শপথ ফজরের,
শপথ ঊষার,
ভাবো ভোরবেলার কথা,
শপথ ফজর (ভোর) - এর।
Chapter 89, 30 verses
শপথ ফজরের,
শপথ ঊষার,
ভাবো ভোরবেলার কথা,
শপথ ফজর (ভোর) - এর।
শপথ দশ রাত্রির, শপথ তার,
শপথ দশ রজনীর,
আর দশ রাত্রির কথা,
শপথ দশ রাতের।
যা জোড় ও যা বিজোড়
শপথ জোড় ও বেজোড়ের
আর জোড়ের ও বেজোড়ের কথা,
শপথ জোড় ও বিজোড়ের।
এবং শপথ রাত্রির যখন তা গত হতে থাকে
এবং শপথ রজনীর যখন উহা গত হইতে থাকে -
আর রাত্রির কথা যখন তা বিগত হয়।
শপথ রাতের যখন তা বিদায় নেয়।
এর মধ্যে আছে শপথ জ্ঞানী ব্যক্তির জন্যে।
নিশ্চয়ই ইহার মধ্যে শপথ রহিয়াছে বোধসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য।
এতে কি নেই কোনো শপথবাক্য বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্য?
এগুলোর মধ্যে অবশ্যি বিবেক - বুদ্ধি ওয়ালা লোকদের জন্যে রয়েছে যথেষ্ট নিদর্শন।
আপনি কি লক্ষ্য করেননি, আপনার পালনকর্তা আদ বংশের ইরাম গোত্রের সাথে কি আচরণ করেছিলেন,
তুমি কি দেখ নাই তোমার প্রতিপালক কি করিয়াছিলেন আদ বংশের -
তুমি কি দেখো নি তোমার প্রভু কি করেছিলেন 'আদ বংশের প্রতি, - -
তুমি কি দেখোনি তোমার প্রভু কি ধরণের আচরণ করেছেন আদ জাতির সাথে।
যাদের দৈহিক গঠন স্তম্ভ ও খুঁটির ন্যায় দীর্ঘ ছিল এবং
ইরাম গোত্রের প্রতি - যাহারা অধিকারী ছিল সুউচ্চ প্রাসাদের?
ইরামের প্রতি যাদের ছিল উঁচু গঠন,
ইরাম গোত্রের সাথে, যারা ছিলো খুঁটির মতো দীর্ঘকায়?
যাদের সমান শক্তি ও বলবীর্যে সারা বিশ্বের শহরসমূহে কোন লোক সৃজিত হয়নি
যাহার সমতুল্য কোন দেশে নির্মিত হয় নাই;
যাদের ক্ষেত্রে ওগুলোর সমতুল্য অন্য শহরে তৈরি হয় নি,
যাদের মতো কোনো জাতি সৃষ্টি করা হয়নি কোনো দেশে।
এবং সামুদ গোত্রের সাথে, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে গৃহ নির্মাণ করেছিল।
এবং সামূদের প্রতি, যাহারা উপত্যকায় পাথর কাটিয়া গৃহ নির্মাণ করিয়াছিল;
আর ছামূদ - জাতির প্রতি, যারা খোলা - প্রান্তরে বিশালাকার পাথর কাটতো;
আর (কি আচরণ করেছিলেন) সামুদ জাতির প্রতি, যারা (গৃহ নির্মাণ) করেছিল পাহাড়ের পাথর কেটে?
এবং বহু কীলকের অধিপতি ফেরাউনের সাথে
এবং বহু সৈন্য - শিবিরের অধিপতি ফির‘আওনের প্রতি?
আর ফিরআউনের প্রতি, যার ছিল দুর্ধর্ষ সেনাদল,
আর (কি আচরণ করেছিলেন) ফেরাউনের সাথে, যে ছিলো আওতাদওয়ালা?
যারা দেশে সীমালঙ্ঘন করেছিল।
যাহারা দেশে সীমালংঘন করিয়াছিল,
যারা বিদ্রোহাচরণ করেছিল শহরে - নগরে,
এরা সীমালংঘন করেছিল নগরসমূহে,
অতঃপর সেখানে বিস্তর অশান্তি সৃষ্টি করেছিল।
এবং সেখানে অশান্তি বৃদ্ধি করিয়াছিল।
আর সেখানে অশান্তি বাড়িয়ে দিয়েছিল?
এবং সেসব স্থানে তারা সৃষ্টি করেছিল চরম অশান্তি ও বিপর্যয়।
অতঃপর আপনার পালনকর্তা তাদেরকে শাস্তির কশাঘাত করলেন।
অতঃপর তোমার প্রতিপালক উহাদের উপর শাস্তির কশাঘাত হানিলেন।
সেইজন্য তোমার প্রভু তাদের উপরে হেনেছিলেন শাস্তির কশাঘাত।
সুতরাং তোমার প্রভু তাদের উপর আঘাত হেনেছেন বিভিন্ন প্রকার কঠিন আযাবের।
নিশ্চয় আপনার পালকর্তা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।
তোমার প্রতিপালক অবশ্যই সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।
নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু তো প্রহরামঞ্চে রয়েছেন।
অবশ্যি তোমার প্রভু ঘাঁটিতে আছেন।
মানুষ এরূপ যে, যখন তার পালনকর্তা তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর সম্মান ও অনুগ্রহ দান করেন, তখন বলে, আমার পালনকর্তা আমাকে সম্মান দান করেছেন।
মানুষ তো এইরূপ যে, তাহার প্রতিপালক যখন তাহাকে পরীক্ষা করেন সম্মান ও অনুগ্রহ দান করিয়া, তখন সে বলে, ‘আমার প্রতিপালক আমাকে সম্মানিত করিয়াছেন।’
সুতরাং মানুষের বেলা - - যখন তার প্রভু তাকে পরীক্ষা করেন, ফলে তাকে সম্মান দেন ও তাকে অনুগ্রহ দান করেন, তখন সে বলে - - ''আমার প্রভু আমাকে সম্মান দিয়েছেন।’’
তবে মানুষের অবস্থা এমন যে, তোমার প্রভু যখন তাকে পরীক্ষা করেন সম্মান আর নিয়ামতরাজি দিয়ে, তখন সে বলে : ‘আমার প্রভু আমাকে সম্মানিত করেছেন।’
এবং যখন তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর রিযিক সংকুচিত করে দেন, তখন বলেঃ আমার পালনকর্তা আমাকে হেয় করেছেন।
এবং যখন তাহাকে পরীক্ষা করেন তাহার রিযিক সংকুচিত করিয়া, তখন সে বলে, ‘আমার প্রতিপালক আমাকে হীন করিয়াছেন।’
আর যখন তিনি তাকে পরীক্ষা করেন, ফলে তার প্রতি তার জীবনোপকরণ মেপে - জোখে দেন, তখন সে বলে - - ''আমার প্রভু আমাকে হীন করেছেন।’’
আবার যখন তাকে পরীক্ষা করেন তার জীবন সামগ্রী সংকুচিত করে দিয়ে, তখন সে বলে : ‘আমার প্রভু আমাকে হীন করেছেন।’
এটা অমূলক, বরং তোমরা এতীমকে সম্মান কর না।
না, কখনও নয়। বরং তোমরা ইয়াতীমকে সম্মান কর না,
না, বস্তুত তোমরা এতীমকে সম্মান কর না,
না ব্যাপার এমনটি নয়; বরং তোমরাই এতিমদের প্রতি দয়া এবং সম্মান প্রদর্শন করোনা,
এবং মিসকীনকে অন্নদানে পরস্পরকে উৎসাহিত কর না।
এবং তোমরা অভাবগ্রস্তদেরকে খাদ্যদানে পরস্পরকে উৎসাহিত কর না,
আর নিঃস্বদের খাবার দিতে পরস্পরকে উৎসাহিত কর না,
এবং মিসকিনদের আহার প্রদানের জন্যে পরস্পরকে উৎসাহ উপদেশ দাওনা।
এবং তোমরা মৃতের ত্যাজ্য সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে কুক্ষিগত করে ফেল
এবং তোমরা উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য সম্পদ সম্পূর্ণরূপে ভক্ষণ করিয়া ফেল,
আর তোমরা গ্রাস করে ফেল উত্তরাধিকার স্বত্ব পুরোপুরি গলাধঃকরণে;
অপরদিকে লোভ লালসায় তোমরা খেয়ে ফেলো ওয়ারিশদের সব অর্থ - সম্পদ।
এবং তোমরা ধন - সম্পদকে প্রাণভরে ভালবাস।
এবং তোমরা ধনসম্পদ অতিশয় ভালবাস;
আর তোমরা ধনসম্পত্তি ভালবাস গভীর ভালবাসায়।
আর প্রচন্ড ভালোবাসো মাল - সম্পদ।
এটা অনুচিত। যখন পৃথিবী চুর্ণ - বিচুর্ণ হবে
ইহা সংগত নয়। পৃথিবীকে যখন চূর্ণ - বিচূর্ণ করা হইবে,
কখনই না! যখন পৃথিবীটা ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে,
না (তোমাদের এ নীতি সংগত নয়), পৃথিবীকে যখন চুর্ণ বিচুর্ণ করা হবে ধাক্কার পর ধাক্কা দিয়ে,
এবং আপনার পালনকর্তা ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবেন,
এবং যখন তোমার প্রতিপালক উপস্থিত হইবেন ও সারিবদ্ধভাবে ফিরিশ্তাগণও,
আর তোমার প্রভু ও ফিরিশ্তাগণ আসবেন কাতারে কাতারে,
এবং তোমার প্রভু যখন উপস্থিত হবেন আর তাঁর সাথে থাকবে সারি সারি ফেরেশতা,
এবং সেদিন জাহান্নামকে আনা হবে, সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু এই স্মরণ তার কি কাজে আসবে?
সেই দিন জাহান্নামকে আনা হইবে এবং সেই দিন মানুষ উপলব্ধি করিবে, তখন এই উপলব্ধি তাহার কী কাজে আসিবে?
আর সেইদিন তিনি জাহান্নামকে নিয়ে আসবেন; সেইদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্ত এ স্মরণে তার কী কাজ হবে?
সেদিন জাহান্নামকে (সামনে) নিয়ে আসা হবে। সেদিন মানুষ (প্রকৃত ব্যাপার) উপলব্ধি করবে। কিন্তু তার সে উপলব্ধি কী কাজে আসবে?
সে বলবেঃ হায়, এ জীবনের জন্যে আমি যদি কিছু অগ্রে প্রেরণ করতাম!
সে বলিবে, ‘হায়! আমার এ জীবনের জন্য আমি যদি কিছু অগ্রিম পাঠাইতাম !’
সে বলবে - - ''হায় আমার আফসোস! আমি যদি আগবাড়াতাম আমার এই জীবনের জন্য!’’
তখন সে বলবে: ‘হায়রে, আমার এ জীবনের জন্যে যদি (ভালো) কাজ করে পাঠাতাম!’
সেদিন তার শাস্তির মত শাস্তি কেউ দিবে না।
সেই দিন তাঁহার শাস্তির মত শাস্তি কেহ দিতে পারিবে না।
কিন্ত সেইদিন কেউই তাঁর শাস্তির মতো শাস্তি দিতে পারবে না,
সেদিন তিনি যে আযাব দেবেন, সে আযাব আর কেউ দিতে পারবেনা,
এবং তার বন্ধনের মত বন্ধন কেউ দিবে না।
এবং তাঁহার বন্ধনের মত বন্ধন কেহ করিতে পারিবে না।
আর না পারবে কেউ বাঁধতে তাঁর বাঁধনের মতো।
এবং তিনি যেভাবে (অপরাধীদের) শক্ত করে বাঁধবেন, সেরকম শক্ত বাঁধা আর কেউ বাঁধতে পারবেনা।
হে প্রশান্ত মন,
হে প্রশান্তচিত্ত !
''ওহে প্রশান্ত প্রাণ!
(সেদিন মুমিনদের বলা হবে:) হে নফসে মুতমায়িন্না!
তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে।
তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট ফিরিয়া আস সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হইয়া,
''তোমার প্রভুর কাছে ফিরে এসো সন্তষ্ট হয়ে, - - সন্তোষভাজন হয়ে,
ফিরে আসো তোমার প্রভুর কাছে সন্তুষ্ট চিত্তে এবং তাঁর সন্তোষভাজন হয়ে,
অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও।
আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও,
''তারপর প্রবেশ করো আমার বান্দাদের দলে;
প্রবেশ করো আমার (সম্মানিত) দাসদের মধ্যে,
এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।
আর আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।
''আর প্রবেশ করো আমার জান্নাতে।’’
আর প্রবেশ করো আমার জান্নাতে।