শপথ তাদের যারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো,
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ وَالصَّافَّاتِ صَفًّا
কসম সারিবদ্ধ ফেরেশতাদের,
Chapter 37, 182 verses
শপথ তাদের যারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো,
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ وَالصَّافَّاتِ صَفًّا
কসম সারিবদ্ধ ফেরেশতাদের,
অতঃপর ধমকিয়ে ভীতি প্রদর্শনকারীদের,
فَالزَّاجِرَاتِ زَجْرًا
অতঃপর (মেঘমালা) সুচারুরূপে পরিচালনাকারীদের,
অতঃপর মুখস্থ আবৃত্তিকারীদের -
فَالتَّالِيَاتِ ذِكْرًا
আর উপদেশ গ্রন্থ (আসমানী কিতাব) তিলাওয়াতকারীদের;
নিশ্চয় তোমাদের মাবুদ এক।
إِنَّ إِلَٰهَكُمْ لَوَاحِدٌ
নিশ্চয় তোমাদের এক;
তিনি আসমান সমূহ, যমীনও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা এবং পালনকর্তা উদয়াচলসমূহের।
رَّبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَرَبُّ الْمَشَارِقِ
তিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে তার রব এবং রব উদয়স্থলসমূহের।
নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজির দ্বারা সুশোভিত করেছি।
إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةٍ الْكَوَاكِبِ
নিশ্চয় আমি কাছের আসমানকে তারকারাজির সৌন্দর্যে সুশোভিত করেছি।
এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে।
وَحِفْظًا مِّن كُلِّ شَيْطَانٍ مَّارِدٍ
আর প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে হিফাযত করেছি।
ওরা উর্ধ্ব জগতের কোন কিছু শ্রবণ করতে পারে না এবং চার দিক থেকে তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয়।
لَّا يَسَّمَّعُونَ إِلَى الْمَلَإِ الْأَعْلَىٰ وَيُقْذَفُونَ مِن كُلِّ جَانِبٍ
তারা ঊর্ধ্বজগতের কিছু শুনতে পারে না, কারণ প্রত্যেক দিক থেকে তাদের দিকে নিক্ষেপ করা হয় (উল্কাপিন্ড)।
ওদেরকে বিতাড়নের উদ্দেশে। ওদের জন্যে রয়েছে বিরামহীন শাস্তি।
دُحُورًا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاصِبٌ
তাড়ানোর জন্য, আর তাদের জন্য আছে অব্যাহত আযাব।
তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
إِلَّا مَنْ خَطِفَ الْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُ شِهَابٌ ثَاقِبٌ
তবে কেউ সন্তর্পণে কিছু শুনে নিলে তাকে পিছু তাড়া করে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড।
আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, তাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আমি অন্য যা সৃষ্টি করেছি? আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল মাটি থেকে।
فَاسْتَفْتِهِمْ أَهُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَم مَّنْ خَلَقْنَا ۚ إِنَّا خَلَقْنَاهُم مِّن طِينٍ لَّازِبٍ
অতঃপর তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘সৃষ্টি হিসেবে তারা বেশি শক্তিশালী, না আমি অন্য যা সৃষ্টি করেছি তা’? নিশ্চয় আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি আঠালো মাটি থেকে।
বরং আপনি বিস্ময় বোধ করেন আর তারা বিদ্রুপ করে।
بَلْ عَجِبْتَ وَيَسْخَرُونَ
বরং তুমি বিস্মিত হচ্ছ আর ওরা বিদ্রূপ করছে।
যখন তাদেরকে বোঝানো হয়, তখন তারা বোঝে না।
وَإِذَا ذُكِّرُوا لَا يَذْكُرُونَ
আর যখন তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় তখন তারা স্মরণ করে না।
তারা যখন কোন নিদর্শন দেখে তখন বিদ্রূপ করে।
وَإِذَا رَأَوْا آيَةً يَسْتَسْخِرُونَ
আর যখন তারা কোন নিদর্শন দেখে তখন বিদ্রূপ করে।
এবং বলে, কিছুই নয়, এযে স্পষ্ট যাদু।
وَقَالُوا إِنْ هَٰذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ
আর বলে, ‘এতো স্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়’!
আমরা যখন মরে যাব, এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হয়ে যাব, তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব?
أَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ
‘আমরা যখন মারা যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব’?
আমাদের পিতৃপুরুষগণও কি?
أَوَآبَاؤُنَا الْأَوَّلُونَ
‘আর আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষগণও’?
বলুন, হ্যাঁ এবং তোমরা হবে লাঞ্ছিত।
قُلْ نَعَمْ وَأَنتُمْ دَاخِرُونَ
বল, ‘হ্যাঁ, আর তোমরা অপমানিত-লাঞ্ছিত হবে।’
বস্তুতঃ সে উত্থান হবে একটি বিকট শব্দ মাত্র - যখন তারা প্রত্যক্ষ করতে থাকবে।
فَإِنَّمَا هِيَ زَجْرَةٌ وَاحِدَةٌ فَإِذَا هُمْ يَنظُرُونَ
তা হবে কেবল এক আওয়াজ আর তৎক্ষণাৎ তারা দেখতে পাবে।
এবং বলবে, দুর্ভাগ্য আমাদের! এটাই তো প্রতিফল দিবস।
وَقَالُوا يَا وَيْلَنَا هَٰذَا يَوْمُ الدِّينِ
আর তারা বলবে, ‘হায় আমাদের ধ্বংস, এ তো প্রতিদান দিবস’!
বলা হবে, এটাই ফয়সালার দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে।
هَٰذَا يَوْمُ الْفَصْلِ الَّذِي كُنتُم بِهِ تُكَذِّبُونَ
এটি ফয়সালা করার দিন যা তোমরা অস্বীকার করতে।
একত্রিত কর গোনাহগারদেরকে, তাদের দোসরদেরকে এবং যাদের এবাদত তারা করত।
۞ احْشُرُوا الَّذِينَ ظَلَمُوا وَأَزْوَاجَهُمْ وَمَا كَانُوا يَعْبُدُونَ
(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে) ‘একত্র কর যালিম ও তাদের সঙ্গী-সাথীদেরকে এবং যাদের ইবাদাত তারা করত তাদেরকে।
ব্যতীত। অতঃপর তাদেরকে পরিচালিত কর জাহান্নামের পথে,
مِن دُونِ اللَّهِ فَاهْدُوهُمْ إِلَىٰ صِرَاطِ الْجَحِيمِ
‘আল্লাহকে বাদ দিয়ে, আর তাদেরকে আগুনের পথে নিয়ে যাও’।
এবং তাদেরকে থামাও, তারা জিজ্ঞাসিত হবে;
وَقِفُوهُمْ ۖ إِنَّهُم مَّسْئُولُونَ
‘আর তাদেরকে থামাও, অবশ্যই তারা জিজ্ঞাসিত হবে’।
তোমাদের কি হল যে, তোমরা একে অপরের সাহায্য করছ না?
مَا لَكُمْ لَا تَنَاصَرُونَ
‘তোমাদের কী হল, তোমরা একে অপরকে সাহায্য করছ না?’
বরং তারা আজকের দিনে আত্নসমর্পণকারী।
بَلْ هُمُ الْيَوْمَ مُسْتَسْلِمُونَ
বরং তারা হবে আজ আত্মসমর্পণকারী।
তারা একে অপরের দিকে মুখ করে পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ
আর তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসা করবে,
বলবে, তোমরা তো আমাদের কাছে ডান দিক থেকে আসতে।
قَالُوا إِنَّكُمْ كُنتُمْ تَأْتُونَنَا عَنِ الْيَمِينِ
তারা বলবে, ‘তোমরাই তো আমাদের কাছে আসতে ধর্মীয় দিক থেকে’।* * এ আয়াতে اليمين বলতে দীন বুঝানো হয়েছে। কারো কারো মতে এ দ্বারা শক্তি-সামর্থ্য বা কল্যাণ-স্বাচ্ছন্দ্য বুঝানো হয়েছে।
তারা বলবে, বরং তোমরা তো বিশ্বাসীই ছিলে না।
قَالُوا بَل لَّمْ تَكُونُوا مُؤْمِنِينَ
জবাবে তারা (নেতৃস্থানীয় কাফিররা) বলবে, ‘বরং তোমরা তো ছিলে না’।
এবং তোমাদের উপর আমাদের কোন কতৃত্ব ছিল না, বরং তোমরাই ছিলে সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।
وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيْكُم مِّن سُلْطَانٍ ۖ بَلْ كُنتُمْ قَوْمًا طَاغِينَ
আর তোমাদের উপর আমাদের কোন কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা ছিলে সীমালঙ্ঘনকারী কওম’।
আমাদের বিপক্ষে আমাদের পালনকর্তার উক্তিই সত্য হয়েছে। আমাদেরকে অবশই স্বাদ আস্বাদন করতে হবে।
فَحَقَّ عَلَيْنَا قَوْلُ رَبِّنَا ۖ إِنَّا لَذَائِقُونَ
‘তাই আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের রবের বাণী সত্য হয়েছে; নিশ্চয় আমরা আস্বাদন করব (আযাব)’।
আমরা তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম। কারণ আমরা নিজেরাই পথভ্রষ্ট ছিলাম।
فَأَغْوَيْنَاكُمْ إِنَّا كُنَّا غَاوِينَ
‘আর আমরা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছি, কারণ আমরা নিজেরাই ছিলাম বিভ্রান্ত’।
তারা সবাই সেদিন শান্তিতে শরীক হবে।
فَإِنَّهُمْ يَوْمَئِذٍ فِي الْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ
নিশ্চয় তারা সেদিন আযাবে অংশীদার হবে।
অপরাধীদের সাথে আমি এমনি ব্যবহার করে থাকি।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَفْعَلُ بِالْمُجْرِمِينَ
অপরাধীদের সাথে আমি এমন আচরণই করে থাকি।
তাদের যখন বলা হত, ব্যতীত কোন উপাস্য েনই, তখন তারা ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করত।
إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ
তাদেরকে যখন বলা হত, ‘ ছাড়া কোন (সত্য) নেই’, তখন নিশ্চয় তারা অহঙ্কার করত।
এবং বলত, আমরা কি এক উম্মাদ কবির কথায় আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব।
وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُو آلِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجْنُونٍ
আর বলত, ‘আমরা কি এক পাগল কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ছেড়ে দেব?’
না, তিনি সত্যসহ আগমন করেছেন এবং রসূলগণের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
بَلْ جَاءَ بِالْحَقِّ وَصَدَّقَ الْمُرْسَلِينَ
বরং সে সত্য নিয়ে এসেছিল এবং সে রাসূলদেরকে সত্য বলে ঘোষণা দিয়েছিল।
তোমরা অবশ্যই বেদনাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করবে।
إِنَّكُمْ لَذَائِقُو الْعَذَابِ الْأَلِيمِ
অবশ্যই তোমরা যন্ত্রণাদায়ক আযাব আস্বাদন করবে।
তোমরা যা করতে, তারই প্রতিফল পাবে।
وَمَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
আর তোমরা যে আমল করতে শুধু তারই প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হবে।
তবে তারা নয়, যারা আল্লাহর বাছাই করা বান্দা।
إِلَّا عِبَادَ اللَّهِ الْمُخْلَصِينَ
অবশ্য আল্লাহর মনোনীত বান্দারা ছাড়া;
তাদের জন্যে রয়েছে নির্ধারিত রুযি।
أُولَٰئِكَ لَهُمْ رِزْقٌ مَّعْلُومٌ
তাদের জন্য থাকবে নির্ধারিত রিয্ক,
ফল - মূল এবং তারা সম্মানিত।
فَوَاكِهُ ۖ وَهُم مُّكْرَمُونَ
ফলমূল; আর তারা হবে সম্মানিত,
নেয়ামতের উদ্যানসমূহ।
فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ
নি‘আমত-ভরা জান্নাতে,
মুখোমুখি হয়ে আসনে আসীন।
عَلَىٰ سُرُرٍ مُّتَقَابِلِينَ
মুখোমুখি পালঙ্কে।
তাদেরকে ঘুরে ফিরে পরিবেশন করা হবে স্বচ্ছ পানপাত্র।
يُطَافُ عَلَيْهِم بِكَأْسٍ مِّن مَّعِينٍ
তাদের চারপাশে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সুরাপাত্র,
সুশুভ্র, যা পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু।
بَيْضَاءَ لَذَّةٍ لِّلشَّارِبِينَ
সাদা, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।
তাতে মাথা ব্যথার উপাদান নেই এবং তারা তা পান করে মাতালও হবে না।
لَا فِيهَا غَوْلٌ وَلَا هُمْ عَنْهَا يُنزَفُونَ
তাতে থাকবে না ক্ষতিকর কিছু* এবং তারা এগুলো দ্বারা মাতালও হবে না। * غول অর্থ নেশা, মাতলামি, মাথাব্যথা ও পেটের পীড়া।
তাদের কাছে থাকবে নত, আয়তলোচনা তরুণীগণ।
وَعِندَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ عِينٌ
তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না, ডাগরচোখা।
যেন তারা সুরক্ষিত ডিম।
كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَّكْنُونٌ
তারা যেন আচ্ছাদিত ডিম।
অতঃপর তারা একে অপরের দিকে মুখ করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ يَتَسَاءَلُونَ
অতঃপর তারা মুখোমুখি হয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করবে।
তাদের একজন বলবে, আমার এক সঙ্গী ছিল।
قَالَ قَائِلٌ مِّنْهُمْ إِنِّي كَانَ لِي قَرِينٌ
তাদের একজন বলবে, (‘পৃথিবীতে) আমার এক সঙ্গী ছিল’,
সে বলত, তুমি কি বিশ্বাস কর যে,
يَقُولُ أَإِنَّكَ لَمِنَ الْمُصَدِّقِينَ
সে বলত, ‘তুমি কি সে লোকদের অন্তর্ভুক্ত যারা বিশ্বাস করে’।
আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখনও কি আমরা প্রতিফল প্রাপ্ত হব?
أَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَإِنَّا لَمَدِينُونَ
‘আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমাদেরকে প্রতিফল দেয়া হবে’?
বলবেন, তোমরা কি তাকে উকি দিয়ে দেখতে চাও?
قَالَ هَلْ أَنتُم مُّطَّلِعُونَ
বলবেন, ‘তোমরা কি উঁকি দিয়ে দেখবে?’
অপর সে উকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে জাহান্নামের মাঝখানে দেখতে পাবে।
فَاطَّلَعَ فَرَآهُ فِي سَوَاءِ الْجَحِيمِ
অতঃপর সে উঁকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে (পৃথিবীর সঙ্গীকে) দেখবে জাহান্নামের মধ্যস্থলে।
সে বলবে, আল্লাহর কসম, তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংসই করে দিয়েছিলে।
قَالَ تَاللَّهِ إِن كِدتَّ لَتُرْدِينِ
সে বলবে, ‘আল্লাহর কসম! তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিলে’।
আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ না হলে আমিও যে গ্রেফতারকৃতদের সাথেই উপস্থিত হতাম।
وَلَوْلَا نِعْمَةُ رَبِّي لَكُنتُ مِنَ الْمُحْضَرِينَ
‘আমার রবের অনুগ্রহ না থাকলে আমিও তো (জাহান্নামে) হাযিরকৃতদের একজন হতাম’।
এখন আমাদের আর মৃত্যু হবে না।
أَفَمَا نَحْنُ بِمَيِّتِينَ
(জান্নাতবাসী ব্যক্তি বলবে) ‘তাহলে আমরা কি আর মরব না’?
আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া এবং আমরা শাস্তি প্রাপ্তও হব না।
إِلَّا مَوْتَتَنَا الْأُولَىٰ وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ
‘আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া, আর আমরা কি আযাবপ্রাপ্ত হব না’?
নিশ্চয় এই মহা সাফল্য।
إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
‘নিশ্চয় এটি মহাসাফল্য!’
এমন সাফল্যের জন্যে পরিশ্রমীদের পরিশ্রম করা উচিত।
لِمِثْلِ هَٰذَا فَلْيَعْمَلِ الْعَامِلُونَ
এরূপ সাফল্যের জন্যই ‘আমলকারীদের আমল করা উচিত।
এই কি উত্তম আপ্যায়ন, না যাক্কুম বৃক্ষ?
أَذَٰلِكَ خَيْرٌ نُّزُلًا أَمْ شَجَرَةُ الزَّقُّومِ
আপ্যায়নের জন্য এগুলো উত্তম না যাক্কূম* বৃক্ষ? * অতি তিক্ত স্বাদযুক্ত জাহান্নামের এক গাছ।
আমি যালেমদের জন্যে একে বিপদ করেছি।
إِنَّا جَعَلْنَاهَا فِتْنَةً لِّلظَّالِمِينَ
নিশ্চয় আমি তাকে যালিমদের জন্য করে দিয়েছি পরীক্ষা।
এটি একটি বৃক্ষ, যা উদগত হয় জাহান্নামের মূলে।
إِنَّهَا شَجَرَةٌ تَخْرُجُ فِي أَصْلِ الْجَحِيمِ
নিশ্চয় এ গাছটি জাহান্নামের তলদেশ থেকে বের হয়।
এর গুচ্ছ শয়তানের মস্তকের মত।
طَلْعُهَا كَأَنَّهُ رُءُوسُ الشَّيَاطِينِ
এর ফল যেন শয়তানের মাথা;
কাফেররা একে ভক্ষণ করবে এবং এর দ্বারা উদর পূর্ণ করবে।
فَإِنَّهُمْ لَآكِلُونَ مِنْهَا فَمَالِئُونَ مِنْهَا الْبُطُونَ
নিশ্চয় তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে।
তদুপরি তাদেরকে দেয়া হবে। ফুটন্ত পানির মিশ্রণ,
ثُمَّ إِنَّ لَهُمْ عَلَيْهَا لَشَوْبًا مِّنْ حَمِيمٍ
তদুপরি তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ।
অতঃপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে জাহান্নামের দিকে।
ثُمَّ إِنَّ مَرْجِعَهُمْ لَإِلَى الْجَحِيمِ
তারপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে জাহান্নামের আগুনে।
তারা তাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছিল বিপথগামী।
إِنَّهُمْ أَلْفَوْا آبَاءَهُمْ ضَالِّينَ
নিশ্চয় এরা নিজদের পিতৃপুরুষদেরকে পথভ্রষ্ট পেয়েছিল;
অতঃপর তারা তদের পদাংক অনুসরণে তৎপর ছিল।
فَهُمْ عَلَىٰ آثَارِهِمْ يُهْرَعُونَ
ফলে তারাও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে দ্রুত ছুটেছে।
তাদের পূর্বেও অগ্রবর্তীদের অধিকাংশ বিপথগামী হয়েছিল।
وَلَقَدْ ضَلَّ قَبْلَهُمْ أَكْثَرُ الْأَوَّلِينَ
আর নিশ্চয় এদের পূর্বে প্রাথমিক যুগের মানুষের বেশীরভাগই পথভ্রষ্ট হয়েছিল।
আমি তাদের মধ্যে ভীতি প্রদর্শনকারী প্রেরণ করেছিলাম।
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا فِيهِم مُّنذِرِينَ
আর অবশ্যই তাদের কাছে আমি সতর্ককারীদেরকে পাঠিয়েছিলাম;
অতএব লক্ষ্য করুন, যাদেরকে ভীতিপ্রদর্শণ করা হয়েছিল, তাদের পরিণতি কি হয়েছে।
فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُنذَرِينَ
সুতরাং দেখ, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের পরিণতি কী হয়েছিল!
তবে আল্লাহর বাছাই করা বান্দাদের কথা ভিন্ন।
إِلَّا عِبَادَ اللَّهِ الْمُخْلَصِينَ
অবশ্য আল্লাহর মনোনীত বান্দারা ছাড়া।
আর নূহ আমাকে ডেকেছিল। আর কি চমৎকারভাবে আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম।
وَلَقَدْ نَادَانَا نُوحٌ فَلَنِعْمَ الْمُجِيبُونَ
আর নিশ্চয় নূহ আমাকে ডেকেছিল, আর আমি কতইনা উত্তম সাড়াদানকারী!
আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গকে এক মহাসংকট থেকে রক্ষা করেছিলাম।
وَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِيمِ
আর তাকে ও তার পরিজনকে আমি মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম।
এবং তার বংশধরদেরকেই আমি অবশিষ্ট রেখেছিলাম।
وَجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهُ هُمُ الْبَاقِينَ
আর তার বংশধরদেরকেই আমি অবশিষ্ট রেখেছিলাম,
আমি তার জন্যে পরবর্তীদের মধ্যে এ বিষয় রেখে দিয়েছি যে,
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ
আর পরবর্তীদের মধ্যে তার জন্য (সুখ্যাতি) রেখে দিয়েছিলাম।
বিশ্ববাসীর মধ্যে নূহের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।
سَلَامٌ عَلَىٰ نُوحٍ فِي الْعَالَمِينَ
শান্তি বর্ষিত হোক নূহের উপর সকল সৃষ্টির মধ্যে।
আমি এভাবেই সৎকর্ম পরায়নদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
নিশ্চয় এভাবে আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।
সে ছিল আমার বান্দাদের অন্যতম।
إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ
নিশ্চয় সে আমার বান্দাদের একজন।
অতঃপর আমি অপরাপর সবাইকে নিমজ্জত করেছিলাম।
ثُمَّ أَغْرَقْنَا الْآخَرِينَ
তারপর আমি অন্যদের ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।
আর নূহ পন্থীদেরই একজন ছিল ইব্রাহীম।
۞ وَإِنَّ مِن شِيعَتِهِ لَإِبْرَاهِيمَ
আর নিশ্চয় ইবরাহীম তার দীনের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত।
যখন সে তার পালনকর্তার নিকট সুষ্ঠু চিত্তে উপস্থিত হয়েছিল,
إِذْ جَاءَ رَبَّهُ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ
যখন সে বিশুদ্ধচিত্তে তার রবের নিকট উপস্থিত হয়েছিল।
যখন সে তার পিতা ও সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমরা কিসের উপাসনা করছ?
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَاذَا تَعْبُدُونَ
যখন সে তার পিতা ও তার কওমকে বলেছিল, ‘তোমরা কিসের ইবাদত কর’?
তোমরা কি ব্যতীত মিথ্যা উপাস্য কামনা করছ?
أَئِفْكًا آلِهَةً دُونَ اللَّهِ تُرِيدُونَ
‘তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে মিথ্যা উপাস্যগুলোকে চাও’?
বিশ্বজগতের পালনকর্তা সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কি?
فَمَا ظَنُّكُم بِرَبِّ الْعَالَمِينَ
‘তাহলে সকল সৃষ্টির রব সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কী’?
অতঃপর সে একবার তারকাদের প্রতি লক্ষ্য করল।
فَنَظَرَ نَظْرَةً فِي النُّجُومِ
অতঃপর সে তারকারাজির মধ্যে একবার দৃষ্টি দিল।
এবং বললঃ আমি পীড়িত।
فَقَالَ إِنِّي سَقِيمٌ
তারপর বলল, ‘আমি তো অসুস্থ’।
অতঃপর তারা তার প্রতি পিঠ ফিরিয়ে চলে গেল।
فَتَوَلَّوْا عَنْهُ مُدْبِرِينَ
অতঃপর তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে তার কাছ থেকে চলে গেল।
অতঃপর সে তাদের দেবালয়ে, গিয়ে ঢুকল এবং বললঃ তোমরা খাচ্ছ না কেন?
فَرَاغَ إِلَىٰ آلِهَتِهِمْ فَقَالَ أَلَا تَأْكُلُونَ
তারপর চুপে চুপে সে তাদের দেবতাদের কাছে গেল এবং বলল, ‘তোমরা কি খাবে না?’
তোমাদের কি হল যে, কথা বলছ না?
مَا لَكُمْ لَا تَنطِقُونَ
‘তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা কথা বলছ না’?
অতঃপর সে প্রবল আঘাতে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
فَرَاغَ عَلَيْهِمْ ضَرْبًا بِالْيَمِينِ
অতঃপর সে তাদের উপর সজোরে আঘাত হানল।
তখন লোকজন তার দিকে ছুটে এলো ভীত - সন্ত্রস্ত পদে।
فَأَقْبَلُوا إِلَيْهِ يَزِفُّونَ
তখন লোকেরা তার দিকে ছুটে আসল।
সে বললঃ তোমরা স্বহস্ত নির্মিত পাথরের পূজা কর কেন?
قَالَ أَتَعْبُدُونَ مَا تَنْحِتُونَ
সে বলল, ‘তোমরা নিজেরা খোদাই করে যেগুলো বানাও, তোমরা কি সেগুলোর উপাসনা কর’,
অথচ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা নির্মাণ করছ সবাইকে সৃষ্টি করেছেন।
وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ
‘অথচ আল্লাহই তোমাদেরকে এবং তোমরা যা কর তা সৃষ্টি করেছেন’?
তারা বললঃ এর জন্যে একটি ভিত নির্মাণ কর এবং অতঃপর তাকে আগুনের স্তুপে নিক্ষেপ কর।
قَالُوا ابْنُوا لَهُ بُنْيَانًا فَأَلْقُوهُ فِي الْجَحِيمِ
তারা বলল, ‘তার জন্য একটি স্থাপনা তৈরী কর, তারপর তাকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ কর’।
তারপর তারা তার বিরুদ্ধে মহা ষড়যন্ত্র আঁটতে চাইল, কিন্তু আমি তাদেরকেই পরাভূত করে দিলাম।
فَأَرَادُوا بِهِ كَيْدًا فَجَعَلْنَاهُمُ الْأَسْفَلِينَ
আর তারা তার ব্যাপারে একটা ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তাদেরকে সম্পূর্ণ পরাভূত করে দিলাম।
সে বললঃ আমি আমার পালনকর্তার দিকে চললাম, তিনি আমাকে পথপ্রদর্শন করবেন।
وَقَالَ إِنِّي ذَاهِبٌ إِلَىٰ رَبِّي سَيَهْدِينِ
আর সে বলল, ‘আমি আমার রবের দিকে যাচ্ছি, তিনি অবশ্যই আমাকে হিদায়াত করবেন।
হে আমার পরওয়ারদেগার! আমাকে এক সৎপুত্র দান কর।
رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ
‘হে আমার রব, আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন’।
সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দান করলাম।
فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلَامٍ حَلِيمٍ
অতঃপর তাকে আমি পরম ধৈর্যশীল একজন পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিলাম।
অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখিযে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বললঃ পিতাঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন।
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَىٰ فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانظُرْ مَاذَا تَرَىٰ ۚ قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ ۖ سَتَجِدُنِي إِن شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ
অতঃপর যখন সে তার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন সে বলল, ‘হে প্রিয় বৎস, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি, অতএব দেখ তোমার কী অভিমত’; সে বলল, ‘হে আমার পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তাই করুন। আমাকে ইনশাআল্লাহ আপনি অবশ্যই ধৈর্যশীলদের অন্তর
যখন পিতা - পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহীম তাকে যবেহ করার জন্যে শায়িত করল।
فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ
অতঃপর তারা উভয়ে যখন আত্মসমর্পণ করল এবং সে তাকে* কাত করে শুইয়ে দিল * ইসমাঈলকে
তখন আমি তাকে ডেকে বললামঃ হে ইব্রাহীম,
وَنَادَيْنَاهُ أَن يَا إِبْرَاهِيمُ
তখন আমি তাকে আহবান করে বললাম, ‘হে ইবরাহীম,
তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে! আমি এভাবেই সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا ۚ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
‘তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি’।
নিশ্চয় এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা।
إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ الْبَلَاءُ الْمُبِينُ
‘নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা’।
আমি তার পরিবর্তে দিলাম যবেহ করার জন্যে এক মহান জন্তু।
وَفَدَيْنَاهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ
আর আমি এক মহান যবেহের* বিনিময়ে তাকে মুক্ত করলাম। * তা ছিল একটি জান্নাতী দুম্বা।
আমি তার জন্যে এ বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিয়েছি যে,
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ
আর তার জন্য আমি পরবর্তীদের মধ্যে সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।
ইব্রাহীমের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক।
سَلَامٌ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ
ইবরাহীমের প্রতি সালাম।
এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।
সে ছিল আমার বান্দাদের একজন।
إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ
নিশ্চয় সে আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
আমি তাকে সুসংবাদ দিয়েছি ইসহাকের, সে সৎকর্মীদের মধ্য থেকে একজন নবী।
وَبَشَّرْنَاهُ بِإِسْحَاقَ نَبِيًّا مِّنَ الصَّالِحِينَ
আর আমি তাকে ইসহাকের সুসংবাদ দিয়েছিলাম, সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত একজন নবী হিসেবে,
তাকে এবং ইসহাককে আমি বরকত দান করেছি। তাদের বংশধরদের মধ্যে কতক সৎকর্মী এবং কতক নিজেদের উপর স্পষ্ট জুলুমকারী।
وَبَارَكْنَا عَلَيْهِ وَعَلَىٰ إِسْحَاقَ ۚ وَمِن ذُرِّيَّتِهِمَا مُحْسِنٌ وَظَالِمٌ لِّنَفْسِهِ مُبِينٌ
আর আমি তাকে ও ইসহাককে বরকত দান করেছিলাম, আর তাদের বংশধরদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল সৎকর্মশীল এবং কেউ নিজের প্রতি স্পষ্ট যালিম।
আমি অনুগ্রহ করেছিলাম মূসা ও হারুনের প্রতি।
وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَارُونَ
আর আমি নিশ্চয় হারূন ও মূসার প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম,
তাদেরকে ও তাদের সম্প্রদায়কে উদ্ধার করেছি মহা সংকট থেকে।
وَنَجَّيْنَاهُمَا وَقَوْمَهُمَا مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِيمِ
আর আমি তাদেরকে ও তাদের কওমকে মহাসংকট থেকে নাজাত দিয়েছিলাম।
আমি তাদেরকে সাহায্য করেছিলাম, ফলে তারাই ছিল বিজয়ী।
وَنَصَرْنَاهُمْ فَكَانُوا هُمُ الْغَالِبِينَ
আর আমি তাদেরকে সাহায্য করেছিলাম, ফলে তারাই ছিল বিজয়ী।
আমি উভয়কে দিয়েছিলাম সুস্পষ্ট কিতাব।
وَآتَيْنَاهُمَا الْكِتَابَ الْمُسْتَبِينَ
আর আমি উভয়কে সুস্পষ্ট কিতাব দান করেছিলাম।
এবং তাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করেছিলাম।
وَهَدَيْنَاهُمَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ
আর আমি দু’জনকেই সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেছিলাম।
আমি তাদের জন্যে পরবর্তীদের মধ্যে এ বিষয় রেখে দিয়েছি যে,
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِمَا فِي الْآخِرِينَ
আর আমি তাদের জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।
মূসা ও হারুনের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক।
سَلَامٌ عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَارُونَ
মূসা ও হারূনের প্রতি সালাম।
এভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।
তারা উভয়েই ছিল আমার বান্দাদের অন্যতম।
إِنَّهُمَا مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ
নিশ্চয় তারা দু’জনই ছিল আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
নিশ্চয়ই ইলিয়াস ছিল রসূল।
وَإِنَّ إِلْيَاسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ
আর ইলইয়াসও ছিল রাসূলদের একজন।
যখন সে তার সম্প্রদায়কে বললঃ তোমরা কি ভয় কর না ?
إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَلَا تَتَّقُونَ
যখন সে তার কওমকে বলেছিল ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না’?
তোমরা কি বা’আল দেবতার এবাদত করবে এবং সর্বোত্তম স্রষ্টাকে পরিত্যাগ করবে।
أَتَدْعُونَ بَعْلًا وَتَذَرُونَ أَحْسَنَ الْخَالِقِينَ
তোমরা কি ‘বা’ল’ কে* ডাকবে এবং পরিত্যাগ করবে সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা- * بعل একটি দেবতার নাম, যার উপাসনা তারা করত।
যিনি তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের পালনকর্তা?
اللَّهَ رَبَّكُمْ وَرَبَّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ
আল্লাহকে, যিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদেরও রব’?
অতঃপর তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। অতএব তারা অবশ্যই গ্রেফতার হয়ে আসবে।
فَكَذَّبُوهُ فَإِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ
কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করেছিল, ফলে তাদেরকে অবশ্যই (আযাবের জন্য) উপস্থিত করা হবে।
কিন্তু তা’আলার খাঁটি বান্দাগণ নয়।
إِلَّا عِبَادَ اللَّهِ الْمُخْلَصِينَ
আল্লাহর (আনুগত্যের জন্য) মনোনীত বান্দাগণ ছাড়া ।
আমি তার জন্যে পরবর্তীদের মধ্যে এ বিষয়ে রেখে দিয়েছি যে,
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ
আর আমি তার জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সুনাম সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।
ইলিয়াসের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক!
سَلَامٌ عَلَىٰ إِلْ يَاسِينَ
ইলইয়াসের প্রতি সালাম।
এভাবেই আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।
সে ছিল আমার বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত।
إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ
নিশ্চয় সে ছিল আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
নিশ্চয় লূত ছিলেন রসূলগণের একজন।
وَإِنَّ لُوطًا لَّمِنَ الْمُرْسَلِينَ
আর নিশ্চয় লূতও ছিল রাসূলদেরই একজন।
যখন আমি তাকেও তার পরিবারের সবাইকে উদ্ধার করেছিলাম;
إِذْ نَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ أَجْمَعِينَ
যখন আমি তাকে ও তার পরিবার পরিজন সকলকে নাজাত দিয়েছিলাম-
কিন্তু এক বৃদ্ধাকে ছাড়া; সে অন্যান্যদের সঙ্গে থেকে গিয়েছিল।
إِلَّا عَجُوزًا فِي الْغَابِرِينَ
পিছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত এক বৃদ্ধা ছাড়া ।
অতঃপর অবশিষ্টদেরকে আমি সমূলে উৎপাটিত করেছিলাম।
ثُمَّ دَمَّرْنَا الْآخَرِينَ
অতঃপর আমি অবশিষ্টদেরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।
তোমরা তোমাদের ধ্বংস স্তুপের উপর দিয়ে গমন কর ভোর বেলায়
وَإِنَّكُمْ لَتَمُرُّونَ عَلَيْهِم مُّصْبِحِينَ
আর তোমরা নিশ্চয় তাদের (ধ্বংসাবশেষের) উপর দিয়ে অতিক্রম করে থাক সকালে-
এবং সন্ধ্যায়, তার পরেও কি তোমরা বোঝ না?
وَبِاللَّيْلِ ۗ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
ও রাতে। তবুও কি তোমরা বুঝবে না?
আর ইউনুসও ছিলেন পয়গম্বরগণের একজন।
وَإِنَّ يُونُسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ
আর নিশ্চয় ইউনুসও ছিল রাসূলদের একজন।
যখন পালিয়ে তিনি বোঝাই নৌকায় গিয়ে পৌঁছেছিলেন।
إِذْ أَبَقَ إِلَى الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ
যখন সে একটি বোঝাই নৌযানের দিকে পালিয়ে গিয়েছিল।
অতঃপর লটারী (সুরতি) করালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেন।
فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ الْمُدْحَضِينَ
অতঃপর সে লটারীতে অংশগ্রহণ করল এবং তাতে সে হেরে গেল।
অতঃপর একটি মাছ তাঁকে গিলে ফেলল, তখন তিনি অপরাধী গণ্য হয়েছিলেন।
فَالْتَقَمَهُ الْحُوتُ وَهُوَ مُلِيمٌ
তারপর বড় মাছ তাকে গিলে ফেলল। আর সে (নিজেকে) ধিক্কার দিচ্ছিল।
যদি তিনি আল্লাহর তসবীহ পাঠ না করতেন,
فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ
আর সে যদি (আল্লাহর) তাসবীহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত,
তবে তাঁকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত মাছের পেটেই থাকতে হত।
لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ
তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার পেটেই থেকে যেত।
অতঃপর আমি তাঁকে এক বিস্তীর্ণ - বিজন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম, তখন তিনি ছিলেন রুগ্ন।
۞ فَنَبَذْنَاهُ بِالْعَرَاءِ وَهُوَ سَقِيمٌ
অতঃপর আমি তাকে তৃণলতাহীন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম এবং সে ছিল অসুস্থ।
আমি তাঁর উপর এক লতাবিশিষ্ট বৃক্ষ উদগত করলাম।
وَأَنبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةً مِّن يَقْطِينٍ
আর আমি একটি ইয়াকতীন* গাছ তার উপর উদগত করলাম। * শসা, কাঁকড় ও লাউ জাতীয় গাছকে ইয়কতীন বলে। যা কান্ডের উপর দাঁড়াতে পারে না। তার জন্য মাচা তৈরী করতে হয়।
এবং তাঁকে, লক্ষ বা ততোধিক লোকের প্রতি প্রেরণ করলাম।
وَأَرْسَلْنَاهُ إِلَىٰ مِائَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ
এবং তাকে আমি এক লক্ষ বা তার চেয়েও বেশী লোকের কাছে পাঠালাম।
তারা বিশ্বাস স্থাপন করল অতঃপর আমি তাদেরকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জীবনোপভোগ করতে দিলাম।
فَآمَنُوا فَمَتَّعْنَاهُمْ إِلَىٰ حِينٍ
অতঃপর তারা ঈমান আনল, ফলে আমি তাদেরকে কিছুকাল পর্যন্ত উপভোগ করতে দিলাম।
এবার তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, তোমার পালনকর্তার জন্যে কি কন্যা সন্তান রয়েছে এবং তাদের জন্যে কি পুত্র - সন্তান।
فَاسْتَفْتِهِمْ أَلِرَبِّكَ الْبَنَاتُ وَلَهُمُ الْبَنُونَ
অতএব তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘তোমার রবের জন্য কি কন্যা সন্তান এবং তাদের জন্য পুত্র সন্তান’?
না কি আমি তাদের উপস্থিতিতে ফেরেশতাগণকে নারীরূপে সৃষ্টি করেছি?
أَمْ خَلَقْنَا الْمَلَائِكَةَ إِنَاثًا وَهُمْ شَاهِدُونَ
অথবা আমি কি ফেরেশতাদেরকে নারীরূপে সৃষ্টি করেছিলাম আর তারা তা প্রত্যক্ষ করছিল?
জেনো, তারা মনগড়া উক্তি করে যে,
أَلَا إِنَّهُم مِّنْ إِفْكِهِمْ لَيَقُولُونَ
জেনে রাখ, তারা অবশ্যই তাদের মনগড়া কথা বলে যে,
সন্তান জন্ম দিয়েছেন। নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী।
وَلَدَ اللَّهُ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ
‘ সন্তান জন্ম দিয়েছেন’ আর তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
তিনি কি পুত্র - সন্তানের স্থলে কন্যা - সন্তান পছন্দ করেছেন?
أَصْطَفَى الْبَنَاتِ عَلَى الْبَنِينَ
তিনি কি পুত্রসন্তানদের উপর কন্যা সন্তানদের বেছে নিয়েছেন?
তোমাদের কি হল? তোমাদের এ কেমন সিন্ধান্ত?
مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ
তোমাদের কী হল? তোমরা কেমন ফয়সালা করছ!
তোমরা কি অনুধাবন কর না?
أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
তাহলে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
না কি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট কোন দলীল রয়েছে?
أَمْ لَكُمْ سُلْطَانٌ مُّبِينٌ
নাকি তোমাদের কোন সুস্পষ্ট দলীল- প্রমাণ আছে?
তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের কিতাব আন।
فَأْتُوا بِكِتَابِكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
অতএব তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের কিতাব নিয়ে আস।
তারা ও জ্বিনদের মধ্যে সম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে, অথচ জ্বিনেরা জানে যে, তারা গ্রেফতার হয়ে আসবে।
وَجَعَلُوا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجِنَّةِ نَسَبًا ۚ وَلَقَدْ عَلِمَتِ الْجِنَّةُ إِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ
আর তারা ও জিন জাতির মধ্যে একটা বংশসম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে, অথচ জিন জাতি জানে যে, নিশ্চয় তাদেরকেও উপস্থিত করা হবে।
তারা যা বলে তা থেকে পবিত্র।
سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ
সে সব থেকে অতিপবিত্র ও মহান, যা তারা আরোপ করে,
তবে যারা আল্লাহর নিষ্ঠাবান বান্দা, তারা গ্রেফতার হয়ে আসবে না।
إِلَّا عِبَادَ اللَّهِ الْمُخْلَصِينَ
তবে আল্লাহর (আনুগত্যের জন্য) নির্বাচিত বান্দাগণ ছাড়া।
অতএব তোমরা এবং তোমরা যাদের উপাসনা কর,
فَإِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ
নিশ্চয় তোমরা এবং তোমরা যাদের ইবাদাত কর তারা-
তাদের কাউকেই তোমরা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
مَا أَنتُمْ عَلَيْهِ بِفَاتِنِينَ
তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে (মুমিনদের) কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
শুধুমাত্র তাদের ছাড়া যারা জাহান্নামে পৌছাবে।
إِلَّا مَنْ هُوَ صَالِ الْجَحِيمِ
জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশকারী ছাড়া।
আমাদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট স্থান।
وَمَا مِنَّا إِلَّا لَهُ مَقَامٌ مَّعْلُومٌ
আমাদের* প্রত্যেকের জন্যই একটা নির্ধারিতস্থান** রয়েছে। *এটা ফেরেশতাদের বক্তব্য।
এবং আমরাই সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান থাকি।
وَإِنَّا لَنَحْنُ الصَّافُّونَ
আর অবশ্যই আমরা সারিবদ্ধ ।
এবং আমরাই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি।
وَإِنَّا لَنَحْنُ الْمُسَبِّحُونَ
আর আমরা অবশ্যই তাসবীহ পাঠকারী।
তারা তো বলতঃ
وَإِن كَانُوا لَيَقُولُونَ
আর তারা (মক্কাবাসীরা) বলত,
যদি আমাদের কাছে পূর্ববর্তীদের কোন উপদেশ থাকত,
لَوْ أَنَّ عِندَنَا ذِكْرًا مِّنَ الْأَوَّلِينَ
‘যদি আমাদের কাছে পূর্বর্তীদের মত কোন উপদেশ (কিতাব) থাকত,
তবে আমরা অবশ্যই আল্লাহর মনোনীত বান্দা হতাম।
لَكُنَّا عِبَادَ اللَّهِ الْمُخْلَصِينَ
তাহলে অবশ্যই আমরা আল্লাহর মনোনীত বান্দা হতাম’।
বস্তুতঃ তারা এই কোরআনকে অস্বীকার করেছে। এখন শীঘ্রই তারা জেনে নিতে পারবে,
فَكَفَرُوا بِهِ ۖ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ
অতঃপর তারা তা অস্বীকার করল অতএব শীঘ্রই তারা জানতে পারবে (এর পরিণাম)।
আমার রাসূল ও বান্দাগণের ব্যাপারে আমার এই বাক্য সত্য হয়েছে যে,
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ
আর নিশ্চয় আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা পূর্ব নির্ধারিত হয়েছে যে,
অবশ্যই তারা সাহায্য প্রাপ্ত হয়।
إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ
‘অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে’।
আর আমার বাহিনীই হয় বিজয়ী।
وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ
আর নিশ্চয় আমার বাহিনীই বিজয়ী হবে।
অতএব আপনি কিছুকালের জন্যে তাদেরকে উপেক্ষা করুন।
فَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتَّىٰ حِينٍ
অতএব কিছু কাল পর্যন্ত তুমি তাদের থেকে ফিরে থাক।
এবং তাদেরকে দেখতে থাকুন। শীঘ্রই তারাও এর পরিণাম দেখে নেবে।
وَأَبْصِرْهُمْ فَسَوْفَ يُبْصِرُونَ
আর তাদেরকে পর্যবেক্ষণ কর, অচিরেই তারা দেখবে (এর পরিণাম) ।
আমার আযাব কি তারা দ্রুত কামনা করে?
أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ
তারা কি আমার আযাব ত্বরান্বিত করতে চায়?
অতঃপর যখন তাদের আঙ্গিনায় আযাব নাযিল হবে, তখন যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, তাদের সকাল বেলাটি হবে খুবই মন্দ।
فَإِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمْ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنذَرِينَ
আর যখন তা তাদের আঙিনায় নেমে আসবে তখন সতর্ককৃতদের সকাল কতই না মন্দ হবে!
আপনি কিছুকালের জন্যে তাদেরকে উপেক্ষা করুন।
وَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتَّىٰ حِينٍ
আরো কিছু কাল পর্যন্ত তুমি তাদের থেকে ফিরে থাক।
এবং দেখতে থাকুন, শীঘ্রই তারাও এর পরিণাম দেখে নেবে।
وَأَبْصِرْ فَسَوْفَ يُبْصِرُونَ
আর তাদেরকে পর্যবেক্ষণ কর, অচিরেই তারা দেখবে (এর পরিণাম)।
পবিত্র আপনার পরওয়ারদেগারের সত্তা, তিনি সম্মানিত ও পবিত্র যা তারা বর্ণনা করে তা থেকে।
سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ
তারা যা ব্যক্ত করে তোমার রব তা থেকে পবিত্র মহান, সম্মানের মালিক।
পয়গম্বরগণের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক।
وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ
আর রাসূলদের প্রতি সালাম।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর নিমিত্ত।
وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
আর সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।