Kitab

আল শো’আরা

Chapter 26, 227 verses

  • মুহিউদ্দীন খান
  • আবদুস শহীদ নাসিম
মুহিউদ্দীন খান

ত্বা, সীন, মীম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোয়া সিন মিম।

মুহিউদ্দীন খান

এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।

আবদুস শহীদ নাসিম

এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বিশ্বাস করে না বলে আপনি হয়তো মর্মব্যথায় আত্নঘাতী হবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা হচ্ছে না বলে তুমি হয়তো মনের দুঃখে নিজেকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে।

মুহিউদ্দীন খান

আমি যদি ইচ্ছা করি, তবে আকাশ থেকে তাদের কাছে কোন নিদর্শন নাযিল করতে পারি। অতঃপর তারা এর সামনে নত হয়ে যাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা চাইলে আসমান থেকে তাদের জন্যে একটি নিদর্শন নাযিল করতাম, তখন সেটার প্রতি তাদের গর্দান নুইয়ে পড়তো।

মুহিউদ্দীন খান

যখনই তাদের কাছে রহমান এর কোন নতুন উপদেশ আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখনই তাদের কাছে রহমানের পক্ষ থেকে নতুন কোনো যিকির (উপদেশ বার্তা) আসে, তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব তারা তো মিথ্যারোপ করেছেই; সুতরাং যে বিষয় নিয়ে তারা ঠাট্টা - বিদ্রুপ করত, তার যথার্থ স্বরূপ শীঘ্রই তাদের কাছে পৌছবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তো অস্বীকার করেছে। সুতরাং তারা যা নিয়ে বিদ্রূপ করছে তার প্রকৃত খবর তাদের কাছে অচিরেই এসে পড়বে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি ভুপৃষ্ঠের প্রতি দৃষ্টিপাত করে না? আমি তাতে সর্বপ্রকার বিশেষ - বস্তু কত উদগত করেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি জমিনের দিকে তাকিয়ে দেখেনা? আমরা তাতে সব ধরনের কতো যে উত্তম উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি!

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশ্যি এতে রয়েছে একটি নিদর্শন, কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তা তো পরাক্রমশালী পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মহাপরাক্রমশালী, পরম দরয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

যখন আপনার পালনকর্তা মূসাকে ডেকে বললেনঃ তুমি পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়ের নিকট যাও;

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তোমার প্রভু মূসাকে ডেকে বলেছিলেন, তুমি যালিম কওমের কাছে যাও,

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউনের সম্প্রদায়ের নিকট; তারা কি ভয় করে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউনের কওমের কাছে। তাদের বলো: ‘তারা কি সতর্ক হবেনা?’

মুহিউদ্দীন খান

সে বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমার আশংকা হচ্ছে যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে দেবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন মূসা বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার আশংকা হয়, তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমার মন হতবল হয়ে পড়ে এবং আমার জিহবা অচল হয়ে যায়। সুতরাং হারুনের কাছে বার্তা প্রেরণ করুন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার মন ছোট হয়ে আসছে আর আমার যবানও সঞ্চালিত হচ্ছে না, সুতরাং তুমি হারূণকে রিসালাত দান করো।

মুহিউদ্দীন খান

আমার বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ আছে। অতএব আমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার বিরুদ্ধে তাদের একটা অভিযোগও আছে, তাই আমি আশংকা করছি তারা আমাকে হত্যা করবে।’’

মুহিউদ্দীন খান

বলেন, কখনই নয় তোমরা উভয়ে যাও আমার নিদর্শনাবলী নিয়ে। আমি তোমাদের সাথে থেকে শোনব।

আবদুস শহীদ নাসিম

বললেন: ‘কখনো নয়। সুতরাং তোমরা দু’জনই যাও আমাদের নিদর্শনসমূহ নিয়ে, আমরাও তোমাদের সাথে থাকবো, সব শুনবো।’

মুহিউদ্দীন খান

অতএব তোমরা ফেরআউনের কাছে যাও এবং বল, আমরা বিশ্বজগতের পালনকর্তার রসূল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ফেরাউনের কাছে যাও, তাকে বলো: ‘‘আমরা রাব্বুল আলামিনের রসূল।

মুহিউদ্দীন খান

যাতে তুমি বনী - ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি বনি ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও।’’

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন বলল, আমরা কি তোমাকে শিশু অবস্থায় আমাদের মধ্যে লালন - পালন করিনি? এবং তুমি আমাদের মধ্যে জীবনের বহু বছর কাটিয়েছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘‘আমরা কি শৈশবে তোমাকে আমাদের মধ্যে লালন পালন করিনি? তুমি তো তোমার জীবনের অনেক বছর আমাদের মধ্যে কাটিয়েছো।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি সেই - তোমরা অপরাধ যা করবার করেছ। তুমি হলে কৃতঘ্ন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তুমি তোমার একটা কর্ম করেছিলে। তুমি এক অকৃতজ্ঞ।’’

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বলল, আমি সে অপরাধ তখন করেছি, যখন আমি ভ্রান্ত ছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘‘আমি তো সে কাজটি করেছিলাম তখন, যখন আমি ছিলাম জ্ঞানহীন।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি ভীত হয়ে তোমাদের কাছ থেকে পলায়ন করলাম। এরপর আমার পালনকর্তা আমাকে প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং আমাকে পয়গম্বর করেছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তো আমি তোমাদের ভয়ে পালিয়ে চলে গিয়েছিলাম। তারপর আমার প্রভু আমাকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন এবং আমাকে রসূলদের একজন মনোনীত করেন।

মুহিউদ্দীন খান

আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা বলছ, তা এই যে, তুমি বনী - ইসলাঈলকে গোলাম বানিয়ে রেখেছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছো, তার কারণ তো হলো, তুমি বনি ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করে রেখেছো।’’

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন বলল, বিশ্বজগতের পালনকর্তা আবার কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘রাব্বুল আলামিন কে?’

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বলল, তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা যদি তোমরা হও।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘তিনি হলেন মালিক মহাকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে সবকিছুর যদি তোমরা একীন রাখো।’

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, তোমরা কি শুনছ না?

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন তার পারিষদবর্গকে লক্ষ্য করে বললো: ‘(মূসা কী বলছে) তোমরা কি শুনছো না?’

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বলল, তিনি তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরও পালনকর্তা।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘তিনি তোমাদেরও রব এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষদেরও রব।’

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন বলল, তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের রসূলটি নিশ্চয়ই বদ্ধ পাগল।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের এই রসূল তো একজন পাগল।’

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বলল, তিনি পূর্ব, পশ্চিম ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর পালনকর্তা, যদি তোমরা বোঝ।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘তিনি মাশরিক, মাগরিব এবং এই উভয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে, সবকিছুর রব যদি তোমরা আকল রাখো।’

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন বলল, তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে উপাস্যরূপে গ্রহণ কর তবে আমি অবশ্যই তোমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করব।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘তুমি যদি আমাকে ছাড়া আর কাউকেও হিসেবে গ্রহণ করো, তাহলে অবশ্যি আমি তোমাকে কারাগারে অবরুদ্ধ করে রাখবো।’

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বলল, আমি তোমার কাছে কোন স্পষ্ট বিষয় নিয়ে আগমন করলেও কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘আমি যদি তোমার কাছে সুস্পষ্ট নির্দশন হাজির করি, তবু?’

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন বলল, তুমি সত্যবাদী হলে তা উপস্থিত কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘তবে হাজির করো যদি সত্যবাদী হও।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তিনি লাঠি নিক্ষেপ করলে মুহূর্তের মধ্যে তা সুস্পষ্ট অজগর হয়ে গেল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলো আর সাথে সাথে তা সুস্পষ্ট অজগরে পরিণত হয়ে গেলো।

মুহিউদ্দীন খান

আর তিনি তার হাত বের করলেন, তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের কাছে সুশুভ্র প্রতিভাত হলো।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরপর (মূসা তার বগলে হাত ঢুকিয়ে) হাত বের করে আনলো, সাথে সাথে তা দর্শকদের দৃষ্টিতে ধবধবে সাদা দেখাতে লাগলো।

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, নিশ্চয় এ একজন সুদক্ষ জাদুকর।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন তাকে পরিবেষ্টন করে থাকা তার পারিষদবর্গকে বললো: ‘এ - তো এক পন্ডিত ম্যাজেসিয়ান।

মুহিউদ্দীন খান

সে তার জাদু বলে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিস্কার করতে চায়। অতএব তোমাদের মত কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

সে তার ম্যাজিকের সাহায্যে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এখন তোমরা তার ব্যাপারে কী করতে বলো?’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, তাকে ও তার ভাইকে কিছু অবকাশ দিন এবং শহরে শহরে ঘোষক প্রেরণ করুন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘তাকে আর তার ভাইকে কিছু অবকাশ দিন এবং বিভিন্ন শহরে সংগ্রহকারীদের পাঠান।

মুহিউদ্দীন খান

তারা যেন আপনার কাছে প্রত্যেকটি দক্ষ জাদুকর কে উপস্থিত করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা আপনার জন্যে দক্ষ ম্যাজেসিয়ানদের হাজির করবে।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর এক নির্দিষ্ট দিনে জাদুকরদেরকে একত্রিত করা হল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর নির্দিষ্ট দিনে এবং নির্দিষ্ট সময়ে ম্যাজেসিয়ানদের জমা করা হলো,

মুহিউদ্দীন খান

এবং জনগণের মধ্যে ঘোষণা করা হল, তোমরাও সমবেত হও।

আবদুস শহীদ নাসিম

জনগণকে বলা হলো: ‘তোমরাও কি জমায়েত হচ্ছো?’

মুহিউদ্দীন খান

যাতে আমরা জাদুকরদের অনুসরণ করতে পারি - যদি তারাই বিজয়ী হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘হয়তো আমরা ম্যাজেসিয়ানদের অনুসরণ করতে পারি যদি তারা বিজয়ী হয়।’

মুহিউদ্দীন খান

যখন যাদুকররা আগমণ করল, তখন ফেরআউনকে বলল, যদি আমরা বিজয়ী হই, তবে আমরা পুরস্কার পাব তো?

আবদুস শহীদ নাসিম

ম্যাজেসিয়ানরা হাজির হলে তারা ফেরাউনকে বললো: ‘আমরা জয়ী হলে আমাদের জন্যে পুরস্কার থাকবে তো?’

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন বলল, হঁ্যা এবং তখন তোমরা আমার নৈকট্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘হ্যাঁ, তাছাড়া তোমরা আমার সভাসদদের অন্তরভুক্ত হবে।’

মুহিউদ্দীন খান

মূসা (আঃ) তাদেরকে বললেন, নিক্ষেপ কর তোমরা যা নিক্ষেপ করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা তাদের বললো: ‘তোমরা যা নিক্ষেপ করার নিক্ষেপ করো।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা তাদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করল এবং বলল, ফেরাউনের ইযযতের কসম, আমরাই বিজয়ী হব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তাদের সব রশি এবং লাঠি নিক্ষেপ করলো। তারা বললো: ‘ফেরাউনের ইযযতের কসম, আমরাই জয়ী হবো।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর মূসা তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করল, হঠাৎ তা তাদের অলীক কীর্তিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল।

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলো। সাথে সাথে সেটি কৃত্রিম সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে থাকলো।

মুহিউদ্দীন খান

তখন জাদুকররা সেজদায় নত হয়ে গেল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন ম্যাজেসিয়ানরা সাজদায় আনত হয়ে পড়লো।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, আমরা রাব্বুল আলামীনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমরা ঈমান আনলাম রাব্বুল আলামিনের প্রতি,

মুহিউদ্দীন খান

যিনি মূসা ও হারুনের রব।

আবদুস শহীদ নাসিম

যিনি হারূণ এবং মূসারও রব।’

মুহিউদ্দীন খান

ফেরাউন বলল, আমার অনুমতি দানের পূর্বেই তোমরা কি তাকে মেনে নিলে? নিশ্চয় সে তোমাদের প্রধান, যে তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়েছে। শীঘ্রই তোমরা পরিণাম জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কর্তন করব। এবং তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘আমি তোমাদের অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রধান, সে - ই তোমাদের ম্যাজিক শিখিয়েছে, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে (এর পরিণতি)। আমি অবশ্যি বিপরীত দিক থেকে তোমাদের হাত পা কেটে দেবো এবং তোমাদের সবাইকে শূলবিদ্ধ করে ছাড়বো।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, কোন ক্ষতি নেই। আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘‘ক্ষতি নেই, আমরা আমাদের প্রভুর কাছে ফিরে যাবো।

মুহিউদ্দীন খান

আমরা আশা করি, আমাদের পালনকর্তা আমাদের ক্রটি - বিচ্যুতি মার্জনা করবেন। কারণ, আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারীদের মধ্যে অগ্রণী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা আকাঙ্ক্ষা করি, আমাদের প্রভু আমাদের গুনাহ্ খাতা ক্ষমা করে দেবেন, কারণ আমরা সবার আগে হয়েছি।’’

মুহিউদ্দীন খান

আমি মূসাকে আদেশ করলাম যে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিযোগে বের হয়ে যাও, নিশ্চয় তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসার প্রতি অহি করে নির্দেশ দিয়েছিলাম: আমার দাসদের নিয়ে রাতের বেলায় বেরিয়ে পড়ো, তোমাদের কিন্তু পিছে থেকে ধাওয়া করা হবে।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর ফেরাউন শহরে শহরে সংগ্রাহকদেরকে প্রেরণ করল,

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর ফেরাউন শহরে শহরে লোক সংগ্রহকারী পাঠিয়ে দিলো,

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এরা (বনী - ইসরাঈলরা) ক্ষুদ্র একটি দল।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই বলে যে, এরা তো অল্প কিছু লোক,

মুহিউদ্দীন খান

এবং তারা আমাদের ক্রোধের উদ্রেক করেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তারা আমাদের ক্রোধ উদ্রেককারী।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমরা সবাই সদা শংকিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা সবাই তো সদা সতর্ক।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি ফেরআউনের দলকে তাদের বাগ - বাগিচা ও ঝর্ণাসমূহ থেকে বহিষ্কার করলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর আমরা তাদের (ফেরাউন এবং তার দলবলকে) বের করে এনেছি তাদের মনোরম উদ্যান আর ঝরণাধারাসমূহ থেকে,

মুহিউদ্দীন খান

এবং ধন - ভান্ডার ও মনোরম স্থানসমূহ থেকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

ধন - ভান্ডারসমূহ এবং বিলাসবহুল প্রাসাদসমূহ থেকে।

মুহিউদ্দীন খান

এরূপই হয়েছিল এবং বনী - ইসলাঈলকে করে দিলাম এসবের মালিক।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের সাথে এমনটিই ঘটেছিল। অপরদিকে বনি ইসরাঈলকে আমরা সবকিছুর ওয়ারিশ বানিয়ে দিয়েছিলাম।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর সুর্যোদয়ের সময় তারা তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা সূর্যোদয়ের সময় তাদের পেছনে এসে পড়েছিল।

মুহিউদ্দীন খান

যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখল, তখন মূসার সঙ্গীরা বলল, আমরা যে ধরা পড়ে গেলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর দুইদল যখন একে অপরকে দেখলো, মূসার সাথিরা বলে উঠলো: ‘নিশ্চয়ই আমরা ধরা পড়ে যাচ্ছি।’

মুহিউদ্দীন খান

মূসা বলল, কখনই নয়, আমার সাথে আছেন আমার পালনকর্তা। তিনি আমাকে পথ বলে দেবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘না, কখনো নয়, নিশ্চয়ই আমার সাথে আমার প্রভু রয়েছেন, তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি মূসাকে আদেশ করলাম, তোমার লাঠি দ্বারা সমূদ্রকে আঘাত কর। ফলে, তা বিদীর্ণ হয়ে গেল এবং প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতসদৃশ হয়ে গেল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন আমরা অহির মাধ্যমে মূসাকে নির্দেশ দিলাম: ‘তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করো।’ সাথে সাথে তা বিভক্ত হয়ে গেলো এবং প্রত্যেক ভাগ বড় পর্বতের মতো হয়ে গেলো।

মুহিউদ্দীন খান

আমি সেথায় অপর দলকে পৌঁছিয়ে দিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর আমরা সেখানে এনে হাজির করলাম পরের দলটিকে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং মূসা ও তাঁর সংগীদের সবাইকে বাঁচিয়ে দিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসা আর তার সাথিদের সবাইকে উদ্ধার করলাম,

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর অপর দলটিকে নিমজ্জত কললাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর ডুবিয়ে মারলাম পরবর্তীদের।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এতে একটি নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই ছিল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন, তবে তাদের অধিকাংশই নয়।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তা অবশ্যই পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমার প্রভু অবশ্যি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদেরকে ইব্রাহীমের বৃত্তান্ত শুনিয়ে দিন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের প্রতি ইবরাহিমের সংবাদ তিলাওয়াত করো।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তাঁর পিতাকে এবং তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা কিসের এবাদত কর?

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন সে তার বাপ ও কওমকে বলেছিল: ‘তোমরা কোন্ জিনিসের ইবাদত করছো?’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, আমরা প্রতিমার পূজা করি এবং সারাদিন এদেরকেই নিষ্ঠার সাথে আঁকড়ে থাকি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘আমরা ভাস্কর্যদের (মূর্তি দেবতাদের) পূজা করি এবং আমরা নিষ্ঠার সাথে তাদের প্রতি নত হই।’

মুহিউদ্দীন খান

ইব্রাহীম (আঃ) বললেন, তোমরা যখন আহবান কর, তখন তারা শোনে কি?

আবদুস শহীদ নাসিম

ইবরাহিম বললো: ‘‘তোমরা দোয়া করলে তারা কি তোমাদের দোয়া শুনে?

মুহিউদ্দীন খান

অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?’’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি, তারা এরূপই করত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘না, তবে আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের এভাবে করতে দেখেছি।’

মুহিউদ্দীন খান

ইব্রাহীম বললেন, তোমরা কি তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, যাদের পূজা করে আসছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইবরাহিম বললো: ‘‘তোমরা কিসের পূজা উপাসনা করছো তা কি ভেবে দেখছোনা?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষেরা ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা এবং তোমাদের অতীত বাপ দাদারা?

মুহিউদ্দীন খান

বিশ্বপালনকর্তা ব্যতীত তারা সবাই আমার শত্রু।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা সবাই আমার দুশমন, রাব্বুল আলামিন ছাড়া।

মুহিউদ্দীন খান

যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনিই আমাকে পথপ্রদর্শন করেন,

আবদুস শহীদ নাসিম

কারণ, তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।

মুহিউদ্দীন খান

যিনি আমাকে আহার এবং পানীয় দান করেন,

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি আমাকে খাওয়ান, পান করান।

মুহিউদ্দীন খান

যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি রোগগ্রস্ত হলে তিনিই আমাকে নিরাময় করে দেন।

মুহিউদ্দীন খান

যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর পুনর্জীবন দান করবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনিই আমার মউত ঘটাবেন এবং পুনরায় হায়াত দেবেন।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আশা করি তিনিই বিচারের দিনে আমার ক্রটি - বিচ্যুতি মাফ করবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাঁর ব্যাপারে আমি আশা করি, তিনি আমাকে আমার গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দেবেন প্রতিদান দিবসে।

মুহিউদ্দীন খান

হে আমার পালনকর্তা, আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত কর

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার প্রভু! আমাকে প্রজ্ঞা দান করো এবং মিলিত করো সালেহ্ লোকদের সাথে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

পরবর্তী লোকদের মধ্যে আমার সুখ্যাতি দান করো।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমাকে নেয়ামত উদ্যানের অধিকারীদের অন্তর্ভূক্ত কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাকে জান্নাতুন নায়ীমের ওয়ারিশদের অন্তরভুক্ত করো।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমার পিতাকে ক্ষমা কর। সে তো পথভ্রষ্টদের অন্যতম।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার বাবাকে ক্ষমা করে দাও, কারণ তিনি গোমরাহদেরই একজন।

মুহিউদ্দীন খান

এবং পূনরুত্থান দিবসে আমাকে লাঞ্ছিত করো না,

আবদুস শহীদ নাসিম

পুনরুত্থান দিবসে তুমি আমাকে অপমাণিত করোনা,

মুহিউদ্দীন খান

যে দিবসে ধন - সম্পদ ও সন্তান সন্ততি কোন উপকারে আসবে না;

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন মাল সম্পদ এবং সন্তান - সন্ততি কোনো উপকারে আসবেনা,

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে উপকার লাভ করবে সে, যে হাজির হবে শুদ্ধ শান্ত কলব নিয়ে।’’

মুহিউদ্দীন খান

জান্নাত আল্লাহভীরুদের নিকটবর্তী করা হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন মুত্তাকিদের কাছেই নিয়ে আসা হবে জান্নাত।

মুহিউদ্দীন খান

এবং বিপথগামীদের সামনে উম্মোচিত করা হবে জাহান্নাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর বিভ্রান্তদের জন্যে খুলে দেয়া হবে জাহান্নাম।

মুহিউদ্দীন খান

তাদেরকে বলা হবেঃ তারা কোথায়, তোমরা যাদের পূজা করতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বলা হবে: ‘‘তারা এখন কোথায়, তোমরা যাদের ইবাদত (উপাসনা) করতে

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, অথবা তারা প্রতিশোধ নিতে পারে?

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি এখন তোমাদের সাহায্য করতে পারবে, নাকি তারা আত্মরক্ষা করতে পারবে?’’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টদেরকে আধোমুখি করে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তাদের এবং বিপথগামীদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে মাথা নীচের দিকে দিয়ে।

মুহিউদ্দীন খান

এবং ইবলীস বাহিনীর সকলকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং ইবলিস বাহিনীর সবাইকেও।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তথায় কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়ে বলবেঃ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা সেখানে তর্কাতর্কি করে বলবে:

মুহিউদ্দীন খান

আল্লাহর কসম, আমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর কসম, আমরা স্পষ্ট গোমরাহিতে লিপ্ত ছিলাম।

মুহিউদ্দীন খান

যখন আমরা তোমাদেরকে বিশ্ব - পালনকর্তার সমতুল্য গন্য করতাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন আমরা তোমাদেরকে রাব্বুল আলামিনের বরাবর মনে করতাম।

মুহিউদ্দীন খান

আমাদেরকে দুষ্টকর্মীরাই গোমরাহ করেছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

অপরাধীরাই আমাদের বিপথগামী করেছিল।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে আজ আমাদের কোনো শাফায়াতকারী নেই,

মুহিউদ্দীন খান

এবং কোন সহৃদয় বন্ধু ও নেই।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং কোনো প্রাণের বন্ধুও নেই।

মুহিউদ্দীন খান

হায়, যদি কোনরুপে আমরা পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পেতাম, তবে আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যদি একবার সুযোগ পেতাম ফিরে যাবার, তাহলে অবশ্যি হয়ে যেতাম।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়, এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তোমার প্রভু, তিনি মহাপরাক্রমশীল, অতীব দয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

নূহের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যারোপ করেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

নূহের কওমও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তাদের ভ্রাতা নূহ তাদেরকে বললেন, তোমাদের কি ভয় নেই?

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তাদের ভাই নূহ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?

মুহিউদ্দীন খান

আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত বার্তাবাহক।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো বিশ্ব - পালনকর্তাই দেবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের (সতর্ক করার) একাজ করার জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমাকে প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, আমরা কি তোমাকে মেনে নেব যখন তোমার অনুসরণ করছে ইতরজনেরা?

আবদুস শহীদ নাসিম

(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনবো? তোমাকে অনুসরণ করে তো নিম্ন শ্রেণীর লোকেরা।’

মুহিউদ্দীন খান

নূহ বললেন, তারা কি কাজ করছে, তা আমার কি দরকার?

আবদুস শহীদ নাসিম

নূহ বলেছিল: ‘‘তারা (আগে) কী করতো তা আমি জানিনা।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের হিসাব নেয়া আমার পালনকর্তারই কাজ; যদি তোমরা বুঝতে!

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের হিসাব নেয়ার দায়িত্ব তো আল্লাহর, যদি তোমরা বুঝতে!

মুহিউদ্দীন খান

আমি মুমিনগণকে তাড়িয়ে দেয়ার লোক নই।

আবদুস শহীদ নাসিম

মুমিনদের আমার কাছ থেকে তাড়িয়ে দেয়া আমার কাজ নয়।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তো শুধু একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তো একজন স্পষ্ট সতর্ককারী ছাড়া আর কিছু নই।’’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, হে নূহ যদি তুমি বিরত না হও, তবে তুমি নিশ্চিতই প্রস্তরাঘাতে নিহত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা বলেছিল: ‘হে নূহ! তুমি যদি এ কাজ থেকে বিরত না হও, তাহলে পাথর নিক্ষেপ করে যাদের মারা হয়েছে তুমিও তাদের অন্তরভুক্ত হবে।’

মুহিউদ্দীন খান

নূহ বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় তো আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

নূহ ফরিয়াদ করে বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার কওম আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আমার ও তাদের মধ্যে কোন ফয়সালা করে দিন এবং আমাকে ও আমার সংগী মুমিনগণকে রক্ষা করুন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তুমি আমার ও তাদের মাঝে একটা চূড়ান্ত ফায়সালা করে দাও আর নাজাত দাও আমাকে এবং আমার সাথি মুমিনদের।’’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর সঙ্গিগণকে বোঝাই করা নৌকায় রক্ষা করলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন আমি তাকে এবং তার সাথিদেরকে নৌযানে বোঝাই করে রক্ষা করেছি,

মুহিউদ্দীন খান

এরপর অবশিষ্ট সবাইকে নিমজ্জত করলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর বাকি সবাইকে ডুবিয়ে দিয়েছি পানিতে।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, পরম দয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

আদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আদ জাতিও প্রত্যাখ্যান করেছিল রসূলদের।

মুহিউদ্দীন খান

তখন তাদের ভাই হুদ তাদেরকে বললেনঃ তোমাদের কি ভয় নেই?

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তাদের ভাই হুদ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?

মুহিউদ্দীন খান

আমি তোমাদের বিশ্বস্ত রসূল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তোমাদের কাছে এর জন্যে প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো পালনকর্তা দেবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তো তোমাদের (সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা, আমাকে প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা কি প্রতিটি উচ্চস্থানে অযথা নিদর্শন নির্মান করছ?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কেন প্রতিটি উঁচু স্থানে অনর্থক স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করছো?

মুহিউদ্দীন খান

এবং বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছ, যেন তোমরা চিরকাল থাকবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা এমন সব শৈল্পিক প্রাসাদ নির্মাণ করছো যেনো তোমরা এখানে চিরস্থায়ী হবে!

মুহিউদ্দীন খান

যখন তোমরা আঘাত হান, তখন জালেম ও নিষ্ঠুরের মত আঘাত হান।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তোমরা ক্ষমতা পাও, তখন স্বৈরাচারি ক্ষমতা প্রয়োগ করো।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।

মুহিউদ্দীন খান

ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে সেসব বস্তু দিয়েছেন, যা তোমরা জান।

আবদুস শহীদ নাসিম

ভয় করো তাঁকে যিনি তোমাদের সব (উত্তম সামগ্রী) দিয়ে সাহায্য করেছেন যা তোমরা জানো।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদেরকে দিয়েছেন চতুষ্পদ জন্তু ও পুত্র - সন্তান,

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তোমাদের সাহায্য করেছেন পশু সম্পদ এবং সন্তান সন্ততি দিয়ে,

মুহিউদ্দীন খান

এবং উদ্যান ও ঝরণা।

আবদুস শহীদ নাসিম

বাগ - বাগিচা এবং ঝরণাধারা দিয়ে।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তোমাদের জন্যে মহাদিবসের শাস্তি আশংকা করি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি আশংকা করছি তোমাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় কোনো আযাব এসে পড়ার।’’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, তুমি উপদেশ দাও অথবা উপদেশ নাই দাও, উভয়ই আমাদের জন্যে সমান।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা বলেছিল: ‘‘তুমি আমাদের ওয়ায করো কিংবা না করো দুটোই সমান।

মুহিউদ্দীন খান

এসব কথাবার্তা পূর্ববর্তী লোকদের অভ্যাস বৈ নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

আগেকার লোকদের এটাই (ওয়ায করা বা উপদেশ দেয়াটাই) স্বভাব।

মুহিউদ্দীন খান

আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদের শাস্তি দেয়া হবে আমরা তাদের অন্তরভুক্ত নই।’’

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলতে লাগল এবং আমি তাদেরকে নিপাত করে দিলাম। এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে তারা তাকে (হুদকে) প্রত্যাখ্যান করে, ফলে আমরাও তাদের হালাক (ধ্বংস) করে দেই। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আপনার পালনকর্তা, তিনি তো প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর অতীব দয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

সামুদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

সামুদ জাতিও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তাদের ভাই সালেহ, তাদেরকে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না?

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তাদের ভাই সালেহ্ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?

মুহিউদ্দীন খান

আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসূল।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।

মুহিউদ্দীন খান

আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব - পালনকর্তাই দেবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তোমাদের সতর্ক করার) এ কাজের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদেরকে কি এ জগতের ভোগ - বিলাসের মধ্যে নিরাপদে রেখে দেয়া হবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা এখানে যে হালে আছো, তোমাদের কি এ রকম নিরাপদ ছেড়ে দেয়া হবে?

মুহিউদ্দীন খান

উদ্যানসমূহের মধ্যে এবং ঝরণাসমূহের মধ্যে ?

আবদুস শহীদ নাসিম

এসব বাগ - বাগিচা এবং ঝরণাধারার মধ্যে?

মুহিউদ্দীন খান

শস্যক্ষেত্রের মধ্যে এবং মঞ্জুরিত খেজুর বাগানের মধ্যে ?

আবদুস শহীদ নাসিম

এসব (সবুজ) শস্যক্ষেত আর সুকোমল ছড়া বিশিষ্ট খেজুরের বাগানে?

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা পাহাড় কেটে জাঁক জমকের গৃহ নির্মাণ করছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তো দক্ষতার সাথে পাহাড় কেটে আবাস নির্মাণ করছো।

মুহিউদ্দীন খান

সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।

মুহিউদ্দীন খান

এবং সীমালংঘনকারীদের আদেশ মান্য কর না;

আবদুস শহীদ নাসিম

সীমা লঙ্ঘনকারীদের হুকুম মতো চলোনা,

মুহিউদ্দীন খান

যারা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না;

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা দেশে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়াচ্ছে এবং কোনো প্রকার সংশোধনের কাজ করছেনা।’’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্থুরেদ একজন।

আবদুস শহীদ নাসিম

(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘‘তুমি তো একজন জাদুগ্রস্ত।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি তো আমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নও। সুতরাং যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে কোন নিদর্শন উপস্থিত কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তো আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে (তোমার রসূল হবার) কোনো প্রমাণ হাজির করো।’’

মুহিউদ্দীন খান

সালেহ বললেন এই উষ্ট্রী, এর জন্যে আছে পানি পানের পালা এবং তোমাদের জন্যে আছে পানি পানের পালা নির্দিষ্ট এক - এক দিনের।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে বলেছিল: ‘‘(প্রমাণ হলো) এই উটনী। কুয়ার পানি পানে এর জন্যেও পালা থাকবে, তোমাদের জন্যেও পালা থাকবে নির্দিষ্ট দিনে।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা একে কোন কষ্ট দিও না। তাহলে তোমাদেরকে মহাদিবসের আযাব পাকড়াও করবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তোমরা একে স্পর্শও করোনা, করলে তোমাদের পাকড়াও করবে এক মহাদিবসের আযাব।’’

মুহিউদ্দীন খান

তারা তাকে বধ করল ফলে, তারা অনুতপ্ত হয়ে গেল।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু তারা সেটিকে হত্যা করলো। পরিণামে তারা হলো লাঞ্ছিত।

মুহিউদ্দীন খান

এরপর আযাব তাদেরকে পাকড়াও করল। নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তাদের গ্রাস করলো আযাব। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তোমার প্রভু, তিনি মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

লূতের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

লুতের কওমও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না ?

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তাদের ভাই লুত তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?

মুহিউদ্দীন খান

আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।

মুহিউদ্দীন খান

আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব - পালনকর্তা দেবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তোমাদের সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।

মুহিউদ্দীন খান

সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরূষদের সাথে কুকর্ম কর?

আবদুস শহীদ নাসিম

জগতের মধ্যে তোমরাই পুরুষদের সাথে যৌনকর্ম করছো,

মুহিউদ্দীন খান

এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীগনকে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন কর? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমরা বর্জন করছো তোমাদের স্ত্রীদের, যাদেরকে তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা এক চরম সীমালঙ্ঘনকারী কওম।’’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, হে লূত, তুমি যদি বিরত না হও, তবে অবশ্যই তোমাকে বহিস্কৃত করা হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘হে লুত! তুমি যদি তোমার এ কাজ থেকে বিরত না হও, তাহলে অবশ্যি তোমাকে (এ দেশ থেকে) বের করে দেয়া হবে।’

মুহিউদ্দীন খান

লূত বললেন, আমি তোমাদের এই কাজকে ঘৃণা করি।

আবদুস শহীদ নাসিম

লুত বলেছিল: ‘‘আমি তোমাদের এ কাজকে অবশ্যি ঘৃণা করি।

মুহিউদ্দীন খান

হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এবং আমার পরিবারবর্গকে তারা যা করে, তা থেকে রক্ষা কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আমার প্রভু! আমাকে এবং আমার পরিবার পরিজনকে তাদের এ কর্মকান্ড থেকে রক্ষা করো।’’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে রক্ষা করলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে, আমরা তাকে এবং তার পরিবারের সবাইকে নাজাত দিয়েছিলাম

মুহিউদ্দীন খান

এক বৃদ্ধা ব্যতীত, সে ছিল ধ্বংস প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

এক বৃদ্ধাকে ছাড়া, সে হয়েছিল অবস্থানকারীদের অন্তরভুক্ত।

মুহিউদ্দীন খান

এরপর অন্যদেরকে নিপাত করলাম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর বাকি সবাইকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের উপর এক বিশেষ বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। ভীতি - প্রদর্শিত দের জন্যে এই বৃষ্টি ছিল কত নিকৃষ্ট।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম এক চূড়ান্ত বর্ষণ! যাদের সতর্ক করা হয়েছিল তাদের জন্যে এ বর্ষণ ছিলো কতো যে নিকৃষ্ট!

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর মধ্যেও রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভু, নিশ্চিতই তিনি মহাপরাক্রমশীল, অতীব দয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

বনের অধিবাসীরা পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আইকাবাসীরাও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।

মুহিউদ্দীন খান

যখন শো’আয়ব তাদের কে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না?

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, শুয়াইব তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?

মুহিউদ্দীন খান

আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসূল।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব - পালনকর্তাই দেবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তোমাদের সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের উপর।

মুহিউদ্দীন খান

মাপ পূর্ণ কর এবং যারা পরিমাপে কম দেয়, তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

মাপ পূর্ণ করে দেবে। যারা মাপে কম দেয় তোমরা তাদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।

মুহিউদ্দীন খান

সোজা দাঁড়ি - পাল্লায় ওজন কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

ওজন দেবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়।

মুহিউদ্দীন খান

মানুষকে তাদের বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে ফিরো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষকে তাদের জিনিসপত্র কম দিওনা এবং দেশে ফাসাদ সৃষ্টিকারী হয়োনা।

মুহিউদ্দীন খান

ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী লোক - সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করেছেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেই মহান সত্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের আগে যারা বিগত হয়েছে তাদেরও সৃষ্টি করেছেন।’’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্তদের অন্যতম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা বলেছিল: ‘‘তুমি তো একজন জাদুগ্রস্ত।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি আমাদের মত মানুষ বৈ তো নও। আমাদের ধারণা - তুমি মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তো আমাদেরই মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। আমরা তো মনে করি তুমি মিথ্যাবাদীদেরই একজন।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, যদি সত্যবাদী হও, তবে আকাশের কোন টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আকাশ ভেঙ্গে তার একটি খন্ড আমাদের উপর ফেলো।’’

মুহিউদ্দীন খান

শো’আয়ব বললেন, তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আমার পালনকর্তা ভালরূপে অবহিত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে বলেছিল: ‘তোমরা যা করছো আমার প্রভু তা ভালোভাবেই জানেন।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে দিল। ফলে তাদেরকে মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব পাকড়াও করল। নিশ্চয় সেটা ছিল এক মহাদিবসের আযাব।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে এক মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব তাদের গ্রাস করে নেয়। সেটা ছিলো এক ভয়াবহ দিনের আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। তাদের অধিকাংশই ছিলনা।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।

মুহিউদ্দীন খান

এই কোরআন তো বিশ্ব - জাহানের পালনকর্তার নিকট থেকে অবতীর্ণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই এ কুরআন রাব্বুল আলামিনের নাযিলকৃত।

মুহিউদ্দীন খান

বিশ্বস্ত ফেরেশতা একে নিয়ে অবতরণ করেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি নিয়ে নাযিল হয়েছে রুহুল আমিন (জিবরিল)

মুহিউদ্দীন খান

আপনার অন্তরে, যাতে আপনি ভীতি প্রদর্শণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন,

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার হৃদয়ে, যাতে করে তুমি হতে পারো একজন সতর্ককারী।

মুহিউদ্দীন খান

সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

(সেটি নাযিল করা হয়েছে) সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আগের কিতাবগুলোতেও এর উল্লেখ আছে।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের জন্যে এটা কি নিদর্শন নয় যে, বনী - ইসরাঈলের আলেমগণ এটা অবগত আছে?

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা কি তাদের জন্যে একটা নিদর্শন নয় যে, এ বিষয়ে অবগত রয়েছে বনি ইসরাঈলের আলেমরা?

মুহিউদ্দীন খান

যদি আমি একে কোন ভিন্নভাষীর প্রতি অবতীর্ণ করতাম,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যদি এ (কুরআন) নাযিল করতাম কোনো অনারবের উপর,

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তিনি তা তাদের কাছে পাঠ করতেন, তবে তারা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করত না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সে যদি এটি তাদের কাছে পাঠ করতো, তবে তারা এর প্রতি ঈমান আনতোনা।

মুহিউদ্দীন খান

এমনিভাবে আমি গোনাহগারদের অন্তরে অবিশ্বাস সঞ্চার করেছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই আমরা অপরাধীদের অন্তরে (অবিশ্বাস) সঞ্চার করে দিয়েছি।

মুহিউদ্দীন খান

তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে না, যে পর্যন্ত প্রত্যক্ষ না করে মর্মন্তুদ আযাব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা ঈমান আনবেনা যতোদিন না সচোক্ষে দেখতে পায় বেদনাদায়ক আযাব।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তা আকস্মিকভাবে তাদের কাছে এসে পড়বে, তারা তা বুঝতে ও পারবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

হ্যাঁ, সেটা এসে পড়বে আকস্মিক এবং তারা টেরই পাবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

তখন তারা বলবে, আমরা কি অবকাশ পাব না?

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা বলবে: ‘আমাদের কি অবকাশ দেয়া হবে?’

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি আমার শাস্তি দ্রুত কামনা করে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি দ্রুত আগমন চায় আমাদের আযাবের?

মুহিউদ্দীন খান

আপনি ভেবে দেখুন তো, যদি আমি তাদেরকে বছরের পর বছর ভোগ - বিলাস করতে দেই,

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি দেখোনি, আমরা তো অনেক বছর তাদের ভোগ বিলাস করতে দিয়েছি।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হত, তা তাদের কাছে এসে পড়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার পরেই এসেছিল সেই জিনিস (তাদের ধ্বংস) যার ওয়াদা তাদের দেয়া হয়েছিল।

মুহিউদ্দীন খান

তখন তাদের ভোগ বিলাস তা তাদের কি কোন উপকারে আসবে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের ভোগ বিলাসের উপকরণসমূহ তাদের কোনো কাজেই আসেনি।

মুহিউদ্দীন খান

আমি কোন জনপদ ধ্বংস করিনি; কিন্তু এমতাবস্থায় যে, তারা সতর্ককারী ছিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা এমন কোনো জনপদ হালাক করিনি যার জন্যে সতর্ককারীরা ছিলনা।

মুহিউদ্দীন খান

স্মরণ করানোর জন্যে, এবং আমার কাজ অন্যায়াচরণ নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি একটি উপদেশ। (তাদের ব্যাপারে) আমরা অন্যায় আচরণ করিনি।

মুহিউদ্দীন খান

এই কোরআন শয়তানরা অবতীর্ণ করেনি।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ কুরআন নিয়ে শয়তানরা নাযিল হয়নি।

মুহিউদ্দীন খান

তারা এ কাজের উপযুক্ত নয় এবং তারা এর সামর্থ্য রাখে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ কাজের তারা যোগ্যও নয় এবং এ কাজের সামর্থও তাদের নেই।

মুহিউদ্দীন খান

তাদেরকে তো শ্রবণের জায়গা থেকে দূরে রাখা রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদেরকে তো এটা শোনার সুযোগ থেকে দূরে রাখা হয়েছে।

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে আহবান করবেন না। করলে শাস্তিতে পতিত হবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহ্ ডেকোনা, ডাকলে দন্ডপ্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত হয়ে পড়বে।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি নিকটতম আত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দিন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করো।

মুহিউদ্দীন খান

এবং আপনার অনুসারী মুমিনদের প্রতি সদয় হোন।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা তোমার অনুসরণ করে সেসব মুমিনদের প্রতি তুমি স্নেহ - মমতার ডানা অবনমিত করো।

মুহিউদ্দীন খান

যদি তারা আপনার অবাধ্য করে, তবে বলে দিন, তোমরা যা কর, তা থেকে আমি মুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তোমার অবাধ্য হয়, তবে তুমি বলো: ‘তোমাদের কর্মকান্ড থেকে আমি দায়মুক্ত।’

মুহিউদ্দীন খান

আপনি ভরসা করুন পরাক্রমশালী, পরম দয়ালুর উপর,

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবানের উপর তাওয়াক্কুল করো,

মুহিউদ্দীন খান

যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি নামাযে দন্ডায়মান হন,

আবদুস শহীদ নাসিম

যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দাঁড়াও (সালাতে)।

মুহিউদ্দীন খান

এবং নামাযীদের সাথে উঠাবসা করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাছাড়া সাজদাকারীদের সাথে তোমার উঠাবসাও তিনি দেখেন।

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

মুহিউদ্দীন খান

আমি আপনাকে বলব কি কার নিকট শয়তানরা অবতরণ করে?

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মানুষ!) তোমাদের সংবাদ দেবো কি, শয়তানরা কার ঘাড়ে সওয়ার হয়?

মুহিউদ্দীন খান

তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক মিথ্যাবাদী, গোনাহগারের উপর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তো সওয়ার হয় প্রত্যেক কট্টর মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠের ঘাড়ে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা শ্রুত কথা এনে দেয় এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কান পেতে থাকে এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।

মুহিউদ্দীন খান

বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের অনুসরণ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

কবিদের অনুসরণ করে তো বিভ্রান্তরাই।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি কি দেখ না যে, তারা প্রতি ময়দানেই উদভ্রান্ত হয়ে ফিরে?

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি দেখোনা তারা উদ্ভ্রান্তের মতো প্রত্যেক উপত্যকায়ই ঘুমিয়ে পড়ে?

মুহিউদ্দীন খান

এবং এমন কথা বলে, যা তারা করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তারা তাই বলে, যা তারা করেনা।

মুহিউদ্দীন খান

তবে তাদের কথা ভিন্ন, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কে খুব স্মরণ করে এবং নিপীড়িত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। নিপীড়নকারীরা শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের গন্তব্যস্থল কিরূপ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তারা নয়, যারা ঈমান আনে, আমলে সালেহ্ করে, আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে এবং অত্যাচারিত হবার পরই প্রতিশোধ গ্রহণ করে। যারা যুলুম করে তারা শীঘ্রি জানতে পারবে কোন্ ফিরে যাবার জায়গায় তারা ফিরে যাবে?

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme