Kitab

ইউনুস

Chapter 10, 109 verses

  • মুহিউদ্দীন খান
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • বাংলা উচ্চারণ
মুহিউদ্দীন খান

আলিফ - লাম - র, এগুলো হেকমতপূর্ণ কিতাবের আয়াত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আলিফ লাম রা! এগুলো বিজ্ঞানময় কিতাবের আয়াত।

বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লা-ম-র তিল্কা আ-ইয়া-তুল্ কিতা-বিল্ হাকীম্।

মুহিউদ্দীন খান

মানুষের কাছে কি আশ্চর্য লাগছে যে, আমি ওহী পাঠিয়েছি তাদেরই মধ্য থেকে একজনের কাছে যেন তিনি মানুষকে সতর্ক করেন এবং সুসংবাদ শুনিয়ে দেন ঈমনাদারগণকে যে, তাঁদের জন্য সত্য মর্যাদা রয়েছে তাঁদের পালনকর্তার কাছে। কাফেররা বলতে লাগল, নিঃসন্দেহে এ লোক প্রকাশ্য যাদুকর।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা কি মানুষের জন্য কোনো তাজ্জবের বিষয় যে, আমি তাদেরই এক ব্যক্তির কাছে এই নির্দেশ দিয়ে অহি পাঠিয়েছি: ‘তুমি মানুষকে সতর্ক করো এবং মুমিনদের এই সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্যে তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে মর্যাদার আসন।’ কাফিররা বলে: ‘নিশ্চয়ই এ ব্যক্তি একজন সুস্পষ্ট ম্যাজিসিয়ান।’

বাংলা উচ্চারণ

আকা-না লিন্না-সি 'আজ্বাবান্ আন্ আওহাইনায় ইলা-রাজ্বুলিম্ মিনহুম্ আন্ আন্যিরিন্না-সা অবাশ্শিরিল্লাযীনা আ-মানূ য় আন্না লাহুম ক্বাদামা ছিদ্ক্বিন্ 'ইন্দা রব্বিহিম্ ক্ব-লাল্ কা-ফিরূনা ইন্না হা-যা-লাসা-হিরুম্ মুবীন্।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই তোমাদের পালনকর্তা যিনি তৈরী করেছেন আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে, অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি কার্য পরিচালনা করেন। কেউ সুপারিশ করতে পাবে না তবে তাঁর অনুমতি ছাড়া ইনিই তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তোমরা কি কিছুই চিন্তা কর না ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের প্রভু হচ্ছেন , যিনি মহাকাশ ও এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয়টি কালে। তারপর তিনি সমাসীন হয়েছেন আরশে। সব বিষয় তিনিই পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনো শাফায়াতকারী শাফায়াত করতে পারবেনা। তিনিই , তোমাদের প্রভু। সুতরাং তোমরা তাঁরই ইবাদত করো। তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবেনা?

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না রব্বাকুমুল্লা-হুল্ লাযী খলাক্বাস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া ফী সিত্তাতি আইয়্যা-মিন্ ছুম্মাস্তাওয়া- 'আলাল্ 'র্আশি ইয়ুদাব্বিরূল্ আম্র্ মা-মিন্ শাফী'ইন্ ইল্লা-মিম্ বা'দ্বি ইয্নিহ্ যা-লিকুমুল্লা-হু রব্বুকুম্ ফা'বুদূহ্ আফালা-তাযাক্কারূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে তোমাদের সবাইকে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য, তিনিই সৃষ্টি করেন প্রথমবার আবার পুনর্বার তৈরী করবেন তাদেরকে বদলা দেয়ার জন্য যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে ইনসাফের সাথে। আর যারা হয়েছে, তাদের পান করতে হবে ফুটন্ত পানি এবং ভোগ করতে হবে যন্ত্রনাদায়ক আযাব এ জন্যে যে, তারা করছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের সবার প্রত্যাবর্তন হবে তাঁরই কাছে। আল্লাহর ওয়াদা হক। তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন এবং তিনিই পুন: সৃষ্টি করবেন যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে তাদেরকে ইনসাফের সাথে তাদের কর্মফল দেয়ার জন্যে। আর যারা কুফুরি করে, তাদের জন্যে রয়েছে প্রচন্ড গরম পানির শরবত আর বেদনাদায়ক আযাব, তাদের কুফুরির কারণে।

বাংলা উচ্চারণ

ইলাইহি র্মাজ্বি'উকুম্ জ্বামী'আ- অ'দাল্লা-হি হাক্বক্বা- ইন্নাহূ ইয়াব্দাউল্ খল্ক্ব ছুম্মা ইয়ু'ঈদুহূ লিইয়াজ্ব যিয়াল্ লাযীনা আ-মানূ অ'আ-মিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি বিল্ক্বিস্ত্ব অল্লাযীনা কাফারূ লাহুম্ শারা-বুঁম্ মিন্ হামীমিওঁ অ'আযা-বুন্ আলীমুম্ বিমা-কা-নূ ইয়াক্ফুরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সুর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে এবং অতঃপর নির্ধারিত করেছেন এর জন্য মনযিল সমূহ, যাতে করে তোমরা চিনতে পার বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব। এই সমস্ত কিছু এমনিতেই সৃষ্টি করেননি, কিন্তু যথার্থতার সাথে। তিনি প্রকাশ করেন লক্ষণসমূহ সে সমস্ত লোকের জন্য যাদের জ্ঞান আছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই সূর্যকে বানিয়েছেন আলোদানকারী এবং চাঁদকে করেছেন আলোকিত, আর তার মনযিল ঠিক করে দিয়েছেন যাতে করে তোমরা বছর গুণতে পারো এবং হিসাব করতে পারো। বাস্তব কারণ ও প্রয়োজন ছাড়া এগুলো সৃষ্টি করেননি। তিনি জ্ঞানীদের জন্যে বিশদভাবে বর্ণনা করেন আয়াত সমূহ।

বাংলা উচ্চারণ

হুঅল্লাযী জ্বা'আলাশ্ শাম্সা দ্বিয়া - আওঁ অল্ক্বমারা নূরাওঁ অক্বদ্দারাহূ মানা-যিলা লিতা'লামূ 'আদাদাস্ সিনীনা অল্ হিসা-ব মা-খলাক্বাল্লা-হু যা-লিকা ইল্লা-বিল্হাক্বক্বি ইয়ুফাছ্ছিলুল্ আ-ইয়া-তি লিক্বওমিইঁ ইয়া'লামূন্।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই রাত - দিনের পরিবর্তনের মাঝে এবং যা কিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান ও যমীনে, সবই হল নিদর্শন সেসব লোকের জন্য যারা ভয় করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই দিন ও রাতের পরিবর্তন এবং মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে সতর্ক লোকদের জন্যে নিদর্শন।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না ফিখ্তিলা-ফিল্ লাইলি অন্নাহা-রি অমা-খলাক্বল্লা-হু ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি লাআ-ইয়া-তিল্ লিক্বওমিইঁ ইয়াত্তাকুন্।

মুহিউদ্দীন খান

অবশ্যই যেসব লোক আমার সাক্ষাৎ লাভের আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই উৎফুল্ল রয়েছে, তাতেই প্রশান্তি অনুভব করেছে এবং যারা আমার নির্দশনসমূহ সম্পর্কে বেখবর।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা করেনা এবং দুনিয়ার জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট আর তাতেই পরিতৃপ্ত এবং যারা আমাদের আয়াত সম্পর্কেও গাফিল,

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্ লাযীনা লা-ইর্য়াজুনা লিক্বা - য়ানা-আরাদ্বূ বিল্হাইয়া-তিদ্দুন্ইয়া-ওয়াত্বমাআন্ন বিহা- অল্লাযীনা হুম্ 'আন্ আ-ইয়া-তিনা-গ -ফিলূন্।

মুহিউদ্দীন খান

এমন লোকদের ঠিকানা হল আগুন সেসবের বদলা হিসাবে যা তারা অর্জন করছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদেরই আবাস হবে জাহান্নাম তাদের (মন্দ) কৃতকর্মের কারণে।

বাংলা উচ্চারণ

উলা - য়িকা মাওয়া-হুমুন্না-রু বিমা-কা-নূ ইয়াক্সিবূন্।

মুহিউদ্দীন খান

অবশ্য যেসব লোক ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদেরকে হেদায়েত দান করবেন তাদের পালনকর্তা, তাদের ঈমানের মাধ্যমে। এমন সুসময় কানন - কুঞ্জের প্রতি যার তলদেশে প্রবাহিত হয় প্রস্রবণসমূহ।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের প্রতিপালক তাদের সুখকর বাগানে নেবেন যার নীচে প্রবাহমান নদী।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূ অ'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি ইয়াহ্দীহিম্ রব্বুহুম্ বিঈমা-নিহিম্ তা জ্বরী মিন্ তাহতিহিমুল্ আন্হা-রু ফী জান্না-তিন্না'ঈম্।

মুহিউদ্দীন খান

সেখানে তাদের প্রার্থনা হল ‘পবিত্র তোমার সত্তা হে ’। আর শুভেচ্ছা হল সালাম আর তাদের প্রার্থনার সমাপ্তি হয়, ‘সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর জন্য’ বলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানে তাদের দোয়া হবে: ‘হে ! তুমি সকল ত্রুটির উর্ধ্বে, অতীব পবিত্র, অতি মহান!’ আর সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম।’ সেখানে তাদের শেষ দোয়া হবে: ‘আল হামদুলিল্লাহি রাবিবল আলামিন - সব প্রশংসা মহাজগতের প্রভু আল্লাহর।’

বাংলা উচ্চারণ

দা'ওয়া-হুম্ ফীহা-সুব্হা-নাকাল্লা-হুম্মা অতাহিয়্যাতুহুম্ ফীহা-সালা-মুন্ অ আ-খিরু দা'ওয়া-হুম্ 'আনিল্ হাম্দু লিল্লা-হি রব্বিল্ 'আ-লামীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি তা’আলা মানুষকে যথাশীঘ্র অকল্যাণ পৌঁছে দেন যতশীঘ্র তার কামনা করে, তাহলে তাদের আশাই শেষ করে দিতে হত। সুতরাং যাদের মনে আমার সাক্ষাতের আশা নেই, আমি তাদেরকে তাদের দুষ্টুমিতে ব্যতিব্যস্ত ছেড়ে দিয়ে রাখি।

আবদুস শহীদ নাসিম

যদি মানুষের ক্ষতির বিষয়টা দ্রুত করতেন, যেভাবে তারা তাদের কল্যাণের বিষয়টা দ্রুত করে, তাহলে তাদের মরণ হয়ে যেতো। সুতরাং যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা করেনা, আমরা তাদেরকে তাদের বিদ্রোহ ও অবাধ্যতা নিয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ানোর জন্যে ছেড়ে দেই।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও ইয়ু'আজ্জ্বিলুল্লা-হু লিন্না-সিশ্ র্শারাস্ তি'জ্বা-লাহুম্ বিল্খইরি লাকুদ্বিয়া ইলাইহিম্ আজ্বালুহুম্ ফানাযারুল্লাযীনা লা-ইর্য়াজুনা লিক্ব - য়ানা ফী তুগ্ইয়া-নিহিম্ ইয়া'মাহূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন মানুষ কষ্টের সম্মুখীন হয়, শুয়ে বসে, দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকতে থাকে। তারপর আমি যখন তা থেকে মুক্ত করে দেই, সে কষ্ট যখন চলে যায় তখন মনে হয় কখনো কোন কষ্টেরই সম্মুখীন হয়ে যেন আমাকে ডাকেইনি। এমনিভাবে মনঃপুত হয়েছে নির্ভয় লোকদের যা তারা করেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষকে যখন দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন সে আমাদের ডাকে শুয়ে, বসে, কিংবা দাঁড়িয়ে। কিন্তু আমরা যখনই তার দুঃখ - দুর্দশা দূর করে দেই, তখন সে এমনভাবে চলে যেনো তাকে যখন দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করেছিল, তখন সে আমাকে ডাকেনি। এভাবে সীমালংঘনকারীদের কর্মকান্ড তাদের কাছে শোভনীয় করে দেয়া হয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা- মাস্সাল্ ইন্সা-নাদ্ব্ দ্বর্ রু দা'আ-না- লিজ্বাম্বিহী য় আও ক-'ইদান্ আও ক্ব - য়িমান্ ফালাম্মা-কাশাফ্না-'আন্হু র্দ্বুরাহূ র্মারা কাআল্লাম্ ইয়াদ্'উনা য় ইলা-র্দ্বুরিম্ মাস্সাহ্ কাযা-লিকা যুইয়্যিনা লিল্মুসরিফীনা মা-কা-নূ ইয়া'মালূন্।

মুহিউদ্দীন খান

অবশ্য তোমাদের পূর্বে বহু দলকে ধ্বংস করে দিয়েছি, তখন তারা জালেম হয়ে গেছে। অথচ রসূল তাদের কাছেও এসব বিষয়ের প্রকৃষ্ট নির্দেশ নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু কিছুতেই তারা ঈমান আনল না। এমনিভাবে আমি শাস্তি দিয়ে থাকি পাপি সম্প্রদায়কে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের আগেকার বহু মানব প্রজন্মকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি যখন তারা যুলুম করেছিল। তাদের কাছে তাদের রসূলরা এসেছিল স্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে। কিন্তু তারা ঈমান আনার জন্যে এগিয়ে আসেনি। এভাবেই আমরা অপরাধী লোকদেরকে তাদের কাজের প্রতিফল দিয়ে থাকি।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বদ্ আহ্লাক্নাল্ কুরূনা মিন্ ক্বব্লিকুম্ লাম্মা-জোয়ালামূ অজ্বা - য়াত্হুম্ রুসুলুহুম্ বিল্বাইয়্যিনা-তি অমা-কা-নূ লিইয়ুমিনূ কাযা-লিকা না জ্বযিল্ ক্বওমাল্ মু জ্বরিমীন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি তোমাদেরকে যমীনে তাদের পর প্রতিনিধি বানিয়েছি যাতে দেখতে পারি তোমরা কি কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের পরে আমরা পৃথিবীতে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছি তোমাদেরকে। কারণ, আমরা দেখতে চাই তোমরা কেমন আমল করো।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মাজ্বা'আল্না-কুম্ খলা - য়িফা ফিল্ র্আদ্বি মিম্ বা'দিহিম্ লিনান্জুরা কাইফা তা'মালূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন তাদের কাছে আমার প্রকৃষ্ট আয়াত সমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে সমস্ত লোক বলে, যাদের আশা নেই আমার সাক্ষাতের, নিয়ে এসো কোন কোরআন এটি ছাড়া, অথবা একে পরিবর্তিত করে দাও। তাহলে বলে দাও, একে নিজের পক্ষ থেকে পরিবর্তিত করা আমার কাজ নয়। আমি সে নির্দেশেরই আনুগত্য করি, যা আমার কাছে আসে। আমি যদি স্বীয় পরওয়ারদেগারের নাফরমানী করি, তবে কঠিন দিবসের আযাবের ভয় করি।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তাদেরকে আমাদের সুস্পষ্ট আয়াত শুনানো হয়, তখন যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা করেনা তারা বলে: ‘এটির পরিবর্তে অন্য একটি কুরআন আনো, অথবা এটি রদবদল করো।’ হে নবী! বলো: ‘আমার নিজ থেকে এটিতে রদবদল করা আমার কাজ নয়। আমি তো কেবল তারই অনুসরণ করি যা আমার কাছে অহি করা হয়। আমি যদি আমার প্রভুর নির্দেশের অবাধ্য হই, তবে আমি এক মহা ভয়াবহ দিনের আযাবের আশংকা করি।’

বাংলা উচ্চারণ

অ ইযা-তুত্লা-'আলাইহিম্ আ-ইয়া-তুনা-বাইয়্যিনা-তিন্ ক্ব-লাল্লাযীনা লা-ইর্য়াজুনা লিক্ব- য়ানা তি বিক্বরুআ-নিন্ গইরি হা-যা য় আও বাদ্দিল্হু কুল্ মা-ইয়াকূনূ লী য় আন্ উবাদ্দিলাহূ মিন্ তিল্ক্বা - য়ি নাফ্সী ইন্ আত্তাবি'উ ইল্লা-মা-ইয়ূহা য় ইলাইয়্যা ইন্নী য় আখা-ফু ইন্ 'আছোয়াইতু রব্বি 'আযা-বা ইয়াওমিন্ 'আজীম।

মুহিউদ্দীন খান

বলে দাও, যদি চাইতেন, তবে আমি এটি তোমাদের সামনে পড়তাম না, আর নাইবা তিনি তোমাদেরেকে অবহিত করতেন এ সম্পর্কে। কারণ আমি তোমাদের মাঝে ইতিপূর্বেও একটা বয়স অতিবাহিত করেছি। তারপরেও কি তোমরা চিন্তা করবে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘ চাইলে আমি এটি তোমাদের কাছে তিলাওয়াত করতাম না এবং তিনিও এ বিষয়ে তোমাদের অবহিত করতেন না। আমি তো আমার একটা দীর্ঘ বয়সকাল তোমাদেরই মাঝে কাটিয়েছি, তবু কি তোমরা আকল খাটাবে না?’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ লাও শা - য়াল্লা-হু মা-তালাওতুহূ 'আলাইকুম্ অলা য় আদ্র-কুম্ বিহী ফাক্বদ্ লাবিছ্তু ফীকুম্ 'উমুরাম্ মিন্ ক্বব্লিহ্ আফালা-তা'ক্বিলূন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তার চেয়ে বড় জালেম, কে হবে, যে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করেছে কিংবা তাঁর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে অভিহিত করছে? কস্মিনকালেও পাপীদের কোন কল্যাণ হয় না।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর প্রতি আরোপ করে, কিংবা প্রত্যাখ্যান করে তাঁর আয়াতকে? নিশ্চয়ই অপরাধিরা হয়না।

বাংলা উচ্চারণ

ফামান্ আজ্লামু মিম্মানিফ্তারা- 'আলাল্লা-হি কাযিবান্ আও কায্যাবা বিআ-ইয়া-তিহ্ ইন্নাহূ লা-ইয়ুফ্লিহুল্ মু জ্বরিমূন।

মুহিউদ্দীন খান

আর উপাসনা করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন বস্তুর, যা না তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারে, না লাভ এবং বলে, এরা তো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী। তুমি বল, তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয়ে অবহিত করছ, যে সম্পর্কে তিনি অবহিত নন আসমান ও যমীনের মাঝে ? তিনি পুতঃপবিত্র ও মহান সে সমস্ত থেকে যাকে তোমরা শরীক করছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা ছাড়া যে সবের ইবাদত (পূজা, উপাসনা, প্রার্থনা) করে, সেগুলো না তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে, আর না কোনো উপকার। তারা বলে: ‘এরা আল্লাহর কাছে আমাদের শাফায়াতকারী।’ হে নবী! বলো: ‘তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয় অবহিত করতে চাও, মহাকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে যে বিষয়ে তিনি জানেন না?’ তিনি ত্রুটিমুক্ত পবিত্র এবং সেসব থেকে অনেক ঊর্ধ্বে যাদেরকে তোমরা শরিক করছো তাঁর সাথে।

বাংলা উচ্চারণ

অইয়া'বুদূনা মিন্ দূনিল্লা-হি মা-লা-ইয়াদ্বরুরুহুম্ অলা- ইয়ান্ফা'উহুম্ অইয়াকুলূনা হা য় উলা - য়ি শুফা'আ - উনা- 'ইন্দাল্লা-হ্ কুল্ আতুনাব্বিঊনা ল্লা-হা বিমা-লা-ইয়া'লামু ফিস্ সামা-ওয়া-তি অলা-ফিল্ র্আদ্ব সুব্হা-নাহূ অতা'আ-লা-'আম্মা- ইয়ুশ্রিকূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর সমস্ত মানুষ একই উম্মতভুক্ত ছিল, পরে পৃথক হয়ে গেছে। আর একটি কথা যদি তোমার পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে পূর্ব নির্ধারিত না হয়ে যেত; তবে তারা যে বিষয়ে বিরোধ করছে তার মীমাংসা হয়ে যেত।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষ তো প্রথমে এক উম্মতই ছিলো। পরে তারা ইখতেলাফ (বিভেদ সৃষ্টি) করে। তোমার প্রভুর পূর্ব ঘোষণা না থাকলে তারা যে বিষয়ে ইখতেলাফ করছে তার ফায়সালা হয়ে যেতো।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-কা-নান্ না-সু ইল্লা য় উস্মাতাওঁ ওয়া-হিদাতান্ ফাখ্তালাফূ অলাওলা-কালিমাতুন্ সাবাক্বাত্ র্মি রব্বিকা লাকুদ্বিয়া বাইনাহুম্ ফীমা-ফীহি ইয়াখ্তালিফূন্।

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ তারা বলে, তাঁর কাছে তাঁর পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ এল না কেন? বলে দাও গায়েবের কথা আল্লাহই জানেন। আমি ও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘তার প্রভুর পক্ষ থেকে তার কাছে কোনো নিদর্শন নাযিল হলো না কেন?’ তুমি বলো: ‘ তো কেবল আল্লাহ্ই জানেন। সুতরাং তোমরা এনতেযার (অপেক্ষা) করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’

বাংলা উচ্চারণ

অইয়াকুলূনা লাওলা য় উন্যিলা 'আলাইহি আ-ইয়াতুম্ র্মি রব্বিহী ফাকুল্ ইন্নামাল্ গইবু লিল্লা-হি ফান্তাজিরূ ইন্নী মা'আকুম্ মিনাল্ মুন্তাজিরীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন আমি আস্বাদন করাই স্বীয় রহমত সে কষ্টের পর, যা তাদের ভোগ করতে হয়েছিল, তখনই তারা আমার শক্তিমত্তার মাঝে নানা রকম ছলনা তৈরী করতে আরম্ভ করবে। আপনি বলে দিন, সবচেয়ে দ্রুত কলা - কৌশল তৈরী করতে পারেন। নিশ্চয়ই আমাদের ফেরেশতারা লিখে রাখে তোমাদের ছল - চাতুরী।

আবদুস শহীদ নাসিম

দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করার পর যখনই আমরা মানুষকে আমাদের রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই, তখনই তারা আমাদের আয়াতের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত হয়। বলো: ‘কৌশল প্রয়োগে সবচেয়ে দ্রুত।’ আমাদের রসূলরা (ফেরেশতারা) রেকর্ড করে রাখছে তোমাদের সব চক্রান্ত।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা য় আযাক্বনান না-সা রহ্মাতাম্ মিম্ বা'দি দ্বোর্য়ারা - য়া মাস্সাতহুম্ ইযা-লাহুম্ মাক্রুন্ ফী য় আ-ইয়া-তিনা- কুলিল্লা-হু আস্রা'উ মাক্রা- ইন্না রুসুলানা-ইয়াক্তুবূনা মা-তাম্কুরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই তোমাদের ভ্রমন করান স্থলে ও সাগরে। এমনকি যখন তোমরা নৌকাসমূহে আরোহণ করলে আর তা লোকজনকে অনুকূল হাওয়ায় বয়ে নিয়ে চলল এবং তাতে তারা আনন্দিত হল, নৌকাগুলোর উপর এল তীব্র বাতাস, আর সর্বদিক থেকে সেগুলোর উপর ঢেউ আসতে লাগল এবং তারা জানতে পারল যে, তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, তখন ডাকতে লাগল আল্লাহকে তাঁর এবাদতে নিঃস্বার্থ হয়ে যদি তুমি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করে তোল, তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই তোমাদের ভ্রমণ করান স্থলভাগে এবং সমুদ্রে। এভাবে তোমরা যখন নৌযানে ভ্রমণ করো এবং সেগুলো আরোহীদের নিয়ে অনুকূল বাতাসে এগিয়ে চলে এবং তাতে তারা আনন্দিত হয়। অত:পর যখন দমকা হাওয়া এবং সবদিক থেকে আগত উত্তাল তরঙ্গমালা সেগুলোকে আক্রমণ করে এবং তারা মনে করে যে, তারা ঘেরাও হয়ে পড়েছে, তখন আল্লাহর জন্যে আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে তারা কেবল তাঁকেই ডাকতে থাকে। তারা তখন তাঁকে বলে: ‘তুমি যদি আমাদের উদ্ধার করো তাহলে অবশ্যি আমরা শোকরগুজার হবো।’

বাংলা উচ্চারণ

হুঅল্লাযী ইয়ুসাইয়্যিরুকুম্ ফিল্ র্বারি অল্ বাহ্র্ হাত্তা য় ইযা- কুন্তুম্ ফিল্ফুল্কি অজ্বারাইনা বিহিম বিরীহিন্ ত্বোয়াইয়্যিবাতিওঁ অফারিহূ বিহা-জ্বা - য়াত্হা- রীহুন্ 'আ-ছিফুওঁ অজ্বা - য়াহুমুল্ মাওজ্বু মিন্ কুল্লি মাকা-নিওঁ অজোয়ান্ন য় আন্নাহুম্ উহীতোয়া বিহিম্ দা'আ'উল্লা-হা মুখ্লিছীনা লাহুদ্দীনা লায়িন্ আন্জ্বাইতানা-মিন্ হা-যিহী লানাকূনান্না মিনাশ্ শা-কিরীন্।

মুহিউদ্দীন খান

তারপর যখন তাদেরকে বাঁচিয়ে দিলেন, তখনই তারা পৃথিবীতে অনাচার করতে লাগল অন্যায় ভাবে। হে মানুষ! শোন, তোমাদের অনাচার তোমাদেরই উপর পড়বে। পার্থিব জীবনের সুফল ভোগ করে নাও - অতঃপর আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন আমি বাতলে দেব, যা কিছু তোমরা করতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু যখন তিনি তাদের বিপদ থেকে নাজাত দেন, তখন তারা না - হকভাবে দেশে সীমালংঘন করতে থাকে। হে মানুষ! তোমাদের সীমালংঘন তোমাদেরই ধ্বংসের কারণ হয়। দুনিয়ার জীবনে কিছুটা ভোগবিলাস করে নাও, তারপর আমাদের কাছেই হবে তোমাদের প্রত্যাবর্তন, তখন আমরা তোমাদের অবহিত করবো তোমরা কী সব কান্ড কারবার করছিলে।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা য় আন্জ্বা-হুম্ ইযা-হুম্ ইয়াব্গূনা ফিল্ র্আদ্বি বিগইরিল্ হাক্ব ইয়া য় আইয়্যুহান্ না-সু ইন্নামা-বাগ্ইয়ুকুম্ 'আলা য় আন্ফুসিকুম্ মাতা-'আল্ হা-ইয়া-তিদ্দুন্ইয়া-ছুম্মা ইলাইনা-র্মাজ্বি'উকুম্ ফানুনাব্বিউকুম্ বিমা-কুন্তুম্ তা'মালূন।

মুহিউদ্দীন খান

পার্থিব জীবনের উদাহরণ তেমনি, যেমনি আমি আসমান থেকে পানি বর্ষন করলাম, পরে তা মিলিত সংমিশ্রিত হয়ে তা থেকে যমীনের শ্যামল উদ্ভিদ বেরিয়ে এল যা মানুষ ও জীব - জন্তুরা খেয়ে থাকে। এমনকি যমীন যখন সৌন্দর্য সুষমায় ভরে উঠলো আর যমীনের অধিকর্তারা ভাবতে লাগল, এগুলো আমাদের হাতে আসবে, হঠাৎ করে তার উপর আমার নির্দেশ এল রাত্রে কিংবা দিনে, তখন সেগুলোকে কেটে স্তুপাকার করে দিল যেন কাল ও এখানে কোন আবাদ ছিল না। এমনিভাবে আমি খোলাখুলি বর্ণনা করে থাকি নিদর্শণসমূহ সে সমস্ত লোকদের জন্য যারা লক্ষ্য করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

দুনিয়ার জীবনের উপমা হলো (বৃষ্টির) পানি, যা আমরা আকাশ থেকে নাযিল করি। তা থেকে গজিয়ে উঠে ভূমিজ উদ্ভিদ ঘন নিবিড় হয়ে। তা থেকেই আহার করে মানুষ এবং জীব - জানোয়ার। তারপর জমিন যখন তার শোভা ধারন করে এবং চাকচিক্যময় হয়ে উঠে আর তার অধিবাসীরা মনে করে, সেগুলো তাদের আয়ত্তাধীন, তখন আমাদের নির্দেশ এসে পড়ে রাতে কিংবা দিনে এবং আমরা সেগুলো এমনভাবে ধ্বংস করে দেই, যেনো গতকালও সেখানে কিছু ছিলনা। এভাবেই আমরা বিশদ বিবরণ দেই আমাদের আয়াতের, চিন্তাশীল লোকদের জন্যে।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নামা-মাছালুল্ হা ইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া-কামা - য়িন্ আন্যাল্না-হু মিনাস্ সামা - য়ি ফাখ্তালাত্বোয়া বিহী নাবা-তুল্ র্আদ্বি মিম্মা- ইয়াকুলুন্না-সু অল্ আন'আ-ম্ হাত্তা য় ইযা য় আখাযাতিল্ র্আদ্ব ু যুখ্রুফাহা- অয্যাইয়্যানাত্ অজোয়ান্না আহ্লুহা য় আন্নাহুম্ ক্বা-দ্বিরূনা 'আলাইহা য় আতা-হা য় আম্রুনা- লাইলান্ আও নাহা-রন্ ফাজ্বা'আল্না-হা- হাছীদান্ কাআল্লাম্ তাগ্না বিল্আম্স্ কাযা-লিকা নুফাছ্ছিলুল্ আ-ইয়া-তি লিক্বওমিইঁ ইয়াতাফাক্কারূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর শান্তি - নিরাপত্তার আলয়ের প্রতি আহবান জানান এবং যাকে ইচ্ছা সরলপথ প্রদর্শন করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

দাওয়াত দিচ্ছেন দারুস সালামের (শান্তি নিবাসের) দিকে এবং তিনি যাকে চান পরিচালিত করেন সিরাতুল মুস্তাকিমে (সঠিক সুদৃঢ় পথে)।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লা-হু ইয়াদ্'ঊ - ইলা-দা-রিস্ সালা-ম্ অইয়াহ্দী মাইঁ ইয়াশা - য়ু ইলা-ছিরা-ত্বিম্ মুস্তাক্বীম্।

মুহিউদ্দীন খান

যারা সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং তারও চেয়ে বেশী। আর তাদের মুখমন্ডলকে আবৃত করবে না মলিনতা কিংবা অপমান। তারাই হল জান্নাতবাসী, এতেই তারা বসবাস করতে থাকবে অনন্তকাল।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কল্যাণের কাজ করে তাদের জন্যে রয়েছে কল্যাণ এবং আরো অধিক। তাদের চেহারাকে আচ্ছন্ন করবেনা কালিমা কিংবা জিল্লতি। তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী, সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল।

বাংলা উচ্চারণ

লিল্লাযীনা আহ্সানুল্ হুস্না-অযিইয়া-দাহ্ অলা-ইর্য়াহাকু উজুহাহুম্ ক্বাতারুওঁ অলা-যিল্লাহ্ উলা - য়িকা আছ্হা-বুল্ জান্নাতি হুম্ ফীহা-খা-লিদূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা সঞ্চয় করেছে অকল্যাণ অসৎ কর্মের বদলায় সে পরিমাণ অপমান তাদের চেহারাকে আবৃত করে ফেলবে। কেউ নেই তাদেরকে বাঁচাতে পারে আল্লাহর হাত থেকে। তাদের মুখমন্ডল যেন ঢেকে দেয়া হয়েছে আধাঁর রাতের টুকরো দিয়ে। এরা হল দোযখবাসী। এরা এতেই থাকবে অনন্তকাল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা কামাই করবে মন্দ কর্ম, তাদের প্রতিফলও হবে অনুরূপ মন্দ। তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে জিল্লতি। তাদেরকে আল্লাহর (পাকড়াও) থেকে রক্ষা করার কেউ হবেনা। তাদের চেহারা হবে (কালো) যেনো রাতের অন্ধকার আবরণে আচ্ছন্ন। তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা কাসাবুস্ সাইয়্যিয়া-তি জ্বাযা য় উ সাইয়্যিয়াতিম্ বিমিছ্লিহা-অর্তাহাক্বহুম্ যিল্লাহ্ মা-লাহুম্ মিনাল্লা-হি মিন্ 'আ-ছিমিন্ কাআন্নামা য় উগ্শিয়াত্ উজুহুহুম্ ক্বিতোয়া'আম্ মিনাল্লাইলি মুজ্লিমা- উলা - য়িকা আছ্হা-বুন্না-রি হুম্ ফীহা-খ-লিদূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যেদিন আমি তাদের সবাইকে সমবেত করব; আর যারা শেরক করত তাদেরকে বলবঃ তোমরা এবং তোমাদের শরীকরা নিজ নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে যাও - অতঃপর তাদেরকে পারস্পরিক বিচ্ছিন্ন করে দেব, তখন তাদের শরীকরা বলবে, তোমরা তো আমাদের উপাসনা - বন্দেগী করনি।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন আমরা তাদের সবাইকে হাশর (সমবেত) করবো এবং মুশরিকদের বলবো: ‘তোমাদের নিজ নিজ জায়গায় অবস্থান করো, তোমরা নিজেরা এবং তোমরা যাদের শরিক করেছিলে তারা। তারপর আমরা তাদেরকে পরস্পর থেকে আলাদা করে দেবো। তখন তারা যাদের শরিক করেছিল তারা বলবে: ‘‘তোমরা তো আমাদের ইবাদত করতে না।

বাংলা উচ্চারণ

অইয়াওমা নাহ্শুরুহুম্ জ্বামী'আন ছুম্মা নাকুলু লিল্লাযীনা আশ্রাকূ মাকা-নাকুম্ আনতুম্ অশুরাকা - উকুম্ ফাযাইয়্যাল্না-বাইনাহুম্ অক্ব-লা শুরাকা - উহুম্ মা- কুন্তুম্ ইয়্যা-না-তা'বুদূন্।

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ আমাদের ও তোমাদের মাঝে সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট। আমরা তোমাদের বন্দেগী সম্পর্কে জানতাম না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের এবং তোমাদের মাঝে আল্লাহই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট। (তোমরা যে বলছো তোমরা আমাদের ইবাদত করতে) আমরা তো তোমাদের ইবাদত সম্পর্কে একেবারেই গাফিল ছিলাম।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফাকাফা-বিল্লা-হি শাহীদাম্ বাইনানা-অবাইনাকুম্ ইন্ কুন্না-'আন্ 'ইবা-দাতিকুম্ লাগ-ফিলীন্।

মুহিউদ্দীন খান

সেখানে প্রত্যেকে যাচাই করে নিতে পারবে যা কিছু সে ইতিপূর্বে করেছিল এবং আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন করবে যিনি তাদের প্রকৃত মালিক, আর তাদের কাছ থেকে দূরে যেতে থাকবে যারা মিথ্যা বলত।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানেই তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ কৃতকর্ম পরীক্ষা করে নেবে এবং তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে তাদের প্রকৃত মাওলা (মনিব) আল্লাহর দিকে, আর তাদের থেকে উধাও হয়ে যাবে তাদের মনগড়া (সুপারিশকারীরা)।

বাংলা উচ্চারণ

হুনা-লিকা তাব্লূ কুল্লু নাফ্সিম্ মা য় আস্লাফাত্ অরুদ্দূ য় ইলাল্লা-হি মাওলা-হুমুল্ হাক্বক্বি অদ্বোয়াল্লা 'আন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়াফ্তারূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি জিজ্ঞেস কর, কে রুযী দান করে তোমাদেরকে আসমান থেকে ও যমীন থেকে, কিংবা কে তোমাদের কান ও চোখের মালিক? তাছাড়া কে জীবিতকে মৃতের ভেতর থেকে বের করেন এবং কেইবা মৃতকে জীবিতের মধ্য থেকে বের করেন? কে করেন কর্ম সম্পাদনের ব্যবস্থাপনা? তখন তারা বলে উঠবে, ! তখন তুমি বলো তারপরেও ভয় করছ না?

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘কে তোমাদের রিযিক দেন আসমান ও জমিন থেকে? কিংবা শ্রবণ শক্তি ও দৃষ্টি শক্তির কর্তৃত্ব কার? কে বের করেন মৃত থেকে জীবিতকে? কে বের করেন জীবিত থেকে মৃতকে? কে পরিচালনা করেন সমস্ত বিষয়?’ এসব প্রশ্নের জবাবে তারা বলবে: ‘’। বলো: ‘তাহলে কেন তোমরা সতর্ক হওনা (আল্লাহর আযাব সম্পর্কে)?’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ মাইঁ ইর্য়াযুকুকুম্ মিনাস্ সামা - য়ি অল্ র্আদ্বি আম্মাইঁ ইয়াম্লিকুস্ সাম্'আ অল্ আব্ছোয়া-রা অমাইঁ ইয়ুখ্রিজ্বুল্ হাইয়্যা মিনাল্ মাইয়্যিতি অইয়ুখ্রিজ্বুল্ মাইয়্যিতা মিনাল্ হাইয়্যি অমাইঁ ইয়ুদাব্বিরুল্ আম্র্ ফাসাইয়াকুলূনাল্লা-হু ফাক্বলুআফালা-তাত্তাকুন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, এ আল্লাহই তোমাদের প্রকৃত পালনকর্তা। আর সত্য প্রকাশের পরে (উদভ্রান্ত ঘুরার মাঝে) কি রয়েছে গোমরাহী ছাড়া? সুতরাং কোথায় ঘুরছ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই , তোমাদের প্রকৃত প্রভু। সত্য ত্যাগ করলে গোমরাহি ছাড়া আর কী থাকে? তাহলে তোমরা ঘুরে ফিরে কোন্ দিকে যাচ্ছো?

বাংলা উচ্চারণ

ফাযা-লিকুমুল্লা-হু রব্বুকুমুল্ হাক্বকু ফামা-যা-বা'দাল্ হাক্বক্বি ইল্লাদ্দোয়ালা-লু ফাআন্না-তুছ্রাফূন্।

মুহিউদ্দীন খান

এমনিভাবে সপ্রমাণিত হয়ে গেছে তোমার পরওয়ারদেগারের বাণী সেসব নাফরমানের ব্যাপারে যে, এরা ঈমান আনবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই ফাসিকদের উপর তোমার প্রভুর বাণী সত্যে পরিণত হয়েছে যে, তারা ঈমান আনবে না।

বাংলা উচ্চারণ

কাযা-লিকা হাক্বক্বাত্ কালিমাতু রব্বিকা 'আলাল্লাযীনা ফাসাকুয় আন্নাহুম্ লা-ইয়ুমিনূন্।

মুহিউদ্দীন খান

বল, আছে কি কেউ তোমাদের শরীকদের মাঝে যে সৃষ্টি কে পয়দা করতে পারে এবং আবার জীবিত করতে পারে? বল, আল্লাহই প্রথমবার সৃষ্টি করেন এবং অতঃপর তার পুনরুদ্ভব করবেন। অতএব, কোথায় ঘুরপাক খাচ্ছে?

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরিক বানাও, তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে সৃষ্টির অস্তিত্ব দেয়, পরে তার পুনরাবৃত্তি ঘটায়? বলো: আল্লাহ্ই সৃষ্টির অস্তিত্ব দেন এবং পরে তার পুনরাবৃত্তি ঘটান। ফলে তোমরা কী করে সত্য ত্যাগ করে দূরে সরে যাচ্ছো?

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ হাল্ মিন্ শুরাকা - য়িকুম্ মাইঁ ইয়্ব্দাউল্ খল্ক্ব ছুম্মা ইয়ু'ঈদুহ্ কুলিল্লা-হু ইয়াব্দাউল্ খল্ক্ব ছুম্মা ইয়ু'ঈদুহূ ফাআন্না-তুফাকূন্।

মুহিউদ্দীন খান

জিজ্ঞেস কর, আছে কি কেউ তোমাদের শরীকদের মধ্যে যে সত্য - সঠিক পথ প্রদর্শন করবে? বল, আল্লাহই সত্য - সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, সুতরাং এমন যে লোক সঠিক পথ দেখাবে তার কথা মান্য করা কিংবা যে লোক নিজে নিজে পথ খুঁজে পায় না, তাকে পথ দেখানো কর্তব্য। অতএব, তোমাদের কি হল, কেমন তোমাদের বিচার?

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক বানাচ্ছো, তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে সত্যের দিকে পথ দেখায়? বলো: সত্যের দিকে পথ দেখান তো কেবল । যিনি সত্যের দিকে পথ দেখান তিনি আনুগত্য লাভের অধিক হকদার? নাকি সে, যাকে পথ না দেখালে সে নিজেই পথ পায়না? তোমাদের হয়েছে কী? কিভাবে তোমরা ফায়সালা গ্রহণ করো?

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ হাল্ মিন্ শুরাকা - য়িকুম্ মাইঁ ইয়াহ্দী য় ইলাল্ হাক্ব কুলিল্লা-হু ইয়াহ্দী লিল্হাক্ব আফামাইঁ ইয়াহ্দী য় ইলাল্ হাক্বক্বি আহাক্বকু আইঁ ইয়ুত্তাবা'আ আম্মাল লা-ইয়াহিদ্দী য় ইল্লা য় আইঁ ইয়ুহ্দা- ফামা-লাকুম্ কাইফা তাহ্কুমূন্।

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ - অনুমানের উপর চলে, অথচ আন্দাজ - অনুমান সত্যের বেলায় কোন কাজেই আসে না। ভাল করেই জানেন, তারা যা কিছু করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের অধিকাংশই অনুমান ছাড়া আর কিছুরই অনুসরণ করেনা। নিশ্চয়ই অনুমান সত্যে উপনীত হবার ব্যাপারে কোনো কাজেই আসেনা। তারা যা করে সে বিষয়ে পূর্ণ অবহিত।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-ইয়াত্তাবি'উ আক্ছারুহুম্ ইল্লা-জোয়ান্না-ইন্নাজ জোয়ান্না লা-ইয়ুগ্নী মিনাল্ হাক্বক্বি শাইয়া- ইন্নাল্লা-হা 'আলীমুম্ বিমা-ইয়াফ্'আলূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর কোরআন সে জিনিস নয় যে, ব্যতীত কেউ তা বানিয়ে নেবে। অবশ্য এটি পূর্ববর্তী কালামের সত্যায়ন করে এবং সে সমস্ত বিষয়ের বিশ্লেষণ দান করে যা তোমার প্রতি দেয়া হয়েছে, যাতে কোন সন্দেহ নেই - তোমার বিশ্বপালনকর্তার পক্ষ থেকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ কুরআন ছাড়া আর কারো পক্ষে রচনা করা সম্ভব নয়। বরং এটি এর পূর্বে যেসব (কিতাব) অবতীর্ণ হয়েছে সেগুলোর সত্যায়নকারী এবং বিধানসমূহের বিশদ বিবরণ। এতে সন্দেহের কোনোই অবকাশ নেই যে, এটি নাযিল হয়েছে মহাজগতের প্রভুর পক্ষ থেকে।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-কা-না হা-যাল্ ক্বরুআ-নু আইঁ ইয়ুফ্তারা- মিন্ দূনিল্লা-হি অলা-কিন্ তাছ্দীক্বল্লাযী বাইনা ইয়াদাইহি অতাফ্ছীলাল্ কিতা-বি লা-রাইবা ফীহি র্মি রব্বিল্ 'আ-লামীন্।

মুহিউদ্দীন খান

মানুষ কি বলে যে, এটি বানিয়ে এনেছ? বলে দাও, তোমরা নিয়ে এসো একটিই সূরা, আর ডেকে নাও, যাদেরকে নিতে সক্ষম হও ব্যতীত, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তারা বলে: এটি সে (মুহাম্মদ) রচনা করে নিয়েছে? তুমি বলো: তাহলে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এসো এবং ছাড়া আর যাদেরকে পারো (সহযোগিতার) জন্যে ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।

বাংলা উচ্চারণ

আম্ ইয়াকুলূনাফ্ তারাহ্ কুল্ ফাতূ বিসূরাতিম্ মিছ্লিহী অদ্'ঊ মানিস্ তাত্বোয়া'তুম্ মিন্ দূনিল্লা-হি ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু কথা হল এই যে, তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে আরম্ভ করেছে যাকে বুঝতে, তারা অক্ষম। অথচ এখনো এর বিশ্লেষণ আসেনি। এমনিভাবে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তাদের পূর্ববর্তীরা। অতএব, লক্ষ্য করে দেখ, কেমন হয়েছে পরিণতি।

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং তারা এমন বিষয় অস্বীকার করছে, যে বিষয়ে জ্ঞান তারা আয়ত্ত করেনি এবং যার তা’বিলও তাদের কাছে আসেনি। তাদের পূর্ববর্তী (কাফিররাও) এভাবেই সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। এখন তাকিয়ে দেখো, যালিমদের কী পরিণতি হয়েছিল!

বাংলা উচ্চারণ

বাল্ কায্যাবূ বিমা-লাম্ ইয়ুহীত্ব বি'ইল্মিহী অলাম্মা-ইয়াতিহিম্ তাওয়ী লুহ্ কাযা-লিকা কায্যাবাল্লাযীনা মিন্ ক্বাব্লিহিম্ ফার্ন্জু কাইফা কা-না'আ-ক্বিবাতুজ্জোয়া-লিমীন্।

মুহিউদ্দীন খান

অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল এবং ভুপৃষ্ঠ উচ্ছসিত হয়ে উঠল, আমি বললামঃ সর্বপ্রকার জোড়ার দুটি করে এবং যাদের উপরে পূর্বাহ্নে হুকুম হয়ে গেছে তাদের বাদি দিয়ে, আপনার পরিজনবর্গ ও সকল ঈমানদারগণকে নৌকায় তুলে নিন। বলাবাহুল্য অতি অল্পসংখ্যক লোকই তাঁর সাথে ঈমান এনেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের মধ্যে কিছু লোক তার প্রতি ঈমান রাখে আর কিছু লোক ঈমান রাখেনা। তোমার প্রভু ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের সবচে’ ভালো করে জানেন।

বাংলা উচ্চারণ

অমিন্হুম্ মাইঁ ইয়ুমিনু বিহী অমিন্হুম্ মাল্লা-ইয়ুমিনু বিহ্ অরব্বুকা আ'লামু বিল্ মুফ্সিদীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তবে বল, আমার জন্য আমার কর্ম, আর তোমাদের জন্য তোমাদের কর্ম। তোমাদের দায় - দায়িত্ব নেই আমার কর্মের উপর এবং আমারও দায় - দায়িত্ব নেই তোমরা যা কর সেজন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তোমাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে, তুমি তাদের বলো: ‘আমার কাজের দায়িত্ব আমার, আর তোমাদের কাজের দায়িত্ব তোমাদের। আমি যে কাজ করি তোমরা তার দায়মুক্ত। আর তোমরা যে কাজ করছো আমিও তার দায়মুক্ত।’

বাংলা উচ্চারণ

অইন্ কায্যাবূকা ফাকুল্লী 'আমালী অলাকুম্ 'আমালুকুম্ আন্তুম্ বারী - য়ূনা মিম্মা য় আ'মালু অআনা বারী - উম্ মিম্মা-তা'মালূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের কেউ কেউ কান রাখে তোমাদের প্রতি; তুমি বধিরদেরকে কি শোনাবে যদি তাদের বিবেক - বুদ্ধি না থাকে!

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কিছু লোক তোমার কথা শুনে। কিন্তু তারা বুঝতে না পারলেও তুমি কি বধিরদের শুনাবে?

বাংলা উচ্চারণ

অমিন্হুম্ মাইঁ ইয়াস্তামি'ঊনা ইলাইক্ আফা আন্তা তুস্মি'উছ্ ছুম্মা অলাও কা-নূ লা-ইয়া'ক্বিলূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমাদের প্রতি দৃষ্টিনিবদ্ধ রাখে; তুমি অন্ধদেরকে কি পথ দেখাবে যদি তারা মোটেও দেখতে না পারে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমাকে দেখে । কিন্তু তুমি কি অন্ধদের পথ দেখাবে তারা না দেখলেও?

বাংলা উচ্চারণ

অমিন্হুম্ মাইঁ ইয়ান্জুরু ইলাইক্ আফা আন্তা তাহ্দিল 'উম্ইয়া অলাও কা-নূ লা-ইয়ুছরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

জুলুম করেন না মানুষের উপর, বরং মানুষ নিজেই নিজের উপর জুলুম করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করেন না, বরঞ্চ মানুষই নিজেরা নিজেদের প্রতি যুলুম করে।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াজ্লিমুন্ না-সা শাইয়াওঁ অর-কিন্নান্না-সা আন্ফুসাহুম্ ইয়াজ্লিমূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যেদিন তাদেরকে সমবেত করা হবে, যেন তারা অবস্থান করেনি, তবে দিনের একদন্ড একজন অপরজনকে চিনবে। নিঃসন্দেহে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতকে এবং সরলপথে আসেনি।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন তিনি তাদের হাশর করবেন, সেদিন তাদের মনে হবে (পৃথিবীতে) তারা অবস্থান করেছিল দিনের কিছুক্ষণ মাত্র। তারা পরস্পরকে চিনবে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেইসব লোক যারা আল্লাহর সাক্ষাত অস্বীকার করেছে এবং তারা সঠিক পথেও ছিলনা।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয়াওমা ইয়াহ্শুরুহুম্ কাআল্ লাম্ ইয়াল্বাছূ য় ইল্লা-সা-'আতাম্ মিনান্নাহা-রি ইয়াতা'আ-রাফূনা বাইনাহুম্ ক্বদ্ খাসিরাল্লাযীনা কায্যাবূ বিলিক্বা - য়িল্লা-হি অমা-কা-নূ মুহ্তাদীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি আমি দেখাই তোমাকে সে ওয়াদাসমূহের মধ্য থেকে কোন কিছু যা আমি তাদের সাথে করেছি, অথবা তোমাকে মৃত্যুদান করি, যাহোক, আমার কাছেই তাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। বস্তুতঃ সে সমস্ত কর্মের সাক্ষী যা তারা করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদেরকে যে ভয় দেখাচ্ছি, তার কিছুটা যদি তোমার জীবনকালে দেখিয়ে দেই, কিংবা তোমার জীবনকাল যদি পূর্ণ করে দেই, শেষ পর্যন্ত তাদের প্রত্যাবর্তন তো আমাদের কাছেই হবে। তারপর আল্লাহ্ই তো তাদের কর্মকান্ডের সাক্ষী।

বাংলা উচ্চারণ

অইম্মা-নুরিইয়ান্নাকা বা'দ্বোয়াল্লাযী না'ইদুহুম্ আওনাতাঅফ্ফাইন্নাকা ফাইলাইনা-র্মাজ্বি'উহুম্ ছুম্মাল্লা-হু শাহীদুন্ 'আলা-মা-ইয়াফ্'আলূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একেকজন রসূল রয়েছে। যখন তাদের কাছে তাদের রসূল ন্যায়দন্ডসহ উপস্থিত হল, তখন আর তাদের উপর জুলুম হয় না।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রত্যেক উম্মতের জন্যেই ছিলো একজন রসূল। যখনই তাদের কাছে তাদের রসূল এসেছিল, তখন ইনসাফের সাথে তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেয়া হয়েছে। তাদের প্রতি কোনো প্রকার অবিচার করা হয়নি।

বাংলা উচ্চারণ

অলিকুল্লি উম্মার্তি রাসূলুন্ ফাইযা-জ্বা - আ রসূলুহুম্ কুদ্বিয়া বাইনাহুম্ বিল্ক্বিস্ত্বি অহুম্লা-ইয়ুজ্লামূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তারা আরো বলে, এ ওয়াদা কবে আসবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে বলো, তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া সেই সময়টি কখন আসবে?’

বাংলা উচ্চারণ

অইয়াকুলূনা মাতা-হা-যাল্ অ'দু ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দ্বিক্বীন।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি বল, আমি আমার নিজের ক্ষতি কিংবা লাভেরও মালিক নই, কিন্তু যা ইচ্ছা করেন। প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যই একেকটি ওয়াদা রয়েছে, যখন তাদের সে ওয়াদা এসে পৌঁছে যাবে, তখন না একদন্ড পেছনে সরতে পারবে, না সামনে ফসকাতে পারবে,।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: আমার নিজের লাভ ক্ষতির উপরও আমার কোনো অধিকার নেই, তবে কিছু চাইলে ভিন্ন কথা। প্রত্যেক উম্মতেরই একটি নির্ধারিত সময় আছে। যখন তার সেই নির্ধারিত সময়টি আসবে, তখন কিছুক্ষণ সময়ও আগপর হবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ লা য় আম্লিকু লিনাফ্সী দ্বোর্য়ারাওঁ অলা-নাফ্'আন্ ইল্লা-মা-শা - আল্লা-হ্ লিকুল্লি উম্মাতিন্ আজ্বাল্ ইযা-জ্বা - আ আজ্বালুহুম্ ফালা-ইয়াস্তাখিরূনা সা-'আতাওঁ অলা-ইয়াস্তাক্বাদিমূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি বল, আচ্ছা দেখ তো দেখি, যদি তোমাদের উপর তার আযাব রাতারাতি অথবা দিনের বেলায় এসে পৌঁছে যায়, তবে এর আগে পাপীরা কি করবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘তোমাদের রায় কী; আল্লাহর আযাব তো রাত বা দিনে তোমাদের উপর এসেই পড়তে পারে। তারপরও অপরাধীরা সেটার জন্যে তাড়াহুড়া করে কেন?’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ আরআইতুম্ ইন্ আতা-কুম্ 'আযা বুহূ-বাইয়া-তান্ আও নাহা-রাম্ মা-যা-ইয়াস্তা'জ্বিলু মিন্হুল্ মু জ্বরিমূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তাহলে কি আযাব সংঘটিত হয়ে যাবার পর এর প্রতি বিশ্বাস করবে? এখন স্বীকার করলে? অথচ তোমরা এরই তাকাদা করতে?

আবদুস শহীদ নাসিম

সেটা (কিয়ামত) ঘটে যাবার পরই কি তোমরা ঈমান আনবে? এখন (ঈমান আনবেনা)? তোমরাই তো এর জন্যে তাড়াহুড়া করছিলে।

বাংলা উচ্চারণ

আছুম্মা ইযা-মা-অক্বা'আ আ-মান্তুম্ বিহ্ আ -ল্আ-না অক্বাদ্ কুন্তুম্ বিহী তাস্তাজ্বিলূন।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর বলা হবে, গোনাহগারদিগকে, ভোগ করতে থাক অনন্ত আযাব - তোমরা যা কিছু করতে তার তাই প্রতিফল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর যালিমদের বলা হবে, চিরস্থায়ী আযাবের স্বাদ গ্রহণ করো। তোমরা যা কামাই করে এসেছো সেটার ছাড়া অন্য কিসের প্রতিফল তোমাদের দেয়া হবে?

বাংলা উচ্চারণ

ছূম্মা ক্বীলা লিল্লাযীনা জোয়ালামূ যূকু 'আযা-বাল্ খুল্দি হাল্ তু জ্বযাওনা ইল্লা-বিমা-কুন্তুম্ তাক্সিবূন।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমার কাছে সংবাদ জিজ্ঞেস করে, এটা কি সত্য ? বলে দাও, অবশ্যই আমার পরওয়ারদেগারের কসম এটা সত্য। আর তোমরা পরিশ্রান্ত করে দিতে পারবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী!) তারা তোমার কাছে জানতে চায়, সেটা (পুনরুত্থান দিবস) কি সত্য? বলো: ‘হ্যাঁ, আমার প্রভুর শপথ সেটা অবশ্যি সত্য। তোমরা সেটার আগমন ঠেকাতে পারবে না।’

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয়াস্তাম্বিঊনাকা আহাক্বকুন্ হুঅ কুল্ ঈ অরব্বী য় ইন্নাহূ লাহাক্ব অমা য় আন্তুম্ বিমু'জ্বিযীন্।

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ যদি প্রত্যেক গোনাহগারের কাছে এত পরিমাণ থাকে যা আছে সমগ্র যমীনের মাঝে, আর অবশ্যই যদি সেগুলো নিজের মুক্তির বিনিময়ে দিতে চাইবে আর গোপনে গোপনে অনুতাপ করবে, যখন আযাব দেখবে। বস্তুতঃ তাদের জন্য সিদ্ধান্ত হবে ন্যায়সঙ্গত এবং তাদের উপর জুলম হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যদি প্রত্যেক অন্যায়কারী পৃথিবীর সবকিছুর মালিকও হয়, তবে সে (কিয়ামতের দিন) মুক্তির বিনিময়ে সবকিছু দিয়ে দিতে চাইবে। আযাব দেখতে পেলে সে অনুতাপ লুকাবার চেষ্টা করবে। সেদিন ইনসাফের সাথে তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো প্রকার অবিচার করা হবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও আন্না লিকুল্লি নাফ্সিন্ জোয়ালামাত্ মা-ফিল্ র্আদ্বি লাফ্তাদাত্ বিহ অআর্সারুন্ নাদা-মাতা লাম্মা- রাআউল্ 'আযা-বা অকুদ্বিয়া-বাইনাহুম্ বিল্ ক্বিস্ত্বি অহুম্ লা-ইয়ুজ্লামূন্।

মুহিউদ্দীন খান

শুনে রাখ, যা কিছু রয়েছে আসমানসমূহে ও যমীনে সবই আল্লাহর। শুনে রাখ, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। তবে অনেকেই জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সাবধান, জেনে রাখো, মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। সাবধান, জেনে রাখো আল্লাহর ওয়াদা সত্য। কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানেনা।

বাংলা উচ্চারণ

আলা য় ইন্না লিল্লা-হি মা-ফিস সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব আলা য় ইন্না অ'দাল্লা-হি হাক্বকুওঁ অলা-কিন্না আক্ছারাহুম্ লা-ইয়া'লামূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই জীবন ও মরণ দান করেন এবং তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি জীবন দান করেন এবং তিনি মরণ দিয়ে থাকেন এবং সবাইকে তাঁরই কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে।

বাংলা উচ্চারণ

হুঅ ইয়ুহ্য়ী অ ইয়ুমীতু অইলাইহি র্তুজ্বা'ঊন।

মুহিউদ্দীন খান

হে মানবকুল, তোমাদের কাছে উপদেশবানী এসেছে তোমাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়েত ও রহমত মুসলমানদের জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে মানুষ! তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছ এসেছে একটি উপদেশ এবং তোমাদের কলবে (অন্তরে) যা আছে তার নিরাময়, আর হিদায়াত ও রহমত মুমিনদের জন্যে।

বাংলা উচ্চারণ

ইঁয়া য় আইয়্যুহান্না-সু ক্বদ্ জ্বা - আত্কুম্ মাও'ইজোয়াতুম্ র্মি রব্বিকুম্ অশিফা - উল্ লিমা ফিছ্ ছুদূরি অহুদাওঁ অরহ্মাতুল্লিল্ মুমিনীন্

মুহিউদ্দীন খান

বল, আল্লাহর দয়া ও মেহেরবাণীতে। সুতরাং এরই প্রতি তাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিৎ। এটিই উত্তম সে সমুদয় থেকে যা সঞ্চয় করছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘এই (কুরআন এসেছে) আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তাঁর দয়ায়। সুতরাং এর জন্যে তারা উৎফুল্ল ও আনন্দিত হোক।’ তারা যা জমা করে এটি তার চাইতে উত্তম।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ বিফাদ্ব্লিল্লা-হি অ বিরহ্মাতিহী ফাবিযা-লিকা ফাল্ ইয়াফ্রাহূ হুওয়া খাইরুম্ মিম্মা- ইয়া জ্বমা'ঊন্।

মুহিউদ্দীন খান

বল, আচ্ছা নিজেই লক্ষ্য করে দেখ, যা কিছু তোমাদের জন্য রিযিক হিসাবে অবতীর্ণ করেছেন, তোমরা সেগুলোর মধ্য থেকে কোনটাকে হারাম আর কোনটাকে হালাল সাব্যস্ত করেছ? বল, তোমাদের কি নির্দেশ দিয়েছেন, নাকি আল্লাহর উপর অপবাদ আরোপ করছ?

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: তোমরা ভেবে দেখেছো কি, তোমাদের জন্যে যে রিযিক নাযিল করেছেন, তারপর তোমরা যে সেগুলোর কিছু হালাল আর কিছু হারাম বানিয়ে নিয়েছো - হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো, তোমাদের এ নির্দেশ কি দিয়েছেন, নাকি তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করছো?

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ আরায়াইতুম্ মা য় আন্যালাল্লা-হু লাকুম্ র্মি রিয্ক্বিন্ ফাজ্ব'আল্তুম্ মিনহু হারা-মাওঁ অহালা-লা- কুল্ আ - ল্লা-হু আযিনা লাকুম্ আম্ 'আলাল্লা-হি তাফ্তারূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপকারীদের কি ধারণা কেয়ামত সম্পর্কে? তো মানুষের প্রতি অনুগ্রহই করেন, কিন্তু অনেকেই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে, কিয়ামতকাল সম্পর্কে তাদের ধারণা কী? নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি বড়ই অনুগ্রহওয়ালা, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই শোকর আদায় করেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-জোয়ান্ন ুল্লাযীনা ইয়াফ্তারূনা 'আলাল্লা-হিল্ কাযিবা ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ ইন্নাল্লা-হা লাযূ ফাদ্ব্লিন্ 'আলান্না-সি অলা-কিন্না আক্ছারাহুম্ লা-ইয়াশ্কুরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ যে কোন অবস্থাতেই তুমি থাক এবং কোরআনের যে কোন অংশ থেকেই পাঠ করা কিংবা যে কোন কাজই তোমরা কর অথচ আমি তোমাদের নিকটে উপস্থিত থাকি যখন তোমরা তাতে আত্ননিয়োগ কর। আর তোমার পরওয়ারদেগার থেকে গোপন থাকে না একটি কনাও, না যমীনের এবং না আসমানের। না এর চেয়ে ক্ষুদ্র কোন কিছু আছে, না বড় যা এই প্রকৃষ্ট কিতাবে নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ!) তুমি যে অবস্থায়ই থাকো এবং কুরআন থেকে যা - ই তিলাওয়াত করোনা কেন আর (হে মানুষ!) তোমরা যা - ই করোনা কেন, আমরা তোমাদের উপর সাক্ষী থাকি যখন তোমরা তাতে আত্মনিয়োগ করো। মহাকাশ এবং পৃথিবীতে একটি অণু পরিমাণ কিছুও তাঁর অগোচরে নেই এবং তার চাইতে ক্ষুদ্রতম কিংবা বৃহত্তর কিছুই নেই, যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে লেখা নেই।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-তাকূনু ফী শানিওঁ অমা-তাত্লূ মিন্হু মিন্ ক্বরুআ-নিওঁ অলা-তা'মালূনা ম্নি 'আমালিন্ ইল্লা-কুন্না-'আলাইকুম্ শুহূদান্ ইয্ তুফীদ্বূনা ফীহ্ অমা-ইয়া'যুবু 'র্আ রব্বিকা মিম্ মিছ্ক্বা-লি র্যারতিন্ ফিল্ আরদ্বি অলা-ফিস্সামা - য়ি অলা য় আছ্গরা মিন্ যা-লিকা অলা য় আক্বারা ইল্লা-ফী কিতা-বিম্ মুবীন্।

মুহিউদ্দীন খান

মনে রেখো যারা আল্লাহর বন্ধু, তাদের না কোন ভয় ভীতি আছে, না তারা চিন্তান্বিত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর অলিদের কোনো ভয় নেই এবং দুঃখ - দুশ্চিন্তাও নেই।

বাংলা উচ্চারণ

আলা য় ইন্না আওলিয়া - আল্লা-হি লা-খওফুন 'আলাইহিম্ অলা-হুম্ ইয়াহ্যানূন্।

মুহিউদ্দীন খান

যারা ঈমান এনেছে এবং ভয় করতে রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তারা হলো সেইসব লোক) যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা আ-মানূ অকা-নূ ইয়াত্তাকুন্।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের জন্য সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালীন জীবনে। আল্লাহর কথার কখনো হের - ফের হয় না। এটাই হল মহা সফলতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ দুনিয়ার জীবনে এবং আখিরাতে। আল্লাহর বাণীর কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই মহাসাফল্য।

বাংলা উচ্চারণ

লাহুমুল্ বুশ্রা-ফিল্ হা-ইয়া-তিদ্দুন্ইয়া-অফিল্ আ-খিরাহ্ লা-তাব্দীলা লিকালিমা-তিল্ লা-হ্ যা-লিকা হুঅল্ ফাওযুল্ 'আজীম্।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের কথায় দুঃখ নিয়ো না। আসলে সমস্ত ক্ষমতা আল্লাহর। তিনিই শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী! এরা তোমাকে যা কিছু বলছে) তাদের কথা যেনো তোমাকে দুঃখ না দেয়। সমস্ত ইয্যত ও শক্তির মালিক তো । তিনি সব শুনেন, সব জানেন।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-ইয়াহ্যুন্কা ক্বাওলুহুম্ ইন্নাল্ 'ইয্যাতা লিল্লা-হি জ্বামী'আ-হুঅস্ সামী'উল্ 'আলীম।

মুহিউদ্দীন খান

শুনছ, আসমানসমূহে ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সবই আল্লাহর। আর এরা যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে শরীকদের উপাসনার পেছনে পড়ে আছে - তা আসলে কিছুই নয়। এরা নিজেরই কল্পনার পেছনে পড়ে রয়েছে এবং এছাড়া আর কিছু নয় যে, এরা বুদ্ধি খাটাচ্ছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সাবধান, মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যারা আছে সবাই আল্লাহর। যারা ছাড়া অন্যদেরকে আল্লাহর শরিক বানিয়ে ডাকে, তারা কিসের অনুসরণ করে? তারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে এবং তারা কেবল মিথ্যাই বলে।

বাংলা উচ্চারণ

আলা য় ইন্না লিল্লা-হি মান্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমান্ ফিল্ র্আদ্ব অমা-ইয়াত্তাবি'উল্ লাযীনা ইয়াদ্'ঊনা মিন্ দূনিল্লা-হি শুরাকা - আ ইঁ ইয়াত্তাবি'ঊনা ইল্লাজ্জোয়ান্না অইন্ হুম্ ইল্লা-ইয়াখ্রুছূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি তোমাদের জন্য তৈরী করেছেন রাত, যাতে করে তোমরা তাতে প্রশান্তি লাভ করতে পার, আর দিন দিয়েছেন দর্শন করার জন্য। নিঃসন্দেহে এতে নিদর্শন রয়েছে সে সব লোকের জন্য যারা শ্রবণ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই তোমাদের জন্যে রাত বানিয়েছেন বিশ্রামের জন্যে আর দিন বানিয়েছেন দেখার জন্যে। যারা (উপদেশ) শুনে এতে তাদের জন্যে রয়েছে নিদর্শন।

বাংলা উচ্চারণ

হুঅল্লাযী জ্বা'আলা লাকুমুল্ লাইলা লিতাস্কুনূ ফীহি অন্নাহা-রা মুব্ছিরা- ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্ লিক্বওমিইঁ ইয়াসমা'ঊন্।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলে, পুত্র সাব্যস্ত করে নিয়েছেন - তিনি পবিত্র, তিনি অমুখাপেক্ষী। যাকিছু রয়েছে আসমান সমূহে ও যমীনে সবই তাঁর। তোমাদের কাছে তার কোন সনদ নেই। কেন তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ কর - যার কোন সনদই তোমাদের কাছে নেই?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘ সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি (এ থেকে) পবিত্র মহান। তিনি অভাবমুক্ত। মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। (তোমরা যা বলছো) সে বিষয়ে তোমাদের কাছে কোনো সার্টিফিকেট নেই। তোমরা কি আল্লাহর উপর এমন কথা আরোপ করছো, যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই?

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লুত্তাখযাল্লা-হু অলাদান্ সুব্হা-নাহ্- হুঅল্ গনিয়্যু লাহূ মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ র্আদ্ব ইন্ 'ইন্দাকুম্ মিন্ সুল্ত্বোয়া-নিম্ বিহা-যা- 'আতাকুলূনা 'আলাল্লা-হি মা-লা- তা'লামূন্।

মুহিউদ্দীন খান

বলে দাও, যারা এরূপ করে তারা অব্যাহতি পায় না।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: যারা মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করে, তারা সফল হবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইন্নাল্লাযীনা ইয়াফ্তারূনা 'আলাল্লা-হিল্ কাযিবা লা-ইয়ুফ্লিহূন্।

মুহিউদ্দীন খান

পার্থিবজীবনে সামান্যই লাভ, অতঃপর আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন আমি তাদেরকে আস্বাদন করাব কঠিন আযাব - তাদেরই কৃত কুফরীর বদলাতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

পৃথিবীতে তাদের জন্যে রয়েছে কিছু ভোগ বিলাস। তারপর আমাদের কাছেই হবে তাদের প্রত্যাবর্তন। তখন আমরা তাদের স্বাদ গ্রহণ করাবো কঠিন আযাবের, তাদের কুফুরির কারণে।

বাংলা উচ্চারণ

মাতা-'ঊন্ ফিদ্দুন্ইয়া-ছুম্মা ইলাইনা-মারজ্বি'উহুম্ ছুম্মা নুযীকুহুমুল্ 'আযা-বাশ্ শাদীদা বিমা- কা-নূ ইয়াক্ফুরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদেরকে শুনিয়ে দাও নূহের অবস্থা যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, যদি তোমাদের মাঝে আমার অবস্থিতি এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে নসীহত করা ভারী বলে মনে হয়ে থাকে, তবে আমি আল্লাহর উপর ভরসা করছি। এখন তোমরা সবাই মিলে নিজেরদের কর্ম সাব্যস্ত কর এবং এতে তোমাদের শরীকদেরকে সমবেত করে নাও, যাতে তোমাদের মাঝে নিজেদের কাজের ব্যাপারে কোন সন্দেহ - সংশয় না থাকে। অতঃপর আমার সম্পর্কে যা কিছু করার করে ফেল এবং আমাকে অব্যাহতি দিও না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের প্রতি তিলাওয়াত করো নূহের সংবাদ। সে তার কওমকে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! আমার অবস্থান এবং আল্লাহর আয়াতের ভিত্তিতে আমার উপদেশ যদি তোমাদের অসহনীয় হয়, তবে আমি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করলাম। তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক করছো তাদেরকে সাথে নিয়ে তোমাদের চক্রান্ত ঠিক করে নাও, পরে যেনো তোমাদের চক্রান্তের বিষয়ে তোমাদের কোনো সংশয় না থাকে। তারপর আমার বিরুদ্ধে তোমাদের ফায়সালা ঠিক করে নাও এবং আমাকে কোনো অবকাশ দিও না।

বাংলা উচ্চারণ

অত্লু 'আলাইহিম্ নাবাআ নূহ্। ইয্ ক্ব-লা লিক্বওমিহী ইয়া-ক্বওমি ইন্ কা-না কাবুরা 'আলাইকুম্ মাক্ব-মী অতায্কীরী বিআ-ইয়া-তিল্লা-হি ফা'আলাল্লা-হি তাঅক্কাল্তু ফাআ জ্বমি'ঊ য় আম্রাকুম্ অশুরাকা - আকুম্ ছুম্মা লা-ইয়াকুন্ আম্রুকুম্ 'আলাইকুম্ গুম্মাতান্ ছুম্মাক্বদ্বূ য় ইলাইয়্যা অলা-তুন্যিরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তারপরও যদি বিমুখতা অবলম্বন কর, তবে আমি তোমাদের কাছে কোন রকম বিনিময় কামনা করি না। আমার বিনিময় হল আল্লাহর দায়িত্বে। আর আমার প্রতি নির্দেশ রয়েছে যেন আমি আনুগত্য অবলম্বন করি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপরও যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও নিতে পারো। আমি তো এ কাজের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব আল্লাহর উপর। আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমি যেনো আত্মসমর্পণকারীদের অন্তরভুক্ত হই।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফাইন্ তাঅল্লাইতুম্ ফামা-সাআল্তুকুম্ মিন্ আ জ্বর্ ইন্ আ জ্বরিয়া ইল্লা-'আলা ল্লা-হি অউর্মিতু আন্ আকূনা মিনাল্ মুস্লিমীন্।

মুহিউদ্দীন খান

তারপরও এরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। সুতরাং তাকে এবং তার সাথে নৌকায় যারা ছিল তাদের কে বাঁচিয়ে নিয়েছি এবং যথাস্থানে আবাদ করেছি। আর তাদেরকে ডুবিয়ে দিয়েছি যারা আমার কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। সুতরাং লক্ষ্য কর, কেমন পরিণতি ঘটেছে তাদের যাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

শেষ পর্যন্ত তারা তাকে (নূহকে) মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে। তখন আমরা তাকে এবং তার সাথে যারা নৌযানে আরোহণ করেছিল তাদেরকে নাজাত দেই এবং তাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করি আর ডুবিয়ে দেই সেইসব লোকদের যারা প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের আয়াত। চেয়ে দেখো, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, কী করুণ পরিণতি হয়েছিল তাদের!

বাংলা উচ্চারণ

ফাকায্যাবূহু ফানাজ্জ্বাইনা-হু অমাম্ মা'আহূ ফিল্ ফুল্কি অজ্বা'আল্না-হুম্ খলা - য়িফা অআগ্রাক্বনাল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-ফার্ন্জু কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতুল্ মুন্যারীন্।

মুহিউদ্দীন খান

অনন্তর আমি নূহের পরে বহু নবী - রসূল পাঠিয়েছি তাদের সম্প্রদায়ের প্রতি। তারপর তাদের কাছে তারা প্রকাশ্য দলীল - প্রমাণ উপস্থাপন করেছে, কিন্তু তাদের দ্বারা এমনটি হয়নি যে, ঈমান আনবে সে ব্যাপারে, যাকে তারা ইতিপূর্বে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। এভাবেই আমি মোহর এঁটে দেই সীমালংঘনকারীদের অন্তরসমূহের উপর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার (নূহের) পরেও আমরা আরো অনেক রসূল পাঠিয়েছিলাম তাদের কওমের কাছে। তারা তাদের কাছে এসেছিল সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে। কিন্তু তারা আগে যা প্রত্যাখ্যান করেছে তার প্রতি আর ঈমান আনতে প্রস্ত্তত হয়নি। এভাবেই আমরা সীমালংঘনকারীদের অন্তর সীলগালা করে দেই।

বাংলা উচ্চারণ

ছূম্মা বা'আছ্না মিম্ বা'দিহী রুসুলান্ ইলা- ক্বাওমিহিম্ ফাজ্বা - ঊহুম্ বিল্ বাইয়্যিনা-তি ফামা-কা-নূ লিইয়ুমিনূ বিমা-কায্যাবূ বিহী মিন্ কাব্ল্ কাযা-লিকা নাত্বা'উ 'আলা-কুলূবিল্ মু'তাদীন।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাদের পেছনে পাঠিয়েছি আমি মূসা ও হারুনকে, ফেরাউন ও তার সর্দারের প্রতি স্বীয় নির্দেশাবলী সহকারে। অথচ তারা অহংকার করতে আরম্ভ করেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের পরে আমরা পাঠিয়েছি মূসা এবং হারূণকে ফেরাউন আর তার নেতৃবৃন্দের কাছে আমাদের নিদর্শন নিয়ে। কিন্তু তারা দাম্ভিকতা প্রকাশ করে। আসলে তারা ছিলো একটি অপরাধী কওম।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা বা'আছ্না- মিম্ বা'দিহিম্ মূসা-অহা-রূনা ইলা-র্ফি'আওনা অমালায়িহী বিআ-ইয়া-তিনা-ফাস্তাক্বারূ অকা-নূ ক্বাওমাম্ মু জ্বরিমীন।

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ তারা ছিল গোনাহগার। তারপর আমার পক্ষ থেকে যখন তাদের কাছে সত্য বিষয় উপস্থিত হল, তখন বলতে লাগলো, এগুলো তো প্রকাশ্য যাদু।

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর তাদের কাছে যখন আমাদের পক্ষ থেকে সত্য প্রকাশ হয়ে যায়, তখন তারা বললো: ‘এতো এক সুস্পষ্ট ম্যাজিক।’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা-জ্বা - আহুমুল্ হাক্বকু মিন্ 'ইন্দিনা-ক্ব-লূ য় ইন্না হা-যা- লাসিহ্রুম্ মুবীন্।

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বলল, সত্যের ব্যাপারে একথা বলছ, তা তোমাদের কাছে পৌঁছার পর? একি যাদু? অথচ যারা যাদুকর, তারা সফল হতে পারে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘তোমাদের কাছে যখন সত্য এসে গেছে, তখন সে সম্পর্কে তোমরা এমনটি বলছো? এ কি ম্যাজিক? ম্যাজেসিয়ানরা কখনো সফল হয়না।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা মূসা য় আতাকুলূনা লিল্হাক্বক্বি লাম্মা- জ্বা - আকুম্ আসিহ্রুন্ হা-যা- অলা-ইয়ুফ্ লিহুস্ সা-হিরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, তুমি কি আমাদেরকে সে পথ থেকে ফিরিয়ে দিতে এসেছ যাতে আমরা পেয়েছি আমাদের বাপ - দাদাদেরকে? আর যাতে তোমরা দুইজন এদেশের সর্দারী পেয়ে যেতে পার? আমরা তোমাদেরকে কিছুতেই মানব না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের যে ধর্মের উপর পেয়েছি তুমি কি আমাদেরকে তা থেকে বিচ্যুত করার জন্যে এসেছো এবং দেশে যেনো তোমার প্রভাব প্রতিপত্তি বেড়ে যায় সে জন্যে এসেছো? আমরা তোমাদের দু’জনের প্রতি নই।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ য় আজি'তানা-লিতাল্ফিতানা-'আম্মা-অজ্বাদ্না-'আলাইহি আ-বা - আনা-অতাকূনা লাকুমাল্ কিব্রিয়া - উ ফিল্ আরদ্ব্ অমা-নাহ্নু লাকুমা-বিমুমিনীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর ফেরাউন বলল, আমার কাছে নিয়ে এস সুদক্ষ যাদুকরদিগকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন (তার পারিষদকে) বললো: ‘তোমরা সব দক্ষ ম্যাজেসিয়ানদের খুঁজে আমার কাছে নিয়ে আসো।’

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লা ফির'আউনুতূনী বিকুল্লি সা-হিরিন্ 'আলীম্।

মুহিউদ্দীন খান

তারপর যখন যাদুকররা এল, মূসা তাদেরকে বলল, নিক্ষেপ কর, তোমরা যা কিছু নিক্ষেপ করে থাক।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর ম্যাজেসিয়ানরা সবাই যখন এসে উপস্থিত হলো: মূসা তাদের বললো: ‘তোমরা যা নিক্ষেপ করতে চাও নিক্ষেপ করো।’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা য় জ্বা - আস্ সাহারাতু ক্ব-লা লাহুম্ মূসা য় আল্ক্ব মা য় আন্তুম্ মুল্ক্ব ন্।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, মূসা বলল, যা কিছু তোমরা এনেছ তা সবই যাদু - এবার এসব ভন্ডুল করে দিচ্ছেন। নিঃসন্দেহে দুস্কর্মীদের কর্মকে সুষ্ঠুতা দান করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখন নিক্ষেপ করলো, মূসা বললো: ‘‘তোমরা যা নিয়ে এসেছো তা তো ম্যাজিক! অবশ্যি এ জিনিসকে বাতিল করে দেবেন। নিশ্চয়ই ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের সংশোধন করেননা।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা য় আল্ক্বও ক্ব-লা মূসা-মা-জ্বি তুম্ বিহিস্ সিহ্র্ ইন্নাল্লা-হা সাইয়ুব্ ত্বিলুহ্ ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ুছ্লিহু 'আমালাল্ মুফ্সিদীন্।

মুহিউদ্দীন খান

সত্যকে সত্যে পরিণত করেন স্বীয় নির্দেশে যদিও পাপীদের তা মনঃপুত নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাঁর বাণীর সাহায্যে সত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন, যদিও অপরাধীরা তা পছন্দ করেনা।’’

বাংলা উচ্চারণ

অইয়ুহিক্ব্ কুল্লা-হুল্ হাক্বক্ব বিকালিমা-তিহী অলাও কারিহাল্ মু জ্বরিমূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর কেউ ঈমান আনল না মূসার প্রতি তাঁর কওমের কতিপয় বালক ছাড়া - ফেরাউন ও তার সর্দারদের ভয়ে যে, এরা না আবার কোন বিপদে ফেলে দেয়। ফেরাউন দেশময় কর্তৃত্বের শিখরে আরোহণ করেছিল। আর সে তার হাত ছেড়ে রেখেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গ নির্যাতন করবে এই ভয়ে মূসার কওমের কিছু যুবক ছাড়া আর কেউই তার প্রতি ঈমান আনেনি। ফেরাউন ছিলো দেশে এক উদ্ধত উচ্চাভিলাসী এবং সে ছিলো সীমালংঘনকারী।

বাংলা উচ্চারণ

ফামা য় আ-মানা লিমূসা য় ইল্লা- র্য়ুরিয়্যাতুম্ মিন্ ক্বওমিহী 'আলা-খওফিঁম্ মিন্ ফির'আওনা অমালায়িহিম্ আইয়্যাফ্তিনাহুম্ অইন্না ফির'আউনা লা'আ-লিন্ ফিল্ আরদ্বি অইন্নাহূ লামিনাল্ মুস্রিফীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর মূসা বলল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা যদি আল্লাহর উপর ঈমান এনে থাক, তবে তারই উপর ভরসা কর যদি তোমরা ফরমাবরদার হয়ে থাক।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা যদি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে থাকো তাহলে তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করো যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাকে।’

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-লা মূসা-ইয়াক্বওমি ইন্ কুন্তুম্ আ-মান্তুম্ বিল্লা-হি ফা'আলাইহি তাঅক্কালূ য় ইন্ কুন্তুম মুস্লিমীন্।

মুহিউদ্দীন খান

তখন তারা বলল, আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করেছি। হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের উপর এ জালেম কওমের শক্তি পরীক্ষা করিও না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘‘আমরা আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল করলাম, হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে এই যালিম লোকদের নির্যাতনের পাত্র বানিয়োনা।

বাংলা উচ্চারণ

ফাক্ব-লূ 'আলাল্লা-হি তাঅক্কাল্না- রব্বানা-লা-তা জ্ব'আল্না-ফিত্নাতাল্ লিল্ক্বওমিজ্জোয়া-লিমীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমাদেরকে অনুগ্রহ করে ছাড়িয়ে দাও এই কাফেরদের কবল থেকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমার দয়ায় আমাদেরকে এ কওমের কবল থেকে নাজাত দাও।’’

বাংলা উচ্চারণ

অনাজ্জি¦না-বিরহ্মাতিকা মিনাল্ ক্বওমিল্ কা-ফিরীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি নির্দেশ পাঠালাম মূসা এবং তার ভাইয়ের প্রতি যে, তোমরা তোমাদের জাতির জন্য মিসরের মাটিতে বাস স্থান নির্ধারণ কর। আর তোমাদের ঘরগুলো বানাবে কেবলামুখী করে এবং কায়েম কর আর যারা তাদেরকে সুসংবাদ দান কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসা এবং তার ভাইকে অহির মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছিলাম: ‘তোমাদের কওমের জন্যে মিসরে ঘর নির্মাণ করো আর তোমাদের ঘরগুলোকে কিবলা (ইবাদতের স্থান) বানিয়ে নাও, কায়েম করো আর মুমিনদের সুসংবাদ দাও।’

বাংলা উচ্চারণ

অআওহাইনা য় ইলা- মূসা- অআখীহি আন্ তাবাওয়্যাআ-লিক্বওমিকুমা-বিমিছ্রা বুইয়ূতাওঁ অ জ্ব'আলূ বুইয়ূতাকুম্ কিব্লাতাওঁ অ আক্বীমুছ্ ছলা-হ্ অবাশ্শিরিল্ মুমিনীন্।

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বলল, হে আমার পরওয়ারদেগার, তুমি ফেরাউনকে এবং তার সর্দারদেরকে পার্থব জীবনের আড়ম্বর দান করেছ, এবং সম্পদ দান করেছ - হে আমার পরওয়ারদেগার, এ জন্যই যে তারা তোমার পথ থেকে বিপথগামী করব! হে আমার পরওয়ারদেগার, তাদের ধন - সম্পদ ধ্বংস করে দাও এবং তাদের অন্তরগুলোকে কাঠোর করে দাও যাতে করে তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান না আনে যতক্ষণ না বেদনাদায়ক আযাব প্রত্যক্ষ করে নেয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বলেছিল: ‘আমাদের প্রভু! তুমি ফেরাউন আর তার পারিষদবর্গকে দুনিয়ার জীবনে চাকচিক্য আর সম্পদ দান করেছো। আমাদের প্রভু! তারা সেগুলো দিয়ে মানুষকে তোমার পথ থেকে বিপথগামী করে। আমাদের প্রভু! তাদের মাল - সম্পদ ধ্বংস করে দাও এবং তাদের হৃদয়গুলো কঠিন করে দাও। তারা বেদনাদায়ক আযাব দেখার আগ পর্যন্ত ঈমান আনবে না।’

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লা মূসা-রব্বানা য় ইন্নাকা আ-তাইতা ফির'আউনা অমালায়াহূ যীনাতাওঁ অআম্ওয়া-লান্ ফিল্ হা-ইয়া-তিদ্দুন্ইয়া-রব্বানা-লিইয়ুদ্বিল্ল আন্ সাবীলিকা রব্বানাত্বমিস্ 'আলা য় আম্ওয়া-লিহিম্ অশ্দুদ্ 'আলা-কুলূবিহিম্ ফালা-ইয়ুমিনূ হাত্তা-ইয়ারাউল্ 'আযা-বাল্ আলীম্।

মুহিউদ্দীন খান

বললেন, তোমাদের দোয়া মঞ্জুর হয়েছে। অতএব তোমরা দুজন অটল থাকো এবং তাদের পথে চলো না যারা অজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বলেছিলেন: তোমাদের দোয়া কবুল করা হলো, সুতরাং তোমরা অটল অবিচল থাকো, আর তোমরা অজ্ঞদের পথের অনুসরণ করোনা।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ক্বদ্ উজ্বীবাত্ দা'অতুকুমা-ফাস্তাক্বীমা-অলা-তাত্তাবি'আ - ন্নি সাবীলাল্লাযীনা লা-ইয়া'লামূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর বনী - ইসরাঈলকে আমি পার করে দিয়েছি নদী। তারপর তাদের পশ্চাদ্ধাবন করেছে ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী, দুরাচার ও বাড়াবাড়ির উদ্দেশে। এমনকি যখন তারা ডুবতে আরম্ভ করল, তখন বলল, এবার বিশ্বাস করে নিচ্ছি যে, কোন মা’বুদ নেই তাঁকে ছাড়া যাঁর উপর ঈমান এনেছে বনী - ইসরাঈলরা। বস্তুতঃ আমিও তাঁরই অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা বনি ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করিয়ে নিয়েছিলাম আর ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী ঔদ্ধত্যের সাথে সীমালংঘন করে তাদের পিছু ধাওয়া করে। তারপর যখন সে পানিতে ডুবতে থাকলো, বললো: ‘আমি (একথার প্রতি) ঈমান আনলাম যে, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই, যার প্রতি ঈমান এনেছে বনি ইসরাঈল এবং আমি মুসলিমদের অন্তরভুক্ত হলাম।’

বাংলা উচ্চারণ

অজ্বা-অয্না- বিবানী য় ইস্রা - ঈলাল্ বাহ্রা ফাআত্বা'আহুম্ ফির'আউনু অজ্বুনূদুহূ বাগ্ইয়াওঁ অ'আদ্ওয়া-হাত্তা য় ইযা য় আদ্রকাহুল্ গবাকু ক্ব-লা আ-মান্তু আন্নাহূ লা য় ইলা-হা ইল্লাল্লাযী য় আ-মানাত্ বিহী বানূয় ইস্রা য় ঈলা অ আনা মিনাল্ মুস্লিমীন্।

মুহিউদ্দীন খান

এখন একথা বলছ! অথচ তুমি ইতিপূর্বে না - ফরমানী করছিলে। এবং পথভ্রষ্টদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এখন! অথচ ইতোপূর্বে তুমি অমান্য করেছিলে এবং তুমি ছিলে একজন ফাসাদ সৃষ্টিকারী।

বাংলা উচ্চারণ

আল্আ - না অক্বদ্ আ'ছোয়াইতা ক্বব্লু অকুন্তা মিনাল্ মুফসিদীন।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব আজকের দিনে বাঁচিয়ে দিচ্ছি আমি তোমার দেহকে যাতে তোমার পশ্চাদবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে। আর নিঃসন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আজ আমরা তোমার দেহটা রক্ষা করবো, যাতে করে তুমি পরবর্তীদের জন্যে নিদর্শন হয়ে থাকো। অনেক মানুষই আমাদের নিদর্শন সম্পর্কে গাফিল।

বাংলা উচ্চারণ

ফাল্ইয়াওমা নুনাজ্জ্বীকা বিবাদানিকা লিতাকূনা লিমান্ খল্ফাকা আ-ইয়াহ্ অইন্না কাছীরাম মিনান্ না-সি 'আন্ আ-ইয়া-তিনা- লাগ-ফিলূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি বনী - ইসরাঈলদিগকে দান করেছি উত্তম স্থান এবং তাদেরকে আহার্য দিয়েছি পবিত্র - পরিচ্ছন্ন বস্তু - সামগ্রী। বস্তুতঃ তাদের মধ্যে মতবিরোধ হয়নি যতক্ষণ না তাদের কাছে এসে পৌছেছে সংবাদ। নিঃসন্দেহে তোমার পরওয়ারদেগার তাদের মাঝে মীমাংসা করে দেবেন কেয়ামতের দিন; যে ব্যাপারে তাদের মাঝে মতবিরোধ হয়েছিল

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা বনি ইসরাঈলকে উৎকৃষ্ট মানের আবাসভূমিতে বসবাস করিয়েছি এবং তাদের দিয়েছি উত্তম জীবন। তারপর তাদের কাছে এলেম আসার পর তারা বিভেদে লিপ্ত হয়। তোমার প্রভু কিয়ামতের দিন তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবেন, যে বিষয়ে তারা বিভেদ সৃষ্টি করেছিল।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বদ্ বাওয়্যয়ানা-বানীয় ইস্রা - ঈলা মুবাওয়্যা আছিদ্ক্বিওঁ অরাযাক্বনা-হুম্ মিনাত্ব ত্বোইয়্যিবা-তি ফামাখ্ তালাফূ হাত্তা-জ্বা-আ হুমুল্ 'ইল্ম্ ইন্না রব্বাকা ইয়াক্বদ্বী বাইনাহুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি ফী মা-কা-নূ ফীহি ইয়াখ্তালিফূন্।

মুহিউদ্দীন খান

সুতরাং তুমি যদি সে বস্তু সম্পর্কে কোন সন্দেহের সম্মুখীন হয়ে থাক যা তোমার প্রতি আমি নাযিল করেছি, তবে তাদেরকে জিজ্ঞেস করো যারা তোমার পূর্ব থেকে কিতাব পাঠ করছে। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তোমার পরওয়ারদেগারের নিকট থেকে তোমার নিকট সত্য বিষয় এসেছে। কাজেই তুমি কস্মিনকালেও সন্দেহকারী হয়ো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমার কাছে যা নাযিল করেছি সে বিষয়ে যদি তোমার সন্দেহ থাকে, তাহলে তোমার পূর্বের কিতাব যারা পাঠ করে তাদের জিজ্ঞাসা করে দেখো। অবশ্যি তোমার কাছে তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে সত্য এসেছে, সুতরাং তুমি কোনো অবস্থাতেই সন্দেহে পড়ে থাকা লোকদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইন্ কুন্তা ফী শাক্কিম্ মিম্মা য় আন্যাল্না য় ইলাইকা ফাস্আলিল্লাযীনা ইয়াক্বরাঊনাল্ কিতা-বা মিন্ ক্বব্লিকা লাক্বদ্ জ্বা - আকাল্ হাক্বকু র্মি রব্বিকা ফালা- তাকূনান্না মিনাল্ মুম্তারীন্।

মুহিউদ্দীন খান

এবং তাদের অন্তর্ভুক্তও হয়ো না যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আল্লাহর বাণীকে। তাহলে তুমিও অকল্যাণে পতিত হয়ে যাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি সেইসব লোকদেরও অন্তরভুক্ত হয়োনা যারা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহর আয়াতকে, তাহলে তুমি শামিল হয়ে পড়বে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে,

বাংলা উচ্চারণ

অলা-তাকূনান্না মিনাল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিল্লা-হি ফাতাকূনা মিনাল খ-সিরীন।

মুহিউদ্দীন খান

যাদের ব্যাপারে তোমার পরওয়ারদেগারের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়ে গেছে তারা ঈমান আনবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদের বিরুদ্ধে তোমার প্রভুর বাণী সাব্যস্ত হয়ে গেছে, তারা ঈমান আনবে না।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লাযীনা হাক্বক্বাত 'আলাইহিম্ কালিমাতু রব্বিকা লা-ইয়ুমিনূন্।

মুহিউদ্দীন খান

যদি তাদের সামনে সমস্ত নিদর্শনাবলী এসে উপস্থিত হয় তবুও যতক্ষণ না তারা দেখতে পায় বেদনাদায়ক আযাব।

আবদুস শহীদ নাসিম

এমন কি তাদের কাছে প্রতিটি নিদর্শন এলেও তারা যন্ত্রণাদায়ক আযাব দেখার আগ পর্যন্ত (ঈমান আনবে না)।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও জ্বা - আতহুম্ কুল্লু আ-ইয়াতিন্ হাত্তা- ইয়ারাউল্ 'আযা-বাল্ আলীম্।

মুহিউদ্দীন খান

সুতরাং কোন জনপদ কেন এমন হল না যা ঈমান এনেছে অতঃপর তার সে ঈমান গ্রহণ হয়েছে কল্যাণকর? অবশ্য ইউনুসের সম্প্রদায়ের কথা আলাদা। তারা যখন ঈমান আনে তখন আমি তুলে নেই তাদের উপর থেকে অপমানজনক আযাব - পার্থিব জীবনে এবং তাদের কে কল্যাণ পৌছাই এক নিধারিত সময় পর্যন্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে ইউনুসের কওমের কথা ভিন্ন। তারা ছাড়া কোনো জনপদের অধিবাসীরা কেন এমন হলো না যে, তারা ঈমান আনতো এবং তাদের ঈমান তাদের উপকারে আসতো? তারা যখন ঈমান এনেছিল আমরা তাদের থেকে লাঞ্ছনাকর আযাব দূর করে দিয়েছিলাম এবং তাদেরকে কিছুকালের জন্যে ভোগ বিলাসের সামগ্রী সরবরাহ করেছিলাম।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাওলা-কা-নাত্ র্ক্বাইয়াতুন্ আ-মানাত্ ফানাফা'আহা য় ঈমা-নুহা য় ইল্লা-ক্বওমা ইয়ূনুস লাম্মা য় আ-মানূ কাশাফ্না-'আন্হুম 'আযা-বাল্ খিয্ইয়ি ফিল্ হাইয়া-তিদ্দুন্ইয়া-অমাত্তা'না-হুম্ ইলা-হীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসতে সমবেতভাবে। তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু চাইলে বিশ্বে যারা আছে অবশ্যি সবাই ঈমান আনতো। তবে কি তুমি মানুষকে ঈমান আনার জন্যে বাধ্য করবে?

বাংলা উচ্চারণ

অলাও শা - আ রব্বুকা লাআ-মানা মান্ ফিল্ র্আদ্বি কুল্লুহুম্ জ্বামী'আ- আফাআন্তা তুক্রিহুন না-সা হাত্তা-ইয়াকূনু মুমিনীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর কারো ঈমান আনা হতে পারে না, যতক্ষণ না আল্লাহর হুকুম হয়। পক্ষান্তরে তিনি অপবিত্রতা আরোপ করেন যারা বুদ্ধি প্রয়োগ করে না তাদের উপর।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর অনুমিত ছাড়া কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঈমান আনা সম্ভব নয়। যারা আকল খাটায় না তাদের কালিমা লিপ্ত করেন।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-কা-না লিনাফ্সিন্ আন তুমিনা ইল্লা-বিইয্নিল্লা-হ অইয়াজ্ব'আর্লু রি জ্বসা 'আলাল্লাযীনা লা-ইয়া'ক্বিলূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তাহলে আপনি বলে দিন, চেয়ে দেখ তো আসমানসমুহে ও যমীনে কি রয়েছে। আর কোন নিদর্শন এবং কোন ভীতিপ্রর্দশনই কোন কাজে আসে না সেসব লোকের জন্য যারা মান্য করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘মহাকাশ আর পৃথিবীতে যা কিছু আছে সেগুলোর প্রতি লক্ষ্য করো। যারা ঈমান আনে না, নিদর্শন এবং সতর্কবাণী তাদের কোনো উপকারে আসেনা।

বাংলা উচ্চারণ

কুলিন্জুরূ মা-যা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ অমা-তুগ্নিল্ আ-ইয়া-তু অন্ নুযুরু আন্ ক্বাওমিল্ লা-ইয়ু'মিনূন্।

মুহিউদ্দীন খান

সুতরাং এখন আর এমন কিছু নেই, যার অপেক্ষা করবে, কিন্তু সেসব দিনের মতই দিন, যা অতীত হয়ে গেছে এর পূর্বে। আপনি বলুন; এখন পথ দেখ; আমিও তোমাদের সাথে পথ চেয়ে রইলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি তাদের আগেকার লোকদের উপর যা ঘটেছিল সেটার অপেক্ষা করছে। বলো: ‘তোমরা অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’

বাংলা উচ্চারণ

ফাহাল্ ইয়ান্তাজিরূনা ইল্লা-মিছ্লা আইয়্যা-মিল্লাযীনা খালাও মিন্ ক্বব্লিহিম্ কুল্ ফান্তাজিরূ য় ইন্নী মা'আকুম্ মিনাল্ মুন্তাজিরীন্

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি বাঁচিয়ে নেই নিজের রসূলগণকে এবং তাদেরকে যারা ঈমান এনেছে এমনিভাবে। ঈমানদারদের বাঁচিয়ে নেয়া আমার দায়িত্বও বটে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর আমরা নাজাত দেবো আমাদের রসূলদেরকে আর ঈমানদারদেরকে। এভাবেই আমাদের দায়িত্ব মুমিনদের নাজাত দেয়া।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা নুনাজ্জ্বী রুসুলানা-অল্লাযীনা আ-মানূ কাযা-লিকা হাক্বক্বান্ 'আলাইনা-নুন্জ্বিল্ মু'মিনীন্।

মুহিউদ্দীন খান

বলে দাও - হে মানবকুল, তোমরা যদি আমার দ্বীনের ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে থাক, তবে (জেনো) আমি তাদের এবাদত করি না যাদের এবাদত তোমরা কর ব্যতীত। কিন্তু আমি এবাদত করি ত’য়ালার, যিনি তুলে নেন তোমাদেরকে। আর আমার প্রতি নির্দেশ হয়েছে যাতে আমি ঈমানদারদের অন্তর্ভুক্ত থাকি।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘হে মানুষ! তোমরা এখনো যদি আমার দীনের ব্যাপারে সন্দেহে থেকে থাকো, তবে জেনে রাখো, তোমরা ছাড়া যাদের ইবাদত করো আমি তাদের ইবাদত করিনা। আমি ইবাদত করি একমাত্র আল্লাহর যিনি তোমাদের ওফাত ঘটান। আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমি যেনো মুমিনদের অন্তরভুক্ত থাকি।’

বাংলা উচ্চারণ

কুল ইয়া-আইয়্যুহান্না-সু ইন্ কুন্তুম্ ফী শাক্কিম্ মিন্ দীনী ফালা য় আ'বুদুল্লাযীনা তা'বুদূনা মিন্ দূনিল্লা-হি অলা-কিন্ আ'বুদুল্লাহাল্লাযী ইয়া তাওয়াফ্ফা-কুম্ অউর্মিতু আন্ আকূনা মিনাল্ মুমিনীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যেন সোজা দ্বীনের প্রতি মুখ করি সরল হয়ে এবং যেন মুশরেকদের অন্তর্ভুক্ত না হই।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাকে আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে: ‘‘তুমি একনিষ্ঠভাবে আদ - দীনের উপর কায়েম থাকো এবং কিছুতেই মুশরিকদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।

বাংলা উচ্চারণ

অআন্ আক্বিম্ অ জ্বহাকা লিদ্দীনি হানীফান্ অলা-তাকূনান্না মিনাল্ মুশ্রিকীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর নির্দেশ হয়েছে ব্যতীত এমন কাউকে ডাকবে না, যে তোমার ভাল করবে না মন্দও করবে না। বস্তুতঃ তুমি যদি এমন কাজ কর, তাহলে তখন তুমিও জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর ছাড়া অন্যদের ডাকবেনা, যারা তোমার লাভক্ষতি কিছুই করতে পারেনা। তুমি যদি এমনটি করো তাহলে যালিমদের মধ্যে গণ্য হবে।’’

বাংলা উচ্চারণ

অলা-তাদ্'উ মিন্ দূনিল্লা-হি মা-লা-ইয়ান্ফা'উকা অলা-ইয়াদ্বরুরুকা ফাইন্ ফা'আল্তা ফাইন্নাকা ইযাম্ মিনাজ্ জোয়া-লিমীন।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি তোমার উপর কোন কষ্ট আরোপ করেন তাহলে কেউ নেই তা খন্ডাবার মত তাঁকে ছাড়া। পক্ষান্তরে যদি তিনি কিছু কল্যাণ দান করেন, তবে তার মেহেরবানীকে রহিত করার মতও কেউ নেই। তিনি যার প্রতি অনুগ্রহ দান করতে চান স্বীয় বান্দাদের মধ্যে তাকেই দান করেন; বস্তুত; তিনিই ক্ষমাশীল দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাকে কোনো অকল্যাণ দিলে তিনি ছাড়া তা দূর করার আর কেউই নেই। তিনি যদি তোমাকে কোনো কল্যাণ দান করেন, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করারও কেউ নেই। তিনি তাঁর দাসদের যাঁকে ইচ্ছা নিজ অনুগ্রহ দান করেন। তিনি মহা ক্ষমাশীল মহাদয়াময়।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইঁ ইয়াম্সাস্কাল্লা-হু বিদ্বুররিন্ ফালা-কা-শিফা লাহূ য় ইল্লা-হুঅ অইঁ ইয়ুরিদ্কা বিখইরিন্ ফালা-র - দ্দা লিফাদ্ব্লিহ্ ইয়ুছীবু বিহী মাইঁ ইয়াশা - উ মিন্ 'ইবা-দিহ অহুওয়াল্ গফূর্রু রহীম্।

মুহিউদ্দীন খান

বলে দাও, হে মানবকুল, সত্য তোমাদের কাছে পৌঁছে গেছে তোমাদের পরওয়ারদেগারের তরফ থেকে। এমন যে কেউ পথে আসে সেপথ প্রাপ্ত হয় স্বীয় মঙ্গলের জন্য। আর যে বিভ্রান্ত ঘুরতে থাকে, সে স্বীয় অমঙ্গলের জন্য বিভ্রান্ত অবস্থায় ঘুরতে থাকবে। অনন্তর আমি তোমাদের উপর অধিকারী নই।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘হে মানুষ! তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সত্য এসেছে, সুতরাং যে কেউ সঠিক পথে চলবে, সে তো নিজেরই কল্যাণ করবে, আর যে কেউ বিপথে চলবে সে নিজেরই অকল্যাণ করবে। আমি তোমাদের উকিল (কর্মসম্পাদক) নই।’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইয়া য় আইয়্যুহান্না-সু ক্বাদ্ জ্বা - আকুমুল্ হাক্বক্কু র্মি রব্বিকুম্ ফামানিহ্ তাদা- ফাইন্নামা- ইয়াহ্তাদী লিনাফ্সিহী অমান্ দ্বোয়াল্লা ফাইন্নামা-ইয়াদ্বিল্লু 'আলাইহা- অমা য় আনা 'আলাইকুম্ বিওয়াকীল্।

মুহিউদ্দীন খান

আর তুমি চল সে অনুযায়ী যেমন নির্দেশ আসে তোমার প্রতি এবং সবর কর, যতক্ষণ না ফয়সালা করেন । বস্তুতঃ তিনি হচ্ছেন সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রতি যে অহি নাযিল হচ্ছে তুমি তারই ইত্তেবা (অনুসরণ) করো, আর সবর অবলম্বন করো যতোক্ষণ না আল্লাহর ফায়সালা আসে। তিনিই সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।

বাংলা উচ্চারণ

অত্তাবি' মা- ইয়ূহা য় ইলাইকা অর্ছ্বি হাত্তা-ইয়াহ্কুমাল্লা-হু অহুঅ খইরুল্ হা-কিমীন্।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme