Kitab

আল কালাম

Chapter 68, 52 verses

  • মুহিউদ্দীন খান
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • জহুরুল হক
মুহিউদ্দীন খান

নূন। শপথ কলমের এবং সেই বিষয়ের যা তারা লিপিবদ্ধ করে,

আবদুস শহীদ নাসিম

নূন! কলমের শপথ আর শপথ সেগুলোর যা তারা (ফেরেশ্তারা) ছত্রে ছত্রে লিপিবদ্ধ করে।

জহুরুল হক

নূন! ভাবো কলম ও যা তারা লেখে।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তার অনুগ্রহে আপনি উম্মাদ নন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুর অনুগ্রহে তুমি পাগল নও।

জহুরুল হক

তোমার প্রভুর অনুগ্রহে তুমি কিন্তু পাগল নও।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার জন্যে অবশ্যই রয়েছে অশেষ পুরস্কার।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি তোমার জন্যে রয়েছে পুরস্কার অফুরান।

জহুরুল হক

আর তোমার জন্য নিশ্চয়ই রয়েছে এমন এক প্রতিদান যা শেষ হবার নয়।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি তুমি এক মহান চরিত্রের অধিকারী।

জহুরুল হক

আর নিঃসন্দেহ তুমি সুমহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত।

মুহিউদ্দীন খান

সত্ত্বরই আপনি দেখে নিবেন এবং তারাও দেখে নিবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

অচিরেই তুমি দেখবে, আর দেখবে তারাও,

জহুরুল হক

ফলে তুমি শীঘ্রই দেখবে এবং তারাও দেখতে পাবে - -

মুহিউদ্দীন খান

কে তোমাদের মধ্যে বিকারগ্রস্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের মধ্যে কে আপতিত ফিতনায়?

জহুরুল হক

যে তোমাদের মধ্যে কে বিকারগ্রস্ত।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তা সম্যক জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি জানেন যারা সৎপথ প্রাপ্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুই সেই সত্তা, যিনি সর্বাধিক জানেন কারা তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত এবং তিনিই তাদের সর্বাধিক জানেন, যারা হিদায়াত প্রাপ্ত।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু, তিনি ভাল জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, আর তিনি ভাল জানেন সৎপথপ্রাপ্তদের ।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আপনি মিথ্যারোপকারীদের আনুগত্য করবেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তুমি মিথ্যাবাদীদের আনুগত্য করোনা।

জহুরুল হক

অতএব মিথ্যাচারীদের আজ্ঞাপালন করো না।

মুহিউদ্দীন খান

তারা চায় যদি আপনি নমনীয় হন, তবে তারাও নমনীয় হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা চায়, তুমি যদি নমনীয় হও, তবেই তারা নমনীয় হবে।

জহুরুল হক

তারা চায় যে তুমি যদি নমনীয় হও তাহলে তারাও নমনীয় হবে।

মুহিউদ্দীন খান

যে অধিক শপথ করে, যে লাঞ্ছিত, আপনি তার আনুগত্য করবেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি আনুগত্য করোনা বারবার হলফকারী হীন ব্যক্তির,

জহুরুল হক

আর আজ্ঞাপালন করো না প্রত্যেকটি হলফকারীর, লাঞ্ছিতজনের, - -

মুহিউদ্দীন খান

যে পশ্চাতে নিন্দা করে একের কথা অপরের নিকট লাগিয়ে ফিরে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যে পেছনে নিন্দা করে এবং একজনের কথা আরেকজনের কাছে লাগিয়ে বেড়ায়।

জহুরুল হক

পরনিন্দাকারীর, কলঙ্ক রটাতে ঘুরে - বেড়ানো লোকের, - -

মুহিউদ্দীন খান

যে ভাল কাজে বাধা দেয়, সে সীমালংঘন করে, সে পাপিষ্ঠ,

আবদুস শহীদ নাসিম

সে ভালো কাজে বাধাদানকারী, সীমালংঘনকারী, পাপিষ্ঠ।

জহুরুল হক

ভালোকাজে নিষেধকারীর, সীমালংঘনকারীর পাপাচারীর, - -

মুহিউদ্দীন খান

কঠোর স্বভাব, তদুপরি কুখ্যাত;

আবদুস শহীদ নাসিম

সে কর্কশ স্বভাবের, তারপর কুখ্যাত।

জহুরুল হক

ষন্ডা - গুন্ডার, তদুপরি অসচ্চরিত্রের, - -

মুহিউদ্দীন খান

এ কারণে যে, সে ধন - সম্পদ ও সন্তান সন্ততির অধিকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর কারণ, তার অনেক মাল সম্পদ আছে এবং আছে অনেক সন্তান সন্ততি।

জহুরুল হক

এইজন্য যে সে ধনসম্পদের এবং সন্তানসন্ততির অধিকারী।

মুহিউদ্দীন খান

তার কাছে আমার আয়াত পাঠ করা হলে সে বলে; সেকালের উপকথা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার কাছে যখন আমাদের আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, সে বলে: ‘এগুলো তো সেকালের কাহিনী।’

জহুরুল হক

যখন তার কাছে আমাদের বাণীসমূহ পাঠ করা হয় সে বলে - - ''সেকেলে কল্পকাহিনী!’’

মুহিউদ্দীন খান

আমি তার নাসিকা দাগিয়ে দিব।

আবদুস শহীদ নাসিম

অচিরেই আমরা দাগ লাগিয়ে দেবো তার শুঁড়ে (নাকে)।

জহুরুল হক

আমরা শীঘ্রই তার উঁচু নাকে দাগ করে দেব।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেমন পরীক্ষা করেছি উদ্যানওয়ালাদের, যখন তারা শপথ করেছিল যে, সকালে বাগানের ফল আহরণ করবে,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের পরীক্ষা করেছি, যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম বাগানওয়ালাদের, যখন তারা কসম খেয়ে বলেছিল তারা সকালে বাগানের ফল পাড়বে,

জহুরুল হক

আমরা নিশ্চয়ই তাদের পরীক্ষা করব যেমন আমরা পরীক্ষা করেছিলাম বাগান - মালিকদের, যখন ওরা কসম খেয়েছিল যে তারা নিশ্চয় ভোরবেলা এর ফসল কাটবে, - -

মুহিউদ্দীন খান

ইনশাআল্লাহ না বলে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা ইনশাল্লাহ ( চাহেন তো) বলেনি।

জহুরুল হক

আর তারা কোনো সংরক্ষণ করে নি।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে বাগানে এক বিপদ এসে পতিত হলো। যখন তারা নিদ্রিত ছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে সেই বাগানের উপর দিয়ে বয়ে গেলো একটি ঝাপটা। তখন তারা ছিলো ঘুমে।

জহুরুল হক

ফলে তোমার প্রভুর কাছ থেকে এক দুর্বিপাক এর উপরে আপতিত হয়েছিল যখন তারা ঘুমিয়ে পড়েছিল।

মুহিউদ্দীন খান

ফলে সকাল পর্যন্ত হয়ে গেল ছিন্নবিচ্ছিন্ন তৃণসম।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে সেই বাগান হয়ে যায় কালো বর্ণ (কয়লার মতো)।

জহুরুল হক

কাজেই সকালবেলায় তা হয়ে গেল এক কালো নিষ্ফলা জমির মতো।

মুহিউদ্দীন খান

সকালে তারা একে অপরকে ডেকে বলল,

আবদুস শহীদ নাসিম

ভোরে তারা পরস্পরকে ডাকলো (বললো:)

জহুরুল হক

তারা কিন্তু সাত - সকালে একে অপরকে ডাকাডাকি করলে - -

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যদি ফল আহরণ করতে চাও, তবে সকাল সকাল ক্ষেতে চল।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘যদি তোমরা সকাল সকাল ফল পাড়তে চাও, তবে সকাল সকাল বাগানে চলো।’

জহুরুল হক

এই বলে - - ''সকাল সকাল তোমাদের খেত - খামারে যাও যদি তোমরা ফসল কাটতে চাও।’’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা চলল ফিসফিস করে কথা বলতে বলতে,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তারা (বাগানের দিকে) চললো নিচু স্বরে (এই) কথা বলতে বলতে:

জহুরুল হক

তখন তারা বেরিয়ে পড়ল, আর তারা ফিসফিস করতে থাকল - -

মুহিউদ্দীন খান

অদ্য যেন কোন মিসকীন ব্যক্তি তোমাদের কাছে বাগানে প্রবেশ করতে না পারে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আজ যেনো তোমাদের কাছে বাগানে দাখিল না হয় কোনো মিসকিন (অভাবী)।

জহুরুল হক

এই বলে - - ''আজ যেন তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো হাভাতে সেখানে ঢুকে না পড়ে।’’

মুহিউদ্দীন খান

তারা সকালে লাফিয়ে লাফিয়ে সজোরে রওয়ানা হল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তারা ভোরে ভোরেই বাগানে রওয়ানা করলো (মিসকিন) প্রতিরোধ করতে সক্ষম মনে করে।

জহুরুল হক

আর তারা সকাল সকাল সংকল্পে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে যাত্রা করল।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন তারা বাগান দেখল, তখন বললঃ আমরা তো পথ ভূলে গেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর যখন বাগানের অবস্থা দেখলো, বললো: ‘‘আমরা তো বিভ্রান্ত হয়ে পড়লাম।

জহুরুল হক

কিন্তু যখন তারা তা দেখল তারা বললে - - ''নিশ্চয় আমরা পথ ভুল করেছি।’’

মুহিউদ্দীন খান

বরং আমরা তো কপালপোড়া,

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং আমরা বঞ্চিত হয়ে গেছি।’’

জহুরুল হক

''না, আমরা বঞ্চিত হয়েছি।’’

মুহিউদ্দীন খান

তাদের উত্তম ব্যক্তি বললঃ আমি কি তোমাদেরকে বলিনি? এখনও তোমরা তা’আলার পবিত্রতা বর্ণনা করছো না কেন?

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের সবচে’ ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি বললো: ‘আমি কি তোমাদের বলিনি, কেন তোমরা তসবিহ করছোনা?

জহুরুল হক

ওদের মধ্যের শ্রেষ্ঠজন বললে - - ''আমি কি তোমাদের বলি নি, কেন তোমরা জপতপ করছ না?’’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ আমরা আমাদের পালনকর্তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, নিশ্চিতই আমরা সীমালংঘনকারী ছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তারা বললো:) আমাদের প্রভুর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, অবশ্যি আমরা ছিলাম যালিম।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আমাদের প্রভুর মহিমা ঘোষিত হোক, আমরা নিশ্চয় কিছুটা ফসল দান করতে অন্যায় করেছি।’’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা একে অপরকে ভৎর্সনা করতে লাগল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা পরস্পরের প্রতি দোষারোপ করতে থাকলো।

জহুরুল হক

তারপর তাদের কেউ - কেউ অন্যের কাছে গেল নিজেদের দোষারোপ করতে করতে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ হায়! দুর্ভোগ আমাদের আমরা ছিলাম সীমাতিক্রমকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘‘হায় ধ্বংস আমাদের, অবশ্যি আমরা ছিলাম সীমালংঘনকারী।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''হায়, ধিক্ আমাদের! আমরা নিশ্চয়ই সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিলাম।

মুহিউদ্দীন খান

সম্ভবতঃ আমাদের পালনকর্তা পরিবর্তে এর চাইতে উত্তম বাগান আমাদেরকে দিবেন। আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে আশাবাদী।

আবদুস শহীদ নাসিম

হয়তো আমাদের প্রভু আমাদেরকে এর চাইতে উত্তম বদলা (বিনিময়) দেবেন, আমরা আমাদের প্রভুর অভিমুখী হলাম।’’

জহুরুল হক

''হতে পারে আমাদের প্রভু আমাদের জন্য এর চেয়েও ভাল কিছু বদলে দেবেন, নিশ্চয় আমাদের প্রভুর কাছেই আমরা সানুনয় প্রার্থনা করছি।’’

মুহিউদ্দীন খান

শাস্তি এভাবেই আসে এবং পরকালের শাস্তি আরও গুরুতর; যদি তারা জানত!

আবদুস শহীদ নাসিম

আযাব এরকমই হয়ে থাকে। আর আখিরাতের আযাব অবশ্যি এর চাইতে অনেক জঘন্যতর, যদি তারা জানতো!

জহুরুল হক

এমনটাই শাস্তি হয়ে থাকে। আর পরকালের শাস্তি তো আরো বিরাট, - - যদি তারা জানতো!

মুহিউদ্দীন খান

মোত্তাকীদের জন্যে তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে নেয়ামতের জান্নাত।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই মুত্তাকিদের জন্যে তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে ‘জান্নাতুন নায়ীম’।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ ধর্মভীরুদের জন্য তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে আনন্দময় উদ্যান - সমূহ।

মুহিউদ্দীন খান

আমি কি আজ্ঞাবহদেরকে অপরাধীদের ন্যায় গণ্য করব?

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা কি আত্মসমর্পণকারী - মুসলিমদের গণ্য করবো অপরাধীদের সমতুল্য?

জহুরুল হক

কী, আমরা কি তবে মুসলিমদের বানাব অপরাধীদের মতো?

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের কি হল ? তোমরা কেমন সিদ্ধান্ত দিচ্ছ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের কী হয়েছে - তোমরা কিভাবে ফায়সালা করছো?

জহুরুল হক

কি হয়েছে তোমাদের? কিভাবে তোমরা বিচার কর?

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের কি কোন কিতাব আছে, যা তোমরা পাঠ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তোমাদের কাছে কোনো কিতাব রয়েছে যার মধ্যে (এসব) তোমরা পাঠ করছো?

জহুরুল হক

না কি তোমাদের জন্য কোনো গ্রন্থ রয়েছে যা তোমরা অধ্যয়ন কর - -

মুহিউদ্দীন খান

তাতে তোমরা যা পছন্দ কর, তাই পাও?

আবদুস শহীদ নাসিম

তাতে কি লেখা রয়েছে তোমাদের পছন্দসই কথা?

জহুরুল হক

যে, নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য তাতে তাই রয়েছে যা তোমরা পছন্দ কর?

মুহিউদ্দীন খান

না তোমরা আমার কাছ থেকেকেয়ামত পর্যন্ত বলবৎ কোন শপথ নিয়েছ যে, তোমরা তাই পাবে যা তোমরা সিদ্ধান্ত করবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি আমার সাথে তোমাদের কোনো অংগীকার আছে যা কিয়ামতকাল পর্যন্ত বলবত থাকবে? নিশ্চয়ই তোমরা তাই পাবে, যা নিজেদের জন্যে ফায়সালা করবে।

জহুরুল হক

অথবা, তোমাদের জন্য আমাদের উপরে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকা এমন কোনো অংগীকার রয়েছে কি যে তোমাদের জন্য আলবৎ তাই থাকবে যা তোমরা স্থির করবে?

মুহিউদ্দীন খান

আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন তাদের কে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল?

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের তুমি প্রশ্ন করো, এ ব্যাপারে তাদের যিম্মাদার কে?

জহুরুল হক

তাদের জিজ্ঞাসা করো - - তাদের মধ্যে কে এ - সন্বন্ধে জামিন হবে;

মুহিউদ্দীন খান

না তাদের কোন শরীক উপাস্য আছে? থাকলে তাদের শরীক উপাস্যদেরকে উপস্থিত করুক যদি তারা সত্যবাদী হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তাদের শরিক করা (দেব দেবী) আছে? তবে তারা সেই শরিকদের নিয়ে আসুক যদি তারা হয়ে থাকে সত্যবাদী।

জহুরুল হক

না তাদের জন্য অংশী - দেবতারা আছে? তেমন হলে তাদের অংশী - দেবতাদের তারা নিয়ে আসুক যদি তারা সত্যবাদী হয়।

মুহিউদ্দীন খান

গোছা পর্যন্ত পা খোলার দিনের কথা স্মরণ কর, সেদিন তাদেরকে সেজদা করতে আহবান জানানো হবে, অতঃপর তারা সক্ষম হবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, যেদিন তাদের পায়ের নলা উন্মোচিত করা হবে এবং তাদের ডাকা হবে সাজদা করতে, কিন্তু তাদের তা করার শক্তি থাকবেনা।

জহুরুল হক

একদিন চরম সংকট দেখা দেবে, আর তাদের ডাকা হবে সিজদা করতে, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে; তারা লাঞ্ছনাগ্রস্ত হবে, অথচ যখন তারা সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল, তখন তাদেরকে সেজদা করতে আহবান জানানো হত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনত, তাদের গ্রাস করে নেবে যিল্লতি। অথচ (পৃথিবীতে) যখন তাদের সাজদা করতে ডাকা হতো তখন তারা নিজেদের (তা থেকে) রাখতো দূরে।

জহুরুল হক

তাদের দৃষ্টি হবে অবনত, লাঞ্ছনা তাদের জড়িয়ে ফেলবে। অথচ তাদের আহ্বান করা হয়েই থাকত সিজদা করতে যখন তারা ছিল নিরাপদ।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, যারা এই কালামকে মিথ্যা বলে, তাদেরকে আমার হাতে ছেড়ে দিন, আমি এমন ধীরে ধীরে তাদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাব যে, তারা জানতে পারবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাকে ছেড়ে দাও আর যারা এই বাণীকে (আল কুরআনকে) অস্বীকার করে তাদেরকে। আমরা ক্রমান্বয়ে তাদেরকে এমনভাবে ধরবো যে, তারা জানতেও পারবেনা।

জহুরুল হক

অতএব আমাকে এবং যে এই বাণী প্রত্যাখ্যান করে তাকে ছেড়ে দাও। আমরা তাদের ধাপে ধাপে নিয়ে যাব, কেমন করে তা তারা বুঝতেও পারবে না।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাদেরকে সময় দেই। নিশ্চয় আমার কৌশল মজবুত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তাদের অবকাশ দিই, আমার কৌশল মজবুত।

জহুরুল হক

তথাপি আমি ওদের সহ্য করি। আমার ফাঁদ নিশ্চয়ই বড় মজবুত।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি কি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চান? ফলে তাদের উপর জরিমানার বোঝা পড়ছে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চাইছো আর তারা সেটাকে মনে করছে দুর্বহ বোঝা?

জহুরুল হক

অথবা তুমি কি তাদের থেকে কোনো পারিশ্রমিক চাইছ যার ফলে তারা ধারকর্জ করে ভারাক্রান্ত হয়ে গেছে?

মুহিউদ্দীন খান

না তাদের কাছে গায়বের খবর আছে? অতঃপর তারা তা লিপিবদ্ধ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

নাকি তাদের কাছে গায়েবের জ্ঞান আছে আর তারা তা লিখে রাখছে?

জহুরুল হক

অথবা কি তাদের কাছে রয়েছে, যার ফলে তারা লিখে রাখে?

মুহিউদ্দীন খান

আপনি আপনার পালনকর্তার আদেশের অপেক্ষায় সবর করুন এবং মাছওয়ালা ইউনুসের মত হবেন না, যখন সে দুঃখাকুল মনে প্রার্থনা করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুর হুকুমের অপেক্ষায় সবর করো, মাছওয়ালার (ইউনুসের) মতো (অধৈর্য) হয়োনা। সে চরম হতাশায় আচ্ছন্ন অবস্থায় (আমাকে বিনীতভাবে) ডেকেছিল।

জহুরুল হক

অতএব তোমার প্রভুর হুকুমের জন্য অধ্যবসায় চালিয়ে যাও, এবং তুমি মাছের সঙ্গীর মতো হয়ো না। দেখো! তিনি বিষাদে কাতর হয়ে ডেকেছিলেন।

মুহিউদ্দীন খান

যদি তার পালনকর্তার অনুগ্রহ তাকে সামাল না দিত, তবে সে নিন্দিত অবস্থায় জনশুন্য প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার প্রভুর অনুগ্রহ তার কাছে না পৌঁছুলে সে চরম লাঞ্ছিত অবস্থায় নিক্ষিপ্ত হতো উন্মুক্ত প্রান্তরে।

জহুরুল হক

যদি তাঁর প্রভুর কাছ থেকে অনুগ্রহ তাঁর কাছে না পৌঁছুত তাহলে তিনি অবশ্যই উন্মুক্ত প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হতেন, আর তিনি হতেন নিন্দিত।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তার পালনকর্তা তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তার প্রভু তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে তাঁর সালেহ্ বান্দাদের অন্তরভুক্ত করলেন।

জহুরুল হক

কিন্তু তাঁর প্রভু তাঁকে মনোনীত করেছিলেন, ফলে তাঁকে সৎপথাবলন্বীদের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।

মুহিউদ্দীন খান

কাফেররা যখন কোরআন শুনে, তখন তারা তাদের দৃষ্টি দ্বারা যেন আপনাকে আছাড় দিয়ে ফেলে দিবে এবং তারা বলেঃ সে তো একজন পাগল।

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফিররা যখন আয যিক্র (আল কুরআন) শুনে, তখন যেনো তারা তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে তোমাকে আছাড় মারবে। তারা বলে: ‘এতো এক পাগল।’

জহুরুল হক

আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছে তারা যখন স্মারক - গ্রন্থ শোনে তখন তারা যেন তাদের চোখ দিয়ে তোমাকে আছড়ে মারবে, আর তারা বলে - - ''সে তো নিশ্চয়ই এক পাগল।’’

মুহিউদ্দীন খান

অথচ এই কোরআন তো বিশ্বজগতের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

অথচ এ (কুরআন) তো জগতবাসীর জন্যে এক (কল্যাণময়) উপদেশ ছাড়া আর কিছুই নয়।

জহুরুল হক

আর এটি জগদ্বাসীর জন্য স্মারক - গ্রন্থ বৈ তো নয়।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme