আলিফ - লা - ম - রা; এগুলো পরিপূর্ণ গ্রন্থ ও সুস্পষ্ট কোরআনের আয়াত।
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লাÑম্ র- তিল্কা আ-ইয়া-তুল্ কিতা-বি অক্বকুআÑনিম্ মুবীন্।
আলিফ - লাম - রা। এগুলো আয়াত আল কিতাব এবং সুস্পষ্ট কুরআনের।
Chapter 15, 99 verses
আলিফ - লা - ম - রা; এগুলো পরিপূর্ণ গ্রন্থ ও সুস্পষ্ট কোরআনের আয়াত।
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লাÑম্ র- তিল্কা আ-ইয়া-তুল্ কিতা-বি অক্বকুআÑনিম্ মুবীন্।
আলিফ - লাম - রা। এগুলো আয়াত আল কিতাব এবং সুস্পষ্ট কুরআনের।
কোন সময় কাফেররা আকাঙ্ক্ষা করবে যে, কি চমৎকার হত, যদি তারা মুসলমান হত।
রুবামা- ইয়াওয়াদ্দুল্লাযীনা কাফারূ লাও কা-নূ মুসলিমীন্।
কাফিররাও কখনো কখনো আকাঙ্খা করে, যদি তারা মুসলিম হতো!
আপনি ছেড়ে দিন তাদেরকে, খেয়ে নিক এবং ভোগ করে নিক এবং আশায় ব্যাপৃত থাকুক। অতি সত্বর তারা জেনে নেবে।
র্যাহুম্ ইয়াকুলূ অইয়াতামাত্তাঊ অইয়ুল্হিহিমুল্ আমালু ফাসাওফা ইয়ালামূন্।
তাদের উপেক্ষা করো: তারা খেতে থাকুক, ভোগ করতে থাকুক এবং তাদের আশা - আকাঙ্খা তাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখুক। অচিরেই তারা জানতে পারবে।
আমি কোন জনপদ ধবংস করিনি; কিন্ত তার নির্দিষ্ট সময় লিখিত ছিল।
অমা য় আহ্লাক্না-মিন্ র্ক্বইয়াতিন্ ইল্লা-অলাহা-কিতা-বুম্ মালূম্।
আমরা যে কোনো জনপদকেই হালাক করেছি, তার অবশ্যি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদকাল রেকর্ড করা ছিলো।
কোন সম্প্রদায় তার নির্দিষ্ট সময়ের অগ্রে যায় না এবং পশ্চাতে থাকে না।
মা-তাস্বিকু মিন্ উম্মাতিন্ আজ্বালাহা-অমা-ইয়াস্তাখিরূন্।
কোনো উম্মতের (ধ্বংসের) মেয়াদকাল এগিয়েও আসেনা এবং পিছিয়েও যায়না।
তারা বললঃ হে ঐ ব্যক্তি, যার প্রতি কোরআন নাযিল হয়েছে, আপনি তো একজন উম্মাদ।
অক্ব-লূ ইয়া য় আইয়্যুহাল্লাযী নুয্যিলা আলাইহিয্ যিক্রু ইন্নাকা লামাজুনূন্।
তারা বলে: ‘‘হে ঐ ব্যক্তি, যার প্রতি আয - যিকির (আল - কুরআন) নাযিল করা হয়েছে, তুমি অবশ্যি একজন পাগল।
যদি আপনি সত্যবাদী হন, তবে আমাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে আনেন না কেন?
লাও মা-তাতীনা বিল্ মালা-য়িকাতি ইন্ কুন্তা মিনাছ্ ছোয়া-দিক্বীন্।
তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আমাদের কাছে ফেরেশতা নিয়ে আসোনা কেন?’’
আমি ফেরেশতাদেরকে একমাত্র ফায়সালার জন্যেই নাযিল করি। তখন তাদেরকে অবকাশ দেয়া হবে না।
মা-নুনায্যিলুল্ মালা-য়িকাতা ইল্লাÑবিল্হাক্ব্ ক্বি অমা-কা-নূ য় ইযাম্ মুন্জোয়ারীন্।
আমরা তো বাস্তব পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া ছাড়া ফেরেশতা পাঠাইনা; আর যখনই ফেরেশতা পাঠাই তখন আর তাদের অবকাশ দেয়া হয়না।
আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক।
ইন্না-নাহ্নু নায্যাল্নায্ যিক্রা অইন্না-লাহূ লাহা-ফিজূন্।
আয - যিকির (আল - কুরআন) আমরাই নাযিল করেছি এবং আমরাই সেটির হিফাযতকারী।
আমি আপনার পূর্বে পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের মধ্যে রসূল প্রেরণ করেছি।
অলাক্বদ্ র্আসালনা-মিন্ ক্বব্লিকা ফী শিয়ইল্ আওঅলীন্।
তোমার আগেকার অনেক সম্প্রদায়ের কাছেই আমরা রসূল পাঠিয়েছিলাম।
ওদের কাছে এমন কোন রসূল আসেননি, যাদের সাথে ওরা ঠাট্টাবিদ্রূপ করতে থাকেনি।
অমা-ইয়া তীহিম্ র্মি রসূলিন্ ইল্লা- কা-নূ বিহী ইয়াস্তাহ্যিয়ূন্।
যখনই তাদের কাছে কোনো রসূল এসেছে তারা (তাকে নিয়ে) বিদ্রূপ করেছে
এমনিভাবে আমি এ ধরনের আচরণ পাপীদের অন্তরে বদ্ধমূল করে দেই।
কাযা-লিকা নাস্লুকুহূ ফী কুলূবিল্ মুজুরিমীন্।
এভাবে আমরা (সর্বকালের) অপরাধীদের অন্তরে তা (কুফুরি ও হঠকারিতা) সঞ্চার করি।
ওরা এর প্রতি বিশ্বাস করবে না। পূর্ববর্তীদের এমন রীতি চলে আসছে।
লাÑইয়ুমিনূনা বিহী অক্বদ্ খলাত্ সুন্নাতুল্ আওঅলীন্।
তারা এর (কুরআনের) প্রতি ঈমান আনেনা। আর অতীতের (অপরাধীদের) সুন্নতও ছিলো এটাই।
যদি আমি ওদের সামনে আকাশের কোন দরজাও খুলে দেই আর তাতে ওরা দিনভর আরোহণ ও করতে থাকে।
অলাও ফাতাহ্না- 'আলাইহিম্ বা-বাম্ মিনাস সামা-য়ি ফাজোয়াল্ল ফীহি ইয়ারুজুন্।
আমরা যদি তাদের জন্যে আসমানের দুয়ারও খুলে দিতাম এবং তারা যদি দিবালোকে তাতে মেরাজ (আরোহণ) করতেও থাকতো,
তবুও ওরা একথাই বলবে যে, আমাদের দৃষ্টির বিভ্রাট ঘটানো হয়েছে না বরং আমরা যাদুগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।
লাক্ব -লূ য় ইন্নামাÑসুক্কিরাত্ আব্ছোয়া- রুনা-বাল্ নাহ্নু ক্বওমুম্ মাস্হুরূন্।
তখনো তারা বলতো, আমাদের চোখকে সম্মোহিত করা হয়েছে, বরং আমরা জাদুগ্রস্ত লোক।
নিশ্চয় আমি আকাশে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছি এবং তাকে দর্শকদের জন্যে সুশোভিত করে দিয়েছি।
অলাক্বদ্ জ্বা'আল্না ফিস্ সামাÑয়ি বুরূজ্বাঁও অ যাইয়্যান্না-হা- লিন্না-যিরীন্।
আমরা আসমানে বুরুজ (গ্রহ - নক্ষত্র) স্থাপন করেছি এবং সেগুলোকে দর্শকদের জন্যে শোভামন্ডিত করেছি।
আমি আকাশকে প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান থেকে নিরাপদ করে দিয়েছি।
অ হাফিজ্নাহা-মিন্ কুল্লি শাইত্বোয়া-র্নি রাজ্বীম্।
এবং প্রতিটি অভিশপ্ত শয়তান থেকে সেটিকে হিফাযত করেছি।
কিন্তু যে চুরি করে শুনে পালায়, তার পশ্চাদ্ধাবন করে উজ্জ্বল উল্কাপিন্ড।
ইল্লা-মানিস্ তারাক্বাস সাম্আ ফাআত্ বাআহূ শিহা-বুম মুবীন্।
তবে কেউ যদি চুরি করে সংবাদ শুনতে চায় তার পশ্চাদধাবন করে উজ্জ্বল শিহাব (শিখা)।
আমি ভু - পৃষ্ঠকে বিস্তৃত করেছি এবং তার উপর পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক বস্তু সুপরিমিতভাবে উৎপন্ন করেছি।
অল্ র্আদ্বোয়া মাদাদ্না-হা- অআল্ক্বাইনা- ফীহা-রঅসিয়া অআম্বাত্না-ফীহা-মিন্ কুল্লি শাইয়িম্ মাওযূন্।
আর পৃথিবী, আমরা তাকে সমতল করে বিছিয়ে দিয়েছি, আর তাতে স্থাপন করেছি পাহাড় - পর্বত এবং তাতে উৎপন্ন করেছি প্রতিটি জিনিস ওজন মতো (যথাযথ পরিমাণে)।
আমি তোমাদের জন্যে তাতে জীবিকার উপকরন সৃষ্টি করছি এবং তাদের জন্যেও যাদের অন্নদাতা তোমরা নও।
অ জ্বাআল্না-লাকুম্ ফীহা মাআইয়িশা অমাল্ লাস্তুম্ লাহূ বির-যিক্বীন্।
তাতে ব্যবস্থা করে দিয়েছি তোমাদের জীবিকার, এবং তাদের জীবিকারও যাদের জীবিকাদাতা তোমরা নও।
আমার কাছে প্রত্যেক বস্তুর ভান্ডার রয়েছে। আমি নির্দিষ্ট পরিমানেই তা অবতরণ করি।
অ ইঁম্মিন্ শাইয়িন্ ইল্লা ইন্দানা- খযা-য়িনুহূ অমা-নুনায্যিলুহূ য় ইল্লা- বিক্বদারিম্ মা'লূম্।
এমন কোনো জিনিস নেই, আমাদের কাছে যার ভান্ডার রক্ষিত নেই। আমরা তা নাযিল করি জ্ঞাত নির্দিষ্ট পরিমাণে।
আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু পরিচালনা করি অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, এরপর তোমাদেরকে তা পান করাই। বস্তুতঃ তোমাদের কাছে এর ভান্ডার নেই।
অর্আসালনার রিয়াহা লাওয়া-ক্বিহা ফাআন্যাল্না-মিনাস্ সামা-য়ি মা য় য়ান্ ফাআস্ ক্বাইনা-কুমূহু অমা য় আন্তুম লাহূ বিখ-যিনীন্।
আর আমরা বর্ষণমুখী মেঘবাহী বাতাস পাঠাই, তারপর আসমান থেকে নাযিল করি পানি এবং তা তোমাদের পান করাই, অথচ তোমরা তো সেই (পানি) ভান্ডারের মালিক নও।
আমিই জীবনদান করি, মৃত্যুদান করি এবং আমিই চুড়ান্ত মালিকানার অধিকারী।
অইন্না-লানাহ্নু নুহয়ীঅনুমীতু অ নাহ্নুল্ ওয়া-রিছূন্।
আমরাই হায়াত দেই এবং মউত ঘটাই এবং আমরাই ওয়ারিশ (মালিক)।
আমি জেনে রেখেছি তোমাদের অগ্রগামীদেরকে এবং আমি জেনে রেখেছি পশ্চাদগামীদেরকে।
অলাক্বদ্ আলিম্নাল্ মুস্তাক্বদিমীনা মিন্কুম্ অলাক্বদ্ আলিম্নাল্ মুস্তাখিরীন্।
আমরা তোমাদের বিগতদের জানি এবং যারা আসবে তাদেরও জানি।
আপনার পালনকর্তাই তাদেরকে একত্রিত করে আনবেন। নিশ্চয় তিনি প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানময়।
অইন্না রব্বাকা হুঅ ইয়াহ্শুরুহুম্ ইন্নাহূ হাকীমুন্ আলীম্।
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু তাদের সবার হাশর করবেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানী।
আমি মানবকে পচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুস্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি।
অলাক্বদ্ খলাক্বনাল্ ইন্সা-না মিন্ ছল্ছোয়া-লিম্ মিন্ হামায়িম্ মাস্নূন্।
আমরা সৃষ্টি করেছি মানুষকে গন্ধযুক্ত কাদার শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে।
এবং জিনকে এর আগে লু এর আগুনের দ্বারা সৃজিত করেছি।
অল্জ্বা-ন্না খলাক্বনা-হু মিন্ ক্বব্লু মিন্ না-রিস্ সামূম্।
আর তাদের আগে আমরা জিনদের সৃষ্টি করেছি শিখাযুক্ত আগুন থেকে।
আর আপনার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদেরকে বললেনঃ আমি পচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুষ্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্ট একটি মানব জাতির পত্তন করব।
অইয্ ক্ব-লা রব্বুকা লিল্মালা-য়িকাতি ইন্নী খ-লিকুম্ বাশারাম্ মিন্ ছল্ছোয়া-লিম্ মিন্ হামায়িম্ মাসনূন্।
(স্মরণ করো,) যখন তোমার প্রভু ফেরেশতাদের বলেছিলেন, আমি মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি গন্ধযুক্ত কাদার শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে।
অতঃপর যখন তাকে ঠিকঠাক করে নেব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফঁুক দেব, তখন তোমরা তার সামনে সেজদায় পড়ে যেয়ো।
ফাইযা সাওঅইতুহূ অনাফাখ্তু ফীহি র্মি রূহী ফাক্বাঊ লাহূ সা-জ্বিদীন্।
আমি যখন তাকে সুগঠিত করবো এবং আমার পক্ষ থেকে তাতে রূহ সঞ্চার করে দেবো, তখন তোমরা তার প্রতি সাজদায় নুয়ে পড়বে।
তখন ফেরেশতারা সবাই মিলে সেজদা করল।
ফাসাজ্বাদাল্ মালা-য়িকাতু কুল্লহুম্ আজুমাঊন্।
ফলে ফেরেশতারা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে সাজদা করে।
কিন্তু ইবলীস - সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত হতে স্বীকৃত হল না।
ইল্লা য় ইব্লীস্ আবা য় আইঁ ইয়াকূনা মাআস্ সা-জ্বিদীন্।
তবে করেনি শুধু ইবলিস। সে সাজদাকারীদের অন্তরভুক্ত হতে অস্বীকার করে।
বললেনঃ হে ইবলিস, তোমার কি হলো যে তুমি সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত হতে স্বীকৃত হলে না?
ক্ব-লা ইয়া য় ইব্লীসু মা-লাকা আল্লা-তাকূনা মাআস্ সা-জ্বিদীন্।
বললেন: ‘হে ইবলিস! তোর কী হয়েছে, তুই কেন সাজদাকারীদের অন্তরভুক্ত হইস্নি?’
বললঃ আমি এমন নই যে, একজন মানবকে সেজদা করব, যাকে আপনি পচা কর্দম থেকে তৈরী ঠনঠনে বিশুষ্ক মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।
ক্ব-লা লাম্ আকুল্লি আস্জুদা লিবাশারিন্ খলাক্বতাহূ মিন্ ছল্ছোয়া-লিম্ মিন্ হামায়িম্ মাস্নূন্।
সে বললো: ‘‘আমি তো এমন একজনকে সাজদা করতে পারিনা, যাকে আপনি সৃষ্টি করেছেন গন্ধযুক্ত কাদার শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে।’
বললেনঃ তবে তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও। তুমি বিতাড়িত।
ক্ব-লা ফাখ্রুজু মিন্হা-ফাইন্নাকা রাজ্বীম্।
তিনি বললেন: ‘‘তুই ওখান থেকে বেরিয়ে যা, কারণ তুই অভিশপ্ত।
এবং তোমার প্রতি ন্যায় বিচারের দিন পর্যন্ত অভিসম্পাত।
অ ইন্না আলাইকাল্ লানাতা ইলা-ইয়াওমিদ্দীন্।
প্রতিদান দিবস পর্যন্ত বর্ষিত হবে তোর উপর লা’নত।’’
সে বললঃ হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন।
ক্ব-লা রব্বি ফাআর্ন্জিনী য় ইলা-ইয়াওমি ইয়ুব্আছ্ন্।
সে বললো: ‘প্রভু! আমাকে অবকাশ দিন পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।’
বললেনঃ তোমাকে অবকাশ দেয়া হল।
ক্ব-লা ফাইন্নাকা মিনাল্ মুন্জোয়ারীন্ ।
তিনি বললেন: ‘‘যা, তুই তাদের অন্তরভুক্ত যাদের অবকাশ দেয়া হয়েছে।
সেই অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত।
ইলা-ইয়াওমিল্ অক্বতিল্ মালূম্।
অবধারিত সময়টির (কিয়ামত) আগমন পর্যন্ত।’’
সে বললঃ হে আমার পলনকর্তা, আপনি যেমন আমাকে পথ ভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথ ভ্রষ্ঠ করে দেব।
ক্ব-লা রব্বি বিমা য় আগ্ওয়াইতানী লাউযাইয়্যিনান্না লাহুম্ ফিল্ র্আদ্বি অলা উগ্ওয়িইয়ান্নাহুম্ আজুমাঈন্।
সে বললো: ‘‘প্রভু! যেহেতু আপনি আমাকে বিপথগামী করেছেন, সে জন্যে আমি পৃথিবীতে তাদের (মানুষের) জন্যে বিপথগামিতাকে চাকচিক্যময় করে তুলবো এবং তাদের সবাইকে বিপথগামী করে ছাড়বো।
আপনার মনোনীত বান্দাদের ব্যতীত।
ইল্লা-ইবা-দাকা মিন্হুমুল্ মুখলাছীন্।
তবে তাদের মধ্যকার আপনার মুখলেস বান্দাদের কথা ভিন্ন।’’
বললেনঃ এটা আমা পর্যন্ত সোজা পথ।
ক্ব-লা হা-যা- ছিরা-তুন্আলাইয়্যা মুস্তাক্বীম্।
বললেন: ‘‘এটাই আমার কাছে পৌঁছার সরল সঠিক পথ।
যারা আমার বান্দা, তাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই; কিন্তু পথভ্রান্তদের মধ্য থেকে যারা তোমার পথে চলে।
ইন্না ইবা-দী লাইসা লাকা আলাইহিম্ সুল্ত্বোয়া-নুন্ ইল্লা-মানিত্তাবা'আকা মিনাল্ গ-ওয়ীন্।
আমার দাসদের উপর তোর কোনো কর্তৃত্ব খাটবেনা, তবে বিভ্রান্তদের যারা তোর অনুসরণ করবে তাদের কথা ভিন্ন।
তাদের সবার নির্ধারিত স্থান হচ্ছে জাহান্নাম।
অইন্না জ্বাহান্নামা লামাওইদুহুম্ আজুমাঈন্।
অবশ্যি তাদের সবার প্রতিশ্রুত স্থান হলো জাহান্নাম।
এর সাতটি দরজা আছে। প্রত্যেক দরজার জন্যে এক একটি পৃথক দল আছে।
লাহা-সাব্আতু আব্ওয়া-ব্ লিকুল্লি বা-বিম্ মিন্হুম্ জুয্য়ুম্ মাক্বসূম্।
তার আছে সাতটি দরজা, প্রত্যেক দরজার জন্যে তাদের একটি অংশ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।
নিশ্চয় খোদাভীরুরা বাগান ও নির্ঝরিনীসহূহে থাকবে।
ইন্নাল্ মুত্তাক্বীনা ফী জান্না-তিঁও অউইয়ূন্।
অবশ্যি মুত্তাকিরা থাকবে উদ্যানসমূহ এবং ঝরণাধারা সমূহের মধ্যে।
বলা হবেঃ এগুলোতে নিরাপত্তা ও শান্তি সহকরে প্রবেশ কর।
উদ্খুলূহা-বিসালা-মিন্ আ-মিনীন্।
তাদের বলা হবে: ‘দাখিল হও শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে।’
তাদের অন্তরে যে ক্রোধ ছিল, আমি তা দূর করে দেব। তারা ভাই ভাইয়ের মত সামনা - সামনি আসনে বসবে।
অনাযানা মা-ফী ছুদূরিহিম্ মিন্ গিল্লিন্ ইখওয়া-নান্ আলা-সুরুরিম্ মুতাক্ব-বিলীন্।
তাদের অন্তরে পরস্পরের জন্যে কোনো বিদ্বেষ থাকলে তা আমরা দূর করে দেবো, তারা পরস্পর মুখোমুখি হয়ে আসন গ্রহণ করবে ভাই ভাই হিসেবে।
সেখানে তাদের মোটেই কষ্ট হবে না এবং তারা সেখান থেকে বহিস্কৃত হবে না।
লা-ইয়ামাস্ সুহুম্ ফীহা-নাছোয়াবুঁও অমা-হুম্ মিনহা- বিমুখ্রজ্বীন্।
সেখানে তাদের স্পর্শ করবেনা কোনো অবসাদ এবং সেখান থেকে তাদের বের করেও দেয়া হবেনা।
আপনি আমার বান্দাদেরকে জানিয়ে দিন যে, আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল দয়ালু।
নাব্বি ইবা-দী য় আন্নী য় আনাল্ গফূর্রু রহীম্।
আমার দাসদের সংবাদ দাও, নিশ্চয়ই আমি মহাক্ষমাশীল, মহাদয়াময়।
এবং ইহাও যে, আমার শাস্তিই যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি।
অআন্না আযা-বী হুঅল্ আযা-বুল্ আলীম্।
আর আমার আযাব, তাও বেদনাদায়ক আযাব।
আপনি তাদেরকে ইব্রাহীমের মেহমানদের অবস্থা শুনিয়ে দিন।
অ নাব্বিহুম্ আন্ দ্বোয়াইফি ইব্রা-হীম্।
তাদের আরো সংবাদ দাও ইবরাহিমের মেহমানদের সম্পর্কে।
যখন তারা তাঁর গৃহে আগমন করল এবং বললঃ সালাম। তিনি বললেনঃ আমরা তোমাদের ব্যাপারে ভীত।
ইয্ দাখালূ আলাইহি ফাক্বা-লূ সালাম্ ক্বা-লা ইন্না-মিন্কুম্ অজ্ব্লিন্।
তারা যখন তার কাছে প্রবেশ করেছিল, বলেছিল: ‘সালাম’। সে বলেছিল: ‘আমরা আপনাদের আগমনে আতংকিত।’
তারা বললঃ ভয় করবেন না। আমরা আপনাকে একজন জ্ঞানবান ছেলে - সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি।
ক্বা-লূ লা-তাওজ্বাল্ ইন্না-নুবাশ্শিরুকাবিগুলা-মিন্ আলীম্।
তখন তারা বলেছিল: ‘আপনি আতংকিত হবেন না, আমরা আপনাকে সুসংবাদ দিচ্ছি এক জ্ঞানী পুত্রের।’
তিনি বললেনঃ তোমরা কি আমাকে এমতাবস্থায় সুসংবাদ দিচ্ছ, যখন আমি বার্ধক্যে পৌছে গেছি ?
ক্ব-লা আবার্শ্শাতুমূনী আলা য় আম্মাস্সানিইয়াল্ কিবারু ফাবিমা-তুবাশ্শিরূন্।
সে বলেছিল: ‘আপনারা আমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন আমি বার্ধক্যে উপনীত হওয়া সত্ত্বেও। আপনারা কীভাবে সুসংবাদ দিচ্ছেন?’
তারা বললঃ আমরা আপনাকে সত্য সু - সংবাদ দিচ্ছি! অতএব আপনি নিরাশ হবেন না।
ক্বা-লূ বার্শ্শানা-কা বিল্হাক্বক্বি ফালা-তাকুম্ মিনাল্ ক্বা-নিত্বীন্।
তারা বলেছিল: ‘আমাদের দেয়া সুসংবাদ সত্য। আপনি নিরাশ হবেন না।’
তিনি বললেনঃ পালনকর্তার রহমত থেকে পথভ্রষ্টরা ছাড়া কে নিরাশ হয় ?
ক্ব-লা অমাইঁ ইয়াক্বনাতু র্মি রহমাতি রব্বহী য় ইল্লাদ্ব্ দ্বোয়া য় ল্লূন্।
সে বলেছিল: ‘বিভ্রান্তরা ছাড়া কে নিরাশ হয় তার প্রভুর রহমত থেকে?’
তিনি বললেনঃ অতঃপর তোমাদের প্রধান উদ্দেশ্য কি হে আল্লাহর প্রেরিতগণ ?
ক্ব-লা ফামা-খাত্ব বুকুম্ আইয়্যুহাল্ র্মুসালূন্।
তারপর সে বললো: ‘(হে ফেরেশতারা!) আপনাদের আর কী বক্তব্য?’
তারা বললঃ আমরা একটি অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।
ক্ব-লূ য় ইন্না য় উরসিলনা য় ইলা ক্বওমিম্ মুজুরিমীন্।
তারা বললো: ‘‘আমরা প্রেরিত হয়েছি এক অপরাধী কওমের প্রতি,
কিন্তু লূতের পরিবার - পরিজন। আমরা অবশ্যই তাদের সবাইকে বাঁচিয়ে নেব।
ইল্লা য় আলা লূত্ব ইন্না-লামুনাজুজুহুম্ আজুমাঈন্।
তবে, লুতের পরিবারবর্গের বিরুদ্ধে নয়, আমরা তাদের সবাইকে নাজাত দেবো।
তবে তার স্ত্রী। আমরা স্থির করেছি যে, সে থেকে যাওয়াদের দলভূক্ত হবে।
ইল্লাম্ রায়াতাহূ ক্বর্দ্দানা য় ইন্নাহা-লামিনাল্ গ-বিরীন্।
কিন্তু তাঁর (লুতের) স্ত্রীকে নয়। আমরা নিশ্চিত হয়েছি, সে ধবংস হবার জন্যে পেছনে পড়ে থাকাদের অন্তরভুক্ত হবে।’’
অতঃপর যখন প্রেরিতরা লূতের গৃহে পৌছল।
ফালাম্মা- জ্বা-য়া আ-লা লূত্বিনিল্ র্মুসালূন্।
অত:পর ফেরেশতারা যখন লুত পরিবারে এসে উপস্থিত হলো।
তিনি বললেনঃ তোমরা তো অপরিচিত লোক।
ক্ব-লা ইন্নাকুম্ কাওমুম্ মুন্কারূন্।
সে (লুত) বললো: ‘আপনাদের তো চিনতে পারছিনা?’
তারা বললঃ না বরং আমরা আপনার কাছে ঐ বস্তু নিয়ে এসেছি, যে সম্পর্কে তারা বিবাদ করত।
ক্ব-লূ বাল্ জ্বিনাকা বিমা-কা-নূ ফীহি ইয়াম্তারূন্।
তারা বললো: ‘‘তারা (আপনার জাতি) যে বিষয়ে সন্দেহ করছে আমরা আপনার কাছে তাই নিয়ে এসেছি।
এবং আমরা আপনার কাছে সত্য বিষয় নিয়ে এসেছি এবং আমরা সত্যবাদী।
অ আতাইনা-কা বিল্হাক্বক্বি অ ইন্না-লাছোয়া-দ্বিক্ব।
আমরা সত্য সংবাদ নিয়ে এসেছি এবং অবশ্যি আমরা সত্যবাদী।
অতএব আপনি শেষরাত্রে পরিবারের সকলকে নিয়ে চলে যান এবং আপনি তাদের পশ্চাদনুসরণ করবেন না এবং আপনাদের মধ্যে কেউ যেন পিছন ফিরে না দেখে। আপনারা যেখানে আদেশ প্রাপ্ত হচ্ছেন সেখানে যান।
ফাআস্রি বিআহ্লিকা বিক্বিত্ব ঈম্ মিনাল্ লাইলি আত্তাবি' আদ্বা-রাহুম্ অলা-ইয়াল্তাফিত্ মিন্কুম্ আহাদুঁও অম্দ্ব হাইছু তুমারূন্।
সুতরাং আপনি রাতের কোনো এক সময় আপনার পরিবার - পরিজনকে নিয়ে বের হয়ে পড়ুন। আপনি তাদের পেছনে চলুন এবং আপনাদের কেউই যেনো পেছনে ফিরে না তাকায়। আপনাদেরকে যেখানে বলা হয়েছে সেখানে চলে যান।’’
আমি লূতকে এ বিষয় পরিজ্ঞাত করে দেই যে, সকাল হলেই তাদেরকে সমুলে বিনাশ করে দেয়া হবে।
অ ক্বাদ্বোয়াইনা য় ইলাইহি যা-লিকাল্ আম্রা আন্না দা-বিরা হা য় উলা-য়ি মাক্বত্বউম্ মুছ্বিহীন্।
আমরা তাকে ফায়সালা জানিয়ে দিলাম যে, প্রভাতেই তাদের শিকড় কেটে দেয়া হবে (সমূলে বিনাশ করা হবে)।
শহরবাসীরা আনন্দ - উল্লাস করতে করতে পৌছল।
অ জ্বা-য়া আহ্লুল্ মাদীনাতি ইয়াস্তাব্শিরূন।
নগরবাসীরা (মেহমান আগমনের সংবাদে) উল্লসিত হয়ে (লুতের বাড়িতে) এসে উপস্থিত হয়।
লূত বললেনঃ তারা আমার মেহমান। অতএব আমাকে লাঞ্ছিত করো না।
ক্ব-লা ইন্না হা য় উলা-য়ি দ্বোয়াইফী ফালা-তাফ্দ্বোয়াহূন্।
সে বললো: ‘‘এরা আমার মেহমান, তোমরা আমাকে বেইজ্জতি করোনা।
তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার ইযযত নষ্ট করো না।
অত্তাকুল্লা-হা অলা-তুখ্যূন্।
তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আমাকে অপমানিত করোনা।’’
তার বললঃ আমরা কি আপনাকে জগৎদ্বাসীর সমর্থন করতে নিষেধ করিনি।
ক্ব-লূ য় আঅলাম্ নান্হাকা আনিল্ আ-লামীন্।
তারা বললো: আমরা কি জগতবাসীকে আশ্রয় দিতে তোমাকে নিষেধ করিনি?
তিনি বললেনঃ যদি তোমরা একান্ত কিছু করতেই চাও, তবে আমার কন্যারা উপস্থিত আছে।
ক্ব-লা হা য় উলা-য়ি বানাতীয় ইন্ কুন্তুম্ ফা-ঈলীন্।
লুত বললো: এই যে আমার (জাতির) কন্যারা রয়েছে, তোমরা কিছু করতে চাইলে তাদের বিয়ে করে নাও।
আপনার প্রাণের কসম, তারা আপন নেশায় প্রমত্ত ছিল।
লাআমরুকা ইন্নাহুম্ লাফী সাক্রাতিহিম্ ইয়া'মাহূন্।
তোমার জীবনের শপথ, তারা তখন উন্মত্ততায় উদ্ভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল।
অতঃপর সুর্যোদয়ের সময় তাদেরকে প্রচন্ড একটি শব্দ এসে পাকড়াও করল।
ফাআখাযাত্ হুমুছ্ ছোয়াইহাতু মুশ্রিক্বীন্।
তারপর সূর্যোদয়ের সময় তাদের পাকড়াও করে বিকটধ্বনি।
অতঃপর আমি জনপদটিকে উল্টে দিলাম এবং তাদের উপর কঙ্করের প্রস্থর বর্ষণ করলাম।
ফাজ্বাআল্না- আ-লিয়াহা- সা-ফিলাহা- অ আমত্বোয়ারনা-আলাইহিম্ হিজ্বা-রাতাম্ মিন সিজ্জ্বীল্।
তখন আমরা (লুত জাতির) জনপদের উপরের দিক নিচে করে উল্টে দিয়েছি এবং তাদের উপর অবিরাম বর্ষণ করেছি পাথরের কংকর।
নিশ্চয় এতে চিন্তাশীলদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
ইন্না ফী যালিকা লা আ-ইয়া-তিল্ লিল্মুতাঅস্সিমীন।
বিশ্লেষণ শক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্যে এতে রয়েছে নিদর্শন।
জনপদটি সোজা পথে অবস্থিত রয়েছে।
অইন্নাহা-লাবিসাবীলিম্ মুক্বীম।
সেই বিরান জনপদ লোক চলাচলের পথপাশে এখনো বিদ্যমান।
নিশ্চয় এতে ঈমানদারদের জন্যে নিদর্শণ আছে।
ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়াতাল্ লিল্মুমিনীন্।
মুমিনদের জন্যে তাতে রয়েছে এক নিদর্শন।
নিশ্চয় গহীন বনের অধিবাসীরা পাপী ছিল।
অ ইন্ কা-না আছ্হা-বুল্ আইকাতি লাজোয়া-লিমীন্।
আর আইকাবাসীরাও ছিলো সীমালংঘনকারী।
অতঃপর আমি তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি। উভয় বস্তি প্রকাশ্য রাস্তার উপর অবস্থিত।
ফান্তাক্বম্না-মিন্হুম্ অইন্নাহুমা-লাবিইমা-মিম্ মুবীন্।
তাদের থেকেও আমরা প্রতিশোধ নিয়েছি। উভয় বিরানভূমিই প্রকাশ্য মহাসড়কের পাশে এখনো বিদ্যমান।
নিশ্চয় হিজরের বাসিন্দারা পয়গম্বরগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছে।
অলাকাদ্ কায্যাবা আছ্হা-বুল্ হিজ্বরিল্ র্মুসালীন্।
হিজরবাসীরাও রসূলদের মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
আমি তাদেরকে নিজের নিদর্শনাবলী দিয়েছি। অতঃপর তারা এগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
অ আ-তাইনা-হুম্ আ-ইয়াতিনা- ফাকা-নূ আন্হা-মুরিদ্বীন্।
আমরা তাদের দিয়েছিলাম আমাদের নিদর্শনসমূহ, কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করেছিল।
তারা পাহাড়ে নিশ্চিন্তে ঘর খোদাই করত।
অ কা-নূ ইয়ান্হিতূনা মিনাল্ জ্বিবা-লি বুইয়ূতান্ আ-মিনীন্।
তারা পাহাড় কেটে বাসস্থান নির্মাণ করেছিল নিরাপদ থাকার জন্যে।
অতঃপর এক প্রত্যুষে তাদের উপর একটা শব্দ এসে আঘাত করল।
ফাআখাযাত্ হুমুছ্ ছোয়াইহাতু মুছ্বিহীন্।
তাদেরকেও প্রভাতকালেই আঘাত করেছিল এক মহাবিকট শব্দ।
তখন কোন উপকারে আসল না যা তারা উপার্জন করেছিল।
ফামা য় আগ্না-আন্হুম্ মা-কানূ ইয়াক্সিবূন্।
তাদের অর্জনসমূহ তাদের কোনো উপকারই করতে পারেনি।
আমি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী যা আছে তা তাৎপর্যহীন সৃষ্টি করিনি। কেয়ামত অবশ্যই আসবে। অতএব পরম ঔদাসীন্যের সাথে ওদের ক্রিয়াকর্ম উপক্ষো করুন।
অমা-খালাক্বনাস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বোয়া অমা-বাইনাহুমা য় ইল্লা- বিল্হাক্ব অইন্নাস্ সা-আতা লাআ-তিয়াতুন্ ফাছ্ফাহিছ্ ছোয়াফ্ হাল্ জ্বামীল্।
মহাকাশ আর পৃথিবী এবং এই দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে সবই আমরা সৃষ্টি করেছি বাস্তবতার ভিত্তিতে। কিয়ামত অবশ্যি আসবে। তাই তুমি সুন্দর সৌজন্যবোধের সাথে তাদের উপেক্ষা করো।
নিশ্চয় আপনার পালনকর্তাই স্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।
ইন্না রব্বাকা হুওঅল খল্লা-কুল্ আলীম্।
নিশ্চয়ই তোমার রব মহাস্রষ্টা, অতীব জ্ঞানী।
আমি আপনাকে সাতটি বার বার পঠিতব্য আয়াত এবং মহান কোরআন দিয়েছি।
অলাক্বদ্ আ-তাইনা-কা সাব্আম্ মিনাল্ মাছানী অল্ ক্বকুআ-নাল্ আজীম্।
আমরা তোমাকে দিয়েছি পুন: পুন: আবৃত্ত সাত (আয়াত) এবং মহাগ্রন্থ আল - কুরআন।
আপনি চক্ষু তুলে ঐ বস্তুর প্রতি দেখবেন না, যা আমি তাদের মধ্যে কয়েক প্রকার লোককে ভোগ করার জন্যে দিয়েছি, তাদের জন্যে চিন্তিত হবেন না আর ঈমানদারদের জন্যে স্বীয় বাহু নত করুন।
লা-তামুদ্দান্না আইনাইকা ইলা-মা-মাত্তানা-বিহী য় আয্অজ্বাম্ মিন্হুম্ অলা-তাহ্যান্ আলাইহিম্ অখ্ফিদ্ব্ জ্বানা-হাকা লিল্মুমিনীন্।
আমরা তাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে ভোগ বিলাসের যেসব উপকরণ দিয়েছি, সেগুলোর প্রতি তুমি কখনো তোমার দুই চোখ মেলে তাকিয়োনা। তাদের জন্যে তুমি দুঃখও করোনা। তুমি মুমিনদের জন্যে তোমার দুই ডানা অবনমিত করে দাও।
আর বলুনঃ আমি প্রকাশ্য ভয় প্রদর্শক।
অকুল্ ইন্নী য় আনান্ নাযীরুল্ মুবীন্।
তুমি বলো: ‘আমি তো কেবল সুস্পষ্ট সতর্ককারী।’
যেমন আমি নাযিল করেছি যারা বিভিন্ন মতে বিভক্ত তাদের উপর।
কামা য় আন্যাল্না আলাল্ মুক্বতাসিমীন্।
(এটা ঠিক সেরকম) যেভাবে আমরা নাযিল করেছিলাম সেইসব বিভক্তকারীদের (ইহুদি ও খৃস্টানদের) উপর,
যারা কোরআনকে খন্ড খন্ড করেছে।
আল্লাযী না জ্বাআলুল্ ক্বকুআ-না ইদ্বীন্।
যারা তাদের কুরআনকে (তাওরাতকে) বিভিন্নভাবে বিভক্ত করেছে।
অতএব আপনার পালনকর্তার কসম, আমি অবশ্যই ওদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করব।
ফাঅরব্বিকা লানাস্য়ালান্নাহুম্ আজুমাঈন।
তোমার প্রভুর শপথ! আমরা অবশ্যি তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করবো,
ওদের কাজকর্ম সম্পর্কে।
আম্মা কা-নূ ইয়ামালূন্।
তাদের কর্মকান্ডের বিষয়ে।
অতএব আপনি প্রকাশ্যে শুনিয়ে দিন যা আপনাকে আদেশ করা হয় এবং মুশরিকদের পরওয়া করবেন না।
ফাছ্দা বিমা- তুমারু অআরিদ্ব্ আনিল মুশ্রিকীন্।
তোমাকে যার আদেশ করা হয়েছে তা প্রকাশ্যে প্রচার করো এবং মুশরিকদের উপেক্ষা করে চলো।
বিদ্রুপকারীদের জন্যে আমি আপনার পক্ষ থেকে যথেষ্ট।
ইন্না-কাফাইনা-কাল্ মুস্তাহ্যিয়ীন্।
বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে তোমার জন্যে আমরাই কাফী (যথেষ্ট),
যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্য সাব্যস্ত করে। অতএব অতিসত্তর তারা জেনে নেবে।
আল্লাযীনা ইয়াজ্বআলূনা মাআল্লা-হি ইলা-হান্ আ-খরা ফাসাওফা ইয়ালামূন্।
যারা আল্লাহর সাথে অপর ইলাহ্ বানিয়ে নিয়েছে। অচিরেই তারা জানতে পারবে।
আমি জানি যে আপনি তাদের কথাবর্তায় হতোদ্যম হয়ে পড়েন।
অলাক্বদ্ নালামু আন্নাকা ইয়াদ্বীকু ছোয়াদ্রুকা বিমা-ইয়াক্ব লূন্।
আমরা জানি, তাদের কথায় তোমার মন সংকুচিত হয়ে আসে।
অতএব আপনি পালনকর্তার সৌন্দর্য স্মরণ করুন এবং সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যান।
ফাসাব্বিহ বিহাম্দি রব্বিকা অকুম্মিনাস্ সা-জ্বিদীন্।
সুতরাং তুমি তোমার প্রভুর প্রশংসার সাথে তসবিহ করো এবং তুমি সাজদাকারীদের অন্তরভুক্ত।
এবং পালনকর্তার এবাদত করুন, যে পর্যন্ত আপনার কাছে নিশ্চিত কথা না আসে।
অবুদ্ রব্বাকা হাত্তা-ইয়াতিয়াকাল্ ইয়াক্বীন্।
এবং তোমার প্রভুর ইবাদত করো যতোক্ষণ না তোমার কাছে আসে নিশ্চিত জিনিসটি (মৃত্যু)।