You’re offline. Downloaded books and recitations still work.
আল নিসা
Chapter 4, 176 verses
মুহিউদ্দীন খান
আবদুস শহীদ নাসিম
Arabic, with marks
Transliteration
Word by word
মুহিউদ্দীন খান
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্ঝা করে থাক এবং আত্নীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে মানুষ! তোমরা সতর্ক হও তোমাদের রবের প্রতি, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একটি আত্মা থেকে। আর তা থেকেই সৃষ্টি করেছেন তার জুড়ি। অত:পর তাদের দু’জন থেকে সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য পুরুষ ও নারী। তোমরা ভয় করো আল্লাহকে, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা (পরস্পর থেকে) তোমাদের অধিকার দাবি করো। আর সতর্ক হও রক্ত সম্পর্কের নিকটাত্মীয়দের (অধিকারের) ব্যাপারে। নিশ্চয়ই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধানকারী পাহারাদার।
এতীমদেরকে তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। খারাপ মালামালের সাথে ভালো মালামালের অদল - বদল করো না। আর তাদের ধন - সম্পদ নিজেদের ধন - সম্পদের সাথে সংমিশ্রিত করে তা গ্রাস করো না। নিশ্চয় এটা বড়ই মন্দ কাজ।
আবদুস শহীদ নাসিম
দিয়ে দাও এতিমদেরকে তাদের মাল - সম্পদ। ভালো সম্পদের সাথে মন্দ সম্পদ বদল করোনা। তোমরা গ্রাস করোনা তাদের মাল - সম্পদ তোমাদের মাল - সম্পদের সাথে মিশিয়ে নিয়ে। কারণ, এটা একটা কবিরা গুনাহ্।
আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীম মেয়েদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর তোমরা যদি আশংকা করো, এতিম - মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে যেসব নারীদের তোমরা পছন্দ করো, তাদের মধ্য থেকে বিয়ে করে নাও দুই, তিন, বা চারজনকে। কিন্তু, যদি আশংকা করো (একাধিক বিয়ে করলে) স্ত্রীদের মধ্যে ইনসাফ করতে পারবেনা, সে ক্ষেত্রে একটি বিয়ে করো, অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত মেয়ে। বেইনসাফি থেকে বাঁচার জন্যে এ ব্যবস্থাই অধিকতর সঠিক।
Wain khiftum alla tuqsitoo fee alyatama fainkihoo mataba lakum mina alnnisai mathna wathulatha warubaAAa fain khiftum alla taAAdiloo fawahidatan aw ma malakat aymanukum thalika adna alla taAAooloo
আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশীমনে। তারা যদি খুশী হয়ে তা থেকে অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর তোমরা (যাদের বিয়ে করবে তাদের অর্থাৎ) স্ত্রীদের মোহর খোলামনে আনন্দচিত্তে দিয়ে দাও। তবে তারা নিজেরাই যদি সন্তুষ্টচিত্তে (মোহরানার) কিছু অংশ মাফ করে দেয়, তবে তোমরাও সানন্দে তা গ্রহণ করতে পারো।
আর যে সম্পদকে তোমাদের জীবন - যাত্রার অবলম্বন করেছেন, তা অর্বাচীনদের হাতে তুলে দিও না। বরং তা থেকে তাদেরকে খাওয়াও, পরাও এবং তাদেরকে সান্তনার বানী শোনাও।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা নির্বোধদের হাতে তোমাদের মাল - সম্পদ তুলে দিওনা, যা তোমাদের জীবন ধারণের মাধ্যম বানিয়েছেন। তবে তা থেকে তাদের খাওয়া পরার ব্যবস্থা করবে এবং তাদের সাথে উত্তম - উপদেশমূলক কথা বলবে।
আর এতীমদের প্রতি বিশেষভাবে নজর রাখবে, যে পর্যন্ত না তারা বিয়ের বয়সে পৌঁছে। যদি তাদের মধ্যে বুদ্ধি - বিবেচনার উন্মেষ আঁচ করতে পার, তবে তাদের সম্পদ তাদের হাতে অর্পন করতে পার। এতীমের মাল প্রয়োজনাতিরিক্ত খরচ করো না বা তারা বড় হয়ে যাবে মনে করে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলো না। যারা স্বচ্ছল তারা অবশ্যই এতীমের মাল খরচ করা থেকে বিরত থাকবে। আর যে অভাবগ্রস্ত সে সঙ্গত পরিমাণ খেতে পারে। যখন তাদের হাতে তাদের সম্পদ প্রত্যার্পণ কর, তখন সাক্ষী রাখবে। অবশ্য আল্লাহই হিসাব নেয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর তোমরা এতিমদের যাচাই - পরীক্ষা করতে থাকো, যতোদিন তারা বিবাহযোগ্য - বালেগ না হয়। অত:পর যদি তোমরা তাদের মধ্যে ভালোমন্দ যাচাই করার মতো যোগ্যতার সন্ধান পাও, তখন তাদের মাল - সম্পদ তাদের হাতে সোপর্দ করে দাও। তারা বড় হয়ে তাদের সম্পদ ফিরিয়ে নিয়ে যাবে এই ভয়ে অপচয় করে তাদের সম্পদ তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলোনা। যে (এতিমের যে তত্ত্বাবধানকারী) সম্পদশালী, সে যেনো (এতিমদের সম্পদ থেকে তত্ত্বাবধানের খরচ নেয়া থেকে) বিরত থাকে। তবে অভাবী হলে প্রচলিত সঙ্গত পরিমাণ গ্রহণ করবে। যখন তাদের সম্পদ তাদের হাতে সোপর্দ করবে, তখন তাতে সাক্ষী রাখবে। আর হিসাব নেয়ার জন্যে আল্লাহই কাফী (যথেষ্ট)।
পিতা - মাতা ও আত্নীয় - স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদেরও অংশ আছে এবং পিতা - মাতা ও আত্নীয় - স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ আছে; অল্প হোক কিংবা বেশী। এ অংশ নির্ধারিত।
আবদুস শহীদ নাসিম
বাবা - মা ও আত্মীয় - স্বজনের রেখে যাওয়া অর্থ - সম্পদে পুরুষ (ওয়ারিশদের) অংশ রয়েছে, আর আর বাবা - মা ও আত্মীয় - স্বজনের রেখে যাওয়া অর্থ সম্পদে নারী (ওয়ারিশদের)ও অংশ রয়েছে, তা কমই হোক কিংবা বেশি। (উভয়ের) প্রাপ্য নির্ধারিত ও বিধিবদ্ধ।
সম্পতি বন্টনের সময় যখন আত্নীয় - স্বজন, এতীম ও মিসকীন উপস্থিত হয়, তখন তা থেকে তাদের কিছু খাইয়ে দাও এবং তাদের সাথে কিছু সদালাপ করো।
আবদুস শহীদ নাসিম
(ওয়ারিশি অর্থ - সম্পদ) বণ্টনকালে (ওয়ারিশ নয় এমন) আত্মীয় এবং এতিম ও অভাবী লোক উপস্থিত থাকলে তাদেরকে তা থেকে কিছু দেবে এবং তাদের সাথে উত্তমভাবে কথা বলবে।
তাদের ভয় করা উচিত, যারা নিজেদের পশ্চাতে দুর্বল অক্ষম সন্তান - সন্ততি ছেড়ে গেলে তাদের জন্যে তারাও আশঙ্কা করে; সুতরাং তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং সংগত কথা বলে।
আবদুস শহীদ নাসিম
একথা ভেবে সবারই ভয় করা উচিত যে, তারাও যদি অসহায় সন্তান রেখে (মারা) যেতো, তবে (মৃত্যুর সময়) তারা কতো যে উদ্বিগ্ন হতো! সুতরাং তারা যেনো আল্লাহকে ভয় করে এবং সরল - সঠিক কথা বলে।
তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেনঃ একজন পুরুষের অংশ দু?জন নারীর অংশের সমান। অতঃপর যদি শুধু নারীই হয় দু' এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক। মৃতের পিতা - মাতার মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ, যদি মৃতের পুত্র থাকে। যদি পুত্র না থাকে এবং পিতা - মাতাই ওয়ারিস হয়, তবে মাতা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। অতঃপর যদি মৃতের কয়েকজন ভাই থাকে, তবে তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ ওছিয়্যতের পর, যা করে মরেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এটা কতৃক নির্ধারিত অংশ নিশ্চয় সর্বজ্ঞ, রহস্যবিদ।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের অসিয়ত (নির্দেশ) করছেন তোমাদের সন্তানদের (উত্তরাধিকার) সম্পর্কে: এক ছেলে সন্তান পাবে দুই মেয়ে সন্তানের সমান।কিন্তু তারা(ওয়ারিশরা) যদি শুধু মেয়ে সন্তান হয় এবং তারা যদি দুয়ের অধিক হয়, তবে তারা পরিত্যক্ত অর্থ - সম্পদের তিনভাগের দুইভাগ পাবে। কিন্তু কেউ যদি একমাত্র কন্যা রেখে যায়, তবে সে (পরিত্যক্ত সম্পদের) অর্ধেক পাবে। কেউ যদি সন্তান (এবং পিতা - মাতা) রেখে মারা যায়, তাহলে তার বাবা - মা প্রত্যেকেই ছয় ভাগের একভাগ করে পাবে। কিন্তু সে যদি নিঃসন্তান হয় এবং ওয়ারিশ হিসেবে বাবা - মা দু’জনকেই রেখে যায়, তবে তার মা পাবে তিনভাগের একভাগ। তবে সে যদি ভাইবোনও রেখে যায়, তবে তার মা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ। এভাবে ওয়ারিশি বণ্টন করতে হবে মৃত ব্যক্তি যদি কোনো অসিয়ত করে যায় কিংবা কোনো দেনা রেখে যায়, সেগুলো পরিশোধ করার পর।তোমরা তো জানো না, তোমাদের বাবা - মা এবং সন্তানের মধ্যে তোমাদের জন্য লাভের দিক থেকে কে বেশি নিকটবর্তী? (উত্তরাধিকার বণ্টন এবং বণ্টনের এই হার) কর্তৃক নির্ধারিত আইন। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞানী এবং পরিপূর্ণ প্রজ্ঞার অধিকারী।
আর, তোমাদের হবে অর্ধেক সম্পত্তি, যা ছেড়ে যায় তোমাদের স্ত্রীরা যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের হবে এক - চতুর্থাংশ ঐ সম্পত্তির, যা তারা ছেড়ে যায়; ওছিয়্যতের পর, যা তারা করে এবং ঋণ পরিশোধের পর। স্ত্রীদের জন্যে এক - চতুর্থাংশ হবে ঐ সম্পত্তির, যা তোমরা ছেড়ে যাও যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্যে হবে ঐ সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ, যা তোমরা ছেড়ে যাও ওছিয়্যতের পর, যা তোমরা কর এবং ঋণ পরিশোধের পর। যে পুরুষের, ত্যাজ্য সম্পত্তি, তার যদি পিতা - পুত্র কিংবা স্ত্রী না থাকে এবং এই মৃতের এক ভাই কিংবা এক বোন থাকে, তবে উভয়ের প্রত্যেকে ছয় - ভাগের এক পাবে। আর যদি ততোধিক থাকে, তবে তারা এক তৃতীয়াংশ অংশীদার হবে ওছিয়্যতের পর, যা করা হয় অথবা ঋণের পর এমতাবস্থায় যে, অপরের ক্ষতি না করে। এ বিধান আল্লাহর। সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের স্ত্রীরা যদি সন্তান না রেখে মারা যায়, তবে তাদের পরিত্যক্ত অর্থ - সম্পদের অর্ধেক তোমরা (স্বামীরা) পাবে। কিন্তু তারা যদি সন্তান রেখে যায়, তবে তাদের পরিত্যাক্ত অর্থ - সম্পদের চার ভাগের এক ভাগ তোমরা (স্বামীরা) পাবে, অসিয়ত এবং দেনা পরিশোধ করার পর। তোমাদের (স্বামীদের) পরিত্যক্ত অর্থ - সম্পদের চার ভাগের এক ভাগ তারা (স্ত্রীরা) পাবে, যদি তোমাদের কোনো সন্তান না থাকে। কিন্তু তোমাদের সন্তান থাকলে তোমাদের পরিত্যক্ত অর্থ - সম্পদের আট ভাগের এক ভাগ তারা পাবে, তোমাদের অসিয়ত এবং দেনা পরিশোধের পর। যদি এমন কোনো পুরুষ বা নারী মারা যায়, যার (ওয়ারিশি পাওয়ার জন্যে) সন্তান নেই, বাবা - মাও বেঁচে নেই, তবে একজন ভাই এবং একজন বোন আছে, সে ক্ষেত্রে উভয়ের প্রত্যেকেই ছয় ভাগের একভাগ পাবে। কিন্তু (তার ওয়ারিশ) এর চাইতে বেশি হলে তারা প্রত্যেকেই এক তৃতীয়াংশ (তিন ভাগের এক ভাগে) সমান অংশীদার হবে। এসব বণ্টনই অসিয়ত এবং ঋণ পরিশোধের পর করতে হবে, যদি তা ক্ষতিকর না হয়। (ওয়ারিশি বণ্টন বিষয়ে) এগুলো হলো আল্লাহর অসিয়ত (নির্দেশ, আইন, বিধান)। আর মহাজ্ঞানী, মহাধৈর্যশীল।
এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে কেউ ও রসূলের আদেশমত চলে, তিনি তাকে জান্নাত সমূহে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হল বিরাট সাফল্য।
আবদুস শহীদ নাসিম
এগুলো (ওয়ারিশি বিষয়ে) আল্লাহর নির্ধারিত সীমানা। যে কেউ এবং তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে দাখিল করবেন জান্নাতসমূহের মধ্যে, যেগুলোর নিচে দিয়ে প্রবাহিত রয়েছে নদ - নদী নহর। সেগুলোর মধ্যে তারা থাকবে চিরকাল। আর এটাই মহাসাফল্য।
যে কেউ ও রসূলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।
আবদুস শহীদ নাসিম
কিন্তু যে কেউ অমান্য করবে এবং তাঁর রসূলের নির্দেশ এবং লংঘন করবে তাঁর (আল্লাহর নির্ধারিত) সীমানা, তিনি তাকে দাখিল করবেন আগুনে (জাহান্নামে)। সেখানেই সে থাকবে চিরকাল। তা ছাড়া তার জন্যে রয়েছে অপমানকর আযাব।
আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচারিণী তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চার জন পুরুষকে সাক্ষী হিসেবে তলব কর। অতঃপর যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে তবে সংশ্লিষ্টদেরকে গৃহে আবদ্ধ রাখ, যে পর্যন্ত মৃত্যু তাদেরকে তুলে না নেয় অথবা তাদের জন্য অন্য কোন পথ নির্দেশ না করেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের যেসব নারী ফাহেশা কাজে (ব্যভিচারে) লিপ্ত হয় (বলে অভিযোগ উঠে), তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করাও। তারা (চারজনই) যদি তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়, তবে তাকে গৃহবন্দী করে রাখো যতোদিন না তার মৃত্যু হয়, অথবা এ ধরনের নারীদের বিষয়ে কোনো বিধান নাযিল করেন।
তোমাদের মধ্য থেকে যে দু’জন সেই কুকর্মে লিপ্ত হয়, তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর। অতঃপর যদি উভয়ে তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও। নিশ্চয় তওবা কবুলকারী, দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের মধ্যে যে দুইজন ঐ কর্মে (ব্যভিচারে) লিপ্ত হবে, (প্রমাণিত হলে) তাদের দন্ড দাও। আর তারা যদি তওবা করে এবং নিজেদের ইসলাহ করে নেয়, তবে তাদের (শাস্তি) উপেক্ষা করো। নিশ্চয়ই তওবা কবুলকারী পরম দয়াবান।
অবশ্যই তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে ক্ষমা করে দেন। মহাজ্ঞানী, রহস্যবিদ।
আবদুস শহীদ নাসিম
জেনে রাখো, সেই সব লোকদের তওবাই কবুল করেন, যারা অজ্ঞতা বা ভুলবশত মন্দ কর্ম করে ফেলে এবং পরক্ষণেই ভীষণ অনুতপ্ত হয় ও তওবা করে। এরাই সেইসব লোক যাদের তওবা কবুল করেন। আর তো সর্বজ্ঞানী প্রজ্ঞাময়।
আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।
আবদুস শহীদ নাসিম
ঐসব লোকদের অনুতপ্ত হওয়া বা তওবা করা নিষ্ফল, যারা মন্দ কর্ম চালিয়ে যেতেই থাকে। অত:পর যখন তাদের কারো মউত এসে হাজির হয়, তখন সে বলে: ‘আমি এখন তওবা করছি’। আর ঐসব লোকদের তওবাও নিষ্ফল, যাদের মউত হয় কুফুরিতে নিমজ্জিত থাকা অবস্থায়। এসব লোকদের জন্যেই আমরা প্রস্তুত রেখেছি বেদনাদায়ক আযাব (Painful torment)।
হে ঈমাণদারগণ! বলপূর্বক নারীদেরকে উত্তরাধিকারে গ্রহন করা তোমাদের জন্যে হালাল নয় এবং তাদেরকে আটক রেখো না যাতে তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ তার কিয়দংশ নিয়ে নাও; কিন্তু তারা যদি কোন প্রকাশ্য অশ্লীলতা করে! নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন - যাপন কর। অতঃপর যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে , অনেক কল্যাণ রেখেছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে ঐসব লোক যারা ঈমান এনেছো! তোমাদের জন্যে হালাল নয় নারীদের ওয়ারিশ হয়ে বসা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। আর তোমরা তাদের হয়রানি করো না তাদেরকে দেয়া সম্পদের (মোহরানার) কিছু অংশ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে। তবে তারা প্রমাণিত ফাহেশা কাজে (ব্যভিচারে) লিপ্ত হয়ে থাকলে ভিন্ন কথা। তাদের সাথে ভদ্রোচিত ও সম্মানজনকভাবে বাস করো। তোমরা যদি তাদের (স্ত্রীদের) অপছন্দ করো, তবে এমনো হতে পারে যে, তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করছো, অথচ তাতে দান করবেন প্রভূত কল্যাণ।
যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী পরিবর্তন করতে ইচ্ছা কর এবং তাদের একজনকে প্রচুর ধন - সম্পদ প্রদান করে থাক, তবে তা থেকে কিছুই ফেরত গ্রহণ করো না। তোমরা কি তা অন্যায়ভাবে ও প্রকাশ্য গোনাহর মাধ্যমে গ্রহণ করবে?
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা যদি একজন স্ত্রী বাদ দিয়ে তার জায়গায় আরেকজন স্ত্রী গ্রহণ করার এরাদা করো, এবং (যাকে বাদ দেবে) তাকে যদি প্রচুর অর্থ - সম্পদও দিয়ে থাকো, তবে তা থেকে কিছুই ফেরত নিওনা। তোমরা কি অপবাদ দিয়ে এবং সুস্পষ্ট পাপ কাজ করে তা ফেরত নেবে?
যে নারীকে তোমাদের পিতা - পিতামহ বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না। কিন্তু যা বিগত হয়ে গেছে। এটা অশ্লীল, গযবের কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা তাদের নিকাহ (বিয়ে) করোনা, যাদের নিকাহ করেছে তোমাদের পিতা ও পিতামহ। তবে অতীতে যা হবার হয়েছে। কারণ এ কাজ একটি ফাহেশা ও ঘৃণ্য কাজ এবং চরম নিকৃষ্ট পন্থা।
তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্রাতৃকণ্যা; ভগিনীকণ্যা তোমাদের সে মাতা, যারা তোমাদেরকে স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ - বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন - পালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় ক্ষমাকরী, দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের জন্যে (বিয়ে করা) হারাম করা হলো: তোমাদের মা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, দুধ - মা, দুধ বোন, শাশুড়ী। আর তোমাদের স্ত্রীদের যাদের সাথে তোমরা সহবাস করেছো তাদের পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত কন্যা, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে আছে। তবে যে স্ত্রীর সাথে সহবাস করোনি (অর্থাৎ সহবাস করার পূর্বেই যাদের তালাক দিয়েছো) তাদের পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত কন্যাকে বিয়ে করতে বাধা নেই। এছাড়া তোমাদের জন্যে হারাম তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের (তালাক দেয়া) স্ত্রী। হারাম দুই বোনকে একত্রে বিবাহাধীন করা, তবে পূর্বে (জাহেলি যুগে) যা হবার হয়েছে। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়াবান।
এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায় - এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য - ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাছাড়া বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ সব নারীই তোমাদের জন্যে হারাম। তবে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের বিয়ে করতে পারো। এগুলো তোমাদের জন্যে আল্লাহর দেয়া অবশ্য মান্য বিধান। উল্লেখিত নারীদের বাইরে যতো নারী আছে নিজেদের অর্থ - সম্পদের (মোহরানার) বিনিময়ে তাদের (যাকে চাও) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা তোমাদের জন্যে হালাল করা হলো। তবে বিবাহ বহির্ভূত যৌন লালসা তৃপ্ত করার জন্যে কিছুতেই নয়। (বিয়ে করে) তাদের থেকে তোমরা যে যৌন স্বাদ আস্বাদন করো, তার বিনিময়ে তাদের মোহরানা ফরয হিসেবে পরিশোধ করে দাও। মোহরানা নির্ধারণের পর তোমরা যদি কোনো বিষয়ে (নির্ধারিত পরিমাণের চাইতে বেশি প্রদান করতে) রাজি হয়ে যাও, তাতে তোমাদের কোনো দোষ হবেনা। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
Waalmuhsanatu mina alnnisai illa ma malakat aymanukum kitaba Allahi AAalaykum waohilla lakum ma waraa thalikum an tabtaghoo biamwalikum muhsineena ghayra musafiheena fama istamtaAAtum bihi minhunna faatoohunna ojoorahunna fareedatan wala junaha AAalaykum feema taradaytum bihi min baAAdi alfareedati inna Allaha kana AAaleeman hakeeman
আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন মুসলমান নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত মুসলিম ক্রীতদাসীদেরকে বিয়ে করবে। তোমাদের ঈমান সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত রয়েছেন। তোমরা পরস্পর এক, অতএব, তাদেরকে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর এমতাবস্থায় যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে - ব্যভিচারিণী কিংবা উপ - পতি গ্রহণকারিণী হবে না। অতঃপর যখন তারা বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন যদি কোন অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদেরকে স্বাধীন নারীদের অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ব্যবস্থা তাদের জন্যে, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ভয় করে। আর যদি সবর কর, তবে তা তোমাদের জন্যে উত্তম। ক্ষমাশীল, করুণাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের মধ্যে যে সম্ভ্রান্ত পরিবারের নারীদের বিয়ে করার সামর্থ রাখেনা, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের কাউকেও বিয়ে করবে। তোমাদের ঈমান সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত। তোমরা একজন আরেকজন থেকে (অর্থাৎ তোমরা একই আদর্শ ও একই উম্মতভুক্ত)। সুতরাং তাদের বিয়ে করো তাদের অভিভাবকদের এযেন (অনুমতি) সাপেক্ষে এবং পরিশোধ করে দাও তাদের মোহরানা প্রচলিত ন্যায্য নিয়মে। তারা হবে সতী - সুরক্ষিত, অবৈধ যৌন নিবেদিতা নয় এবং ছেলে - বন্ধু গ্রহণকারিণীও নয়। তারা যখন বিবাহের দুর্গে আবদ্ধ হবে, তখন যদি ফাহেশা কাজে (ব্যভিচারে) লিপ্ত হয়, তখন তাদের দন্ড হবে স্বাধীন সম্ভ্রান্ত নারীদের দন্ডের অর্ধেক। (বিয়ের) এই বিধানটি দেয়া হলো তোমাদের মধ্যকার সেসব লোকদের জন্যে যারা (বিয়ে না করলে) দীনের বিধান লংঘন এবং স্বাস্থ্যহানির আশংকা করে। তবে সবর অবলম্বন করা তোমাদের জন্যে উত্তম। পরম ক্ষমাশীল পরম দয়াবান।
তোমাদের জন্যে সব কিছু পরিষ্কার বর্ণনা করে দিতে চান, তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ প্রদর্শন করতে চান। এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করতে চান, মহাজ্ঞানী রহস্যবিদ।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের জন্যে বয়ান করে দেয়ার এরাদা করেছেন (হালাল এবং হারামের বিধান) এবং তোমাদের পরিচালিত করতে চাইছেন তোমাদের পূর্ববর্তী ভালো লোকদের নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে। আর তিনি কবুল করে নিতে চাইছেন তোমাদের তওবা - অনুশোচনা। তো আলিমুল হাকিম (সর্বজান্তা সর্বজ্ঞানী)।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে ঐসব লোক যারা ঈমান এনেছো! তোমরা তোমাদের পরস্পরের মাল - সম্পদ গ্রাস করোনা বাতিল পন্থায়। তবে পরস্পরের রাজি খুশির ভিত্তিতে তেজারত (ব্যবসা) করার মধ্যে দোষ নেই। তোমরা নিজেদের হত্যা করোনা। নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি দয়াবান।
Ya ayyuha allatheena amanoo la takuloo amwalakum baynakum bialbatili illa an takoona tijaratan AAan taradin minkum wala taqtuloo anfusakum inna Allaha kana bikum raheeman
যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা সেসব বড় গোনাহ গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পার। তবে আমি তোমাদের ক্রটি - বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করে দেব এবং সম্মান জনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করার।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা যদি কবিরা গুনাহসমূহ পরিহার করে চলো, যেগুলো করতে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তাহলে আমরা তোমাদের ছোট খাটো সব গুনাহখাতা মুছে (expiate) দেবো এবং তোমাদের দাখিল করবো অতীব সম্মান ও মর্যাদার জায়গায় (জান্নাতে)।
আর তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো না এমন সব বিষয়ে যাতে তা’আলা তোমাদের একের উপর অপরের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ। আর আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। নিঃসন্দেহে তা’আলা সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাঁর যেসব (অনুগ্রহ) দান করে তোমাদের একজনকে আরেকজনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন, তোমরা সেগুলোর লালসা করোনা। পুরুষ যা উপার্জন করে, তার অংশ হবে সে অনুযায়ী, আর নারী যা উপার্জন করে তার অংশ সে অনুযায়ী। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো তাঁর অনুগ্রহ থেকে। নিশ্চয়ই প্রতিটি বিষয়ে অবহিত।
পিতা - মাতা এবং নিকটাত্নীয়গণ যা ত্যাগ করে যান সেসবের জন্যই আমি উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ তাদের প্রাপ্য দিয়ে দাও। তা’আলা নিঃসন্দেহে সব কিছুই প্রত্যক্ষ করেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
পিতা - মাতা ও আত্মীয় স্বজনের রেখে যাওয়া প্রতিটি অর্থ - সম্পদের জন্যে আমরা উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ তাদেরকে তাদের অংশ দিয়ে দেবে। নিশ্চয়ই প্রতিটি বিষয়ের সাক্ষী।
পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল এ জন্য যে, একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় সবার উপর শ্রেষ্ঠ।
আবদুস শহীদ নাসিম
পুরুষরা নারীদের অভিভাবক ও ব্যবস্থাপক। কারণ, তাদের একের উপর অপরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। তাছাড়া পুরুষরা তাদের (নারীদের) জন্যে নিজেদের মাল - সম্পদ ব্যয় করবে। সতী সাধ্বী স্ত্রীরা হয়ে থাকে অনুগত এবং তারা স্বামীর অনুপস্থিতিতে হেফাযত করে তাদের যা হেফাযত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তোমরা যেসব স্ত্রীর ব্যাপারে অবাধ্যতার আশংকা করো তাদেরকে (প্রথমে) বুঝাও উপদেশ দাও, (দ্বিতীয় পর্যায়ে) তাদের সাথে শয্যা গ্রহণ করতে অস্বীকার করো, (তাতেও সুপথে না এলে অবশেষে) প্রহার করো (হালকাভাবে, যদি তা উপকারী হয়)। যে কোনো পর্যায়ে যখন তারা তোমাদের অনুগত হয়ে যাবে, তখন আর তাদের উপর নির্যাতন চালাবার বাহানা তালাশ করোনা। নিশ্চয়ই মহান এবং শ্রেষ্ঠ।
যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মত পরিস্থিতিরই আশঙ্কা কর, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে সর্বজ্ঞ, সবকিছু অবহিত।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা যদি তাদের (অর্থাৎ স্বামী - স্ত্রী) দুইজনের মাঝে সম্পর্ক ফাটল - এর আশংকা করো, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন সালিশ এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিশ (মোট দুইজন সালিশ) নিযুক্ত করো। তারা উভয়ে শান্তি চাইলে তাদের মাঝে মীমাংসার তৌফিক দান করবেন। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞানী, সর্ববিষয়ে অবহিত।
Wain khiftum shiqaqa baynihima faibAAathoo hakaman min ahlihi wahakaman min ahliha in yureeda islahan yuwaffiqi Allahu baynahuma inna Allaha kana AAaleeman khabeeran
আর উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না তাঁর সাথে অপর কাউকে। পিতা - মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্নীয়, এতীম - মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস - দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই পছন্দ করেন না দাম্ভিক - গর্বিতজনকে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা সবাই এক আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করোনা। পিতা - মাতার প্রতি ইহ্সান করো এবং আত্মীয় - স্বজন, এতিম, মিসকিন, আত্মীয় প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ব সাথি, ভ্রমণ পথের সাক্ষাত লাভকারী পথিক এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস - দাসীদের প্রতিও ইহ্সান করো। নিশ্চয়ই অহংকারী দাম্ভিকদের পছন্দ করেননা।
যারা নিজেরাও কার্পন্য করে এবং অন্যকেও কৃপণতা শিক্ষা দেয় আর গোপন করে সে সব বিষয় যা তা’আলা তাদেরকে দান করেছেন স্বীয় অনুগ্রহে - বস্তুতঃ তৈরী করে রেখেছি কাফেরদের জন্য অপমান জনক আযাব।
আবদুস শহীদ নাসিম
(এবং তিনি এমন লোকদেরও পছন্দ করেননা,) যারা নিজেরা বখিলি করে, মানুষকেও বখিলি করার আদেশ করে এবং নিজ অনুগ্রহ ভান্ডার থেকে তাদের যা দিয়েছেন সেগুলো গোপন করে। আমরা অকৃতজ্ঞদের জন্যে প্রস্তুত করে রেখেছি অবমাননাকর আযাব।
আর সে সমস্ত লোক যারা ব্যয় করে স্বীয় ধন - সম্পদ লোক - দেখানোর উদ্দেশে এবং যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনে না, ঈমান আনে না কেয়ামত দিবসের প্রতি এবং শয়তান যার সাথী হয় সে হল নিকৃষ্টতর সাথী।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর যারা নিজেদের মাল - সম্পদ ব্যয় করে লোক দেখাবার উদ্দেশ্যে এবং (প্রকৃতপক্ষে) ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখেনা ( তাদেরও পছন্দ করেন না)। মূলত শয়তান যার সাথি, তার সাথি বড়ই নিকৃষ্ট!
সেদিন কামনা করবে সে সমস্ত লোক, যারা হয়েছিল এবং রসূলের নাফরমানী করেছিল, যেন যমীনের সাথে মিশে যায়। কিন্তু গোপন করতে পারবে না আল্লাহর নিকট কোন বিষয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা কুফুরির পথ অবলম্বন করেছে এবং এই রসূলের অবাধ্য হয়েছে, সেদিন তারা কামনা করবে, হায়, মাটি যদি তাদেরকে তার গর্ভে ঢুকিয়ে নিতো! সেদিন তারা আল্লাহর নিকট থেকে কোনো কথাই গোপন করতে পারবে না।
হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে - কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ, আর (নামাযের কাছে যেও না) ফরয গোসলের আবস্থায়ও যতক্ষণ না গোসল করে নাও। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাক কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি প্রস্রাব - পায়খানা থেকে এসে থাকে কিংবা নারী গমন করে থাকে, কিন্তু পরে যদি পানিপ্রাপ্তি সম্ভব না হয়, তবে পাক - পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও - তাতে মুখমন্ডল ও হাতকে ঘষে নাও। নিশ্চয়ই তা’আলা ক্ষমাশীল।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! তোমরা সালাতের নিকটবর্তীও হয়োনা নেশাগ্রস্ত অবস্থায়১২ যতোক্ষণ না তোমরা যা বলো তা বুঝতে পারো। অনুরূপ জুনুবি (গোসল ফরয) অবস্থায়ও গোসল না করা পর্যন্ত সালাতের কাছে যেয়ো না; তবে ভ্রমণরত (মুসাফির অবস্থায়) থাকলে ভিন্ন কথা। আর তোমরা যদি পীড়িত - অসুস্থ হও, অথবা সফরে থাকো, কিংবা তোমাদের কেউ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে এসে থাকে, অথবা যদি তোমরা নারী সহবাস করে থাকো এবং এসব অবস্থায় পানি না পাও, তবে পাক মাটি দিয়ে তাইয়াম্মুম করে নিও, (এভাবে যারা) মাসেহ্ করবে নিজেদের মুখমন্ডল এবং হাত, নিশ্চয়ই (তাদের ব্যাপারে) অতীব পাপমোচনকারী এবং পরম ক্ষমাশীল।
Ya ayyuha allatheena amanoo la taqraboo alssalata waantum sukarahatta taAAlamoo ma taqooloona wala junuban illa AAabiree sabeelin hatta taghtasiloo wain kuntum marda aw AAala safarin aw jaa ahadun minkum mina alghaiti aw lamastumu alnnisaa falam tajidoo maan fatayammamoo saAAeedan tayyiban faimsahoo biwujoohikum waaydeekum inna Allaha kana AAafuwwan ghafooran
কোন কোন ইহুদী তার লক্ষ্য থেকে কথার মোড় ঘুড়িয়ে নেয় এবং বলে, আমরা শুনেছি কিন্তু অমান্য করছি। তারা আরো বলে, শোন, না শোনার মত। মুখ বাঁকিয়ে দ্বীনের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শনের উদ্দেশে বলে, রায়েনা’ (আমাদের রাখাল)। অথচ যদি তারা বলত যে, আমরা শুনেছি ও মান্য করেছি এবং (যদি বলত, ) শোন এবং আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখ, তবে তাই ছিল তাদের জন্য উত্তম আর সেটাই ছিল যথার্থ ও সঠিক। কিন্তু তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন তাদের কুফরীর দরুন। অতএব, তারা ঈমান আনছে না, কিন্তু অতি অল্পসংখ্যক।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা ইহুদি হয়েছে তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা কথাকে স্থানচ্যুত করে বিকৃত করে। তারা বলে: ‘আমরা তোমার কথা শুনলাম এবং অমান্য করলাম’; আর শুনে, না শুনার মতো; নিজেদের জিহবা কুঞ্চিত করে দীনের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রকাশ করে তারা আরো বলে: ‘রায়েনা’।১৩ অথচ তারা যদি বলতো: ‘আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম’, ‘শুনুন’ এবং ‘আমাদের প্রতি লক্ষ্য করুন’, তবে সেটাই তাদের জন্যে উত্তম ও সঙ্গত হতো। কিন্তু তাদের অবিশ্বাসের জন্যে তাদেরকে অভিশপ্ত করেছেন। সুতরাং স্বল্প সংখ্যক ছাড়া তারা ঈমান আনবেনা।
হে আসমানী গ্রন্থের অধিকারীবৃন্দ! যা কিছু আমি অবতীর্ণ করেছি তার উপর বিশ্বাস স্থাপন কর, যা সে গ্রন্থের সত্যায়ন করে এবং যা তোমাদের নিকট রয়েছে পূর্ব থেকে। (বিশ্বাস স্থাপন কর) এমন হওয়ার আগেই যে, আমি মুছে দেব অনেক চেহারাকে এবং অতঃপর সেগুলোকে ঘুরিয়ে দেব পশ্চাৎ দিকে কিংবা অভিসম্পাত করব তাদের প্রতি যেমন করে অভিসম্পাত করেছি আছহাবে - সাবতের উপর। আর আল্লাহর নির্দেশ অবশ্যই কার্যকর হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে ঐসব লোক, যাদেরকে ইতোপূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছে! তোমাদের কাছে যা আছে (অর্থাৎ তাওরাত ও ইনজিল) তার সত্যায়নকারী যে কিতাব আমরা (মুহাম্মদের প্রতি) নাযিল করেছি, তোমরা তার প্রতি ঈমান আনো আমরা চেহারাগুলোকে বিকৃত করে পেছনের দিকে ফিরিয়ে দেয়ার পূর্বেই, অথবা শনিবার ওয়ালাদের যেমন অভিশপ্ত করেছি, সেরকম অভিশপ্ত করার পূর্বেই। আল্লাহর নির্দেশ কার্যকর হয়েই থাকে।
Ya ayyuha allatheena ootoo alkitaba aminoo bima nazzalna musaddiqan lima maAAakum min qabli an natmisa wujoohan fanaruddaha AAala adbariha aw nalAAanahum kama laAAanna ashaba alssabti wakana amru Allahi mafAAoolan
নিঃসন্দেহে তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহর সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল।
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহর সাথে শিরক করা হলে (সে পাপ) ক্ষমা করবেননা। এছাড়া অন্য পাপসমূহ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করে দেবেন। যে আল্লাহর সাথে শিরক করে, সে তো উদ্ভাবন করে নেয় এক মহাপাপ।
তুমি কি তাদেকে দেখনি, যারা নিজেদেরকে পূত - পবিত্র বলে থাকে অথচ পবিত্র করেন যাকে ইচ্ছা তাকেই? বস্তুতঃ তাদের উপর সুতা পরিমাণ অন্যায়ও হবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি কি তাদের (ইহুদি ও খৃস্টানদের) দেখোনি, যাঁরা নিজেরাই নিজেদেরকে পুত - পবিত্রতার সার্টিফিকেট দেয়? বরং যাকে চান, শুদ্ধ ও পবিত্র করে দেন। তিনি কারো প্রতি বিন্দু পরিমাণ যুলুম করেন না।
তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছে, যারা মান্য করে প্রতিমা ও শয়তানকে এবং কাফেরদেরকে বলে যে, এরা মুসলমানদের তুলনায় অধিকতর সরল সঠিক পথে রয়েছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি কি তাদের দেখোনি যাদের কিতাবের অংশ বিশেষ দেয়া হয়েছে? তারা জিবত্১৪ ও তাগুতের প্রতি বিশ্বাস রাখে। তারা কাফিরদের সম্পর্কে বলে: ‘যারা ঈমানের পথে চলে তাদের চাইতে এদের পথই অধিকতর সঠিক।’
Alam tara ila allatheena ootoo naseeban mina alkitabi yuminoona bialjibti waalttaghooti wayaqooloona lillatheena kafaroo haolai ahda mina allatheena amanoo sabeelan
নাকি যাকিছু তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে দান করেছেন সে বিষয়ের জন্য মানুষকে হিংসা করে। অবশ্যই আমি ইব্রাহীমের বংশধরদেরকে কিতাব ও হেকমত দান করেছিলাম আর তাদেরকে দান করেছিলাম বিশাল রাজ্য।
আবদুস শহীদ নাসিম
নাকি তাঁর অনুগ্রহ - ভান্ডার থেকে মানুষকে (মুহাম্মদ সা. ও তার অনুসারীদেরকে) যা দিয়েছেন, সে কারণে তারা তাদের প্রতি হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরছে? যদি তাই হয়, তবে তো আমরা ইবরাহিমের বংশধরদের (বনি ইসরাঈলকেও) কিতাব এবং হিকমাহ্ দিয়েছিলাম। আরো দিয়েছিলাম এক বিশাল সাম্রাজ্য।
এতে সন্দেহ নেই যে, আমার নিদর্শন সমুহের প্রতি যেসব লোক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে, আমি তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করব। তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে - পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পালটে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আযাব আস্বাদন করতে থাকে। নিশ্চয়ই মহাপরাক্রমশালী, হেকমতের অধিকারী।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা আমার আয়াত মেনে নিতে অস্বীকার করে, অচিরেই আমরা তাদের দগ্ধ করবো আগুনে। যখনই তাদের চামড়া দগ্ধ হয়ে যাবে, তখনই নতুন চামড়া দিয়ে তা বদল করে দেবো, যাতে করে তারা (লাগাতার) আযাবের স্বাদ গ্রহণ করতে পারে। নিশ্চয়ই মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান।
আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, অবশ্য আমি প্রবিষ্ট করাব তাদেরকে জান্নাতে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহর সমূহ। সেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। সেখানে তাদের জন্য থাকবে পরিষ্কার - পরিচ্ছন্ন স্ত্রীগণ। তাদেরকে আমি প্রবিষ্ট করব ঘন ছায়া নীড়ে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ (উত্তম, ন্যায় ও পুণ্যের কাজ) করে, অচিরেই আমরা তাদের দাখিল করবো জান্নাতে, যার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। তাছাড়া সেখানে তারা পাবে পবিত্র স্বামী এবং স্ত্রী। আর আমরা তাদের দাখিল করবো সুবিস্তৃত চিরস্নিগ্ধ ছায়ায়।
নিশ্চয়ই তোমাদিগকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকদের নিকট পৌছে দাও। আর যখন তোমরা মানুষের কোন বিচার - মীমাংসা করতে আরম্ভ কর, তখন মীমাংসা কর ন্যায় ভিত্তিক। তোমাদিগকে সদুপদেশ দান করেন। নিশ্চয়ই শ্রবণকারী, দর্শনকারী।
আবদুস শহীদ নাসিম
নিশ্চয়ই তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আমানত তার হকদারকে দিয়ে দিতে। তিনি আরো নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা যখন মানুষের মাঝে বিচার ফায়সালা করবে, ন্যায় ও ইনসাফের সাথে সুবিচার করবে। তোমাদের অতি উত্তম উপদেশ দিচ্ছেন। নিশ্চয়ই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
Inna Allaha yamurukum an tuaddoo alamanati ila ahliha waithahakamtum bayna alnnasi an tahkumoo bialAAadli inna Allaha niAAimma yaAAithukum bihi inna Allaha kana sameeAAan baseeran
হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর - যদি তোমরা ও কেয়ামত দিবসের উপর হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা যারা ঈমান এনেছো! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো এই রসূলের, আর তোমাদের (মুসলিমদের) মধ্যকার সেইসব লোকদের যারা দায়িত্বশীল ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত। আর তোমরা যখনই কোনো বিষয়ে মতভেদ ও মতবিরোধ করবে, তা (ফায়সালার জন্যে) উপস্থাপন করো ও রসূলের (কুরআন ও সুন্নাহর) নিকট, যদি তোমরা ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই কল্যাণকর পন্থা এবং পরিণতির দিক থেকেও সর্বোত্তম।
আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে যে, যা আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে। তারা বিরোধীয় বিষয়কে শয়তানের দিকে নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা ওকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি কি তাদের দেখোনি, যারা (অর্থাৎ মুনাফিকরা) দাবি করে, তারা তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা নাযিল করা হয়েছে, সে সবগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে; কিন্তু তারা বিচার ফায়সালার জন্যে তাগুতের দ্বারস্থ হয়, অথচ তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাগুতকে প্রত্যাখ্যান করতে। মূলত শয়তান তাদের বিপথগামী করে নিয়ে যেতে চায় বহুদূর।
Alam tara ila allatheena yazAAumoona annahum amanoo bima onzila ilayka wama onzila min qablika yureedoona an yatahakamoo ila alttaghooti waqad omiroo an yakfuroo bihi wayureedu alshshaytanu an yudillahum dalalan baAAeedan
আর যখন আপনি তাদেরকে বলবেন, আল্লাহর নির্দেশের দিকে এসো - যা তিনি রসূলের প্রতি নাযিল করেছেন, তখন আপনি মুনাফেকদিগকে দেখবেন, ওরা আপনার কাছ থেকে সম্পূর্ণ ভাবে সরে যাচ্ছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যখন তাদের বলা হয়: ‘আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাব এবং রসূলের দিকে আসো,’ তখন তুমি দেখতে পাও, মুনাফিকরা তোমার থেকে মুখ ফিরিয়ে পেছনে হটে যায়।
এমতাবস্থায় যদি তাদের কৃতকর্মের দরুন বিপদ আরোপিত হয়, তবে তাতে কি হল! অতঃপর তারা আপনার কাছে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে খেয়ে ফিরে আসবে যে, মঙ্গল ও সম্প্রীতি ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের কৃতকর্মের জন্যে যখন তাদের উপর কোনো মসিবত আপতিত হবে, তখন কী অবস্থা দাঁড়াবে? তখন তারা তোমার কাছে এসে হলফ করে বলবে: আল্লাহর কসম, আমরা কল্যাণ এবং সম্প্রীতি ছাড়া আর অন্য কিছু চাইনি।’
এরা হলো সে সমস্ত লোক, যাদের মনের গোপন বিষয় সম্পর্কেও তা’আলা অবগত। অতএব, আপনি ওদেরকে উপেক্ষা করুন এবং ওদেরকে সদুপদেশ দিয়ে এমন কোন কথা বলুন যা তাদের জন্য কল্যাণকর।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা (মুনাফিক), তাদের মনের খবর ভালো করেই জানেন। সুতরাং তাদের উপেক্ষা করো, আর তাদের ওয়ায (উপদেশ দান) করো এবং তাদের উদ্দেশ্যে এমনভাবে কথা বলো, যেনো তাদের মর্ম স্পর্শ করে।
বস্তুতঃ আমি একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই রসূল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাঁদের আদেশ - নিষেধ মান্য করা হয়। আর সেসব লোক যখন নিজেদের অনিষ্ট সাধন করেছিল, তখন যদি আপনার কাছে আসত অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রসূলও যদি তাদেরকে ক্ষমা করিয়ে দিতেন। অবশ্যই তারা আল্লাহকে ক্ষমাকারী, মেহেরবানরূপে পেত।
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহর নির্দেশে তাঁর আনুগত্য করা হবে - এ উদ্দেশ্য ছাড়া আমরা একজন রসূলও পাঠাইনি। তারা (মুনাফিকরা) নিজেদের প্রতি কোনো যুলুম করার পর যদি এ পন্থা অবলম্বন করতো যে, তোমার কাছে ছুটে আসতো, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতো এবং রসূলও তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতো, তাহলে অবশ্যি তারা আল্লাহকে পরম ক্ষমাশীল ও পরম দায়াবান পেতো।
অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হূষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
কিন্তু না (তাদের অবস্থা তা নয়), তোমার প্রভুর শপথ, এরা কখনো হতে পারবেনা, যতোক্ষণনা তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদ বিসম্বাদে তোমাকে হাকিম (Judge) নিযুক্ত করে, অত:পর তোমার ফায়সালা সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং বিনীতভাবে তোমার ফায়সালা তসলিম (গ্রহণ) করে নেয়।
আর যদি আমি তাদের নির্দেশ দিতাম যে, নিজেদের প্রাণ ধ্বংস করে দাও কিংবা নিজেদের নগরী ছেড়ে বেরিয়ে যাও, তবে তারা তা করত না; অবশ্য তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজন। যদি তারা তাই করে যা তাদের উপদেশ দেয়া হয়, তবে তা অবশ্যই তাদের জন্য উত্তম এং তাদেরকে নিজের ধর্মের উপর সুদৃঢ় রাখার জন্য তা উত্তম হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
(এমন কি স্বয়ং) আমরাও যদি তাদের নির্দেশ দিতাম: ‘তোমার নিজেদের হত্যা করো অথবা নিজেদের গৃহ ত্যাগ করো’, তবে অল্প কিছু লোক ছাড়া তারা তা করতো না। তাদেরকে যে ওয়ায (উপদেশ দান) করা হয়েছে তারা যদি তা পালন করতো, তবে তা হতো তাদের জন্যে কল্যাণকর এবং তাদের ঈমানের দৃঢ়তা সাধনকারী।
Walaw anna katabna AAalayhim ani oqtuloo anfusakum awi okhrujoo min diyarikum ma faAAaloohu illa qaleelun minhum walaw annahum faAAaloo ma yooAAathoona bihi lakana khayran lahum waashadda tathbeetan
এবং অবশ্যি আমরা তাদের পরিচালিত করতাম সিরাতুল মুসতাকিমে।
Arabic, with marks
وَلَهَدَيْنَاهُمْ صِرَاطًا مُّسْتَقِيمًا
Transliteration
Walahadaynahum siratan mustaqeeman
Word by word
وَلَهَدَيْنَٰهُمْ صِرَٰطًا مُّسْتَقِيمًا
মুহিউদ্দীন খান
আর যে কেউ আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য করবে, তাহলে যাঁদের প্রতি নেয়ামত দান করেছেন, সে তাঁদের সঙ্গী হবে। তাঁরা হলেন নবী, ছিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ। আর তাদের সান্নিধ্যই হল উত্তম।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর যে কেউ আনুগত্য করবে আল্লাহর এবং এই রসূলের, তারা সঙ্গি হবে আল্লাহর অনুগ্রহপ্রাপ্ত নবী, সিদ্দিক, শহীদ এবং পুণ্যবানদের। সঙ্গি হিসেবে এরা কতোইনা উত্তম!
আর তোমাদের মধ্যে এমনও কেউ কেউ রয়েছে, যারা অবশ্য বিলম্ব করবে এবং তোমাদের উপর কোন বিপদ উপস্থিত হলে বলবে, আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, আমি তাদের সাথে যাইনি।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে (যুদ্ধে যেতে) গড়িমসি করে। তারপর তোমাদের কোনো মসিবত স্পর্শ করলে সে বলে: ‘ আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, আমি তাদের সাথে যাইনি।’
পক্ষান্তরে তোমাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন অনুগ্রহ আসলে তারা এমন ভাবে বলতে শুরু করবে যেন তোমাদের মধ্যে এবং তাদের মধ্যে কোন মিত্রতাই ছিল না। (বলবে) হায়, আমি যদি তাদের সাথে থাকতাম, তাহলে আমি ও যে সফলতা লাভ করতাম।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর তোমরা যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো অনুগ্রহ লাভ করো, তখন তোমাদের ও তার মধ্যে যেনো কোনো সম্পর্ক নেই এমন ভাব দেখিয়ে সে অবশ্যি বলবে: ‘হায়, আমি যদি তাদের সাথে থাকতাম, তবে আমিও বিরাট সাফল্য লাভ করতাম।’
কাজেই আল্লাহর কাছে যারা পার্থিব জীবনকে আখেরাতের পরিবর্তে বিক্রি করে দেয় তাদের জেহাদ করাই কর্তব্য। বস্তুতঃ যারা আল্লাহর রাহে লড়াই করে এবং অতঃপর মৃত্যুবরণ করে কিংবা বিজয় অর্জন করে, আমি তাদেরকে মহাপুণ্য দান করব।
আবদুস শহীদ নাসিম
সুতরাং যারা আখিরাতের (সাফল্যের) বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে বিক্রয় করে দেয়ার সাহস রাখে, তারাই আল্লাহর পথে লড়াই করুক। যে কেউ আল্লাহর পথে লড়াই করবে, সে নিহত হোক, কিংবা বিজয়ী হোক, আমরা অচিরেই তাকে প্রদান করবো মহাপুরস্কার।
আর তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে, অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের কী হয়েছে, কেন তোমরা লড়াই করছোনা আল্লাহর পথে! সেইসব দুর্বল অসহায় নর, নারী ও শিশুদের জন্যে, যারা ফরিয়াদ করে বলছে: ‘আমাদের প্রভু! আমাদের বের করে নাও এই জনপদ থেকে। এর অধিবাসীরা যালিম। আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে একজন অলির (অভিভাবকের) ব্যবস্থা করে দাও এবং ব্যবস্থা করে দাও একজন সাহায্যকারীর।’
Wama lakum la tuqatiloona fee sabeeli Allahi waalmustadAAafeena mina alrrijali waalnnisai waalwildani allatheena yaqooloona rabbana akhrijna min hathihi alqaryati alththalimi ahluha waijAAal lana min ladunka waliyyan waijAAal lana min ladunka naseeran
যারা তারা যে, জেহাদ করে আল্লাহর রাহেই। পক্ষান্তরে যারা তারা লড়াই করে শয়তানের পক্ষে সুতরাং তোমরা জেহাদ করতে থাক শয়তানের পক্ষালম্বনকারীদের বিরুদ্ধে, (দেখবে) শয়তানের চক্রান্ত একান্তই দুর্বল।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা ঈমান এনেছে তারা লড়াই করে আল্লাহর পথে, আর যারা কুফুরি করেছে তারা লড়াই করে তাগুতের পথে। সুতরাং তোমরা লড়াই করো শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে। অবশ্যই শয়তানের চক্রান্ত দুর্বল।
তুমি কি সেসব লোককে দেখনি, যাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তোমরা নিজেদের হাতকে সংযত রাখ, কায়েম কর এবং যাকাত দিতে থাক? অতঃপর যখন তাদের প্রতি জেহাদের নির্দেশ দেয়া হল, তৎক্ষণাৎ তাদের মধ্যে একদল লোক মানুষকে ভয় করতে আরম্ভ করল, যেমন করে ভয় করা হয় আল্লাহকে। এমন কি তার চেয়েও অধিক ভয়। আর বলতে লাগল, হায় পালনকর্তা, কেন আমাদের উপর যুদ্ধ ফরজ করলে! আমাদেরকে কেন আরও কিছুকাল অবকাশ দান করলে না। ( হে রসূল) তাদেরকে বলে দিন, পার্থিব ফায়দা সীমিত। আর আখেরাত পরহেযগারদের জন্য উত্তম। আর তোমাদের অধিকার একটি সূতা পরিমান ও খর্ব করা হবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি কি তাদের অবস্থা দেখছোনা, যাদের বলা হয়েছিল: ‘তোমাদের হাত সংবরণ করো, কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো।’ তারপর যখন তাদের জন্যে যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া হলো, তখন তাদেরই একটি দল মানুষকে ভয় করতে থাকলো আল্লাহকে ভয় করার মতো, কিংবা তার চেয়েও বেশি ভয়। তারা বলতে থাকলো: ‘আমাদের প্রভু! আমাদের কেন যুদ্ধের নির্দেশ দিলে? প্রভু! আমাদেরকে কিছুকালের অবকাশ দাও।’ হে নবী! বলো: ‘পার্থিব ভোগ - সম্ভার তো সামান্য। মুত্তাকিদের জন্যে আখিরাতই সর্বোত্তম। তোমাদের প্রতি বিন্দু পরিমাণও যুলুম করা হবেনা।’
তোমরা যেখানেই থাক না কেন; মৃত্যু কিন্তু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই। যদি তোমরা সুদৃঢ় দূর্গের ভেতরেও অবস্থান কর, তবুও। বস্তুতঃ তাদের কোন কল্যাণ সাধিত হলে তারা বলে যে, এটা সাধিত হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যদি তাদের কোন অকল্যাণ হয়, তবে বলে, এটা হয়েছে তোমার পক্ষ থেকে, বলে দাও, এসবই আল্লাহর পক্ষ থেকে। পক্ষান্তরে তাদের পরিণতি কি হবে, যারা কখনও কোন কথা বুঝতে চেষ্টা করে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা যেখানেই অবস্থান করো না কেন, মউত তোমাদের নাগাল পাবেই, এমনকি তোমরা উঁচু মজবুত দুর্গে অবস্থান করলেও। তাদের কোনো কল্যাণ হলে তারা বলে: ‘এটা হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর কোনো অকল্যাণ হলে বলে: এটা হয়েছে তোমার কারণে।’ তুমি বলো: ‘সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে।’ এই লোকদের কী হলো, তারা যে কোনো কথাই বুঝেনা!
আপনার যে কল্যাণ হয়, তা হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে আর আপনার যে অকল্যাণ হয়, সেটা হয় আপনার নিজের কারণে। আর আমি আপনাকে পাঠিয়েছি মানুষের প্রতি আমার পয়গামের বাহক হিসাবে। আর সব বিষয়েই যথেষ্ট - সববিষয়ই তাঁর সম্মুখে উপস্থিত।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি যা কিছু কল্যাণ লাভ করো তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই, আর তোমার যা কিছু অকল্যাণ হয়, তা হয় তোমার নিজের কারণে। আমরা তোমাকে মানুষের জন্যে পাঠিয়েছি একজন রসূল হিসেবে। আল্লাহই যথেষ্ট সাক্ষী হিসেবে।
যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।
আবদুস শহীদ নাসিম
যে রসূলের আনুগত্য করলো, সে আল্লাহরই আনুগত্য করলো। আর যারা মুখ ফিরিয়ে নেয় আমরা তোমাকে তাদের উপর রক্ষক নিযুক্ত করিনি।
আর তারা বলে, আপনার আনুগত্য করি। অতঃপর আপনার নিকট থেকে বেরিয়ে গেলেই তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ পরামর্শ করে রাতের বেলায় সে কথার পরিপন্থী যা তারা আপনার সাথে বলেছিল। আর লিখে নেন, সে সব পরামর্শ যা তারা করে থাকে। সুতরাং আপনি তাদের ব্যাপারে নিস্পৃহতা অবলম্বন করুন এবং ভরসা করুন আল্লাহর উপর, হলেন যথেষ্ট ও কার্যসম্পাদনকারী।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলে: ‘আমরা আনুগত্য করি।’ তারপর তোমার কাছ থেকে চলে গেলে রাতে তাদের একদল লোক তাদের কথার বিপরীত পরামর্শ করে। তারা রাতে যা সলাপরামর্শ করে তা লিখে রাখেন। সুতরাং তুমি তাদের উপেক্ষা করো এবং আল্লাহর উপর ভরসা করো। উকিল হিসেবে আল্লাহই কাফী (যথেষ্ট)।
আর যখন তাদের কছে পৌঁছে কোন সংবাদ শান্তি - সংক্রান্ত কিংবা ভয়ের, তখন তারা সেগুলোকে রটিয়ে দেয়। আর যদি সেগুলো পৌঁছে দিত রসূল পর্যন্ত কিংবা তাদের শাসকদের পর্যন্ত, তখন অনুসন্ধান করে দেখা যেত সেসব বিষয়, যা তাতে রয়েছে অনুসন্ধান করার মত। বস্তুতঃ আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা যদি তোমাদের উপর বিদ্যমান না থাকত তবে তোমাদের অল্প কতিপয় লোক ব্যতীত সবাই শয়তানের অনুসরণ করতে শুরু করত!
আবদুস শহীদ নাসিম
যখনই তাদের কাছে শান্তি বা ত্রাসের কোনো সংবাদ আসে, তারা তা প্রচার করে বেড়ায়। তারা যদি (তা না করে) সেটা রসূল বা তাদের দায়িত্বশীলদের গোচরে আনতো, তবে তাদের মাঝে যারা উদ্ভাবনী যোগ্যতার অধিকারী তারা এর যথার্থতা অনুধাবন করতে পারতো। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং রহমত না থাকলে তোমাদের স্বল্প সংখ্যক ছাড়া বাকিরা শয়তানের অনুসরণ করতো।
আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করতে থাকুন, আপনি নিজের সত্তা ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ের যিম্মাদার নন! আর আপনি মুসলমানদেরকে উৎসাহিত করতে থাকুন। শীঘ্রই কাফেরদের শক্তি - সামর্থ খর্ব করে দেবেন। আর শক্তি - সামর্থের দিক দিয়ে অত্যন্ত কঠোর এবং কঠিন শাস্তিদাতা।
আবদুস শহীদ নাসিম
সুতরাং তোমরা লড়াই করো আল্লাহর পথে। তোমাকে দায়ী করা হবে শুধু তোমার নিজের জন্যে। মুমিনদের উৎসাহ দিয়ে যাও। হয়তো কাফিরদের শক্তি নিবারণ করবেন। আল্লাহই প্রবল শক্তিধর এবং কঠোরতর শাস্তিদাতা।
যে লোক সৎকাজের জন্য কোন সুপারিশ করবে, তা থেকে সেও একটি অংশ পাবে। আর যে লোক সুপারিশ করবে মন্দ কাজের জন্যে সে তার বোঝারও একটি অংশ পাবে। বস্তুতঃ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।
আবদুস শহীদ নাসিম
যে কেউ ভালো কাজের সুপারিশ করবে, তার পুরস্কারে তার অংশ থাকবে। আর যে কেউ মন্দ কাজের সুপারিশ করবে, তাতেও তার অংশ থাকবে। প্রতিটি বিষয়ে দৃষ্টি রাখেন।
আর তোমাদেরকে যদি কেউ দোয়া করে, তাহলে তোমরাও তার জন্য দোয়া কর; তারচেয়ে উত্তম দোয়া অথবা তারই মত ফিরিয়ে বল। নিশ্চয়ই সর্ব বিষয়ে হিসাব - নিকাশ গ্রহণকারী।
আবদুস শহীদ নাসিম
যখন তোমাদের অভিবাদন করা হয়, তখন তোমরাও তার চাইতে উত্তম অভিবাদনে তার জবাব দাও, অথবা অন্তত অনুরূপ জবাব দাও। নিশ্চয়ই প্রতিটি বিষয়ের হিসাব গ্রহণ করবেন।
ব্যতীত আর কোনোই উপাস্য নেই। অবশ্যই তিনি তোমাদেরকে সমবেত করবেন কেয়ামতের দিন, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তাছাড়া আল্লাহর চাইতে বেশী সত্য কথা আর কার হবে!
আবদুস শহীদ নাসিম
, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। তিনি কিয়ামতের দিন তোমাদের অবশ্যি জমা করবেন, এতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই। আল্লাহর চেয়ে বড় সত্যবাদী আর কে?
অতঃপর তোমাদের কি হল যে, মুনাফিকদের সম্পর্কে তোমরা দু’দল হয়ে গেলে? অথচ তা’আলা তাদেরকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন তাদের মন্দ কাজের কারনে! তোমরা কি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে চাও, যাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছেন? যাকে পথভ্রান্ত করেন, তুমি তার জন্য কোন পথ পাবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের কী হলো, মুনাফিকদের ব্যাপারে যে তোমরা দুই দল হয়ে গেলে? অথচ তাদের কৃতকর্মের জন্যে তাদেরকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়েছেন। যাকে গোমরাহ করেছেন, তোমরা কি তাকে হিদায়াতের পথে চালাতে চাও? যাকে গোমরাহ্ করে দেন, তুমি তার জন্যে কখনো কোনো পথ পাবেনা।
তারা চায় যে, তারা যেমন , তোমরাও তেমনি হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা কামনা করে তোমরা যেনো কুফুরি করো, যেমন তারা কুফুরি করেছে, যাতে করে তোমরা তাদের বরাবর হয়ে যাও। সুতরাং আল্লাহর পথে হিজরত না করা পর্যন্ত তাদের কাউকেও অলি (বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করোনা। তারা যদি অস্বীকার করে, তবে তাদের যেখানে পাবে, গ্রেফতার করবে এবং হত্যা করবে। আর তাদের কাউকেও অলি (বন্ধু) এবং সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করোনা।
কিন্তু যারা এমন সম্প্রদায়ের সাথে মিলিত হয় যে, তোমাদের মধ্যে ও তাদের মধ্যে চুক্তি আছে অথবা তোমাদের কাছে এভাবে আসে যে, তাদের অন্তর তোমাদের সাথে এবং স্বজাতির সাথেও যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক। যদি ইচ্ছে করতেন, তবে তোমাদের উপর তাদেরকে প্রবল করে দিতেন। ফলে তারা অবশ্যই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করত। অতঃপর যদি তারা তোমাদের থেকে পৃথক থাকে তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের সাথে সন্ধি করে, তবে তোমাদের কে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ দেননি।
আবদুস শহীদ নাসিম
তবে তাদেরকে নয়, যারা এমন জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক রাখে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ, অথবা যারা তোমাদের কাছে এমন অবস্থায় আসে যখন তাদের মন থাকে তোমাদের সাথে, কিংবা তাদের সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ করতে তারা সংকোচ বোধ করে। চাইলে তিনি তাদেরকে তোমাদের উপর ক্ষমতাবান করে দিতেন এবং তারা অবশ্যি তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতো। এখন যদি তারা তোমাদের থেকে সরে দাঁড়ায়, তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের কাছে শান্তির প্রস্তাব দেয়, তবে তোমাদের জন্যে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো পথ রাখেননি।
এখন তুমি আরও এক সম্প্রদায়কে পাবে। তারা তোমাদের কাছেও স্বজাতির কাছেও এবং নির্বিঘ্ন হয়ে থাকতে চায়। যখন তাদেরকে ফ্যাসাদের প্রতি মনোনিবেশ করানো হয়, তখন তারা তাতে নিপতিত হয়, অতএব তারা যদি তোমাদের থেকে নিবৃত্ত না হয়, তোমাদের সাথে সন্ধি না রাখে এবং স্বীয় হস্তসমূহকে বিরত না রাখে, তবে তোমরা তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। আমি তাদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে প্রকাশ্য যুক্তি - প্রমাণ দান করেছি।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা অপর এমন কিছু লোক পাবে, যারা তোমাদের সাথে এবং তাদের সম্প্রদায়ের সাথে শান্তি চাইবে। যখন তাদেরকে ফিতনার দিকে আহবান করা হয়, তখনই তারা এ ব্যাপারে তাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে। যদি তারা তোমাদের কাছ থেকে চলে না যায় এবং তোমাদের কাছে শান্তির প্রস্তাব না দেয় এবং তাদের হাত গুটিয়ে না রাখে, তবে তাদের যেখানেই পাবে গ্রেফতার করবে এবং হত্যা করবে। আমরা তোমাদেরকে এদের বিরুদ্ধে অবস্থানের সুস্পষ্ট অধিকার দিলাম।
মুসলমানের কাজ নয় যে, মুসলমানকে হত্যা করে; কিন্তু ভুলক্রমে। যে ব্যক্তি মুসলমানকে ভূলক্রমে হত্যা করে, সে একজন মুসলমান ক্রীতদাস মুক্ত করবে এবং রক্ত বিনিময় সমর্পন করবে তার স্বজনদেরকে; কিন্তু যদি তারা ক্ষমা করে দেয়। অতঃপর যদি নিহত ব্যক্তি তোমাদের শত্রু সম্প্রদায়ের অন্তর্গত হয়, তবে মুসলমান ক্রীতদাস মুক্ত করবে এবং যদি সে তোমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ কোন সম্প্রদায়ের অন্তর্গত হয়, তবে রক্ত বিনিময় সমর্পণ করবে তার স্বজনদেরকে এবং একজন মুসলমান ক্রীতদাস মুক্ত করবে। অতঃপর যে ব্যক্তি না পায়, সে আল্লাহর কাছ থেকে গোনাহ মাফ করানোর জন্যে উপর্যুপুরি দুই মাস রোযা রাখবে। , মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
কোনো মুমিনের জন্যে অপর মুমিনকে হত্যা করা বৈধ নয়, তবে ভুলবশত করলে ভিন্ন কথা। কেউ যদি ভুলবশত কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তাহলে এর বিধান হলো, একজন দাসকে মুক্ত করা এবং নিহতের পরিবারবর্গকে গ্রহণযোগ্য মুক্তিপণ প্রদান করা, যদি তারা ক্ষমা করে না দেয়। আর যদি নিহত ব্যক্তি তোমাদের শত্রুপক্ষের লোক হয় এবং হয় তবে এক দাস মুক্ত করবে। আর যদি সে এমন কোনো সম্প্রদায়ের লোক হয় যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ, তবে তাদের পরিবারবর্গকে গ্রহণযোগ্য মুক্তিপণ প্রদান করবে এবং একজন দাস মুক্ত করবে। কিন্তু কারো যদি সঙ্গতি না থাকে তবে লাগাতার দুইমাস রোযা রাখবে। এটাই আল্লাহর পক্ষ থেকে তওবা করার ব্যবস্থা, আর সর্বজ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান।
Wama kana limuminin an yaqtula muminan illa khataan waman qatala muminan khataan fatahreeru raqabatin muminatin wadiyatun musallamatun ila ahlihi illa an yassaddaqoo fain kana min qawmin AAaduwwin lakum wahuwa muminun fatahreeru raqabatin muminatin wain kana min qawmin baynakum wabaynahum meethaqun fadiyatun musallamatun ila ahlihi watahreeru raqabatin muminatin faman lam yajid fasiyamu shahrayni mutatabiAAayni tawbatan mina Allahi wakana Allahu AAaleeman hakeeman
যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্যে ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর কেউ যদি কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃত হত্যা করে, তবে তার শাস্তি হলো জাহান্নাম, সে চিরকাল সেখানেই থাকবে। তার প্রতি রুষ্ট এবং তিনি তাকে অভিশাপ দেন, আর তার জন্যে তিনি প্রস্তুত রেখেছেন বিশাল আযাব।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন আল্লাহর পথে সফর কর, তখন যাচাই করে নিও এবং যে, তোমাদেরকে সালাম করে তাকে বলো না যে, তুমি মুসলমান নও। তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদ অন্বেষণ কর, বস্তুতঃ আল্লাহর কাছে অনেক সম্পদ রয়েছে। তোমরা ও তো এমনি ছিলে ইতিপূর্বে; অতঃপর তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। অতএব, এখন অনুসন্ধান করে নিও। নিশ্চয় তোমাদের কাজ কর্মের খবর রাখেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! তোমরা যখন আল্লাহর পথে রওয়ানা করবে, তখন পরীক্ষা করে নেবে (কে বন্ধু, কে শত্রু)। কেউ তোমাদের সালাম করলে দুনিয়ার স্বার্থ কামনায় তাকে বলো না: ‘তুমি নও।’ তোমরা যদি পার্থিব জীবনের স্বার্থ হাসিল করতে চাও, তবে আল্লাহর কাছে রয়েছে অনেক গনিমত। তোমরাও তো আগে এরকমই ছিলে, তারপর তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। সুতরাং তোমরা পরীক্ষা করে নেবে। তোমরা যা করো, নিশ্চয়ই সে বিষয়ে খবর রাখেন।
গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান - যাদের কোন সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জেহাদ করে, - সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জেহাদ করে, তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। মুজাহেদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
মুমিনদের মধ্যে যারা অক্ষম না হওয়া সত্ত্বেও ঘরে বসে থাকে, তারা আর যারা নিজেদের ধনমাল এবং জান প্রাণ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারা সমান নয়। যারা নিজেদের ধনমাল এবং জানপ্রাণ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে তাদেরকে ঘরে বসে থাকাদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন। তবে প্রত্যেককেই কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। যারা ঘরে বসে থাকে, তাদের উপর মুজাহিদদের মহাপুরস্কারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।
যারা নিজের অনিষ্ট করে, ফেরেশতারা তাদের প্রাণ হরণ করে বলে, তোমরা কি অবস্থায় ছিলে? তারা বলেঃ এ ভূখন্ডে আমরা অসহায় ছিলাম। ফেরেশতারা বলেঃ আল্লাহর পৃথিবী কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা দেশত্যাগ করে সেখানে চলে যেতে? অতএব, এদের বাসস্থান হল জাহান্নাম এবং তা অত্যন্ত মন্দ স্থান।
আবদুস শহীদ নাসিম
নিজেদের প্রতি যুলুম করতে থাকা লোকদের যখন ফেরেশতারা ওফাত ঘটাতে আসে, তারা বলে: ‘তোমরা কী অবস্থার মধ্যে ছিলে?’ তখন তারা বলে: ‘আমরা দেশে দুর্বল অসহায় ছিলাম।’ তখন তারা বলে: ‘কেন আল্লাহর পৃথিবী কি প্রশস্ত ছিলনা যেখানে তোমরা হিজরত করতে পারতে?’ এরাই সেইসব লোক যাদের আবাস হবে জাহান্নাম আর সেটা কতো যে নিকৃষ্ট আবাস!
যে কেউ আল্লাহর পথে দেশত্যাগ করে, সে এর বিনিময়ে অনেক স্থান ও সচ্ছলতা প্রাপ্ত হবে। যে কেউ নিজ গৃহ থেকে বের হয় ও রসূলের প্রতি হিজরত করার উদ্দেশে, অতঃপর মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তবে তার সওয়াব আল্লাহর কাছে অবধারিত হয়ে যায়। ক্ষমাশীল, করুণাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
যে হিজরত করবে আল্লাহর পথে সে জগতে বহু আশ্রয়স্থল এবং প্রাচুর্য লাভ করবে। যে কেউ নিজের ঘর থেকে আল্লাহর ও তার রসূলের দিকে মুহাজির হিসেবে বের হবে, এ পথে তার মৃত্যু হলে তার পুরস্কারের দায়িত্ব আল্লাহর। তো পরম ক্ষমাশীল পরম দয়াময়।
যখন তোমরা কোন দেশ সফর কর, তখন নামাযে কিছুটা হ্রাস করলে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, কাফেররা তোমাদেরকে উত্ত্যক্ত করবে। নিশ্চয় কাফেররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা যখন ভ্রমণে বের হও, তখন যদি তোমরা আশংকা করো যে, কাফিররা তোমাদের জন্যে ফিতনা সৃষ্টি করবে, তবে কসর করলে তোমাদের কোনো দোষ হবেনা। নিশ্চয়ই কাফিররা তোমাদের সুস্পষ্ট দুশমন।
যখন আপনি তাদের মধ্যে থাকেন, অতঃপর নামাযে দাঁড়ান, তখন যেন একদল দাঁড়ায় আপনার সাথে এবং তারা যেন স্বীয় অস্ত্র সাথে নেয়। অতঃপর যখন তারা সেজদা সম্পন্ন করে, তখন আপনার কাছ থেকে যেন সরে যায় এবং অন্য দল যেন আসে, যারা পড়েনি। অতঃপর তারা যেন আপনার সাথে পড়ে এবং আত্মরক্ষার হাতিয়ার সাথে নেয়। কাফেররা চায় যে, তোমরা কোন রূপে অসতর্ক থাক, যাতে তারা একযোগে তোমাদেরকে আক্রমণ করে বসে। যদি বৃষ্টির কারণে তোমাদের কষ্ট হয় অথবা তোমরা অসুস্থ হও তবে স্বীয় অস্ত্র পরিত্যাগ করায় তোমাদের কোন গোনাহ নেই এবং সাথে নিয়ে নাও তোমাদের আত্নরক্ষার অস্ত্র। নিশ্চয় কাফেরদের জন্যে অপমানকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
(হে নবী!) যখন তুমি তাদের মাঝে থাকো এবং (যুদ্ধ ও ত্রাস চলাকালে) তাদের সাথে নিয়ে সালাতে দাঁড়াও, তখন তাদের মধ্য থেকে একটি গ্রুপ তোমার সাথে সালাতে দাঁড়াবে এবং তারা তাদের অস্ত্রশস্ত্র সাথে রাখবে। তারপর তারা সাজদা করে নিলে পেছনে গিয়ে অবস্থান নেবে এবং অপর গ্রুপ - যারা এখনো সালাতে অংশ নেয়নি এসে তোমার সাথে সালাতে অংশ নেবে। তারাও সতর্কতা অবলম্বন করবে এবং নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র সাথে রাখবে। কারণ, কাফিররা তো চায়, তোমরা তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র এবং মাল সামানের ব্যাপারে সামান্য গাফিল হলেই তারা তোমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। তবে, তোমরা যদি বৃষ্টির কারণে অসুবিধা বোধ করো, কিংবা অসুস্থ থাকো, তবে অস্ত্র রেখে দিলে কোনো অসুবিধা নেই, কিন্তু সতর্ক থাকবে। জেনে রাখো, কাফিরদের জন্যে প্রস্তুত করে রেখেছেন অপমানকর আযাব।
অতঃপর যখন তোমরা সম্পন্ন কর, তখন দন্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর। অতঃপর যখন বিপদমুক্ত হয়ে যাও, তখন ঠিক করে পড়। নিশ্চয় মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর যখন তোমরা সমাপ্ত করবে, তখন দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহর যিকির করবে। তারপর যখন নিরাপদ বোধ করবে, তখন যথা নিয়মে আদায় করবে। নির্ধারিত সময়ে কায়েম করা মুমিনদের জন্যে এক লিখিত বিধান।
তাদের পশ্চাদ্ধাবনে শৈথিল্য করো না। যদি তোমরা আঘাত প্রাপ্ত, তবে তারাও তো তোমাদের মতই হয়েছে আঘাতপ্রাপ্ত এবং তোমরা আল্লাহর কাছে আশা কর, যা তারা আশা করে না। মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
শত্রু কওমের সন্ধানে তোমরা দুর্বলতা প্রদর্শন করোনা, যদি তোমরা যন্ত্রণা ভোগ করে থাকো তবে তারাও তোমাদের মতোই যন্ত্রণা পায়। আল্লাহর কাছে তোমরা এমন জিনিস আশা করো, যা তারা আশা করেনা। জ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান।
Wala tahinoo fee ibtighai alqawmi in takoonoo talamoona fainnahum yalamoona kama talamoona watarjoona mina Allahi ma la yarjoona wakana Allahu AAaleeman hakeeman
নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সত্য কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেন, যা আপনাকে হৃদয়ঙ্গম করান। আপনি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ থেকে বিতর্ককারী হবেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা তোমার প্রতি সত্যতা ও বাস্তবতার নিরিখে নাযিল করেছি এই কিতাব, যাতে তোমাকে যে সঠিক পথ জানিয়েছেন সে অনুযায়ী মানুষের মাঝে বিচার ফায়সালা করে দিতে পারো। তুমি কখনো খিয়ানতকারীদের পক্ষে বিতর্ক করোনা।
তারা মানুষের কাছে লজ্জিত হয় এবং আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয় না। তিনি তাদের সাথে রয়েছেন, যখন তারা রাত্রে এমন বিষয়ে পরামর্শ করে, যাতে সম্মত নন। তারা যাকিছু করে, সবই আল্লাহর আয়ত্তাধীণ।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা মানুষ থেকে তাদের দুষ্কর্ম গোপন করতে চায়, কিন্তু আল্লাহর থেকে গোপন করতে পারেনা, তিনি তাদের সাথেই থাকেন রাত্রে যখন তারা তাঁর অপছন্দনীয় সলাপরামর্শ করে। তারা যা করে তা পরিবেষ্টন করে আছেন।
Yastakhfoona mina alnnasi wala yastakhfoona mina Allahi wahuwa maAAahum ith yubayyitoona ma la yarda mina alqawli wakana Allahu bima yaAAmaloona muheetan
যদি আপনার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা না হত, তবে তাদের একদল আপনাকে পথভ্রষ্ট করার সংকল্প করেই ফেলেছিল। তারা পথভ্রান্ত করতে পারে না কিন্তু নিজেদেরকেই এবং আপনার কোন অনিষ্ট করতে পারে না। আপনার প্রতি ঐশী গ্রন্থ ও প্রজ্ঞা অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন, যা আপনি জানতেন না। আপনার প্রতি আল্লাহর করুণা অসীম।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার প্রতি যদি আল্লাহর ফজল (অনুগ্রহ) এবং রহমত (দয়া) না হতো, তাহলে তাদের একটি দল তোমাকে বিপথগামী করতে চাইতো। আসলে তারা তো নিজেদের ছাড়া আর কাউকেও পথভ্রষ্ট করেনা। তারা তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তো তোমার প্রতি নাযিল করেছেন আল কিতাব (আল কুরআন) এবং হিকমাহ (কর্মকৌশল ও কার্যনির্বাহী জ্ঞান) আর তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা তুমি জানতে না। তোমার প্রতি আল্লাহর ফজল বিরাট।
তাদের অধিকাংশ সলা - পরামর্শ ভাল নয়; কিন্তু যে সলা - পরামর্শ দান খয়রাত করতে কিংবা সৎকাজ করতে কিংবা মানুষের মধ্যে সন্ধিস্থাপন কল্পে করতো তা স্বতন্ত্র। যে একাজ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে আমি তাকে বিরাট ছওয়াব দান করব।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের অধিকাংশ গোপন সলাপরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই। তবে কল্যাণ থাকে (সেই ব্যক্তির গোপন পরামর্শে) যে নির্দেশ দেয় দান করার, ভালো কাজ করার কিংবা মানুষের মাঝে শান্তি স্থাপন করার। আল্লাহর সন্তোষ কামনায় কেউ যদি এসব কাজ করে, আমরা শীঘ্রি তাকে দান করবো মহাপু
La khayra fee katheerin min najwahum illa man amara bisadaqatin aw maAAroofin aw islahin bayna alnnasi waman yafAAal thalika ibtighaa mardati Allahi fasawfa nuteehi ajran AAatheeman
যে কেউ রসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, তার কাছে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং সব মুসলমানের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ঐ দিকেই ফেরাব যে দিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান।
আবদুস শহীদ নাসিম
কারো কাছে হিদায়াত (সত্যপথ) সুস্পষ্ট হবার পরও যদি সে রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অবলম্বন করে, তাহলে সে যেদিকে মুখ ফিরিয়েছে আমরা তাকে সে দিকেই ফিরিয়ে দেবো এবং তাকে প্রবেশ করাবো জাহান্নামে, যা চরম নিকৃষ্ট আবাস।
নিশ্চয় তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
নিশ্চয়ই তাঁর সাথে শিরক করার পাপ ক্ষমা করবেন না, এ ছাড়া অন্যগুলো ক্ষমা করে দেবেন যাকে ইচ্ছা করবেন। যে কেউ আল্লাহর সাথে শিরক করে সে তো পথহারা হয়ে চলে যায় বহু দূরে।
তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে আশ্বাস দেব; তাদেরকে পশুদের কর্ণ ছেদন করতে বলব এবং তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করতে আদেশ দেব। যে কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমি অবশ্যি তাদের পথভ্রষ্ট করবো, তাদের মনে মিথ্যা আকাংখা সৃষ্টি করবো, তারা আমার নির্দেশ মতো পশুর কান ছিদ্র করবে এবং আমি তাদের নির্দেশ দিয়ে যাবোই এবং তারা অবশ্যি আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করতে থাকবে।’’ যে কেউ আল্লাহর পরিবর্তে এই শয়তানকে অলি (বন্ধু ও পৃষ্ঠপোষক) হিসেবে গ্রহণ করবে, সে অবশ্যি নিমজ্জিত হবে সুস্পষ্ট ক্ষতির মধ্যে।
যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আমি তাদেরকে উদ্যানসমূহে প্রবিষ্ট করাব, যেগুলোর তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত হয়। তারা চিরকাল তথায় অবস্থান করবে। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সত্য সত্য। আল্লাহর চাইতে অধিক সত্যবাদী কে?
আবদুস শহীদ নাসিম
পক্ষান্তরে যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে, আমরা অবশ্যি তাদের দাখিল করবো জান্নাতে, যার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ নদী নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। আল্লাহর ওয়াদা সত্য। কথার দিক থেকে আল্লাহর চাইতে সত্যবাদী আর কে?
তোমাদের আশার উপর ও ভিত্তি নয় এবং আহলে - কিতাবদের আশার উপরও না। যে কেউ মন্দ কাজ করবে, সে তার শাস্তি পাবে এবং সে ছাড়া নিজের কোন সমর্থক বা সাহায্যকারী পাবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের খেয়াল খুশি কিংবা আহলে কিতাবের খেয়াল খুশি মতো কাজ হবেনা। যে মন্দ কাজ করবে, তার প্রতিফল সে পাবেই এবং সে আল্লাহর পরিবর্তে কোনো অলি বা সাহায্যকারী পাবেনা।
যে আল্লাহর নির্দেশের সামনে মস্তক অবনত করে সৎকাজে নিয়োজিত থাকে এবং ইব্রাহীমের ধর্ম অনুসরণ করে, যিনি একনিষ্ঠ ছিলেন, তার চাইতে উত্তম ধর্ম কার? ইব্রাহীমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
দীনের দিক থেকে ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কে আছে, যে মুহসিন (পুণ্যবান) অবস্থায় আল্লাহর বাধ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে এবং একনিষ্ঠভাবে ইবরাহিমের মিল্লাত (আদর্শ) অনুসরণ করেছে? আর তো ইবরাহিমকে নিজের বন্ধু হিসেবেই গ্রহণ করেছেন।
তারা আপনার কাছে নারীদের বিবাহের অনুমতি চায়। বলে দিনঃ তোমাদেরকে তাদের সম্পর্কে অনুমতি দেন এবং কোরআনে তোমাদেরকে যা যা পাট করে শুনানো হয়, তা ঐ সব পিতৃহীনা - নারীদের বিধান, যাদের কে তোমরা নির্ধারিত অধিকার প্রদান কর না অথচ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার বাসনা রাখ। আর অক্ষম শিশুদের বিধান এই যে, এতীমদের জন্যে ইনসাফের উপর কায়েম থাক। তোমরা যা ভাল কাজ করবে, তা জানেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
নারীদের ব্যাপারে তারা তোমার কাছে জানতে চাইছে। তুমি বলো তাদের ব্যাপারে তোমাদের ফতোয়া দিচ্ছেন, আর এতিম নারীদের ব্যাপারে, যাদের প্রাপ্য তোমরা পরিশোধ করোনা, অথচ তোমরা তাদের বিয়ে করতে চাও এবং অসহায় শিশুদের ব্যাপারে আর এতিমদের ব্যাপারে তোমাদের সুবিচার সম্পর্কে যা তোমাদের এই কিতাবে তিলাওয়াত করে শুনানো হয়, তা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন। আর তোমরা যে কোনো কল্যাণকর কাজই করোনা কেন, তা বিশেষভাবে জ্ঞাত।
যদি কোন নারী স্বীয় স্বামীর পক্ষ থেকে অসদাচরণ কিংবা উপেক্ষার আশংকা করে, তবে পরস্পর কোন মীমাংসা করে নিলে তাদের উভয়ের কোন গোনাহ নাই। মীমাংসা উত্তম। মনের সামনে লোভ বিদ্যমান আছে। যদি তোমরা উত্তম কাজ কর এবং খোদাভীরু হও, তবে, তোমাদের সব কাজের খবর রাখেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
কোনো নারী যদি তার স্বামীর দুর্ব্যবহার কিংবা উপেক্ষার আশংকা করে, তবে তারা আপোস মীমাংসা করতে চাইলে তাদের কোনো দোষ হবেনা। তাছাড়া আপোস - মীমাংসাই উত্তম। লোভের কারণে মানুষ স্বভাবত কৃপণ। তোমরা যদি ইহ্সান করো এবং আল্লাহকে ভয় করো, তবে জেনে রাখো, তোমরা যা করো তার খবর রাখেন।
Waini imraatun khafat min baAAliha nushoozan aw iAAradan fala junaha AAalayhima an yusliha baynahumasulhan waalssulhu khayrun waohdirati alanfusu alshshuhha wain tuhsinoo watattaqoo fainna Allaha kana bima taAAmaloona khabeeran
তোমরা কখনও নারীদেরকে সমান রাখতে পারবে না, যদিও এর আকাঙ্ক্ষী হও। অতএব, সম্পূর্ণ ঝুঁকেও পড়ো না যে, একজনকে ফেলে রাখ দোদুল্যমান অবস্থায়। যদি সংশোধন কর এবং খোদাভীরু হও, তবে ক্ষমাশীল, করুণাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা যতোই আকাংখা করোনা কেন, তোমরা কিছুতেই স্ত্রীদের মাঝে সমান ব্যবহার করতে পারবে না। সুতরাং তোমরা কোনো একজনের দিকে পুরোপুরি ঝুঁকে পড়োনা এবং অন্যকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখে দিওনা। তোমরা যদি সংশোধন করে নাও এবং আল্লাহকে ভয় করো, তবে নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল দয়াবান।
আর যা কিছু রয়েছে আসমান সমূহে ও যমীনে সবই আল্লাহর। বস্তুতঃ আমি নির্দেশ দিয়েছি তোমাদের পূর্ববর্তী গ্রন্থের অধিকারীদেরকে এবং তোমাদেরকে যে, তোমরা সবাই ভয় করতে থাক আল্লাহকে। যদি তোমরা তা না মান, তবে জেনো, সে সব কিছুই তা’আলার যা কিছু রয়েছে আসমান সমূহে ও যমীনে। আর হচ্ছেন অভাবহীন, প্রসংশিত।
আবদুস শহীদ নাসিম
মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। ইতোপূর্বে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে তাদেরকে এবং বিশেষভাবে তোমাদেরকে আমরা অসিয়ত (নির্দেশ) করছি: ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো।’ তোমরা যদি এটা অস্বীকার করো, তবে জেনে রাখো, নিশ্চয়ই মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর এবং মুখাপেক্ষাহীন সপ্রশংসিত।
যে কেউ দুনিয়ার কল্যাণ কামনা করবে, তার জেনে রাখা প্রয়োজন যে, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ আল্লাহরই নিকট রয়েছে। আর সব কিছু শোনেন ও দেখেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
কেউ যদি (শুধু) দুনিয়ার সওয়াব (পুরস্কার) চায়, তবে সে জেনে রাখুক, আল্লাহর কাছে দুনিয়া এবং উভয় স্থানের সওয়াবই (পুরস্কারই) রয়েছে। সব কিছু শুনেন, সব কিছু দেখেন।
হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা - মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্নীয় - স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও। কেউ যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে তাদের শুভাকাঙ্খী তোমাদের চাইতে বেশী। অতএব, তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা - বাসনার অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে - পেঁচিয়ে কথা বল কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে তোমাদের যাবতীয় কাজ কর্ম সম্পর্কেই অবগত।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! তোমরা সুবিচারের উপর মজবুত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকো আল্লাহর সাক্ষী হিসেবে, তা যদি তোমাদের নিজেদের, কিংবা তোমাদের পিতা - মাতা বা নিকটজনের বিরুদ্ধেও যায়। সে বিত্তবান হোক কিংবা অভাবী, তাদের উভয়েরই ঘনিষ্ঠতর। সুতরাং তোমরা সুবিচার করতে গিয়ে খেয়াল খুশির অনুগামী হয়োনা। তোমরা যদি পেঁচালো কথা বলো, কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে জেনে রাখো, তোমরা যা করো সে বিষয়ে খবর রাখেন।
Ya ayyuha allatheena amanoo koonoo qawwameena bialqisti shuhadaa lillahi walaw AAala anfusikum awi alwalidayni waalaqrabeena in yakun ghaniyyan aw faqeeran faAllahu awla bihima fala tattabiAAoo alhawa an taAAdiloo wain talwoo aw tuAAridoo fainna Allaha kana bima taAAmaloona khabeeran
হে ঈমানদারগণ, আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন কর এবং বিশ্বাস স্থাপন কর তাঁর রসূলও তাঁর কিতাবের উপর, যা তিনি নাযিল করেছেন স্বীয় রসূলের উপর এবং সেসমস্ত কিতাবের উপর, যেগুলো নাযিল করা হয়েছিল ইতিপূর্বে। যে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাদের উপর, তাঁর কিতাব সমূহের উপর এবং রসূলগণের উপর ও কিয়ামতদিনের উপর বিশ্বাস করবে না, সে পথভ্রষ্ট হয়ে বহু দূরে গিয়ে পড়বে।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে লোকেরা! তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলের প্রতি, আর সেই কিতাবের প্রতি যা তিনি নাযিল করেছেন তাঁর রসূলের কাছে এবং ঐ কিতাবের প্রতিও যা তিনি নাযিল করেছেন তার পূর্বে। যে কেউ কুফুরি করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রসূলদের প্রতি এবং পরকালের প্রতি, সে তো বিপথগামী হয়ে চলে যাবে বহু দূর।
যারা একবার মুসলমান হয়ে পরে পুনরায় হয়ে গেছে, আবার মুসলমান হয়েছে এবং আবারো হয়েছে এবং কুফরীতেই উন্নতি লাভ করেছে, তাদেরকে না কখনও ক্ষমা করবেন, না পথ দেখাবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা ঈমান এনেছে, তারপর কুফুরি করেছে, তারপর ঈমান এনেছে, তারপরও কুফুরি করেছে, তারপর কুফুরিতে অগ্রসর হয়েছে। কিছুতেই তাদের ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে সঠিক পথও দেখাবেন না।
আর কোরআনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতি এই হুকুম জারি করে দিয়েছেন যে, যখন তা’ আলার আয়াতসমূহের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ও বিদ্রুপ হতে শুনবে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা প্রসঙ্গান্তরে চলে যায়। তা না হলে তোমরাও তাদেরই মত হয়ে যাবে। দোযখের মাঝে মুনাফেক ও কাফেরদেরকে একই জায়গায় সমবেত করবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি তো তোমাদের জন্যে কিতাবে একথা আগেই নাযিল করেছেন যে, তোমরা যখন শুনবে আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করা হচ্ছে এবং তা নিয়ে বিদ্রূপ করা হচ্ছে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবেনা যতোক্ষণ না তারা অন্য প্রসঙ্গে চলে যাবে। তা না হলে তোমরাও তাদের অনুরূপ বলে গণ্য হবে। মুনাফিক এবং কাফিরদের জাহান্নামে একত্র করবেন।
এরা এমনি মুনাফেক যারা তোমাদের কল্যাণ - অকল্যাণের প্রতীক্ষায় ওঁৎপেতে থাকে। অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছায় তোমাদের যদি কোন বিজয় অর্জিত হয়, তবে তারা বলে, আমরাও কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? পক্ষান্তরে কাফেরদের যদি আংশিক বিজয় হয়, তবে বলে, আমরা কি তোমাদেরকে ঘিরে রাখিনি এবং মুসলমানদের কবল থেকে রক্ষা করিনি? সুতরাং তোমাদের মধ্যে কেয়ামতের দিন মীমাংসা করবেন এবং কিছুতেই কাফেরদেরকে মুসলমানদের উপর বিজয় দান করবেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা তোমাদের অকল্যাণের অপেক্ষায় থাকে, তারপর যখনই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের বিজয় অর্জিত হয়, তখন তারা বলে: ‘আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না?’ আর যদি কাফিরদের আংশিক বিজয় হয়, তখন তারা বলে: ‘আমরা কি তোমাদের পরিবেষ্টন করে রাখিনি এবং মুমিনদের হাত থেকে রক্ষা করিনি?’ কিয়ামতের দিনই তোমাদের মাঝে ফয়সালা করে দেবেন। কখনো মুমিনদের বিরুদ্ধে কাফিরদের কোনো পথ করে দেবেন না।
অবশ্যই মুনাফেকরা প্রতারণা করছে আল্লাহর সাথে, অথচ তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতারিত করে। বস্তুতঃ তারা যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন দাঁড়ায়, একান্ত শিথিল ভাবে লোক দেখানোর জন্য। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে ধোকাবাজি করে। আসলে তিনিই তাদের ধোকায় ফেলে রেখেছেন। তারা যখন সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়ায়, তখন আলস্যের সাথে দাঁড়ায়। তারা সালাতে আসে লোক দেখানোর জন্যে এবং খুব কমই তারা আল্লাহকে স্মরণ করে।
Inna almunafiqeena yukhadiAAoona Allaha wahuwa khadiAAuhum waitha qamoo ila alssalati qamoo kusala yuraoona alnnasa wala yathkuroona Allaha illa qaleelan
অবশ্য যারা তওবা করে নিয়েছে, নিজেদের অবস্থার সংস্কার করেছে এবং আল্লাহর পথকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে আল্লাহর ফরমাবরদার হয়েছে, তারা থাকবে মুসলমানদেরই সাথে। বস্তুতঃ শীঘ্রই ঈমানদারগণকে মহাপূণ্য দান করবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তবে যারা তওবা করে, নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয়, আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং আল্লাহর জন্যে নিজেদের দীনকে একনিষ্ঠ করে নেয়, তারা মুমিনদের সাথে থাকবে। শীঘ্রি মুমিনদের দান করবেন মহাপুরস্কার।
যারা ও তার রসূলের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী তদুপরি ও রসূলের প্রতি বিশ্বাসে তারতম্য করতে চায় আর বলে যে, আমরা কতককে বিশ্বাস করি কিন্তু কতককে প্রত্যাখ্যান করি এবং এরই মধ্যবর্তী কোন পথ অবলম্বন করতে চায়।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা কুফুরি করে আল্লাহর প্রতি, তাঁর রসূলদের প্রতি আর ও তাঁর রসূলদের মধ্যে ফারাক সৃষ্টি করে দিতে চায় এবং বলে: ‘আমরা কিছু মানি, আর কিছু মানি না’ আর তারা এ দুয়ের মধ্যবর্তী কোনো পথ অবলম্বন করতে চায়,
আর যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর রসূলের উপর এবং তাঁদের কারও প্রতি ঈমান আনতে গিয়ে কাউকে বাদ দেয়নি, শীঘ্রই তাদেরকে প্রাপ্য সওয়াব দান করা হবে। বস্তুতঃ ক্ষমাশীল দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি, তাঁর রসূলদের প্রতি এবং তাদের কারো মধ্যে কোনো ফারাক করেনা, অচিরেই এদের তিনি পুরস্কার দেবেন তাদের প্রাপ্য পুরস্কার, এবং ক্ষমাশীল দয়াময়।
আপনার নিকট আহলে - কিতাবরা আবেদন জানায় যে, আপনি তাদের উপর আসমান থেকে লিখিত কিতাব অবতীর্ণ করিয়ে নিয়ে আসুন। বস্তুতঃ এরা মূসার কাছে এর চেয়েও বড় জিনিস চেয়েছে। বলেছে, একেবারে সামনাসামনিভাবে আমাদের আল্লাহকে দেখিয়ে দাও। অতএব, তাদের উপর বজ্রপাত হয়েছে তাদের পাপের দরুন; অতঃপর তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ - নিদর্শন প্রকাশিত হবার পরেও তারা গো - বৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল; তাও আমি ক্ষমা করে দিয়েছিলাম এবং আমি মূসাকে প্রকৃষ্ট প্রভাব দান করেছিলাম।
আবদুস শহীদ নাসিম
আহলে কিতাবের লোকেরা তোমার কাছে দাবি করে, তুমি যেনো আসমান থেকে তাদের জন্যে একটি কিতাব নাযিল করো। মূসার কাছে তারা এর চাইতেও বড় জিনিস দাবি করেছিল। তারা (মূসাকে) বলেছিল: ‘আমাদেরকে প্রকাশ্যে আল্লাহকে দেখাও’। তাদের এই সীমালংঘনের কারণে বজ্রাঘাতে তারা মারা পড়েছিল। তারপরেও তারা গরুর বাছুরকে দেবতা হিসেবে গ্রহণ করেছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পর। তারপরও আমরা তাদের ক্ষমা করে দিয়েছিলাম এবং মূসাকে প্রদান করেছিলাম সুস্পষ্ট প্রমাণ।
আর তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নেবার উদ্দেশ্যে আমি তাদের উপর তূর পর্বতকে তুলে ধরেছিলাম এবং তাদেরকে বলেছিলাম, অবনত মস্তকে দরজায় ঢোক। আর বলেছিলাম, শনিবার দিন সীমালংঘন করো না। এভাবে তাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলাম।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা তাদের থেকে অঙ্গীকার নেয়ার জন্যে তুর পাহাড়কে তাদের উপরে তুলে ধরেছিলাম এবং তাদের বলেছিলাম: ‘অবনত শিরে এই গেইট দিয়ে প্রবেশ করো।’ আমরা তাদের আরো বলেছিলাম: ‘শনিবারে বাড়াবাড়ি করোনা’। তাদের থেকে আমরা মজবুত অঙ্গীকার আদায় করেছিলাম।
অতএব, তারা যে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছিল, তা ছিল তাদেরই অঙ্গীকার ভঙ্গর জন্য এবং অন্যায়ভাবে রসূলগণকে হত্যা করার কারণে এবং তাদের এই উক্তির দরুন যে, আমাদের হৃদয় আচ্ছন্ন। অবশ্য তা নয়, বরং কুফরীর কারণে স্বয়ং তাদের অন্তরের উপর মোহর এঁটে দিয়েছেন। ফলে এরা ঈমান আনে না কিন্তু অতি অল্পসংখ্যক।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা অভিশপ্ত হয়েছে তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে, আল্লাহর আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করার কারণে, অন্যায়ভাবে নবীদের হত্যা করার কারণে এবং তাদের এই কথার কারণে যে: ‘আমাদের অন্তর আচ্ছাদিত’। বরং তাদের কুফুরির কারণে তাদের অন্তর সীলমোহর করে দিয়েছেন। ফলে তারা আর ঈমান আনবে না, স্বল্প সংখ্যক ছাড়া।
আর তাদের একথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল। অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে, আর না শুলীতে চড়িয়েছে, বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছিল। বস্তুতঃ তারা এ ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোন খবরই রাখে না। আর নিশ্চয়ই তাঁকে তারা হত্যা করেনি।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর তাদের এ কথার কারণেও যে, ‘আমরা আল্লাহর রসূল মরিয়মের পুত্র ঈসা মসিহ্কে হত্যা করেছি।’ অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি, ক্রুশবিদ্ধও করেনি, বরং তাদের এ রকম বিভ্রম হয়েছিল। যারা তার সম্পর্কে মতভেদ করেছিল, তারা অবশ্যি এ বিষয়ে সংশয়ের মধ্যে ছিলো। অনুমানের অনুগামী হওয়া ছাড়া এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞানই ছিলনা। তারা যে তাকে হত্যা করেনি, তা নিশ্চিত।
বস্তুতঃ ইহুদীদের জন্য আমি হারাম করে দিয়েছি বহু পূত - পবিত্র বস্তু যা তাদের জন্য হালাল ছিল - তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহর পথে অধিক পরিমাণে বাধা দানের দরুন।
আবদুস শহীদ নাসিম
ইহুদিদের যুলুমের কারণে আমরা তাদের জন্যে হারাম করে দিয়েছি ভালো ভালো সেসব জিনিস, যা তাদের জন্যে হালাল ছিলো এবং আল্লাহর পথে যে তারা অনেককে বাধা দেয় সে কারণে।
আর এ কারণে যে, তারা সুদ গ্রহণ করত, অথচ এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং এ কারণে যে, তারা অপরের সম্পদ ভোগ করতো অন্যায় ভাবে। বস্তুত; আমি কাফেরদের জন্য তৈরী করে রেখেছি বেদনাদায়ক আযাব।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাছাড়া তাদের সুদ গ্রহণের কারণে, যা থেকে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল। আর অন্যায়ভাবে মানুষের অর্থসম্পদ গ্রাস করার করণে। আমরা কাফিরদের জন্যে তৈরি করে রেখেছি বেদানাদায়ক আযাব।
কিন্তু যারা তাদের মধ্যে জ্ঞানপক্ক ও , তারা তাও মান্য করে যা আপনার উপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আপনার পূর্বে। আর যারা নামাযে অনুবর্তিতা পালনকারী, যারা যাকাত দানকারী এবং যারা ও কেয়ামতে আস্থাশীল। বস্তুতঃ এমন লোকদেরকে আমি দান করবো মহাপুণ্য।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের মধ্যে যারা জ্ঞানে গভীরতা রাখে তারা এবং মুমিনরা ঈমান রাখে যা আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি সেটার প্রতি এবং যা আমরা তোমার আগে নাযিল করেছি তার প্রতিও। তারা কায়েমকারী, যাকাত প্রদানকারী এবং ও পরকালের প্রতি ঈমান পোষণকারী। আমরা এদের শীঘ্রি প্রদান করবো মহাপুরস্কার।
আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি, যেমন করে ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহের প্রতি এবং সে সমস্ত নবী - রসূলের প্রতি যাঁরা তাঁর পরে প্রেরিত হয়েছেন। আর ওহী পাঠিয়েছি, ইসমাঈল, ইব্রাহীম, ইসহাক, ইয়াকুব, ও তাঁর সন্তাবর্গের প্রতি এবং ঈসা, আইয়ুব, ইউনূস, হারুন ও সুলায়মানের প্রতি। আর আমি দাউদকে দান করেছি যবুর গ্রন্থ।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা তোমার কাছে অহি পাঠিয়েছি, যেমন পাঠিয়েছিলাম নূহের কাছে এবং তার পরের নবীদের কাছে, ইবরাহিম, ইসমাঈল, ইয়াকুব ও তার বংশধরদের কাছে এবং ঈসা, আইউব, ইউনুস, হারূণ ও সুলাইমানের কাছে, আর আমরা দাউদকে দিয়েছিলাম যবুর।
এছাড়া এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের ইতিবৃত্ত আমি আপনাকে শুনিয়েছি ইতিপূর্বে এবং এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের বৃত্তান্ত আপনাকে শোনাইনি। আর মূসার সাথে কথোপকথন করেছেন সরাসরি।
আবদুস শহীদ নাসিম
এছাড়া আরো অনেক রসূল। তাদের কথা আমরা আগেই তোমাকে জানিয়েছি আর অনেক রসূলের কথা আমরা তোমাকে বলিনি। এছাড়া মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন।
সুসংবাদদাতা ও ভীতি - প্রদর্শনকারী রসূলগণকে প্রেরণ করেছি, যাতে রসূলগণের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মত কোন অবকাশ মানুষের জন্য না থাকে। প্রবল পরাক্রমশীল, প্রাজ্ঞ।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা ছিলো সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রসূল, যাতে করে রসূল আসার পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অভিযোগ করার সুযোগ না থাকে। আর তো মহাশক্তিমান ও মহাপ্রজ্ঞাবান।
আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তিনি যে তা সজ্ঞানেই করেছেন, সে ব্যাপারে নিজেও সাক্ষী এবং ফেরেশতাগণও সাক্ষী। আর সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।
আবদুস শহীদ নাসিম
সাক্ষ্য দিচ্ছেন তোমার প্রতি যা নাযিল করেছেন তার মাধ্যমে যে, তিনি তা নাযিল করেছেন নিজ জ্ঞানের ভিত্তিতে, ফেরেশতারাও এ সাক্ষ্য দেয়। আর সাক্ষী হিসেবে তো আল্লাহই যথেষ্ট।
হে মানবজাতি! তোমাদের পালনকর্তার যথার্থ বাণী নিয়ে তোমাদের নিকট রসূল এসেছেন, তোমরা তা মেনে নাও যাতে তোমাদের কল্যাণ হতে পারে। আর যদি তোমরা তা না মান, জেনে রাখ আসমানসমূহে ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সে সবকিছুই আল্লাহর। আর হচ্ছেন সর্বজ্ঞ, প্রাজ্ঞ।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে মানুষ! এই রসূল তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এসেছে মহাসত্য নিয়ে। সুতরাং তোমরা তার প্রতি ঈমান আনো, এটাই হবে তোমাদের জন্যে কল্যাণবহ। কিন্তু তোমরা যদি অস্বীকার করো, তবে জেনে রাখো, মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। আর মহাজ্ঞানী, মহাপ্রজ্ঞাবান।
হে আহলে - কিতাবগণ! তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর শানে নিতান্ত সঙ্গত বিষয় ছাড়া কোন কথা বলো না। নিঃসন্দেহে মরিয়ম পুত্র মসীহ ঈসা আল্লাহর রসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি প্রেরণ করেছেন মরিয়মের নিকট এবং রূহ - তাঁরই কাছ থেকে আগত। অতএব, তোমরা আল্লাহকে এবং তার রসূলগণকে মান্য কর। আর একথা বলো না যে, তিনের এক, একথা পরিহার কর; তোমাদের মঙ্গল হবে। নিঃসন্দেহে একক উপাস্য। সন্তান - সন্ততি হওয়াটা তাঁর যোগ্য বিষয় নয়। যা কিছু আসমান সমূহ ও যমীনে রয়েছে সবই তার। আর কর্মবিধানে আল্লাহই যথেষ্ট।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে আহলে কিতাব! তোমরা তোমাদের দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করোনা এবং আল্লাহর সম্পর্কে সত্য ছাড়া বলোনা। নিশ্চয়ই মরিয়মের পুত্র ঈসা মসিহ্ আল্লাহর একজন রসূল এবং তাঁর বাণী, যা তিনি নিক্ষেপ করেছিলেন মরিয়মের প্রতি, আর সে আল্লাহর একটি আদেশ। সুতরাং তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলদের প্রতি, আর তোমরা তিন খোদা বলো না। তোমরা এ থেকে বিরত হও, এটাই তোমাদের জন্যে কল্যাণকর। নিশ্চয়ই একমাত্র ইলাহ্। তাঁর সন্তান থাকবে - এমন বিষয় থেকে তিনি পবিত্র। মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তো তাঁর। উকিল হিসেবে আল্লাহই কাফী (যথেষ্ট)।
মসীহ আল্লাহর বান্দা হবেন, তাতে তার কোন লজ্জাবোধ নেই এবং ঘনিষ্ঠ ফেরেশতাদেরও না। বস্তুতঃ যারা আল্লাহর দাসত্বে লজ্জাবোধ করবে এবং অহংকার করবে, তিনি তাদের সবাইকে নিজের কাছে সমবেত করবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
মসিহ্ (ঈসা) আল্লাহর বান্দা হওয়াকে কখনো ছোট করে দেখেনি, নৈকট্য লাভকারী ফেরেশতারাও নয়। যে কেউ আল্লাহর দাসত্ব করাকে হেয় জ্ঞান করবে এবং অহংকার করবে, তিনি তাদের সবাইকে অবশ্যি তাঁর কাছে জমা করবেন।
অতঃপর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তিনি তাদেরকে পরিপূর্ণ সওয়াব দান করবেন, বরং স্বীয় অনুগ্রহে আরো বেশী দেবেন। পক্ষান্তরে যারা লজ্জাবোধ করেছে এবং অহঙ্কার করেছে তিনি তাদেরকে দেবেন বেদনাদায়ক আযাব। আল্লাহকে ছাড়া তারা কোন সাহায্যকারী ও সমর্থক পাবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তবে যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ্ করবে, তিনি তাদের পুরোপুরি দান করবেন তাদের পুরস্কার এবং নিজ অনুগ্রহ থেকে তাদের আরো বেশি করে দেবেন। কিন্তু যারা হেয় জ্ঞান করবে এবং অহংকার করবে তাদের তিনি আযাব দেবেন বেদনাদায়ক আযাব। তারা আল্লাহর পরিবর্তে কোনো পৃষ্ঠপোষক কিংবা সাহায্যকারী পাবেনা।
হে মানবকুল! তোমাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট সনদ পৌঁছে গেছে। আর আমি তোমাদের প্রতি প্রকৃষ্ট আলো অবতীর্ণ করেছি।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে মানুষ! অবশ্যি তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে একটি প্রমাণ, (মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ) আর আমরা তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি একটি সুস্পষ্ট নূর (আল কুরআন)।
অতএব, যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাতে দৃঢ়তা অবলম্বন করেছে তিনি তাদেরকে স্বীয় রহমত ও অনুগ্রহের আওতায় স্থান দেবেন এবং নিজের দিকে আসার মত সরল পথে তুলে দেবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাই যারা ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি এবং মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে তাঁকে, তিনি তাদের দাখিল করবেন তাঁর রহমত ও অনুগ্রহের মধ্যে এবং তাদের পরিচালিত করবেন তাঁর দিকে সিরাতুল মুসতাকিমে (সরল সঠিক পথে)।
মানুষ আপনার নিকট ফতোয়া জানতে চায় অতএব, আপনি বলে দিন, তোমাদিগকে কালালাহ এর মীরাস সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশ বাতলে দিচ্ছেন, যদি কোন পুরুষ মারা যায় এবং তার কোন সন্তানাদি না থাকে এবং এক বোন থাকে, তবে সে পাবে তার পরিত্যাক্ত সম্পত্তির অর্ধেক অংশ এবং সে যদি নিঃসন্তান হয়, তবে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে। তা দুই বোন থাকলে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ। পক্ষান্তরে যদি ভাই ও বোন উভয়ই থাকে, তবে একজন পুরুষের অংশ দুজন নারীর সমান। তোমরা বিভ্রান্ত হবে তোমাদিগকে সুস্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন। আর হচ্ছেন সর্ব বিষয়ে পরিজ্ঞাত।
আবদুস শহীদ নাসিম
লোকেরা তোমার কাছে ফতোয়া চাইছে। তুমি বলো: তোমাদের ফতোয়া দিচ্ছেন নিঃসন্তান পিতা - মাতাহীন ব্যক্তির ব্যাপারে: কোনো পুরুষ মারা গেলে তার যদি সন্তান না থাকে এবং থাকে যদি শুধু একজন বোন, তবে সে পাবে পরিত্যক্ত সম্পদের অর্ধেক। আর তার ঐ একক বোনটি যদি (তার আগে) মারা যায় তবে সে হবে তার ওয়ারিশ যদি তার কোনো সন্তান না থাকে। আর যদি দুই বোন থাকে, তবে তারা পাবে তার পরিত্যক্ত সম্পদের দুই তৃতীয়াংশ। কিন্তু যদি তারা একাধিক ভাই - বোন থাকে সে ক্ষেত্রে এক পুরুষের অংশ হবে দুই নারীর সমান। তোমাদের জন্যে সুস্পষ্ট বিধান দিচ্ছেন, যাতে করে তোমরা বিভ্রান্ত না হও। প্রতিটি বিষয়ে জ্ঞানী।