হা - মীম।
হা মিম।
بسم الله الرحمن الرحيم حم
হা মীম!
Chapter 45, 37 verses
হা - মীম।
হা মিম।
بسم الله الرحمن الرحيم حم
হা মীম!
পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এ কিতাব।
এই কিতাব নাযিল হচ্ছে পরম পরাক্রমশালী মহাজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকে।
تنزيل الكتاب من الله العزيز الحكيم
এ গ্রন্থের অবতারণ র কাছ থেকে, যিনি মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।
নিশ্চয় নভোমন্ডল ও ভূ - মন্ডলে মুমিনদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
নিশ্চয়ই মহাকাশ ও পৃথিবীতে রয়েছে বহু নিদর্শন বিশ্বাসীদের জন্যে,
إن في السماوات والأرض لآيات للمؤمنين
নিঃসন্দেহ মহাকাশমন্ডলীতে ও পৃথিবীতে তো নিদর্শনাবলী রয়েছে মুমিনদের জন্য।
আর তোমাদের সৃষ্টিতে এবং চারদিকে ছড়িয়ে রাখা জীব জন্তুর সৃজনের মধ্যেও নিদর্শনাবলী রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য।
তোমাদের সৃষ্টির মধ্যেও। আর জীবজন্তুর বিস্তারের মধ্যে রয়েছে নিদর্শন সেইসব লোকদের জন্যে যারা একীন রাখে।
وفي خلقكم وما يبث من دابة آيات لقوم يوقنون
আর তোমাদের সৃষ্টির মধ্যে এবং জীবজন্তুর মধ্যে যা তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন তাতে নিদর্শনাবলী রয়েছে সুনিশ্চিত লোকেদের জন্য,
দিবারাত্রির পরিবর্তনে, আকাশ থেকে যে রিযিক (বৃষ্টি) বর্ষণ করেন অতঃপর পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করেন, তাতে এবং বায়ুর পরিবর্তনে বুদ্ধিমানদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
যারা আকল (বুঝবুদ্ধি) খাটায়, তাদের জন্যে আরো নিদর্শন রয়েছে রাত আর দিনের পরিবর্তনের মধ্যে। আর যে আসমান থেকে রিযিক (পানি) নাযিল করেন এবং তা দিয়ে মরা জমিনকে জীবিত করেন তার মধ্যেও এবং বাতাসের গতি পরিবর্তনের মধ্যেও (রয়েছে নিদর্শন)।
واختلاف الليل والنهار وما أنزل الله من السماء من رزق فأحيا به الأرض بعد موتها وتصريف الرياح آيات لقوم يعقلون
আর রাত ও দিনের বিবর্তনে, আর আকাশ থেকে জীবনোপকরণের মধ্যের যা - কিছু পাঠান ও যার দ্বারা পৃথিবীকে সঞ্জীবিত করেন তার মৃত্যুর পরে, আর বায়ু প্রবাহের পরিবর্তনে নিদর্শনাবলী রয়েছে সেই লোকদের জন্য যারা জ্ঞান - বুদ্ধি রাখে।
এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি আপনার কাছে আবৃত্তি করি যথাযথরূপে। অতএব, ও তাঁর আয়াতের পর তারা কোন কথায় বিশ্বাস স্থাপন করবে।
এগুলো আল্লাহর আয়াত আমরা তিলাওয়াত করছি তোমার প্রতি বাস্তবসম্মত ভাবে। সুতরাং তারা আল্লাহর পরিবর্তে এবং তাঁর আয়াতের পরিবর্তে আর কোন্ হাদিসটার (কথাটার) প্রতি ঈমান আনবে?
تلك آيات الله نتلوها عليك بالحق ۖ فبأي حديث بعد الله وآياته يؤمنون
এইসব হচ্ছে র নির্দেশাবলী যা আমরা তোমার কাছে আবৃত্তি করছি যথাযথভাবে, সুতরাং ও তাঁর নির্দেশাবলীর পরে কোন ধর্মোপদেশে তারা বিশ্বাস করবে?
প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর দুর্ভোগ।
প্রত্যেক কট্টর মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠের জন্যে রয়েছে চরম দুর্ভোগ।
ويل لكل أفاك أثيم
ধিক্ প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠের প্রতি।
সে আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে, অতঃপর অহংকারী হয়ে জেদ ধরে, যেন সে আয়াত শুনেনি। অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন।
সে আল্লাহর আয়াতের তিলাওয়াত শুনে, অথচ দাম্ভিকতার সাথে অবিচল থাকে (কুফুরির উপর) যেনো সে তা শুনেইনি। সুতরাং তাকে সংবাদ দাও বেদনাদায়ক আযাবের।
يسمع آيات الله تتلى عليه ثم يصر مستكبرا كأن لم يسمعها ۖ فبشره بعذاب أليم
যে র বাণীসমূহ তার কাছে পঠিত হতে শোনে, তারপর সে অহংকারের মধ্যে অটল থাকে যেন সে সে - সব শোনেই নি। সেজন্য তাকে সুসংবাদ দাও মর্মন্তুদ শাস্তির।
যখন সে আমার কোন আয়াত অবগত হয়, তখন তাকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করে। এদের জন্যই রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
যখন সে আমার কোনো আয়াত অবগত হয়, তা নিয়ে বিদ্রুপ করে। এদের জন্যে রয়েছে অপমানকর আযাব।
وإذا علم من آياتنا شيئا اتخذها هزوا ۚ أولئك لهم عذاب مهين
আর যখন সে আমাদের বাণীগুলো থেকে কোনো কিছু জানতে পারে সে সে - সবকে তামাশা ব’লে গ্রহণ করে। এরাই - - এদেরই জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
তাদের সামনে রয়েছে জাহান্নাম। তারা যা উপার্জন করেছে, তা তাদের কোন কাজে আসবে না, তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে তারাও নয়। তাদের জন্যে রয়েছে মহাশাস্তি।
তাদের পেছনেই রয়েছে জাহান্নাম। তাদের অর্জনসমূহ তাদের কোনো কাজেই আসবেনা। আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদের অলি বানিয়ে নিয়েছিল তারাও তাদের কোনো কাজে আসবেনা। তাদের জন্যে রয়েছে বিশাল আযাব।
من ورائهم جهنم ۖ ولا يغني عنهم ما كسبوا شيئا ولا ما اتخذوا من دون الله أولياء ۖ ولهم عذاب عظيم
তাদের সামনের দিকে রয়েছে জাহান্নাম, আর তারা যা অর্জন করেছে তা তাদেরকে কোনোভাবেই লাভবান করবে না, কে বাদ দিয়ে যাদের তারা অভিভাবকরূপে গ্রহণ করেছিল তারাও না, আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।
এটা সৎপথ প্রদর্শন, আর যারা তাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
এ (কুরআন) জীবন যাপনের দিশারি। যারা তাদের প্রভুর আয়াতের প্রতি কুফুরি করে তাদের জন্যে রয়েছে অতিশয় বেদনাদায়ক আযাব।
هذا هدى ۖ والذين كفروا بآيات ربهم لهم عذاب من رجز أليم
এই হচ্ছে পথনির্দেশ, আর যারা তাদের প্রভুর বাণীসমূহ প্রত্যাখ্যান করে তাদের জন্য রয়েছে কলুষতার দরুন মর্মন্তুদ শাস্তি।
তিনি যিনি সমুদ্রকে তোমাদের উপকারার্থে আয়ত্বাধীন করে দিয়েছেন, যাতে তাঁর আদেশক্রমে তাতে জাহাজ চলাচল করে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ তালাশ কর ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও।
আল্লাহ্ই সমুদ্রকে তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন, যাতে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাতে নৌযানসমূহ চলাচল করতে পারে এবং তোমরা সন্ধান করতে পারো তাঁর অনুগ্রহ এবং যাতে করে তোমরা শোকর আদায় করো।
۞ الله الذي سخر لكم البحر لتجري الفلك فيه بأمره ولتبتغوا من فضله ولعلكم تشكرون
ই তিনি যিনি সমুদ্রকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তাঁর বিধান অনুযায়ী জাহাজগুলো তাতে চলতে পারে, আর যেন তোমরা তাঁর করুণাভান্ডার থেকে অনুসন্ধান করতে পার, আর তোমরা যেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।
এবং আয়ত্ত্বাধীন করে দিয়েছেন তোমাদের, যা আছে নভোমন্ডলে ও যা আছে ভূমন্ডলে; তাঁর পক্ষ থেকে। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
তিনিই তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করে দিয়েছেন মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর অনুগ্রহে। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে অনেক নিদর্শন চিন্তাশীল লোকদের জন্যে।
وسخر لكم ما في السماوات وما في الأرض جميعا منه ۚ إن في ذلك لآيات لقوم يتفكرون
আর তিনি তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন মহাকাশমন্ডলীতে যা - কিছু আছে আর যা - কিছু রয়েছে পৃথিবীতে, - - এ সমস্ত তাঁর কাছ থেকে। নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শনাবলী রয়েছে সেই লোকদের জন্য যারা চিন্তা করে।
মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদেরকে ক্ষমা করে, যারা আল্লাহর সে দিনগুলো সম্পর্কে বিশ্বাস রাখে না যাতে তিনি কোন সম্প্রদায়কে কৃতকর্মের প্রতিফল দেন।
(হে নবী!) তাদের বলো: যারা ঈমান এনেছে, তারা যেনো ঐ লোকদের ক্ষমা করে দেয়, যারা আল্লাহর দিনগুলোর প্রত্যাশা করেনা। এর কারণ, প্রত্যেক কওমকে তার কর্মের প্রতিদান দেবেন নিজেই।
قل للذين آمنوا يغفروا للذين لا يرجون أيام الله ليجزي قوما بما كانوا يكسبون
যারা বিশ্বাস করে তাদের তুমি বলো যে তারা ক্ষমা করুক তাদের যারা র দিনগুলোর প্রত্যাশা করে না, এই জন্য যে তিনি লোকদের যেন প্রতিদান দিতে পারেন যা তারা অর্জন করছিল সেজন্য।
যে সৎকাজ করছে, সে নিজের কল্যাণার্থেই তা করছে, আর যে অসৎকাজ করছে, তা তার উপরই বর্তাবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।
যে কেউ আমলে সালেহ্ করবে, সে তা করবে নিজেরই জন্যে। আর যে কেউ মন্দ কাজ করবে, সে তা করবে নিজেরই বিরুদ্ধে। তারপর তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে তোমাদেরই প্রভুর কাছে।
من عمل صالحا فلنفسه ۖ ومن أساء فعليها ۖ ثم إلى ربكم ترجعون
যে কেউ সৎকর্ম করে তা তবে তার নিজের জন্যে, আর যে মন্দ করে তা তবে তারই বিরুদ্ধে, তারপর তোমাদের প্রভুর তরফেই তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
আমি বনী ইসরাঈলকে কিতাব, রাজত্ব ও নবুওয়ত দান করেছিলাম এবং তাদেরকে পরিচ্ছন্ন রিযিক দিয়েছিলাম এবং বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম।
আমরা বনি ইসরাঈলকে কিতাব দিয়েছিলাম, আরো দিয়েছিলাম কর্তৃত্ব আর নবুয়্যত। তাছাড়া আমরা তাদের উত্তম জীবিকা দিয়েছিলাম এবং তাদের মর্যাদা দিয়েছিলাম জগদ্বাসীর উপর।
ولقد آتينا بني إسرائيل الكتاب والحكم والنبوة ورزقناهم من الطيبات وفضلناهم على العالمين
আর আমরা অবশ্য ইসরাইলের বংশধরদের দিয়েইছিলাম গ্রন্থ ও জ্ঞান - বিজ্ঞান ও পয়গন্বরত্ব, আর আমরা তাদের জীবিকা দিয়েছিলাম উত্তম জিনিস থেকে, আর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম জনগণের উপরে।
আরও দিয়েছিলাম তাদেরকে ধর্মের সুস্পষ্ট প্রমাণাদি। অতঃপর তারা জ্ঞান লাভ করার পর শুধু পারস্পরিক জেদের বশবর্তী হয়ে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তারা যে বিষয়ে মতভেদ করত, আপনার পালনকর্তা কেয়ামতের দিন তার ফয়সালা করে দেবেন।
আমরা তাদেরকে দীন সম্পর্কে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়েছিলাম। তাদের কাছে জ্ঞান আসার পর তারা পরস্পর বিদ্বেষের কারণে বিরোধিতা করেছিল। তারা যে বিষয়ে বিরোধিতা করে কিয়ামতের দিন সে বিষয়ে তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেবেন তোমার প্রভু।
وآتيناهم بينات من الأمر ۖ فما اختلفوا إلا من بعد ما جاءهم العلم بغيا بينهم ۚ إن ربك يقضي بينهم يوم القيامة فيما كانوا فيه يختلفون
আর আমরা তাদের দিয়েছিলাম বিষয়টি সন্বন্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণাবলী, কিন্ত তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরেও তারা মতভেদ করে নি নিজেদের মধ্যে ঈর্ষা বিদ্বেষ ব্যতীত। নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু তাদের মধ্যে কিয়ামতের দিনে বিচার - মীমাংসা করে দেবেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করত সে - সন্বন্ধে।
এরপর আমি আপনাকে রেখেছি ধর্মের এক বিশেষ শরীয়তের উপর। অতএব, আপনি এর অনুসরণ করুন এবং অজ্ঞানদের খেয়াল - খুশীর অনুসরণ করবেন না।
তারপরে আমরা তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি দীনের বিশেষ শরিয়তের উপর। অতএব তুমি কেবল এ শরিয়তকেই অনুসরণ করো। অজ্ঞদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করোনা।
ثم جعلناك على شريعة من الأمر فاتبعها ولا تتبع أهواء الذين لا يعلمون
এরপর আমরা তোমাকে ব্যাপারটিতে এক সংবিধানের উপরে প্রতিষ্ঠিত করেছি, কাজেই তুমি তা অনুসরণ করো, আর তুমি তাদের খেয়াল - খুশির অনুসরণ কর না যারা জানে না।
আল্লাহর সামনে তারা আপনার কোন উপকারে আসবে না। যালেমরা একে অপরের বন্ধু। আর পরহেযগারদের বন্ধু।
আল্লাহর মোকাবেলায় তারা তোমার কোনো উপকারই করতে পারবেনা। যালিমরা পরস্পরের অলি (বন্ধু, পৃষ্ঠপোষক), আর হলেন মুত্তাকিদের অলি।
إنهم لن يغنوا عنك من الله شيئا ۚ وإن الظالمين بعضهم أولياء بعض ۖ والله ولي المتقين
নিঃসন্দেহ তারা র কাছ থেকে কোনো কিছুতেই তোমাকে আদৌ লাভবান করবে না। আর আলবৎ অন্যায়াচারীরা - - তাদের কেউ - কেউ অপর কারোর বন্ধু, আর হচ্ছেন ধর্মভীরু - দের বান্ধব।
এটা মানুষের জন্যে জ্ঞানের কথা এবং সম্প্রদায়ের জন্য হেদায়েত ও রহমত।
এ কুরআন মানুষের জন্যে সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং নিশ্চিত লোকদের জন্যে পথনির্দেশ ও রহমত।
هذا بصائر للناس وهدى ورحمة لقوم يوقنون
এই হচ্ছে মানবজাতির জন্য দৃষ্টিদায়ক, আর পথপ্রদর্শক ও করুণা সেই লোকদের জন্য যারা সুনিশ্চিত।
যারা দুস্কর্ম উপার্জন করেছে তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সে লোকদের মত করে দেব, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং তাদের জীবন ও মুত্যু কি সমান হবে? তাদের দাবী কত মন্দ।
দুষ্কৃতকারীরা কি ধরে নিয়েছে যে, আমরা জীবন ও মৃত্যুর দিক দিয়ে তাদেরকে ঐসব লোকদের সমতুল্য গণ্য করবো, যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ করে? তাদের সিদ্ধান্ত খুবই মন্দ।
أم حسب الذين اجترحوا السيئات أن نجعلهم كالذين آمنوا وعملوا الصالحات سواء محياهم ومماتهم ۚ ساء ما يحكمون
যারা দুস্কর্ম করেছে তারা কি ভাবে যে আমরা তাদের বানিয়ে দেব তাদের মতো যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে - - তাদের জীবন ও তাদের মরণ কি এক সমান? কত নিকৃষ্ট যা তারা সিদ্ধান্ত করে!
নভোমন্ডল ও ভূ - মন্ডল যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার উপার্জনের ফল পায়। তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।
আল্লাহ্ই সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ ও পৃথিবী সত্য ও বাস্তবতার সাথে এবং যাতে করে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কর্ম অনুযায়ী দেয়া যেতে পারে প্রতিদান। কোনো প্রকার যুলুম করা হবেনা তাদের প্রতি।
وخلق الله السماوات والأرض بالحق ولتجزى كل نفس بما كسبت وهم لا يظلمون
আর মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন সত্যের সাথে, আর যাতে প্রত্যেক সত্ত্বাকে প্রতিফল দেওয়া হয় সে যা অর্জন করেছে তাই দিয়ে, আর তাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না।
আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার খেয়াল - খুশীকে স্বীয় উপাস্য স্থির করেছে? জেনে শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার কান ও অন্তরে মহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর রেখেছেন পর্দা। অতএব, আল্লাহর পর কে তাকে পথ প্রদর্শন করবে? তোমরা কি চিন্তাভাবনা কর না?
তুমি কি ঐ ব্যক্তিকে দেখোনি, যে নিজের কামনা বাসনাকে নিজের ইলাহ্ (হুকুমকর্তা) বানিয়ে নিয়েছে এবং তাঁর বিশেষ জ্ঞানের ভিত্তিতে বিভ্রান্ত করে দিয়েছেন তাকে, তার কান ও অন্তরে সীলমোহর করে দিয়েছেন, আর তার চোখে ফেলে দিয়েছেন আবরণ? ফলে ছাড়া তাকে আর কে সঠিক পথ দেখাবে? তোমরা কি শিক্ষা গ্রহণ করবে না?
أفرأيت من اتخذ إلهه هواه وأضله الله على علم وختم على سمعه وقلبه وجعل على بصره غشاوة فمن يهديه من بعد الله ۚ أفلا تذكرون
তুমি কি তবে তাকে লক্ষ্য করেছ যে তার খেয়াল - খুশিকে তার উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে? আর জেনে - শুনেই তাকে পথভ্রষ্ট হতে দিয়েছেন, আর তিনি মোহর মেরে দিয়েছেন তার শ্রবণেন্দ্রিয়ে ও তার হৃদয়ে, আর তার দর্শনেন্দ্রিয়ের উপরে তিনি বানিয়ে দিয়েছেন একটি পর্দা। কাজেই র পরে আর কে তাকে পথ দেখাবে? তবুও কি তোমরা মনোযোগ দেবে না?
তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই তো শেষ; আমরা মরি ও বাঁচি মহাকালই আমাদেরকে ধ্বংস করে। তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে।
তারা বলে: ‘আমাদের এ জীবনের পরে আর কোনো জীবন নেই। এখানেই আমাদের জীবন মৃত্যু ঘটবে এবং কাল (সময়) ছাড়া আর কোনো কিছুই ধ্বংস করেনা আমাদের।’ অথচ এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। তারা তো কেবল মনগড়া কথাই বলে চলেছে।
وقالوا ما هي إلا حياتنا الدنيا نموت ونحيا وما يهلكنا إلا الدهر ۚ وما لهم بذلك من علم ۖ إن هم إلا يظنون
আর তারা বলে - - ''আমাদের দুনিয়ার জীবন ছাড়া এইটি আর কিছুই নয়, আমরা মরি আর আমরা বেঁচে থাকি, আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না সময় ব্যতীত।’’ আর এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। তারা অনুমান করছে বৈ তো নয়।
তাদের কাছে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন একথা বলা ছাড়া তাদের কোন মুক্তিই থাকে না যে, তোমরা সত্যবাদী হলে আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে নিয়ে আস।
যখন তাদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তাদের কাছে আর কোনো যুক্তিই থাকে না। তখন তারা শুধু একথাই বলে: ‘তোমরা সত্যবাদী হলে আমাদের পূর্ব পুরুষদের পুনরুত্থিত করে এনে দেখাও।’
وإذا تتلى عليهم آياتنا بينات ما كان حجتهم إلا أن قالوا ائتوا بآبائنا إن كنتم صادقين
আর যখন তাদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট বাণীসমূহ পাঠ করা হয় তখন তাদের বিতর্ক আর কিছু নয় এ ভিন্ন যে তারা বলে, ''আমাদের পূর্বপুরুষদের নিয়ে এস যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’’
আপনি বলুন, আল্লাহই তোমাদেরকে জীবন দান করেন, অতঃপর মৃত্যু দেন, অতঃপর তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন একত্রিত করবেন, যাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না।
তুমি বলো: ‘আল্লাহ্ই তোমাদের হায়াত দান করেন এবং মউত ঘটান, অত:পর তিনিই তোমাদের কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত করে একত্রিত করবেন, এতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই। তবে অধিকাংশ মানুষই জানেনা।’
قل الله يحييكم ثم يميتكم ثم يجمعكم إلى يوم القيامة لا ريب فيه ولكن أكثر الناس لا يعلمون
তুমি বলো - - ''ই তোমাদের জীবন দান করেন, তারপর তোমাদের মৃত্যু ঘটান, তারপর তিনি তোমাদের একত্রিত করবেন কিয়ামতের দিনে - - তাতে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্ত অধিকাংশ লোকেই জানে না।’’
নভোমন্ডল ও ভূ - মন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন মিথ্যাপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মহাকাশ এবং পৃথিবীর কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর। যেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন ক্ষতিগ্রস্ত হবে মিথ্যাবাদীরা।
ولله ملك السماوات والأرض ۚ ويوم تقوم الساعة يومئذ يخسر المبطلون
আর রই হচ্ছে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব। আর যেদিন ঘড়িঘন্টা দাঁড়িয়ে যাবে, সেইদিন বাতিল - আখ্যাদানকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আপনি প্রত্যেক উম্মতকে দেখবেন নতজানু অবস্থায়। প্রত্যেক উম্মতকে তাদের আমলনামা দেখতে বলা হবে। তোমরা যা করতে, অদ্য তোমারদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে।
সেদিন তুমি দেখবে, প্রতিটি উম্মত (সম্প্রদায়) ভয়ে নতজানু। প্রতিটি উম্মতকে ডাকা হবে তাদের কিতাবের (আমলনামার) দিকে। বলা হবে: আজ প্রতিদান ও প্রতিফল দেয়া হবে তোমাদের দুনিয়ার জীবনের কৃতকর্মের।
وترى كل أمة جاثية ۚ كل أمة تدعى إلى كتابها اليوم تجزون ما كنتم تعملون
আর তুমি দেখতে পাবে প্রত্যেক সম্প্রদায় নতজানু হতে, প্রত্যেক সম্প্রদায়কে ডাকা হবে তার কিতাবের প্রতি। ''আজকের দিনে তোমাদের প্রতিদান দেওয়া হচ্ছে তোমরা যা করতে তাই দিয়ে।
আমার কাছে রক্ষিত এই আমলনামা তোমাদের সম্পর্কে সত্য কথা বলবে। তোমরা যা করতে আমি তা লিপিবদ্ধ করতাম।
এই যে আমাদের করা রেকর্ড, এটি কথা বলবে তোমাদের বিরুদ্ধে একেবারে সত্য ও হুবহু। তোমরা পৃথিবীর জীবনে যা করতে আমরা সবই রেকর্ড করে রেখেছি।
هذا كتابنا ينطق عليكم بالحق ۚ إنا كنا نستنسخ ما كنتم تعملون
''এইটি আমাদের কিতাব যা তোমাদের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে বর্ণনা করে। নিঃসন্দেহ আমরা লিপিবদ্ধ করে যাচ্ছি যা তোমরা করে চলেছ।’’
যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম করেছে, তাদেরকে তাদের পালনকর্তা স্বীয় রহমতে দাখিল করবেন। এটাই প্রকাশ্য সাফল্য।
যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ করেছে, তাদের অবস্থা হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের প্রভু তাদের দাখিল করবেন তাঁর রহমতে (জান্নাতে)। এটাই সুস্পষ্ট সফলতা।
فأما الذين آمنوا وعملوا الصالحات فيدخلهم ربهم في رحمته ۚ ذلك هو الفوز المبين
সুতরাং যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে তাদের প্রভু তাদের প্রবেশ করাবেন তাঁর করুণায়। এইটিই হচ্ছে প্রকাশ্য সাফল্য।
আর যারা কুফর করেছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের কাছে কি আয়াতসমূহ পঠিত হত না? কিন্তু তোমরা অহংকার করছিলে এবং তোমরা ছিলে এক অপরাধী সম্প্রদায়।
যারা কুফুরি করেছে, তাদের বলা হবে: তোমাদের প্রতি কি আমাদের আয়াত তিলাওয়াত করে (তোমাদের দাওয়াত) দেয়া হয়নি? কিন্তু তোমরা ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিলে এবং তোমরা ছিলে অপরাধী গোষ্ঠী।
وأما الذين كفروا أفلم تكن آياتي تتلى عليكم فاستكبرتم وكنتم قوما مجرمين
পক্ষান্তরে যারা অবিশ্বাস পোষণ করে - - ''এমনটা কি নয় যে আমার বাণীসমূহ তোমাদের কাছে পঠিত হয়েছে? কিন্ত তোমরা গর্ববোধ করছিলে, আর তোমরা ছিলে এক অপরাধী সম্প্রদায়।
যখন বলা হত, আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কেয়ামতে কোন সন্দেহ নেই, তখন তোমরা বলতে আমরা জানি না কেয়ামত কি ? আমরা কেবল ধারণাই করি এবং এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই।
যখন বলা হতো: ‘আল্লাহর ওয়াদা সত্য, কিয়ামত সত্য, তাতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই।’ তখন তোমরা বলতে: ‘কিয়ামত কী আমরা তা বুঝি না, আমরা মনে করি এটা একটা অলীক ধারণা মাত্র, আমরা এতে নই।’
وإذا قيل إن وعد الله حق والساعة لا ريب فيها قلتم ما ندري ما الساعة إن نظن إلا ظنا وما نحن بمستيقنين
''আর যখন বলা হয় - - 'নিঃসন্দেহ র ওয়াদা সত্য, আর ঘড়িঘন্টা - - এতে কোনো সন্দেহ নেই’, তোমরা তখন বলে থাক - - 'আমরা জানি না কী সেই ঘড়ি, আমরা বিবেচনা করি কাল্পনিক বৈ তো নয়, আর আমরা আদে সুনিশ্চিত নই’ ।’’
তাদের মন্দ কর্ম গুলো তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং যে আযাব নিয়ে তারা ঠাট্টা - বিদ্রুপ করত, তা তাদেরকে গ্রাস করবে।
তখন তাদের সমস্ত বদ আমল তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং যে বিষয়টা নিয়ে তারা বিদ্রুপ করতো, সেটা তাদের পরিবেষ্টন করে নেবে।
وبدا لهم سيئات ما عملوا وحاق بهم ما كانوا به يستهزئون
আর তারা যা করেছিল তার দুস্কর্মগুলো তাদের নিকট প্রকাশ হয়ে পড়বে, আর যা নিয়ে তারা ঠাট্টা - বিদ্রূপ করত তা তাদের পরিবেষ্টন করবে।
বলা হবে, আজ আমি তোমাদেরকে ভুলে যাব, যেমন তোমরা এ দিনের সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিলে। তোমাদের আবাসস্থল জাহান্নাম এবং তোমাদের সাহায্যকারী নেই।
তাদের বলা হবে: ‘‘আজ আমরা তোমাদের ভুলে থাকবো, যেভাবে তোমরা আজকের সাক্ষাতের বিষয়টাকে ভুলে ছিলে। তোমাদের আবাস হবে জাহান্নাম এবং তোমাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না।
وقيل اليوم ننساكم كما نسيتم لقاء يومكم هذا ومأواكم النار وما لكم من ناصرين
আর বলা হবে - - ''আজ আমরা তোমাদের ভুলে থাকব যেমন তোমরা তোমাদের এই দিনটির সাক্ষাৎ পাওয়াকে ভুলে থাকতে, ফলত তোমাদের আশ্রয়স্থল হচ্ছে আগুন, আর তোমাদের জন্য সাহায্যকারীদের কেউ থাকবে না।
এটা এজন্যে যে, তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করেছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল। সুতরাং আজ তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে না এবং তাদের কাছে তওবা চাওয়া হবে না।
এর কারণ, তোমরা আল্লাহর আয়াত নিয়ে বিদ্রুপ করেছিলে এবং দুনিয়ার জীবন তোমাদের প্রতারিত করে রেখেছিল। সুতরাং সেদিন তাদের জাহান্নাম থেকে বের করা হবেনা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভেরও কোনো সুযোগ দেয়া হবেনা।’’
ذلكم بأنكم اتخذتم آيات الله هزوا وغرتكم الحياة الدنيا ۚ فاليوم لا يخرجون منها ولا هم يستعتبون
''এইটিই! কেননা তোমরা র বাণীসমূহকে তামাশা বলে গণ্য করেছিলে, ফলস্বরূপে এই দুনিয়ার জীবন তোমাদের প্রতারিত করেছিল।’’ সেজন্য আজকের দিনটায় সেখান থেকে তাদের বের করা হবে না, আর তাদের প্রতি সদয়তাও দেখানো হবে না।
অতএব, বিশ্বজগতের পালনকর্তা, ভূ - মন্ডলের পালনকর্তা ও নভোমন্ডলের পালনকর্তা আল্লাহর - ই প্রশংসা।
সুতরাং সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা মহাকাশ ও পৃথিবীর প্রভু রাববুল আলামিনের জন্যে।
فلله الحمد رب السماوات ورب الأرض رب العالمين
অতএব রই জন্য সমস্ত প্রশংসা, তিনি মহাকাশমন্ডলীর প্রভু ও পৃথিবীরও প্রভু, - - সমস্ত বিশ্বজগতের প্রভু।
নভোমন্ডলে ও ভূ - মন্ডলে তাঁরই গৌরব। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
মহাকাশ এবং পৃথিবীতে সমস্ত শ্রেষ্ঠত্ব ও অহংকার কেবল তাঁরই এবং তিনি মহাশক্তিধর মহাপ্রজ্ঞাবান।
وله الكبرياء في السماوات والأرض ۖ وهو العزيز الحكيم
আর তাঁরই হচ্ছে সমস্ত গৌরব - গরিমা মহাকাশমন্ডলীতে ও পৃথিবীতে, আর তিনি হচ্ছেন মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।