Kitab

আল আ’রাফ

Chapter 7, 206 verses

  • মুহিউদ্দীন খান
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • জহুরুল হক
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মুহিউদ্দীন খান

আলিফ, লাম, মীম, ছোয়াদ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আলিফ লাম মিম সোয়াদ।

জহুরুল হক

আলিফ, লাম, মীম, স্বাদ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আলীফ, লাম, মিম, সোয়াদ।

মুহিউদ্দীন খান

এটি একটি গ্রন্থ, যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে করে আপনি এর মাধ্যমে ভীতি - প্রদর্শন করেন। অতএব, এটি পৌছে দিতে আপনার মনে কোনরূপ সংকীর্ণতা থাকা উচিত নয়। আর এটিই বিশ্বাসীদের জন্যে উপদেশ।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি একটি কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করা হচ্ছে। সুতরাং এর ব্যাপারে যেনো তোমার মনে কোনো প্রকার সংকোচ না থাকে। এটি নাযিল করার উদ্দেশ্য হলো, তুমি এর মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করবে আর এটি একটি উপদেশ মুমিনদের জন্যে।

জহুরুল হক

তোমার কাছে অবতীর্ণ একটি গ্রন্থ, - - অতএব তোমার বক্ষে এর জন্য কোন সংকোচ না থাকুক - - যেন তুমি এর দ্বারা সতর্ক করতে পারো, এবং মুমিনদের জন্য একটি স্মারক।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার নিকট কিতাব অবতীর্ণ করা হইয়াছে, তোমার মনে যেন ইহার সম্পর্কে কোন সঙ্কোচ না থাকে ইহার দ্বারা সতর্কীকরণের ব্যাপারে এবং মু’মিনদের জন্য ইহা উপদেশ।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা অনুসরণ কর, যা তোমাদের প্রতি পালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য সাথীদের অনুসরণ করো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যা নাযিল করা হচ্ছে তোমরা কেবল তারই ইত্তেবা (অনুসরণ) করো। তাঁকে (আল্লাহকে) ছাড়া অন্য অলিদের অনুসরণ করোনা। তবে তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো।

জহুরুল হক

''তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে তোমাদের কাছে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অনুসরণ করো আর তাঁকে বাদ দিয়ে অভিভাবকদের অনুসরণ করো না। অল্পই যা তোমরা মনে রাখো।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমাদের নিকট যাহা অবতীর্ণ করা হইয়াছে তোমরা তাহার অনুসরণ কর এবং তাঁহাকে ছাড়া অন্যান্য অভিভাবকের অনুসরণ করিও না। তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর। অনেক জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি। তাদের কাছে আমার আযাব রাত্রি বেলায় পৌছেছে অথবা দ্বিপ্রহরে বিশ্রামরত অবস্থায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

কতো যে জনপদ আমরা হালাক করে দিয়েছি। আমাদের শাস্তি সে জনপদে এসে পড়েছিল রাতের বেলা অথবা দুপুরে যখন তারা ছিলো বিশ্রামরত।

জহুরুল হক

আর জনবসতির মধ্যের কতটা যে আমরা ধ্বংস করেছি, তাই আমাদের শাস্তি তাতে এসেছিল নিশাকালে, অথবা তারা যখন দুপুরবেলায় ঘুম দিচ্ছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কত জনপদকে আমি ধ্বংস করিয়াছি! আমার শাস্তি তাহাদের উপর আপতিত হইয়াছিল রাত্রিতে অথবা দ্বিপ্রহরে যখন তাহারা বিশ্রামরত ছিল।

মুহিউদ্দীন খান

অনন্তর যখন তাদের কাছে আমার আযাব উপস্থিত হয়, তখন তাদের কথা এই ছিল যে, তারা বললঃ নিশ্চয় আমরা অত্যাচারী ছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের শাস্তি যখন তাদের উপর এসে পড়েছিল, তখন তাদের মুখে শুধু একটি কথাই ছিলো: ‘অবশ্যি আমরা যালিম।’

জহুরুল হক

কাজেই তাদের কাছে যখন আমাদের শাস্তি এসে পড়েছিল তখন তাদের অজুহাত আর কিছু ছিল না এই বলা ছাড়া - - ''নিঃসন্দেহ আমরা ছিলাম অন্যায়কারী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন আমার শাস্তি তাহাদের উপর আপতিত হইয়াছিল তখন তাহাদের কথা শুধু ইহাই ছিল যে, ‘নিশ্চয় আমরা ছিলাম।’

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করব যাদের কাছে রসূল প্রেরিত হয়েছিল এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করব রসূলগণকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদের কাছে রসূল পাঠানো হয়েছে তাদেরকে অবশ্যি আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করবো এবং জিজ্ঞাসাবাদ করবো রসূলদেরও।

জহুরুল হক

আমরা তখন তাদের অবশ্যই প্রশ্ন করবো যাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল, আর আমরা নিশ্চয়ই প্রেরিত - পুরুষগণকেও জিজ্ঞাসা করবো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর যাহাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করা হইয়াছিল তাহাদেরকে আমি জিজ্ঞাসা করিবই এবং রাসূলগণকেও জিজ্ঞাসা করিব।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি স্বজ্ঞানে তাদের কাছে অবস্থা বর্ণনা করব। বস্তুতঃ আমি অনুপস্থিত তো ছিলাম না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর পূর্ণ জ্ঞানের ভিত্তিতে তাদের কর্মকান্ডের বিবরণ তাদের সামনে তুলে ধরবো, আমরা তো আর (তাদের থেকে) ছিলাম না।

জহুরুল হক

তখন আমরা নিশ্চয়ই তাদের কাছে বর্ণনা করবো জ্ঞানের সাথে, আর আমরা তো অনুপস্থিত ছিলাম না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তৎপর তাহাদের নিকট পূর্ণ জ্ঞানের সঙ্গে তাহাদের কার্যাবলী বিবৃত করিবই, আর আমি তো অনুপস্থিত ছিলাম না।

মুহিউদ্দীন খান

আর সেদিন যথার্থই ওজন হবে। অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিনকার ওজন (ন্যায়বিচার) মহাসত্য ও বাস্তব। তারপর যাদের (নেক আমলের) পাল্লা ভারি হবে তারাই হবে ।

জহুরুল হক

আর সেদিন ওজন হবে সঠিকভাবে। কাজেই যার পাল্লা ভারী হবে তারাই তবে হবে ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেদিনের ওজন করা সত্য। যাহাদের পাল্লা ভারী হইবে তাহরাই হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারাই এমন হবে, যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে। কেননা, তারা আমার আয়াত সমূহ অস্বীকার করতো।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যাদের (ভালো কাজের) পাল্লা হবে হালকা, তারা হবে ঐসব লোক যারা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে আমাদের আয়াতের প্রতি যুলুম করার মাধ্যমে।

জহুরুল হক

আর যার পাল্লা হাল্কা হবে এরাই তবে তারা যারা তাদের আ‌ত্মার ক্ষতি সাধন করেছে, কেননা তারা আমাদের নির্দেশাবলীর প্রতি অন্যায় করেছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যাহাদের পাল্লা হাল্‌কা হইবে তাহারাই নিজেদের ক্ষতি করিয়াছে, যেহেতু তাহারা আমার নিদর্শনসমূহকে প্রত্যাখ্যান করিত।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তোমাদেরকে পৃথিবীতে ঠাই দিয়েছি এবং তোমাদের জীবিকা নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমাদের এই পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছি আর এখানেই তোমাদের জন্যে ব্যবস্থা করে দিয়েছি জীবিকার। খুব কমই তোমরা শোকর আদায় করো।

জহুরুল হক

আর আমরা তো পৃথিবীতে তোমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছি, আর তোমাদের জন্য তাতে করেছি জীবিকার ব্যবস্থা। অল্পই সেইটুকু যা কৃতজ্ঞতা তোমার জ্ঞাপন করো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তো তোমাদেরকে দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি এবং উহাতে তোমাদের জীবিকার ব্যবস্থাও করিয়াছি; তোমরা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, এরপর আকার - অবয়ব, তৈরী করেছি। অতঃপর আমি ফেরেশতাদেরকে বলছি - আদমকে সেজদা কর তখন সবাই সেজদা করেছে, কিন্তু ইবলীস সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত ছিল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তারপর তোমাদের আকৃতি দান করেছি, তারপর ফেরেশতাদের বলেছি, সাজদা করো আদমের প্রতি। তখন তারা সবাই সাজদা করেছিল ইবলিস ছাড়া। সে সাজদাকারীদের সাথে শামিল হয়নি।

জহুরুল হক

আর নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তারপর তোমাদের রূপদান করেছি, তারপর ফিরিশ্‌তাদের বললাম - - ''আদমের প্রতি সিজদা করো।’’ কাজেই তারা সিজদা করলো, কিন্তু ইবলীস করলো না সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলো না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করি, অতঃপর তোমাদের আকৃতি দান করি এবং তৎপর ফিরিশ্‌তাদেরকে আদমকে সিজদা করিতে বলি; ইবলীস ব্যতীত সকলেই সিজ্‌দা করিল। সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হইল না।

মুহিউদ্দীন খান

বললেনঃ আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোকে কিসে সেজদা করতে বারণ করল? সে বললঃ আমি তার চাইতে শ্রেষ্ট। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: ‘আমার নির্দেশ সত্ত্বেও কোন্ জিনিস তোমাকে বিরত রাখলো সাজদা করা থেকে?’ সে জবাব দেয়: ‘আমি তার (আদমের) চাইতে উত্তম। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো আগুন থেকে আর তাকে সৃষ্টি করেছো মাটি থেকে।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''কি তোমাকে বাধা দিয়েছিল যেজন্য তুমি সিজদা করলে না যখন আমি তোমাকে আদেশ করেছিলাম?’’ সে বললে - - ''আমি তার চাইতে শ্রেষ্ঠ, আমাকে তুমি আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছ, আর তাকে তুমি সৃষ্টি করেছ কাদা দিয়ে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি বলিলেন, ‘আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম তখন কী তোমাকে নিবৃত্ত করিল যে, তুমি সিজদা করিলে না ?’ সে বলিল, ‘আমি তাহার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ; তুমি আমাকে অগ্নি দ্বারা সৃষ্টি করিয়াছ এবং তাহাকে কর্দম দ্বারা সৃষ্টি করিয়াছ।’

মুহিউদ্দীন খান

বললেন তুই এখান থেকে যা। এখানে অহংকার করার কোন অধিকার তোর নাই। অতএব তুই বের হয়ে যা। তুই হীনতমদের অন্তর্ভুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: ‘বেরিয়ে যা এখান থেকে। এখানে থেকে অহংকার করার কোনো অধিকার তোর নেই। বেরিয়ে যা, নিশ্চয়ই তুই নিচু ও হীনদের একজন।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তবে এখানে থেকে রসাতলে যাও, তোমার জন্য নয় যে তুমি এখানে অহংকার করবে। কাজেই বেরিয়ে যাও, তুমি আলবৎ অধমদের মধ্যেকার।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি বলিলেন, ‘এই স্থান হইতে নামিয়া যাও, এখানে থাকিয়া অহংকার করিবে, ইহা হইতে পারে না। সুতরাং বাহির হইয়া যাও, তুমি অধমদের অন্তর্ভুক্ত।’

মুহিউদ্দীন খান

সে বললঃ আমাকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘আমাকে পুনরুত্থানকাল পর্যন্ত অবকাশ দিন।’

জহুরুল হক

সে বললে - - ''আমাকে সময় দাও সেইদিন পর্যন্ত যখন তারা পুনরুত্থিত হবে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দাও।’

মুহিউদ্দীন খান

বললেনঃ তোকে সময় দেয়া হল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: ‘যা, তুই অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''বেশ, তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের মধ্যেকার।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি বলিলেন, ‘যাহাদেরকে অবকাশ দেওয়া হইয়াছে তুমি অবশ্যই তাহাদের অন্তর্ভুক্ত হইলে।’

মুহিউদ্দীন খান

সে বললঃ আপনি আমাকে যেমন উদভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্য তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে বললো: ‘‘যেহেতু তুমি আমাকে বিপথগামী করলে, তাই আমি তাদের (আদম সন্তানদের বিপথগামী করার) জন্যে তোমার সরল সঠিক পথে ওঁৎ পেতে থাকবো।

জহুরুল হক

সে বললে - - ''তবে তুমি যেমন আমাকে বিপথে যেতে দিয়েছ, আমিও তেমনি ওত পেতে থাকবো তাদের জন্য তোমার সহজ - সঠিক পথে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘তুমি আমাকে শাস্তিদান করিলে, এইজন্য আমিও তোমার সরল পথে মানুষের জন্য নিশ্চয় ওঁৎ পাতিয়া থাকিব।

মুহিউদ্দীন খান

এরপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর আমি আসবো তাদের সামনে থেকে, তাদের পেছন থেকে, তাদের ডানে থেকে এবং তাদের বামে থেকে। ফলে তুমি তাদের অধিকাংশকেই পাবেনা শোকর গুজার।’’

জহুরুল হক

''তারপর আমি আলবৎ তাদের উপরে এসে পড়বো তাদের সামনে থেকে ও তাদের পেছন থেকে, আর তাদের ডাইনে থেকে ও তাদের বামে থেকে, আর তাদের অনেককেই তুমি কৃতজ্ঞ পাবে না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অতঃপর আমি তাহাদের নিকট আসিবই তাহাদের সম্মুখ, পশ্চাৎ, দক্ষিণ ও বাম দিক হইতে এবং তুমি তাহাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাইবে না।’

মুহিউদ্দীন খান

বললেনঃ বের হয়ে যা এখান থেকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে। তাদের যে কেউ তোর পথেচলবে, নিশ্চয় আমি তোদের সবার দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করে দিব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: ‘‘তুই বেরিয়ে যা ওখান থেকে ধিকৃত ও বিতাড়িত হয়ে। তাদের যে কেউ তোর অনুসরণ করবে, আমি অবশ্যি তোদের সবাইকে দিয়ে পূর্ণ করবো জাহান্নাম।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''বেরোও এখান থেকে, বেহায়া, বিতাড়িত! তাদের মধ্যের যে কেউ তোমার অনুসরণ করবে, - - আমি নিশ্চয় জাহান্নাম ভর্তি করবো তোমাদের মধ্যের সবকে দিয়ে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি বলিলেন, ‘এই স্থান হইতে ধিকৃত ও বিতাড়িত অবস্থায় বাহির হইয়া যাও। মানুষের মধ্যে যাহারা তোমার অনুসরণ করিবে নিশ্চয় আমি তোমাদের সকলের দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করিবই।’

মুহিউদ্দীন খান

হে আদম তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর। অতঃপর সেখান থেকে যা ইচ্ছা খাও তবে এ বৃক্ষের কাছে যেয়োনা তাহলে তোমরা গোনাহগার হয়ে যাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর হে আদম! তুমি এবং তোমার স্ত্রী বসবাস করো জান্নাতে। খাও যেখান থেকে ইচ্ছা। তবে তোমরা এই গাছটির কাছেও যেয়োনা, গেলে তোমরা যালিমদের মধ্যে শামিল হয়ে পড়বে।’’

জহুরুল হক

আর - - ''হে আদম! তুমি ও তোমার সঙ্গিনী এই বাগানে বসবাস করো, আর যেখান থেকে তোমরা চাও আহার করো, কিন্তু এই বৃক্ষের ধারেকাছেও যেও না, তাহলে তোমরা অন্যায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর এবং যেথা ইচ্ছা আহার কর, কিন্তু এই বৃক্ষের নিকটবর্তী হইও না; হইলে তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর শয়তান উভয়কে প্ররোচিত করল, যাতে তাদের অঙ্গ, যা তাদের কাছে গোপন ছিল, তাদের সামনে প্রকাশ করে দেয়। সে বললঃ তোমাদের পালনকর্তা তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করেননি; তবে তা এ কারণে যে, তোমরা না আবার ফেরেশতা হয়ে যাও - কিংবা হয়ে যাও চিরকাল বসবাসকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর শয়তান অস্অসা দিলো তাদের দুজনকে যাতে করে তাদের লজ্জাস্থান যা গোপন রাখা হয়েছিল তাদের কাছে, তা তাদের জন্যে প্রকাশ হয়ে পড়ে। সে তাদের বললো: ‘তোমাদের প্রভু যে তোমাদেরকে এই গাছের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন তার কারণ, পাছে তোমরা ফেরেশতা হয়ে না পড়ো, কিংবা তোমরা (এখানে) স্থায়ী হয়ে না যাও।’

জহুরুল হক

তারপর শয়তান তাদের কুমন্ত্রণা দিলে যেন সে তাদের কাছে প্রকাশ করতে পারে তাদের লজ্জার বিষয়ের যা তাদের কাছে গোপন ছিল, তাই সে বললে - - ''তোমাদের প্রভু এই গাছের থেকে তোমাদের নিষেধ করেন নি এই জন্য ছাড়া যে তোমরা ফিরিশ্‌তা হয়ে যাবে কিংবা তোমরা হবে চিরজীবীদের অন্তর্ভুক্ত।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তাহাদের লজ্জাস্থান, যাহা তাহাদের নিকট গোপন রাখা হইয়াছিল তাহা তাহাদের কাছে প্রকাশ করিবার জন্য শয়তান তাহাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল এবং বলিল, ‘পাছে তোমরা উভয়ে ফিরিশ্‌তা হইয়া যাও কিংবা তোমরা স্থায়ী হও এইজন্যই তোমাদের প্রতিপালক এই বৃক্ষ সম্বন্ধে তোমাদেরকে নিষেধ করিয়াছেন।’

মুহিউদ্দীন খান

সে তাদের কাছে কসম খেয়ে বললঃ আমি অবশ্যই তোমাদের হিতাকাঙ্খী।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে তাদের কাছে কসম খেয়ে বললো: ‘অবশ্যি আমি তোমাদের একজন কল্যাণকামী।’

জহুরুল হক

আর সে তাদের কাছে কসম খেলো - - ''নিঃসন্দেহ আমি তো তোমাদের জন্য সদুপদেশদাতাদের মধ্যেকার।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে তাহাদের উভয়ের নিকট শপথ করিয়া বলিল, ‘আমি তো তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষীদের একজন।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর প্রতারণাপূর্বক তাদেরকে সম্মত করে ফেলল। অনন্তর যখন তারা বৃক্ষ আস্বাদন করল, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের সামনে খুলে গেল এবং তারা নিজের উপর বেহেশতের পাতা জড়াতে লাগল। তাদের প্রতিপালক তাদেরকে ডেকে বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এ বৃক্ষ থেকে নিষেধ করিনি এবং বলিনি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে সে তাদের প্রতারিত করে অধপতিত করলো। তারপর যখন তারা সেই গাছের (ফল) আস্বাদন করলো, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়লো এবং জান্নাতের পাতা দিয়ে তারা নিজেদের ঢেকে নিতে থাকলো। এসময় তাদের প্রভু তাদের ডেকে বললেন: ‘আমি কি তোমাদেরকে এই গাছটির কাছে যেতে নিষেধ করিনি? আমি কি বলিনি শয়তান তোমাদের সুস্পষ্ট দুশমন?’

জহুরুল হক

এভাবে সে তাদের বিপথে চালালো প্রতারণার দ্বারা, অতঃপর তারা যখন বৃক্ষের আস্বাদ গ্রহণ করলো, তখন তাদের লজ্জা তাদের কাছে প্রকাশ পেলো, আর তারা তাদের আবৃত করতে লাগলো সেই বাগানের পাতা দিয়ে। আর তাদের প্রভু তাদের ডেকে বললেন - - ''আমি কি তোমাদের নিষেধ করি নি ঐ বৃক্ষ সন্বন্ধে, আর তোমাদের তো আমি বলেইছি যে শয়তান তোমাদের জন্য প্রকাশ্য শত্রু?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইভাবে সে তাহাদেরকে প্রবঞ্চনার দ্বারা অধঃপতিত করিল। তৎপর যখন তাহারা সেই বৃক্ষ - ফলের আস্বাদ গ্রহণ করিল, তখন তাহাদের লজ্জাস্থান তাহাদের নিকট প্রকাশ হইয়া পড়িল এবং তাহারা জান্নাতের পাতা দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করিতে লাগিল। তখন তাহাদের প্রতিপালক তাহাদেরকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এই বৃক্ষের নিকটবর্তী হইতে বারণ করি নাই এবং আমি কি তোমাদেরকে বলি নাই যে, শয়তান তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু ?’

মুহিউদ্দীন খান

তারা উভয়ে বললঃ হে আমাদের পালনকর্তা আমরা নিজেদের প্রতি জুলম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা ফরিয়াদ করলো: ‘আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছি। এখন তুমি যদি আমাদের ক্ষমা না করো এবং আমাদের দয়া না করো, তাহলে তো আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শামিল হয়ে পড়বো।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আমাদের প্রভু! আমরা আমাদের নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছি, আর যদি তুমি আমাদের পরিত্রাণ না করো ও আমাদের তুমি দয়া করো তাহলে আমরা নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবো।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলিল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করিয়াছি, যদি তুমি আমাদেরকে ক্ষমা না কর এবং দয়া না কর তবে তো আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হইব।’

মুহিউদ্দীন খান

বললেনঃ তোমরা নেমে যাও। তোমরা এক অপরের শত্রু। তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে বাসস্থান আছে এবং একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত ফল ভোগ আছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: ‘নেমে যাও, তোমরা পরস্পরের শত্রু। পৃথিবীতে একটা নির্দিষ্টকাল তোমরা অবস্থান করবে এবং ওখানেই তোমাদের জীবিকার ব্যবস্থা থাকবে।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - '' তোমরা অধঃপাতে যাও। তোমাদের কেউ কেউ অন্য কারোর শত্রু। আর তোমাদের জন্য পৃথিবীতে রয়েছে জিরানোর স্থান ও কিছু সময়ের জন্য সংস্থান।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি বলিলেন, ‘তোমরা নামিয়া যাও, তোমরা একে অন্যের শত্রু এবং পৃথিবীতে কিছুকালের জন্য তোমাদের বসবাস ও জীবিকা রহিল।’

মুহিউদ্দীন খান

বললেনঃ তোমরা সেখানেই জীবিত থাকবে, সেখানেই মৃত্যুবরন করবে এবং সেখান থেকেই পুনরুঙ্খিত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি আরো বললেন: ‘সেখানেই তোমরা জীবন যাপন করবে এবং সেখানেই তোমাদের মৃত্যু হবে আর সেখান থেকেই তোমাদের খারিজ (বের) করে আনা হবে।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''এইখানেই তোমরা জীবন যাপন করবে, আর এতেই তোমরা মৃত্যু বরণ করবে, আর এরই মধ্য থেকে তোমাদের পুনরুত্থিত করা হবে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি বলিলেন, ‘সেখানেই তোমরা জীবন যাপন করিবে, সেখানেই তোমাদের মৃত্যু হইবে এবং সেখান হইতেই তোমাদেরকে বাহির করিয়া আনা হইবে।’

মুহিউদ্দীন খান

হে বনী - আদম আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবর্তীণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র এবং পরহেযগারীর পোশাক, এটি সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতেরঅন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা - ভাবনা করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আদম সন্তান! আমরা তোমাদের জন্যে এক ধরণের পোশাক নাযিল করেছি তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার জন্যে আচ্ছাদন হিসেবে এবং শোভাবর্ধক হিসেবে, আর রয়েছে ‘তাকওয়ার পোশাক’, এ পোশাকই উত্তম। এ হলো আল্লাহর আয়াত, যাতে করে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

জহুরুল হক

হে আদম - সন্তানগণ! আমরা তোমাদের জন্য নিশ্চয়ই পোশাক পাঠিয়েছি তোমাদের লজ্জা ঢাকবার ও বেশভূষার জন্য। আর ধর্মপরায়ণতার পোশাক - - তাই সর্বশ্রেষ্ঠ। এ হচ্ছে ‌র নির্দেশাবলী থেকে, যেন তারা মনে রাখে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে বনী আদম! তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকিবার ও বেশ - ভূষার জন্য আমি তোমাদেরকে পরিচ্ছদ দিয়াছি এবং তাক্ওয়ার পরিচ্ছদ, ইহাই সর্বোৎকৃষ্ট। ইহা ‌র নিদর্শনসমূহের অন্যতম, যাহাতে তাহারা উপদেশ গ্রহণ করে।

মুহিউদ্দীন খান

হে বনী - আদম শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে; যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছি - যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখ না। আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি, , যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে বনি আদম! শয়তান যেনো তোমাদের ফিতনায় না ফেলে যেভাবে (ফিতনায় ফেলে) তোমাদের (আদি) পিতা মাতাকে বের করে দিয়েছিল জান্নাত থেকে। সে তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখাবার জন্যে তাদের লেবাস খসিয়ে দিয়েছিল। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে এমনভাবে দেখে, যেভাবে তোমরা তাদের দেখোনা। যারা ঈমান আনেনা তাদের জন্যে আমরা অলি বানিয়ে দিয়েছি শয়তানদের।

জহুরুল হক

হে আদম - সন্তানগণ! শয়তান যেন তোমাদের কিছুতেই প্রলোভিত না করে, যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে বের করে দিয়েছিল এই বাগান থেকে, তাদের থেকে তাদের পোশাক ছিন্ন ক’রে, যেন সে তাদের দেখাতে পারে তাদের লজ্জা। নিঃসন্দেহ সে তোমাদের দেখে - - সে ও তার কাফেলা, যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না। নিঃসন্দেহ আমরা শয়তানকে বানিয়েছি তাদের অভিভাবক যারা বিশ্বাস করে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে বনী আদম! শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই প্রলুব্ধ না করে - যেভাবে তোমাদের পিতামাতাকে সে জান্নাত হইতে বহিষ্কার করিয়াছিল, তাহাদেরকে তাহাদের লজ্জাস্থান দেখাইবার জন্য বিবস্ত্র করিয়াছিল। সে নিজে এবং তাহার দল তোমাদেরকে এমনভাবে দেখে যে, তোমরা তাহাদেরকে দেখিতে পাও না। যাহারা ঈমান আনে না, শয়তানকে আমি তাহাদের অভিভাবক করিয়াছি।

মুহিউদ্দীন খান

তারা যখন কোন মন্দ কাজ করে, তখন বলে আমরা বাপ - দাদাকে এমনি করতে দেখেছি এবং আল্লাহও আমাদেরকে এ নির্দেশই দিয়েছেন। মন্দকাজের আদেশ দেন না। এমন কথা আল্লাহর প্রতি কেন আরোপ কর, যা তোমরা জান না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখন কোনো ফাহেশা কাজ করে, তখন বলে: ‘আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের এরকম করতে দেখেছি। আল্লাহ্ই আমাদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন।’ বলো: ‘ ফাহেশা কাজের নির্দেশ দেননা। কেন তোমরা আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করছো যা তোমরা জানোনা?’

জহুরুল হক

আর যখন তারা কোনো অশ্লীল আচরণ করে তখন বলে - - ''আমরা আমাদের পিতৃপুরুষকে এতে পেয়েছি, আর আমাদের এতে আদেশ করেছেন।’’ বলো - - ''নিঃসন্দেহ অশ্লীলতাতে আদেশ করেন না। তোমরা কি ‌র বিরুদ্ধে বলো যা তোমরা জানো না?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন তাহারা কোন অশ্লীল আচরণ করে তখন বলে, ‘আমরা আমাদের পূর্বপুরুষকে ইহা করিতে দেখিয়াছি এবং আল্লাহ্ও আমাদেরকে ইহার নির্দেশ দিয়াছেন।’ বল, ‘ অশ্লীল আচরণের নির্দেশ দেন না। তোমরা কি সম্বন্ধে এমন কিছু বলিতেছ যাহা তোমরা জান না ?'

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলে দিনঃ আমার প্রতিপালক সুবিচারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তোমরা প্রত্যেক সেজদার সময় স্বীয় মুখমন্ডল সোজা রাখ এবং তাঁকে খাঁটি আনুগত্যশীল হয়ে ডাক। তোমাদেরকে প্রথমে যেমন সৃষ্টি করেছেন, পুনর্বারও সৃজিত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: আমার প্রভু ইনসাফের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রত্যেক মসজিদে (সালাতে) তোমরা তোমাদের লক্ষ্য স্থির করবে এবং আল্লাহর জন্যে আনুগত্য একনিষ্ঠ করে তাঁকে ডাকবে। তিনি তোমাদের প্রথম যেভাবে সৃষ্টি করেছেন, তোমরা ঠিক সেভাবেই ফিরে আসবে।

জহুরুল হক

তুমি বলো - - ''আমার প্রভু আদেশ দেন ন্যায় বিচারের, আর তোমাদের মুখ সোজা দাঁড় করো প্রত্যেক সিজদাস্থলে, আর তাঁকে ডাকো তাঁর প্রতি ধর্মে একনিষ্ঠভাবে।’’ যেমন তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছিলেন তোমরা সেভাবে ফিরে আসবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘আমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়াছেন ন্যায়বিচারের।’ প্রত্যেক সালাতে তোমাদের লক্ষ্য স্থির রাখিবে এবং তাঁহারই আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হইয়া একনিষ্ঠভাবে তাঁহাকে ডাকিবে। তিনি যেভাবে প্রথমে তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন তোমরা সেইভাবে ফিরিয়া আসিবে।

মুহিউদ্দীন খান

একদলকে পথ প্রদর্শন করেছেন এবং একদলের জন্যে পথভ্রষ্টতা অবধারিত হয়ে গেছে। তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেছে এবং ধারণা করে যে, তারা সৎপথে রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

একদলকে তিনি হিদায়াত দান করেছেন, আরেক দলের উপর গোমরাহি নির্ধারিত হয়ে গেছে। কারণ, তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানদের অলি বানিয়ে নিয়েছে এবং ধারণা করছে তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত।

জহুরুল হক

একদলকে তিনি সুপথগামী করেছেন, আর আরেক দলের পথভ্রান্তি তাদের উপরে সংগত হয়েছে। নিঃসন্দেহ তারা ‌কে ছেড়ে দিয়ে শয়তানদের গ্রহণ করেছিল অভিভাবকরূপে, আর তারা মনে করত যে তারা অবশ্যই সুপথে চালিত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

একদলকে তিনি সৎপথে পরিচালিত করিয়াছেন এবং অপর দলের পথভ্রান্তি নির্ধারিত হইয়াছে। তাহারা ‌কে ছাড়িয়া শয়তানকে তাহাদের অভিভাবক করিয়াছিল এবং মনে করিত তাহারাই সৎপথপ্রাপ্ত।

মুহিউদ্দীন খান

হে বনী - আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও, খাও ও পান কর এবং অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আদম সন্তান! প্রত্যেক মসজিদের (সালাতের) সময় তোমরা তোমাদের সুন্দর পোশাক পরবে। আর আহার করবে, পান করবে, কিন্তু অপচয় করবেনা, কারণ তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেননা।

জহুরুল হক

হে আদম - সন্তানরা! তোমাদের বেশভূষা গ্রহণ করো প্রত্যেক সিজদাস্থলে, আর খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না, নিঃসন্দেহ তিনি অমিতব্যয়ীদের ভালোবাসেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে বনী আদম ! প্রত্যেক সালাতের সময় তোমরা সুন্দর পরিচ্ছদ পরিধান করিবে, আহার করিবে ও পান করিবে কিন্তু অপচয় করিবে না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পসন্দ করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলুনঃ আল্লাহর সাজ - সজ্জাকে, যা তিনি বান্দাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র খাদ্রবস্তুসমূহকে কে হারাম করেছে? আপনি বলুনঃ এসব নেয়ামত আসলে পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্যে এবং কিয়ামতের দিন খাঁটিভাবে তাদেরই জন্যে। এমনিভাবে আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি তাদের জন্যে যারা বুঝে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘ তাঁর বান্দাদের জন্যে যেসব সুন্দর বস্ত্ত আর উত্তম জীবিকা সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো হারাম করলো কে?’ বলো: ‘সেগুলো তো মুমিনদেরই জন্যে এই দুনিয়ার জীবনে, বিশেষ করে কিয়ামত কালে।’ এভাবেই আমরা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করি আয়াত যারা জ্ঞান রাখে তাদের জন্যে।

জহুরুল হক

বলো - - ''কে নিষিদ্ধ করেছে ‌র শোভা, - - যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, আর জীবিকা থেকে বিশুদ্ধ বস্তুসমূহ?’’ বলো - - ''এ - সব এই দুনিয়ার জীবনে তাদের জন্য যারা ঈমান এনেছে, - - পুনর্জাগরণের দিনে বিশেষভাবে।’’ এইভাবে আমরা আমাদের নির্দেশাবলী বিশদভাবে ব্যাখ্যা করি তেমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা জানে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘ স্বীয় বান্দাদের জন্য যেসব শোভাময় বস্তু ও বিশুদ্ধ জীবিকা সৃষ্টি করিয়াছেন তাহা কে হারাম করিয়াছে ?’ বল, ‘পার্থিব জীবনে, বিশেষ করিয়া কিয়ামতের দিনে এই সমস্ত তাহাদের জন্য, যাহারা ঈমান আনে। এইভাবে আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন বিশদভাবে বিবৃত করি।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলে দিনঃ আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন গোনাহ, অন্যায় - অত্যাচার আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে অংশীদার করা, তিনি যার কোন, সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করা, যা তোমরা জান না।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘আমার প্রভু হারাম করে দিয়েছেন গোপন ও প্রকাশ্য ফাহেশা (অশ্লীল) কাজ, পাপকাজ, না হক বিদ্রোহ, তোমাদের আল্লাহর সাথে শিরক করা যার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি, এবং না জেনে বুঝে তোমাদের আল্লাহর সম্পর্কে কথা বলা।

জহুরুল হক

বলো - - ''নিঃসন্দেহ আমার প্রভু নিষিদ্ধ করেছেন অশ্লীলতা - - তার যা প্রকাশ পায় ও যা গোপন থাকে, আর পাপাচার, আর ন্যায়বিরুদ্ধ বিদ্রোহাচরণ, আর ‌র সঙ্গে তোমরা যা শরিক করো যার জন্য কোনো দলিল তিনি অবতীর্ণ করেন নি, আর যেন তোমরা ‌র বিরুদ্ধে বলো যা তোমরা জানো না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক হারাম করিয়াছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা আর পাপ এবং অসংগত বিরোধিতা এবং কোন কিছুকে ‌র শরীক করা - যাহার কোন সনদ তিনি প্রেরণ করেন নাই, এবং সম্বন্ধে এমন কিছু বলা যাহা তোমরা জান না।’

মুহিউদ্দীন খান

প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একটি মেয়াদ রয়েছে। যখন তাদের মেয়াদ এসে যাবে, তখন তারা না এক মুহুর্ত পিছে যেতে পারবে, আর না এগিয়ে আসতে পারবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রত্যেক উম্মতের একটি কাল - সীমা রয়েছে, যখন তাদের সেই সময়টি এসে পড়বে, তখন তারা মুহূর্তকাল বিলম্বও করতে পারবেনা এবং তার পূর্বেও সে কালটি শেষ করতে পারবেনা।

জহুরুল হক

আর প্রত্যেক জাতির জন্য রয়েছে একটি নির্ধারিত কাল, কাজেই যখন তাদের নির্ধারিত কাল এসে পড়ে তখন তারা দেরি করতে পারবে না ঘন্টাখানেকের জন্যে, আর তারা এগিয়েও আনতে পারবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রত্যেক জাতির এক নির্দিষ্ট সময় আছে। যখন তাহাদের সময় আসিবে তখন তাহারা মৃত্যুকাল বিলম্ব করিতে পারিবে না এবং ত্বরাও করিতে পারিবে না।

মুহিউদ্দীন খান

হে বনী - আদম, যদি তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে পয়গম্বর আগমন করে তোমাদেরকে আমার আয়াত সমূহ শুনায়, তবে যে ব্যক্তি সংযত হয় এবং সৎকাজ অবলম্বন করে, তাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে বনি আদম! যখন তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে রসূলরা এসে আমার আয়াত পেশ করবে, তখন যারা সতর্ক হবে এবং নিজেদের এসলাহ (সংশোধন) করে নেবে, তাদের কোনো ভয় ভীতিও থাকবেনা, দুঃখ দুশ্চিন্তাও থাকবেনা।

জহুরুল হক

হে আদমের বংশধরগণ! যখন তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্যে থেকে রসূলগণ আসেন তোমাদের কাছে আমার নির্দেশাবলী বর্ণনা করেন, তখন যে কেউ ভয় - ভক্তি করে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য তবে থাকবে না ভয়ভীতি, আর তারা করবেও না অনুতাপ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে বনী আদম ! যদি তোমাদের মধ্য হইতে কোন রাসূল তোমাদের নিকট আসিয়া আমার নিদর্শন বিবৃত করে তখন যাহারা সাবধান হইবে এবং নিজেদের সংশোধন করিবে, তাহা হইলে তাহাদের কোন ভয় থাকিবে না এবং তাহারা দুঃখিতও হইবে না।

মুহিউদ্দীন খান

যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলবে এবং তা থেকে অহংকার করবে, তারাই দোযখী এবং তথায় চিরকাল থাকবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা প্রত্যাখ্যান করবে আমার আয়াত এবং তার বিরুদ্ধে প্রকাশ করবে দাম্ভিকতা, তারা হবে আগুনের অধিবাসী এবং চিরকাল থাকবে তারা সেখানে।

জহুরুল হক

আর যারা আমাদের নির্দেশাবলীতে মিথ্যারোপ করে আর সে - সব থেকে গর্ববোধ করে, তারাই হচ্ছে আগুনের বাসিন্দা, তারা তাতে থাকবে দীর্ঘকাল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা আমার নিদর্শনকে অস্বীকার করিয়াছে এবং সে সম্বন্ধে অহংকার করিয়াছে তাহারাই দোজখবাসী, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর ঐ ব্যক্তির চাইতে অধিক জালেম কে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে অথবা তার নির্দেশাবলীকে মিথ্যা বলে? তারা তাদের গ্রন্থে লিখিত অংশ পেয়ে যাবে। এমন কি, যখন তাদের কাছে আমার প্রেরিত ফেরশতারা প্রাণ নেওয়ার জন্যে পৌছে, তখন তারা বলে; তারা কোথায় গেল, যাদের কে তোমরা ব্যতীত আহবান করতে? তারা উত্তর দেবেঃ আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে, তারা নিজেদের সম্পর্কে স্বীকার করবে যে, তারা অবশ্যই ছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করে, কিংবা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে তাঁর আয়াতকে? তাদের নসিবে যা লেখা আছে তা তাদের কাছে পৌঁছুবেই। অবশেষে তাদের কাছে পৌঁছে যাবে আমাদের নির্দেশ বাহকরা (ফেরেশতারা) তাদেরকে ওফাত (মৃত্যু) দেয়ার জন্যে। তারা তাদের জিজ্ঞাসা করবে: ‘তোমরা ছাড়া যাদের ডাকতে তারা কোথায়? তারা বলবে: ‘ওরা আমাদের থেকে উধাও হয়ে গেছে।’ তখন তারা তাদের নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে, তারা সত্যি ছিলো।

জহুরুল হক

অতএব তার চাইতে কে বেশী অন্যায়কারী যে সন্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে অথবা তাঁর নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করে? এরাই, - - এদের কাছে পৌঁছুবে কিতাব থেকে তাদের ভাগ। শেষ পর্যন্ত যখন আমাদের দূতরা তাদের কাছে আসবে তখন তারা তাদের মৃত্যু ঘটাবে, তারা বলবে - - ''কোথায় আছে তারা যাদের তোমরা আহ্বান করতে ‌কে ছেড়ে দিয়ে?’’ তারা বলবে - - ''তারা আমাদের থেকে চলে গেছে । আর তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে তারা নিঃসন্দেহ অবিশ্বাসী ছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে ব্যক্তি সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে কিংবা তাঁহার নিদর্শনকে অস্বীকার করে তাহার অপেক্ষা বড় আর কে ? তাহাদের জন্য যে হিস্‌সা লিপিবদ্ধ রহিয়াছে উহা তাহাদের নিকট পৌঁছিবে। যতক্ষণ না আমার ফিরিশ্‌তাগণ জান কবজের জন্য তাহাদের নিকট আসিবে ও জিজ্ঞাসা করিবে, ‘ ছাড়া যাহাদেরকে তোমরা ডাকিতে তাহারা কোথায় ?’ তাহারা বলিবে, ‘তাহারা আমাদের নিকট হইতে অন্তর্হিত হইয়াছে’ এবং তাহারা স্বীকার করিবে যে, তাহারা ছিল।

মুহিউদ্দীন খান

বলবেনঃ তোমাদের পূর্বে জিন ও মানবের যেসব সম্প্রদায় চলে গেছে, তাদের সাথে তোমরাও দোযখে যাও। যখন এক সম্প্রদায় প্রবেশ করবে; তখন অন্য সম্প্রদায়কে অভিসম্পাত করবে। এমনকি, যখন তাতে সবাই পতিত হবে, তখন পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক এরাই আমাদেরকে বিপথগামী করেছিল। অতএব, আপনি তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন। বলবেন প্রত্যেকেরই দ্বিগুণ; তোমরা জান না।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলবেন: ‘তোমাদের আগে যেসব জিন ও মানব সম্প্রদায় গত হয়েছে, তাদের সাথে জাহান্নামে দাখিল হও।’ যখনই একটি দল তাতে প্রবেশ করবে তখনই অপর দলকে তারা লানত দেবে। যখন সবাই তাতে একত্র হবে, তখন পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের বলবে: ‘আমাদের প্রভু! এরাই আমাদের গোমরাহ করেছিল, সুতরাং তাদের আগুনের আযাব দ্বিগুণ করে দাও।’ তিনি বলবেন: ‘প্রত্যেকের জন্যেই রয়েছে দ্বিগুণ, তবে তোমরা তা জানোনা।’

জহুরুল হক

তিনি বলবেন - - ''তোমরা প্রবেশ করো আগুনের মধ্যে দলগতভাবে যারা তোমাদের আগে গত হয়ে গেছে জিন ও মানুষের মধ্য থেকে। যখনি একটি দল প্রবেশ করবে সে অভিশাপ দেবে তার ভগিনীকে। তারপর যখন তারা সবে মিলে তাতে এসে পড়বে, তাদের পশ্চাদগামীরা তাদের অগ্রগামীদের সন্বন্ধে বলবে - - ''আমাদের প্রভু! এরা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল, সেজন্য তাদের দাও আগুন দ্বারা দ্বিগুণ শাস্তি।’’ তিনি বলবেন - - ''প্রত্যেকের জন্য রয়েছে দ্বিগুণ শাস্তি, কিন্তু তোমরা জানো না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বলিবেন, ‘তোমাদের পূর্বে যে জিন ও মানবদল গত হইয়াছে তাহাদের সঙ্গে তোমরা দোজখে প্রবেশ কর।’ যখনই কোন দল উহাতে প্রবেশ করিবে তখনই অপর দলকে তাহারা অভিসম্পাত করিবে, এমনকি যখন সকলে উহাতে একত্র হইবে তখন তাহাদের পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! ইহারাই আমাদেরকে বিভ্রান্ত করিয়াছিল; সুতরাং ইহাদেরকে দ্বিগুণ অগ্নি - শাস্তি দাও।’ বলিবেন, ‘প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রহিয়াছে, কিন্তু তোমরা জান না।’

মুহিউদ্দীন খান

পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদেরকে বলবেঃ তাহলে আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই অতএব, শাস্তি আস্বাদন কর স্বীয় কর্মের কারণে।

আবদুস শহীদ নাসিম

পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের বলবে: ‘আমাদের উপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সুতরাং তোমরা তোমাদের অর্জনের জন্যে স্বাদ গ্রহণ করো আযাবের।’

জহুরুল হক

আর তাদের অগ্রগামীরা তাদের পশ্চাদগামীদের বলবে - - ''তাহলে তোমাদের কারণে আমাদের উপরে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, অতএব তোমরা যা অর্জন করে যাচ্ছিলে তার জন্য শাস্তি আস্বাদন করো।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদেরকে বলিবে, ‘আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নাই, সুতরাং তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন কর।’

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং এগুলো থেকে অহংকার করেছে, তাদের জন্যে আকাশের দ্বার উম্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। যে পর্যন্ত না সূচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে। আমি এমনিভাবে পাপীদেরকে শাস্তি প্রদান করি।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আমাদের আয়াতের প্রতি মিথ্যারোপ করে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তার বিরুদ্ধে অহংকার করেছে, তাদের জন্যে আসমানের দুয়ার খোলা হবেনা এবং সূচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ না করা পর্যন্ত তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা। এরকম প্রতিফলই আমরা অপরাধীদের দিয়ে থাকি।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা আমাদের নির্দেশসমূহে মিথ্যারোপ করে আর সে - সব থেকে হামবড়াই করে, তাদের জন্য মহাকাশের দ্বার উন্নুক্ত করা হবে না আর তারা বেহেশতেও প্রবেশ করতে পারবে না, যে পর্যন্ত না উট প্রবেশ করে সূচের ছিদ্র দিয়ে। আর এইভাবে আমরা অপরাধীদের প্রতিফল দিই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা আমার নিদর্শনকে অস্বীকার এবং সে সম্বন্ধে অহংকার করে, তাহাদের জন্য আকাশের দ্বার উম্মুক্ত করা হইবে না এবং তাহারা জান্নাতেও প্রবেশ করিতে পারিবে না - যতক্ষণ না সূঁচের ছিদ্রপথে উষ্ট্র প্রবেশ করে। এইভাবে আমি অপরাধীদের প্রতিফল দিব।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের জন্যে নরকাগ্নির শয্যা রয়েছে এবং উপর থেকে চাদর। আমি এমনিভাবে জালেমদেরকে শাস্তি প্রদান করি।

আবদুস শহীদ নাসিম

জাহান্নামই হবে তাদের নিচের শয্যা এবং তাদের উপরের আচ্ছাদন। এভাবেই আমরা শাস্তি দিয়ে থাকি যালিমদের।

জহুরুল হক

তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শয্যা আর তাদের উপরে রয়েছে আবরণ। আর এইভাবে আমরা প্রতিফল দিই অন্যায় - কারীদের।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের শয্যা হইবে জাহান্নামের এবং তাহাদের উপরের আচ্ছাদনও; এইভাবে আমি জালিমদেরকে প্রতিফল দিব।

মুহিউদ্দীন খান

যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে আমি কাউকে তার সামর্থ্যের চাইতে বেশী বোঝা দেই না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা তাতেই চিরকাল থাকবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

পক্ষান্তরে যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ করবে, তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী, চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। আমরা কাউকেও তার সাধ্যের বাইরে বোঝা অর্পণ করিনা।

জহুরুল হক

আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করছে - - আমরা কোনো সত্ত্বাকে ভারাক্রান্ত করি না তার ক্ষমতার অতিরিক্ত, - - এরাই হচ্ছে জান্নাতের বাসিন্দা, তারা সেখানে থাকবে চিরকাল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি কাহাকেও তাহার সাধ্যাতীত ভার অর্পণ করি না। যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে উহারাই জান্নাতবাসী, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের অন্তরে যা কিছু দুঃখ ছিল, আমি তা বের করে দেব। তাদের তলদেশ দিয়ে নির্ঝরণী প্রবাহিত হবে। তারা বলবেঃ শোকর, যিনি আমাদেরকে এ পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। আমরা কখনও পথ পেতাম না, যদি আমাদেরকে পথ প্রদর্শন না করতেন। আমাদের প্রতিপালকের রসূল আমাদের কাছে সত্যকথা নিয়ে এসেছিলেন। আওয়াজ আসবেঃ এটি জান্নাত। তোমরা এর উত্তরাধিকারী হলে তোমাদের কর্মের প্রতিদানে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা দূর করে দেবো তাদের অন্তরের সব ঈর্ষা। তাদের নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ নদী নহর। তারা বলবে: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের এই জান্নাতের পথ দেখিয়েছেন। আমাদের পথ না দেখালে আমরা কখনো (জান্নাতের) পথ পেতাম না। আমাদের কাছে আমাদের প্রভুর রসূলরা সত্য নিয়ে এসেছিলেন।’ তখন তাদের ডেকে বলা হবে: ‘তোমাদের আমলের কারণেই তোমাদের এই জান্নাতের ওয়ারিশ বানানো হয়েছে।

জহুরুল হক

আর আমরা দূর করে দেবো মনোমালিন্যের যা - কিছু আছে তাদের বুকে, - - তাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলবে ঝরনারাজি, আর তারা বলবে - - ''সমুদয় প্রশংসা ‌রই যিনি আমাদের পথ দেখিয়েছেন এই দিকে, আর আমরা নিজেরা সুপথ পেতাম না যদি আমাদের পথ না দেখাতেন, নিশ্চয়ই আমাদের প্রভুর রসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন।’’ আর তাদের কাছে ঘোষণা করা হবে - - ''দেখো! এই বেহেশত তোমাদের সামনে, তোমরা এ উত্তরাধিকার করলে তোমরা যা করতে তার জন্য।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তাহাদের অন্তর হইতে ঈর্ষা দূর করিব, তাহাদের পাদদেশে প্রবাহিত হইবে নদী এবং তাহারা বলিবে, ‘প্রশংসা ‌রই যিনি আমাদেরকে ইহার পথ দেখাইয়াছেন। আমাদেরকে পথ না দেখাইলে আমরা কখনও পথ পাইতাম না। আমাদের প্রতিপালকের রাসূলগণ তো সত্যবাণী আনিয়াছিলেন,’ এবং তাহাদেরকে সম্বোধন করিয়া বলা হইবে, ‘তোমরা যাহা করিতে তাহারই জন্য তোমাদেরকে এই জান্নাতের উত্তরাধিকারী করা হইয়াছে।’

মুহিউদ্দীন খান

জান্নাতীরা দোযখীদেরকে ডেকে বলবেঃ আমাদের সাথে আমাদের প্রতিপালক যে ওয়াদা করেছিলেন, তা আমরা সত্য পেয়েছি? অতএব, তোমরাও কি তোমাদের প্রতিপালকের ওয়াদা সত্য পেয়েছ? তারা বলবেঃ হ্যাঁ। অতঃপর একজন ঘোষক উভয়ের মাঝখানে ঘোষণা করবেঃ আল্লাহর অভিসম্পাত জালেমদের উপর।

আবদুস শহীদ নাসিম

জান্নাতবাসীরা জাহান্নামবাসীদের ডেকে বলবে: ‘আমাদের প্রভু আমাদের যে ওয়াদা দিয়েছিলেন আমরা তা সত্য পেয়েছি। তোমাদের প্রভু তোমাদের যে ওয়াদা দিয়েছিলেন তোমরা কি তা সত্য পেয়েছো?’ তারা বলবে: ‘হ্যাঁ।’ তখন একজন ঘোষণাকারী তাদের মাঝে ঘোষণা করবে: ‘‘যালিমদের উপর আল্লাহর লানত,

জহুরুল হক

আর জান্নাতবাসীরা আগুনের বাসিন্দাদের ডেকে বলবে - - ''আমরা নিশ্চয়ই পেয়েছি আমাদের প্রভু আমাদের কাছে যা ওয়াদা করেছিলেন তা সত্য, তোমরাও কি তবে তোমাদের প্রভু যা ওয়াদা করেছিলেন তা সত্য পেয়েছ?’’ তারা বলবে - - ''হাঁ।’’ তখন জনৈক মুওজ্জিন তাদের মধ্যে ঘোষণা করবে - - ''‌র ধিক্কার হোক দুরাচারীদের উপরে - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

জান্নাতবাসিগণ দোজখবাসীদেরকে সম্বোধন করিয়া বলিবে, ‘আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলেন আমরা তো তাহা সত্য পাইয়াছি। তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলেন তোমরা তাহা সত্য পাইয়াছ কি ?’ উহারা বলিবে, ‘হ্যাঁ’। অতঃপর জনৈক ঘোষণাকারী তাহাদের মধ্যে ঘোষণা করিবে, ‘‌র লা‘নত জালিমদের উপর -

মুহিউদ্দীন খান

যারা আল্লাহর পথে বাধা দিত এবং তাতে বক্রতা অন্বেষণ করত। তারা পরকালের বিষয়েও অবিশ্বাসী ছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করতো এবং তাতে বক্রতা খুঁজে বেড়াতো এবং তারা আখিরাতের প্রতি ছিলো অবিশ্বাসী - ।’’

জহুরুল হক

''যারা ‌র পথ থেকে সরিয়ে দেয় আর তাকে কুটিল করতে চেষ্টা করে, আর তারা আখেরাতের সন্বন্ধে অবিশ্বাসী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যাহারা ‌র পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিত এবং উহাতে বক্রতা অনুসন্ধান করিত; উহারাই সম্বন্ধে অবিশ্বাসী।’

মুহিউদ্দীন খান

উভয়ের মাঝখানে একটি প্রাচীর থাকবে এবং আরাফের উপরে অনেক লোক থাকবে। তারা প্রত্যেককে তার চিহ্ন দ্বারা চিনে নেবে। তারা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেঃ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তারা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না, কিন্তু প্রবেশ করার ব্যাপারে আগ্রহী হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(জান্নাত ও জাহান্নাম) উভয়ের মাঝে থাকবে একটি হিজাব (পর্দা), আর কিছু লোক থাকবে আ’রাফে। তারা সবাইকে চিনবে তাদের লক্ষণ দেখেই। তারা জান্নাতবাসীদের ডেকে বলে: আপনাদের প্রতি সালাম। তারা তখনো জান্নাতে দাখিল হয়নি, তবে প্রত্যাশা করবে।

জহুরুল হক

আর এই দুয়ের মধ্যে থাকবে একটি পর্দা। আর উঁচু স্থানসমূহে থাকবে কিছু লোক যাঁরা সবাইকে চেনেন তাদের চিহ্নের দ্বারা। আর তাঁরা বেহেশতের আগন্তক বাসিন্দাদের ডেকে বলবেন - - ''সালামুন আলাইকুম।’’ তারা এখনও তাতে প্রবেশ করে নি, তবে তারা আশা রাখে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উভয়ের মধ্যে পর্দা আছে এবং আ‘রাফে কিছু লোক থাকিবে যাহারা প্রত্যেককে তাহার লক্ষণ দ্বারা চিনিবে এবং জান্নাতবাসীদেরকে সম্বোধন করিয়া বলিবে, ‘তোমাদের শান্তি হউক।’ তাহারা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করে নাই, কিন্তু আকাঙ্ক্ষা করে।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তাদের দৃষ্টি দোযখীদের উপর পড়বে, তখন বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে এ জালেমদের সাথী করো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যখন তাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেয়া হবে জাহান্নামবাসীদের প্রতি, তখন তারা বলবে: ‘আমাদের প্রভু! আমাদেরকে এই যালিম লোকদের সাথি করোনা।’

জহুরুল হক

আর যখন তাদের দৃষ্টি ফেরানো হবে তখন তা নকরবাসীদের সাক্ষাৎ পাবে, তারা বলবে - - ''আমাদের প্রভু! অন্যায়কারী দলের সঙ্গে আমাদের ফেলে দিও না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন তাহাদের দৃষ্টি দোজখবাসীদের প্রতি ফিরাইয়া দেওয়া হইবে তখন তাহারা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক ! আমাদেরকে জালিমদের সঙ্গী করিও না।’

মুহিউদ্দীন খান

আরাফবাসীরা যাদেরকে তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনবে, তাদেরকে ডেকে বলবে তোমাদের দলবল ও ঔদ্ধত্য তোমাদের কোন কাজে আসেনি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আরাফবাসী (জাহান্নামের) যেসব লোককে লক্ষণ দেখে চিনবে তাদের ডেকে বলবে: ‘তোমাদের দল এবং তোমাদের অহংকার তোমাদের কোনো কাজে এলোনা।’

জহুরুল হক

আর উঁচুস্থানসমূহের বাসিন্দারা ডাকবেন সেইসব লোকদের যাদের তাঁরা চিনতে পারবেন ওদের চিহ্নের দ্বারা, তাঁরা বলবেন - - ''তোমাদের কোনো কাজে এলো না তোমাদের সঞ্চয় আর যা নিয়ে তোমরা হামবড়াই করতে!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আ‘রাফবাসিগণ যে লোকদেরকে লক্ষণ দ্বারা চিনিবে তাহাদেরকে সম্বোধন করিয়া বলিবে, ‘তোমাদের দল ও তোমাদের অহংকার কোন কাজে আসিল না।’

মুহিউদ্দীন খান

এরা কি তারাই; যাদের সম্পর্কে তোমরা কসম খেয়ে বলতে যে, এদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন না। প্রবেশ কর জান্নাতে। তোমাদের কোন আশঙ্কা নেই এবং তোমরা দুঃখিত হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা কি তারা নয় যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করে বলতে, এদের প্রতি দয়া করবেন না। অথচ তাদেরকেই বলা হয়েছে: ‘তোমরা দাখিল হও জান্নাতে, তোমাদের কোনো ভয়ভীতিও নেই আর দুঃখ দুশ্চিন্তাও নেই।’

জহুরুল হক

''এরাই কি! তারা যাদের সন্বন্ধে তোমরা কসম খেয়েছিলে যে তাদের প্রতি করুণা প্রদর্শন করবেন না?’’ ''বেহেশতে প্রবেশ করো, তোমাদের উপরে কোনো ভয় নেই, আর তোমরা অনুতাপও করবে না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহারাই কি তাহারা, যাহাদের সম্বন্ধে তোমরা শপথ করিয়া বলিতে যে, ইহাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করিবেন না ? ইহাদেরকেই বলা হইবে, ‘তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর, তোমাদের কোন ভয় নাই এবং তোমরা দুঃখিতও হইবে না।’

মুহিউদ্দীন খান

দোযখীরা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেঃ আমাদের উপর সামান্য পানি নিক্ষেপ কর অথবা তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছেন, তা থেকেই কিছু দাও। তারা বলবেঃ এই উভয় বস্তু কাফেরদের জন্যে নিষিদ্ধ করেছেন,

আবদুস শহীদ নাসিম

জাহান্নামবাসী জান্নাতবাসীকে ডেকে বলবে: ‘আমাদের দিকে কিছু পানি ঢেলে দাও, অথবা তোমাদের যে রিযিক দিয়েছেন তা থেকে কিছু দাও।’ তখন তারা বলবে: ‘‘ এদুটি জিনিসই হারাম করে দিয়েছেন কাফিরদের জন্যে,

জহুরুল হক

আর নরকবাসীরা জান্নাতবাসীদের ডেকে বলবে - - ''আমাদের উপরে পানি কিছুটা ঢেলে দাও, অথবা তোমাদের যা খাওয়াচ্ছেন তা থেকে।’’ তারা বলবে - - ''নিঃসন্দেহ এ দুটোই নিষেধ করেছেন অবিশ্বাসীদের জন্য - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

জাহান্নামীরা জান্নাতবাসীদেরকে সম্বোধন করিয়া বলিবে, ‘আমাদের উপর কিছু পানি ঢালিয়া দাও, অথবা জীবিকারূপে তোমাদেরকে যাহা দিয়াছেন তাহা হইতে কিছু দাও।’ তাহারা বলিবে, ‘ তো এই দুইটি হারাম করিয়াছেন কাফিরদের জন্য -

মুহিউদ্দীন খান

তারা স্বীয় ধর্মকে তামাশা ও খেলা বানিয়ে নিয়েছিল এবং পার্থিব জীবন তাদের কে ধোকায় ফেলে রেখেছিল। অতএব, আমি আজকে তাদেরকে ভুলে যাব; যেমন তারা এ দিনের সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিল এবং যেমন তারা আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করত।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা তাদের দীনকে খেল তামাশা হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং দুনিয়ার জীবন যাদেরকে প্রতারিত করে রেখেছিল।’’ সুতরাং আজ আমরা তাদের ভুলে থাকবো, যেভাবে তারা (দুনিয়ার জীবনে) তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে ভুলে থেকেছিল এবং যেভাবে তারা আমাদের আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

জহুরুল হক

''যারা তাদের ধর্মকে গ্রহণ করেছিল খেলা ও কৌতুকরূপে, আর এই দুনিয়ার জীবন যাদের ভুলিয়েছিল।’’ সুতরাং আজ আমরা তাদের পরিত্যাগ করেছি যেমন তারা অবহেলা করেছিল তাদের এই দিনটির সঙ্গে মিলিত হওয়ার ব্যাপারে, আর যেহেতু তারা আমাদের নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করেছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যাহারা তাহাদের দীনকে ক্রীড়া - কৌতুকরূপে গ্রহণ করিয়াছিল এবং পার্থিব জীবন যাহাদেরকে প্রতারিত করিয়াছিল।’ সুতরাং আজ আমি তাহাদেরকে বিস্মৃত হইব, যেভাবে তাহারা তাহাদের এই দিনের সাক্ষাতকে ভুলিয়া গিয়াছিল এবং যেভাবে তাহারা আমার নিদর্শনকে অস্বীকার করিয়াছিল।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাদের কাছে গ্রন্থ পৌছিয়েছি, যা আমি স্বীয় জ্ঞানে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি, যা পথপ্রদর্শক এবং মুমিনদের জন্যে রহমত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের এমন একটি কিতাব পৌঁছিয়েছিলাম, যা ছিলো পূর্ণ জ্ঞানের বিশদ ব্যাখ্যা এবং হিদায়াত ও রহমত বিশ্বাসীদের জন্যে।

জহুরুল হক

আর নিশ্চয়ই আমরা তাদের জন্য নিয়ে এসেছি একখানা কিতাব যাতে বিশদ ব্যাখ্যা করেছি জ্ঞান দ্বারা, - - এক পথনির্দেশ ও করুণা যারা বিশ্বাস করে তেমন লোকের জন্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অবশ্য আমি তাহাদেরকে পৌঁছাইয়াছিলাম এমন এক কিতাব যাহা পূর্ণজ্ঞান দ্বারা বিশদ ব্যাখ্যা করিয়াছিলাম এবং যাহা ছিল সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও দয়া।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি এখন এ অপেক্ষায়ই আছে যে, এর বিষয়বস্তু প্রকাশিত হোক? যেদিন এর বিষয়বস্তু প্রকাশিত হবে, সেদিন পূর্বে যারা একে ভূলে গিয়েছিল, তারা বলবেঃ বাস্তবিকই আমাদের প্রতিপালকের পয়গম্বরগণ সত্যসহ আগমন করেছিলেন। অতএব, আমাদের জন্যে কোন সুপারিশকারী আছে কি যে, সুপারিশ করবে অথবা আমাদেরকে পুনঃ প্রেরণ করা হলে আমরা পূর্বে যা করতাম তার বিপরীত কাজ করে আসতাম। নিশ্চয় তারা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তারা মনগড়া যা বলত, তা উধাও হয়ে যাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি এর পরিণামের অপেক্ষায় আছে? যেদিন তার পরিণামকাল এসে উপস্থিত হবে সেদিন সেটিকে ভুলে থাকা লোকেরা বলবে: ‘আমাদের কাছে আমাদের প্রভুর রসূলরা সত্যবার্তা নিয়ে এসেছিলেন, এখন শাফায়াতকারী পাওয়া যাবে কি, যারা আমাদের জন্যে শাফায়াত করবে? অথবা আমাদের দুনিয়ায় ফেরত পাঠানো হোক। আমরা অবশ্যি এতোদিন যা আমল করতাম তার চাইতে ভিন্নতর আমল করবো।’ এরা নিজেরাই নিজেদেরকে ক্ষতির মধ্যে নিক্ষেপ করে এসেছে এবং তারা যেসব মিথ্যা রচনা করেছিল সবই উধাও হয়ে গেছে।

জহুরুল হক

তারা কি আর কিছুর অপেক্ষা করে ওর পরিণাম ছাড়া? যেদিন এর পরিণাম আসবে, যারা এর আগে এটি অবহেলা করেছিল তারা বলবে - - ''আমাদের প্রভুর রসূলগণ নিশ্চয়ই সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের জন্য কোনো সুপারিশকারী আছে কি? তারা তবে আমাদের জন্য সুপারিশ করুক, অথবা আমরা কি প্রত্যাবৃত্ত হতে পারি যেন আমরা যা করতাম তার বিপরীত কিছু করতে পারি?’’ তারা আলবৎ তাদের অন্তরা‌ত্মা হারিয়েছে, আর তাদের থেকে বিদায় নিয়েছে সেইসব যাদের তারা উদ্ভাবন করেছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা কি শুধু উহার পরিণামের প্রতীক্ষা করে, যেদিন উহার পরিণাম প্রকাশ পাইবে! সেদিন যাহারা পূর্বে উহার কথা ভুলিয়া গিয়াছিল তাহারা বলিবে, ‘আমাদের প্রতিপালকের রাসূলগণ তো সত্যবাণী আনিয়াছিল, আমাদের কি এমন কোন সুপারিশকারী আছে যে আমাদের জন্য সুপারিশ করিবে অথবা আমাদেরকে কি পুনরায় ফিরিয়া যাইতে দেওয়া হইবে, যেন আমরা পূর্বে যাহা করিতাম তাহা হইতে ভিন্নতর কিছু করিতে পারি ?’ তাহারা নিজেদেরই ক্ষতি করিয়াছে এবং তাহারা যে মিথ্যা রচনা করিত তাহাও অন্তর্হিত হইয়াছে।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক । তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। , বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের প্রভু তো তিনি, যিনি মহাকাশ এবং এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয়টি কালে, অতপর সমাসীন হয়েছেন আরশের উপর। তিনি দিনকে ঢেকে দেন রাত দিয়ে। তারা পরস্পরকে অবিরামভাবে দ্রুত অনুসরণ করে। সূর্য, চাঁদ এবং তারকারাজি তাঁরই নির্দেশের অধীন। সাবধান, সৃষ্টিও তাঁর, নির্দেশও তাঁর। মহাকল্যাণের মালিক আল্লাহ্ই মহাজগতের প্রভু।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ তোমাদের প্রভু হচ্ছেন যিনি সৃষ্টি করেছেন মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবী ছয় দিনে, তখন তিনি আরশে অধিষ্ঠিত হন। তিনি দিনকে আবৃত করেন রাত্রি দিয়ে, - - যা দ্রতগতিতে তার অনুসরণ করে। আর সূর্য ও চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি তাঁর হুকুমের আজ্ঞাধীন। সৃষ্টি করা ও নির্দেশ দান কি তাঁর অধিকারভুক্ত নয়? মহিমাময় - - বিশ্বজগতের প্রভু!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের প্রতিপালক যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেন; অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হন। তিনিই দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন যাহাতে উহাদের একে অন্যকে দ্রুতগতিতে অনুসরণ করে; আর সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি - যাহা তাঁহারই আজ্ঞাধীন, তাহা তিনিই সৃষ্টি করিয়াছেন। জানিয়া রাখ, সৃজন ও আদেশ তাঁহারই। মহিমময় বিশ্বজগতের প্রতিপালক ‌।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাক, কাকুতি - মিনতি করে এবং সংগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদেরকে পছন্দ করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের প্রভুকে ডাকো বিনয়ের সাথে এবং গোপনে। সীমালংঘনকারীদের তিনি পছন্দ করেন না।

জহুরুল হক

তোমাদের প্রভুকে ডাকো বিনীতভাবে ও গোপনতার সাথে। নিঃসন্দেহ তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা বিনীতভাবে ও গোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাক; তিনি সীমালংঘন - কারীদেরকে পসন্দ করেন না।

মুহিউদ্দীন খান

পৃথিবীকে কুসংস্কারমুক্ত ও ঠিক করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। তাঁকে আহবান কর ভয় ও আশা সহকারে। নিশ্চয় আল্লাহর করুণা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।

আবদুস শহীদ নাসিম

এসলাহের পর পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করোনা। তাঁকে ডাকো ভয় এবং আশা নিয়ে। অবশ্যি আল্লাহর রহমত কল্যাণপরায়ণদের খুব নিকটে।

জহুরুল হক

আর দুনিয়াতে গন্ডগোল সৃষ্টি করো না তার মধ্যে শান্তিপ্রতিষ্ঠার পরে, আর তাঁকে ডাকো ভয়ে ও আশায়। নিঃসন্দেহ ‌র অনুগ্রহ সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দুনিয়ায় শান্তি স্থাপনের পর তোমরা উহাতে বিপর্যয় ঘটাইও না, তাঁহাকে ভয় ও আশার সঙ্গে ডাকিবে। নিশ্চয়ই ‌র অনুগ্রহ সৎকর্মপরায়ণদের নিকটবর্তী।

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বায়ু পাঠিয়ে দেন। এমনকি যখন বায়ুরাশি পানিপূর্ন মেঘমালা বয়ে আনে, তখন আমি এ মেঘমালাকে একটি মৃত শহরের দিকে হঁ্যাকিয়ে দেই। অতঃপর এ মেঘ থেকে বৃষ্টি ধারা বর্ষণ করি। অতঃপর পানি দ্বারা সব রকমের ফল উৎপন্ন করি। এমনি ভাবে মৃতদেরকে বের করব - যাতে তোমরা চিন্তা কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তাঁর রহমত বর্ষণের আগে সুসংবাদ বাহক হিসেবে বাতাস পাঠান, অতপর তা যখন ঘন মেঘ বইয়ে আনে, তখন আমরা তা মরা শুকনো জমিনের দিকে পাঠাই এবং সেখানে আমরা নাযিল করি (আমাদের রহমতের) পানি (বৃষ্টি)। অতপর তা থেকে আমরা উৎপন্ন করি সব ধরণের ফল - ফসল। এভাবেই আমরা জীবন দান করে বের করে আনবো মৃতদেরকে। আশা করা যায় তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে।

জহুরুল হক

আর তিনিই সেইজন যিনি মলয়বায়ুপ্রবাহ পাঠান তাঁর অনুগ্রহের প্রাক্কালে সুসংবাদবাহীরূপে। শেষ পর্যন্ত যখন তারা সঘন মেঘমালা বহন ক’রে আনে, আমরা তখন তা মৃত ভূখন্ডের দিকে পাঠাই, তারপর আমরা তাতে পানি বর্ষণ করি, তারপরে এর সাহায্যে উৎপাদন করি সব রকমের ফলফসল। এইভাবে আমরা মৃতকে বের করে আনি, যেন তোমরা স্মরণ করতে পারো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই স্বীয় অনুগ্রহের প্রাক্কালে বায়ুকে সুসংবাদবাহীরূপে প্রেরণ করেন। যখন উহা ঘন মেঘ বহন করে তখন আমি উহা নির্জীব ভূখণ্ডের দিকে চালনা করি, পরে উহা হইতে বৃষ্টি বর্ষণ করি; তৎপর উহার দ্বারা সর্বপ্রকার ফল উৎপাদন করি। এইভাবে আমি মৃতকে জীবিত করি যাহাতে তোমরা শিক্ষা লাভ কর।

মুহিউদ্দীন খান

যে শহর উৎকৃষ্ট, তার ফসল তার প্রতিপালকের নির্দেশে উৎপন্ন হয় এবং যা নিকৃষ্ট তাতে অল্পই ফসল উৎপন্ন হয়। এমনিভাবে আমি আয়াতসমূহ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বর্ণনা করি কৃতজ্ঞ সম্প্রদায়ের জন্যে।

আবদুস শহীদ নাসিম

উত্তম ভূমি থেকে তার প্রভুর অনুমতিক্রমে ফসল উৎপন্ন হয়, আর নিকৃষ্ট ভূমিতে প্রচন্ড পরিশ্রম ছাড়া কিছুই জন্মায়না। এভাবেই শোকরগুজার লোকদের জন্যে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেন তাঁর আয়াত।

জহুরুল হক

আর ভালো জমি - - এর গাছপালা গজায় তার প্রভুর অনুমতিক্রমে, আর যা মন্দ - - কিছুই গজায় না অল্পস্বল্প ছাড়া। এই ভাবে আমরা নির্দেশসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি যারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তেমন লোকের জন্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং উৎকৃষ্ট ভূমি - ইহার ফসল ইহার প্রতিপালকের আদেশে উৎপন্ন হয় এবং যাহা নিকৃষ্ট তাহাতে কঠোর পরিশ্রম না করিলে কিছুই জন্মায় না। এইভাবে আমি কৃতজ্ঞ সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন বিভিন্নভাবে বিবৃত করি।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের প্রতি পাঠিয়েছি। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। আমি তোমাদের জন্যে একটি মহাদিবসের শাস্তির আশঙ্কা করি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা নূহকে পাঠিয়েছিলাম তার কওমের কাছে। সে তাদের বলেছিল: হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। আমি তোমাদের উপর এক মহাদিনের আযাবের আশংকা করছি।

জহুরুল হক

আমরা অবশ্যই নূহকে পাঠিয়েছিলাম তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে। তিনি তখন বলেছিলেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! ‌র উপাসনা করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য উপাস্য নেই। নিঃসন্দেহ আমি তোমাদের জন্য আশংকা করছি এক ভয়ংকর দিনের শাস্তি।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তো নূহ্কে পাঠাইয়াছিলাম তাহার সম্প্রদায়ের নিকট এবং সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! ‌র ‘ইবাদত কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ্ নাই। আমি তোমাদের জন্য মহাদিনের শাস্তির আশংকা করিতেছি।’

মুহিউদ্দীন খান

তার সম্প্রদায়ের সর্দাররা বললঃ আমরা তোমাকে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতার মাঝে দেখতে পাচ্ছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তার কওমের নেতারা বলেছিল: ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, তুমি সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছো।’

জহুরুল হক

তাঁর সম্প্রদায়ের প্রধানরা বললে - - ''নিঃসন্দেহ আমরা তো তোমাকে দেখছি স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ বলিয়াছিল, ‘আমরা তো তোমাকে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে দেখিতেছি।’

মুহিউদ্দীন খান

সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, আমি কখনও ভ্রান্ত নই; কিন্তু আমি বিশ্বপ্রতিপালকের রসূল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! আমার মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি নেই, বরং আমি রাববুল আলামিনের একজন রসূল।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''হে আমার জনগণ! আমার মধ্যে কোনো পথভ্রান্তি নেই, বরং আমি হচ্ছি বিশ্বজগতের প্রভুর তরফ থেকে একজন রসূল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমাতে কোন ভ্রান্তি নাই, বরং আমি তো জগতসমূহের প্রতিপালকের রাসূল।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদেরকে প্রতিপালকের পয়গাম পৌঁছাই এবং তোমাদেরকে সদুপদেশ দেই। আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমনসব বিষয় জানি, যেগুলো তোমরা জান না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তো তোমাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি আমার প্রভুর বার্তা। আমি তোমাদের কল্যাণকামী। আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে সেসব বিষয় জানি, যা তোমরা জানোনা।

জহুরুল হক

''আমি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিই আমার প্রভুর বাণীসমূহ এবং আমি তোমাদের সদুপদেশ দিই, কারণ আমি ‌র কাছ থেকে জানি যা তোমরা জানো না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমার প্রতিপালকের বাণী আমি তোমাদের নিকট পৌঁছাইতেছি ও তোমাদেরকে হিতোপদেশ দিতেছি এবং তোমরা যাহা জান না আমি তাহা ‌র নিকট হইতে জানি’।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা কি আশ্চর্যবোধ করছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকেই একজনের বাচনিক উপদেশ এসেছে যাতে সে তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে, যেন তোমরা সংযত হও এবং যেন তোমরা অনুগৃহীত হও।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কি তাজ্জব হচ্ছো যে, তোমাদেরই একজনের মাধ্যমে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে একটি উপদেশ এসেছে - যাতে করে সে তোমাদের সতর্ক করতে পারে এবং যেনো তোমরা সতর্ক হও আর যেনো তোমরা রহমত প্রাপ্ত হও?’’

জহুরুল হক

''আচ্ছা, তোমরা কি বিস্মিত হচ্ছো যে তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে উপদেশ এসেছে তোমাদেরই মধ্যেকার একজন মানুষের মাধ্যমে যেন তিনি তোমাদের সতর্ক করেন, আর যেন তোমরা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করো, আর যেন তোমাদের করুণা প্রদর্শন করা হয়?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা কি বিস্মিত হইতেছ যে, তোমাদেরই একজনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমাদের নিকট উপদেশ আসিয়াছে যাহাতে সে তোমাদেরকে সতর্ক করে, তোমরা সাবধান হও এবং তোমরা অনুকম্পা লাভ কর ?’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। আমি তাকে এবং নৌকাস্থিত লোকদেরকে উদ্ধার করলাম এবং যারা মিথ্যারোপ করত, তাদেরকে ডুবিয়ে দিলাম। নিশ্চয় তারা ছিল অন্ধ।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু তারা তাকে মিথ্যা আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে আমরা তাকে আর তার সাথে যারা নৌযানে উঠেছিল তাদেরকে নাজাত দেই, আর ডুবিয়ে দেই তাদেরকে যারা প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের আয়াত। মূলত, তারা ছিলো একটি অন্ধ কওম।

জহুরুল হক

কিন্তু তারা তাঁকে মিথ্যারোপ করলো, তাই তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে যারা ছিল তাদের আমরা উদ্ধার করেছিলাম জাহাজে, আর ডুবিয়ে দিয়েছিলাম তাদের যারা আমাদের নির্দেশসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিল। নিঃসন্দেহ তারা ছিল এক অন্ধ সম্প্রদায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তাহারা তাহাকে মিথ্যাবাদী বলে। তাহাকে ও তাহার সঙ্গে যাহারা তরণীতে ছিল আমি তাহাদেরকে উদ্ধার করি এবং যাহারা আমার নিদর্শন অস্বীকার করিয়াছিল তাহাদেরকে নিমজ্জিত করি। তাহারা তো ছিল এক অন্ধ সম্প্রদায়।

মুহিউদ্দীন খান

আদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি তাদের ভাই হুদকে। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতিত তোমাদের কোন উপাস্য নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা আদ জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম তাদেরই ভাই হুদকে। সে তাদের বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত - আনুগত্য করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তোমরা কি সতর্ক হবেনা?’

জহুরুল হক

আর 'আদ জাতির কাছে তাদের ভাই হূদকে। তিনি বললেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! ‌র উপাসনা করো, তোমাদের জন্য তিনি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই। তোমরা কি তবে ধর্মভীরুতা অবলন্বন করবে না?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আদ জাতির নিকট আমি উহাদের ভ্রাতা হূদকে পাঠাইয়াছিলাম। সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা ‌র ‘ইবাদত কর, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই। তোমরা কি সাবধান হইবে না ?’

মুহিউদ্দীন খান

তারা স্প্রদায়ের সর্দররা বললঃ আমরা তোমাকে নির্বোধ দেখতে পাচ্ছি এবং আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদী মনে করি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার জাতির প্রধানরা যারা ছিলো তারা বলেছিল: ‘আমাদের মতে তুমি অবশ্যি বোকামিতে নিমজ্জিত রয়েছো এবং আমাদের ধারণা, তুমি একজন মিথ্যাবাদী।’

জহুরুল হক

তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকে যারা অবিশ্বাস করেছিল তাদের প্রধানরা বললে - - ''নিঃসন্দেহ আমরা তো তোমাকে দেখছি অকাট - বোকামিতে, আর আমরা আলবৎ তোমাকে মিথ্যাবাদীদের মধ্যে গণ্য করি।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ - যাহারা করিয়াছিল, তাহারা বলিয়াছিল, ‘আমরা তো দেখিতেছি তুমি নির্বোধ এবং তোমাকে আমরা তো মিথ্যাবাদী মনে করি।’

মুহিউদ্দীন খান

সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, আমি মোটেই নির্বোধ নই, বরং আমি বিশ্ব প্রতিপালকের প্রেরিত পয়গম্বর।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! আমার মধ্যে কোনো বোকামি নেই, বরং আমি রাববুল আলামিনের পক্ষ থেকে একজন রসূল।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''হে আমার লোকেরা! আমার মধ্যে কোনো মূর্খতা নেই, বরং আমি হচ্ছি বিশ্বজগতের প্রভুর তরফ থেকে একজন রসূল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি নির্বোধ নই, বরং আমি জগতসমূহের প্রতিপালকের রাসূল।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের কে প্রতিপালকের পয়গাম পৌঁছাই এবং আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী বিশ্বস্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তো তোমাদের কাছে আমার প্রভুর বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি, আর আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত কল্যাণকামী।

জহুরুল হক

''আমি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিই আমার প্রভুর বাণীসমূহ, আর আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত উপদেষ্টা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি আমার প্রতিপালকের বাণী তোমাদের নিকট পৌঁছাইতেছি এবং আমি তোমাদের একজন বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্ক্ষী।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা কি আশ্চর্য্যবোধ করছ যে, তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্য থেকেই একজনের বাচনিক উপদেশ এসেছে যাতে সে তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে। তোমরা স্মরণ কর, যখন তোমাদেরকে কওমে নূহের পর সর্দার করেছেন এবং তোমাদের দেহের বিস্তৃতি বেশী করেছেন। তোমরা আল্লাহর নেয়ামতসমূহ স্মরণ কর - যাতে তোমাদের মঙ্গল হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কি তাজ্জব হচ্ছো যে, তোমাদেরই একজনের মাধ্যমে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে একটি উপদেশ এসেছে - যাতে করে সে তোমাদের সতর্ক করতে পারে? স্মরণ করো যখন নূহের কওমকে (ধ্বংস করার) পর তিনি তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং দৈহিক গঠনে তোমাদেরকে অধিক হৃষ্টপুষ্ট ও বলিষ্ঠ করেছেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহসমূহের কথা স্মরণ করো, যাতে করে তোমরা সফলতা অর্জন করো।’’

জহুরুল হক

''আচ্ছা, তোমরা কি তাজ্জব হচ্ছো যে তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর নিকট থেকে উপদেশ এসেছে তোমাদেরই মধ্যেকার একজন মানুষের মাধ্যমে যেন তিনি তোমাদের সতর্ক করেন? আর স্মরণ করো, কেমন ক’রে তিনি তোমাদের নূহ্‌ - এর সম্প্রদায়ের পরবর্তীকালে প্রতিনিধি বানিয়েছিলেন, আর তোমাদের বর্ধিত করেছেন আকৃতির বৈশিষ্ট্যে। সুতরাং তোমরা ‌র অনুগ্রহসমূহ স্মরণ করো যেন তোমরা সফল হতে পারো।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা কি বিস্মিত হইতেছ যে, তোমাদের নিকট তোমাদের একজনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমাদেরকে সতর্ক করিবার জন্য উপদেশ আসিয়াছে ? এবং স্মরণ কর, তোমাদেরকে নূহের সম্প্রদায়ের পরে তাহাদের স্থলাভিষিক্ত করিয়াছেন এবং তোমাদের দৈহিক গঠনে অধিকতর হৃষ্টপুষ্ট - বলিষ্ঠ করিয়াছেন। সুতরাং তোমরা ‌র অনুগ্রহ স্মরণ কর, হয়ত তোমরা হইবে।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যে এসেছ যে আমরা এক আল্লাহর এবাদত করি এবং আমাদের বাপ - দাদা যাদের পূজা করত, তাদেরকে ছেড়ে দেই? অতএব নিয়ে আস আমাদের কাছে যাদ্দ্বারা আমাদেরকে ভয় দেখাচ্ছ, যদি তুমি সত্যবাদী হও।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যে এসেছো যে, আমরা কেবল এক আল্লাহর ইবাদত - আনুগত্য করবো আর আমাদের পূর্ব পুরুষরা যাদের ইবাদত করতো তাদের পরিত্যাগ করবো? সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো, তবে আমাদেরকে যে জিনিসের ওয়াদা দিচ্ছো তা এনে দেখাও।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''তুমি কি আমাদের কাছে এসেছ যেন আমরা একমাত্র ‌র উপাসনা করি, আর বর্জন করি আমাদের পিতৃপুরুষরা যার উপাসনা করতো? অতএব নিয়ে এসো আমাদের উপরে যার দ্বারা তুমি আমাদের ভয় দেখাচ্ছ, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলিল, ‘তুমি কি আমাদের নিকট এই উদ্দেশ্যে আসিয়াছ যে, আমরা যেন এক ‌র ‘ইবাদত করি এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণ যাহার ‘ইবাদত করিত তাহা বর্জন করি ? সুতরাং তুমি সত্যবাদী হইলে আমাদেরকে যাহার ভয় দেখাইতেছ তাহা আনয়ন কর।’

মুহিউদ্দীন খান

সে বললঃ অবধারিত হয়ে গেছে তোমাদের উপর তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে শাস্তি ও ক্রোধ। আমার সাথে ঐসব নাম সম্পর্কে কেন তর্ক করছ, যেগুলো তোমরা ও তোমাদের বাপ - দাদারা রেখেছে। এদের কোন মন্দ অবর্তীণ করেননি। অতএব অপেক্ষা কর। আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘তোমাদের উপর তোমাদের প্রভুর শাস্তি এবং গজব আপতিত হবেই। তোমরা কি আমার সাথে এমন কতগুলো নাম সম্পর্কে বিবাদ করছো, যে নামগুলো রেখেছো তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষরা? তো সেগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাঠাননি। সুতরাং অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমাদের উপরে তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে শাস্তি ও ক্রোধ তো হাজির হয়েই আছে। তোমরা কি আমার সঙ্গে বচসা করো কতকগুলি নাম সন্বন্ধে যে - সব নাম দিয়েছ - - তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষরা, যার জন্যে কোনো সনদ পাঠান নি? অতএব অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষাকারীদের মধ্যে রয়েছি।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘তোমাদের প্রতিপালকের শাস্তি ও ক্রোধ তো তোমাদের জন্য নির্ধারিত হইয়াই আছে; তবে কি তোমরা আমার সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হইতে চাও এমন কতকগুলি নাম সম্বন্ধে যাহা তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষগণ সৃষ্টি করিয়াছ এবং যে সম্বন্ধে ‌ কোন সনদ পাঠান নাই ? সুতরাং তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষা করিতেছি।’

মুহিউদ্দীন খান

অনন্তর আমি তাকে ও তার সঙ্গীদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে রক্ষা করলাম এবং যারা আমার আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করত তাদের মূল কেটে দিলাম। তারা মান্যকারী ছিল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশেষে আমরা তাকে (হুদকে) এবং তার সাথিদেরকে আমাদের রহমতে নাজাত দিয়েছি, আর শেকড় কেটে দিয়েছি তাদের, যারা প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের আয়াত এবং যারা ছিলনা।

জহুরুল হক

কাজে কাজেই তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে যারা ছিল তাদের আমরা উদ্ধার করেছিলাম আমাদের থেকে অনুগ্রহ বশতঃ, আর কেটে দিয়েছিলাম তাদের শিকড় যারা আমাদের নির্দেশসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিল ও যারা ছিল না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর আমি তাহাকে ও তাহার সঙ্গীদেরকে আমার অনুগ্রহে উদ্ধার করিয়াছিলাম ; আর আমার নিদর্শনকে যাহারা অস্বীকার করিয়াছিল এবং যাহারা ছিল না তাহাদেরকে নির্মূল করিয়াছিলাম।

মুহিউদ্দীন খান

সামুদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি তাদের ভাই সালেহকে। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতিত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি প্রমাণ এসে গেছে। এটি আল্লাহর উষ্টী তোমাদের জন্যে প্রমাণ। অতএব একে ছেড়ে দাও, আল্লাহর ভুমিতে চড়ে বেড়াবে। একে অসৎভাবে স্পর্শ করবে না। অন্যথায় তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি পাকড়াও করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা সামুদ জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম তাদের ভাই সালেহ্কে। সে তাদের বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত (আনুগত্য, দাসত্ব ও উপাসনা) করো। তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে। আল্লাহর এই উটনি তোমাদের জন্যে একটি নিদর্শন। এটিকে আল্লাহর জমিনে চরে খেতে দাও। কোনো বদ নিয়্যতে এটিকে স্পর্শও করোনা, করলে তোমাদের পাকড়াও করবে বেদনাদায়ক আযাব।

জহুরুল হক

আর ছামূদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালিহ্‌কে। তিনি বললেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! ‌র উপাসনা করো, তোমাদের জন্য তিনি ব্যতীত অন্য উপাস্য নেই। আলবৎ তোমাদের জন্য তোমাদের প্রভুর নিকট থেকে এসেছে স্পষ্ট প্রমাণ। এটি হচ্ছে ‌র উষ্টী, - - তোমাদের জন্য একটি নিদর্শন, অতএব এটিকে ছেড়ে দাও ‌র মাটিতে চরে খেতে, আর তাকে কোনো ক্ষতিতে ক্ষতি করো না, পাছে মর্মন্তুদ শাস্তি তোমাদের পাকড়াও করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সামূদ জাতির নিকট তাহাদের ভ্রাতা সালিহ্‌কে পাঠাইয়াছিলাম। সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা ‌র ‘ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ্ নাই। তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালক হইতে স্পষ্ট নিদর্শন আসিয়াছে। ‌র এই উষ্ট্রী তোমাদের জন্য একটি নিদর্শন। ইহাকে ‌র জমিতে চরিয়া খাইতে দাও এবং ইহাকে কোন ক্লেশ দিও না, দিলে মর্মন্তুদ শাস্তি তোমাদের উপর আপতিত হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা স্মরণ কর, যখন তোমাদেরকে আদ জাতির পরে সর্দার করেছেন; তোমাদেরকে পৃথিবীতে ঠিকানা দিয়েছেন। তোমরা নরম মাটিতে অট্টালিকা নির্মান কর এবং পর্বত গাত্র খনন করে প্রকোষ্ঠ নির্মাণ কর। অতএব আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, আদ জাতির পরে তিনি তোমাদেরকে (তাদের) স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং এমনভাবে তোমাদেরকে ভূ - খন্ডে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, তোমরা সমতল ভূমিতে প্রাসাদ নির্মাণ করছো। আর পাহাড় কেটে বানাচ্ছো ঘর। অতএব তোমরা (তোমাদের প্রতি) আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো এবং ভূ - খন্ডে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়িয়োনা।’’

জহুরুল হক

''আর স্মরণ করো! কেমন ক’রে তিনি তোমাদের 'আদ - এর পরবর্তীকালে প্রতিনিধি বানিয়েছিলেন, আর তোমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন পৃথিবীতে - - যার সমতলক্ষেত্রে তোমরা প্রাসাদ গড়েছিলে আর পাহাড় কেটে বানালে বাড়িঘর। সেজন্য তোমরা স্মরণ করো ‌র অনুগ্রহসমূহ, আর দেশে গর্হিত আচরণ করো না গন্ডগোল সৃষ্টিকারী হয়ে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘স্মরণ কর, আদ জাতির পর তিনি তোমাদেরকে তাহাদের স্থলাভিষিক্ত করিয়াছেন, তিনি তোমাদেরকে পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছেন যে, তোমরা সমতল ভূমিতে প্রাসাদ নির্মাণ ও পাহাড় কাটিয়া বাসগৃহ নির্মাণ করিতেছ। সুতরাং তোমরা ‌র অনুগ্রহ স্মরণ কর এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করিয়া বেড়াইও না।

মুহিউদ্দীন খান

তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক সর্দাররা দারিদ্রদেরকে জিজ্ঞেস করলঃ তোমরা কি বিশ্বাস কর যে সালেহ কে তার পালনকর্তা প্রেরণ করেছেন; তারা বলল আমরা তো তার আনীত বিষয়ের প্রতি ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার কওমের দাম্ভিক নেতারা দুর্বল করে রাখা ঈমানদারদের বলেছিল: ‘তোমরা কি এটা জানো যে, সালেহ তার প্রভুর পক্ষ থেকে প্রেরিত?’ তারা বলেছিল: ‘হ্যাঁ, তাঁকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে, আমরা তাতে ।’

জহুরুল হক

তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে যারা গর্ব করেছিল তাদের প্রধানরা বললে ওদের যারা দুর্বলতা বোধ করতো - - ওদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিল তাদের - - ''তোমরা কি জানো যে সালিহ্ তার প্রভুর কাছ থেকে একজন প্রেরিত - পুরুষ?’’ তারা বললে - - ''নিঃসন্দেহ তাঁকে দিয়ে যা পাঠানো হয়েছে তাতে আমরা ।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক প্রধানেরা সেই সম্প্রদায়ের - যাহাদেরকে দুর্বল মনে করা হইত তাহাদেরকে বলিল, ‘তোমরা কি জান যে, সালিহ্ কর্তৃক প্রেরিত ?’ তাহারা বলিল, ‘তাহার প্রতি যে বাণী প্রেরিত হইয়াছে আমরা তাহাতে ।’

মুহিউদ্দীন খান

দাম্ভিকরা বললঃ তোমরা যে বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করেছ, আমরা তাতে অস্বীকৃত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন দাম্ভিকরা বলেছিল: ‘তোমরা যা বিশ্বাস করো, আমরা তা অস্বীকার করি।’

জহুরুল হক

যারা গর্ববোধ করতো তারা বললে - - ''তোমরা যে - সব বিষয়ে বিশ্বাস করো তাতে আমরা নিশ্চয়ই অবিশ্বাসী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দাম্ভিকেরা বলিল, ‘তোমরা যাহা বিশ্বাস কর আমরা তো তাহা প্রত্যাখ্যান করি।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা উষ্ট্রীকে হত্যা করল এবং স্বীয় প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করল। তারা বললঃ হে ছালেহ, নিয়ে এস যদ্দ্বারা আমাদেরকে ভয় দেখাতে, যদি তুমি রসূল হয়ে থাক।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর তারা সেই উটনিকে হত্যা করে, আর অবাধ্য হয় আল্লাহর আদেশের এবং বলে: ‘হে সালেহ্! তুমি যদি একজন রসূলই হয়ে থাকো, তবে যে শাস্তির ভয় আমাদের দেখিয়েছো তা নিয়ে আসো।’

জহুরুল হক

অতঃপর তারা উষ্টী হত্যা করলে, আর অমান্য করলে তাদের প্রভুর নির্দেশ ও বললে - - ''হে সালিহ্‌! এনো তো আমাদের জন্য যা দিয়ে তুমি আমাদের ভয় দেখাচ্ছ, যদি তুমি রসূলদের একজন হও।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তাহারা সেই উষ্ট্রী বধ করে এবং ‌র আদেশ অমান্য করে এবং বলে, ‘হে সালিহ্! তুমি রাসূল হইলে আমাদেরকে যাহার ভয় দেখাইতেছ তাহা আনয়ন কর।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর পাকড়াও করল তাদেরকে ভূমিকম্প। ফলে সকাল বেলায় নিজ নিজ গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তাদের পাকড়াও করে এক প্রচন্ড ভূমিকম্প। ফলে তাদের সকাল হয় নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায়।

জহুরুল হক

সুতরাং তাদের পাকড়াও করল ভূমিকম্প, কাজেই তারা হয়ে গেল আপন বাড়িঘরেই নিথরদেহী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তাহারা ভূমিকম্প দ্বারা আক্রান্ত হয়, ফলে তাহাদের প্রভাত হইল নিজগৃহে অধঃমুখে পতিত অবস্থায়।

মুহিউদ্দীন খান

ছালেহ তাদের কাছ থেকে প্রস্থান করলো এবং বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, আমি তোমাদের কাছে স্বীয় প্রতিপালকের পয়গাম পৌছিয়েছি এবং তোমাদের মঙ্গল কামনা করেছি কিন্তু তোমরা মঙ্গলকাঙ্খীদেরকে ভালবাস না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে (সালেহ্) তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলেছিল: ‘হে আমার কওম! আমি তোমাদের কাছে আমার প্রভুর বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম এবং তোমাদের জন্যে কল্যাণকর নসিহত করেছিলাম, কিন্তু তোমরা কল্যাণকামীদের পছন্দ করোনা।’

জহুরুল হক

তারপর তিনি তাদের থেকে ফিরে গেলেন আর বললেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের কাছে আমার প্রভুর বাণীসমূহ নিশ্চয়ই পৌঁছে দিয়েছিলাম, আর তোমাদের সদুপদেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু তোমরা উপদেষ্টাদের পছন্দ করলে না। ’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তৎপর সে তাহাদের নিকট হইতে মুখ ফিরাইয়া লইয়া বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি তো আমার প্রতিপালকের বাণী তোমাদের নিকট পৌঁছাইয়াছিলাম এবং তোমাদেরকে হিতোপদেশ দিয়াছিলাম, কিন্তু তোমরা তো হিতোপদেশ দানকারীদেরকে পসন্দ কর না।’

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমি লূতকে প্রেরণ করেছি। যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বললঃ তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সারা বিশ্বের কেউ করেনি ?

আবদুস শহীদ নাসিম

আর লুতকেও (আমরা পাঠিয়েছিলাম একটি জাতির কাছে)। সে তার কওমকে বলেছিল: ‘‘তোমরা কি এমন কুকর্মেই লিপ্ত থাকবে, যে কর্মে তোমাদের আগে জগতের কোনো লোকই লিপ্ত হয়নি?

জহুরুল হক

আর লূত। স্মরণ করো! তিনি তাঁর লোকদের বললেন - - ''তোমরা কি এমন অশ্লীলতা করছো যা তোমাদের পূর্বে জগদ্বাসীদের আর কেউ চালু করে নি?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আমি লূতকেও পাঠাইয়াছিলাম। সে তাহার সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘তোমরা এমন কুকর্ম করিতেছ যাহা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেহ করে নাই।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা তো কামবশতঃ পুরুষদের কাছে গমন কর নারীদেরকে ছেড়ে। বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যৌন তৃপ্তির জন্যে নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের কাছে যাচ্ছো। তোমরা তো এক চরম সীমালংঘনকারী জাতি।’’

জহুরুল হক

''নিঃসন্দেহ তোমরা তো কামাতুর হয়ে কামিনীদের ছেড়ে দিয়ে পুরুষদের কাছে আস। না, তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী লোক।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা তো কাম - তৃপ্তির জন্য নারী ছাড়িয়া পুরুষের নিকট গমন কর; তোমরা তো সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।’

মুহিউদ্দীন খান

তাঁর সম্প্রদায় এ ছাড়া কোন উত্তর দিল না যে, বের করে দাও এদেরকে শহর থেকে। এরা খুব সাধু থাকতে চায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

জবাবে তার কওম কেবল একথাই বলেছিল: ‘এদেরকে তোমাদের জনবসতি থেকে বের করে দাও, এরা বড় পাক পবিত্র থাকতে চায়।’

জহুরুল হক

আর তাঁর লোকদের উত্তর এ ভিন্ন অন্য কিছু ছিল না যে তারা বললে - - ''তোমাদের জনপদ থেকে এদের বের করে দাও। এরা তো এমন লোক যারা পবিত্র হতে চায়!’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উত্তরে তাহার সম্প্রদায় শুধু বলিল, ‘ইহাদেরকে তোমাদের জনপদ হইতে বহিষ্কার কর, ইহারা তো এমন লোক যাহারা অতি পবিত্র হইতে চায়।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি তাকে ও তাঁর পরিবার পরিজনকে বাঁচিয়ে দিলাম, কিন্তু তার স্ত্রী। সে তাদের মধ্যেই রয়ে গেল, যারা রয়ে গিয়েছিল। আমি তাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

পরিণতিতে আমরা তাকে (লুতকে) এবং তার পরিবার পরিজনকে নাজাত দেই তার স্ত্রীকে ছাড়া, কারণ সে (মহিলা) ছিলো পেছনে থাকাদেরই একজন।

জহুরুল হক

কাজেই আমরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে উদ্ধার করেছিলাম - - তাঁর স্ত্রী ব্যতীত, সে ছিল পেছনে - পড়ে - থাকাদের অন্তর্ভুক্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর আমি তাহাকে ও তাহার স্ত্রী ব্যতীত তাহার পরিজনবর্গকে উদ্ধার করিয়াছিলাম, তাহার স্ত্রী ছিল পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, দেখ গোনাহগারদের পরিণতি কেমন হয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তাদের উপর আমরা (পাথর) বর্ষণ করেছিলাম ভীষণ বর্ষণ। ফলে অপরাধীদের পরিণতি কী রকম হয়েছিল লক্ষ্য করে দেখো।

জহুরুল হক

আর তাদের উপরে আমরা বর্ষণ করেছিলাম এক বর্ষণ। অতএব দেখো, অপরাধীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তাহাদের উপর ভীষণভাবে বৃষ্টি বর্ষণ করিয়াছিলাম। সুতরাং অপরাধীদের পরিণাম কী হইয়াছিল তাহা লক্ষ্য কর।

মুহিউদ্দীন খান

আমি মাদইয়ানের প্রতি তাদের ভাই শোয়ায়েবকে প্রেরণ করেছি। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রমাণ এসে গেছে। অতএব তোমরা মাপ ও ওজন পূর্ন কর এবং মানুষকে তাদের দ্রব্যদি কম দিয়ো না এবং ভুপৃষ্টের সংস্কার সাধন করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। এই হল তোমাদের জন্যে কল্যাণকর, যদি তোমরা হও।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর মাদায়ানের অধিবাসীদের কাছে আমরা পাঠিয়েছিলাম তাদের ভাই শুয়াইবকে। সে তাদের বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো, তোমাদের জন্যে তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে, অতএব মাপ ও ওজন ঠিকঠিকভাবে পূর্ণ করে দেবে। মানুষকে তাদের প্রাপ্য জিনিস কম দেবেনা এবং শান্তি শৃংখলা প্রতিষ্ঠিত হবার পর দেশে ফাসাদ (বিশৃংখলা) সৃষ্টি করবেনা। এটাই তোমাদের জন্যে কল্যাণের পথ যদি তোমরা হও।

জহুরুল হক

আর মাদয়ানবাসীদের নিকট তাদের ভাই শোআইবকে। তিনি বললেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! ‌র উপাসনা করো, তোমাদের জন্য তিনি ব্যতীত অন্য উপাস্য নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে নিশ্চয়ই এসেছে স্পষ্ট প্রমাণ। কাজেই পুরো মাপ ও ওজন দেবে, আর কোন লোককে বঞ্চিত করো না তাদের বিষয়বস্তুতে, আর পৃথিবীতে গন্ডগোল সৃষ্টি করো না তাতে সুব্যবস্থা আনয়নের পরে এটিই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা হও।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি মাদ্‌য়ানবাসীদের নিকট তাহাদের ভ্রাতা শু‘আয়বকে পাঠাইয়াছিলাম। সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায় ! তোমরা ‌র ‘ইবাদত কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ্ নাই; তোমাদের প্রতিপালক হইতে তোমাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণ আসিয়াছে। সুতরাং তোমরা মাপ ও ওজন ঠিকভাবে দিবে, লোকদেরকে তাহাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিবে না এবং দুনিয়ায় শান্তি স্থাপনের পর বিপর্যয় ঘটাইবে না ; তোমরা হইলে তোমাদের জন্য ইহা কল্যাণকর।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা পথে ঘাটে এ কারণে বসে থেকো না যে, বিশ্বাসীদেরকে হুমকি দিবে, আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করবে এবং তাতে বক্রতা অনুসন্ধান করবে। স্মরণ কর, যখন তোমরা সংখ্যায় অল্প ছিলে অতঃপর তোমাদেরকে অধিক করেছেন এবং লক্ষ্য কর কিরূপ অশুভ পরিণতি হয়েছে অনর্থকারীদের।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি ত্রাস সৃষ্টি করার জন্যে তোমরা পথে পথে বসে থেকোনা, তাদেরকে আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করোনা এবং তাতে বক্রতা সন্ধান করোনা। স্মরণ করো, যখন তোমরা সংখ্যায় ছিলে গুটি কয়েক, তারপর তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে দিয়েছিলেন। আরো লক্ষ্য করে দেখো, অতীতে ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের কী পরিণতি হয়েছিল?

জহুরুল হক

''আর প্রত্যেক রাস্তায় ওত পেতে থেকো না ভয় দেখিয়ে, আর ‌র পথ থেকে তাকে ফিরিয়ে নিতে যে তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, আর তাকে কুটিল করতে যেও না। আর স্মরণ করো - - যখন তোমরা অল্প ছিলে, তখন তিনি তোমাদের বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। অতএব দেখো, কি হয়েছিল বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তাঁহার প্রতি যাহারা ঈমান আনিয়াছে তাহাদেরকে ভয় প্রদর্শনের জন্য তোমরা কোন পথে বসিয়া থাকিবে না, ‌র পথে তাহাদেরকে বাধা দিবে না এবং উহাতে বক্রতা অনুসন্ধান করিবে না।’ স্মরণ কর, ‘তোমরা যখন সংখ্যায় কম ছিলে, তখন তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করিয়াছেন এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কিরূপ ছিল, তাহা লক্ষ্য কর।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি তোমাদের একদল ঐ বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং একদল বিশ্বাস স্থাপন করে যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং একদল বিশ্বাস স্থাপন না করে, তবে ছবর কর যে পর্যন্ত আমাদের মধ্যে মীমাংসা না করে দেন। তিনিই শ্রেষ্ট মীমাংসাকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার প্রতি যদি তোমাদের একটি দল ঈমান আনে এবং আরেকটি দল যদি ঈমান না এনে থাকে, তবে অপেক্ষা করো আমাদের মাঝে ফায়সালা করে না দেয়া পর্যন্ত। প্রকৃতপক্ষে তিনিই সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।’’

জহুরুল হক

''আর যদি তোমাদের একদলও বিশ্বাস করে আমাকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে তাতে, আর একদল বিশ্বাস করে না, তখন ধৈর্য ধরো যে পর্যন্ত না আমাদের উভয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দেন, আর তিনিই বিচারকর্তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি যাহা লইয়া প্রেরিত হইয়াছি তাহাতে যদি তোমাদের কোন দল ঈমান আনে এবং কোন দল ঈমান না আনে তবে ধৈর্য ধারণ কর, যতক্ষণ না আমাদের মধ্যে মীমাংসা করিয়া দেন; আর তিনিই শ্রেষ্ঠ মীমাংসাকারী।’

মুহিউদ্দীন খান

তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক সর্দাররা বললঃ হে শোয়ায়েব, আমরা অবশ্যই তোমাকে এবং তোমার সাথে বিশ্বাস স্থাপনকারীদেরকে শহর থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা আমাদের ধর্মে প্রত্যাবর্তন করবে। শোয়ায়েব বললঃ আমরা অপছন্দ করলেও কি ?

আবদুস শহীদ নাসিম

(তার বক্তব্যের জবাবে) তার কওমের অহংকারী নেতারা বলেছিল: ‘হে শুয়াইব! আমরা তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আমাদের জনপদ থেকে বের করে দেবো, অথবা তোমাদের ফিরিয়ে আনবো আমাদের আদর্শে।’ সে (শুয়াইব) বলেছিল: ‘‘আমরা যদি এটাকে ঘৃণা করি, তবু?

জহুরুল হক

তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে যারা গর্ব করেছিল তাদের প্রধানরা বললে, ''আমরা নিশ্চয়ই তোমাকে তাড়িয়ে দেবো, হে শোআইব! আর যারা তোমার সঙ্গে ঈমান এনেছে তাদেরও, আমাদের জনপদ থেকে, অথবা আমাদের ধর্মমতে তোমাদের ফিরে আসতেই হবে।’’ তিনি বললেন, ''কি! যদিও আমরা ঘৃণা করি?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক প্রধানরা বলিল, ‘হে শু‘আয়ব! আমরা তোমাকে ও তোমার সঙ্গে যাহারা ঈমান আনিয়াছে তাহাদেরকে আমা - দের জনপদ হইতে বহিষ্কার করিবই অথবা তোমাদেরকে আমাদের ধর্মাদর্শে ফিরিয়া আসিতে হইবে।’ সে বলিল, ‘যদি আমরা উহা ঘৃণা করি তবুও ?’

মুহিউদ্দীন খান

আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদকারী হয়ে যাব যদি আমরা তোমাদের ধর্মে প্রত্যাবর্তন করি, অথচ তিনি আমাদেরকে এ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আমাদের কাজ নয় এ ধর্মে প্রত্যাবর্তন করা, কিন্তু আমাদের প্রতি পালক যদি চান। আমাদের প্রতিপালক প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন। আল্লাহর প্রতিই আমরা ভরসা করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ফয়সালা করে ছিল যথার্থ ফয়সালা। আপনিই শ্রেষ্টতম ফসলা ফয়সালাকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের ধর্মের আদর্শ থেকে আমাদের নাজাত দেয়ার পর আবার যদি আমরা তাতে ফিরে যাই, তবে তো আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করবো। আমরা তাতে ফিরে যেতে পারিনা, তবে আমাদের প্রভু চাইলে ভিন্ন কথা। আমাদের প্রভুর জ্ঞান সব কিছু পরিব্যাপ্ত। আমরা তাওয়াক্কুল করেছি আল্লাহর উপর। হে আমাদের প্রভু! তুমি আমাদের ও আমাদের কওমের মাঝে হকভাবে ফায়সালা করে দাও, তুমিই সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।’’

জহুরুল হক

''আমরা নিশ্চয়ই ‌র বিরুদ্ধে মিথ্যা সৃষ্টি করবো যদি আমরা ফিরে যাই তোমাদের ধর্মমতে তা থেকে আমাদের উদ্ধার করার পরেও, আর এটি আমাদের সমীচীন হবে না যে আমরা ওতে ফিরে যাই, যদি না আমাদের প্রভু ইচ্ছে করেন। আমাদের প্রভু জ্ঞানে সব - কিছুতে ব্যাপকতা রাখেন। ‌র উপরেই আমরা নির্ভর করি - - 'আমাদের প্রভু! আমাদের মধ্যে ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায্যভাবে নিস্পত্তি করে দাও, আর তুমিই নিস্পত্তিকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমাদের ধর্মাদর্শ হইতে আমাদেরকে উদ্ধার করিবার পর যদি আমরা উহাতে ফিরিয়া যাই তবে তো আমরা ‌র প্রতি মিথ্যা আরোপ করিব। আমাদের প্রতিপালক ইচ্ছা না করিলে আর উহাতে ফিরিয়া যাওয়া আমাদের জন্য সমীচীন নয়। সবকিছুই আমাদের প্রতিপালকের জ্ঞানায়ত্ত, আমরা ‌র প্রতি নির্ভর করি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায্যভাবে মীমাংসা করিয়া দাও এবং তুমিই শ্রেষ্ঠ মীমাংসাকারী।’

মুহিউদ্দীন খান

তার সম্প্রদায়ের সর্দাররা বললঃ যদি তোমরা শোয়ায়েবের অনুসরণ কর, তবে নিশ্চিতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার কওমের নেতারা (জনগণকে) বলেছিল: ‘তোমরা যদি শুয়াইবের অনুসরণ করো, তবে অবশ্যি তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

জহুরুল হক

আর তাঁর লোকদের মধ্যের যারা অবিশ্বাস করেছিল তাদের প্রধানরা বললে - - ''যদি তোমরা শোআইবকে অনুসরণ কর তবে তোমরা আলবৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহার সম্প্রদায়ের অবিশ্বাসী প্রধানরা বলিল, ‘তোমরা যদি শু‘আয়বকে অনুসরণ কর তবে তোমরা তো ক্ষতিগ্রস্ত হইবেই।’

মুহিউদ্দীন খান

অনন্তর পাকড়াও করল তাদেরকে ভূমিকম্প। ফলে তারা সকাল বেলায় গৃহ মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে রইল।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব তাদের পাকড়াও করে এক প্রচন্ড ভূমিকম্প। ফলে তাদের সকাল হয় নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায়।

জহুরুল হক

তারপর ভূমিকম্প তাদের পাকড়ালো, ফলে তারা হয়ে গেল আপন বাড়িঘরেই নিথরদেহী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তাহারা ভূমিকম্প দ্বারা আক্রান্ত হইল, ফলে তাহাদের প্রভাত হইল নিজগৃহে অধঃমুখে পতিত অবস্থায়।

মুহিউদ্দীন খান

শোয়ায়েবের প্রতি মিথ্যারোপকারীরা যেন কোন দিন সেখানে বসবাসই করেনি। যারা শোয়ায়েবের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল, তারাই ক্ষতিগ্রস্থ হল।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা শুয়াইবকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তারা যেনো কখনো সেখানে বসবাসই করেনি। যারা শুয়াইবকে প্রত্যাখ্যান করেছিল তারাই হয় ক্ষতিগ্রস্ত।

জহুরুল হক

যারা শোআইবকে মিথ্যারোপ করেছিল তাদের দশা হলো - - তারা যেন কখনো সেখানে বসবাস করে নি, যারা শোআইবকে মিথ্যারোপ করেছিল তারা নিজেরাই হলো ক্ষতিগ্রস্ত!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মনে হইল, শু‘আয়বকে যাহারা মিথ্যাবাদী বলিয়াছিল তাহারা যেন কখনও সেখানে বসবাস করেই নাই। শু‘আয়বকে যাহারা মিথ্যাবাদী বলিয়াছিল তাহারাই ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছিল।

মুহিউদ্দীন খান

অনন্তর সে তাদের কাছ থেকে প্রস্থান করল এবং বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, আমি তোমাদেরকে প্রতিপালকের পয়গাম পৌছে দিয়েছি এবং তোমাদের হিত কামনা করেছি। এখন আমি কাফেরদের জন্যে কেন দুঃখ করব।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে সে (শুয়াইব) তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে: ‘হে আমার কওম! আমি তোমাদের কাছে আমার প্রভুর বার্তা পৌঁছে দিয়েছি এবং তোমাদের জন্যে কল্যাণের নসিহত করেছি। সুতরাং এখন আমি কেমন করে কুফুরিকে আঁকড়ে ধরে থাকা লোকদের জন্যে আক্ষেপ করি?’

জহুরুল হক

এর পর তিনি তাদের থেকে ফিরে দাঁড়ালেন ও বললেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! আমি তো অবশ্যই তোমাদের কাছে আমার প্রভুর নির্দেশসমূহ পৌঁছে দিয়েছিলাম আর তোমাদের সদুপদেশ দিয়েছিলাম, সুতরাং কেনই বা আমি দুঃখ করবো এক অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য!’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে তাহাদের হইতে মুখ ফিরাইল এবং বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার প্রতিপালকের বাণী আমি তো তোমাদেরকে পৌঁছাইয়া দিয়াছি এবং তোমাদেরকে উপদেশ দিয়াছি, সুতরাং আমি সম্প্রদায়ের জন্য কী করিয়া আক্ষেপ করি!’

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি কোন জনপদে কোন নবী পাঠাইনি, তবে (এমতাবস্থায়) যে পাকড়াও করেছি সে জনপদের অধিবাসীদিগকে কষ্ট ও কঠোরতার মধ্যে, যাতে তারা শিথিল হয়ে পড়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যখনই কোনো জনপদে কোনো নবী পাঠিয়েছি, সেখানকার অধিবাসীদের দারিদ্র ও দুঃখ কষ্টে ফেলেছি, যাতে করে তারা বিনয়াবনত হয়।

জহুরুল হক

আর আমরা কোনো জনপদে কোনো নবী পাঠাইনি তাদের বাসিন্দাদের দুঃখ ও দুর্দশা দিয়ে পাকড়াও না - ক’বে, যেন তারা নিজেরা বিনয়াবনত হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি কোন জনপদে নবী পাঠাইলে উহার অধিবাসীবৃন্দকে অর্থ - সংকট ও দুঃখ - ক্লেশ দ্বারা আক্রান্ত করি, যাহাতে তাহারা কাকুতি - মিনতি করে।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর অকল্যাণের স্থলে তা কল্যাণে বদলে দিয়েছে। এমনকি তারা অনেক বেড়ে গিয়েছি এবং বলতে শুরু করেছে, আমাদের বাপ - দাদাদের উপরও এমন আনন্দ - বেদনা এসেছে। অতঃপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি এমন আকস্মিকভাবে যে তারা টেরও পায়নি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর আমরা দুরাবস্থাকে ভালো অবস্থায় বদল করে দেই, এমনকি তারা প্রাচুর্যের অধিকারী হয় এবং বলে: ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা অনেক কষ্ট ও স্বাচ্ছন্দ্য ভোগ করেছিল।’ তখন আকস্মিক আমরা তাদের পাকড়াও করি এবং তারা টেরও পায়না।

জহুরুল হক

তারপর আমরা দুঃখকষ্টের অবস্থা বদলে দিলাম ভালো দিয়ে, যে পর্যন্ত না তারা ফেঁপে উঠলো ও বললে - - ''আমাদের পিতৃপুরুষদেরও দুঃখদুর্দশা ও আমোদ - আহ্লাদ স্পর্শ করেছিল।’’ কাজেই আমরা তাদের পাকড়াও করলাম অতর্কিতে, আর তারা টেরও পেলো না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর আমি অকল্যাণকে কল্যাণে পরিবর্তিত করি। অবশেষে তাহারা প্রাচুর্যের অধিকারী হয় এবং বলে, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরাও তো দুঃখ - সুখ ভোগ করিয়াছে।’ অতঃপর অকস্মাৎ তাহাদেরকে আমি পাকড়াও করি, কিন্তু তাহারা উপলব্ধি করিতে পারে না।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি সে জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং পরহেযগারী অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের প্রতি আসমানী ও পার্থিব নেয়ামত সমূহ উম্মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। সুতরাং আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি তাদের কৃতকর্মের বদলাতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

জনপদবাসী যদি ঈমান আনতো এবং তাকওয়া অবলম্বন করতো, তাহলে অবশ্যি আমরা তাদের জন্যে খুলে দিতাম আসমান ও জমিনের বরকতের দ্বার। কিন্তু তারা (নবীদের শিক্ষা) প্রত্যাখ্যান করে এবং আমরাও তাদের কর্মকান্ডের জন্যে তাদের পাকড়াও করি।

জহুরুল হক

আর যদি জনপদসমূহের অধিবাসীরা ঈমান আনতো ও ধর্ম - ভীরুতা অবলন্বন করতো তবে আমরা নিশ্চয়ই তাদের জন্য উন্নুক্ত করতাম মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবী থেকে আশীর্বাদসমূহ, কিন্তু তারা তো অবিশ্বাস করেছিল, তাই আমরা তাদের পাকড়াও করলাম যা তারা অর্জন করেছিল তার জন্যে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যদি সেই সকল জনপদের অধিবাসীবৃন্দ ঈমান আনিত ও তাক্ওয়া অবলম্বন করিত তবে আমি তাহাদের জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কল্যাণ উন্মূক্ত করিতাম, কিন্তু তাহারা প্রত্যাখ্যান করিয়াছিল ; সুতরাং তাহাদের কৃতকর্মের জন্য তাহাদেরকে শাস্তি দিয়াছি।

মুহিউদ্দীন খান

এখনও কি এই জনপদের অধিবাসীরা এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত যে, আমার আযাব তাদের উপর রাতের বেলায় এসে পড়বে অথচ তখন তারা থাকবে ঘুমে অচেতন।

আবদুস শহীদ নাসিম

জনপদের অধিবাসীরা কি এই ভয় রাখেনা যে, আমার শাস্তি তাদের উপর এসে পড়তে পারে রাত্রে যখন তারা থাকবে ঘুমন্ত?

জহুরুল হক

তবে কি জনপদের বাসিন্দারা নিরাপদ বোধ করছে তাদের উপরে আমাদের বিপর্যয় এসে পড়া সম্পর্কে রাত্রির আক্রমণরূপে, যখন তারা থাকে নিদ্রামগ্ন?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে কি জনপদের অধিবাসীবৃন্দ ভয় রাখে না যে, আমার শাস্তি তাহাদের উপর আসিবে রাত্রিতে যখন তাহারা থাকিবে নিদ্রামগ্ন ?

মুহিউদ্দীন খান

আর এই জনপদের অধিবাসীরা কি নিশ্চিন্ত হয়ে পড়েছে যে, তাদের উপর আমার আযাব দিনের বেলাতে এসে পড়বে অথচ তারা তখন থাকবে খেলা - ধুলায় মত্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

অথবা শহরবাসীরা কি এই ভয়ও রাখেনা যে, তাদের উপর আমার শাস্তি এসে পড়বে সকাল বেলা আর তারা থাকবে খেলায় নিরত?

জহুরুল হক

অথবা জনপদের বাসিন্দারা কি নিরাপদ ভাবে তাদের উপরে আমাদের বিপর্যয় এসে পড়া সম্পর্কে সকাল বেলায় যখন তারা থাকে খেলায় রত?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অথবা জনপদের অধিবাসীবৃন্দ কি ভয় রাখে না যে, আমার শাস্তি তাহাদের উপর আসিবে পূর্বাহ্নে যখন তাহারা থাকিবে ক্রীড়ারত?

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি আল্লাহর পাকড়াওয়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? বস্তুতঃ আল্লাহর পাকড়াও থেকে তারাই নিশ্চিন্ত হতে পারে, যাদের ধ্বংস ঘনিয়ে আসে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি ভয় পায়না আল্লাহর কৌশলকে? আল্লাহর কৌশলকে কেউই নিরাপদ মনে করেনা ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা ছাড়া।

জহুরুল হক

তারা কি তবে নিরাপদ বোধ করে ‌র পরিকল্পনা থেকে? আর ‌র পরিকল্পনা থেকে কেউ নিরাপদ থাকতে পারে না ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ব্যতীত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা কি ‌র কৌশলের ভয় রাখে না ? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ব্যতীত কেহই ‌র কৌশল হইতে নিরাপদ মনে করে না।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের নিকট কি একথা প্রকাশিত হয়নি, যারা উত্তারাধিকার লাভ করেছে। সেখানকার লোকদের ধ্বংসপ্রাপ্ত হবার পর যদি আমি ইচ্ছা করতাম, , তবে তাদেরকে তাদের পাপের দরুন পাকড়াও করে ফেলতাম। বস্তুতঃ আমি মোহর এঁটে দিয়েছি তাদের অন্তরসমূহের উপর। কাজেই এরা শুনতে পায় না।

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো জনপদে তার অধিবাসীদের ধ্বংস হবার পর যারা তার উত্তরাধিকারী হয়, তারা কি এই দিশাটাও পায়না যে, আমরা চাইলে তাদের পাপের জন্যে তাদের শাস্তি দিতে পারি? অথবা মোহর মেরে দিতে পারি তাদের অন্তরে, যার ফলে তারা আর শুনবেনা?

জহুরুল হক

এটি কি নির্দেশা‌ত্মক নয় তাদের জন্য যারা দেশের উত্তরাধিকারপ্রাপ্ত হয় তার বাসিন্দাদের পরে, যে যদি আমরা ইচ্ছা করি তবে তাদেরও আমরা আঘাত হানতে পারি তাদের অপরাধের জন্য, আর তাদের হৃদয়ের উপরে সিল এঁটে দিতে পারি, ফলে তারা শুনবে না?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কোন দেশের জনগণের পর যাহারা ঐ দেশের উত্তরাধিকারী হয় তাহাদের নিকট ইহা কি প্রতীয়মান হয় নাই যে, আমি ইচ্ছা করিলে তাহাদের পাপের দরুন তাহাদেরকে শাস্তি দিতে পারি ? আর আমি তাহাদের হৃদয় মোহর করিয়া দিব, ফলে তাহারা শুনিবে না।

মুহিউদ্দীন খান

এগুলো হল সে সব জনপদ যার কিছু বিবরণ আমি আপনাকে অবহিত করছি। আর নিশ্চিতই ওদের কাছে পৌছেছিলেন রসূল নিদর্শন সহকারে। অতঃপর কস্মিনকালও এরা ঈমান আনবার ছিল না, তারপরে যা তার ইতিপূর্বে মিথ্যা বলে প্রতিপন্ন করেছে। এভাবেই কাফেরদের অন্তরে মোহর এঁটে দেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেই সব জনপদের কিছু সংবাদ আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করেছি। মূলত, তাদের কাছে এসেছিল তাদের রসূলরা সুস্পষ্ট প্রমাণসমূহ নিয়ে, কিন্তু যা তারা আগে প্রত্যাখ্যান করেছিল তার প্রতি আর তারা ঈমান আনার ছিলনা। এভাবেই মোহর মেরে দেন কাফিরদের হৃদয়ে।

জহুরুল হক

এই জনবসতিগুলো - - তাদের কাহিনী থেকে কিছুটা আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করছি। আর নিশ্চয়ই তাদের কাছে তাদের রসূলগণ এসেছিলেন স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, কিন্তু তাদের বিশ্বাস করবার অবস্থা ছিল না তাতে যা তারা ইতিপূর্বে অবিশ্বাস করেছিল। এইভাবে মোহর মেরে দেন অবিশ্বাসীদের হৃদয়ের উপরে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই সকল জনপদের কিছু বৃত্তান্ত আমি তোমার নিকট বিবৃত করিতেছি, তাহাদের নিকট তাহাদের রাসূলগণ তো স্পষ্ট প্রমাণসহ আসিয়াছিল; কিন্তু যাহা তাহারা পূর্বে প্রত্যাখ্যান করিয়াছিল তাহাতে ঈমান আনিবার পাত্র তাহারা ছিল না, এইভাবে কাফিরদের হৃদয় মোহর করিয়া দেন।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের অধিকাংশ লোককেই আমি প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নকারীরূপে পাইনি; বরং তাদের অধিকাংশকে পেয়েছি হুকুম অমান্যকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা অধিকাংশকেই অংগীকার পালনকারী পাইনি। আমরা তাদের অধিকাংশকেই পেয়েছি ফাসিক (সীমালংঘনকারী পাপাচারী)।

জহুরুল হক

আর তাদের বেশিরভাগের মধ্যে আমরা প্রতি‌শ্রুতি পালনের কিছুই পাই নি, বরং তাদের অধিকাংশকে অবশ্যই পেয়েছি ডাহা অসৎকর্মা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তাহাদের অধিকাংশকে প্রতিশ্রুতি পালনকারী পাই নাই; বরং তাহাদের অধিকাংশকে তো পাপাচারীই পাইয়াছি।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি তাদের পরে মূসাকে পাঠিয়েছি নিদর্শনাবলী দিয়ে ফেরাউন ও তার সভাসদদের নিকট। বস্তুতঃ ওরা তাঁর মোকাবেলায় করেছে। সুতরাং চেয়ে দেখ, কি পরিণতি হয়েছে অনাচারীদের।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের পরে আমরা মূসাকে পাঠিয়েছিলাম আমাদের নিদর্শনসমূহ নিয়ে ফেরাউন এবং তার পারিষদবর্গের কাছে। কিন্তু তারা সেগুলো প্রত্যাখ্যান করে। এখন দেখো, সেসব ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কী হয়েছিল?

জহুরুল হক

অবশেষে তাদের পরে আমরা মূসাকে নিযুক্ত করেছিলাম ফিরআউন ও তার পরিষদবর্গের কাছে আমাদের নির্দেশাবলী সঙ্গে দিয়ে, কিন্তু তারা এগুলোর প্রতি অবিচার করেছিল, অতএব দেখো কেমন হয়েছিল বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের পর মূসাকে আমার নিদর্শনসহ ফির‘আওন ও তাহার পারিষদবর্গের নিকট পাঠাই; কিন্তু তাহারা উহা অস্বীকার করে। বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কি হইয়াছিল তাহা লক্ষ্য কর।

মুহিউদ্দীন খান

আর মূসা বললেন, হে ফেরাউন, আমি বিশ্ব - পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত রসূল।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বলেছিল: ‘‘হে ফেরাউন! আমি মহাজগতের প্রভুর পক্ষ থেকে একজন রসূল।

জহুরুল হক

আর মূসা বললেন - - ''হে ফিরআউন, নিঃসন্দেহ আমি বিশ্বজগতের প্রভুর তরফ থেকে একজন রসূল, - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলিল, ‘হে ফির‘আওন! আমি তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হইতে প্রেরিত।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সত্য এসেছে, তার ব্যতিক্রম কিছু না বলার ব্যাপারে আমি সুদৃঢ়। আমি তোমাদের পরওয়ারদেগারের নিদর্শন নিয়ে এসেছি। সুতরাং তুমি বনী ইসরাঈলদেরকে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও।

আবদুস শহীদ নাসিম

সত্যকথা হলো, আমি আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ছাড়া বলবোনা। আমি তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছি, সুতরাং বনি ইসরাঈলকে আমার সাথে যেতে দাও।’’

জহুরুল হক

''স্থিরনিশ্চিত যে সন্বন্ধে আমি সত্য ছাড়া বলবো না। আমি তোমাদের কাছে এসেছি তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, সুতরাং আমার সঙ্গে পাঠিয়ে দাও ইসরাইলবংশীয় লোকদের।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘ইহা স্থির নিশ্চিত যে, আমি সম্বন্ধে সত্য ব্যতীত বলিব না। তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে স্পষ্ট প্রমাণ আমি তোমাদের নিকট আনিয়াছি, সুতরাং বনী ইসরাঈলকে তুমি আমার সঙ্গে যাইতে দাও।’

মুহিউদ্দীন খান

সে বলল, যদি তুমি কোন নিদর্শন নিয়ে এসে থাক, তাহলে তা উপস্থিত কর যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে বলেছিল: ‘তুমি কোনো নিদর্শন যদি এনেই থাকো, সত্যবাদী হলে তা প্রমাণ করো।’

জহুরুল হক

সে বললে - - ''যদি তুমি কোনো নিদর্শন নিয়ে এসে থাকো তবে তা উপস্থাপিত করো, যদি তুমি সত্যবাদীদের মধ্যেকার হও।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বলিল, ‘যদি তুমি কোন নিদর্শন আনিয়া থাক তবে তুমি সত্যবাদী হইলে তাহা পেশ কর।’

মুহিউদ্দীন খান

তখন তিনি নিক্ষেপ করলেন নিজের লাঠিখানা এবং তাৎক্ষণাৎ তা জলজ্যান্ত এক অজগরে রূপান্তরিত হয়ে গেল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (মূসা) তখন তার লাঠি নিক্ষেপ করে, আর সাথে সাথে তা জাজ্জ্বল্যমান অজগর হয়ে যায়।

জহুরুল হক

কাজেই তিনি তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, তখন আশ্চর্য! তা হলো এক স্পষ্ট সাপ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর মূসা তাহার লাঠি নিক্ষেপ করিল এবং তৎক্ষণাৎ উহা এক সাক্ষাৎ অজগর হইল।

মুহিউদ্দীন খান

আর বের করলেন নিজের হাত এবং তা সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের চোখে ধবধবে উজ্জ্বল দেখাতে লাগল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সে তার (বগলে হাত ঢুকিয়ে) হাত বের করলো, তক্ষুনি তা দর্শকদের জন্যে ধবধবে সাদা হয়ে গেলো।

জহুরুল হক

আর তিনি তাঁর হাত বের করলেন, তখন আশ্চর্য! তা হলো দর্শকদের কাছে সাদা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং সে তাহার হাত বাহির করিল আর তৎক্ষণাৎ উহা দর্শকদের দৃষ্টিতে শুভ্র উজ্জ্বল প্রতিভাত হইল।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউনের সাঙ্গ - পাঙ্গরা বলতে লাগল, নিশ্চয় লোকটি বিজ্ঞ - যাদুকর।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউনের কওম প্রধানরা বললো: ‘‘এতো অবশ্যি এক পন্ডিত ম্যাজেসিয়ান।

জহুরুল হক

ফিরআউনের লোকদের প্রধানরা বললে - - ''নিঃসন্দেহ এ একজন বিজ্ঞ জাদুকর।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন - সম্প্রদায়ের প্রধানরা বলিল, ‘এ তো একজন সুদক্ষ জাদুকর,

মুহিউদ্দীন খান

সে তোমাদিগকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এ ব্যাপারে তোমাদের কি মত?

আবদুস শহীদ নাসিম

সে চায় তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে খারিজ করে (তাড়িয়ে) দিতে। এখন বলো, তোমরা কী পরামর্শ দিচ্ছো?’’

জহুরুল হক

''সে চায় তোমাদের দেশ থেকে তোমাদের বের করে দিতে, কাজেই তোমরা কি পরামর্শ দাও?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এ তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হইতে বহিষ্কার করিতে চায়, এখন তোমরা কী পরামর্শ দাও ?’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, আপনি তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দান করুন এবং শহরে বন্দরে লোক পাঠিয়ে দিন লোকদের সমবেত করার জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘‘তাকে এবং তার ভাইকে সামান্য অবকাশ দিন আর এদিকে (ম্যাজেসিয়ানদের ডেকে আনতে) শহর গুলোতে লোক পাঠিয়ে দিন।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''তাকে ও তার ভাইকে কিঞ্চিৎ অবকাশ দাও, আর শহরে - নগরে পাঠাও তলবকারীদের - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলিল, ‘তাহাকে ও তাহার ভ্রাতাকে কিঞ্চিত অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে সংগ্রাহকদেরকে পাঠাও,

মুহিউদ্দীন খান

যাতে তারা পরাকাষ্ঠাসম্পন্ন বিজ্ঞ যাদুকরদের এনে সমবেত করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা দক্ষ ম্যাজেসিয়ানদের আপনার কাছে এনে হাজির করবে।’’

জহুরুল হক

''তোমার কাছে তারা নিয়ে আসুক প্রত্যেক ঝানু জাদুকর।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যেন তাহারা তোমার নিকট প্রতিটি সুদক্ষ জাদুকর উপস্থিত করে।’

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ যাদুকররা এসে ফেরাউনের কাছে উপস্থিত হল। তারা বলল, আমাদের জন্যে কি কোন পারিশ্রমিক নির্ধারিত আছে, যদি আমরা জয়লাভ করি?

আবদুস শহীদ নাসিম

ম্যাজেসিয়ানরা ফেরাউনের কাছে এসেই বললো: ‘আমরা যদি জয়ী হই আমাদের জন্যে পুরস্কার থাকবে তো?’

জহুরুল হক

আর জাদুকররা ফিরআউনের কাছে এলো। তারা বললে - - ''আমাদের পুরস্কার থাকা চাই যদি আমরা নিজেরা বিজেতা হই।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

জাদুকরেরা ফির‘আওনের নিকট আসিয়া বলিল, ‘আমরা যদি বিজয়ী হই তবে আমাদের জন্য পুরস্কার থাকিবে তো ?’

মুহিউদ্দীন খান

সে বলল, হ্যাঁ এবং অবশ্যই তোমরা আমার নিকটবর্তী লোক হয়ে যাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: হ্যাঁ (অবশ্যি থাকবে) তাছাড়া তোমরা আমার নিকটের লোকদের অন্তরভুক্ত হবে।

জহুরুল হক

সে বললে - - ''হাঁ আর আলবৎ তোমরা হবে নিকটবর্তীদের অন্তর্ভুক্ত।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘হ্যাঁ এবং তোমরা অবশ্যই আমার সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, হে মূসা! হয় তুমি নিক্ষেপ কর অথবা আমরা নিক্ষেপ করছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘মূসা! আপনি আগে নিক্ষেপ করবেন, নাকি আমরাই হবো পয়লা নিক্ষেপকারী?’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''হে মূসা! তুমি কি নিক্ষেপ করবে, না আমরাই হবো নিক্ষেপকারী?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলিল, ‘হে মূসা ! তুমিই কি নিক্ষেপ করিবে, না আমরাই নিক্ষেপ করিব ?’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেন, তোমরাই নিক্ষেপ কর। যখন তারা নিক্ষেপ করল তখন লোকদের চোখগুলোকে বাধিয়ে দিল, ভীত - সন্ত্রস্ত করে তুলল এবং মহাযাদু প্রদর্শন করল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘তোমরাই (আগে) নিক্ষেপ করো।’ তারপর তারা (দড়ি এবং লাঠি) নিক্ষেপ করলো, লোকদের চোখে ধাঁধাঁ সৃষ্টি করলো এবং তাদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করে দিলো। আসলেই তারা বড় রকমের ম্যাজিক দেখিয়েছিল।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমরাই ফেলো।’’ অতঃপর যখন তারা ফেললো তখন লোকদের চোখে ধাঁধাঁ লাগিয়ে দিল আর তাদের ভয়াতুর করলো, আর তারা নিয়ে এলো এক বড় রকমের জাদু!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘তোমরাই নিক্ষেপ কর’। যখন তাহারা নিক্ষেপ করিল তখন তাহারা লোকের চোখে জাদু করিল, তাহাদেরকে আতংকিত করিল এবং তাহারা এক বড় রকমের জাদু দেখাইল।

মুহিউদ্দীন খান

তারপর আমি ওহীযোগে মূসাকে বললাম, এবার নিক্ষেপ কর তোমার লাঠিখানা। অতএব সঙ্গে সঙ্গে তা সে সমুদয়কে গিলতে লাগল, যা তারা বানিয়েছিল যাদু বলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন আমরা মূসার কাছে অহি করলাম: ‘তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো।’ সাথে সাথে সেটি তাদের মিথ্যা সৃষ্টিগুলো গিলে ফেলতে থাকলো।

জহুরুল হক

তখন আমরা মূসাকে প্রত্যাদেশ দিলাম যে - - ''তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো।’’ তখন কি আশ্চর্য! তা গ্রাস করতে লাগলো যা তারা রচনা করেছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি মূসার প্রতি প্রত্যাদেশ করিলাম, ‘তুমিও তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর।’ সহসা উহা তাহাদের অলীক সৃষ্টিগুলিকে গ্রাস করিতে লাগিল;

মুহিউদ্দীন খান

সুতরাং এভাবে প্রকাশ হয়ে গেল সত্য বিষয় এবং ভুল প্রতিপন্ন হয়ে গেল যা কিছু তারা করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলো এবং বাতিল প্রমাণিত হয়ে গেলো তাদের কর্মকান্ড।

জহুরুল হক

কাজেই সত্য প্রতিষ্ঠা লাভ করলো এবং তারা যা করছিল তা বাতিল হয়ে গেল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হইল এবং তাহারা যাহা করিতেছিল তাহা মিথ্যা প্রতিপন্ন হইল।

মুহিউদ্দীন খান

সুতরাং তারা সেখানেই পরাজিত হয়ে গেল এবং অতীব লাঞ্ছিত হল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানেই তারা পরাস্ত হয়ে গেলো এবং হয়ে গেলো অধ:পতিত লাঞ্ছিত।

জহুরুল হক

সুতরাং তারা সেইখানেই পরাভূত হলো, আর তারা মোড় ফেরালো ছোট হয়ে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেখানে তাহারা পরাভূত হইল ও লাঞ্ছিত হইল,

মুহিউদ্দীন খান

এবং যাদুকররা সেজদায় পড়ে গেল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন ম্যাজেসিয়ানরা সাজদায় লুটিয়ে পড়লো।

জহুরুল হক

আর জাদুকররা লুটিয়ে পড়লো সিজদারত অবস্থায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং জাদুকরেরা সিজ্‌দাবনত হইল।

মুহিউদ্দীন খান

বলল, আমরা ঈমান আনছি মহা বিশ্বের পরওয়ারদেগারের প্রতি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: আমরা ঈমান আনলাম রাববুল আলামিনের প্রতি,

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আমরা ঈমান আনলাম বিশ্বজগতের প্রভুর প্রতি - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলিল, ‘আমরা ঈমান আনিলাম জগতসমূহের প্রতিপালকের প্রতি -

মুহিউদ্দীন খান

যিনি মূসা ও হারুনের পরওয়ারদেগার।

আবদুস শহীদ নাসিম

যিনি মূসা এবং হারূণের রব।

জহুরুল হক

''মূসা ও হারূনের প্রভু।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যিনি মূসা ও হারূনেরও প্রতিপালক।’

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন বলল, তোমরা কি (তাহলে) আমার অনুমতি দেয়ার আগেই ঈমান আনলে! এটা প্রতারণা, যা তোমরা এ নগরীতে প্রদর্শন করলে। যাতে করে এ শহরের অধিবাসীদিগকে শহর থেকে বের করে দিতে পার। সুতরাং তোমরা শীঘ্রই বুঝতে পারবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘‘আমার অনুমতি ছাড়াই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? আসলে এটা একটা ষড়যন্ত্র। তোমরা (উভয় পক্ষ মিলে) এই ষড়যন্ত্র এঁটেছো নগরবাসীকে তাদের নগর থেকে বের করে দেয়ার জন্যে। অচিরেই তোমরা এ কাজের পরিণাম দেখতে পাবে।

জহুরুল হক

ফিরআউন বললে - - ''তোমরা তাতে বিশ্বাস করছ আমি তোমাদের অনুমতি দেবার আগেই! নিশ্চয় এটি এক চক্রান্ত যা তোমরা এ শহরে ফেদেছঁ যেন তোমরা এ থেকে এর লোকদের বার করে দিতে পারো। বেশ, শীঘ্রই তোমরা টের পাবে!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন বলিল, ‘কী! আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়ার পূর্বে তোমরা উহাতে বিশ্বাস করিলে ? ইহা তো এক চক্রান্ত; তোমরা সজ্ঞানে এই চক্রান্ত করিয়াছ নগরবাসীদেরকে উহা হইতে বহিষ্কারের জন্য। আচ্ছা, তোমরা শীঘ্রই ইহার পরিণাম জানিবে।

মুহিউদ্দীন খান

অবশ্যই আমি কেটে দেব তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে। তারপর তোমাদের সবাইকে শূলীতে চড়িয়ে মারব।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি বিপরীত দিক থেকে তোমাদের হাত ও পা কেটে দেবো, তারপর তোমাদের সবাইকে করবো শূলবিদ্ধ।’’

জহুরুল হক

''আমি আলবৎ তোমাদের হাত ও তোমাদের পা উল্টো - পাল্টা কেটে দেবো, তারপর তোমাদের নিশ্চয়ই শূলে চড়াবো একসঙ্গে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তো তোমাদের হস্তপদ বিপরীত দিক হইতে কর্তন করিবই; অতঃপর তোমাদের সকলকে শূলবিদ্ধ করিবই।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, আমাদেরকে তো মৃত্যুর পর নিজেদের পরওয়ারদেগারের নিকট ফিরে যেতেই হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা বলেছিল: ‘‘আমরা অবশ্যি ফিরে যাবো আমাদের প্রভুর কাছে।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''নিঃসন্দেহ আমাদের প্রভুর কাছেই আমরা প্রত্যাবর্তনকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলিল, ‘আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করিব;

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ আমাদের সাথে তোমার শত্রুতা তো এ কারণেই যে, আমরা ঈমান এনেছি আমাদের পরওয়ারদেগারের নিদর্শনসমূহের প্রতি যখন তা আমাদের নিকট পৌঁছেছে। হে আমাদের পরওয়ারদেগার আমাদের জন্য ধৈর্য্যের দ্বার খুলে দাও এবং আমাদেরকে মুসলমান হিসাবে মৃত্যু দান কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তো কেবল একারণেই আমাদের থেকে প্রতিশোধ নিচ্ছো যে, আমরা আমাদের প্রভুর নির্দেশের প্রতি ঈমান এনেছি, যখন তা আমাদের সামনে প্রমাণিত হয়েছে।’’ (তারা দোয়া করেছিল:) ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে সবর করার শক্তি দাও এবং আমাদের ওফাত দান করো মুসলিম হিসেবে।’

জহুরুল হক

''আর তুমি আমাদের উপরে প্রতিহিংসা নিচ্ছ না শুধু এজন্য ছাড়া যে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি আমাদের প্রভুর নির্দেশাবলীতে যখন সে - সব আমাদের কাছে এসেছিল। 'আমাদের প্রভু! আমাদের উপরে ধৈর্য বর্ষণ করো, আর আমাদের মৃত্যু ঘটাও মুসলিমরূপে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তুমি তো আমাদেরকে শাস্তি দিতেছ শুধু এইজন্য যে, আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনে ঈমান আনিয়াছি যখন উহা আমাদের নিকট আসিয়াছে। হে আমাদের প্রতিপালক ! আমাদেরকে ধৈর্য দান কর এবং মুসলমানরূপে আমাদেরকে মৃত্যু দাও।’

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউনের সম্প্রদায়ের র্সদাররা বলল, তুমি কি এমনি ছেড়ে দেবে মূসা ও তার সম্প্রদায়কে। দেশময় হৈ - চৈ করার জন্য এবং তোমাকে ও তোমার দেব - দেবীকে বাতিল করে দেবার জন্য। সে বলল, আমি এখনি হত্যা করব তাদের পুত্র সন্তানদিগকে; আর জীবিত রাখব মেয়েদেরকে। বস্তুতঃ আমরা তাদের উপর প্রবল।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন কওমের প্রধানরা বললো: ‘(হে ফেরাউন!) আপনি কি মূসা এবং তার কওমকে দেশে ফাসাদ সৃষ্টির আর আপনাকে ও আপনার ইলাহ্দের ত্যাগ করার জন্যে সুযোগ দিয়ে রাখবেন?’ সে বললো: ‘অচিরেই আমরা কতল করবো তাদের পুত্রদেরকে আর জীবিত রাখবো কন্যা সন্তানদের। আমরা তাদের উপর প্রবল শক্তিধর।’

জহুরুল হক

আর ফিরআউনের লোকদের প্রধানরা বললে - - ''আপনি কি মূসাকে ও তার লোকদের ছেড়ে দেবেন দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে এবং আপনাকে এবং আপনার দেবতাদের পরিত্যাগ করতে?’’ সে বললে - - ''আমরা তাদের পুত্রদের অবশ্যই হত্যা করবো আর তাদের কন্যাদের বাঁচতে দেবো, আর আমরা আলবৎ তাদের উপরে প্রতাপশালী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফির‘আওন সম্প্রদায়ের প্রধানরা বলিল, ‘আপনি কি মূসাকে ও তাহার সম্প্রদায়কে রাজ্যে বিপর্যয় সৃষ্টি করিতে এবং আপনাকে ও আপনার দেবতাদেরকে বর্জন করিতে দিবেন ?’ সে বলিল, ‘আমরা তাহাদের পুত্রদের হত্যা করিব এবং তাহাদের নারীদের জীবিত রাখিব আর আমরা তো তাহাদের উপর প্রবল।’

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বললেন তার কওমকে, সাহায্য প্রার্থনা কর আল্লাহর নিকট এবং ধৈর্য্য ধারণ কর। নিশ্চয়ই এ পৃথিবী আল্লাহর। তিনি নিজের বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেন এবং শেষ কল্যাণ মুত্তাকীদের জন্যই নির্ধারিত রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা তার কওমকে বললো: ‘তোমরা আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো এবং সবর করো। নিশ্চয়ই এ বিশ্বের মালিক আল্লাহ্ই। তিনি তাঁর দাসদের যাকে চাইবেন এর উত্তরাধিকারী করবেন। শুভ পরিণাম তো মুত্তাকিদের জন্যেই।’

জহুরুল হক

মূসা তাঁর লোকদের বললেন - - ''‌র কাছে সাহায্য চাও ও ধৈর্য ধারণ করো, নিঃসন্দেহ পৃথিবী তো ‌র, তিনি তার উত্তরাধিকার দেবেন তাঁর বান্দাদের মধ্যের যাদের তিনি পছন্দ করেন। আর পরিণাম হচ্ছে ধর্মপরায়ণদেরই জন্যে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা তাহার সম্প্রদায়কে বলিল, ‌র নিকট সাহায্য প্রার্থনা কর এবং ধৈর্য ধারণ কর; যমীন তো ‌রই। তিনি তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাহাকে ইচ্ছা উহার উত্তরাধিকারী করেন এবং শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, আমাদের কষ্ট ছিল তোমার আসার পূর্বে এবং তোমার আসার পরে। তিনি বললেন, তোমাদের পরওয়ারদেগার শীঘ্রই তোমাদের শক্রদের ধ্বংস করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দেশে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন। তারপর দেখবেন, তোমরা কেমন কাজ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘তুমি আমাদের কাছে আসার আগেও আমরা নির্যাতিত হয়েছি এবং তুমি আসার পরেও।’ সে বললো: ‘অচিরেই তোমাদের প্রভু তোমাদের দুশমনকে হালাক করে দেবেন এবং পৃথিবীতে তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তারপর দেখবেন, তোমরা কেমন আমল করো।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আমরা অত্যাচারিত হয়েছি আমাদের কাছে তোমার আগমনের আগে এবং আমাদের কাছে তোমার আসার পরেও।’’ তিনি বললেন - - ''হতে পারে তোমাদের প্রভু তোমাদের শত্রুদের ধ্বংস করবেন, আর অচিরেই তোমাদের তিনি প্রতিনিধি ঠাওরাবেন দেশের মধ্যে, যেন তিনি দেখতে পারেন কেমনভাবে তোমরা কাজ করো।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলিল, ‘আমাদের নিকট তোমার আসিবার পূর্বে আমরা নির্যাতিত হইয়াছি এবং তোমার আসিবার পরেও।’ সে বলিল, শীঘ্রই তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের শত্রু ধ্বংস করিবেন এবং তিনি তোমাদেরকে যমীনে তাহাদের স্থলাভিষিক্ত করিবেন, অতঃপর তোমরা কী কর তাহা তিনি লক্ষ্য করিবেন।’

মুহিউদ্দীন খান

তারপর আমি পাকড়াও করেছি - ফেরাউনের অনুসারীদেরকে দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে এবং ফল ফসলের ক্ষয় - ক্ষতির মাধ্যমে যাতে করে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা ফেরাউনের অনুসারীদের দুর্ভিক্ষ আর ফসল হানির মাধ্যমে শাস্তি দিয়েছি যাতে করে তারা উপলব্ধি করে।

জহুরুল হক

আর আমরা নিশ্চয়ই ফিরআউনের লোকদের পাকড়াও করেছিলাম বহুবৎসরের খরা আর ফল - ফসলের ক্ষতি দিয়ে, যেন তারা অনুধাবন করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তো ফির‘আওনের অনুসারীদেরকে দুর্ভিক্ষ ও ফল - ফসলের ক্ষতির দ্বারা আক্রান্ত করিয়াছি, যাহাতে তাহারা অনুধাবন করে।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন শুভদিন ফিরে আসে, তখন তারা বলতে আরম্ভ করে যে, এটাই আমাদের জন্য উপযোগী। আর যদি অকল্যাণ এসে উপস্থিত হয় তবে তাতে মূসার এবং তাঁর সঙ্গীদের অলক্ষণ বলে অভিহিত করে। শুনে রাখ তাদের অলক্ষণ যে, আল্লাহরই এলেমে রয়েছে, অথচ এরা জানে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখনই তাদের কল্যাণ হতো তারা বলতো, আমরা এরই হকদার। আর যখনই তাদের স্পর্শ করতো কোনো অকল্যাণ, তখনই মূসা ও তার সাথিদেরকে তারা অলক্ষুণে গণ্য করতো। তাদের অকল্যাণ তো আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বুঝ - জ্ঞান রাখেনা।

জহুরুল হক

কিন্তু যখন তাদের কাছে ভালো অবস্থা আসতো, তারা বলতো - - ''এ - সব আমাদের জন্য।’’ আর যখন মন্দ অবস্থা তাদের উপরে ঘটতো তারা আরোপ করতো মূসার ও তাঁর সঙ্গে যারা ছিল তাদের উপরে। একি নয় যে নিঃসন্দেহ তাদের ক্রিয়াকলাপ ‌র কাছে রয়েছে? কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যখন তাহাদের কোন কল্যাণ হইত, তাহারা বলিত, ‘ইহা আমাদের প্রাপ্য।’ আর যখন কোন অকল্যাণ হইত তখন তাহারা মূসা ও তাহার সঙ্গীদেরকে অলক্ষুণে গণ্য করিত, তাহাদের অকল্যাণ ‌র নিয়ন্ত্রণাধীন; কিন্তু তাহাদের অধিকাংশ ইহা জানে না।

মুহিউদ্দীন খান

তারা আরও বলতে লাগল, আমাদের উপর জাদু করার জন্য তুমি যে নিদর্শনই নিয়ে আস না কেন আমরা কিন্তু তোমার উপর ঈমান আনছি না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলতো, আমাদের জাদু করার জন্যে তুমি যে নিদর্শনই দেখাওনা কেন, আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনবো না।

জহুরুল হক

আর তারা বললে - - ''তুমি নিদর্শন থেকে যে কোনোটাই আমাদের কাছে আনো না কেন তা দিয়ে আমাদের জাদু করতে, আমরা কিন্তু তোমাতে বিশ্বাস স্থাপনকারী হবো না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলিল, ‘আমাদেরকে জাদু করিবার জন্য তুমি যে কোন নিদর্শন আমাদের নিকট পেশ কর না কেন আমরা তোমাতে বিশ্বাস করিব না।’

মুহিউদ্দীন খান

সুতরাং আমি তাদের উপর পাঠিয়ে দিলাম তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত প্রভৃতি বহুবিধ নিদর্শন একের পর এক। তারপরেও তারা গর্ব করতে থাকল। বস্তুতঃ তারা ছিল অপরাধপ্রবণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের প্রতি (নিদর্শন হিসেবে) পাঠিয়েছিলাম তুফান (প্লাবন), পঙ্গপাল, উকুন, ব্যঙ এবং রক্ত। এগুলো ছিলো বিস্তারিত ও স্পষ্ট নিদর্শন। কিন্তু তারা অহংকার করে। মূলত তারা ছিলো এক অপরাধী কওম।

জহুরুল হক

তারপর আমরা তাদের উপরে পাঠালাম সুদূর প্রসারিত মৃত্যু, আর পঙ্গপাল ও উকুন, আর বেঙ ও রক্ত - - বিশদভাবে বর্ণিত নিদর্শনাবলী, কিন্তু তারা অহংকার করেছিল এবং তারা ছিল একটি অপরাধী সম্প্রদায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর আমি তাহাদেরকে প্লাবন, পঙ্গপাল, উকুন, ভেক ও রক্ত দ্বারা ক্লিষ্ট করি। এইগুলি স্পষ্ট নিদর্শন ; কিন্তু তাহারা দাম্ভিকই রহিয়া গেল; আর তাহারা ছিল এক অপরাধী সম্প্রদায়।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের উপর যখন কোন আযাব পড়ে তখন বলে, হে মূসা আমাদের জন্য তোমার পরওয়ারদেগারের নিকট সে বিষয়ে দোয়া কর যা তিনি তোমার সাথে ওয়াদা করে রেখেছেন। যদি তুমি আমাদের উপর থেকে এ আযাব সরিয়ে দাও, তবে অবশ্যই আমরা ঈমান আনব তোমার উপর এবং তোমার সাথে বনী - ইসরাঈলদেরকে যেতে দেব।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখনই তাদের উপর এর কোনো একটি শাস্তি আসতো, তারা বলতো: ‘হে মূসা! তোমার প্রভুর কাছে আমাদের জন্যে দোয়া করো, তিনি তোমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন (ঈমান আনলে আমাদের থেকে আযাব অপসারণ করার), এখন যদি সে অনুযায়ী তিনি আমাদের থেকে আযাব অপসারণ করেন, তবে অবশ্যি আমরা ঈমান আনবো এবং বনি ইসরাঈলকে তোমার সাথে যেতে দেবো।’

জহুরুল হক

আর যখন তাদের উপরে মড়কের আবির্ভাব হলো তারা বললে - - ''হে মূসা! তোমার প্রভুর কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করো যেমন তিনি তোমার কাছে ওয়াদা করেছেন, তুমি যদি আমাদের কাছ থেকে মহামারী অপসারিত করে দাও তবে আমরা নিশ্চয়ই তোমাতে ঈমান আনবো আর তোমার সঙ্গে অবশ্যই ইসরাইলবংশীয়দের পাঠিয়ে দেবো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যখন তাহাদের উপর শাস্তি আসিত তাহারা বলিত, ‘হে মূসা ! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট আমাদের জন্য প্রার্থনা কর তোমার সঙ্গে তিনি যে অঙ্গীকার করিয়াছেন তদনুযায়ী; যদি তুমি আমাদের উপর হইতে শাস্তি অপসারিত কর তবে আমরা তো তোমাতে ঈমান আনিবই এবং বনী ইসরাঈলকেও তোমার সঙ্গে অবশ্যই যাইতে দিব।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন আমি তাদের উপর থেকে আযাব তুলে নিতাম নির্ধারিত একটি সময় পর্যন্ত - যেখান পর্যন্ত তাদেরকে পৌছানোর উদ্দেশ্য ছিল, তখন তড়িঘড়ি তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করত।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখনই আমরা তাদেরকে তাদের জন্যে নির্ধারিত কোনো একটি আযাব দূরীভূত করে দিয়েছি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে, তখনই তারা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।

জহুরুল হক

কিন্তু যখন আমরা তাদের থেকে মহামারী দূর করলাম নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যাতে তারা পৌঁছুল, দেখো! তারা ভঙ্গ করলো!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি যখনই তাহাদের উপর হইতে শাস্তি অপসারিত করিতাম এক নির্দিষ্ট কালের জন্য যাহা তাহাদের জন্য নির্ধারিত ছিল, তাহারা তখনই তাহাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করিত।

মুহিউদ্দীন খান

সুতরাং আমি তাদের কাছে থেকে বদলা নিয়ে নিলাম - বস্তুতঃ তাদেরকে সাগরে ডুবিয়ে দিলাম। কারণ, তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল আমার নিদর্শনসমূহকে এবং তৎপ্রতি অনীহা প্রদর্শন করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে, আমরা তাদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি এবং তাদের ডুবিয়ে দিয়েছি গভীর সমুদ্রে। কারণ, তারা আমাদের নিদর্শন সমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং তা থেকে তারা ছিলো গাফিল।

জহুরুল হক

সেজন্য আমরা তাদের থেকে শেষপরিণতি নিলাম, আর তাদের আমরা ডুবিয়ে দিয়েছিলাম সাগরের জলে যেহেতু তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের নির্দেশসমূহ, আর এতে তারা ছিল অমনোযোগী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং আমি তাহাদেরকে শাস্তি দিয়াছি এবং তাহাদেরকে অতল সমুদ্রে নিমজ্জিত করিয়াছি। কারণ তাহারা আমার নিদর্শনকে অস্বীকার করিত এবং এই সম্বন্ধে তাহারা ছিল গাফিল।

মুহিউদ্দীন খান

আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হত তাদেরকেও আমি উত্তরাধিকার দান করেছি এ ভুখন্ডের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের যাতে আমি বরকত সন্নিহিত রেখেছি এবং পরিপূর্ণ হয়ে গেছে তোমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত কল্যাণ বনী - ইসরাঈলদের জন্য তাদের ধৈর্য্যধারণের দরুন। আর ধ্বংস করে দিয়েছে সে সবকিছু যা তৈরী করেছিল ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় এবং ধ্বংস করেছি যা কিছু তারা সুউচ্চ নির্মাণ করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর সেই লোকদেরকে আমরা আমাদের বরকতপ্রাপ্ত ভূমির পূর্ব ও পশ্চিমের উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিলাম, যাদেরকে রাখা হয়েছিল দূর্বল করে। আর এভাবেই বনি ইসরাঈল সম্পর্কে তোমার প্রভুর শুভ বাণী পূর্ণতা লাভ করে, কারণ তারা সবর অবলম্বন করেছিল। পক্ষান্তরে ফেরাউন ও তার কওম যেসব শিল্প ও স্থাপত্য নির্মাণ করেছিল, সেগুলো আমরা করে দিয়েছিলাম ধ্বংস।

জহুরুল হক

আর আমরা উত্তরাধিকার দিয়েছিলাম সেই লোকদের যাদের দুর্বল গণ্য করা হয়েছিল, - - দেশের পূর্ব্বাঞ্চলসমূহ ও তার পশ্চিমাঞ্চল সমূহ - - যাতে আমরা সমৃদ্ধি অর্পণ করেছিলাম। আর তোমার প্রভুর মনোরম বাণী পরিপূর্ণ হয়েছিল ইসরাইলের বংশধরদের ক্ষেত্রে যেহেতু তারা ধৈর্য ধরেছিল। আর আমরা ভেঙ্গে ফেলেছিলাম ফিরআউন ও তার লোকেরা যা গড়ে ছিল, আর যে - সব তারা বানিয়েছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে সম্প্রদায়কে দুর্বল গণ্য করা হইত তাহাদেরকে আমি আমার কল্যাণপ্রাপ্ত রাজ্যের পূর্ব ও পশ্চিমের উত্তরাধিকারী করি; এবং বনী ইসরাঈল সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালকের শুভ বাণী সত্যে পরিণত হইল, যেহেতু তাহারা ধৈর্য ধারণ করিয়াছিল, আর ফির‘আওন ও তাহার সম্প্রদায়ের শিল্প এবং যেসব প্রাসাদ তাহারা নির্মাণ করিয়াছিল তাহা ধ্বংস করিয়াছি।

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ আমি সাগর পার করে দিয়েছি বনী - ইসরাঈলদিগকে। তখন তারা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে পৌছাল, যারা স্বহস্তনির্মিত মূর্তিপুজায় নিয়োজিত ছিল। তারা বলতে লাগল, হে মূসা; আমাদের উপাসনার জন্যও তাদের মূর্তির মতই একটি মূর্তি নির্মাণ করে দিন। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে বড়ই অজ্ঞতা রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

বনি ইসরাঈলকে আমরা সমুদ্র পার করিয়ে দেই। পথিমধ্যে মূর্তিপূজায় নিরত একটি জাতির কাছে এসে তারা উপনীত হয়। তখন তারা মূসাকে বলে: ‘হে মূসা! আমাদেরকেও এদের ইলাহ্র (দেবতার) মতো ইলাহ্ বানিয়ে দাও।’ সে বললো: ‘তোমরা একটি জাহিল কওম।’

জহুরুল হক

আর আমরা ইসরাইল বংশীয় লোকদের সমূদ্র পার করিয়ে দিই, তারপর তারা এল এক জাতির সংস্পর্শে যারা তাদের অবশিষ্ট প্রতিমাগুলোর প্রতি আসক্ত ছিল। তারা বললে - - ''হে মূসা! আমাদের জন্য একটি দেবতা গড়ে দাও যেমন তাদের দেবতারা রয়েছে ।’’ তিনি বললেন - - ''তোমরা নিঃসন্দেহ এমন এক সম্প্রদায় যারা বোকামো করছো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আমি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করাইয়া দেই; অতঃপর তাহারা প্রতিমা পূজায় রত এক জাতির নিকট উপস্থিত হয়। তাহারা বলিল, ‘হে মূসা! তাহাদের দেবতার ন্যায় আমাদের জন্যও এক দেবতা গড়িয়া দাও।’ সে বলিল, ‘তোমরা তো এক মূর্খ সম্প্রদায়।’

মুহিউদ্দীন খান

এরা যে, কাজে নিয়োজিত রয়েছে তা ধ্বংস হবে এবং যা কিছু তারা করেছে তা যে ভুল!

আবদুস শহীদ নাসিম

(মূসা আরো বললো:) ‘এসব লোক যেসব কাজে জড়িত রয়েছে তা তো ধ্বংসপ্রাপ্ত হবেই আর তারা যা করছে সবই বাতিল।’

জহুরুল হক

''নিঃসন্দেহ এদের ব্যাপারে - - যাতে তারা লিপ্ত রয়েছে তা ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে যাচ্ছে, আর বৃথা যা তারা করে চলেছে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এইসব লোক যাহাতে লিপ্ত রহিয়াছে তাহা তো বিধ্বস্ত হইবে এবং তাহারা যাহা করিতেছে তাহাও অমূলক।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেন, তাহলে কি আল্লাহকে ছাড়া তোমাদের জন্য অন্য কোন উপাস্য অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদিগকে সারা বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে আরো বলেছিল: ‘আমি কি তোমাদের জন্যে ছাড়া অন্য ইলাহ্ খুঁজবো, অথচ তিনি তোমাদের মর্যাদাবান করেছেন জগতবাসীর উপর?’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমি কি ছাড়া তোমাদের জন্য অন্য উপাস্য খুঁজবো, অথচ তিনি তোমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন সমস্ত বিশ্বজগতের উপরে?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে আরও বলিল, ‘ ব্যতীত তোমাদের জন্য আমি কি অন্য ইলাহ্ খুঁজিব অথচ তিনি তোমাদেরকে বিশ্বজগতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছেন?’

মুহিউদ্দীন খান

আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদেরকে ফেরাউনের লোকদের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছি; তারা তোমাদেরকে দিত নিকৃষ্ট শাস্তি, তোমাদের পুত্র - সন্তানদের মেরে ফেলত এবং মেয়েদের বাঁচিয়ে রাখত। এতে তোমাদের প্রতি তোমাদের পরওয়ারদেগারের বিরাট পরীক্ষা রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, আমরা তোমাদের নাজাত দিয়েছিলাম ফেরাউনের অনুসারীদের থেকে। তারা তোমাদের নির্যাতন করতো নিকৃষ্ট আযাব দিয়ে। তারা হত্যা করতো তোমাদের পুত্র সন্তানদের, আর জীবিত রাখতো তোমাদের নারীদের। তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এতে তোমাদের জন্যে ছিলো এক বিরাট পরীক্ষা।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো, আমরা তোমাদের উদ্ধার করেছিলাম ফিরআউনের লোকদের থেকে, তারা তোমাদের অত্যাচার করেছিল মর্মান্তিক শাস্তি দিয়ে, - - তারা তোমাদের পুত্রসন্তানদের হত্যা করতো ও বাচঁতে দিত তোমাদের কন্যাদের। আর এতে ছিল তোমাদের জন্য তোমাদের প্রভুর তরফ থেকে এক বিরাট সঙ্কট।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, আমি তোমাদেরকে ফির‘আওনের অনুসারীদের হাত হইতে উদ্ধার করিয়াছি যাহারা তোমাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দিত। তাহারা তোমাদের পুত্র সন্তানদের হত্যা করিত এবং তোমাদের নারীদেরকে জীবিত রাখিত; ইহাতে ছিল তোমাদের প্রতিপালকের এক মহাপরীক্ষা।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি মূসাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি ত্রিশ রাত্রির এবং সেগুলোকে পূর্ন করেছি আরো দশ দ্বারা। বস্তুতঃ এভাবে চল্লিশ রাতের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে। আর মূসা তাঁর ভাই হারুনকে বললেন, আমার সম্প্রদায়ে তুমি আমার প্রতিনিধি হিসাবে থাক। তাদের সংশোধন করতে থাক এবং হাঙ্গামা সৃষ্টিকারীদের পথে চলো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, আমরা মূসাকে ত্রিশ রাতের ওয়াদা দিয়েছিলাম এবং আরো দশ বাড়িয়ে দিয়ে তা পূর্ণ করেছিলাম। এভাবে তোমার প্রভুর নির্ধারিত সময়কাল তিনি চল্লিশ রাতে পূর্ণ করেন। মূসা বলেছিল তার ভাই হারূণকে: ‘আমার অনুপস্থিতিতে তুমি আমার কওমে আমার প্রতিনিধিত্ব করবে এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করবেনা।’

জহুরুল হক

আর আমরা মূসার সঙ্গে ওয়াদা করেছিলাম ত্রিশ রাত্রি, আর তা পূর্ণ করি দশ দিয়ে - - তাতে পূর্ণ হলো তাঁর প্রভুর নির্ধারিত চল্লিশ রাত্রি। আর মূসা তাঁর ভাই হারূনকে বললেন - - ''আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব করবে ও ভালোভাবে চলবে, আর গন্ডগোল সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করো না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, মূসার জন্য আমি ত্রিশ রাত্রি নির্ধারণ করি এবং আরও দশ দ্বারা উহা পূর্ণ করি। এইভাবে তাহার প্রতিপালকের নির্ধারিত সময় চল্লিশ রাত্রিতে পূর্ণ হয়। এবং মূসা তাহার ভ্রাতা হারূনকে বলিল, ‘আমার অনুপস্থিতিতে আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব করিবে, সংশোধন করিবে এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করিবে না।’

মুহিউদ্দীন খান

তারপর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রুত সময় অনুযায়ী এসে হাযির হলেন এবং তাঁর সাথে তার পরওয়ারদেগার কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, হে আমার প্রভু, তোমার দীদার আমাকে দাও, যেন আমি তোমাকে দেখতে পাই। তিনি বললেন, তুমি আমাকে কস্মিনকালেও দেখতে পাবে না, তবে তুমি পাহাড়ের দিকে দেখতে থাক, সেটি যদি স্বস্থানে দঁড়িয়ে থাকে তবে তুমিও আমাকে দেখতে পাবে। তারপর যখন তার পরওয়ারদগার পাহাড়ের উপর আপন জ্যোতির বিকিরণ ঘটালেন, সেটিকে বিধ্বস্ত করে দিলেন এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরে এল; বললেন, হে প্রভু! তোমার সত্তা পবিত্র, তোমার দরবারে আমি তওবা করছি এবং আমিই সর্বপ্রথম বিশ্বাস স্থাপন করছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা যখন আমার মিকাতে (নির্ধারিত সময় ও স্থানে) উপস্থিত হয়েছিল, এবং তার প্রভু তার সাথে কথা বলেছিলেন, তখন সে বললো: ‘আমার প্রভু! আমাকে দেখা দাও, আমি তোমাকে দেখবো।’ তিনি বললেন: ‘তুমি কখনো আমাকে দেখতে পাবেনা। তবে তুমি পাহাড়ের প্রতি তাকাও, পাহাড় যদি তার স্বস্থানে অটল থাকে, তাহলেই তুমি আমাকে দেখবে।’ তারপর তোমার প্রভু যখন পাহাড়ের দিকে তাজাল্লি (জ্যোতি) প্রকাশ করলেন, তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিলো এবং মূসা পড়ে গেলো সংজ্ঞাহীন হয়ে। তারপর যখন সে সংজ্ঞা ফিরে পেলো, তখন বললো: ‘মহাপবিত্র ত্রুটিমুক্ত তুমি, আমি অনুতপ্ত হয়ে তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম এবং আমিই বিশ্বাসীদের প্রথম।’

জহুরুল হক

আর যখন মূসা আমাদের নির্ধারিত - স্থলে এসে পৌঁছুলেন এবং তাঁর প্রভু তাঁর সাথে কথা বললেন, তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমাকে দর্শন দাও, আমি তোমাকে দেখবো।’’ তিনি বললেন - - ''তুমি কখনই আমাকে দেখতে পাবে না, বরং পাহাড়টির দিকে তাকাও, যদি তা তার জায়গায় স্থির থাকে তবে তুমি আমাকে দেখবে।’’ তারপর যখন তাঁর প্রভু পাহাড়টিতে জ্যোতিষ্মান হলেন তখন তিনি তাকে চূর্ণ - বিচূর্ণ করলেন, আর মূসা পড়ে গেলেন সংজ্ঞাহীন হয়ে। তারপর যখন তিনি চেতনা পেলেন, তিনি বললেন - - ''তোমারই সব মহিমা! আমি তোমারই দিকে ফিরছি, আর আমি হব মুমিনদের মধ্যে অগ্রণী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা যখন আমার নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হইল এবং তাহার প্রতিপালক তাহার সঙ্গে কথা বলিলেন তখন সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক ! আমাকে দর্শন দাও, আমি তোমাকে দেখিব।’ তিনি বলিলেন, ‘তুমি আমাকে কখনই দেখিতে পাইবে না। তুমি বরং পাহাড়ের প্রতি লক্ষ্য কর, উহা স্বস্থানে স্থির থাকিলে তবে তুমি আমাকে দেখিবে।’ যখন তাহার প্রতিপালক পাহাড়ে জ্যোতি প্রকাশ করিলেন তখন উহা পাহাড়কে চূর্ণ - বিচূর্ণ করিল এবং মূসা সংজ্ঞাহীন হইয়া পড়িল। যখন সে জ্ঞান ফিরিয়া পাইল তখন বলিল, ‘মহিমময় তুমি, আমি অনুতপ্ত হইয়া তোমাতেই প্রত্যাবর্তন করিলাম এবং মু’মিনদের মধ্যে আমিই প্রথম।’

মুহিউদ্দীন খান

(পরওয়ারদেগার) বললেন, হে মূসা, আমি তোমাকে আমার বার্তা পাঠানোর এবং কথা বলার মাধ্যমে লোকদের উপর বিশিষ্টতা দান করেছি। সুতরাং যা কিছু আমি তোমাকে দান করলাম, গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞ থাক।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: ‘হে মূসা! আমি তোমাকে মানব সমাজের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি আমার রিসালাত প্রদান করে এবং তোমার সাথে আমার কথা বলার মাধ্যমে। সুতরাং আমি তোমাকে যা দিয়েছি তা আঁকড়ে ধরো এবং শোকরগুজারদের অন্তরভুক্ত হও।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''হে মূসা! নিঃসন্দেহ আমি তোমাকে নির্বাচন করেছি জনগণের উপরে আমার বাণী প্রেরণের দ্বারা ও আমার বাক্যালাপের দ্বারা, কাজেই তুমি ধারণ করো যা বিধান আমি তোমাকে দিয়েছি, আর কৃতজ্ঞদের মধ্যেকার হও।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি বলিলেন, ‘হে মূসা ! আমি তোমাকে আমার রিসালাত ও বাক্যালাপ দ্বারা মানুষের মধ্যে বিশিষ্ট করিয়াছি; সুতরাং আমি যাহা দিলাম তাহা গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞ হও।’

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি তোমাকে পটে লিখে দিয়েছি সর্বপ্রকার উপদেশ ও বিস্তারিত সব বিষয়। অতএব, এগুলোকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং স্বজাতিকে এর কল্যাণকর বিষয়সমূহ দৃঢ়তার সাথে পালনের নির্দেশ দাও।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তার জন্যে ফলকে সব বিষয়ের উপদেশ এবং সব বিষয়ের সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা লিখে দিয়েছি। সুতরাং এগুলো শক্ত করে আঁকড়ে ধরো এবং তোমার কওমকে এগুলোর উত্তম নির্দেশাবলি গ্রহণ করার নির্দেশ দাও। আমি অচিরেই তোমাদেরকে ফাসিকদের আবাস দেখাবো।

জহুরুল হক

আর আমরা তাঁর জন্য লিপিবদ্ধ করেছিলাম ফলকগুলোতে হরেক রকমের উপদেশ আর সব - কিছুর ব্যাখ্যা, - - ''এ - সব তাহলে শক্তভাবে ধারণ করো, আর তোমার লোকদের নির্দেশ দাও শ্রেষ্ঠগুলো গ্রহণ করতে। আমি অচিরেই তোমাদের দেখাবো সত্যত্যাগীদের বাসস্থান।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তাহার জন্য ফলকে সর্ববিষয়ে উপদেশ ও সকল বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা লিখিয়া দিয়াছি; সুতরাং এইগুলি শক্তভাবে ধর এবং তোমার সম্প্রদায়কে উহাদের যাহা উত্তম তাহা গ্রহণ করিতে নির্দেশ দাও। আমি শীঘ্র সত্যত্যাগীদের বাসস্থান তোমাদেরকে দেখাইব।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আমার নিদর্শনসমূহ হতে তাদেরকে ফিরিয়ে রাখি, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে গর্ব করে। যদি তারা সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে ফেলে, তবুও তা বিশ্বাস করবে না। আর যদি হেদায়েতের পথ দেখে, তবে সে পথ গ্রহণ করে না। অথচ গোমরাহীর পথ দেখলে তাই গ্রহণ করে নেয়। এর কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে মনে করেছে এবং তা থেকে বেখবর রয়ে গেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে অহংকার করে বেড়ায় আমি অচিরেই আমার আয়াত থেকে তাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেবো। তারা প্রতিটি নিদর্শন দেখলেও তাতে বিশ্বাস করবেনা, তারা সঠিক পথ দেখলেও সেটিকে (নিজেদের পথ) হিসেবে গ্রহণ করবেনা। কিন্তু ভ্রান্ত পথ দেখলেই সেটাকে চলার পথ হিসেবে গ্রহণ করবে। এর কারণ তারা আমাদের আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সে ব্যাপারে তারা গাফিল।

জহুরুল হক

অচিরেই আমার নির্দেশাবলী থেকে আমি ফিরিয়ে দেবো তাদের যারা দেশের মধ্যে অন্যায়ভাবে অহংকার করে। আর যদিও তারা প্রত্যেকটি নিদর্শন দেখতে পায় তবু তারা ওতে বিশ্বাস করবে না, আর যদি তারা ভ্রান্ত পথের দেখা পায় তবে তাকে তারা পথ বলে গ্রহণ করে। এটি এজন্য যে তারা আমাদের নির্দেশ - সমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, আর তাতে তারা উদাসীন হয়েছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পৃথিবীতে যাহারা অন্যায়ভাবে দম্ভ করিয়া বেড়ায় তাহাদের দৃষ্টি আমার নিদর্শন হইতে ফিরাইয়া দিব, তাহারা আমার প্রত্যেকটি নিদর্শন দেখিলেও উহাতে বিশ্বাস করিবে না, তাহারা সৎপথ দেখিলেও উহাকে পথ বলিয়া গ্রহণ করিবে না; কিন্তু তাহারা ভ্রান্তপথ দেখিলে উহাকে তাহারা পথ হিসাবে গ্রহণ করিবে। ইহা এইহেতু যে, তাহারা আমার নিদর্শনকে অস্বীকার করিয়াছে এবং সে সম্বন্ধে তাহারা ছিল গাফিল।

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ যারা মিথ্যা জেনেছে আমার আয়াতসমূকে এবং আখেরাতের সাক্ষাতকে, তাদের যাবতীয় কাজকর্ম ধ্বংস হয়ে গেছে। তেমন বদলাই সে পাবে যেমন আমল করত।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আমাদের আয়াত এবং আখিরাতের সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে, নিষ্ফল হয়ে গেছে তাদের সমস্ত আমল। তারা যা করে তার বাইরে তাদেরকে কোনো প্রতিফল (শাস্তি) দেয়া হবেনা।

জহুরুল হক

আর যারা মিথ্যারোপ করেছিল আমাদের নির্দেশাবলীতে ও পরকালের মুলাকাতের সন্বন্ধে, তাদের ক্রিয়াকলাপ বৃথা হয়েছে। তাদের কি প্রতিফল দেয়া হবে যা তারা করে যাচ্ছিল তার বিপরীতে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা আমার নিদর্শন ও আখিরাতের সাক্ষাতকে অস্বীকার করে তাহাদের কার্য নিষ্ফল হয়। তাহারা যাহা করে তদনুযায়ীই তাহাদেরকে প্রতিফল দেওয়া হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

আর বানিয়ে নিল মূসার সম্প্রদায় তার অনুপস্থিতিতে নিজেদের অলংকারাদির দ্বারা একটি তা থেকে বেরুচ্ছিল ‘হাম্বা হাম্বা’ শব্দ। তারা কি একথাও লক্ষ্য করল না যে, সেটি তাদের সাথে কথাও বলছে না এবং তাদেরকে কোন পথও বাতলে দিচ্ছে না! তারা সেটিকে উপাস্য বানিয়ে নিল। বস্তুতঃ তারা ছিল জালেম।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসার কওম তার অনুপস্থিতিতে তাদের অলংকার দিয়ে একটি গো - বাছুরের দেহাবয়ব তৈরি করে, যার থেকে হাম্বা ধ্বনি বের হতো। তারা কি দেখেনি যে, সেটি তাদের সাথে কথা বলেনা এবং তাদের পথও দেখায়না? তারা সেটিকে (দেবতা হিসেবে) গ্রহণ করে। আসলে তারা ছিলো যালিম।

জহুরুল হক

আর মূসার লোকেরা তাঁর পরে গ্রহণ করলো তাদের অলংকার দিয়ে একটি গোবৎসকে - - একটি দেহ, যাতে ফোকলা আওয়াজ হতো। তারা কি দেখলো না যে এটি তো তাদের সঙ্গে কথা বলে না আর তাদের পথে পরিচালিতও করে না? তারা এটিকে গ্রহণ করলো, আর তারা ছিল অন্যায়কারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসার সম্প্রদায় তাহার অনুপস্থিতিতে নিজেদের অলংকার দ্বারা গড়িল এক গো - বৎস, এক অবয়ব, যাহা ‘হাম্বা’ রব করিত। তাহারা কি দেখিল না যে, উহা তাহাদের সঙ্গে কথা বলে না ও তাহাদেরকে পথও দেখায় না ? তাহারা উহাকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করিল এবং তাহারা ছিল ।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন তারা অনুতপ্ত হল এবং বুঝতে পারল যে, আমরা নিশ্চিতই গোমরাহ হয়ে পড়েছি, তখন বলতে লাগল, আমাদের প্রতি যদি আমাদের পরওয়ারদেগার করুণা না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ধবংস হয়ে যাব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখন অনুতপ্ত হলো এবং দেখলো যে, তারা বিপথগামী হয়ে গেছে, তখন তারা বললো: ‘আমাদের প্রভু যদি আমাদের প্রতি রহম না করেন এবং আমাদের ক্ষমা করে না দেন, তবে অবশ্যি আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বো।’

জহুরুল হক

আর যখন তাদের হাতে কামড় পড়লো আর দেখলো যে তারা বিপথে চলে গেছে, তারা বললে - - ''যদি না আমাদের প্রভু আমাদের প্রতি করুণা করেন ও আমাদের পরিত্রাণ করেন তবে আমরা আলবৎ ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবো।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা যখন অনুতপ্ত হইল ও দেখিল যে, তাহারা বিপথগামী হইয়া গিয়াছে, তখন তাহারা বলিল, ‘আমাদের প্রতিপালক যদি আমাদের প্রতি দয়া না করেন ও আমাদেরকে ক্ষমা না করেন তবে আমরা তো ক্ষতিগ্রস্ত হইবই।

মুহিউদ্দীন খান

তারপর যখন মূসা নিজ সম্প্রদায়ে ফিরে এলেন রাগাম্বিত ও অনুতপ্ত অবস্থায়, তখন বললেন, আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা আমার কি নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্বটাই না করেছ। তোমরা নিজ পরওয়ারদেগারের হুকুম থেকে কি তাড়াহুড়া করে ফেললে এবং সে তখতীগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং নিজের ভাইয়ের মাথার চুল চেপে ধরে নিজের দিকে টানতে লাগলেন। ভাই বললেন, হে আমার মায়ের পুত্র, লোকগুলো যে আমাকে দুর্বল মনে করল এবং আমাকে যে মেরে ফেলার উপক্রম করেছিল। সুতরাং আমার উপর আর শত্রুদের হাসিও না। আর আমাকে জালিমদের সারিতে গন্য করো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা যখন ক্ষুদ্ধ হয়ে তার কওমের কাছে ফিরে এলো, বললো: ‘তোমরা আমার অনুপস্থিতিতে আমার চরম নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্ব করেছো। তোমাদের প্রভুর আদেশের আগেই তোমরা তাড়াহুড়া করলে?’ এবং সে ফলকগুলো ফেলে দেয় এবং তার ভাইয়ের চুল ধরে নিজের দিকে টেনে আনে। সে (তার ভাই হারূণ) বললো: ‘হে আমার সহোদর! লোকেরা আমাকে দুর্বল করে রেখেছিল এবং আমাকে প্রায় হত্যাই করে ফেলেছিল। তুমি আমার সাথে এমন আচরণ করোনা যাতে শত্রুরা আনন্দিত হয় এবং আমাকে যালিম কওমের অন্তরভুক্ত করোনা।’

জহুরুল হক

আর যখন মূসা ফিরে এলেন তাঁর লোকদের কাছে ক্ষুদ্ধ ও ত্রুদ্ধ হয়ে, তিনি বললেন - - ''আমার পরে তোমরা আমার স্থলে যা কারেছ তা জঘন্য! তোমরা কি তোমাদের প্রভুর বিচার এগিয়ে আনতে চাও?’’ আর তিনি ফলকগুলো ফেলে দিলেন, আর তাঁর ভাইয়ের মাথা ধরলেন তাঁর দিকে তাঁকে টেনে আনতে। তিনি বললেন - - ''হে আমার সহোদর! নিঃসন্দেহ লোকেরা আমাকে দুর্বল ঠাওরেছিল ও আমাকে প্রায় মেরেই ফেলেছিল। সুতরাং আমার দশায় শত্রুদের পুলকিত করো না, আর, আমাকে পাপিষ্ঠ লোকদের দলভুক্ত করো না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা যখন ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হইয়া স্বীয় সম্প্রদায়ের নিকট প্রত্যাবর্তন করিল তখন বলিল, ‘আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা আমার কত নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্ব করিয়াছ! তোমাদের প্রতিপালকের আদেশের পূর্বে তোমরা ত্বরান্বিত করিলে ?’ এবং সে ফলকগুলি ফেলিয়া দিল আর স্বীয় ভ্রাতাকে চুলে ধরিয়া নিজের দিকে টানিয়া আনিল। হারূন বলিল, ‘হে আমার সহোদর ! লোকেরা তো আমাকে দুর্বল মনে করিয়াছিল এবং আমাকে প্রায় হত্যা করিয়াই ফেলিয়াছিল। তুমি আমার সঙ্গে এমন করিও না যাহাতে শত্রুরা আনন্দিত হয় এবং আমাকে জালিমদের অন্তর্ভুক্ত করিও না।’

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বললেন, হে আমার পরওয়ারদেগার, ক্ষমা কর আমাকে আর আমার ভাইকে এবং আমাদেরকে তোমার রহমতের অন্তর্ভুক্ত কর। তুমি যে সর্বাধিক করুণাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (মূসা) বললো: ‘আমার প্রভু! আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমার ভাইকেও, আর আমাদের দাখিল করো তোমরা রহমতের মধ্যে। তুমিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ রহমওয়ালা।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমাকে ও আমার ভাইকে পরিত্রাণ করো, আর আমাদের দাখিল করো তোমার অনুগ্রহের মধ্যে, কেননা তুমিই দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ করুণাময়।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ও আমার ভ্রাতাকে ক্ষমা কর এবং আমাদেরকে তোমার রহমতের মধ্যে দাখিল কর। তুমিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু।’

মুহিউদ্দীন খান

অবশ্য যারা গোবৎসকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে, তাদের উপর তাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে পার্থিব এ জীবনেই গযব ও লাঞ্জনা এসে পড়বে। এমনি আমি অপবাদ আরোপকারীদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা গো - বাছুরকে দেবতা হিসাবে গ্রহণ করেছে তাদের উপর এই দুনিয়ার জীবনেই তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে আপতিত হবে গজব আর যিল্লতি। এভাবেই আমরা শাস্তি দিয়ে থাকি মিথ্যা রচনাকারীদের।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা গো - বৎসকে গ্রহণ করেছিল তাদের পাকড়াও করবে তাদের প্রভুর ক্রোধ ও লাঞ্ছনা এই দুনিয়ার জীবনে। আর এইভাবেই আমরা প্রতিফল দিই মিথ্যারচনাকারীদের।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা গো - বৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করিয়াছে পার্থিব জীবনে তাহাদের উপর তাহাদের প্রতিপালকের ক্রোধ ও লাঞ্ছনা আপতিত হইবেই। আর এইভাবে আমি মিথ্যা রচনাকারীদেরকে প্রতিফল দিয়া থাকি।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা মন্দ কাজ করে, তারপরে তওবা করে নেয় এবং ঈমান নিয়ে আসে, তবে নিশ্চয়ই তোমার পরওয়ারদেগার তওবার পর অবশ্য ক্ষমাকারী, করুণাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা মন্দ কাজ করার পর অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসে (তওবা করে) এবং ঈমানের ভিত্তিতে জীবন যাপন করে, নিশ্চয়ই তোমার প্রভু এরপরও পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।

জহুরুল হক

আর যারা অসদাচরণ করে আর তারপরে ফেরে ও বিশ্বাস করে, - - নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু তো এর পরে পরম ক্ষমাশীল, অফুরন্ত ফলদাতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা অসৎকার্য করে তাহারা পরে তওবা করিলে ও ঈমান আনিলে তোমার প্রতিপালক তো পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

মুহিউদ্দীন খান

তারপর যখন মূসার রাগ পড়ে গেল, তখন তিনি তখতীগুলো তুলে নিলেন। আর যা কিছু তাতে লেখা ছিল, তা ছিল সে সমস্ত লোকের জন্য হেদায়েত ও রহমত যারা নিজেদের পরওয়ারদেগারকে ভয় করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন থেমে গেলো মূসার রাগ, তখন সে তুলে নিলো ফলকগুলো। যারা তাদের প্রভুর জন্যে একমুখী হয়ে যায় তাদের জন্যে সেই নোস্খাগুলোতে লিখিত ছিলো হিদায়াত ও রহমত।

জহুরুল হক

আর মূসা থেকে ক্রোধ যখন প্রশমিত হলো তিনি তখন ফলকগুলো তুলে নিলেন, সে - সবের লেখনে ছিল পথনির্দেশ ও করুণা, তাদের জন্য যারা তাদের প্রভুর প্রতি ভয় করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসার ক্রোধ যখন প্রশমিত হইল তখন সে ফলকগুলি তুলিয়া লইল। যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে ভয় করে তাহাদের জন্য উহাতে যাহা লিখিত ছিল তাহাতে ছিল পথনির্দেশ ও রহমত।

মুহিউদ্দীন খান

আর মূসা বেছে নিলেন নিজের সম্প্রদায় থেকে সত্তর জন লোক আমার প্রতিশ্রুত সময়ের জন্য। তারপর যখন তাদেরকে ভূমিকম্প পাকড়াও করল, তখন বললেন, হে আমার পরওয়ারদেগার, তুমি যদি ইচ্ছা করতে, তবে তাদেরকে আগেই ধ্বংস করে দিতে এবং আমাকেও। আমাদেরকে কি সে কর্মের কারণে ধ্বংস করছ, যা আমার সম্প্রদায়ের নির্বোধ লোকেরা করেছে? এসবই তোমার পরীক্ষা; তুমি যাকে ইচ্ছা এতে পথ ভ্রষ্ট করবে এবং যাকে ইচ্ছা সরলপথে রাখবে। তুমি যে আমাদের রক্ষক - সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং আমাদের উপর করুনা কর। তাছাড়া তুমিই তো সর্বাধিক ক্ষমাকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা তার কওম থেকে সত্তর ব্যক্তিকে আমার নির্ধারিত স্থানে নিয়ে আসার জন্যে মনোনীত করে। যখন সেখানে তাদেরকে প্রচন্ড ভূমিকম্প পাকড়াও করলো, মূসা ফরিয়াদ করলো: ‘‘আমার প্রভু! তুমি চাইলে (তো) এখানে আসার আগেই তাদের মেরে ফেলতে পারতে এবং আমাকেও। আমাদের মধ্যকার নির্বোধ লোকদের কর্মকান্ডের জন্যে কি তুমি আমাদের ধ্বংস করে দেবে? এটা তো তোমার একটা পরীক্ষা ছাড়া আর কিছু নয়। এর দ্বারা তুমি যাকে চাও গোমরাহ করে দাও আর যাকে চাও সঠিক পথ দেখাও। তুমিই আমাদের অলি। তাই আমাদের ক্ষমা করে দাও এবং রহম করো আমাদের প্রতি। তুমিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল।

জহুরুল হক

আর মূসা তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে সত্তর জন লোককে বাছাই করলেন আমাদের নির্ধারিত স্থলের জন্য, কাজেই যখন ভূমিকম্প তাদের পাকড়ালো, তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! তুমি যদি ইচ্ছা করতে তবে এর আগেই তো তুমি তাদের ধ্বংস করতে পারতে, আর আমাকেও। তুমি কি আমাদের ধ্বংস করবে আমাদের মধ্যের নির্বোধরা যা করেছে তার জন্যে? এ তোমার পরীক্ষা বৈ তো নয়। এর দ্বারা তুমি বিপথগামী করো যাদের তুমি ইচ্ছা করো, আর সৎপথে চালাও যাদের তুমি ইচ্ছা করো। তুমিই আমাদের অভিভাবক, অতএব আমাদের পরিত্রাণ করো ও আমাদের প্রতি করুণা করো, কারণ তুমিই পরিত্রাণকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসা স্বীয় সম্প্রদায় হইতে সত্তরজন লোককে আমার নির্ধারিত স্থানে সমবেত হওয়ার জন্য মনোনীত করিল। তাহারা যখন ভূমিকম্প দ্বারা আক্রান্ত হইল, তখন মূসা বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি ইচ্ছা করিলে পূর্বেই তো ইহাদেরকে এবং আমাকেও ধ্বংস করিতে পারিতে! আমাদের মধ্যে যাহারা নির্বোধ, তাহারা যাহা করিয়াছে সেইজন্য কি তুমি আমাদেরকে ধ্বংস করিবে ? ইহা তো শুধু তোমার পরীক্ষা, যদ্দ্বারা তুমি যাহাকে ইচ্ছা বিপথগামী কর এবং যাহাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত কর। তুমিই তো আমাদের অভিভাবক ; সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি দয়া কর এবং ক্ষমাশীলদের মধ্যে তুমিই তো শ্রেষ্ঠ।

মুহিউদ্দীন খান

আর পৃথিবীতে এবং আখেরাতে আমাদের জন্য কল্যাণ লিখে দাও। আমরা তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি। তা’আলা বললেন, আমার আযাব তারই উপর পরিব্যাপ্ত। সুতরাং তা তাদের জন্য লিখে দেব যারা ভয় রাখে, যাকাত দান করে এবং যারা আমার আয়তসমুহের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের জন্যে এই দুনিয়াতে কল্যাণ লিখে দাও এবং আখিরাতেও। আমরা তোমার দিকেই পথ ধরলাম।’’ তার প্রভু বললেন: আমার শাস্তি যাকে আমি চাই দিয়ে থাকি, কিন্তু আমার রহমত সব কিছুর উপর পরিব্যাপ্ত। তা আমি বিশেষভাবে লিখে দেবো সেইসব লোকদের জন্যে, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, যাকাত পরিশোধ করে দেয় এবং যারা ঈমান রাখে আমার আয়াতের প্রতি।

জহুরুল হক

''আর আমাদের জন্য বিধান করো এই দুনিয়াতেই কল্যাণ এবং পরকালেও, আমরা নিঃসন্দেহ তোমার দিকেই ফিরছি।’’ তিনি বললেন - - ''আমার শাস্তি - - তা দিয়ে আমি আঘাত হানবো যাকে ইচ্ছা করবো, কিন্তু আমার করুণা - - তা সব - কিছুই পরিবেষ্ঠন করে। সুতরাং আমি তা বিধান করবো তাদের জন্য যারা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করে, আর যাকাত আদায় করে, আর যারা আমাদের নির্দেশাবলীতে বিশ্বাস করে, - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমাদের জন্য নির্ধারিত কর দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ, আমরা তোমার নিকট প্রত্যাবর্তন করিয়াছি।’ বলিলেন, ‘আমার শাস্তি যাহাকে ইচ্ছা দিয়া থাকি আর আমার দয়া - তাহা তো প্রত্যেক বস্তুতে ব্যাপ্ত। সুতরাং আমি উহা তাহাদের জন্য নির্ধারিত করিব যাহারা তাক্ওয়া অবলম্বন করে, যাকাত দেয় ও আমার নিদর্শনে বিশ্বাস করে।

মুহিউদ্দীন খান

সেসমস্ত লোক, যারা আনুগত্য অবলম্বন করে এ রসূলের, যিনি উম্মী নবী, যাঁর সম্পর্কে তারা নিজেদের কাছে রক্ষিত তওরাত ও ইঞ্জিলে লেখা দেখতে পায়, তিনি তাদেরকে নির্দেশ দেন সৎকর্মের, বারণ করেন অসৎকর্ম থেকে; তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল ঘোষনা করেন ও নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্তুসমূহ এবং তাদের উপর থেকে সে বোঝা নামিয়ে দেন এবং বন্দীত্ব অপসারণ করেন যা তাদের উপর বিদ্যমান ছিল। সুতরাং যেসব লোক তাঁর উপর ঈমান এনেছে, তাঁর সাহচর্য অবলম্বন করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং সে নূরের অনুসরণ করেছে যা তার সাথে অবতীর্ণ করা হয়েছে, শুধুমাত্র তারাই নিজেদের উদ্দেশ্য সফলতা অর্জন করতে পেরেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ইত্তেবা (অনুসরণ) করবে আমার এই রসূল উম্মি নবীর, যার উল্লেখ তারা লিপিবদ্ধ পায় তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত এবং ইনজিলে, সে তাদেরকে ভালো কাজের আদেশ দেয়, মন্দ কাজ থেকে বারণ করে, তাদের জন্যে সব ভালো জিনিস হালাল করে, সব নোংরা অপবিত্র জিনিস হারাম করে এবং তাদেরকে মুক্ত করে সেইসব গুরুভার ও শৃংখল থেকে, যেগুলো তাদের উপর বোঝা হয়ে চেপেছিল। অতএব যারা তার প্রতি ঈমান আনবে, তাকে সম্মান প্রদর্শন করবে, তাকে সাহায্য করবে এবং সেই নূর (কুরআন) - এর ইত্তেবা করবে, যা নাযিল করা হয়েছে তার সাথে, তারাই হবে ।

জহুরুল হক

''যারা অনুসরণ করে সেই রসূলকে - - নবী, উম্মী, যাঁকে তারা পায় উল্লিখিত রয়েছে তাদের কাছের তওরাতে ও ইঞ্জীলে, আর যিনি তাদের নির্দেশ দেন সৎকাজের ও তাদের নিষেধ করেন অসৎকাজ থেকে, আর তাদের জন্য বৈধ করেন ভালো বিষয়বস্তু ও তাদের জন্য নিষেধ করেন মন্দ জিনিসগুলো, আর যিনি তাদের থেকে দূর করে দেন তাদের বোঝা ও বন্ধন যা তাদের উপরে ছিল। অতএব যারা তাঁতে বিশ্বাস করে ও তাঁকে মান্য করে ও তাঁকে সাহায্য করে আর অনুসরণ করে সেই আলো যা তাঁর সঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে, - - এরা নিজেরাই হচ্ছে ।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যাহারা অনুসরণ করে বার্তাবাহক উম্মী নবীর, যাহার উল্লেখ তাওরাত ও ইন্‌জীল, যাহা তাহাদের নিকট আছে তাহাতে লিপিবদ্ধ পায়, যে তাহাদেরকে সৎকাজের নির্দেশ দেয় ও অসৎকাজে বাধা দেয়, যে তাহাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে ও অপবিত্র বস্তু হারাম করে এবং যে মুক্ত করে তাহাদেরকে তাহাদের গুরুভার হইতে এবং শৃংখল হইতে - যাহা তাহাদের উপর ছিল। সুতরাং যাহারা তাহার প্রতি ঈমান আনে তাহাকে সম্মান করে, তাহাকে সাহায্য করে এবং যে নূর তাহার সঙ্গে অবতীর্ণ হইয়াছে উহার অনুসরণ করে তাহারাই ।

মুহিউদ্দীন খান

বলে দাও, হে মানব মন্ডলী। তোমাদের সবার প্রতি আমি প্রেরিত রসূল, সমগ্র আসমান ও যমীনে তার রাজত্ব। একমাত্র তাঁকে ছাড়া আর কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সবাই বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহর উপর তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর উপর, যিনি বিশ্বাস রাখেন আল্লাহর এবং তাঁর সমস্ত কালামের উপর। তাঁর অনুসরণ কর যাতে সরল পথপ্রাপ্ত হতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ!) বলো: ‘হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি সেই মহান আল্লাহর রসূল, যিনি মহাকাশ এবং এই পৃথিবীর কর্তৃত্বের মালিক। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু। সুতরাং তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর উম্মি নবীর প্রতি, যে ঈমান রাখে আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর বাণীর প্রতি। তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, অবশ্যি সঠিক পথ পাবে।’

জহুরুল হক

বলো - - ''ওহে জনগণ! আমি নিশ্চয়ই ‌র রসূল তোমাদের সবার কাছে, - - মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব যাঁর সেইজনেরই, তিনি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই, তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। সেজন্য ‌তে বিশ্বাস করো ও তাঁর রসূলের প্রতি - - উম্মী নবী, যিনি ঈমান এনেছেন আল্লাহতে ও তাঁর বাণীসমূহে, আর তোমরাও তাঁর অনুসরণ করো যেন তোমরা সৎপথপ্রাপ্ত হতে পারো।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘হে মানুষ! আমি তোমাদের সকলের জন্য ‌র রাসূল, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের অধিকারী। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই ; তিনিই জীবিত করেন ও মৃত্যু ঘটান। সুতরাং তোমরা ঈমান আন ‌র প্রতি ও তাঁহার বার্তাবাহক উম্মী নবীর প্রতি; যে ও তাঁহার বাণীতে ঈমান আনে এবং তোমরা তাহার অনুসরণ কর, যাহাতে তোমরা সঠিক পথ পাও।’

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ মূসার সম্প্রদায়ে একটি দল রয়েছে যারা সত্যপথ নির্দেশ করে এবং সে মতেই বিচার করে থাকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসার কওমের মধ্যে এমন একদল লোকও আছে যারা অন্যদেরকে সত্যের ভিত্তিতে পথ দেখায় এবং তার ভিত্তিতেই বিচার করে।

জহুরুল হক

আর মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যেও একটি দল রয়েছে যারা পথ দেখায় সত্যের দ্বারা ও তার দ্বারা ন্যায়বিচার করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন দল রহিয়াছে যাহারা অন্যকে ন্যায়ভাবে পথ দেখায় ও সেইভাবেই বিচার করে।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি পৃথক পৃথক করে দিয়েছি তাদের বার জন পিতামহের সন্তানদেরকে বিরাট বিরাট দলে, এবং নির্দেশ দিয়েছি মুসাকে, যখন তার কাছে তার সম্প্রদায় পানি চাইল যে, স্বীয় যষ্টির দ্বারা আঘাত কর এ পাথরের উপর। অতঃপর এর ভেতর থেকে ফুটে বের হল বারটি প্রস্রবণ। প্রতিটি গোত্র চিনে নিল নিজ নিজ ঘাঁটি। আর আমি ছায়া দান করলাম তাদের উপর মেঘের এবং তাদের জন্য অবতীর্ন করলাম মান্না ও সালওয়া। যে পরিচ্ছন্ন বস্তুত জীবিকারূপে আমি তোমাদের দিয়েছি, তা থেকে তোমরা ভক্ষণ কর। বস্তুতঃ তারা আমার কোন ক্ষতি করেনি, বরং ক্ষতি করেছে নিজেদেরই।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের বিভক্ত করেছি বারো গোত্রে। মূসার কওম যখন তার কাছে পানি সমস্যার সমাধান করার আবেদন করেছিল, আমরা তাকে অহি করে নির্দেশ দিলাম, এই পাথরটিতে তোমার লাঠি দিয়ে আঘাত করো। ফলে (তার আঘাতের সাথে সাথে) তা থেকে বারোটি ঝরণাধারা উৎসারিত হয়ে গেলো। প্রত্যেক গোত্রের লোকেরা তাদের নিজ নিজ পানির জায়গা চিনে নিলো। তাছাড়া আমরা মেঘমালা দিয়ে তাদের উপর ছায়া বিস্তার করেছিলাম এবং তাদের জন্যে নাযিল করেছিলাম মান্না এবং সালওয়া। (তাদের বলেছিলাম:) আমরা তোমাদের যে ভালো জীবিকা দিয়েছি তা থেকে খাও। কিন্তু, তারা আমাদের প্রতি যুলুম করেনি, যুলুম করেছিল তাদের নিজেদের প্রতিই।

জহুরুল হক

আর আমরা তাদের বিভক্ত করেছিলাম বারোটি গোত্রে দলে। আর মূসার কাছে আমরা প্রেরণা দিলাম যখন তাঁর লোকেরা তাঁর কাছে পানি চাইল, এই বলে - - ''তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করো।’’ তখন তা থেকে বারোটি ঝরনা প্রবাহিত হলো। প্রত্যেক গোত্র আপন জলপান - স্থান চিনে নিলো। আর তাদের উপরে আমরা মেঘ দিয়ে আচ্ছাদান করেছিলাম, আর তাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম 'মান্না’ ও 'সালওয়া’, - - ''তোমাদের যা জীবিকা দিয়েছি তার ভালো ভালো জিনিস থেকে আহার করো।’’ কিন্তু তারা আমাদের কোনো অনিষ্ট করে নি, বরং তারা তাদের নিজেদের প্রতি অনিষ্ট করছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদেরকে আমি বার গোত্রে বিভক্ত করিয়াছি। মূসার সম্প্রদায় যখন তাহার নিকট পানি প্রার্থনা করিল, তখন তাহার প্রতি প্রত্যাদেশ করিলাম, ‘তোমার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত কর’, ফলে উহা হইতে বার প্রস্রবণ উৎসারিত হইল। প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পানস্থান চিনিয়া লইল, এবং মেঘ দ্বারা তাহাদের উপর ছায়া বিস্তার করিয়াছিলাম, তাহাদের নিকট মান্না ও সালওয়া পাঠাইয়াছিলাম এবং বলিয়াছিলাম, ‘উত্তম যাহা তোমাদেরকে দিয়াছি তাহা হইতে আহার কর।’ তাহারা আমার প্রতি কোন জুলুম করে নাই, কিন্তু তাহারা নিজেদের প্রতিই জুলুম করিতেছিল।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন তাদের প্রতি নির্দেশ হল যে, তোমরা এ নগরীতে বসবাস কর এবং খাও তা থেকে যেখান থেকে ইচ্ছা এবং বল, আমাদের ক্ষমা করুন। আর দরজা দিয়ে প্রবেশ কর প্রণত অবস্থায়। তবে আমি ক্ষমা করে দেব তোমাদের পাপসমুহ। অবশ্য আমি সৎকর্মীদিগকে অতিরিক্ত দান করব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বলা হয়েছিল: তোমরা এই বসতিতে বসবাস করো, সেখানে যেখান থেকে ইচ্ছা খাও এবং বলো, হিত্তাতুন (আমাদের ক্ষমা করো) আর নত শিরে দাখিল হও (সদর) গেইট দিয়ে, তাহলে আমরা তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেবো। কল্যাণপরায়ণদের আমরা অচিরেই আরো অধিক দান করবো।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! তাদের বলা হয়েছিল - - ''এ জনবসতিতে বসবাস করো, আর এ থেকে আহার করো যখন - যেখানে ইচ্ছা করো, আর বলো 'হিৎতাতুন’, আর সদর - দরজা দিয়ে প্রবেশ করো নতমস্তকে, তোমাদের সমস্ত ভুলভ্রান্তি আমরা তোমাদের থেকে ক্ষমা করে দেবো। উপরন্তু আমরা বাড়িয়ে দেবো শুভকর্মীদের জন্য।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, তাহাদেরকে বলা হইয়াছিল, ‘তোমরা এই জনপদে বাস কর ও যেথা ইচ্ছা আহার কর এবং বল, ‘ক্ষমা চাই’ এবং নতশিরে দ্বারে প্রবেশ কর; আমি তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করিব। আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে আরও অধিক দান করিব।’

মুহিউদ্দীন খান

অনন্তর জালেমরা এতে অন্য শব্দ বদলে দিল তার পরিবর্তে, যা তাদেরকে বলা হয়েছিল। সুতরাং আমি তাদের উপর আযাব পাঠিয়েছি আসমান থেকে তাদের অপকর্মের কারণে।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু তাদের মধ্যে যারা যুলুম করেছিল, তাদের যা বলা হয়েছিল সেকথা বদল করে তারা অন্য কথা বললো। ফলে আমরা আসমান থেকে তাদের জন্যে নাযিল করেছিলাম শাস্তি তাদের যুলুমের কারণে।

জহুরুল হক

কিন্তু তাদের মধ্যে যারা অন্যায় করেছিল তারা তাদের যা বলা হয়েছিল তার বিপরীত কথায় তা বদলে দিল, সেজন্য তাদের উপরে আমরা আকাশ থেকে পাঠালাম মহামারী, যেহেতু তারা অন্যায় ক’রে চলছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিন্তু তাহাদের মধ্যে যাহারা ছিল তাহাদেরকে যাহা বলা হইয়াছিল, তাহার পরিবর্তে তাহারা অন্য কথা বলিল। সুতরাং আমি আকাশ হইতে তাহাদের প্রতি শাস্তি প্রেরণ করিলাম, যেহেতু তাহারা সীমালংঘন করিতেছিল।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের কাছে সে জনপদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর যা ছিল নদীর তীরে অবস্থিত। যখন শনিবার দিনের নির্দেশের ব্যাপারে সীমাতিক্রম করতে লাগল, যখন আসতে লাগল মাছগুলো তাদের কাছে শনিবার দিন পানির উপর, আর যেদিন শনিবার হত না, আসত না। এভাবে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি। কারণ, তারা ছিল নাফরমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জিজ্ঞাসা করো সেই বসতি সম্পর্কে যাদের অবস্থান ছিলো সাগরের পাড়েই। সেখানে তারা শনিবারে সীমালংঘন করতো। শনিবার উদযাপনের দিন মাছ পানির উপরিভাগে ভেসে তাদের কাছে আসতো। যেদিন তারা শনিবার উদযাপন করতো না, সেদিন তারা তাদের কাছে আসতোনা। এভাবে আমরা তাদের পরীক্ষা করেছিলাম তাদের ফাসেকির কারণে।

জহুরুল হক

আর তাদের জিজ্ঞাসা করো সেই জনবসতি সন্বন্ধে যারা ছিল সমুদ্রের কিনারে। স্মরণ করো! তারা সব্বাতের উল্লঙ্ঘন করেছিল, কারণ তাদের মাছগুলো তাদের কাছে আসতো তাদের সাব্বাতের দিনে ঝাঁকে - ঝাঁকে, আর যেদিন তারা সব্বাত পালন করতো না তারা তাদের কাছে আসতো না। এইভাবে আমরা তাদের নিয়ন্ত্রিত করেছিলাম, কেননা তারা পাপাচার করে চলতো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদেরকে সমুদ্রতীরবর্তী জনপদবাসীদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা কর, তাহারা শনিবারের সীমালংঘন করিত; শনিবার উদ্‌যাপনের দিন মাছ পানিতে ভাসিয়া তাহাদের নিকট আসিত। কিন্তু যেদিন তাহারা শনিবার উদ্‌যাপন করিত না সেদিন উহারা তাহাদের নিকট আসিত না। এইভাবে আমি তাহাদেরকে পরীক্ষা করিয়াছিলাম, যেহেতু তাহারা সত্য ত্যাগ করিত।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন তাদের মধ্যে থেকে এক সম্প্রদায় বলল, কেন সে লোকদের সদুপদেশ দিচ্ছেন, যাদেরকে ধ্বংস করে দিতে চান কিংবা আযাব দিতে চান কঠিন আযাব? সে বললঃ তোমাদের পালনকর্তার সামনে দোষ ফুরাবার জন্য এবং এজন্য যেন তারা ভীত হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তাদের একদল বলেছিল, তোমরা এমন লোকদের কেন উপদেশ দাও যাদের ধ্বংস করে দেবেন, কিংবা কঠিন আযাব দেবেন? তারা বলেছিল: ‘তোমাদের প্রভুর কাছে দায়িত্ব মুক্তি লাভের জন্যে এবং যাতে করে তারা সতর্ক হয়।’

জহুরুল হক

আর যখন তাদের মধ্যের একটি দল বললে - - ''কেন তোমরা সেই লোকদের উপদেশ দিচ্ছ যাদের ধ্বংস করতে যাচ্ছেন অথবা কঠোর শাস্তিতে শাস্তি দিতে যাচ্ছেন’’? তাঁরা বললেন - - ''তোমাদের প্রভুর কাছে দোষমুক্ত হবার জন্য, আর যাতে তারা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, তাহাদের একদল বলিয়াছিল, ‘ যাহাদেরকে ধ্বংস করিবেন কিংবা কঠোর শাস্তি দিবেন, তোমরা তাহাদেরকে সদুপদেশ দাও কেন ?’ তাহারা বলিয়াছিল, ‘তোমাদের প্রতিপালকের নিকট দায়িত্বমুক্তির জন্য এবং যাহাতে তাহারা সাবধান হয় এজন্য।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন তারা সেসব বিষয় ভুলে গেল, যা তাদেরকে বোঝানো হয়েছিল, তখন আমি সেসব লোককে মুক্তি দান করলাম যারা মন্দ কাজ থেকে বারণ করত। আর পাকড়াও করলাম, গোনাহগারদেরকে নিকৃষ্ট আযাবের মাধ্যমে তাদের না - ফরমানীর দরুন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা যখন তা ভুলে গিয়েছিল, তখন আমরা তাদেরকে মুক্তি দিয়েছিলাম যারা মন্দ কাজ থেকে বারণ করতো। আর কঠিন আযাব দিয়ে পাকড়াও করেছিলাম তাদেরকে যারা যুলুম করেছিল এবং ফাসেকিতে লিপ্ত ছিলো।

জহুরুল হক

কিন্তু যখন তারা বিস্মৃত হলো যা তাদের স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছিল, আমরা উদ্ধার করেছিলাম তাদের যারা নিষেধ করতো অসৎকাজ থেকে, আর যারা অন্যায় করে তাদের আমরা পাকড়াও করলাম কঠিন শাস্তিতে, যেহেতু তারা পাপাচার করতো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে উপদেশ তাহাদেরকে দেওয়া হইয়াছিল তাহারা যখন উহা বিস্মৃত হয়, তখন যাহারা অসৎকার্য হইতে নিবৃত্ত করিত তাহাদেরকে আমি উদ্ধার করি এবং যাহারা জুলুম করে তাহারা করিত বলিয়া আমি তাহাদেরকে কঠোর শাস্তি দেই।

মুহিউদ্দীন খান

তারপর যখন তারা এগিয়ে যেতে লাগল সে কর্মে যা থেকে তাদের বারণ করা হয়েছিল, তখন আমি নির্দেশ দিলাম যে, তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তারা তখন ঔদ্ধত্যের সাথে নিষেধ করা কাজ করতে শুরু করেছিল, তখন আমরা তাদের বলেছিলাম: ‘নিকৃষ্ট বানর হয়ে যাও।’

জহুরুল হক

তারপর যখন তারা তাচ্ছিল্য করলো তাতে যা করতে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল তখন আমরা তাদের বললাম - - ''তোমরা ঘৃণ্য বানর হয়ে যাও।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা যখন নিষিদ্ধ কাজ ঔদ্ধত্যসহকারে করিতে লাগিল তখন তাহাদেরকে বলিলাম, ‘ঘৃণিত বানর হও!’

মুহিউদ্দীন খান

আর সে সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন তোমার পালনকর্তা সংবাদ দিয়েছেন যে, অবশ্যই কেয়ামত দিবস পর্যন্ত ইহুদীদের উপর এমন লোক পাঠাতে থাকবেন যারা তাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দান করতে থাকবে। নিঃসন্দেহে তোমার পালনকর্তা শীঘ্র শাস্তি দানকারী এবং তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তোমার প্রভু তাদের বলেছিলেন, তিনি কিয়ামত পর্যন্ত তাদের উপর এমন লোকদের পাঠাবেন, যারা তাদের কঠিন আযাব দিতে থাকবে। তোমার প্রভু অবশ্যি শাস্তি প্রদানে তৎপর এবং অবশ্যি তিনি পরম ক্ষমাশীল দয়াময়ও।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! তোমার প্রভু ঘোষণা করলেন যে তিনি তাদের বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত নিযুক্ত করবেন যারা তাদের পীড়ন করবে কঠিন নিপীড়নে। নিশ্চয় তোমার প্রভু তো প্রতিফল - দানে তৎপর এবং তিনি তো নিশ্চয়ই পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, তোমার প্রতিপালক ঘোষণা করেন, তিনি তো কিয়ামত পর্যন্ত তাহাদের উপর এমন লোকদেরকে প্রেরণ করিবেন যাহারা তাহাদেরকে কঠিন শাস্তি দিতে থাকিবে, আর তোমার প্রতিপালক তো শাস্তিদানে তৎপর এবং তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি তাদেরকে বিভক্ত করে দিয়েছি দেশময় বিভিন্ন শ্রেনীতে, তাদের মধ্যে কিছু রয়েছে ভাল আর কিছু রয়েছে অন্য রকম! তাছাড়া আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি ভাল ও মন্দের মাধ্যমে যাতে তারা ফিরে আসে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদেরকে বিশ্বময় বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে ছড়িয়ে রেখেছি। তাদের মধ্যে কিছু ভালো লোকও আছে, আবার ভিন্ন রকমও আছে। আমরা তাদের কল্যাণ এবং অকল্যাণ দুটো দিয়েই পরীক্ষা করেছি, যাতে করে তারা (মন্দ কাজ থেকে) ফিরে আসে।

জহুরুল হক

আর আমরা পৃথিবীতে তাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন দলে, তাদের মধ্যে কেউ - কেউ সৎপথাবলন্বী, আর তাদের কতক এর বিপরীত। আর আমরা তাদের নিয়ন্ত্রিত করেছি ভালো দিয়ে ও মন্দ দিয়ে, যেন তারা ফিরে আসে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দুনিয়ায় আমি তাহাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করি; তাহাদের কতক সৎকর্মপরায়ণ ও কতক অন্যরূপ এবং মঙ্গল ও অমঙ্গল দ্বারা আমি তাহাদেরকে পরীক্ষা করি, যাহাতে তাহারা প্রত্যাবর্তন করে।

মুহিউদ্দীন খান

তারপর তাদের পেছনে এসেছে কিছু অপদার্থ, যারা উত্তরাধিকারী হয়েছে কিতাবের; তারা নিকৃষ্ট পার্থিব উপকরণ আহরণ করছে এবং বলছে, আমাদের ক্ষমা করে দেয়া হবে। বস্তুতঃ এমনি ধরনের উপকরণ যদি আবারো তাদের সামনে উপস্থিত হয়, তবে তাও তুলে নেবে। তাদের কাছথেকে কিতাবে কি অঙ্গীকার নেয়া হয়নি যে, আল্লাহর প্রতি সত্য ছাড়া কিছু বলবে না? অথচ তারা সে সবই পাঠ করেছে, যা তাতে লেখা রয়েছে। বস্তুতঃ আখেরাতের আলয় ভীতদের জন্য উত্তম - তোমরা কি তা বোঝ না ?

আবদুস শহীদ নাসিম

এরপর অযোগ্য উত্তরসূরীরা একের পর এক তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কিতাবের ওয়ারিশ হয়। তারা (কিতাবের বিনিময়ে) তুচ্ছ দুনিয়ার সামগ্রী গ্রহণ করে এবং বলে, আমাদের ক্ষমা করা হবে। কিন্তু পরক্ষণে অনুরূপ সামগ্রী তাদের সামনে এলেই তারা তা আবার গ্রহণ করে। তাদের কাছ থেকে কি কিতাবের অংগীকার নেয়া হয়নি যে, তারা সত্য ছাড়া আল্লাহর ব্যাপারে কথা বলবেনা। কিতাবে যা আছে তারা তো তা পাঠ করেই। যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্যে আখিরাতের ঘরই উত্তম, তোমরা কি অনুধাবন করবেনা ?

জহুরুল হক

অতঃপর তাদের পরে স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল এক উত্তরপুরুষ যারা গ্রন্থ উত্তরাধিকার করেছিল, তারা আঁকড়ে ধরেছিল এই সাধারণ জীবনের তুচ্ছ - বস্তুসব আর বলতো - - ''আমাদের তো মাফ করে দেয়া হবে।’’ আর যদি তাদের কাছে তার মতো বস্তুগুলো আসে তবে তারা তা গ্রহণ করে। তাদের কাছ থেকে কি গ্রন্থের অঙ্গীকার নেওয়া হয় নি যে তারা সন্বন্ধে সত্য ছাড়া আর কিছু বলবে না, আর তারা পাঠও করেছে যা তাতে রয়েছে? আর পরকালের বাসস্থানই শ্রেয় তাদের জন্য যারা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করে। তোমরা কি তবে বুঝো না?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর অযোগ্য উত্তরপুরুষগণ একের পর এক তাহাদের স্থলাভিষিক্তরূপে কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়; তাহারা এই তুচ্ছ দুনিয়ার সামগ্রী গ্রহণ করে এবং বলে, ‘আমাদেরকে ক্ষমা করা হইবে।’ কিন্তু উহার অনুরূপ সামগ্রী তাহাদের নিকট আসিলে উহাও তাহারা গ্রহণ করে; কিতাবের অঙ্গীকার কি তাহাদের নিকট হইতে নেওয়া হয় নাই যে, তাহারা সম্বন্ধে সত্য ব্যতীত বলিবে না ? এবং তাহারা তো উহাতে যাহা আছে তাহা অধ্যয়নও করে। যাহারা তাক্ওয়া অবলম্বন করে তাহাদের জন্য পরকালের আবাসই শ্রেয়; তোমরা কি ইহা অনুধাবন কর না ?

মুহিউদ্দীন খান

আর যেসব লোক সুদৃঢ়ভাবে কিতাবকে আঁকড়ে থাকে এবং প্রতিষ্ঠা করে নিশ্চয়ই আমি বিনষ্ট করব না সৎকর্মীদের সওয়াব।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কিতাবকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরবে এবং কায়েম করবে, আমরা এসব পুন্যবানদের কর্মফল বিনষ্ট করিনা।

জহুরুল হক

আর যারা কিতাব শক্তভাবে ধারণ করে ও কায়েম করে - - আমরা নিশ্চয় সৎকর্মশীলদের কর্মফল বিনষ্ট করি না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা কিতাবকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে ও কায়েম করে, আমি তো এইরূপ সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করি না।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন আমি তুলে ধরলাম পাহাড়কে তাদের উপরে সামিয়ানার মত এবং তারা ভয় করতে লাগল যে, সেটি তাদের উপর পড়বে, তখন আমি বললাম, ধর, যা আমি তোমাদের দিয়েছি, দৃঢ়ভাবে এবং স্মরণ রেখো যা তাতে রয়েছে, যেন তোমরা বাঁচতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, আমরা তাদের উপর পর্বত তুলে ধরেছিলাম, সেটা ছিলো যেনো একটি ছাতা। তারা মনে করছিল, সেটি তাদের উপর ধপ করে পড়বে। তখন আমরা তাদের বলেছিলাম: আমরা তোমাদের যা (যে কিতাব) দিয়েছি, সেটি মজবুত করে আঁকড়ে ধরো এবং তাতে যা আছে তা চর্চা করো, আশা করা যায় তোমরা তাকওয়াবান হবে।

জহুরুল হক

আরোও স্মরণ করো! আমরা তাদের উপরে পর্বতকে কম্পিত করলাম তা যেন হয়েছিল একটি আচ্ছাদন, আর তারা ভেবেছিল যে এ নিশ্চয়ই তাদের উপরে ভেঙ্গে পড়েছে, ''আমরা তোমাদের যা দিয়েছি তা দৃঢ়ভাবে আকঁড়ে ধরো, আর তাতে যা রয়েছে তা স্মরণ রেখো, যাতে তোমরা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করো’’।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, আমি পর্বতকে তাহাদের ঊর্ধ্বে উত্তোলন করি, আর উহা ছিল যেন এক চন্দ্রাতপ। তাহারা মনে করিল, উহা তাহাদের উপর পড়িয়া যাইবে। বলিলাম, ‘আমি যাহা দিলাম তাহা দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং উহাতে যাহা আছে তাহা স্মরণ কর, যাহাতে তোমরা তাক্ওয়ার অধিকারী হও।’

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন তোমার পালনকর্তা বনী আদমের পৃষ্টদেশ থেকে বের করলেন তাদের সন্তানদেরকে এবং নিজের উপর তাদেরকে প্রতিজ্ঞা করালেন, আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই ? তারা বলল, অবশ্যই, আমরা অঙ্গীকার করছি। আবার না কেয়ামতের দিন বলতে শুরু কর যে, এ বিষয়টি আমাদের ছিল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তোমার প্রভু বনি আদমের পিঠ থেকে তাদের বংশধরদের বের করেছিলেন এবং তাদের নিজেদের উপর নিজেদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেছিলেন: ‘আমি কি তোমাদের রব নই?’ তারা বলেছিল: ‘হাঁ অবশ্যি, আমরা সাক্ষী থাকলাম।’ এটা এজন্যে করেছিলাম যেনো কিয়ামতের দিন তোমরা বলতে না পারো যে ‘আমরা এ বিষয়ে গাফিল ছিলাম।’

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! তোমার প্রভু আদমের বংশধরদের থেকে - - তাদের পৃষ্ঠদেশ থেকে - - তাদের সন্তান - সন্ততি এনেছিলেন, আর তাদের নিজেদের সন্বন্ধে তাদের সাক্ষ্য দিইয়েছিলেন - - ''আমি কি তোমাদের প্রভু নই?’’ তারা বলেছিল - - ''হাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি।’’ এজন্য যে পাছে তোমরা কিয়ামতের দিনে বলো - - ''আমরা তো এ বিষয়ে অজ্ঞাত ছিলাম,’’ - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, তোমার প্রতিপালক আদমসন্তানের পৃষ্ঠদেশ হইতে তাহার বংশধরকে বাহির করেন এবং তাহাদের নিজেদের সম্বন্ধে স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন এবং বলেন, ‘আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই ?’ তাহারা বলে, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আমরা সাক্ষী রহিলাম।’ ইহা এইজন্য যে, তোমরা যেন কিয়ামতের দিন না বল, ‘আমরা তো এ বিষয়ে গাফিল ছিলাম।’

মুহিউদ্দীন খান

অথবা বলতে শুরু কর যে, অংশীদারিত্বের প্রথা তো আমাদের বাপ - দাদারা উদ্ভাবন করেছিল আমাদের পূর্বেই। আর আমরা হলাম তাদের পশ্চাৎবর্তী সন্তান - সন্ততি। তাহলে কি সে কর্মের জন্য আমাদেরকে ধ্বংস করবেন, যা পথভ্রষ্টরা করেছে?

আবদুস শহীদ নাসিম

কিংবা যেনো একথা বলতে না পারো যে: ‘আমাদের পূর্ব পুরুষরাই তো আমাদের আগে শিরক করেছে, আমরা তো ছিলাম তাদের পরবর্তী বংশধর। তুমি কি বাতিল পথ অবলম্বনকারীদের জন্যে আমাদের হালাক করবে?’

জহুরুল হক

অথবা তোমরা বলো - - ''আসল ব্যাপার হচ্ছে আমাদের পূর্বপুরুষরা এর আগেই অংশীদার ঠাওরেছিল, আর আমরা তাদের পরবর্তীকালে বংশধরই ছিলাম। তুমি কি তবে আমাদের ধ্বংস করবে ভ্রষ্টাচারীরা যা করেছিল সেজন্য?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিংবা তোমরা যেন না বল, ‘আমাদের পূর্বপুরুষগণই তো আমাদের পূর্বে শিরক করিয়াছে, আর আমরা তো তাহাদের পরবর্তী বংশধর; তবে কি পথভ্রষ্টদের কৃতকর্মের জন্য তুমি আমাদেরকে ধ্বংস করিবে ?’

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ এভাবে আমি বিষয়সমূহ সবিস্তারে বর্ণনা করি, যাতে তারা ফিরে আসে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই আমরা বিশদভাবে বর্ণনা করি আমাদের আয়াত, যাতে করে তারা (হিদায়াতের পথে) ফিরে আসে।

জহুরুল হক

আর এইভাবে আমাদের নির্দেশাবলী আমরা ব্যাখ্যা করি যেন তারা ফিরে আসে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইভাবে নিদর্শন বিশদভাবে বিবৃত করি যাহাতে তাহারা প্রত্যাবর্তন করে।

মুহিউদ্দীন খান

আর আপনি তাদেরকে শুনিয়ে দিন, সে লোকের অবস্থা, যাকে আমি নিজের নিদর্শনসমূহ দান করেছিলাম, অথচ সে তা পরিহার করে বেরিয়ে গেছে। আর তার পেছনে লেগেছে শয়তান, ফলে সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের প্রতি তিলাওয়াত করো ঐ ব্যক্তির সংবাদ যাকে আমরা দিয়েছিলাম আমাদের আয়াত। কিন্তু সে তা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং শয়তান তার পেছনে লাগে, আর সে হয়ে যায় পথভ্রষ্টদের একজন।

জহুরুল হক

আর তাদের কাছে পাঠ করো ওর বৃত্তান্ত যাকে আমরা আমাদের নির্দেশাবলী প্রদান করেছিলাম, কিন্তু সে সে - সব থেকে গুটিয়ে নেয়, সেজন্য শয়তান তার পিছু নেয়, কাজেই সে বিপথ - গামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদেরকে ঐ ব্যক্তির বৃত্তান্ত পড়িয়া শোনাও যাহাকে আমি দিয়াছিলাম নিদর্শন, অতঃপর সে উহাকে বর্জন করে, পরে শয়তান তাহার পিছনে লাগে, আর সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।

মুহিউদ্দীন খান

অবশ্য আমি ইচ্ছা করলে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিতাম সে সকল নিদর্শনসমূহের দৌলতে। কিন্তু সে যে অধঃপতিত এবং নিজের রিপুর অনুগামী হয়ে রইল। সুতরাং তার অবস্থা হল কুকুরের মত; যদি তাকে তাড়া কর তবুও হাঁপাবে আর যদি ছেড়ে দাও তবুও হাঁপাবে। এ হল সেসব লোকের উদাহরণ; যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার নিদর্শনসমূহকে। অতএব, আপনি বিবৃত করুন এসব কাহিনী, যাতে তারা চিন্তা করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা চাইলে এ (কিতাব) দিয়ে তাকে অনেক উপরে উঠাতে পারতাম, কিন্তু সে জমিনকে আঁকড়ে ধরে থাকলো এবং অনুসরণ করলো নিজের কামনা বাসনার। ফলে তার উপমা হলো কুকুর, যার উপর বোঝা চাপালেও সে জিহ্বা বের করে হাঁপায়, আর বোঝা না চাপালেও জিহ্বা বের করে হাঁপায়। এটা হলো ঐ লোকদের উপমা, যারা প্রত্যাখ্যান করে আমাদের আয়াত। তুমি এই কাহিনীটি তাদের শুনাও যাতে করে তারা চিন্তাভাবনা করে।

জহুরুল হক

আর যদি আমরা ইচ্ছা করতাম তবে নিশ্চয়ই এর দ্বারা তাকে আমরা উন্নীত করতাম, কিন্তু সে মাটি আকঁড়ে ধরলো, আর সে তার হীন - কামনার অনুসরণ করে চললো। সুতরাং তার উপমা হচ্ছে কুকুরের দৃষ্টান্তের মতো - - ওকে যদি তুমি তাড়া করো, সে জিব বের ক’রে হাঁপাবে, আর যদি তুমি তাকে এড়িয়ে চলো সে জিব বার করে হাঁপাবে। এই হচ্ছে সে - সব লোকের দৃষ্টান্ত যারা আমাদের নির্দেশসমূহ প্রত্যাখ্যান করে। তুমি ইতিবৃত্ত বিবৃত করো যেন তারা চিন্তা করতে পারে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি ইচ্ছা করিলে ইহা দ্বারা তাহাকে উচ্চ মর্যাদা দান করিতাম, কিন্তু সে দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকিয়া পড়ে ও তাহার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। তাহার অবস্থা কুকুরের ন্যায় ; উহার উপর তুমি বোঝা চাপাইলে সে হাঁপাইতে থাকে এবং তুমি বোঝা না চাপাইলেও হাঁপায়। যে সম্প্রদায় আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করে তাহাদের অবস্থাও এইরূপ, তুমি বৃত্তান্ত বিবৃত কর যাহাতে তাহারা চিন্তা করে।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের উদাহরণ অতি নিকৃষ্ট, যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার আয়াত সমূহকে এবং তারা নিজেদেরই ক্ষতি সাধন করেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ লোকদের উপমা যে কতো নিকৃষ্ট যারা প্রত্যাখ্যান করে আমাদের আয়াত এবং যুলুম করে তাদের নিজেদের প্রতি!

জহুরুল হক

মন্দের দৃষ্টান্ত সেই লোকেরা যারা আমাদের বাণীসমূহে মিথ্যারোপ করে, আর তাদের অন্তরা‌ত্মার প্রতিই তারা অত্যাচার করে চলে!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে সম্প্রদায় আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করে ও নিজেদের প্রতি জুলুম করে তাহাদের অবস্থা কত মন্দ!

মুহিউদ্দীন খান

যাকে পথ দেখাবেন, সেই পথপ্রাপ্ত হবে। আর যাকে তিনি পথ ভ্রষ্ট করবেন, সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাকে সঠিক পথ দেখান, সে - ই পায় সঠিক পথ। আর তিনি যাদের বিপথগামী করেন তারাই আসল ক্ষতিগ্রস্ত।

জহুরুল হক

যাকে পথ দেখান সে - ই তবে সৎপথে চালিত, আর যাকে তিনি বিপথে চলতে দেন, তাহলে তারা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহাকে পথ দেখান সে - ই পথ পায় এবং যাহাদেরকে তিনি বিপথগামী করেন তাহারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

মুহিউদ্দীন খান

আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা জাহান্নামের জন্যেই তৈরি করেছি জিন ও ইনসানের অনেককে। তাদের অন্তর আছে, তবে তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করেনা। তাদের চোখ আছে, তবে তা দিয়ে তারা দেখেনা। তাদের কান আছে, তবে তা দিয়ে তারা শুনেনা। এরা হলো পশুর মতো, বরং তারা আরো অধিক বিভ্রান্ত এবং তারা অচেতন।

জহুরুল হক

আর আমরা জাহান্নামের জন্য নিশ্চয়ই ছড়িয়ে দিয়েছি জিন ও মানুষের মধ্যের অনেককে, - - তাদের হৃদয় আছে তা দিয়ে তারা বুঝে না, আর তাদের চোখ আছে তা দিয়ে তারা দেখে না, আর তাদের কান আছে তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা গবাদি - পশুর ন্যায়, বরং তারা আরো পথভ্রষ্ট। তারা নিজেরাই হচ্ছে উদাসীন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তো বহু জিন ও মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করিয়াছি ; তাহাদের হৃদয় আছে কিন্তু তদ্দ্বারা তাহারা উপলব্ধি করে না, তাহাদের চক্ষু আছে তদ্দ্বারা দেখে না এবং তাহাদের কর্ণ আছে তদ্দ্বারা শ্রবণ করে না; ইহারা পশুর ন্যায়, বরং উহারা অধিক পথভ্রষ্ট। উহারাই গাফিল।

মুহিউদ্দীন খান

আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সে নাম ধরেই তাঁকে ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর, যারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে। তারা নিজেদের কৃতকর্মের ফল শীঘ্রই পাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুন্দরতম নামসমূহ আল্লাহর, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামে ডাকো। যারা তাঁর নাম বিকৃত করে, তাদের ত্যাগ করো। অচিরেই তাদেরকে তাদের কর্মের প্রতিফল দেয়া হবে।

জহুরুল হক

আর ‌রই হচ্ছে সবচাইতে ভালো নামাবলী, কাজেই তাঁকে ডাকো সেই সবের দ্বারা, আর তাদের ছেড়ে দাও যারা তাঁর নামাবলী নিয়ে বিকৃতি করে। অচিরেই তাদের প্রতিফল দেয়া হবে তারা যা করে যাচ্ছে তার জন্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌র জন্য রহিয়াছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব তোমরা তাঁহাকে সেই সকল নামেই ডাকিবে ; যাহারা তাঁহার নাম বিকৃত করে তাহাদেরকে বর্জন করিবে; তাহাদের কৃতকর্মের ফল তাহাদেরকে দেওয়া হইবে।

মুহিউদ্দীন খান

আর যাদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি, তাদের মধ্যে এমন এক দল রয়েছে যারা সত্য পথ দেখায় এবং সে অনুযায়ী ন্যায়চিার করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যাদের সৃষ্টি করেছি, তাদের মধ্যে এমন লোকেরাও আছে যারা সত্যের ভিত্তিতে (মানুষকে) সঠিক পথ দেখায়, এবং তার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার করে।

জহুরুল হক

আর যাদের আমরা সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে আছে একটি দল যারা পথ দেখায় সত্যের দ্বারা, আর তার দ্বারা তারা ন্যায়পরায়ণতা করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহাদেরকে আমি সৃষ্টি করিয়াছি তাহাদের মধ্যে একদল লোক আছে যাহারা ন্যায়ভাবে পথ দেখায় এবং ন্যায়ভাবে বিচার করে।

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার আয়াতসমূহকে, আমি তাদেরকে ক্রমান্বয়ে পাকড়াও করব এমন জায়গা থেকে, যার সম্পর্কে তাদের ধারণাও হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা প্রত্যাখ্যান করে আমাদের আয়াত, আমরা ক্রমান্বয়ে তাদেরকে এমনভাবে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবো যে, তারা তা জানতেও পারবেনা।

জহুরুল হক

আর যারা আমাদের বাণীসমূহে মিথ্যারোপ করে তাদের আমরা ক্রমাগত টেনে নিয়ে যাই, - - কোথা থেকে তা তারা জানে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করে আমি তাহাদেরকে এমনভাবে ক্রমে ক্রমে ধ্বংসের দিকে লইয়া যাই যে, তাহারা জানিতেও পারিবে না।

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ আমি তাদেরকে ঢিল দিয়ে থাকি। নিঃসন্দেহে আমার কৌশল সুনিপুণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তাদের অবকাশ দেই, জেনে রাখো, আমার কৌশল অত্যন্ত মজবুত।

জহুরুল হক

আর আমি তাদের অবসর দিই, নিঃসন্দেহ আমার ব্যবস্থা অত্যন্ত বলিষ্ঠ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তাহাদেরকে সময় দিয়া থাকি; আমার কৌশল অত্যন্ত বলিষ্ঠ।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, তাদের সঙ্গী লোকটির মস্তিষ্কে কোন বিকৃতি নেই? তিনি তো ভীতি প্রদর্শনকারী প্রকৃষ্টভাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি চিন্তা - ফিকির করে দেখেনা যে, তাদের সাথি (মুহাম্মদ) কোনো উন্মাদ ব্যক্তি নয়। সে তো একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী!

জহুরুল হক

তারা কি চিন্তা করে না? তাদের সহচরের মধ্যে কোনো পাগলামি নেই। বাস্তবে তিনি তো এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা কি চিন্তা করে না যে, তাহাদের সহচর আদৌ উন্মাদ নয়; সে তো এক স্পষ্ট সতর্ককারী।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি প্রত্যক্ষ করেনি আকাশ ও পৃথিবীর রাজ্য সম্পর্কে এবং যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তা’আলা বস্তু সামগ্রী থেকে এবং এ ব্যাপারে যে, তাদের সাথে কৃত ওয়াদার সময় নিকটবর্তী হয়ে এসেছে? বস্তুতঃ এরপর কিসের উপর ঈমান আনবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি নজর করে দেখেনা মহাকাশ ও পৃথিবীর কর্তৃত্বের প্রতি, আল্লাহর সৃষ্টি করা প্রতিটি বস্ত্তর প্রতি এবং এটার প্রতি যে, হয়তো তাদের নির্ধারিত সময়টি নিকটবর্তী হয়েছে! এরপরে আর কোন্ কথাটির প্রতি তারা ঈমান আনবে?

জহুরুল হক

তারা কি তাকায় না মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সাম্রাজ্যের প্রতি আর যা - কিছু সৃষ্টি করেছেন, আর হতে পারে তাদের নির্ধারিত কাল ঘনিয়ে এসেছে? এর পরে আর কোন পর্যালোচনার দ্বারা তারা তবে বিশ্বাস করবে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা কি লক্ষ্য করে না, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌম কর্তৃত্ব সম্পর্কে এবং যাহা কিছু সৃষ্টি করিয়াছেন তাহার সম্পর্কে এবং ইহার সম্পর্কেও যে, সম্ভবত তাহাদের নির্ধারিত কাল নিকটবর্তী, সুতরাং ইহার পর তাহারা আর কোন্ কথায় ঈমান আনিবে!

মুহিউদ্দীন খান

যাকে পথভ্রষ্ট করেন। তার কোন পথপ্রদর্শক নেই। আর তাদেরকে তাদের দুষ্টামীতে মত্ত অবস্তায় ছেড়ে দিয়ে রাখেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদের বিপথে পরিচালিত করেন, তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করার আর কেউ নেই এবং তিনি তাদেরকে তার অবাধ্যতার মধ্যে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াতে সুযোগ দেন।

জহুরুল হক

যাকে বিপথে যেতে দেন তার জন্যে তবে কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আর তাদের তিনি ছেড়ে দেন তাদের অবাধ্যতায় উদভ্রান্তভাবে ঘুরপাক খেতে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহাদেরকে বিপথগামী করেন তাহাদের কোন পথপ্রদর্শক নাই, আর তাহাদেরকে তিনি তাহাদের অবাধ্যতায় উদ্‌ভ্রান্তের ন্যায় ঘুরিয়া বেড়াইতে দেন।

মুহিউদ্দীন খান

আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কেয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? বলে দিন এর খবর তো আমার পালনকর্তার কাছেই রয়েছে। তিনিই তা অনাবৃত করে দেখাবেন নির্ধারিত সময়ে। আসমান ও যমীনের জন্য সেটি অতি কঠিন বিষয়। যখন তা তোমাদের উপর আসবে অজান্তেই এসে যাবে। আপনাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে, যেন আপনি তার অনুসন্ধানে লেগে আছেন। বলে দিন, এর সংবাদ বিশেষ করে আল্লাহর নিকটই রয়েছে। কিন্তু তা অধিকাংশ লোকই উপলব্ধি করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমার কাছে জানতে চাইছে, কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে কবে? তুমি বলো: ‘এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আমার প্রভুর কাছেই রয়েছে। কেবল তিনিই সময় মতো তা প্রকাশ করবেন। সেটা হবে মহাকাশ এবং পৃথিবীতে একটি ভয়ংকর ঘটনা। সেটা তোমাদের কাছে আসবে একেবারেই আকস্মিক।’ তারা এমনভাবে তোমাকে প্রশ্ন করছে যেনো এ বিষয়ে তুমি জানো। তুমি বলো: এ বিষয়ের জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছে। তবে অধিকাংশ মানুষই জানেনা।

জহুরুল হক

তারা তোমাকে ঘড়িঘন্টা সন্বন্ধে জিজ্ঞাসা করছে - - কখন তা ঘটবে। বলো - - ''এর জ্ঞান অবশ্যই রয়েছে আমার প্রভুর কাছে, এর সময় সন্বন্ধে তা প্রকাশ করতে পারে না তিনি ছাড়া কেউ। এ অতি গুরুতর ব্যাপার মহাকাশমন্ডলে ও পৃথিবীতে, এ এসে পড়বে না তোমাদের উপরে অতর্কিতে ছাড়া।’’ তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করছে যেন তুমিই এ বিষয়ে আগ্রহী। বলো - - ''এর জ্ঞান আলবৎ ‌র কাছে, কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানে না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে কিয়ামত কখন ঘটিবে। বল, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান শুধু আমার প্রতিপালকেরই আছে। শুধু তিনিই যথাসময়ে উহা প্রকাশ করিবেন ; উহা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে একটি ভয়ংকর ঘটনা হইবে। আকস্মিকভাবেই উহা তোমাদের উপর আসিবে।’ তুমি এই বিষয়ে সবিশেষ অবহিত মনে করিয়া তাহারা তোমাকে প্রশ্ন করে। বল, ‘এই বিষয়ের জ্ঞান শুধু ‌রই আছে, কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না।’

মুহিউদ্দীন খান

আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা চান। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা ঈমানদারদের জন্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘আমার নিজের ভালো মন্দের ব্যাপারেও আমার কোনো হাত নেই, তবে যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। আমি যদি জানতামই, তবে তো বেশি বেশি আমার নিজের কল্যাণ করতাম এবং কোনো অনিষ্টই আমাকে স্পর্শ করতোনা। আমি তো লোকদের জন্যে সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা ছাড়া আর কিছুই নই।’

জহুরুল হক

বলো - - ''আমার কোনো অধিকার নেই আমার নিজেরই কোনো লাভ বা ক্ষতি করবার - - যা চান তা - ব্যতীত। আর যদি আমি অদৃশ্যের সম্যক্ জ্ঞান রাখতাম তবে কল্যাণের প্রাচুর্য বানিয়ে নিতাম, আর কোনো অনিষ্ট আমাকে স্পর্শ করতো না। আমি তো একজন সতর্ককারী বই নই, আর একজন সুসংবাদদাতা সেই লোকদের জন্য যারা ঈমান এনেছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘ যাহা ইচ্ছা করেন তাহা ব্যতীত আমার নিজের ভাল - মন্দের উপরও আমার কোন অধিকার নাই। আমি যদি অদৃশ্যের খবর জানিতাম তবে তো আমি প্রভূত কল্যাণই লাভ করিতাম এবং কোন অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করিত না। আমি তো শুধু সম্প্রদায়ের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা বৈ আর কিছুই নই।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদিগকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র সত্তা থেকে; আর তার থেকেই তৈরী করেছেন তার জোড়া, যাতে তার কাছে স্বস্তি পেতে পারে। অতঃপর পুরুষ যখন নারীকে আবৃত করল, তখন, সে গর্ভবতী হল। অতি হালকা গর্ভ। সে তাই নিয়ে চলাফেরা করতে থাকল। তারপর যখন বোঝা হয়ে গেল, তখন উভয়েই আল্লাহকে ডাকল যিনি তাদের পালনকর্তা যে, তুমি যদি আমাদিগকে সুস্থ ও ভাল দান কর তবে আমরা তোমার শুকরিয়া আদায় করব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তোমাদের একজন মাত্র ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে যেনো সে তার কাছে শান্তি পায়। অতপর যখন সে তাকে ঝাপটে ধরে (সংগম করে) তখন সে হালকা গর্ভধারণ করে এবং তা নিয়েই চলা ফেরা করে। গর্ভ যখন ভারি হয়, তখন দুজনেই তাদের প্রভুর কাছে দোয়া করে: প্রভু! যদি আমাদেরকে একটি সালেহ্ (সৎ ও যোগ্য) সন্তান দান করো, তাহলে অবশ্যি আমরা শোকরগুজার হয়ে থাকবো।

জহুরুল হক

তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একই নফস থেকে, আর তা থেকে তিনি তৈরি করেছেন তার সঙ্গিনী যেন সে তার মধ্যে শান্তি পেতে পারে। অতএব যখন সে তাতে উপগত হয় সে তখন একটি হাল্কা বোঝা ধারণ করে আর তা নিয়ে চলাফেরা করে, তারপর যখন তা ভারী হয়ে উঠে তখন উভয়ে আহ্বান করে তাদের প্রভু ‌কে - - ''যদি তুমি আমাদের সুষ্ঠু একটি দাও আমরা তবে নিশ্চয়ই হবো কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন ও উহা হইতে তাহার স্ত্রী সৃষ্টি করেন যাহাতে সে তাহার নিকট শান্তি পায়। অতঃপর যখন সে তাহার সঙ্গে সংগত হয় তখন সে এক লঘু গর্ভধারণ করে এবং ইহা লইয়া সে অনায়াসে চলাফেরা করে। গর্ভ যখন গুরুভার হয় তখন তাহারা উভয়ে তাহাদের প্রতিপালক ‌র নিকট প্রার্থনা করে, ‘যদি তুমি আমাদেরকে এক পূর্ণাঙ্গ সন্তান দাও তবে তো আমরা কৃতজ্ঞ থাকিবই।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাদেরকে যখন সুস্থ ও ভাল দান করা হল, তখন দানকৃত বিষয়ে তার অংশীদার তৈরী করতে লাগল। বস্তুতঃ তাদের শরীক সাব্যস্ত করা থেকে বহু উর্ধে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তিনি যখন তাদের যোগ্য সন্তান দান করেন, তারা তাদেরকে যা দেয়া হয় সে সম্পর্কে আল্লাহর সাথে শরিক করে। কিন্তু তারা আল্লাহর সাথে যাদের শরিক করে, তিনি তাদের চাইতে অনেক উর্ধ্বে।

জহুরুল হক

কিন্তু তিনি যখন তাদের সুষ্ঠু একটি দান করলেন তারা তাঁর সঙ্গে দাঁড় করালো অংশীদার তিনি তাদের যা দিয়েছেন তার সন্বন্ধে। কিন্তু বহু উচ্চে অবস্থিত তারা যা অংশী বানায় সে - সব থেকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি যখন তাহাদেরকে এক পূর্ণাঙ্গ সন্তান দান করেন, তাহারা তাহাদেরকে যাহা দেওয়া হয় সে সম্বন্ধে ‌র শরীক করে; কিন্তু তাহারা যাহাকে শরীক করে তাহা অপেক্ষা অনেক ঊর্ধ্বে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি এমন কাউকে শরীক সাব্যস্ত করে, যে একটি বস্তুও সৃষ্টি করেনি, বরং তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি আল্লাহর সাথে এমন বস্ত্তকে শরিক করে যারা কিছু সৃষ্টি করেনা, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট?

জহুরুল হক

তারা কি অংশীদার বসায় তাকে যে কিছুই সৃষ্টি করে না, বরং তাদেরই সৃষ্টি করা হয়েছে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা কি এমন বস্তুকে শরীক করে যাহারা কিছুই সৃষ্টি করে না ? বরং উহারা নিজেরাই সৃষ্ট,

মুহিউদ্দীন খান

আর তারা, না তাদের সাহায্য করতে পারে, না নিজের সাহায্য করতে পারে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা না তাদেরকে সাহায্য করতে পারে, আর না নিজেদেরকে সাহায্য করতে পারে।

জহুরুল হক

আর ওরা কোনো ক্ষমতা রাখে না তাদের সাহায্য করার, আর তারা তাদের নিজেদেরও সাহায্য করতে পারে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা না তাহাদেরকে সাহায্য করিতে পারে, আর না করিতে পারে নিজদেরকে সাহায্য।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা যদি তাদেরকে আহবান কর সুপথের দিকে, তবে তারা তোমাদের আহবান অনুযায়ী চলবে না। তাদেরকে আহবান জানানো কিংবা নীরব থাকা উভয়টিই তোমাদের জন্য সমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তাদেরকে হিদায়াতের দিকে দাওয়াত দিলে তারা তোমাদের অনুসরণ করেনা। আসলে তাদের দাওয়াত দাও, আর না দিয়ে চুপ থাকো, দুটোই সমান।

জহুরুল হক

আর যদি তোমরা তাদের আহ্বান করো সৎপথের প্রতি, তারা তোমাদের অনুসরণ করবে না। তোমরা তাদের আহ্বান করো অথবা তোমরা চুপচাপ থাকো, তোমাদের জন্যে সমান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা উহাদেরকে সৎপথে আহ্বান করিলেও উহারা তোমাদেরকে অনুসরণ করিবে না; তোমরা উহাদেরকে আহ্বান কর বা চুপ করিয়া থাক, তোমাদের পক্ষে উভয়ই সমান।

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা সবাই তোমাদের মতই বান্দা। অতএব, তোমরা যাদেরকে ডাক, তখন তাদের পক্ষেও তো তোমাদের সে ডাক কবুল করা উচিত যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ছাড়া যাদেরকে ডাকো তারা তো তোমাদের মতোই (আল্লাহর) দাস। সুতরাং তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো তাহলে তাদের ডাকো আর তারা তোমাদের ডাকে সাড়া দিক তো!

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ তোমরা ‌কে ছেড়ে দিয়ে যাদের আহ্বান কর তারা তোমাদেরই ন্যায় দাস, সুতরাং তাদের ডাকো, তোমাদের প্রতি তারা তবে সাড়া দিক, - - যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ব্যতীত তোমরা যাহাদেরকে আহ্বান কর তাহারা তো তোমাদেরই ন্যায় বান্দা; তোমরা তাহাদেরকে আহ্বান কর, তাহারা তোমাদের ডাকে সাড়া দিক, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের কি পা আছে, যদ্বারা তারা চলাফেরা করে, কিংবা তাদের কি হাত আছে, যদ্বারা তারা ধরে। অথবা তাদের কি চোখ আছে যদ্বারা তারা দেখতে পায় কিংবা তাদের কি কান আছে যদ্বারা শুনতে পায়? বলে দাও, তোমরা ডাক তোমাদের অংশীদারদিগকে, অতঃপর আমার অমঙ্গল কর এবং আমাকে অবকাশ দিও না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কি পা আছে, যা দিয়ে তারা চলে? নাকি তাদের হাত আছে, যা দিয়ে তারা ধরে? কিংবা তাদের কি চোখ আছে যা দিয়ে তারা দেখে? আর নাকি তাদের কান আছে যা দিয়ে তারা শুনে? বলো: ‘‘তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরিকদার বানিয়েছো তাদের ডাকো, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করো এবং আমাকে অবকাশ দিয়োনা।

জহুরুল হক

তাদের কি পা আছে যা দিয়ে তারা চলতে পারে, অথবা তাদের কি হাত আছে যা দিয়ে ধরতে পারে, অথবা তাদের কি চোখ আছে যা দিয়ে দেখতে পারে, অথবা তাদের কি কান আছে যা দিয়ে তারা শুনতে পারে? বলো - - ''ডাকো তোমাদের অংশীদারদের, তারপর আমার বিরুদ্ধে ফন্দি আটোঁ, আর আমাকে অবকাশ দিও না!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের কি পা আছে যাহা দ্বারা উহারা চলে ? তাহাদের কি হাত আছে যদ্দ্বারা উহারা ধরে ? তাহাদের কি চক্ষু আছে, যদ্দ্বারা উহারা দেখে ? কিংবা তাহাদের কি কর্ণ আছে যদ্দ্বারা উহারা শ্রবণ করে ? বল, তোমরা যাহাদেরকে ‌র শরীক করিয়াছ তাহাদেরকে ডাক; অতঃপর আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর এবং আমাকে অবকাশ দিও না;

মুহিউদ্দীন খান

আমার সহায় তো হলেন , যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। বস্তুত; তিনিই সাহায্য করেন সৎকর্মশীল বান্দাদের।

আবদুস শহীদ নাসিম

জেনে রাখো, আমার অলি হলেন , যিনি কিতাব নাযিল করেছেন আর তিনি তো কেবল পুণ্যবানদের অলি হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেন।’’

জহুরুল হক

''নিঃসন্দেহ আমার অভিভাবক হচ্ছেন যিনি কিতাব অবতারণ করেছেন, আর তিনিই অভিভাবকত্ব করেন সৎপথা - বলন্বীদের।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমার অভিভাবক তো , যিনি কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছেন এবং তিনিই সৎকর্মপরায়ণদের অভিভাবকত্ব করিয়া থাকেন।’

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাক তারা না তোমাদের কোন সাহায্য করতে পারবে, না নিজেদের আত্নরক্ষা করতে পারবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ছাড়া যাদের ডাকো, তারা তোমাদের সাহায্য করার সামর্থ রাখেনা, এমনকি তারা নিজেদেরকেও নিজেরা সাহায্য করতে পারেনা।

জহুরুল হক

''আর যাদের তোমরা আহ্বান কর তাঁকে ছেড়ে দিয়ে, তারা কোনো ক্ষমতা রাখে না তোমাদের সাহায্য করার, আর তাদের নিজেদেরও তারা সাহায্য করতে পারে না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ব্যতীত তোমরা যাহাকে আহ্বান কর তাহারা তো তোমাদেরকে সাহায্য করিতে পারে না এবং তাহাদের নিজেদের - কেও নয়।

মুহিউদ্দীন খান

আর তুমি যদি তাদেরকে সুপথে আহবান কর, তবে তারা তা কিছুই শুনবে না। আর তুমি তো তাদের দেখছই, তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, অথচ তারা কিছুই দেখতে পাচ্ছে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যদি তাদেরকে হিদায়াতের দিকে আহবান করো, তারা কিছুই শুনবেনা। তুমি দেখবে তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, অথচ তারা কিছুই দেখেনা।

জহুরুল হক

আর যদি তোমরা তাদের আহ্বান কর সৎপথের প্রতি, তারা শোনে না। আর তুমি তাদের দেখতে পাও তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু তারা দেখতে পাবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যদি তাহাদেরকে সৎপথে আহ্বান কর তবে তাহারা শ্রবণ করিবে না এবং তুমি দেখিতে পাইবে যে, তাহারা তোমার দিকে তাকাইয়া আছে ; কিন্তু তাহারা দেখে না।

মুহিউদ্দীন খান

আর ক্ষমা করার অভ্যাস গড়ে তোল, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং মূর্খ জাহেলদের থেকে দূরে সরে থাক।

আবদুস শহীদ নাসিম

ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করো, উত্তম কাজের আদেশ দাও এবং যালিমদের উপেক্ষা করে চলো।

জহুরুল হক

ক্ষমা অবলন্বন করো আর সদয়তার নির্দেশ দাও, আর অজ্ঞদের পরিহার করে চলো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি ক্ষমাপরায়ণতা অবলম্বন কর, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং অজ্ঞদেরকে এড়াইয়া চল।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর শরণাপন্ন হও তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।

আবদুস শহীদ নাসিম

যদি শয়তানের কোনো কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি সব শুনেন, সব জানেন।

জহুরুল হক

আর যদি শয়তানের থেকে খোঁচাখুচি তোমাকে আহত করে তবে ‌র কাছে আশ্রয় চাও। নিঃসন্দেহ তিনি সর্ব শ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে তবে ‌র শরণ লইবে; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

মুহিউদ্দীন খান

যাদের মনে ভয় রয়েছে, তাদের উপর শয়তানের আগমন ঘটার সাথে সাথেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে উঠে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকওয়া (সতর্কতা) অবলম্বনকারী লোকদের শয়তান যখন কুমন্ত্রণা দেয়, তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং সাথে সাথে তাদের চোখ খুলে যায়।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করে, যখন শয়তানের আক্রমণ তাদের স্পর্শ করে তারা স্মরণ করে, - - তাহলে দেখো! তারাই হয় দৃষ্টিশক্তিমান!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা তাক্ওয়ার অধিকারী হয় তাহাদেরকে শয়তান যখন কুমন্ত্রণা দেয় তখন তাহারা ‌কে স্মরণ করে এবং তৎক্ষণাৎ তাহাদের চোখ খুলিয়া যায়।

মুহিউদ্দীন খান

পক্ষান্তরে যারা শয়তানের ভাই, তাদেরকে সে ক্রমাগত পথভ্রষ্ট তার দিকে নিয়ে যায় অতঃপর তাতে কোন কমতি করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

অথচ তাদের সংগি সাথিরা তাদের টেনে নেয় বিপথগামীতার দিকে এবং তারা কোনো প্রকার কসুর করেনা।

জহুরুল হক

আর তাদের ভাইয়েরা, - - তারা এদের টেনে নেয় ভ্রান্তির মধ্যে, আর তারা থামে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের সঙ্গী - সাথিগণ তাহাদেরকে ভ্রান্তির দিকে টানিয়া নেয় এবং এ বিষয়ে তাহারা কোন ত্রুটি করে না।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন আপনি তাদের নিকট কোন নিদর্শন নিয়ে না যান, তখন তারা বলে, আপনি নিজের পক্ষ থেকে কেন অমুকটি নিয়ে আসলেন না, তখন আপনি বলে দিন, আমি তো সে মতেই চলি যে হুকুম আমার নিকট আসে আমার পরওয়ারদেগারের কাছ থেকে। এটা ভাববার বিষয় তোমাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে এবং হেদায়েত ও রহমত সেসব লোকের জন্য যারা ঈমান এনেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যখন তাদের সামনে কোনো নিদর্শন পেশ করছোনা, তখন তারা বলে, তুমি নিজেই কেন একটি নিদর্শন বাছাই করে নিচ্ছনা? তুমি বলো: আমি কেবল তারই অনুসরণ করি, যা আমার প্রভুর পক্ষ থেকে আমাকে অহি করা হয়। এই (কুরআন) তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে একটি অন্তরদৃষ্টির আলো, একটি হিদায়াত এবং একটি রহমত লোকদের জন্যে।

জহুরুল হক

আর যখন তুমি তাদের কাছে কোনো আয়াত আনো না, তারা বলে - - ''কেন তুমি তা বেছে নাও না?’’ তুমি বলো - - ''আমি শুধু তারই অনুসরণ করি যা আমার কাছে প্রত্যাদিষ্ট হয়েছে আমার প্রভুর কাছ থেকে, এটি হচ্ছে তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে দৃষ্টিদায়ক, আর পথনির্দেশক, আর হচ্ছে করুণা সেই লোকদের জন্য যারা বিশ্বাস করে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি যখন তাহাদের নিকট কোন নিদর্শন উপস্থিত কর না, তখন তাহারা বলে, ‘তুমি নিজেই একটি নিদর্শন বাছিয়া নাও না কেন?’ বল, ‘আমার প্রতিপালক দ্বারা আমি যে বিষয়ে প্রত্যাদিষ্ট হই, আমি তো শুধু তাহারই অনুসরণ করি; এই কুরআন তোমাদের প্রতিপালকের নিদর্শন, সম্প্রদায়ের জন্য ইহা হিদায়াত ও রহমত।’

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং নিশ্চুপ থাক যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তার দিকে মনোযোগ আরোপ করে শুনো এবং নীরবতা অবলম্বন করো, যাতে করে তোমরা রহমত প্রাপ্ত হও।

জহুরুল হক

আর যখন কুরআন পঠিত হয় তখন তা শোনো, আর চুপ করে থেকো, যেন তোমাদের প্রতি করুণা বর্ষিত হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন কুরআন পাঠ করা হয় তখন তোমরা মনোযোগের সঙ্গে উহা শ্রবণ করিবে এবং নিশ্চুপ হইয়া থাকিবে, যাহাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়।

মুহিউদ্দীন খান

আর স্মরণ করতে থাক স্বীয় পালনকর্তাকে আপন মনে ক্রন্দনরত ও ভীত - সন্ত্রস্ত অবস্থায় এবং এমন স্বরে যা চিৎকার করে বলা অপেক্ষা কম; সকালে ও সন্ধ্যায়। আর বে - খবর থেকো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুকে স্মরণ করো মনে মনে, বিনয়ের সাথে, অন্তরে ভয় নিয়ে, অনুচ্চ স্বরে, সকালে এবং সন্ধ্যায়। আর তুমি (এ ব্যাপারে) উদাসীনদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো তোমার প্রভুকে নিজের অন্তরে সবিনয়ে ও সভয়ে ও অনুচ্চস্বরে, প্রাতে ও অপরাহ্নে, আর উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার প্রতিপালককে মনে মনে বিনীত ও সশংকচিত্তে অনুচ্চস্বরে প্রত্যূষে ও সন্ধ্যায় স্মরণ করিবে এবং তুমি উদাসীন হইবে না।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই যারা তোমার পরওয়ারদেগারের সান্নিধ্যে রয়েছেন, তারা তাঁর বন্দেগীর ব্যাপারে অহঙ্কার করেন না এবং স্মরণ করেন তাঁর পবিত্র সত্তাকে; আর তাঁকেই সেজদা করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুর কাছাকাছি যারা রয়েছে তারা তাঁর আনুগত্য ও দাসত্ব করার ব্যাপারে কোনো প্রকার অহংকার করেনা। তারা তাঁর তসবিহ্ করে এবং তাঁরই জন্যে সাজদা - অবনত থাকে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা তোমার প্রভুর সান্নিধ্যে রয়েছে তারা তাঁর উপাসনায় অহংকার দেখায় না, আর তারা তাঁরই মহিমা কীর্তন করে, আর তাঁরই প্রতি সিজদা প্রদান করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা তোমার প্রতিপালকের সান্নিধ্যে রহিয়াছে তাহারা অহংকারবশত তাঁহার ‘ইবাদতে বিমুখ হয় না ও তাঁহারই মহিমা ঘোষণা করে এবং তাঁহারই নিকট সিজ্‌দাবনত হয়।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme