Kitab

আল আন-আম

Chapter 6, 165 verses

  • মুহিউদ্দীন খান
  • বাংলা উচ্চারণ
  • আবদুস শহীদ নাসিম
মুহিউদ্দীন খান

সর্ববিধ প্রশংসা আল্লাহরই জন্য যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলোর উদ্ভব করেছেন। তথাপি কাফেররা স্বীয় পালনকর্তার সাথে অন্যান্যকে সমতুল্য স্থির করে।

বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আল্হাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী খালাক্বাস্ সামা-ওয়া-তি অল্ আরদ্বোয়া অ জ্বা'আলাজ্জুলুমা-তি অর্ন্নূ ছুম্মাল্লাযীনা কাফারূ বিরব্বিহিম্ ইয়া'দিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ এবং এই পৃথিবী, যিনি তৈরি করেছেন অন্ধকাররাশি আর আলো। এরপরও কাফিররা তাদের রবের সাথে (তাঁর সৃষ্টিকে) তুলনা করে।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই তোমাদেরকে মাটির দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর নির্দিষ্টকাল নির্ধারণ করেছেন। আর অপর নির্দিষ্টকাল আল্লাহর কাছে আছে। তথাপি তোমরা সন্দেহ কর।

বাংলা উচ্চারণ

হুঅল্লাযী খালাক্বাকুম্ মিন্ ত্বীনিন্ ছুম্মা ক্বাদ্বোয়া য় আজ্বালা- অআজ্বালুম্ মুসাম্মান্ 'ইন্দাহূ ছূম্মা আন্তুম্ তাম্তারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি সেই মহান সত্তা, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নির্ধারণ করে দিয়েছেন একটি মেয়াদকাল, আর ঠিক করেছেন একটি নির্দিষ্ট সময় (কিয়ামত) যা কেবল তিনিই জানেন। তারপরও তোমরা সন্দেহ করছো।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই নভোমন্ডলে এবং ভূমন্ডলে। তিনি তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় জানেন এবং তোমরা যা কর তাও অবগত।

বাংলা উচ্চারণ

অহুঅল্লা-হু ফিস্ সামা-ওয়া-তি অ ফিল্ আরদ্ব ইয়া'লামু র্সিরাকুম্ অজ্বাহ্রাকুম্ অ ইয়া'লামু মা-তাক্সিবূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশে এবং পৃথিবীতে তিনিই । তিনি তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য সবই জানেন। তোমরা যা কামাই করছো তাও তিনি জানেন।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের কাছে তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী থেকে কোন নিদর্শন আসেনি; যার প্রতি তারা বিমুখ হয় না।

বাংলা উচ্চারণ

অ মা-তাতীহিম্ মিন্ আ-ইয়াতিম্ মিন্ আ-ইয়া-তি রব্বিহিম্ ইল্লা- কানূ-'আন্হা- মু'রিদ্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের প্রভুর আয়াতসমূহের এমন কোনো আয়াত তাদের কাছে আসেনি, যা থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়নি।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, অবশ্য তারা সত্যকে মিথ্যা বলেছে যখন তা তাদের কাছে এসেছে। বস্তুতঃ অচিরেই তাদের কাছে ঐ বিষয়ের সংবাদ আসবে, যার সাথে তারা উপহাস করত।

বাংলা উচ্চারণ

ফাক্বাদ্ কায্যাবূ বিল্হাক্ব ক্বি লাম্মা-জ্বা - য়াহুম্ ফাসাওফা ইয়াতীহিম্ আম্বা - উ মা-কা-নূ বিহী ইয়াস্তাহ্যিঊন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কাছে মহাসত্য আসার পর তারা তা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা যা নিয়ে বিদ্রুপ করেছে, অচিরেই তার আসল সংবাদ তাদের কাছে এসে যাবে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি দেখেনি যে, আমি তাদের পুর্বে কত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদেরকে আমি পৃথিবীতে এমন প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলাম, যা তোমাদেরকে দেইনি। আমি আকাশকে তাদের উপর অনবরত বৃষ্টি বর্ষণ করতে দিয়েছি এবং তাদের তলদেশে নদী সৃষ্টি করে দিয়েছি, অতঃপর আমি তাদেরকে তাদের পাপের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছি এবং তাদের পরে অন্য সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছি।

বাংলা উচ্চারণ

আলাম্ ইয়ারাও কাম্ আহ্লাক্না-মিন্ ক্বাব্লিহিম্ মিন্ র্ক্বানিম্ মাক্কান্না-হুম্ ফিল্ আরদ্বি মা-লাম্ নুমাক্কিল্ লাকুম্ অ র্আসাল্নাস্ সামা - আ 'আলাইহিম্ মিদ্রা-রাওঁ অজ্বা'আল্নাল্ আন্হা-রা তাজ্ব রী মিন্ তাহ্তিহিম্ ফাআহ্লাক্না-হুম্ বিযুনূবিহিম অআন্শা”না-মিম বা'দিহিম্ র্ক্বানান্ আ-খারীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি দেখেনা, আমরা তাদের আগে কতো জনপদকে হালাক করে দিয়েছি। জমিনে তাদের এমন প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলাম, যে রকম প্রতিষ্ঠা তোমাদেরকেও দেইনি। তাদের প্রতি আমরা মুষুলধারে বৃষ্টিপাত করেছিলাম, তাদের জমিনে নদ নদী প্রবাহিত করে দিয়েছিলাম। তারপর তাদের পাপের কারণে আমরা তাদের হালাক করে দিয়েছি এবং তাদের পরে সৃষ্টি করেছি অপর একটি প্রজন্ম।

মুহিউদ্দীন খান

যদি আমি কাগজে লিখিত কোন বিষয় তাদের প্রতি নাযিল করতাম, অতঃপর তারা তা সহস্তে স্পর্শ করত, তবুও অবিশ্বাসীরা একথাই বলত যে, এটা প্রকাশ্য জাদু বৈ কিছু নয়।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও নাযযাল্না- 'আলাইকা কিতা-বান্ ফী র্ক্বিত্বোয়া-সিন্ ফালামাসূহু বিআইদীহিম্ লাক্ব-লাল্লাযীনা কাফারু য় ইন্ হা-যা য় ইল্লা-সিহ্রুম্ মুবীন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যদি তোমার কাছে কাগজে লেখা একটি কিতাব পাঠিয়ে দিতাম, আর তারা যদি তা নিজেদের হাতেও স্পর্শ করতো, তবু কাফিররা বলতো, এ তো এক সুস্পষ্ট ম্যাজিক ছাড়া আর কিছুই নয়।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা আরও বলে যে, তাঁর কাছে কোন ফেরেশতা কেন প্রেরণ করা হল না ? যদি আমি কোন ফেরেশতা প্রেরণ করতাম, তবে গোটা ব্যাপারটাই শেষ হয়ে যেত। অতঃপর তাদেরকে সামান্যও অবকাশ দেওয়া হতনা।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-লূ লাওলা য় উন্যিলা 'আলাইহি মালাক্ অলাও আন্যাল্না- মালাকাল্ লাকুদ্বিয়াল্ আম্রু ছুম্ম লা- ইয়ুন্জোয়ারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘তার কাছে কোনো ফেরেশতা পাঠানো হলোনা কেন?’ - আমরা যদি ফেরেশতা পাঠাতাম তবে তো চূড়ান্ত ফায়সালাই হয়ে যেতো, তারপর তাদেরকে আর কোনো অবকাশই দেয়া হতোনা।

মুহিউদ্দীন খান

যদি আমি কোন ফেরেশতাকে রসূল করে পাঠাতাম, তবে সে মানুষের আকারেই হত। এতেও ঐ সন্দেহই করত, যা এখন করছে।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও জ্বা'আল্না-হু মালাকাল্ লাজ্বা'আল্না-হু রাজুলাওঁ অলালাবাস্না-'আলাইহিম্ মা-ইয়াল্বিসূন্ ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকে যদি আমরা ফেরেশ্তাও বানাতাম, তারপরও তো তাকে একজন মানুষের আকৃতিতেই পাঠাতাম। তখনো তো তাদের সেরকম বিভ্রান্তিতেই ফেলতাম, যেরকম বিভ্রান্তিতে এখন তারা আছে।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই আপনার পূর্ববর্তী পয়গম্বরগণের সাথেও উপহাস করা হয়েছে। অতঃপর যারা তাঁদের সাথে উপহাস করেছিল, তাদেরকে ঐ শাস্তি বেষ্টন করে নিল, যা নিয়ে তারা উপহাস করত।

বাংলা উচ্চারণ

অ লাক্বাদিস্ তুহ্যিয়া বিরুসুলিম্ মিন্ ক্বাব্লিকা ফাহা-ক্বা বিল্লাযীনা সাখিরূ মিনহুম মা-কা-নূ বিহী ইয়াস্তাহ্যিউন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার আগেও বহু রসূলকেই বিদ্রুপ করা হয়েছে। তারা যা নিয়ে বিদ্রুপ করছিল, অবশেষে তা - ই বিদ্রুপকারীদের পরিবেষ্টন করে নেয়।

মুহিউদ্দীন খান

বলে দিনঃ তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর, অতপর দেখ, মিথ্যারোপ কারীদের পরিণাম কি হয়েছে?

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ সীরূ ফিল্ র্আদ্বি ছুম্মান্জুরূ কাইফা কা-না 'আ-কিবাতুল্ মুকায্যিবীন।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘পৃথিবীতে ভ্রমণ করে দেখো, (রসূলদের প্রত্যাখ্যানকারীদের) কী পরিণতি হয়েছিল?’

মুহিউদ্দীন খান

জিজ্ঞেস করুন, নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে যা আছে, তার মালিক কে? বলে দিনঃআল্লাহ। তিনি অনুকম্পা প্রদর্শনকে নিজ দায়িত্বে লিপিবদ্ধ করে নিয়েছেন। তিনি অবশ্যই তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন একত্রিত করবেন। এর আগমনে কোন সন্দেহ নেই। যারা নিজেদের কে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তারাই বিশ্বাস স্থাপন করে না।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্লিমাম্ মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ কুল্ লিল্লা-হ্ কাতাবা 'আলা-নাফ্সির্হি রহ্মাহ্ লাইয়াজমা'আন্নাকুম্ ইলা- ইয়াওমিল্ ক্বিয়া-মাতি লা-রাইবা ফীহ্ আল্লাযীনা খাসিরূ আন্ফুসাহুম্ ফাহুম্ লা-ইয়ুমিনূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘মহাকাশ আর এই পৃথিবীতে যা কিছু আছে সেগুলো কার?’ বলো: ‘আল্লাহর।’ রহম (দয়া) করা তিনি তাঁর দায়িত্ব হিসেবে লিখে নিয়েছেন। অবশ্য অবশ্যি তিনি তোমাদের জমা করবেন কিয়ামতের দিন, এতে কোনোই সন্দেহ্ নেই। যারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তারা আর ঈমান আনবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

যা কিছু রাত ও দিনে স্থিতি লাভ করে, তাঁরই। তিনিই শ্রোতা, মহাজ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাহু মা-সাকানা ফিল্লাইলি অন্নাহার্- অহুওয়াস্ সামী'উল্ 'আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

রাতে এবং দিনে যা কিছু বিরাজ করে সবই তাঁর। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলে দিনঃ আমি কি ব্যতীত - যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের স্রষ্টা এবং যিনি সবাইকে আহার্য দানকরেন ও তাঁকে কেউ আহার্য দান করে না অপরকে সাহায্যকারী স্থির করব? আপনি বলে দিনঃ আমি আদিষ্ট হয়েছি যে, সর্বাগ্রে আমিই আজ্ঞাবহ হব। আপনি কদাচ অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ আগাইরাল্লা-হি আত্তাখিযু অলিয়্যান্ ফা-ত্বিরিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ আরদ্বি অহুঅ ইয়ুত্ব'ইমু অলা-ইয়ুত্ব্ 'আম্কুল্ ইন্নী য় উর্মিতু আন্ আকূনা আওয়্যালা মান্ আস্লামা অলা- তাকূনান্না মিনাল্ মুশ্রিকীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘আমি কি মহাকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা আল্লাহকে ছাড়া অন্য কাউকেও অলি হিসেবে গ্রহণ করবো? অথচ তিনিই আহার যোগান, কিন্তু তাকে তো কেউ আহার দেয়না।’ হে নবী! বলো: ‘আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আমিই যেনো প্রথম ব্যক্তি হই।’ আমাকে আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে: ‘তুমি মুশরিকদের মধ্যে শামিল হয়োনা।’

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলুন, আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হতে ভয় পাই কেননা, আমি একটি মহাদিবসের শাস্তিকে ভয় করি।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইন্নী য় আখা-ফু ইন্ 'আছোয়াইতু রব্বী 'আযা-বা ইয়াওমিন্ 'আজীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি বলো: ‘আমি যদি আমার প্রভুর নির্দেশ অমান্য করি, তবে আমি ভয় করি এক মহাদিনের আযাবের।’

মুহিউদ্দীন খান

যার কাছ থেকে ঐদিন এ শাস্তি সরিয়ে নেওয়া হবে, তার প্রতি আল্লাহর অনুকম্পা হবে। এটাই বিরাট সাফল্য।

বাংলা উচ্চারণ

মাইঁ ইয়ুছ্রাফ 'আনহু ইয়াওমায়িযিন্ ফাক্বাদ্ রহিমাহ্ অযা-লিকাল্ ফাওযুল্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাকে সেদিনের আযাব থেকে রক্ষা করা হবে, তার প্রতি অবশ্যি তিনি রহম করবেন আর এটাই হবে সুস্পষ্ট সাফল্য।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি তোমাকে কোন কষ্ট দেন, তবে তিনি ব্যতীত তা অপসারণকারী কেউ নেই। পক্ষান্তরে যদি তোমার মঙ্গল করেন, তবে তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

বাংলা উচ্চারণ

অইঁ ইয়াম্সাস্কাল্লা-হু বিদ্বুররিন ফালা- কা-শিফা লাহূ য় ইল্লা-হু অইঁ ইয়াম্সাস্কা বিখাইরিন ফাহুঅ 'আলা- কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।

আবদুস শহীদ নাসিম

যদি তোমাকে কোনো কষ্টে ফেলেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার আর কেউই নেই। আর তিনি যদি তোমাকে কোনো কল্যাণ দান করেন, তবে অবশ্যি তিনি সব বিষয়ে শক্তিমান।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই পরাক্রান্ত স্বীয় বান্দাদের উপর। তিনিই জ্ঞানময়, সর্বজ্ঞ।

বাংলা উচ্চারণ

অ হুঅল ক্বা-হিরু ফাওক্বা 'ইবা-দিহ্ অহুঅল হাকীমুল্ খার্বী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি নিজ বান্দাদের উপর প্রচন্ড ক্ষমতাশালী। তিনি মহাপ্রজ্ঞাবান, সব বিষয়ে খবর রাখেন।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি জিজ্ঞেস করুনঃ সর্ববৃহৎ সাক্ষ্যদাতা কে ? বলে দিনঃ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী। আমার প্রতি এ কোরআন অবর্তীর্ণ হয়েছে - যাতে আমি তোমাদেরকে এবং যাদের কাছে এ কোরআন পৌঁছে সবাইকে ভীতি প্রদর্শন করি। তোমরা কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহর সাথে অন্যান্য উপাস্যও রয়েছে ? আপনি বলে দিনঃ আমি এরূপ সাক্ষ্য দেব না। বলে দিনঃ তিনিই একমাত্র উপাস্য; আমি অবশ্যই তোমাদের শিরক থেকে মুক্ত।

বাংলা উচ্চারণ

কুল আইয়্যু শাইয়িন্ আক্বারু শাহা-দাহ্ কুলিল্লা-হু শাহীদুম্ বাইনী অবাইনাকুম্ অ ঊহিয়া ইলাইয়্যা হা-যাল্ ক্বর্আ-নু লিউন্যিরাকুম্ বিহী অমাম্ বালাগ্ আয়িন্নাকুম্ লাতাশ্হাদূনা আন্না মা'আল্লা-হি আ-লিহাতান্ উখরা- কুল্ লা য় আশ্হাদু কুল্ ইন্নামা-হুঅ ইলা-হুওঁ ওয়া-হিদুওঁ অইন্নানী বারী - উম্ মিম্মা-তুশরিকূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ওদের জিজ্ঞেস করো: ‘সাক্ষ্য প্রদানে সর্বশ্রেষ্ঠ কে’? বলো: ‘’। তিনিই আমার ও তোমাদের মাঝে সাক্ষী। আর এ কুরআন আমার কাছে অহি করা হয়েছে যেনো আমি তোমাদেরকে এবং যাদের কাছে তা পৌঁছে তাদেরকে এর মাধ্যমে সতর্ক করি। তোমরা কি এ সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহর সাথে আরো ইলাহ্ আছে?’ বলো: ‘আমি এ সাক্ষ্য দেইনা।’ বলো: ‘অবশ্যি তিনি একমাত্র ইলাহ্ ; আর তোমরা (তাঁর সাথে) যে শরিক করছো আমি তা থেকে একেবারেই নিঃসম্পর্ক।’

মুহিউদ্দীন খান

যাদেরকে আমি কিতাব দান করেছি, তারা তাকে চিনে, যেমন তাদের সন্তানদেরকে চিনে। যারা নিজেদেরকে ক্ষতির মধ্যে ফেলেছে, তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল্ কিতা-বা ইয়া'রিফূনাহূ কামা-ইয়া'রিফূনা আব্না - আহুম্। আল্লাযীনা খাসিরূ য় আন্ফুসাহুম ফাহুম্ লা-ইয়ুমিনূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা ইতোপূর্বে, যাদের কিতাব দিয়েছি, তারা (ইহুদি খৃষ্টানরা) তাকে (শেষ নবী মুহাম্মদকে) ঠিক সেরকমই চিনে যেমন চিনে তাদের নিজেদের সন্তানদের। যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে তারা ঈমান আনবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

আর যে, আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথবা তাঁর নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, তার চাইতে বড় জালেম কে? নিশ্চয় জালেমরা হবে না।

বাংলা উচ্চারণ

অমান্ আজ্লামু মিম্মানিফ্তারা- 'আলাল্লা-হি কাযিবান্ আও কায্যাবা বিআ-ইয়া-তিহ্ ইন্নাহূ লা-ইয়ুফ্লিহুজ্ জ্বোয়া-লিমূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা রচনা করে, অথবা আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করে? নিশ্চয়ই যালিমরা সফল হয়না।

মুহিউদ্দীন খান

আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করব, অতঃপর যারা শিরক করেছিল, তাদের বলবঃ যাদেরকে তোমরা অংশীদার বলে ধারণা করতে, তারা কোথায়?

বাংলা উচ্চারণ

অইয়াওমা নাহ্শুরুহুম্ জ্বামী'আন্ ছুম্মা নাকুলু লিল্লাযীনা আশ্রাকূ য় আইনা শুরাকা - উ কুমুল্লাযীনা কুন্তুম্ তায্'উমূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন আমরা তাদের সবাইকে হাশর করবো, তারপর মুশরিকদের বলবো: ‘তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরিক বলে ধারণা করতে তারা এখন কোথায়?

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাদের কোন অপরিচ্ছন্নতা থাকবে না; তবে এটুকুই যে তারা বলবে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর কসম, আমরা মুশরিক ছিলাম না।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা লাম্ তাকুন্ ফিত্নাতুহুম্ ইল্লা য় আন্ ক্ব-লূ অল্লা-হি রব্বিনা- মা- কুন্না- মুশ্রিকীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তাদের এছাড়া বলার মতো আর কোনো অজুহাতই থাকবেনা যে: ‘আমাদের প্রভু আল্লাহর শপথ, আমরা মুশরিক ছিলামনা।’

মুহিউদ্দীন খান

দেখতো, কিভাবে মিথ্যা বলছে নিজেদের বিপক্ষে ? এবং যেসব বিষয় তারা আপনার প্রতি মিছামিছি রচনা করত, তা সবই উধাও হয়ে গেছে।

বাংলা উচ্চারণ

উর্ন্জু কাইফা কাযাবূ 'আলা য় আন্ফুসিহিম্ অদ্বোয়াল্লা 'আন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়াফ্তারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

দেখো, তারা নিজেদের প্রতি কিভাবে মিথ্যারোপ করছে, আর তারা যে মিথ্যা রচনা করতো, তা (সেসব উপাস্যরা) কিভাবে তাদের থেকে উধাও হয়ে গেছে।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের কেউ কেউ আপনার দিকে কান লাগিয়ে থাকে। আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ রেখে দিয়েছি যাতে একে না বুঝে এবং তাদের কানে বোঝা ভরে দিয়েছি। যদি তারা সব নিদর্শন অবলোকন করে তবুও সেগুলো বিশ্বাস করবে না। এমনকি, তারা যখন আপনার কাছে ঝগড়া করতে আসে, তখন কাফেররা বলেঃ এটি পুর্ববর্তীদের কিচ্ছাকাহিনী বৈ তো নয়।

বাংলা উচ্চারণ

অমিন্হুম্ মাইঁ ইয়াস্তামি'উ ইলাইকা অজ্বা'আল্না-'আলা- কুলূবিহিম্ আকিন্নাতান্ আইঁ ইয়াফ্ক্বাহূহু অফী য় আ-যা-নিহিম্ অক্ব রা- অইঁ ইয়ারাও কুল্লা আ-ইয়াতিল্ লা-ইয়ুমিনূ বিহা- হাত্তা য় ইযা- জ্বা - ঊ কা ইয়ুজ্বা-দিলূনাকা ইয়াকুলুল্লাযীনা কাফারূ য় ইন্ হা য় যা য় ইল্লা আসা-ত্বীরুল্ আওয়্যালীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কিছু লোক তোমার দিকে কান পেতে রাখে আর আমি কিন্তু তাদের অন্তরের উপর আবরণ ফেলে রেখেছি, যেনো তারা তা বুঝতে না পারে, এছাড়া তাদের কানেও পর্দা লাগিয়ে দিয়েছি। সব নিদর্শন দেখলেও তারা ঈমান আনবেনা। তারা যখন তোমার কাছে আসে, তোমার সাথে তর্কে লিপ্ত হয়। যারা কুফুরি করেছে তারা বলে: এতো পূর্ববর্তী লোকদের কাহিনী ছাড়া কিছুই নয়।

মুহিউদ্দীন খান

তারা এ থেকে বাধা প্রদান করে এবং এ থেকে পলায়ন করে। তারা নিজেদেরকে ধ্বংস করেছে, কিন্তু বুঝছে না।

বাংলা উচ্চারণ

অহুম্ ইয়ান্হাওনা 'আন্হু অইয়ান্আওনা 'আন্হু অইঁ ইয়ুহ্লিকূনা ইল্লা য় আন্ফুসাহুম্ অমা- ইয়াশ্'উরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা অন্যদেরকেও তা (কুরআন) শুনতে বাধা দেয় এবং নিজেরাও তা থেকে দূরে থাকে। তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস করছে, অথচ তারা তা বুঝতে পারছেনা।

মুহিউদ্দীন খান

আর আপনি যদি দেখেন, যখন তাদেরকে দোযখের উপর দাঁড় করানো হবে! তারা বলবেঃ কতই না ভাল হত, যদি আমরা পুনঃ প্রেরিত হতাম; তা হলে আমরা স্বীয় পালনকর্তার নিদর্শনসমূহে মিথ্যারোপ করতাম না এবং আমরা বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও তারা য় ইয্ উক্বিফু'আলান্না-রি ফাক্বা-লূ ইয়া-লাইতানা- নুরাদ্দু অলা-নুকায্যিবা বিআ-ইয়া-তি রব্বিনা- অনাকূনা মিনাল্ মুমিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যদি দেখতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের কিনারে দাঁড় করানো হবে আর তারা বলবে: ‘হায়, যদি আমাদের পৃথিবীতে ফেরত পাঠানো হতো, তাহলে আমরা আর আমাদের প্রভুর আয়াতকে অস্বীকার করতামনা এবং আমরা মুমিনদের অন্তরভুক্ত হয়ে যেতাম।’

মুহিউদ্দীন খান

এবং তারা ইতি পূর্বে যা গোপন করত, তা তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়েছে। যদি তারা পুনঃ প্রেরিত হয়, তবুও তাই করবে, যা তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল। নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী।

বাংলা উচ্চারণ

বাল্ বাদা-লাহুম মা-কা-নূ ইয়ুখ্ফূনা মিন্ ক্বাব্ল অলাও রুদ্দূ লা 'আ-দূ লিমা- নুহূ 'আন্হু অইন্নাহুম্ লাকা-যিবূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

না, বরং তারা ইতোপূর্বে যা গোপন করতো তা প্রকাশ হয়ে গেছে। তাদেরকে যদি ফেরতও পাঠানো হয়, পুনরায় তারা তাই করবে, যা করতে তাদের নিষেধ করা হয়েছে। অবশ্যি তারা মিথ্যাবাদী।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলেঃ আমাদের এ পার্থিব জীবনই জীবন। আমাদেরকে পুনরায় জীবিত হতে হবে না।

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লূ য় ইন্ হিয়া ইল্লা- হাইয়া-তুনাদ্দুন্ইয়া-অমা- নাহ্নু বিমাব্ঊ'ছীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘আমাদের দুনিয়ার হায়াতটাই একমাত্র হায়াত, মরনের পর আর আমাদের উঠানো হবেনা।’

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি আপনি দেখেন; যখন তাদেরকে প্রতিপালকের সামনে দাঁড় করানো হবে। তিনি বলবেনঃ এটা কি বাস্তব সত্য নয়? তারা বলবেঃ হঁ্যা আমাদের প্রতিপালকের কসম। তিনি বলবেনঃ অতএব, স্বীয় কুফরের কারণে শাস্তি আস্বাদন কর।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও তারা য় ইয্ উক্বিফূ 'আলা-রব্বিহিম্ ক্ব-লা আলাইসা হা-যা- বিল্হাক্ব ্ ক্ব-লূ বালা-অরব্বিনা- ক্ব-লা ফাযূকুল্ 'আযা-বা বিমা-কুন্তুম্ তাক্ফুরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যদি দেখতে তাদেরকে যখন তাদের প্রভুর সামনে দাঁড় করানো হবে এবং তিনি যখন তাদের বলবেন: ‘এটা (পুনরুত্থান) কি সত্য নয়?’ তারা বলবে: ‘নিশ্চয়ই আমাদের প্রভুর শপথ!’ তখন তিনি তাদের বলবেন: ‘তোমরা যে কুফুরি করতে তার কারণে এখন স্বাদ গ্রহণ করো আযাবের।’

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাক্ষাৎকে মিথ্যা মনে করেছে। এমনকি, যখন কিয়ামত তাদের কাছে অকস্মাৎ এসে যাবে, তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এর ব্যাপারে আমরা কতই না ক্রটি করেছি। তার স্বীয় বোঝা স্বীয় পৃষ্ঠে বহন করবে। শুনে রাখ, তারা যে বোঝা বহন করবে, তা নিকৃষ্টতর বোঝা।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বাদ্ খাসিরাল্লাযীনা কায্যাবূ বিলিক্বা - য়িল্লা-হ্ হাত্তা য় ইযা- জ্বা - য়াত্হুমুস্ সা-'আতু বাগ্তাতান্ ক্বা-লূ ইয়া-হাস্রাতানা-'আলা-মা-র্ফারাত্বনা-ফীহা- অহুম্ ইয়াহ্মিলূনা আওযা-রাহুম্ 'আলা-জুহূরিহিম্ আলা- সা - য়া মা- ইয়াযিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা, যারা আল্লাহর সাথে মোলাকাত হওয়ার বিষয়কে অস্বীকার করেছে। হঠাত যখন তাদের সামনে কিয়ামত উপস্থিত হয়ে যাবে তখন তারা বলবে: ‘হায় আক্ষেপ, আমরা কেন এ জিনিসকে অবহেলা করেছিলাম।’ তারা তাদের পিঠে করে পাপের বোঝা বহন করবে। তারা যা বহন করবে তা যে কতো নিকৃষ্ট!

মুহিউদ্দীন খান

পার্থিব জীবন ক্রীড়া ও কৌতুক ব্যতীত কিছুই নয়। পরকালের আবাস পরহেযগারদের জন্যে শ্রেষ্টতর। তোমরা কি বুঝ না ?

বাংলা উচ্চারণ

অমাল্ হাইয়া-তুদ্ দুন্ইয়া য় ইল্লা-লা'ইবুওঁ অলাহ্উন্ অলাদ্দা-রুল্ আ-খিরাতু খাইরুল্ লিল্লাযীনা ইয়াত্তাকুনা আফালা-তা'ক্বিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই দুনিয়ার হায়াতটা খেল - তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্যে আখিরাতের ঘরই উত্তম। তারপরও তোমরা কি আকল খাটাবেনা?

মুহিউদ্দীন খান

আমার আছে যে, তাদের উক্তি আপনাকে দুঃখিত করে। অতএব, তারা আপনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না, বরং জালেমরা আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করে।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বাদ্ না'লামু ইন্নাহূ লা-ইয়াহ্যুনুকাল্লাযী ইয়াকুলূনা ফাইন্নাহুম্ লা-ইয়ুকায্যিবূনাকা অলা-কিন্নাজ্জোয়া-লিমীনা বিআ-ইয়া-তিল্লা-হি ইয়াজ্ব হাদূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা জানি, ওরা যা বলে তা অবশ্যি তোমাকে কষ্ট দেয়। আসলে তারা তো তোমাকে মিথ্যা বলছেনা, বরং এই যালিমরা আল্লাহর আয়াতকেই অস্বীকার করছে।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পূর্ববর্তী অনেক পয়গম্বরকে মিথ্যা বলা হয়েছে। তাঁরা এতে ছবর করেছেন। তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছে পর্যন্ত তারা নির্যাতিত হয়েছেন। আল্লাহর বানী কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। আপনার কাছে পয়গম্বরদের কিছু কাহিনী পৌঁছেছে।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বাদ্ কুয্যিবাত্ রুসুলুম্ মিন্ ক্বাব্লিকা ফাছোয়াবারূ 'আলা মা- কুয্যিবূ অঊযূ হাত্তা য় আতা-হুম্ নাছরুনা-অলা-মুবাদ্দিলা লিকালিমা-তিল্লা-হি অলাক্বাদ্ জ্বা- য়াকা মিন্ নাবায়িল্ র্মুসালীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার আগে অনেক রসূলকেই মিথ্যাবাদী বলে অস্বীকার করা হয়েছিল। কিন্তু তাদেরকে অস্বীকার এবং কষ্ট দেয়া সত্ত্বেও তারা সবর অবলম্বন করেছিল। শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে আমার সাহায্য এসে পৌঁছে। আল্লাহর আদেশ বদল হবার নয়। (অতীত) রসূলদের সংবাদ তো তোমার কাছে এসেছেই।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি তাদের বিমুখতা আপনার পক্ষে কষ্টকর হয়, তবে আপনি যদি ভূতলে কোন সুড়ঙ্গ অথবা আকাশে কোন সিড়ি অনুসন্ধান করতে সমর্থ হন, অতঃপর তাদের কাছে কোন একটি মোজেযা আনতে পারেন, তবে নিয়ে আসুন। ইচ্ছা করলে সবাইকে সরল পথে সমবেত করতে পারতেন। অতএব, আপনি নির্বোধদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

বাংলা উচ্চারণ

অইন্ কা-না কাবুরা 'আলাইকা ই'রা-দুহুম্ ফাইনিস্তাত্বোয়া'তু আন্ তাব্তাগিয়া নাফাক্বান্ ফিল্ র্আদ্বি আও সুল্লামান্ ফিস্ সামা - য়ি ফাতা তিয়াহুম্ বিআ-ইয়াহ্ অলাও শা - য়াল্লা-হু লাজ্বামা'আহুম্ 'আলাল্ হুদা-ফালা-তাকূনান্না মিনাল্ জ্বা-হিলীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তোমার প্রতি) তাদের উপেক্ষা যদি তোমার কাছে অসহনীয় হয়, তবে যদি তোমার ক্ষমতা থাকে মাটির ভেতরে সুড়ঙ্গ খুঁজে নাও, কিংবা আকাশে উঠার মই খুঁজে নাও এবং তাদের জন্যে কোনো নিদর্শন নিয়ে এসো। আসলে চাইলে অবশ্যি তাদের সবাইকে হিদায়াতের উপর একত্র করে দিতেন। সুতরাং তুমি অজ্ঞদের মধ্যে শামিল হয়োনা।

মুহিউদ্দীন খান

তারাই মানে, যারা শ্রবণ করে। মৃতদেরকে জীবিত করে উত্থিত করবেন। অতঃপর তারা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নামা-ইয়াস্তাজ্বীবুল্লাযীনা ইয়াস্মা'ঊন্ অল্মাওতা- ইয়াব্'আছুহুমুল্লা-হু ছুম্মা ইলাইহি ইর্য়্রুজ্বা'ঊন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার আহবানে সাড়া দেয় তো তারা যারা তা (মনোযোগ সহকারে) শুনে। আর মৃতদের পুনরুত্থিত করবেন এবং তাঁর কাছেই তাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলেঃ তার প্রতি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হয়নি কেন? বলে দিনঃ নিদর্শন অবতরণ করতে পূর্ন সক্ষম; কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লূ লাওলা-নুয্যিলা 'আলাইহি আ-ইয়াতুম্ র্মি রব্বিহ্ কুল্ ইন্নাল্লা-হা ক্বা-দিরুন্ 'আলা য় আইঁ য়ুনায্যিলা আ-ইয়াতাওঁ অলা-কিন্না আক্ছারাহুম্ লা- ইয়া'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘তার প্রভুর পক্ষ থেকে তার কাছে কোনো নিদর্শন নাযিল করা হলোনা কেন? তুমি বলো: ‘নিদর্শন নাযিল করতে অবশ্যি সক্ষম, তবে তাদের অধিকাংশ লোকই জানেনা।’

মুহিউদ্দীন খান

আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে এবং যত প্রকার পাখী দু’ ডানাযোগে উড়ে বেড়ায় তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি শ্রেণী। আমি কোন কিছু লিখতে ছাড়িনি। অতঃপর সবাই স্বীয় প্রতিপালকের কাছে সমবেত হবে।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-মিন্ দা -ব্বাতিন্ ফিল্ র্আদ্বি অলা-ত্বোয়া - য়িরিইঁ ইয়াত্বীরু বিজ্বানা-হাইহি ইল্লা য় উমামুন্ আম্ছা-লুকুম মা-র্ফারাত্বনা ফিল্ কিতা-বি মিন্ শাইয়িন্ ছুম্মা ইলা-রব্বিহিম্ ইয়ুহ্শারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

পৃথিবীর বুকে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই এবং ডানার সাহায্যে উড়ে এমন কোনো পাখি নেই, যারা তোমাদের মতোই বিভিন্ন সম্প্রদায় ছাড়া কিছু নয়। আমরা আল কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি। অবশেষে তাদেরকে তাদের প্রভুর কাছে হাশর করা হবে।

মুহিউদ্দীন খান

যারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে, তারা অন্ধকারের মধ্যে মূক ও বধির। যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।

বাংলা উচ্চারণ

অল্ লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-ছুম্মুওঁ অবুক্মুন্ ফিজ্জুলুমা-ত্ মাইঁ ইয়াশায়িল্লা-হু ইয়ুদ্ব ্লিল্হু অমাইঁ ইয়াশাইয়াজ্ব 'আল্হু 'আলা- ছিরা-ত্বিম্ মুসতাক্বীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আমার আয়াতকে অস্বীকার করে তারা অন্ধকাররাশিতে বধির ও বোবা। যাকে চান বিপথগামী করেন, আর যাকে চান তিনি সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর প্রতিষ্ঠিত করেন।

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, বলতো দেখি, যদি তোমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি পতিত হয় কিংবা তোমাদের কাছে কিয়ামত এসে যায়, তবে তোমরা কি ব্যতীত অন্যকে ডাকবে যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বল্ আরায়াইতাকুম্ ইন্ আতা-কুম্ 'আযা-বু ল্লা-হি আও আতাত্কুমুস্ সা-'আতু আগাইরাল্লা-হি তাদ্'ঊনা ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘তোমরা চিন্তা করে দেখো, তোমাদের উপর যদি (হঠাৎ) আল্লাহর আযাব এসে পড়ে, কিংবা এসে পড়ে কিয়ামত, তখন কি তোমরা ছাড়া আর কাউকেও ডাকবে? সত্যবাদী হয়ে থাকলে বলো।’

মুহিউদ্দীন খান

বরং তোমরা তো তাঁকেই ডাকবে। অতঃপর যে বিপদের জন্যে তাঁকে ডাকবে, তিনি ইচ্ছা করলে তা দুরও করে দেন। যাদেরকে অংশীদার করছ, তখন তাদেরকে ভুলে যাবে।

বাংলা উচ্চারণ

বাল্ ইয়্যা-হু তাদ্'ঊনা ফাইয়াক্শিফু মা- তাদ্'ঊনা ইলাইহি ইন্ শা - য়া অতান্সাওনা মা-তুশরিকূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘না, বরং তোমরা তখন কেবল তাঁকেই ডাকবে। তারপর তোমরা যে কষ্টের জন্যে তাঁকে ডাকো তিনি চাইলে তা দূর করে দেন; আর তোমরা যাদেরকে (আল্লাহর সাথে) শরিক করো তখন তাদের কথা ভুলে থাকো।’

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি আপনার পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রতিও পয়গম্বর প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর আমি তাদেরকে অভাব - অনটন ও রোগ - ব্যধি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম যাতে তারা কাকুতি মিনতি করে।

বাংলা উচ্চারণ

অ লাক্বাদ র্আসাল্না য়ইলা য় উমামিম্মিন্ ক্বাব্লিকা ফাআখায্না-হুম্ বিলবা”সা - য়ি অদ্ব্দ্বোর্য়াবা - য়ি লা'আল্লাহুম্ ইয়াতাদ্বোর্য়ারা'ঊন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের আগে বহু উম্মতের কাছে আমরা রসূল পাঠিয়েছি, তারপর তাদেরকে আমরা দুর্ভিক্ষ ও দুঃখ কষ্ট দিয়ে সাজা দিয়েছি যাতে করে তারা বিনয়ী হয়।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাদের কাছে যখন আমার আযাব আসল, তখন কেন কাকুতি - মিনতি করল না ? বস্তুতঃ তাদের অন্তর কঠোর হয়ে গেল এবং শয়তান তাদের কাছে সুশোভিত করে দেখাল, যে কাজ তারা করছিল।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাওলা য় ইয্ জ্বা - য়াহুম্ বাসুনা-তাদ্বোর্য়ারা'ঊ অলা-কিন্ ক্বাসাত্ কুলূবুহুম্ অযাইয়্যানা লাহুমুশ্ শাইত্বোয়া-নু মা-কা-নূ ইয়া'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের সাজা তাদের উপর এসে পড়ার প্রাক্কালে কেন তারা বিনয়ী হলোনা? বরঞ্চ তাদের অন্তর কঠিন হয়ে গিয়েছিল আর শয়তান তাদের কর্মকান্ডকে তাদের কাছে মনোহরী করে তুলে ধরেছিল।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা যখন ঐ উপদেশ ভুলে গেল, যা তাদেরকে দেয়া হয়েছিল, তখন আমি তাদের সামনে সব কিছুর দ্বার উম্মুক্ত করে দিলাম। এমনকি, যখন তাদেরকে প্রদত্ত বিষয়াদির জন্যে তারা খুব গর্বিত হয়ে পড়ল, তখন আমি অকস্মাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। তখন তারা নিরাশ হয়ে গেল।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-নাসূ মা-যুক্কিরূ বিহী ফাতাহ্না-'আলাইহিম্ আব্ওয়া-বা কুল্লি শাইয়িন্ হাত্তা য় ইযা-ফারিহূ বিমা য় ঊতূ য় আখায্না-হুম্ বাগ্তাতান্ ফাইযা-হুম্ মুব্লিসূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা যখন তা ভুলে গিয়েছিল, তখন আমরা তাদের জন্যে সবকিছুর দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম। তাদের যা দেয়া হয়েছিল সেগুলোতে যখন তারা মত্ত হয়ে পড়েছিল, তখন আমরা আকস্মিক তাদের পাকড়াও করেছি, ফলে তারা হতাশ হয়ে পড়েছিল।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর জালেমদের মূল শিকড় কর্তিত হল। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্যে, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা।

বাংলা উচ্চারণ

ফাকুত্বি'আ দা-বিরুল্ ক্বাওমিল্লাযীনা জোয়ালামূ অল্হাম্দু লিল্লা-হি রব্বিল্ 'আ-লামীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর যালিম কওমের শিকড় কেটে দেয়া হয়েছিল। মূলত, সব প্রশংসা রাববুল আলামিনের।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলুনঃ বল তো দেখি, যদি তোমাদের কান ও চোখ নিয়ে যান এবং তোমাদের অন্তরে মোহর এঁটে দেন, তবে এবং তোমাদের ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে, যে তোমাদেরকে এগুলো এনে দেবে? দেখ, আমি কিভাবে ঘুরিয়ে - ফিরিয়ে নিদর্শনাবলী বর্ণনা করি। তথাপি তারা বিমুখ হচ্ছে।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ আরায়াইতুম্ ইন্ আখাযাল্লা-হু সাম্'আকুম্ অ আব্ছোয়া-রাকুম্ অখাতামা 'আলা-কুলূ বিকুম্ মান্ ইলা-হুন্ গাইরুল্লা-হি ইয়াতীকুম্ বিহী উর্ন্জু কাইফা নুছোর্য়ারিফুল্ আ-ইয়া-তি ছুম্মা হুম্ ইয়াছ্দিফূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘তোমরা ভেবে দেখেছো কি, যদি তোমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি নিয়ে নেন এবং তোমাদের অন্তরে সীলগালা করে দেন, তবে ছাড়া কোন্ আছে তোমাদের এগুলো ফিরিয়ে দেবে?’ দেখো, কিভাবে আমরা নিদর্শনসমূহ বিশদ বর্ণনা করছি। তা সত্ত্বেও তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

মুহিউদ্দীন খান

বলে দিনঃ দেখতো, যদি আল্লাহর শাস্তি, আকস্মিক কিংবা প্রকাশ্যে তোমাদের উপর আসে, তবে জালেম, সম্প্রদায় ব্যতীত কে ধ্বংস হবে?

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ আরায়াইতাকুম্ ইন্ আতা-কুম্ 'আযা-বুল্লা-হি বাগ্তাতান্ আও জ্বাহ্রাতান্ হাল্ ইয়ুহ্লাকু ইল্লাল্ ক্বাওমুজ্জোয়া-লিমূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘তোমরা ভেবে দেখেছো কি, আল্লাহর আযাব যদি হঠাৎ, কিংবা প্রকাশ্যে এসে পড়ে, তখন যালিম কওম ছাড়া আর কেউ হালাক হবে কি?

মুহিউদ্দীন খান

আমি পয়গম্বরদেরকে প্রেরণ করি না, কিন্তু সুসংবাদাতা ও ভীতি প্রদর্শকরূপে অতঃপর যে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সংশোধিত হয়, তাদের কোন শঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-র্নুসিলুল্ র্মুসালীনা ইল্লা-মুবাশ্শিরীনা অমুন্যিরীনা ফামান্ আ-মানা অআছ্লাহা ফালা-খাওফুন্ 'আলাইহিম্ অলা-হুম ইয়াহ্যানূন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা রসূলদের পাঠাই তো সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে। অতপর যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ্ করবে, তাদের কোনো ভয়ও থাকবেনা, দুঃখও থাকবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, তাদেরকে তাদের নাফরমানীর কারণে আযাব স্পর্শ করবে।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা ইয়ামাস্সু হুমুল 'আযা-বু বিমা-কা-নূ ইয়াফ্সুকুূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা আমাদের আয়াতকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করবে, তাদের সীমালংঘনের কারণে তারা নিমজ্জিত হবে আযাবে।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি বিষয় অবগতও নই। আমি এমন বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ ওহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে। আপনি বলে দিনঃ অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না ?

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ লা য় আকুলু লাকুম্ 'ইনদী খাযা - ইনুল্লা -হি অলায় আ'লামুল্ গাইবা অলা য় আকুলূ লাকুম্ ইন্নী মালাকুন্ ইন্ আত্তাবি'উ ইল্লা- মা- ইয়ূহা য় ইলাইয়্যা কুল্ হাল্ ইয়াস্তাওয়িল্ আ'মা- অল্ বাছীর আফালা- তাতাফাক্কারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘আমি তোমাদের বলছিনা যে, আমার কাছে আল্লাহর ধনভান্ডার রয়েছে! গায়েবের এলেমও আমার নেই। তাছাড়া আমি তোমাদের একথাও বলছিনা যে, আমি একজন ফেরেশ্তা। আমি তো কেবল তারই অনুসরণ করি যা অহি করা হয় আমার প্রতি।’ বলো: অন্ধ আর চক্ষুষ্মান কি সমান?’ তোমরা কি চিন্তা করে দেখবেনা?

মুহিউদ্দীন খান

আপনি এ কোরআন দ্বারা তাদেরকে ভয় - প্রদর্শন করুন, যারা আশঙ্কা করে স্বীয় পালনকর্তার কাছে এমতাবস্থায় একত্রিত হওয়ার যে, তাদের কোন সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী হবে না - যাতে তারা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে।

বাংলা উচ্চারণ

অ আর্ন্যি বিহিল্লাযীনা ইয়াখা-ফূনা আইঁ ইয়ুহ্শারূ য় ইলা-রব্বিহিম্ লাইসা লাহুম্ মিন্ দূনিহী অলিয়্যুওঁ অলা- শাফী'উল্ লা'আল্লাহুম্ ইয়াত্তাকুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তা (কুরআন) দিয়ে সেইসব লোকদের সতর্ক করো যারা তাদের প্রভুর কাছে হাশর হবার ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত থাকে। তিনি ছাড়া তাদের কোনো অলি কিংবা শাফায়াতকারী নেই। হয়তো তারা সতর্ক হবে।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদেরকে বিতাড়িত করবেন না, যারা সকাল - বিকাল স্বীয় পালকর্তার এবাদত করে, তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে। তাদের হিসাব বিন্দুমাত্রও আপনার দায়িত্বে নয় এবং আপনার হিসাব বিন্দুমাত্রও তাদের দায়িত্বে নয় যে, আপনি তাদেরকে বিতাড়িত করবেন। নতুবা আপনি অবিচারকারীদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবেন।

বাংলা উচ্চারণ

অলা তাত্বরুদিল্লাযীনা ইয়াদ্'ঊনা রব্বাহুম্ বিল্গাদা-তি অল্'আশিয়্যি ইয়ুরীদূনা অজ্বহাহ্ মা-'আলাইকা মিন্ হিসা-বিহিম্ মিন্ শাইয়িঁও অমা-মিন্ হিসা-বিকা 'আলাইহিম্ মিন্ শাইয়িন ফাতাত্বরুদাহুম্ ফাতাকূনা মিনাজ্জোয়া-লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা তাদের প্রভুকে ডাকে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর সন্তুষ্টি লাভের আশায়, তাদের তুমি তাড়িয়ে দিয়োনা। তাদের কাজের জবাবদিহির দায়িত্ব তোমার নয়, আর তোমার কোনো কাজের জবাবদিহির দায়িত্বও তাদের নয় যে, তুমি তাদের বিতাড়িত করবে। তা করলে তুমি যালিমদের মধ্যে শামিল হয়ে যাবে।

মুহিউদ্দীন খান

আর এভাবেই আমি কিছু লোককে কিছু লোক দ্বারা পরীক্ষায় ফেলেছি যাতে তারা বলে যে, এদেরকেই কি আমাদের সবার মধ্য থেকে স্বীয় অনুগ্রহ দান করেছেন? কি কৃতজ্ঞদের সম্পর্কে সুপরিজ্ঞাত নন ?

বাংলা উচ্চারণ

অ কাযা-লিকা ফাতান্না- বা'দ্বোয়াহুম্ বিবা'দ্বিল্ লিইয়াকুলূ য় আহা য় উলা - য়ি মান্না ল্লা- হু 'আলাইহিম্ মিম্ বাইনিনা- আলাইসাল্লা-হু বিআ'লামা বিশ্শা-কিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই আমরা তাদের একদল লোককে দিয়ে আরেক দলকে পরীক্ষা করেছি যাতে করে তারা বলে: ‘আমাদের মধ্যে কি এদেরকেই অনুগ্রহ করলেন?’ শোকরগুজার লোক কারা, তা কি অধিক জানেন না?

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন তারা আপনার কাছে আসবে যারা আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করে, তখন আপনি বলে দিনঃ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদের পালনকর্তা রহমত করা নিজ দায়িত্বে লিখে নিয়েছেন যে, তোমাদের মধ্যে যে কেউ অজ্ঞতাবশতঃ কোন মন্দ কাজ করে, অনন্তর এরপরে তওবা করে নেয় এবং সৎ হয়ে যায়, তবে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, করুণাময়।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-জ্বা - য়াকাল্লাযীনা ইয়ু”মিনূনা বিআ-ইয়া-তিনা-ফাকুল্ সালা-মুন্ 'আলাইকুম্ কাতাবা রব্বুকুম্ 'আলা-নাফ্সির্হি রহ্মাতা আন্নাহূ মান্ 'আমিলা মিন্কুম্ সু - য়াম্ বিজ্বাহা-লাতিন্ ছুম্মা তা-বা মিম্ বা'দিহী ওয়া আছ্লাহা ফাআন্নাহূ গাফূর্রু রহীম।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের আয়াতের প্রতি যারা ঈমান আনে তারা যখন তোমার কাছে আসে, তুমি তাদের বলবে: ‘সালামুন আলাইকুম - তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।’ তোমাদের প্রভু দয়া করাকে নিজের কর্তব্য বলে লিখে নিয়েছেন। তোমাদের কেউ যদি অজ্ঞতাবশত বদ আমল করে, তারপর তওবা করে এবং নিজেকে এসলাহ্ (সংশোধন) করে নেয়, তবে (তার প্রতি) পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।

মুহিউদ্দীন খান

আর এমনিভাবে আমি নিদর্শনসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি - যাতে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে উঠে।

বাংলা উচ্চারণ

অ কাযা-লিকা নুফাছ্ছিলুল্ আ-ইয়া-তি অ লিতাস্তাবীনা সাবীলুল্ মুজ্বরিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই আমরা তফসিল সহকারে বর্ণনা করি আয়াত, যাতে করে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ ও প্রমাণ হয়ে যায় অপরাধীদের পথ।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলে দিনঃ আমাকে তাদের এবাদত করতে নিষেধ করা হয়েছে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে যাদের এবাদত কর। আপনি বলে দিনঃ আমি তোমাদের খুশীমত চলবো না। কেননা, তাহলে আমি পথভ্রান্ত হয়ে যাব এবং সুপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হব না।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইন্নী নুহীতু আন্ আ'বুদাল্লাযীনা তাদ্'ঊনা মিন্ দূনিল্লা-হ্ কুল্ লা য় আত্তাবি'উ আহ্ওয়া - য়াকুম্ ক্বাদ্ দ্বোয়ালাল্তু ইযাওঁ অমা য় আনা মিনাল্ মুহ্তাদীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘তোমরা ছাড়া আর যাদের ডাকো, আমাকে নিষেধ করা হয়েছে তাদের ইবাদত করতে।’ বলো ‘আমি ইত্তেবা (অনুসরণ) করিনা তোমাদের খেয়াল খুশির, তা করলে তো আমি গোমরাহ হয়ে পড়বো এবং আমি হিদায়াত প্রাপ্ত লোকদের মধ্যে শামিল থাকবোনা।’

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলে দিনঃ আমার কাছে প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি প্রমাণ আছে এবং তোমরা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছ। তোমরা যে বস্তু শীঘ্র দাবী করছ, তা আমার কাছে নেই। ছাড়া কারো নির্দেশ চলে না। তিনি সত্য বর্ণনা করেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠতম মীমাংসাকারী।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইন্নী 'আলা-বাইয়্যিনাতিম্ র্মি রব্বী অকায্যাব্তুম্ বিহ্মা- 'ইন্দী মা- তাস্তা'জ্বিলূনা বিহ্ ইনিল্ হুক্মু ইল্লাল্লা-হ্ ইয়াকুছ্ছুল্ হাক্বক্বা অহুঅ খাইরুল্ ফা-ছিলীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘অবশ্যি আমি আমার প্রভুর সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত আছি, অথচ তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করছো। তোমরা যা নগদ চাইছো তা আমার কাছে নেই। কারোই কোনো কর্তৃত্ব নেই আল্লাহর ছাড়া। তিনি সত্য বর্ণনা করেন এবং তিনিই সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।’

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলে দিনঃ যদি আমার কাছে তা থাকত, যা তোমরা শীঘ্র দাবী করছ, তবে আমার ও তোমাদের পারস্পরিক বিবাদ কবেই চুকে যেত। জালেমদের সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণে অবহিত।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ লাও আন্না 'ইনদী মা- তাস্তা'জ্বিলূনা বিহী লাকুদ্বিয়াল আম্রু বাইনী অ বাইনাকুম অল্লা-হু আ'লামু বিজ্জোয়া-লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যে জিনিসটা নগদ চাইছো তা যদি আমার হাতে থাকতো, তাহলে আমার এবং তোমাদের মধ্যকার বিষয়টি ফায়সালাই হয়ে যেতো। আল্লাহ্ই অধিক জানেন যালিমদের।

মুহিউদ্দীন খান

তাঁর কাছেই জগতের চাবি রয়েছে। এ গুলো তিনি ব্যতীত কেউ জানে না। স্থলে ও জলে যা আছে, তিনিই জানেন। কোন পাতা ঝরে না; কিন্তু তিনি তা জানেন। কোন শস্য কণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতিত হয় না এবং কোন আর্দ্র ও শুস্ক দ্রব্য পতিত হয় না; কিন্তু তা সব প্রকাশ্য গ্রন্থে রয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

অ 'ইনদাহূ মাফা-তিহুল্ গাইবি লা-ইয়া'লামুহা য় ইল্লা- হূ অইয়া'লামু মা-ফিল্ র্বারি অল্বাহ্র্ অমা-তাস্ক্ব তু মিওঁ অরাক্বাতিন্ ইল্লা- ইয়া'লামুহা- অলা- হাব্বাতিন্ ফী জুলুমা-তিল্ র্আদ্বি অলা-রাত্ববিওঁ অলা- ইয়া-বিসিন্ ইল্লা- ফী কিতা-বিম্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

- এর চাবি তো তাঁরই কাছে। তিনি ছাড়া তা আর কেউই জানেনা। তিনি জানেন যা কিছু আছে স্থলে এবং সমুদ্রে। গাছের একটি পাতাও পড়েনা তাঁর অবগতি ছাড়া। একটি বীজও অংকুরিত হয়না অন্ধকার ভূ - গর্ভে, অথবা রসযুক্ত বা শুকনো কোনো বস্ত্ত নেই যা একটি সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নয়।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই রাত্রি বেলায় তোমাদেরকে করায়ত্ত করে নেন এবং যা কিছু তোমরা দিনের বেলায় কর, তা জানেন। অতঃপর তোমাদেরকে দিবসে সম্মুখিত করেন - যাতে নির্দিষ্ট ওয়াদা পূর্ণ হয়।

বাংলা উচ্চারণ

অহুঅল্লাযী ইয়াতাওয়াফ্ফা-কুম্ বিল্লাইলি অ ইয়া'লামু মা জ্বারাহ্তুম্ বিন্নাহা- রি ছুম্মা ইয়াব্'আছুকুম ফীহি লিইয়ুক্বদ্বোয়া য় আজ্বালুম্ মুসাম্মান্ ছুম্মা ইলাইহি র্মাজি'উকুম্ ছুম্মা ইয়ুুনাব্বিউকুম্ বিমা- কুন্তুম্ তা'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই রাতের কালে তোমাদের মৃত্যু দেন এবং তিনি জানেন দিনের বেলায় তোমরা যা করো। তারপর তিনি তোমাদের জাগিয়ে তোলেন যাতে করে নির্ধারিত সময় পূর্ণ হয়। এরপর তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে এবং তিনি তোমাদের অবগত করবেন তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে।

মুহিউদ্দীন খান

অনন্তর তাঁরই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তোমাদেরকে বলে দিবেন, যা কিছু তোমরা করছিলে। তিনিই স্বীয় বান্দাদের উপর প্রবল। তিনি প্রেরণ করেন তোমাদের কাছে রক্ষণাবেক্ষণকারী। এমন কি, যখন তোমাদের কারও মৃত্যু আসে তখন আমার প্রেরিত ফেরেশতারা তার আত্মা হস্তগত করে নেয়।

বাংলা উচ্চারণ

অহুঅল্ ক্বা-হিরু ফাওক্বা 'ইবা-দিহী অ ইর্য়ুসিলু 'আলাইকুম্ হাফাজোয়াহ্ হাত্তা য় ইযা- জ্বা - য়া আহাদাকুমুল্ মাত্ততু তাওয়াফ্ফাত্হু রুসুলুনা- অহুম লা-ইয়ুর্ফারিতুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিজ বান্দাদের উপর তিনি দুর্জয় ক্ষমতাধর। তিনি তোমাদের উপর রক্ষক পাঠান। অবশেষে যখন তোমাদের কারো মৃত্যুর সময় হয়, তখন আমার প্রেরিত (ফেরেশতারা) তার মৃত্যু ঘটায় এবং তারা কোনোই ত্রুটি করেনা।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর সবাইকে সত্যিকার প্রভু আল্লাহর কাছে পৌঁছানো হবে। শুনে রাখ, ফয়সালা তাঁরই এবং তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণ করবেন।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা রুদ্দু য় ইলাল্লা-হি মাওলা-হুমুল্ হাক্ব আলা-লাহুল্ হুক্মু অহুঅ আস্রা'উল্ হা-সিবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তাদের ফেরত পাঠানো হয় তাদের প্রকৃত মাওলা আল্লাহর কাছে। জেনে রাখো, সমস্ত কর্তৃত্ব কেবল তাঁরই। আর হিসাব গ্রহণে তিনি সবচেয়ে দ্রুততর।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলুনঃ কে তোমাদেরকে স্থল ও জলের অন্ধকার থেকে উদ্ধার করেন, যখন তোমরা তাঁকে বিনীতভাবে ও গোপনে আহবান কর যে, যদি আপনি আমাদের কে এ থেকে উদ্ধার করে নেন, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ মাইঁ ইয়ুনাজ্জ্বীকুম্ মিন্ জুলুমা-তিল্ র্বারি অল্বাহ্রি তাদ্'উনাহূ তাদ্বোয়াররু'আওঁ অখুফ্ইয়াতান্ লায়িন্ আন্জ্বা-না-মিন্ হা-যিহী লানাকূনান্না মিনাশ্ শা-কিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘কে তোমাদের নাজাত দেয় ভূ - খন্ড ও সমুদ্রের অন্ধকার (বিপদ) থেকে, যখন তোমরা কেবল তাঁকেই ডাকো বিনত হয়ে এবং গোপনে?’ যখন তোমরা বলো: ‘তিনি যদি এ থেকে আমাদের নাজাত দেন, তবে অবশ্যি আমরা শোকর গোজার হবো।’

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলে দিনঃ তোমাদেরকে তা থেকে মুক্তি দেন এব সব দুঃখ - বিপদ থেকে। তথাপি তোমরা শেরক কর।

বাংলা উচ্চারণ

কুলিল্লা-হু ইয়ুনাজ্জ্বীকুম্ মিন্হা -অমিন্ কুল্লি র্কাবিন্ ছুম্মা আন্তুম্ তুশ্রিকূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘আল্লাহ্ই তোমাদের নাজাত দেন তা থেকে এবং সব দুঃখ কষ্ট থেকেই। তারপরও তোমরা তাঁর সাথে শরিক করো।’

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলুনঃ তিনিই শক্তিমান যে, তোমাদের উপর কোন শাস্তি উপর দিক থেকে অথবা তোমাদের পদতল থেকে প্রেরণ করবেন অথবা তোমাদেরকে দলে - উপদলে বিভক্ত করে সবাইকে মুখোমুখী করে দিবেন এবং এককে অন্যের উপর আক্রমণের স্বাদ আস্বাদন করাবেন। দেখ, আমি কেমন ঘুরিয়ে - ফিরিয়ে নিদর্শনাবলী বর্ণনা করি যাতে তারা বুঝে নেয়।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ হুঅল্ ক্বা-দিরু 'আলা য় আইঁ ইয়াব্'আছা 'আলাইকুম্ 'আযা-বাম্ মিন্ ফাওক্বিকুম্ আও মিন্ তাহ্তি র্আজুলিকুম্ আও ইয়াল্বিসাকুম্ শিয়া'আওঁ অইয়ুযীক্বা বা'দ্বোয়াকুম্ বাসা বা'দ্ব উর্ন্জু কাইফা নুছোয়ারারিফুল্ আ-ইয়া -তি লা'আল্লাহুম্ ইয়াফ্ক্বাহূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘তিনি সক্ষম উপর থেকে তোমাদের প্রতি আযাব পাঠাতে, অথবা তোমাদের পদতল থেকে, কিংবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করতে এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ বাধিয়ে দেয়ার স্বাদ আস্বাদন করাতে। দেখো, আমরা কিভাবে আয়াত সমূহ বর্ণনা করছি যাতে করে তারা বুঝে।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার সম্প্রদায় একে মিথ্যা বলছে, অথচ তা সত্য। আপনি বলে দিনঃ আমি তোমাদের উপর নিয়োজিত নই।

বাংলা উচ্চারণ

অকায্বাবা বিহী ক্বাওমুকা অহুঅল্ হাক্ব কুল লাস্তু 'আলাইকুম্ বিঅকীল্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অথচ মহাসত্য হওয়া সত্ত্বেও তোমার কওম তা অস্বীকার করছে। বলো: আমি তোমাদের উকিল নই।

মুহিউদ্দীন খান

প্রত্যেক খবরের একটি সময় নির্দিষ্ট রয়েছে এবং অচিরেই তোমরা তা জেনে নিবে।

বাংলা উচ্চারণ

লিকুল্লি নাবায়িম্ মুস্তার্ক্বারুওঁ অসাওফা তা'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রতিটি সংবাদেরই একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে এবং অচিরেই তোমরা জানতে পারবে।

মুহিউদ্দীন খান

যখন আপনি তাদেরকে দেখেন, যারা আমার আয়াত সমূহে ছিদ্রান্বেষণ করে, তখন তাদের কাছ থেকে সরে যান যে পর্যন্ত তারা অন্য কথায় প্রবৃত্ত না হয়, যদি শয়তান আপনাকে ভূলিয়ে দেয় তবে স্মরণ হওয়ার পর জালেমদের সাথে উপবেশন করবেন না।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-রায়াইতাল্লাযীনা ইয়াখূদ্বূনা ফী য় আ-ইয়া-তিনা-ফাআ'রিদ্ব্ 'আন্হুম্ হাত্তা-ইয়াখূদ্বূ ফী হাদীছিন্ গাইরিহ্ অ ইম্মা- ইয়ুন্সিয়ান্নাকাশ্ শাইত্বোয়া-নু ফালা-তাক্ব 'উদ্ বা'দায্ যিক্রা- মা'আল্ ক্বাওমিজ্ জোয়া-লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যখন দেখবে, তারা আমার আয়াত সমূহ নিয়ে বিদ্রুপাত্মক আলোচনায় লিপ্ত, তখন তুমি তাদের থেকে সরে যাও, যতোক্ষণ না তারা কথার প্রসঙ্গ পাল্টায়। শয়তান যদি তোমাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণ হবার পর যালিমদের সাথে আর বসবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

এদের যখন বিচার করা হবে তখন পরহেযগারদের উপর এর কোন প্রভাব পড়বে না; কিন্তু তাদের দায়িত্ব উপদেশ দান করা যাতে ওরা ভীত হয়।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-'আলাল্লাযীনা ইয়াত্তাকুনা মিন্ হিসা-বিহিম্ মিন্ শাইয়িওঁ অলা-কিন্ যিকরা- লা'আল্লাহুম্ ইয়াত্তাকুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কোনো কাজের হিসাব দেয়া তাকওয়া অবলম্বনকারীদের দায়িত্ব নয়। তবে তাদের কর্তব্য উপদেশ দেয়া, যাতে করে ওরাও তাকওয়া অবলম্বন করে।

মুহিউদ্দীন খান

তাদেরকে পরিত্যাগ করুন, যারা নিজেদের ধর্মকে ক্রীড়া ও কৌতুকরূপে গ্রহণ করেছে এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে। কোরআন দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দিন, যাতে কেউ স্বীয় কর্মে এমন ভাবে গ্রেফতার না হয়ে যায় যে, ব্যতীত তার কোন সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী নেই এবং যদি তারা জগতের বিনিময়ও প্রদান কবে, তবু তাদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। একাই স্বীয় কর্মে জড়িত হয়ে পড়েছে। তাদের জন্যে উত্তপ্ত পানি এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে - কুফরের কারণে।

বাংলা উচ্চারণ

অযারিল্লাযীনাত্তাখাযূ দীনাহুম্ লা'ইবাওঁ অলাহ্অওঁ অর্গারাত্ হুমুল্ হাইয়া-তুদ্ দুন্ইয়া-অযার্ক্কি বিহী য় আন্ তুব্সালা নাফ্সুম্ বিমা-কাসাবাত্ লাইসা লাহা-মিন্ দূনিল্লা-হি অলিয়্যূওঁ অলা- শাফী'উন্ অইন্ তা'দিল্ কুল্লা 'আদ্লিল্ লা-ইয়ু''খায্ মিন্হা- উলা - য়িকাল্লাযীনা উব্সিলু বিমা - কাসাবূ লাহুম্ শারা-বুম্ মিন্ হামীমিওঁ অ'আ-যা বুন্ আলীমুম্ বিমা-কা নূ ইয়াক্ফুরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা তাদের দীনকে খেল তামাশা হিসেবে গ্রহণ করে এবং যাদেরকে প্রতারিত করে রাখে দুনিয়ার জীবন, তুমি তাদের সংগ ত্যাগ করো এবং এ (কুরআন) নিয়ে তাদের উপদেশ দিতে থাকো, যাতে করে কেউ নিজ কৃতকর্মের কারণে ধ্বংস হয়ে না যায়। তার জন্যে তো ছাড়া কোনো অলি এবং সুপারিশকারী নেই। আর তারা মুক্তির বিনিময়ে সব কিছু দিলেও তা গ্রহণ করা হবেনা। এরা হলো সেইসব লোক যারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে ধ্বংস হবে। তাদের জন্যে রয়েছে প্রচন্ড গরম পানি আর বেদনাদায়ক আযাব তাদের কুফুরির কারণে।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলে দিনঃ আমরা কি ব্যতীত এমন বস্তুকে আহবান করব, যে আমাদের উপকার করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না এবং আমরা কি পশ্চাৎপদে ফিরে যাব, এরপর যে, আমাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছেন? ঐ ব্যক্তির মত, যাকে শয়তানরা বনভুমিতে বিপথগামী করে দিয়েছে - সে উদভ্রান্ত হয়ে ঘোরাফেরা করছে। তার সহচররা তাকে পথের দিকে ডেকে বলছেঃ আস, আমাদের কাছে। আপনি বলে দিনঃ নিশ্চয় আল্লাহর পথই সুপথ। আমরা আদিষ্ট হয়েছি যাতে স্বীয় পালনকর্তা আজ্ঞাবহ হয়ে যাই।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ আনাদ্'উ মিন্ দূনিল্লা-হি মা-লা-ইয়ান্ফা'উনা অলা-ইয়ার্দ্বুরুনা- অনুরাদ্দু 'আলা য় আ'ক্বা-বিনা-বা'দা ইয্ হাদা-নাল্লা-হু কাল্লাযিস্ তাহ্অত্হুশ্ শাইয়া-ত্বীনু ফিল্ র্আদ্বি হাইরা-না লাহূ য় আছ্হা-বুইঁ ইয়াদ্'ঊনাহূ য় ইলাল্ হুদা তিনা- কুল ইন্না হুদাল্লা-হি হুঅল্ হুদা- অউর্মিনা- লিনুস্লিমা লিরব্বিল্ 'আ-লামীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: আমরা কি ছাড়া এমন কিছুকে (ইলাহ্ হিসেবে) ডাকবো, যেগুলো আমাদের না কোনো লাভ করতে পারে, আর না ক্ষতি? আমাদের হিদায়াত করার পর আমরা কি আবার ঐ ব্যক্তির মতো পেছনে ফিরে যাবো যাকে শয়তান পৃথিবীতে পথ ভুলিয়ে হয়রান করে ফেলেছে? অথচ তার সাথিরা তাকে সঠিক পথের দিকে ডেকে বলে: ‘এসো আমাদের কাছে।’ বলো: ‘আল্লাহর হিদায়াতই একমাত্র হিদায়াত এবং আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমরা যেনো রাববুল আলামিনের প্রতি আত্মসমর্পণ করি।’

মুহিউদ্দীন খান

এবং তা এই যে, কায়েম কর এবং তাঁকে ভয় কর। তাঁর সামনেই তোমরা একত্রিত হবে।

বাংলা উচ্চারণ

অআন্ আক্বীমুছ্ ছলা-তা অত্তাকুহ্ অহুঅল্লাযী য় ইলাইহি তুহ্শারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে: ‘ কায়েম করো এবং তাঁর অবাধ্য হওয়া থেকে আত্মরক্ষা করো। আর তাঁরই কাছে তোমাদের হাশর করা হবে।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই সঠিকভাবে নভোমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। যেদিন তিনি বলবেনঃ হয়ে যা, অতঃপর হয়ে যাবে। তাঁর কথা সত্য। যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার করা হবে, সেদিন তাঁরই আধিপত্য হবে। তিনি বিষয়ে এবং প্রত্যক্ষ বিষয়ে জ্ঞাত। তিনিই প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।

বাংলা উচ্চারণ

অহুঅল্লাযী খালাক্বাস্ সামা- ওয়া-তি অল্র্আদ্বোয়া বিল্হাক্ব অ ইয়াওমা ইয়াকুলু কুন্ ফাইয়াকূন্ ক্বাওলুহুল্ হাক্ব অলাহুল্ মুল্কু ইয়াওমা ইয়ুন্ফাখু ফিছ্ ছূর 'আ-লিমুল্ গাইবি অশ্শাহা-দাহ্ অহুঅল্ হাকীমুল্ খাবীর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ আর পৃথিবী, এ এক মহাসত্য। যখন তিনি বলেন: ‘হও’, সাথে সাথে হয়ে যায়। তাঁর কথা মহাসত্য। সেদিন সমস্ত কর্তৃত্ব থাকবে তাঁরই হাতে, যেদিন ফু দেয়া হবে শিঙায়। তিনি গায়েবের জ্ঞানী এবং হাজিরেরও। তিনি বিজ্ঞানময় ও সব বিষয়ে অবহিত।

মুহিউদ্দীন খান

স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম পিতা আযরকে বললেনঃ তুমি কি প্রতিমা সমূহকে উপাস্য মনে কর? আমি দেখতে পাচ্ছি যে, তুমি ও তোমার সম্প্রদায় প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ক্বা-লা ইব্রা-হীমু লিআবীহি আ-যারা আতাত্তাখিযু আছ্না-মান্ আ-লিহাতান্ ইন্নী আরা-কা অক্বাওমাকা ফী দ্বোয়ালালিম্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, ইবরাহিম তার বাপ আযরকে বলেছিল: ‘আপনি কি মূর্তিকে ইলাহ্ মানেন? আমার মতে আপনি এবং আপনার কওম সুস্পষ্ট গোমরাহিতে নিমজ্জিত।’

মুহিউদ্দীন খান

আমি এরূপ ভাবেই ইব্রাহীমকে নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের অত্যাশ্চর্য বস্তুসমূহ দেখাতে লাগলাম - যাতে সে দৃঢ় হয়ে যায়।

বাংলা উচ্চারণ

অকাযা-লিকা নুরী য় ইব্রা-হীমা মালাকূতাস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বি অলিয়াকূনা মিনাল্ মূক্বিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই আমরা ইবরাহিমকে মহাকাশ এবং পৃথিবীর পরিচালন ব্যবস্থা দেখিয়েছি, যাতে করে সে দৃঢ় বিশ্বাসীদের একজন হয়।

মুহিউদ্দীন খান

অনন্তর যখন রজনীর অন্ধকার তার উপর সমাচ্ছন্ন হল, তখন সে একটি তারকা দেখতে পেল, বললঃ ইহা আমার প্রতিপালক। অতঃপর যখন তা অস্তমিত হল তখন বললঃ আমি অস্তগামীদেরকে ভালবাসি না।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-জ্বান্না 'আলাইহিল্ লাইলু রায়া-কাওকাবান্ ক্ব-লা হা-যা-রাব্বী ফাল্লাম্মা য় আফালা ক্বা-লা লা য় উহিব্বুল্ আ-ফিলীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর যখন তার উপর ছেয়ে এলো রাতের আঁধার, সে একটি নক্ষত্র দেখে বললো: ‘এই আমার রব।’ কিন্তু সেটি যখন অস্ত গেলো, সে বললো: ‘অস্ত যাওয়াদের আমি পছন্দ করিনা।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন চন্দ্রকে ঝলমল করতে দেখল, বললঃ এটি আমার প্রতিপালক। অনন্তর যখন তা হয়ে গেল, তখন বলল যদি আমার প্রতিপালক আমাকে পথ - প্রদর্শন না করেন, তবে অবশ্যই আমি বিভ্রান্ত সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা- রায়াল্ ক্বামারা বা-যিগান্ ক্ব-লা হা-যা- রব্বী ফালাম্মা য় আফালা ক্বা-লা লায়িল্লাম ইয়াহ্দিনী রব্বী লাআকূনান্না মিনাল্ ক্বাওমিদ্ব্ দ্বোয়া - ল্লীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

পরে যখন সে দেখলো উজ্জ্বল চাঁদ উদয় হয়েছে, সে বললো: ‘এ - ই আমার রব।’ অতপর চাঁদও যখন অস্ত গেলো, সে বললো: ‘আমার রবই যদি আমাকে সঠিক পথ না দেখান, তাহলে অবশ্যি আমি বিপথগামী লোকদের অন্তরভুক্ত হয়ে যাবো।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন সূর্যকে চকচক করতে দেখল, বললঃ এটি আমার পালনকর্তা, এটি বৃহত্তর। অতপর যখন তা ডুবে গেল, তখন বলল হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা যেসব বিষয়কে শরীক কর, আমি ওসব থেকে মুক্ত।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা- রায়াশ্ শাম্সা বা-যিগাতান্ ক্ব-লা হা-যা-রব্বী হা-যা য় আক্ বারু-ফালাম্মা য় আফালাত্ ক্ব-লা ইয়া-কাওমী ইন্নী বারী - উম্ মিম্মা-তুশ্রিকূন।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর যখন সে দীপ্ত সূর্যকে উদয় হতে দেখলো, বললো: ‘এই হবে আমার রব। এতো সবার বড়।’ কিন্তু যখন সেও অস্ত গেলো, এবার সে (ইবরাহিম) বললো: ‘হে আমার কওম! তোমরা যাদেরকে (আল্লাহর সাথে) শরিক করছো আমি তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলাম।

মুহিউদ্দীন খান

আমি এক মুখী হয়ে স্বীয় আনন ঐ সত্তার দিকে করেছি, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরেক নই।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নী- অজ্জ্বাহ্তু অজ্বহিয়া লিল্লাযী ফাত্বোয়ারস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বোয়া হানীফাওঁ অমা য় আনা মিনাল্ মুশরিকীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি নিষ্ঠার সাথে আমার মুখ ফিরালাম সেই মহান সত্তার জন্যে যিনি সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ এবং পৃথিবী। আমি মুশরিকদের অন্তরভুক্ত নই।’

মুহিউদ্দীন খান

তাঁর সাথে তার সম্প্রদায় বিতর্ক করল। সে বললঃ তোমরা কি আমার সাথে আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে বিতর্ক করছ; অথচ তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করেছেন। তোমরা যাদেরকে শরীক কর, আমি তাদেরকে ভয় করি না তবে আমার পালকর্তাই যদি কোন কষ্ট দিতে চান। আমার পালনকর্তাই প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন। তোমরা কি চিন্তা কর না ?

বাংলা উচ্চারণ

অহা- জ্জ্বহূ ক্বাওমুহ্ ক্ব-লা আতুহা-জ্জ্ব - ন্নী ফিল্লা-হি অক্বাদ্ হাদা-ন্অলা য় আখা-ফু মা- তুশ্রিকূনা বিহী য় ইল্লা য় আইঁ ইয়াশা - য়া রব্বী শাইয়া- অসি'আ রব্বী কুল্লা শাইয়িন্ 'ইল্মা- তিনিই আমাকে পথ দেখালেন। আল্লাহ্র ইচ্ছা ছাড়া তোমাদের শরীককে ভয় করি না সবই তো আমার রবের জ্ঞানে আফালা-তাতাযাক্কারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তার কওম তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়। সে তাদের বলেছিল: ‘তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে আমার সাথে তর্ক করছো? অথচ তিনি আমাকে হিদায়াত দান করেছেন। তোমরা তাঁর সাথে যাদের শরিক করছো আমি তাদের ভয় করিনা, তবে আমার প্রভুই যদি কিছু চান সেটা ভিন্ন কথা। সব কিছুর উপর আমার প্রভুর জ্ঞান পরিব্যাপ্ত। তোমরা কি বুঝার চেষ্টা করবেনা?’

মুহিউদ্দীন খান

যাদেরকে তোমরা আল্লাহর সাথে শরীক করে রেখেছ, তাদেরকে কিরূপে ভয় কর, অথচ তোমরা ভয় কর না যে, তোমরা আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে শরীক করছ, যাদের সম্পর্কে তোমাদের প্রতি কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। অতএব, উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শাস্তি লাভের অধিক যোগ্য কে, যদি তোমরা জ্ঞানী হয়ে থাক।

বাংলা উচ্চারণ

অকাইফা আখা-ফু মা য় আশ্রাক্তুম্ অলা- তাখা-ফূ না আন্নাকুম্ আশ্রাক্তুম্ বিল্লা-হি মা-লাম ইয়ুনায্যিল্ বিহী 'আলাইকুম্ সুল্ত্বোয়া-না- ফাআইয়্যুল ফারীক্বাইনি আহাক্বকু বিল্আম্নি ইন্ কুন্তুম তা'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যাদেরকে (আল্লাহর সাথে) শরিক করছো আমি কী করে তাদের ভয় করতে পারি! তোমরা তো মহান আল্লাহর সাথে শরিক করতে ভয় করছোনা, অথচ তাদেরকে আল্লাহর শরিক বানানোর ব্যাপারে তোমাদেরকে কোনো সার্টিফিকেট দেয়া হয়নি। সুতরাং তোমাদের যদি বুঝ - জ্ঞান থাকে তবে বলো: ‘কোন্ পক্ষ নিরাপত্তা লাভের বেশি হকদার?’

মুহিউদ্দীন খান

যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শেরেকীর সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা আ -মানূ অলাম্ ইয়াল্বিসূ য় ঈমা-নাহুম্ মিজুল্মিন্ ঊলা - য়িকা লাহুমুল্ আম্নু অহুম্ মুহ্তাদূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে এবং ঈমানকে যুলুম (শিরক) মিশ্রিত করে কলুষিত করেনা, তাদের জন্যেই রয়েছে নিরাপত্তা, আর তারাই হিদায়াত প্রাপ্ত।

মুহিউদ্দীন খান

এটি ছিল আমার যুক্তি, যা আমি ইব্রাহীমকে তাঁর সম্প্রদায়ের বিপক্ষে প্রদান করেছিলাম। আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় সমুন্নত করি। আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

অতিল্কা হুজ্জ্বাতুনা য় আ-তাইনা-হা য় ইব্রা-হীমা 'আলা-কাওমিহ্ র্নাফা'উ দারাজ্বা-তিম্ মান্নাশা - উ ইন্না রব্বাকা হাকীমুন্ 'আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা ইবরাহিমকে তার কওমের মোকাবেলায় এসব যুক্তি প্রমাণ প্রদান করেছিলাম। আমরা যাকে চাই অনেক উঁচু মর্যাদা দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাঁকে দান করেছি ইসহাক এবং এয়াকুব। প্রত্যেককেই আমি পথ প্রদর্শন করেছি এবং পূর্বে আমি নূহকে পথ প্রদর্শন করেছি - তাঁর সন্তানদের মধ্যে দাউদ, সোলায়মান, আইউব, ইউসুফ, মূসা ও হারুনকে। এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।

বাংলা উচ্চারণ

অ ওয়াহাব্না- লাহূ য় ইস্হা-ক্বা অইয়া'কুব কুল্লান্ হাদাইনা-অনূহান্ হাদাইনা-মিন্ ক্বব্লু অমির্ন্য়ুরিয়্যাতিহী দা-ঊদা অসুলাইমা-না অআইয়্যূবা অইয়ূসুফা অমূসা অহা-রূন্ অ কাযা-লিকা নাজ্বযিল্ মুহ্সিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা তাকে দান করেছিলাম (পুত্র) ইসহাক এবং (নাতি) ইয়াকুবকে। তাদের প্রত্যেককেই আমরা হিদায়াতের উপর পরিচালিত করেছি। এর আগে আমরা নূহকেও হিদায়াতের উপর পরিচালিত করেছি আর তার বংশধর দাউদ, সুলাইমান, আইয়ুব, ইউসুফ এবং মূসা আর হারূণকেও। এভাবেই আমরা পুরস্কার দিয়ে থাকি কল্যাণ পরায়ণদের।

মুহিউদ্দীন খান

আর ও যাকারিয়া, ইয়াহিয়া, ঈসা এবং ইলিয়াসকে। তারা সবাই পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বাংলা উচ্চারণ

অযাকারিয়্যা- অ ইয়াহ্ইয়া অ'ঈসা-অইল্ইয়া-স্ কুল্লুম্ মিনাছ্ ছোয়া-লিহীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যাকারিয়া, ইয়াহিয়া, ঈসা ও ইলিয়াস - এরা প্রত্যেকেই ছিলো ন্যায় পরায়ণদের অন্তরভুক্ত।

মুহিউদ্দীন খান

এবং ইসরাঈল, ইয়াসা, ইউনূস, লূতকে প্রত্যেককেই আমি সারা বিশ্বের উপর গৌরবাম্বিত করেছি।

বাংলা উচ্চারণ

অইস্মা-'ঈলা অল্ইয়াসা'আ অইয়ূনুসা অলূত্বোয়া- অকুল্লান্ ফাদ্ব্দ্বোয়াল্না-'আলাল্ 'আ-লামীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর ইসমাঈল, আলইয়াসা এবং ইউনুস এবং লূতও। এদের প্রত্যেককেই আমরা শ্রেষ্ঠ মর্যাদা দিয়েছিলাম জগতবাসীর উপর।

মুহিউদ্দীন খান

আর ও তাদের কিছু সংখ্যক পিতৃপুরুষ, সন্তান - সন্ততি ও ভ্রাতাদেরকে; আমি তাদেরকে মনোনীত করেছি এবং সরল পথ প্রদর্শন করেছি।

বাংলা উচ্চারণ

অমিন্ আ-বা - য়িহিম্ অর্যুরিয়্যা-তিহিম্ অইখ্ওয়া-নিহিম্ অজ্বতাবাইনা-হুম্ অহাদাইনা-হুম্ ইলা-ছিরা-ত্বিম্ মুস্তাক্বীম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাছাড়া এদের পূর্ব পুরুষ, উত্তর পুরুষ এবং ভাইদের অনেককেও। আমরা তাদের সবাইকে মনোনীত করেছিলাম এবং পরিচালিত করেছিলাম সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর।

মুহিউদ্দীন খান

এটি আল্লাহর হেদায়েত। স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা, এপথে চালান। যদি তারা শেরেকী করত, তবে তাদের কাজ কর্ম তাদের জন্যে ব্যর্থ হয়ে যেত।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা হুদাল্লা-হি ইয়াহ্দী বিহী মাইঁ ইয়াশা - উ মিন্ 'ইবা-দিহ্ অলাও আশ্রাকূ লাহাবিত্বোয়া 'আন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়া'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ হলো আল্লাহর হিদায়াত, তিনি তাঁর বান্দাদের যাকে চান এর ভিত্তিতে পরিচালিত করেন। তারা যদি শিরক করতো, অবশ্যি নিষ্ফল হয়ে যেতো তাদের সমস্ত আমল।

মুহিউদ্দীন খান

তাদেরকেই আমি গ্রন্থ, শরীয়ত ও নবুয়ত দান করেছি। অতএব, যদি এরা আপনার নবুয়ত অস্বীকার করে, তবে এর জন্যে এমন সম্প্রদায় নির্দিষ্ট করেছি, যারা এতে অবিশ্বাসী হবে না।

বাংলা উচ্চারণ

উলা - য়িকাল্লাযীনা আ-তাইনা- হুমুল্ কিতা-বা অল্হুক্মা অন্নুবুওয়্যাতা ফাইঁ ইয়ার্ক্ফু বিহা- হা য় উলা - য়ি ফাক্বাদ অক্কাল্না-বিহা-ক্বাওমাল্লাইসূ বিহা-বিকা-ফিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা ছিলো সেইসব লোক, যাদেরকে আমরা দান করেছিলাম কিতাব, প্রজ্ঞা এবং নবুয়্যত। এখন যদি এরা এগুলোর প্রতি কুফুরিও করে, তবে আমরা তো এগুলোর দায়িত্ব এমন একদল লোকের উপর অর্পণ করেছি যারা এগুলোর প্রতি নয়।

মুহিউদ্দীন খান

এরা এমন ছিল, যাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছিলেন। অতএব, আপনিও তাদের পথ অনুসরণ করুন। আপনি বলে দিনঃ আমি তোমাদের কাছে এর জন্যে কোন পারিশ্রমিক চাই না। এটি সারা বিশ্বের জন্যে একটি উপদেশমাত্র।

বাংলা উচ্চারণ

উলা - য়িকাল্লাযীনা হাদাল্লা-হু ফাবিহুদা-হুমুক্ব তাদিহ্্ কুল্ লা য় আস্আলুকুম্ 'আলাইহি আজ্বরা- ইন্ হুঅ ইল্লা- যিক্রা- লিল্'আ-লামীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদেরকে হিদায়াতের উপর পরিচালিত করেছেন, সুতরাং তুমিও তাদের পথের অনুসরণ করো। তুমি বলো: ‘আমি তো একাজের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। এ (কুরআন)টা তো জগতবাসীর জন্যে উপদেশ ছাড়া আর কিছুই নয়।

মুহিউদ্দীন খান

তারা আল্লাহকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেনি, যখন তারা বললঃ কোন মানুষের প্রতি কোন কিছু অবতীর্ণ করেননি। আপনি জিজ্ঞেস করুনঃ ঐ গ্রন্থ কে নাযিল করেছে, যা মূসা নিয়ে এসেছিল ? যা জ্যোতিবিশেষ এবং মানব মন্ডলীর জন্যে হোদায়েতস্বরূপ, যা তোমরা বিক্ষিপ্তপত্রে রেখে লোকদের জন্যে প্রকাশ করছ এবং বহুলাংশকে গোপন করছ। তোমাদেরকে এমন অনেক বিষয় শিক্ষা দেয়া হয়েছে, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা জানতো না। আপনি বলে দিনঃ নাযিল করেছেন। অতঃপর তাদেরকে তাদের ক্রীড়ামূলক বৃত্তিতে ব্যাপৃত থাকতে দিন।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-ক্বাদারুল্লা-হা হাক্বক্বা ক্বাদ্রিহী য় ইয্ ক্ব-লূ মা য় আন্যালাল্লা-হু 'আলা-বাশারিম্ মিন্ শাইয়িন্ কুল্ মান্ আন্যালাল্ কিতা-বাল্লাযী জ্বা - য়া বিহী মূসা- নূরাওঁ অহুদাল্ লিন্না-সি তাজ্ব'আলূনাহূ ক্বারা-ত্বীসা তুব্দূনাহা- অতুখ্ফূনা কাছীরান্ অ'উল্লিম্তুম্ মা-লাম্ তা'লামূ য় আন্তুম্ অলা য় আ-বা - উক্ম্ু কুলিল্লা-হু ছুম্মা যারহুম্ ফী খাওদ্বিহিম্ ইয়াল্'আবূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আল্লাহকে তাঁর প্রকৃত মর্যাদাই প্রদান করেনি, যখন তারা বলে: ‘ একজন মানুষের কাছে কিছুই নাযিল করেননি।’ তুমি বলো: ‘তাহলে মূসা যে কিতাব নিয়ে এসেছিল তা কে নাযিল করেছে? যা ছিলো আলো এবং মানুষের জন্যে হিদায়াত। তোমরা যার কিছু অংশ কাগজে লিখে প্রকাশ করো আর অনেকাংশই করো গোপন। আর তোমাদেরকে (সেই কিতাবের মাধ্যমে) তাও শিক্ষা দেয়া হয়েছিল যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষরা জানতেনা?’ বলো ‘আল্লাহ্ই’ (তা নাযিল করেছেন)। ব্যাস্, এখন তাদেরকে তাদের অর্থহীন কথাবার্তার খেলায় নিমগ্ন থাকতে দাও।

মুহিউদ্দীন খান

এ কোরআন এমন গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ন করেছি; বরকতময়, পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যতা প্রমাণকারী এবং যাতে আপনি মক্কাবাসী ও পাশ্ববর্তীদেরকে ভয় প্রদর্শন করেন। যারা পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তার স্বীয় সংরক্ষণ করে।

বাংলা উচ্চারণ

অ হা-যা-কিতা-বুন্ আন্যাল্না-হু মুবা-রাকুম্ মুছোয়াদ্দিকুল্লাযী বাইনা ইয়াদাইহি অলিতুন্যিরা উম্মাল্ কুরা- অমান্ হাওলাহা- অল্লাযীনা ইয়ু মিনূনা বিল্ আ-খিরাতি ইয়ু মিনূনা বিহী অহুম্ 'আলা- ছলা-তিহিম্ ইয়ুহা-ফিজূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর এই মুবারক কিতাব (আল কুরআন) আমরা নাযিল করেছি। এটি তার পূর্বের কিতাবের সত্যায়নকারী আর এর ভিত্তিতে যেনো তুমি উম্মুল কোরা (মক্কা) এবং তার আশ্ পাশের লোকদের সতর্ক করো। যারা আখিরাতে তারা এর প্রতি ঈমান রাখে এবং তারা তাদের সালাতের হিফাযত করে।

মুহিউদ্দীন খান

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় জালেম কে হবে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে অথবা বলেঃ আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে। অথচ তার প্রতি কোন ওহী আসেনি এবং যে দাবী করে যে, আমিও নাযিল করে দেখাচ্ছি যেমন নাযিল করেছেন। যদি আপনি দেখেন যখন জালেমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা স্বীয় হস্ত প্রসারিত করে বলে, বের কর স্বীয় আত্মা! অদ্য তোমাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি প্রদান করা হবে। কারণ, তোমরা আল্লাহর উপর অসত্য বলতে এবং তাঁর আয়াত সমূহ থেকে অহংকার করতে।

বাংলা উচ্চারণ

অমান আজ্লামু মিম্মানিফ্ তারা- 'আলাল্লা-হি কাযিবান্ আও ক্ব-লা ঊহিয়া ইলাইয়্যা অলাম্ ইয়ূহা ইলাইহি শাইয়ুওঁ অমান্ ক্বা-লা সাউন্যিলু মিছ্লা মা য় আন্যালাল্লা-হ্ অলাও তারা য় ইযিজ্জোয়া-লিমূনা ফী গামারা-তিল্ মাওতি অল্মালা - য়িকাতু বা-ছিতু য় আইদীহিম্ আখ্রিজ্ব ূয় আন্ফুসাকুম্ আল্ইয়াওমা তুজ্বযাওনা 'আযা-বাল্ হূনি বিমা-কুন্তুম্ তাকুলূনা 'আলাল্লা- হি গাইরাল্ হাক্বক্বি অকুন্তুম্ 'আন্ আ-ইয়া-তিহী তাস্তাকবিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করে, কিংবা বলে, ‘আমার কাছে অহি আসে’, অথচ তার কাছে কোনো অহিই আসেনা, আর ঐ ব্যক্তিও, যে বলে যা নাযিল করেছেন আমিও তা নাযিল করবো?’ তুমি যদি দেখতে এই যালিমরা যখন মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাবে আর ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে বলবে: ‘বের করো তোমাদের প্রাণ। আজ প্রয়োগ করা হবে তোমাদের উপর অপমানকর আযাব, কারণ তোমরা আল্লাহর উপর আরোপ করতে না হক কথা আর আল্লাহর আয়াত নিয়ে প্রকাশ করতে ঔদ্ধত্য।’

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা আমার কাছে নিঃসঙ্গ হয়ে এসেছ, আমি প্রথমবার তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছিলাম। আমি তোদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা পশ্চাতেই রেখে এসেছ। আমি তো তোমাদের সাথে তোমাদের সুপারিশকারীদের কে দেখছি না। যাদের সম্পর্কে তোমাদের দাবী ছিল যে, তারা তোমাদের ব্যাপারে অংশীদার। বাস্তুবিকই তোমাদের পরস্পরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমাদের দাবী উধাও হয়ে গেছে।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বাদ্ জ্বিতুমূনা-ফুরা-দা- কামা-খালাক্বনা-কুম্ আওয়্যালা র্মারাতিওঁ অতারাক্তুম্ মা -খাওয়্যাল্না-কুম্ অরা - য়া জুহূরিকুম্ অমা- নারা-মা'আকুম্ শুফা'আয়া - কুমুল্লাযীনা যা'আম্তুম্ আন্নাহুম্ ফীকুম্ শুরাকা - উ লাক্বাদ্ তাক্বাত্ত্বোয়া'আ বাইনাকুম্ অদ্বোয়াল্লা 'আন্কুম্ মা-কুন্তুম্ তায্'উমূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তো আমাদের কাছে একা একাই এসেছো যেমন আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছিলাম প্রথমবার, আর তোমাদেরকে যা দিয়েছিলাম সবই তো পেছনে ফেলে এসেছো! কই তোমাদের সাথে তো তোমাদের শাফায়াতকারীদের দেখছিনা, যাদেরকে তোমাদের ব্যাপারে (আল্লাহর) শরিকদার মনে করতে? তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমরা যা ধারণা করছিলে সবই হয়ে গেছে উধাও।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় আল্লাহই বীজ ও আঁটি থেকে অঙ্কুর সৃষ্টিকারী; তিনি জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন ও মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন। তিনি অতঃপর তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না ল্লা-হা ফা-লিকুল্ হাব্বি অন্নাওয়া- ইয়ুখ্রিজুল্ হাইয়্যা মিনাল্ মাইয়্যিতি অমুখ্রিজুল্ মাইয়্যিতি মিনাল্ হাইয়্যি যা-লিকুমুল্লা-হু ফাআন্না- তু'ফাকূন্ ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহ্ই অংকুরিত করেন শস্য - বীজ এবং আঁটি। তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করে আনেন এবং মৃতকে বের করে আনেন জীবন্তের থেকে। তিনিই । সুতরাং কোথায় ফিরে যাচ্ছো তোমরা?

মুহিউদ্দীন খান

তিনি প্রভাত রশ্মির উন্মেষক। তিনি রাত্রিকে আরামদায়ক করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে হিসেবের জন্য রেখেছেন। এটি পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানীর নির্ধারণ।

বাংলা উচ্চারণ

ফা-লিকুল্ ইছ্বা-হি অজ্বা'আলাল্লাইলা সাকানাওঁ অশ্শাম্সা অল্ক্বামারা হুস্বা-না- যা-লিকা তাক্বদীরুল্ 'আযীযিল্ 'আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই (রাতের বুক চিরে) ভোরের উন্মেষ ঘটান। তিনিই বানিয়েছেন তোমাদের বিশ্রামের জন্যে রাত আর হিসাবের জন্যে সূর্য আর চাঁদ। এসবই মহাপরাক্রমশালী ও মহাজ্ঞানীর নির্ধারিত।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্রপুঞ্জ সৃজন করেছেন যাতে তোমরা স্থল ও জলের অন্ধকারে পথ প্রাপ্ত হও। নিশ্চয় যারা জ্ঞানী তাদের জন্যে আমি নির্দেশনাবলী বিস্তারিত বর্ণনা করে দিয়েছি।

বাংলা উচ্চারণ

অহুঅল্লাযী জ্বা'আলা লাকুমুন্ন জুমা লিতাহ্তাদূ বিহা- ফী জুলুমা-তিল্ র্বারি অল্ বাহ্র ক্বাদ্ ফাছ্ছোয়াল্নাল্ আ-ইয়া-তি লিক্বাওমিইঁ ইয়া'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই তোমাদের জন্যে নক্ষত্রকে বানিয়েছেন স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ প্রদর্শক। যেসব লোক জ্ঞান রাখে তাদের জন্যে আমরা নিদর্শন বর্ণনা করেছি বিশদভাবে।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই তোমাদের কে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অনন্তর একটি হচ্ছে তোমাদের স্থায়ী ঠিকানা ও একটি হচ্ছে গচ্ছিত স্থল। নিশ্চয় আমি প্রমাণাদি বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি তাদের জন্যে, যারা চিন্তা করে।

বাংলা উচ্চারণ

অহুঅল্ লাযী য় আন্শায়াকুম্ মিন্ নাফ্সিও ওয়া-হিদাতিন্ ফামুসতার্ক্বারুওঁ অ মুসতাওদা' ক্বাদ ফাছ্ ছোয়াল্নাল্ 'আ-ইয়া-তি লিক্বাত্তমিইঁ ইয়াফ্ক্বাহূনা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে। তারপর তোমাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী ও সাময়িক ঠিকানা। যারা বুঝ ও বোধের অধিকারী তাদের জন্যে আমরা নিদর্শন বর্ণনা করেছি বিশদভাবে।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন অতঃপর আমি এর দ্বারা সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি, অতঃপর আমি এ থেকে সবুজ ফসল নির্গত করেছি, যা থেকে যুগ্ম বীজ উৎপন্ন করি। খেজুরের কাঁদি থেকে গুচ্ছ বের করি, যা নুয়ে থাকে এবং আঙ্গুরের বাগান, যয়তুন, আনার পরস্পর সাদৃশ্যযুক্ত এবং সাদৃশ্যহীন। বিভিন্ন গাছের ফলের প্রতি লক্ষ্য কর যখন সেুগুলো ফলন্ত হয় এবং তার পরিপক্কতার প্রতি লক্ষ্য কর। নিশ্চয় এ গুলোতে নিদর্শন রয়েছে ঈমানদারদের জন্যে।

বাংলা উচ্চারণ

অ অল্লাযী য় আন্যালা মিনাস্ সামা - য়ি মা - য়ান্ ফা'আখ্রাজ্বনা -বিহী নাবা-তা কুল্লি শাইয়িন্ ফাআখ্রাজ্বনা- মিন্হু খাদ্বিরান্ নুখ্রিজ্ব মিন্হু হাব্বাম্ মুতারা-কিবান্ অমিনান নাখ্লি মিন্ ত্বোয়াল্'ইহা- ক্বিন্ওয়া-নুন্ দা-নিয়াতুওঁ অজ্বান্না-তিম্ মিন আ'না-বিওঁ অয্ যাইতূনা র্অরুম্মা-না মুশ্তাবিহাওঁ অগাইরা মুতাশা-বিহ্ উন্জুরূ য় ইলা- ছামারিহী য় ইযা য় আছ্মারা অইয়ান্'ইহ ইন্না ফী যা-লিকুম্ লাআ-ইয়া-তিল্ লিক্বাওমিইঁ ইয়ুমিনূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই আসমান থেকে নাযিল করেন পানি। তা দিয়ে আমরা সব ধরণের উদ্ভিদ উদগত করি। তা থেকে আমরা সবুজ পাতা বের করে আনি। তা থেকে উৎপন্ন করি ঘন নিবিড় শস্যদানা। খেজুর গাছের মাথা থেকে বের করে আনি ঝুলন্ত কাঁদি। উৎপন্ন করি আংগুরের বাগান, যয়তুন ও আনার, একই রকম ও বিভিন্ন রকম। লক্ষ্য করে দেখো, এর ফলের প্রতি, যখন তা ফলবান হয় এবং যখন তা পাকে। যারা ঈমান রাখে তাদের জন্যে এতে রয়েছে অনেক নিদর্শন।

মুহিউদ্দীন খান

তারা জিনদেরকে আল্লাহর অংশীদার স্থির করে; অথচ তাদেরকে তিনিই সৃস্টি করেছেন। তারা অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহর জন্যে পুত্র ও কন্যা সাব্যস্ত করে নিয়েছে। তিনি পবিত্র ও সমুন্নত, তাদের বর্ননা থেকে।

বাংলা উচ্চারণ

অজ্বা'আলূ লিল্লা-হি শুরাকা - য়াল্ জ্বিন্না অখালাক্বাহুম্ অখারাকু লাহূ বানীনা অ বানা-তিম্ বিগাইরি 'ইল্ম্ সুবহা-নাহূ অতা'আ-লা-'আম্মা-ইয়াছিফূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা জিনকে আল্লাহর শরিক বানায়, অথচ তিনিই তাদের সৃষ্টি করেছেন। আর না জেনেই তারা আল্লাহর প্রতি পুত্র কন্যা আরোপ করে। তারা যা আরোপ করে তা থেকে তিনি মুক্ত - পবিত্র এবং অনেক উর্ধ্বে।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আদি স্রষ্টা। কিরূপে আল্লাহর পুত্র হতে পারে, অথচ তাঁর কোন সঙ্গী নেই ? তিনি যাবতীয় কিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি সব বস্তু সম্পর্কে সুবিজ্ঞ।

বাংলা উচ্চারণ

বাদী'উস্ সামা-ওয়া-তি অল র্আদ্ব্ আন্না-ইয়াকূনু লাহূ অলাদুওঁ অলাম্ তাকুল্লাহূ ছোয়া-হিবাহ্ অখালাক্বা কুল্লা শাইয়িন্ অ হুআ বিকুল্লি শাইয়িন্ 'আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তো মহাবিশ্ব এবং এই পৃথিবীর স্রষ্টা। কী করে থাকতে পারে তাঁর সন্তান? তাঁর তো স্ত্রীও থাকতে পারেনা। কারণ, সব কিছু তো তিনিই সৃষ্টি করেছেন। প্রতিটি বিষয়ে তিনি জ্ঞাত।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই তোমাদের পালনকর্তা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনিই সব কিছুর স্রষ্টা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তিনি প্রত্যেক বস্তুর কার্যনির্বাহী।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকুমুল্লা-হু রব্বুকুম্ লা য় ইলা-হা ইল্লা-হু অখা-লিকুকুল্লি শাইয়িন্ ফা'বুদূহু অ হুঅ 'আলা-কুল্লি শাইয়িওঁ অকীল্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি , তোমাদের প্রভু। কোনো ইলাহ্ নেই তিনি ছাড়া। প্রতিটি জিনিসের তিনি স্রষ্টা। সুতরাং তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো। প্রতিটি জিনিসের উপর তিনি উকিল - তত্ত্বাবধায়ক।

মুহিউদ্দীন খান

দৃষ্টিসমূহ তাঁকে পেতে পারে না, অবশ্য তিনি দৃষ্টিসমূহকে পেতে পারেন। তিনি অত্যন্ত সুক্ষদর্শী, সুবিজ্ঞ।

বাংলা উচ্চারণ

লা-তুদ্রিকুহুল্আব্ছোয়া-রু অহুআ ইয়ুদ্রিকুল্ আব্ছোয়া-রা অহুঅল্ লাত্বীফুল্ খার্বী।

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো দৃষ্টি তাঁকে ধারণ করতে পারেনা, কিন্তু তিনি ধারণ করেন সব দৃষ্টি। আর তিনি সুক্ষ্মদর্শী, সব বিষয়ের খবর রাখেন।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে নিদর্শনাবলী এসে গেছে। অতএব, যে প্রত্যক্ষ করবে, সে নিজেরই উপকার করবে এবং যে অন্ধ হবে, সে নিজেরই ক্ষতি করবে। আমি তোমাদের পর্যবেক্ষক নই।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বাদ্ জ্বা - য়াকুম্ বাছোয়া - য়িরু র্মি রব্বিকুম ফামান্ আব্ছোয়ারা ফালিনাফ্সিহী অমান্ 'আমিয়া ফা'আলাইহা- অমা য় আনা 'আলাইকুম্ বিহাফীজ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে সুস্পষ্ট প্রমাণ। সুতরাং যে দেখবে, সে নিজেরই কল্যাণ করবে, আর যে অন্ধতার পথ বেছে নেবে সে নিজেকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। (হে নবী! তাদের বলো:) ‘আমি তোমাদের উপর হিফাযতকারী নই।’

মুহিউদ্দীন খান

এমনি ভাবে আমি নিদর্শনাবলী ঘুরিয়ে - ফিরিয়ে বর্ণনা করি যাতে তারা না বলে যে, আপনি তো পড়ে নিয়েছেন এবং যাতে আমি একে সুধীবৃন্দের জন্যে খুব পরিব্যক্ত করে দেই।

বাংলা উচ্চারণ

অকাযা-লিকা নুছোর্য়ারিফুল্ আ-ইয়া-তি অলিইয়াকুলূ দারাস্তা অলিনুবাইয়্যিনাহূ লিক্বাওমিইঁ ইয়া'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এমনি করেই আমরা বিভিন্নভাবে বর্ণনা করি নিদর্শন। তারা বলে: ‘তুমি কারো কাছ থেকে পড়ে নিয়েছো।’ আমি জ্ঞানী লোকদের জন্যে (নিদর্শন) বর্ণনা করি স্পষ্টভাবে।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি পথ অনুসরণ করুন, যার আদেশ পালনকর্তার পক্ষ থেকে আসে। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং মুশরিকদের তরফ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন।

বাংলা উচ্চারণ

ইত্তাবি' মা য় উহিয়া ইলাইকা র্মি রব্বিকা লা য় ইলা-হা ইল্লা-হুঅ অআ'র্দ্বি'আনিল্ মুশ্রিকীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে তোমার কাছে যা অহি করা হয় তুমি কেবল তারই অনুসরণ করো, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ (হুকুমকর্তা) নেই। মুশরিকদের উপেক্ষা করে চলো।

মুহিউদ্দীন খান

যদি চাইতেন তবে তারা শেরক করত না। আমি আপনাকে তাদের সংরক্ষক করিনি এবং আপনি তাদের কার্যনির্বাহী নন।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও শা - য়াল্লা-হু মা য় আশ্রাকূ অমা-জ্বা'আল্না-কা 'আলাইহিম্ হাফীজোয়ান্ অমা য় আন্তা 'আলাইহিম্ বিঅকীল্।

আবদুস শহীদ নাসিম

চাইলে তারা শিরক করতোনা। আমরা তোমাকে তাদের উপর রক্ষক নিযুক্ত করিনি এবং তাদের উপর তোমাকে উকিলও নিয়োগ করিনি।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না, যাদের তারা আরাধনা করে আল্লাহকে ছেড়ে। তাহলে তারা ধৃষ্টতা করে অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহকে মন্দ বলবে। এমনিভাবে আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে তাদের কাজ কর্ম সুশোভিত করে দিয়েছি। অতঃপর স্বীয় পালনকর্তার কাছে তাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তিনি তাদেরকে বলে দেবেন যা কিছু তারা করত।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-তাসুব্বুল্ লাযীনা ইয়াদ্'ঊনা মিন্ দূনিল্লা-হি ফাইয়াসুব্বুল্লা-হা 'আদ্অম্ বিগাইরি 'ইল্ম্ কাযা-লিকা যাইয়্যান্না- লিকুল্লি উম্মাতিন 'আমালাহুম্ ছুম্মা ইলা-রব্বিহিম্ র্মাজ্বি'উহুম্ ফাইয়ুনাব্বিউহুম্ বিমা-কা-নূ ইয়া'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা ছাড়া যাদেরকে ডাকে তোমরা তাদের গালি দিওনা, তাহলে তারাও না জেনে সীমালংঘন করে আল্লাহকে গালি দিয়ে বসবে। এভাবেই আমরা প্রত্যেক উম্মতের জন্যে সুশোভিত করে দিয়েছি তাদের কর্মকান্ডকে। তারপর তাদের প্রভুর কাছেই তাদের প্রত্যাবর্তন হবে, তখন তিনি তাদের সংবাদ দেবেন - তারা কী আমল করতো।

মুহিউদ্দীন খান

তারা জোর দিয়ে আল্লাহর কসম খায় যে, যদি তাদের কাছে কোন নিদর্শন আসে, তবে অবশ্যই তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে। আপনি বলে দিনঃ নিদর্শনাবলী তো আল্লাহর কাছেই আছে। হে মুসলমানগণ, তোমাদেরকে কে বলল যে, যখন তাদের কাছে নিদর্শনাবলী আসবে, তখন তারা বিশ্বাস স্থাপন করবেই ?

বাংলা উচ্চারণ

অ আক্বসামূ বিল্লা-হি জ্বাহ্দা আইমা-নিহিম্ লাইন্ জ্বা - য়াত্হুম্ আ-ইয়াতুল্ লাইয়ুুমিনুন্না বিহা- কুল্ ইন্নামাল্ আ-ইয়া-তু 'ইন্দাল্লা-হি অমা- ইয়ুশ্'ইরুকুম্ আন্নাহা য় ইযা-জ্বা - য়াত্ লা-ইয়ুমিনূন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আল্লাহর নামে কঠোর শপথ করে বলে, তাদের জন্যে যদি কোনো নিদর্শন আসতো, তবে অবশ্যি তারা ঈমান আনতো। বলো: নিদর্শন পাঠানো তো আল্লাহর ব্যাপার। তোমাদের কিভাবে বুঝানো যাবে যে, নিদর্শন এলেও তারা ঈমান আনতোনা।

মুহিউদ্দীন খান

আমি ঘুরিয়ে দিব তাদের অন্তর ও দৃষ্টিকে, যেমন - তারা এর প্রতি প্রথমবার বিশ্বাস স্থাপন করেনি এবং আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় উদভ্রান্ত ছেড়ে দিব।

বাংলা উচ্চারণ

অনুক্বাল্লিবু আফ্য়িদাতাহুম্ অ আব্ছোয়া-রাহুম্ কামা-লাম্ ইয়ুমিনূ বিহী য় আওয়্যালা র্মারাতিওঁ অনাযারুহুম্ ফী তুগ্ইয়া-নিহিম্ ইয়া'মাহূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের অন্তর এবং দৃষ্টি পরিবর্তন করে দেবো, যেভাবে তারা প্রথমবারেই ঈমান আনেনি এবং তাদেরকে অবাধ্যতার মধ্যে বিভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দেবো।

মুহিউদ্দীন খান

আমি যদি তাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে অবতারণ করতাম এবং তাদের সাথে মৃতরা কথাবার্তা বলত এবং আমি সব বস্তুকে তাদের সামনে জীবিত করে দিতাম, তথাপি তারা কখনও বিশ্বাস স্থাপনকারী নয়; কিন্তু যদি চান। কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুর্খ।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও আন্নানা-নায্যাল্না য় ইলাইহিমুল্ মালা - য়িকাতা অকাল্লামাহুমুল্ মাওতা-অহার্শানা-'আলাইহিম্ কুল্লা শাইয়িন্ ক্বুবুলাম্ মা-কা-নূ লিইয়ু'মিনূ য় ইল্লা য় আইঁ ইয়াশা - য়াল্লা-হু অলা-কিন্না আক্ছারাহুম্ ইয়াজ্বহালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যদি তাদের কাছে ফেরেশতাও নাযিল করি, যদি মৃত লোকেরা এসেও তাদের সাথে কথা বলে এবং তাদের সামনে সব বস্ত্ত এনেও যদি হাজির করি, তবু তারা ঈমান আনবেনা, তবে চাইলে ভিন্ন কথা। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জাহেল।

মুহিউদ্দীন খান

এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবীর জন্যে শত্রু করেছি শয়তান, মানব ও জিনকে। তারা ধোঁকা দেয়ার জন্যে একে অপরকে কারুকার্যখচিত কথাবার্তা শিক্ষা দেয়। যদি আপনার পালনকর্তা চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না।

বাংলা উচ্চারণ

অকাযা-লিকা জ্বা'আল্না- লিকুল্লি নাবিয়্যিন্ 'আদুওয়্যান্ শাইয়া-ত্বীনাল্ ইন্সি অল্জ্বিন্নি ইয়ূহী বা'দ্বুহুম্ইলা- বা'দ্বিন্ যুখ্রুফাল্ ক্বাওলি গুরূরা- অলাও শা - য়া রব্বুকা মা-ফা'আলূহু ফার্যাহুম্ অমা- ইয়াফ্তারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে আমরা প্রত্যেক নবীর জন্যে মানুষ ও জিন শয়তানদের শত্রু বানিয়ে দিয়েছি। তারা প্রতারণার উদ্দেশ্যে একে অপরের কাছে মুখরোচক কথা অহি (ইংগিত) করে। চাইলে তারা এমনটি করতোনা। সুতরাং তুমি ত্যাগ করো তাদেরকে এবং তারা যে মিথ্যা রচনা করে সেটাকে।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আপনি তাদেরকে এবং তাদের মিথ্যাপবাদকে মুক্ত ছেড়ে দিন যাতে কারুকার্যখচিত বাক্যের প্রতি তাদের মন আকৃষ্ট হয় যারা পরকালে বিশ্বাস করে না এবং তারা একেও পছন্দ করে নেয় এবং যাতে ঐসব কাজ করে, যা তারা করছে।

বাংলা উচ্চারণ

অলিতাছ্গা য় ইলাইহি আফ্য়িদাতুল্লাযীনা লা-ইয়ুমিনূনা বিল্ আ-খিরাতি অলিইর্য়াদ্বোয়াওহু অলিইয়াক্ব্তারিফূ মা- হুম্ মুক্বতারিফূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা এ উদ্দেশ্যে (পরস্পরের কাছে অহি করে) যে, যারা আখিরাতে ঈমান রাখেনা, তাদের মন যেনো সেদিকে অনুরাগী হয় এবং এতে করে যেনো তারা খুশি হয়। আর তারা যে দুষ্কর্ম করে তাই যেনো তারা করতে থাকে।

মুহিউদ্দীন খান

তবে কি আমি ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ন করেছেন? আমি যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করেছি, তারা নিশ্চিত জানে যে, এটি আপনার প্রতি পালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবর্তীর্ন হয়েছে। অতএব, আপনি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

বাংলা উচ্চারণ

আফাগাইরাল্লা-হি আব্তাগী হাকামাওঁ অহুঅল্লাযী য় আন্যালা ইলাইকুমুল্ কিতা-বা মুফাছ্ছলা- অল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল্ কিতা-বা ইয়া'লামূনা আন্নাহূ মুনায্যালুম্ র্মি রব্বিকা বিল্হাক্বক্বি ফালা-তাকূনান্না মিনাল্ মুম্তারীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তুমি বলো:) ‘আমি কি ছাড়া আর অন্য কাউকেও সালিস মানবো অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন আল কিতাব (আল কুরআন) তফসিল সহকারে!’ আর ইতোপূর্বে আমরা যাদের কিতাব দিয়েছি তারা ভালোভাবেই জানে এটি (কুরআন) নির্ঘাত তোমার প্রভুর পক্ষ থেকেই নাযিল হয়েছে। সুতরাং তুমি সন্দেহ পোষণকারীদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার প্রতিপালকের বাক্য পূর্ণ সত্য ও সুষম। তাঁর বাক্যের কোন পরিবর্তনকারী নেই। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

অতাম্মাত্ কালিমাতু রব্বিকা ছিদ্ক্বাওঁ অ'আদ্লা-লা-মুবাদ্দিলা লিকালিমা-তিহী অহুঅস্ সামী'উল 'আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুর বাণী সত্য ও ন্যায়ে পরিপূর্ণ। তাঁর বাণী বদল করার কেউ নেই। তিনি সব শুনেন, সব জানেন।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে।

বাংলা উচ্চারণ

অইন্ তুত্বি' আক্ছারা মান্ ফিল্ আরদ্বি ইয়ুদ্বিল্লূকা 'আন্ সাবীলিল্লা-হ্ ইঁইয়াত্তাবি'ঊনা ইল্লাজ্জোয়ান্না অইন হুম্ ইল্লা-ইয়াখ্রুছূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি বিশ্বের অধিকাংশ লোকের কথা শুনতে গেলে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে ফেলবে। তারা তো কেবল ধারণার অনুসরণ করে এবং আন্দাজ অনুমানে কথা বলে।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার প্রতিপালক তাদের সম্পর্কে খুব জ্ঞাত রয়েছেন, যারা তাঁর পথ থেকে বিপথগামী হয় এবং তিনি তাদেরকেও খুব ভাল করে জানেন, যারা তাঁর পথে অনুগমন করে।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না রব্বাকা হুঅ 'আলামু মাইঁ ইয়াদ্বিল্ল আন্ সাবীলিহী অহুঅ আ'লামু বিল্মুহ্তাদীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু ভালো করেই জানেন কারা বিপথগামী হয় তাঁর পথ থেকে, আর সঠিক পথের অনুসারীদেরও তিনি ভালোভাবে জানেন।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যে জন্তুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়, তা থেকে ভক্ষণ কর যদি তোমরা তাঁর বিধানসমূহে হও।

বাংলা উচ্চারণ

ফাকুলূ মিম্মা-যুকিরাস্ মুল্লা-হি 'আলাইহি ইন্ কুন্তুম বিআ-ইয়া-তিহী মুমিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে তা তোমরা খাও যদি তোমরা তাঁর আয়াতের প্রতি হয়ে থাকো।

মুহিউদ্দীন খান

কোন কারণে তোমরা এমন জন্তু থেকে ভক্ষণ করবে না, যার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়, অথচ ঐ সব জন্তুর বিশদ বিবরণ দিয়েছেন, যেগুলোকে তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন; কিন্তু সেগুলোও তোমাদের জন্যে হালাল, যখন তোমরা নিরুপায় হয়ে যাও। অনেক লোক স্বীয় ভ্রান্ত প্রবৃত্তি দ্বারা না জেনে বিপথগামী করতে থাকে। আপনার প্রতিপালক সীমাতিক্রম কারীদেরকে যথার্থই জানেন।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-লাকুম্ আল্লা- তাকুলূ মিম্মা-যুকিরাস্মুল্লা-হি 'আলাইহি অক্বাদ্ ফাছ্ছলা লাকুম্ মা- র্হারামা 'আলাইকুম্ ইল্লা-মাদ্ব্তুর্রিতুম্ ইলাইহ্'অইন্না কাছীরাল্ লাইয়ুদ্বিল্ল না বিআহ্ওয়া - য়িহিম্ বিগাইরি 'ইল্ম্ ইন্না রব্বাকা হুঅ আ'লামু বিল্ মু'তাদীন্

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের কী হয়েছে, যাতে আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে কেন তোমরা তা থেকে খাবেনা? অথচ তোমাদের জন্যে যা যা হারাম করা হয়েছে তা তোমাদেরকে বিশদভাবেই বলে দেয়া হয়েছে। তবে তা থেকে কিছু গ্রহণ করতে তোমরা নিরুপায় হয়ে পড়লে ভিন্ন কথা। অনেকেই না জেনে নিজেদের খেয়াল খুশির ভিত্তিতে অন্যদের বিপথগামী করে। তোমার প্রভু সীমালংঘনকারীদের ভালোভাবেই জানেন।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা প্রকাশ্য ও প্রচ্ছন্ন গোনাহ পরিত্যাগ কর। নিশ্চয় যারা গোনাহ করেছে, তারা অতিসত্বর তাদের কৃতকর্মের শাস্তি পাবে।

বাংলা উচ্চারণ

অযারূ জোয়াহিরাল্ ইছ্মি অবা-ত্বিনাহ্ ইন্নাল্লাযীনা ইয়াক্ছিবূনাল্ ইছ্মা সাইয়ুজ্বযাওনা বিমা-কা-নূ ইয়াক্বতারিফূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা বর্জন করো যাহেরি (প্রকাশ্য) পাপ এবং বাতেনি (গোপন) পাপ। যারা পাপ কামাই করে, অচিরেই তাদেরকে তাদের পাপের উচিত শাস্তি দেয়া হবে।

মুহিউদ্দীন খান

যেসব জন্তুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয় না, সেগুলো থেকে ভক্ষণ করো না; এ ভক্ষণ করা গোনাহ। নিশ্চয় শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে প্রত্যাদেশ করে - যেন তারা তোমাদের সাথে তর্ক করে। যদি তোমরা তাদের আনুগত্য কর, তোমরাও মুশরেক হয়ে যাবে।

বাংলা উচ্চারণ

অলা- তাকুলূ মিম্মা- লাম্ ইয়ূয্কারিস্মুল্লা-হি 'আলাইহি অইন্নাহূ লাফিস্ক্ব অইন্নাশ্ শাইয়া-ত্বীনা লাইয়ূহূনা ইলা য় আওলিয়া - য়িহিম্ লিইয়ুজ্বা-দিলূকুম্ অইন্ আত্বোয়া'তুমূহুম্ ইন্নাকুম্ লামুশ্রিকূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে আল্লাহর নাম নেয়া হয়নি তা তোমরা খেয়োনা, কারণ তা ফাসেকি (পাপ)। শয়তানরা তাদের অলিদের অহি করে (প্ররোচনা দেয়) তোমাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হতে। তোমরা যদি তাদের কথামতো চলো তবে অবশ্যি মুশরিক হয়ে যাবে।

মুহিউদ্দীন খান

আর যে মৃত ছিল অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তাকে এমন একটি আলো দিয়েছি, যা নিয়ে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে। সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য হতে পারে, যে অন্ধকারে রয়েছে - সেখান থেকে বের হতে পারছে না? এমনিভাবে কাফেরদের দৃষ্টিতে তাদের কাজকর্মকে সুশোভিত করে দেয়া হয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

আঅ মান্ কা-না মাইতান্ ফাআহ্ইয়াইনা-হু অজ্বা'আল্না-লাহূ নূরাইঁ ইয়াম্শী বিহী ফিন্না-সি কামাম্ মাছালুহূ ফিজ্ জুলুমা-তি লাইসা বিখা-রিজ্বিম্ মিন্হা- কাযা-লিকা যুইয়্যিনা লিল্কা-ফিরীনা মা- কা-নূ ইয়া'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে ছিলো মৃত, তারপর তাকে আমরা জীবন দান করেছি এবং মানুষের মধ্যে চলার জন্যে দিয়েছি আলো, সে কি ঐ ব্যক্তির মতো হতে পারে, যে রয়েছে অন্ধকাররাশিতে এবং সেখান থেকে সে বের হবার নয়? এভাবেই কাফিরদের জন্যে তাদের কর্মকান্ডকে করে দেয়া হয়েছে চাকচিক্যময়।

মুহিউদ্দীন খান

আর এমনিভাবে আমি প্রত্যেক জনপদে অপরাধীদের জন্য কিছু সর্দার নিয়োগ করেছি - যেন তারা সেখানে চক্রান্ত করে। তাদের সে চক্রান্ত তাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই; কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করতে পারে না।

বাংলা উচ্চারণ

অকাযা-লিকা জ্বা'আল্না- ফী কুল্লি ক্বারইয়াতিন্ আকা-বিরা মুজ্বরিমীহা-লিইয়াম্কুরূ ফীহা- অমা- ইয়াম্কুরূনা ইল্লা-বিআন্ফুসিহিম্ অমা- ইয়াশ্'উরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই আমরা প্রত্যেক জনপদে সেখানকার অপরাধীদের প্রধানকে চক্রান্ত করার সুযোগ দিয়েছি। তাদের চক্রান্ত যে তাদেরই বিরুদ্ধে যাবে তা তারা বুঝতে পারেনা।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তাদের কাছে কোন আয়াত পৌঁছে, তখন বলে, আমরা কখনই মানব না যে, পর্যন্ত না আমরাও তা প্রদত্ত হই, যা আল্লাহর রসূলগণ প্রদত্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে সুপারিজ্ঞাত যে, কোথায় স্বীয় পয়গাম প্রেরণ করতে হবে। যারা অপরাধ করছে, তারা অতিসত্বর আল্লাহর কাছে পৌছে লাঞ্ছনা ও কঠোর শাস্তি পাবে, তাদের চক্রান্তের কারণে।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইযা- জ্বা - য়াত্হুম্ আ-ইয়াতুন্ ক্বা-লূ লান্ নুমিনা হাত্তা-নুতা-মিছ্লা মা য় ঊতিয়া রুসুলুল্লা-হ্ আল্লা-হু আ'লামু হাইছু ইয়াজ্ব্'আলু রিসা-লাতাহ্ সাইয়ুছীবুল্লাযীনা আজ্বরামূ ছোয়াগা-রুন্ 'ইন্দাল্লা-হি অ'আযা-বুন শাদীদুম্ বিমা- কা-নূ ইয়াম্কুরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখনই তাদের কাছে কোনো নিদর্শন এসেছিল তারা বলেছিল: ‘আমরা ততোক্ষণ পর্যন্ত কিছুতেই ঈমান আনবোনা যতোক্ষণ না আল্লাহর রসূলদের যা দেয়া হয়েছে আমাদেরকেও তা দেয়া হয়।’ আল্লাহ্ই ভালো জানেন তিনি তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব কার উপর অর্পণ করবেন। যারা অপরাধ করেছে, তাদের চক্রান্তের জন্যে আল্লাহর কাছে তাদের জন্যে রয়েছে অপমান আর কঠোর আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যাকে পথ - প্রদর্শন করতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্যে উম্মুক্ত করে দেন এবং যাকে বিপথগামী করতে চান, তার বক্ষকে সংকীর্ণ অত্যধিক সংকীর্ণ করে দেন - যেন সে সবেগে আকাশে আরোহণ করছে। এমনি ভাবে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না। তাদের উপর আযাব বর্ষন করেন।

বাংলা উচ্চারণ

ফামাইঁ ইয়ুরিদিল্লা-হু আইঁ ইয়াহ্দিয়াহূ ইয়াশ্রাহ্ ছোয়াদ্রাহূ লিল্ইস্লা-মি অমাইঁ ইয়ুরিদ্ আইঁ ইয়ুদ্বিল্লাহূ ইয়াজ্ব'আল ছোয়াদ্রাহূ দ্বোয়াইয়্যিক্বান্ হারাজ্বান কাআন্নামা-ইয়াছ্ ছোয়া'ইয়্যা'দু ফি সামা - য়ি কাযা-লিকা ইয়াজ্ব'আলু ল্লা-র্হু রিজ্বসা 'আলাল্লাযীনা লা-ইয়ু মিনূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কাউকেও হিদায়াত দান করতে চাইলে ইসলামের জন্যে তার হৃদয়কে উদার করে দেন। আর যাকে তিনি গোমরাহ্ করতে চান তার অন্তরকে করে দেন অতিশয় সংকীর্ণ। তখন তার কাছে ইসলামে প্রবেশ করাটা সিঁড়ি বেয়ে আকাশে উঠার মতোই কষ্ট সাধ্য মনে হয়। যারা ঈমান আনেনা এভাবেই তাদের লাঞ্ছিত করেন।

মুহিউদ্দীন খান

আর এটাই আপনার পালনকর্তার সরল পথ। আমি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্যে আয়াতসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ননা করেছি।

বাংলা উচ্চারণ

অ হা-যা-ছিরা-তু রব্বিকা মুস্তাক্বীমা-ক্বাদ্ ফাছ্ছোয়াল্নাল্ আ-ইয়া-তি লিক্বাওমিইঁ ইয়ায্যাক্কারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটাই তোমার প্রভুর সিরাতুল মুস্তাকিম। উপদেশ গ্রহণকারী লোকদের জন্যে আমরা নিদর্শন বর্ণনা করে দিলাম বিশদভাবে।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের জন্যেই তাদের প্রতিপালকের কাছে নিরাপত্তার গৃহ রয়েছে এবং তিনি তাদের বন্ধু তাদের কর্মের কারণে।

বাংলা উচ্চারণ

লাহুম্ দা-রুস্ সালা-মি 'ইন্দা রব্বিহিম্ ওয়া হুঅ অলিয়্যুহুম্ বিমা- কা-নূ- ইয়া'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জন্যে তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে দারুস্ সালাম (শান্তির ঘর) এবং তিনিই তাদের অলি (অভিভাবক) তাদের আমলের কারণে।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন সবাইকে একত্রিত করবেন, হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষদের মধ্যে অনেককে অনুগামী করে নিয়েছ। তাদের মানব বন্ধুরা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা পরস্পরে পরস্পরের মাধ্যমে ফল লাভ করেছি। আপনি আমাদের জন্যে যে সময় নির্ধারণ করেছিলেন, আমরা তাতে উপনীত হয়েছি। বলবেনঃ আগুন হল তোমাদের বাসস্থান। তথায় তোমরা চিরকাল অবস্থান করবে; কিন্তু যখন চাইবেন । নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয়াওমা ইয়াহ্শুরুহুম্ জ্বামী'আন্ ইয়া-মা'শারাল্ জ্বিন্নি ক্বাদিস্তার্ক্সাতুম্ মিনাল্ ইন্সি অক্বা-লা আওলিয়া - উ হুম্ মিনাল্ ইন্স্ রব্বানাস্ তাম্তা'আ বা'দ্বুনা-বিবা'দ্বিওঁ অবালাগ্না য় আজ্বালানা ল্লাযী য় অজ্জ্বাল্তা লানা- ক্বা-লান্না-রু মাছ্ওয়া-কুম খা-লিদীনা ফীহা য় ইল্লা-মা-শা - য়াল্লা-হ্ ইন্না রব্বাকা হাকীমুন 'আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন তিনি তাদের সবাইকে হাশর করবেন সেদিন তাদের বলবেন: ‘হে জিন সম্প্রদায়! তোমরা মানুষের মধ্যে অনেককেই তোমাদের অনুগামী করেছিলে।’ আর মানুষের মধ্যকার তাদের অলিরা বলবে: ‘আমাদের প্রভু! আমরা আমাদের একে অপরের মাধ্যমে লাভবান হয়েছি, আর তুমি আমাদের জন্যে যে সময় নির্ধারণ করেছিলে, এখন তো আমরা তাতে এসে উপনীত হয়েছি।’ বলবেন: জাহান্নামই তোমাদের আবাস, চিরদিন তোমরা সেখানেই থাকবে, তবে অন্য কিছু চাইলে সেটা ভিন্ন কথা। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

এমনিভাবে আমি পাপীদেরকে একে অপরের সাথে যুক্ত করে দেব তাদের কাজকর্মের কারণে।

বাংলা উচ্চারণ

অকাযা-লিকা নুঅল্লী বা'দ্বোয়াজ্ জোয়া-লিমীনা বা'দ্বোয়াম্ বিমা- কা-নূ ইয়াক্সিবূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই আমরা যালিমদের একদলকে আরেকদলের অলি বানিয়ে দেই তাদের কৃতকর্মের কারণে।

মুহিউদ্দীন খান

হে জ্বিন ও মানব সম্প্রদায়, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে পয়গম্বরগণ আগমন করেনি? যাঁরা তোমাদেরকে আমার বিধানাবলী বর্ণনা করতেন এবং তোমাদেরকে আজকের এ দিনের সাক্ষাতের ভীতি প্রদর্শন করতেন? তারা বলবেঃ আমরা স্বীয় গোনাহ স্বীকার করে নিলাম। পার্থিব জীবন তাদেরকে প্রতারিত করেছে। তারা নিজেদের বিরুদ্ধে স্বীকার করে নিয়েছে যে, তারা ছিল।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া-মা'শারাল্ জ্বিন্নি অল্ ইন্সি আলাম্ ইয়াতিকুম্ রুসুলুম্ মিন্কুম্ ইয়াকুছ্ছূনা 'আলাইকুম্ আ-ইয়া-তী অইয়ুন্যিরূনাকুম্ লিক্বা য় য়া। ইয়াওমিকুম্ হা-যা- ক্বা-লূ শাহিদ্না-'আলা য় আন্ফুসিনা-অর্গারাত্হুমুল্ হাইয়া-তুদ্দুন্ইয়া- অশাহিদূ 'আলা য় আন্ফুসিহিম্ আন্নাহুম্ কা-নূ কা-ফিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(সেদিন বলবেন:) ‘হে জিন ও মানব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে রসূলরা আসেনি? তারা কি আমার আয়াত তোমাদের কাছে বয়ান করেনি? তারা কি এই দিনটির সাক্ষাতের ব্যাপারে তোমাদের সতর্ক করেনি?’ তারা বলবে: ‘আমরা আমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছি।’ মূলত দুনিয়ার জীবনটাই তাদের প্রতারিত করে রেখেছিল। তারা তাদের নিজেদের বিরুদ্ধে আরো সাক্ষ্য দেবে যে, বাস্তবিকই তারা ছিলো ।

মুহিউদ্দীন খান

এটা এ জন্যে যে, আপনার প্রতিপালক কোন জনপদের অধিবাসীদেরকে জুলুমের কারণে ধ্বংস করেন না এমতাবস্থায় যে, তথাকার অধিবাসীরা অজ্ঞ থাকে।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা আল্লাম্ ইয়ার্কু রব্বুকা মুহ্লিকাল্ কুরা- বিজুল্মিওঁ অআহ্লুহা- গা-ফিলূন।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর কারণ হলো, কোনো জনপদকে সতর্ক না করা পর্যন্ত ধ্বংস করে দেয়া তোমার প্রভুর নীতি নয়।

মুহিউদ্দীন খান

প্রত্যেকের জন্যে তাদের কর্মের আনুপাতিক মর্যাদা আছে এবং আপনার প্রতিপালক তাদের কর্ম সম্পর্কে বেখবর নন।

বাংলা উচ্চারণ

অলিকুল্লিন্ দারাজ্বা-তুম্ মিম্মা- 'আমিলূ অমা-রব্বুকা বিগা-ফিলিন্ 'আম্মা- ইয়া'মালূন্

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রত্যেক ব্যক্তি যে আমল করে, সে অনুযায়ী তার অবস্থান নির্ধারিত হবে। তারা যে আমল করে সে সম্পর্কে তোমার প্রভু গাফিল নন।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার প্রতিপালক অমুখাপেক্ষী, করুণাময়। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে উচ্ছেদ করে দিবেন এবং তোমাদের পর যাকে ইচ্ছা তোমাদের স্থলে অভিষিক্ত করবেন; যেমন তোমাদেরকে অন্য এক সম্প্রদায়ের বংশধর থেকে সৃষ্টি করেছেন।

বাংলা উচ্চারণ

অ রব্বুকাল্ গানিয়্যু র্যুরহ্মাহ্ ইঁ ইয়াশা ইয়ুয্ হিব্কুম্ অ ইয়াস্তাখ্লিফ্ মিম্ বা'দিকুম্ মা-ইয়াশা - উ কামা য় আন্শায়াকুম্ মিন্ র্যুরিয়্যাতি ক্বাওমিন্ আ-খারীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু অভাবমুক্ত রহমতওয়ালা দয়াময়। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সরিয়ে দিতে পারেন এবং তোমাদের পরে যাকে ইচ্ছা তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করতে পারেন, যেমন তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন অপর একটি কওমের বংশধারা থেকে।

মুহিউদ্দীন খান

যে বিষয়ের ওয়াদা তোমাদের সাথে করা হয়, তা অবশ্যই আগমন করবে এবং তোমরা অক্ষম করতে পারবে না।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না মা- তূ'আদূনা লাআ-তিওঁ অমা য় আন্তুম্ বিমু'জ্বিযীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদেরকে যে বিষয়ের ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা অবশ্যি আসবে। তোমরা সেটার আগমন ঠেকাতে পারবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলে দিনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা স্বস্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করি। অচিরেই জানতে পারবে যে, পরিণাম গৃহ কে লাভ করে। নিশ্চয় জালেমরা সুফলপ্রাপ্ত হবে না।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইয়া- ক্বাওমি'মালূ 'আলা- মাকা-নাতিকুম্ ইন্নী'আ-মিলূন্ ফাসাওফা তা'লামূনা মান্ তাকূনু লাহূ 'আ-ক্বিবাতুদ্দার্- ইন্নাহূ লা-ইয়ুফ্লিহু জ্জোয়া-লিমূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো ‘হে আমার কওম! তোমরা যেখানে আমল করছো করতে থাকো, আমি আমার কাজ করে যাবো। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কার পরিণাম হবে কল্যাণময়। যালিমরা কিছুতেই সফল হবেনা।’

মুহিউদ্দীন খান

যেসব শস্যক্ষেত্র ও জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো থেকে তারা এক অংশ আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে অতঃপর নিজ ধারণা অনুসারে বলে এটা আল্লাহর এবং এটা আমাদের অংশীদারদের। অতঃপর যে অংশ তাদের অংশীদারদের, তা তো আল্লাহর দিকে পৌঁছে না এবং যা আল্লাহর তা তাদের উপাস্যদের দিকে পৌছে যায়। তাদের বিচার কতই না মন্দ।

বাংলা উচ্চারণ

অজ্বা'আলূ লিল্লা-হি মিম্মা- যারায়া মিনাল্ র্হাছি অল্ আন্'আ-মি নাছীবান্ ফাক্বা-লূ হা-যা-লিল্লা-হি বিযা'মিহিম্ অহা-যা-লিশুরাকা - য়িনা-ফামা- কা-না লিশুরাকা - য়িহিম্ ফালা-ইয়াছিলু ইলাল্লা- হি অমা- কা-না লিল্লা-হি ফাহুঅ ইয়াছিলু ইলা- শুরাকা - য়িহিম্সা - য়া মা- ইয়াহ্কুমূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে শস্য এবং গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন, তা থেকে তারা আল্লাহর জন্যে একটি অংশ নির্ধারণ করে এবং তাদের ধারণা অনুযায়ী বলে: ‘এই অংশ আল্লাহর জন্যে এবং এই অংশ আমাদের (বানানো আল্লাহর) শরিকদের (দেবতাদের) জন্যে। তারপর দেবতাদের অংশ আল্লাহর কাছে পৌঁছায়না, অথচ আল্লাহর অংশ দেবতাদের কাছে পৌঁছায়। তাদের ফায়সালা কতো যে নিকৃষ্ট!

মুহিউদ্দীন খান

এমনিভাবে অনেক মুশরেকের দৃষ্টিতে তাদের উপাস্যরা সন্তান হত্যাকে সুশোভিত করে দিয়েছে যেন তারা তাদেরকে বিনষ্ট করে দেয় এবং তাদের ধর্মমতকে তাদের কাছে বিভ্রান্ত করে দেয়। যদি চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না। অতএব, আপনি তাদেরকে এবং তাদের মনগড়া বুলিকে পরিত্যাগ করুন।

বাংলা উচ্চারণ

অ কাযা-লিকা যাইয়্যানা লিকাছীরিম্ মিনাল্ মুশ্রিকীনা ক্বাত্লা আওলা-দিহিম্ শুরাকা - উহুম্ লিইয়্রুদূ হুম্ অলিয়াল্বিসূ 'আলাইহিম্ দীনাহুম্ অ লাও শা - য়াল্লা- হু মা-ফা'আলূহু ফার্যাহুম্ অমা- ইয়াফ্তারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে তাদের দেবতারা অনেক মুশরিকদের দৃষ্টিতে তাদের সন্তানদের হত্যাকে সুশোভিত করে রেখেছে তাদের ধ্বংসের উদ্দেশ্যে এবং তাদের ধর্ম সম্পর্কে তাদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্যে। চাইলে তারা এটা করতোনা। সুতরাং তাদেরকে তাদের বানানো মিথ্যার উপর ছেড়ে দাও।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলেঃ এসব চতুষ্পদ জন্তু ও শস্যক্ষেত্র নিষিদ্ধ। আমরা যাকে ইচছা করি, সে ছাড়া এগুলো কেউ খেতে পারবে না, তাদের ধারণা অনুসারে। আর কিছুসংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর পিঠে আরোহন হারাম করা হয়েছে এবং কিছু সংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর উপর তারা ভ্রান্ত ধারনা বশতঃ আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে না, তাদের মনগড়া বুলির কারণে, অচিরেই তিনি তাদের কে শাস্তি দিবেন।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-লূ হা-যিহী য় আন্'আ-মুওঁ অর্হাছুন্ হিজ্বরুল্ লা-ইয়াত্ব'আমুহা য় ইল্লা- মান্ নাশা - উ বিযা'মিহিম্ অ আন্'আ-মুন্ র্হুরিমাত্ জুহূরুহা-অ আন্'আ-মু ল্লা- ইয়ায্কুরূনাস মাল্লা-হি 'আলাইহাফ্ তিরা -য়ান্ 'আলাইহ্ সাইয়াজ্বযীহিম্ বিমা- কা-নূ ইয়াফ্তারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (তাদের ভ্রান্ত ধারণার ভিত্তিতে) বলে: ‘এসব গবাদি পশু এবং এসব শস্যক্ষেত নিষিদ্ধ। আমরা যাকে চাইবো সে ছাড়া আর কেউ এগুলো খেতে পারবেনা।’ তাছাড়া কিছু কিছু গবাদি পশুর পিঠে আরোহণ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে আর কিছু কিছু গবাদি পশু যবেহ করার সময় তারা আল্লাহর নাম নেয়না। এসব (বিধি নিষেধ মূলত তাদের) আল্লাহর নামে মিথ্যারোপ। তিনি অবশ্যি তাদেরকে তাদের এসব মিথ্যা রচনার শাস্তি প্রদান করবেন।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলেঃ এসব চতুষ্পদ জন্তুর পেটে যা আছে, তা বিশেষ ভাবে আমাদের পুরুষদের জন্যে এবং আমাদের মহিলাদের জন্যে তা হারাম। যদি তা মৃত হয়, তবে তার প্রাপক হিসাবে সবাই সমান। অচিরেই তিনি তাদেরকে তাদের বর্ণনার শাস্তি দিবেন। তিনি প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-লূ মা-ফী বুতুনি হা-যিহিল্ আন'আ-মি খা-লিছোয়াতুল্লি যুকূরিনা- অমুহাররামুন্ 'আলা য় আয্ওয়া-জ্বিনা- অইঁ ইয়াকুম্ মাইতাতান্ ফাহুম্ ফীহি শুরাকা - উ সাইয়াজ্বযীহিম্ অছ্ফাহুম্ ইন্নাহূ হাকীমুন্ 'আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আরো বলে: ‘এসব গবাদি পশুর গর্ভে যা আছে তা আমাদের পুরুষদের জন্যে নির্ধারিত এবং আমাদের নারীদের জন্যে হারাম। তবে মরা পশু হলে তারা উভয়েই তাতে শরিকদার।’ এসব বিধিনিষেধ আরোপের শাস্তি তিনি তাদের প্রদান করবেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা নিজ সন্তানদেরকে নির্বুদ্ধিতাবশতঃ কোন প্রমাণ ছাড়াই হত্যা করেছে এবং তাদেরকে যেসব দিয়েছিলেন, সেগুলোকে আল্লাহর প্রতি ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে হারাম করে নিয়েছে। নিশ্চিতই তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং সুপথগামী হয়নি।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বাদ্ খাসিরাল্লাযীনা ক্বাতালূ য় আওলা- দাহুম্ সাফাহাম্ বিগাইরি 'ইল্মিওঁ অর্হারামূ মা-রাযাক্বাহুমুল্লা-হুফ্ তিরা - য়ান্' আলাল্লা-হ্ ক্বাদ্ দ্বোয়াল্লূ অমা-কা-নূ মুহ্তাদীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা না জেনে বোকামি করে তাদের সন্তানদের হত্যা করে এবং আল্লাহর উপর মিথ্যারোপের মাধ্যমে আল্লাহর দেয়া রিযিক হারাম করে, তারা অবশ্যি বিপথগামী হয়ে গেছে এবং তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত নয়।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই উদ্যান সমূহ সৃষ্টি করেছে - তাও, যা মাচার উপর তুলে দেয়া হয়, এবং যা মাচার উপর তোলা হয় না এবং খর্জুর বৃক্ষ ও শস্যক্ষেত্র যেসবের স্বাদবিশিষ্ট এবং যয়তুন ও আনার সৃষ্টি করেছেন - একে অন্যের সাদৃশ্যশীল এবং সাদৃশ্যহীন। এগুলোর ফল খাও, যখন ফলন্ত হয় এবং হক দান কর কর্তনের সময়ে এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।

বাংলা উচ্চারণ

অ হুঅল্লাযী য় আনাশায়া জান্না-তিম্ মা'রূশা-তিওঁ অগাইরা মা'রূশা-তিওঁ ওয়ান্ নাখ্লা অর্য্যা'আ মুখ্তালিফান্ উকুলুহূ অয্যাইতূনা র্অরুম্মা-না মুতাশা-বিহাওঁ অগাইরা মুতাশা-বিহ্কুলূ মিন্ ছামারিহী য় ইযা য় আছ্মারা অ আ-তূ হাক্বক্বাহূ ইয়াওমা হাছোয়া- দিহী অলা- তুস্রিফূ ইন্নাহূ লা- ইউহিব্বুল্ মুস্রিফীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি সৃষ্টি করেছেন নানা রকম গুল্ম - লতা এবং গাছের জান্নাত (বাগান), খেজুর গাছ, ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের খাদ্য শস্য, যয়তুন ও আনার - সদৃশ্য ও অসদৃশ্য। ফলন ঘটার পর তোমরা এগুলোর ফল খাও এবং ফল - ফসল সংগ্রহের দিন সেগুলোর হক (যাকাত) দিয়ে দাও। অপচয় করোনা। কারণ, তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি সৃষ্টি করেছেন চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে বোঝা বহনকারীকে এবং খর্বাকৃতিকে। তোমাদেরকে যা কিছু দিয়েছেন, তা থেকে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

বাংলা উচ্চারণ

অম্নিাল্ আন্'আ-মি হামূলাতাওঁ অর্ফাশা- কুলূ মিম্মা রাযাক্বাকুমুল্লা-হু অলা-তাত্তাবি'ঊ খুতুওয়া-তিশ্ শাইত্বোয়া-ন্ ইন্নাহূ লাকুম্ 'আদুওয়্যুম্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

গবাদি পশুর মধ্যে (তিনি সৃষ্টি করেছেন) কিছু ভারবাহী আর কিছু ছোট পশু। তোমাদের যে রিযিক দিয়েছেন তা থেকে খাও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করোনা। কারণ, সে তোমাদের সুস্পষ্ট দুশমন।

মুহিউদ্দীন খান

সৃষ্টি করেছেন আটটি নর ও মাদী। ভেড়ার মধ্যে দুই প্রকার ও ছাগলের মধ্যে দুই প্রকার। জিজ্ঞেস করুন, তিনি কি উভয় নর হারাম করেছেন, না উভয় মাদীকে ? না যা উভয় মাদীর পেটে আছে? তোমরা আমাকে প্রমাণসহ বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

বাংলা উচ্চারণ

ছামা-নিয়াতা আয্ওয়া-জ্বিন্ মিনাদ্ব্ দ্বোয়া” নিছ্নাইনি মিনাল্ মা'যিছ্নাইন্ কুল্ আ - য্যাকারাইনি র্হারামা আমিল্ উন্ছাইয়াইনি আম্মাশ্ তামালাত্ 'আলাইহি র্আহা-মুল্ উন্ছাইয়াইন্ নাব্বিঊনী বি'ইল্মিন্ ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তারা নিজেদের খেয়াল খুশি মতো যেগুলো হারাম করেছে) সেগুলো আট প্রকার। মেষের দুটি এবং ছাগলের দুটি। তাদের জিজ্ঞাসা করো: ‘তিনি নর দুটি হারাম করেছেন নাকি মাদি দুটি? নাকি মাদি দুটির গর্ভে যা আছে তা? তোমরা সত্যবাদী হলে এলেমের ভিত্তিতে অবহিত করো।’

মুহিউদ্দীন খান

সৃষ্টি করেছেন উটের মধ্যে দুই প্রকার এবং গরুর মধ্যে দুই প্রকার। আপনি জিজ্ঞেস করুনঃ তিনি কি উভয় নর হারাম করেছেন, না উভয় মাদীকে, না যা উভয় মাদীর পেটে আছে? তোমরা কি উপস্থিত ছিলে, যখন এ নির্দেশ দিয়েছিলেন? অতএব সে ব্যক্তি অপেক্ষা বেশী অত্যচারী কে, যে সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা পোষন করে যাতে করে মানুষকে বিনা প্রমাণে পথভ্রষ্ট করতে পারে? নিশ্চয় অত্যাচারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।

বাংলা উচ্চারণ

অ মিনাল্ ইবিলিছ্ নাইনি অমিনাল্ বাক্বারিছ্ নাইন্ কুল্ আ - য্যাকারাইনি র্হারামা আমিল্ উন্ছায়াইনি আম্মাশ্ তামালাত্ 'আলাইহি আরাহা-মুল্ উন্ছাইয়াইন্ আম কুন্তুম্ শুহাদা - য়া ইয্ অছ্ছোয়া-কুমু ল্লা- হু বিহা-যা- ফামান্ আজ্লামু মিম্মানিফ্তারা- 'আলাল্লা-হি কাযিবাল্ লিইয়ুদ্বিল্লান্ ন্না-সা বিগাইরি 'ইল্ম্ ইন্নাল্লা-হা লা- ইয়াহ্দিল্ ক্বাওমাজ্জেয়া-লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর উটের দুটি এবং গরুর দুটি। তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘তিনি কি নর দুটি হারাম করেছেন নাকি মাদি দুটি? নাকি মাদি দুটির গর্ভে যা আছে তা? নাকি তিনি যখন এ নির্দেশ দিয়েছিলেন তখন তোমরা উপস্থিত ছিলে?’ ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে মানুষকে বিপথগামী করার জন্যে এলেম ছাড়াই আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করে? নিশ্চয়ই যালিম লোকদের হিদায়াত করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলে দিনঃ যা কিছু বিধান ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছেছে, তন্মধ্যে আমি কোন হারাম খাদ্য পাই না কোন ভক্ষণকারীর জন্যে, যা সে ভক্ষণ করে; কিন্তু মৃত অথবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের মাংস এটা অপবিত্র অথবা অবৈধ; যবেহ করা জন্তু যা ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়। অতপর যে ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে এমতাবস্থায় যে অবাধ্যতা করে না এবং সীমালঙ্গন করে না, নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল দয়ালু।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ লা য় আজ্বিদু ফী মা য় ঊহিয়া ইলাইয়্যা মুর্হারমান্ 'আলা- ত্বোয়া-'ইমিইঁ ইয়াত্ব'আমুহূ য় ইল্লা য় আইঁ ইয়াকূনা মাইতাতান্ আও দামাম্ মাস্ফূহান্ আও লাহ্মা খিন্যীরিন্ ফাইন্নাহূ রিজ্বসুন্ আও ফিস্ক্বান্ উহিল্লা লিগাইরিল্লা-হি বিহী ফামানিদ্ব্ ত্বর্ ুরা গাইরা বা- গিওঁ অলা-'আ-দিন্ ফাইন্না রব্বাকা গাফূরুর রাহীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘কেউ যা খেতে চায়, আমার প্রতি প্রেরিত অহিতে তার মধ্যে মৃত (প্রাণী), কিংবা প্রবাহিত রক্ত, অথবা শুয়োরের গোশ্ত ছাড়া আর কিছুই হারাম পাইনা। এগুলো নোংরা এবং (খাওয়া) পাপ। আর যা ছাড়া অন্য কারো নামে যবেহ করা হয়েছে তাও হারাম। কেউ যদি বিদ্রোহ এবং সীমালংঘন না করে নিরূপায় হয়ে পড়ার কারণে এগুলো থেকে কিছু খেয়ে নেয়, (তার ব্যাপারে) অবশ্যি তোমার প্রভু পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।’

মুহিউদ্দীন খান

ইহুদীদের জন্যে আমি প্রত্যেক নখবিশিষ্ট জন্তু হারাম করেছিলাম এবং ছাগল ও গরু থেকে এতদুভয়ের চর্বি আমি তাদের জন্যে হারাম করেছিলাম, কিন্তু ঐ চর্বি, যা পৃষ্টে কিংবা অন্ত্রে সংযুক্ত থাকে অথবা অস্থির সাথে মিলিত থাকে। তাদের অবাধ্যতার কারণে আমি তাদেরকে এ শাস্তি দিয়েছিলাম। আর আমি অবশ্যই সত্যবাদী।

বাংলা উচ্চারণ

অ'আলাল্লাযীনা হা-দূ র্হারাম্না- কুল্লা যী জুফুরিন্ অমিনাল্ বাক্বারি অল্ গানামি র্হারম্না-'আলাইহিম্ শুহূমাহুমা য় ইল্লা-মা-হামালাত্ জুহূরু হুমা য় আওয়িল্ হাওয়া-ইয়া য় আও মাখ্তালাত্বোয়া বি'আজ্ম্ যা-লিকা জ্বাযাইনা-হুম্ বিবাগ্য়িহিম্ অইন্না- লাছোয়া-দিকুন

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা ইহুদিদের জন্যে নখরধারী সব পশুই হারাম করে দিয়েছিলাম। গরু এবং ছাগলের চর্বিও তাদের জন্যে হারাম করেছিলাম, তবে পিঠের, অন্ত্রের কিংবা হাড়ের সাথের চর্বি ছাড়া। তাদের অবাধ্যতার কারণে আমরা তাদের এই শাস্তি দিয়েছিলাম। অবশ্যি আমরা সত্যবাদী।

মুহিউদ্দীন খান

যদি তারা আপনাকে মিথ্যবাদী বলে, তবে বলে দিনঃ তোমার প্রতিপালক সুপ্রশস্ত করুণার মালিক। তাঁর শাস্তি অপরাধীদের উপর থেকে টলবে না।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইন্ কায্যাবূকা ফাক্বর্ রব্বুকুম্ যূ- রাহ্মাতিওঁ অ-সি'আহ্ অলা-ইয়ুরাদ্দু বাসুহূ 'আনিল্ ক্বাওমিল্ মুজ্ব্রিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপরও যদি তারা তোমাকে প্রত্যাখ্যান করে, তুমি বলো: তোমাদের প্রভু অসীম দয়ার মালিক এবং অপরাধী লোকদের উপর থেকে তাঁর শাস্তি রদ করা হয়না।

মুহিউদ্দীন খান

এখন মুশরেকরা বলবেঃ যদি ইচ্ছা করতেন, তবে না আমরা শিরক করতাম, না আমাদের বাপ দাদারা এবং না আমরা কোন বস্তুকে হারাম করতাম। এমনিভাবে তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছে, এমন কি তারা আমার শাস্তি আস্বাদন করেছে। আপনি বলুনঃ তোমাদের কাছে কি কোন প্রমাণ আছে যা আমাদেরকে দেখাতে পার। তোমরা শুধুমাত্র আন্দাজের অনুসরণ কর এবং তোমরা শুধু অনুমান করে কথা বল।

বাংলা উচ্চারণ

সাইয়াকুলুল্লাযীনা আশ্রাকূ লাও শা - য়াল্লা-হু মা য় আশ্রাক্না-অলা য় আ-বা - উনা-অলা-র্হারম্না- মিন্ শাইয়িন্ কাযা-লিকা কায্যাবাল্লাযীনা মিন্ ক্বাব্লিহিম্ হাত্তা - যা-কুবাসানা- কুল্ হাল 'ইন্দাকুম্ মিন্ 'ইল্মিন্ ফাতুখ্রিজ্ব ূহু লানা- ইন্ তাত্তাবি'ঊনা ইল্লাজ্জোয়ান্না অইন্ আন্তুম্ ইল্লা- তাখ্রুছূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

শিরকে লিপ্ত লোকেরা অচিরেই তোমাকে বলবে: ‘ চাইলে আমরা শিরক করতামনা এবং আমাদের পূর্ব পুরুষরাও, আর আমরা কিছু হারামও করতামনা।’ এভাবেই প্রত্যাখ্যান করেছিল তাদের আগের লোকেরাও, অবশেষে তারা ভোগ করেছিল আমার শাস্তি। হে নবী! বলো: ‘তোমাদের কাছে কোনো এলেম আছে কি? থাকলে বের করো আমাদের সামনে। আসলে তোমরা অনুমান ছাড়া আর কিছুরই অনুসরণ করোনা, আর মনগড়া কথা ছাড়া কোনো কথা বলোনা।’

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলে দিনঃ অতএব, পরিপূর্ন যুক্তি আল্লাহরই। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে পথ প্রদর্শন করতেন।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ফালিল্লা-হিল্ হুজ্বজ্বাতুল্ বা-লিগাতু ফালাও শা - য়া লাহাদা-কুম্ আজ্বমা'ঈন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: চূড়ান্ত প্রমাণের মালিক হলেন । তিনি চাইলে অবশ্যি তোমাদের সবাইকে হিদায়াত করতেন।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলুনঃ তোমাদের সাক্ষীদেরকে আন, যারা সাক্ষ্য দেয় যে, তা’আলা এগুলো হারাম করেছেন। যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তবে আপনি এ সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন না এবং তাদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না, যারা আমার নির্দেশাবলীকে মিথ্যা বলে, যারা পরকালে বিশ্বাস করে না এবং যারা স্বীয় প্রতিপালকের সমতুল্য অংশীদার করে।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ হালুম্মা শুহাদা - য়াকুমুল লাযীনা ইয়াশ্হাদূনা আন্নাল্লা- হা র্হারামা হা-যা- ফাইন্ শাহিদূ ফালা- তাশ্হাদ্ মা'আহুম্ অলা- তাত্তাবি' আহ্ওয়া- য়াল্ লাযীনা কায্যাবূ বিআ -ইয়া-তিনা- অল্লাযীনা লা- ইয়ুমিনূনা বিল্ আ-খিরাতি অহুম্ বিরব্বিহিম্ ইয়া'দিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! তাদের বলো এগুলো হারাম হবার ব্যাপারে যারা সাক্ষ্য দেবে তোমাদের সেসব সাক্ষীদের হাজির করো।’ তারপর তারা সাক্ষ্য দিলেও তুমি তাদের সাথে স্বীকার করোনা। যারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করে, যারা আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখেনা এবং যারা তাদের প্রভুর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে, তুমি তাদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করোনা।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলুনঃ এস, আমি তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শুনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন। তাএই যে, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না, পিতা - মাতার সাথে সদয় ব্যবহার করো স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্রের কারণে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই, নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না; কিন্তু ন্যায়ভাবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝ।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ তা'আ-লাও আত্লু মা- হার্রামা রব্বুকুম্ 'আলাইকুম্ তুশ্রিকূ বিহী শাইয়াওঁ অব্লি ওয়া-লিদাইনি ইহ্সা-না- আলা-তাক্বতুলূ য় আওলা-দাকুম্ মিন্ ইমলা- ক্ব নাহ্নু নারযুকুকুম্ অইয়্যা-হুম্ অলা- তাক্বরবাল্ ফাওয়া-হিশা মা-জোয়াহারা মিন্হা- অমা- বাত্বোয়ানা অলা-তাক্বতুলুন্ নাফ্সাল্লাতী র্হারমাল্লা-হু ইল্লা- বিল্ হাক্ব যা-লিকুম্ অছ্ছোয়া-কুম্ বিহী লা'আল্লাকুম্ তা'ক্বিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘এসো, তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্যে যা হারাম করেছেন তা তোমাদের তিলাওয়াত করে শুনাই। সেগুলো হলো: তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকেই শরিক করবেনা, পিতা - মাতার প্রতি ইহ্সান করবে, দারিদ্রের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবেনা, কারণ আমরাই তাদের এবং তোমাদেরও রিযিক দেই, প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে অশ্লীল কাজের কাছেও যেয়োনা। যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন তোমরা তাকে হত্যা করোনা, তবে যথার্থ কারণ ও হক পন্থায় হলে ভিন্ন কথা। তোমাদের এসব অসিয়ত (নির্দেশ) করছেন যাতে করে তোমরা আকল খাটাও।

মুহিউদ্দীন খান

এতীমদের ধনসম্পদের কাছেও যেয়ো না; কিন্তু উত্তম পন্থায় যে পর্যন্ত সে বয়ঃপ্রাপ্ত না হয়। ওজন ও মাপ পূর্ণ কর ন্যায় সহকারে। আমি কাউকে তার সাধ্যের অতীত কষ্ট দেই না। যখন তোমরা কথা বল, তখন সুবিচার কর, যদিও সে আত্নীয়ও হয়। আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর।

বাংলা উচ্চারণ

অলা- তাক্বরাবূ মা-লাল্ ইয়াতীমি ইল্লা- বিল্লাতী হিয়া আহ্সানু হাও- ইয়াব্লুগা আশুদ্দাহূ অ আওফুল্ কাইলা অল্মীযা-না বিল্ক্বিস্ত্বি লা-নুকাল্লিফু নাফ্সান্ ইল্লা-উস্'আহা- অইযা- কুল্তুম্ ফা'দিলূ অলাও কা- না যা-ক্বর্ ুবা- অবি 'আহ্দিল্লা-হি আওফূ যা-লিকুম্ অছ্ছোয়া-বিহী লা'আল্লাকুম্ তাযাক্কারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এতিমরা বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত উত্তম পন্থায় ছাড়া তাদের মাল সম্পদের কাছেও যেয়োনা। পরিমাণ ও ওজন নায্যভাবে পূর্ণ করে দাও। আমরা কোনো ব্যক্তির উপর তার সাধ্যের বেশি বোঝা চাপাই না। তোমরা যখন কথা বলবে, নায্য কথা বলবে নিকটজনের বিপক্ষে গেলেও। আল্লাহকে দেয়া অংগীকার পূর্ণ করো। এসব অসিয়ত (নির্দেশ) তোমাদের প্রদান করছেন যাতে করে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব, এ পথে চল এবং অন্যান্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত হও।

বাংলা উচ্চারণ

অ আন্না হা-যা-ছিরা-ত্বী মুস্তাক্বীমান্ ফাওাবি'ঊহু অলা-তাত্তাবি'উস্ সুবুলা ফাতার্ফারাক্বা বিকুম্ 'আন্ সাবীলিহ্ যা-লিকুম্ অছ্ছোয়া-কুম্ বিহী লা'আল্লাকুম্ তাত্তাকুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটাই আমার সিরাতুল মুস্তাকিম (সরল সঠিক পথ), সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো। তোমরা বিভিন্ন পথের অনুসরণ করোনা, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। তোমাদের এসব অসিয়ত (নির্দেশ) প্রদান করছেন যাতে করে তোমরা সতর্ক হও।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি মূসাকে গ্রন্থ দিয়েছি, সৎকর্মীদের প্রতি নেয়ামতপূর্ণ করার জন্যে, প্রত্যেক বস্তুর বিশদ বিবরণের জন্যে, হোদায়াতের জন্যে এবং করুণার জন্যে - যাতে তারা স্বীয় পালনকর্তার সাথে সাক্ষাতে হয়।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা আ-তাইনা-মূসাল্ কিতা-বা তামা-মান্'আলাল্লাযী য় আহ্সানা অ তাফ্ছীলাল্ লিকুল্লি শাইয়িওঁ অহুদাওঁ অরহ্মাতাল্ লা'আল্লাহুম্ বিলিক্বা - য়ি রব্বিহিম্ ইয়ুমিনূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর আমরা মূসাকে দিয়েছিলাম কিতাব, যা ছিলো কল্যাণ পরায়ণদের জন্যে পরিপূর্ণ, সবকিছুর বিশদ বিবরণ, হিদায়াত এবং রহমত, যাতে করে তারা তাদের প্রভুর সাথে সাক্ষাতের প্রতি ঈমান আনে।

মুহিউদ্দীন খান

এটি এমন একটি গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ণ করেছি, খুব মঙ্গলময়, অতএব, এর অনুসরণ কর এবং ভয় কর - যাতে তোমরা করুণাপ্রাপ্ত হও।

বাংলা উচ্চারণ

অহা-যা- কিতা-বুন্ আন্যাল্না-হু মুবা-রাকুন্ ফাত্তবি'ঊহু অত্তাকু লা'আল্লাকুম্ র্তুহামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর আমরা মূসাকে দিয়েছিলাম কিতাব, যা ছিলো কল্যাণ পরায়ণদের জন্যে পরিপূর্ণ, সবকিছুর বিশদ বিবরণ, হিদায়াত এবং রহমত, যাতে করে তারা তাদের প্রভুর সাথে সাক্ষাতের প্রতি ঈমান আনে।

মুহিউদ্দীন খান

এ জন্যে যে, কখনও তোমরা বলতে শুরু করঃ গ্রন্থ তো কেবল আমাদের পূর্ববর্তী দু'সম্প্রদায়ের প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে এবং আমরা সেগুলোর পাঠ ও পঠন সম্পর্কে কিছুই জানতাম না।

বাংলা উচ্চারণ

আন্ তাকুলূ য় ইন্নামা-ন্যিলাল্ কিতা-বু 'আলা-ত্বোয়া - য়িফাতাইনি মিন্ ক্বাব্লিনা- অইন্ কুন্না-'আন্ দিরা-সাতিহিম্ লাগা-ফিলীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে তোমরা একথা বলতে না পারো যে, কিতাব তো আমাদের আগে দুটি (ইহুদি খৃষ্টান) সম্প্রদায়ের কাছে নাযিল হয়েছিল। আমরা তো তাদের দরস (পাঠ) সম্পর্কে গাফিল ছিলাম!

মুহিউদ্দীন খান

কিংবা বলতে শুরু করঃ যদি আমাদের প্রতি কোন গ্রন্থ অবতীর্ণ হত, আমরা এদের চাইতে অধিক পথপ্রাপ্ত হতাম। অতএব, তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সুষ্পষ্ট প্রমাণ, হেদায়েত ও রহমত এসে গেছে। অতঃপর সে ব্যক্তির চাইতে অধিক অনাচারী কে হবে, যে আল্লাহর আয়াত সমূহকে মিথ্যা বলে এবং গা বাঁচিয়ে চলে। অতি সত্ত্বর আমি তাদেরকে শাস্তি দেব। যারা আমার আয়াত সমূহ থেকে গা বাঁচিয়ে চলে - জঘন্য শাস্তি তাদের গা বাঁচানোর কারণে।

বাংলা উচ্চারণ

আও তাকুলূ লাও আন্না য় উন্যিলা 'আলাইনাল্ কিতা-বু লাকুন্না য় 'আহ্দা- মিন্হুম্ ফাক্বাদ্ জ্বা - য়াকুম্ ইয়িনাতুম্ র্মি রব্বিকুম্ অহুদাওঁ অরাহ্মাহ ফামান্ আজ্লামু মিম্মান্ কায্যাবা বিআ-ইয়া তিল্লা-হি অছদাফা'আন্হা- সানাজ্বযিল্লাযীনা ইয়াছ্দিফূনা 'আন্ আ-ইয়া-তিনা-সূ - য়াল্'আযা-বি বিমা -কা-নূ ইয়াছ্দিফূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অথবা একথাও যেনো বলতে না পারো যে, যদি আমাদের কাছে কিতাব নাযিল করা হতো তাহলে আমরা তাদের চাইতে বেশি হিদায়াতপ্রাপ্ত হতাম। এখন তো তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসে গেছে সুষ্পষ্ট প্রমাণ, হিদায়াত এবং রহমত। সুতরাং ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে হবে, যে আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যান করবে এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। যারা আমার আয়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তাদের এই মুখ ফিরিয়ে নেয়ার জন্যে অচিরেই আমরা তাদের নিকৃষ্ট আযাব প্রদান করবো।

মুহিউদ্দীন খান

তারা শুধু এ বিষয়ের দিকে চেয়ে আছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতা আগমন করবে কিংবা আপনার পালনকর্তা আগমন করবেন অথবা আপনার পালনকর্তার কোন নির্দেশ আসবে। যেদিন আপনার পালনকর্তার কোন নিদর্শন আসবে, সেদিন এমন কোন ব্যক্তির বিশ্বাস স্থাপন তার জন্যে ফলপ্রসূ হবে না, যে পূর্ব থেকে বিশ্বাস স্থাপন করেনি কিংবা স্বীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোনরূপ সৎকর্ম করেনি। আপনি বলে দিনঃ তোমরা পথের দিকে চেয়ে থাক, আমরাও পথে দিকে তাকিয়ে রইলাম।

বাংলা উচ্চারণ

হাল্ ইয়ান্জুরূনা ইল্লা য় আন্ তা তিয়াহুমুল্ মালা - য়িকাতু আও ইয়াতিয়া রব্বুকা আও য়াতিয়া বা'দ্বু আ-ইয়া-তি রব্বিক্ ইয়াওমা ইয়া”তী বা'দ্বু আ-ইয়া-তি রব্বিকা লা-ইয়ান্ফা'উ নাফসান্ ঈমা-নুহা-লাম্ তাকুন্ আ-মানাত্ মিন্ ক্বাব্লু আও কাসাবাত্ ফী য় ঈমা-নিহা-খাইরা- কুলিন্ তাজিরূ য় ইন্না-মুন্তাজিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তো শুধু এ জন্যেই অপেক্ষা করছে যেনো তাদের কাছে ফেরেশতা আসে, অথবা স্বয়ং তোমার প্রভু আসেন, অথবা তোমার প্রভুর কোনো নিদর্শন আসে। শুনো, যেদিন তোমার প্রভুর নিদর্শন আসবে সেদিন ঐ ব্যক্তি ঈমান আনলে তাতে তার কোনো ফায়দা হবেনা, যে ব্যক্তি আগে ঈমান আনেনি; কিংবা যে ব্যক্তি ঈমানের ভিত্তিতে কল্যাণ অর্জন করেনি। বলো: ‘তোমরা অপেক্ষা করো। আমরাও অপেক্ষায় থাকলাম।’

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় যারা স্বীয় ধর্মকে খন্ড - বিখন্ড করেছে এবং অনেক দল হয়ে গেছে, তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। তাদের ব্যাপার তা'আয়ালার নিকট সমর্পিত। অতঃপর তিনি বলে দেবেন যা কিছু তারা করে থাকে।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লাযীনা র্ফারাকুদীনাহুম্ অকা-নূ শিয়া'আল্ লাস্তা মিন্হুম ফী শাইয়িন্ ইন্নামা য় আম্রুহুম্ ইলাল্লা-হি ছুম্মা ইয়ুনাব্বিউহুম্ বিমা-কা-নূ-ইয়াফ্'আলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই যারা তাদের দীনকে নানা মতে বিভক্ত করেছে এবং তারাও বিভিন্ন দল উপদলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কোনো দায় দায়িত্ব তোমার নেই। তাদের বিষয়ে ফায়সালার দায়িত্ব আল্লাহর, তিনিই তাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে তাদের অবহিত করবেন।

মুহিউদ্দীন খান

যে একটি সৎকর্ম করবে, সে তার দশগুণ পাবে এবং যে, একটি মন্দ কাজ করবে, সে তার সমান শাস্তিই পাবে। বস্তুতঃ তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।

বাংলা উচ্চারণ

মান্ জ্বা - য়া- বিল্হাসানাতি ফালাহূ আশ্রু 'আম্ছা-লিহা-অমান্ জ্বা - য়া বিস্সাইয়িয়াতি ফালা-ইয়ুজ্বযা য় ইল্লা-মিছ্লাহা-অহুম্ লা-ইয়ুজ্লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কেউ একটি কল্যাণকর কাজ করবে, সে তার দশগুণ পাবে, আর যে কেউ একটি পাপ কাজ করবে, তাকে কেবল সেটারই প্রতিফল দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করা হবেনা।’

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলে দিনঃ আমার প্রতিপালক আমাকে সরল পথ প্রদর্শন করেছেন একাগ্রচিত্ত ইব্রাহীমের বিশুদ্ধ ধর্ম। সে অংশীবাদীদের অন্তর্ভূক্ত ছিল না।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইন্নানী হাদা-নী রব্বী য় ইলা-ছিরা-ত্বিম্ মুস্তাক্বীম্ দীনান্ ক্বিয়ামাম্ মিল্লাতা ইব্রা-হীমা হানীফান্ অমা-কা-না মিনাল্ মুশ্রিকীন।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘আমার প্রভু আমাকে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন। সেটাই প্রতিষ্ঠিত দীন। সেটা ইবরাহিমের মিল্লাত (আদর্শ)।’ ইবরাহিম ছিলো নিষ্ঠাবান। সে মুশরিকদের অন্তরভুক্ত ছিলনা।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলুনঃ আমার , আমার কোরবাণী এবং আমার জীবন ও মরন বিশ্ব - প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইন্না ছলা-তী অনুসুকী অমাহ্ইয়া-ইয়া অমামা-তী লিল্লা-হি রব্বিল্'আ-লামীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘আমার , আমার কুরবানি, আমার জীবন এবং আমার মৃত্যু রাববুল আলামিনের জন্যে।’

মুহিউদ্দীন খান

তাঁর কোন অংশীদার নেই। আমি তাই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি প্রথম আনুগত্যশীল।

বাংলা উচ্চারণ

লা-শারীকা লাহূ অবিযা-লিকা উমিরতু অআনা আওয়্যালুল্ মুস্লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাঁর কোনো শরিক নেই। এরই নির্দেশ আমাকে দেয়া হয়েছে এবং আমিই প্রথম মুসলিম।’

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলুনঃ আমি কি ব্যতীত অন্য প্রতিপালক খোঁজব, অথচ তিনিই সবকিছুর প্রতিপালক? যে ব্যক্তি কোন গোনাহ করে, তা তারই দায়িত্বে থাকে। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদেরকে সবাইকে প্রতিপালকের কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অনন্তর তিনি তোমাদেরকে বলে দিবেন, যেসব বিষয়ে তোমরা বিরোধ করতে।

বাংলা উচ্চারণ

কুূল্ আগাইরাল্লা-হি আব্গী রব্বাওঁ অ হুঅ রব্বু কুল্লি শাইয়িন্ অলা-তাক্সিবু কুল্লু নাফ্সিন্ ইল্লা-'আলাইহা-অলা-তাযিরু অ-যিরাতুওঁ ওয়িয্রা উখ্রা- ছুম্মা ইলা-রব্বিকুম্ র্মাজি'উকুম্ ফাইয়ুনাব্বিউকুম্ বিমা-কুন্তুম্ ফীহি তাখ্তালিফূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘আমি কি আল্লাহকে ছাড়া অন্য কোনো রব খুঁজবো? অথচ তিনিই তো সব কিছুর রব।’ প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ কৃতকর্মের জন্যে দায়ী। কেউই অপর কারো বোঝা বহন করবেনা। অতপর তোমাদের প্রভুর কাছেই ফিরে যেতে হবে তোমাদের সবাইকে। তখন তিনি তোমাদের অবহিত করবেন যেসব বিষয়ে তোমরা মতভেদ করছিলে।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছেন এবং একে অন্যের উপর মর্যাদা সমুন্নত করেছেন, যাতে তোমাদের কে এ বিষয়ে পরীক্ষা করেন, যা তোমাদেরকে দিয়েছেন। আপনার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তি দাতা এবং তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু।

বাংলা উচ্চারণ

অহুঅল্লাযী জ্বা'আলাকুম্ খালা - য়িফাল্ র্আদ্বি অরাফা'আ বা'দ্বোয়াকুম্ ফাওক্বা বা'দ্বিন্ দারাজ্বা-তিল্ লিইয়াব্লু অকুম্ ফীমা য় আ-তা-কুম্ ইন্না রব্বাকা সারী'উল 'ইক্বা-বি অইন্নাহূ লাগাফূরুব্ রাহীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই তোমাদেরকে এই পৃথিবীর প্রতিনিধি বানিয়েছেন এবং তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন সে বিষয়ে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে তোমাদের কতক লোককে অপর কতক লোকের উপর উচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন। তোমার প্রভু শাস্তিদানে দ্রুত, আবার তিনি অবশ্যি ক্ষমাশীল দয়াময়ও।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme