Kitab

ত্বা হা

Chapter 20, 135 verses

  • মুহিউদ্দীন খান
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • বাংলা উচ্চারণ
মুহিউদ্দীন খান

তোয়া - হা

আবদুস শহীদ নাসিম

তোয়াহা!

বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ত্বোয়া-হা-।

মুহিউদ্দীন খান

আপনাকে ক্লেশ দেবার জন্য আমি আপনার প্রতি কোরআন অবতীর্ণ করিনি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি দুর্দশাগ্রস্ত হবে এ জন্যে আমরা তোমার প্রতি এই কুরআন নাযিল করিনি।

বাংলা উচ্চারণ

মা য় আন্যাল্না- 'আলাইকাল্ ক্বর্আ-না লিতাশ্ক্ব য় ।

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু তাদেরই উপদেশের জন্য যারা ভয় করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং এটি একটি উপদেশবার্তা তার জন্যে, যে ভয় করে।

বাংলা উচ্চারণ

ইল্লা-তায্কিরতাল্ লিমাইঁ ইয়াখ্শা-।

মুহিউদ্দীন খান

এটা তাঁর কাছ থেকে অবতীর্ণ, যিনি ভূমন্ডল ও সমুচ্চ নভোমন্ডল সৃষ্টি করেছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি নাযিল হয়েছে তাঁর পক্ষ থেকে, যিনি সৃষ্টি করেছেন এই পৃথিবী এবং সুউঁচু মহাকাশ।

বাংলা উচ্চারণ

তান্যীলাম্ মিম্মান খলাক্বল্ র্আদ্বোয়া অস্সামা-ওয়া-তিল্ 'উলা-।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি পরম দয়াময়, আরশে সমাসীন হয়েছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি দয়াময় - রহমান, আরশে সমাসীন।

বাংলা উচ্চারণ

র্আরহমানু 'আলাল্ 'র্আশিস্ তাওয়া-।

মুহিউদ্দীন খান

নভোমন্ডলে, ভুমন্ডলে, এতদুভয়ের মধ্যবর্তী স্থানে এবং সিক্ত ভূগর্ভে যা আছে, তা তাঁরই।

আবদুস শহীদ নাসিম

সবকিছুর মালিকই তিনি, যা কিছু আছে মহাকাশে, পৃথিবীতে এবং এ দুটির মধ্যবর্তী স্থানে, আর যা কিছু আছে মাটির নিচে।

বাংলা উচ্চারণ

লাহূ মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ র্আদ্বি অমা-বাইনাহুমা-অমা-তাহ্তাছ্ ছার-।

মুহিউদ্দীন খান

যদি তুমি উচ্চকন্ঠেও কথা বল, তিনি তো গুপ্ত ও তদপেক্ষাও গুপ্ত বিষয়বস্তু জানেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যদি উঁচু স্বরে কথা বলো, তবে (জেনে রাখো) তিনি যা গোপন এবং যা অব্যক্ত সবই জানেন।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইন্ তাজ্বর্হা বিল্ক্বওলি ফাইন্নাহূ ইয়া'লামুস্ র্সির অআখ্ফা-।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। সব সৌন্দর্যমন্ডিত নাম তাঁরই।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি , তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। সুন্দরতম নামসমূহ তাঁরই।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লা-হু লা য় ইলা-হা ইল্লা-হূ লাহুল্ আস্মা-য়ুল্ হুস্না-।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার কাছে মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার কাছে মূসার সংবাদ এসেছে কি?

বাংলা উচ্চারণ

অহাল্ আতা-কা হাদীছু মূসা-।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি যখন আগুন দেখলেন, তখন পরিবারবর্গকে বললেনঃ তোমরা এখানে অবস্থান কর আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ আমি তা থেকে তোমাদের কাছে কিছু আগুন জালিয়ে আনতে পারব অথবা আগুনে পৌছে পথের সন্ধান পাব।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে যখন আগুন দেখেছিল, তখন তার পরিবারবর্গকে বলেছিল: ‘তোমরা এখানে থাকো, আমি আগুন দেখেছি, হয়তো সেখান থেকে আমি তোমাদের জন্যে কিছু জ্বলন্ত অংগার আনতে পারবো, অথবা আগুনের কাছে গেলে পথের দিশা পাবো।’

বাংলা উচ্চারণ

ইয্ রয়া-না-রন্ ফাক্ব-লা লিআহ্লিহিম্কুছূ য় ইন্নী য় আ-নাস্তু না-রল্লা'আল্লী য় আ-তীকুম্ মিন্হা- বিক্ববাসিন্ আও আজ্বিদু 'আলান্না-রি হুদা-।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে পৌছলেন, তখন আওয়াজ আসল হে মূসা,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর সে যখন আগুনের কাছে এলো, তখন তাকে ডাক দিয়ে বলা হলো: ‘‘হে মূসা!

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা য় আতা-হা- নূদিয়া ইয়া-মূসা-।

মুহিউদ্দীন খান

আমিই তোমার পালনকর্তা, অতএব তুমি জুতা খুলে ফেল, তুমি পবিত্র উপত্যকা তুয়ায় রয়েছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তোমার রব। তোমার জুতা খুলে ফেলো। তুমি পবিত্র তুয়া উপত্যাকায় রয়েছো।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নী য় আনা রব্বুকা ফাখ্লা' না'লাইকা ইন্নাকা বিল্ওয়া-দিল্ মুক্বাদ্দাসি ত্বঅ-।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে, তা শুনতে থাক।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, সুতরাং যা অহি করা হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শুনো।

বাংলা উচ্চারণ

অ আনাখ্ র্তাতুকা ফাস্তামি' লিমা- ইয়ূহা-।

মুহিউদ্দীন খান

আমিই আমি ব্যতীত কোন নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে কায়েম কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই আমি , আমি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। অতএব কেবল আমারই ইবাদত করো এবং আমাকে স্মরণের উদ্দেশ্যে কায়েম করো ।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নানী য় আনাল্লা-হু লা য় ইলা-হা ইল্লা য় আনা ফা'বুদ্নী অআক্বিমিছ্ ছলা-তা লিযিক্রী।

মুহিউদ্দীন খান

কেয়ামত অবশ্যই আসবে, আমি তা গোপন রাখতে চাই; যাতে প্রত্যেকেই তার কর্মানুযায়ী ফল লাভ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিয়ামত অবশ্যি আসবে, তার সময়কাল আমি গোপন রাখবো। (কিয়ামত এ জন্যে হবে) যাতে করে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার প্রচেষ্টা অনুযায়ী দেয়া যায় প্রতিদান।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাস্ সা'আতা আ-তিয়াতুন্ আকা-দু উখ্ফীহা-লিতুজ্বযা-কুল্ল নাফ্সিম্ বিমা-তাস্'আ-।

মুহিউদ্দীন খান

সুতরাং যে ব্যক্তি কেয়ামতে বিশ্বাস রাখে না এবং নিজ খাহেশের অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে তা থেকে নিবৃত্ত না করে। নিবৃত্ত হলে তুমি ধবংস হয়ে যাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং যারা কিয়ামতে ঈমান রাখেনা আর নিজ কামনা বাসনার অনুসরণ করে, তারা যেনো তোমাকে কিয়ামতের প্রতি ঈমান থেকে ফেরাতে না পারে। তাহলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।

বাংলা উচ্চারণ

ফালা-ইয়াছুদ্দান্নাকা 'আন্হা-মাল্লা-ইয়ুমিনু বিহা-অত্তাবা'আ হাওয়া-হু ফার্তাদা-।

মুহিউদ্দীন খান

হে মূসা, তোমার ডানহাতে ওটা কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার ডান হাতে ওটা কী হে মূসা?’’

বাংলা উচ্চারণ

অমা-তিল্কা বিইয়ামীনিকা ইয়া-মূসা-।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ এটা আমার লাঠি, আমি এর উপর ভর দেই এবং এর দ্বারা আমার ছাগপালের জন্যে বৃক্ষপত্র ঝেড়ে ফেলি এবং এতে আমার অন্যান্য কাজ ও চলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘এটি আমার লাঠি। এতে আমি ভর দেই। এটি দিয়ে আঘাত করে আমি আমার মেষপালের জন্যে গাছের পাতা ফেলি এবং এটি দিয়ে আমি অন্যান্য কাজও করে থাকি।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা হিয়া 'আছোয়া-ইয়া আতাওয়াক্বয়ু 'আলাইহা-অআহুশ্শু বিহা-'আলা-গনামী অলিয়া ফীহা- মা-আ-রিবু উখ্র-।

মুহিউদ্দীন খান

বললেনঃ হে মূসা, তুমি ওটা নিক্ষেপ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

() বললেন: ‘ হে মূসা, লাঠিটি নিক্ষেপ করো।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা আল্ক্বিহা-ইয়া-মূসা-।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তিনি তা নিক্ষেপ করলেন, অমনি তা সাপ হয়ে ছুটাছুটি করতে লাগল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে সেটি নিক্ষেপ করলো। সাথে সাথে তা সাপ হয়ে দৌড়াতে থাকলো।

বাংলা উচ্চারণ

ফাআল্ক্ব-হা- ফাইযা-হিয়া হাইয়্যাতুন্ তাস্'আ-।

মুহিউদ্দীন খান

বললেনঃ তুমি তাকে ধর এবং ভয় করো না, আমি এখনি একে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেব।

আবদুস শহীদ নাসিম

বললেন: ‘তুমি এটিকে ধরো, ভয় পেয়োনা। আমরা এটিকে এটির পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেবো।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা খুয্হা-অলা- তাখাফ্ সানু'ঈদুহা-সীরতাহাল্ ঊলা-।

মুহিউদ্দীন খান

তোমার হাত বগলে রাখ, তা বের হয়ে আসবে নির্মল উজ্জ্বল হয়ে অন্য এক নিদর্শন রূপে; কোন দোষ ছাড়াই।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমার হাত তোমার বগলে রাখো। এটি বের হয়ে আসবে অনাবিল উজ্জ্বল হয়ে কোনো ক্ষতি ছাড়াই। এটি আরেকটি নিদর্শন।

বাংলা উচ্চারণ

ওয়াদ্ব্মুম্ ইয়াদাকা ইলা-জ্বানা-হিকা তাখ্রুজ বাইদ্বো-য়া মিন্ গইরি সূ-য়িন আ-ইয়াতান্ উখ্র।

মুহিউদ্দীন খান

এটা এজন্যে যে, আমি আমার বিরাট নিদর্শনাবলীর কিছু তোমাকে দেখাই।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর কারণ, আমরা তোমাকে দেখাবো আমাদের মহা নিদর্শনগুলোর কয়েকটি।

বাংলা উচ্চারণ

লিনুরিয়াকা মিন্ আ-ইয়া-তিনাল্ কুব্র-।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউনের নিকট যাও, সে দারুণ উদ্ধত হয়ে গেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি ফেরাউনের কাছে যাও, সে তাগুত হয়েছে (সীমালঙ্ঘন ও বিদ্রোহ করেছে)।

বাংলা উচ্চারণ

ইয্হাব্ ইলা-ফির'আঊনা ইন্নাহূ ত্বগ-।

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার বুক প্রশস্ত করে দাও।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা রব্বিশ্ রহ্লী ছোয়াদ্রী।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমার কাজ সহজ করে দিন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার কাজ (দায়িত্ব পালন) আমার জন্যে সহজ করে দাও।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয়ার্স্সিলী য় আম্রী।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দিন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার যবানের বন্ধন (জড়তা) দূর করে দাও,

বাংলা উচ্চারণ

ওয়াহ্লুল্ 'উক্ব্দাতাম্ মিল্লিসা-নী।

মুহিউদ্দীন খান

যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে করে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াফ্ক্বাহূ ক্বওলী।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমার পরিবারবর্গের মধ্য থেকে আমার একজন সাহায্যকারী করে দিন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার পরিবারের একজনকে আমার উযির বানিয়ে দাও,

বাংলা উচ্চারণ

অজ্ব্'আল্লী অযীরাম্ মিন্ আহ্লী।

মুহিউদ্দীন খান

আমার ভাই হারুনকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার ভাই হারূণকে দাও,

বাংলা উচ্চারণ

হারূনা আখী

মুহিউদ্দীন খান

তার মাধ্যমে আমার কোমর মজবুত করুন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকে দিয়ে আমার শক্তিকে মজবুত করে দাও।

বাংলা উচ্চারণ

শ্দুদ্ বিহী য় আয্রী।

মুহিউদ্দীন খান

এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার করুন।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তাকে আমার দায়িত্বের অংশীদার বানিয়ে দাও,

বাংলা উচ্চারণ

অ আশ্রিক্হু ফী য় আম্রী।

মুহিউদ্দীন খান

যাতে আমরা বেশী করে আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করতে পারি।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে করে আমরা তোমার বেশি বেশি তসবিহ করতে পারি,

বাংলা উচ্চারণ

কাই নুসাব্বিহাকা কাছীর-।

মুহিউদ্দীন খান

এবং বেশী পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং বেশি বেশি তোমাকে যিকির করতে পারি

বাংলা উচ্চারণ

অ নায্ কুরকা কাছীর-

মুহিউদ্দীন খান

আপনি তো আমাদের অবস্থা সবই দেখছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তুমি আমাদের প্রতি দৃষ্টি দাতা।’’

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাকা কুন্তা বিনা-বাছীর-।

মুহিউদ্দীন খান

বললেনঃ হে মূসা, তুমি যা চেয়েছ তা তোমাকে দেয়া হল।

আবদুস শহীদ নাসিম

বললেন: ‘‘মূসা! যা চেয়েছো সবই তোমাকে দেয়া হলো।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ক্বদ্ ঊতীতা সু'লাকা ইয়া-মূসা-।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তোমার প্রতি আরও একবার অনুগ্রহ করেছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর আগেও একবার আমরা তোমার প্রতি ইহসান করেছি।

বাংলা উচ্চারণ

অ লাক্বদ্ মানান্না- 'আলাইকা র্মারতান্ উখ্র য় ।

মুহিউদ্দীন খান

যখন আমি তোমার মাতাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম যা অতঃপর বর্ণিত হচ্ছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন আমরা তোমার মাকে অহি (ইশারা) করেছিলাম যা অহি করার:

বাংলা উচ্চারণ

ইয্ আওহাইনা য় ইলা য় উম্মিকা মা-ইয়ূহা য় ।

মুহিউদ্দীন খান

যে, তুমি (মূসাকে) সিন্দুকে রাখ, অতঃপর তা দরিয়ায় ভাসিয়ে দাও, অতঃপর দরিয়া তাকে তীরে ঠেলে দেবে। তাকে আমার শক্র ও তার শক্র উঠিয়ে নেবে। আমি তোমার প্রতি মহব্বত সঞ্চারিত করেছিলাম আমার নিজের পক্ষ থেকে, যাতে তুমি আমার দৃষ্টির সামনে প্রতি পালিত হও।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তাকে ইশারায় বলেছিলাম:) তুমি তাকে (মূসাকে) সিন্ধুকের মধ্যে রাখো, তারপর তাকে দরিযায় (নীলনদে) ভাসিয়ে দাও, যাতে করে দরিয়া তাকে তীরে ঠেলে দেয়। তখন তাকে আমার দুশমন এবং তার দুশমন ঘরে তুলে নেবে। আমি আমার পক্ষ থেকে তোমার প্রতি মহববত ঢেলে দিয়েছিলাম, আর (এমন ব্যবস্থা করেছিলাম) যেনো তুমি আমার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হও।’

বাংলা উচ্চারণ

আনিক্বযি ফীহি ফিত তা-বূতি ফাক্বযি ফীহি ফিল্ ইয়াম্মি ফাল্ইয়ুল্ক্বিহিল্ ইয়াম্মু বিস্সা-হিলি ইয়া'খুয্হু 'আদুওউল্লী ওয়া'আদুওউল লা-হ্ অআল্ক্বইতু 'আলাইকা মাহাব্বাতাম্ মিন্নী অলিতুছ্না'আ 'আলা-আইনী।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তোমার ভগিনী এসে বললঃ আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব কে তাকে লালন পালন করবে। অতঃপর আমি তোমাকে তোমার মাতার কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চক্ষু শীতল হয় এবং দুঃখ না পায়। তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, অতঃপর আমি তোমাকে এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেই; আমি তোমাকে অনেক পরীক্ষা করেছি। অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদইয়ান বাসীদের মধ্যে অবস্থান করেছিলে; হে মূসা, অতঃপর তুমি নির্ধারিত সময়ে এসেছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তোমার বোন এসে তাদের বললো: আমি কি আপনাদের বলবো, কে ওকে সঠিকভাবে লালন পালন করতে পারবে? তখন আমরা তোমাকে তোমার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে করে তার চোখ জুড়ায় এবং সে দুশ্চিন্তায় না থাকে। তারপর তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করলে, তখনো আমরা তোমাকে দুশ্চিন্তা থেকে নাজাত দিয়েছি এবং আমরা তোমার থেকে আরো অনেকগুলো পরীক্ষা নিয়েছি। এরপর কয়েক বছর তুমি মাদায়েনবাসীদের মধ্যে ছিলে। তারপর নির্ধারিত সময়ই তুমি (এখানে) উপস্থিত হয়েছো হে মূসা!

বাংলা উচ্চারণ

ইয্ তাম্শী য় উখ্তুকা ফাতাকু লু হাল্ আদুল্লুকুম্ 'আলা-মাইঁ ইয়াক্ফুলুহ্ ফারাজ্বা'না-কা ইলা য় উম্মিকা কাই তার্ক্বর 'আইনুহা-অলা-তাহ্যান্ অ ক্বতাল্তা নাফ্সান্ ফানাজ্জ্বাইনা-কা মিনাল্ গম্মি অফাতান্না-কা-ফুতূনা- ফালাবিছ্তা সিনীনা ফী য় আহ্লি মাদ্ইয়ানা ছুম্মা জ্বিতা 'আলা- ক্বদারিঁই ইয়া-মূসা-।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য তৈরী করে নিয়েছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমি তোমাকে আমার নিজের (রিসালাত প্রদানের) জন্যে তৈরি করে নিয়েছি।

বাংলা উচ্চারণ

অছ্ত্বোয়ানা'তুকা লিনাফ্সী।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি ও তোমার ভাই আমার নিদর্শনাবলীসহ যাও এবং আমার স্মরণে শৈথিল্য করো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি এবং তোমার ভাই আমার দেয়া নিদর্শনগুলো নিয়ে (ফেরাউনের কাছে) যাও, আর তোমরা আমার যিকির - এ (আমার কথা উচ্চারণে) গাফলতি করোনা।

বাংলা উচ্চারণ

ইয্হাব্ আন্তা অআখূকা বিআ-ইয়া-তী অলা-তানিয়া-ফী যিক্রী।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা উভয়ে ফেরআউনের কাছে যাও সে খুব উদ্ধত হয়ে গেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা দুজনেই যাও ফেরাউনের কাছে, সে সীমালঙ্ঘন ও বিদ্রোহ করেছে।

বাংলা উচ্চারণ

ইয্হাবা য় ইলা-ফির'আউনা ইন্নাহূ ত্বোয়াগ-।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তোমরা তাকে নম্র কথা বল, হয়তো সে চিন্তা - ভাবনা করবে অথবা ভীত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তার সাথে কোমল ভাষায় কথা বলবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে, নয়তো ভয় পাবে।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফাকু লা লাহূ ক্বওলাল্ লাইয়্যিনা ল্লা'আল্লাহূ ইয়াতাযাক্কারু আও ইয়াখ্শা-।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা আশঙ্কা করি যে, সে আমাদের প্রতি জুলুম করবে কিংবা উত্তেজিত হয়ে উঠবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমাদের প্রভু! আমরা আশংকা করছি, সে আমাদের উপর বাড়াবাড়ি করবে, কিংবা বিরুদ্ধাচরণে সীমালঙ্ঘন করবে।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা রব্বানা য় ইন্নানা-নাখা-ফু আইঁ ইয়াফ্রুত্বোয়া 'আলাইনা য় আও আইঁ ইয়াত¦গ-।

মুহিউদ্দীন খান

বললেনঃ তোমরা ভয় করো না, আমি তোমাদের সাথে আছি, আমি শুনি ও দেখি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: ‘তোমরা ভয় পেয়োনা। আমি তো তোমাদের সাথেই আছি, শুনছি এবং দেখছি।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা লা-তাখ-ফা য় ইন্নানী মা 'আকুমা য় আস্মা'উ আআর-।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব তোমরা তার কাছে যাও এবং বলঃ আমরা উভয়েই তোমার পালনকর্তার প্রেরিত রসূল, অতএব আমাদের সাথে বনী ইসরাঈলকে যেতে দাও এবং তাদেরকে নিপীড়ন করো না। আমরা তোমার পালনকর্তার কাছ থেকে নিদর্শন নিয়ে তোমার কাছে আগমন করেছি। এবং যে সৎপথ অনুসরণ করে, তার প্রতি শান্তি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তার কাছে যাও এবং বলো: ‘‘আমরা দুজন তোমার প্রভুর রসূল। সুতরাং বনি ইসরাঈলকে আমাদের সাথে পাঠাও। তাদের আর শাস্তি দিওনা। আমরা তোমার প্রভুর নিকট থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। যারা সঠিক পথের অনুসরণ করে তাদের প্রতি সালাম - শান্তি।

বাংলা উচ্চারণ

ফাতিয়া-হু ফাকু লা য় ইন্না রসূলা-রব্বিকা ফার্আসিল্ মা 'আনা বানী য় ইস্রা-ঈলা অলা-তু'আয্যিব্হুম্ ক্বদ্ জ্বি''না-কা বিআ-ইয়াতিম্ র্মি রব্বিক্ অস্সালা-মু 'আলা-মানিত্তাবা'আ ল্ হুদা-।

মুহিউদ্দীন খান

আমরা ওহী লাভ করেছি যে, যে ব্যক্তি মিথ্যারোপ করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার উপর আযাব পড়বে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদেরকে অহি করে জানানো হয়েছে, আযাব তাদের জন্যে, যারা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়।’’

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না-ক্বদ্ ঊহিয়া ইলাইনা য় আন্নাল্ 'আযা-বা 'আলা-মান্ কায্যাবা অ তাওয়াল্লা- ।

মুহিউদ্দীন খান

সে বললঃ তবে হে মূসা, তোমাদের পালনকর্তা কে?

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (ফেরাউন) বললো: ‘তোমাদের দুজনের রব কে, হে মূসা?’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ফার্মা রব্বুকুমা- ইয়া-মূসা-।

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বললেনঃ আমাদের পালনকর্তা তিনি, যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার যোগ্য আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘আমাদের রব তিনি, যিনি প্রতিটি বস্ত্তকে তার সৃষ্টিগত আকৃতি দান করেছেন এবং চলার পথ নির্দেশ করেছেন।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা রব্বুনাল্লাযী য় 'আত্বো য়া-কুল্লা শাইয়িন্ খল্ক্বহূ ছুম্মা হাদা-।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন বললঃ তাহলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘তাহলে অতীত হয়ে যাওয়া লোকদের অবস্থা কী ?’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ফামা-বা-লুল্ ক্বরূ নিল্ ঊলা-।

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বললেনঃ তাদের খবর আমার পালনকর্তার কাছে লিখিত আছে। আমার পালনকর্তা ভ্রান্ত হন না এং বিস্মৃতও হন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘এ বিষয়ের জ্ঞান আমার প্রভুর কাছে কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি ভুলও করেন না, ভুলেও যাননা।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা 'ইল্মুহা 'ইন্দা রব্বী ফী কিতা-বিন্ লা-ইয়াদ্বিল্ল রব্বী অলা-ইয়ান্সা-।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে শয্যা করেছেন এবং তাতে চলার পথ করেছেন, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন এবং তা দ্বারা আমি বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্যে বিছানার মতো সমতল করে দিয়েছেন, তাতে তোমাদের চলাচলের জন্যে পথ করে দিয়েছেন এবং সেখানে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, আর তা থেকে আমরা উৎপন্ন করি বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযী জ্বা'আলা লাকুমুল্ র্আদ্বোয়া মাহ্দাঁও অ সালাকা লাকুম্ ফীহা-সুবুলাঁও অ আন্যালা মিনাস্ সামা-য়ি মা-য় ফাআখ্রাজ্বনা-বিহী য় আয্ওয়া জ্বাম্ মিন্ নাবা-তিন্ শাত্তা-।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা আহার কর এবং তোমাদের চতুস্পদ জন্তু চরাও। নিশ্চয় এতে বিবেক বানদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তা থেকে খাও এবং তাতে তোমাদের গবাদি পশু চরাও। বুদ্ধি - বিবেক সম্পন্ন লোকদের জন্যে এতে রয়েছে অনেক নিদর্শন।

বাংলা উচ্চারণ

কুলূ র্অ'আও আন্'আ-মাকুম্ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্ লিউলিন্নুহা-।

মুহিউদ্দীন খান

এ মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃজন করেছি, এতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিব এবং পুনরায় এ থেকেই আমি তোমাদেরকে উত্থিত করব।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তা (মাটি) থেকেই তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তাতেই তোমাদের ফেরত দেবো এবং তা থেকেই তোমাদের পুনরায় খারিজ (বের) করে আনবো।

বাংলা উচ্চারণ

মিন্হা খালাক্ব্না-কুম্ অ ফীহা নু'ঈদুকুম্ অ মিন্হা- নুখ্রিজ্বকুম্ তা-রাতান্ উখ্র-।

মুহিউদ্দীন খান

আমি ফেরাউনকে আমার সব নিদর্শন দেখিয়ে দিয়েছি, অতঃপর সে মিথ্যা আরোপ করেছে এবং অমান্য করেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাকে (ফেরাউনকে) আমাদের সব নিদর্শন দেখিয়েছিলাম। কিন্তু সে (সেগুলোকে) মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং (ঈমান আনতে) অস্বীকার করে।

বাংলা উচ্চারণ

অ লাক্বদ্ আরইনা-হু আ-ইয়া-তিনা- কুল্লাহা-ফাকায্যাবা অ আবা-।

মুহিউদ্দীন খান

সে বললঃ হে মূসা, তুমি কি যাদুর জোরে আমাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার জন্যে আগমন করেছ?

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘‘হে মূসা! তুমি কি তোমার ম্যাজিকের সাহায্যে আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার জন্যে এসেছো?

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা আজ্বিতানা-লিতুখ্ রিজ্বানা- মিন্ র্আদ্বিনা-বিসিহ্রিকা ইয়া-মূসা-।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আমরাও তোমার মোকাবেলায় তোমার নিকট অনুরূপ যাদু উপস্থিত করব। সুতরাং আমাদের ও তোমার মধ্যে একটি ওয়াদার দিন ঠিক কর, যার খেলাফ আমরাও করব না এবং তুমিও করবে না একটি পরিষ্কার প্রান্তরে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরাও অনুরূপ ম্যাজিক উপস্থিত করবো। সুতরাং আমাদের এবং তোমার মাঝে একটি প্রতিশ্রুত সময় নির্ধারণ করো, যেটি আমরাও লঙ্ঘন করবোনা, তুমিও লঙ্ঘন করবেনা। সেটি হতে হবে মধ্যবর্তী স্থান।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফালানা তিয়ান্নাকা বিসিহ্রিম্ মিছ্লিহী ফাজ্ব্'আল্ বাইনানা-অ বাইনাকা মাও'ইদাল্ লা- নুখ্লিফুহূ নাহ্নু অলা য় আন্তা মাকা-নান্ সুওয়া-।

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বললঃ তোমাদের ওয়াদার দিন উৎসবের দিন এবং পূর্বাহেߠলোকজন সমবেত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘সেই প্রতিশ্রুত সময়টি হলো উৎসবের দিন এবং সেদিন পূর্বা‎হ্ন থেকেই জনগণকে সমবেত করা হবে।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা মাও'ইদু কুম্ ইয়াওমুয্ যীনাতি অআইঁ ইয়ুহ্শারান্না-সু দ্বুহা-।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর ফেরাউন প্রস্থান করল এবং তার সব কলাকৌশল জমা করল অতঃপর উপস্থিত হল।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন (একথার উপর) উঠে গেলো, তার সমস্ত কৌশল (ম্যাজিক ও ম্যাজেসিয়ানকে) জমা করলো। তারপর (নির্ধারিত দিনে) হাজির হলো।

বাংলা উচ্চারণ

ফাতাওয়াল্লা-র্ফি'আউনু ফাজ্বামা'আ কাইদাহূ ছুম্মা আতা-।

মুহিউদ্দীন খান

মূসা (আঃ) তাদেরকে বললেনঃ দুর্ভাগ্য তোমাদের; তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না। তাহলে তিনি তোমাদেরকে আযাব দ্বারা ধবংস করে দেবেন। যে মিথ্যা উদভাবন করে, সেই বিফল মনোরথ হয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা তাদের বললো: ‘ধ্বংস হও তোমরা, তোমরা মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করোনা, তা করলে তিনি তোমাদের আযাব দিয়ে সমূলে ধ্বংস করে দেবেন। (এ যাবত) যারাই মিথ্যা রচনা করেছে, তারাই ব্যর্থকাম হয়েছে।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা- লা লাহুম্ মূসা- অইলাকুম্ লা-তাফ্তারূ 'আলাল্লা-হি কাযিবান্ ফাইয়ুস্হিতাকুম্ বি'আযা-বিন্ অক্বদ্ খ-বা মানিফ্ তার-।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা তাদের কাজে নিজেদের মধ্যে বিতর্ক করল এবং গোপনে পরামর্শ করল।

আবদুস শহীদ নাসিম

(একথা শুনে) তারা তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং গোপনে পরামর্শ করে।

বাংলা উচ্চারণ

ফাতানা-যা'উ য় আমরহুম্ বাইনাহুম্ অ আসাররুন্ নাজ্বওয়া-।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ এই দুইজন নিশ্চিতই যাদুকর, তারা তাদের যাদু দ্বারা তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিস্কার করতে চায় এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন ব্যবস্থা রহিত করতে চায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গ জনগণের উদ্দেশ্যে) বললো: ‘‘এরা দুই ভাই দুই পাক্কা ম্যাজেসিয়ান। তারা তাদের ম্যাজিকের সাহায্যে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায় এবং তোমাদের অনুকরণীয় জীবন পদ্ধতি ধ্বংস করে দিতে চায়।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ য় ইন্ হা-যা-নি লাসা-হির-নি ইয়ুরীদা-নি আইঁ ইঁয়ুখ্রিজ্বাকুম্ মিন্ র্আদ্বিকুম্ বিসিহ্রিহিমা-অইয়ায্হাবা- বিত্বোয়ারীক্বতিকুমুল্ মুছ্লা-।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, তোমরা তোমাদের কলাকৌশল সুসংহত কর, অতঃপর সারিবদ্ধ হয়ে আস। আজ যে জয়ী হবে, সেই হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব (হে ম্যাজেসিয়ানরা!) তোমরা তোমাদের সমস্ত কৌশল জমা করো, তারপর সারিবদ্ধ হয়ে উপস্থিত হও। আজ যে জয়ী হবে, সে - ই হবে সফল।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফাআজ্বমিঊ' কাইদাকুম্ ছুম্মাতূ ছফ্ফান্ অ-ক্বদ আফলাহাল্ ইয়াওমা মানিস্ তা'লা-।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ হে মূসা, হয় তুমি নিক্ষেপ কর, না হয় আমরা প্রথমে নিক্ষেপ করি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (ম্যাজেসিয়ানরা) বললো: ‘হে মূসা! হয় আপনি নিক্ষেপ করুন, নয়তো পয়লা আমরাই নিক্ষেপ করি।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ ইয়া মূসা য় ইম্মা য় আন্ তুল্ক্বিয়া অইম্মা য় আন্ নাকূনা আওঅলা মান্ আল্ক্ব-।

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বললেনঃ বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর। তাদের যাদুর প্রভাবে হঠাৎ তাঁর মনে হল, যেন তাদের রশিগুলো ও লাঠিগুলো চুটাছুটি করছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘বরং তোমরাই নিক্ষেপ করো।’ তাদের ম্যাজিকের প্রভাবে মূসার খেয়াল (মনে) হলো, তাদের সব দড়ি এবং লাঠি ছুটাছুটি করছে।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা বাল্ আল্ক্ব ফাইযা-হিবা-লুহুম্ অ 'ইছিয়্যুহুম্ ইয়ুখইয়্যালু ইলাইহি মিন্ সিহ্রিহিম্ আন্নাহা-তাস্'আ।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর মূসা মনে মনে কিছুটা ভীতি অনুভব করলেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে, মূসা তার মনে কিছুটা ভয় অনুভব করলো।

বাংলা উচ্চারণ

ফাআওজ্বাসা ফী নাফ্সিহী খীফাতাম্ মূসা-।

মুহিউদ্দীন খান

আমি বললামঃ ভয় করো না, তুমি বিজয়ী হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা বললাম: ‘‘ভয় পেয়োনা, তুমিই থাকবে উপরে।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বুল্না-লা-তাখাফ্ ইন্নাকা আন্তাল্ 'আলা-।

মুহিউদ্দীন খান

তোমার ডান হাতে যা আছে তুমি তা নিক্ষেপ কর। এটা যা কিছু তারা করেছে তা গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে তা তো কেবল যাদুকরের কলাকৌশল। যাদুকর যেখানেই থাকুক, সফল হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার ডান হাতে যা আছে সেটি নিক্ষেপ করো, তারা যা করেছে সেটি সেগুলোকে গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে সেটা তো ম্যাজিসিয়ানদের কৌশলমাত্র। ম্যাজেসিয়ানরা যা - ই উপস্থাপন করুক, সফল হয়না।’’

বাংলা উচ্চারণ

অ আল্ক্বি মা-ফী ইয়ামীনিকা তাল্ক্বফ্ মা-ছোয়ানা'ঊ ইন্নামা- ছোয়ানা'উ কাইদু সা-র্হি অলা -ইয়ুফ্লিহুস্ সা- হিরু হাইছু আতা-।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যাদুকররা সেজদায় পড়ে গেল। তারা বললঃ আমরা হারুন ও মূসার পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তাদের সমস্ত জাদুক্রিয়া নিষ্ক্রীয় হয়ে যেতে দেখে) ম্যাজিসিয়ানরা সবাই সাজদায় লুটিয়ে পড়লো। তারা বললো: ‘আমরা ঈমান আনলাম হারূণ এবং মূসার প্রভুর প্রতি।’

বাংলা উচ্চারণ

ফাউল্ক্বিয়াস্ সাহারতু সুজ্জ্বাদান্ ক্ব-লূ য় আ-মান্না -বিরব্বি হা-রূনা অমূসা-।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন বললঃ আমার অনুমতি দানের পূর্বেই? তোমরা কি তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলে; দেখছি সেই তোমাদের প্রধান, সে তোমাদেরকে যাদু শিক্ষা দিয়েছে। অতএব আমি অবশ্যই তোমাদের হস্তপদ বিপরীত দিক থেকে কর্তন করব এবং আমি তোমাদেরকে খর্জুর বৃক্ষের কান্ডে শূলে চড়াব এবং তোমরা নিশ্চিত রূপেই জানতে পারবে আমাদের মধ্যে কার আযাব কঠোরতর এবং অধিক্ষণ স্থায়ী।

আবদুস শহীদ নাসিম

(ফেরাউন) বললো: ‘আমার অনুমতি ছাড়াই তোরা মূসার প্রতি ঈমান এনেছিস? বুঝতে পেরেছি, সে তোদের গুরু, সে - ই তোদের ম্যাজিক শিখিয়েছে। আমি তোদের হাত পা বিপরীত দিক থেকে কেটে দেবো এবং খেজুর গাছের কান্ডে তোদের শূলবিদ্ধ করবো, তখন তোরা জানতে পারবি, আমাদের দুইজনের (আমার আর মূসার) মধ্যে কে কঠোর এবং স্থায়ী শাস্তিদাতা?’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা আ-মান্তুম্ লাহূ ক্বব্লা আন্ আ-যানা লাকুম্ ইন্নাহূ লাকাবী রুকুমুল্লাযী 'আল্লামাকুমুস্ সিহ্র ফালাউক্বত্ত্বি'আন্না আইদিয়াকুম্ অর্আজ্বলাকুম্ মিন্ খিলা-ফিঁও অ লায়ুছোয়াল্লিবান্নাকুম্ ফী জ্বযূ 'ইন্নাখ্লি অলা-তা'লামুন্না আইয়্যুনা য় আশাদ্দু 'আযা-বাঁও অআব্ক্বা-।

মুহিউদ্দীন খান

যাদুকররা বললঃ আমাদের কাছে যে, সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে তার উপর এবং যিনি আমাদের কে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর উপর আমরা কিছুতেই তোমাকে প্রাধান্য দেব না। অতএব, তুমি যা ইচ্ছা করতে পার। তুমি তো শুধু এই পার্থিব জীবনেই যা করার করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘‘আমাদের কাছে যেসব স্পষ্ট নিদর্শন প্রকাশ হয়েছে এবং যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তার উপর আমরা তোমাকে প্রাধান্য দিতে পারিনা। তুমি যে ফায়সালা করতে চাও করো। তুমি তো কেবল এই দুনিয়ার জীবনের উপরই ফায়সালা করতে পারবে।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ লান্ নু'ছিরকা 'আলা-মা -জ্বা-য়ানা মিনাল্ বাইয়্যিনা -তি অল্লাযী ফাত্বোয়ারনা ফাক্বদ্বি মা য় আন্তা ক্ব-দ্ব্ ইন্নামা- তাক্বদী হা-যিহিল্ হা-ইয়াতাদ্দুন্ইয়া-।

মুহিউদ্দীন খান

আমরা আমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি যাতে তিনি আমাদের পাপ এবং তুমি আমাদেরকে যে যাদু করতে বাধ্য করেছ, তা মার্জনা করেন। শ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা আমাদের প্রভুর প্রতি ঈমান এনেছি, যাতে করে তিনি আমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেন আর তুমি আমাদেরকে যে ম্যাজিক দেখাতে বাধ্য করেছো সেই অপরাধও। আল্লাহ্ই সর্বোত্তম এবং চিরস্থায়ী।’’

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না য় আ-মান্না -বিরব্বিনা- লিইয়াগ্ফিরলানা-খাত্বোয়া-ইয়া -না অমা য় আক্রহ্তানা 'আলাইহি মিনাস্ সিহ্র্ অল্লা-হু খইরুঁও অ আব্ক্ব-

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই যে তার পালনকর্তার কাছে অপরাধী হয়ে আসে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম। সেখানে সে মরবে না এবং বাঁচবেও না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কেউ তার প্রভুর কাছে অপরাধী হিসেবে উপস্থিত হবে, তার জন্যে নির্ধারিত রয়েছে জাহান্নাম। সেখানে সে মরবেও না, আর (বাঁচার মতো) বাঁচবেওনা।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাহূ মাইঁ ইয়াতি রব্বাহূ মুজ্বরমান্ ফাইন্না লাহূ জ্বাহান্নাম্ লা -ইয়ামূতু ফীহা -অলা- ইয়াহ্ইয়া-।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা তাঁর কাছে আসে এমন হয়ে যায় সৎকর্ম সম্পাদন করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে সুউচ্চ মর্তবা।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যে কেউ তাঁর কাছে উপস্থিত হবে হিসেবে আমলে সালেহ্ করে, তাদের জন্যে নির্ধারিত আছে উঁচু মর্যাদাসমূহ,

বাংলা উচ্চারণ

অমাইঁ ইয়াতিহী মুমিনান্ ক্বাদ্ 'আমিলাছ্ ছোয়া-লিহা-তি ফাউলা-য়িকা লাহুমুদ্দারাজ্বা-তুল্ 'উলা-।

মুহিউদ্দীন খান

বসবাসের এমন পুষ্পোদ্যান রয়েছে যার তলদেশে দিয়ে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এটা তাদেরই পুরস্কার, যারা পবিত্র হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

চিরস্থায়ী জান্নাতে, যার নীচে দিয়ে বহমান রয়েছে নদ - নদী - নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। যারা আত্মোন্নয়ন - আত্মশুদ্ধি করবে, এ পুরস্কার পাবে তারাই।

বাংলা উচ্চারণ

জ্বান্না-তু 'আদ্নিন্ তাজ্বরী মিন্ তাহ্তিহাল্ আন্হা-রু খ-লিদীনা ফীহা- অযা-লিকা জ্বাযা-য়ু মান্ তাযাক্কা-।

মুহিউদ্দীন খান

আমি মূসা প্রতি এই মর্মে ওহী করলাম যে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিযোগে বের হয়ে যাও এবং তাদের জন্যে সমুদ্রে শুষ্কপথ নির্মাণ কর। পেছন থেকে এসে তোমাদের ধরে ফেলার আশঙ্কা করো না এবং পানিতে ডুবে যাওয়ার ভয় করো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসাকে অহি করে নির্দেশ দিয়েছিলাম, আমার দাসদের নিয়ে তুমি রাতের বেলায় বের হবে এবং তাদের জন্যে সমুদ্রে একটি শুকনো পথ তৈরি করে নেবে। পেছন থেকে এসে তোমাকে ধরে ফেলবে - এই আশংকা করোনা এবং (সাগর পার হতে গিয়ে) ভয়ও পেয়োনা।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বদ্ আওহাইনা য় ইলা -মূসা য় আন্ আস্রি বি'ইবা-দী ফাদ্ব্রিব্ লাহুম্ ত্বোয়ারীক্বান্ ফিল্ বাহ্রি ইয়াবাসা ল্লা-তাখা-ফু দারকাঁও অলা-তাখ্শা-।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর ফেরাউন তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল এবং সমুদ্র তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জত করল।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন তার বাহিনী নিয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করে, তারপর সমুদ্র তাদের ডুবিয়ে নেয় পুরোপুরি।

বাংলা উচ্চারণ

ফাআত্বা'আহুম্ র্ফি'আউনু বিজ্বনূদিহী ফাগশিয়াহুম্ মিনাল্ ইয়াম্মি মা-গশিয়াহুম্।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরআউন তার সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করেছিল এবং সৎপথ দেখায়নি।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন তার কওমকে বিপথগামী করে দিয়েছিল এবং সঠিক পথ দেখায়নি।

বাংলা উচ্চারণ

অ আদ্বোয়াল্লা র্ফি'আউনু ক্বওমাহূ অমা-হাদা-।

মুহিউদ্দীন খান

হে বনী - ইসরাঈল! আমি তোমাদেরকে তোমাদের শক্রুর কবল থেকে উদ্ধার করেছি, তুর পাহাড়ের দক্ষিণ পার্শ্বে তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দান করেছি এবং তোমাদের কাছে ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’ নাযিল করেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে বনি ইসরাঈল! তোমাদের দুশমনদের কবল থেকে আমরাই তোমাদের নাজাত দিয়েছি এবং আমরা তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তুর পাহাড়ের ডান পাশে আর তোমাদের প্রতি আমরা নাযিল করেছি মান্না এবং সালওয়া।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া-বানী য় ইস্রা-ঈলা ক্বদ্ আন্জ্বাইনা-কুম্ মিন্ 'আদুওয়্যিকুম্ অওয়া-'আদ্না-কুম্ জ্বা-নিবাত্ব্ত্বুরিল্ আইমানা অনায্যাল্না- 'আলাইকুমুল্ মান্না অস্সাল্ওয়া।

মুহিউদ্দীন খান

বলেছিঃ আমার দেয়া পবিত্র বস্তুসমূহ খাও এবং এতে সীমালংঘন করো না, তা হলে তোমাদের উপর আমার ক্রোধ নেমে আসবে এবং যার উপর আমার ক্রোধ নেমে আসে সে ধবংস হয়ে যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

(আমরা তোমাদের বলেছি:) আমাদের দেয়া উত্তম জীবিকা তোমরা খাও এবং এক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করোনা, করলে তোমাদের প্রতি আমার গজব নিশ্চিত হয়ে যাবে। আর যার প্রতিই আমার গজব নিশ্চিত হয়ে পড়ে, সে তো হয়ে যায় ধ্বংস।

বাংলা উচ্চারণ

কুলূ মিন্ ত্বোয়াইয়্যিবা-তি মা-রযাক্বনা-কুম্ অলা-তাত্বগও ফীহি ফাইয়াহিল্লা 'আলাইকুম্ গদ্বোয়াবী অমাইঁ ইয়াহ্লিল্ 'আলাইহি গদ্বোয়াবী ফাক্বদ্ হাওয়া-।

মুহিউদ্দীন খান

আর যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎপথে অটল থাকে, আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে তওবা করে, ঈমান আনে, আমলে সালেহ্ করে এবং হিদায়াতের পথে চলে অবশ্যি আমি তার জন্যে অনন্ত ক্ষমাশীল।

বাংলা উচ্চারণ

অইন্নী লাগফ্ফা-রুল্লিমান্ তা-বা অআ-মানা অ'আমিলা ছোয়া-লিহান্ ছুম্মাহ্তাদা-।

মুহিউদ্দীন খান

হে মূসা, তোমার সম্প্রদায়কে পেছনে ফেলে তুমি ত্বরা করলে কেন?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার কওমকে সাথে আনার ক্ষেত্রে তোমাকে তাড়াহুড়ায় ফেললো কোন্ জিনিস হে মূসা?

বাংলা উচ্চারণ

অমা য় আ'জ্বালাকা 'আন্ ক্বওমিকা ইয়া-মূসা-।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ এই তো তারা আমার পেছনে আসছে এবং হে আমার পালনকর্তা, আমি তাড়াতাড়ি তোমার কাছে এলাম, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘তারা পেছনেই আছে আর আমি তাড়াহুড়া করে এসেছি তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্যে হে প্রভু!’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা হুম্ উলা-য়ি 'আলা য় আছারী অআজ্বিল্তু ইলাইকা রব্বি লির্তাদ্বোয়া-।

মুহিউদ্দীন খান

বললেনঃ আমি তোমার সম্প্রদায়কে পরীক্ষা করেছি তোমার পর এবং সামেরী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: আমরা তো তোমার কওমকে পরীক্ষায় ফেলেছি তোমার চলে আসার পর। আর তাদের বিপথগামী করেছে সামেরি।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ফাইন্না-ক্বদ্ ফাতান্না-ক্বওমাকা মিম্ বা'দিকা অআদ্বোয়াল্লাহুমুস্ সা-মিরী।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর মূসা তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেলেন ক্রদ্ধ ও অনুতপ্ত অবস্থায়। তিনি বললেনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের পালনকর্তা কি তোমাদেরকে একটি উত্তম প্রতিশ্রুতি দেননি? তবে কি প্রতিশ্রুতির সময়কাল তোমাদের কাছে দীর্ঘ হয়েছে, না তোমরা চেয়েছ যে, তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার ক্রোধ নেমে আসুক, যে কারণে তোমরা আমার সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করলে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন মূসা তার কওমের কাছে ফিরে এলো ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়ে। এসে তাদের বললো: ‘হে আমার কওম! তোমাদের প্রভু কি তোমাদের একটি উত্তম ওয়াদা দেননি? ওয়াদার সময়কাল কি তোমাদের কাছে সুদীর্ঘ হয়েছে, নাকি তোমরা চাও তোমাদের প্রভুর গজব (ক্রোধ) তোমাদের উপর হালাল হয়ে যাক? আর সে কারণেই কি তোমরা আমার প্রতি দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করলে?’

বাংলা উচ্চারণ

ফারজ্বা'আ মূসা য় ইলা-ক্বওমিহী গাদ্ব্বা-না আসিফান্ ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি আলাম্ ইয়া'ইদ্কুম্ রব্বুকুম্ ওয়া'দান্ হাসানা- আফাত্বোয়া-লা 'আলাইকুমুল্ 'আহ্দু আম্ আরত্তুম্ আইঁ ইয়াহিল্লা 'আলাইকুম্ গদ্বোয়াবুম্ র্মি রব্বিকুম্ ফাআখ্লাফ্তুম্ মাও'ইদী।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ আমরা তোমার সাথে কৃত ওয়াদা স্বেচ্ছায় ভঙ্গ করিনি; কিন্তু আমাদের উপর ফেরউনীদের অলংকারের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। অতঃপর আমরা তা নিক্ষেপ করে দিয়েছি। এমনি ভাবে সামেরীও নিক্ষেপ করেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘‘আমরা তোমার প্রতি দেয়া ওয়াদা স্বেচ্ছায় ভঙ্গ করিনি। বরং আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল কওমের অলংকারের বোঝা। তখন আমরা সেগুলো অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করি। একইভাবে সামেরিও নিক্ষেপ করে।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ মা য় আখ্লাফ্না-মাও'ইদাকা বিমাল্কিনা-অলা-কিন্না-হুম্মিল্না য় আওযা-রাম্ মিন্যীনাতিল্ ক্বওমি ফাক্বযাফ্না-হা-ফাকাযা-লিকা আল্ক্বস্ সা-মিরী।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর সে তাদের জন্য তৈরী করে বের করল একটি গো - বৎস, একটা দেহ, যার মধ্যে গরুর শব্দ ছিল। তারা বললঃ এটা তোমাদের উপাস্য এবং মূসার ও উপাস্য, অতঃপর মূসা ভুলে গেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে (সামেরি) তাদের জন্যে গড়ে নিলো একটি গো - বাছুরের অবয়ব যা হাম্বা করছিল। তখন তারা বললো: ‘‘এটাই তোমাদের ইলাহ্ এবং মূসারও ইলাহ্, কিন্তু সে (মূসা) ভুলে গেছে (তার এই ইলাহকে)।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফাআখ্রজ্বা লাহুম্ 'ইজ্বলান্ জসাদাল্ লাহূ খুওয়া-রুন্ ফাক্ব-লূ হা-যা য় ইলা-হুকুম্ অইলা-হু মূসা- ফানাসী।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি দেখে না যে, এটা তাদের কোন কথার উত্তর দেয় না এবং তারে কোন ক্ষতি ও উপকার করার ক্ষমতাও রাখে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে কি তারা লক্ষ্য করেনি যে, সেটা তাদের কথায় সাড়া দেয়না এবং তাদের কোনো ক্ষতি কিংবা কল্যাণ করার ক্ষমতা রাখেনা।

বাংলা উচ্চারণ

আফালা- ইয়ারওনা আল্লা-ইর্য়াজ্বি'উ ইলাইহিম্ ক্বওলাঁও অলা-ইয়াম্লিকু লাহুম্ দ্বোর্য়ারাঁও অলা-নাফ্'আ-।

মুহিউদ্দীন খান

হারুন তাদেরকে পুর্বেই বলেছিলেনঃ হে আমার কওম, তোমরা তো এই গো - বৎস দ্বারা পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছ এবং তোমাদের পালনকর্তা দয়াময়। অতএব, তোমরা আমার অনুসরণ কর এবং আমার আদেশ মেনে চল।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইতোপূর্বে হারূণও তাদের বলেছিল: ‘হে আমার কওম! এই গো - বাছুরের মাধ্যমে তো তোমাদের পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে। নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভু পরম দয়াময়, সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ করো এবং আমার আদেশ পালন করো।’

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বদ্ ক্ব-লা লাহুম্ হারূনু মিন্ ক্বব্লু ইয়া-ক্বওমি ইন্নামা-ফুতিন্তুম্ বিহী অ ইন্না রব্বাকুর্মু রহ্মানু ফাত্তাবি'ঊনী অ আত্বী'ঊ য় আম্রী।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ মূসা আমাদের কাছে ফিরে আসা পর্যন্ত আমরা সদাসর্বদা এর সাথেই সংযুক্ত হয়ে বসে থাকব।

আবদুস শহীদ নাসিম

জবাবে তারা বলেছিল: ‘মূসা আমাদের কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা এটিকে পূজা করা থেকে কিছুতেই বিরত হবোনা।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ লান্ নাব্রহা 'আলাইহি 'আ-কিফীনা হাত্তা-ইর্য়াজ্বি'আ ইলাইনা- মূসা-।

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বললেনঃ হে হারুন, তুমি যখন তাদেরকে পথ ভ্রষ্ট হতে দেখলে, তখন তোমাকে কিসে নিবৃত্ত করল ?

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘‘হে হারূণ! তাদেরকে বিপথগামী হতে দেখা সত্ত্বেও কিসে আপনাকে বিরত রাখলো

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইয়া-হা-রূনু মা-মানা'আকা ইয্ রয়াইতাহুম্ দ্বোয়াল্লু য় ।

মুহিউদ্দীন খান

আমার পদাঙ্ক অনুসরণ করা থেকে? তবে তুমি কি আমার আদেশ অমান্য করেছ?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার অনুসরণ করা থেকে? তবে কি আপনি আমার আদেশ অমান্য করলেন?’’

বাংলা উচ্চারণ

আল্লা-তাত্তাবি'আন্ আফা'আছোয়াইতা আম্রী।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ হে আমার জননী - তনয়, আমার শ্মশ্রু ও মাথার চুল ধরে আকর্ষণ করো না; আমি আশঙ্কা করলাম যে, তুমি বলবেঃ তুমি বনী - ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছ এবং আমার কথা স্মরণে রাখনি।

আবদুস শহীদ নাসিম

হারূণ বললো: ‘হে আমার মায়ের পেটের ভাই! তুমি আমার দাড়ি এবং চুল ধরোনা। আমি আশংকা করেছিলাম, তুমি বলবে: তুমি বনি ইসরাঈলিদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছো এবং আমার কথা রক্ষা করোনি।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইয়াব্নায়ুম্মা লা-তা'খুয্ বিলিহ্ইয়াতী অলা-বিরাসী ইন্নী খাশীতু আন্ তাকুলা র্ফারাক্বতা বাইনা বানী য় ইস্রা-ঈলা অলাম্ র্তাক্বব্ ক্বওলী।

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বললেন হে সামেরী, এখন তোমার ব্যাপার কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘সামেরি! তোমার ব্যাপারটা কী?’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ফামা-খাত্ববুকা ইয়া-সা মিরীয়্যু ।

মুহিউদ্দীন খান

সে বললঃ আমি দেখলাম যা অন্যেরা দেখেনি। অতঃপর আমি সেই প্রেরিত ব্যক্তির পদচিহ্নের নীচ থেকে এক মুঠি মাটি নিয়ে নিলাম। অতঃপর আমি তা নিক্ষেপ করলাম। আমাকে আমার মন এই মন্ত্রণাই দিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘আমি এমন কিছু দেখেছি যা তারা দেখেনি। তখন আমি সেই রসূলের (জিবরিলের) পদচি‎হ্ন থেকে এক মুষ্টি (ধূলো) নিয়েছিলাম এবং তা নিক্ষেপ করেছিলাম, এ কাজটির জন্যে আমার নফস আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা বার্ছুতু বিমা-লাম্ ইয়াব্ছুরূ বিহী ফাক্ববাদ্ব্তু ক্বাদ্বোয়াতাম্ মিন্ আছার্রি রাসূলি ফানাবায্তুহা-অকাযা-লিকা সাওঅলাত্লী নাফ্সী।

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বললেনঃ দূর হ, তোর জন্য সারা জীবন এ শাস্তিই রইল যে, তুই বলবি; আমাকে স্পর্শ করো না, এবং তোর জন্য একটি নির্দিষ্ট ওয়াদা আছে, যার ব্যতিক্রম হবে না। তুই তোর সেই ইলাহের প্রতি লক্ষ্য কর, যাকে তুই ঘিরে থাকতি। আমরা সেটি জালিয়ে দেবই। অতঃপর একে বিক্ষিপ্ত করে সাগরে ছড়িয়ে দেবই।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘‘যাও, তোমার জন্যে জীবদ্দশায় এই শাস্তি নির্ধারিত হলো যে, তুমি সব সময় বলতে থাকবে: ‘আমাকে স্পর্শ করোনা,’ তোমার জন্যে নির্ধারিত হলো একটি নির্দিষ্টকাল, তোমার বেলায় যার ব্যতিক্রম হবেনা। তোমার ইলাহ্টির (দেবতাটির) প্রতি তাকাও, তুমি যার পূজা করতে, আমরা অবশ্যি সেটিকে পুড়ে ফেলবো এবং বিক্ষিপ্ত করে সেটিকে নিক্ষেপ করবো সাগরে।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ফায্হাব্ ফাইন্না লাকা ফিল্ হাইয়াতি আন্ তাকুলা লা-মিসা-সা অইন্না লাকা মাও'ঈদাল্লান্ তুখ্লাফাহূ অর্ন্জু ইলা য় হিকাল্লাযী জোয়াল্তা 'আলাইহি 'আ-কিফা- লানুর্হারিক্বন্নাহূ ছুম্মা- লানান্সিফান্নাহূ ফিল্ ইয়াম্মি নাস্ফা-।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের তো কেবল আল্লাহই, যিনি ব্যতীত অন্য কোন নেই। সব বিষয় তাঁর জ্ঞানের পরিধিভুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তোমাদের ইলাহ্ একমাত্র যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। সব বিষয়ে তাঁর জ্ঞান পরিব্যাপ্ত।’’

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নামা য় ইলাহুকুমুল্লা-হুল্লাযী লা য় ইলা- হা ইল্লা-হু অসি'আ কুল্লা শাইয়িন্ 'ইল্মা-।

মুহিউদ্দীন খান

এমনিভাবে আমি পূর্বে যা ঘটেছে, তার সংবাদ আপনার কাছে বর্ণনা করি। আমি আমার কাছ থেকে আপনাকে দান করেছি পড়ার গ্রন্থ।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই আমরা তোমাকে অতীত সংবাদের বিবরণ দিচ্ছি, আর এ উদ্দেশ্যে আমরা তোমাকে দিয়েছি একটি যিকির (কুরআন)।

বাংলা উচ্চারণ

কাযা-লিকা নাক্বছ্ছু 'আলাইকা মিন্ আম্বা-য়ি মা-ক্বদ্ সাবাক্ব অক্বদ্ আ-তাইনা- কামিল্লাদুন্না-যিক্র- ।

মুহিউদ্দীন খান

যে এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে কেয়ামতের দিন বোঝা বহন করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে এ গ্রন্থ থেকে মুখ ফেরাবে, সে কিয়ামতের দিন বহন করবে এক বিশাল বোঝা।

বাংলা উচ্চারণ

মান্ আ'রদ্বোয়া 'আন্হু ফাইন্নাহূ ইয়াহ্মিলূ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি ওয়িযর-।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তাতে চিরকাল থাকবে এবং কেয়ামতের দিন এই বোঝা তাদের জন্যে মন্দ হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

চিরদিন তারা তাতেই থাকবে, কিয়ামতকালের এই বোঝা তাদের জন্যে হবে কতো যে নিকৃষ্ট বোঝা!

বাংলা উচ্চারণ

খ-লিদীনা ফীহ্ অ সা-য়া লাহুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি হিম্লা-।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন সিঙ্গায় ফূৎকার দেয়া হবে, সেদিন আমি অপরাধীদেরকে সমবেত করব নীল চক্ষু অবস্থায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং যেদিন আমরা অপরাধীদের দৃষ্টিহীন করে হাশর করবো,

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াওমা ইয়ুন্ফাখু ফিছ্ ছুরি অনাহ্শুরুল্ মুজ্বরিমীনা ইয়াওমায়িযিন্ র্যুক্বা-।

মুহিউদ্দীন খান

তারা চুপিসারে পরস্পরে বলাবলি করবেঃ তোমরা মাত্র দশ দিন অবস্থান করেছিলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তারা নিজেরা নিজেরা চুপিসারে বলাবলি করবে: ‘তোমরা তো (পৃথিবীতে) মাত্র দশদিন অবস্থান করেছিলে।’

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াতাখ-ফাতূনা বাইনাহুম্ ইল্লাবিছ্তুম্ ইল্লা-'আশর-।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি বলে তা আমি ভালোভাবে জানি। তাদের মধ্যে যে, অপেক্ষাকৃত উত্তম পথের অনুসারী সে বলবেঃ তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করেছিলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তারা কী বলবে সেটা আমরা অধিক জানি, সেদিন তাদের সর্বাধিক উন্নত বুদ্ধির অধিকারী ব্যক্তি বলবে: ‘তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করেছিলে।’

বাংলা উচ্চারণ

নাহ্নু 'আলামু বিমা- ইয়াকুলূনা ইয্ ইয়াকুলু আম্ছালুহুম্ ত্বোয়ারীক্বতান্ ইল্লাবিছ্তুম্ ইল্লা- ইয়াওমা-।

মুহিউদ্দীন খান

তারা আপনাকে পাহাড় সম্পর্কে প্রশ্ন করা। অতএব, আপনি বলুনঃ আমার পালনকর্তা পহাড়সমূহকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দিবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমার কাছে পর্বতমালা সম্পর্কে জানতে চাইছে। তুমি বলো: ‘আমার প্রভু সেগুলোকে সমূলে উঠিয়ে বিক্ষিপ্ত করে দেবেন।’

বাংলা উচ্চারণ

অইয়াস্য়ালূ নাকা 'আনিল্ জ্বিবা-লি ফাক্বল্ ইয়ান্সিফুহা- রব্বী নাস্ফা-।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর পৃথিবীকে মসৃণ সমতলভূমি করে ছাড়বেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তিনি সেগুলোকে পরিণত করবেন মসৃণ সমতল মাঠে।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইয়াযারুহা-ক্ব-'আন্ ছোয়াফ্ছোয়াফা-।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি তাতে মোড় ও টিলা দেখবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাতে তুমি কোনো প্রকার বক্রতা কিংবা উঁচু (নিচু) দেখবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

লা- তারা-ফীহা 'ই অজ্বাঁও অলা য় আম্তা-।

মুহিউদ্দীন খান

সেই দিন তারা আহবানকারীর অনুসরণ করবে, যার কথা এদিক - সেদিক হবে না এবং দয়াময় আল্লাহর ভয়ে সব শব্দ ক্ষীণ হয়ে যাবে। সুতরাং মৃদু গুঞ্জন ব্যতীত তুমি কিছুই শুনবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তারা ঘোষণাকারীকে অনুসরণ করবে (ঘোষণাকারীর দিকে দৌড়াবে), কোনো প্রকার এদিক সেদিক করতে পারবেনা। রহমানের সামনে সমস্ত আওয়ায স্তব্ধ হয়ে যাবে। ফলে মৃদু পদধ্বনি ছাড়া তুমি আর কিছুই শুনতে পাবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াওমায়িযিঁই ইয়াত্তাবি'ঊনাদ্দা'ইয়া লা-'ইওয়াজ্বা লাহূ অখশা'আতিল্ আছ্ওয়া-তু র্লিরহ্মা- নি ফালা- তাস্মা'উ ইল্লা- হাম্সা-।

মুহিউদ্দীন খান

দয়াময় যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথায় সন্তুষ্ট হবেন সে ছাড়া কারও সুপারিশ সেদিন কোন উপকারে আসবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন শাফায়াতে কোনো কাজ হবেনা, তবে রহমান যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথা শুনতে রাজি হবেন তার বিষয়টি আলাদা।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াওমায়িযিল্লা- তান্ফা'উশ্ শাফা-'আতু ইল্লা-মান্ আযিনা লার্হু রহ্মা-নু অ রদ্বিয়া লাহূ ক্বওলা।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি জানেন যা কিছু তাদের সামনে ও পশ্চাতে আছে এবং তারা তাকে জ্ঞান দ্বারা আয়ত্ত করতে পারে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের সামনে পিছে যা কিছু আছে সবই তাঁর এলেমে আছে, কিন্তু তাদের এলেম তাঁকে আয়ত্ত করতে পারেনা।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া'লামু মা-বাইনা আইদীহিম্ অমা-খল্ফাহুম্ অলা-ইয়ুহীত্ব ূনা বিহী 'ইল্মা-।

মুহিউদ্দীন খান

সেই চিরঞ্জীব চিরস্থায়ীর সামনে সব মুখমন্ডল অবনমিত হবে এবং সে ব্যর্থ হবে যে জুলুমের বোঝা বহন করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন চিরঞ্জীব, সর্ববস্ত্তর ধারকের উদ্দেশ্যে সবাই হবে নতশির। সেদিন ব্যর্থ হবে সে, যে বইয়ে আনবে যুলুম।

বাংলা উচ্চারণ

অ 'আনাতিল্ উজুহু লিল্হাইয়্যিল্ ক্বাইয়্যূম্ অক্বদ্ খ-বা মান্ হামালা জুল্মা-।

মুহিউদ্দীন খান

যে অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে, সে জুলুম ও ক্ষতির আশঙ্কা করবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবস্থায় যে কেউ আমলে সালেহ্ করবে, তার কোনোই আশংকা থাকবেনা অন্যায় বিচার কিংবা কোনো প্রকার ক্ষতির।

বাংলা উচ্চারণ

অমাইঁ ইয়া'মাল্ মিনাছ্ ছোয়া-লিহা-তি অহুঅ মু'মিনুন্ ফালা-ইয়াখ-ফু জুল্মাঁও অলা- হাদ্ব্মা-।

মুহিউদ্দীন খান

এমনিভাবে আমি আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি এবং এতে নানাভাবে সতর্কবাণী ব্যক্ত করেছি, যাতে তারা আল্লাহভীরু হয় অথবা তাদের অন্তরে চিন্তার খোরাক যোগায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই, আমরা এটিকে নাযিল করেছি একটি আরবি কুরআন হিসেবে এবং বিভিন্নভাবে তাতে বর্ণনা করেছি সতর্ক বার্তা, যাতে করে তারা নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করে অথবা এটি যেনো হয় তাদের জন্যে একটি উপদেশ।

বাংলা উচ্চারণ

অকাযা-লিকা আন্যাল্না-হু ক্বর্আ-নান্ 'আরবিয়্যাঁও অছোর্য়া রফ্না-ফীহি মিনাল্ অ'ঈদি লাআল্লাহুম্ ইয়াত্তাকুনা আও ইয়ুহ্দিছু লাহুম্ যিক্র-।

মুহিউদ্দীন খান

সত্যিকার অধীশ্বর মহান। আপনার প্রতি আল্লাহর ওহী সম্পুর্ণ হওয়ার পূর্বে আপনি কোরআন গ্রহণের ব্যপারে তাড়াহুড়া করবেন না এবং বলুনঃ হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতীব মহান, প্রকৃত সম্রাট তিনিই। তোমার প্রতি অহি সম্পূর্ণ হবার আগেই তুমি তাড়াহুড়া করে কুরআন পাঠ করোনা। তুমি বলো: ‘আমার প্রভু! আমাকে সমৃদ্ধ করো জ্ঞানে।’

বাংলা উচ্চারণ

ফাতা 'আলাল্লা-হুল্ মালিকুল্ হাক্বক্বঅলা-তা'জ্বাল্ বিল্ক্বর্আ-নি মিন্ ক্বব্লি আইঁ ইয়ুক্বদ্বোয়া য় ইলাইকা অহ্ইয়ুহূ অক্বর্ রব্বি যিদ্নী 'ইল্মা-।

মুহিউদ্দীন খান

আমি ইতিপূর্বে আদমকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। অতঃপর সে ভুলে গিয়েছিল এবং আমি তার মধ্যে দৃঢ়তা পাইনি।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইতোপূর্বে আমরা আদমকে একটি নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল। আমরা তাকে পাইনি মজবুত সংকল্পের অধিকারী।

বাংলা উচ্চারণ

অ লাক্বদ্ 'আহিদ্না য় ইলা য় আ-দামা মিন্ ক্বব্লু ফানাসিয়া অলাম্ নাজ্বিদ্ লাহূ 'আয্মা-।

মুহিউদ্দীন খান

যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ তোমরা আদমকে সেজদা কর, তখন ইবলীস ব্যতীত সবাই সেজদা করল। সে অমান্য করল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যখন ফেরেশতাদের বলেছিলাম, তোমরা সাজদা করো আদমকে, তখন তারা সাজদা করলো, কিন্তু করেনি শুধু ইবলিস। সে অস্বীকার করলো (সাজদা করতে)।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয্ক্বল্না-লিল্ মালা-য়িকাতিস্ জ্বদূ লি আ-দামা ফাসাজ্বাদূ য় ইল্লা য় ইব্লীস্ আবা-।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি বললামঃ হে আদম, এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু, সুতরাং সে যেন বের করে না দেয় তোমাদের জান্নাত থেকে। তাহলে তোমরা কষ্টে পতিত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন আমরা বলেছিলাম, হে আদম! নিশ্চয়ই এ (ইবলিস) তোমার এবং তোমার স্ত্রীর শত্রু। সে যেনো তোমাদের জান্নাত থেকে বের করে না দেয়। দিলে তোমরা পড়বে দুর্ভোগে।

বাংলা উচ্চারণ

ফাক্বল্না-ইয়া য় আ-দামু ইন্না হা-যা- 'আদুওয়ুল্লাকা অলিযাওজ্বিকা ফালা-ইয়ুখ্রিজ্বান্নাকুমা-মিনাল্ জ্বান্নাতি ফাতাশ্ক্ব-।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাকে এই দেয়া হল যে, তুমি এতে ক্ষুধার্ত হবে না এবং বস্ত্রহীণ হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার জন্যে নিয়ম করে দেয়া হলো, তুমি জান্নাতে ক্ষুধার্তও হবেনা বিবস্ত্রও হবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না লাকা আল্লা-তাজু 'আ ফীহা-অলা-তা'রা-।

মুহিউদ্দীন খান

এবং তোমার পিপাসাও হবে না এবং রৌদ্রেও কষ্ট পাবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি সেখানে পিপাসার্তও হবেনা, রোদেও পুড়বেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অ আন্নাকা লা-তাজ্মায়ূ ফীহা- অলা-তাদ্ব্হা-।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রনা দিল, বললঃ হে আদম, আমি কি তোমাকে বলে দিব অনন্তকাল জীবিত থাকার বৃক্ষের কথা এবং অবিনশ্বর রাজত্বের কথা?

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন শয়তান তাকে অস্অসা দিলো। সে বললো: ‘হে আদম! আমি কি আপনাকে সংবাদ দেবো এক অমর গাছের এবং এক অক্ষয় সাম্রাজ্যের?’

বাংলা উচ্চারণ

ফা অস্অসা ইলাইহিশ্ শাইতোয়া-নু ক্ব-লা ইয়া য় আ-দামু হাল্ আদুল্লুকা 'আলা-শাজ্বারতিল্ খুল্দি অমুল্কিল্ লা-ইয়াব্লা-।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা উভয়েই এর ফল ভক্ষণ করল, তখন তাদের সামনে তাদের লজ্জাস্থান খুলে গেল এবং তারা জান্নাতের বৃক্ষ - পত্র দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করতে শুরু করল। আদম তার পালনকর্তার অবাধ্যতা করল, ফলে সে পথ ভ্রষ্ঠ হয়ে গেল।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে তারা দুজনে সেই গাছের ফল খেলো। তখন তাদের লজ্জাস্থান পরস্পরের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়লো এবং তারা জান্নাতের পত্রপল্লব দিয়ে নিজেদের আবৃত করতে থাকলো। এভাবে আদম তার প্রভুর আদেশ অমান্য করলো এবং বিপথগামী হলো।

বাংলা উচ্চারণ

ফা আকালা-মিন্হা-ফাবাদাত্ লাহুমা-সাত-তুহুমা-অত্বোয়াফিক্ব-ইয়াখ্ছিফা-নি 'আলাইহিমা-মিওঁ অরক্বিল্ জ্বান্না-তি অ'আছোয়া য় আ-দামু রব্বাহূ ফাগওয়া-।

মুহিউদ্দীন খান

এরপর তার পালনকর্তা তাকে মনোনীত করলেন, তার প্রতি মনোযোগী হলেন এবং তাকে সুপথে আনয়ন করলেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তার প্রভু তাকে মনোনীত করেন, তার তাওবা কবুল করেন এবং তাকে প্রদান করেন সঠিক জীবন পদ্ধতি।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মাজ্বতাবা-হু রব্বুহূ ফাতা-বা 'আলাইহি অহাদা-।

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ তোমরা উভয়েই এখান থেকে এক সঙ্গে নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। এরপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হেদায়েত আসে, তখন যে আমার বর্ণিত পথ অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ঠ হবে না এবং কষ্টে পতিত হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তাদের বললেন: ‘‘তোমরা উভয়ে (আদম ও শয়তান) এক সাথে এখান থেকে নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। আমার পক্ষ থেকে যখন তোমাদের কাছে হুদা (জীবন পদ্ধতি এবং নবী ও কিতাব) আসবে, তখন যে আমার হুদার অনুসরণ করবে, সে বিপথগামীও হবেনা, দুর্ভাগাও হবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লাহ্ বিত্বোয়া-মিন্হা-জামী'আম্ বা'দ্বকুম্ লিবা'দ্বিন্ 'আদুওয়্যুন্ ফাইম্মা-ইয়াতিয়ান্নাকুম্ মিন্নী হুদান্ ফামানি ত্তাবা'আ হুদা-ইয়া ফালা-ইয়াদিল্ল অলা-ইয়াশ্ক্ব-।

মুহিউদ্দীন খান

এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু যে আমার যিকির (কিতাব) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তার জীবন যাপন পদ্ধতি হয়ে পড়বে সংকুচিত আর কিয়ামতের দিন আমরা তাকে হাশর করবো অন্ধ করে।’’

বাংলা উচ্চারণ

অমান্ 'আরদ্বোয়া আন্ যিক্রী ফাইন্না লাহূ মা'ঈশাতান্ দ্বোয়ান্কঁও অনাহ্শুরুহূ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি আমা-।

মুহিউদ্দীন খান

সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা আমাকে কেন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলেন? আমি তো চক্ষুমান ছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে বলবে: ‘প্রভু! আমাকে অন্ধ করে কেন হাশর করেছো, আমি তো ছিলাম দৃষ্টিশক্তির অধিকারী?’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা রব্বি লিমা হার্শাতানী য় আ'মা- অক্বদ্ কুন্তু বাছীরা-।

মুহিউদ্দীন খান

বলবেনঃ এমনিভাবে তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। তেমনিভাবে আজ তোমাকে ভুলে যাব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বলবেন: ‘এভাবেই, তোমার কাছে এসেছিল আমাদের আয়াত, কিন্তু তুমি তা ভুলে থেকেছিলে, একইভাবে তুমিও বিস্মৃত হলে।’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা কাযা-লিকা আতাত্কা আ-ইয়া-তুনা ফানাসী তাহা- অ কাযা-লিকাল্ ইয়াওমা তুন্সা-।

মুহিউদ্দীন খান

এমনিভাবে আমি তাকে প্রতিফল দেব, যে সীমালঙ্ঘন করে এবং পালনকর্তার কথায় বিশ্বাস স্থাপন না করে। তার পরকালের শাস্তি কঠোরতর এবং অনেক স্থায়ী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদেরকে এরকমই প্রতিফল দিয়ে থাকি যারা সীমালঙ্ঘন করে এবং তাদের প্রভুর আয়াতের প্রতি ঈমান আনেনা। আর আখিরাতের আযাব তো অবশ্যি আরো অধিক কঠোর এবং স্থায়ী।

বাংলা উচ্চারণ

অ কাযা-লিকা নাজ্বযী মান্ আস্রফা অলাম ইয়ুমিম্ বিআ-ইয়া-তি রব্বিহ্ অলা'আযা-বুল্ আ-খিরতি আশাদ্দু অআব্ক্ব-

মুহিউদ্দীন খান

আমি এদের পূর্বে অনেক সম্প্রদায়কে ধবংস করেছি। যাদের বাসভুমিতে এরা বিচরণ করে, এটা কি এদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করল না? নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমানদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ বিষয়টিও কি তাদেরকে হিদায়াতের পথে আনতে পারলোনা যে, তাদের আগে আমরা কতো মানব প্রজন্মকে হালাক করে দিয়েছি, তারাও তাদের বাসস্থানে চলাফেরা করতো। নিশ্চয়ই এতে অনেক নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্যে যারা বুদ্ধি বিবেকওয়ালা লোক।

বাংলা উচ্চারণ

আফালাম্ ইয়াহ্দি লাহুম্ কাম্ আহ্লাক্না-ক্বব্লাহুম্ মিনাল্ ক্বরূনি ইয়াম্শূনা ফী মাসা-কিনিহিম্ ইন্না ফী যা-লিকা লা-আ-ইয়া-তিল্লি উলিন্ নুহা-।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত এবং একটি কাল নির্দিষ্ট না থাকলে শাস্তি অবশ্যম্ভাবী হয়ে যেত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুর পূর্ব বাণী এবং সময় নির্দিষ্ট করা না থাকলে তাদেরকে দ্রুত শাস্তি দেয়া আবশ্যক হয়ে যেতো।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও লা-কালিমাতুন্ সাবাক্বত্ র্মি রব্বিকা লাকা-না লিযা-মাঁও অ আজ্বালুম্ মুসাম্মা।

মুহিউদ্দীন খান

সুতরাং এরা যা বলে সে বিষয়ে ধৈর্য্য ধারণ করুন এবং আপনার পালনকর্তার প্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করুন সূর্যোদয়ের পূর্বে, সূর্যাস্তের পূর্বে এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করুন রাত্রির কিছু অংশ ও দিবাভাগে, সম্ভবতঃ তাতে আপনি সন্তুষ্ট হবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তারা যা বলে, সে সম্পর্কে তুমি সবর অবলম্বন করো এবং তোমার প্রভুর হামদসহ তসবিহ করো সূর্যোদয়ের আগে আর সূর্যাস্তের আগে। এছাড়া রাত্রিকালে তাঁর তসবিহ করো আর দিনের দুইপ্রান্তে। আশা করা যায় এর ফলে (তুমি তোমার প্রভুর অনুগ্রহ লাভ করবে) এবং হয়ে যাবে সন্তুষ্ট।

বাংলা উচ্চারণ

ফার্ছ্বি 'আলা-মা-ইয়াকুলূনা অসাব্বিহ্ বিহাম্দি রব্বিকা ক্বব্লা ত্বলূইশ্ শাম্সি অক্বব্লা গুরূবিহা-অমিন্ আ-না-য়ি ল্লাইলি ফাসাব্বিহ্ অআত্বর-ফান্ নাহা-রি লা'আল্লাকা র্তাদ্বোয়া-।

মুহিউদ্দীন খান

আমি এদের বিভিন্ন প্রকার লোককে পরীক্ষা করার জন্যে পার্থিবজীবনের সৌন্দর্য স্বরূপ ভোগ - বিলাসের যে উপকরণ দিয়েছি, আপনি সেই সব বস্তুর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন না। আপনার পালনকর্তার দেয়া রিযিক উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের বিভিন্ন শ্রেণীর লোককে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য ও ভোগবিলাসের জন্যে যেসব সামগ্রী দিয়েছি তাদের পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে, তুমি সেদিকে চোখ তুলেও তাকিয়োনা। তোমার প্রভুর দেয়া রিযিকই উত্তম এবং স্থায়ী।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-তামুদ্দান্না 'আইনাইকা ইলা-মা-মাত্তা'না-বিহী য় আয্ওয়া-জ্বাম্ মিন্হুম্ যাহ্রতাল্ হা-ইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া- লিনাফ্তিনাহুম্ ফীহ্ অ রিয্ক্ব রব্বিকা খইরুঁও অআব্ক্ব-।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি আপনার পরিবারের লোকদেরকে নামাযের আদেশ দিন এবং নিজেও এর ওপর অবিচল থাকুন। আমি আপনার কাছে কোন রিযিক চাই না। আমি আপনাকে রিযিক দেই এবং ভীরুতার পরিণাম শুভ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার পরিবারবর্গকে সালাতের নির্দেশ দাও এবং তার উপর অবিচল থাকো, আমরা তোমার কাছে রিযিক চাইনা। আমরাই তোমাকে রিযিক দেই। পরিণামের শুভ ফল তো তাকওয়াবানদের জন্যেই।

বাংলা উচ্চারণ

অর্মু আহ্লাকা বিছ ছ্লা-তি অছ্ত্বোয়ার্বি 'আলাইহা- লা-নাস্য়ালুকা রিয্ক্ব- নাহ্নু র্নাযুক্বক্ব অল্ 'আ-ক্বিবাতু লিত্তাক্ব্ওয়া-।

মুহিউদ্দীন খান

এরা বলেঃ সে আমাদের কাছে তার পালনকর্তার কাছ থেকে কোন নিদর্শন আনয়ন করে না কেন? তাদের কাছে কি প্রমাণ আসেনি, যা পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে আছে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘সে তার প্রভুর কাছ থেকে আমাদের কাছে কোনো নিদর্শন নিয়ে আসেনা কেন?’ তাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণ আসেনি, যা রয়েছে আগেকার কিতাবসমূহে?

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লূ লাওলা ইয়াতীনা-বিআ-ইয়াতিম্ র্মি রব্বিহ্ আওয়ালাম্ তাতিহিম্ বাইয়্যিনাতু মা-ফিছ্ ছুহুফিল্ ঊলা-।

মুহিউদ্দীন খান

যদি আমি এদেরকে ইতিপূর্বে কোন শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করতাম, তবে এরা বলতঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি আমাদের কাছে একজন রসূল প্রেরণ করলেন না কেন? তাহলে তো আমরা অপমানিত ও হেয় হওয়ার পূর্বেই আপনার নিদর্শন সমূহ মেনে চলতাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যদি (তাকে পাঠাবার) পূর্বেই তাদেরকে আযাব দিয়ে হালাক করে দিতাম, তবে অবশ্যি তারা বলতো: ‘আমাদের প্রভু! তুমি আমাদের কাছে একজন রসূল পাঠালে না কেন? পাঠালে তো আমরা লাঞ্ছিত ও অপমাণিত হবার আগেই তোমার আয়াতের অনুসরণ করতাম।’

বাংলা উচ্চারণ

অলাও আন্না য় আহ্লাক্না-হুম বি 'আযা-বিম্ মিন্ ক্বব্লিহী লাক্ব-লূ রব্বানা-লাওলা য় র্আসাল্তা ইলাইনা-রসূলান্ ফানাত্তাবি'আ আ-ইয়া-তিকা মিন্ ক্বব্লি আন্ নাযিল্লা অনাখ্যা-।

মুহিউদ্দীন খান

বলুন, প্রত্যেকেই পথপানে চেয়ে আছে, সুতরাং তোমরাও পথপানে চেয়ে থাক। অদূর ভবিষ্যতে তোমরা জানতে পারবে কে সরল পথের পথিক এবং কে সৎপথ প্রাপ্ত হয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: প্রত্যেকেই প্রতীক্ষায় আছে, সুতরাং তোমরাও প্রতীক্ষা করো। তারপরই তোমরা জানতে পারবে কারা সরল সঠিক পথে আছে আর কারা প্রতিষ্ঠিত হিদায়াতের উপর?

বাংলা উচ্চারণ

ক্বল্ কুল্লম্ মুতারব্বিছুন্ ফাতারব্বাছূ ফাসাতা'লামূনা মান্ আছ্হা-বুছ্ ছির-ত্বিস্ সাওয়্যি অমানিহ্ তাদা-।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme