Kitab

ইউসূফ

Chapter 12, 111 verses

  • মুহিউদ্দীন খান
  • জহুরুল হক
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • আবদুস শহীদ নাসিম
মুহিউদ্দীন খান

আলিফ - লা - ম - রা; এগুলো সুস্পষ্ট গ্রন্থের আয়াত।

জহুরুল হক

আলিফ, লাম, রা। এসব সুস্পষ্ট গ্রন্থের আয়াতসমূহ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আলিফ - লাম - রা; এইগুলি সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আলিফ লাম রা। এগুলো স্পষ্টভাষী আল কিতাবের (আল কুরআনের) আয়াত।

মুহিউদ্দীন খান

আমি একে আরবী ভাষায় কোরআন রূপে অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা এটি অবতারণ করেছি - - আরবী কুরআন, যেন তোমরা বুঝতে পার।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা আমিই অবতীর্ণ করিয়াছি আরবী ভাষায় কুরআন, যাহাতে তোমরা বুঝিতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটিকে আমরা ‘আরবি কুরআন’ বানিয়ে পাঠিয়েছি, যাতে করে তোমরা (সহজেই) বুঝতে পারো।

মুহিউদ্দীন খান

আমি তোমার নিকট উত্তম কাহিনী বর্ণনা করেছি, যেমতে আমি এ কোরআন তোমার নিকট অবতীর্ণ করেছি। তুমি এর আগে অবশ্যই এ ব্যাপারে অনবহিতদের অন্তর্ভূক্ত ছিলে।

জহুরুল হক

আমরা তোমার কাছে এই কুরআন প্রত্যাদেশের দ্বারা তোমার নিকট শ্রেষ্ঠ কাহিনী বর্ণনা করছি। আর অবশ্যই এর আগে তুমি তো ছিলে অনবহিতদের অন্তর্ভূক্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তোমার নিকট উত্তম কাহিনী বর্ণনা করিতেছি, ওহীর মাধ্যমে তোমার নিকট এই কুরআন প্রেরণ করিয়া; যদিও ইহার পূর্বে তুমি ছিলে অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার কাছে অবতীর্ণ এ কুরআনের সেরা কাহিনী সমূহের একটি এখন তোমাকে বলছি। এর আগে তুমি এ বিষয়ে না লোকদেরই একজন ছিলে।

মুহিউদ্দীন খান

যখন ইউসুফ পিতাকে বললঃ পিতা, আমি স্বপ্নে দেখেছি এগারটি নক্ষত্রকে। সুর্যকে এবং চন্দ্রকে। আমি তাদেরকে আমার উদ্দেশে সেজদা করতে দেখেছি।

জহুরুল হক

স্মরণ করো! ইউসুফ তাঁর পিতাকে বললেন - - ''হে আমার আব্বা! আমি নিশ্চয়ই দেখলাম এগারোটি তারা আর সূর্য ও চন্দ্র - - তাদের দেখলাম আমার কারণে তারা সিজদারত।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, ইউসুফ তাহার পিতাকে বলিয়াছিল, ‘হে আমার পিতা! আমি তো দেখিয়াছি একাদশ নক্ষত্র, সূর্য এবং চন্দ্রকে; দেখিয়াছি উহাদেরকে আমার প্রতি সিজ্‌দাবনত অবস্থায়।’

আবদুস শহীদ নাসিম

(ঘটনার শুরু তখন থেকে) যখন ইউসুফ তার পিতাকে বলেছিল: ‘আব্বু! আমি স্বপ্ন দেখেছি: এগারটি গ্রহ এবং সূর্য আর চাঁদ। আমি দেখলাম, তারা সবাই আমাকে সাজদা করছে (আমার প্রতি অবনত হয়ে আছে)।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ বৎস, তোমার ভাইদের সামনে এ স্বপ্ন বর্ণনা করো না। তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য।

জহুরুল হক

তিনি বললেন, ''হে আমার পুত্র! তোমার স্বপ্ন তোমার ভাইদের কাছে বর্ণনা কর না পাছে তারা তোমার বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্তের ফন্দি আঁটে। নিঃসন্দেহ শয়তান মানুষের জন্য প্রকাশ্য শত্রু।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘হে আমার বৎস! তোমার স্বপ্ন - বৃত্তান্ত তোমার ভ্রাতাদের নিকট বর্ণনা করিও না; করিলে তাহারা তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করিবে। শয়তান তো মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।’

আবদুস শহীদ নাসিম

(স্বপ্নের বিবরণ শুনে তার পিতা ইয়াকুব বললো): ‘‘পুত্র আমার! তোমার এ স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের বলোনা। তাহলে তারা তোমার কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করবে। আর শয়তান তো অবশ্যি মানুষের সুস্পষ্ট দুশমন (হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে)।

মুহিউদ্দীন খান

এমনিভাবে তোমার পালনকর্তা তোমাকে মনোনীত করবেন এবং তোমাকে বাণীসমূহের নিগুঢ় তত্ত্ব শিক্ষা দেবেন এবং পূর্ণ করবেন স্বীয় অনুগ্রহ তোমার প্রতি ও ইয়াকুব পরিবার - পরিজনের প্রতি; যেমন ইতিপূর্বে তোমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম ও ইসহাকের প্রতি পূর্ণ করেছেন। নিশ্চয় তোমার পালনকর্তা অত্যন্ত জ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

জহুরুল হক

''আর এইভাবে তোমার প্রভু তোমাকে মনোনীত করবেন, আর তোমাকে শিক্ষা দেবেন ঘটনাবলীর ব্যাখ্যা সম্পর্কে, আর তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণাঙ্গ করবেন তোমার প্রতি ও ইয়াকুবের বংশধরদের প্রতি, যেমন তিনি তা পূর্ণাঙ্গ করেছিলেন এর আগে তোমার পূর্বপুরুষ ইব্রাহীম ও ইসহাকের প্রতি। নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইভাবে তোমার প্রতিপালক তোমাকে মনোনীত করিবেন এবং তোমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবেন এবং তোমার প্রতি ও ইয়া‘কূবের পরিবার - পরিজনের প্রতি তাঁহার অনুগ্রহ পূর্ণ করিবেন, যেভাবে তিনি ইহা পূর্বে পূর্ণ করিয়াছিলেন তোমার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম ও ইসহাকের প্রতি। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

এমনটিই হবে, তোমার প্রভু তোমাকে (নবুয়্যতের) জন্যে উপযুক্ত করবেন, বক্তব্যের তাৎপর্য উপলব্ধির শিক্ষা দান করবেন এবং তোমার প্রতি আর ইয়াকুবের উত্তর পুরুষদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করবেন, যেভাবে তা পূর্ণ করেছিলেন তোমার পিতামহ ইবরাহিম ও ইসহাকের প্রতি। অবশ্যি তোমার প্রভু সব বিষয়ে জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়।’’

মুহিউদ্দীন খান

অবশ্য ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের কাহিনীতে জিজ্ঞাসুদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।

জহুরুল হক

ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের মধ্যে নিশ্চয়ই নিদর্শন রয়েছে জিজ্ঞাসুদের জন্যে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফ এবং তাহার ভ্রাতাদের ঘটনায় জিজ্ঞাসুদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইউসুফ আর তার ভাইদের ঘটনাতে প্রশ্নকারীদের জন্যে রয়েছে (নিজেদের কৃতকর্মের পরিণতি উপলব্ধির) প্রমাণ।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তারা বললঃ অবশ্যই ইউসুফ ও তাঁর ভাই আমাদের পিতার কাছে আমাদের চাইতে অধিক প্রিয় অথচ আমরা একটা সংহত শক্তি বিশেষ। নিশ্চয় আমাদের পিতা স্পষ্ট ভ্রান্তিতে রয়েছেন।

জহুরুল হক

স্মরণ করো! তারা বলাবলি করলে - - ''ইউসুফ ও তার ভাই তো আমাদের আব্বার কাছে আমাদের চেয়েও বেশি প্রিয়, যদিও আমরা দলে ভারী। আমাদের আব্বা নিশ্চয়ই স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছেন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, উহারা বলিয়াছিল, ‘আমাদের পিতার নিকট ইউসুফ এবং তাহার ভ্রাতাই আমাদের অপেক্ষা অধিক প্রিয়, অথচ আমরা একটি সংহত দল; আমাদের পিতা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই আছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(সেই ঘটনার সূচনা হয় এভাবে যে,) ইউসুফের (সৎ) ভাইয়েরা নিজেরা নিজেরা বলাবলি করছিল: ‘‘আমাদের বাবার কাছে ইউসুফ আর তার সহোদর ভাইটি (বিনইয়ামিন) আমাদের চেয়ে বেশি প্রিয়। অথচ আমরা হলাম (দশ ভাইয়ের) একটি সংঘবদ্ধ (শক্তিশালী) দল। আসলে আমাদের পিতা (ইউসুফ আর তার ভাইকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিয়ে) সুস্পষ্ট ভুল করছেন।

মুহিউদ্দীন খান

হত্যা কর ইউসুফকে কিংবা ফেলে আস তাকে অন্য কোন স্থানে। এতে শুধু তোমাদের প্রতিই তোমাদের পিতার মনোযোগ নিবিষ্ট হবে এবং এরপর তোমরা যোগ্য বিবেচিত হয়ে থাকবে।

জহুরুল হক

''ইউসুফকে মেরে ফেল অথবা কোনো দেশে নির্বাসন দাও, তাহলে তোমাদের আব্বার মুখ তোমাদের দিকেই নিবিষ্ট হবে, এবং তার পরে তোমরা ভাল লোক হতে পারবে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা ইউসুফকে হত্যা কর অথবা তাহাকে কোন স্থানে ফেলিয়া আস, ফলে তোমাদের পিতার দৃষ্টি শুধু তোমাদের প্রতিই নিবিষ্ট হইবে এবং তাহার পর তোমরা ভাল লোক হইয়া যাইবে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

চলো, ইউসুফকে মেরে ফেলো, কিংবা কোথাও ফেলে রেখে আসো। তবেই তোমাদের পিতার দৃষ্টি শুধু কেবল তোমাদের প্রতি নিবদ্ধ হবে। এই (অপরাধের) কাজটি সেরে ফেলার পর তোমরা ভালো মানুষ হয়ে যেয়ো।’’

মুহিউদ্দীন খান

তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, তোমরা ইউসুফ কে হত্যা করো না, বরং ফেলে দাও তাকে অন্ধকূপে যাতে কোন পথিক তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়, যদি তোমাদের কিছু করতেই হয়।

জহুরুল হক

তাদের মধ্যে থেকে একজন বক্তা বললে - - ''ইউসুফকে কাতল করো না, তাকে বরং কোনো কুয়োর তলায় ফেলে দাও, ভ্রমণকারীদের কেউ তাকে তুলেও নিতে পারে, - - যদি তোমরা কাজ করতে চাও।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের মধ্যে একজন বলিল, তোমরা ইউসুফকে হত্যা করিও না এবং যদি কিছু করিতেই চাও তবে তাহাকে কোন কূপের গভীরে নিক্ষেপ কর, যাত্রীদলের কেহ তাহাকে তুলিয়া লইয়া যাইবে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

এ সময় তাদের একজন বললো: ‘ইউসুফকে একেবারে জানে মেরে ফেলোনা, বরং যদি কিছু করতেই হয়, তবে কোনো কুয়ার তলায় ফেলে আসো, তাতে করে কোনো পথিক দল তাকে তুলে (দূর দেশে) নিয়ে যাবে।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ পিতাঃ ব্যাপার কি, আপনি ইউসুফের ব্যাপারে আমাদেরকে বিশ্বাস করেন না ? আমরা তো তার হিতাকাংখী।

জহুরুল হক

তারা বলল - - ''হে আমাদের আব্বা! তোমার কি হয়েছে যেজন্যে তুমি ইউসুফের ব্যাপারে আমাদের বিশ্বাস কর না, অথচ নিঃসন্দেহ আমরা তো তার শুভাকাঙ্খী?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, “হে আমাদের পিতা! ইউসুফের ব্যাপারে তুমি আমাদেরকে বিশ্বাস করিতেছ না কেন, অথচ আমরা তো তাহার শুভাকাঙ্ক্ষী?

আবদুস শহীদ নাসিম

(এই সলা পরামর্শের পর পিতার কাছে) গিয়ে তারা বললো: ‘‘বাবা! ইউসুফের ব্যাপারে আপনি আমাদের উপর আস্থা রাখেননা কেন? অথচ আমরা তো ইউসুফের কল্যাণই কামনা করি।

মুহিউদ্দীন খান

আগামীকাল তাকে আমাদের সাথে প্রেরণ করুন - তৃপ্তিসহ খাবে এবং খেলাধুলা করবে এবং আমরা অবশ্যই তার রক্ষণাবেক্ষন করব।

জহুরুল হক

''তাকে আমাদের সঙ্গে কালকে পাঠিয়ে দাও, সে আমোদ করুক ও খেলাধুলা করুক, আর আমরা তো নিশ্চয়ই তার হেফাজতকারী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তুমি আগামীকাল তাহাকে আমাদের সঙ্গে প্রেরণ কর, সে তৃপ্তি সহকারে খাইবে ও খেলাধুলা করিবে। আমরা অবশ্যই তাহার রক্ষণাবেক্ষণ করিব।’

আবদুস শহীদ নাসিম

আগামিকাল ওকে আমাদের সাথে পাঠান, ফলমূল পেড়ে খাবে, দৌড় দোপ করবে, এভাবে মনটাকে চাংগা করবে। আমরা অবশ্যি তার হিফাযত করবো।’’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ আমার দুশ্চিন্তা হয় যে, তোমরা তাকে নিয়ে যাবে এবং আমি আশঙ্কা করি যে, ব্যাঘ্র তাঁকে খেয়ে ফেলবে এবং তোমরা তার দিক থেকে গাফেল থাকবে।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''এতে অবশ্যই আমাকে কষ্ট দেবে যে তোমরা তাকে নিয়ে যাবে, আর আমি ভয় করছি পাছে নেকড়ে তাকে খেয়ে ফেলে, যদি তোমরা তার প্রতি বেখেয়াল হয়ে যাও!’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘ইহা আমাকে অবশ্যই কষ্ট দিবে যে, তোমরা তাহাকে লইয়া যাইবে এবং আমি আশংকা করি তাহাকে নেকড়ে বাঘ খাইয়া ফেলিবে, আর তোমরা তাহার প্রতি অমনোযোগী থাকিবে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের পিতা বললো: ‘আমার আশংকা হয়, তোমরা তাকে নিয়ে গিয়ে তার ব্যাপারে অমনোযোগী হয়ে পড়বে আর সে সুযোগে নেকড়ে এসে তাকে খেয়ে ফেলবে, এই ভাবনাটাই বিষন্ন করে তুলছে আমাকে।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ আমরা একটি ভারী দল থাকা সত্ত্বেও যদি ব্যাঘ্র তাকে খেয়ে ফেলে, তবে আমরা সবই হারালাম।

জহুরুল হক

তারা বললে, ''আমরা দলে ভারী হওয়া সত্ত্বেও যদি তাকে নেকড়ে খেয়ে ফেলে তবে আমরাই তো নিশ্চয় সর্বহারা হব।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘আমরা একটি সংহত দল হওয়া সত্ত্বেও যদি নেকড়ে বাঘ তাহাকে খাইয়া ফেলে, তবে তো আমরা ক্ষতিগ্রস্তই হইব।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমরা একটি শক্তিশালী দল থাকা সত্ত্বেও যদি তাকে নেকড়ে খেয়ে ফেলে, তবে তো আমরা একেবারেই ব্যর্থ।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তারা যখন তাকে নিয়ে চলল এবং অন্ধকূপে নিক্ষেপ করতে একমত হল এবং আমি তাকে ইঙ্গিত করলাম যে, তুমি তাদেরকে তাদের এ কাজের কথা বলবে এমতাবস্থায় যে, তারা তোমাকে চিনবে না।

জহুরুল হক

তারপর তারা যখন তাকে নিয়ে গেল এবং সবাই একমত হল যে তারা তাকে ফেলে দেবে কুয়োর তলায়, তখন আমরা তার কাছে প্রত্যাদেশ দিলাম - - ''তুমি তাদের অবশ্যই জানিয়ে দেবে তাদের এই কাজের কথা, আর তারা চিনতেও পারবে না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর উহারা যখন তাহাকে লইয়া গেল এবং তাহাকে কূপের গভীরে নিক্ষেপ করিতে একমত হইল, এমতাবস্থায় আমি তাহাকে জানাইয়া দিলাম, ‘তুমি উহাদেরকে উহাদের এই কর্মের কথা অবশ্যই বলিয়া দিবে যখন উহারা তোমাকে চিনিবে না।’

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে (পিতার উপর একটা মানসিক চাপ প্রয়োগ করে) তারা যখন তাকে নিয়ে গেলো এবং তাকে কূপের তলায় নিক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিলো (এবং নিক্ষেপ করলো)। তখন আমরা তার কাছে অহি (বার্তা) প্রেরণ করলাম: ‘এমন একদিন অবশ্যি আসবে, যখন তুমি তাদের এই অপকর্মের কথা তাদের সামনে তুলে ধরবে, অথচ তারা তোমার পরিচয় বুঝতে পারবেনা।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা রাতের বেলায় কাঁদতে কাঁদতে পিতার কাছে এল।

জহুরুল হক

আর তারা তাদের পিতার কাছে কাঁদতে কাঁদতে এলো রাত্রিবেলায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা রাত্রির প্রথম প্রহরে কাঁদিতে কাঁদিতে উহাদের পিতার নিকট আসিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা এশার সময় কাঁদতে কাঁদতে তাদের পিতার কাছে এসে উপস্থিত হয়।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ পিতাঃ আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা করতে গিয়েছিলাম এবং ইউসুফকে আসবাব - পত্রের কাছে রেখে গিয়েছিলাম। অতঃপর তাকে বাঘে খেয়ে ফেলেছে। আপনি তো আমাদেরকে বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''হে আমাদের আব্বা! আমরা দৌড়াদেড়ি করে চলেছিলাম, আর ইউসুফকে রেখে গিয়েছিলাম আমাদের আসবাবপত্রের পাশে, তখন নেকড়ে তাকে খেয়ে ফেলেছে, কিন্তু তুমি তো আমাদের প্রতি বিশ্বাসকারী হবে না, যদিও আমরা হচ্ছি সত্যবাদী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘হে আমাদের পিতা! আমরা দৌড়ের প্রতিযোগিতা করিতেছিলাম এবং ইউসুফকে আমাদের মালপত্রের নিকট রাখিয়া গিয়াছিলাম, অতঃপর নেকড়ে বাঘ তাহাকে খাইয়া ফেলিয়াছে; কিন্তু তুমি তো আমাদেরকে বিশ্বাস করিবে না, যদিও আমরা সত্যবাদী।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘আমরা তো সত্য বললেও আপনি কখনো আমাদের কথা বিশ্বাস করবেন না, (আমরা সত্যই বলছি) ইউসুফকে আমাদের মালপত্রের কাছে রেখে আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা করছিলাম, এই ফাঁকে নেকড়ে এসে ওকে খেয়ে ফেলেছে।’

মুহিউদ্দীন খান

এবং তারা তার জামায় কৃত্রিম রক্ত লাগিয়ে আনল। বললেনঃ এটা কখনই নয়; বরং তোমাদের মন তোমাদেরকে একটা কথা সাজিয়ে দিয়েছে। সুতরাং এখন ছবর করাই শ্রেয়। তোমরা যা বর্ণনা করছ, সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার সাহায্য স্থল।

জহুরুল হক

আর তারা এল তাঁর সার্টের উপরে ঝুটা রক্ত নিয়ে। তিনি বললেন - - ''না, তোমাদের অন্তর তোমাদের জন্য এই বিষয়টি উদ্ভাবন করেছে, কিন্তু ধৈর্যধারণই উত্তম। আর ‌ই সাহায্য কামনার স্থল তোমরা যা বর্ণনা করছ সে - ক্ষেত্রে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা তাহার জামায় মিথ্যা রক্ত লেপন করিয়া আনিয়াছিল। সে বলিল, ‘না, তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি কাহিনী সাজাইয়া দিয়াছে। সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যাহা বলিতেছ সে বিষয়ে একমাত্র ‌ই আমার সাহায্যস্থল।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (পিতার কাছে নিজেদেরকে সত্যবাদী প্রমাণ করার জন্যে) ইউসুফের জামায় মিথ্যা রক্ত মেখে নিয়ে এসেছিল। তাদের পিতা বললো: ‘(না, তা নয়) বরং তোমাদের মন তোমাদেরকে একটা কাহিনী সাজিয়ে দিয়েছে। আর আমার জন্যে ধৈর্য ধারণ করাই উত্তম। তোমরা যে (মিথ্যা) কাহিনী সাজিয়েছো, তার মোকাবেলায় একমাত্র আল্লাহ্ই (আমার) সাহায্যের মালিক।’

মুহিউদ্দীন খান

এবং একটি কাফেলা এল। অতঃপর তাদের পানি সংগ্রাহককে প্রেরণ করল। সে বালতি ফেলল। বললঃ কি আনন্দের কথা। এ তো একটি কিশোর তারা তাকে পন্যদ্রব্য গণ্য করে গোপন করে ফেলল। খুব জানেন যা কিছু তারা করেছিল।

জহুরুল হক

এদিকে ভ্রমণকারীরা এল এবং তাদের পানিওয়ালাকে পাঠাল, সে তখন তার বালতি নামিয়ে দিল। সে বললে, ''কি সুখবর! এ যে একটি ছোকরা!’’ অতঃপর তারা তাঁকে লুকিয়ে রাখল পণ্য - দ্রব্যের মতো। আর তারা যা করেছিল সে - সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এক যাত্রীদল আসিল, উহারা উহাদের পানি সংগ্রাহককে প্রেরণ করিল। সে তাহার পানির ডোল নামাইয়া দিল। সে বলিয়া উঠিল, ‘কী সুখবর! এ যে এক কিশোর!’ অতঃপর উহারা তাহাকে পণ্যরূপে লুকাইয়া রাখিল। উহারা যাহা করিতেছিল সে বিষয়ে ‌ সবিশেষ অবহিত ছিলেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

এদিকে (ইউসুফকে নিক্ষেপ করা কূপের নিকট) এসে থামলো একদল পথিক। তারা তাদের পানি সংগ্রহকারীকে (পানির জন্যে কূপের দিকে) পাঠিয়ে দেয়। সে গিয়ে তার বালতি (bucket) ফেলে কুয়োতে। (ইউসুফকে দেখে) সে বিস্ময়ে বলে উঠে: ‘দারুণ সুখবর, (দেখে যান) এখানে এক বালক!’ তারপর তারা তাকে একটি পণ্য বিক্রয়ের মাল (দাস) হিসেবে লুকিয়ে রাখে। তারা (তাকে নিয়ে) যা কিছু করছিল, সে বিষয়ে ভালোভাবেই অবহিত ছিলেন।

মুহিউদ্দীন খান

ওরা তাকে কম মূল্যে বিক্রি করে দিল গনাগুণতি কয়েক দেরহাম এবং তাঁর ব্যাপারে নিরাসক্ত ছিল।

জহুরুল হক

আর তারা তাঁকে বিক্রি করল সামান্য মূল্যে - - গুণতির কয়েকটি দিরহামে, আর তাঁর প্রতি তারা ছিল অনাসক্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং উহারা তাহাকে বিক্রয় করিল স্বল্প মূল্যে - মাত্র কয়েক দিরহামের বিনিময়ে, উহারা ছিল তাহার ব্যাপারে নির্লোভ।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশেষে তারা তাকে বিক্রি করে ফেলে সামান্য দামে, মাত্র কয়েক দিরহামে। আসলে তারা ছিলো তার ব্যাপারে অপ্রত্যাশী।

মুহিউদ্দীন খান

মিসরে যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করল, সে তার স্ত্রীকে বললঃ একে সম্মানে রাখ। সম্ভবতঃ সে আমাদের কাছে আসবে অথবা আমরা তাকে পুত্ররূপে গ্রহণ করে নেব। এমনিভাবে আমি ইউসুফকে এদেশে প্রতিষ্ঠিত করলাম এবং এ জন্যে যে তাকে বাক্যাদির পূর্ণ মর্ম অনুধাবনের পদ্ধতি বিষয়ে শিক্ষা দেই। নিজ কাজে প্রবল থাকেন, কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না।

জহুরুল হক

আর মিশরীয় যে তাঁকে কিনেছিল সে তার স্ত্রীকে বললে - - ''সম্মানজনকভাবে এর থাকবার জায়গা কর, হয়ত সে আমাদের উপকারে আসবে, অথবা তাকে আমরা পুত্ররূপে গ্রহণ করতে পারি।’’ আর এইভাবে আমরা ইউসুফের জন্য বাসস্থান ঠিক করে দিলাম সে - দেশে, যেন তাঁকে শেখাতে পারি ঘটনাবলীর ব্যাখ্যা সন্বন্ধে। তাঁর কাজকর্মে সর্বেসর্বা, কিন্তু অধিকাংশ লোকেই জানে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মিসরের যে ব্যক্তি তাহাকে ক্রয় করিয়াছিল, সে তাহার স্ত্রীকে বলিল, ‘ইহার থাকিবার সম্মানজনক ব্যবস্থা কর, সম্ভবত সে আমাদের উপকারে আসিবে অথবা আমরা ইহাকে পুত্ররূপেও গ্রহণ করিতে পারি।’ এবং এইভাবে আমি ইউসুফকে সেই দেশে প্রতিষ্ঠিত করিলাম তাহাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবার জন্য। ‌ তাঁহার কার্য সম্পাদনে অপ্রতিহত; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ইহা অবগত নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

মিশরের যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করে নেয়, সে তার স্ত্রীকে বলেছিল: ‘একে সুন্দর ও সম্মানজনকভাবে রাখো, সে আমাদের জন্যে উপকারী হবার সম্ভাবনা আছে, অথবা আমরা তাকে আমাদের ছেলেই বানিয়ে নেবো।’ এভাবে আমরা ইউসুফকে সে দেশে প্রতিষ্ঠিত হবার জায়গা করে দেই এবং যাবতীয় পরিস্থিতি ও ঘটনাবলির তাৎপর্য উপলব্ধি করার ব্যবস্থা করি। তাঁর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেই থাকেন। তবে অধিকাংশ মানুষ তা জানেনা।

মুহিউদ্দীন খান

যখন সে পূর্ণ যৌবনে পৌছে গেল, তখন তাকে প্রজ্ঞা ও ব্যুৎপত্তি দান করলাম। এমননিভাবে আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে প্রতিদান দেই।

জহুরুল হক

আর যখন তিনি তাঁর পূর্ণ যৌবনে পৌঁছুলেন, আমরা তাঁকে বুদ্ধি ও বিদ্যা দান করলাম। আর এইভাবে আমরা সৎকর্মশীলদের পুরস্কার প্রদান করি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হইল তখন আমি তাহাকে হিক্‌মত ও জ্ঞান দান করিলাম এবং এইভাবেই আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করি।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (ইউসুফ) যখন পূর্ণ যৌবনে, পূর্ণ বয়সে (full manhood - এ) উপনীত হয়, আমি তাকে প্রদান করি প্রজ্ঞা এবং জ্ঞান (নবুয়্যত)। আর এভাবেই আমি উপকারী পুণ্যবান লোকদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।

মুহিউদ্দীন খান

আর সে যে মহিলার ঘরে ছিল, ঐ মহিলা তাকে ফুসলাতে লাগল এবং দরজাসমূহ বন্ধ করে দিল। সে মহিলা বললঃ শুন! তোমাকে বলছি, এদিকে আস, সে বললঃ রক্ষা করুন; তোমার স্বামী আমার মালিক। তিনি আমাকে সযত্নে থাকতে দিয়েছেন। নিশ্চয় সীমা লংঘনকারীগণ সফল হয় না।

জহুরুল হক

আর যে মহিলায় গৃহে তিনি ছিলেন সে তাঁকে কামনা করল তাঁর অন্তরঙ্গতার, আর বন্ধ করে দিলে দরজাগুলো ও বললে - - ''এসো হে তুমি!’’ তিনি বললেন - - '' সহায় হোন! আমার প্রভু নিশ্চয়ই আমার আশ্রয়স্থল অতি উত্তম বানিয়েছেন। নিঃসন্দেহ তিনি অন্যায়কারীদের উন্নতি করেন না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে যে স্ত্রীলোকের গৃহে ছিল সে তাহা হইতে অসৎকর্ম কামনা করিল এবং দরজাগুলি বন্ধ করিয়া দিল ও বলিল, ‘আস।’ সে বলিল, ‘আমি ‌র শরণ লইতেছি, তিনি আমার প্রভু; তিনি আমার থাকিবার সুন্দর ব্যবস্থা করিয়াছেন। নিশ্চয়ই সীমালংঘনকারীরা হয় না।’

আবদুস শহীদ নাসিম

এদিকে যে মেয়ে লোকটির ঘরে সে (ইউসুফ) অবস্থান করছিল, সে তাকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার পথ অবলম্বন করে। একদিন তো সে ঘরের সব দরজা বন্ধ করে দিয়েই (ইউসুফকে) আহবান জানায়: ‘ওহে, এসো।’ সে (ইউসুফ) বললো: ‘আমি (এমন কর্ম থেকে) আল্লাহর আশ্রয় চাই। তিনিই আমার প্রভু। অতি উত্তম মর্যাদা তিনি আমাকে দান করেছেন (একাজ করা আমার পক্ষে অসম্ভব)। আর অন্যায়কারীরা তো কিছুতেই সাফল্য অর্জন করেনা।’

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় মহিলা তার বিষয়ে চিন্তা করেছিল এবং সেও মহিলার বিষয়ে চিন্তা করত। যদি না সে স্বীয় পালনকর্তার মহিমা অবলোকন করত। এমনিবাবে হয়েছে, যাতে আমি তার কাছ থেকে মন্দ বিষয় ও নিলজ্জ বিষয় সরিয়ে দেই। নিশ্চয় সে আমার মনোনীত বান্দাদের একজন।

জহুরুল হক

আর সে নারী নিশ্চয়ই তাঁর প্রতি আসক্ত হয়েছিল, আর তিনিও তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়তেন যদি না তিনি তাঁর প্রভুর স্পষ্ট - প্রমাণ প্রত্যক্ষ করতেন। এইভাবে আমরা যেন তাঁর কাছ থেকে হটিয়ে দিতে পারি মন্দকাজ ও অশ্লীলতা। নিঃসন্দেহ তিনি ছিলেন আমাদের একান্ত অনুরক্ত দাসদের অন্যতম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই রমণী তো তাহার প্রতি আসক্ত হইয়াছিল এবং সেও উহার প্রতি আসক্ত হইয়া পড়িত যদি না সে তাহার প্রতিপালকের নিদর্শন প্রত্যক্ষ করিত। আমি তাহাকে মন্দ কর্ম ও অশ্লীলতা হইতে বিরত রাখিবার জন্য এইভাবে নিদর্শন দেখাইয়াছিলাম। সে তো ছিল আমার বিশুদ্ধচিত্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

মেয়েলোকটি তো তার প্রতি আসক্ত হয়েই ছিলো, আর সেও তার প্রতি আসক্তিতে জড়িয়ে পড়তো, যদি তার প্রভুর স্পষ্ট প্রমাণ (evidence) তার দৃষ্টি পথে না থাকতো। এটা করা হয়েছে এজন্যে, যেনো এ পন্থায় আমি তার থেকে অন্যায় ও অশ্লীলতা দূর করে দিতে পারি। অবশ্যি সে ছিলো আমার নির্বাচিত দাসদের একজন।

মুহিউদ্দীন খান

তারা উভয়ে ছুটে দরজার দিকে গেল এবং মহিলা ইউসুফের জামা পিছন দিক থেকে ছিঁড়ে ফেলল। উভয়ে মহিলার স্বামীকে দরজার কাছে পেল। মহিলা বললঃ যে ব্যক্তি তোমার পরিজনের সাথে কুকর্মের ইচ্ছা করে, তাকে কারাগারে পাঠানো অথবা অন্য কোন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেয়া ছাড়া তার আর কি শাস্তি হতে পারে?

জহুরুল হক

আর তারা দুজনেই দরজার দিকে দৌড়লো, আর সে তাঁর জামা পেছনের দিক থেকে ছিড়ে ফেঁললো, আর তারা দুজনে দরজার নিকটে দেখা পেল তার স্বামীর। সে বললে - - ''যে তোমার পরিবারের সঙ্গে কুকর্ম কামনা করে তার পরিণাম কারাদন্ড বা মর্মন্তুদ শাস্তি ছাড়া আর কী হতে পারে?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা উভয়ে দৌড়াইয়া দরজার দিকে গেল এবং স্ত্রীলোকটি পিছন হইতে তাহার জামা ছিঁড়িয়া ফেলিল, তাহারা স্ত্রীলোকটির স্বামীকে দরজার নিকট পাইল। স্ত্রীলোকটি বলিল, ‘যে তোমার পরিবারের সঙ্গে কুকর্ম কামনা করে তাহার জন্য কারাগারে প্রেরণ অথবা অন্য কোন মর্মন্তুদ শাস্তি ব্যতীত আর কী দণ্ড হইতে পারে?’

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তারা একজন আরেকজনের পেছনে দরজার দিকে দৌড়ায়, আর মেয়েলোকটি পেছন থেকে ইউসুফের জামা টেনে ধরে ছিড়েঁই ফেলে এবং (দৌড়ে এসে দরজায় পৌঁছুতেই) তারা তার কর্তাকে (স্বামীকে) দরজায় দেখতে পায়। তাকে দেখে মেয়েলোকটি বলে উঠে: ‘যে তোমার স্ত্রীর প্রতি অসৎ কর্মের ইচ্ছা পোষণ করে, কারাগারে নিক্ষেপ করা কিংবা কঠিন শাস্তি দেয়া ছাড়া তার আর কী প্রতিবিধান হতে পারে?’

মুহিউদ্দীন খান

ইউসুফ (আঃ) বললেন, সেই আমাকে আত্মসংবরণ না করতে ফুসলিয়েছে। মহিলার পরিবারে জনৈক সাক্ষী দিল যে, যদি তার জামা সামনের দিক থেকে ছিন্ন থাকে, তবে মহিলা সত্যবাদিনী এবং সে মিথ্যাবাদি।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''উনিই আমাকে কামনা করেছিলেন আমার অন্তরঙ্গতার।’’ আর তারই পরিবারের একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলে - - ''যদি তার সার্টটি সামনের দিকে ছেঁড়া হয় তবে ইনি সত্যবাদী এবং ও মিথ্যাবাদীদের মধ্যের।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফ বলিল, ‘সে - ই আমা হইতে অসৎকর্ম কামনা করিয়াছিল।’ স্ত্রীলোকটির পরিবারের একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিল, ‘যদি উহার জামার সম্মুখ দিক ছিন্ন করা হইয়া থাকে তবে স্ত্রীলোকটি সত্য কথা বলিয়াছে এবং পুরুষটি মিথ্যাবাদী,

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন ইউসুফ বললো: ‘উনি আমাকে অসৎ কর্মে জড়িত করার চেষ্টা করেছেন।’ (দুইজনের দুই রকম কথার প্রেক্ষিতে) মেয়েলোকটির পরিবারেরই একজন এ বিষয়ে সাক্ষ্য (ফায়সালা) দেয়: ‘‘ইউসুফের জামা যদি সামনের দিকে ছিড়ে গিয়ে থাকে তবে আপনার স্ত্রীর কথাই ঠিক এবং ইউসুফের বক্তব্য অসত্য।

মুহিউদ্দীন খান

এবং যদি তার জামা পেছনের দিক থেকে ছিন্ন থাকে, তবে মহিলা মিথ্যাবাদিনী এবং সে সত্যবাদী।

জহুরুল হক

''আর যদি তার সার্টটি পেছনের দিকে ছেঁড়া থাকে তবে ইনিই মিথ্যাবাদী আর ও সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘কিন্তু উহার জামা যদি পিছন দিক হইতে ছিন্ন করা হইয়া থাকে তবে স্ত্রীলোকটি মিথ্যা বলিয়াছে এবং পুরুষটি সত্যবাদী।’

আবদুস শহীদ নাসিম

আর ইউসুফের জামা যদি পেছন দিকে ছিড়েঁ গিয়ে থাকে, তবে আপনার স্ত্রীর কথা অসত্য এবং ইউসুফের বক্তব্য সঠিক।’’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর গৃহস্বামী যখন দেখল যে, তার জামা পেছন দিক থেকে ছিন্ন, তখন সে বলল, নিশ্চয় এটা তোমাদের ছলনা। নিঃসন্দেহে তোমাদের ছলনা খুবই মারাত্নক।

জহুরুল হক

সুতরাং সে যখন দেখলে যে তাঁর জামাটি পেছনের দিকে ছেঁড়া তখন সে বললে - - ''এ নিঃসন্দেহ তোমাদের ছলাকলা, তোমাদের ছলচাতুরী বড়ই ভীষণ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

গৃহস্বামী যখন দেখিল যে, তাহার জামা পিছন দিক হইতে ছিন্ন করা হইয়াছে তখন সে বলিল, ‘নিশ্চয়ই ইহা তোমাদের নারীদের ছলনা, তোমাদের ছলনা তো ভীষণ।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তার স্বামী যখন দেখলো, ইউসুফের জামা পেছন দিকে ছেঁড়া, তখন সে বলে উঠলো: ‘‘অবশ্যি এটা তোমাদের নারীদেরই ষড়যন্ত্র। নি:সন্দেহে তোমাদের নারীদের ছলনা - চক্রান্ত ভীষণ ব্যাপার।’

মুহিউদ্দীন খান

ইউসুফ এ প্রসঙগ ছাড়! আর হে নারী, এ পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর নিঃসন্দেহে তুমি - ই পাপাচারিনী।

জহুরুল হক

''হে ইউসুফ, তুমি এ বিষয়ে কিছু মনে করো না; আর তুমি ক্ষমা প্রার্থনা কর তোমার অপরাধের জন্য; নিঃসন্দেহ তুমি হচ্ছো পাপিষ্ঠাদের মধ্যেকার।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে ইউসুফ! তুমি ইহা উপেক্ষা কর এবং হে নারী! তুমি তোমার অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর; তুমিই তো অপরাধী।’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে ইউসুফ! তুমি বিষয়টি উপেক্ষা করো। আর হে আমার স্ত্রী! তুমি তোমার অপরাধের জন্যে ক্ষমা চাও। কারণ, অবশ্যি তুমি অপরাধী।’’

মুহিউদ্দীন খান

নগরে মহিলারা বলাবলি করতে লাগল যে, আযীযের স্ত্রী স্বীয় গোলামকে কুমতলব চরিতার্থ করার জন্য ফুসলায়। সে তার প্রেমে উম্মত্ত হয়ে গেছে। আমরা তো তাকে প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে দেখতে পাচ্ছি।

জহুরুল হক

আর শহরের নারীরা বললে, ''আজীযের স্ত্রী তার যুবক দাসকে কামনা করেছিল তার অন্তরঙ্গতার! নিশ্চয়ই সে তাকে প্রেমে অভিভূত করেছে। আমরা তাকে দেখছি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পড়েছে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নগরে কতিপয় নারী বলিল, ‘আযীযের স্ত্রী তাহার যুবক দাস হইতে অসৎ কর্ম কামনা করিতেছে, প্রেম তাহাকে উন্মত্ত করিয়াছে, আমরা তো তাহাকে দেখিতেছি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

(এ ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়লে) নগরীতে একদল নারী বলাবলি করতে থাকে: ‘আযীযের স্ত্রী তার যুবক দাসের প্রতি আসক্ত হয়েছে! প্রেম তাকে পাগল করে ছেড়েছে। আমাদের মতে সে পরিষ্কার ভুল পথে পা বাড়িয়েছে।’

মুহিউদ্দীন খান

যখন সে তাদের চক্রান্ত শুনল, তখন তাদেরকে ডেকে পাঠাল এবং তাদের জন্যে একটি ভোজ সভার আয়োজন করল। সে তাদের প্রত্যেককে একটি ছুরি দিয়ে বললঃ ইউসুফ এদের সামনে চলে এস। যখন তারা তাকে দেখল, হতভম্ব হয়ে গেল এবং আপন হাত কেটে ফেলল। তারা বললঃ কখনই নয় এ ব্যক্তি মানব নয়। এ তো কোন মহান ফেরেশতা।

জহুরুল হক

সুতরাং সে যখন শুনলে তাদের ফন্দির কথা, সে তাদের ডেকে পাঠালে এবং তাদের জন্য তৈরি করলে গদির আসন, আর তাদের মধ্যের প্রত্যেককে দিলে একটি করে ছুরি, আর বললে - - ''বেরিয়ে এস এদের সামনে।’’ অতঃপর তারা যখন তাঁকে দেখল তাঁকে ভাবলো অতুলনীয়, আর নিজেদের হাত কেটে ফেলল ও বললো - - ''‌র কি নিখুঁত সৃষ্টি! এ তো মানুষ নয়, এ তো এক মহিমান্নিত ফিরিশ্‌তা।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্ত্রীলোকটি যখন উহাদের ষড়যন্ত্রের কথা শুনিল, তখন সে উহাদেরকে ডাকিয়া পাঠাইল, উহাদের জন্য আসন প্রস্তুত করিল, উহাদের প্রত্যেককে একটি করিয়া ছুরি দিল এবং ইউসুফকে বলিল, ‘উহাদের সম্মুখে বাহির হও।’ অতঃপর উহারা যখন তাহাকে দেখিল তখন উহারা তাহার গরিমায় অভিভূত হইল এবং নিজেদের হাত কাটিয়া ফেলিল। উহারা বলিল, ‘অদ্ভুত ‌র মহাত্ম্য! এ তো মানুষ নয়, এ তো এক মহিমান্বিত ফিরিশতা!’

আবদুস শহীদ নাসিম

(আযীযের স্ত্রী) যখন তাদের এই অভিযোগ শুনতে পায়, সে তাদের ডেকে পাঠায় এবং তাদের জন্যে একটি ভোজ উৎসব - এর আয়োজন করে। (খাবার সামগ্রী কেটে খাবার জন্যে) সে প্রত্যেকের সামনে একটি করে ছুরি রেখে দেয়। (অতপর তারা কেটে কেটে খেতে আরম্ভ করলে) সে ইউসুফকে বলে: ‘এদের সামনে বেরিয়ে এসো।’ তারা যখন ইউসুফকে দেখলো, তাকে অতি উচ্চ, মহিমান্বিত পেয়ে অভিভূত ও উত্তেজিত (exalted) হয়ে পড়ে এবং নিজেদের হাত কেটে ফেলে! তারা বলে উঠে: ‘হায় , এ - তো মানুষ নয়, এ - তো এক সম্ভ্রান্ত (noble) ফেরেশতা!’

মুহিউদ্দীন খান

মহিলা বললঃ এ ঐ ব্যক্তি, যার জন্যে তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করছিলে। আমি ওরই মন জয় করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে। আর আমি যা আদেশ দেই, সে যদি তা না করে, তবে অবশ্যই সে কারাগারে প্রেরিত হবে এবং লাঞ্চিত হবে।

জহুরুল হক

সে বললে - - ''এ - ই তো সেই যার সন্বন্ধে তোমরা আমার নিন্দা করেছ, আর আমি অবশ্যই তাকে কামনা করেছিলাম তার অন্তরঙ্গতার, কিন্তু সে নিজেকে সংযত রেখেছিল। আর আমি তাকে যা আদেশ করি তা যদি সে না করে তবে সে নিশ্চিত কারারুদ্ধ হবে এবং সে হবে অবশ্যই ছোটলোকদের মধ্যেকার।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘এ - ই সে যাহার সম্বন্ধে তোমরা আমার নিন্দা করিয়াছ। আমি তো তাহা হইতে অসৎ কর্ম কামনা করিয়াছি। কিন্তু সে নিজেকে পবিত্র রাখিয়াছে; আমি তাহাকে যাহা আদেশ করিয়াছি সে যদি তাহা না করে, তবে সে কারারুদ্ধ হইবেই এবং হীনদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(এবার আযীযের স্ত্রী বলে উঠে: ‘এ হলো সেই যুবক, যার ব্যাপারে তোমরা আমাকে তিরস্কার করছিলে। হ্যাঁ, একেই আমি আমার কামনায় জড়িত করতে চাইছি, কিন্তু সে আমার আহবান প্রত্যাখ্যান করে চলেছে। এরপরও যদি সে আমি যা করতে বলি তা না করে, তবে অবশ্যি তাকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হবে এবং তখন হবে সে চরম লাঞ্ছিত - অপদস্ত।’

মুহিউদ্দীন খান

ইউসুফ বললঃ হে পালনকর্তা তারা আমাকে যে কাজের দিকে আহবান করে, তার চাইতে আমি কারাগারই পছন্দ করি। যদি আপনি তাদের চক্রান্ত আমার উপর থেকে প্রতিহত না করেন, তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব এবং অজ্ঞদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাব।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! তারা আমাকে যার প্রতি আহ্বান করছে তার চেয়ে কারাগারই আমার কাছে অধিক প্রিয়। আর তুমি যদি আমার থেকে তাদের ছলনা দূরীভূত না কর তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব, ফলে আমি হয়ে যাব অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফ বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! এই নারীগণ আমাকে যাহার প্রতি আহ্বান করিতেছে তাহা অপেক্ষা কারাগার আমার নিকট অধিক প্রিয়। আপনি যদি উহাদের ছলনা হইতে আমাকে রক্ষা না করেন তবে আমি উহাদের প্রতি আকৃষ্ট হইয়া পড়িব এবং অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হইব।’

আবদুস শহীদ নাসিম

ইউসুফ (মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করে) বললো: ‘আমার প্রভু! এই নারীরা আমাকে যে কাজের দিকে ডাকছে, তা থেকে কারাগারই আমার অধিক প্রিয়। (প্রভু!) তুমি যদি এদের ছলনা - চক্রান্ত আমার থেকে সরিয়ে না নাও, তবে তো আমি এদের ছলনার ফাঁদে ফেসে যাবো আর অন্তরভুক্ত হয়ে পড়বো জাহিলদের!’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর তার পালনকর্তা তার দোয়া কবুল করে নিলেন। অতঃপর তাদের চক্রান্ত প্রতিহত করলেন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।

জহুরুল হক

অতএব তাঁর প্রভু তাঁর প্রতি সাড়া দিলেন আর তাঁর থেকে তাদের ছলাকলা হটিয়ে দিলেন। নিঃসন্দেহ তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তাহার প্রতিপালক তাহার আহ্বানে সাড়া দিলেন এবং তাহাকে উহাদের ছলনা হইতে রক্ষা করিলেন। তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তার প্রভু (মহান ) তার দোয়া কবুল করেন এবং সেই নারীদের ছলনা - ষড়যন্ত্র থেকে তাকে রক্ষা করেন। (কারণ) তিনি তো সবই শুনেন, সবই জানেন।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর এসব নিদর্শন দেখার পর তারা তাকে কিছুদিন কারাগারে রাখা সমীচীন মনে করল।

জহুরুল হক

অতঃপর সাক্ষীসাবুদ তারা দেখার পরে তাদের মনে হল তাঁকে কিছুকালের জন্য কারারুদ্ধ করাই উচিত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিদর্শনাবলী দেখিবার পর উহাদের মনে হইল যে, তাহাকে কিছু কালের জন্য কারারুদ্ধ করিতেই হইবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(ইউসুফের নিষ্কলুষতা আর নিজেদের নারীদের ছিনালি ও অসতিপনার) পরিস্থিতি ও প্রামাণাদি দেখার পর তারা ভাবে, কিছুকালের জন্যে অবশ্যি ইউসুফকে জেলে রাখতে হবে (এবং তারা তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়)।

মুহিউদ্দীন খান

তাঁর সাথে কারাগারে দুজন যুবক প্রবেশ করল। তাদের একজন বললঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি মদ নিঙড়াচ্ছি। অপরজন বললঃ আমি দেখলাম যে, নিজ মাথায় রুটি বহন করছি। তা থেকে পাখী ঠুকরিয়ে খাচ্ছে। আমাদের কে এর ব্যাখ্যা বলুন। আমরা আপনাকে সৎকর্মশীল দেখতে পাচ্ছি।

জহুরুল হক

আর তাঁর সঙ্গে দু’জন যুবক জেলে ঢুকেছিল। তাদের একজন বললে, ''আমি দেখলাম মদ তৈরি করছি।’’ আর অন্যজন বললে, ''আমি দেখলাম আমি আমার মাথার উপরে রুটি বয়ে নিচ্ছি, তা থেকে পাখিরা খাচ্ছে।’’ ''আমাদের এর তাৎপর্য বলে দাও, আমরা নিশ্চয়ই তোমাকে দেখছি ভালো - লোকদের মধ্যেকার।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহার সঙ্গে দুইজন যুবক কারাগারে প্রবেশ করিল। উহাদের একজন বলিল, ‘আমি স্বপ্নে দেখিলাম, আমি আংগুর নিংড়াইয়া রস বাহির করিতেছি’, এবং অপরজন বলিল, ‘আমি স্বপ্নে দেখিলাম, আমি আমার মস্তকে রুটি বহন করিতেছি এবং পাখি উহা হইতে খাইতেছে। আমাদেরকে তুমি ইহার তাৎপর্য জানাইয়া দাও, আমরা তো তোমাকে সৎকর্মপরায়ণ দেখিতেছি।’

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তার সাথে কারাগারে প্রবেশ করে দুই যুবক (রাজ কর্মচারি)। একদিন (তারা ইউসুফের কাছে আসে এবং) তাদের একজন বলে: ‘আমি স্বপ্ন দেখেছি, আমি মদ তৈরি করছি।’ আর অপরজন বলে: ‘আমি স্বপ্ন দেখেছি, আমার মাথায় রুটি বহন করছি আর তা থেকে (ঠোকর মেরে মেরে) খাচ্ছে পাখিরা।’ (দুজনেই বললো:) ‘আমাদেরকে এর তা’বির (তাৎপর্য) বলে দিন। আমাদের দৃষ্টিতে আপনি একজন অতি উত্তম মানুষ।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ তোমাদেরকে প্রত্যহ যে খাদ্য দেয়া হয়, তা তোমাদের কাছে আসার আগেই আমি তার ব্যাখ্যা বলে দেব। এ জ্ঞান আমার পালনকর্তা আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। আমি ঐসব লোকের ধর্ম পরিত্যাগ করেছি যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না এবং পরকালে অবিশ্বাসী।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমাদের যা খেতে দেয়া হয় সে খাদ্য তোমাদের কাছে এসে পৌঁছুবেনা না, অথচ তোমাদের কাছে তা আসার আগেই আমি তোমাদের বলে দেব এর তাৎপর্য। এটি হচ্ছে আমার প্রভু আমাকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে। আমি নিশ্চয়ই পরিত্যাগ করেছি সেই লোকদের ধর্মমত যারা ‌তে বিশ্বাস করে না, আর তারা নিজেরাই পরকালেও অবিশ্বাসী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফ বলিল, ‘তোমাদেরকে যে খাদ্য দেওয়া হয় তাহা আসিবার পূর্বেই আমি তোমাদেরকে স্বপ্নের তাৎপর্য জানাইয়া দিব। আমি যাহা তোমাদেরকে বলিব তাহা, আমার প্রতিপালক আমাকে যাহা শিক্ষা দিয়াছেন তাহা হইতে বলিব। যে সম্প্রদায় আল্লাহে বিশ্বাস করে না ও আখিরাতে অবিশ্বাসী আমি তাহাদের মতবাদ বর্জন করিয়াছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইউসুফ (তাদের কথা শুনে) বললো: ‘‘তোমাদের যে খাবার এখানে দেয়া হয়, তা আসার আগেই আমি তোমাদের স্বপ্নের তাৎপর্য বলে দেবো। (তাই এর মধ্যে তোমরা কয়েকটি জরুরি কথা শুনো), আমি যে কথাগুলো তোমাদের বলবো, সেগুলো আমার প্রভু () আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। আমি বর্জন করেছি সেইসব লোকদের মত ও পথ, যারা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখেনা এবং আখিরাতের প্রতি অবিশ্বাসী।’’

মুহিউদ্দীন খান

আমি আপন পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুবের ধর্ম অনুসরণ করছি। আমাদের জন্য শোভা পায় না যে, কোন বস্তুকে আল্লাহর অংশীদার করি। এটা আমাদের প্রতি এবং অন্য সব লোকের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ। কিন্ত অধিকাংশ লোক অনুগ্রহ স্বীকার করে না।

জহুরুল হক

''আর আমি অনুসরণ করি আমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম ও ইসহাক ও ইয়াকুবের ধর্মমত। এটি আমাদের জন্য নয় যে আমরা ‌র সঙ্গে কোনো ধরনের অংশী দাঁড় করাব। এটি আমাদের প্রতি ‌র অনুগ্রহ - প্রাচুর্যের ফলে আর মানবগোষ্ঠীর প্রতিও, কিন্তু অধিকাংশ লোকেরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি আমার পিতৃপুরুষ ইব্‌রাহীম, ইস্‌হাক এবং ইয়া‘কূবের মতবাদ অনুসরণ করি। ‌র সঙ্গে কোন বস্তুকে শরীক করা আমাদের কাজ নয়। ইহা আমাদের ও সমস্ত মানুষের প্রতি ‌র অনুগ্রহ; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘আমি অনুসরণ করছি আমার পিতৃপুরুষ ইবরাহিম, ইসহাক, ও ইয়াকুবের মতাদর্শ। (সেই আদর্শ হলো:) আমরা আল্লাহর সাথে কারো কোনো অংশিদারিত্ব আরোপ করতে পারিনা। আসলে এটা আমাদের এবং গোটা মানবজাতির প্রতি আল্লাহর এক বিরাট অনুগ্রহ (যে, তিনি মানুষকে একমাত্র তাঁর ছাড়া আর কারো দাস হিসেবে সৃষ্টি করেননি।) তা সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষই তাঁর শোকর আদায় করেনা।’’

মুহিউদ্দীন খান

হে কারাগারের সঙ্গীরা! পৃথক পৃথক অনেক উপাস্য ভাল, না পরাক্রমশালী এক ?

জহুরুল হক

''হে আমার জেলখানার সঙ্গিদ্বয়! ভিন্ন ভিন্ন প্রভুসব ভাল, না একক সর্বশক্তিমান ‌?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে কারা - সঙ্গীদ্বয়! ভিন্ন ভিন্ন বহু প্রতিপালক শ্রেয়, না পরাক্রামশালী এক ?

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘হে আমার প্রিয় কারা - সাথিরা! (তোমরাই বলো:) বহু স্বতন্ত্র (দুর্বল - অক্ষম) খোদা ভালো, নাকি এক দুর্জয় অপ্রতিরোধ্য মহান ভালো?’’

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে নিছক কতগুলো নামের এবাদত কর, সেগুলো তোমরা এবং তোমাদের বাপ - দাদারা সাব্যস্ত করে নিয়েছে। এদের কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। ছাড়া কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কারও এবাদত করো না। এটাই সরল পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না।

জহুরুল হক

''তাঁকে ছেড়ে দিয়ে তোমরা যাদের উপাসনা কর তারা নামাবলী মাত্র যা তোমরা নামকরণ করেছ - - তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষরা, যেজন্যে কোনো দলিল - দস্তাবেজ পাঠান নি। বিধান দেবার অধিকার শুধু ‌র। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে তোমরা তাঁকে ছাড়া আর কারোর উপাসনা করবে না। এই হচ্ছে সঠিক ধর্ম, কিন্তু অধিকাংশ লোকেই জানে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তাঁহাকে ছাড়িয়া তোমরা কেবল কতকগুলি নামের ‘ইবাদত করিতেছ, যেই নামগুলি তোমাদের পিতৃপুরুষ ও তোমরা রাখিয়াছ; এইগুলির কোন প্রমাণ ‌ পাঠান নাই। বিধান দিবার অধিকার কেবল ‌রই। তিনি আদেশ দিয়াছেন অন্য কাহারও ‘ইবাদত না করিতে, কেবল তাঁহার ব্যতীত; ইহাই শাশ্বত দীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ইহা অবগত নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘তাঁকে ছাড়া তোমরা যাদের ইবাদত - উপাসনা করছো, তারা তো তোমাদের আর তোমাদের পিতৃপুরুষদের আরোপিত কতোগুলো নাম ছাড়া আর কিছু নয়। এদের (খোদা হবার) পক্ষে তো কোনো অনুমতি - অধিকার প্রদান করেননি। আল্লাহর ছাড়া আর কারো কোনো কর্তৃত্ব নেই। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন: তোমরা তাঁর ছাড়া আর কারো ইবাদত (আনুগত্য, দাসত্ব ও উপাসনা) করোনা। এটাই জীবন যাপনের সরল সঠিক পথ। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই বিষয়টি জানেনা।’’

মুহিউদ্দীন খান

হে কারাগারের সঙ্গীরা! তোমাদের একজন আপন প্রভুকে মদ্যপান করাবে এবং দ্বিতীয়জন, তাকে শুলে চড়ানো হবে। অতঃপর তার মস্তক থেকে পাখী আহার করবে। তোমরা যে, বিষয়ে জানার আগ্রহী তার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।

জহুরুল হক

''হে আমার কারাগারের সঙ্গিদ্বয়! তোমাদের একজন সন্বন্ধে - - সে তার প্রভুকে সুরা পান করাবে, কিন্তু অন্যজনের ক্ষেত্রে - - সে তখন শূলবিদ্ধ হয়ে মরবে, তার ফলে পাখিরা তার মাথা থেকে খাবে। তোমরা যার সন্বন্ধে জিজ্ঞাসা করছিলে সে - বিষয় নিস্পত্তি হয়ে গিয়েছে!’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে কারা - সঙ্গীদ্বয়! তোমাদের দুইজনের একজন তাহার প্রভুকে মদ্য পান করাইবে এবং অপরজন শূলবিদ্ধ হইবে; অতঃপর তাহার মস্তক হইতে পাখি আহার করিবে। যে বিষয়ে তোমরা জানিতে চাহিয়াছ তাহার সিদ্ধান্ত হইয়া গিয়াছে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘হে আমার কারা - সাথিরা! (তোমাদের স্বপ্নের তাৎপর্য হলো:) তোমাদের একজন (চাকুরিতে ফিরে গিয়ে) নিজের মনিবকে মদ্যপান করাবে, আর অপরজনকে শুলবিদ্ধ করা হবে এবং পাখিরা তার মাথা ঠুকরে ঠুকরে খাবে। - তোমরা যা জানতে চেয়েছিলে এ হলো তার ফায়সালা।’’

মুহিউদ্দীন খান

যে ব্যক্তি সম্পর্কে ধারণা ছিল যে, সে মুক্তি পাবে, তাকে ইউসুফ বলে দিলঃ আপন প্রভুর কাছে আমার আলোচনা করবে। অতঃপর শয়তান তাকে প্রভুর কাছে আলোচনার কথা ভুলিয়ে দিল। ফলে তাঁকে কয়েক বছর কারাগারে থাকতে হল।

জহুরুল হক

আর দুইজনের মধ্যে যাকে তিনি জানতেন যে সে মুক্তি পাবে তাকে তিনি বললেন, ''তোমার প্রভুর কাছে আমার কথা বলো।’’ কিন্তু শয়তান তাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল তার প্রভুর কাছে স্মরণ করিয়ে দিতে, তাই তিনি কারাগারে থাকলেন আরো কয়েক বছর।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফ উহাদের মধ্যে যে মুক্তি পাইবে মনে করিল, তাহাকে বলিল, ‘তোমার প্রভুর নিকট আমার কথা বলিও’, কিন্তু শয়তান উহাকে উহার প্রভুর নিকট তাহার বিষয় বলিবার কথা ভুলাইয়া দিল; সুতরাং ইউসুফ কয়েক বৎসর কারাগারে রহিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

দুই কারা সাথির মধ্যে যে মুক্তি পেয়ে যাবে বলে ইউসুফ মনে করলো, সে তাকে বললো: ‘তোমার মনিবের (রাজার) সাথে আমার কথা আলোচনা ক’রো।’ কিন্তু শয়তান তার মনিবের কাছে তার সম্পর্কে বলতে ভুলিয়ে দেয়। ফলে ইউসুফ কারাগারে আরো ক’বছর পড়ে থাকে।

মুহিউদ্দীন খান

বাদশাহ বললঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম, সাতটি মোটাতাজা গাভী - এদেরকে সাতটি শীর্ণ গাভী খেয়ে যাচ্ছে এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অন্যগুলো শুষ্ক। হে পরিষদবর্গ! তোমরা আমাকে আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা বল, যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যায় পারদর্শী হয়ে থাক।

জহুরুল হক

আর রাজা বললেন - - ''আমি নিশ্চয়ই দেখলাম সাতটি হৃস্পুষ্ট গরু, তাদের খেয়ে ফেলল সাতটি জীর্ণশীর্ণ, আর সাতটা সবুজ শীষ আর অপর শুক্‌নো। ওহে প্রধানগণ! আমার স্বরে তাৎপর্য আমাকে বলে দাও যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে পারো।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

রাজা বলিল, ‘আমি স্বপ্নে দেখিলাম, সাতটি স্থূলকায় গাভী, উহাদেরকে সাতটি শীর্ণকায় গাভী ভক্ষণ করিতেছে এবং দেখিলাম সাতটি সবুজ শীষ ও অপর সাতটি শুষ্ক। হে প্রধানগণ! যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যা করিতে পার তবে আমার স্বপ্ন সম্বন্ধে অভিমত দাও।’

আবদুস শহীদ নাসিম

একদিন রাজা (তার সভাসদদের) বললো: ‘আমি স্বপ্ন দেখেছি, সাতটি মোটাতাজা গরু। তাদের খেয়ে ফেলছে সাতটি শুকনো গরু। (আরো দেখেছি, ফসলের) সবুজ সাতটি শীষ আর শুকনো সাতটি শীষ। - হে আমার সভাসদেরা! তোমরা যদি স্বপ্নের তা’বির জানো, তবে আমার স্বপ্নের তাৎপর্য বলো।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ এটা কল্পনাপ্রসূত স্বপ্ন। এরূপ স্বপ্নের ব্যাখ্যা আমাদের নেই।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''এলোমেলো স্বপ্ন, আর স্বপ্নের মর্মোদ্ধারে আমরা অভিজ্ঞ নই।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘ইহা অর্থহীন স্বপ্ন এবং আমরা এইরূপ স্বপ্ন ব্যাখ্যায় অভিজ্ঞ নই।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘এ এক তালগোল পাকানো (mixed up) বাতিল স্বপ্ন। তাছাড়া আমরা স্বপ্ন ব্যাখ্যায় পারদর্শী নই।’

মুহিউদ্দীন খান

দু’জন কারারুদ্ধের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি মুক্তি পেয়েছিল এবং দীর্ঘকাল পর স্মরণ হলে, সে বলল, আমি তোমাদেরকে এর ব্যাখ্যা বলছি। তোমরা আমাকে প্রেরণ কর।

জহুরুল হক

আর সেই দুইজনের যে মুক্তি পেয়েছিল ও দীর্ঘকাল পরে যার মনে পড়ল সে বললে - - ''আমিই এর তাৎপর্য আপনাদের জানিয়ে দেব, সেজন্যে আমাকে পাঠিয়ে দিন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

দুইজন কারারুদ্ধের মধ্যে যে মুক্তি পাইয়াছিল এবং দীর্ঘকাল পরে যাহার স্মরণ হইল সে বলিল, ‘আমি ইহার তাৎপর্য তোমাদেরকে জানাইয়া দিব। সুতরাং তোমরা আমাকে পাঠাও।’

আবদুস শহীদ নাসিম

ইউসুফের কারা সাথিদের মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল, দীর্ঘকাল পর এ সময় তার (ইউসুফের) কথা স্মরণ হলো। সে (রাজ সভায়) বললো: ‘আমি এ স্বপ্নের তাৎপর্য আপনাদের বলে দেবো, আমাকে (কারাগারে) পাঠান।’

মুহিউদ্দীন খান

সে তথায় পৌঁছে বললঃ হে ইউসুফ! হে সত্যবাদী! সাতটি মোটাতাজা গাভী - তাদেরকে খাচ্ছে সাতটি শীর্ণ গাভী এবং সাতটি সবুজ শীর্ষ ও অন্যগুলো শুষ্ক; আপনি আমাদেরকে এ স্বপ্ন সম্পর্কে পথনির্দেশ প্রদান করুনঃ যাতে আমি তাদের কাছে ফিরে গিয়ে তাদের অবগত করাতে পারি।

জহুরুল হক

''ইউসুফ! হে সত্যবাদী! আমাদের জন্য ব্যাখ্যা করে দাও সাতটি মোটাসোটা গরু যাদের খেয়ে ফেলল রোগা - পাতলা সাতটি, এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অন্যগুলো শুক্‌নো, - - যেন আমি লোকদের কাছে ফিরে যেতে পারি যাতে তারা জানতে পারে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘হে ইউসুফ! হে সত্যবাদী! সাতটি স্থূলকায় গাভী, উহাদেরকে সাতটি শীর্ণকায় গাভী ভক্ষণ করিতেছে এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অপর সাতটি শুষ্ক শীষ সম্বন্ধে তুমি আমাদেরকে ব্যাখ্যা দাও, যাহাতে আমি লোকদের নিকট ফিরিয়া যাইতে পারি ও যাহাতে তাহারা অবগত হইতে পারে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

(সে কারাগারে এসে ইউসুফকে বললো:) হে ইউসুফ! হে সত্যবাদীতার প্রতীক! এই স্বপ্নের তাৎপর্য আমাদের বলে দিন: ‘সাতটি মোটাতাজা গরু। তাদের খেয়ে ফেলছে সাতটি শুকনো গরু। আর ফসলের সবুজ সাতটি শীষ এবং শুকনো সাতটি শীষ।’ এর তাৎপর্য বলে দিন, যাতে করে আমি ফিরে গিয়ে লোকদের বলতে পারি এবং তারা যেনো (আপনার সম্পর্কে) জানতে পারে।’

মুহিউদ্দীন খান

বললঃ তোমরা সাত বছর উত্তম রূপে চাষাবাদ করবে। অতঃপর যা কাটবে, তার মধ্যে যে সামান্য পরিমাণ তোমরা খাবে তা ছাড়া অবশিষ্ট শস্য শীষ সমেত রেখে দেবে।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমরা সাত বছর যথারীতি ক্ষেত করে যাবে, আর তোমরা যা তুলবে তা রেখে দেবে তার শীষের মধ্যে, শুধু তা থেকে যে সামান্যটুকু তোমরা খাবে তা ছাড়া।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফ বলিল, ‘তোমরা সাত বৎসর একাদিক্রমে চাষ করিবে, অতঃপর তোমরা যে শস্য কর্তন করিবে উহার মধ্যে যে সামান্য পরিমাণ তোমরা ভক্ষণ করিবে, তাহা ব্যতীত সমস্ত শীষসমেত রাখিয়া দিবে;

আবদুস শহীদ নাসিম

ইউসুফ স্বপ্নের এই তাৎপর্য বলে দিলো: ‘‘তোমরা সাত বছর লাগাতার চাষাবাদ করে যাবে। এ (সাত বছর) সময় তোমরা যে ফসল কাটবে সেগুলো শীষ সমেত রেখে দেবে, তবে শুধুমাত্র তোমাদের আহারের জন্যে যে পরিমাণ দরকার, কেবল তাই শীষ থেকে ছাড়িয়ে নেবে।’’

মুহিউদ্দীন খান

এবং এরপরে আসবে দূর্ভিক্ষের সাত বছর; তোমরা এ দিনের জন্যে যা রেখেছিলে, তা খেয়ে যাবে, কিন্তু অল্প পরিমাণ ব্যতীত, যা তোমরা তুলে রাখবে।

জহুরুল হক

''তখন এর পরে আসবে সাতটি কঠোর, তা খেয়ে ফেলবে সে - ক’টির জন্য তোমরা যা এগিয়ে দেবে, কেবল সামান্য কিছু ছাড়া যা তোমরা সংরক্ষণ কর।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘ইহার পর আসিবে সাতটি কঠিন বৎসর, এই সাত বৎসর, যাহা পূর্বে সঞ্চয় করিয়া রাখিবে, লোকে তাহা খাইবে; কেবল সামান্য কিছু যাহা তোমরা সংরক্ষণ করিবে, তাহা ব্যতীত।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘তারপর আসবে কঠিন (দুর্ভিক্ষের) সাত বছর। এসময় জনগণ তোমাদের পূর্ব মওজুদকৃত ফসল খাবে। তবে এ থেকে তোমরা সঞ্চয়ে রাখলে সামান্যই রাখতে পারবে।’’

মুহিউদ্দীন খান

এর পরেই আসবে একবছর - এতে মানুষের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হবে এবং এতে তারা রস নিঙড়াবে।

জহুরুল হক

''আর তার পরে আসবে এক বছর যাতে লোকেরা পাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত, আর তাতে তারা পিযবে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘অতঃপর আসিবে এক বৎসর, সেই বৎসর মানুষের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত হইবে এবং সেই বৎসর মানুষ প্রচুর ফলের রস নিংড়াইবে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘এরপর আসবে এমন একটি বছর, যে বছর মানুষ লাভ করবে প্রচুর বৃষ্টিপাত আর নিংড়াবে প্রচুর ফলের রস।’’

মুহিউদ্দীন খান

বাদশাহ বললঃ ফিরে যাও তোমাদের প্রভুর কাছে এবং জিজ্ঞেস কর তাকে ঐ মহিলার স্বরূপ কি, যারা স্বীয় হস্ত কর্তন করেছিল! আমার পালনকর্তা তো তাদের ছলনা সবই জানেন।

জহুরুল হক

আর রাজা বললেন - - ''তাকে আমার কাছে নিয়ে এস।’’ সুতরাং যখন দূত তাঁর কাছে এল, তিনি বললেন - - ''তোমার মনিবের কাছে ফিরে যাও এবং তাঁকে জিজ্ঞেস কর সেই নারীদের কি হল যারা তাদের হাত কেটেছিল। নিঃসন্দেহ আমাব প্রভু, তাদের ফন্দিফিকির সন্বন্ধে পূর্ণ ওয়াকিফহাল।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

রাজা বলিল, ‘তোমরা ইউসুফকে আমার নিকট লইয়া আস।’ যখন দূত তাহার নিকট উপস্থিত হইল তখন সে বলিল, ‘তুমি তোমার প্রভুর নিকট ফিরিয়া যাও এবং তাহাকে জিজ্ঞাসা কর, যে নারীগণ হাত কাটিয়া ফেলিয়াছিল তাহাদের অবস্থা কী! নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক তাহাদের ছলনা সম্যক অবগত।’

আবদুস শহীদ নাসিম

(স্বপ্নের এই তা’বির শোনার পর রাজা ব্যতিব্যস্ত হয়ে) বললো: ‘তোমরা তাকে (ইউসুফকে) আমার কাছে নিয়ে আসো।’ রাজার দূত (ইউসুফের কাছে) উপস্থিত হলে সে বললো: ‘ফিরে যাও তোমার মনিবের (রাজার) কাছে। তাকে জিজ্ঞেস করো, যে নারীরা নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল, তাদের (চক্রান্তের) ব্যাপারে কী (ফায়সালা) করা হয়েছে? আমার প্রভু ( তায়ালা) তো তাদের চক্রান্ত সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত আছেন।’

মুহিউদ্দীন খান

বাদশাহ মহিলাদেরকে বললেনঃ তোমাদের হাল - হাকিকত কি, যখন তোমরা ইউসুফকে আত্মসংবরণ থেকে ফুসলিয়েছিলে? তারা বললঃ মহান, আমরা তার সম্পর্কে মন্দ কিছু জানি না। আযীয - পত্মি বললঃ এখন সত্য কথা প্রকাশ হয়ে গেছে। আমিই তাকে আত্মসংবরণ থেকে ফুসলিয়েছিলাম এবং সে সত্যবাদী।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমাদের কি হয়েছিল যখন তোমরা ইউসুফকে কামনা করেছিলে তার অন্তরঙ্গতার?’’ তারা বললে - - ‌র কি নিখুঁত সৃষ্টি! আমরা ওর মধ্যে কোনো দোষের কথা জানি না।’’ নগর - প্রধানের স্ত্রী বললে - - ''এক্ষণে সত্য প্রকাশ পেয়েছে, আমিই তাকে কামনা করেছিলাম তার অন্তরঙ্গতার, আর নিঃসন্দেহ সে অবশ্যই ছিল সত্যপরায়ণদের মধ্যেকার।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

রাজা নারীগণকে বলিল, ‘যখন তোমরা ইউসুফ হইতে অসৎ কর্ম কামনা করিয়াছিলে, তখন তোমাদের কী হইয়াছিল?’ তাহারা বলিল, ‘অদ্ভুত ‌র মহাত্ম্য! আমরা উহার মধ্যে কোন দোষ দেখি নাই।’ ‘আযীযের স্ত্রী বলিল, ‘এক্ষণে সত্য প্রকাশ হইল, আমিই তাহাকে ফুসলাইয়াছিলাম, নিশ্চয়ই সে তো সত্যবাদী।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন রাজা তাদের ডেকে জিজ্ঞেস করলো: ‘হে নারীরা! তোমরা যখন ইউসুফকে অসৎ কর্মে ফাঁসাতে চেয়েছিলে, তোমাদের তখনকার ব্যাপারটা কী ছিলো?’ তারা বললো: ‘আল্লাহর কী মহিমা! আমরা তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অসৎ প্রবণতা দেখিনি।’ (এবার) আযীযের স্ত্রী বলে উঠলো: ‘এখন (সবার কাছে) সত্য প্রকাশ হয়ে পড়েছে। মূলত, আমিই তাকে অসৎ কাজে ফাঁসাতে চেষ্টা করেছিলাম। আর সে অবশ্য অবশ্যি সত্যবাদী।’

মুহিউদ্দীন খান

ইউসুফ বললেনঃ এটা এজন্য, যাতে আযীয জেনে নেয় যে, আমি গোপনে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি। আরও এই যে, বিশ্বাসঘাতকদের প্রতারণাকে এগুতে দেন না।

জহুরুল হক

''এটিই, যেন তিনি জানতে পারেন যে আমি গোপনে তাঁর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করি নি। আর নিঃসন্দেহ বিশ্বাসহন্তাদের ছলাকলা পরিচালিত করেন না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা এইজন্য যে, যাহাতে সে জানিতে পারে, তাহার অনুপস্থিতিতে আমি তাহার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করি নাই এবং নিশ্চয়ই ‌ বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্র সফল করেন না।’

আবদুস শহীদ নাসিম

(সত্য প্রকাশিত হওয়ায় ইউসুফ বললো:) ‘‘আমি এ জন্যে বিষয়টি তদন্ত (inquiry) করতে বলেছি, যাতে করে তিনি (আযীয মিশর) জানতে পারেন, আমি তার অনুপস্থিতিতে তার খেয়ানত করিনি। আর তো কিছুতেই খিয়ানতকারীদের ষড়যন্ত্র সফলতায় পৌঁছান না।’’

মুহিউদ্দীন খান

আমি নিজেকে নির্দোষ বলি না। নিশ্চয় মানুষের মন মন্দ কর্মপ্রবণ কিন্তু সে নয় - আমার পালনকর্তা যার প্রতি অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয় আমার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু।

জহুরুল হক

''আমি আমার নিজেকে মুক্ত বলি না, নিঃসন্দেহ মানুষমাত্রেরই মন্দের দিকে প্রবণতা রয়েছে, শুধু যাদের প্রতি আমার প্রভুর করুণা রয়েছে তারা ভিন্ন। নিঃসন্দেহ আমার প্রভু পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না, মানুষের মন অবশ্যই মন্দ কর্মপ্রবণ, কিন্তু সে নয়, যাহার প্রতি আমার প্রতিপালক দয়া করেন। আমার প্রতিপালক তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘আমি আমার নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চাইছিনা, মানুষের নফস তো মন্দ কাজে প্ররোচিত করেই, তবে আমার প্রভু যদি কারো প্রতি দয়া করেন, সে - ই কেবল (এ প্ররোচনা থেকে) বাঁচতে পারে। অবশ্যি আমার প্রভু বড় ক্ষমাশীল, অতীব দয়ালু।’’

মুহিউদ্দীন খান

বাদশাহ বললঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। আমি তাকে নিজের বিশ্বস্ত সহচর করে রাখব। অতঃপর যখন তার সাথে মতবিনিময় করল, তখন বললঃ নিশ্চয়ই আপনি আমার কাছে আজ থেকে বিশ্বস্ত হিসাবে মর্যাদার স্থান লাভ করেছেন।

জহুরুল হক

আর রাজা বললেন - - ''তাঁকে আমার কাছে নিয়ে এস, আমি তাঁকে আমার নিজের জন্য একান্তভাবে গ্রহণ করব।’’ সুতরাং তিনি যখন তাঁর সাথে আলাপ করলেন তখন বললেন - - ''আপনি আজ নিশ্চয়ই হলেন আমাদের সমক্ষে সুপ্রতিষ্ঠিত, বিশ্বাসভাজন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

রাজা বলিল, ‘ইউসুফকে আমার নিকট লইয়া আস; আমি তাহাকে আমার একান্ত সহচর নিযুক্ত করিব।’ অতঃপর রাজা যখন তাহার সঙ্গে কথা বলিল, তখন রাজা বলিল, ‘আজ তুমি তো আমাদের নিকট মর্যাদাশীল, বিশ্বাসভাজন হইলে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

রাজা বললো: ‘এবার ওকে আমার কাছে নিয়ে আসো। আমি তাকে নিজের জন্যে (ব্যক্তিগত সহকারি বা উপদেষ্টা) নিযুক্ত করবো।’ অতপর সে (রাজা) যখন তার সাথে কথা বললো, তখন (তার যোগ্যতায় বিমুগ্ধ হয়ে) বলে উঠলো: ‘(ইউসুফ) আজ থেকে তুমি আমাদের কাছে উচ্চ মর্যাদাশীল (high in rank) এবং পূর্ণ আস্থাভাজন (fully trusted)।’

মুহিউদ্দীন খান

ইউসুফ বললঃ আমাকে দেশের ধন - ভান্ডারে নিযুক্ত করুন। আমি বিশ্বস্ত রক্ষক ও অধিক জ্ঞানবান।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমাকে দেশের ধনসম্পদের দায়িত্বে নিয়োগ করুন। নিঃসন্দেহ আমি সুরক্ষক, সুবিবেচক।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফ বলিল, ‘আমাকে দেশের ধনভাণ্ডারের উপর কর্তৃত্ব প্রদান করুন; আমি তো উত্তম রক্ষক, সুবিজ্ঞ।’

আবদুস শহীদ নাসিম

ইউসুফ বললো: ‘আমাকে দেশের সামগ্রিক ভান্ডারের উপর কর্তৃত্ব প্রদান করুন। আমি পূর্ণজ্ঞান ও দক্ষতার সাথে সবকিছু সংরক্ষণ ও পরিচালনা করবো।’

মুহিউদ্দীন খান

এমনিভাবে আমি ইউসুফকে সে দেশের বুকে প্রতিষ্ঠা দান করেছি। সে তথায় যেখানে ইচ্ছা স্থান করে নিতে পারত। আমি স্বীয় রহমত যাকে ইচ্ছা পৌছে দেই এবং আমি পূণ্যবানদের প্রতিদান বিনষ্ট করি না।

জহুরুল হক

আর এইভাবে আমরা ইউসুফকে প্রতিষ্ঠিত করলাম দেশে, - - সেখানে তিনি কর্তৃত্ব চালাতেন যেখানে তিনি চাইতেন। আমরা যাকে ইচ্ছা করি আমাদের করুণাদ্বারা হিতসাধন করি, আর সৎকর্মশীলদের কর্মফল আমরা ব্যর্থ করি না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এইভাবে ইউসুফকে আমি সেই দেশে প্রতিষ্ঠিত করিলাম; সে সেই দেশে যথা ইচ্ছা অবস্থান করিতে পারিত। আমি যাহাকে ইচ্ছা তাহার প্রতি দয়া করি; আমি সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করি না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে আমরা ইউসুফকে সে দেশের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রদান করলাম, যাতে করে সারা দেশের যেখানে যখন ইচ্ছা সে অবস্থান করতে পারে। মূলত যাকে ইচ্ছা আমরা আমার করুণাসিক্ত করে থাকি। আর আমরা উত্তম - পুণ্যবান লোকদের পুরস্কৃত করতে কসুর করিনা।

মুহিউদ্দীন খান

এবং ঐ লোকদের জন্য পরকালে প্রতিদান উত্তম যারা ঈমান এনেছে ও সতর্কতা অবলম্বন করে।

জহুরুল হক

আর অবশ্যই পরকালের পুরস্কার আরো ভালো তাদের জন্য যারা বিশ্বাস করে এবং ভয় - ভক্তি অবলন্বন করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা এবং তাহাদের আখিরাতের পুরস্কারই উত্তম।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাছাড়া যারা ঈমানের ভিত্তিতে তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করে, তাদের জন্যে আখিরাতের পুরস্কার অবশ্যি অতি উত্তম।

মুহিউদ্দীন খান

ইউসুফের ভ্রাতারা আগমন করল, অতঃপর তার কাছে উপস্থিত হল। সে তাদেরকে চিনল এবং তারা তাকে চিনল না।

জহুরুল হক

আর ইউসুফের ভাইয়েরা এল এবং তাঁর দরবারে প্রবেশ করল, তিনি তখন তাদের চিনতে পারলেন, কিন্তু তারা তাঁর সন্বন্ধে অজ্ঞাত রইল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফের ভ্রাতাগণ আসিল এবং তাহার নিকট উপস্থিত হইল। সে উহাদেরকে চিনিল, কিন্তু উহারা তাহাকে চিনিতে পারিল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

(পরবর্তী সময়ের কথা,) ইউসুফের ভাইয়েরা (খাদ্য শস্যের জন্যে) মিশরে আসে এবং ইউসুফের কাছে উপস্থিত হয়। ইউসুফ তাদের (দেখেই) চিনে ফেলে, কিন্তু তারা তাকে চিনতে পারেনি।

মুহিউদ্দীন খান

এবং সে যখন তাদেরকে তাদের রসদ প্রস্তুত করে দিল, তখন সে বললঃ তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তোমরা কি দেখ না যে, আমি পুরা মাপ দেই এবং মেহমানদেরকে উত্তম সমাদার করি?

জহুরুল হক

আর তিনি যখন তাদের পরিবেশন করলেন তাদের রসদের দ্বারা তখন তিনি বললেন, ''তোমরা তোমাদের পিতার তরফের তোমাদের ভাইকে আমার কাছে নিয়ে এস। তোমরা কি দেখো নি যে আমি আলবৎ পুরো মাপ দিই এবং আমি ভাল আপ্যায়ণকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং সে যখন উহাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করিয়া দিল তখন সে বলিল, ‘তোমরা আমার নিকট তোমাদের বৈমাত্রেয় ভ্রাতাকে লইয়া আস। তোমরা কি দেখিতেছ না যে, আমি মাপে পূর্ণমাত্রায় দেই এবং আমি উত্তম অতিথিপরায়ণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর সে যখন তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সাজিয়ে দিলো, তখন (যাত্রার প্রাক্কালে তাদের) বললো: ‘‘তোমরা (আবার আসার সময়) তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাই (বিনইয়ামিন) কে আমার কাছে নিয়ে এসো। তোমরা দেখছোনা আমি পাত্র ভরে মেপে দিই, আর আমি একজন উত্তম অতিথি পরায়ণ?’’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যদি তাকে আমার কাছে না আন, তবে আমার কাছে তোমাদের কোন বরাদ্ধ নেই এবং তোমরা আমার কাছে আসতে পারবে না।

জহুরুল হক

''কিন্তু তোমরা যদি তাকে আমার কাছে না আনো তবে তোমাদের জন্য আমার নিকট থেকে কোনো পরিমাপ থাকবে না, এবং তোমরা আমার নিকটবর্তী হয়ো না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘কিন্তু তোমরা যদি তাহাকে আমার নিকট লইয়া না আস তবে আমার নিকট তোমাদের জন্য কোন বরাদ্দ থাকিবে না এবং তোমরা আমার নিকটবর্তী হইবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘(আবার আসার সময়) যদি তাকে না নিয়ে আসো, তবে আমার কাছে তোমাদের জন্যে রসদের কোনো বরাদ্দ থাকবেনা, আর তোমরা আমার কাছেও এসোনা।’’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ আমরা তার সম্পর্কে তার পিতাকে সম্মত করার চেষ্টা করব এবং আমাদেরকে একাজ করতেই হবে।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আমরা আলবৎ চেষ্টা করব তার সন্বন্ধে তার পিতার কাছে এবং আমরা নিশ্চয়ই কাজ করব।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘উহার বিষয়ে আমরা উহার পিতাকে সম্মত করিবার চেষ্টা করিব এবং আমরা নিশ্চয়ই ইহা করিব।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমরা তাকে আনার ব্যাপারে তার পিতাকে সম্মত করার চেষ্টা করবো। আর একাজ আমরা করবোই।’

মুহিউদ্দীন খান

এবং সে ভৃত্যদেরকে বললঃ তাদের পণ্যমূল্য তাদের রসদ - পত্রের মধ্যে রেখে দাও - সম্ভবতঃ তারা গৃহে পৌঁছে তা বুঝতে পারবে, সম্ভবতঃ তারা পুনর্বার আসবে।

জহুরুল হক

আর তিনি তাঁর জোয়ানদের বললেন - - ''তাদের দ্রব্যমূল্য তাদের মালপত্রের ভিতরে রেখে দাও যেন তাদের পরিবারবর্গের কাছে যখন তারা ফিরে যাবে তখন তারা এটা চিনতে পারে, তাহলে তারা ফিরে আসবে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইউসুফ তাহার ভৃত্য - গণকে বলিল, ‘উহারা যে পণ্যমূল্য দিয়াছে তাহা উহাদের মালপত্রের মধ্যে রাখিয়া দাও - যাহাতে স্বজনদের নিকট প্রত্যাবর্তনের পর উহারা তাহা চিনিতে পারে, তাহা হইলে উহারা পুনরায় আসিতে পারে।’

আবদুস শহীদ নাসিম

ইউসুফ তার কর্মচারিদের বললো: ‘তারা খাদ্য শস্যের যে দাম দিয়েছে, সে অর্থ (গোপনে) তাদের পণ্য সামগ্রীর মধ্যেই রেখে দাও। এতে করে তারা নিজেদের পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে (যখন পণ্য সামগ্রী খুলবে, তখন আমরা যে দ্রব্যমূল্য ফেরত দিয়েছি, তা) জানতে পারবে এবং আমাদের দানশীলতা সম্পর্কেও জানতে পারবে। ফলে আশা করা যায় তারা আবার ফিরে আসবে।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা যখন তাদের পিতার কাছে ফিরে এল তখন বললঃ হে আমাদের পিতা, আমাদের জন্যে খাদ্য শস্যের বরাদ্দ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতএব আপনি আমাদের ভাইকে আমাদের সাথে প্রেরণ করুন; যাতে আমরা খাদ্য শস্যের বরাদ্দ আনতে পারি এবং আমরা অবশ্যই তার পুরোপুরি হেফাযত করব।

জহুরুল হক

তারপর তারা যখন তাদের পিতার কাছে ফিরে এল তখন তারা বললে - - ''হে আমাদের আব্বা! আমাদের কাছে পরিমাপ নিষেধ করা হয়েছে, অতএব আমাদের সঙ্গে আমাদের ভাইকেও পাঠিয়ে দাও যেন আমরা পরিমাপ পেতে পারি, আর আমরা তো অবশ্যই তার হেফাজতকারী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর উহারা যখন উহাদের পিতার নিকট ফিরিয়া আসিল, তখন উহারা বলিল, ‘হে আমাদের পিতা! আমাদের জন্য বরাদ্দ নিষিদ্ধ করা হইয়াছে। সুতরাং আমাদের ভ্রাতাকে আমাদের সঙ্গে পাঠাইয়া দিন যাহাতে আমরা রসদ পাইতে পারি। আমরা অবশ্যই তাহার রক্ষণা - বেক্ষণ করিব।’

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর তারা যখন তাদের পিতার কাছে ফিরে এলো, তাকে বললো: ‘বাবা! আমাদের জন্যে খাদ্য শস্যের বরাদ্দ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই আমাদের ভাইকে এবার আমাদের সাথে পাঠান, যাতে করে আমরা খাদ্য শস্যের বরাদ্দ পাই। আমরা অবশ্যি তার হিফাযত করবো।’

মুহিউদ্দীন খান

বললেন, আমি তার সম্পর্কে তোমাদেরকে কি সেরূপ বিশ্বাস করব, যেমন ইতিপূর্বে তার ভাই সম্পর্কে বিশ্বাস করেছিলাম? অতএব উত্তম হেফাযতকারী এবং তিনিই সর্বাধিক দয়ালু।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমাদের কি তার সন্বন্ধে বিশ্বাস করতে পারি যেভাবে তার ভাইয়ের ব্যাপারে এর আগে তোমাদের আমি বিশ্বাস করেছিলাম? বস্তুতঃ ‌ই রক্ষণাবেক্ষণে সর্বশ্রেষ্ঠ, আর তিনিই ফলদানকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফলদাতা।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘আমি কি তোমাদেরকে উহার সম্বন্ধে সেইরূপ বিশ্বাস করিব, যেরূপ বিশ্বাস পূর্বে তোমাদেরকে করিয়া - ছিলাম উহার ভ্রাতা সম্বন্ধে? ‌ই রক্ষণাবেক্ষণে শ্রেষ্ঠ এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বাপ (ইয়াকুব) বললো: ‘ওর ব্যাপারে আমি তোমাদের প্রতি কি সেরকম আস্থা রাখবো, যেরকম আস্থা রেখেছিলাম ইতোপূর্বে ওর ভাইয়ের (ইউসুফের) ব্যাপারে? আল্লাহই সর্বোত্তম হিফাযতকারী এবং তিনিই সব দয়ালুর বড় দয়ালু।’

মুহিউদ্দীন খান

এবং যখন তারা আসবাবপত্র খুলল, তখন দেখতে পেল যে, তাদেরকে তাদের পন্যমুল্য ফেরত দেয়া হয়েছে। তারা বললঃ হে আমাদের পিতা, আমরা আর কি চাইতে পারি। এই আমাদের প্রদত্ত পন্যমূল্য, আমাদেরকে ফেরত দেয়া হয়েছে। এখন আমরা আবার আমাদের পরিবারবর্গের জন্যে রসদ আনব এবং আমাদের ভাইয়ের দেখাশোনা করব এবং এক এক উটের বরাদ্দ খাদ্যশস্য আমরা অতিরিক্ত আনব। ঐ বরাদ্দ সহজ।

জহুরুল হক

আর যখন তারা তাদের জিনিসপত্র খুললো তারা দেখতে পেল তাদের দ্রব্যমূল্য তাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা বললে - - ''হে আমাদের আব্বা! কী আমরা প্রত্যাশা করি? এই তো আমাদের দ্রব্যমূল্য আমাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে, আর আমাদের পরিজনবর্গের জন্য আমরা রসদ আনতে পারব, আর আমাদের ভাইয়ের আমরা হেফাজত করব, আর আমরা এক উটের পরিমাপ অতিরিক্ত আনব। এটি তো এক সামান্য পরিমাপ।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন উহারা উহাদের মালপত্র খুলিল তখন উহারা দেখিতে পাইল উহাদের পণ্যমূল্য উহাদেরকে প্রত্যর্পণ করা হইয়াছে। উহারা বলিল, ‘হে আমাদের পিতা! আমরা আর কি প্রত্যাশা করিতে পারি? ইহা আমাদের প্রদত্ত পণ্যমূল্য, আমাদেরকে প্রত্যর্পণ করা হইয়াছে। পুনরায় আমরা আমাদের পরিবারবর্গকে খাদ্য - সামগ্রী আনিয়া দিব এবং আমরা আমাদের ভ্রাতার রক্ষণাবেক্ষণ করিব এবং আমরা অতিরিক্ত আর এক উষ্ট্রবোঝাই পণ্য আনিব; যাহা আনিয়াছি তাহা পরিমাণে অল্প।’

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর তারা যখন তাদের পণ্য সামগ্রীর (বস্তা) খুললো, দেখতে পেলো, তাদের অর্থকড়ি ফেরত দেয়া হয়েছে। তখন তারা (আনন্দে চিৎকার করে) বলে উঠলো: ‘বাবা! আমরা আর কী চাই! এই যে দেখুন, আমাদের অর্থকড়ি ফেরত দেয়া হয়েছে। এখন আমরা আমাদের পরিজনকে (আরো) খাদ্যশস্য এনে দিতে পারবো। আমরা অবশ্যি আমাদের ভাইয়ের হিফাযত করবো এবং অতিরিক্ত এক উট (বিনইয়ামিনের উট) বোঝাই করে খাদ্য শস্য আনবো। এই পরিমাণ অধিক শস্য দেয়া (মিশর শাসকের জন্যে) খুবই সহজ।

মুহিউদ্দীন খান

বললেন, তাকে ততক্ষণ তোমাদের সাথে পাঠাব না, যতক্ষণ তোমরা আমাকে আল্লাহর নামে অঙ্গীকার না দাও যে, তাকে অবশ্যই আমার কাছে পৌঁছে দেবে; কিন্তু যদি তোমরা সবাই একান্তই অসহায় না হয়ে যাও। অতঃপর যখন সবাই তাঁকে অঙ্গীকার দিল, তখন তিনি বললেনঃ আমাদের মধ্যে যা কথাবার্তা হলো সে ব্যাপারে আল্লাহই মধ্যস্থ রইলেন।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমি তাকে কিছুতেই তোমাদের সাথে পাঠাব না যতক্ষণ না তোমরা আমার কাছে ‌র নামে ওয়াদা কর যে তোমরা নিশ্চয় আমার কাছে তাকে ফিরিয়ে আনবে, যদি না তোমরা একান্ত অসহায় হও।’’ অতএব তারা যখন তাঁকে তাদের প্রতি‌শ্রুতি দিল তখন তিনি বললেন - - ''আমরা যা বলছি তার উপরে ‌ই কর্ণধার।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পিতা বলিল, ‘আমি উহাকে কখনই তোমাদের সঙ্গে পাঠাইব না যতক্ষণ না তোমরা ‌র নামে অঙ্গীকার কর যে, তোমরা উহাকে আমার নিকট লইয়া আসিবেই, অবশ্য যদি তোমরা একান্ত অসহায় হইয়া না পড়।’ অতঃপর যখন উহারা তাহার নিকট প্রতিজ্ঞা করিল তখন সে বলিল, ‘আমরা যে বিষয়ে কথা বলিতেছি, ‌ তাহার বিধায়ক।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের পিতা বললো: ‘আমি ওকে কখনো তোমাদের সাথে পাঠাবোনা, যতোক্ষণ না তোমরা এই মর্মে আল্লাহর কসম খেয়ে আমাকে কথা দেবে যে, তোমরা অবশ্যি তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনবে। তবে তোমরা নিজেরাই আক্রান্ত হয়ে পড়লে ভিন্ন কথা।’ অতপর তারা যখন এই মর্মে শপথ করে তাকে কথা দিলো, তখন সে বললো: ‘দেখো, আমরা যে বিষয়ে কথা স্থির করলাম, তার সাক্ষী স্বয়ং ।’

মুহিউদ্দীন খান

ইয়াকুব বললেনঃ হে আমার বৎসগণ! সবাই একই প্রবেশদ্বার দিয়ে যেয়ো না, বরং পৃথক পৃথক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো। আল্লাহর কোন বিধান থেকে আমি তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারি না। নির্দেশ আল্লাহরই চলে। তাঁরই উপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই উপর ভরসা করা উচিত ভরসাকারীদের।

জহুরুল হক

তিনি আরো বললেন, ''হে আমার পুত্রগণ! তোমরা একই দরজা দিয়ে ঢুকো না, বরং তোমরা ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে ঢুকবে। ‌র বিরুদ্ধে তোমাদের জন্যে আমার কিছুই করার ক্ষমতা নেই। বিধান তো একমাত্র ‌র বৈ তো নয়। তাঁর উপরেই আমি নির্ভর করি, আর তাঁরই উপরে তবে নির্ভর করুক নির্ভরশীলগণ।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘হে আমার পুত্রগণ! তোমরা এক দ্বার দিয়া প্রবেশ করিও না, ভিন্ন ভিন্ন দ্বার দিয়া প্রবেশ করিবে। ‌র বিধানের বিরুদ্ধে আমি তোমাদের জন্য কিছু করিতে পারি না। বিধান ‌রই। আমি তাঁহারই উপর নির্ভর করি এবং যাহারা নির্ভর করিতে চাহে তাহারা ‌রই উপর নির্ভর করুক।’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (তাদের পিতা) আরো বললো: ‘হে আমার সন্তানেরা! তোমরা এক গেইট দিয়ে (এক পথে শহরে) প্রবেশ করোনা, বিভিন্ন প্রবেশ দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে। (তোমরা এভাবে সতর্ক হয়ে প্রবেশ করবে) তবে আল্লাহর ইচ্ছা থেকে আমি তোমাদের রক্ষা করতে পারবোনা। সর্বময় কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর। আমি নিজেকে তাঁর কাছেই ন্যস্ত করতে চাই, তাঁর কাছেই ন্যস্ত করা উচিত।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা যখন পিতার কথামত প্রবেশ করল, তখন আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে তা তাদের বাঁচাতে পারল না। কিন্তু ইয়াকুবের সিদ্ধান্তে তাঁর মনের একটি বাসনা ছিল, যা তিনি পূর্ণ করেছেন। এবং তিনি তো আমার শেখানো বিষয় অবগত ছিলেন। কিন্তু অনেক মানুষ অবগত নয়।

জহুরুল হক

আর তারা যখন ঢুকল যেভাবে তাদের পিতা তাদের আদেশ করেছিলেন, তখন ‌র বিরুদ্ধে তাদের কিছুই করার সামর্থ্য ছিল না, কিন্তু এটি ইয়াকুবের অন্তরের একটি বাসনা যা তিনি চরিতার্থ করেছিলেন। আর নিঃসন্দেহ তিনি অবশ্যই ছিলেন জ্ঞানের অধিকারী যেহেতু আমরা তাঁকে জ্ঞানদান করেছিলাম, কিন্তু অধিকাংশ লোকেই জানে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন তাহারা, তাহাদের পিতা তাহাদেরকে যেভাবে আদেশ করিয়াছিল, সেইভাবেই প্রবেশ করিল, তখন ‌র বিধানের বিরুদ্ধে উহা তাহাদের কোন কাজে আসিল না; ইয়া‘কূব কেবল তাহার মনের একটি অভিপ্রায় পূর্ণ করিয়াছিল এবং সে অবশ্যই জ্ঞানী ছিল, কারণ আমি তাহাকে শিক্ষা দিয়াছিলাম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ইহা অবগত নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখন তাদের পিতার নির্দেশ মতো (বিভিন্ন প্রবেশ পথে শহরে) প্রবেশ করলো, এ (সতর্কতামূলক) ব্যবস্থা আল্লাহর ইচ্ছার মোকাবেলায় তাদের কোনো কাজে আসেনি। তবে ইয়াকুবের মনে এ ব্যবস্থার সুফল সম্পর্কে যে চিন্তার উদ্রেক হয়েছিল, এর ফলে তার সে ভাবনাটা পূর্ণ হয়েছে। অবশ্যি সে আমার প্রদত্ত শিক্ষায় জ্ঞানবান ছিলো। তবে অনেক মানুষই এ বিষয়ে অবগত নয়।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তারা ইউসুফের কাছে উপস্থিত হল, তখন সে আপন ভ্রাতাকে নিজের কাছে রাখল। বললঃ নিশ্চই আমি তোমার সহোদর। অতএব তাদের কৃতকর্মের জন্যে দুঃখ করো না।

জহুরুল হক

আর তারা যখন ইউসুফের দরবারে প্রবেশ করল তাঁর ভাইকে তিনি নিজের সঙ্গে রাখলেন, তিনি বললেন - - ''আমিই তোমার ভাই, সুতরাং তারা যা করে তাতে দুঃখ করো না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা যখন ইউসুফের সম্মুখে উপস্থিত হইল, তখন ইউসুফ তাহার সহোদরকে নিজের কাছে রাখিল এবং বলিল, ‘নিশ্চয়ই আমিই তোমার সহোদর, সুতরাং উহারা যাহা করিত তাহার জন্য দুঃখ করিও না।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখন ইউসুফের কাছে (কার্যালয়ে) পৌঁছে, ইউসুফ তার ভাই (বিনইয়ামিন) - কে নিজের কাছে নিয়ে নেয়। সে তাকে বলে: ‘আমি তোমার (হারানো) ভাই ইউসুফ। এরা যা কিছু (আমাদের সাথে) করে আসছে সে জন্যে এখন আর দুঃখ করোনা।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন ইউসুফ তাদের রসদপত্র প্রস্তুত করে দিল, তখন পানপাত্র আপন ভাইয়ের রসদের মধ্যে রেখে দিল। অতঃপর একজন ঘোষক ডেকে বললঃ হে কাফেলার লোকজন, তোমরা অবশ্যই চোর।

জহুরুল হক

তারপর তিনি যখন তাদের পরিবেশন করলেন তাদের রসদের দ্বারা, তখন তাঁর ভাইয়ের মালপত্রের ভিতরে একটি পানপাত্র কেউ রেখে দিল। তারপর একজন আহবায়ক চিৎকার ক’রে বলল - - ''ওহে উট - চালকের দল! তোমরা নিশ্চয়ই চোর।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর সে যখন উহাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করিয়া দিল, তখন সে তাহার সহোদরের মালপত্রের মধ্যে পানপাত্র রাখিয়া দিল। অতঃপর এক আহ্বায়ক চিৎকার করিয়া বলিল, ‘হে যাত্রীদল! তোমরা নিশ্চয়ই চোর।’

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর ইউসুফ যখন তাদের জন্যে পণ্যসামগ্রী প্রস্তুত করে (করায়) তখন তাদের পণ্যসামগ্রীর মধ্যে পানপাত্র রেখে দেয়। তারপর (তারা যাত্রা করলে) একজন ঘোষক চিৎকার করে ঘোষণা করে: ‘হে কাফেলার লোকেরা! তোমরা চোর।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা ওদের দিকে মুখ করে বললঃ তোমাদের কি হারিয়েছে?

জহুরুল হক

তারা তাদের নিকটে এসে বললে - - ''কি জিনিস তোমরা হারিয়েছ?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা তাহাদের দিকে ফিরিয়া বলিল, ‘তোমরা কী হারাইয়াছ?’

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা ঘোষণাকারীদের দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করে: ‘আপনাদের কি জিনিস খোয়া গেছে?’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ আমরা বাদশাহর পানপাত্র হারিয়েছি এবং যে কেউ এটা এনে দেবে সে এক উটের বোঝা পরিমাণ মাল পাবে এবং আমি এর যামিন।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আমরা রাজার পানপাত্র হারিয়েছি, আর যে এটি নিয়ে আসবে এক উট - বোঝাই মাল, আর আমি এরজন্যে জামিন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলিল, ‘আমরা রাজার পানপাত্র হারাইয়াছি; যে উহা আনিয়া দিবে সে এক উষ্ট্রবোঝাই মাল পাইবে এবং আমি উহার জামিন।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমরা রাজার পানপাত্র খুঁজে পাচ্ছিনা। যে তা এনে দেবে, সে এক উট বোঝাই পণ্য সামগ্রী পাবে। আর এর জিম্মা (দায়িত্ব) নিচ্ছি আমি।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ আল্লাহর কসম, তোমরা তো জান, আমরা অনর্থ ঘটাতে এদেশে আসিনি এবং আমরা কখনও চোর ছিলাম না।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''‌র কসম! তোমরা নিশ্চয়ই জান যে আমরা এদেশে দুস্কর্ম করতে আসি নি, আর আমরা চোরও নই।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘‌র শপথ! তোমরা তো জান আমরা এই দেশে দুষ্কৃতি করিতে আসি নাই এবং আমরা চোরও নই।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আল্লাহর কসম, তোমরা তো জানো, আমরা তোমাদের দেশে অনাসৃষ্টি করতে আসিনি, আর চুরির সাথেও আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ যদি তোমরা মিথ্যাবাদী হও, তবে যে, চুরি করেছে তার কি শাস্তি?

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''তবে কি হবে এর প্রতিফল যদি তোমরা হচ্ছ মিথ্যাবাদী?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলিল, ‘যদি তোমরা মিথ্যাবাদী হও তবে তাহার শাস্তি কী?

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (ইউসুফের লোকেরা) বললো: ‘তার (চোরের) কী শাস্তি হবে যদি তোমাদের কথা মিথ্যা প্রমাণিত হয়?’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ এর শাস্তি এই যে, যার রসদপত্র থেকে তা পাওয়া যাবে, এর প্রতিদানে সে দাসত্বে যাবে। আমরা যালেমদেরকে এভাবেই শাস্তি দেই।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''এর প্রতিফল হবে - - যার মালপত্রের মধ্যে এটি পাওয়া যাবে সেই হবে এর প্রতিফলের পাত্র। এইভাবেই আমরা অন্যায়কারীদের শাস্তি দিই।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘ইহার শাস্তি যাহার মালপত্রের মধ্যে পাত্রটি পাওয়া যাইবে, সে - ই তাহার বিনিময়।’ এইভাবে আমরা সীমালংঘনকারীদেরকে শাস্তি দিয়া থাকি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা জবাব দিলো: ‘(আমাদের আইনে) এর শাস্তি হলো যার পণ্য সামগ্রীর মধ্যে পান পাত্রটি পাওয়া যাবে, সে - ই এর বিনিময় (হিসেবে গ্রেফতার) হবে। আমাদের দেশে আমরা অন্যায়কারীদের এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর ইউসুফ আপন ভাইদের থলের পূর্বে তাদের থলে তল্লাশী শুরু করলেন। অবশেষে সেই পাত্র আপন ভাইয়ের থলের মধ্য থেকে বের করলেন। এমনিভাবে আমি ইউসুফকে কৌশল শিক্ষা দিয়েছিলাম। সে বাদশাহর আইনে আপন ভাইকে কখনও দাসত্বে দিতে পারত না, কিন্তু যদি ইচ্ছা করেন। আমি যাকে ইচ্ছা, মর্যাদায় উন্নীত করি এবং প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে আছে অধিকতর এক জ্ঞানীজন।

জহুরুল হক

অতঃপর তিনি তাদের মালপত্রে আর করলেন তাঁর ভাইয়ের মালের আগে, তারপর তিনি তা বের করলেন তাঁর ভাইয়ের মালপত্র থেকে। এইভাবেই আমরা ইউসুফের জন্য পরিকল্পনা করেছিলাম। তাঁর পক্ষে রাজার আইন অনুসারে তাঁর ভাইকে রাখা সম্ভব ছিল না যদি না ইচ্ছা করতেন। আমরা যাকে ইচ্ছা করি স্তরে স্তরে উন্নত করি। আর প্রত্যেক জ্ঞানবানদের উপরে রয়েছেন সর্বজ্ঞানময়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর সে তাহার সহোদরের মালপত্র তল্লাশির পূর্বে উহাদের মালপত্র তল্লাশি করিতে লাগিল, পরে তাহার সহোদরের মালপত্রের মধ্য হইতে পাত্রটি বাহির করিল। এইভাবে আমি ইউসুফের জন্য কৌশল করিয়াছিলাম। রাজার আইনে তাহার সহোদরকে সে আটক করিতে পারিত না, ‌ ইচ্ছা না করিলে। আমি যাহাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত করি। প্রত্যেক জ্ঞানবান ব্যক্তির উপর আছেন সর্বজ্ঞানী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর সে ইউসুফের সহোদরের মালপত্রের পূর্বে তার সৎ ভাইদের মালপত্রের তল্লাশি শুরু করে। পরে তার সহোদরের পণ্যসামগ্রীর মধ্য থেকে পাত্রটি বের করে। এভাবে আমি ইউসুফের জন্যে কৌশল ঠিক করেছিলাম। মিশর রাজের প্রচলিত আইনে তার ভাইকে নিজের কাছে রেখে দেয়া সম্ভব ছিলনা। তবে চাইলে ভিন্ন কথা। যাকে ইচ্ছা আমি মর্যাদা উঁচু করে দিই। আর প্রত্যেক জ্ঞান ওয়ালার উপরই সর্বজ্ঞানী () আছেন।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলতে লাগলঃ যদি সে চুরি করে থাকে, তবে তার এক ভাইও ইতিপূর্বে চুরি করেছিল। তখন ইউসুফ প্রকৃত ব্যাপার নিজের মনে রাখলেন এবং তাদেরকে জানালেন না। মনে মনে বললেনঃ তোমরা লোক হিসাবে নিতান্ত মন্দ এবং খুব জ্ঞাত রয়েছেন, যা তোমরা বর্ণনা করছ;

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''যদি সে চুরি করে থাকে তার ভাইও তো এর আগে চুরি করেছিল।’’ তখন ইউসুফ এটি নিজের অন্তরেই গোপন রেখেছিলেন এবং তিনি তা তাদের কাছে প্রকাশ করেন নি। তিনি বললেন - - ''তোমরা আরও হীন অবস্থাতে রয়েছ, আর ভাল জানেন তোমরা যা আরোপ করছ সে - সন্বন্ধে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘সে যদি চুরি করিয়া থাকে তবে তাহার সহোদরও তো পূর্বে চুরি করিয়াছিল।’ কিন্তু ইউসুফ প্রকৃত ব্যাপার নিজের মনে গোপন রাখিল এবং উহাদের নিকট প্রকাশ করিল না; সে মনে মনে বলিল, ‘তোমাদের অবস্থা তো হীনতর এবং তোমরা যাহা বলিতেছ সে সম্বন্ধে ‌ সবিশেষ অবহিত।’

আবদুস শহীদ নাসিম

(ইউসুফের সহোদরের বস্তায় পানপাত্রটি পাওয়ায় তার সৎ ভাইয়েরা) বলে উঠলো: ‘এ যদি আজ চুরি করে থাকে, তবে (এতে বিস্ময়ের কিছু নেই, কারণ) ইতোপূর্বে তার এক সহোদরও (ইউসুফও) চুরি করেছিল।’ ইউসুফ (তাদের এই জঘন্য মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া) নিজের মনের মধ্যে হজম করে নিলো, তাদের সামনে প্রকাশ হতে দিলনা। (শুধু মনে মনে) বললো: ‘একেবারে নিকৃষ্ট পর্যায়ে গিয়ে পৌছেছো তোমরা। যে জঘন্য দোষ তোমরা আমার প্রতি আরোপ করলে সে বিষয়ে আল্লাহই সর্বাধিক অবহিত আছেন।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলতে লাগলঃ হে আযীয, তার পিতা আছেন, যিনি খুবই বৃদ্ধ বয়স্ক। সুতরাং আপনি আমাদের একজনকে তার বদলে রেখে দিন। আমরা আপনাকে অনুগ্রহশীল ব্যক্তিদের একজন দেখতে পাচ্ছি।

জহুরুল হক

ওরা বললে - - ''ওহে প্রধান! এর পিতা আছেন, অত্যন্ত বুড়ো মানুষ, অতএব তার জায়গায় আমাদের একজনকে রেখে নিন, যেহেতু আমরা আপনাকে দেখছি মহানুভবদের মধ্যেকার।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘হে ‘আযীয! ইহার পিতা তো অতিশয় বৃদ্ধ; সুতরাং ইহার স্থলে আপনি আমাদের একজনকে রাখুন। আমরা তো আপনাকে দেখিতেছি মহানুভব ব্যক্তিদের একজন।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘হে আযীয ! এর একজন অতিশয় বৃদ্ধ পিতা আছেন। তাই আপনি ওর স্থলে আমাদের কোনো একজনকে রেখে দিন। আমাদের দৃষ্টিতে আপনি একজন মহানুভব - পরোপকারী ব্যক্তি।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ যার কাছে আমরা আমাদের মাল পেয়েছি, তাকে ছাড়া আর কাউকে গ্রেফতার করা থেকে আমাদের রক্ষা করুন। তা হলে তো আমরা নিশ্চিতই অন্যায়কারী হয়ে যাব।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - '' রক্ষা করুন যে আমরা যার কাছে আমাদের জিনিস পেয়েছি তাকে ছাড়া অন্যকে ধরে রাখি, কেননা সে ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই অন্যায়কারী হব!’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘যাহার নিকট আমরা আমাদের মাল পাইয়াছি, তাহাকে ছাড়া অন্যকে রাখার অপরাধ হইতে আমরা ‌র শরণ লইতেছি। এইরূপ করিলে আমরা অবশ্যই সীমালংঘনকারী হইব।’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (ইউসুফ) বললো: যার কাছে আমাদের জিনিস পেয়েছি, তাকে ছাড়া অন্য কাউকেও আঁটকানোর (মতো অন্যায়) কাজ থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। এমন কাজ করলে তো আমরা যালিম বলে গণ্য হবো।

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন তারা তাঁর কাছ থেকে নিরাশ হয়ে গেল, তখন পরামর্শের জন্যে এখানে বসল। তাদের জ্যেষ্ঠ ভাই বললঃ তোমরা কি জান না যে, পিতা তোমাদের কাছ থেকে আল্লাহর নামে অঙ্গীকার নিয়েছেন এবং পূর্বে ইউসুফের ব্যাপারেও তোমরা অন্যায় করেছো? অতএব আমি তো কিছুতেই এদেশ ত্যাগ করব না, যে পর্যন্ত না পিতা আমাকে আদেশ দেন অথবা আমার পক্ষে কোন ব্যবস্থা করে দেন। তিনিই সর্বোত্তম ব্যবস্থাপক।

জহুরুল হক

যখন তারা তাঁর কাছ থেকে হতাশ হল তখন তারা পরামর্শের জন্যে আলদা হল। তাদের বড়জন বললে - - ''তোমরা কি জান না যে তোমাদের আব্বা তোমাদের কাছ থেকে ‌র নামে অংগীকার নিয়েছেন, আর এর আগে ইউসুফের ব্যাপারেও তোমরা কি রকম ত্রুটি করেছিলে? কাজেই আমি কিছুতেই এ দেশ ছেড়ে যাব না যে পর্যন্ত না আমার আব্বা আমাকে অনুমতি দেন, অথবা আমার জন্য কোনো হুকুম দেন, কেননা তিনিই হাকিমগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন উহারা তাহার নিকট হইতে সম্পূর্ণ নিরাশ হইল, তখন উহারা নির্জনে গিয়া পরামর্শ করিতে লাগিল। উহাদের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বলিল, ‘তোমরা কি জান না যে, তোমাদের পিতা তোমাদের নিকট হইতে ‌র নামে অঙ্গীকার লইয়াছেন এবং পূর্বেও তোমরা ইউসুফের ব্যাপারে ত্রুটি করিয়াছিলে? সুতরাং আমি কিছুতেই এই দেশ ত্যাগ করিব না, যতক্ষণ না আমার পিতা আমাকে অনুমতি দেন অথবা ‌ আমার জন্য কোন ব্যবস্থা করেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ বিচারক।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর যখন তারা তার (ইউসুফের) কাছ থেকে সম্পূর্ণ নিরাশ হলো, তখন নির্জনে গিয়ে পরামর্শ করতে বসলো। তাদের বড়জন (বড়ভাই) বললো: ‘‘তোমাদের নলেজে কি নেই, তোমাদের পিতা আল্লাহর নামে তোমাদের কাছ থেকে একথার অংগীকার আদায় করেছেন (যে, তোমরা বিনইয়ামিনকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে নেবে)? ইতোপূর্বে তোমরা ইউসুফের ব্যাপারেও (পিতাকে কথা দিয়ে) কথা রাখতে পারোনি। তাই আমি (সিদ্ধান্ত নিয়েছি) আববার অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত এ দেশ ত্যাগ করবোনা, যতোক্ষণ না নিজেই (বিনইয়ামিনকে মুক্ত করে) আমার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে দেন। কারণ, তিনিই তো সর্বোত্তম বিচারক।’’

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা তোমাদের পিতার কাছে ফিরে যাও এবং বলঃ পিতা আপনার ছেলে চুরি করেছে। আমরা তাই বলে দিলাম, যা আমাদের ছিল এবং বিষয়ের প্রতি আমাদের লক্ষ্য ছিল না।

জহুরুল হক

''তোমরা তোমাদের আব্বার কাছে ফিরে যাও এবং বলো - - ''হে আমাদের আব্বা! নিঃসন্দেহ তোমার ছেলে চুরি করেছে, আর আমরা যা জানি তা ছাড়া অন্য প্রত্যক্ষ বিবরণ দিচ্ছি না, আর অদৃশ্যের ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমরা তোমাদের পিতার নিকট ফিরিয়া যাও এবং বল, ‘হে আমাদের পিতা! আপনার পুত্র তো চুরি করিয়াছে এবং আমরা যাহা জানি তাহারই প্রত্যক্ষ বিবরণ দিলাম। আর অজানা ব্যাপারে আমরা সংরক্ষণকারী নই।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘তোমরা বাবার কাছে ফিরে গিয়ে তাঁকে বলো: বাবা! তোমার ছেলে চুরি করেছে। আমরা (ওকে চুরি করতে) দেখিনি, তবে যা জেনেছি তাই তোমাকে বলছি। আর না দেখা বিষয় তো আমরা হিফাযত করতে পারিনা।’’

মুহিউদ্দীন খান

জিজ্ঞেস করুন ঐ জনপদের লোকদেরকে যেখানে আমরা ছিলাম এবং ঐ কাফেলাকে, যাদের সাথে আমরা এসেছি। নিশ্চিতই আমরা সত্য বলছি।

জহুরুল হক

''আর আমরা যেখানে ছিলাম সেই শহরবাসীদের জিজ্ঞাসা কর, আর যাদের সঙ্গে আমরা এসেছি সেই যাত্রীদলকেও। আর আমরা তো অবশ্যই সত্যবাদী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যে জনপদে আমরা ছিলাম উহার অধিবাসিগণকে জিজ্ঞাসা করুন এবং যে যাত্রীদলের সঙ্গে আমরা আসিয়াছি তাহাদেরকেও। আমরা অবশ্যই সত্য বলিতেছি।’

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘আমরা যে বসতিতে ছিলাম সেখানকার লোকদের জিজ্ঞেস করে দেখুন, যে কাফেলার সাথে আমরা ফিরে এসেছি তার লোকদের কাছে জেনে দেখুন, আমরা অবশ্যি সত্য বলছি।’’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ কিছুই না, তোমরা মনগড়া একটি কথা নিয়েই এসেছ। এখন ধৈর্য্যধারণই উত্তম। সম্ভবতঃ তাদের সবাইকে একসঙ্গে আমার কাছে নিয়ে আসবেন তিনি সুবিজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''না এ, বরং তোমাদের অন্তর তোমাদের জন্য ও বিষয়টি উদ্ভাবন করেছে, কিন্তু ধৈর্যধারণই উত্তম। হতে পারে ওদের সবাইকে আমার কাছে এনে দেবেন। নিঃসন্দেহ তিনিই সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইয়া‘কূব বলিল, ‘না, তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি কাহিনী সাজাইয়া দিয়াছে, সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়; হয়তো ‌ উহাদেরকে একসঙ্গে আমার নিকট আনিয়া দিবেন। অবশ্য তিনিই সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’

আবদুস শহীদ নাসিম

(তাদের বক্তব্য শুনে তাদের পিতা) ইয়াকুব বললো: ‘না, বরং তোমাদের নফস তোমাদের জন্যে একটা কাজকে সহজ করে দিয়েছে। সুতরাং ধৈর্য ধারণ করাই আমার জন্যে যথোপযুক্ত কাজ। হয়তো ওদের সবাইকে একত্রে আমার সাথে মিলিত করে দেবেন। অবশ্যি তিনি সর্বময় জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মালিক।’

মুহিউদ্দীন খান

এবং তাদের দিক থেকে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেনঃ হায় আফসোস ইউসুফের জন্যে। এবং দুঃখে তাঁর চক্ষুদ্বয় সাদা হয়ে গেল। এবং অসহনীয় মনস্তাপে তিনি ছিলেন ক্লিষ্ট।

জহুরুল হক

আর তিনি তাদের থেকে ফিরলেন ও বললেন - - ''হায় আমার আফসোস ইউসুফের জন্য!’’ আর তাঁর চোখ সাদা হয়ে গিয়েছিল শোকাবেগ বশতঃ, যদিও তিনি সংবরণকারী ছিলেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে উহাদের হইতে মুখ ফিরাইয়া লইল এবং বলিল, ‘আফসোস ইউসুফের জন্য।’ শোকে তাহার চক্ষুদ্বয় সাদা হইয়া গিয়াছিল এবং সে ছিল অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে তাদের সাথে কথা না বাড়িয়ে আত্মমগ্ন হয় এবং স্বগতোক্তি করে: ‘ইউসুফের জন্যে আমি শোকাভিভূত!’ এভাবে দুঃখ ও শোকে তার চক্ষুদ্বয় সাদা হয়ে যায়। আর মনোবেদনায় সে পীড়িত হয়ে পড়ে।

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলতে লাগলঃ আল্লাহর কসম আপনি তো ইউসুফের স্মরণ থেকে নিবৃত হবেন না, যে পর্যন্ত মরণপন্ন না হয়ে যান কিংবা মৃতবরণ না করেন

জহুরুল হক

তারা বললে, ''দোহাই ‌র! তুমি ইউসুফকে স্মরণ করা ছাড়বে না যে পর্যন্ত না তুমি রোগাক্রান্ত হও, অথবা প্রাণত্যাগী হয়ে যাও।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘‌র শপথ! আপনি তো ইউসুফের কথা সদা স্মরণ করিতে থাকিবেন যতক্ষণ না আপনি মুমূর্ষু হইবেন, অথবা মৃত্যুবরণ করিবেন।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (ছেলেরা) বললো: ‘আল্লাহর কসম, মুমূর্ষু হয়ে পড়া, কিংবা মৃত্যু বরণ করা পর্যন্ত (মনে হয়) আপনি ইউসুফের স্মরণ থেকে বিরত হবেন না।’

মুহিউদ্দীন খান

তিনি বললেনঃ আমি তো আমার দুঃখ ও অস্থিরতা আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি যা জানি, তা তোমরা জান না।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার অসহনীয় দুঃখ ও আমার বেদনা নিবেদন করছি ‌রই কাছে, আর আমি ‌র তরফ থেকে জানি যা তোমরা জান না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘আমি আমার অসহনীয় বেদনা, আমার দুঃখ শুধু ‌র নিকট নিবেদন করিতেছি এবং আমি ‌র নিকট হইতে জানি যাহা তোমরা জান না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (ইয়াকুব) বললো: ‘‘আমি আমার দুঃখ - বেদনা ও মনস্তাপের অভিযোগ তো শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে নিবেদন করছি। আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তা জানি, যা তোমরা জানোনা।’’

মুহিউদ্দীন খান

বৎসগণ! যাও, ইউসুফ ও তার ভাইকে তালাশ কর এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে সম্প্রদায়, ব্যতীত অন্য কেউ নিরাশ হয় না।

জহুরুল হক

''হে আমার ছেলেরা! তোমরা যাও এবং ইউসুফ ও তার ভাইয়ের খোঁজ কর, আর ‌র আশিস সন্বন্ধে নিরাশ হয়ো না। নিঃসন্দেহ অবিশ্বাসী লোকেরা ছাড়া অন্য কেউ ‌র আশিস সন্বন্ধে নিরাশ হয় না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার পুত্রগণ! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তাহার সহোদরের অনুসন্ধান কর এবং ‌র আশিস হইতে তোমরা নিরাশ হইও না। কারণ ‌র আশিস্ হইতে কেহই নিরাশ হয় না, সম্প্রদায় ব্যতীত।’

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘হে আমার পুত্ররা! তোমরা যাও, গিয়ে ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সন্ধান করো। আল্লাহর রহমত (mercy) থেকে নিরাশ হয়োনা। কাফিররা ছাড়া আর কেউই নিরাশ হয়না আল্লাহর রহমত থেকে।’’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন তারা ইউসুফের কাছে পৌঁছল তখন বললঃ হে আযীয, আমরা ও আমাদের পরিবারবর্গ কষ্টের সম্মুখীন হয়ে পড়েছি এবং আমরা অপর্যাপ্ত পুঁজি নিয়ে এসেছি। অতএব আপনি আমাদের পুরোপুরি বরাদ্দ দিন এবং আমাদের কে দান করুন। দাতাদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকেন।

জহুরুল হক

তারপর তারা যখন তাঁর দরবারে দাখিল হল তখন বলল - - ''ওহে প্রধান! আমাদের ও আমাদের পরিবার - পরিজনের উপরে দুর্দিন এসে পড়েছে, আর আমরা সামান্য দ্রব্যমূল্য নিয়ে এসেছি, সেজন্যে আমাদের পূর্ণমাত্রায় দিন এবং আমাদের প্রতি দানখয়রাত করুন। নিঃসন্দেহ দানশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকেন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন উহারা তাহার নিকট উপস্থিত হইল তখন বলিল, ‘হে ‘আযীয! আমরা ও আমাদের পরিবার - পরিজন বিপন্ন হইয়া পড়িয়াছি এবং আমরা তুচ্ছ পুঁজি লইয়া আসিয়াছি; আপনি আমাদের রসদ পূর্ণমাত্রায় দিন এবং আমাদেরকে দান করুন; ‌ অবশ্যই দাতাগণকে পুরস্কৃত করিয়া থাকেন।’

আবদুস শহীদ নাসিম

পুনরায় যখন তারা তার (ইউসুফের) কাছে উপস্থিত হলো, বললো: ‘হে আযীয! আমরা এবং আমাদের পরিবার পরিজন যারপর নাই বিপদের মধ্যে পড়েছি, আর সামান্য পূজি আমরা নিয়ে এসেছি। আপনি আমাদের পূর্ণ বরাদ্দ প্রদান করুন এবং আমাদের প্রতি দানের হাত বাড়িয়ে দিন! অবশ্যি দানশীলদের পুরস্কৃত করে থাকেন।’

মুহিউদ্দীন খান

ইউসুফ বললেনঃ তোমাদের আছে কি, যা তোমরা ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সাথে করেছ, যখন তোমরা অপরিণামদর্শী ছিলে?

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমরা কি জানো ইউসুফ ও তার ভাইয়ের প্রতি তোমরা কি করেছিলে যখন তোমরা ছিলে বিবেচনাহীন?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘তোমরা কি জান, তোমরা ইউসুফ ও তাহার সহোদরের প্রতি কিরূপ আচরণ করিয়াছিলে, যখন তোমরা ছিলে অজ্ঞ?’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (ইউসুফ) বললো: ‘তোমরা কি জানোনা, তোমরা ইউসুফ আর তার সহোদরের সাথে কী আচরণটা করেছিলে, যখন তোমরা ছিলে জাহিল?’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলল, তবে কি তুমিই ইউসুফ! বললেনঃ আমিই ইউসুফ এবং এ হল আমার সহোদর ভাই। আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। নিশ্চয় যে তাকওয়া অবলম্বন করে এবং সবর করে, এহেন সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আপনিই কি তবে ইউসুফ?’’ তিনি বললে - - ''আমিই ইউসুফ আর এই আমার সহোদর। আলবৎ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। নিঃসন্দেহ যে কেউ ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করে ও ধৈর্যধারণ করে - - কেননা নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলদের কর্মফল বিফল করেন না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘তবে কি তুমিই ইউসুফ?’ সে বলিল, ‘আমিই ইউসুফ এবং এই আমার সহোদর; ‌ তো আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি এবং ধৈর্যশীল, ‌ তো সেইরূপ সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘তবে কি তুমি - তুমিই ইউসুফ?’ সে বললো: ‘আমিই ইউসুফ আর এ আমার সহোদর! আমাদের প্রতি ইহ্সান করেছেন। যারা তাকওয়া আর সবর অবলম্বন করে, নিশ্চয়ই সেইসব মুহসিনদের কর্মফল বৃথা যেতে দেন না।’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ আল্লাহর কসম, আমাদের চাইতে তোমাকে পছন্দ করেছেন এবং আমরা অবশ্যই অপরাধী ছিলাম।

জহুরুল হক

তারা বললে, ''‌র কসম! অবশ্যই আমাদের উপরে তোমাকে প্রাধান্য দিয়েছেন, আর আমরা নিশ্চয় পাপী ছিলাম।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‌র শপথ! ‌ নিশ্চয়ই তোমাকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিয়াছেন এবং আমরা তো অপরাধী ছিলাম।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আল্লাহর কসম! তোমাকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন আর আমরা অবশ্যি অপরাধ করে আসছি।’

মুহিউদ্দীন খান

বললেন, আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। তোমাদের কে ক্ষমা করুন। তিনি সব মেহেরবানদের চাইতে অধিক মেহেরবান।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমাদের বিরুদ্ধে আজ কোনো অভিযোগ নয়। তোমাদের ক্ষমা করুন, আর তিনিই তো ফলদান - কারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফলদাতা।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নাই। ‌ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু।’

আবদুস শহীদ নাসিম

ইউসুফ বললো: ‘‘আজ আর তোমাদের বিরুদ্ধে (আমার) কোনো নিন্দা - ভৎর্সনা নেই। তোমাদের ক্ষমা করুন। তিনি সবার সেরা দয়ালু।’’

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা আমার এ জামাটি নিয়ে যাও। এটি আমার পিতার মুখমন্ডলের উপর রেখে দিও, এতে তাঁর দৃষ্টি শক্তি ফিরে আসবে। আর তোমাদের পরিবারবর্গের সবাইকে আমার কাছে নিয়ে এস।

জহুরুল হক

''আমার এই জামাটি নিয়ে যাও এবং এটি আমার আব্বার মুখের সামনে রেখো, তিনি চক্ষুষ্মান হবেন। আর তোমাদের পরিবার - পরিজনদের সকলকে নিয়ে আমার কাছে এস।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা আমার এই জামাটি লইয়া যাও এবং ইহা আমার পিতার মুখমণ্ডলের উপর রাখিও; তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়া পাইবেন। আর তোমাদের পরিবারের সকলকেই আমার নিকট লইয়া আসিও।’

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘তোমরা আমার এই জামাটি নিয়ে আববাজানের কাছে যাও এবং এটি তাঁর মুখমন্ডলে লাগাও, এতে তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন। আর তোমাদের পরিবার পরিজন সবাইকে নিয়ে আমার এখানে চলে আসো।’’

মুহিউদ্দীন খান

যখন কাফেলা রওয়ানা হল, তখন তাদের পিতা বললেনঃ যদি তোমরা আমাকে অপ্রকৃতিস্থ না বল, তবে বলিঃ আমি নিশ্চিতরূপেই ইউসুফের গন্ধ পাচ্ছি।

জহুরুল হক

আর যখন যাত্রীদল বেরিয়ে পড়ল তখন তাদের পিতা লোকজনকে বললেন, ''নিঃসন্দেহ আমি আলবৎ ইউসুফের হাওয়া - বাতাস টের পাচ্ছি, যদিও তোমরা আমাকে মতিচ্ছন্ন মনে কর।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর যাত্রীদল যখন বাহির হইয়া পড়িল তখন উহাদের পিতা বলিল, ‘তোমরা যদি আমাকে অপ্রকৃতিস্থ মনে না কর তবে বলি, আমি ইউসুফের ঘ্রাণ পাইতেছি।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কাফেলা যখন (মিশর থেকে) যাত্রা শুরু করলো, তখন তাদের পিতা পরিবারের লোকদের বলতে লাগলো: ‘তোমরা যদি আমাকে বৃদ্ধ বয়সের মতিভ্রম মনে না করো, তবে শুনো! অবশ্যি আমি ইউসুফের সুবাস পাচ্ছি।’

মুহিউদ্দীন খান

লোকেরা বললঃ আল্লাহর কসম, আপনি তো সেই পুরানো ভ্রান্তিতেই পড়ে আছেন।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''‌র কসম! আপনি নিঃসন্দেহ আপনার পুরনো ভ্রান্তিতেই রয়েছেন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলিল, ‘‌র শপথ! আপনি তো আপনার পূর্ব - বিভ্রান্তিতেই রহিয়াছেন

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আল্লাহর কসম, আপনি আপনার পুরোনো (বৃদ্ধ বয়সের) বিভ্রান্তির মধ্যেই নিমজ্জিত আছেন।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন সুসংবাদদাতা পৌঁছল, সে জামাটি তাঁর মুখে রাখল। অমনি তিনি দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেলেন। বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা জানি তোমরা তা জান না?

জহুরুল হক

তারপর যখন সুসংবাদবাহক এল, সে সেটি তাঁর মুখের সামনে রাখল, তখন তিনি চক্ষুষ্মান হলেন। তিনি বললেন - - ''আমি কি তোমাদের বলি নি যে আমি ‌র কাছ থেকে জানি যা তোমরা জান না?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর যখন সুসংবাদবাহক উপস্থিত হইল এবং তাহার মুখমণ্ডলের উপর জামাটি রাখিল তখন সে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়া পাইল। সে বলিল, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলি নাই যে, আমি ‌র নিকট হইতে জানি যাহা তোমরা জান না?’

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর যখন আনন্দ সংবাদের বাহক এসে উপস্থিত হয়, সে ইউসুফের জামা ইয়াকুবের মুখমন্ডলে রাখে, আর সাথে সাথে সে দৃষ্টি শক্তি ফিরে পায়। সে বলে: ‘আমি কি তোমাদের বলিনি, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন সব বিষয় জানি, যা তোমরা জানোনা?’

মুহিউদ্দীন খান

তারা বললঃ পিতা আমাদের অপরাধ ক্ষমা করান। নিশ্চয় আমরা অপরাধী ছিলাম।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''হে আমাদের আব্বা! আমাদের অপরাধের জন্যে আমাদের তরফ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিঃসন্দেহ আমরা হচ্ছি দোষী।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিল, ‘হে আমাদের পিতা! আমাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন; আমরা তো অপরাধী।’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘বাবা! আপনি আমাদের অপরাধ মাফির জন্যে (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করুন, আমরা অবশ্যি অপরাধে লিপ্ত ছিলাম।’

মুহিউদ্দীন খান

বললেন, সত্বরই আমি পালনকর্তার কাছে তোমাদের জন্য ক্ষমা চাইব। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালূ।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমি শীঘ্রই তোমাদের জন্য আমার প্রভুর কাছে মার্জনা চাইব। নিঃসন্দেহ তিনি নিজেই পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘আমি আমার প্রতিপালকের নিকট তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিব। তিনি তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (ইয়াকুব) বললো: ‘হ্যাঁ, আমি আমার প্রভুর কাছে তোমাদের মাফ করে দেয়ার জন্যে অচিরেই আবেদন জানাবো। নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল পরম করুণাময়।’

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর যখন তারা ইউসুফের কাছে পৌঁছল, তখন ইউসুফ পিতা - মাতাকে নিজের কাছে জায়গা দিলেন এবং বললেনঃ চাহেন তো শান্তি চিত্তে মিসরে প্রবেশ করুন।

জহুরুল হক

তারপর তাঁরা যখন ইউসুফের দরবারে দাখিল হলেন তখন তিনি তাঁর পিতামাতাকে নিজের সঙ্গে রাখলেন এবং বললেন - - ''ইন - শা - মিশরে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করুন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর উহারা যখন ইউসুফের নিকট উপস্থিত হইল, তখন সে তাহার পিতা - মাতাকে আলিংগন করিল এবং বলিল, ‘আপনারা ‌র ইচ্ছায় নিরাপদে মিশরে প্রবেশ করুন।’

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর তারা (মিশরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে) যখন ইউসুফের কাছে (সীমানায়) এসে পৌঁছে, ইউসুফ (তাদের অভ্যর্থনা জানাবার জন্যে এগিয়ে যায়), নিজের আববা আম্মাকে নিজের সাথে নিয়ে নেয় এবং (সবাইকে) বলে: ‘ইনশাল্লাহ, আপনারা নিরাপদ নিশ্চিন্তে মিশরে প্রবেশ করুন।’

মুহিউদ্দীন খান

এবং তিনি পিতা - মাতাকে সিংহাসনের উপর বসালেন এবং তারা সবাই তাঁর সামনে সেজদাবনত হল। তিনি বললেনঃ পিতা এ হচ্ছে আমার ইতিপূর্বেকার স্বপ্নের বর্ণনা আমার পালনকর্তা একে সত্যে পরিণত করেছেন এবং তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। আমাকে জেল থেকে বের করেছেন এবং আপনাদেরকে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছেন, শয়তান আমার ও আমার ভাইদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি করে দেয়ার পর। আমার পালনকর্তা যা চান, কৌশলে সম্পন্ন করেন। নিশ্চয় তিনি বিজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

জহুরুল হক

আর তিনি তাঁর পিতামাতাকে উচ্চাসনে বসালেন, আর তাঁর কারণে তাঁরা সিজদারত হলেন। তখন তিনি বললেন, ''হে আমার আব্বা! এটিই আমার পূর্বেকার দৈবদর্শনের তাৎপর্য, আমার প্রভু তা সত্যে পরিণত করেছেন। আর তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছিলেন যখন তিনি আমাকে কারাগার থেকে মুক্ত করেছিলেন, এবং মরুভূমি থেকে আপনাদের নিয়ে এসেছেন আমার মধ্যে ও আমার ভাইয়ের মধ্যে শয়তান বিরোধ বাধাবার পরে। নিঃসন্দেহ আমার প্রভু যাকে ইচ্ছা করেন তার প্রতি পরম সদাশয়। নিঃসন্দেহ তিনি নিজেই সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং ইউসুফ তাহার মাতা - পিতাকে উচ্চাসনে বসাইল এবং উহারা সকলে তাহার সম্মানে সিজ্‌দায় লুটাইয়া পড়িল। সে বলিল, ‘হে আমার পিতা! ইহাই আমার পূর্বেকার স্বপ্নের ব্যাখ্যা; আমার প্রতিপালক উহা সত্যে পরিণত করিয়াছেন এবং তিনি আমাকে কারাগার হইতে মুক্ত করিয়া এবং শয়তান আমার ও আমার ভ্রাতাদের সম্পর্ক নষ্ট করিবার পরও আপনাদেরকে মরু অঞ্চল হইতে এখানে আনিয়া দিয়া আমার প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন। আমার প্রতিপালক যাহা ইচ্ছা তাহা নিপুণতার সঙ্গে করেন। তিনি তো সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সে নিজের পিতা মাতাকে উচ্চাসনে উঠিয়ে নেয়। তখন তারা সবাই ইউসুফের প্রতি সাজদায় অবনত হয়। আর ইউসুফ তার পিতাকে বলে: ‘আববাজান! ইতোপূর্বে (ছোটবেলায়) আমি যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, এটাই সে স্বপ্নের তা’বিল (তাৎপর্য)। আমার প্রভু সেই স্বপ্নটিকে সত্যে পরিণত করেছেন। তাছাড়া আমার মহান প্রভু আমাকে কারাগার থেকে বের করে এনে এবং শয়তান আমার ও আমার ভাইদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে দেয়ার পরও আপনাদের সবাইকে মরু অঞ্চল থেকে এখানে এনে আমার সাথে মিলিত করে দিয়ে আমার প্রতি বিরাট ইহ্সান করেছেন। আসলে আমার প্রভু যার প্রতি ইচ্ছা করেন, খুবই কোমল - দয়ালু হয়ে থাকেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞানী - প্রজ্ঞাময়।’’

মুহিউদ্দীন খান

হে পালনকর্তা আপনি আমাকে রাষ্ট্রক্ষমতাও দান করেছেন এবং আমাকে বিভিন্ন তাৎপর্য সহ ব্যাখ্যা করার বিদ্যা শিখিয়ে দিয়েছেন। হে নভোমন্ডল ও ভূ - মন্ডলের স্রষ্টা, আপনিই আমার কার্যনির্বাহী ইহকাল ও পরকালে। আমাকে ইসলামের উপর মৃত্যুদান করুন এবং আমাকে স্বজনদের সাথে মিলিত করুন।

জহুরুল হক

''আমার প্রভু! তুমি ইতিমধ্যেই আমাকে রাজত্বের অধিকার প্রদান করেছ এবং ঘটনাবলীর তাৎপর্য সম্পর্কে আমাকে শিক্ষাদান করেছ, হে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আদি - স্রষ্টা! তুমিই এই দুনিয়া ও আখেরাতে আমার মনিব, আমাকে মুসলিম অবস্থায় মরতে দাও এবং আমাকে সৎকর্মীদের সঙ্গে সংযুক্ত করো।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে রাজ্য দান করিয়াছ এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়াছ। হে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা! তুমিই ইহলোক ও পরলোকে আমার অভিভাবক। তুমি আমাকে মুসলিম হিসাবে মৃত্যু দাও এবং আমাকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত কর।’

আবদুস শহীদ নাসিম

(ইউসুফ এসময় বিনয়ের সাথে দোয়া করে। দোয়ায়) সে বলে: ‘‘আমার প্রভু! তুমি আমাকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দান করেছো এবং আমাকে সকল কথার (কিংবা সকল বিষয়ের, অথবা স্বপ্নের) তাৎপর্য উপলব্ধি করার শিক্ষা দান করেছো! মহাবিশ্ব আর এই পৃথিবীর (একমাত্র স্রষ্টা তুমি! এই পৃথিবীর জীবনে এবং আখিরাতে তুমিই আমার অভিভাবক! তোমার প্রতি আত্মসমর্পণকারী হিসেবে আমাকে মৃত্যু দান করো, আর আমাকে সাথি বানিয়ে দাও সালেহ্ লোকদের।’’

মুহিউদ্দীন খান

এগুলো অদৃশ্যের খবর, আমি আপনার কাছে প্রেরণ করি। আপনি তাদের কাছে ছিলেন না, যখন তারা স্বীয় কাজ সাব্যস্ত করছিল এবং চক্রান্ত করছিল।

জহুরুল হক

এই হচ্ছে ব্যাপারের সংবাদ যা আমরা তোমার কাছে প্রত্যাদেশ করছি। আর তুমি তাদের সঙ্গে ছিলে না যখন তারা তাদের ব্যাপার - স্যাপার গুটাচ্ছিল ও তারা ফন্দি আটঁছিল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা অদৃশ্যলোকের সংবাদ যাহা তোমাকে আমি ওহী দ্বারা অবহিত করিতেছি; ষড়যন্ত্রকালে যখন উহারা মতৈক্যে পৌঁছিয়াছিল, তখন তুমি উহাদের সঙ্গে ছিলে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ! এতোক্ষণ যে ইতিহাস তোমাকে জানানো হলো) সেটা একটা সংবাদ, যা অহির মাধ্যমে আমরা তোমাকে জানালাম। নতুবা তুমি তো আর সে সময় তাদের ওখানে উপস্থিত ছিলেনা, যখন তারা (ইউসুফের ভাইয়েরা ইউসুফের বিরুদ্ধে) একজোট হয়ে ষড়যন্ত্র পাকিয়েছিল।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি যতই চান, অধিকাংশ লোক বিশ্বাসকারী নয়।

জহুরুল হক

আর যদিও তুমি একান্তভাবে চাও তথাপি অধিকাংশ লোকেই বিশ্বাসকারী নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি যতই চাও না কেন, অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করিবার নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে তুমি যতোই উৎসুক হও না কেন, অধিকাংশ মানুষই কিন্তু হবেনা।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি এর জন্যে তাদের কাছে কোন বিনিময় চান না। এটা তো সারা বিশ্বের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।

জহুরুল হক

আর তুমি এর জন্য তাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইছ না। এ তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ব্যতীত নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তুমি তাহাদের নিকট ইহার জন্য কোন পারিশ্রমিক দাবি করিতেছ না। ইহা তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ব্যতীত কিছু নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

অথচ তুমি তো (আল্লাহর দিকে আহবান করার) একাজের বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে কোনো প্রকার পারিশ্রমিক দাবি করছোনা। এ (কুরআন) তো বিশ্ববাসীর জন্যে (মহাকল্যাণের) এক উপদেশ ছাড়া আর কিছুই নয়।

মুহিউদ্দীন খান

অনেক নিদর্শন রয়েছে নভোমন্ডলে ও ভু - মন্ডলে যেগুলোর উপর দিয়ে তারা পথ অতিক্রম করে এবং তারা এসবের দিকে মনোনিবেশ করে না।

জহুরুল হক

আর মহাকাশমন্ডলে ও পৃথিবীতে কত না নিদর্শন রয়েছে যার পাশ দিয়ে তারা যাতায়ত করে, তথাপি তারা এ - সবের প্রতি উদাসীন!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অনেক নিদর্শন রহিয়াছে; তাহারা এই সমস্ত প্রত্যক্ষ করে, কিন্তু তাহারা এই সকলের প্রতি উদাসীন।

আবদুস শহীদ নাসিম

দিনরাত তারা আসমান জমিনের কতো যে নিদর্শন অতিক্রম করছে, অথচ সেগুলোর ব্যাপারে তারা একেবারেই উদাসীন (সেগুলো সম্পর্কে মোটেও তারা ভেবে দেখেনা।)

মুহিউদ্দীন খান

অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে।

জহুরুল হক

আর তাদের অধিকাংশই ‌র প্রতি বিশ্বাস করে না তারা বহুখোদাবাদী না হওয়া পর্যন্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের অধিকাংশ আল্লাহে বিশ্বাস করে, কিন্তু তাঁহার শরীক করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের অধিকাংশই আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে না, তবে রাখে মুশরিক অবস্থায়।

মুহিউদ্দীন খান

তারা কি নির্ভীক হয়ে গেছে এ বিষয়ে যে, আল্লাহর আযাবের কোন বিপদ তাদেরকে আবৃত করে ফেলবে অথবা তাদের কাছে হঠাৎ কেয়ামত এসে যাবে, অথচ তারা টেরও পাবে না?

জহুরুল হক

তারা কি তবে নিরাপদ বোধ করে তাদের উপরে ‌র শাস্তির ঘেরাটোপ এসে পড়া সন্বন্ধে, অথবা তারা যখন বেখেয়াল থাকে তখন ঘন্টা অতর্কিতে তাদের উপরে এসে পড়া সন্বন্ধে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে কি তাহারা ‌র সর্বগ্রাসী শাস্তি হইতে অথবা তাহাদের অজ্ঞাতসারে কিয়ামতের আকস্মিক উপস্থিতি হইতে নিরাপদ?

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর আযাব তাদের গ্রাস করে নেবেনা এবং হঠাৎ তাদের অজ্ঞাতে কিয়ামত সম্মুখে উপস্থিত হবেনা বলে কি তারা নিশ্চিত হয়ে গেছে?

মুহিউদ্দীন খান

বলে দিনঃ এই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে বুঝে সুঝে দাওয়াত দেই আমি এবং আমার অনুসারীরা। পবিত্র। আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই।

জহুরুল হক

তুমি বল - - ''এই হচ্ছে আমার পথ, আমি ‌র প্রতি আহ্বান করি, আমি ও যারা আমাকে অনুসরণ করে তারা জ্ঞানালোকের উপরে রয়েছি। আর ‌রই সব মহিমা, আর আমি বহুখোদাবাদীদের মধ্যেকার নই।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘ইহাই আমার পথ : ‌র প্রতি মানুষকে আমি আহ্বান করি সজ্ঞানে - আমি এবং আমার অনুসারিগণও। ‌ মহিমান্বিত এবং যাহারা ‌র শরীক করে আমি তাহাদের অন্তর্ভুক্ত নই।’

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ!) তুমি তাদের বলে দাও: ‘এটাই আমার পথ, আমি তোমাদের আল্লাহর দিকে ডাকছি দীপ্ত জ্ঞানের পূর্ণ আলোতে উদ্ভাসিত হয়ে - আমি এবং আমার সাথিরা। আর পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তরভুক্ত নই।’

মুহিউদ্দীন খান

আপনার পূর্বে আমি যতজনকে রসূল করে পাঠিয়েছি, তারা সবাই পুরুষই ছিল জনপদবাসীদের মধ্য থেকে। আমি তাঁদের কাছে ওহী প্রেরণ করতাম। তারা কি দেশ - বিদেশ ভ্রমণ করে না, যাতে দেখে নিত কিরূপ পরিণতি হয়েছে তাদের যারা পূর্বে ছিল ? সংযমকারীদের জন্যে পরকালের আবাসই উত্তম। তারা কি এখনও বোঝে না?

জহুরুল হক

আর তোমার পূর্বে জনপদবাসীদের মধ্যে থেকে মানুষ ছাড়া অন্য কাউকে আমরা পাঠাই নি যাঁদের কাছে আমরা প্রত্যাদেশ দিয়েছিলাম। কাজেই তারা কি পৃথিবীতে পর্যটন করে নি এবং দেখে নি কেমন হয়েছিল তাদের পরিণাম যারা ছিল তাদের অগ্রগামী? আর পরকালের আবাসস্থল অবশ্যই অধিকতর ভাল তাদের জন্য যারা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করে। তোমরা কি তবে বোঝ না?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার পূর্বেও জনপদবাসীদের মধ্য হইতে পুরুষগণকেই প্রেরণ করিয়াছিলাম, যাহাদের নিকট ওহী পাঠাইতাম। তাহারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে নাই এবং তাহাদের পূর্ববর্তীদের কি পরিণাম হইয়াছিল তাহা কি দেখে নাই? যাহারা তাহাদের জন্য পরলোকই শ্রেয়; তোমরা কি বুঝ না?

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ!) তোমার আগেও আমি মানুষ ছাড়া আর কাউকেও রসূল বানিয়ে পাঠাইনি। তারাও জনপদেরই ছিলো বাসিন্দা, তাদের প্রতি আমি অহি পাঠিয়েছি। এরা কি পৃথিবী ভ্রমণ করে দেখতে পারেনা, তাদের আগেকার (যারা আমার নবীদের অমান্য করেছিল, সেইসব) লোকদের কী (করুণ) পরিণতি হয়েছিল? যারা আল্লাহকে ভয় করে জীবন যাপন করে, তাদের জন্যে আখিরাতের ঘরই উত্তম। এরপরও কি তোমাদের বোধোদয় হবেনা?

মুহিউদ্দীন খান

এমনকি যখন পয়গম্বরগণ নৈরাশ্যে পতিত হয়ে যেতেন, এমনকি এরূপ ধারণা করতে শুরু করতেন যে, তাদের অনুমান বুঝি মিথ্যায় পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌছে। অতঃপর আমি যাদের চেয়েছি তারা উদ্ধার পেয়েছে। আমার শাস্তি অপরাধী সম্প্রদায় থেকে প্রতিহত হয় না।

জহুরুল হক

অবশেষে যখন রসূলগণ হতাশ হয়েছিলেন, আর তারা ভেবেছিল যে তাদের নিশ্চয়ই মিথ্যা বলা হয়েছে, তখনই এসে পৌঁছাল। কাজেই যাদের আমরা ইচ্ছা করলাম তাদের উদ্ধার করলাম। আর অপরাধী সম্প্রদায় থেকে আমাদের শাস্তি প্রতিহত হয় না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অবশেষে যখন রাসূলগণ নিরাশ হইল এবং লোকে ভাবিল যে, রাসূলগণকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হইয়াছে তখন তাহাদের নিকট আমার সাহায্য আসিল। এইভাবে আমি যাহাকে ইচ্ছা করি সে উদ্ধার পায়। অপরাধী সম্প্রদায় হইতে আমার শাস্তি রদ করা যায় না।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তাদের ধ্বংস করে দেয়ার কাজটি ততোক্ষণ পর্যন্ত বিলম্বিত করা হয়েছিল) যতোক্ষণ না রসূলেরা সম্পূর্ণ নিরাশ হয়েছে এবং ফায়সালায় উপনীত হয়েছে যে, তাদেরকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তারপর (যখন সে অবস্থা সৃষ্টি হয় তখন) রসূলদের পক্ষে আমার সাহায্য গিয়ে হাজির হয়। অতপর আমি যাকে চাই, তাকে বাঁচাই। কিন্তু অপরাধীদের উপর থেকে আমার শাস্তি প্রতিরোধ করার আর কেউই থাকেনা।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে প্রচুর শিক্ষণীয় বিষয়, এটা কোন মনগড়া কথা নয়, কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের জন্যে পূর্বেকার কালামের সমর্থন এবং প্রত্যেক বস্তুর বিবরণ রহমত ও হেদায়েত।

জহুরুল হক

তাদের কাহিনীর মধ্যে অবশ্যই শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্যে। এ এমন কাহিনী নয় যা জাল করা হয়েছে, বরঞ্চ এ হচ্ছে এর আগে যা এসেছিল তার সমর্থনকারী, এবং সব বিষয়ের বিস্তারিত বৃত্তান্ত, আর পথনির্দেশ ও করুণা যারা বিশ্বাস করে সেই সম্প্রদায়ের জন্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের বৃত্তান্তে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আছে শিক্ষা। ইহা এমন বাণী যাহা মিথ্যা রচনা নয়। কিন্তু মু’মিনদের জন্য ইহা পূর্বগ্রন্থে যাহা আছে তাহার প্রত্যয়ন এবং সমস্ত কিছুর বিশদ বিবরণ, হিদায়াত ও রহমত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আগেকার লোকদের (এসব করুণ) কাহিনীতে বুঝ - বুদ্ধি ওয়ালা লোকদের জন্যে রয়েছে এক বড় শিক্ষা (lesson)। (এই কুরআন) কোনো বানোয়াট বিবৃতি নয়। বরঞ্চ এটা হলো সেই শাশ্বত গ্রন্থ যা তার পূর্বে পাঠানো কিতাবের বক্তব্যকে সমর্থন করে এবং সকল বিষয়ের বিশদ বিবরণ প্রদান করে। তাছাড়া যারা (কুফরের পথ ত্যাগ করে) ঈমানের পথে আসে, এ কিতাব তাদের জন্যে পথ প্রদর্শক আর করুণাধারা।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme