Kitab

আল কাহফ

Chapter 18, 110 verses

  • মুহিউদ্দীন খান
  • বয়ান ফাউন্ডেশন
  • জহুরুল হক
  • আবদুস শহীদ নাসিম
মুহিউদ্দীন খান

সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি নিজের বান্দার প্রতি এ গ্রন্থ নাযিল করেছেন এবং তাতে কোন বক্রতা রাখেননি।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার উপর কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে রাখেননি কোন বক্রতা ।

জহুরুল হক

সকল প্রশংসা ‌র যিনি তাঁর বান্দার কাছে এই কিতাব অবতারণ করেছেন, আর তিনি এতে কোনো কুটিলতা রাখেন নি,

আবদুস শহীদ নাসিম

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর দাসের উপর আল কিতাব (আল - কুরআন) নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো প্রকার বক্রতা - জটিলতা রাখেননি।

মুহিউদ্দীন খান

একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ভীষণ বিপদের ভয় প্রদর্শন করে এবং মুমিনদেরকে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করে - তাদেরকে সুসংবাদ দান করে যে, তাদের জন্যে উত্তম প্রতিদান রয়েছে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সরলরূপে, যাতে সে তাঁর পক্ষ থেকে কঠিন আযাব সম্পর্কে সতর্ক করে এবং সুসংবাদ দেয়, সেসব মুমিনকে, যারা সৎকর্ম করে, নিশ্চয় তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান।

জহুরুল হক

সুপ্রতিষ্ঠিত, যেন তাঁর তরফ থেকে আসা কঠোর দুর্যোগ সন্বন্ধে এটি সতর্ক করতে পারে এবং সুসংবাদ দিতে পারে মুমিনদের যারা সৎকর্ম করে থাকে, - - যে তাদের জন্য অবশ্যই রয়েছে উত্তম প্রতিদান,

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি এটিকে করেছেন সুষম - সুপ্রতিষ্ঠিত তাঁর কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করার জন্যে। আর যেসব আমলে সালেহ্ করে এটি তাদের সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্যে রয়েছে উত্তম পুরস্কার (জান্নাত)।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তাতে চিরকাল অবস্থান করবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা তাতে অনন্তকাল অবস্থান করবে।

জহুরুল হক

সেখানে তারা থাকবে চিরকাল,

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানে থাকবে তারা চিরদিন চিরকাল।

মুহিউদ্দীন খান

এবং তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করার জন্যে যারা বলে যে, আল্লাহর সন্তান রয়েছে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যেন সতর্ক করে তাদেরকে, যারা বলে, সন্তান গ্রহণ করেছেন’।

জহুরুল হক

আর যেন এটি সাবধান করতে পারে তাদের যারা বলে যে একটি সন্তান গ্রহণ করেছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর (এটি নাযিল করেছেন) তাদেরকে সতর্ক করার জন্যে, যারা বলে: ‘ সন্তান গ্রহণ করেছেন।’

মুহিউদ্দীন খান

এ সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও নেই। কত কঠিন তাদের মুখের কথা। তারা যা বলে তা তো সবই মিথ্যা।

বয়ান ফাউন্ডেশন

এ ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও না। বড় মারাত্মক কথা, যা তাদের মুখ থেকে বের হয়। মিথ্যা ছাড়া তারা কিছুই বলে না!

জহুরুল হক

তাদের এ বিষয়ে কোনো জ্ঞান নেই আর তাদের পিতৃপুরুষদেরও ছিল না। এ এক সাংঘাতিক কথা যা তাদের মুখ থেকে নির্গত হয়। তারা যা বলে তা মিথ্যা বৈ তো নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

আসলে এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং তাদের পূর্ব পুরুষদেরও কোনো জ্ঞান ছিলনা। তাদের মুখ থেকে বের হওয়া কথা খুবই গুরুতর। তাদের কথা মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়।

মুহিউদ্দীন খান

যদি তারা এই বিষয়বস্তুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করে, তবে তাদের পশ্চাতে সম্ভবতঃ আপনি পরিতাপ করতে করতে নিজের প্রাণ নিপাত করবেন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

হয়তো তুমি তাদের পেছনে পেছনে ঘুরে দুঃখে নিজকে শেষ করে দেবে, যদি তারা এই কথার প্রতি ঈমান না আনে।

জহুরুল হক

কাজেই হয়ত বা তাদের পেছনে ঘুরে ঘুরে তোমার নিজেকে তুমি দুঃখে কাতর করে তুলবে যেহেতু তারা এই নতুন বাণীতে বিশ্বাস করছে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা এ বাণীর প্রতি ঈমান না আনলে সম্ভবত তুমি তাদের পেছনে ঘুরে ঘুরে দুঃখে শোকে নিজেকে বিনাশ করে ছাড়বে।

মুহিউদ্দীন খান

আমি পৃথিবীস্থ সব কিছুকে পৃথিবীর জন্যে শোভা করেছি, যাতে লোকদের পরীক্ষা করি যে, তাদের মধ্যে কে ভাল কাজ করে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় যমীনের উপর যা রয়েছে, তা আমি শোভা করেছি তার জন্য, যাতে তাদেরকে পরীক্ষা করি যে, কর্মে তাদের মধ্যে কে উত্তম।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ পৃথিবীর উপরে যা - কিছু আছে আমরা সেগুলোকে ওর অলংকাররূপে স্থাপন করেছি যেন আমরা তাদের যাচাই করতে পারি তাদের কারা কাজে সর্বোত্তম।

আবদুস শহীদ নাসিম

পৃথিবীর উপর যা কিছু আছে সেগুলো আমরা এর শোভা বানিয়ে দিয়েছি মানুষকে এই পরীক্ষা করার জন্যে যে, আমলের দিক থেকে তাদের মধ্যে কে উত্তম?

মুহিউদ্দীন খান

এবং তার উপর যাকিছু রয়েছে, অবশ্যই তা আমি উদ্ভিদশূন্য মাটিতে পরিণত করে দেব।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর নিশ্চয় তার উপর যা রয়েছে তাকে আমি উদ্ভিদহীন শুষ্ক মাটিতে পরিণত করব।

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ তার উপরে যা - কিছু আছে আমরা তাকে করব তৃণলতাহীন মাটির গুড়োঁ।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর উপর যা কিছু আছে তা অবশ্যি আমরা উদ্ভিদ বিহীন মাঠে পরিণত করবো।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি কি ধারণা করেন যে, গুহা ও গর্তের অধিবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর ছিল ?

বয়ান ফাউন্ডেশন

তুমি কি মনে করেছ যে, গুহা ও রাকীমের* অধিবাসীরা ছিল আমার আয়াতসমূহের এক বিস্ময়? * রাকীম একটি পাহাড়ের নাম, অথবা যে গ্রাম থেকে তারা বের হয়েছিল সে গ্রামের নাম, অথবা একটি ফলক- যাতে ঐ সব যুবকের নাম লিখা ছিল।

জহুরুল হক

অথবা, তুমি কি মনে কর যে গুহার বাসিন্দারা ও লিখিত - ফলক আমাদের নিদর্শনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর?

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি মনে করো যে, কাহাফ এবং রাকিমের অধিবাসীরা আমার বিস্ময়কর নিদর্শনাবলির অন্তরভুক্ত?

মুহিউদ্দীন খান

যখন যুবকরা পাহাড়ের গুহায় আশ্রয়গ্রহণ করে তখন দোআ করেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে নিজের কাছ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্যে আমাদের কাজ সঠিকভাবে পূর্ণ করুন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

যখন যুবকরা গুহায় আশ্রয় নিল অতঃপর বলল, ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দিন এবং আমাদের জন্য আমাদের কর্মকান্ড সঠিক করে দিন’।

জহুরুল হক

দেখো, কিছু যুবক গুহায় আশ্রয় নিল, তখন তারা বললে - - ''আমাদের প্রভু! তোমার কাছ থেকে আমাদের অনুগ্রহ প্রদান করো, আর আমাদের কাজকর্মে সঠিক রাস্তা বাতলে দাও।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

যুবকরা যখন গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল তারা বলেছিল: ‘আমাদের প্রভু! আমাদের দান করো তোমার পক্ষ থেকে রহমত এবং আমাদেরকে আমাদের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করার ব্যবস্থা করে দাও।’

মুহিউদ্দীন খান

তখন আমি কয়েক বছরের জন্যে গুহায় তাদের কানের উপর নিদ্রার পর্দা ফেলে দেই।

বয়ান ফাউন্ডেশন

ফলে আমি গুহায় তাদের কান বন্ধ করে দিলাম অনেক বছরের জন্য।

জহুরুল হক

সেজন্য গুহার মধ্যে কয়েক বছরের জন্য আমরা তাদের কানে চাপা দিলাম,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর আমরা তাদেরকে গুহায় কয়েক বছর ঘুমন্ত রেখে দিয়েছিলাম।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি তাদেরকে পুনরত্থিত করি, একথা জানার জন্যে যে, দুই দলের মধ্যে কোন দল তাদের অবস্থানকাল সম্পর্কে অধিক নির্ণয় করতে পারে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারপর আমি তাদেরকে জাগালাম, যাতে আমি জানতে পারি, যতটুকু সময় তারা অবস্থান করেছিল, দু’দলের মধ্যে* কে তা অধিক নির্ণয়কারী। * গুহায় অবস্থান কাল নিয়ে দু’টি দল হয়েছিল। একদল বলেছিল, আমরা অবস্থান করেছি এক দিন অথবা এক দিনের কিছু কম সময়; অন্যদল বলেছিল, দীর্ঘ সময়।

জহুরুল হক

তারপর আমরা তাদের তোলে আনলাম যেন আমরা জানতে পারি দুই দলের কারা ভাল ক’রে গণতে পারে কত সময় তারা অবস্থান করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর তাদের জাগিয়েছিলাম একথা জানার জন্যে যে, তাদের দুই দলের মধ্যে কোন্টি তার অবস্থানকাল ঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারে?

মুহিউদ্দীন খান

আপনার কাছে তাদের ইতিবৃত্তান্ত সঠিকভাবে বর্ণনা করছি। তারা ছিল কয়েকজন যুবক। তারা তাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং আমি তাদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আমিই তোমাকে তাদের সংবাদ সঠিকভাবে বর্ণনা করছি। নিশ্চয় তারা কয়েকজন যুবক, যারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।

জহুরুল হক

আমরা তোমার কাছে তাদের কাহিনী বর্ণনা করছি সঠিকভাবে - - নিঃসন্দেহ এরা ছিল কয়েকজন যুবক যারা তাদের প্রভুর প্রতি ঈমান এনেছিল, আর আমরা তাদের সৎপথে চলার ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমার কাছে তাদের সঠিক ঘটনা বর্ণনা করছি: তারা কয়েকজন যুবক ঈমান এনেছিল তাদের প্রভুর প্রতি এবং আমরা বৃদ্ধি করে দিয়েছিলাম তাদের হুদা (ঈমান)।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাদের মন দৃঢ় করেছিলাম, যখন তারা উঠে দাঁড়িয়েছিল। অতঃপর তারা বললঃ আমাদের পালনকর্তা আসমান ও যমীনের পালনকর্তা আমরা কখনও তার পরিবর্তে অন্য কোন উপাস্যকে আহবান করব না। যদি করি, তবে তা অত্যন্ত গর্হিত কাজ হবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

যখন তারা উঠেছিল, আমি তাদের অন্তরকে দৃঢ় করেছিলাম। তখন তারা বলল, ‘আমাদের রব আসমানসমূহ ও যমীনের রব। তিনি ছাড়া কোন ইলাহকে আমরা কখনো ডাকব না। (যদি ডাকি) তাহলে নিশ্চয় আমরা গর্হিত কথা বলব’।

জহুরুল হক

আর আমরা তাদের হৃদয়ে শক্তিবর্ধন করেছিলাম যখন তারা দাঁড়িয়েছিল ও বলেছিল - - ''আমাদের প্রভু হচ্ছেন মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর প্রভু, আমরা কখনই তাঁকে ছেড়ে দিয়ে অন্য উপাস্যকে ডাকব না, কেননা সেক্ষেত্রে আমরা আলবৎ বলে থাকব এক ডাহা মিথ্যা।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা তাদের হৃদয়ের বন্ধন মজবুত করে দিয়েছিলাম। তারা যখন উঠে দাঁড়িয়েছিল, তখন বলেছিল: ‘‘আমাদের প্রভু মহাকাশ ও পৃথিবীর প্রভু! আমরা কখনো তাঁকে ছাড়া আর কোনো ইলাহকে ডাকবো না। তেমনটি করলে সেটা হবে এক গর্হিত কাজ।

মুহিউদ্দীন খান

এরা আমাদেরই স্ব - জাতি, এরা তাঁর পরিবর্তে অনেক উপাস্য গ্রহণ করেছে। তারা এদের সম্পর্কে প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থিত করে না কেন? যে সম্পর্কে মিথ্যা উদ্ভাবন করে, তার চাইতে অধিক গোনাহগার আর কে?

বয়ান ফাউন্ডেশন

এরা আমাদের কওম, তারা তাঁকে ছাড়া অন্যান্য উপাস্য গ্রহণ করেছে। কেন তারা তাদের ব্যাপারে স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করে না? অতএব যে আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা রটায়, তার চেয়ে বড় যালিম আর কে?

জহুরুল হক

''আমাদেরই এই স্বজাতিরা তাঁকে ছেড়ে দিয়ে অন্য উপাস্যদের গ্রহণ করেছে। এরা কেন তাদের সন্বন্ধে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসে না? তা’হলে কে বেশি অন্যায়কারী তার চাইতে যে সন্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

এই আমাদের কওম, তারা তাঁকে ছাড়া অন্য ইলাহ্ গ্রহণ করেছে। তারা তাদের পক্ষে স্পষ্ট প্রমাণ হাজির করে না কেন? ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করে?’’

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যখন তাদের থেকে পৃথক হলে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত করে তাদের থেকে, তখন তোমরা গুহায় আশ্রয়গ্রহণ কর। তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে দয়া বিস্তার করবেন এবং তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ কর্মকে ফলপ্রসু করার ব্যবস্থা করবেন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যখন তোমরা তাদের থেকে আলাদা হয়েছ এবং ছাড়া যাদের তারা উপাসনা করে তাদের থেকেও, তখন গুহায় আশ্রয় নাও। তাহলে তোমাদের রব তোমাদের জন্য তার রহমত উন্মুক্ত করে দেবেন এবং তোমাদের জন্য তোমাদের জীবনোপকরণের বিষয়টি সহজ করে দেবেন।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! তোমরা তাদের থেকে এবং ছাড়া যাদের তারা উপাসনা করত সে - সব থেকে বিচ্ছিন্ন হলে, তখন তোমরা গুহার দিকে আশ্রয় নিলে। তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্য তাঁর করুণা বিস্তার করলেন, এবং তোমাদের জন্য তৈরি করলেন তেমাদের কাজকর্ম থেকে লাভজনক পরিস্থিতি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তারা পরস্পরকে বলে: ‘‘তোমরা যখন তাদের থেকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছো, তখন তোমরা গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করো। তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্যে তাঁর দয়া প্রসারিত করবেন এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কার্যক্রমকে ফলপ্রসূ করার ব্যবস্থা করবেন।’’

মুহিউদ্দীন খান

তুমি সূর্যকে দেখবে, যখন উদিত হয়, তাদের গুহা থেকে পাশ কেটে ডান দিকে চলে যায় এবং যখন অস্ত যায়, তাদের থেকে পাশ কেটে বামদিকে চলে যায়, অথচ তারা গুহার প্রশস্ত চত্বরে অবস্থিত। এটা আল্লাহর নিদর্শনাবলীর অন্যতম। যাকে সৎপথে চালান, সেই সৎপথ প্রাপ্ত এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, আপনি কখনও তার জন্যে পথপ্রদর্শনকারী ও সাহায্যকারী পাবেন না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তুমি দেখতে পেতে, সূর্য উদিত হলে তাদের গুহার ডানে তা হেলে পড়ছে, আর অস্ত গেলে তাদেরকে বামে রেখে কেটে যাচ্ছে, তখন তারা ছিল তার আঙিনায়। এগুলো আল্লাহর আয়াতসমূহের কিছু। যাকে হিদায়াত দেন, সে হেদায়াতপ্রাপ্ত। আর যাকে ভ্রষ্ট করেন, তুমি তার জন্য পথনির্দেশক

জহুরুল হক

আর সূর্য যখন উদয় হত তখন তুমি দেখতে পেতে তাদের গুহা থেকে ডান দিকে হেলে আছে, আর যখন অস্ত যেত তখন বাম পাশ দিয়ে তাদের অতিক্রম করছে, আর তারা এর এক বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে রয়েছিল। এটি ছিল ‌র নিদর্শনগুলোর অন্যতম। যাকে সৎপথে চালান সেই তবে সৎপথে চালিত, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট হতে দেন তার জন্যে তুমি তবে কোনো পথ প্রদর্শনকারী অভিভাবক পাবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি দেখতে পাও, তারা তাদের গুহার প্রশস্ত চত্বরে অবস্থান করছে, উদয়ের সময় সূর্য তাদের ডান পাশ হেলে যায়, আর অস্ত যাবার সময় তাদের অতিক্রম করে বাম পাশ থেকে। এটা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তরভুক্ত। যাকে সঠিক পথ দেখান সেই হিদায়াতপ্রাপ্ত হয় আর তিনি যাকে বিপথগামী করেন, তুমি কখনো তার জন্যে কোনো মুরশিদ অলি (সঠিক পথের দিশারি অভিভাবক) পাবে না।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি মনে করবে তারা জাগ্রত, অথচ তারা নিদ্রিত। আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাই ডান দিকে ও বাম দিকে। তাদের কুকুর ছিল সামনের পা দুটি গুহাদ্বারে প্রসারিত করে। যদি তুমি উঁকি দিয়ে তাদেরকে দেখতে, তবে পেছন ফিরে পলায়ন করতে এবং তাদের ভয়ে আতংক গ্রস্ত হয়ে পড়তে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তুমি তাদেরকে মনে করতে জাগ্রত, অথচ তারা ছিল ঘুমন্ত, আমি তাদেরকে পাশ পরিবর্তন করাচ্ছি ডানে ও বামে এবং তাদের কুকুরটি আঙিনায় তার সামনের দু’পা বাড়িয়ে আছে। যদি তুমি তাদেরকে উঁকি মেরে দেখতে, তবে নিশ্চয় তাদের থেকে পেছনে ফিরে পালিয়ে যেতে এবং অবশ্যই তাদের কারণে ভীষ

জহুরুল হক

আর তুমি তাদের মনে করতে জাগ্রত যদিও তারা ছিল ঘুমন্ত, আর আমরা তাদের পাশ ফিরিয়ে দিতাম ডান দিকে ও বাঁ দিকে, আর তাদের কুকুরটি থাবা মেলে রয়েছিল প্রবেশপথে। তুমি যদি তাদের হঠাৎ দেখতে তবে তাদের থেকে পিছন ফিরতে পলায়নপর হয়ে, আর তুমি নিশ্চয়ই তাদের কারণে ভয়ে বিহল হতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি ধারণা করবে তারা জাগ্রত, অথচ তারা ঘুমন্ত। আমরা তাদের পাশ পরিবর্তন করাতাম ডান দিকে এবং বাম দিকে, আর তাদের কুকুরটি ছিলো সামনের পা দুটি গুহা দ্বারের দিকে প্রসারিত করে। তাদের দিকে তাকিয়ে দেখলে তুমি পেছন ফিরে পালাবে এবং তাদের ভয়ে আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়বে।

মুহিউদ্দীন খান

আমি এমনি ভাবে তাদেরকে জাগ্রত করলাম, যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের একজন বললঃ তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ? তাদের কেউ বললঃ একদিন অথবা একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করছি। কেউ কেউ বললঃ তোমাদের পালনকর্তাই ভাল জানেন তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ। এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহ শহরে প্রেরণ কর; সে যেন দেখে কোন খাদ্য পবিত্র। অতঃপর তা থেকে যেন কিছু খাদ্য নিয়ে আসে তোমাদের জন্য; সে যেন নম্রতা সহকারে যায় ও কিছুতেই যেন তোমাদের খবর কাউকে না জানায়।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর এমনিভাবে আমি তাদেরকে জাগিয়ে তুলেছিলাম, যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসা করে। তাদের একজন বলল, ‘তোমরা কতক্ষণ অবস্থান করলে’? তারা বলল, ‘আমরা একদিন কিংবা একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি। তারা বলল, ‘তোমরা কতক্ষণ অবস্থান করেছ, সে ব্যাপারে তোমাদের রবই অধিক জানেন। তাই

জহুরুল হক

আর এইভাবে আমরা তাদের জাগিয়ে তোলেছিলাম যেন তারা তাদের নিজেদের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। তাদের মধ্যের একজন বক্তা বললে - - ''কতকাল তোমরা অবস্থান করেছিলে?’’ তারা বললে, ''আমরা অবস্থান করেছিলাম একদিন বা একদিনের কিছু অংশ।’’ তারা বললে - - ''তোমাদের প্রভু ভাল জানেন কতক্ষণ তোমরা অবস্থান করেছ। এখন তোমাদের একজনকে এই রেপ্যমুদ্রা দিয়ে শহরে পাঠাও, সে তখন দেখুক কোনটা কোনটা ভাল খাবার, আর তা থেকে যেন তোমাদের খাবার নিয়ে আসে। আর সে যেন বিচক্ষণতার সাথে চলে এবং তোমাদের সন্বন্ধে কাউকেও কিছু জানতে না দেয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই, আমরা তাদের জাগিয়ে তুলেছিলাম যেনো তারা পরস্পরের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের একজন জিজ্ঞেস করেছিল, তোমরা এখানে কতোদিন অবস্থান করেছো? বাকিরা বললো: ‘‘আমরা এখানে একদিন বা আধা দিন অবস্থান করেছি।’ তারা বললো: তোমাদের প্রভুই অধিক জানেন তোমরা কতদিন অবস্থান করেছো? এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রা নিয়ে শহরে পাঠাও, সে দেখুক কোন্ খাবার উত্তম এবং তা থেকে কিছু খাবার নিয়ে আসুক তোমাদের জন্যে। আর সে যেনো সতর্কতা অবলম্বন করে এবং কিছুতেই যেনো তোমাদের সম্পর্কে কাউকেও কিছু জানতে না দেয়।

মুহিউদ্দীন খান

তারা যদি তোমাদের খবর জানতে পারে, তবে পাথর মেরে তোমাদেরকে হত্যা করবে, অথবা তোমাদেরকে তাদের ধর্মে ফিরিয়ে নেবে। তাহলে তোমরা কখনই সাফল্য লাভ করবে না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘নিশ্চয় তারা যদি তোমাদের ব্যাপারে জেনে যায়, তাহলে তারা তোমাদেরকে পাথর মেরে হত্যা করবে অথবা তোমাদেরকে তাদের ধর্মে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। আর তখন তোমরা কোনভাবেই সফল হবে না’।

জহুরুল হক

''নিঃসন্দেহ তাদের ক্ষেত্রে - - তারা যদি তোমাদের সন্বন্ধে জানতে পারে তবে তোমাদের পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলবে অথবা তাদের ধর্মে তোমাদের ফিরিয়ে নেবে এবং সেক্ষেত্রে তোমরা কখনো হবে না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের বিষয়টি যদি তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ে তাহলে তারা তোমাদের পাথর মেরে হত্যা করবে, অথবা তোমাদের ফিরিয়ে নেবে তাদের মিল্লাতে। তখন আর তোমরা কখনো সফলতা অর্জন করবে না।’’

মুহিউদ্দীন খান

এমনিভাবে আমি তাদের খবর প্রকাশ করে দিলাম, যাতে তারা জ্ঞাত হয় যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কেয়ামতে কোন সন্দেহ নেই। যখন তারা নিজেদের কর্তব্য বিষয়ে পরস্পর বিতর্ক করছিল, তখন তারা বললঃ তাদের উপর সৌধ নির্মাণ কর। তাদের পালনকর্তা তাদের বিষয়ে ভাল জানেন। তাদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল হল, তারা বললঃ আমরা অবশ্যই তাদের স্থানে মসজিদ নির্মান করব।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর এমনিভাবে আমি তাদের ব্যাপারে (লোকদেরকে) জানিয়ে দিলাম, যাতে তারা জানতে পারে যে, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কিয়ামতের ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। যখন তারা নিজেদের মধ্যে তাদের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক করছিল, তখন তারা বলল, ‘তাদের উপর তোমরা একটি ভবন নির্মাণ কর’। তা

জহুরুল হক

আর এইভাবে আমরা জানিয়ে দিলাম ওদের সন্বন্ধে যেন তারা জানতে পারে যে ‌র ওয়াদাই সত্য, আর ঘড়ি - ঘন্টা সন্বন্ধে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। যখন তারা নিজেদের মধ্যে তাদের কর্তব্য সন্বন্ধে বিতর্ক করছিল তখন তারা বললে - - ''তাদের উপরে একটি সৌধ নির্মাণ কর’’। তাদের প্রভু তাদের বিষয়ে ভাল জানেন। তাদের কর্তব্য সন্বন্ধে যারা প্রভাব বিস্তার করল তারা বলল - - ''আমরা সুনিশ্চিত তাদের উপরে একটি মসজিদ বানাব’’।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই আমরা মানুষকে তাদের বিষয়টি জানিয়ে দিলাম, যাতে করে তারা জানতে পারে যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কিয়ামতের আগমনে কোনো সন্দেহ নেই। যখন তারা তাদের কর্তব্য বিষয়ে বিতর্ক করছিল, তখন অনেকে বলেছিল: ‘তাদের উপর একটি সৌধ নির্মাণ করো।’ তাদের প্রভুই তাদের বিষয়ে ভালো জানেন। নিজেদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল হয়ে দেখা দিলো, তারা বললো: ‘আমরা অবশ্যি তাদের পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করবো।’

মুহিউদ্দীন খান

অজ্ঞাত বিষয়ে অনুমানের উপর ভিত্তি করে এখন তারা বলবেঃ তারা ছিল তিন জন; তাদের চতুর্থটি তাদের কুকুর। একথাও বলবে; তারা পাঁচ জন। তাদের ছষ্ঠটি ছিল তাদের কুকুর। আরও বলবেঃ তারা ছিল সাত জন। তাদের অষ্টমটি ছিল তাদের কুকুর। বলুনঃ আমার পালনকর্তা তাদের সংখ্যা ভাল জানেন। তাদের খবর অল্প লোকই জানে। সাধারণ আলোচনা ছাড়া আপনি তাদের সম্পর্কে বিতর্ক করবেন না এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাদের কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ ও করবেন না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

বিতর্ককারীরা বলবে, ‘তারা ছিল তিন জন, চতুর্থ হল তাদের কুকুর’। আর কতক বলবে, ‘তারা ছিল পাঁচজন, ষষ্ঠ হল তাদের কুকুর’। এসবই অজানা বিষয়ে অনুমান করে। আর কেউ কেউ বলবে, ‘তারা ছিল সাত জন; অষ্টম হল তাদের কুকুর’। বল, ‘আমার রবই তাদের সংখ্যা সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত’। কম সং

জহুরুল হক

তারা অচিরেই বলবে - - ''তিনজন, তাদের চতুর্থজন ছিল তাদের কুকুর’’, আর তারা বলবে - - ''পাঁচজন, তাদের ষষ্ঠজন ছিল তাদের কুকুর’’, - - অজানা সন্বন্ধে আন্দাজ করা মাত্র, আর তারা বলে - - ''সাতজন, তাদের অষ্টমজন তাদের কুকুর। ’’ তুমি বলো - - ''আমার প্রভু ভাল জানেন সংখ্যা, অল্প কয়েকজন ছাড়া অন্যে তাদের চেনে না।’’ সুতরাং তাদের সন্বন্ধে বিতর্ক করো না সাধারণ আলোচনা ছাড়া, আর তাদের সন্বন্ধে ওদের কোনো একজনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিছু লোক বলবে: ‘তারা ছিলো তিনজন এবং তাদের চতুর্থটি ছিলো তাদের কুকুর।’ অজানা বিষয়ে অনুমান করে কিছু লোক বলবে: ‘তারা ছিলো পাঁচজন এবং তাদের ষষ্ঠটি ছিলো তাদের কুকুর।’ কিছু লোক বলবে: ‘তারা ছিলো সাতজন এবং অষ্টমটি ছিলো তাদের কুকুর।’ তুমি বলো: ‘তাদের সংখ্যা কতো তা আমার প্রভুই ভালো জানেন।’ অল্প কিছু লোক ছাড়া তাদের সংখ্যা কেউই জানেনা। সাধারণ আলোচনা ছাড়া তুমি তাদের বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়োনা। আর তাদের বিষয়ে ওদের কাউকেও কিছু জিজ্ঞাসাও করোনা।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি কোন কাজের বিষয়ে বলবেন না যে, সেটি আমি আগামী কাল করব।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর কোন কিছুর ব্যাপারে তুমি মোটেই বলবে না যে, ‘নিশ্চয় আমি তা আগামী কাল করব’,

জহুরুল হক

আর কোনো ব্যাপারে কখনই বলো না - - ''আমি এটি নিশ্চয়ই কালকে করে ফেলব - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কখনো কোনো বিষয়ে এভাবে বলোনা যে, ‘আমি তা আগামি কাল করবো।’

মুহিউদ্দীন খান

‘ ইচ্ছা করলে’ বলা ব্যতিরেকে। যখন ভুলে যান, তখন আপনার পালনকর্তাকে স্মরণ করুন এবং বলুনঃ আশা করি আমার পালনকর্তা আমাকে এর চাইতেও নিকটতম সত্যের পথ নির্দেশ করবেন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তবে ‘ যদি চান’। আর যখন ভুলে যাও, তখন তুমি তোমার রবের যিকির কর এবং বল, আশা করি, আমাকে এর চেয়েও নিকটবর্তী সত্য পথের হিদায়াত দেবেন।

জহুরুল হক

''যদি না ইচ্ছা করেন’’। আর তোমার প্রভুকে স্মরণ করো যখনই ভুলে যাও, আর বলো - - ''হয়ত বা আমার প্রভু আমাকে এর চেয়েও নিকটতর রাস্তায় পরিচালিত করবেন।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে এভাবে বলবে: ‘ইনশাল্লাহ - যদি চান’। আর যদি ভুলে যাও তবে তোমার প্রভুকে স্মরণ করবে এবং বলবে: ‘হয়তো আমার প্রভু আমাকে সত্যের নিকটে পৌঁছার পথ দেখাবেন।’

মুহিউদ্দীন খান

তাদের উপর তাদের গুহায় তিনশ বছর, অতিরিক্ত আরও নয় বছর অতিবাহিত হয়েছে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তারা তাদের গুহায় অবস্থান করেছে তিনশ’ বছর এবং এর সাথে অতিরিক্ত হয়েছিল ‘নয়’।

জহুরুল হক

আর তারা তাদের গুহায় অবস্থান করেছিল তিন শত বছর, আর কেউ যোগ করে নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তাদের গুহায় অবস্থান করেছিল তিনশ’ বছর আরো নয় বছর।

মুহিউদ্দীন খান

বলুনঃ তারা কতকাল অবস্থান করেছে, তা আল্লাহই ভাল জানেন। নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের বিষয়ের জ্ঞান তাঁরই কাছে রয়েছে। তিনি কত চমৎকার দেখেন ও শোনেন। তিনি ব্যতীত তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। তিনি কাউকে নিজ কর্তৃত্বে শরীক করেন না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

বল, ‘তারা যে সময়টুকু অবস্থান করেছিল, সে ব্যাপারে আল্লাহই অধিক জানেন’। আসমানসমূহ ও যমীনের গায়েবী বিষয় তাঁরই। এ ব্যাপারে তিনিই উত্তম দ্রষ্টা ও উত্তম শ্রোতা। তিনি ছাড়া তাদের কোন অভিভাবক নেই। তাঁর সিদ্ধান্তে তিনি কাউকে শরীক করেন না।

জহুরুল হক

বলো - - '' ভাল জানেন কত কাল তারা অবস্থান করেছিল। মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর অজ্ঞাত সব তাঁরই। কত তীক্ষ তাঁর দৃষ্টি ও কত সজাগ কান! তাঁকে বাদ দিয়ে তাদের জন্য কোনো অভিভাবক নেই, আর তিনি কোনো একজনকেও তাঁর কর্তৃত্বের অংশী করেন না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি বলো: ‘এরপরে তারা কতোকাল ছিলো তা আল্লাহ্ই ভালো জানেন।’ মহাকাশ আর পৃথিবীর কেবল তাঁরই আছে। দেখো, তিনি কতো সুন্দর দ্রষ্টা এবং শ্রোতা! তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো অলি নেই। তিনি নিজ কর্তৃত্বে কাউকে শরিক করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার প্রতি আপনার পালনকর্তার যে, কিতাব প্রত্যাদিষ্ট করা হয়েছে, তা পাঠ করুন। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নাই। তাঁকে ব্যতীত আপনি কখনই কোন আশ্রয় স্থল পাবেন না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তোমার রবের কিতাব থেকে তোমার নিকট যে ওহী পাঠানো হয়, তুমি তা তিলাওয়াত কর। তাঁর বাণীসমূহের কোন পরিবর্তনকারী নেই এবং তিনি ছাড়া কোন আশ্রয়স্থল তুমি পাবে না।

জহুরুল হক

আর পাঠ করো তোমার প্রভুর কিতাবের থেকে যা তোমাদের কাছে প্রত্যাদিষ্ট হয়েছে। এমন কেউ নেই যে তাঁর বাণী বদল করতে পারে, আর তাঁকে বাদ দিয়ে তুমি পাবে না কোনো আশ্রয়স্থল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রতি তোমার প্রভুর যে কিতাব অহি করা হয়েছে তুমি তা তিলাওয়াত করো। তাঁর বাণী পরিবর্তন করার কেউ নেই। তুমি কখনো তাঁকে ছাড়া আর কোনো আশ্রয় পাবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহবান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য করবেন না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তুমি নিজকে ধৈর্যশীল রাখ তাদের সাথে, যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের রবকে ডাকে, তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশে, এবং দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তোমার দু’চোখ যেন তাদের থেকে ঘুরে না যায়। আর ওই ব্যক্তির আনুগত্য করো না, যার অন্তরকে আমি আমার যিকির থেকে গাফেল করে দিয়

জহুরুল হক

আর যারা সকালে ও সন্ধ্যায় তাদের প্রভুকে তাঁর প্রসন্নতা কামনা ক’রে আহ্বান করে তাদের সঙ্গে তুমি নিজেও অধ্যবসায় অবলন্বন করো, আর তাদের থেকে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না এই দুনিয়ার জীবনের শোভা - সৌন্দর্য কামনা ক’রে । আর যার হৃদয়কে আমাদের নামকীর্তন থেকে আমরা বেখেয়াল করেছি আর যে তার খেয়াল - খুশির অনুসরণ করে আর যার কার্যকলাপ সীমালংঘন করে গেছে তুমি তার অনুসরণ করো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের প্রভুকে ডাকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে, তুমি নিজেকে তাদের সাথে অবিচলভাবে জুড়ে রাখো। পার্থিব জীবনের চাকচিক্যের উদ্দেশ্যে তুমি তাদের থেকে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়োনা। তুমি এমন কারো আনুগত্য করোনা, যার অন্তরকে আমরা আমাদের যিকির থেকে গাফিল করে দিয়েছি এবং যে তার খেয়াল খুশির অনুসরণ করে আর যার কর্মকান্ড সীমালংঘনমূলক।

মুহিউদ্দীন খান

বলুনঃ সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক। আমি জালেমদের জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদের কে পরিবেষ্টন করে থাকবে। যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে, তবে পুঁজের ন্যায় পানীয় দেয়া হবে যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর বল, ‘সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে। সুতরাং যে ইচ্ছা করে সে যেন ঈমান আনে এবং যে ইচ্ছা করে সে যেন করে। নিশ্চয় আমি যালিমদের জন্য আগুন প্রস্ত্তত করেছি, যার প্রাচীরগুলো তাদেরকে বেষ্টন করে রেখেছে। যদি তারা পানি চায়, তবে তাদেরকে দেয়া হবে এমন পানি যা গলিত

জহুরুল হক

তুমি বলো - - ''তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে সত্য, সেজন্য যে ইচ্ছা করে সে যেন বিশ্বাস করে, আর যে চায় সে অবিশ্বাসই করুক।’’ নিঃসন্দেহ অন্যায়কারীদের জন্য আমরা তৈরি করেছি আগুন, এর বেড়া তাদের ঘেরাও করে রাখবে। আর তারা যদি পানীয় চায় তবে তাদের পানীয় দেয়া হবে গলিত সীসার মতো জল যা তাদের মুখমন্ডল পুড়িয়ে দেবে। এ এক নিকৃষ্ট পানীয়! আর মন্দ সেই বিশ্রামস্থল!

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: সত্য (আল - কুরআন) তোমাদের প্রভুর নিকট থেকেই এসেছে। সুতরাং যার ইচ্ছা ঈমান আনুক, আর যার ইচ্ছা সত্য প্রত্যাখ্যান করুক। আমরা যালিমদের জন্যে প্রস্ত্তত করে রেখেছি আগুন, তার বেষ্টনি তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখবে। তারা পানি পান করতে চাইলে তাদের দেয়া হবে গলিত ধাতুর মতো পানীয়, যা তাদের মুখমন্ডলকে দগ্ধ করে ফেলবে। কী যে নিকৃষ্ট পানীয় আর কতো যে নিকৃষ্ট আশ্রয় তাদের!

মুহিউদ্দীন খান

যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার নষ্ট করি না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, নিশ্চয় আমি এমন কারো প্রতিদান নষ্ট করব না, যে সুকর্ম করেছে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে - - আমরা নিশ্চয়ই যারা ভাল কাজ করে তাদের কর্মফল ব্যর্থ করি না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ্ করবে, উত্তম আমলকারীদের কর্মফল আমরা কখনো বিনষ্ট করিনা!

মুহিউদ্দীন খান

তাদেরই জন্যে আছে বসবাসের জান্নাত। তাদের পাদদেশে প্রবাহিত হয় নহরসমূহ। তাদের তথায় স্বর্ণ - কংকনে অলংকৃত করা হবে এবং তারা পাতলা ও মোটা রেশমের সবুজ কাপর পরিধান করবে এমতাবস্থায় যে, তারা সিংহাসনে সমাসীন হবে। চমৎকার প্রতিদান এবং কত উত্তম আশ্রয়।

বয়ান ফাউন্ডেশন

এরাই তারা, যাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাতসমূহ, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদীসমূহ। সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে স্বর্ণের চুড়ি দিয়ে এবং তারা পরিধান করবে মিহি ও পুরু সিল্কের সবুজ পোশাক। তারা সেখানে (থাকবে) আসনে হেলান দিয়ে। কী উত্তম প্রতিদান এবং কী সুন্দর বি

জহুরুল হক

এরাই - - এদের জন্য রয়েছে নন্দন কানন সমূহ, যাদের নিচ দিয়ে বয়ে চলে ঝরনারাজি, তাদের সেখানে অলংকৃত করানো হবে সোনার কাঁকন দিয়ে, আর তাদের পরানো হবে মিহি রেশমের ও পুরু জরির সবুজ পোশাকে, সেখানে সমাসীন হবে সুসজ্জিত আসনে। কি উত্তম পুরস্কার, আর কত সুন্দর বিশ্রামস্থল!

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জন্যে থাকবে চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহ যেগুলোর নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী নহর। সেখানে তাদের অলংকার পরানো হবে সোনার কংকন। সেখানে তারা পরবে সূক্ষ্ম ও পুরু রেশমি সবুজ পরিচ্ছেদ। আর সেখানে তারা আসন গ্রহণ করবে সুসজ্জিত সোফায়। কতো যে উত্তম পুরস্কার! আর কতো যে উত্তম আশ্রয়স্থল।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি তাদের কাছে দু ব্যক্তির উদাহরণ বর্ণনা করুন। আমি তাদের একজনকে দুটি আঙ্গুরের বাগান দিয়েছি এবং এ দু’টিকে খর্জুর বৃক্ষ দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছি এবং দু এর মাঝখানে করেছি শস্যক্ষেত্র।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তুমি তাদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত পেশ কর: দুই ব্যক্তি, তাদের একজনকে আমি দু’টি আঙ্গুরের বাগান দিয়েছি এবং উভয় বাগানকে ঘিরে দিয়েছি খেজুর গাছ দ্বারা এবং উভয়ের মাঝখানে রেখেছি শস্যক্ষেত।

জহুরুল হক

আর তাদের জন্য একটি রূপক ছুড়োঁ দুজন লোকের - - তাদের একজনের জন্য আমরা বানিয়েছি আঙুরলতার দুটি বাগান, আর এ দুটিকে ঘিরে দিয়েছিলাম খেজুরগাছ দিয়ে, আর সে - সবের মাঝে মাঝে বানিয়েছিলাম শস্যক্ষেত্র।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তাদের জন্যে দুই ব্যক্তির উদাহরণ পেশ করো: তাদের একজনকে আমরা দিয়েছিলাম দু’টি আঙ্গুরের বাগান। দু’টি বাগানকেই আমরা খেজুর গাছ দিয়ে পরিবেষ্টন করে দিয়েছিলাম। আর দু’টি বাগানের মাঝখানের জায়গাটাকে আমরা বানিয়েছিলাম শস্যক্ষেত।

মুহিউদ্দীন খান

উভয় বাগানই ফলদান করে এবং তা থেকে কিছুই হ্রাস করত না এবং উভয়ের ফাঁকে ফাঁকে আমি নহর প্রবাহিত করেছি।

বয়ান ফাউন্ডেশন

উভয় বাগান ফল দিয়েছে, তাতে কিছুই ত্রুটি করেনি এবং আমি উভয়ের মাঝ দিয়ে নদী প্রবাহিত করেছি।

জহুরুল হক

বাগান দুটির প্রত্যেকটাই প্রদান করত তার ফলমূল, আর এতে এ কোনো ত্রুটি করত না, আর এ দুইয়ের মধ্যদেশে বইয়েছিলাম জলপ্রবাহ,

আবদুস শহীদ নাসিম

দু’টি বাগানই প্রচুর ফল দিচ্ছিল এবং এতে কোনো প্রকার ত্রুটি করা হচ্ছিলনা। আর দু’টি বাগানের মাঝে দিয়ে আমরা জারি করে দিয়েছিলাম একটি নহর।

মুহিউদ্দীন খান

সে ফল পেল। অতঃপর কথা প্রসঙ্গে সঙ্গীকে বললঃ আমার ধন - সম্পদ তোমার চাইতে বেশী এবং জনবলে আমি অধিক শক্তিশালী।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর (এতে) তার ছিল বিপুল ফল-ফলাদি। তাই সে তার সঙ্গীকে কথায় কথায় বলল, ‘সম্পদে আমি তোমার চেয়ে অধিক এবং জনবলেও অনেক শক্তিশালী’।

জহুরুল হক

আর ফলটি ছিল তার। তাই সে তার সঙ্গীকে বললে এবং যে তার সঙ্গে কথাবার্তা বলছিল - - ''আমি ধনসম্পদে তোমার চাইতে প্রাচুর্যময় এবং জনবলেও শক্তিশালী।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

লোকটির ছিলো প্রচুর সম্পদ। সে কথা প্রসঙ্গে তার সাথিকে বললো: ‘ধনে জনে আমি তোমার চাইতে শ্রেষ্ঠ এবং শক্তিশালী।

মুহিউদ্দীন খান

নিজের প্রতি জুলুম করে সে তার বাগানে প্রবেশ করল। সে বললঃ আমার মনে হয় না যে, এ বাগান কখনও ধ্বংস হয়ে যাবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর সে তার বাগানে প্রবেশ করল, নিজের প্রতি যুলমরত অবস্থায়। সে বলল, ‘আমি মনে করি না যে, এটি কখনো ধ্বংস হবে’।

জহুরুল হক

আর সে তার বাগানে ঢুকল অথচ সে তার নিজের প্রতি অন্যায় করছিল। সে বললে - - ''আমি মনে করি না যে এসব কখনো নিঃশেষ হয়ে যাবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে সে নিজের প্রতি যুলুম করে একদিন বাগানে প্রবেশ করে। সে (বাগানের ফলন ও সৌন্দর্যে উৎফুল্ল হয়ে) বললো: ‘‘এ বাগান কখনো বিরান হয়ে যাবে বলে আমি মনে করিনা।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমি মনে করি না যে, কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। যদি কখনও আমার পালনকর্তার কাছে আমাকে পৌঁছে দেয়া হয়, তবে সেখানে এর চাইতে উৎকৃষ্ট পাব।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর আমি মনে করি না যে, কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর আমাকে যদি ফিরিয়ে নেয়া হয় আমার রবের কাছে, তবে নিশ্চয় আমি এর চেয়ে উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল পাব’।

জহুরুল হক

''আর আমি মনে করি না যে ঘড়িঘন্টা বলবৎ হবে, আর যদিবা আমার প্রভুর কাছে আমাকে ফিরিয়ে নেয়া হয় তবে আমি তো নিশ্চয়ই এর চেয়েও ভাল প্রত্যাবর্তনস্থল পাব।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে বলেও আমি মনে করিনা। আর আমাকে যদি আমার প্রভুর কাছে ফিরিয়ে নেয়াই হয়, তবে অবশ্য অবশ্যি এখন আমার যা আছে তার চাইতে উত্তম সামগ্রী আমি ফেরত পাবো।’’

মুহিউদ্দীন খান

তার সঙ্গী তাকে কথা প্রসঙ্গে বললঃ তুমি তাঁকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, অতঃপর র্পূনাঙ্গ করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে?

বয়ান ফাউন্ডেশন

কথায় কথায় তার সঙ্গী বলল, ‘তুমি কি তাকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর ‘বীর্য’ থেকে, তারপর তোমাকে অবয়ব দিয়েছেন পুরুষের’?

জহুরুল হক

তার সঙ্গী তাকে বললে যখন সে তার সঙ্গে বাক্যালাপ করছিল - - ''তুমি কি তাঁকে অবিশ্বাস কর যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর শুক্রকীট থেকে, তারপর তিনি তোমাকে পূর্ণাঙ্গ করেছেন একজন মানুষে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তার কথার প্রসঙ্গে তার সাথি তাকে বললো: ‘‘তুমি কি তোমার সেই মহান স্রষ্টার প্রতি কুফুরি করলে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে, তার পরে মানুষের আকৃতি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ করে দিয়েছেন?

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু আমি তো একথাই বলি, আল্লাহই আমার পালনকর্তা এবং আমি কাউকে আমার পালনকর্তার শরীক মানি না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘কিন্তু তিনিই , আমার রব। আর আমি আমার রবের সাথে কাউকে শরীক করি না’।

জহুরুল হক

''কিন্তু আমার বেলা, তিনি ‌, আমার প্রভু, আর আমি কোনো একজনকেও আমার প্রভুর সাথে শরিক করি না।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তুমি যাই বলোনা কেন) সেই মহান আল্লাহ্ই কিন্তু আমার প্রভু। আমি আমার প্রভুর সাথে কাউকেও শরিক করিনা।

মুহিউদ্দীন খান

যদি তুমি আমাকে ধনে ও সন্তানে তোমার চাইতে কম দেখ, তবে যখন তুমি তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন একথা কেন বললে না; যা চান, তাই হয়। আল্লাহর দেয়া ব্যতীত কোন শক্তি নেই।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর যখন তুমি তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন কেন তুমি বললে না, ‘মাশাআল্লাহ’! আল্লাহর তৌফিক ছাড়া কোন শক্তি নেই। তুমি যদি দেখ যে, আমি সম্পদে ও সন্তানে তোমার চেয়ে কম,

জহুরুল হক

''আর তুমি যখন তোমার বাগানে প্রবেশ করতে তখন কেন বল না - - 'মা - শা - ‌, ছাড়া কোনো শক্তি নেই’? যদিও তুমি আমাকে দেখো ধনদৌলত ও সন্তানসন্ততিতে আমি তোমার চাইতে কম, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যখন তোমার বাগানে প্রবেশ করেছিলে, তখন কেন বললে না, ‘ যা চেয়েছেন তাই হয়েছে। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো কোনো ক্ষমতা নেই?’ তুমি যদি ধনে জনে আমাকে তোমার চাইতে কম মনে করো,

মুহিউদ্দীন খান

আশাকরি আমার পালকর্তা আমাকে তোমার বাগান অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কিছু দেবেন এবং তার (তোমার বাগানের) উপর আসমান থেকে আগুন প্রেরণ করবেন। অতঃপর সকাল বেলায় তা পরিষ্কার ময়দান হয়ে যাবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তবে আশা করা যায় যে, ‘আমার রব আমাকে তোমার বাগানের চেয়ে উত্তম (কিছু) দান করবেন এবং তার উপর আসমান থেকে বজ্র পাঠাবেন। ফলে তা অনুর্বর উদ্ভিদশূন্য যমীনে পরিণত হবে’।

জহুরুল হক

''তবু হতে পারে আমার প্রভু আমাকে তোমার বাগানের চেয়ে ভাল কিছু দান করবেন, আর এর উপরে তিনি পাঠাবেন আকাশ থেকে এক হিসেব - নিকেশ, ফলে অচিরেই এটি হয়ে যাবে ধুলোমাটির প্রান্তর, গাছপালাহীন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে হয়তো আমার প্রভু তোমার বাগানের চাইতে উত্তম কিছু আমাকে দান করবেন এবং তোমার বাগান আসমান থেকে আগুন পাঠিয়ে জ্বালিয়ে দেবেন, যার ফলে বাগানটি উদ্ভিদ শূন্য মাঠে পরিণত হবে।

মুহিউদ্দীন খান

অথবা সকালে তার পানি শুকিয়ে যাবে। অতঃপর তুমি তা তালাশ করে আনতে পারবে না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘কিংবা তার পানি মাটির গভীরে চলে যাবে, ফলে তা তুমি কোনভাবেই খুঁজে পাবে না’।

জহুরুল হক

''অথবা অচিরেই এর পানি তলিয়ে যাবে ভূগর্ভে, তখন তুমি তা খুঁজে পেতে সমর্থ হবে না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

অথবা তোমার বাগানের পানি ভূ - গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে এবং তুমি আর কখনো পানির সন্ধান লাভ করতে সক্ষম হবেনা।’’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তার সব ফল ধ্বংস হয়ে গেল এবং সে তাতে যা ব্যয় করেছিল, তার জন্য সকালে হাত কচলিয়ে আক্ষেপ করতে লাগল। বাগনটি কাঠসহ পুড়ে গিয়েছিল। সে বলতে লাগলঃ হায়, আমি যদি কাউকে আমার পালনকর্তার সাথে শরীক না করতাম।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর (বিপর্যয়ে) তার ফল-ফলাদি ঘিরে ফেলা হল। ফলে তাতে সে যা ব্যয় করেছিল, তার জন্য (আক্ষেপে) হাত কচলাতে লাগল এবং সেটি ধ্বংস হয়েছিল তার মাচার উপর। আর সে বলছিল, ‘হায় আক্ষেপ! আমি যদি আমার রবের সাথে কাউকে শরীক না করতাম’!

জহুরুল হক

আর তার ফলফসলকে ঘেরাও করল, তারপর অচিরেই সে হাত মোচড়াতে লাগল যা সে তার উপরে খরচ করেছিল সেজন্য, আর এটি ভেঙ্গে পড়েছিল তার মাচার উপরে, আর সে বলেছিল - - ''হায় আমার আফসোস! আমি যদি আমার প্রভুর সাথে কাউকেও অংশী না করতাম!’’

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর বিপর্যয় তার ফল - ফসলকে পরিবেষ্টন করে নিলো, ফলে সে সেখানে যা খরচ করেছিল তার জন্যে হাত মুচড়িয়ে অনুতাপ করতে লাগলো, যখন তার বাগানের মাচানসমূহ ধুলিস্যাত হয়ে গেলো। তখন সে বলতে লাগলো, ‘হায়, হায়! আমি যদি আমার প্রভুর সাথে কাউকেও শরিক না করতাম!’

মুহিউদ্দীন খান

ব্যতীত তাকে সাহায্য করার কোন লোক হল না এবং সে নিজেও প্রতিকার করতে পারল না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর ছাড়া তার এমন কোন লোকবলও ছিল না যারা তাকে সাহায্য করবে এবং সে সাহায্যপ্রাপ্তও ছিল না।

জহুরুল হক

আর ‌কে ছেড়ে দিয়ে তাকে সাহায্য করার জন্য কোনো ফৌজ তার জন্য ছিল না, আর সে নিজেও সাহায্য করতে সমর্থ ছিল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আল্লাহর বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করার কোনো বাহিনীই ছিলনা এবং সে নিজেও প্রতিরোধ করার সামর্থ রাখেনি।

মুহিউদ্দীন খান

এরূপ ক্ষেত্রে সব অধিকার সত্য আল্লাহর। তারই পুরস্কার উত্তম এবং তারই প্রদত্ত প্রতিদান শ্রেষ্ঠ।

বয়ান ফাউন্ডেশন

এখানে অভিভাবকত্ব আল্লাহর, যিনি সত্য। তিনিই প্রতিদানে উত্তম এবং পরিণামে শ্রেষ্ঠ।

জহুরুল হক

এই তো! অভিভাবকত্ব ‌রই, যিনি সত্য। তিনিই পুরস্কারদানে শ্রেষ্ঠ আর পরিণাম নির্ধারণেও শ্রেষ্ঠ।

আবদুস শহীদ নাসিম

হ্যাঁ, কর্তৃত্ব পূর্ণরূপে মহাসত্য আল্লাহর। পুরস্কার প্রদানে এবং পরিণাম নির্ধারণে তিনিই সর্বোত্তম।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা বর্ণনা করুন। তা পানির ন্যায়, যা আমি আকাশ থেকে নাযিল করি। অতঃপর এর সংমিশ্রণে শ্যামল সবুজ ভূমিজ লতা - পাতা নির্গত হয়; অতঃপর তা এমন শুস্ক চুর্ণ - বিচুর্ণ হয় যে, বাতাসে উড়ে যায়। এ সবকিছুর উপর শক্তিমান।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর আপনি তাদের জন্য পেশ করুন দুনিয়ার জীবনের উপমা তা পানির মত, যা আমি আসমান থেকে বর্ষণ করেছি। অতঃপর তার সাথে মিশ্রিত হয় যমীনের উদ্ভিদ। ফলে তা পরিণত হয় এমন শুকনো গুঁড়ায়, বাতাস যাকে উড়িয়ে নেয়। আর সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

জহুরুল হক

আর তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা ছুঁড়ো - - এ পানির ন্যায় যা আমরা বর্ষণ করি আকাশ থেকে, তাতে পৃথিবীর গাছপালা ঘন - সন্নিবিষ্ট হয়, তারপর পরক্ষণেই তা হয়ে যায় শুকনো, বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। আর সব কিছুর উপরেই সর্বশক্তিমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জন্যে দুনিয়ার জীবনের (এই) উপমা পেশ করো: দুনিয়ার জীবন হলো সেই পানির মতো যা আমরা আসমান থেকে নাযিল করি। তার ফলে জমিন থেকে ঘন সুনিবিষ্ট উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়। তারপর সেগুলো শুকিয়ে চূর্ণ - বিচূর্ণ হয়ে যায়। ফলে বাতাস সেগুলোকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। প্রতিটি বিষয়ে ক্ষমতাবান।

মুহিউদ্দীন খান

ধনৈশ্বর্য ও সন্তান - সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য এবং স্থায়ী সৎকর্মসমূহ আপনার পালনকর্তার কাছে প্রতিদান প্রাপ্তি ও আশা লাভের জন্যে উত্তম।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দুনিয়ার জীবনের শোভা। আর স্থায়ী সৎকাজ তোমার রবের নিকট প্রতিদানে উত্তম এবং প্রত্যাশাতেও উত্তম।

জহুরুল হক

ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি পার্থিব জীবনের শোভাসৌন্দর্য, কিন্তু স্থায়ী শুভকর্ম তোমার প্রভুর কাছে পুরস্কার প্রাপ্তির জন্যে বেশী ভাল এবং আশা পূরণের জন্যেও অধিকতর শ্রেয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

ধনমাল এবং সন্তান - সন্ততি দুনিয়ার জীবনের একটি সৌন্দর্য মাত্র, আর তোমার প্রভুর কাছে পুরস্কার আর প্রত্যাশিত বস্তু হিসেবে উত্তম হলো স্থায়ী ও চলমান পুণ্যকাজ।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন আমি পর্বতসমূহকে পরিচালনা করব এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন একটি উম্মুক্ত প্রান্তর এবং আমি মানুষকে একত্রিত করব অতঃপর তাদের কাউকে ছাড়ব না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর সেদিনের কথা যেদিন আমি পর্বতকে করব সঞ্চালিত এবং তুমি পৃথিবীকে দেখবে একটি শূন্য প্রান্তর; সেদিন মানুষকে আমি একত্রিত করব এবং তাদের কেহকেও অব্যাহতি দিব না।

জহুরুল হক

আর সেই দিনে আমরা পাহাড়গুলো হটিয়ে দেব, আর তুমি পৃথিবীকে দেখবে একটি খোলা ময়দান, আর আমরা তাদের একত্রিত করব, তখন তাদের মধ্যের কোনো একজনকেও আমরা ফেলে রাখব না - -

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, যেদিন আমরা পর্বতমালাকে তলিয়ে দেবো এবং তুমি পৃথিবীকে দেখতে পাবে এক উন্মুক্ত প্রান্তর। সেদিন আমরা (সেখানে) সবাইকে হাশর (একত্র) করবো এবং একজনকেও অব্যাহতি দেবোনা।

মুহিউদ্দীন খান

তারা আপনার পালনকর্তার সামনে পেশ হবে সারিবদ্ধ ভাবে এবং বলা হবেঃ তোমরা আমার কাছে এসে গেছ; যেমন তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম। না, তোমরা তো বলতে যে, আমি তোমাদের জন্যে কোন প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করব না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তাদেরকে তোমার রবের সামনে উপস্থিত করা হবে কাতারবদ্ধ করে। ( বলবেন) ‘তোমরা আমার কাছে এসেছ তেমনভাবে, যেমন আমি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম; বরং তোমরা তো ভেবেছিলে আমি তোমাদের জন্য কোন প্রতিশ্রুত মুহূর্ত রাখিনি’।

জহুরুল হক

আর তোমার প্রভুর সামনে তাদের হাজির করা হবে সারিবদ্ধভাবে। ''এখন তো আমরা তোমাদের নিয়ে এসেছি যেমন আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছিলাম প্রথমবারে, অথচ তোমরা মনে করতে যে তোমাদের জন্য আমরা কোনো ওয়াদার স্থানকাল কখনো ধার্য করব না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদেরকে তোমার প্রভুর সামনে সারিবদ্ধভাবে উপস্থাপন করা হবে। তখন বলা হবে, ‘আজ তোমরা আমাদের কাছে এসেছো ঠিক সেভাবে, যেভাবে আমরা প্রথমবার তোমাদের সৃষ্টি করেছিলাম। বরং তোমরা মনে করতে, তোমাদের জন্যে আমরা প্রতিশ্রুত দিনটি কখনো সংঘটিতই করবো না।’

মুহিউদ্দীন খান

আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত - সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি - সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর আমলনামা রাখা হবে। তখন তুমি অপরাধীদেরকে দেখতে পাবে ভীত, তাতে যা রয়েছে তার কারণে। আর তারা বলবে, ‘হায় ধ্বংস আমাদের! কী হল এ কিতাবের! তা ছোট-বড় কিছুই ছাড়ে না, শুধু সংরক্ষণ করে’ এবং তারা যা করেছে, তা হাযির পাবে। আর তোমার রব কারো প্রতি যুলম করেন না।

জহুরুল হক

আর বইখানা ধরা হবে, তখন তুমি দেখবে - - ওতে যা আছে সেজন্য অপরাধীরা আতংকগ্রস্ত, আর তারা বলবে - - ''হায় আমাদের দুর্ভোগ! এ কেমনতর গ্রন্থ! এ ছোটখাটো বাদ দেয় নি আর বড়গুলো তো নয়ই, বরং সমস্ত কিছু নথিভুক্ত করেছে!’’ আর তারা যা করেছে তা হাজির পাবে। আর তোমার প্রভু কোনো একজনের প্রতিও অন্যায় করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিতাব (আমলনামা, আমলের রেকর্ড) সামনে রাখা হবে। তুমি দেখবে, তাতে যা রেকর্ড করা আছে তার জন্যে অপরাধীরা ভয়ে আতংকগ্রস্ত থাকবে। তারা বলবে: হায় দুর্ভাগ্য আমাদের! এটা কেমন কিতাব (রেকর্ড), এ - তো আমাদের ছোট বড় কিছুই রেকর্ড করা ছাড়া বাদ দেয়নি। তারা যতো কাজই করে এসেছে সবই তাদের সামনে হাজির দেখতে পাবে। তোমার প্রভু কারো প্রতি যুলুম (অবিচার) করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যখন আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, তোমরা আদমকে সিজদা কর। অতঃপর তারা সিজদা করল, ইবলীস ছাড়া। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার রবের নির্দেশ অমান্য করল। তোমরা কি তাকে ও তার বংশকে আমার পরিবর্তে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? যালিমদের জন্য কী মন্দ বি

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! আমরা ফিরিশ্‌তাদের বললাম - - ''আদমের প্রতি সিজদা করো’’, তখন তারা সিজদা করল, ইবলিস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের মধ্যেকার, কাজেই সে তার প্রভুর আদেশের অবাধ্যাচরণ করেছিল। তবে কি তোমরা আমাকে ছেড়ে দিয়ে তাকে ও তার বংশধরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তো তোমাদের শত্রু? অন্যায়কারীদের জন্য এই বিনিময় কত নিকৃষ্ট!

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যখন ফেরেশতাদের বলেছিলাম, ‘আদমকে সাজদা করো’ তখন সবাই সাজদা করেছিল ইবলিস ছাড়া। সে ছিলো জিনদের একজন। সে তার প্রভুর আদেশ অমান্য করে সীমালংঘন করে। আর এখন তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে আর তার বংশধরদেরকে নিজেদের অলি (বন্ধু, অভিভাবক, পৃষ্ঠপোষক) বানিয়ে নিয়েছো? অথচ তারা হলো তোমাদের শত্রু। যালিমদের এই বদল করাটা কতো যে নিকৃষ্ট!

মুহিউদ্দীন খান

নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের সৃজনকালে আমি তাদেরকে সাক্ষ্য রাখিনি এবং তাদের নিজেদের সৃজনকালেও না। এবং আমি এমনও নই যে, বিভ্রান্ত কারীদেরকে সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করবো।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আমি তাদেরকে আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টির সাক্ষী করিনি এবং না তাদের নিজদের সৃষ্টির। আর আমি পথভ্রষ্টকারীদেরকে সহায়তাকারী হিসেবে গ্রহণ করিনি।

জহুরুল হক

মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকালে আমি ওদের সাক্ষি দিতে ডাকি নি, আর তাদের নিজেদের সৃষ্টিকালেও নয়, আর বিপথে চালনাকারীদের আমি সহায়করূপে গ্রহণ করি না।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাবিশ্ব এবং পৃথিবীর সৃষ্টিকালে আমরা তাদের সাক্ষী রাখিনি, এমনকি তাদের নিজেদেরকে সৃষ্টি করার সময়ও নয়। আমরা বিপথগামীদেরকে সাহায্যকারী হিসাবে গ্রহণ করিনা।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন তিনি বলবেনঃ তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে ডাক। তারা তখন তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা এ আহবানে সাড়া দেবে না। আমি তাদের মধ্যস্থলে রেখে দেব একটি মৃত্যু গহবর।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যেদিন তিনি বলবেন, ‘তোমরা ডাক আমার শরীকদের, যাদেরকে তোমরা (শরীক) মনে করতে’। অতঃপর তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না। আর আমি তাদের মধ্যে রেখে দেব ধ্বংসস্থল।

জহুরুল হক

আর সেদিন তিনি বলবেন - - ''ডাকো আমার সঙ্গিসাথীদের যাদের তোমরা ভাবতে।’’ সুতরাং তারা তাদের ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের প্রতি সাড়া দেবে না, আর আমরা তাদের মধ্যখানে স্থাপন করব এক ব্যবধান।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিনের কথা স্মরণ করো, যেদিন তিনি বলবেন: ‘তোমরা যাদেরকে আমার শরিকদার মনে করতে তাদেরকে ডেকে আনো।’ তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তাদের ডাকে তারা কোনো সাড়া দেবেনা। আমরা তাদের উভয়ের মাঝপথে রেখে দেবো এক ধ্বংস গহবর।

মুহিউদ্দীন খান

অপরাধীরা আগুন দেখে বোঝে নেবে যে, তাদেরকে তাতে পতিত হতে হবে এবং তারা তা থেকে রাস্তা পরিবর্তন করতে পারবে না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর অপরাধীরা আগুন দেখবে, অতঃপর তারা নিশ্চিতরূপে জানতে পারবে যে, নিশ্চয় তারা তাতে নিপতিত হবে এবং তারা তা থেকে বাঁচার কোন পথ খুঁজে পাবে না।

জহুরুল হক

আর অপরাধীরা আগুন দেখতে পাবে, আর তারা বুঝবে যে তারা নিশ্চয়ই এতে পতিত হচ্ছে, আর তা থেকে তারা কোনো পরিত্রাণ পাবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

অপরাধীরা আগুন দেখেই বুঝবে, তারা তাতে পড়তে যাচ্ছে এবং তারা তা থেকে বাঁচার কোনো জায়গা পাবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় আমি এ কোরআনে মানুষকে নানাভাবে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বুঝিয়েছি। মানুষ সব বস্তু থেকে অধিক তর্কপ্রিয়।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য সকল প্রকার উপমা বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। আর মানুষ সবচেয়ে বেশি তর্ককারী।

জহুরুল হক

আর আমরা আলবৎ এই কুরআনে লোকেদের জন্য সব রকমের দৃষ্টান্ত বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছি। আর মানুষ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিতর্কপ্রিয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা এই কুরআনে বিভিন্ন রকম উপমার মাধ্যমে মানুষের জন্যে আমাদের বাণী বিশদভাবে বর্ণনা করেছি। অথচ মানুষ বেশিরভাগ বিষয়ে বিতর্কপ্রিয়।

মুহিউদ্দীন খান

হেদায়েত আসার পর এ প্রতীক্ষাই শুধু মানুষকে বিশ্বাস স্থাপন করতে এবং তাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বিরত রাখে যে, কখন আসবে তাদের কাছে পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অথবা কখন আসবে তাদের কাছেআযাব সামনাসামনি।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যখন মানুষের নিকট হিদায়াত এসেছে, তখন তাদেরকে ঈমান আনতে কিংবা তাদের রবের কাছে ইস্তিগফার করতে বাধা প্রদান করেছে কেবল এ বিষয়টিই যে, পূর্ববর্তীদের (ব্যাপারে আমার নির্ধারিত) রীতি তাদের উপর পুনরায় নেমে আসবে কিংবা তাদের উপর আযাব সরাসরি এসে উপস্থিত হবে।

জহুরুল হক

আর এমন কিছু মানুষকে বাধা দেয় না বিশ্বাস স্থাপন করতে যখন তাদের কাছে পথনির্দেশ আসে এবং তাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেও, এ ভিন্ন যে তাদের কাছেও আসুক পূর্ববর্তীদের ঘটনাবলী, অথবা আগেভাগেই তাদের উপরে শাস্তিটা যেন এসে পড়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষের কাছে যখন হিদায়াত আসে তখন তাদেরকে ঈমান আনা এবং তাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা চাওয়া থেকে এছাড়া আর কিছুই বিরত রাখেনা যে, তারা চায়, তাদের আগের লোকদের সুন্নতই (রীতিই) তাদের কাছে আসুক, তা না হলে সরাসরি আল্লাহর আযাব আসুক।

মুহিউদ্দীন খান

আমি রাসূলগনকে সুসংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শন কারীরূপেই প্রেরণ করি এবং কাফেররাই মিথ্যা অবলম্বনে বিতর্ক করে, তা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার উদ্দেশে এবং তারা আমার নিদর্শনাবলীও যদ্বারা তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করা হয়, সেগুলোকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করেছে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর আমি তো রাসূলদেরকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপেই পাঠিয়েছি এবং যারা করেছে তারা বাতিল দ্বারা তর্ক করে, যাতে তার মাধ্যমে সত্যকে মিটিয়ে দিতে পারে। আর তারা আমার আয়াতসমূহকে এবং যা দিয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, তাকে উপহাস হিসেবে গ্রহণ করে।

জহুরুল হক

আর আমরা রসূলগণকে পাঠাই না সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে ভিন্ন, আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা মিথ্যার সাহায্যে বিতর্ক করে যেন তার দ্বারা তারা সত্যকে ব্যর্থ করতে পারে, আর আমার বাণীসমূহ ও যা দিয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছে সে - সবকে তারা বিদ্রূপের বিষয় রূপে গ্রহণ করে থাকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তো আমাদের রসূলদের পাঠাই কেবল সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারী হিসেবে। অথচ কাফিররা বাতিলের পক্ষে বিতর্কে লিপ্ত হয় সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার উদ্দেশ্যে। আর তারা আমার আয়াতকে এবং যার মাধ্যমে তাদেরকে সতর্ক করা হয় তাকে বিদ্রূপের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে।

মুহিউদ্দীন খান

তার চাইতে অধিক জালেম কে, যাকে তার পালনকর্তার কালাম দ্বারা বোঝানো হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার পূর্ববর্তী কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়? আমি তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে দিয়েছি, যেন তা না বোঝে এবং তাদের কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা। যদি আপনি তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন, তবে কখনই তারা সৎপথে আসবে না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে হতে পারে, যাকে তার রবের আয়াতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে, অতঃপর সে তা থেকে বিমুখ হয়েছে এবং সে ভুলে গেছে যা তার দু-হাত পেশ করেছে? নিশ্চয় আমি তাদের অন্তরসমূহের উপর পর্দা দিয়ে দিয়েছি, যাতে তারা তা (কুরআন) বুঝতে না পারে। আর তাদের ক

জহুরুল হক

আর কে বেশী অন্যায়কারী তার চাইতে যাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় তার প্রভুর বাণীসমূহ, কিন্তু সে তা থেকে ফিরে যায় আর ভুলে যায় তার হাত দুখানা কী আগবাড়িয়েছিল? নিঃসন্দেহ আমরা তাদের হৃদয়ের উপরে আবরণ স্থাপন ক রেছি পাছে তারা এটি বুঝতে পারে, আর তাদের কানের ভেতরে বধিরতা। আর তুমি যদি তাদের সৎপথের প্রতি আহান করো তারা সেক্ষেত্রে কখনো সৎপথের দিকে চলবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যাকে তার প্রভুর আয়াত স্মরণ করিয়ে দেয়ার পরও সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং সে তার কৃতকর্ম ভুলে যায়? আমরা তাদের অন্তরের উপর আবরণ সৃষ্টি করে দিয়েছি যেনো তারা তা (কুরআন) বুঝতে না পারে আর তাদের কানেও তুলা লাগিয়ে বধিরতা এঁটে দিয়েছি। ফলে তুমি তাদেরকে হিদায়াতের দিকে ডাকলেও তারা কখনো হিদায়াতের পথে আসবে না।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু, যদি তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে পাকড়াও করেন তবে তাদের শাস্তি ত্বরাম্বিত করতেন, কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে একটি প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা সরে যাওয়ার জায়গা পাবে না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তোমার রব ক্ষমাশীল, দয়াময়। তারা যা উপার্জন করেছে, তার কারণে তিনি যদি তাদেরকে পাকড়াও করতেন তবে অবশ্যই তাদের জন্য আযাব ত্বরান্বিত করতেন। বরং তাদের জন্য রয়েছে প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা কোন আশ্রয়স্থল পাবে না।

জহুরুল হক

আর তোমরা প্রভু পরিত্রাণকারী, করুণার আধার। তারা যা অর্জন করেছে সেজন্য তিনি যদি তাদের পাকড়াও করতেন তাহলে তিনি নিশ্চয়ই তাদের জন্য শাস্তি ত্বরান্বিত করতেন। কিন্তু তাদের জন্য একটি নির্ধারিত কাল রয়েছে যার তেকে তারা কোনো পরিত্রাণ খুঁজে পাবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়। তিনি তাদের কৃতকর্মের জন্যে যদি তাদের পাকড়াও করতে চাইতেন, তবে অবশ্যি তাদের শাস্তি দানের বিষয়টি ত্বরান্বিত করতেন। বরং তাদের জন্যে রয়েছে একটি প্রতিশ্রুত সময় যা থেকে বাঁচার জন্যে তারা কিছুতেই কোনো আশ্রয়স্থল খুঁজে পাবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

এসব জনপদও তাদেরকে আমি ধংস করে দিয়েছি, যখন তারা জালেম হয়ে গিয়েছিল এবং আমি তাদের ধ্বংসের জন্যে একটি প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করেছিলাম।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর এগুলো সেই জনপদ যেগুলো আমি ধ্বংস করেছি যখন তারা যুলম করেছে এবং আমি তাদের ধ্বংসের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করেছি।

জহুরুল হক

আর ঐ সব জনপদ - - আমরা ওদের ধ্বংস করেছিলাম যখন তারা অন্যায়াচরণ করেছিল, আর ওদের ধ্বংসের জন্য আমরা একটি নির্দিষ্ট সময় স্থির করেছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যেসব জনপদ ধ্বংস করেছি, সেগুলো ধ্বংস করেছি তো তখন, যখন তারা যুলুম করেছিল। আর তাদের ধ্বংস করার জন্যেও আমরা একটি প্রতিশ্রুত সময় নির্ধারণ করেছিলাম।

মুহিউদ্দীন খান

যখন মূসা তাঁর যুবক (সঙ্গী) কে বললেনঃ দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে না পৌছা পর্যন্ত আমি আসব না অথবা আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর স্মরণ কর, যখন মূসা তার সহচর যুবকটিকে বলল, আমি চলতে থাকব যতক্ষণ না দুই সমুদ্রের মিলনস্থলে উপনীত হব কিংবা দীর্ঘ সময় কাটিয়ে দেব।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! মূসা তাঁর ভৃত্যকে বললেন - - ''আমি থামব না যে পর্যন্ত না আমি দুই নদীর সঙ্গমস্থলে পৌঁছি, নতুবা আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, মূসা তার সঙ্গিকে (খাদেমকে) বলেছিল: ‘দুই সমুদ্রের মিলনস্থলে না পৌঁছে আমি থামবো না। অথবা আমি যুগের পর যুগ ধরে চলতে থাকবো।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন তাঁরা দুই সুমুদ্রের সঙ্গমস্থলে পৌছালেন, তখন তাঁরা নিজেদের মাছের কথা ভুলে গেলেন। অতঃপর মাছটি সমুদ্রে সুড়ঙ্গ পথ সৃষ্টি করে নেমে গেল।

বয়ান ফাউন্ডেশন

এরপর যখন তারা তাদের দুই সমুদ্রের মিলনস্থলে উপনীত হল, তখন তারা তাদের মাছের কথা ভুলে গেল। ফলে মাছটি নালার মত করে সমুদ্রে তার পথ করে নিল।

জহুরুল হক

এরপর যখন উভয়ে এ দুইয়ের সঙ্গমস্থলে পৌঁছলেন, তাঁরা তাঁদের মাছের কথা ভুলে গেলেন, কাজেই ফাঁক পেয়ে এটি নদীতে তার পথ ধরল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখন দুই সমুদ্রের মিলনস্থলে পৌঁছে, তখন তাদের মাছটির কথা ভুলে যায়। ফলে সেটি সুড়ঙের মতো নিজের পথ করে সমুদ্রে নেমে গেলো।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তাঁরা সে স্থানটি অতিক্রম করে গেলেন, মূসা সঙ্গী কে বললেনঃ আমাদের নাশতা আন। আমরা এই সফরে পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছি।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর যখন তারা অগ্রসর হল তখন সে তার যুবককে বলল, ‘আমাদের সকালের খাবার নিয়ে আস। আমাদের এই সফরে আমরা অনেক ক্লান্তির মুখোমুখি হয়েছি’।

জহুরুল হক

তাঁরা যখন এগিয়ে গেলেন তখন তিনি তাঁর ভৃত্যকে বললেন, ''আমাদের সকালের খাবার আমাদের জন্য নিয়ে এস, আমাদের এই সফর থেকে আমরা আলবৎ পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছি।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা উভয়ে আরো সামনে অগ্রসর হলে মূসা তার সাথিকে বললো : আমাদের সকালের নাস্তা নাও, এই সফরে বড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।

মুহিউদ্দীন খান

সে বললঃ আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন প্রস্তর খন্ডে আশ্রয় নিয়েছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। শয়তানই আমাকে একথা স্মরণ রাখতে ভুলিয়ে দিয়েছিল। মাছটি আশ্চর্য জনক ভাবে সমুদ্রে নিজের পথ করে নিয়েছে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে, যখন আমরা পাথরটিতে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, তখন আমি মাছটি হারিয়ে ফেলি। আর আমাকে তা স্মরণ করতে ভুলিয়েছে কেবল শয়তান এবং আশ্চর্যজনকভাবে তা সমুদ্রে তার পথ করে নিয়েছে’।

জহুরুল হক

সে বললে - - ''আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন পাথরের উপরে বিশ্রাম করছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম, আর এটি শয়তান ছাড়া আর কেউ নয় যে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল ওর কথা উল্লেখ করতে? আর সেটি নদীতে তার পথ ধরেছিল, আশ্চর্য ব্যাপার!’’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘আপনি লক্ষ্য করেছেন কি, আমরা যখন পাথর খন্ডে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, তখন আমি মাছটির কথা ভুলে গিয়েছিলাম। শয়তানই সেটির কথা বলতে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল। সেটি বিস্ময়করভাবে নিজের পথ তৈরি করে নিয়ে সমুদ্রে নেমে গিয়েছিল।

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বললেনঃ আমরা তো এ স্থানটিই খুঁজছিলাম। অতঃপর তাঁরা নিজেদের চিহ্ন ধরে ফিরে চললেন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘ঐ স্থানটিই আমরা খুঁজছি। তাই তারা তাদের পদচি‎হ্ন অনুসরণ করে পেছনে ফিরে গেল’।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''এটিই আমরা চেয়েছিলাম।’’ সুতরাং তাঁরা নিজেদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে চললেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘আমরা তো সেই জায়গাটারই সন্ধান করছিলাম। তখন তারা নিজেদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চললো।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাঁরা আমার বান্দাদের মধ্যে এমন একজনের সাক্ষাত পেলেন, যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে রহমত দান করেছিলাম ও আমার পক্ষ থেকে দিয়েছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর তারা আমার বান্দাদের মধ্য থেকে এক বান্দাকে পেল, যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে রহমত দান করেছি এবং তাকে আমার পক্ষ থেকে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছি।

জহুরুল হক

তারপর তাঁরা আমাদের বান্দাদের মধ্যের একজন বান্দাকে পেলেন যাকে আমরা আমাদের তরফ থেকে করুণা দান করেছিলাম এবং যাঁকে আমাদের তরফ থেকে জ্ঞান শিখিয়েছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা আমার দাসদের এমন একজনকে পেয়ে গেলো, যাকে আমার পক্ষ থেকে রহমত দান করেছিলাম এবং আমার নিকট থেকে দান করেছিলাম বিশেষ এক এলেম।

মুহিউদ্দীন খান

মূসা তাঁকে বললেনঃ আমি কি এ শর্তে আপনার অনুসরণ করতে পারি যে, সত্যপথের যে জ্ঞান আপনাকে শেখানো হয়েছে, তা থেকে আমাকে কিছু শিক্ষা দেবেন?

বয়ান ফাউন্ডেশন

মূসা তাঁকে বলল, ‘আমি কি আপনাকে এই শর্তে অনুসরণ করব যে, আপনাকে যে সঠিক জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তা আমাকে শিক্ষা দেবেন’?

জহুরুল হক

মূসা তাঁকে বললেন - - ''আমি কি আপনার অনুসরণ করব এই শর্তে যে সঠিক পথের সম্পর্কে যা আপনাকে শেখানো হয়েছে তা থেকে আপনি আমাকে শেখাবেন?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা তাকে বললো: ‘আপনাকে সঠিক পথের যে জ্ঞান দান করা হয়েছে, তা থেকে আমাকে শিক্ষা দেবেন এই শর্তে আমি আপনার সাথি হতে পারি কি?

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য্যধারণ করে থাকতে পারবেন না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘আপনি কখনো আমার সাথে ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না’।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তুমি আমার সঙ্গে ধৈর্য ধারণ ক’রে থাকতে কখনো সক্ষম হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘‘আপনি কখনো আমার সাথে চলে সবর করতে পারবেন না।

মুহিউদ্দীন খান

যে বিষয় বোঝা আপনার আয়ত্তাধীন নয়, তা দেখে আপনি ধৈর্য্যধারণ করবেন কেমন করে?

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আপনি তাতে কীভাবে ধৈর্য ধরবেন, যে সম্পর্কে আপনি জানেন না’?

জহুরুল হক

''আর তুমি কেমন করে ধৈর্য ধারণ করতে পারবে সেই বিষয়ে যে - সন্বন্ধে তোমার কোনো খোঁজখবর থাকে না?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আপনি কেমন করে সবর করবেন এমন বিষয়ে, যে বিষয়ের জ্ঞান আপনার আয়ত্তে নেই?’’

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বললেনঃ চাহেন তো আপনি আমাকে ধৈর্য্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোন আদেশ অমান্য করব না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘ইনশাআল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং কোন বিষয়ে আমি আপনার অবাধ্য হব না’।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''ইন্ শা আপনি আমাকে এখনি ধৈর্যশীল পবেন, এবং আমি কোনো বিষয়ে আপনাকে অমান্য করব না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

(মূসা) বললো: ‘ইনশাল্লাহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোনো আদেশ অমান্য করবো না।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ যদি আপনি আমার অনুসরণ করেনই তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না, যে পর্যন্ত না আমি নিজেই সে সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলি।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘তবে আপনি যদি আমাকে অনুসরণ করেন, তাহলে কোন বিষয় সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করবেন না, যতক্ষণ না আমি সে সম্পর্কে আপনাকে জানাই’।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''বেশ, তুমি যদি আমার অনুসরণ করতে চাও তা’হলে তুমি আমাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারবে না যে পর্যন্ত না আমি সে বিষয়ে মন্তব্য তোমার কাছে প্রকাশ করি।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘আপনি যদি আমার সাথি হনই, তাহলে আমাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করবেন না, যে পর্যন্ত সে বিষয়ে আমি নিজেই আপনাকে কিছু না বলবো।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা চলতে লাগলঃ অবশেষে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল, তখন তিনি তাতে ছিদ্র করে দিলেন। মূসা বললেনঃ আপনি কি এর আরোহীদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্যে এতে ছিদ্র করে দিলেন? নিশ্চয়ই আপনি একটি গুরুতর মন্দ কাজ করলেন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর তারা চলতে থাক। অবশেষে যখন তারা জাহাজে চড়ল, সে তা ফুটো করে দিল। সে বলল, ‘আপনি কি তার আরোহীদের ডুবানোর জন্য তা ফুটো করে দিলেন? আপনি অবশ্যই মন্দ কাজ করলেন’।

জহুরুল হক

এর পর তাঁরা দুজন যাত্রা করলেন, পরে যখন তাঁরা একটি নৌকায় চড়লেন তিনি তাতে ছিদ্র করে দিলেন। তিনি বললেন, ''আপনি কি এতে ছিদ্র করলেন এর আরোহীদের ডুবিয়ে দেবার জন্যে? আপনি তো এক অদ্ভুত কাজ করলেন?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে তারা দু’জনই চলতে থাকলো। অত:পর তারা যখন নৌকায় উঠলো, সে ছিদ্র করে দিলো। তখন মূসা বললো: ‘আপনি কি আরোহীদের ডুবিয়ে দেয়ার জন্যে এটি ছিদ্র করে দিলেন নৌকাটি? আপনি তো একটা গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য্য ধরতে পারবেন না ?

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘আমি কি বলিনি, আপনি আমার সাথে ধৈর্যধারণ করতে পারবেন না?

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমি কি বলি নি যে তুমি আমার সঙ্গে কখনো ধৈর্য ধারণ করতে সক্ষম হবে না?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘আমি কি আপনাকে বলিনি, আপনি আমার সাথে থেকে কিছুতেই সবর করতে পারবেন না?’

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বললেনঃ আমাকে আমার ভুলের জন্যে অপরাধী করবেন না এবং আমার কাজে আমার উপর কঠোরতা আরোপ করবেন না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘আমি যা ভুলে গিয়েছি, সে ব্যাপারে আমাকে ধরবেন না এবং আমাকে আমার বিষয়ে কঠোর আচরণ করবেন না।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার অপরাধ নেবেন না যা আমি ভুলে গিয়েছিলাম সেজন্য, আর আমার ব্যাপারে আপনি আমার প্রতি কঠোর হবেন না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘আমার ভুলের জন্যে আপনি আমাকে পাকড়াও করবেন না এবং আমার ব্যাপারে এতো বেশি কঠোর হবেন না।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা চলতে লাগল। অবশেষে যখন একটি বালকের সাক্ষাত পেলেন, তখন তিনি তাকে হত্যা করলেন। মূসা বললেন? আপনি কি একটি নিস্পাপ জীবন শেষ করে দিলেন প্রাণের বিনিময় ছাড়াই? নিশ্চয়ই আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর তারা চলতে লাগল। অবশেষে যখন তারা এক বালকের সাক্ষাৎ পেল, তখন সে তাকে হত্যা করল। সে বলল, ‘আপনি নিষ্পাপ ব্যক্তিকে হত্যা করলেন, যে কাউকে হত্যা করেনি? আপনি তো খুবই মন্দ কাজ করলেন’।

জহুরুল হক

এরপর তাঁরা দুজনে চলতে লাগলেন, পরে যখন তাঁরা একটি বালকের সাক্ষাৎ পেলেন তিনি তাকে মেরে ফেললেন। তিনি বললেন - - ''আপনি কি একজন নির্দোষ লোককে হত্যা করলেন অন্য লোককে ছাড়াই? আপনি তো এক ভয়ানক কাজ করে ফেললেন?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

পুনরায় তারা চললো। চলতে চলতে তারা যখন একটি বালকের সাক্ষাত পেলো, সে সেই বালকটিকে হত্যা করলো। মূসা বললো: ‘আপনি একজন নিষ্পাপ ব্যক্তিকে হত্যা করলেন, হত্যার অপরাধ ছাড়াই? আপনি একটি গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে ধৈর্য্য ধরে থাকতে পারবেন না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘আমি কি আপনাকে বলিনি যে, আপনি আমার সাথে কখনই ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না’?

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমি কি তোমাকে বলি নি যে তুমি আমার সঙ্গে কখনো ধৈর্য ধারণ করতে সক্ষম হবে না?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘আমি কি আপনাকে বলিনি যে, আপনি কিছুতেই আমার সাথে সবর করতে পারবেন না?’

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বললেনঃ এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করি, তবে আপনি আমাকে সাথে রাখবেন না। আপনি আমার পক্ষ থেকে অভিযোগ মুক্ত হয়ে গেছেন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

মূসা বলল, ‘এরপর যদি আমি আপনাকে আর কোন বিষয়ে প্রশ্ন করি, তাহলে আপনি আমাকে আর আপনার সাথে রাখবেন না। আমার পক্ষ থেকে আপনি ওযর পেয়ে গেছেন’।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমি যদি এর পরে কোনো ব্যাপারে আপনাকে প্রশ্ন করি তবে আপনি আমাকে সঙ্গে নেবেন না, আপনি অবশ্যই আমার সন্বন্ধে এক ওজর - আপত্তি পেয়ে যাবেন।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘এরপর যদি আমি আপনাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি, আপনি আমাকে আর সঙ্গে রাখবেন না। আমার ওজরের বিষয়টি চূড়ান্ত হলো।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা চলতে লাগল, অবশেষে যখন একটি জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌছে তাদের কাছে খাবার চাইল, তখন তারা তাদের অতিথেয়তা করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা সেখানে একটি পতনোম্মুখ প্রাচীর দেখতে পেলেন, সেটি তিনি সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিলেন। মূসা বললেনঃ আপনি ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে এর পারিশ্রমিক আদায় করতে পারতেন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর তারা দু’জন চলতে শুরু করল। অবশেষে যখন তারা একটি জনপদের অধিবাসীদের নিকট পৌঁছল তখন তাদের কাছে কিছু খাবার চাইল; কিন্তু তারা তাদেরকে মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা সেখানে একটি প্রাচীর দেখতে পেল, যা পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সে তখন প্রাচীরটি সোজ

জহুরুল হক

তারপর তাঁরা দুজন চলতে লাগলেন যে পর্যন্ত না তাঁরা এসে পৌঁছলেন এক শহরের অধিবাসীদের কাছে, তাঁরা এর লোকদের কাছে খাবার চাইলেন, কিন্তু তারা এ দুজনের আতিথেয়তা করতে অস্বীকার করল। তারপর তাঁরা তাতে পেয়ে গেলেন একটি দেয়াল যা পড়ে যাবার উপক্রম করছিল, কাজেই তিনি তা খাড়া করে দিলেন। তিনি বললেন - - ''আপনি যদি চাইতেন তবে এর জন্যে অবশ্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

পুনরায় তারা উভয়ে চলতে শুরু করলো। চলতে চলতে এক গাঁয়ের অধিবাসীদের কাছে এসে তারা খাবার চাইলো। তারা তাদের মেহেমানদারী করতে অস্বীকার করে। তারা সেখানে একটি হেলে থাকা প্রাচীর দেখতে পায় এবং সে সেটি দাঁড় করিয়ে মজবুত করে দেয়। মূসা বললো: ‘আপনি চাইলে এ কাজের জন্যে পারিশ্রমিক নিতে পারতেন।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ এখানেই আমার ও আপনার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হল। এখন যে বিষয়ে আপনি ধৈর্য্য ধরতে পারেননি, আমি তার তাৎপর্য বলে দিচ্ছি।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘এখানেই আমার ও আপনার মধ্যে বিচ্ছেদ। যে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করতে পারেননি আমি এখন আপনাকে তার ব্যাখ্যা দিচ্ছি’।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''এইবার আমার মধ্যে ও তোমার মধ্যে ছাড়াছাড়ি। আমি এখন জানিয়ে দিচ্ছি তাৎপর্য যে সন্বন্ধে তুমি ধৈর্য ধরতে পারছিলে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘‘এখানেই আমার সাথে আপনার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেলো। যেসব বিষয়ে আপনি সবর করতে পারেননি, আমি সেগুলোর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছি।

মুহিউদ্দীন খান

নৌকাটির ব্যাপারে - সেটি ছিল কয়েকজন দরিদ্র ব্যক্তির। তারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষন করত। আমি ইচ্ছা করলাম যে, সেটিকে ক্রটিযুক্ত করে দেই। তাদের অপরদিকে ছিল এক বাদশাহ। সে বলপ্রয়োগে প্রত্যেকটি নৌকা ছিনিয়ে নিত।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘নৌকাটির বিষয় হল, তা ছিল কিছু দরিদ্র লোকের যারা সমুদ্রে কাজ করত। আমি নৌকাটিকে ত্রুটিযুক্ত করতে চেয়েছি কারণ তাদের পেছনে ছিল এক রাজা, যে নৌকাগুলো জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিচ্ছিল’।

জহুরুল হক

''নৌকো সন্বন্ধে - - এ ছিল কয়েকজন গরীব লোকের যারা নদীতে কাজ করত, আর আমি এটিকে খুতঁময় করতে চেয়েছিলাম, কেননা তাদের পেছনে ছিল এক রাজা যে প্রত্যেক নৌকো জোর ক’রে নিয়ে নিচ্ছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রথমেই সেই নৌকাটির বিষয়। সেটি ছিলো কয়েকজন অভাবী লোকের, তারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষণ করতো। আমি ইচ্ছা করলাম নৌকাটি ত্রুটিযুক্ত করে দেয়ার, কারণ সামনেই ছিলো এক রাজা, সে জোরপূর্বক সব নৌকা ছিনিয়ে নেয়।

মুহিউদ্দীন খান

বালকটির ব্যাপার তার পিতা - মাতা ছিল । আমি আশঙ্কা করলাম যে, সে অবাধ্যতা ও কুফর দ্বারা তাদেরকে প্রভাবিত করবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর বালকটির বিষয় হল, তার পিতা-মাতা ছিল । অতঃপর আমি আশংকা* করলাম যে, সে সীমালংঘন ও দ্বারা তাদেরকে অতিষ্ঠ করে তুলবে’। * তাঁর আশংকা নিছক ধারণা ভিত্তিক ছিল না, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি নিশ্চিত জানতে পেরেছিলেন।

জহুরুল হক

''আর বালকটি সন্বন্ধে - - এর পিতামাতা ছিল , আর আমরা আশংকা করছিলাম যে সে বিদ্রোহাচরণ ও অবিশ্বাস পোষণের ফলে তাদের ব্যতিব্যস্ত করবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

আর বালকটি, তার বাবা - মা ছিলেন , আমাদের আশংকা হয়, সে অব্যাধ্যতা ও কুফুরির মাধ্যমে তাদের বিব্রত করবে।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি ইচ্ছা করলাম যে, তাদের পালনকর্তা তাদেরকে মহত্তর, তার চাইতে পবিত্রতায় ও ভালবাসায় ঘনিষ্ঠতর একটি শ্রেষ্ঠ সন্তান দান করুক।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘তাই আমি চাইলাম, তাদের রব তাদেরকে তার পরিবর্তে এমন সন্তান দান করবেন, যে হবে তার চেয়ে পবিত্রতায় উত্তম এবং দয়ামায়ায় অধিক ঘনিষ্ঠ।

জহুরুল হক

''কাজেই আমরা চেয়েছিলাম তাদের প্রভু যেন তাদের জন্য বদলে দেন পবিত্রতায় এর চেয়ে ভাল এবং ভক্তি - ভালবাসায় ঘনিষ্ঠতর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাই আমরা চাইলাম তাদের প্রভু যেনো তাদেরকে ওর পরিবর্তে ওর চাইতে উত্তম, পবিত্র ও ভক্তি ভালোবাসায় নৈকট্য লাভকারী একটি সন্তান দান করেন।

মুহিউদ্দীন খান

প্রাচীরের ব্যাপার - সেটি ছিল নগরের দুজন পিতৃহীন বালকের। এর নীচে ছিল তাদের গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্ম পরায়ন। সুতরাং আপনার পালনকর্তা দায়বশতঃ ইচ্ছা করলেন যে, তারা যৌবনে পদার্পন করুক এবং নিজেদের গুপ্তধন উদ্ধার করুক। আমি নিজ মতে এটা করিনি। আপনি যে বিষয়ে ধৈর্য্যধারণ করতে অক্ষম হয়েছিলেন, এই হল তার ব্যাখ্যা।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর প্রাচীরটির বিষয় হল, তা ছিল শহরের দু’জন ইয়াতীম বালকের এবং তার নিচে ছিল তাদের গুপ্তধন। আর তাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। তাই আপনার রব চাইলেন যে, তারা দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে তাদের গুপ্তধন বের করে নেবে। এ সবই আপনার রবের রহমত স্বরূপ। আমি নিজ থেকে তা করিনি। এ

জহুরুল হক

''আর দেয়াল সন্বন্ধে - - এ ছিল শহরের দুইজন এতিম বালকের, আর তার তলায় ছিল তাদের উভয়ের ধনভান্ডার, আর তাদের পিতা ছিল সজ্জন। কাজেই তোমার প্রভু চেয়েছিলেন যে তারা যেন তাদের সাবালকত্ব প্রাপ্ত হয় এবং তাদের ধনভান্ডার বের করে আনে তোমার প্রভুর তরফ থেকে করুণা হিসেবে, আর আমি এটি করি নি আমার নিজের ইচ্ছায়। এই হচ্ছে তার তাৎপর্য যে সন্বন্ধে তুমি ধৈর্যধারণ করতে পার নি।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আর প্রাচীরটির বিষয় হলো, ওটি ছিলো দুই এতিম কিশোরের। প্রাচীরের নিচে আছে তাদের গুপ্তধন আর তাদের পিতা ছিলেন একজন পুণ্যবান ব্যক্তি। সুতরাং আপনার প্রভু দয়া করে চাইলেন তারা বয়ঃপ্রাপ্ত হোক এবং তারা নিজেদের ধনভান্ডার উদ্ধার করুক। আমি কিছুই নিজ থেকে করিনি। আপনি যেসব বিষয়ে সবর করতে পারেননি, এ - ই হলো সেগুলোর ব্যাখ্যা।’’

মুহিউদ্দীন খান

তারা আপনাকে যুলকারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুনঃ আমি তোমাদের কাছে তাঁর কিছু অবস্থা বর্ণনা করব।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তারা তোমাকে যুলকারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে। বল, ‘আমি এখন তার সম্পর্কে তোমাদের নিকট বর্ণনা দিচ্ছি’।

জহুরুল হক

আর তারা তোমাকে যুল্‌ক্কারনাইন সন্বন্ধে জিজ্ঞাসা করছে। বলো - - ''আমি এখনি তোমাদের কাছে তাঁর সন্বন্ধে কাহিনী বর্ণনা করব।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমার কাছে জানতে চাইছে যুলকারনাইন সম্পর্কে। তুমি বলো, আমি তার সম্পর্কে তোমাদের কাছে তিলাওয়াত করছি :

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের কার্যোপকরণ দান করেছিলাম।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আমি তাকে যমীনে কর্তৃত্ব দান করেছিলাম এবং সববিষয়ের উপায়- উপকরণ দান করেছিলাম।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা তাঁকে দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম এবং তাঁকে দিয়েছিলাম প্রত্যেক বিষয়ের অনুপ্রবেশ ক্ষমতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দিয়েছিলাম এবং তাকে সব বিষয়ের উপায় উপকরণ দিয়েছিলাম।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তিনি এক কার্যোপকরণ অবলম্বন করলেন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর সে একটি পথ অবলম্বন করল।

জহুরুল হক

কাজেই তিনি এক পথ অনুসরণ করলেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে সে পথ ধরে অগ্রসর হলো।

মুহিউদ্দীন খান

অবশেষে তিনি যখন সুর্যের অস্তাচলে পৌছলেন; তখন তিনি সুর্যকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন এবং তিনি সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেলেন। আমি বললাম, হে যুলকারনাইন! আপনি তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পারেন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অবশেষে যখন সে সূর্যাস্তের স্থানে পৌঁছল, তখন সে সূর্যকে একটি কর্দমাক্ত পানির ঝর্ণায় ডুবতে দেখতে পেল এবং সে এর কাছে একটি জাতির দেখা পেল। আমি বললাম, ‘হে যুলকারনাইন, তুমি তাদেরকে আযাবও দিতে পার অথবা তাদের ব্যাপারে সদাচরণও করতে পার’।

জহুরুল হক

পরে যখন তিনি সূর্য অস্ত যাবার স্থানে পৌঁছলেন, তিনি এটিকে দেখতে পেলেন এক কালো জলাশয়ে অস্তগমন করছে, আর তার কাছে পেলেন এক অধিবাসী। আমরা বললাম - - ''হে যুল্‌ক্কারনাইন, তুমি শাস্তি দিতে পার অথবা এদের সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পার।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

এমন কি সে সূর্যাস্তের স্থানে এসে পৌঁছায়। সে সূর্যকে এক পংকিল জলাশয়ে অস্তমিত হতে দেখে এবং সেখানে একটি কওমকেও দেখতে পায়। আমরা তাকে বললাম, হে যুলকারনাইন! তুমি এদের শাস্তি দিতে পারো, অথবা তাদের ব্যাপারে সদয় মনোভাব গ্রহণ করতে পারো।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ যে কেউ সীমালঙ্ঘনকারী হবে আমি তাকে শাস্তি দেব। অতঃপর তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবেন। তিনি তাকে কঠোর শাস্তি দেবেন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘যে ব্যক্তি যুলম করবে, আমি অচিরেই তাকে শাস্তি দেব। অতঃপর তাকে তার রবের নিকট ফিরিয়ে নেয়া হবে। তখন তিনি তাকে কঠিন আযাব দেবেন’।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''যে কেউ অন্যায় করবে আমরা অচিরেই তাকে শাস্তি দেব, তারপর তাকে ফিরিয়ে আনব তার প্রভুর কাছে, তখন তিনি তাকে শাস্তি দেবেন কঠোর শাস্তিতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: যে কেউ যুলুম করবে, আমরা তাকে শাস্তি দেবো। তারপর সে তার প্রভুর কাছে ফিরে যাবে এবং তিনি তাকে কঠিন শাস্তি দেবেন।

মুহিউদ্দীন খান

এবং যে বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে তার জন্য প্রতিদান রয়েছে কল্যাণ এবং আমার কাজে তাকে সহজ নির্দেশ দেব।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর যে ব্যক্তি ঈমান আনবে এবং সৎকাজ করবে, তার জন্য রয়েছে উত্তম পুরস্কার। আর আমি আমার ব্যবহারে তার সাথে নরম কথা বলব’।

জহুরুল হক

''আর যে কেউ বিশ্বাস করবে ও সৎকাজ করবে, তার জন্যে তবে রয়েছে উত্তম প্রতিদান এবং তার প্রতি আমাদের আচার - আচরণে মোলায়েম কথা বলব।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যে কেউ ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ্ করবে তার জন্যে রয়েছে উত্তম প্রতিদান, তার প্রতি ব্যবহারে আমরা কোমল - সহজ কথা বলবো।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তিনি এক উপায় অবলম্বন করলেন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারপর সে আরেক পথ অবলম্বন করল।

জহুরুল হক

তারপর তিনি এক পথ ধরলেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে পুনরায় অন্যদিকে পথ ধরে অগ্রসর হলো।

মুহিউদ্দীন খান

অবশেষে তিনি যখন সূর্যের উদয়াচলে পৌছলেন, তখন তিনি তাকে এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদয় হতে দেখলেন, যাদের জন্যে সূর্যতাপ থেকে আত্নরক্ষার কোন আড়াল আমি সৃষ্টি করিনি।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অবশেষে সে যখন সূর্যোদয়ের স্থানে এসে পৌঁছল তখন সে দেখতে পেল, তা এমন এক জাতির উপর উদিত হচ্ছে যাদের জন্য আমি সূর্যের বিপরীতে কোন আড়ালের ব্যবস্থা করিনি।

জহুরুল হক

পরে যখন তিনি সূর্য উদয় হওয়ার যায়গায় পৌঁছলেন, তিনি এটিকে দেখতে পেলেন উদয় হচ্ছে এক অধিবাসীর উপরে যাদের জন্য আমরা এর থেকে কোনো আবরণ বানাই নি, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

শেষ পর্যন্ত সে সূর্যোদয়ের স্থানে এসে পৌঁছালো। সে দেখলো, সূর্য উঠছে এমন এক জাতির উপর, যাদের জন্যে সূর্য তাপ থেকে রক্ষার জন্যে আমরা কোনো অন্তরাল সৃষ্টি করিনি।

মুহিউদ্দীন খান

প্রকৃত ঘটনা এমনিই। তার বৃত্তান্ত আমি সম্যক অবগত আছি।

বয়ান ফাউন্ডেশন

প্রকৃত ঘটনা এটাই। আর তার নিকট যা ছিল, আমি সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত।

জহুরুল হক

এইভাবে। আর তাঁর ব্যাপারে সব খবর আমরা জানতাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

ব্যাপার তাই ছিলো। তার কাছে যেসব খবর ছিলো আমরা তা জানতাম।

মুহিউদ্দীন খান

আবার তিনি এক পথ ধরলেন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারপর সে আরেক পথ অবলম্বন করল।

জহুরুল হক

তারপর তিনি এক পথ ধরলেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর সে আরেক দিকে পথ ধরে অগ্রসর হলো।

মুহিউদ্দীন খান

অবশেষে যখন তিনি দুই পর্বত প্রচীরের মধ্যস্থলে পৌছলেন, তখন তিনি সেখানে এক জাতিকে পেলেন, যারা তাঁর কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অবশেষে যখন সে দুই পর্বতের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছল, তখন সেখানে সে এমন এক জাতিকে পেল, যারা তার কথা তেমন একটা বুঝতে পারছিল না।

জহুরুল হক

পরে যখন তিনি দুই পর্বত - প্রাচীরের মধ্যে পৌঁছলেন তখন এ দুইটির মধ্যাঞ্চলে তিনি এক সম্প্রদায়কে পেলেন যারা কথা কিছুই বুঝতে পারত না।

আবদুস শহীদ নাসিম

শেষ পর্যন্ত সে এসে পৌঁছায় দুই পর্বত প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থানে। এখানে সে আরেকটি জাতির সন্ধান পেলো। তারা কোনো কথাই বুঝার মতো ছিলো না।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ হে যুলকারনাইন, ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি বললে আমরা আপনার জন্যে কিছু কর ধার্য করব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা বলল, ‘হে যুলকারনাইন! নিশ্চয় ইয়া’জূজ ও মা’জূজ যমীনে অশান্তি সৃষ্টি করছে, তাই আমরা কি আপনাকে এ জন্য কিছু খরচ দেব যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটা প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন’?

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''হে যুল্‌ক্কারনাইন, নিঃসন্দেহ ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে, আমরা কি তবে আপনাকে কর দেব এই শর্তে যে আপনি আমাদের মধ্যে ও তাদের মধ্যে এক প্রাচীর বানিয়ে দেবেন?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: হে যুলকারনাইন! ইয়াজুজ (জাতি) ও মাজুজ (জাতি) আমাদের দেশে এসে অশান্তি সৃষ্টি করছে। আমরা কি আপনাকে খরচ দেবো, আপনি আমাদের ও তাদের মাঝে একটি প্রাচীর গড়ে দেবেন?

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ আমার পালনকর্তা আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, তাই যথেষ্ট। অতএব, তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘আমার রব আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, সেটাই উত্তম। সুতরাং তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মাঝখানে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব’।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু যাতে আমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তা আরো উৎকৃষ্ট, সুতরাং তোমরা আমাকে কায়িক - শ্রম দিয়ে সাহায্য কর, আমি তোমাদের মধ্যে ও তাদের মধ্যে এক মজবুত দেয়াল তৈরি করে দেব।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘আমার প্রভু আমাকে এ বিষয়ে যে ক্ষমতা দিয়েছেন তাই আমার জন্যে যথেষ্ট। তোমরা আমাকে শ্রমশক্তি দিয়ে সাহায্য করো, আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যবর্তী স্থানে একটি প্রাচীর গড়ে দেবো।’

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও। অবশেষে যখন পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান পূর্ণ হয়ে গেল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাক। অবশেষে যখন তা আগুনে পরিণত হল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা গলিত তামা নিয়ে এস, আমি তা এর উপরে ঢেলে দেই।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও’। অবশেষে যখন সে দু’পাহাড়ের মধ্যবর্তী জায়গা সমান করে দিল, তখন সে বলল, ‘তোমরা ফুঁক দিতে থাক’। অতঃপর যখন সে তা আগুনে পরিণত করল, তখন বলল, ‘তোমরা আমাকে কিছু তামা দাও, আমি তা এর উপর ঢেলে দেই’।

জহুরুল হক

''আমাদের কাছে তোমরা লোহার টুকরোগুলো নিয়ে এস।’’ অতঃপর যখন দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী জায়গা তিনি পূর্ণ করলেন তখন বললেন - - ''হাপরে দম দিতে থাক।’’ তারপর যখন তা আগুন বানিয়ে তুললো তখন তিনি বললেন - - ''আমার কাছে গলিত তামা নিয়ে এস আমি এর উপরে ঢেলে দেব।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘তোমরা আমাকে অনেকগুলো লৌহ পিন্ড এনে দাও।’ তারপর লোহার স্তূপ মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা পূর্ণ হয়ে যখন দুই পর্বতের সমান হলো, তখন সে বললো: ‘তোমরা হাঁপরে হাওয়া দিতে থাকো। যখন সেগুলো আগুনের মতো উত্তপ্ত হলো, তখন সে বললো: তোমরা গলিত তামা নিয়ে আসো, আমি সেগুলো ঢেলে দেবো এর উপর।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর ইয়াজুজ ও মাজুজ তার উপরে আরোহণ করতে পারল না এবং তা ভেদ করতে ও সক্ষম হল না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

এরপর তারা (ইয়া’জূজ ও মা’জূজ) প্রাচীরের উপর দিয়ে অতিক্রম করতে পারল না এবং নিচ দিয়েও তা ভেদ করতে পারল না।

জহুরুল হক

''সুতরাং তারা এটি ডিঙোতে সক্ষম হবে না, আর তারা এটি ভেদ করতেও পারবে না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

এরপর থেকে তারা আর তা অতিক্রম করতে পারলো না এবং তার মধ্যে সুড়ঙ্গও তৈরি করতে পারলো না।

মুহিউদ্দীন খান

যুলকারনাইন বললেনঃ এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ - বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘এটা আমার রবের অনুগ্রহ। অতঃপর যখন আমার রবের ওয়াদাকৃত সময় আসবে তখন তিনি তা মাটির সাথে মিশিয়ে দেবেন। আর আমার রবের ওয়াদা সত্য’।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''এ আমার প্রভুর তরফ থেকে অনুগ্রহ, কিন্তু যখন আমার প্রভুর ওয়াদা এসে যাবে তখন তিনি এটিকে টুকরো - টুকরো করে দেবেন, আর আমার প্রভুর ওয়াদা চিরসত্য।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: এটা আমার প্রভুর অনুগ্রহ। যখন আমার প্রভুর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবে তখন তিনি এটাকে চূর্ণ - বিচূর্ণ করে দেবেন। আর আমার প্রভুর প্রতিশ্রুতি সত্য।

মুহিউদ্দীন খান

আমি সেদিন তাদেরকে দলে দলে তরঙ্গের আকারে ছেড়ে দেব এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করে আনব।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর সেদিন আমি তাদেরকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেব যে, তারা একদল আরেক দলের উপর তরঙ্গমালার মত আছড়ে পড়বে এবং শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্র করব।

জহুরুল হক

আর সেই সময়ে আমরা তাদের এক দলকে অন্য দলের সাথে যুদ্ধাভিযানে ছেড়ে দেব, আর শিঙায় ফুৎকার দেয়া হবে, তখন আমরা তাদের জমায়েৎ করব এক সমাবেশে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন আমরা তাদের এমন অবস্থায় ছেড়ে দেবো যে, তারা এক দল আরেক দলের উপর তরঙ্গের মতো অাঁছড়ে পড়বে এবং শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং তাদের সবাইকে এক জায়গায় জমা করে ফেলবো।

মুহিউদ্দীন খান

সেদিন আমি কাফেরদের কাছে জাহান্নামকে প্রত্যক্ষ ভাবে উপস্থিত করব।

বয়ান ফাউন্ডেশন

এবং আমি সেদিন কাফিরদের জন্য জাহান্নামকে সরাসরি উপস্থিত করব;

জহুরুল হক

আর সেই সময়ে আমরা জাহান্নামকে বিছিয়ে দেব বিস্তীর্ণভাবে অবিশ্বাসীদের জন্য, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সেদিন আমরা জাহান্নামকে সেইসব কাফিরদের জন্যে সামনে এনে হাজির করবো,

মুহিউদ্দীন খান

যাদের চক্ষুসমূহের উপর পর্দা ছিল আমার স্মরণ থেকে এবং যারা শুনতেও সক্ষম ছিল না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আমার স্মরণ থেকে যাদের চোখ ছিল আবরণে ঢাকা এবং যারা শুনতেও ছিল অক্ষম।

জহুরুল হক

যাদের চোখ ছিল আমার স্মারক সন্বন্ধে পর্দার আড়ালে আর যারা শুনতেও ছিল অপারগ।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদের চোখ ছিলো অন্ধ আমার যিকির (কুরআন) থেকে এবং তারা শুনতেও ছিলো অক্ষম।

মুহিউদ্দীন খান

কাফেররা কি মনে করে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করবে? আমি কাফেরদের অভ্যর্থনার জন্যে জাহান্নামকে প্রস্তুত করে রেখেছি।

বয়ান ফাউন্ডেশন

যারা করছে, তারা কি মনে করেছে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে? নিশ্চয় আমি জাহান্নামকে কাফিরদের আপ্যায়নের জন্য প্রস্তুত করছি।

জহুরুল হক

যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা কি ভাবে যে তারা আমাকে ছেড়ে দিয়ে আমার বান্দাদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করতে পারে? নিঃসন্দেহ আমরা জাহান্নামকে তৈরী করেছি অবিশ্বাসীদের জন্য অভ্যর্থনাস্বরূপ!

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফিররা কি ধারণা করে নিয়েছে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদের অলি হিসেবে গ্রহণ করবে? আমরা কাফিরদের জন্যে আতিথ্য হিসেবে প্রস্তুত করে রেখেছি জাহান্নাম।

মুহিউদ্দীন খান

বলুনঃ আমি কি তোমাদেরকে সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত।

বয়ান ফাউন্ডেশন

বল, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন লোকদের কথা জানাব, যারা আমলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত’?

জহুরুল হক

বলো - - ''আমরা কি তোমাদের জানিয়ে দেব কারা কর্মক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: আমরা কি তোমাদের সংবাদ দেবো, আমলের দিক থেকে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত কারা?

মুহিউদ্দীন খান

তারাই সে লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিবজীবনে বিভ্রান্ত হয়, অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করেছে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে করছে যে, তারা ভাল কাজই করছে’!

জহুরুল হক

এরাই তো এই দুনিয়ার জীবনে তাদের প্রচেষ্টা পন্ড করছে, অথচ তারা মনে করে যে তারা তো বেশ ভালো উৎপাদন করছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা হলো সেইসব লোক, যারা দুনিয়ার জীবনে নিজেদের প্রচেষ্টাকে পরিচালিত করে ভ্রান্ত পথে, অথচ তারা মনে করে তারা খুব সুন্দর কাজ করছে।

মুহিউদ্দীন খান

তারাই সে লোক, যারা তাদের পালনকর্তার নিদর্শনাবলী এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয় অস্বীকার করে। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়। সুতরাং কেয়ামতের দিন তাদের জন্য আমি কোন গুরুত্ব স্থির করব না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘তারাই সেসব লোক, যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে। ফলে তাদের সকল আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। সুতরাং আমি তাদের জন্য কিয়ামতের দিন কোন ওজনের ব্যবস্থা রাখব না’।

জহুরুল হক

এরাই তারা যারা অবিশ্বাস করে তাদের প্রভুর নির্দেশাবলীতে ও তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে, ফলে তাদের ক্রিয়াকর্ম ব্যর্থ হয়ে যায়, সুতরাং তাদের জন্য আমরা কিয়ামতের দিনে কোনো দাঁড়িপাল্লা খাড়া করব না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরাই তাদের প্রভুর আয়াত এবং তাঁর সাথে সাক্ষাত হওয়াকে অস্বীকার করে। ফলে নিষ্ফল হয়ে যায় তাদের সব আমল। তাই আমরা কিয়ামতের দিন তাদের জন্যে ওজন কায়েম করবো না।

মুহিউদ্দীন খান

জাহান্নাম - এটাই তাদের প্রতিফল; কারণ, তারা হয়েছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও রসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয় রূপে গ্রহণ করেছে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘এ জন্যই তাদের প্রতিফল জাহান্নাম। কারণ তারা করেছে এবং আমার আয়াতসমূহ ও আমার রাসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয় বানিয়েছে’।

জহুরুল হক

এটাই তো, - - তাদের প্রাপ্য হচ্ছে জাহান্নাম যেহেতু তারা অবিশ্বাস পোষণ করেছিল এবং আমার নির্দেশাবলী ও আমার রসূলগণকে তারা তুচ্ছ - তাচ্ছিল্য করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা প্রতিদান পাবে জাহান্নাম তাদের কুফুরির কারণে আর এ কারণে যে, তারা আমার আয়াত এবং আমার রসূলদেরকে বিদ্রূপের লক্ষ্যস্থল বানিয়েছে।

মুহিউদ্দীন খান

যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্যে আছে জান্নাতুল ফেরদাউস।

বয়ান ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের মেহমানদারির জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে তাদের জন্য রয়েছে বেহেশতের বাগান অভ্যর্থনার কারণে, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে তাদের আতিথ্যের জন্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস।

মুহিউদ্দীন খান

সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে স্থান পরিবর্তন করতে চাইবে না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সেখানে তারা স্থায়ী হবে। তারা সেখান থেকে অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হতে চাইবে না।

জহুরুল হক

তারা সেখানে থাকবে স্থায়ীভাবে, সেখান থেকে কোনো পরিবর্তন তারা চাইবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

চিরদিন থাকবে তারা সেখানে। তারা সেখান থেকে স্থানান্তর হতে চাইবে না।

মুহিউদ্দীন খান

বলুনঃ আমার পালনকর্তার কথা, লেখার জন্যে যদি সমুদ্রের পানি কালি হয়, তবে আমার পালনকর্তার কথা, শেষ হওয়ার আগেই সে সমুদ্র নিঃশেষিত হয়ে যাবে। সাহায্যার্থে অনুরূপ আরেকটি সমুদ্র এনে দিলেও।

বয়ান ফাউন্ডেশন

বল, ‘আমার রবের কথা লেখার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়ে যায় তবে সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে আমার রবের কথা শেষ হওয়ার আগেই। যদিও এর সাহায্যার্থে অনুরূপ আরো সমুদ্র নিয়ে আসি’।

জহুরুল হক

বলো - - ''সাগর যদি কালি হয়ে যেত আমার প্রভুর কলিমাহ্‌র জন্য তবে নিশ্চয়ই সাগর নিঃশেষ হয়ে যেত আমার প্রভুর কলিমাহ্ শেষ হওয়ার আগে’’, - - যদিও বা আমরা তার মতো আরেকটি আনতাম যোগ করতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: আমার প্রভুর কথা লেখার জন্যে সমুদ্র যদি কালি হয়, তবে আমার প্রভুর কথা শেষ হবার পূর্বেই সমুদ্র শুকিয়ে যাবে, এমনকি এ কাজের সাহায্যার্থে অনুরূপ আরো সমুদ্র আনলেও।

মুহিউদ্দীন খান

বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র । অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

বল, ‘আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার নিকট ওহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের ইলাহই এক । সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে’।

জহুরুল হক

বলো - - ''আমি নিঃসন্দেহ তোমাদেরই মতন একজন মানুষ, আমার কাছে প্রত্যাদিষ্ট হয়েছে যে নিঃসন্দেহ তোমাদের উপাস্য একক উপাস্য, সেজন্য যে কেউ তার প্রভুর সঙ্গে মুলাকাতের কামনা করে সে তবে সৎকর্ম করুক এবং তার প্রভুর উপাসনায় অন্য কাউকেও শরীক না করুক।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ। তবে আমার কাছে অহি আসে যে, তোমাদের ইলাহ্ একজন মাত্র ইলাহ্। যে কেউ তার প্রভুর সাক্ষাতের প্রত্যাশা করে, সে যেনো আমলে সালেহ্ করে এবং তার প্রভুর ইবাদতে কাউকেও শরিক না করে।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme