যারা মাপে কম করে, তাদের জন্যে দুর্ভোগ,
যারা মাপে - ওজনে কম দেয় তাদের জন্যে ওয়াইল (ধ্বংস)।
দুর্ভোগ তাহাদের জন্য যাহারা মাপে কম দেয়,
وَيْلٌ لِّلْمُطَفِّفِينَ
Chapter 83, 36 verses
যারা মাপে কম করে, তাদের জন্যে দুর্ভোগ,
যারা মাপে - ওজনে কম দেয় তাদের জন্যে ওয়াইল (ধ্বংস)।
দুর্ভোগ তাহাদের জন্য যাহারা মাপে কম দেয়,
وَيْلٌ لِّلْمُطَفِّفِينَ
যারা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয়, তখন পূর্ণ মাত্রায় নেয়
মানুষের কাছ থেকে মেপে নেয়ার সময় তারা পুরো মাত্রায় দাবি করে,
যাহারা লোকের নিকট হইতে মাপিয়া লইবার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে,
ٱلَّذِينَ إِذَا ٱكْتَالُوا۟ عَلَى ٱلنَّاسِ يَسْتَوْفُونَ
এবং যখন লোকদেরকে মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয়, তখন কম করে দেয়।
এবং যখন অন্যদের মেপে বা ওজন করে দেয়, তখন প্রাপ্যের চাইতে কম দেয়।
এবং যখন তাহাদের জন্য মাপিয়া অথবা ওজন করিয়া দেয়, তখন কম দেয়।
وَإِذَا كَالُوهُمْ أَو وَّزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ
তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে।
এরা কি ভাবেনা যে, (মৃত্যুর পর) এদের পুনরায় উঠিয়ে আনা হবে,
উহারা কি চিন্তা করে না যে, উহারা পুনরুত্থিত হইবে
أَلَا يَظُنُّ أُو۟لَٰٓئِكَ أَنَّهُم مَّبْعُوثُونَ
সেই মহাদিবসে,
এক মহা দিবসে?
মহাদিবসে?
لِيَوْمٍ عَظِيمٍ
যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে।
এটা হবে সেই দিন, যে দিন সমস্ত মানুষ দাঁড়াবে রাববুল আলামিনের সামনে।
যেদিন দাঁড়াইবে সমস্ত মানুষ জগতসমূহের প্রতিপালকের সম্মুখে।
يَوْمَ يَقُومُ ٱلنَّاسُ لِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
এটা কিছুতেই উচিত নয়, নিশ্চয় পাপাচারীদের আমলনামা সিজ্জীনে আছে।
কখনো নয়, বরং সীমালংঘনকারী পাপীদের রেকর্ড রাখা হয় সিজ্জীনে।
কখনও না, পাপাচারীদের ‘আমলনামা তো সিজ্জীনে আছে।
كَلَّآ إِنَّ كِتَٰبَ ٱلْفُجَّارِ لَفِى سِجِّينٍ
আপনি জানেন, সিজ্জীন কি?
তুমি কিভাবে জানবে, সিজজীন কী?
সিজ্জীন সম্পর্কে তুমি কী জান?
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا سِجِّينٌ
এটা লিপিবদ্ধ খাতা।
তা হচ্ছে খোদাই করা (তালিকার) রেকর্ড।
উহা চিহ্নিত ‘আমলনামা।
كِتَٰبٌ مَّرْقُومٌ
সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের,
যারা অস্বীকার করে, সেদিন তাদের জন্যে হবে ওয়াইল (ধ্বংস),
সেই দিন দুর্ভোগ হইবে অস্বীকারকারীদের,
وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِّلْمُكَذِّبِينَ
যারা প্রতিফল দিবসকে মিথ্যারোপ করে।
এরা তারা, যারা অস্বীকার করে বিচার ও প্রতিদান দিবসকে।
যাহারা কর্মফল দিবসকে অস্বীকার করে,
ٱلَّذِينَ يُكَذِّبُونَ بِيَوْمِ ٱلدِّينِ
প্রত্যেক সীমালংঘনকারী পাপিষ্ঠই কেবল একে মিথ্যারোপ করে।
সীমালংঘনকারী পাপিষ্ঠ ছাড়া আর কেউ - ই অস্বীকার করেনা সেই দিবসকে।
কেবল প্রত্যেক পাপিষ্ঠ সীমালংঘনকারী ইহা অস্বীকার করে ;
وَمَا يُكَذِّبُ بِهِۦٓ إِلَّا كُلُّ مُعْتَدٍ أَثِيمٍ
তার কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হলে সে বলে, পুরাকালের উপকথা।
তাকে যখন আমার (কুরআনের) আয়াত শুনানো হয়, সে বলে : এ - তো সেকালের লোকদের উপকথা।
উহার নিকট আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হইলে সে বলে, ‘ইহা পূর্ববর্তীদের উপকথা।’
إِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِ ءَايَٰتُنَا قَالَ أَسَٰطِيرُ ٱلْأَوَّلِينَ
কখনও না, বরং তারা যা করে, তাই তাদের হৃদয় মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে।
না, তা কখনো নয়, বরং তাদের হৃদয়গুলোতে জঙ ধরিয়ে দিয়েছে তাদের (মন্দ) কৃতকর্ম।
কখনও নয় ; বরং উহাদের কৃতকর্মই উহাদের হৃদয়ে জঙ্ ধরাইয়াছে।
كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَىٰ قُلُوبِهِم مَّا كَانُوا۟ يَكْسِبُونَ
কখনও না, তারা সেদিন তাদের পালনকর্তার থেকে পর্দার অন্তরালে থাকবে।
কখনো নয়, সেদিন অবশ্যি তাদেরকে তাদের প্রভুর দর্শন থেকে হিজাব করে (অন্তরালে) রাখা হবে।
না, অবশ্যই সেই দিন উহারা উহাদের প্রতিপালক হইতে অন্তর্হিত থাকিবে ;
كَلَّآ إِنَّهُمْ عَن رَّبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَّمَحْجُوبُونَ
অতঃপর তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
তারপর তারা অবশ্যি প্রবেশ করবে জাহিমে।
অতঃপর উহারা তো জাহান্নামে প্রবেশ করিবে ;
ثُمَّ إِنَّهُمْ لَصَالُوا۟ ٱلْجَحِيمِ
এরপর বলা হবে, একেই তো তোমরা মিথ্যারোপ করতে।
তখন তাদের বলা হবে : এটি সেই জিনিস, যা তোমরা অস্বীকার করতে।
তৎপর বলা হইবে, ‘ইহাই তাহা যাহা তোমরা অস্বীকার করিতে।’
ثُمَّ يُقَالُ هَٰذَا ٱلَّذِى كُنتُم بِهِۦ تُكَذِّبُونَ
কখনও না, নিশ্চয় সৎলোকদের আমলনামা আছে ইল্লিয়্যীনে।
কখনো নয়; অবশ্যি সৎ - সত্যপন্থী লোকদের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে ইল্লিয়্যিনে।
অবশ্যই পূণ্যবানদের ‘আমলনামা ‘ইল্লিয়্যীনে,
كَلَّآ إِنَّ كِتَٰبَ ٱلْأَبْرَارِ لَفِى عِلِّيِّينَ
আপনি জানেন ইল্লিয়্যীন কি?
তুমি কি জানো - ইল্লিয়্যিন কী?
‘ইল্লিয়্যীন সম্পর্কে তুমি কী জান ?
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا عِلِّيُّونَ
এটা লিপিবদ্ধ খাতা।
তা হচ্ছে খোদাই করা (তালিকার) রেকর্ড।
উহা চিহ্নিত ‘আমলনামা।
كِتَٰبٌ مَّرْقُومٌ
আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ একে প্রত্যক্ষ করে।
তার দেখাশুনায় নিয়োজিত আল্লাহর নিকটস্থ ফেরেশতারা।
যাহারা র সান্নিধ্যপ্রাপ্ত তাহারা উহা দেখে।
يَشْهَدُهُ ٱلْمُقَرَّبُونَ
নিশ্চয় সৎলোকগণ থাকবে পরম আরামে,
সৎ - সত্যপন্থী লোকেরা অবশ্যি থাকবে আনন্দ আর ভোগ বিলাসে।
পুণ্যবানগণ তো থাকিবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে,
إِنَّ ٱلْأَبْرَارَ لَفِى نَعِيمٍ
সিংহাসনে বসে অবলোকন করবে।
সিংহাসনে উপবেশন করে তারা দেখবে (সবকিছু)।
তাহারা সুসজ্জিত আসনে বসিয়া অবলোকন করিবে।
عَلَى ٱلْأَرَآئِكِ يَنظُرُونَ
আপনি তাদের মুখমন্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের সজীবতা দেখতে পাবেন।
তুমি তাদের চেহারায় দেখতে পাবে আনন্দের উজ্জ্বলতা।
তুমি তাহাদের মুখমণ্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের দীপ্তি দেখিতে পাইবে,
تَعْرِفُ فِى وُجُوهِهِمْ نَضْرَةَ ٱلنَّعِيمِ
তাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় পান করানো হবে।
তাদের পান করতে দেয়া হবে সীল করা বিশুদ্ধ শরাব (পানীয়)।
তাহাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় হইতে পান করান হইবে;
يُسْقَوْنَ مِن رَّحِيقٍ مَّخْتُومٍ
তার মোহর হবে কস্তুরী। এ বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত।
পান শেষে তারা সৌরভ পাবে মিশ্কের। অতএব যারা প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়, তারা এরি জন্যে অবতীর্ণ হোক প্রতিযোগিতায়।
উহার মোহর মিস্কের, এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক।
خِتَٰمُهُۥ مِسْكٌ وَفِى ذَٰلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ ٱلْمُتَنَٰفِسُونَ
তার মিশ্রণ হবে তসনীমের পানি।
সেই শরাব হবে তাসনিম মিশ্রিত।
উহার মিশ্রণ হইবে তাস্নীমের,
وَمِزَاجُهُۥ مِن تَسْنِيمٍ
এটা একটা ঝরণা, যার পানি পান করবে নৈকট্যশীলগণ।
এটা (তাসনিম) হলো একটা ঝর্ণা, যা থেকে পান করবে আল্লাহর নৈকট্য লাভকারীরা।
ইহা একটি প্রস্রবণ, যাহা হইতে সান্নিধ্যপ্রাপ্তরা পান করে।
عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا ٱلْمُقَرَّبُونَ
যারা অপরাধী, তারা বিশ্বাসীদেরকে উপহাস করত।
(পৃথিবীর জীবনে) যারা অপরাধ করতো, তারা ঈমানের পথে চলা লোকদের হাসি - ঠাট্টা করতো।
যাহারা অপরাধী তাহারা তো মু’মিনদেরকে উপহাস করিত।
إِنَّ ٱلَّذِينَ أَجْرَمُوا۟ كَانُوا۟ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ يَضْحَكُونَ
এবং তারা যখন তাদের কাছ দিয়ে গমন করত তখন পরস্পরে চোখ টিপে ইশারা করত।
এবং যখনই মুমিনদের নিকট দিয়ে গমনাগমন করতো, তাদের প্রতি (বিদ্রুপাত্মক) ইংগিত করতো।
এবং উহারা যখন মু’মিনদের নিকট দিয়া যাইত তখন চক্ষু টিপিয়া ইশারা করিত।
وَإِذَا مَرُّوا۟ بِهِمْ يَتَغَامَزُونَ
তারা যখন তাদের পরিবার - পরিজনের কাছে ফিরত, তখনও হাসাহাসি করে ফিরত।
এবং নিজেদের পরিবার - পরিজনের কাছে ফেরার সময় ফিরতো উৎফুল্ল হয়ে।
এবং যখন উহাদের আপনজনের নিকট ফিরিয়া আসিত তখন উহারা ফিরিত উৎফুল্ল হইয়া,
وَإِذَا ٱنقَلَبُوٓا۟ إِلَىٰٓ أَهْلِهِمُ ٱنقَلَبُوا۟ فَكِهِينَ
আর যখন তারা বিশ্বাসীদেরকে দেখত, তখন বলত, নিশ্চয় এরা বিভ্রান্ত।
আর মুমিনদের দেখলে বলতো : এরা সব বিপথগামী।
এবং যখন উহাদেরকে দেখিত তখন বলিত, ‘ইহারাই তো পথভ্রষ্ট।’
وَإِذَا رَأَوْهُمْ قَالُوٓا۟ إِنَّ هَٰٓؤُلَآءِ لَضَآلُّونَ
অথচ তারা বিশ্বাসীদের তত্ত্বাবধায়করূপে প্রেরিত হয়নি।
অথচ তাদেরকে এদের (মুমিনদের) উপর তত্ত্বাবধায়ক বানিয়ে পাঠানো হয়নি।
উহাদেরকে তো তাহাদের তত্ত্বাবধায়ক করিয়া পাঠান হয় নাই।
وَمَآ أُرْسِلُوا۟ عَلَيْهِمْ حَٰفِظِينَ
আজ যারা , তারা কাফেরদেরকে উপহাস করছে।
সুতরাং আজ মুমিনরা উপহাস করবে কাফিরদের সাথে।
আজ মু’মিনগণ উপহাস করিতেছে কাফিরদেরকে,
فَٱلْيَوْمَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مِنَ ٱلْكُفَّارِ يَضْحَكُونَ
সিংহাসনে বসে, তাদেরকে অবলোকন করছে,
সিংহাসনে বসে তারা দেখবে তাদের।
সুসজ্জিত আসন হইতে উহাদেরকে অবলোকন করিয়া।
عَلَى ٱلْأَرَآئِكِ يَنظُرُونَ
কাফেররা যা করত, তার প্রতিফল পেয়েছে তো?
কাফিরদেরকে তাদের কৃতকর্মের সওয়াব (পুরস্কার) কি (পুরোপুরি) দেয়া হলোনা?
কাফিররা উহাদের কৃতকর্মের ফল পাইল তো?
هَلْ ثُوِّبَ ٱلْكُفَّارُ مَا كَانُوا۟ يَفْعَلُونَ