সম্পর্কচ্ছেদ করা হল ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সাথে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে।
এটি সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা এবং তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেইসব মুশরিকদের প্রতি, যাদের সাথে তোমরা পারস্পারিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে।
Chapter 9, 129 verses
সম্পর্কচ্ছেদ করা হল ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সাথে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে।
এটি সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা এবং তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেইসব মুশরিকদের প্রতি, যাদের সাথে তোমরা পারস্পারিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে।
অতঃপর তোমরা পরিভ্রমণ কর এ দেশে চার মাসকাল। আর জেনে রেখো, তোমরা আল্লাহকে পরাভূত করতে পারবে না, আর নিশ্চয়ই কাফেরদিগকে লাঞ্ছিত করে থাকেন।
অতএব (হে মুশরিকরা) তোমরা এ দেশে আর চারমাস ঘুরে বেড়াতে পারবে, আর জেনে রাখো, আল্লাহকে অতিক্রম করার সাধ্য তোমাদের নেই। নিশ্চয়ই কাফিরদের লাঞ্ছিত করেন।
আর মহান হজ্বের দিনে ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে লোকদের প্রতি ঘোষণা করে দেয়া হচ্ছে যে, মুশরেকদের থেকে দায়িত্ব মুক্ত এবং তাঁর রসূলও। অবশ্য যদি তোমরা তওবা কর, তবে তা, তোমাদের জন্যেও কল্যাণকর, আর যদি মুখ ফেরাও, তবে জেনে রেখো, আল্লাহকে তোমরা পরাভূত করতে পারবে না। আর কাফেরদেরকে মর্মান্তিক শাস্তির সুসংবাদ দাও।
মহান হজ্জের দিনে এবং আল্লাহর রসূলের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা যাচ্ছে যে, নিশ্চয়ই মুশরিকদের ব্যাপারে দায়মুক্ত এবং তাঁর রসূলও। এখন (হে মুশরিকরা) তোমরা যদি তওবা করো, তাতেই রয়েছে তোমাদের কল্যাণ, আর যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রাখো, তোমরা আল্লাহকে অতিক্রম করতে (পালাতে) পারবে না। আর কাফিরদের সংবাদ দাও বেদনাদায়ক আযাবের।
তবে যে মুশরিকদের সাথে তোমরা চুক্তি বদ্ধ, অতপরঃ যারা তোমাদের ব্যাপারে কোন ত্রুটি করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি, তাদের সাথে কৃত চুক্তিকে তাদের দেয়া মেয়াদ পর্যন্ত পূরণ কর। অবশ্যই পছন্দ করেন।
তবে মুশরিকদের মধ্যে যাদের সাথে তোমরা চুক্তিতে আবদ্ধ এবং তারা চুক্তি কোনো প্রকার লংঘন ও ভঙ্গ করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকেও সাহায্য করেনি, তাদের সাথে নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত চুক্তি বহাল রাখবে। কারণ, মুত্তাকিদের (ন্যায়পরায়ণদের) ভালোবাসেন।
অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
তারপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো শেষ হয়ে যাবে, তখন মুশরিকদের (দেশের মধ্যে) যেখানে পাবে হত্যা করবে, তাদের বন্দী করবে, অবরোধ করবে এবং প্রতিটি ঘাটিতে তাদের জন্যে ওঁৎ পেতে থাকবে। অবশ্য যদি তারা অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে, কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে, তবে তাদের রাস্তা খোলা রাখো। কারণ, নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল দয়াময়।
আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না।
মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তাকে আশ্রয় দাও, যাতে করে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়। তারপর তাকে তার নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেবে। কারণ তারা এমন লোক, যারা জানেনা।
মুশরিকদের চুক্তি আল্লাহর নিকট ও তাঁর রসূলের নিকট কিরূপে বলবৎ থাকবে। তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছ মসজিদুল - হারামের নিকট। অতএব, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্যে সরল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য সরল থাক। নিঃসন্দেহের পছন্দ করেন।
ও তাঁর রসূলের কাছে কী করে মুশরিকদের চুক্তি বহাল থাকতে পারে, তাদের ছাড়া যাদের সাথে তোমরা মসজিদুল হারামের কাছে পারস্পরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে (যদি তারা তোমাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তির উপর কায়েম না থাকে)। তবে, তারা যতোদিন তোমাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তির উপর কায়েম থাকবে, ততোদিন তোমরাও তাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তির উপর কায়েম থাকবে। অবশ্যি মুত্তাকিদের পছন্দ করেন।
কিরূপে? তারা তোমাদের উপর জয়ী হলে তোমাদের আত্নীয়তার ও অঙ্গীকারের কোন মর্যাদা দেবে না। তারা মুখে তোমাদের সন্তুষ্ট করে, কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ তা অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী।
কী করে থাকবে? তারা যদি তোমাদের উপর জয়ী হয়, তবে তারা তো তোমাদের সাথের আত্মীয়তা ও অঙ্গীকারের কোনোই মর্যাদা দেয়না। তারা মুখে তোমাদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে, অথচ তাদের অন্তর তা অস্বীকার করে। তাদের অধিকাংশই ফাসিক - সীমালংঘনকারী।
তারা আল্লাহর আয়াত সমূহ নগন্য মুল্যে বিক্রয় করে, অতঃপর লোকদের নিবৃত রাখে তাঁর পথ থেকে, তারা যা করে চলছে, তা অতি নিকৃষ্ট।
তারা তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে আল্লাহর আয়াত এবং বাধা সৃষ্টি করে আল্লাহর পথে। নিশ্চয়ই তাদের কর্মকান্ড খুবই নিকৃষ্ট।
তারা মর্যাদা দেয় না কোন মুসলমানের ক্ষেত্রে আত্নীয়তার, আর না অঙ্গীকারের। আর তারাই সীমালংঘনকারী।
তারা কোনো মুমিনের সাথে আত্মীয়তা ও অঙ্গীকারের মর্যাদা রক্ষা করেনা। তারা আসলেই সীমালংঘনকারী।
অবশ্য তারা যদি তওবা করে, কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই। আর আমি বিধানসমূহে জ্ঞানী লোকদের জন্যে সর্বস্তরে র্বণনা করে থাকি।
তারা যদি তওবা করে, কায়েম করে এবং যাকাত দেয়, তবে তারা তোমাদের দীনি ভাই। জ্ঞানী লোকদের জন্যে এভাবেই আমরা আমাদের আয়াত সবিস্তারে বর্ণনা করি।
আর যদি ভঙ্গ করে তারা তাদের শপথ প্রতিশ্রুতির পর এবং বিদ্রুপ করে তোমাদের সম্পর্কে, তবে কুফর প্রধানদের সাথে যুদ্ধ কর। কারণ, এদের কেন শপথ নেই যাতে তারা ফিরে আসে।
চুক্তি সম্পাদনের পর তারা যদি তোমাদের সাথে কৃত চুক্তি ভঙ্গ করে এবং তোমাদের দীন নিয়ে বিদ্রুপ করে, তবে কুফরের (পতাকাবাহী) নেতাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো, যাতে তারা বিরত হয়, কারণ তাদের কোনো অঙ্গীকার নেই।
তোমরা কি সেই দলের সাথে যুদ্ধ করবে না; যারা ভঙ্গ করেছে নিজেদের শপথ এবং সঙ্কল্প নিয়েছে রসূলকে বহিস্কারের? আর এরাই প্রথম তোমাদের সাথে বিবাদের সূত্রপাত করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় কর? অথচ তোমাদের ভয়ের অধিকতর যোগ্য হলেন , যদি তোমরা হও।
তোমরা কি সেই লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেনা, যারা নিজেদের অঙ্গীকার ভেঙ্গে ফেলেছে এবং রসূলকে বহিষ্কারের সংকল্প করেছিল? আর তারাই তো প্রথমে তোমাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় করছো? অথচ আল্লাহই তো সর্বশ্রেষ্ঠ অধিকারী যে তোমরা তাঁকে ভয় করবে, যদি তোমরা হয়ে থাকো।
যুদ্ধ কর ওদের সাথে, তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন।
তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। তোমাদের হাতে তাদের শাস্তি দেবেন, তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করবেন এবং মুমিনদের হৃদয়কে নিরাময় করে দেবেন,
এবং তাদের মনের ক্ষোভ দূর করবেন। আর যার প্রতি ইচ্ছা ক্ষমাশীল হবে, সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আর তিনি তাদের (মুমিনদের) অন্তরের ক্ষোভ দূর করে দেবেন। যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। অতীব জ্ঞানী, বিজ্ঞানময়।
তোমরা কি মনে কর যে, তোমাদের ছেড়ে দেয়া হবে এমনি, যতক্ষণ না জেনে নেবেন তোমাদের কে যুদ্ধ করেছে এবং কে , তাঁর রসূল ও মুসলমানদের ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করা থেকে বিরত রয়েছে। আর তোমরা যা কর সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।
তোমরা কি মনে করেছো যে, তোমাদের এতোটুকুতেই ছেড়ে দেয়া হবে, অথচ এখন পর্যন্ত বাস্তবে জেনে নেননি তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং , তাঁর রসূল ও মুমিনদের ছাড়া অন্য কাউকেও অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেনি? ভালোভাবেই জানেন তোমরা যা আমল করো।
মুশরিকরা যোগ্যতা রাখে না আল্লাহর মসজিদ আবাদ করার, যখন তারা নিজেরাই নিজেদের কুফরীর স্বীকৃতি দিচ্ছে। এদের আমল বরবাদ হবে এবং এরা আগুনে স্থায়ীভাবে বসবাস করবে।
আল্লাহর মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করা মুশরিকদের কাজ নয়, কারণ তারা নিজেরাই নিজেদের কুফুরির সাক্ষী। তারা এমন লোক যাদের সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। জাহান্নামেই তারা স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।
নিঃসন্দেহে তারাই আল্লাহর মসজিদ আবাদ করবে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং কায়েম করেছে ও আদায় করে যাকাত; ব্যতীত আর কাউকে ভয় করে না। অতএব, আশা করা যায়, তারা হেদায়েত প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে।
আল্লাহর মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণ করবে তারা, যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, আখিরাতের প্রতি, যারা কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং ছাড়া আর কাউকেও ভয় করেনা। আশা করা যায় এরা হিদায়াতের পথে চলবে।
তোমরা কি হাজীদের পানি সরবরাহ ও মসজিদুল - হারাম আবাদকরণকে সেই লোকের সমান মনে কর, যে ঈমান রাখে ও শেষ দিনের প্রতি এবং যুদ্ধ করেছে আল্লাহর রাহে, এরা আল্লাহর দৃষ্টিতে সমান নয়, আর জালেম লোকদের হেদায়েত করেন না।
তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানো আর মসজিদুল হারামের রক্ষণাবেক্ষণ করাকে ঐসব লোকদের কাজের সমান গণ্য করছো, যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, আখিরাতের প্রতি এবং জিহাদ করেছে আল্লাহর পথে? আল্লাহর কাছে এরা উভয়ে সমতুল্য নয়। যালিমদের সঠিক পথ দেখান না।
যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে এবং আল্লাহর রাহে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে জেহাদ করেছে, তাদের বড় মর্যাদা রয়েছে আল্লাহর কাছে আর তারাই ।
যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আল্লাহর কাছে তারা শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী এবং তারাই হবে ।
তাদের সুসংবাদ দিচ্ছেন তাদের পরওয়ারদেগার স্বীয় দয়া ও সন্তোষের এবং জান্নাতের, সেখানে আছে তাদের জন্য স্থায়ী শান্তি।
তাদের প্রভু তাদের সুসংবাদ দিচ্ছেন তাঁর রহমতের, তাঁর রেজামন্দির আর সেই জান্নাতের, যেখানে আছে তাদের জন্যে স্থায়ী নিয়ামত।
তথায় তারা থাকবে চিরদিন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর কাছে আছে মহাপুরস্কার।
সেখানে থাকবে তারা চিরকাল। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় পিতা ও ভাইদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা ঈমান অপেক্ষা কুফরকে ভালবাসে। আর তোমাদের যারা তাদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা সীমালংঘনকারী।
হে লোকেরা! তোমাদের বাবা ও ভাইদের অলি (অভিভাবক ও বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করোনা, যদি তারা ঈমানের উপর কুফুরিকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়। তোমাদের মধ্যে যে কেউ তাদের অলি বানাবে তারা যালিম হিসেবে গণ্য হবে।
বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন - সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান - যাকে তোমরা পছন্দ কর - , তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।
হে নবী! তাদের বলো: ‘‘যদি তোমাদের কাছে আল্লাহর চাইতে, তাঁর রসূলের চাইতে এবং তাঁর পথে জিহাদের চাইতে বেশি প্রিয় হয় তোমাদের পিতা, সন্তান, ভাই, স্ত্রী, আত্মীয় - স্বজন, তোমাদের উপার্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা - বাণিজ্য যার মন্দাকে তোমরা ভয় পাও এবং তোমাদের প্রিয় বাসস্থান, তবে অপেক্ষা করো আল্লাহর ফায়সালা আসা পর্যন্ত। ফাসিক লোকদের সঠিক পথ দেখান না।’’
তোমাদের সাহায্য করেছেন অনেক ক্ষেত্রে এবং হোনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যধিক্য তোমাদের প্রফুল্ল করেছিল, কিন্তু তা তোমাদের কোন কাজে আসেনি এবং পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্তেও তোমাদের জন্য সংকুচিত হয়েছিল। অতঃপর পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পলায়ন করেছিলে।
তোমাদের সাহায্য করেছেন বহু জায়গায় এবং হোনায়েনের (যুদ্ধের) দিনও, যখন তোমাদের আনন্দিত করেছিল তোমাদের সংখ্যার আধিক্য। কিন্তু তা তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এমন কি, ভূ - খন্ড বিস্তৃত থাকা সত্ত্বেও তোমাদের জন্যে সংকীর্ণ হয়ে আসছিল, অত:পর তোমরা পিছু হটে গিয়েছিলে।
তারপর নাযিল করেন নিজের পক্ষ থেকে সান্ত্বনা, তাঁর রসূল ও মুমিনদের প্রতি এবং অবতীর্ণ করেন এমন সেনাবাহিনী যাদের তোমরা দেখতে পাওনি। আর শাস্তি প্রদান করেন কাফেরদের এবং এটি হল কাফেরদের কর্মফল।
অবশেষে তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর রসূল ও মুমিনদের প্রতি নাযিল করেন প্রশান্তি, আরো নাযিল করেন এমন এক বাহিনী, যাদের তোমরা দেখতে পাওনি। পক্ষান্তরে তিনি কঠিন শাস্তি প্রদান করেন কাফিরদের। এটাই কাফিরদের কর্মের প্রতিদান।
এরপর যাদের প্রতি ইচ্ছা তওবার তওফীক দেবেন, আর অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
এরপরও যাকে চান তার তওবা কবুল করবেন। পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।
হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল - হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রের আশংকা কর, তবে চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
হে লোকেরা! মুশরিকরা অপবিত্র। সুতরাং এবারের পর তারা যেনো আর মসজিদুল হারামের কাছেও না আসে। তোমরা যদি দারিদ্রের আশংকা করো, তবে চাইলে তাঁর নিজ অনুগ্রহে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞানী, বিজ্ঞানময়।
তোমরা যুদ্ধ কর আহলে - কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।
যাদের প্রতি ইতোপূর্বে কিতাব নাযিল করা হয়েছিল তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনেনা আল্লাহর প্রতি, আখিরাতের প্রতি এবং ও তাঁর রসূল যা কিছু হারাম করেছেন, তা হারাম হিসেবে মানে না, আর সত্য দীনের আনুগত্য অনুসরণ করেনা, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো, যতোক্ষণ পর্যন্ত তারা নত হয়ে নিজেদের হাতে জিযিয়া (নিরাপত্তা কর) না দেবে।
ইহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে।
ইহুদিরা বলে, ‘উযায়ের আল্লাহর পুত্র’। নাসারারা বলে : ‘মসিহ্ আল্লাহর পুত্র’। এগুলো তাদের মুখের কথা। এরা তাদের মতোই কথা বলে, যারা ইতোপূর্বে কুফুরি করেছিল। তাদের ধ্বংস করুন! কোন্ দিকে তারা ফিরে যাচ্ছে?
তারা তাদের পন্ডিত ও সংসার - বিরাগীদিগকে তাদের পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে ব্যতীত এবং মরিয়মের পুত্রকেও। অথচ তারা আদিষ্ট ছিল একমাত্র মাবুদের এবাদতের জন্য। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তারা তাঁর শরীক সাব্যস্ত করে, তার থেকে তিনি পবিত্র।
তারা ছাড়া তাদের পন্ডিত এবং সংসার বিরাগীদেরও রব বানিয়ে নিয়েছে এবং মরিয়মের পুত্র মসিহকেও। অথচ তাদেরকে এক ইলাহ্ (আল্লাহকে) ছাড়া আর কারো ইবাদত করতে আদেশ করা হয়নি। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। তারা যাদেরকে তাঁর শরিক বানায় তিনি তাদের থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।
তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করতে চায়। কিন্তু অবশ্যই তাঁর নূরের পূর্ণতা বিধান করবেন, যদিও কাফেররা তা অপ্রীতিকর মনে করে।
তারা আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায় তাদের মুখের ফুৎকারে। অথচ আর কিছুই চান না তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করা ছাড়া, যদিও কাফিররা তা পছন্দ করেনা।
তিনিই প্রেরণ করেছেন আপন রসূলকে হেদায়েত ও সত্য সহকারে, যেন এ দ্বীনকে অপরাপর দ্বীনের উপর জয়যুক্ত করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপ্রীতিকর মনে করে।
তিনি সেই মহান সত্তা যিনি তাঁর রসূলকে পাঠিয়েছেন হিদায়াত এবং সত্য দীন নিয়ে অন্যসব দীনের উপর সেটিকে বিজয়ী করার জন্যে, যদিও মুশরিকরা তা পছন্দ করেনা।
হে ঈমানদারগণ! পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের অনেকে লোকদের মালামাল অন্যায়ভাবে ভোগ করে চলছে এবং আল্লাহর পথ থেকে লোকদের নিবৃত রাখছে। আর যারা স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন।
হে লোকেরা! জেনে রাখো, পাদ্রী ও সংসার বিরাগীদের অনেকেই অন্যায়ভাবে মানুষের মাল সম্পদ গ্রাস করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে। যারা সোনা রূপা (অর্থ সম্পদ) সঞ্চয় করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করেনা, তাদেরকে সংবাদ দাও বেদনাদায়ক আযাবের।
সে দিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে (সেদিন বলা হবে), এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে, সুতরাং এক্ষণে আস্বাদ গ্রহণ কর জমা করে রাখার।
যেদিন সেগুলো জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের কপালে, পাঁজরে এবং পিঠে দাগ দেয়া হবে, সেদিন বলা হবে, এ হলো সেই সম্পদ যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমিয়ে রেখেছিলে, এখন স্বাদ গ্রহণ করো তোমাদের সঞ্চয়ের।
নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন।
আল্লাহর কাছে আসমান ও জমিন সৃষ্টির দিন থেকে গণনায় মাস বারোটি। এর মধ্যে চারটি পবিত্র। এটাই প্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এ সময় তোমরা নিজেদের প্রতি যুলুম করোনা। আর মুশরিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই করো, যেভাবে তারা সর্বাত্মক লড়াই করে তোমাদের বিরুদ্ধে। আর জেনে রাখো, নিশ্চয়ই মুত্তাকিদের সাথে রয়েছেন।
এই মাস পিছিয়ে দেয়ার কাজ কেবল কুফরীর মাত্রা বৃদ্ধি করে, যার ফলে কাফেরগণ গোমরাহীতে পতিত হয়। এরা হালাল করে নেয় একে এক বছর এবং হারাম করে নেয় অন্য বছর, যাতে তারা গণনা পূর্ণ করে নেয় আল্লাহর নিষিদ্ধ মাসগুলোর। অতঃপর হালাল করে নেয় আল্লাহর হারামকৃত মাসগুলোকে। তাদের মন্দকাজগুলো তাদের জন্যে শোভনীয় করে দেয়া হল। আর সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।
মাসকে পিছিয়ে দেয়া মূলত কুফুরিকে বৃদ্ধি করা। এর ফলে বিভ্রান্ত করা হয় কাফিরদের। তারা এটাকে কোনো বছর হালাল করে, আবার কোনো বছর করে হারাম। এতে তাদের উদ্দেশ্য হলো যা হারাম করেছেন সেগুলোকে হালাল করা এবং যেনো যেগুলো হারাম করেছেন সেগুলোর গণনা পূর্ণ করতে পারে। তাদের মন্দ কাজ তাদের কাছে লোভনীয় করে দেয়া হয়েছে। কাফিরদের সঠিক পথ দেখান না।
হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প।
হে লোকেরা! তোমাদের কী হলো, তোমাদের যখন আল্লাহর পথে অভিযানে বের হতে বলা হয়, তোমরা জমিনকে আকড়ে ধরে থাকো? তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে রাজি হয়ে গেছো? অথচ আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের ভোগের সামগ্রী একেবারেই তুচ্ছ।
যদি বের না হও, তবে তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
তোমরা যদি অভিযানে বের না হও, তোমাদের তিনি আযাব দেবেন এক বেদনাদায়ক আযাব। আর তোমাদের বদলে অপর কোনো লোকদের নিয়ে আসবেন এবং তোমরা তাঁর কোনোই ক্ষতি করতে পারবেনা। প্রতিটি বিষয়ে শক্তিমান।
যদি তোমরা তাকে (রসূলকে) সাহায্য না কর, তবে মনে রেখো, তার সাহায্য করেছিলেন, যখন তাকে কাফেররা বহিষ্কার করেছিল, তিনি ছিলেন দু’জনের একজন, যখন তারা গুহার মধ্যে ছিলেন। তখন তিনি আপন সঙ্গীকে বললেন বিষন্ন হয়ো না, আমাদের সাথে আছেন। অতঃপর তার প্রতি স্বীয় সান্তনা নাযিল করলেন এবং তাঁর সাহায্যে এমন বাহিনী পাঠালেন, যা তোমরা দেখনি। বস্তুতঃ কাফেরদের মাথা নীচু করে দিলেন আর আল্লাহর কথাই সদা সমুন্নত এবং পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
তোমরা যদি তাকে (নবীকে) সাহায্য না করো, তবে জেনে রাখো, ইতোপূর্বেও আল্লাহই তাকে সাহায্য করেছেন, যখন কাফিররা তাকে বের করে দিয়েছিল এবং সে ছিলো দুইজনের দ্বিতীয় জন। যখন তারা দু’জনেই গুহার মধ্যে ছিলো এবং সে তার সাথিকে বলেছিল, ‘চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আমাদের সাথে আছেন।’ ফলে তার উপর নাযিল করলেন নিজের প্রশান্তি এবং তাকে সাহায্য করলেন এমন একটি সৈন্যবাহিনী দিয়ে যাদের তোমরা দেখোনি। এর মাধ্যমে তিনি কাফিরদের কথা হেয় করে দিলেন আর উপরে উঠিয়ে দিলেন আল্লাহর বাণীকে। পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান।
তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে, এটি তোমাদের জন্যে অতি উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার।
তোমরা অভিযানে বেরিয়ে পড়ো হালকা অবস্থায় এবং ভারি অবস্থায় আর আল্লাহর পথে জিহাদ করো তোমাদের মাল ও জান দিয়ে। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা জানতে!
যদি আশু লাভের সম্ভাবনা থাকতো এবং যাত্রাপথও সংক্ষিপ্ত হতো, তবে তারা অবশ্যই আপনার সহযাত্রী হতো, কিন্তু তাদের নিকট যাত্রাপথ সুদীর্ঘ মনে হল। আর তারা এমনই শপথ করে বলবে, আমাদের সাধ্য থাকলে অবশ্যই তোমাদের সাথে বের হতাম, এরা নিজেরাই নিজেদের বিনষ্ট করছে, আর জানেন যে, এরা মিথ্যাবাদী।
যদি সম্পদ লাভের আশু সম্ভাবনা থাকতো আর সফর যদি হতো সহজ, তাহলে অবশ্যি তারা তোমার অনুসরণ করতো। কিন্তু তাদের কাছে দীর্ঘ পথের যাত্রা কষ্টকর মনে হলো। তারা অচিরেই আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, ‘সামর্থ থাকলে অবশ্যি আমরা আপনাদের সাথে বের হতাম।’ তারা নিজেদেরই ধ্বংস করছে। জানেন তারা মিথ্যাবাদী।
আপনাকে ক্ষমা করুন, আপনি কেন তাদের অব্যাহতি দিলেন, যে পর্যন্ত না আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যেত সত্যবাদীরা এবং জেনে নিতেন মিথ্যাবাদীদের।
তোমাকে ক্ষমা করুন, তুমি কেন তাদের অব্যাহতি দিলে, যতোক্ষণ না তোমার কাছে প্রমাণিত হয়েছে যে, কারা সত্যবাদী আর কারা মিথ্যাবাদী?
ও রোজ কেয়ামতের প্রতি যাদের ঈমান রয়েছে তারা মাল ও জান দ্বারা জেহাদ করা থেকে আপনার কাছে অব্যাহতি কামনা করবে না, আর ভাল জানেন।
যারা ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, তারা নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদে যাবার ব্যাপারে তোমার কাছে অব্যাহতি চায়না। মুত্তাকিদের সম্পর্কে অবহিত।
নিঃসন্দেহে তারাই আপনার কাছে অব্যাহতি চায়, যারা ও রোজ কেয়ামতে ঈমান রাখে না এবং তাদের অন্তর সন্দেহগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, সুতরাং সন্দেহের আবর্তে তারা ঘুরপাক খেয়ে চলেছে।
তোমার কাছে অব্যাহতি প্রার্থনা করে তো তারা, যারা ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখেনা এবং যাদের অন্তরে বিরাজ করছে সন্দেহ। তারা তাদের সংশয়ে দ্বিধাগ্রস্ত।
আর যদি তারা বের হবার সংকল্প নিত, তবে অবশ্যই কিছু সরঞ্জাম প্রস্তুত করতো। কিন্তু তাদের উত্থান আল্লাহর পছন্দ নয়, তাই তাদের নিবৃত রাখলেন এবং আদেশ হল বসা লোকদের সাথে তোমরা বসে থাক।
তারা যদি বের হতে চাইতোই, তাহলে তারা অবশ্যি এর জন্যে প্রস্ত্ততি নিতো। কিন্তু তাদের (মুনাফিকদের) যুদ্ধ যাত্রা আল্লাহই অপছন্দ করেছেন। ফলে তিনি তাদের বিরত রেখেছেন এবং তাদের বলা হয়েছে, ‘বসে থাকাদের সাথে তোমরাও বসে থাকো।’
যদি তোমাদের সাথে তারা বের হত, তবে তোমাদের অনিষ্ট ছাড়া আর কিছু বৃদ্ধি করতো না, আর অশ্ব ছুটাতো তোমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশে। আর তোমাদের মাঝে রয়েছে তাদের গুপ্তচর। বস্তুতঃ যালিমদের ভালভাবেই জানেন।
তারা যদি যুদ্ধে বের হতো এবং তোমাদের সাথে থাকতো, তাহলে তোমাদের মধ্যে তারা কেবল বিভ্রান্তি বাড়াতো এবং তোমাদের মাঝে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদের মধ্যেই কেবল ছুটাছুটি করতো। তোমাদের মধ্যেও তাদের কথা শুনার কিছু লোক আছে। যালিমদের ভালোভাবেই জানেন।
তারা পূর্বে থেকেই বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ সন্ধানে ছিল এবং আপনার কার্যসমূহ উল্টা - পাল্টা করে দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিশ্রুতি এসে গেল এবং জয়ী হল আল্লাহর হুকুম, যে অবস্থায় তারা মন্দবোধ করল।
এর আগেও তারা ফিতনা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল এবং তোমার অনেক কাজ ওলট - পালট করে দিতে চেয়েছিল, যতোক্ষণ না তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সত্য এসেছে এবং আল্লাহর আদেশ বিজয়ী হয়েছে।
আর তাদের কেউ বলে, আমাকে অব্যাহতি দিন এবং পথভ্রষ্ট করবেন না। শোনে রাখ, তারা তো পূর্ব থেকেই পথভ্রষ্ট এবং নিঃসন্দেহে জাহান্নাম এই কাফেরদের পরিবেষ্টন করে রয়েছে।
তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে বলে, ‘আমাকে অব্যাহতি দিন আমাকে ফিতনায় ফেলবেন না।’ সাবধান, তারা আসলে ফিতনার মধ্যেই পড়ে আছে। অবশ্যি জাহান্নাম কাফিরদের পরিবেষ্টন করবে।
আপনার কোন কল্যাণ হলে তারা মন্দবোধ করে এবং কোন বিপদ উপস্থিত হলে তারা বলে, আমরা পূর্ব থেকেই নিজেদের কাজ সামলে নিয়েছি এবং ফিরে যায় উল্লসিত মনে।
তোমার কোনো কল্যাণ হলে তাদের মনে কষ্ট লাগে। আবার তোমার কোনো মসিবত ঘটলে তারা বলে, ‘আমরা আগেই নিজেদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করেছিলাম’ এবং তারা উৎফুল্ল হয়ে কেটে পড়ে।
আপনি বলুন, আমাদের কাছে কিছুই পৌঁছবে না, কিন্তু যা আমাদের জন্য রেখেছেন; তিনি আমাদের কার্যনির্বাহক। আল্লাহর উপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত।
বলো : ‘ আমাদের জন্যে যা লিখে রেখেছেন, তা ছাড়া আমাদের আর কিছুই হবেনা। তিনিই আমাদের মাওলা। আর আল্লাহর উপরই তাওয়াক্কুল করা উচিত মুমিনদের।’
আপনি বলুন, তোমরা তো তোমাদের জন্যে দুটি কল্যাণের একটি প্রত্যাশা কর; আর আমরা প্রত্যাশায় আছি তোমাদের জন্যে যে, তোমাদের আযাব দান করুন নিজের পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হস্তে। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ।
বলো : ‘তোমরা কি আমাদের দুইটি কল্যাণের একটির জন্যে অপেক্ষা করছো? অথচ আমরা অপেক্ষা করছি যেনো তাঁর পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হাতে তোমাদের শাস্তি দেন। ব্যাস্, অপেক্ষা করো, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকবো।’
আপনি বলুন, তোমরা ইচ্ছায় অর্থ ব্যয় কর বা অনিচ্ছায়, তোমাদের থেকে তা কখনো কবুল হবে না, তোমরা নাফরমানের দল।
বলো : ‘তোমরা ইচ্ছায় ব্যয় (দান) করো কিংবা অনিচ্ছায়, তোমাদের থেকে তা কখনো কবুল করা হবেনা। কারণ তোমরা সত্যত্যাগী ফাসিক গোষ্ঠী।’
তাদের অর্থ ব্যয় কবুল না হওয়ার এছাড়া আর কোন কারণ নেই যে, তারা ও তাঁর রসূলের প্রতি অবিশ্বাসী, তারা নামাযে আসে অলসতার সাথে ব্যয় করে সঙ্কুচিত মনে।
তাদের অর্থ সাহায্য গ্রহণ করতে নিষেধ করার কারণ হলো, তারা কুফুরি করেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর রসূলের প্রতি এবং আলসেমি ছাড়া তারা সালাতে আসেনা, আর অনিচ্ছাকৃত ছাড়া দান করেনা।
সুতরাং তাদের ধন - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি যেন আপনাকে বিস্মিত না করে। আল্লাহর ইচ্ছা হল এগুলো দ্বারা দুনিয়ার জীবনে তাদের আযাবে নিপতিত রাখা এবং প্রাণবিয়োগ হওয়া অবস্থায়।
তাদের মাল - সম্পদ এবং সন্তান - সন্ততি যেনো তোমাকে তাজ্জব না করে। এগুলো দিয়ে দুনিয়ার জীবনেই তাদের শাস্তি দিতে চান। তারা থাকা অবস্থায়ই তাদের আত্মা দেহত্যাগ করবে।
তারা আল্লাহর নামে হলফ করে বলে যে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভূক্ত নয়, অবশ্য তারা তোমাদের ভয় করে।
তারা হলফ করে বলে, তারা তোমাদেরই লোক। আসলে তারা তোমাদের লোক নয়, বরং তারা ভীরু কাপুরুষ।
তারা কোন আশ্রয়স্থল, কোন গুহা বা মাথা গোঁজার ঠাই পেলে সেদিকে পলায়ন করবে দ্রুতগতিতে।
তারা কোনো আশ্রয়স্থল, কিংবা গিরিগুহা অথবা প্রবেশস্থল পেলে দৌড়ে গিয়ে সেখানে পালাবে।
তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা সদকা বন্টনে আপনাকে দোষারূপ করে। এর থেকে কিছু পেলে সন্তুষ্ট হয় এবং না পেলে বিক্ষুব্ধ হয়।
তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা সাদাকা বন্টনের ব্যাপারে তোমাকে দোষারোপ করে। অত:পর সেখান থেকে তাদের কিছু দিলে তুষ্ট হয়ে যায়, আর সেখান থেকে কিছু না দিলে সাথে সাথে বিক্ষুব্ধ হয়ে যায়।
কতই না ভাল হত, যদি তারা সন্তুষ্ট হত ও তার রসূলের উপর এবং বলত, আল্লাহই আমাদের জন্যে যথেষ্ট, আমাদের দেবেন নিজ করুণায় এবং তাঁর রসূলও, আমরা শুধু আল্লাহকেই কামনা করি।
ভালো হতো, এবং আল্লাহর রসূল তাদের যা দিয়েছেন তাতেই যদি তারা সন্তুষ্ট থাকতো এবং বলতো: ‘আল্লাহই আমাদের জন্যে যথেষ্ট, অচিরেই আমাদের দেবেন তাঁর অনুগ্রহ থেকে এবং তাঁর রসূলও। আমরা আল্লাহর প্রতি অনুরাগী।’
যাকাত হল কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায় কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদে হক এবং তা দাস - মুক্তির জন্যে - ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
সাদাকা (যাকাত) পাবে ফকিররা (নিঃস্ব লোকেরা), মিসকিনরা (অভাবীরা), যাকাত সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা, যাদের মনজয় করা উদ্দেশ্য তারা, দাসমুক্তির জন্যে, ঋণ ভারাক্রান্ত - দেউলিয়ারা, আল্লাহর পথে এবং পথিকরা। এটা আল্লাহর দেয়া বিধান। জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান।
আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ নবীকে ক্লেশ দেয়, এবং বলে, এ লোকটি তো কানসর্বস্ব। আপনি বলে দিন, কান হলেও তোমাদেরই মঙ্গলের জন্য, আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে এবং বিশ্বাস রাখে মুসলমানদের কথার উপর। বস্তুতঃ তোমাদের মধ্যে যারা তাদের জন্য তিনি রহমতবিশেষ। আর যারা আল্লাহর রসূলের প্রতি কুৎসা রটনা করে, তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা নবীকে কষ্ট দেয় এবং বলে, ‘তিনি তো কর্ণপাতকারী।’ হে নবী! বলো, ‘তার কান তোমাদের জন্য কল্যাণকর, তাই শুনে। সে তো আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে এবং মুমিনদেরকে বিশ্বাস করে। তোমাদের মধ্যে যারা সে তাদের জন্যে রহমত।’ যারা আল্লাহর রসূলকে কষ্ট দেয় তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
তোমাদের সামনে আল্লাহর কসম খায় যাতে তোমাদের রাযী করতে পারে। অবশ্য তারা যদি হয়ে থাকে, তবে আল্লাহকে এবং তাঁর রসূলকে রাযী করা অত্যন্ত জরুরী।
তারা তোমাদের সন্তুষ্ট করার জন্যে তোমাদের কাছে আল্লাহর নাম নিয়ে হলফ করে। সন্তুষ্ট করার জন্যে তো এবং তাঁর রসূলই অধিক হকদার যদি তারা হয়ে থাকে।
তারা কি একথা জেনে নেয়নি যে, আল্লাহর সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে যে মোকাবেলা করে তার জন্যে নির্ধারিত রয়েছে দোযখ; তাতে সব সময় থাকবে। এটিই হল মহা - অপমান।
তারা কি জানেনা যে, ও তাঁর রসূলের যারা বিরোধিতা করে, তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুন। চিরকাল সেখানেই থাকবে তারা। এটা হবে এক মহা লাঞ্ছনা।
মুনাফেকরা এ ব্যাপারে ভয় করে যে, মুসলমানদের উপর না এমন কোন সূরা নাযিল হয়, যাতে তাদের অন্তরের গোপন বিষয় অবহিত করা হবে। সুতরাং আপনি বলে দিন, ঠাট্টা - বিদ্রপ করতে থাক; তা অবশ্যই প্রকাশ করবেন যার ব্যাপারে তোমরা ভয় করছ।
মুনাফিকরা ভয় পায়, তাদের সম্পর্কে কোনো সূরা নাযিল না হয়, যাতে তাদের মনের খবর প্রকাশ করা হবে। হে নবী! বলো, বিদ্রুপ করতে থাকো। তোমরা যা ভয় পাচ্ছো, তা প্রকাশ করেই ছাড়বেন।
আর যদি তুমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে?
তুমি তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা অবশ্যি বলবে, ‘আমরা তো খেল তামাশা করছিলাম।’ বলো, ‘তোমরা কি আল্লাহর পথে, আল্লাহর আয়াতের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে বিদ্রুপ করছিলে?
ছলনা কর না, তোমরা যে হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে অবশ্য কিছু লোককে আযাবও দেব। কারণ, তারা ছিল গোনাহগার।
তোমরা ওযর পেশ করার চেষ্টা করোনা। তোমরা ঈমান আনার পর কুফুরি করেছো। তোমাদের মধ্যে একটি গ্রুপকে ক্ষমা করলেও অন্য গ্রুপকে শাস্তি দেবো, কারণ তারা অপরাধী।
মুনাফেক নর - নারী সবারই গতিবিধি একরকম; শিখায় মন্দ কথা, ভাল কথা থেকে বারণ করে এবং নিজ মুঠো বন্ধ রাখে। আল্লাহকে ভুলে গেছে তার, কাজেই তিনিও তাদের ভূলে গেছেন নিঃসন্দেহে মুনাফেকরাই নাফরমান।
মুনাফিক পুরুষ আর মুনাফিক নারী তারা একজন আরেকজনের দোসর। তারা মন্দ কাজের আদেশ করে, ভালো কাজে নিষেধ করে এবং (দান করা থেকে) তাদের হাত গুটিয়ে রাখে। তারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে তিনিও তাদের উপেক্ষা করে আছেন। নিশ্চয়ই মুনাফিকরা ফাসিক - পাপাচারী।
ওয়াদা করেছেন , মুনাফেক পুরুষ ও মুনাফেক নারীদের এবং কাফেরদের জন্যে দোযখের আগুনের - তাতে পড়ে থাকবে সর্বদা। সেটাই তাদের জন্যে যথেষ্ট। আর তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আযাব।
মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী আর কাফিরদের ওয়াদা দিয়েছেন জাহান্নামের আগুনের, সেখানেই তারা থাকবে চিরকাল। সেটাই তাদের জন্যে যথেষ্ট। তাদের লানত দিয়েছেন এবং তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আযাব।
যেমন করে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তোমাদের চেয়ে বেশী ছিল শক্তিতে এবং ধন - সম্পদের ও সন্তান - সন্ততির অধিকারীও ছিল বেশী; অতঃপর উপকৃত হয়েছে নিজেদের ভাগের দ্বারা আবার তোমরা ফায়দা উঠিয়েছ তোমাদের ভাগের দ্বারা - যেমন করে তোমাদের পূর্ববর্তীরা ফায়দা উঠিয়েছিল নিজেদের ভাগের দ্বারা। আর তোমরাও বলছ তাদেরই চলন অনুযায়ী। তারা ছিল সে লোক, যাদের আমলসমূহ নিঃশেষিত হয়ে গেছে দুনিয়া ও আখেরাতে। আর তারাই হয়েছে ক্ষতির সম্মুখীন।
(হে মুনাফিকরা!) তোমাদের অবস্থা তোমাদের আগেকার (মুনাফিকদের) মতোই। তবে তারা ছিলো তোমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী আর তাদের ধন - সম্পদ এবং সন্তান - সন্তুতিও ছিলো তোমাদের চাইতে বেশি। তাদের ভাগ্যে যা ছিলো তারা তা ভোগ করেছে। আর তোমাদের ভাগ্যে যা ছিলো তোমরাও তা ভোগ করলে যেমন - তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের ভাগ্যে যা ছিলো তা ভোগ করেছে। তারা যেমন বাহুল্য কথা - বার্তায় লিপ্ত থাকতো, তোমরাও সে রকম বাহুল্য কথা - বার্তায় লিপ্ত রয়েছো। এরাই সেইসব লোক, দুনিয়া ও আখিরাতে যাদের সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। আর এরাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত।
তাদের সংবাদ কি এদের কানে এসে পৌঁছায়নি, যারা ছিল তাদের পূর্বে; নূহের আ’দের ও সামুদের সম্প্রদায় এবং ইব্রাহীমের সম্প্রদায়ের এবং মাদইয়ানবাসীদের? এবং সেসব জনপদের যেগুলোকে উল্টে দেয়া হয়েছিল? তাদের কাছে এসেছিলেন তাদের নবী পরিষ্কার নির্দেশ নিয়ে। বস্তুতঃ তো এমন ছিলেন না যে, তাদের উপর জুলুম করতেন, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করতো।
এদের কাছে কি তাদের পূর্ববর্তী লোকদের খবর পৌঁছেনি? নূহ, আদ ও সামুদ জাতির, ইবরাহিমের কওম, মাদায়েনবাসী আর বিধ্বস্ত জাতির সংবাদ কি তাদের কাছে আসেনি? তাদের রসূলরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ এসেছিল। তাদের প্রতি যুলুম করা আল্লাহর নীতি নয়, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল।
আর পুরুষ ও নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর তা’আলা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই পরাক্রমশীল, সুকৌশলী।
পুরুষ আর নারী পরস্পরের অলি (বন্ধু, অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষক)। তারা ভালো কাজে আদেশ করে, মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে, কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে। এরাই সেইসব লোক, যাদের প্রতি অচিরেই রহম করবেন। নিশ্চয়ই পরাক্রমশালী বিজ্ঞানময়।
পুরুষ ও নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনে কানন - কুঞ্জের, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় প্রস্রবণ। তারা সে গুলোরই মাঝে থাকবে। আর এসব কানন - কুঞ্জে থাকবে পরিচ্ছন্ন থাকার ঘর। বস্তুতঃ এ সমুদয়ের মাঝে সবচেয়ে বড় হল আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটিই হল মহান কৃতকার্যতা।
পুরুষ ও নারীদের ওয়াদা দিয়েছেন সেই জান্নাতের, যার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। সেই চিরস্থায়ী জান্নাতে থাকবে মনোরম বাসস্থান। আর তাদের জন্যে সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার থাকবে আল্লাহর রেজামন্দি। এটাই প্রকৃতপক্ষে মহাসাফল্য।
হে নবী, কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করুন এবং মুনাফেকদের সাথে তাদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করুন। তাদের ঠিকানা হল দোযখ এবং তাহল নিকৃষ্ট ঠিকানা।
হে নবী! জিহাদ করো এবং মুনাফিকদের বিরুদ্ধে আর কঠোর হও তাদের প্রতি। তাদের বাসস্থান হবে জাহান্নাম, আর সেটা খুবই নিকৃষ্ট ফিরে যাবার জায়গা।
তারা কসম খায় যে, আমরা বলিনি, অথচ নিঃসন্দেহে তারা বলেছে বাক্য এবং মুসলমান হবার পর অস্বীকৃতিজ্ঞাপনকারী হয়েছে। আর তারা কামনা করেছিল এমন বস্তুর যা তারা প্রাপ্ত হয়নি। আর এসব তারই পরিণতি ছিল যে, ও তাঁর রসূল তাদেরকে সম্পদশালী করে দিয়েছিলেন নিজের অনুগ্রহের মাধ্যমে। বস্তুতঃ এরা যদি তওবা করে নেয়, তবে তাদের জন্য মঙ্গল। আর যদি তা না মানে, তবে তাদের কে আযাব দেবেন তা’আলা, বেদনাদায়ক আযাব দুনিয়া ও আখেরাতে। অতএব, বিশ্বচরাচরে তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী - সমর্থক নেই।
তারা আল্লাহর নামে হলফ করে বলে, তারা কিছু বলেনি। অথচ তারা কুফুরি কালাম উচ্চারণ করেছে এবং ইসলামে প্রবেশ করার পর কুফুরি করেছে। তারা এমন জিনিসের সংকল্প করেছিল যা তারা পায়নি। তাঁর অনুগ্রহে এবং তাঁর রসূল তাদেরকে অভাবমুক্ত করেছেন বলেই তারা বিরোধিতা করছে। এখন যদি তারা তওবা করে, এটাই হবে তাদের জন্যে উত্তম। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের আযাব দেবেন এক বেদনাদায়ক আযাব দুনিয়া ও আখিরাতে। আর পৃথিবীতে তাদের কোনো বন্ধু ও সাহায্যকারী থাকবে না।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ রয়েছে যারা তা’আলার সাথে ওয়াদা করেছিল যে, তিনি যদি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ দান করেন, তবে অবশ্যই আমরা ব্যয় করব এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকব।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর কাছে এই অঙ্গীকার করেছিল: ‘ যদি তাঁর অনুগ্রহ থেকে আমাদের দান করেন, তবে অবশ্যি আমরা সাদাকা দেবো এবং সৎকর্মশীলদের অন্তরভুক্ত হয়ে যাবো।’
অতঃপর যখন তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহের মাধ্যমে দান করা হয়, তখন তাতে কার্পণ্য করেছে এবং কৃত ওয়াদা থেকে ফিরে গেছে তা ভেঙ্গে দিয়ে।
অত:পর যখন তাঁর অনুগ্রহ থেকে তাদের দান করলেন, তারা কৃপণতা প্রদর্শন করলো, বিরোধিতা করলো এবং মুখ ফিরিয়ে নিলো।
তারপর এরই পরিণতিতে তাদের অন্তরে কপটতা স্থান করে নিয়েছে সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তার তাঁর সাথে গিয়ে মিলবে। তা এজন্য যে, তারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা লংঘন করেছিল এবং এজন্যে যে, তারা মিথ্যা কথা বলতো।
ফলে তিনি তাদের অন্তরে মুনাফিকি স্থায়ী করে দিলেন তাঁর সাথে তাদের সাক্ষাত হবার দিন পর্যন্ত। কারণ তারা আল্লাহকে দেয়া তাদের ওয়াদা খেলাফ করেছে এবং মিথ্যাচার করেছে।
তারা কি জেনে নেয়নি যে, তাদের রহস্য ও শলা - পরামর্শ সম্পর্কে অবগত এবং খুব ভাল করেই জানেন সমস্ত গোপন বিষয় ?
তারা কি জানেনা, তাদের মনের গোপন কথা এবং গোপন পরামর্শ অবগত আছেন এবং অবশ্যি জান্তা?
সে সমস্ত লোক যারা ভৎর্সনা - বিদ্রূপ করে সেসব মুসলমানদের প্রতি যারা মন খুলে দান - খয়রাত করে এবং তাদের প্রতি যাদের কিছুই নেই শুধুমাত্র নিজের পরিশ্রমলব্দ বস্তু ছাড়া। অতঃপর তাদের প্রতি ঠাট্টা করে। তাদের প্রতি ঠাট্টা করেছেন এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
মুমিনদের মধ্যে যারা সন্তুষ্টচিত্তে সাদাকা (দান ও যাকাত) দেয়, আর যারা শ্রম খাটানো ছাড়া কিছুই পায়না, তাদেরকে যারা দোষারোপ ও বিদ্রুপ করে, তাদেরকেও বিদ্রুপ করেন আর তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর। যদি তুমি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমাপ্রার্থনা কর, তথাপি কখনোই তাদেরকে ক্ষমা করবেন না। তা এজন্য যে, তারা আল্লাহকে এবং তাঁর রসূলকে অস্বীকার করেছে। বস্তুতঃ না - ফারমানদেরকে পথ দেখান না।
তুমি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করো, কিংবা তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা না - ই করো, একই কথা। তুমি তাদের জন্যে সত্তরবার ক্ষমা প্রার্থনা করলেও তাদের কখনো ক্ষমা করবেন না। কারণ তারা আল্লাহর এবং তাঁর রসূলের প্রতি কুফুরি করেছে। ফাসিক - পাপাচারী লোকদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।
পেছনে থেকে যাওয়া লোকেরা আল্লাহর রসূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসে থাকতে পেরে আনন্দ লাভ করেছে; আর জান ও মালের দ্বারা আল্লাহর রাহে জেহাদ করতে অপছন্দ করেছে এবং বলেছে, এই গরমের মধ্যে অভিযানে বের হয়ো না। বলে দাও, উত্তাপে জাহান্নামের আগুন প্রচন্ডতম। যদি তাদের বিবেচনা শক্তি থাকত।
যারা পেছনে রয়ে গেছে তারা আল্লাহর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে ঘরে বসে থাকার মধ্যেই আনন্দবোধ করে এবং নিজেদের মাল ও জান দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করাকে অপছন্দ করে। তারা (তবুক যাত্রার প্রাক্কালে) বলেছিল : ‘গরমের মধ্যে অভিযানে বের হয়োনা।’ তাদের বলো, ‘জাহান্নামের আগুন এর চাইতেও অনেক বেশি গরম’, যদি তারা বুঝতো!
অতএব, তারা সামান্য হেসে নিক এবং তারা তাদের কৃতকর্মের বদলাতে অনেক বেশী কাঁদবে।
সুতরাং তারা কিছুটা হেসে নিক, তারা তো প্রচুর কাঁদবে তাদের কৃতকর্মের কারণে।
বস্তুতঃ যদি তোমাকে তাদের মধ্য থেকে কোন শ্রেণীবিশেষের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যান এবং অতঃপর তারা তোমার কাছে অভিযানে বেরোবার অনুমতি কামনা করে, তবে তুমি বলো যে, তোমরা কখনো আমার সাথে বেরোবে না এবং আমার পক্ষ হয়ে কোন শত্রুর সাথে যুদ্ধ করবে না, তোমরা তো প্রথমবারে বসে থাকা পছন্দ করেছ, কাজেই পেছনে পড়ে থাকা লোকদের সাথেই বসে থাক।
যদি তোমাকে তাদের কোনো দলের কাছে ফেরত আনেন এবং তারা যদি তোমার কাছে বের হবার জন্যে অনুমতি প্রার্থনা করে, তুমি তাদের বলবে : ‘তোমরা আমার সাথে কখনো বের হবেনা এবং আমার সাথি হয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে কখনো যুদ্ধ করবে না। তোমরা তো প্রথমবার বসে থাকাকেই পছন্দ করেছিলে, সুতরাং বসে থাকো পেছনে পড়ে থাকাদের সাথে।’
আর তাদের মধ্য থেকে কারো মৃত্যু হলে তার উপর কখনও পড়বেন না এবং তার কবরে দাঁড়াবেন না। তারা তো আল্লাহর প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে এবং রসূলের প্রতিও। বস্তুতঃ তারা না ফরমান অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে।
তাদের কেউ মরলে তুমি তার জন্যে (জানাযার) আদায় করবে না এবং তার কবরেও দাঁড়াবে না। তারা তো কুফুরি করেছে আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলের প্রতি, আর তাদের মরণ হয়েছে ফাসিক - পাপিষ্ঠ অবস্থায়।
আর বিস্মিত হয়ো না তাদের ধন সম্পদ ও সন্তান - সন্তুতির দরুন। তো এই চান যে, এ সবের কারণে তাদেরকে আযাবের ভেতরে রাখবেন দুনিয়ায় এবং তাদের প্রাণ নির্গত হওয়া পর্যন্ত যেন তারা কাফেরই থাকে।
তাদের ধন - মাল আর আওলাদ সংখ্যা যেনো তোমাকে মুগ্ধ না করে। তো এর মাধ্যমে তাদেরকে দুনিয়ায় শাস্তি দিতে চান। তারা থাকা অবস্থায়ই তাদের আত্মা দেহ ত্যাগ করবে।
আর যখন নাযিল হয় কোন সূরা যে, তোমরা ঈমান আন আল্লাহর উপর, তাঁর রসূলের সাথে একাত্ন হয়ে; তখন বিদায় কামনা করে তাদের সামর্থ্যবান লোকেরা এবং বলে আমাদের অব্যাহতি দিন, যাতে আমরা (নিস্ক্রিয়ভাবে) বসে থাকা লোকদের সাথে থেকে যেতে পারি।
যখন আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার এবং তাঁর রসূলের সাথি হয়ে জিহাদ করার নির্দেশ নিয়ে কোনো সূরা নাযিল হয়, তখন তাদের (মুনাফিকদের) মধ্যে যাদের শক্তি - সামর্থ আছে, তারা তোমার কাছে এসে (যুদ্ধে যাওয়া থেকে) অব্যাহতি চায়। তারা বলে, ‘আমাদের অব্যাহতি দিন, যারা (যুদ্ধে না গিয়ে) বসে থাকে আমরা তাদের সাথেই থাকবো।’
তারা পেছনে পড়ে থাকা লোকদের সাথে থেকে যেতে পেরে আনন্দিত হয়েছে এবং মোহর এঁটে দেয়া হয়েছে তাদের অন্তরসমূহের উপর। বস্তুতঃ তারা বোঝে না।
তারা ঘরবাসিনীদের সাথে অবস্থান করাকেই পছন্দ করেছে এবং তাদের অন্তরে সীল মোহর মেরে দেয়া হয়েছে, ফলে তারা (সত্যকে) বুঝতে পারেনা।
কিন্তু রসূল এবং সেসব লোক যারা ঈমান এনেছে, তাঁর সাথে তারা যুদ্ধ করেছে নিজেদের জান ও মালের দ্বারা। তাদেরই জন্য নির্ধারিত রয়েছে কল্যাণসমূহ এবং তারাই মুক্তির লক্ষ্যে উপনীত হয়েছে।
আর রসূল এবং তার সাথে যারা ঈমান এনেছে, তারা নিজেদের মাল ও জান দিয়ে যুদ্ধ করেছে, তাদের জন্যেই রয়েছে সমস্ত কল্যাণ এবং তারাই হবে ।
তাদের জন্য তৈরী করে রেখেছেন কানন - কুঞ্জ, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে প্রস্রবণ। তারা তাতে বাস করবে অনন্তকাল। এটাই হল বিরাট কৃতকার্যতা।
তাদের জন্যে প্রস্ত্তত রেখেছেন জান্নাত, যার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর, চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। এটাই মহাসাফল্য।
আর ছলনাকারী বেদুঈন লোকেরা এলো, যাতে তাদের অব্যাহতি লাভ হতে পারে এবং নিবৃত্ত থাকতে পারে তাদেরই যারা ও রসূলের সাথে মিথ্যা বলে ছিল। এবার তাদের উপর শীগ্রই আসবে বেদনাদায়ক আযাব যারা ।
বেদুঈনদের মধ্যে কিছু লোক এসেছিল যেনো তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়, আর যারা পেছনে বসেছিল তারা ও তাঁর রসূলের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। তাদের মধ্যে যারা কুফুরি করেছে, অচিরেই তাদের স্পর্শ করবে বেদনাদায়ক আযাব।
দূর্বল, রুগ্ন, ব্যয়ভার বহনে অসমর্থ লোকদের জন্য কোন অপরাধ নেই, যখন তারা মনের দিক থেকে পবিত্র হবে ও রসূলের সাথে। নেককারদের উপর অভিযোগের কোন পথ নেই। আর হচ্ছেন ক্ষমাকারী দয়ালু।
যারা দুর্বল, যারা রোগাক্রান্ত এবং যারা অর্থ খরচে অসমর্থ (যুদ্ধে না গেলে) তাদের কোনো দোষ হবেনা যদি তারা হয়ে থাকে ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বস্ত ও আন্তরিক। যারা কল্যাণকামী তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো কারণ নেই। তো অতীব ক্ষমাশীল, দয়াময়।
আর না আছে তাদের উপর যারা এসেছে তোমার নিকট যেন তুমি তাদের বাহন দান কর এবং তুমি বলেছ, আমার কাছে এমন কোন বস্তু নেই যে, তার উপর তোমাদের সওয়ার করাব তখন তারা ফিরে গেছে অথচ তখন তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বইতেছিল এ দুঃখে যে, তারা এমন কোন বস্তু পাচ্ছে না যা ব্যয় করবে।
তাদেরও কোনো দোষ হবেনা, যারা যুদ্ধে যাবার জন্যে এসেছিল আর তুমি তাদের বলেছিলে, ‘তোমাদের জন্যে আমি কোনো বাহন পাচ্ছি না।’ তারা অর্থ ব্যয়ে অসামর্থের দু:খে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গিয়েছিল।
অভিযোগের পথ তো তাদের ব্যাপারে রয়েছে, যারা তোমার নিকট অব্যাহতি কামনা করে অথচ তারা সম্পদশালী। যারা পেছনে পড়ে থাকা লোকদের সাথে থাকতে পেরে আনন্দিত হয়েছে। আর মোহর এঁটে দিয়েছেন তাদের অন্তরসমূহে। বস্তুতঃ তারা জানতেও পারেনি।
যারা অভাবমুক্ত হওয়া সত্ত্বেও অব্যাহতি চেয়েছে, অবশ্যি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণ আছে। তারা ঘরবাসিনীদের সাথে ঘরে বসে থাকাকেই পছন্দ করেছে। তাদের অন্তরে সীল মোহর মেরে দিয়েছেন, ফলে তারা কিছুই বুঝতে পারেনা।
তুমি যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তারা তোমাদের নিকট ছল - ছুতা নিয়ে উপস্থিত হবে; তুমি বলো, ছল কারো না, আমি কখনো তোমাদের কথা শুনব না; আমাকে তা’আলা তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে দিয়েছেন। আর এখন তোমাদের কর্ম আল্লাহই দেখবেন এবং তাঁর রসূল। তারপর তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে সেই গোপন ও আগোপন বিষয়ে অবগত সত্তার নিকট। তিনিই তোমাদের বাতলে দেবেন যা তোমরা করছিলে।
তোমরা যখন ফিরে আসবে, তখন এসে তারা তোমাদের কাছে ওজর (অজুহাত) পেশ করবে। তুমি বলবে, ‘অজুহাত পেশ করোনা, আমরা তোমাদের কখনো বিশ্বাস করবোনা, তোমাদের খবর আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। তোমাদের কার্যকলাপ দেখবেন এবং তাঁর রসূল। তারপর তোমাদের পাঠানো হবে তাঁর কাছে যিনি ও দৃশ্য সবকিছু জানেন। তোমাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে তিনিই তোমাদের অবহিত করবেন।
এখন তারা তোমার সামনে আল্লাহর কসম খাবে, যখন তুমি তাদের কাছে ফিরে যাবে, যেন তুমি তাদের ক্ষমা করে দাও। সুতরাং তুমি তাদের ক্ষমা কর - নিঃসন্দেহে এরা অপবিত্র এবং তাদের কৃতকর্মের বদলা হিসাবে তাদের ঠিকানা হলো দোযখ।
তোমরা (যুদ্ধ থেকে মদিনায়) তাদের কাছে ফিরে এলে তারা আল্লাহর নামে হলফ করবে, যেনো তোমরা তাদের (যুদ্ধে না যাওয়ার) বিষয়টা উপেক্ষা করো। সুতরাং তোমরা তাদের উপেক্ষা করবে। কারণ, তারা অপবিত্র এবং তাদের (মন্দ) অর্জনের কারণে জাহান্নামই হবে তাদের আবাস।
তারা তোমার সামনে কসম খাবে যাতে তুমি তাদের প্রতি রাযী হয়ে যাও। অতএব, তুমি যদি রাযী হয়ে যাও তাদের প্রতি তবু তা’আলা রাযী হবেন না, এ নাফরমান লোকদের প্রতি।
তারা তোমাদের কাছে হলফ করে, যাতে করে তোমরা তাদের প্রতি রাজি থাকো। তোমরা তাদের প্রতি রাজি হলেও ফাসিক সম্প্রদায়ের প্রতি রাজি হবেন না।
বেদুইনরা কুফর ও মোনাফেকীতে অত্যন্ত কঠোর হয়ে থাকে এবং এরা সেসব নীতি - কানুন না শেখারই যোগ্য যা তা’আলা তাঁর রসূলের উপর নাযিল করেছেন। বস্তুতঃ সব কিছুই জানেন এবং তিনি অত্যন্ত কুশলী।
বেদুঈনরা কুফুরি এবং মুনাফিকিতে কঠোর। তাঁর রসূলের প্রতি যা নাযিল করেছেন, তার সীমারেখা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার যোগ্যতা তাদের অনেক বেশি। সর্বজ্ঞানী, বিজ্ঞানময়।
আবার কোন কোন বেদুইন এমন ও রয়েছে যারা নিজেদের ব্যয় করাকে জরিমানা। বলে গন্য করে এবং তোমার উপর কোন দুর্দিন আসে কিনা সে অপেক্ষায় থাকে। তাদেরই উপর দুর্দিন আসুক। আর হচ্ছেন শ্রবণকারী, পরিজ্ঞাত।
মরুবাসী বেদুঈনদের কেউ কেউ আল্লাহর পথে ব্যয় করাকে অর্থদন্ড বলে মনে করে এবং তারা তোমাদের ভাগ্য বিপর্যয়ের অপেক্ষা করে। দুর্ভাগ্য তাদেরই! সব শুনেন, সব জানেন।
আর কোন কোন বেদুইন হল তারা, যারা ঈমান আনে আল্লাহর উপর, কেয়ামত দিনের উপর এবং নিজেদের ব্যয়কে আল্লাহর নৈকট্য এবং রসূলের দোয়া লাভের উপায় বলে গণ্য করে। জেনো! তাই হল তাদের ক্ষেত্রে নৈকট্য। তাদেরকে নিজের রহমতের অন্তর্ভূক্ত করবেন। নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, করুনাময়।
মরুবাসী বেদুঈনদের কিছু লোক ঈমান রাখে আল্লাহর প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি এবং তারা যা ব্যয় করে, সেটাকে আল্লাহর নৈকট্য ও রসূলের দয়া লাভের উপায় মনে করে। আসলেই তা তাদের জন্যে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়। অচিরেই তাদের দাখিল করবেন তাঁর রহমতের মধ্যে। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।
আর যারা সর্বপ্রথম হিজরতকারী ও আনছারদের মাঝে পুরাতন, এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে, সে সমস্ত লোকদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন কানন - কুঞ্জ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত প্রস্রবণসমূহ। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এটাই হল মহান কৃতকার্যতা।
মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা (ঈমানের দাওয়াত গ্রহণে) প্রথম ও অগ্রগামী আর যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করছে, তাদের সবার প্রতি রাজি হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি রাজি। তিনি তাদের জন্যে প্রস্ত্তত রেখেছেন জান্নাত, যার নিচে দিয়ে বহমান রয়েছে নদ - নদী - নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
আর কিছু কিছু তোমার আশ - পাশের মুনাফেক এবং কিছু লোক মদীনাবাসী কঠোর মুনাফেকীতে অনঢ়। তুমি তাদের জান না; আমি তাদের জানি। আমি তাদেরকে আযাব দান করব দু’বার, তারপর তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হবে মহান আযাবের দিকে।
বেদুঈনদের যারা তোমাদের আশপাশে থাকে, তাদের মধ্যে মুনাফিক রয়েছে এবং মদিনাবাসীদের মধ্যেও রয়েছে। তারা মুনাফিকিতে পাকা। তুমি তাদের জানো না। আমরা তাদের জানি। আমরা তাদের দুইবার শাস্তি দেবো। তারপর তাদের ফেরত পাঠানো হবে বড় আযাবের (জাহান্নামের) দিকে।
আর কোন কোন লোক রয়েছে যারা নিজেদের পাপ স্বীকার করেছে, তারা মিশ্রিত করেছে একটি নেককাজ ও অন্য একটি বদকাজ। শীঘ্রই হয়ত তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। নিঃঃসন্দেহে ক্ষমাশীল করুণাময়।
এছাড়াও কিছু লোক আছে যারা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। তাদের আমল শংকর (মিশ্র), কিছু ভালো, কিছু মন্দ। হয়তো তাদের ক্ষমা করবেন। কারণ, পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।
তাদের মালামাল থেকে যাকাত গ্রহণ কর যাতে তুমি সেগুলোকে পবিত্র করতে এবং সেগুলোকে বরকতময় করতে পার এর মাধ্যমে। আর তুমি তাদের জন্য দোয়া কর, নিঃসন্দেহে তোমার দোয়া তাদের জন্য সান্ত্বনা স্বরূপ। বস্তুতঃ সবকিছুই শোনেন, জানেন।
তাদের মাল - সম্পদ থেকে সাদাকা (যাকাত) গ্রহণ করো। এর ফলে তুমি তাদের পবিত্র পরিশুদ্ধ ও উন্নত করবে। তুমি তাদের দোয়া করো। তোমার দোয়া তাদের জন্যে হবে প্রশান্তির কারণ। সব শুনেন, সব জানেন।
তারা কি একথা জানতে পারেনি যে, নিজেই স্বীয় বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং যাকাত গ্রহণ করেন? বস্তুতঃ আল্লাহই তওবা কবুলকারী, করুণাময়।
তারা কি জানেনা, তাঁর বান্দাদের থেকে তওবা কবুল করেন এবং সাদাকা (দান) গ্রহণ করেন? নিশ্চয়ই তওবা কবুলকারী পরম দয়াময়।
আর তুমি বলে দাও, তোমরা আমল করে যাও, তার পরবর্তীতে দেখবেন তোমাদের কাজ এবং দেখবেন রসূল ও মুসলমানগণ। তাছাড়া তোমরা শীগ্রই প্রত্যাবর্তিত হবে তাঁর সান্নিধ্যে যিনি গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়ে অবগত। তারপর তিনি জানিয়ে দেবেন তোমাদেরকে যা করতে।
বলো, তোমরা আমল করতে থাকো, তোমাদের আমল দেখছেন আর তাঁর রসূল ও মুমিনরা। অচিরেই তোমাদের ফেরত দেয়া হবে ও দৃশ্যের জ্ঞানী মহান আল্লাহর দিকে, তারপর তিনিই তোমাদের সংবাদ দেবেন তোমাদের কর্মকান্ড (কেমন ছিলো সে) সম্পর্কে।
আবার অনেক লোক রয়েছে যাদের কাজকর্ম আল্লাহর নির্দেশের উপর স্থগিত রয়েছে; তিনি হয় তাদের আযাব দেবেন না হয় তাদের ক্ষমা করে দেবেন। বস্তুতঃ সব কিছুই জ্ঞাত, বিজ্ঞতাসম্পন্ন।
আর আল্লাহর নির্দেশ আসার অপেক্ষায় অপর কিছু লোকের বিষয়ে ফয়সালা স্থগিত রইলো। তিনি হয় তাদের শাস্তি দেবেন, নয়তো তাদের তওবা কবুল করবেন। অতীব জ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
আর যারা নির্মাণ করেছে মসজিদ জিদের বশে এবং কুফরীর তাড়নায় মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃস্টির উদ্দেশ্যে এবং ঐ লোকের জন্য ঘাটি স্বরূপ যে পূর্ব থেকে ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করে আসছে, আর তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, আমরা কেবল কল্যাণই চেয়েছি। পক্ষান্তরে সাক্ষী যে, তারা সবাই মিথ্যুক।
যারা একটি মসজিদ তৈরি করেছে ক্ষতিসাধন, কুফুরি ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতোপূর্বে যে ব্যক্তি ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে তার গোপন ঘাটি হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে, তারা অবশ্যি হলফ করে বলবে, ‘আমরা সৎ উদ্দেশ্যেই এটা করেছি।’ সাক্ষী, তারা মিথ্যাবাদী।
তুমি কখনো সেখানে দাড়াবে না, তবে যে মসজিদের ভিত্তি রাখা হয়েছে তাকওয়ার উপর প্রথম দিন থেকে, সেটিই তোমার দাঁড়াবার যোগ্য স্থান। সেখানে রয়েছে এমন লোক, যারা পবিত্রতাকে ভালবাসে। আর পবিত্র লোকদের ভালবাসেন।
তুমি কখনো ঐ মসজিদে দাঁড়াবে না। প্রথম দিন থেকেই যে মসজিদের ভিত স্থাপন করা হয়েছে তাকওয়ার উপর, সেটাই তোমার সালাতের জন্যে অধিক উপযুক্ত। তাতে এমন লোকেরা আছে যারা পবিত্রতা অর্জন পছন্দ করে আর পবিত্রতা অজর্নকারীদের পছন্দ করেন।
যে ব্যাক্তি স্বীয় গৃহের ভিত্তি রেখেছে কোন গর্তের কিনারায় যা ধ্বসে পড়ার নিকটবর্তী এবং অতঃপর তা ওকে নিয়ে দোযখের আগুনে পতিত হয়। আর জালেমদের পথ দেখান না।
যে ব্যক্তি তার ঘরের ভিত স্থাপন করে ভীতি ও আল্লাহর রেজামন্দির উপর সে উত্তম, নাকি ঐ ব্যক্তি, যে তার ঘরের ভিত স্থাপন করে কোনো গর্তের ধ্বংসোন্মুখ কিনারে, ফলে তা সেটাকে নিয়েই পড়ে যায় জাহান্নামের আগুনে। যালিম লোকদের সঠিক পথ দেখান না।
তাদের নির্মিত গৃহটি তাদের অন্তরে সদা সন্দেহের উদ্রেক করে যাবে যে পর্যন্ত না তাদের অন্তরগুলো চৌচির হয়ে যায়। আর সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।
তাদের নির্মিত ঘর তাদের অন্তরে সন্দেহের কারণ হয়ে থাকবে, যতোক্ষণ না তাদের অন্তর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। অতীব জ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহেঃ অতঃপর মারে ও মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেন - দেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে। আর এ হল মহান সাফল্য।
নিশ্চয়ই মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল কিনে নিয়েছেন, বিনিময়ে তারা লাভ করবে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করবে, মরবে এবং মারবে। তাওরাত, ইনজিল এবং কুরআনে এ সম্পর্কে হক ওয়াদা রয়েছে। প্রতিজ্ঞা পালনে আল্লাহর চাইতে শ্রেষ্ঠ আর কে আছে? তোমরা যে সওদা করেছো তার জন্যে সুসংবাদ গ্রহণ করো। এটাই মহাসাফল্য।
তারা তওবাকারী, এবাদতকারী, শোকরগোযার, (দুনিয়ার সাথে) সম্পর্কচ্ছেদকারী, রুকু ও সিজদা আদায়কারী, সৎকাজের আদেশ দানকারী ও মন্দ কাজ থেকে নিবৃতকারী এবং আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহের হেফাযতকারী। বস্তুতঃ সুসংবাদ দাও ঈমানদারদেরকে।
তারা হয়ে থাকে তওবাকারী, ইবাদতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকুকারী, সাজদাকারী, ভালো কাজের আদেশ দানকারী, মন্দ কাজে বাধাদানকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত হুদুদ (সীমারেখা) হিফাযতকারী। এসব (গুণের অধিকারী) মুমিনদের সুসংবাদ দাও।
নবী ও মুমিনের উচিত নয় মুশরেকদের মাগফেরাত কামনা করে, যদিও তারা আত্নীয় হোক একথা সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে তারা দোযখী।
নিকটাত্মীয় হলেও মুশরিকদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মুমিনদের জন্যে সঙ্গত নয়, যখন এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা নিশ্চিতই জাহান্নামি।
আর ইব্রাহীম কর্তৃক স্বীয় পিতার মাগফেরাত কামনা ছিল কেবল সেই প্রতিশ্রুতির কারণে, যা তিনি তার সাথে করেছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর কাছে একথা প্রকাশ পেল যে, সে আল্লাহর শত্রু তখন তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিলেন। নিঃসন্দেহে ইব্রাহীম ছিলেন বড় কোমল হৃদয়, সহনশীল।
ইবরাহিম যে তার পিতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল তার কারণ, সে তাকে এর জন্যে বিশেষভাবে ওয়াদা দিয়েছিল। কিন্তু যখন তার কাছে একথা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে, সে আল্লাহর দুশমন, তখন সে তার (পিতার) সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলে। ইবরাহিম তো অতিশয় কোমল হৃদয় এবং সহনশীল।
আর কোন জাতিকে হেদায়েত করার পর পথভ্রষ্ট করেন না যতক্ষণ না তাদের জন্য পরিষ্কারভাবে বলে দেন সেসব বিষয় যা থেকে তাদের বেঁচে থাকা দরকার। নিঃসন্দেহে সব বিষয়ে ওয়াকেফহাল।
আল্লাহর নিয়ম এটা নয় যে, তিনি কোনো জনগোষ্ঠীকে সঠিক পথ দেখানোর পর আবার বিপথগামী করে দেবেন, যতোক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, কী কী বিষয়ে তাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নিশ্চয়ই সব বিষয়ে জ্ঞানী।
নিশ্চয় আল্লাহরই জন্য আসমানসমূহ ও যমীনের সাম্রাজ্য। তিনিই জিন্দা করেন ও মৃত্যু ঘটান, আর ব্যতীত তোমাদের জন্য কোন সহায়ও নেই, কোন সাহায্যকারীও নেই।
মহাকাশ ও পৃথিবীর সার্বভৌম কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর। তিনিই জীবন দান করেন, তিনিই মৃত্যু ঘটান। তিনি ছাড়া তোমাদের জন্যে আর কোনো অলিও নেই, সাহায্যকারীও নেই।
দয়াশীল নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি, যারা কঠিন মহূর্তে নবীর সঙ্গে ছিল, যখন তাদের এক দলের অন্তর ফিরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অতঃপর তিনি দয়াপরবশ হন তাদের প্রতি। নিঃসন্দেহে তিনি তাদের প্রতি দয়াশীল ও করুনাময়।
অনুগ্রহের দৃষ্টি দিয়েছেন নবীর প্রতি, মুহাজিরদের প্রতি এবং আনসারদের প্রতি, যারা তার (নবীর) অনুসরণ করেছে কঠিন সংকটকালে, যদিও তাদের কিছু লোকের অন্তর বাঁকা হবার উপক্রম হয়েছিল। অত:পর তাদের তওবা কবুল করেন। অবশ্যি তাদের প্রতি অতীব কোমল, পরম দয়াময়।
এবং অপর তিনজনকে যাদেরকে পেছনে রাখা হয়েছিল, যখন পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্বেও তাদের জন্য সঙ্কুচিত হয়ে গেল এবং তাদের জীবন দূর্বিসহ হয়ে উঠলো; আর তারা বুঝতে পারলো যে, ব্যতীত আর কোন আশ্রয়স্থল নেই - অতঃপর তিনি সদয় হলেন তাদের প্রতি যাতে তারা ফিরে আসে। নিঃসন্দেহে দয়াময় করুণাশীল।
তিনি ঐ তিনজনকেও ক্ষমা করে দিয়েছেন, যাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাদের জন্যে প্রশস্ত পৃথিবীও সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং তাদের জীবনও তাদের জন্যে দুর্বিষহ হয়ে পড়েছিল, আর তারা উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে, ছাড়া তাদের কোনো আশ্রয়স্থল নেই। তখন তিনি তাদের তওবা কবুল করলেন, যাতে করে তারা ফিরে আসে তাঁর দিকে। নিশ্চয়ই অতিশয় তওবা কবুলকারী, পরম দয়াবান।
হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।
হে লোকেরা! আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদী - সত্যপন্থীদের সঙ্গী হয়ে যাও।
মদীনাবাসী ও পাশ্ববর্তী পল্লীবাসীদের উচিত নয় রসূলুল্লাহর সঙ্গ ত্যাগ করে পেছনে থেকে যাওয়া এবং রসূলের প্রাণ থেকে নিজেদের প্রাণকে অধিক প্রিয় মনে করা। এটি এজন্য যে, আল্লাহর পথে যে তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধা তাদের স্পর্শ করে এবং তাদের এমন পদক্ষেপ যা কাফেরদের মনে ক্রোধের কারণ হয় আর শত্রুদের পক্ষ থেকে তারা যা কিছু প্রাপ্ত হয় - তার প্রত্যেকটির পরিবর্তে তাদের জন্য লিখিত হয়ে নেক আমল। নিঃসন্দেহে সৎকর্মশীল লোকদের হক নষ্ট করেন না।
মদিনাবাসী এবং আশেপাশের মরু বেদুঈনদের উচিত হয়নি, আল্লাহর রসূলের সহগামী না হয়ে পেছনে পড়ে থাকা এবং তার জীবন অপেক্ষা নিজেদের জীবনের প্রতি অধিক অনুরাগী হওয়া। কারণ, আল্লাহর পথে তাদের পিপাসা, ক্লান্তি, ক্ষুধা, কাফিরদের ক্রোধ জাগিয়ে তোলে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং শত্রুদের পক্ষ থেকে কোনো আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া, এসবই তাদের আমলে সালেহ্ (নেক আমল)। নিশ্চয়ই কল্যাণপরায়নদের কর্মফল বিনষ্ট করেন না।
আর তারা অল্প - বিস্তর যা কিছু ব্যয় করে, যত প্রান্তর তারা অতিক্রম করে, তা সবই তাদের নামে লেখা হয়, যেন তাদের কৃতকর্মসমূহের উত্তম বিনিময় প্রদান করেন।
আর তারা কম ও বেশি যা - ই ব্যয় করে এবং যে কোনো প্রান্তরই অতিক্রম করে, তা তাদের জন্যে পুণ্য হিসাবে লেখা হয়, যাতে করে তারা যা করে তাদেরকে তার চাইতে উত্তম পুরস্কার দিতে পারেন।
আর সমস্ত মুমিনের অভিযানে বের হওয়া সঙ্গত নয়। তাই তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হলো না, যাতে দ্বীনের জ্ঞান লাভ করে এবং সংবাদ দান করে স্বজাতিকে, যখন তারা তাদের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে, যেন তারা বাঁচতে পারে।
সব মুমিনদের একই সাথে অভিযানে বের হওয়া উচিত নয়। তাদের প্রত্যেক দল বা গোত্র থেকে একটি অংশ বের হয়না কেন, যেনো তারা দীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে এবং তাদের জাতিকে সতর্ক করে যখন তারা তাদের কাছে ফিরে যাবে, যাতে করে তারা সতর্ক হয়।
হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক আর জেনে রাখ, মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।
হে লোকেরা! কাফিরদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো এবং তারা যেনো তোমাদের মধ্যে দৃঢ়তা দেখতে পায়। জেনে রাখো, মুত্তাকিদের সাথেই আছেন।
আর যখন কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের কেউ কেউ বলে, এ সূরা তোমাদের মধ্যেকার ঈমান কতটা বৃদ্ধি করলো? অতএব যারা , এ সূরা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়েছে।
যখন কোনো সূরা নাযিল হয়, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে : ‘এটি তোমাদের কার ঈমান বাড়িয়ে দিয়েছে?’ যারা এটি কেবল তাদেরই ঈমান বাড়িয়ে দেয় এবং তারাই আনন্দিত হয়।
বস্তুতঃ যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এটি তাদের কলুষের সাথে আরো কলুষ বৃদ্ধি করেছে এবং তারা অবস্থায়ই মৃত্যু বরণ করলো।
আর যাদের অন্তরে রোগ আছে তাদের কলুষতার সাথে আরো কলুষতা যোগ করে এবং তাদের মরণ হয় অবস্থায়।
তারা কি লক্ষ্য করে না, প্রতি বছর তারা দু’একবার বিপর্যস্ত হচ্ছে, অথচ, তারা এরপরও তওবা করে না কিংবা উপদেশ গ্রহণ করে না।
তারা কি দেখেনা, তারা হরেক বছর একবার বা দুইবার ফিতনাগ্রস্ত হয়? তারপরও তারা তওবা করেনা এবং উপদেশ গ্রহণ করেনা।
আর যখনই কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তারা একে অন্যের দিকে তাকায় যে, কোন মুসলমান তোমাদের দেখছে কি - না - অতঃপর সরে পড়ে। ওদের অন্তরকে সত্য বিমুখ করে দিয়েছেন! নিশ্চয়ই তারা নির্বোধ সম্প্রদায়।
যখনই কোনো সূরা নাযিল হয়, তখন তারা একে অপরের দিকে তাকায় এবং ইশারায় জানতে চায় ‘কেউ তোমাদের দেখছে কি?’ অত:পর তারা সরে পড়ে। তাদের অন্তরকে সত্য থেকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন, কারণ তাদের কোনো বুঝ জ্ঞান নেই।
তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল। তোমাদের দুঃখ - কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।
তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই এসেছে একজন রসূল। তোমাদের যা কিছু বিপর্যস্ত করে তা তার জন্যে কষ্টদায়ক। সে তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি অতীব দয়ালু, পরম করুণাময়।
এ সত্ত্বেও যদি তারা বিমুখ হয়ে থাকে, তবে বলে দাও, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত আর কারো বন্দেগী নেই। আমি তাঁরই ভরসা করি এবং তিনিই মহান আরশের অধিপতি।
তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তুমি বলো: ‘আল্লাহ্ই আমার জন্যে যথেষ্ট, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই, তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করলাম, তিনিই মহান আরশের প্রভু।’