হা - মীম।
হা - মিম।
بسم الله الرحمن الرحيم حم
হা-মীম।
Chapter 40, 85 verses
হা - মীম।
হা - মিম।
بسم الله الرحمن الرحيم حم
হা-মীম।
কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে, যিনি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ।
এই কিতাব নাযিল হচ্ছে মহাশক্তিধর মহাজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকে।
تنزيل الكتاب من الله العزيز العليم
মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকে এই কিতাব নাযিলকৃত।
পাপ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা ও সামর্থ্যবান। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তাঁরই দিকে হবে প্রত্যাবর্তন।
যিনি পাপ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী এবং কঠোর শাস্তিদাতা ও পরম দয়াবান। কোনো ইলাহ্ নেই তিনি ছাড়া। সবাইকে ফিরে যেতে হবে তাঁরই কাছে।
غافر الذنب وقابل التوب شديد العقاب ذي الطول ۖ لا إله إلا هو ۖ إليه المصير
তিনি পাপ ক্ষমাকারী, তাওবা কবূলকারী, কঠোর আযাবদাতা, অনুগ্রহ বর্ষণকারী। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) নেই। তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন।
কাফেররাই কেবল আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে। কাজেই নগরীসমূহে তাদের বিচরণ যেন আপনাকে বিভ্রান্তিতে না ফেলে।
কাফিররা ছাড়া আর কেউই আল্লাহর আয়াত নিয়ে তর্ক করেনা। দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেনো তোমাকে প্রতারিত না করে।
ما يجادل في آيات الله إلا الذين كفروا فلا يغررك تقلبهم في البلاد
কাফিররাই কেবল আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়। সুতরাং দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে।
তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় মিথ্যারোপ করেছিল, আর তাদের পরে অন্য অনেক দল ও প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ পয়গম্বরকে আক্রমণ করার ইচ্ছা করেছিল এবং তারা মিথ্যা বিতর্কে প্রবৃত্ত হয়েছিল, যেন সত্যধর্মকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। অতঃপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। কেমন ছিল আমার শাস্তি।
তাদের আগেও (আল্লাহর রসূলকে) প্রত্যাখ্যান করেছিল নূহের জাতি এবং তাদের পরে অন্যান্য সম্প্রদায়। প্রত্যেক উম্মতই তাদের নিজ নিজ রসূলকে আবদ্ধ করার চক্রান্ত করেছিল এবং তারা অর্থহীন বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল সত্যকে ব্যর্থ করার উদ্দেশ্যে। ফলে আমি তাদের পাকড়াও করেছিলাম এবং কতো যে নিকৃষ্ট ছিলো আমার সেই আযাব।
كذبت قبلهم قوم نوح والأحزاب من بعدهم ۖ وهمت كل أمة برسولهم ليأخذوه ۖ وجادلوا بالباطل ليدحضوا به الحق فأخذتهم ۖ فكيف كان عقاب
এদের পূর্বে নূহের কওম এবং তাদের পরে অনেক দলও অস্বীকার করেছিল। প্রত্যেক উম্মতই স্ব স্ব রাসূলকে পাকড়াও করার সংকল্প করেছিল এবং সত্যকে বিদূরীত করার উদ্দেশ্যে তারা অসার বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল। ফলে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। সুতরাং কেমন ছিল আমার আযাব!
এভাবে কাফেরদের বেলায় আপনার পালনকর্তার এ বাক্য সত্য হল যে, তারা জাহান্নামী।
এভাবেই কাফিরদের জন্যে প্রযোজ্য হয়েছিল তোমার প্রভুর এই ফায়সালা যে, তারা জাহান্নামী।
وكذلك حقت كلمت ربك على الذين كفروا أنهم أصحاب النار
আর এভাবে কাফিরদের ক্ষেত্রে তোমার রবের বাণী সত্যে পরিণত হল যে, নিশ্চয় এরা জাহান্নামী।
যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।
যারা (যেসব ফেরেশতা) আল্লাহর আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা আছে আরশের চারপাশে, তারা তাদের প্রভুর প্রশংসাসহ তসবিহ করছে। তারা তাঁর প্রতি ঈমান রাখে এবং তারা মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে। তারা বলে: ‘‘আমাদের প্রভু! সর্বত্র পরিব্যাপ্ত রয়েছে তোমার রহমত এবং এলেম। সুতরাং তুমি সেইসব লোকদের ক্ষমা করে দাও যারা তওবা করেছে এবং তোমার পথের অনুসরণ করেছে, আর তুমি তাদের রক্ষা করো জাহিমের (জাহান্নামের) আযাব থেকে।
الذين يحملون العرش ومن حوله يسبحون بحمد ربهم ويؤمنون به ويستغفرون للذين آمنوا ربنا وسعت كل شيء رحمة وعلما فاغفر للذين تابوا واتبعوا سبيلك وقهم عذاب الجحيم
যারা আরশকে ধারণ করে এবং যারা এর চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করে এবং তাঁর প্রতি ঈমান রাখে। আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা চেয়ে বলে যে, ‘হে আমাদের রব, আপনি রহমত ও জ্ঞান দ্বারা সব কিছুকে পরিব্যপ্ত করে রয়েছেন। অতএব যারা তাওবা করে এবং আপনার পথ
হে আমাদের পালনকর্তা, আর তাদেরকে দাখিল করুন চিরকাল বসবাসের জান্নাতে, যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের বাপ - দাদা, পতি - পত্নী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আমাদের প্রভু! তুমি তাদের দাখিল করো চিরস্থায়ী জান্নাতে, যার ওয়াদা তুমি তাদের দিয়েছো এবং তাদের বাবা - মা, স্বামী - স্ত্রী ও সন্তানদের যারা শুদ্ধতার ও পুণ্যের কাজ করছে তাদেরকেও দাখিল করো তাতে। নিশ্চয়ই তুমি মহাশক্তিমান ও প্রজ্ঞাময়।
ربنا وأدخلهم جنات عدن التي وعدتهم ومن صلح من آبائهم وأزواجهم وذرياتهم ۚ إنك أنت العزيز الحكيم
‘হে আমাদের রব, আর আপনি তাদেরকে স্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করান, যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন। আর তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নি ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করেছে তাদেরকেও। নিশ্চয় আপনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়।’
এবং আপনি তাদেরকে অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন। আপনি যাকে সেদিন অমঙ্গল থেকে রক্ষা করবেন, তার প্রতি অনুগ্রহই করবেন। এটাই মহাসাফল্য।
আর তুমি তাদের রক্ষা করো সমস্ত অনিষ্ট ও অমঙ্গল থেকে, আর সেদিন তুমি যাকে রক্ষা করবে অনিষ্ট - অমঙ্গল থেকে, অবশ্যি তার প্রতি রহম (অনুগ্রহ) করবে। আর এটাই হবে (তার জন্যে) মহাসাফল্য।’’
وقهم السيئات ۚ ومن تق السيئات يومئذ فقد رحمته ۚ وذلك هو الفوز العظيم
‘আর আপনি তাদের অপরাধের আযাব হতে রক্ষা করুন এবং সেদিন আপনি যাকে অপরাধের আযাব থেকে রক্ষা করবেন, অবশ্যই তাকে অনুগ্রহ করবেন। আর এটিই মহাসাফল্য।’
যারা তাদেরকে উচ্চঃস্বরে বলা হবে, তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের আজকের এ ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লার ক্ষোভ অধিক ছিল, যখন তোমাদেরকে ঈমান আনতে বলা হয়েছিল, অতঃপর তোমরা করছিল।
যারা কুফুরি করেছে তাদের ডেকে বলা হবে, ‘তোমাদের নিজেদের প্রতি নিজেদের ক্ষোভের চাইতে তোমাদের প্রতি আল্লাহর অসন্তুষ্টিই ছিলো অধিক, যখন তোমাদের ডাকা হয়েছিল ঈমানের দিকে, অথচ তোমরা অস্বীকার করছিলে ঈমান আনতে।’
إن الذين كفروا ينادون لمقت الله أكبر من مقتكم أنفسكم إذ تدعون إلى الإيمان فتكفرون
নিশ্চয় যারা করেছে তাদেরকে উচ্চকণ্ঠে বলা হবে; ‘তোমাদের নিজদের প্রতি তোমাদের (আজকের) এ অসন্তোষ অপেক্ষা অবশ্যই আল্লাহর অসন্তোষ অধিকতর ছিল, যখন তোমাদেরকে ঈমানের প্রতি আহবান করা হয়েছিল তারপর তোমরা তা অস্বীকার করেছিলে’।
তারা বলবে হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি আমাদেরকে দু’বার মৃত্যু দিয়েছেন এবং দু’ বার জীবন দিয়েছেন। এখন আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। অতঃপর এখন ও নিস্কৃতির কোন উপায় আছে কি?
তখন তারা বলবে: ‘প্রভু! তুমি আমাদের দুইবার প্রাণহীন (মৃত) অবস্থায় রেখেছিলে আর জীবিত করেছো দুইবার। আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। এখন এখান থেকে বের হবার কোনো পথ পাওয়া যাবে কি?’
قالوا ربنا أمتنا اثنتين وأحييتنا اثنتين فاعترفنا بذنوبنا فهل إلى خروج من سبيل
তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে দু’বার মৃত্যু দিয়েছেন এবং দু’বার জীবন দিয়েছেন। অতঃপর আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। অতএব (জাহান্নাম থেকে) বের হবার কোন পথ আছে কি’?
তোমাদের এ বিপদ এ কারণে যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হত, তখন তোমরা হয়ে যেতে যখন তার সাথে শরীককে ডাকা হত তখন তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করতে। এখন আদেশ তাই, যা করবেন, যিনি সর্বোচ্চ, মহান।
(বলা হবে:) ‘তোমাদের এই শাস্তি তো এ কারণে যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হতো তোমরা তাঁর প্রতি কুফুরি করতে, অথচ তাঁর সাথে কেউ শরিক সাব্যস্ত করলে সে কথার প্রতি তোমারা ঈমান আনতে।’ মূলত সমস্ত কর্তৃত্বের মালিক তো এক সর্বোচ্চ মহান ।
ذلكم بأنه إذا دعي الله وحده كفرتم ۖ وإن يشرك به تؤمنوا ۚ فالحكم لله العلي الكبير
[তাদেরকে বলা হবে] ‘এটা তো এজন্য যে, যখন আল্লাহকে এককভাবে ডাকা হত তখন তোমরা তাঁকে অস্বীকার করতে আর যখন তাঁর সাথে শরীক করা হত তখন তোমরা বিশ্বাস করতে। সুতরাং যাবতীয় কর্তৃত্ব সমুচ্চ, মহান আল্লাহর’।
তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং তোমাদের জন্যে আকাশ থেকে নাযিল করেন রুযী। চিন্তা - ভাবনা তারাই করে, যারা আল্লাহর দিকে রুজু থাকে।
তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলি দেখান এবং আসমান থেকে নাযিল করেন তোমাদের রিযিক। আল্লাহর অভিমুখী ব্যক্তিই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে।
هو الذي يريكم آياته وينزل لكم من السماء رزقا ۚ وما يتذكر إلا من ينيب
তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং আকাশ থেকে তোমাদের জন্য রিযক পাঠান। আর যে অভিমুখী সেই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে খাঁটি বিশ্বাস সহকারে ডাক, যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে।
অতএব, আল্লাহকে ডাকো তাঁর প্রতি আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে, যদিও কাফিররা এটা পছন্দ করেনা।
فادعوا الله مخلصين له الدين ولو كره الكافرون
সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ডাক, তাঁর উদ্দেশ্যে দীনকে একনিষ্ঠভাবে নিবেদিত করে। যদিও কাফিররা অপছন্দ করে।
তিনিই সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের মালিক, তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা তত্ত্বপূর্ণ বিষয়াদি নাযিল করেন, যাতে সে সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করে।
তিনি উঁচু মর্যাদার অধিকারী, আরশের অধিপতি। তিনি তাঁর বান্দাদের যার প্রতি ইচ্ছা তাঁর নির্দেশ প্রেরণ করেন অহির মাধ্যমে, যাতে করে সে সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে (মানুষকে) সতর্ক করতে পারে।
رفيع الدرجات ذو العرش يلقي الروح من أمره على من يشاء من عباده لينذر يوم التلاق
সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের অধিপতি, তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যার প্রতি ইচ্ছা আপন নির্দেশে তিনি ওহী পাঠান, যেন সে মহামিলন সম্পর্কে সতর্ক করেন।
যেদিন তারা বের হয়ে পড়বে, আল্লাহর কাছে তাদের কিছুই গোপন থাকবে না। আজ রাজত্ব কার? এক প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহর।
সেদিন তাদের সব কিছু প্রকাশ হয়ে পড়বে। আল্লাহর কাছে তাদের কিছুই গোপন নেই। (সেদিন জিজ্ঞাসা করা হবে:) আজ সমস্ত কর্তৃত্ব কার? (সমস্ত সৃষ্টি বলে উঠবে:) আল্লাহর, যিনি এক, মহাপরাক্রমশালী।
يوم هم بارزون ۖ لا يخفى على الله منهم شيء ۚ لمن الملك اليوم ۖ لله الواحد القهار
যে দিন লোকেরা প্রকাশ হয়ে পড়বে। সে দিন আল্লাহর নিকট তাদের কিছুই গোপন থাকবে না। ‘আজ রাজত্ব কার’? প্রবল প্রতাপশালী এক আল্লাহর।
আজ প্রত্যেকেই তার কৃতকর্মের প্রতিদান পাবে। আজ যুলুম নেই। নিশ্চয় দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
আজ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেয়া হবে। আজ কারো প্রতি কোনো প্রকার যুলুম (অবিচার) করা হবেনা। দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
اليوم تجزى كل نفس بما كسبت ۚ لا ظلم اليوم ۚ إن الله سريع الحساب
আজ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার অর্জন অনুসারে প্রতিদান দেয়া হবে। আজ কোন যুল্ম নেই। নিশ্চয় দ্রুত হিসাবগ্রহণকারী।
আপনি তাদেরকে আসন্ন দিন সম্পর্কে সতর্ক করুন, যখন প্রাণ কন্ঠাগত হবে, দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। পাপিষ্ঠদের জন্যে কোন বন্ধু নেই এবং সুপারিশকারীও নেই; যার সুপারিশ গ্রাহ্য হবে।
তাদের সতর্ক করে দাও আসন্ন দিন সম্পর্কে যখন দুঃখ - দুদর্শায় তাদের প্রাণ হবে কণ্ঠাগত। যালিমদের জন্যে কোনো সহমর্মী থাকবে না এবং এমন কোনো সুপারিশকারীও থাকবে না, যার সুপারিশ গ্রহণ করা যেতে পারে।
وأنذرهم يوم الآزفة إذ القلوب لدى الحناجر كاظمين ۚ ما للظالمين من حميم ولا شفيع يطاع
আর তুমি তাদের আসন্ন দিন সম্পর্কে সতর্ক করে দাও। যখন তাদের প্রাণ কণ্ঠাগত হবে দুঃখ, কষ্ট সংবরণ অবস্থায়। যালিমদের জন্য নেই কোন অকৃত্রিম বন্ধু, নেই এমন কোন সুপারিশকারী যাকে গ্রাহ্য করা হবে।
চোখের চুরি এবং অন্তরের গোপন বিষয় তিনি জানেন।
চোখের খিয়ানত এবং অন্তরের গোপন কথা তিনি জানেন।
يعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور
চক্ষুসমূহের খেয়ানত এবং অন্তরসমূহ যা গোপন রাখে তিনি তা জানেন।
ফয়সালা করেন সঠিকভাবে, আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদেরকে ডাকে, তারা কিছুই ফয়সালা করে না। নিশ্চয় সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন।
ন্যায় বিচার করবেন। তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকে, তারা বিচার করতে অক্ষম। নিশ্চয়ই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
والله يقضي بالحق ۖ والذين يدعون من دونه لا يقضون بشيء ۗ إن الله هو السميع البصير
আর সঠিকভাবে ফয়সালা করেন এবং তাঁকে বাদ দিয়ে তারা যাদের ডাকে তারা কোন কিছুর ফয়সালা করতে পারবে না। নিশ্চয় , তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
তারা কি দেশ - বিদেশ ভ্রমণ করে না, যাতে দেখত তাদের পূর্বসুরিদের কি পরিণাম হয়েছে? তাদের শক্তি ও কীর্তি পৃথিবীতে এদের অপেক্ষা অধিকতর ছিল। অতঃপর তাদেরকে তাদের গোনাহের কারণে ধৃত করেছিলেন এবং থেকে তাদেরকে রক্ষাকারী কেউ হয়নি।
তারা কি জমিনে পরিভ্রমণ করে দেখেনা, তাদের আগেকার () লোকদের কী অবস্থা হয়েছিল? তারা ছিলো এদের চাইতেও শক্তিশালী এবং পৃথিবীতে অধিক প্রভাব প্রতিপত্তির অধিকারী। তাদের অপরাধের জন্যে তাদেরকেও পাকড়াও করেছিলেন। আল্লাহর পাকড়াও থেকে তাদেরকে রক্ষাকারী কেউ ছিলনা।
۞ أولم يسيروا في الأرض فينظروا كيف كان عاقبة الذين كانوا من قبلهم ۚ كانوا هم أشد منهم قوة وآثارا في الأرض فأخذهم الله بذنوبهم وما كان لهم من الله من واق
এরা কি যমীনে বিচরণ করে না? তাহলে দেখত, তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের পরিণতি কেমন হয়েছিল? তারা এদের তুলনায় যমীনে শক্তিমত্তা ও প্রভাব বিস্তারে প্রবলতর ছিল। অতঃপর তাদের পাকড়াও করলেন তাদের পাপাচারের কারণে। আর তাদের জন্য ছিল না আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন রক্ষা
এর কারণ এই যে, তাদের কাছে তাদের রসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আগমন করত, অতঃপর তারা হয়ে যায়, তখন তাদের ধৃত করেন। নিশ্চয় তিনি শক্তিধর, কঠোর শাস্তিদাতা।
এর কারণ, তাদের কাছে তাদের রসূলরা এসেছিল সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে, কিন্তু তারা (ঈমান আনতে) অস্বীকার করে। ফলে তাদের পাকড়াও করেন। তিনি অতি শক্তিশালী, কঠোর শাস্তিদাতা।
ذلك بأنهم كانت تأتيهم رسلهم بالبينات فكفروا فأخذهم الله ۚ إنه قوي شديد العقاب
এটি এ কারণে যে, তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আসত, কিন্তু তারা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করত। ফলে তাদেরকে পাকড়াও করলেন। নিশ্চয় তিনি শক্তিমান, আযাবদানে কঠোর।
আমি আমার নিদর্শনাবলী ও স্পষ্ট প্রমাণসহ মূসাকে প্রেরণ করেছি।
আমরা মূসাকে পাঠিয়েছিলাম আমাদের নিদর্শন এবং সুস্পষ্ট প্রমাণসহ
ولقد أرسلنا موسى بآياتنا وسلطان مبين
আর অবশ্যই আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলী ও স্পষ্ট প্রমাণসহ প্রেরণ করেছিলাম।
ফেরাউন, হামান ও কারুণের কাছে, অতঃপর তারা বলল, সে তো জাদুকর, মিথ্যাবাদী।
ফেরাউন, হামান ও কারূণের কাছে। কিন্তু তারা তাকে বলেছিল: ‘এতো এক ম্যাজেসিয়ান কট্টর মিথ্যাবাদী।’
إلى فرعون وهامان وقارون فقالوا ساحر كذاب
ফির‘আউন, হামান ও কারূনের প্রতি। অতঃপর তারা বলল, ‘সে এক যাদুকর, চরম মিথ্যাবাদী’।
অতঃপর মূসা যখন আমার কাছ থেকে সত্যসহ তাদের কাছে পৌঁছাল; তখন তারা বলল, যারা তার সঙ্গী হয়ে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা কর, আর তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখ। কাফেরদের চক্রান্ত ব্যর্থই হয়েছে।
যখন তাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে সত্য পৌঁছালো, তারা বললো: ‘মূসার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদের পুত্র সন্তানদের হত্যা করো, আর জীবিত রাখো তাদের নারীদের।’ কাফিরদের চক্রান্ত ব্যর্থ হতে বাধ্য।
فلما جاءهم بالحق من عندنا قالوا اقتلوا أبناء الذين آمنوا معه واستحيوا نساءهم ۚ وما كيد الكافرين إلا في ضلال
অতঃপর যখন মূসা আমার কাছ থেকে সত্য নিয়ে তাদের কাছে উপস্থিত হয়েছিল, তখন তারা বলল, ‘যারা তার সাথে ঈমান এনেছে তোমরা তাদের ছেলে-সন্তানদেরকে হত্যা কর এবং তাদের মেয়ে-সন্তানদেরকে জীবিত রাখ’। আর কাফিরদের ষড়যন্ত্র কেবল ব্যর্থই হবে।
ফেরাউন বলল; তোমরা আমাকে ছাড়, মূসাকে হত্যা করতে দাও, ডাকুক সে তার পালনকর্তাকে! আমি আশংকা করি যে, সে তোমাদের ধর্ম পরিবর্তন করে দেবে অথবা সে দেশময় বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।
ফেরাউন বললো: ‘তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি মূসাকে কতল করে ফেলবো, সে তার প্রভুকে ডেকে দেখুক (তাকে রক্ষা করতে পারে কিনা)। আমি আশংকা করছি সে তোমাদের দীন (রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রক্ষমতা) বদল করে ফেলবে, কিংবা দেশে সৃষ্টি করবে বিপর্যয় বিশৃংখলা।’
وقال فرعون ذروني أقتل موسى وليدع ربه ۖ إني أخاف أن يبدل دينكم أو أن يظهر في الأرض الفساد
আর ফির‘আউন বলল, ‘আমাকে ছেড়ে দাও, আমি মূসাকে হত্যা করি এবং সে তার রবকে ডাকুক; নিশ্চয় আমি আশঙ্কা করি, সে তোমাদের দীন পাল্টে দেবে অথবা সে যমীনে বিপর্যয় ছড়িয়ে দেবে।
মূসা বলল, যারা হিসাব দিবসে বিশ্বাস করে না এমন প্রত্যেক অহংকারী থেকে আমি আমার ও তোমাদের পালনকর্তার আশ্রয় নিয়ে নিয়েছি।
মূসা বললো: ‘হিসাবের দিনের প্রতি ঈমান রাখেনা এমন প্রত্যেক দাম্ভিক ব্যক্তি থেকে আমি আমার ও তোমাদের প্রভুর আশ্রয় গ্রহণ করেছি।’
وقال موسى إني عذت بربي وربكم من كل متكبر لا يؤمن بيوم الحساب
মূসা বলল, ‘আমি আমার রব ও তোমাদের রবের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি প্রত্যেক অহঙ্কারী থেকে, যে বিচার দিনের প্রতি ঈমান রাখে না’।
ফেরাউন গোত্রের এক ব্যক্তি, যে তার ঈমান গোপন রাখত, সে বলল, তোমরা কি একজনকে এজন্যে হত্যা করবে যে, সে বলে, আমার পালনকর্তা , অথচ সে তোমাদের পালনকর্তার নিকট থেকে স্পষ্ট প্রমাণসহ তোমাদের নিকট আগমন করেছে? যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার মিথ্যাবাদিতা তার উপরই চাপবে, আর যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে সে যে শাস্তির কথা বলছে, তার কিছু না কিছু তোমাদের উপর পড়বেই। নিশ্চয় সীমালংঘনকারী, মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না।
তখন ফেরাউন সভাসদদের এক ব্যক্তি, যে এতোদিন তার ঈমান গোপন করে রেখেছিল, বললো: ‘‘ আমার প্রভু’ শুধু একথাটি বলার কারণেই কি তোমরা একজন মহাপুরুষকে হত্যা করবে? অথচ তিনি তো তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শন নিয়ে এসেছেন। তোমরা যে তাঁকে মিথ্যাবাদী বলছো, তিনি মিথ্যাবাদী হয়ে থাকলে তাঁর মিথ্যার দায় দায়িত্ব তো তাঁর। কিন্তু তিনি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকেন, তবে যেসব ভয়ংকর পরিণতির কথা তিনি বলছেন তার কিছুটা হলেও তো গ্রাস করবে তোমাদের। সীমালংঘনকারী মিথ্যাবাদীদের সঠিক পথ দেখান না।
وقال رجل مؤمن من آل فرعون يكتم إيمانه أتقتلون رجلا أن يقول ربي الله وقد جاءكم بالبينات من ربكم ۖ وإن يك كاذبا فعليه كذبه ۖ وإن يك صادقا يصبكم بعض الذي يعدكم ۖ إن الله لا يهدي من هو مسرف كذاب
‘আর ফির‘আউন বংশের এক ব্যক্তি যে তার ঈমান গোপন রাখছিল সে বলল, ‘তোমরা কি একটি লোককে কেবল এ কারণে হত্যা করবে যে সে বলে, ‘আমার রব ’ অথচ সে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে? সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপরই বর্তাবে তা
হে আমার কওম, আজ এদেশে তোমাদেরই রাজত্ব, দেশময় তোমরাই বিচরণ করছ; কিন্তু আমাদের আল্লাহর শাস্তি এসে গেলে কে আমাদেরকে সাহায্য করবে? ফেরাউন বলল, আমি যা বুঝি, তোমাদেরকে তাই বোঝাই, আর আমি তোমাদেরকে মঙ্গলের পথই দেখাই।
হে আমার জাতির ভাইয়েরা! আজ তোমরা রাজত্বের অধিকারী এবং এই ভূখন্ডের বিজয়ী শক্তি। কিন্তু আল্লাহর আযাব এসে পড়লে আমাদের সাহায্য করার কে আছে?’’ ফেরাউন (তার বক্তব্যের মাঝখানে) বলে উঠে: ‘আমি যে পথ ভালো মনে করছি সে পথই তোমাদের দেখাচ্ছি আর আমি তো তোমাদের সঠিক পথই দেখাচ্ছি।’
يا قوم لكم الملك اليوم ظاهرين في الأرض فمن ينصرنا من بأس الله إن جاءنا ۚ قال فرعون ما أريكم إلا ما أرى وما أهديكم إلا سبيل الرشاد
‘হে আমার কওম, আজ তোমাদের রাজত্ব; যমীনে তোমরাই কর্তৃত্বশীল; কিন্তু আল্লাহর আযাব আসলে কে আমাদেরকে সাহায্য করবে’? ফির‘আউন বলল, ‘যা আমি সঠিক মনে করি তা-ই আমি তোমাদেরকে দেখাই আর আমি তোমাদেরকে কেবল সঠিক পথই দেখাই’।
সে ব্যক্তি বললঃ হে আমার কওম, আমি তোমাদের জন্যে পূর্ববর্তী সম্প্রদায়সমূহের মতই বিপদসঙ্কুল দিনের আশংকা করি।
যে ঈমান এনেছিল সে বললো: ‘‘হে আমার জাতির ভাইয়েরা! আমি আশংকা করছি, তোমাদের উপর সে রকম আযাব না এসে যায়, যে রকম আযাব এসেছিল ইতোপূর্বে (নিজেদের নবীকে অস্বীকার ও অমান্য করার কারণে) বিভিন্ন জাতির উপর।
وقال الذي آمن يا قوم إني أخاف عليكم مثل يوم الأحزاب
আর যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল সে আরো বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়, নিশ্চয় আমি তোমাদের ব্যাপারে পূর্ববর্তী দলসমূহের দিনের অনুরূপ আশঙ্কা করি’;
যেমন, কওমে নূহ, আদ, সামুদ ও তাদের পরবর্তীদের অবস্থা হয়েছিল। বান্দাদের প্রতি কোন যুলুম করার ইচ্ছা করেন না।
যেমন এসেছিল নূহের কওম, আদ, সামুদ এবং তাদের পরবর্তী জাতিসমূহের উপর। আর একথা জেনে রেখো, কখনো তাঁর দাসদের প্রতি অবিচার করেননা।
مثل دأب قوم نوح وعاد وثمود والذين من بعدهم ۚ وما الله يريد ظلما للعباد
‘যেমন ঘটেছিল নূহ, ‘আদ ও ছামূদ-এর কওম এবং তাদের পরবর্তীদের। আর বান্দাদের উপর কোন যুলম করতে চান না।’
হে আমার কওম, আমি তোমাদের জন্যে প্রচন্ড হাঁক - ডাকের দিনের আশংকা করি।
হে আমার কওম! আমি আশংকা করছি, তোমাদের উপর এমন একটি সময় এসে পড়বে, যখন তোমরা ফরিয়াদ করবে, অনুশোচনা করবে, একে অপরকে ডাকতে থাকবে।
ويا قوم إني أخاف عليكم يوم التناد
‘আর হে আমার কওম, আমি তোমাদের জন্য পারস্পরিক ভয়ার্ত আহবান দিনের আশঙ্কা করি’।
যেদিন তোমরা পেছনে ফিরে পলায়ন করবে; কিন্তু থেকে তোমাদেরকে রক্ষাকারী কেউ থাকবে না। যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।
সেদিন তোমরা দৌড়ে পালাতে থাকবে, কিন্তু তখন আল্লাহর পাকড়াও থেকে তোমাদের বাঁচাবার কেউ থাকবেনা। আসলে যাকে বিপথগামী করে দেন তাকে কেউ সঠিক পথ দেখাতে পারেনা।’’
يوم تولون مدبرين ما لكم من الله من عاصم ۗ ومن يضلل الله فما له من هاد
‘যেদিন তোমরা পিছনে পালাতে চাইবে আল্লাহর থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করার জন্য কেউ থাকবে না; আর যাকে বিভ্রান্ত করেন তার জন্য কোন হিদায়াতকারী নেই’।
ইতিপূর্বে তোমাদের কাছে ইউসুফ সুস্পষ্ট প্রামাণাদিসহ আগমন করেছিল, অতঃপর তোমরা তার আনীত বিষয়ে সন্দেহই পোষণ করতে। অবশেষে যখন সে মারা গেল, তখন তোমরা বলতে শুরু করলে, ইউসুফের পরে আর কাউকে রসূলরূপে পাঠাবেন না। এমনিভাবে সীমালংঘনকারী, সংশয়ী ব্যক্তিকে পথভ্রষ্ট করেন।
ইতোপূর্বে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও নিদর্শন নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছিলেন (আল্লাহর নবী) ইউসুফ। তোমরা তাঁর আনীত শিক্ষার ব্যাপারেও সন্দেহই পোষণ করেছিলে। তাঁর মৃত্যুর পর তোমরা বলেছিলে: ‘এখন আর কোনো রসূল পাঠাবেন না। এভাবেই সেসব লোকদের গোমরাহিতে নিক্ষেপ করেন, যারা সীমালংঘনকারী সংশয়পরায়ণ।’
ولقد جاءكم يوسف من قبل بالبينات فما زلتم في شك مما جاءكم به ۖ حتى إذا هلك قلتم لن يبعث الله من بعده رسولا ۚ كذلك يضل الله من هو مسرف مرتاب
আর অবশ্যই পূর্বে তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ ইউসুফ এসেছিল, সে যা নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছিল তা নিয়ে তোমরা সন্দেহে স্থির ছিলে; এমনকি যখন সে মারা গেল তখন তোমরা বললে, ‘ তার পরে কখনো কোন রাসূল পাঠাবেন না’। যে সীমালংঘনকারী, সংশয়বাদী, তাকে এভাব
যারা নিজেদের কাছে আগত কোন দলীল ছাড়াই আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের একজন ও মুমিনদের কাছে খুবই অসন্তোষজনক। এমনিভাবে প্রত্যেক অহংকারী - স্বৈরাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর এঁটে দেন।
তারা আল্লাহর আয়াতের (নিদর্শনের) ব্যাপারে বিবাদ করে, অথচ এ ব্যাপারে তাদের মতের সপক্ষে কোনো সার্টিফিকেট আসেনি। আল্লাহর কাছে এবং ঈমানদারদের কাছে বড়ই ঘৃণা ও ক্রোধ উদ্রেককারী তাদের এ আচরণ। এভাবেই তিনি সীল মোহর মেরে দেন প্রত্যেক দাম্ভিক স্বৈরাচারীর কলবে।
الذين يجادلون في آيات الله بغير سلطان أتاهم ۖ كبر مقتا عند الله وعند الذين آمنوا ۚ كذلك يطبع الله على كل قلب متكبر جبار
যারা নিজদের কাছে আগত কোন দলীল-প্রমাণ ছাড়া আল্লাহর নিদর্শনাবলী সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়। তাদের এ কাজ ও মুমিনদের দৃষ্টিতে অতিশয় ঘৃণার্হ। এভাবেই প্রত্যেক অহঙ্কারী স্বৈরাচারীর অন্তরে সীল মেরে দেন।
ফেরাউন বলল, হে হামান, তুমি আমার জন্যে একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ কর, হয়তো আমি পৌঁছে যেতে পারব।
ফেরাউন বললো: ‘‘হে হামান! আমার জন্যে একটি উঁচু টাওয়ার নির্মাণ করো, যাতে আমি পথসমূহে উঠতে পারি,
وقال فرعون يا هامان ابن لي صرحا لعلي أبلغ الأسباب
ফির‘আউন আরও বলল, ‘হে হামান, আমার জন্য একটি উঁচু ইমারত বানাও যাতে আমি অবলম্বন পাই’।
আকাশের পথে, অতঃপর উঁকি মেরে দেখব মূসার আল্লাহকে। বস্তুতঃ আমি তো তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি। এভাবেই ফেরাউনের কাছে সুশোভিত করা হয়েছিল তার মন্দ কর্মকে এবং সোজা পথ থেকে তাকে বিরত রাখা হয়েছিল। ফেরাউনের চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ারই ছিল।
আসমানের পথসমূহে, যেখান থেকে আমি মূসার ইলাহকে উঁকি মেরে দেখতে পাবো। তবে আমি তাকে (মূসাকে) মিথ্যাবাদী বলেই মনে করি।’’ এভাবেই ফেরাউনের জন্যে তার দুষ্কর্মসমূহ সুশোভিত করে দেয়া হয়েছে এবং থামিয়ে দেয়া হয়েছে তার জন্যে সোজা পথে চলা। তবে ফেরাউনের সব চক্রান্ত তাকেই ঠেলে দিয়েছে ধ্বংসের পথে।
أسباب السماوات فأطلع إلى إله موسى وإني لأظنه كاذبا ۚ وكذلك زين لفرعون سوء عمله وصد عن السبيل ۚ وما كيد فرعون إلا في تباب
‘আসমানে আরোহরণের অবলম্বন, যাতে আমি মূসার ইলাহকে দেখতে পাই, আর আমি কেবল তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি’। আর এভাবে ফির‘আউনের কাছে তার মন্দ কাজ শোভিত করে দেয়া হয়েছিল এবং তাকে বাধা দেয়া হয়েছিল সৎপথ থেকে। আর ফির‘আউনের ষড়যন্ত্র কেবল ব্যর্থই হয়েছিল।
লোকটি বললঃ হে আমার কওম, তোমরা আমার অনুসরণ কর। আমি তোমাদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করব।
যে ঈমান এনেছিল, সে আরো বললো: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা আমাকে অনুসরণ করো, আমি তোমাদের সঠিক পথ দেখাবো।
وقال الذي آمن يا قوم اتبعون أهدكم سبيل الرشاد
আর যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল, সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা আমার আনুগত্য কর; আমি তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখাব’।
হে আমার কওম, পার্থিব এ জীবন তো কেবল উপভোগের বস্তু, আর পরকাল হচ্ছে স্থায়ী বসবাসের গৃহ।
হে আমার কওম! এই দুনিয়ার জীবনটা তো সামান্য ভোগের সময় মাত্র। আর আখিরাতই হলো চিরস্থায়ী আবাস।
يا قوم إنما هذه الحياة الدنيا متاع وإن الآخرة هي دار القرار
‘হে আমার কওম, এ দুনিয়ার জীবন কেবল ক্ষণকালের ভোগ; আর নিশ্চয় আখিরাতই হল স্থায়ী আবাস’।
যে মন্দ কর্ম করে, সে কেবল তার অনুরূপ প্রতিফল পাবে, আর যে, পুরুষ অথবা নারী অবস্থায় সৎকর্ম করে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তথায় তাদেরকে বে - হিসাব রিযিক দেয়া হবে।
যে কেউ কোনো মন্দ কাজ করবে, তাকে ততোটুকু প্রতিফলই দেয়া হবে। কিন্তু যে কোনো পুরুষ বা নারী আমলে সালেহ্ করবে, তারা প্রবেশ করবে জান্নাতে। সেখানে তাদের রিযিক দেয়া হবে বেহিসাব।
من عمل سيئة فلا يجزى إلا مثلها ۖ ومن عمل صالحا من ذكر أو أنثى وهو مؤمن فأولئك يدخلون الجنة يرزقون فيها بغير حساب
‘কেউ পাপ কাজ করলে তাকে শুধু পাপের সমান প্রতিদান দেয়া হবে আর যে পুরুষ অথবা নারী হয়ে সৎকাজ করবে, তবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেখানে তাদেরকে অগণিত রিয্ক দেয়া হবে।’
হে আমার কওম, ব্যাপার কি, আমি তোমাদেরকে দাওয়াত দেই মুক্তির দিকে, আর তোমরা আমাকে দাওয়াত দাও জাহান্নামের দিকে।
হে আমার কওম! এটা কেমন ব্যাপার, আমি তোমাদের দাওয়াত দিচ্ছি নাজাতের দিকে, অথচ তোমরা আমাকে দাওয়াত দিচ্ছো জাহান্নামের দিকে!
۞ ويا قوم ما لي أدعوكم إلى النجاة وتدعونني إلى النار
‘আর হে আমার কওম, আমার কী হল যে, আমি তোমাদেরকে মুক্তির দিকে ডাকছি আর তোমরা আমাকে ডাকছ আগুনের দিকে!’
তোমরা আমাকে দাওয়াত দাও, যাতে আমি আল্লাহকে অস্বীকার করি এবং তাঁর সাথে শরীক করি এমন বস্তুকে, যার কোন প্রমাণ আমার কাছে নেই। আমি তোমাদেরকে দাওয়াত দেই পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল আল্লাহর দিকে।
তোমরা আমাকে দাওয়াত দিচ্ছো, যেনো আমি আল্লাহর প্রতি কুফুরি করি এবং তাঁর সাথে শিরক করি, যে ব্যাপারে আমার কোনো এলেম নেই। অথচ আমি তোমাদের দাওয়াত দিচ্ছি মহাপরাক্রমশালী অতীব দয়াবানের দিকে।
تدعونني لأكفر بالله وأشرك به ما ليس لي به علم وأنا أدعوكم إلى العزيز الغفار
‘তোমরা আমাকে ডাকছ আমি যেন আল্লাহর সাথে করি, তাঁর সাথে শরীক করি যে ব্যাপারে আমার কোন জ্ঞান নেই; আর আমি তোমাদেরকে ডাকছি মহাপরাক্রমশালী ও পরম ক্ষমাশীলের দিকে।’
এতে সন্দেহ নেই যে, তোমরা আমাকে যার দিকে দাওয়াত দাও, হইকালে ও পরকালে তার কোন দাওয়াত নেই! আমাদের প্রত্যাবর্তন আল্লাহর দিকে এবং সীমা লংঘকারীরাই জাহান্নামী।
সন্দেহ নেই, প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে, তোমরা আমাকে যেসব জিনিসের দিকে দাওয়াত দিচ্ছো, সেগুলো এই দুনিয়ার জীবনেও দোয়া কবুল করার যোগ্যতা রাখেনা, আখিরাতেও নয়। আমাদের ফিরে যেতে হবে আল্লাহরই দিকে। আর অবশ্যি সীমালংঘনকারীরা হবে জাহান্নামের অধিবাসী।
لا جرم أنما تدعونني إليه ليس له دعوة في الدنيا ولا في الآخرة وأن مردنا إلى الله وأن المسرفين هم أصحاب النار
‘এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে, যার দিকে তোমরা আমাকে ডাকছ, সে দুনিয়া বা আখিরাতে কারো ডাকের যোগ্য নয়। আর আমাদের প্রত্যাবর্তন হবে আল্লাহর দিকে এবং নিশ্চয় সীমালংঘনকারীরা হবে আগুনের সাথী’।
আমি তোমাদেরকে যা বলছি, তোমরা একদিন তা স্মরণ করবে। আমি আমার ব্যাপার আল্লাহর কাছে সমর্পণ করছি। নিশ্চয় বান্দারা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে।
আমি তোমাদের যেসব কথা বলছি, তোমরা অচিরেই তা স্মরণ করবে। আমি আমার নিজের বিষয়টা ছেড়ে দিচ্ছি আল্লাহর উপর। নিশ্চয়ই তাঁর দাসদের প্রতি লক্ষ্য রাখেন।’’
فستذكرون ما أقول لكم ۚ وأفوض أمري إلى الله ۚ إن الله بصير بالعباد
‘আমি তোমাদেরকে যা বলছি, অচিরেই তোমরা তা স্মরণ করবে। আর আমার বিষয়টি আমি আল্লাহর নিকট সমর্পণ করছি; নিশ্চয় তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে সর্বদ্রষ্টা।’
অতঃপর তাকে তাদের চক্রান্তের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করলেন এবং ফেরাউন গোত্রকে শোচনীয় আযাব গ্রাস করল।
ফলে তাকে রক্ষা করেন তাদের ন্যাক্কারজনক চক্রান্ত থেকে। পক্ষান্তরে নিকৃষ্ট ধরনের আযাবের চক্রে পড়ে যায় ফেরাউনের সাংগ পাংগরাই।
فوقاه الله سيئات ما مكروا ۖ وحاق بآل فرعون سوء العذاب
অতঃপর তাদের ষড়যন্ত্রের অশুভ পরিণাম থেকে তাকে রক্ষা করলেন আর ফির‘আউনের অনুসারীদেরকে ঘিরে ফেলল কঠিন আযাব।
সকালে ও সন্ধ্যায় তাদেরকে আগুনের সামনে পেশ করা হয় এবং যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন আদেশ করা হবে, ফেরাউন গোত্রকে কঠিনতর আযাবে দাখিল কর।
সকাল সন্ধ্যায় তাদেরকে পেশ করা হয় জাহান্নামের সামনে। আর যেদিন কায়েম হবে কিয়ামত, সেদিন বলা হবে: ‘ফেরাউনের অনুসারীদের নিক্ষেপ করো কঠিন আযাবে।’
النار يعرضون عليها غدوا وعشيا ۖ ويوم تقوم الساعة أدخلوا آل فرعون أشد العذاب
আগুন, তাদেরকে সকাল-সন্ধ্যায় তার সামনে উপস্থিত করা হয়, আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে (সেদিন ঘোষণা করা হবে), ‘ফির‘আউনের অনুসারীদেরকে কঠোরতম আযাবে প্রবেশ করাও।’
যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্ক করবে, অতঃপর দূর্বলরা অহংকারীদেরকে বলবে, আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম। তোমরা এখন জাহান্নামের আগুনের কিছু অংশ আমাদের থেকে নিবৃত করবে কি?
জাহান্নামের মধ্যে যখন তারা পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হবে তখন দুর্বলরা দাম্ভিকদের বলবে: ‘আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম। এখন তোমরা কি আমাদের থেকে জাহান্নামের আগুনের কিছু অংশ নিবারণ করতে পারবে?
وإذ يتحاجون في النار فيقول الضعفاء للذين استكبروا إنا كنا لكم تبعا فهل أنتم مغنون عنا نصيبا من النار
আর জাহান্নামে তারা যখন বানানুবাদে লিপ্ত হবে তখন দুর্বলরা, যারা অহঙ্কার করেছিল, তাদেরকে বলবে, ‘আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, অতএব তোমরা কি আমাদের থেকে আগুনের কিয়দংশ বহন করবে’?
অহংকারীরা বলবে, আমরা সবাই তো জাহান্নামে আছি। তাঁর বান্দাদের ফয়সালা করে দিয়েছেন।
তখন দাম্ভিকরা বলবে: ‘আমরা প্রত্যেকেই তো জাহান্নামে আছি। তো তাঁর বান্দাদের মধ্যে ফায়সালা করেই দিয়েছেন।’
قال الذين استكبروا إنا كل فيها إن الله قد حكم بين العباد
অহঙ্কারীরা বলবে, ‘আমরা সবাই এতে আছি; নিশ্চয় বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করে ফেলেছেন।’
যারা জাহান্নামে আছে, তারা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে বল, তিনি যেন আমাদের থেকে একদিনের আযাব লাঘব করে দেন।
জাহান্নামীরা জাহান্নামের রক্ষীদের বলবে: ‘তোমাদের প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো তিনি যেনো আমাদের থেকে একদিনের জন্যে আযাব লাঘব করে দেন।’
وقال الذين في النار لخزنة جهنم ادعوا ربكم يخفف عنا يوما من العذاب
আর যারা আগুনে থাকবে তারা আগুনের দারোয়ানদেরকে বলবে, ‘তোমাদের রবকে একটু ডাকো না! তিনি যেন একটি দিন আমাদের আযাব লাঘব করে দেন।’
রক্ষীরা বলবে, তোমাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের রসূল আসেননি? তারা বলবে হঁ্যা। রক্ষীরা বলবে, তবে তোমরাই দোয়া কর। বস্তুতঃ কাফেরদের দোয়া নিস্ফলই হয়।
তারা বলবে: ‘তোমাদের কাছে কি তোমাদের রসূলরা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে যাননি।’ তারা বলবে: ‘হ্যাঁ, গিয়েছিলেন।’ তখন প্রহরীরা বলবে: ‘তাহলে তোমরাই প্রার্থনা করো, আর কাফিরদের প্রার্থনা ব্যর্থ হয়েই থাকে।’
قالوا أولم تك تأتيكم رسلكم بالبينات ۖ قالوا بلى ۚ قالوا فادعوا ۗ وما دعاء الكافرين إلا في ضلال
তারা বলবে, ‘তোমাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের রাসূলগণ আসেনি’? জাহান্নামীরা বলবে, ‘হ্যাঁ অবশ্যই’। দারোয়ানরা বলবে, ‘তবে তোমরাই দো‘আ কর। আর কাফিরদের দো‘আ কেবল নিষ্ফলই হয়’।
আমি সাহায্য করব রসূলগণকে ও মুমিনগণকে পার্থিব জীবনে ও সাক্ষীদের দন্ডায়মান হওয়ার দিবসে।
আমরা অবশ্য অবশ্যি সাহায্য করবো আমাদের রসূলদের এবং মুমিনদের, দুনিয়ার জীবনেও এবং সেদিনও, যেদিন দাঁড়াবে সাক্ষীরা।
إنا لننصر رسلنا والذين آمنوا في الحياة الدنيا ويوم يقوم الأشهاد
নিশ্চয় আমি আমার রাসূলদেরকে ও মুমিনদেরকে দুনিয়ার জীবনে এবং যেদিন সাক্ষীগণ দন্ডায়মান হবে সেদিন সাহায্য করব।
সে দিন যালেমদের ওযর - আপত্তি কোন উপকারে আসবে না, তাদের জন্যে থাকবে অভিশাপ এবং তাদের জন্যে থাকবে মন্দ গৃহ।
সেদিন যালিমদের ওজর - আপত্তিতে কোনো লাভ হবেনা। তাদের প্রতি লানত এবং তাদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস।
يوم لا ينفع الظالمين معذرتهم ۖ ولهم اللعنة ولهم سوء الدار
যেদিন যালিমদের কোন ওযর-আপত্তি তাদের উপকার করবে না। আর তাদের জন্য রয়েছে লা‘নত এবং তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট নিবাস।
নিশ্চয় আমি মূসাকে হেদায়েত দান করেছিলাম এবং বনী ইসরাঈলকে কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছিলাম।
আমরা মূসাকে দিয়েছিলাম আল হুদা (সত্য জীবন ব্যবস্থা সম্বলিত কিতাব), আর বনি ইসরাঈলকে ওয়ারিশ বানিয়েছিলাম সেই কিতাবের,
ولقد آتينا موسى الهدى وأورثنا بني إسرائيل الكتاب
আর অবশ্যই আমি মূসাকে হিদায়াত দান করেছিলাম এবং বনী ইসরাঈলকে কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছিলাম,
বুদ্ধিমানদের জন্যে উপদেশ ও হেদায়েত স্বরূপ।
যা ছিলো জীবন যাপনের নির্দেশনা এবং বুঝবুদ্ধি সম্পন্ন লোকদের জন্যে উপদেশ।
هدى وذكرى لأولي الألباب
যা জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্নদের জন্য হিদায়াত ও উপদেশ।
অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি আপনার গোনাহের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা করুন এবং সকাল - সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন।
অতএব (হে নবী!) তুমি সবর করো। আল্লাহর ওয়াদা অবশ্যি সত্য। আর তুমি ক্ষমা প্রার্থনা করো তোমার ভুলত্রুটির জন্যে। তোমার প্রভুর হামদসহ তসবিহ্ ঘোষণা করো সন্ধ্যায় এবং সকালে।
فاصبر إن وعد الله حق واستغفر لذنبك وسبح بحمد ربك بالعشي والإبكار
কাজেই তুমি ধৈর্য ধারণ কর, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আর তুমি তোমার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং সকাল- সন্ধ্যায় তোমার রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ কর।
নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে তাদের কাছে আগত কোন দলীল ব্যতিরেকে, তাদের অন্তরে আছে কেবল আত্নম্ভরিতা, যা অর্জনে তারা সফল হবে না। অতএব, আপনি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন।
কোনো প্রমাণ প্রাপ্তি ছাড়াই যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়, অবশ্যি তাদের অন্তরে রয়েছে অহংকার, যে পর্যন্ত তারা পৌঁছুতে পারবেনা। অতএব আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি সব শুনেন, সব দেখেন।
إن الذين يجادلون في آيات الله بغير سلطان أتاهم ۙ إن في صدورهم إلا كبر ما هم ببالغيه ۚ فاستعذ بالله ۖ إنه هو السميع البصير
নিশ্চয় যারা তাদের নিকট আসা কোন দলীল- প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহর নিদর্শনাবলী সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের অন্তরসমূহে আছে কেবল অহঙ্কার, তারা কিছুতেই সেখানে (সাফল্যের মনযিলে) পৌঁছবে না। কাজেই তুমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও, নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমন্ডল ও ভূ - মন্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না।
মহাকাশ এবং পৃথিবী সৃষ্টির কাজ মানুষ সৃষ্টির চেয়ে অনেক কঠিন কাজ। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানেনা।
لخلق السماوات والأرض أكبر من خلق الناس ولكن أكثر الناس لا يعلمون
অবশ্যই আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করা মানুষ সৃষ্টি করার চেয়ে বড় বিষয়; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না।
অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কুকর্মী। তোমরা অল্পই অনুধাবন করে থাক।
অন্ধ আর দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তি সমান নয়। যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে তারা, আর দুর্নীতিবাজরা সমতুল্য নয়। তোমরা খুব কমই শিক্ষা গ্রহণ করে থাকো।
وما يستوي الأعمى والبصير والذين آمنوا وعملوا الصالحات ولا المسيء ۚ قليلا ما تتذكرون
আর সমান হয় না অন্ধ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি এবং যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আর যারা অপরাধী। তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।
কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে সন্দেহ নেই; কিন্ত অধিকাংশ লোক বিশ্বাস স্থাপন করে না।
কিয়ামত অবশ্যি আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই ঈমান রাখেনা।
إن الساعة لآتية لا ريب فيها ولكن أكثر الناس لا يؤمنون
নিশ্চয় কিয়ামত আসবেই, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ লোক ঈমান আনে না।
তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার এবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে।
তোমাদের প্রভু বলেছেন: ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকের (দোয়ার) জবাব দেবো (দোয়া কবুল করবো)। নিশ্চয়ই যারা আমার ইবাদতের ব্যাপারে হঠকারিতা প্রদর্শন করে, শীঘ্রি তারা দাখিল হবে জাহান্নামে অপদস্ত হয়ে।
وقال ربكم ادعوني أستجب لكم ۚ إن الذين يستكبرون عن عبادتي سيدخلون جهنم داخرين
আর তোমাদের রব বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব। নিশ্চয় যারা অহঙ্কার বশতঃ আমার ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’
তিনিই যিনি রাত্র সৃষ্টি করেছেন তোমাদের বিশ্রামের জন্যে এবং দিবসকে করেছেন দেখার জন্যে। নিশ্চয় মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না।
আল্লাহ্ই রাত বানিয়েছেন তোমাদের বিশ্রামের জন্যে এবং দিন বানিয়েছেন আলোকোজ্জ্বল (তোমাদের জীবিকা অণ্বেষণের জন্যে)। নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি বিশাল অনুগ্রহপরায়ণ, তবে অধিকাংশ মানুষই শোকর আদায় করেনা।
الله الذي جعل لكم الليل لتسكنوا فيه والنهار مبصرا ۚ إن الله لذو فضل على الناس ولكن أكثر الناس لا يشكرون
, যিনি তোমাদের জন্য রাত বানিয়েছেন যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম করতে পার এবং দিনকে করেছেন আলোকোজ্জ্বল। নিশ্চয় মানুষের প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।
তিনি , তোমাদের পালনকর্তা, সব কিছুর স্রষ্টা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?
তোমাদের প্রভু আল্লাহ্ই প্রতিটি বস্তুর স্রষ্টা। তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। ফলে মিথ্যার ফানুসে বিভ্রান্ত করে তোমাদের কোথায় নেয়া হচ্ছে?
ذلكم الله ربكم خالق كل شيء لا إله إلا هو ۖ فأنى تؤفكون
তিনি , তোমাদের রব; সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) নেই। সুতরাং তোমাদেরকে কোথায় ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে?
এমনিভাবে তাদেরকে বিভ্রান্ত করা হয়, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে।
এভাবেই বিভ্রান্ত করে মিথ্যার পথে নিয়ে যাওয়া হয় তাদেরকে, যারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করে।
كذلك يؤفك الذين كانوا بآيات الله يجحدون
যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করে, তাদেরকে এভাবেই ফিরিয়ে নেয়া হয়।
, পৃথিবীকে করেছেন তোমাদের জন্যে বাসস্থান, আকাশকে করেছেন ছাদ এবং তিনি তোমাদেরকে আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর তোমাদের আকৃতি সুন্দর করেছেন এবং তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন পরিচ্ছন্ন রিযিক। তিনি , তোমাদের পালনকর্তা। বিশ্বজগতের পালনকর্তা, বরকতময়।
আল্লাহ্ই পৃথিবীকে বানিয়েছেন তোমাদের বাসোপযোগী, আর আসমানকে বানিয়েছেন ছাদ। তিনিই তোমাদের সুরত (আকৃতি) গঠন করেছেন উত্তম ও সুন্দরতম আকৃতিতে। তিনিই ব্যবস্থা করেছেন তোমাদের জন্যে উত্তম জীবিকার। তিনিই , তোমাদের প্রভু। কতো যে মহান বরকতওয়ালা মহাজগতের প্রভু ।
الله الذي جعل لكم الأرض قرارا والسماء بناء وصوركم فأحسن صوركم ورزقكم من الطيبات ۚ ذلكم الله ربكم ۖ فتبارك الله رب العالمين
, যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে স্থিতিশীল করেছেন এবং আসমানকে করেছেন ছাদ। আর তিনি তোমাদেরকে আকৃতি দিয়েছেন, অতঃপর তোমাদের আকৃতিকে সুন্দর করেছেন এবং তিনি পবিত্র বস্তু থেকে তোমাদেরকে রিয্ক দান করেছেন। তিনিই , তোমাদের রব। সুতরাং সৃষ্টিকুলের রব কত
তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তাঁকে ডাক তাঁর খাঁটি এবাদতের মাধ্যমে। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর।
তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। তাঁর জন্যে আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে তোমরা কেবল তাঁকেই ডাকো। সমস্ত প্রশংসা রাব্বুল আলামিনের।
هو الحي لا إله إلا هو فادعوه مخلصين له الدين ۗ الحمد لله رب العالمين
তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) নেই। সুতরাং তোমরা দীনকে তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করে তাঁকে ডাক। সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি সৃষ্টিকুলের রব।
বলুন, যখন আমার কাছে আমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণাদি এসে গেছে, তখন ব্যতীত তোমরা যার পূজা কর, তার এবাদত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। আমাকে আদেশ করা হয়েছে বিশ্ব পালনকর্তার অনুগত থাকতে।
বলো: ‘তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের কাছে দোয়া - প্রার্থনা করো, তাদের ইবাদত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে, যেহেতু আমার প্রভুর পক্ষ থেকে আমার কাছে সুস্পষ্ট দলিল - প্রমাণ এসেছে। আমাকে আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমি যেনো আত্মসমর্পণ করি রাব্বুল আলামিনের জন্যে।’
۞ قل إني نهيت أن أعبد الذين تدعون من دون الله لما جاءني البينات من ربي وأمرت أن أسلم لرب العالمين
বল, ‘যেহেতু আমার রবের পক্ষ থেকে আমার কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি এসেছে, তাই তোমরা ছাড়া যাদেরকে আহবান কর, নিশ্চয় তাদের ইবাদাত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। আর সৃষ্টিকুলের রবের নিকট আত্মসমর্পণ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি’।
তিনি তো তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা, অতঃপর শুক্রবিন্দু দ্বারা, অতঃপর জমাট রক্ত দ্বারা, অতঃপর তোমাদেরকে বের করেন শিশুরূপে, অতঃপর তোমরা যৌবনে পদর্পণ কর, অতঃপর বার্ধক্যে উপনীত হও। তোমাদের কারও কারও এর পূর্বেই মৃত্যু ঘটে এবং তোমরা নির্ধারিত কালে পৌঁছ এবং তোমরা যাতে অনুধাবন কর।
তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নোতফা (শুক্রবিন্দু) থেকে, তারপর আলাকা (জরায়ুর সাথে শক্তভাবে আটকে থাকা ভ্রুণ) থেকে। তারপর তিনি তোমাদের বের করে আনেন শিশু হিসেবে। তারপর তোমাদের পৌঁছে দেয়া হয় যৌবনে। তারপর তোমরা পরিণত হও বৃদ্ধে। তোমাদের কারো কারো ওফাত ঘটানো হয় এর আগেই। যাতে করে তোমরা তোমাদের জন্যে নির্ধারিত সময়কাল পূর্ণ করো এবং যেনো তোমরা বুঝবুদ্ধিকে কাজে লাগাও।
هو الذي خلقكم من تراب ثم من نطفة ثم من علقة ثم يخرجكم طفلا ثم لتبلغوا أشدكم ثم لتكونوا شيوخا ۚ ومنكم من يتوفى من قبل ۖ ولتبلغوا أجلا مسمى ولعلكم تعقلون
তিনিই তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তারপর শুক্রবিন্দু থেকে, তারপর ‘আলাকা’* থেকে। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করে আনেন। তারপর যেন তোমরা তোমাদের যৌবনে পদার্পণ কর, অতঃপর যেন তোমরা বৃদ্ধ হয়ে যাও। আর তোমাদের কেউ কেউ এর পূর্বেই মারা যায়। আর যাতে তোমর
তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দেন। যখন তিনি কোন কাজের আদেশ করেন, তখন একথাই বলেন, হয়ে যা’ - তা হয়ে যায়।
তিনিই জীবন দান করেন এবং মউত ঘটান। তিনি যখন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন তখন সেটাকে বলেন: ‘হও’, সাথে সাথে তা হয়ে যায়।
هو الذي يحيي ويميت ۖ فإذا قضى أمرا فإنما يقول له كن فيكون
তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন। আর তিনি যখন কোন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি এজন্য বলেন ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়।
আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তারা কোথায় ফিরছে?
তুমি কি তাদের দেখোনা, যারা আল্লাহর আয়াত নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়? কীভাবে তাদের বিপথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?
ألم تر إلى الذين يجادلون في آيات الله أنى يصرفون
তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করনি যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলী সম্পর্কে বাকবিতন্ডা করে? তাদেরকে কোথায় ফিরানো হচ্ছে?
যারা কিতাবের প্রতি এবং যে বিষয় দিয়ে আমি পয়গম্বরগণকে প্রেরণ করেছি, সে বিষয়ের প্রতি মিথ্যারোপ করে। অতএব, সত্বরই তারা জানতে পারবে।
যারা প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহর কিতাবকে এবং যা নিয়ে আমরা আমাদের রসূলদের পাঠিয়েছি সেটাকে। অচিরেই তারা জানতে পারবে (এর পরিণতি),
الذين كذبوا بالكتاب وبما أرسلنا به رسلنا ۖ فسوف يعلمون
যারা কিতাব এবং আমার রাসূলগণকে যা দিয়ে আমি প্রেরণ করেছি তা অস্বীকার করে, অতএব তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।
যখন বেড়িও শৃঙ্খল তাদের গলদেশে পড়বে। তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে।
যখন তাদের গলায় পরানো থাকবে বেড়ি আর শিকল এবং তাদের নিয়ে যাওয়া হবে টেনে হিঁচড়ে
إذ الأغلال في أعناقهم والسلاسل يسحبون
যখন তাদের গলদেশে বেড়ী ও শিকল থাকবে, তাদেরকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে-
ফুটন্ত পানিতে, অতঃপর তাদেরকে আগুনে জ্বালানো হবে।
টগবগে ফুটন্ত গরম পানির দিকে। তারপর তাদের দগ্ধ করা হবে আগুনে।
في الحميم ثم في النار يسجرون
ফুটন্ত পানিতে, অতঃপর তাদেরকে আগুনে পোড়ানো হবে।
অতঃপর তাদেরকে বলা হবে, কোথায় গেল যাদেরকে তোমরা শরীক করতে।
তারপর তাদের বলা হবে: ‘তারা এখন কোথায় যাদেরকে তোমরা শরিক বানিয়েছিলে
ثم قيل لهم أين ما كنتم تشركون
তারপর তাদেরকে বলা হবে, ‘কোথায় তারা, যাদেরকে তোমরা শরীক করতে-
ব্যতীত? তারা বলবে, তারা আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে; বরং আমরা তো ইতিপূর্বে কোন কিছুর পূজাই করতাম না। এমনি ভাবে কাফেরদেরকে বিভ্রান্ত করেন।
আল্লাহর পরিবর্তে?’ তারা বলবে: ‘তারা আমাদের থেকে উধাও হয়ে গেছে। আসলে আমরা পূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) কাউকেও ডাকিনি।’ এভাবেই কাফিরদের ফেলে রাখেন বিভ্রান্তিতে।
من دون الله ۖ قالوا ضلوا عنا بل لم نكن ندعو من قبل شيئا ۚ كذلك يضل الله الكافرين
ছাড়া’? তারা বলবে, ‘তারা তো আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে’, বরং এর পূর্বে আমরা কোন কিছুকে আহবান করিনি’। এভাবেই কাফিরদেরকে পথভ্রষ্ট করেন।
এটা একারণে যে, তোমরা দুনিয়াতে অন্যায়ভাবে আনন্দ - উল্লাস করতে এবং এ কারণে যে, তোমরা ঔদ্ধত্য করতে।
এর কারণ, তোমরা পৃথিবীতে অযথা উল্লাসে মেতেছিলে এবং এর আরো কারণ হলো, তোমরা নিমজ্জিত ছিলে দাম্ভিকতায়।
ذلكم بما كنتم تفرحون في الأرض بغير الحق وبما كنتم تمرحون
এটা এ জন্য যে, তোমরা যমীনে অযথা উল্লাস করতে এবং এজন্য যে, তোমরা অহঙ্কার করতে।
প্রবেশ কর তোমরা জাহান্নামের দরজা দিয়ে সেখানে চিরকাল বসবাসের জন্যে। কত নিকৃষ্ট দাম্ভিকদের আবাসস্থল।
এখন দাখিল হও জাহান্নামের দরজাসমূহ দিয়ে সেখানে চিরকাল অবস্থানের জন্যে। অহংকারীদের আবাস কতো যে নিকৃষ্ট!
ادخلوا أبواب جهنم خالدين فيها ۖ فبئس مثوى المتكبرين
তোমরা জাহান্নামের দরজাসমূহ দিয়ে প্রবেশ কর চিরকাল তাতে অবস্থানের জন্য। অতএব অহঙ্কারীদের বাসস্থান কতইনা নিকৃষ্ট!
অতএব আপনি সবর করুন। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতঃপর আমি কাফেরদেরকে যে শাস্তির ওয়াদা দেই, তার কিয়দংশ যদি আপনাকে দেখিয়ে দেই অথবা আপনার প্রাণ হরণ করে নেই, সর্বাবস্থায় তারা তো আমারই কাছে ফিরে আসবে।
(হে নবী!) তুমি সবর করো। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আমরা ওদেরকে যে ওয়াদা দিচ্ছি তার কিছু যদি তোমাকে দেখিয়ে দেই, কিংবা যদি তোমার ওফাত ঘটাই, তাদেরকে তো আমার কাছেই ফেরত আনা হবে।
فاصبر إن وعد الله حق ۚ فإما نرينك بعض الذي نعدهم أو نتوفينك فإلينا يرجعون
অতএব তুমি ধৈর্যধারণ কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আর আমি তাদেরকে যে ওয়াদা দেই, তার কিছু অংশ যদি তোমাকে দেখাই অথবা তোমাকে মৃত্যু দেই, তাহলেও তারা আমার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।
আমি আপনার পূর্বে অনেক রসূল প্রেরণ করেছি, তাদের কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করেছি এবং কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করিনি। আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোন নিদর্শন নিয়ে আসা কোন রসূলের কাজ নয়। যখন আল্লাহর আদেশ আসবে, তখন ন্যায় সঙ্গত ফয়সালা হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে মিথ্যাপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তোমার আগেও আমরা বহু রসূল পাঠিয়েছি, তাদের মধ্যকার কিছু রসূলের বিবরণ তোমাকে দিয়েছি, আর কিছু রসূলের বিবরণ তোমাকে দেইনি। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া নিদর্শন হাজির করা কোনো রসূলের কাজ নয়। আল্লাহর নির্দেশ যখন এসে যাবে, তখন ফায়সালা করে দেয়া হবে ন্যায়সংগতভাবে। আর তখনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে বাতিলপন্থী মিথ্যাবাদীরা।
ولقد أرسلنا رسلا من قبلك منهم من قصصنا عليك ومنهم من لم نقصص عليك ۗ وما كان لرسول أن يأتي بآية إلا بإذن الله ۚ فإذا جاء أمر الله قضي بالحق وخسر هنالك المبطلون
আর অবশ্যই আমি তোমার পূর্বে অনেক রাসূল পাঠিয়েছি। তাদের মধ্যে কারো কারো কাহিনী আমি তোমার কাছে বর্ণনা করেছি আর কারো কারো কাহিনী তোমার কাছে বর্ণনা করিনি। আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন নিদর্শন নিয়ে আসা কোন রাসূলের উচিৎ নয়। তারপর যখন আল্লাহর নির্দেশ আসবে, তখন ন্যা
তোমাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে কোন কোনটিই বাহন হিসাবে ব্যবহার কর এবং কোন কোনটিকে ভক্ষণ কর।
তোমাদের জন্যে চারপায়ী পশু সৃষ্টি করেছেন, যাতে করে তোমরা সেগুলোর কিছু পশুতে আরোহণ করতে পারো, আর খেতে পারো কিছু পশু।
الله الذي جعل لكم الأنعام لتركبوا منها ومنها تأكلون
আল্লাহই তোমাদের জন্য গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা এদের কতকের উপর আরোহণ করতে পার আর কতক তোমরা খেতে পার।
তাতে তোমাদের জন্যে অনেক উপকারিতা রয়েছে আর এজন্যে সৃষ্টি করেছেন; যাতে সেগুলোতে আরোহণ করে তোমরা তোমাদের অভীষ্ট প্রয়োজন পূর্ণ করতে পার। এগুলোর উপর এবং নৌকার উপর তোমরা বাহিত হও।
এছাড়াও সেগুলোর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্যে অনেক মুনাফা। তোমরা যেসব প্রয়োজনের কথা ভাবো এর মাধ্যমে যেনো তা পূর্ণ করতে পারো এবং সেগুলোতে আর নৌযানে যেনো তোমরা বহন ও আরোহণ করতে পারো।
ولكم فيها منافع ولتبلغوا عليها حاجة في صدوركم وعليها وعلى الفلك تحملون
আর এতে তোমাদের জন্য রয়েছে অনেক উপকার এবং যাতে তোমরা নিজদের অন্তরে যে প্রয়োজন অনুভব কর, ওগুলো দ্বারা তা পূর্ণ করতে পার। ওগুলোর উপর আর নৌযানের উপর তোমাদেরকে বহন করা হয়।
তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান। অতএব, তোমরা আল্লাহর কোন কোন নিদর্শনকে অস্বীকার করবে?
তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলি দেখিয়ে থাকেন। তোমরা তাঁর কোন্ নিদর্শন অস্বীকার করবে?
ويريكم آياته فأي آيات الله تنكرون
আর তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান। অতএব তোমরা আল্লাহর কোন্ কোন্ নিদর্শনকে অস্বীকার করবে?
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি? করলে দেখত, তাদের পূর্ববর্তীদের কি পরিণাম হয়েছে। তারা তাদের চেয়ে সংখ্যায় বেশী এবং শক্তি ও কীর্তিতে অধিক প্রবল ছিল, অতঃপর তাদের কর্ম তাদেরকে কোন উপকার দেয়নি।
তারা কি পৃথিবী ভ্রমণ করে দেখেনা, তাদের আগেকার অস্বীকারকারীদের কী পরিণতি হয়েছিল? তারা ছিলো এদের চাইতে অধিক সংখ্যক ও অধিক শক্তিশালী এবং জমিনে অধিক প্রভাব বিস্তারকারী। কিন্তু তাদের কীর্তি তাদের কোনো উপকারেই আসেনি।
أفلم يسيروا في الأرض فينظروا كيف كان عاقبة الذين من قبلهم ۚ كانوا أكثر منهم وأشد قوة وآثارا في الأرض فما أغنى عنهم ما كانوا يكسبون
তারা কি যমীনে ভ্রমণ করেনি, তা হলে তারা দেখত, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল? তারা যমীনে ছিল তাদের চেয়ে সংখ্যায় অধিক, আর শক্তিতে ও কীর্তিতে তাদের চেয়ে অধিক প্রবল। অতঃপর তারা যা অর্জন করত তা তাদের কোন কাজে আসেনি।
তাদের কাছে যখন তাদের রসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আগমন করেছিল, তখন তারা নিজেদের জ্ঞান - গরিমার দম্ভ প্রকাশ করেছিল। তারা যে বিষয় নিয়ে ঠাট্টাবিদ্রুপ করেছিল, তাই তাদেরকে গ্রাস করে নিয়েছিল।
যখনই তাদের রসূলরা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে তাদের কাছে এসেছে, তারা নিজেদের এলেমের দম্ভ করেছে। তারপর তারা যা নিয়ে বিদ্রুপ করেছে সেটাই তাদের পরিবেষ্টন করে নিয়েছে।
فلما جاءتهم رسلهم بالبينات فرحوا بما عندهم من العلم وحاق بهم ما كانوا به يستهزئون
তারপর তাদের কাছে যখন তাদের রাসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আসল তখন তারা তাদের নিজদের কাছে যে বিদ্যা ছিল তাতেই উৎফুল্ল হয়ে উঠল। আর যা নিয়ে তাঁরা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত তা-ই তাদেরকে পরিবেষ্টন করল।
তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন বলল, আমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করলাম এবং যাদেরকে শরীক করতাম, তাদেরকে পরিহার করলাম।
যখন তারা আমার শাস্তি সামনে উপস্থিত দেখেছে, বলেছে: ‘আমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম এবং আমরা তাঁর সাথে যাদের শরিক করতাম তাদের প্রতি কুফুরি করলাম।’
فلما رأوا بأسنا قالوا آمنا بالله وحده وكفرنا بما كنا به مشركين
তারপর তারা যখন আমার আযাব দেখল তখন বলল, ‘আমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম, আর যাদেরকে আমরা তার সাথে শরীক করতাম তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করলাম’।
অতঃপর তাদের এ ঈমান তাদের কোন উপকারে আসল না যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করল। আল্লাহর এ নিয়মই পূর্ব থেকে তাঁর বান্দাদের মধ্যে প্রচলিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে কাফেররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আমাদের আযাব দেখার পর তারা যে ঈমানের ঘোষণা দিতো, সে ঈমান তাদের কোনো উপকারে আসেনি। আল্লাহর এই সুন্নত (বিধান) পূর্ব থেকেই তাঁর বান্দাদের মধ্যে চলে আসছে, আর সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাফিররাই।
فلم يك ينفعهم إيمانهم لما رأوا بأسنا ۖ سنت الله التي قد خلت في عباده ۖ وخسر هنالك الكافرون
সুতরাং তারা যখন আমার আযাব দেখল তখন তাদের ঈমান তাদের কোন উপকার করল না। এটা আল্লাহর বিধান, তাঁর বান্দাদের মধ্যে চলে আসছে। আর তখনই কাফিররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।