Kitab

আল মুদ্দাসসির

Chapter 74, 56 verses

  • মুহিউদ্দীন খান
  • জহুরুল হক
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • সমকালীন বাংলা
মুহিউদ্দীন খান

হে চাদরাবৃত!

জহুরুল হক

হে প্রিয় পোশাক - পরিহিত!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে বস্ত্রাচ্ছাদিত!

সমকালীন বাংলা

আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; হে বস্ত্রাবৃত,

মুহিউদ্দীন খান

উঠুন, সতর্ক করুন,

জহুরুল হক

ওঠো এবং সতর্ক করো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উঠ, আর সতর্ক কর,

সমকালীন বাংলা

উঠো, অতঃপর সতর্ক কর,

মুহিউদ্দীন খান

আপন পালনকর্তার মাহাত্ম্য ঘোষনা করুন,

জহুরুল হক

আর তোমার প্রভু - - মাহা‌ত্ম্য ঘোষণা করো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।

সমকালীন বাংলা

এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।

মুহিউদ্দীন খান

আপন পোশাক পবিত্র করুন

জহুরুল হক

আর তোমার পোশাক - - তবে পবিত্র করো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার পরিচ্ছদ পবিত্র রাখ,

সমকালীন বাংলা

এবং তোমার পোশাক পরিচ্ছন্ন রাখ,

মুহিউদ্দীন খান

এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন।

জহুরুল হক

আর কদর্যতা - - তবে পরিহার করো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পৌত্তলিকতা পরিহার করিয়া চল,

সমকালীন বাংলা

এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকো,

মুহিউদ্দীন খান

অধিক প্রতিদানের আশায় অন্যকে কিছু দিবেন না।

জহুরুল হক

আর অনুগ্রহ করো না বেশি পাবার প্রত্যাশায়,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অধিক পাওয়ার প্রত্যাশায় দান করিও না।

সমকালীন বাংলা

এবং অধিক পাওয়ার আশায় দান করো না,

মুহিউদ্দীন খান

এবং আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে সবর করুন।

জহুরুল হক

আর তোমার প্রভুর জন্য তবে অধ্যবসায় চালিয়ে যাও।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধারণ কর।

সমকালীন বাংলা

এবং তোমার প্রতিপালকের জন্য ধৈর্য ধারণ করো।

মুহিউদ্দীন খান

যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে;

জহুরুল হক

তারপর যখন শিঙায় আওয়াজ দেওয়া হবে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যেদিন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে,

মুহিউদ্দীন খান

সেদিন হবে কঠিন দিন,

জহুরুল হক

সেটি তবে হবে, সেই দিনটি, এক মহাসংকটের দিন - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেই দিন হইবে এক সংকটের দিন -

সমকালীন বাংলা

তখন সে দিন হবে এক কঠিন দিন,

মুহিউদ্দীন খান

কাফেরদের জন্যে এটা সহজ নয়।

জহুরুল হক

অবিশ্বাসীদের উপরে; আরামদায়ক নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহা কাফিরদের জন্য সহজ নয়।

সমকালীন বাংলা

অস্বীকারকারীদের উপর সহজ হবে না।

মুহিউদ্দীন খান

যাকে আমি অনন্য করে সৃষ্টি করেছি, তাকে আমার হাতে ছেড়ে দিন।

জহুরুল হক

ছেড়ে দাও আমাকে ও তাকে যাকে আমি সৃষ্টি করেছি এককভাবে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ছাড়িয়া দাও আমাকে এবং যাহাকে আমি সৃষ্টি করিয়াছি একাকী।

সমকালীন বাংলা

ছেড়ে দাও আমাকে এবং যাকে আমি একা সৃষ্টি করেছি,

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাকে বিপুল ধন - সম্পদ দিয়েছি।

জহুরুল হক

আর তার জন্য আমি বিপুল ধনসম্পদ দিয়েছিলাম,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তাহাকে দিয়াছি বিপুল ধন - সম্পদ

সমকালীন বাংলা

এবং তাকে দিয়েছি বিপুল সম্পদ,

মুহিউদ্দীন খান

এবং সদা সংগী পুত্রবর্গ দিয়েছি,

জহুরুল হক

আর সন্তানসন্ততি প্রত্যক্ষ অবস্থানকারী,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং নিত্য সঙ্গী পুত্রগণ,

সমকালীন বাংলা

এবং উপস্থিত সন্তানদের,

মুহিউদ্দীন খান

এবং তাকে খুব সচ্ছলতা দিয়েছি।

জহুরুল হক

আর তার জন্য আমি সহজ করে দিয়েছিলাম স্বচ্ছন্দভাবে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তাহাকে দিয়াছি স্বচ্ছন্দ জীবনের প্রচুর উপকরণ -

সমকালীন বাংলা

এবং তার জন্য ব্যাপক সুব্যবস্থা,

মুহিউদ্দীন খান

এরপরও সে আশা করে যে, আমি তাকে আরও বেশী দেই।

জহুরুল হক

তারপরেও সে চায় যে আমি যেন আরো বাড়িয়ে দিই!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহার পরও সে কামনা করে যে, আমি তাহাকে আরও অধিক দেই।

সমকালীন বাংলা

এরপরেও সে আশা করে যে আমি আরও দেই,

মুহিউদ্দীন খান

কখনই নয়! সে আমার নিদর্শনসমূহের বিরুদ্ধাচরণকারী।

জহুরুল হক

কখনো নয়! কেননা সে আমাদের নির্দেশাবলী সন্বন্ধে ঘোর বিরুদ্ধাচারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

না, তাহা হইবে না, সে তো আমার নিদর্শনসমূহের উদ্ধত বিরুদ্ধাচারী।

সমকালীন বাংলা

কখনোই নয়! নিশ্চয়ই সে আমার নিদর্শনসমূহের প্রতি ছিলো উদ্ধত,

মুহিউদ্দীন খান

আমি সত্ত্বরই তাকে শাস্তির পাহাড়ে আরোহণ করাব।

জহুরুল হক

আমি তার উপরে আনব এক ক্রমবর্ধমান আঘাত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি অচিরেই তাহাকে চড়াইব শাস্তির পাহাড়ে।

সমকালীন বাংলা

শীঘ্রই আমি তাকে দুর্গম আরোহনে বাধ্য করবো।

মুহিউদ্দীন খান

সে চিন্তা করেছে এবং মনঃস্থির করেছে,

জহুরুল হক

কেননা নিশ্চয় সে ভাবনাচিন্তা করল এবং মেপেজোখে দেখল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে তো চিন্তা করিল এবং সিদ্ধান্ত করিল।

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই সে চিন্তা করেছে এবং পরিকল্পনা করেছে,

মুহিউদ্দীন খান

ধ্বংস হোক সে, কিরূপে সে মনঃস্থির করেছে!

জহুরুল হক

সুতরাং সে নিপাত যাক! কেমনতর সে যাচাই করেছিল!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অভিশপ্ত হউক সে ! কেমন করিয়া সে এই সিদ্ধান্ত করিল!

সমকালীন বাংলা

অতঃপর ধ্বংস হোক সে! কীভাবে সে পরিকল্পনা করলো!

মুহিউদ্দীন খান

আবার ধ্বংস হোক সে, কিরূপে সে মনঃস্থির করেছে!

জহুরুল হক

পুনশ্চ সে নিপাত যাক! কেমন করে সে যাচাই করছিল!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আরও অভিশপ্ত হউক সে! কেমন করিয়া সে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইল!

সমকালীন বাংলা

আবার ধ্বংস হোক সে! কীভাবে সে পরিকল্পনা করলো!

মুহিউদ্দীন খান

সে আবার দৃষ্টিপাত করেছে,

জহুরুল হক

সে আবার তাকিয়ে দেখল,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে আবার চাহিয়া দেখিল।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর সে লক্ষ্য করলো,

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর সে ভ্রূকুঞ্চিত করেছে ও মুখ বিকৃত করেছে,

জহুরুল হক

তারপর সে ভ্রকুঞ্চিত করল ও মুখ বিকৃত করল,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর সে ভ্রূকুঞ্চিত করিল ও মুখ বিকৃত করিল।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর সে ভ্রূকুটি করল ও মুখ বিকৃত করলো,

মুহিউদ্দীন খান

অতঃপর পৃষ্ঠপ্রদশন করেছে ও অহংকার করেছে।

জহুরুল হক

তারপর সে পিছিয়ে গেল ও বুক ফুলিয়ে এগিয়ে এল,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর সে পিছন ফিরিল এবং দম্ভ প্রকাশ করিল।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর সে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করল ও অহংকার করল,

মুহিউদ্দীন খান

এরপর বলেছেঃ এতো লোক পরস্পরায় প্রাপ্ত জাদু বৈ নয়,

জহুরুল হক

তারপর বললে - - ''এ বরাবর চলে আসা জাদু বৈ তো নয়!

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং ঘোষণা করিল, ‘ইহা তো লোক পরম্পরায় প্রাপ্ত জাদু ভিন্ন আর কিছু নয়,

সমকালীন বাংলা

এবং বলল, “এ তো কেবল প্রচলিত জাদু,”

মুহিউদ্দীন খান

এতো মানুষের উক্তি বৈ নয়।

জহুরুল হক

''এ একজন মানুষের কথা বৈ তো নয়।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘ইহা তো মানুষেরই কথা।’

সমকালীন বাংলা

“এ তো মানুষেরই কথা ছাড়া কিছু নয়।”

মুহিউদ্দীন খান

আমি তাকে দাখিল করব অগ্নিতে।

জহুরুল হক

আমি শীঘ্রই তাকে ফেলব জ্বালাময় আগুনে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তাহাকে নিক্ষেপ করিব সাকার - এ,

সমকালীন বাংলা

আমি তাকে সাকারে নিক্ষেপ করবো।

মুহিউদ্দীন খান

আপনি কি বুঝলেন অগ্নি কি?

জহুরুল হক

আর কী তোমাকে বোঝাবে জ্বালাময় আগুনটা কি?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি জান সাকার কী?

সমকালীন বাংলা

আর তুমি কীভাবে জানবে সাকার কী?

মুহিউদ্দীন খান

এটা অক্ষত রাখবে না এবং ছাড়বেও না।

জহুরুল হক

তা কিছুই বাকী রাখে না, আর কিছুই ছেড়ে দেয় না,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহা উহাদেরকে জীবিতাবস্থায় রাখিবে না এবং মৃত অবস্থায়ও ছাড়িয়া দিবে না।

সমকালীন বাংলা

তা কিছু অবশিষ্ট রাখে না এবং কিছু ছাড়েও না,

মুহিউদ্দীন খান

মানুষকে দগ্ধ করবে।

জহুরুল হক

মানুষকে একেবারে ঝলসে দেবে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা তো গাত্রচর্ম দগ্ধ করিবে,

সমকালীন বাংলা

তা চামড়া দগ্ধকারী,

মুহিউদ্দীন খান

এর উপর নিয়োজিত আছে উনিশ (ফেরেশতা)।

জহুরুল হক

তার উপরে রয়েছে ''উনিশ’’।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সাকার - এর তত্ত্বাবধানে রহিয়াছে উনিশজন প্রহরী।

সমকালীন বাংলা

তার উপর রয়েছে উনিশ।

মুহিউদ্দীন খান

আমি জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতাই রেখেছি। আমি কাফেরদেরকে পরীক্ষা করার জন্যেই তার এই সংখ্যা করেছি - যাতে কিতাবীরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়, মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং কিতাবীরা ও মুমিনগণ সন্দেহ পোষণ না করে এবং যাতে যাদের অন্তরে রোগ আছে, তারা এবং কাফেররা বলে যে, এর দ্বারা কি বোঝাতে চেয়েছেন। এমনিভাবে যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে চালান। আপনার পালনকর্তার বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন এটা তো মানুষের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।

জহুরুল হক

আর আমরা ফিরিশ্‌তাদের ছাড়া আগুনের প্রহরী করি নি, আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছে তাদের পরীক্ষারূপে ছাড়া আমরা এদের সংখ্যা নির্ধারণ করি নি, যেন যাদের গ্রন্থ দেয়া হয়েছিল তাদের দৃঢ়প্রত্যয় জন্মে, আর যারা বিশ্বাস করেছে তাদের ঈমান যেন বর্ধিত হয়, আর যাদের গ্রন্থ দেওয়া হয়েছে ও যারা তারা যেন সন্দেহ না করে, আর যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে ও যারা অবিশ্বাসী তারা যেন বলতে পারে - - ''এই রূপকের দ্বারা কী বোঝাতে চাইছেন?’’ এইভাবে বিভ্রান্ত করেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন, এবং পথনির্দেশ দেন যাকে তিনি চান। আর তিনি ছাড়া আর কেউ তোমার প্রভুর বাহিনীকে সম্যক জানে না। বস্তুত এটি মানবকুলের জন্য এক সতর্কীকরণ বৈ তো নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি ফিরিশ্‌তাদেরকে করিয়াছি জাহান্নামের প্রহরী; কাফিরদের পরীক্ষাস্বরূপই আমি উহাদের এই সংখ্যা উল্লেখ করিয়াছি যাহাতে কিতাবীদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্মে, বিশ্বাসীদের বিশ্বাস বর্ধিত হয় এবং বিশ্বাসীগণ ও কিতাবীগণ সন্দেহ পোষণ না করে। ইহার ফলে, যাহাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তাহারা ও কাফিররা বলিবে, ‘‌ এই অভিনব উক্তি দ্বারা কি বুঝাইতে চাহিয়াছেন?’ এইভাবে ‌ যাহাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ করেন। তোমার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন। জাহান্নামের এই বর্ণনা তো মানুষের জন্য সাবধান বাণী।

সমকালীন বাংলা

এবং আমরা ফেরেশতাদের ছাড়া আগুনের তত্ত্বাবধায়ক বানাইনি, এবং এদের সংখ্যা নির্ধারণ করিনি অবিশ্বাসীদের জন্য এক পরীক্ষা ছাড়া, যেনো কিতাবপ্রাপ্তরা নিশ্চিত হতে পারে, এবং মুমিনদের বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়, এবং কিতাবপ্রাপ্তরা ও মুমিনরা সন্দেহ না করে; আর যাদের অন্তরে রোগ আছে এবং অস্বীকারকারীরা বলে, “ এ উদাহরণ দ্বারা কী উদ্দেশ্য করেছেন?” এভাবেই যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ দেন। আর তোমার প্রতিপালকের বাহিনীসমূহ সম্পর্কে তিনি ছাড়া কেউ জানে না। এবং এটি মানুষের জন্য এক উপদেশ ছাড়া কিছু নয়।

মুহিউদ্দীন খান

কখনই নয়। চন্দ্রের শপথ,

জহুরুল হক

না! ভাবো চাঁদের কথা;

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কখনই না, চন্দ্রের শপথ,

সমকালীন বাংলা

কখনোই নয়! শপথ চাঁদের,

মুহিউদ্দীন খান

শপথ রাত্রির যখন তার অবসান হয়,

জহুরুল হক

আর রাতের কথা যখন তার অবসান ঘটে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শপথ রাত্রির, যখন উহার অবসান ঘটে;

সমকালীন বাংলা

এবং রাতের, যখন তা অপসারিত হয়,

মুহিউদ্দীন খান

শপথ প্রভাতকালের যখন তা আলোকোদ্ভাসিত হয়,

জহুরুল হক

আর প্রভাতকালের কথা যখন তা হয় আলোকোজ্জ্বল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শপথ প্রভাতকালের, যখন উহা হয় আলোকোজ্জ্বল -

সমকালীন বাংলা

এবং সকালের, যখন তা আলোকিত হয়,

মুহিউদ্দীন খান

নিশ্চয় জাহান্নাম গুরুতর বিপদসমূহের অন্যতম,

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ এটি অতি বিরাট এক ব্যাপার - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই জাহান্নাম ভয়াবহ বিপদসমূহের অন্যতম,

সমকালীন বাংলা

নিশ্চয়ই তা এক মহাবিষয়ের অন্যতম।

মুহিউদ্দীন খান

মানুষের জন্যে সতর্ককারী।

জহুরুল হক

মানুষের জন্য সতর্কীকরণরূপে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মানুষের জন্য সতর্ককারী -

সমকালীন বাংলা

মানুষের জন্য সতর্কবার্তা,

মুহিউদ্দীন খান

তোমাদের মধ্যে যে সামনে অগ্রসর হয় অথবা পশ্চাতে থাকে।

জহুরুল হক

তোমাদের মধ্যের তার জন্য যে আগবাড়তে চায়, অথবা পেছনে থাকতে চায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমাদের মধ্যে যে অগ্রসর হইতে চায় কিংবা যে পিছাইয়া পড়িতে চায় তাহার জন্য।

সমকালীন বাংলা

তোমাদের মধ্যে যে অগ্রসর হতে বা পিছিয়ে থাকতে চায় তার জন্য।

মুহিউদ্দীন খান

প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী;

জহুরুল হক

প্রত্যেক সত্ত্বাই জামিন থাকবে যা সে অর্জন করে তার জন্য, - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ,

সমকালীন বাংলা

প্রত্যেক ব্যক্তি তার অর্জনের জন্য দায়বদ্ধ;

মুহিউদ্দীন খান

কিন্তু ডানদিকস্থরা,

জহুরুল হক

ডানদিকের লোকেরা ব্যতীত,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তবে দক্ষিণ পার্শ্বস্থ ব্যক্তিগণ নয়,

সমকালীন বাংলা

তবে ডানদিকের সঙ্গীরা ব্যতীত।

মুহিউদ্দীন খান

তারা থাকবে জান্নাতে এবং পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

জহুরুল হক

জান্নাতে, তারা পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা থাকিবে উদ্যানে এবং তাহারা জিজ্ঞাসা - বাদ করিবে -

সমকালীন বাংলা

তারা থাকবে উদ্যানসমূহে; পরস্পরকে প্রশ্ন করবে,

মুহিউদ্দীন খান

অপরাধীদের সম্পর্কে

জহুরুল হক

অপরাধীদের সম্পর্কে;

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অপরাধীদের সম্পর্কে,

সমকালীন বাংলা

অপরাধীদের সম্পর্কে,

মুহিউদ্দীন খান

বলবেঃ তোমাদেরকে কিসে জাহান্নামে নীত করেছে?

জহুরুল হক

''কিসে তোমাদের নিয়ে এসেছে জ্বালাময় আগুনে?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তোমাদেরকে কিসে সাকার - এ নিক্ষেপ করিয়াছে?’

সমকালীন বাংলা

“কী তোমাদের সাকারে প্রবেশ করিয়েছে?”

মুহিউদ্দীন খান

তারা বলবেঃ আমরা পড়তাম না,

জহুরুল হক

তারা বলবে - - ''আমরা নামাযীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা বলিবে, ‘আমরা মুসুল্লীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না,

সমকালীন বাংলা

তারা বলবে, “আমরা আদায়কারীদের মধ্যে ছিলাম না,

মুহিউদ্দীন খান

অভাবগ্রস্তকে আহার্য্য দিতাম না,

জহুরুল হক

''আর আমরা অভাবগ্রস্তদের খাবার দিতে চাইতাম না;

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমরা অভাবগ্রস্তকে আহার্য দান করিতাম না,

সমকালীন বাংলা

এবং অভাবগ্রস্তকে আহার করাতাম না,

মুহিউদ্দীন খান

আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করতাম।

জহুরুল হক

''বরং আমরা বৃথা তর্ক করতাম বৃথা তর্ককারীদের সঙ্গে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘এবং আমরা বিভ্রান্ত আলোচনাকারীদের সঙ্গে বিভ্রান্তিমূলক আলোচনায় নিমগ্ন থাকিতাম।

সমকালীন বাংলা

এবং আমরা অর্থহীন আলোচনায় লিপ্তদের সঙ্গে যোগ দিতাম,

মুহিউদ্দীন খান

এবং আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করতাম।

জহুরুল হক

''আর আমরা বিচারের দিনকে মিথ্যা বলতাম, - -

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমরা কর্মফল দিবস অস্বীকার করিতাম,

সমকালীন বাংলা

এবং প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করতাম,

মুহিউদ্দীন খান

আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত।

জহুরুল হক

''যতক্ষণ না অবশ্যাম্ভাবী আমাদের কাছে এসেছিল।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমাদের নিকট মৃত্যুর আগমন পর্যন্ত।’

সমকালীন বাংলা

অবশেষে নিশ্চিত বিষয়টি আমাদের কাছে আসলো।”

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকারে আসবে না।

জহুরুল হক

ফলে সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো কাজে আসবে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফলে সুপারিশকারীদের সুপারিশ উহাদের কোন কাজে আসিবে না।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর কাজে আসবে না সুপারিশকারীদের সুপারিশ।

মুহিউদ্দীন খান

তাদের কি হল যে, তারা উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়?

জহুরুল হক

তাদের তবে কি হয়েছে যে তারা অনুশাসন থেকে ফিরে চলে যায়,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের কী হইয়াছে যে, উহারা মুখ ফিরাইয়া নেয় উপদেশ হইতে?

সমকালীন বাংলা

তাহলে তাদের কী হয়েছে যে তারা উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে?

মুহিউদ্দীন খান

যেন তারা ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত গর্দভ।

জহুরুল হক

যেন তারা ভীত - ত্রস্ত গাধার দল,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা যেন ভীত - ত্রস্ত গর্দভ -

সমকালীন বাংলা

তারা যেন ভীতসন্ত্রস্ত গাধা

মুহিউদ্দীন খান

হট্টগোলের কারণে পলায়নপর।

জহুরুল হক

পালিয়ে যাচ্ছে সিংহের থেকে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহা সিংহের সম্মুখ হইতে পলায়নপর।

সমকালীন বাংলা

যারা সিংহ থেকে পালিয়েছে।

মুহিউদ্দীন খান

বরং তাদের প্রত্যেকেই চায় তাদের প্রত্যেককে একটি উম্মুক্ত গ্রন্থ দেয়া হোক।

জহুরুল হক

বস্তুত তাদের মধ্যের প্রত্যেকটি লোকই চায় যে তাকে যেন দেওয়া হয় খোলামেলা কাগজের তাড়া।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বস্তুত উহাদের প্রত্যেকেই কামনা করে যে, তাহাকে একটি উন্মুক্ত গ্রন্থ দেওয়া হউক।

সমকালীন বাংলা

বরং তাদের প্রত্যেকে চায় যে তাকে খোলা পাতা সমূহ দেওয়া হোক।

মুহিউদ্দীন খান

কখনও না, বরং তারা পরকালকে ভয় করে না।

জহুরুল হক

কখনো না। তারা কিন্ত পরকালের ভয় করে না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

না, ইহা হইবার নয়; বরং উহারা তো আখিরাতের ভয় পোষণ করে না।

সমকালীন বাংলা

কখনোই নয়! বরং তারা পরকালকে ভয় করে না।

মুহিউদ্দীন খান

কখনও না, এটা তো উপদেশ মাত্র।

জহুরুল হক

কক্ষনো না! এটি নিশ্চয়ই এক অনুশাসন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

না, ইহা হইবার নয়, কুরআনই সকলের জন্য উপদেশবাণী।

সমকালীন বাংলা

কখনোই নয়! নিশ্চয়ই এটি এক উপদেশ,

মুহিউদ্দীন খান

অতএব, যার ইচ্ছা, সে একে স্মরণ করুক।

জহুরুল হক

সুতরাং যে কেউ চায় সে এটি স্মরণ করুক।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব যাহার ইচ্ছা সে ইহা হইতে উপদেশ গ্রহণ করুক।

সমকালীন বাংলা

অতএব যার ইচ্ছা, সে তা স্মরণ করুক।

মুহিউদ্দীন খান

তারা স্মরণ করবে না, কিন্তু যদি চান। তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং ক্ষমার অধিকারী।

জহুরুল হক

আর তারা মনোনিবেশ করবে না যদি না ইচ্ছা করেন। তিনিই ভয়ভক্তি করার যোগ্য পাত্র এবং তিনিই পরিত্রাণের যথার্থ অধিকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌র ইচ্ছা ব্যতিরেকে কেহ উপদেশ গ্রহণ করিবে না, একমাত্র তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং তিনিই ক্ষমা করিবার অধিকারী।

সমকালীন বাংলা

আর তারা স্মরণ করবে না, যদি না ইচ্ছা করেন। তিনিই ভয়ের অধিক যোগ্য এবং ক্ষমা করার অধিক যোগ্য।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme