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানেই স্থায়ীভাবে পড়ে থাকবে তারা যতোদিন মহাকাশ ও পৃথিবী বিদ্যমান থাকবে, যদি না তোমার প্রভু অন্য কিছু চান। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু যা চান তাই করেন।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা সৌভাগ্যবান তারা বেহেশতের মাঝে, সেখানেই চিরদিন থাকবে, যতদিন আসমান ও যমীন বর্তমান থাকবে। তবে তোমার প্রভু অন্য কিছু ইচ্ছা করলে ভিন্ন কথা। এ দানের ধারাবাহিকতা কখনো ছিন্ন হওয়ার নয়।

বাংলা উচ্চারণ

অ আম্মাল্লাযীনা সুই'দূ ফাফীল্ জ্বান্নাতি খ-লিদীনা ফীহা- মা-দা-মাতিস্ সামাঅতু অল্ র্আদু ইল্লা-মা-শা - য়া রব্বুক্ 'আত্বোয়া - য়ান্ গাইরা মাজ্বুযূয্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা হবে ভাগ্যবান, তারা থাকবে জান্নাতে। চিরকাল তারা সেখানে (উপভোগ করতে) থাকবে, যতোদিন বিদ্যমান থাকবে মহাকাশ ও পৃথিবী, যদি না তোমার প্রভু ভিন্ন কিছু চান। এ এক অনন্ত অবিরাম পুরস্কার।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, তারা যেসবের উপাসনা করে তুমি সে ব্যাপারে কোনরূপ ধোঁকায় পড়বে না। তাদের পূর্ববর্তী বাপ - দাদারা যেমন পূজা উপাসনা করত, এরাও তেমন করছে। আর নিশ্চয় আমি তাদেরকে আযাবের ভাগ কিছু মাত্রও কম না করেই পুরোপুরি দান করবো।

বাংলা উচ্চারণ

ফালা-তাকু ফী র্মিইয়াতিম্ মিম্মা-ইয়া'বুদু হা য় য়ুলা - য়্ মা- ইয়া'বুদূনা ইল্লা-কামা- ইয়া'বুদূ আ-বা - য়ু হুম্ মিন্ ক্বাব্ল্ অ ইন্না- লামুঅফ্ফূহুম্ নাছীবাহুম্ গইর মান্ক্ব ূছ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তারা যে সবের ইবাদত করে সেগুলোর ভ্রান্ত বাতিল হবার ব্যাপারে তুমি মোটেও সংশয়ে থেকোনা। আগে তাদের বাপ - দাদারা যাদের ইবাদত করতো তারাও তাদেরই ইবাদত করে। আমরা অবশ্যি তাদের প্রাপ্য অংশ কিছুমাত্র কম না করে পুরোপুরি দেবো।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি মূসা (আঃ) - কে অবশ্যই কিতাব দিয়েছিলাম অতঃপর তাতে বিরোধ সৃষ্টি হল; বলাবাহুল্য তোমার পালনকর্তার পক্ষ হতে, একটি কথা যদি আগেই বলা না হত, তাহলে তাদের মধ্যে চুড়ান্ত ফয়সালা হয়ে যেত তারা এ ব্যাপারে এমনই সন্দেহ প্রবণ যে, কিছুতেই নিশ্চিত হতে পারছে না।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বদ্ আ-তাইনা- মূসাল্ কিতা-বা ফাখ্তুলিফা ফীহ্ অলাওলা- কালিমাতুন্ সাবাক্বত্ র্মি রব্বিকা লাকুদ্বিয়া বাইনাহুম্ অইন্নাহুম্ লাফী শাক্কিম্ মিন্হু মুরীব্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসাকেও কিতাব দিয়েছিলাম এবং তা নিয়েও মতভেদ করা হয়েছিল। তোমার প্রভুর পূর্ব ফায়সালা না থাকলে তাদের মাঝেও মীমাংসা হয়ে যেতো। তারা অবশ্যি এ (কিতাব) নিয়ে ভ্রান্তিকর সংশয়ের মধ্যে ছিলো।

মুহিউদ্দীন খান

আর যত লোকই হোক না কেন, যখন সময় হবে, তোমার প্রভু তাদের সকলেরই আমলের প্রতিদান পুরোপুরি দান করবেন। নিশ্চয় তিনি তাদের যাবতীয় কার্যকলাপের খবর রাখেন।

বাংলা উচ্চারণ

অইন্না কুল্লাল্লাম্মা- লাইয়ুঅ ফ্ফিয়ান্নাহুম্ রব্বুকা আ'মা-লাহুম্ ইন্নাহূ বিমা-ইয়া'মালূনা খর্বী।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন নির্ধারিত সময়টি আসবে, তখন অবশ্যি তোমার প্রভু তাদের প্রত্যেককে তার আমলের পূর্ণ প্রতিদান দেবেন। তারা যা আমল করে সে বিষয়ে তিনি পুরোপুরি অবহিত।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, তুমি এবং তোমার সাথে যারা তওবা করেছে সবাই সোজা পথে চলে যাও - যেমন তোমায় হুকুম দেয়া হয়েছে এবং সীমা লঙ্ঘন করবে না, তোমরা যা কিছু করছ, নিশ্চয় তিনি তার প্রতি দৃষ্টি রাখেন।

বাংলা উচ্চারণ

ফাস্তাক্বিম্ কামা য় উর্মিতা অমান্ তা-বা মা'আকা অলা-তাত্বুগও ইন্নাহূ বিমা-তা'মালূনা বার্ছী।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তোমাকে যে রকম নির্দেশ দেয়া হয়েছে তার উপর কায়েম থাকো তুমি এবং তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে তারা, আর সীমালংঘন করোনা। তোমরা যা আমল করো সবই তাঁর দৃষ্টিপথে রয়েছে।

মুহিউদ্দীন খান

আর পাপিষ্ঠদের প্রতি ঝুঁকবে না। নতুবা তোমাদেরকেও আগুনে ধরবে। আর ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু নাই। অতএব কোথাও সাহায্য পাবে না।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-র্তাকানূ য় ইলা ল্লাযীনা জোয়ালামূ ফাতামাস্সাকুমুন্না-রু অমা-লাকুম্ মিন্ দূনিল্লা-হি মিন্ আউলিয়া - য়া ছুম্মা লা- তুন্ছোয়ারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা যুলুম করেছে তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়োনা, তাহলে তোমাদের স্পর্শ করবে জাহান্নামের আগুন এবং ছাড়া তোমাদের আর কোনো অলি থাকবে না, আর তোমাদেরকে সাহায্যও করা হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

আর দিনের দুই প্রান্তেই ঠিক রাখবে, এবং রাতের প্রান্তভাগে পূর্ণ কাজ অবশ্যই পাপ দূর করে দেয়, যারা স্মরণ রাখে তাদের জন্য এটি এক মহা স্মারক।

বাংলা উচ্চারণ

অআক্বিমিছ্ ছলা-তা ত্বোয়ারাফায়িন্নাহা-রি অযুলাফাম্ মিনাল্ লাইল্ ইন্নাল্ হাসানা-তি ইয়ুয্হিব্নাস্ সাইয়িয়া-ত্ যা-লিকা যিক্র-লিয্যা-কিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কায়েম করো দিনের দুই প্রান্তে (অর্থাৎ ফজর এবং যোহর, আসর ও মাগরিব) এবং রাতের প্রথমাংশে (অর্থাৎ এশার )। নিশ্চয়ই পুণ্য মিটিয়ে দেয় পাপকে। এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্যে একটি উপদেশ।

মুহিউদ্দীন খান

আর ধৈর্য্যধারণ কর, নিশ্চয়ই পূণ্যবানদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।

বাংলা উচ্চারণ

অর্ছ্বি ফাইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ুদ্বী'উআজ্বুরাল্ মুহ্সিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সবর অবলম্বন করো। অবশ্যি বিনষ্ট করেন না পূণ্যবানদের কর্মফল।

মুহিউদ্দীন খান

কাজেই, তোমাদের পূর্ববতী জাতি গুলির মধ্যে এমন সৎকর্মশীল কেন রইল না, যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে বাধা দিত; তবে মুষ্টিমেয় লোক ছিল যাদেরকে আমি তাদের মধ্য হতে রক্ষা করেছি। আর পাপিষ্ঠরা তো ভোগ বিলাসে মত্ত ছিল যার সামগ্রী তাদেরকে যথেষ্ট দেয়া হয়েছিল। আসলে তারা ছিল মহা অপরাধী।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাওলা কা-না মিনাল্ কুরূনি মিন্ ক্বব্লিকুম্ ঊলূবাক্বিয়াতিঁ ইয়ান্হাওনা 'আনিল্ ফাসা-দি ফীল্ র্আদ্বি ইল্লা-ক্বালীলাম্ মিম্মান্ আন্জ্বাইনা-মিনহুম্ অত্তাবা'আ ল্লাযীনা জোয়ালামূ মা য় উত্রিফূ ফীহি অ কা-নূ মুজ্বু্রিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমাদের পূর্ব প্রজন্মের যাদের রক্ষা করেছিলাম, তাদের স্বল্প সংখ্যক ছাড়া বাকিরা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করতে নিষেধ করতো না কেন? যালিমরা সে সময়েরই অনুসরণ করতো যাতে সুখ - স্বাচ্ছন্দ পেতো। আসলে তারা ছিলো অপরাধী।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমার পালনকর্তা এমন নন যে, জনবসতিগুলোকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেবেন, সেখানকার লোকেরা সৎকর্মশীল হওয়া সত্ত্বেও।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-কা-না রব্বুকা লিইয়ুহ্লিকাল্ কুরা বিজুল্মিঁও অআহ্লুহা-মুছ্লিহূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অধিবাসীরা সংশোধনকামী থাকা অবস্থায় তোমার প্রভু অন্যায়ভাবে কোনো জনপদকে ধ্বংস করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমার পালনকর্তা যদি ইচ্ছা করতেন, তবে অবশ্যই সব মানুষকে একই জাতিসত্তায় পরিনত করতে পারতেন আর তারা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হতো না।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও শা - য়া রব্বুকা লাজ্বা'আলান্না-সা উম্মাতাঁও ওয়া-হিদাতাঁও অলা-ইয়াযা-লূনা মুখ্তালিফীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু চাইলে সব মানুষকে এক উম্মত বানাতে পারতেন। কিন্তু তারা বিভেদকারীই থেকে যাবে।

মুহিউদ্দীন খান

তোমার পালনকর্তা যাদের উপর রহমত করেছেন, তারা ব্যতীত সবাই চিরদিন মতভেদ করতেই থাকবে এবং এজন্যই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর তোমার আল্লাহর কথাই পূর্ণ হল যে, অবশ্যই আমি জাহান্নামকে জ্বিন ও মানুষ দ্বারা একযোগে ভর্তি করব।

বাংলা উচ্চারণ

ইল্লা-র্মা রহিমা রব্বুক্ অলিযা-লিকা খলাক্বহুম্ অ তাম্মাত্ কালিমাতু রব্বিকা লাআম্লায়ান্না জ্বাহান্নামা মিনাল্ জ্বিন্নাতি অন্না-সি আজ্ব্মা'ঈন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তোমার প্রভু যাদের রহম করেন তারা ছাড়া। আর তিনি এ জন্যেই তাদের সৃষ্টি করেছেন। ‘আমি অবশ্যি জিন এবং ইনসানকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করবো’ - তোমার প্রভুর এ ঘোষণা পূর্ণ হবেই।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি রসূলগণের সব বৃত্তান্তই তোমাকে বলছি, যদ্দ্বারা তোমার অন্তরকে মজবুত করছি। আর এভাবে তোমার নিকট মহাসত্য এবং ঈমানদারদের জন্য নসীহত ও স্বরণীয় বিষয়বস্তু এসেছে।

বাংলা উচ্চারণ

অকুল্লান্ নাকুছ্ছু 'আলাইকা মিন্ আম্বা-র্য়ি রুসুলি মা-নুছাব্বিতু বিহী ফুয়াদাকা অজ্বা - য়াকা ফী হা- যিহিল্ হাক্বকুঅমাও 'ইজোয়াতুঁও অযিক্রা- লিল্মুমিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(পূর্বের) রসূলদের এসব সংবাদ আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করছি এ জন্যে, যেনো এর মাধ্যমে আমরা তোমার হৃদয়কে দৃঢ় করি, আর এর মাধ্যমে তোমার কাছে এসেছে সত্য (ইতিহাস)। তাছাড়া এটি হলো মুমিনদের জন্যে উপদেশ এবং সতর্কবাণী।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা ঈমান আনে না, তাদেরকে বলে দাও যে, তোমরা নিজ নিজ অবস্থায় কাজ করে যাও আমরাও কাজ করে যাই।

বাংলা উচ্চারণ

অকুল্ লিল্লাযীনা লা-ইয়ুমিনূনা' মালূ 'আলা- মাকা-নাতিকুম্ ইন্না- 'আমিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনেনা, তাদের বলে দাও: ‘‘তোমাদের অবস্থানে থেকে তোমরা তোমাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাও, আমরাও করে যাবো আমাদের কাজ।

মুহিউদ্দীন খান

এবং তোমরাও অপেক্ষা করে থাক, আমরাও অপেক্ষায় রইলাম।

বাংলা উচ্চারণ

অন্তাজিরূ ইন্না মুন্তাজিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমরা অপেক্ষা করো, আমরাও থাকলাম অপেক্ষায়।’’

মুহিউদ্দীন খান

আর আল্লাহর কাছেই আছে আসমান ও যমীনের গোপন তথ্য; আর সকল কাজের প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে; অতএব, তাঁরই বন্দেগী কর এবং তাঁর উপর ভরসা রাখ, আর তোমাদের কার্যকলাপ সম্বন্ধে তোমার পালনকর্তা কিন্তু বে - খবর নন।

বাংলা উচ্চারণ

অলিল্লা-হি গইবুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি অ ইলাইহি ইর্য়ুজ্বা'উল্ আম্রু কুল্লহূ ফা'বুদ্হু অতাঅক্কাল্ 'আলাইহি অমা-রব্বুকা বিগ-ফিলিন্ 'আম্মা-তা'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীর তো আল্লাহ্ই জানেন। সকল বিষয় তাঁরই কাছে রুজু হয়। সুতরাং তুমি তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করো। তোমরা যা করো সে বিষয়ে তোমার প্রভু গাফিল নন।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme