নূন। শপথ কলমের এবং সেই বিষয়ের যা তারা লিপিবদ্ধ করে,
নূন; কলমের কসম এবং তারা যা লিখে তার কসম!
بسم الله الرحمن الرحيم ن ۚ والقلم وما يسطرون
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; নূন। কলমের শপথ এবং তারা যা লিখে তারও।
Chapter 68, 52 verses
নূন। শপথ কলমের এবং সেই বিষয়ের যা তারা লিপিবদ্ধ করে,
নূন; কলমের কসম এবং তারা যা লিখে তার কসম!
بسم الله الرحمن الرحيم ن ۚ والقلم وما يسطرون
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; নূন। কলমের শপথ এবং তারা যা লিখে তারও।
আপনার পালনকর্তার অনুগ্রহে আপনি উম্মাদ নন।
তোমার রবের অনুগ্রহে তুমি পাগল নও।
ما أنت بنعمة ربك بمجنون
তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহে তুমি উন্মাদ নও।
আপনার জন্যে অবশ্যই রয়েছে অশেষ পুরস্কার।
আর নিশ্চয় তোমার জন্য রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার।
وإن لك لأجرا غير ممنون
এবং নিশ্চয়ই তোমার জন্য রয়েছে এমন প্রতিদান, যা কখনো শেষ হবে না।
আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।
আর নিশ্চয় তুমি মহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত।
وإنك لعلى خلق عظيم
তুমি অবশ্যই মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত।
সত্ত্বরই আপনি দেখে নিবেন এবং তারাও দেখে নিবে।
অতঃপর শীঘ্রই তুমি দেখতে পাবে এবং তারাও দেখতে পাবে-
فستبصر ويبصرون
অতএব অচিরেই তুমি দেখবে, এবং তারাও দেখবে,
কে তোমাদের মধ্যে বিকারগ্রস্ত।
তোমাদের মধ্যে কে বিকারগ্রস্ত?
بأييكم المفتون
তোমাদের মধ্যে কে বিভ্রান্ত।
আপনার পালনকর্তা সম্যক জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি জানেন যারা সৎপথ প্রাপ্ত।
নিশ্চয় তোমার রবই সম্যক পরিজ্ঞাত তাদের ব্যাপারে যারা তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, আর তিনি হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞাত।
إن ربك هو أعلم بمن ضل عن سبيله وهو أعلم بالمهتدين
নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকই সর্বাধিক জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, এবং তিনিই সর্বাধিক জানেন সৎপথপ্রাপ্তদের।
অতএব, আপনি মিথ্যারোপকারীদের আনুগত্য করবেন না।
অতএব তুমি মিথ্যারোপকারীদের আনুগত্য করো না।
فلا تطع المكذبين
অতএব তুমি অস্বীকারকারীদের অনুসরণ করো না।
তারা চায় যদি আপনি নমনীয় হন, তবে তারাও নমনীয় হবে।
তারা কামনা করে, যদি তুমি আপোষকামী হও, তবে তারাও আপোষকারী হবে।
ودوا لو تدهن فيدهنون
তারা চায়, যদি তুমি আপস করো, তবে তারাও আপস করবে।
যে অধিক শপথ করে, যে লাঞ্ছিত, আপনি তার আনুগত্য করবেন না।
আর তুমি আনুগত্য করো না প্রত্যেক এমন ব্যক্তির যে অধিক কসমকারী, লাঞ্ছিত।
ولا تطع كل حلاف مهين
আর তুমি অনুসরণ করো না প্রত্যেক অত্যাধিক শপথকারীর।
যে পশ্চাতে নিন্দা করে একের কথা অপরের নিকট লাগিয়ে ফিরে।
পিছনে নিন্দাকারী ও যে চোগলখুরী করে বেড়ায়,
هماز مشاء بنميم
নিন্দাকারী, কথা লাগিয়ে বেড়ানো ব্যক্তি,
যে ভাল কাজে বাধা দেয়, সে সীমালংঘন করে, সে পাপিষ্ঠ,
ভাল কাজে বাধাদানকারী, সীমালঙ্ঘনকারী অপরাধী,
مناع للخير معتد أثيم
কল্যাণে বাধাদানকারী, সীমালঙ্ঘনকারী, পাপাচারী,
কঠোর স্বভাব, তদুপরি কুখ্যাত;
দুষ্ট প্রকৃতির, তারপর জারজ।
عتل بعد ذلك زنيم
কঠোরস্বভাব, তার উপর আবার বংশের দাবিদার।
এ কারণে যে, সে ধন - সম্পদ ও সন্তান সন্ততির অধিকারী।
এ কারণে যে, সে ছিল ধন-সম্পদ ও সন্তান- সন্ততির অধিকারী।
أن كان ذا مال وبنين
কারণ সে সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির অধিকারী।
তার কাছে আমার আয়াত পাঠ করা হলে সে বলে; সেকালের উপকথা।
যখন তার কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন সে বলে, এগুলো পূর্ববর্তীদের কল্পকাহিনীমাত্র।
إذا تتلى عليه آياتنا قال أساطير الأولين
যখন তার কাছে আমাদের আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হয়, সে বলে, "এগুলো পূর্ববর্তীদের কাহিনী।"
আমি তার নাসিকা দাগিয়ে দিব।
অচিরেই আমি তার শুঁড়ের* উপর দাগ দিয়ে দেব। *অর্থাৎ নাকের উপর। বিদ্রূপাত্মক অর্থে ব্যবহৃত।
سنسمه على الخرطوم
অচিরেই আমরা তার নাকের উপর চিহ্ন এঁকে দেব।
খুরতূম (الخرطوم): আক্ষরিক অর্থে এমন একটি শব্দ যা প্রাণীর শুঁড় বা থুতনিযুক্ত নাক/মুখের জন্যও ব্যবহৃত হয়। এখানে সম্ভবত অপমানসূচক হিসেবে ব্যবহার রয়েছে।
আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেমন পরীক্ষা করেছি উদ্যানওয়ালাদের, যখন তারা শপথ করেছিল যে, সকালে বাগানের ফল আহরণ করবে,
নিশ্চয় আমি এদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম বাগানের মালিকদেরকে। যখন তারা কসম করেছিল যে, অবশ্যই তারা সকাল বেলা বাগানের ফল আহরণ করবে।
إنا بلوناهم كما بلونا أصحاب الجنة إذ أقسموا ليصرمنها مصبحين
নিশ্চয়ই আমরা তাদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেমন পরীক্ষা করেছিলাম বাগানের অধিকারীদের, যখন তারা শপথ করেছিল যে তারা অবশ্যই ভোরবেলায় তার ফল সংগ্রহ করবে।
ইনশাআল্লাহ না বলে।
আর তারা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেনি।
ولا يستثنون
এবং তারা কোনো ব্যতিক্রম রাখেনি।
আল্লাহ এখানে আমাদের উদাহরণ দিয়ে জানিয়েছেন বিবিধ কারণে বা আল্লাহ না চাইলে আমাদের প্রতিশ্রুত কাজটি আমাদের দ্বারা করা সম্ভব নাও হতে পারে; তাই কারো সাথে কোনো প্রতিজ্ঞা বা চুক্তি করার সময় "ইন শাহ আল্লাহ" বলা বা Force Majeure / Act of God Exception Clause / Option রাখা উত্তম। তবে মূল আরবীতে "ইন শাহ আল্লাহ" কথাটি উল্লেখ নেই।
এখান থেকে আমরা আরো একটি শিক্ষা পাই যে, খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু করার পরিকল্পনা করতে নেই।
অতঃপর আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে বাগানে এক বিপদ এসে পতিত হলো। যখন তারা নিদ্রিত ছিল।
অতঃপর তোমার রবের পক্ষ থেকে এক প্রদক্ষিণকারী (আগুন) বাগানের ওপর দিয়ে প্রদক্ষিণ করে গেল, আর তারা ছিল ঘুমন্ত।
فطاف عليها طائف من ربك وهم نائمون
অতঃপর তারা যখন ঘুমিয়ে ছিল, তখন তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তার উপর এক দুর্যোগ বয়ে গেল।
ফলে সকাল পর্যন্ত হয়ে গেল ছিন্নবিচ্ছিন্ন তৃণসম।
ফলে তা (পুড়ে) কালো বর্ণের হয়ে গেল।
فأصبحت كالصريم
ফলে তা হয়ে গেল কাটা ক্ষেতের মতো।
সকালে তারা একে অপরকে ডেকে বলল,
তারপর সকাল বেলা তারা একে অপরকে ডেকে বলল,
فتنادوا مصبحين
অতঃপর তারা ভোরবেলায় একে অপরকে ডাকল,
তোমরা যদি ফল আহরণ করতে চাও, তবে সকাল সকাল ক্ষেতে চল।
‘তোমরা যদি ফল আহরণ করতে চাও তাহলে সকাল সকাল তোমাদের বাগানে যাও’।
أن اغدوا على حرثكم إن كنتم صارمين
“যদি তোমরা ফল সংগ্রহ করতে চাও, তবে সকালেই তোমাদের ক্ষেতে চলে যাও।”
অতঃপর তারা চলল ফিসফিস করে কথা বলতে বলতে,
তারপর তারা চলল, নিম্নস্বরে একথা বলতে বলতে-
فانطلقوا وهم يتخافتون
অতঃপর তারা রওনা হলো, নিজেদের মধ্যে নিচু স্বরে কথা বলতে থাকলো,
অদ্য যেন কোন মিসকীন ব্যক্তি তোমাদের কাছে বাগানে প্রবেশ করতে না পারে।
যে, ‘আজ সেখানে তোমাদের কাছে কোন অভাবী যেন প্রবেশ করতে না পারে’।
أن لا يدخلنها اليوم عليكم مسكين
“আজ যেন কোনো দরিদ্র সেখানে তোমাদের কাছে প্রবেশ করতে না পারে।”
তারা সকালে লাফিয়ে লাফিয়ে সজোরে রওয়ানা হল।
আর তারা ভোর বেলা দৃঢ় ইচ্ছা শক্তি নিয়ে সক্ষম অবস্থায় (বাগানে) গেল।
وغدوا على حرد قادرين
এবং তারা ভোরে রওনা হলো, দৃঢ় সংকল্প নিয়ে, নিজেদের সক্ষম মনে করে।
অতঃপর যখন তারা বাগান দেখল, তখন বললঃ আমরা তো পথ ভূলে গেছি।
তারপর তারা যখন বাগানটি দেখল, তখন তারা বলল, ‘অবশ্যই আমরা পথভ্রষ্ট’।
فلما رأوها قالوا إنا لضالون
অতঃপর যখন তারা তা দেখল, তারা বলল, “নিশ্চয়ই আমরা পথ ভুল করেছি।”
বরং আমরা তো কপালপোড়া,
‘বরং আমরা বঞ্চিত’।
بل نحن محرومون
“বরং আমরাই বঞ্চিত হয়েছি।”
তাদের উত্তম ব্যক্তি বললঃ আমি কি তোমাদেরকে বলিনি? এখনও তোমরা তা’আলার পবিত্রতা বর্ণনা করছো না কেন?
তাদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল ব্যক্তিটি বলল, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, তোমরা কেন (আল্লাহর) তাসবীহ পাঠ করছ না’?
قال أوسطهم ألم أقل لكم لولا تسبحون
তাদের মধ্যে মধ্যপন্থী ব্যক্তি বলল, “আমি কি তোমাদের বলিনি, কেন তোমরা পবিত্রতা ঘোষণা করো না?”
তারা বললঃ আমরা আমাদের পালনকর্তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, নিশ্চিতই আমরা সীমালংঘনকারী ছিলাম।
তারা বলল, ‘আমরা আমাদের রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। অবশ্যই আমরা যালিম ছিলাম’।
قالوا سبحان ربنا إنا كنا ظالمين
তারা বলল, “আমাদের প্রতিপালক পবিত্র। নিশ্চয়ই আমরাই ছিলাম অন্যায়কারী।”
অতঃপর তারা একে অপরকে ভৎর্সনা করতে লাগল।
তারপর তারা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করতে লাগল।
فأقبل بعضهم على بعض يتلاومون
অতঃপর তারা পরস্পরের দিকে ফিরে পরস্পরকে দোষারোপ করতে লাগল।
তারা বললঃ হায়! দুর্ভোগ আমাদের আমরা ছিলাম সীমাতিক্রমকারী।
তারা বলল, ‘হায়, আমাদের ধ্বংস! নিশ্চয় আমরা সীমালঙ্ঘনকারী ছিলাম’।
قالوا يا ويلنا إنا كنا طاغين
তারা বললো, “হায় আমাদের দুর্ভোগ! নিশ্চয়ই আমরা সীমালঙ্ঘনকারী ছিলাম।
সম্ভবতঃ আমাদের পালনকর্তা পরিবর্তে এর চাইতে উত্তম বাগান আমাদেরকে দিবেন। আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে আশাবাদী।
সম্ভবতঃ আমাদের রব আমাদেরকে এর চেয়েও উৎকৃষ্টতর বিনিময় দেবেন। অবশ্যই আমরা আমাদের রবের প্রতি আগ্রহী।
عسى ربنا أن يبدلنا خيرا منها إنا إلى ربنا راغبون
হয়তো আমাদের প্রতিপালক এর পরিবর্তে আমাদেরকে তার চেয়ে উত্তম কিছু দেবেন। নিশ্চয়ই আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছেই প্রত্যাশী।”
শাস্তি এভাবেই আসে এবং পরকালের শাস্তি আরও গুরুতর; যদি তারা জানত!
এভাবেই হয় আযাব। আর পরকালের আযাব অবশ্যই আরো বড়, যদি তারা জানত।
كذلك العذاب ۖ ولعذاب الآخرة أكبر ۚ لو كانوا يعلمون
এভাবেই শাস্তি হয়ে থাকে। আর পরকালের শাস্তি তো আরও বড়, যদি তারা জানত।
মোত্তাকীদের জন্যে তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে নেয়ামতের জান্নাত।
নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য তাদের রবের কাছে রয়েছে নিআমতপূর্ণ জান্নাত।
إن للمتقين عند ربهم جنات النعيم
নিশ্চয়ই মুত্তাকীদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে রয়েছে বিলাসবহুল বেহেস্ত।
আমি কি আজ্ঞাবহদেরকে অপরাধীদের ন্যায় গণ্য করব?
তবে কি আমি মুসলিমদেরকে (অনুগতদেরকে) অবাধ্যদের মতই গণ্য করব?
أفنجعل المسلمين كالمجرمين
তবে কি আমরা মুসলিমদেরকে অপরাধীদের মতো গণ্য করব?
তোমাদের কি হল ? তোমরা কেমন সিদ্ধান্ত দিচ্ছ?
তোমাদের কী হল, তোমরা কিভাবে ফয়সালা করছ?
ما لكم كيف تحكمون
তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কীভাবে সিদ্ধান্ত নাও?
তোমাদের কি কোন কিতাব আছে, যা তোমরা পাঠ কর।
তোমাদের কাছে কি কোন কিতাব আছে যাতে তোমরা পাঠ করছ?
أم لكم كتاب فيه تدرسون
নাকি তোমাদের কাছে এমন কোনো কিতাব রয়েছে, যা তোমরা অধ্যয়ন কর?
তাতে তোমরা যা পছন্দ কর, তাই পাও?
যে, নিশ্চয় তোমাদের জন্য সেখানে রয়েছে যা তোমরা পছন্দ কর?
إن لكم فيه لما تخيرون
যাতে তোমাদের জন্য যা ইচ্ছা, তাই রয়েছে?
না তোমরা আমার কাছ থেকেকেয়ামত পর্যন্ত বলবৎ কোন শপথ নিয়েছ যে, তোমরা তাই পাবে যা তোমরা সিদ্ধান্ত করবে?
অথবা তোমাদের জন্য কি আমার উপর কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ কোন অঙ্গীকার রয়েছে যে, অবশ্যই তোমাদের জন্য থাকবে তোমরা যা ফয়সালা করবে?
أم لكم أيمان علينا بالغة إلى يوم القيامة ۙ إن لكم لما تحكمون
নাকি আমাদের ওপর তোমাদের জন্য কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে—এমন কোনো দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে, যাতে তোমরা যা নির্ধারণ কর, সেটিই তোমাদের জন্য থাকবে?
আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন তাদের কে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল?
তুমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, কে এ ব্যাপারে যিম্মাদার?
سلهم أيهم بذلك زعيم
তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, তাদের মধ্যে কে এর দায়িত্ব নিতে পারে?
না তাদের কোন শরীক উপাস্য আছে? থাকলে তাদের শরীক উপাস্যদেরকে উপস্থিত করুক যদি তারা সত্যবাদী হয়।
অথবা তাদের জন্য কি অনেক শরীক আছে? তাহলে তারা তাদের শরীকদেরকে উপস্থিত করুক যদি তারা সত্যবাদী হয়।
أم لهم شركاء فليأتوا بشركائهم إن كانوا صادقين
নাকি তাদের কোনো শরীক রয়েছে? যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবে তারা তাদের শরীকদের উপস্থিত করুক।
গোছা পর্যন্ত পা খোলার দিনের কথা স্মরণ কর, সেদিন তাদেরকে সেজদা করতে আহবান জানানো হবে, অতঃপর তারা সক্ষম হবে না।
সে দিন পায়ের গোছা* উন্মোচন করা হবে। আর তাদেরকে সিজদা করার জন্য আহবান জানানো হবে, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না। *এ কথার ব্যাপারে ইমাম বুখারী একটি হাদীস বর্ণনা করেন। তা হল, আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের রব তাঁর প
يوم يكشف عن ساق ويدعون إلى السجود فلا يستطيعون
যেদিন পায়ের গোড়ালি উন্মোচিত হবে এবং তাদেরকে সিজদা করার জন্য ডাকা হবে, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না।
তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে; তারা লাঞ্ছনাগ্রস্ত হবে, অথচ যখন তারা সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল, তখন তাদেরকে সেজদা করতে আহবান জানানো হত।
তাদের দৃষ্টিসমূহ অবনত অবস্থায় থাকবে, অপমান তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। অথচ তাদেরকে তো নিরাপদ অবস্থায় সিজদা করার জন্য আহবান করা হত (তখন তো তারা সিজদা করেনি)।
خاشعة أبصارهم ترهقهم ذلة ۖ وقد كانوا يدعون إلى السجود وهم سالمون
তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে, লাঞ্ছনা তাদের আচ্ছন্ন করবে। অথচ তাদেরকে সিজদার জন্য ডাকা হতো, যখন তারা সুস্থ-সক্ষম ছিল।
অতএব, যারা এই কালামকে মিথ্যা বলে, তাদেরকে আমার হাতে ছেড়ে দিন, আমি এমন ধীরে ধীরে তাদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাব যে, তারা জানতে পারবে না।
অতএব ছেড়ে দাও আমাকে এবং যারা এ বাণী প্রত্যাখ্যান করে তাদেরকে। আমি তাদেরকে ধীরে ধীরে এমনভাবে পাকড়াও করব যে, তারা জানতে পারবে না।
فذرني ومن يكذب بهذا الحديث ۖ سنستدرجهم من حيث لا يعلمون
অতএব, আমাকে এবং এই বাণীকে যে অস্বীকার করে তাকে ছেড়ে দাও। অচিরেই আমরা তাদেরকে এমনভাবে পাকড়াও করব, যা তারা উপলব্ধিও করতে পারবে না।
আমি তাদেরকে সময় দেই। নিশ্চয় আমার কৌশল মজবুত।
আর আমি তাদেরকে অবকাশ দেব। অবশ্যই আমার কৌশল অত্যন্ত বলিষ্ঠ।
وأملي لهم ۚ إن كيدي متين
আর আমি তাদেরকে অবকাশ দিচ্ছি। নিশ্চয়ই আমার কৌশল অত্যন্ত দৃঢ়।
আপনি কি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চান? ফলে তাদের উপর জরিমানার বোঝা পড়ছে?
তুমি কি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চাচ্ছ? ফলে তারা ঋণের কারণে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ছে।
أم تسألهم أجرا فهم من مغرم مثقلون
নাকি তুমি তাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাও, ফলে তারা ঋণের বোঝায় ভারাক্রান্ত?
না তাদের কাছে গায়বের খবর আছে? অতঃপর তারা তা লিপিবদ্ধ করে।
অথবা তাদের কাছে কি ‘’ (লওহে মাহফুয) আছে যে, তারা লিখে রাখছে।
أم عندهم الغيب فهم يكتبون
নাকি তাদের কাছে অদৃশ্যের জ্ঞান রয়েছে, তাই তারা তা লিখে রাখে?
আপনি আপনার পালনকর্তার আদেশের অপেক্ষায় সবর করুন এবং মাছওয়ালা ইউনুসের মত হবেন না, যখন সে দুঃখাকুল মনে প্রার্থনা করেছিল।
অতএব তুমি তোমার রবের হুকুমের জন্য ধৈর্যধারণ কর। আর তুমি মাছওয়ালার মত হয়ো না, যখন সে দুঃখে কাতর হয়ে ডেকেছিল।
فاصبر لحكم ربك ولا تكن كصاحب الحوت إذ نادى وهو مكظوم
অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের সিদ্ধান্তের জন্য ধৈর্য ধারণ কর এবং মাছের সঙ্গীর মতো হয়ো না, যখন সে আহ্বান করেছিল, আর সে ছিল গভীর দুঃখে আচ্ছন্ন।
যদি তার পালনকর্তার অনুগ্রহ তাকে সামাল না দিত, তবে সে নিন্দিত অবস্থায় জনশুন্য প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হত।
যদি তার রবের অনুগ্রহ তার কাছে না পৌঁছত, তাহলে সে নিন্দিত অবস্থায় উন্মুক্ত প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হত।
لولا أن تداركه نعمة من ربه لنبذ بالعراء وهو مذموم
যদি না তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ তার কাছে পৌঁছাত, তবে অবশ্যই সে উন্মুক্ত প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হতো, নিন্দিত অবস্থায়।
অতঃপর তার পালনকর্তা তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন।
তারপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করলেন।
فاجتباه ربه فجعله من الصالحين
অতঃপর তার প্রতিপালক তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করলেন।
কাফেররা যখন কোরআন শুনে, তখন তারা তাদের দৃষ্টি দ্বারা যেন আপনাকে আছাড় দিয়ে ফেলে দিবে এবং তারা বলেঃ সে তো একজন পাগল।
আর কাফিররা যখন উপদেশবাণী শুনে তখন তারা যেন তাদের দৃষ্টি দ্বারা তোমাকে আছড়ে ফেলবে, আর তারা বলে, ‘এ তো এক পাগল’।
وإن يكاد الذين كفروا ليزلقونك بأبصارهم لما سمعوا الذكر ويقولون إنه لمجنون
আর যারা অবিশ্বাস করেছে, তারা যখন এই স্মারক শুনে, তখন তারা যেন তাদের দৃষ্টির দ্বারা তোমাকে পিছলিয়ে দিতে উদ্যত হয়। আর তারা বলে, “সে তো অবশ্যই একজন উন্মাদ।”
অথচ এই কোরআন তো বিশ্বজগতের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।
আর এ কুরআন তো সৃষ্টিকুলের জন্য শুধুই উপদেশবাণী।
وما هو إلا ذكر للعالمين
অথচ এটি তো সমগ্র জগতের জন্য এক উপদেশ ছাড়া আর কিছু নয়।